Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026

    কলিকাতার কথা (আদিকাণ্ড) – প্রমথনাথ মল্লিক

    January 20, 2026

    দশরূপা – সৌমিত্র বিশ্বাস

    January 20, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মধ্য বয়সের সঙ্কট – মিনা ফারাহ

    মিনা ফারাহ এক পাতা গল্প296 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১৯. তৃষাদীর্ণ

    কিছু কষ্ট আছে, যে কথা কাউকে বলা যায় না। কিছু যন্ত্রণা যা অযাচিত, তবুও আমরা তা মেনে নিতে বাধ্য। কিছু সময়, যা ক্ষমাহীন। কখনো, কারো কোনও ব্যবহার যা অশোভন শুধু নয়–গা কামড়ে ওঠা। কোনও আলো, যা অন্ধকারের চেয়েও ভয়ঙ্কর। মা আর মাতৃত্ব। যা কখনো কখনো ক্ষমার অযোগ্য। এমন হলে কি তার উত্তর, সেই প্রশ্ন হয়ে ওঠে জীবনের সবচেয়ে বড় লজ্জা।

    রাত গম্ভীর হয়ে গ্যাছে। শহরের নববিবাহিত মানুষ-মানুষীরা তখন, একে অপরের বুকে শরীরের উষ্ণ ওমে আচ্ছন্ন। নববিবাহিত হারুনের শরীরটাও তখন সবেমাত্র শিথিল হচ্ছে। শরীরের তলে ওকে জাপটে ধরে শুয়ে আছে সোহাগিনী নেলী। দু’জনেরই শরীর প্রচণ্ড ঘামে কুলকুল করছে। সপসপে দু’হাতের শেকল খুলে গেলেও, নেলী কষ্ট করে সে শেকল বারবার আরও জোরে বাঁধবার জন্য উত্তাল ঢেউয়ের মতো আছাড়ি-পিছাড়ি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে অনুভব, অনুভূতির ব্যাপারটা গভীরতর হয়। দু’জনেরই চোখ বন্ধ। উন্মত্ত অধীর ভালোবাসায় চোখের পাতা ভারি। কণ্ঠ-বেসুরো। ঠিক তখনি শব্দ হলো দেয়ালের ওপাশ থেকে দুটো পায়ের। কে যেন হাঁটছে। থপ-থপ…।

    –কে? কে ওখানে? নেলী, হারুনকে এক ঝটকায় ফেলে দিল ওর শরীরের ওপর থেকে। চোর! চোর! বলতে বলতে সে উঠে দৌড়ে বাথরুমের দিকে ছুটে গেল। আওয়াজটা খুব স্পষ্ট। থপ থপ থপ। দ্রুত অপসৃয়মান পায়ের স্পন্দন। হারুন বাথরুমে গেল না। চাঁদর দিয়েই ওর পিচ্ছিল অঙ্গ মুছে কাপড় পরে ফেলো। পরক্ষণেই দরজা খুলে বাইরে এসে জোরে হাঁক-ডাক দিয়ে চেঁচিয়ে বলে উঠলো–কে কে ওখানে? এরপর বাইরের সব বাতিগুলো সে একে একে জ্বালিয়ে দিলো। পেছন পেছন এলো নেলী। ভয়ে ওর সর্বাঙ্গ থরথর করে কাঁপছে। নেলী হারুনের পেছন পেছন ওর শার্ট ধরে কম্পমান পা ফেলছে। ভয়ে বিহ্বল নতুন হাঁটা শেখা এক শিশুর মতো লাগছে তাকে। হারুন ঘরের প্রতিটি কোণ খুঁজে খুঁজে কিছুই না পেয়ে অবশেষে মায়ের ঘরে গিয়ে মাকে ঘুম থেকে জাগিয়ে দিয়ে বললো, মা ওঠো, ওঠো-ও-ও-ও–না। ঘরে চোর ঢুকেছে।

    –মা, ওপাশ থেকে এপাশে ফিরে আড়মোড়া ভাঙতে ভাঙতে বিরক্ত কণ্ঠে বললো–কি বলছিস!

    –চোর! চোর ঢুকেছে! ওঠো!

    –মা উঠলেন স্বাভাবিকভাবে। কি বলিস! চোর! তেমন আশ্চর্য হয়েছেন বলে মনে হলো না। যেন এটাই স্বাভাবিক।

    শাড়িটা তার গুছিয়েই পরা ছিল। তিনি বিছানা ছেড়ে বারান্দায় এসে দাঁড়িয়ে বললেন, ছাদে দেখেছিস?

    –না-মা! বলেই হারুন দৌড়ে ছাদে গেল আর সেখান থেকে ফিরে এসে বললো,, কেউ নেই।

    নেলী বললো, চোরই যদি হবে, তবে তো একটা কিছু চিহ্ন থাকবে। কই, সে রকম কোনও আলামতই তো দেখা যাচ্ছে না। পালিয়ে যাওয়ার মুহূর্তে অন্তত দৌড়ঝাপের শব্দ বোঝা যাবে। তাই নয় কী? তেমন কিছুই তো টের পেলাম না!

    –ঠিকই তো। কে বলে বুদ্ধি নেই নেলীর! বললো হারুন।

    –শাশুড়ির বিচারে নির্বোধ এই মেয়েটির কথায় মনে হলো একটু নড়ে উঠলেন শাশুড়ি স্বয়ং নিজেই। সেই সঙ্গে ছেলের মুখে বৌয়ের সামান্য প্রশংসায় কেমন যেন বিচলিতও মনে হলো।

    অকাল বিধবা অধ্যাপিকা নার্গিস বেগম, ওরফে নার্গিস। মাত্র ত্রিশ বছর বয়সে তিনি এই অযাচিত শাস্তির শিকার হন। স্বামীর অপমৃত্যুর পর থেকে এই একটি মাত্র সন্তানকে ঘিরে শুরু হয় তার জগৎ। অত্যন্ত মায়া মমতা স্নেহ দিয়ে মানুষ করেছেন একমাত্র ছেলেটিকে। এবং এই স্নেহটুকু সম্বল করে, তাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখে দেখে কাটিয়ে দিয়েছেন তার যন্ত্রণাদগ্ধ একাকিত্বের দুঃসহ জীবন। এই জীবনের বাইরে, ছেলের এই বিয়েতে তার বিশেষ ইচ্ছে ছিল না বলে বৌয়ের সাথে কখনোই তার তেমন সমঝোতা গড়ে ওঠেনি।

    সে রাতে মন থেকে না চাইলেও, নেলীর সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে একই সুরে তিনি বললেন, তাইতো! সেরকমভাবে ভাঙচুরেরও তো কোনও শব্দ শোনা গেল না। তাহলে নিশ্চয় চোরটোর নয়। এরপর আরো কিছুক্ষণ খোঁজাখুঁজি চললো। দরজা-জানালা কোনওটাই তো ভোলা দেখা গেল না। এমনকি একটা ফুটো বা ভাঙা দেয়ালও কোথাও দৃষ্টিগোচর হলো না। নেলী বললো মনে হয় নিশ্চয় কোনও বেড়াল-টেরালের কাজ হবে নিশ্চয়। দুধ-টুধের খোঁজে। হারুন সঙ্গে সঙ্গে বললো, হতেই পারে। প্রয়োজনে মানুষ স্বস্তির জন্যে সবসময় অজুহাত খুঁজে পায়, হারুনও পেলো–বললো, পাশের বাড়ির হুলোটা তো বেজায় জ্বালাচ্ছে।

    এরপর সবাই আরেকবার ব্যস্ত হয়ে, এদিক-ওদিক তদারকিশেষে বাতি নিভিয়ে যে যার ঘরে শুতে চলে গেল। হারুনের মাও ঘরে যাওয়ার আগে আরেকবার দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন–মনে হয় বেড়ালই হবে। তবে বেড়াল শব্দটার ওপর যেন একটা সবিশেষ জোর ছিল।

    নেলীর সঙ্গে হারুনের বিয়েটা সহসাই। এক মাসের পরিচয়ে। নেলীকে ওর কাকাই পরিচয় করিয়ে দিলো হারুনের সঙ্গে। তাতে প্রথমেই বাধা দিলেন নার্গিস বেগম। এক্ষুণি বিয়ে কিসের? মাত্র তো পাস করে বের হলো! আগে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করুক। জীবন চিনুক। বিয়ে হলে তো হয়েই গেল। এরকম কথা হারুন এর আগেও আরো অনেক শুনেছে। যখনই কেউ ওর বিয়ের কথা বলেছে–মিসেস নার্গিস বেগম প্রথমেই সেখানে বাধা দিয়েছেন।

    মাকে যমের মতো ভয় পায় বলে হারুন এতকাল চুপচাপই সব সহ্য করে গেছে এবং যাচ্ছে। কিন্তু ইদানীং মায়ের এই বাড়াবাড়িতে সে নিজেও অধৈর্যবোধ করছে। চায়ের টেবিল থেকে সব লজ্জা ভুলে এবার বললো, মা আমার বিয়ের বয়সই শুধু হয়নি, পারও হয়ে যাচ্ছে। মনে রেখে ত্রিশ হবে আর তিনদিন পর। বলো আমি কি এখনো কিশোর?

    চার দেয়ালের ঘরে শুধু মাকে নিয়ে থাকতে থাকতে এই একাকী জীবনে হারুন আজকাল দারুণ হাঁপিয়ে উঠেছে। চা খেতে খেতে সে কথাই তুলো হারুন। অফিস থেকে ফিরে মা আর ছেলের প্রতিদিন একসঙ্গে চা খাওয়া, এ বাড়িতে একটা নিয়ম। এক কাপ চা, ঠিক সন্ধে সাতটায়। ঘড়ির কাঁটায় কাঁটায়। হারুনের এই ঘড়ির কাঁটা জীবনের প্রতি বিরক্তি এসে গেছে। কিছু বলার আগে, সাদা নিঃসঙ্গ দেয়ালের দিকে একবার তাকালো হারুন। একটা টিকটিকি। সেদিন নেলীর সঙ্গে বিয়ের কথা ওঠানোর আগে একটু হালকা হাস্যরসের প্রয়োজন ছিল। বললো, আচ্ছা মা বলতো, টিকটিকিটা কি আমাদেরকে উল্টো দেখছে! গুরুগম্ভীর মাও হেসে উঠলো। আর সেই সুযোগে হারুন মাকে জড়িয়ে ধরে বলেই বসলো, নেলী খুব ভালো মেয়ে মা। তুমি অমত করো না। ওকে দেখলে তোমার পছন্দ হবে।

    কথাটা শুনে, মা যে খুব খুশি হলেন না, তা তার মুখ দেখেই বুঝে ফেলো হারুন। -বিয়ে করছিস তুই। আমার ভালোলাগা না লাগার তুই কি পরোয়া করিস। মন। তো দেখছি ঠিকই করে ফেলেছিস, তো আবার আমাকে জিজ্ঞেস করার কি দরকার। বলে তিনি উঠে অন্যদিকে চলে গেলেন। কথাটা শুনে হারুন খুব খুশি হলো না। হোক না তিনি অধ্যাপিকা। হোক না স্বনামধন্যা এক ত্যাগী, সংযমী, সংগ্রামী অকাল বিধবা, যিনি তার একমাত্র ছেলেকে কোলে পিঠে বুকে করে দৃষ্টান্তস্বরূপভাবে গড়ে তুলেছেন। সমাজ ও ধর্মের অনুশাসনে মানুষ করেছেন। ছেলেকে নিয়ে দারুণ কষ্ট করেছেন, তবুও কারো কাছেই মাথা নত করেননি। কিন্তু এখন তো সে প্রাপ্ত বয়স্ক, তারও তো ভালো লাগা না-লাগার ব্যাপার থাকতে পারে! মুহূর্তের জন্যে ভাবলো হারুন। মায়ের সাথে ইদানীং কথা যেটুকু হয়, তা বিতর্ক। আর সে বিতর্কও একটুক্ষণ পর ফুরিয়ে যায়। তারপর দু’জন যে যার ঘরে। মায়ের সঙ্গে কথা বলার পর মনে হলো, নেলীকেই সে বিয়ে করবে। এক ধরনের ক্ষোভ। শুধু স্ত্রী নয় এই বাড়ির নীরবতা ভাঙাতে প্রয়োজন হবে একটা বড়সড় প্রলয়ঙ্কর ঝড়।

    রাতটা কারোরই ভালো যায়নি। হারুনের চোখের তলে কালি। সে সারারাত জেগেছে। পরদিন মা তার স্টাডি রুমে বসে চা খেতে খেতে লেকচারের জন্য তৈরি হতে বইয়ের পাতা ওলটাচ্ছিলেন। হারুন দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর দরজায় টোকা দিয়ে ঘরে ঢুকলো। ঢুকেই সাহস করে মাকে জড়িয়ে ধরে বললো, মা তুমি বুঝতে চেষ্টা করো। অন্তত একটা কথা বলার লোক আমার চাই। মা, চায়ের কাপটা নামিয়ে এবার। কিচেনে যেতে যেতে বললেন, আমি তো বলেইছি।

    দু’বছর অপেক্ষা কি সম্ভব! এভাবে চলতে থাকলে নিঃসঙ্গতায় সে পাগল হয়ে যাবে। অসহায়ের মতো আর্তকণ্ঠে মাকে বললো, নেলীকে বলেছি তুমি ওদের বাড়িতে যাবে। হারুন মাকে জড়িয়ে সেই ছেলেবেলাকার মতন আদুরে গলায় বলতে থাকে আমার লক্ষ্মী সোনা মা।

    মা অনেক কষ্টে শেষমেশ রাজি হলেন।

    ত্রিশ বছরের ছেলের বিয়েতে মা রাজি হবেন না, বাঙালি সমাজে এমন ঘটনা বিরল। কিন্তু হারুনের বেলায় এই ব্যতিক্রমের কারণ, মাত্র ত্রিশ বছর বয়সে এক কচি শরীরের বিধবা, যার স্বপ্ন, স্বপ্নই রয়ে গেল, যিনি স্বামীর অপমৃত্যুর পর চারপাশের মানুষদের মধ্যে লোভ-লালসা আর ধৃষ্টতা দেখে নিজের দেহ-মনকে এক অদৃশ্য শেকলে বেঁধে সঙ্কল্প করলেন আর নয়। অনাথ ছেলেটাকে মানুষ করাটাই জীবনের ব্রত হিসেবে গ্রহণ করাই হবে কাজের কাজ। অন্তত এই জন্তু-জানোয়ার আর পাশববৃত্তির দেশে। যে দেশে বিধবা বিবাহ মানেই চাই তার স্বামীর রেখে যাওয়া অর্থ-সম্পত্তি এবং তারপরে তো শরীরের লোভ আছেই। এখানে প্রেম-ভালোবাসা বলে কিছু নেই।

    স্বামীর মৃত্যুর পর নিজেকে ব্যস্ত রাখার জন্যে তাই তিনি বেছে নিয়েছিলেন শিক্ষকতা। হলেন নামকরা শিক্ষক। আর পাশাপাশি এক আদর্শ মা। আগে কোনও সাহায্য চাইতেই, আত্মীয়-স্বজন বিয়ের উপদেশ দিতেন। কিন্তু ধীর স্থির, সমাজ ও ধর্মীয় অনুশাসনে বাধা এই নারী, পরিমিত জীবনে অভ্যস্ত হতে হতে বিয়ের সমস্ত সম্ভাবনাই নাকচ করে দেন। স্বেচ্ছায় নিভিয়ে দেন শরীর এবং যাবতীয় অনুভূতির কোষ, স্নায়ুর যন্ত্রণা।

    এই ছেলেকে আর রাখা যাবে না। এবার ছাড় না দিয়ে আর নিস্তার নেই। তিনিও জানেন। আর এক ঘরে দু’খাট ফেলে শোয়া নয়।

    এবার খাট যাবে আলাদা ঘরে, নেলীর ঘরে। তাই নেলীর সঙ্গে, বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে এলেও সেকথা মনে করে তিনি বারবার অস্থির হয়ে উঠছেন। একটা উটকো মেয়ে এসে ছিনিয়ে নেবে তিল তিল করে নিজের রক্তমাংস দিয়ে গড়ে তোলা তার ছেলেকে! ঈর্ষার আগুনে সেঁকা রুটির মতো ঝলসে যান তিনি। তার ছেলে, যার জন্যে জীবনে সবরকম ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে তাকে। তাই বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে আসার পর থেকেই তিনি অন্যরকম অনুভব করতে শুরু করেন।

    বিয়ের দিন মা ঘরেই রইলেন। উৎসব আছে ঘরে। আনন্দ নেই। ঠিক আছে, তুমি যাও, ছেলেকে অনুমতি দিয়ে তিনি বিছানা নিলেন। সব সত্ত্বেও বিয়েটা হয়ে গেল নির্বিঘ্নে। মা যে অসুখী হারুন জানে। নেলী জানলো, কিন্তু পরে। হারুনের নতুন খাট, ড্রেসিং টেবিল, সোফা, ওয়ার্ডড্রব। সব আলাদা। জীবনে এই প্রথম হারুন অন্য ঘরে ঘুমোবে। তবে মায়ের ঘরের পাশাপাশি। নেলী তার ঘরটি গুছিয়ে নিতে শুরু করলো তার পছন্দমতো জিনিসপত্র দিয়ে।

    বিয়ের তিনদিন পর, শাশুড়ি দিনদুপুরে শুয়ে আছেন। মুখের হাসি তার উধাও হয়ে গ্যাছে। তিনি খুব বিরক্ত। এদিকে নেলী খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখে ঘরের প্রতিটি জিনিস আসবাবপত্র। দেখে রোমাঞ্চিত বোধ করে। এই তার স্বামীর ঘর। নেলী স্বপ্নসুখের ফেরে পড়ে। স্বামীর ঘরে তার সবকিছু বড় আপন লাগে।

    বুকে দুর্বোধ্য যন্ত্রণা। হারুন আর নেলীর দিকে তাকিয়ে একটি কথাও তিনি আর বলতে চাইলেও পারেন না। গোটা বাড়ি জুড়ে সে এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতি। নেলী ভয়ে তাকিয়ে থাকে, স্বামীর মুখের দিকে। একি!

    -তিনি শুয়ে আছেন। শাশুড়িকে খুশি রাখতে নেলী চেষ্টা করে। মা আপনার কি শরীর খারাপ! নেলী ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করে।

    -বলছি তো না। বলে মুখ ঘুরিয়ে নিলেন। নেলী চলে গেল নিজের ঘরে। হারুন বুঝিয়ে বলে, ঠিক হয়ে যাবে সব। একটু সময় দাও। মায়ের কষ্ট তুমি নিজেও একটু চেষ্টা করো বুঝতে লক্ষ্মীটি। কিন্তু দিন যত যায়, বাড়ির পরিবেশ তত অশান্ত হয়ে আসে। নেলী অপেক্ষা করে। আর ঝড়, একটার পর একটা, যা আসছেই।

    গভীর রাতে সমস্ত বাড়িটা নিস্তব্ধ। ওরা টেলিভিশনে খবর শুনছে। ঠিক এমন সময় আবার কার পায়ের শব্দ! দেয়ালের ওপাশে।

    -কে! কে! হারুনকে ঘুম থেকে ওঠায় নেলী। কেউ নেই। চোরের কোন চিহ্নই নেই। ওরা বিড়ম্বনায় পড়ে। কিন্তু মা, নির্লিপ্ত থাকেন।

    -সেই ঘটনার তিনদিন পর, ফের সেই পায়ের শব্দ! ওরা বাইরে যায়! গিয়ে চোর খোঁজে, বেড়াল খোঁজে। চোর নেই, বেড়ালও নেই। এরকম প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে।

    -কার পায়ের শব্দ! কে হাঁটে! কার দীর্ঘশ্বাস! ভূত! পিশাচ!

    মধ্যরাতে কে এই চলমান অশরীরী যিনি সারা বাড়িতে হেঁটে বেড়ায় হারুন! আমার খুব ভয় করছে। নেলী কাঁদে। প্রতিরাতেই নিয়মমাফিক মাকে ওঠানো হয়। কিন্তু তিনিও কিছু বুঝতে পারেন না। বলতেও পারেন না। আর হারুন, প্রতিরাতেই আরেকটু আরেকটু সন্দেহ পুঞ্জিত হয়–কে! কে তিনি! বা কে-সে?

    দারুণ এক রহস্য শুরু হলো এই বাড়িতে। তা সত্ত্বেও নার্গিস বেগম এক সময় ছেলেকে বলেই বসলেন, মাঝে মাঝে তার ঘরে গিয়ে তার আগেকার বিছানায় শুয়ে ঘুমোতে। বললেন, তার কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু নেলী শাশুড়ির ঘরে কিছুতেই ঘুমোবে না বলে জানিয়ে দিল। যদিও বিষয়টা অস্বাভাবিক কিন্তু নেলী খুব বেশি কিছু মনে করলো না এই ভেবে যে এতদিনের অভ্যেস, ঠিক আছে। এরকম হতেই পারে। তবে নিজের মাকে ঘটনাটি জানালো।

    কি বলিস! বললেন মা। তার কাছেও বিষয়টি ভালো না লাগলেও তিনিও ভাবলেন এরকম তো হতেই পারে! তারপরেও নার্গিস বেগমের মধ্যে এক ধরনের অস্বাভাবিকতা দিনকে দিন বাড়তেই থাকে। তিনি নেলীকে কিছুতেই সহ্য করতে পারছেন না। বিভিন্ন অজুহাতে শুরু হলো, সারাক্ষণ গাত্রদাহ। যার প্রথম আর শেষ কথা, নেলী তার ছেলেকে কেড়ে নিয়েছে।

    -নেলীর ঘুম আসছে না। গতরাতেও দারুণ ঝগড়া হলো হারুনের সঙ্গে। তা সত্ত্বেও, আবার সে মায়ের ঘরে শুয়েছে। হারুন অপারগ।

    বললো, মা অকাল বিধবা। প্লিজ সহ্য করো। সব ঠিক হয়ে যাবে। একথা তো আগেই পুরনো হয়ে গেছে। আর কতদিন! সন্ধে হলেই এ বাড়িতে শুরু হয় একটা চাপা অস্থিরতা। একটা দারুণ টেনশন। হারুনের শোয়া নিয়ে। দুই নারীর মধ্যে ক্ষমতার যুদ্ধ। আর নয়। ন্যায্য-অন্যায্যের দ্বন্দ্বে ক্ষতবিক্ষত নেলীর মাথায় ঢুকলো ডিভোর্স।

    মায়ের সঙ্গে ঘুমোনোকে কেন্দ্র করে দু’জনের মধ্যে একসপ্তাহ ধরে কথা একদমই বন্ধ। ঝগড়ার পর কেউ কারো রাগ ভাঙালো না। হারুনের জন্যে আজ মায়াও লাগছে। তাকে সে গতকাল জুতোপেটা করেছে। হারুনই-বা কি করবে! কাকে অবজ্ঞা করবে সে! একদিকে মা আর অন্যদিকে স্ত্রী। আপন-পরের দ্বন্দ্ব এবার।

    ওঠো, বলে বিছানায় শোয়া নেলী হারুনের বুকের মধ্যে মাথা গুঁজে দিলো, সদ্য বিবাহিতের দীর্ঘ বিরহ যেমন সুখের হয়। অম্লমধুর! রক্তে মাতন, উষ্ণ আবেগ, বুকের সব মধু নিংড়ে নিয়ে ভালোবাসতে ইচ্ছে হয়। হারুন তিনরাত ধরে মায়ের ঘরে শুতে যায়নি। বলেছে আর শোবেও না। তার পক্ষে সম্ভব নয়।

    মা চেয়েছিল কিন্তু তা সত্ত্বেও সে এবার অনড়। নেলী, আজ সেকথা নিজ কানে শুনেছে। সুতরাং নেলীর হৃদয় সঙ্গে সঙ্গে গলে গেল। রাগ চলে গেল। অভিমান ঝরলো। ঝরলো কামের প্রত্যাশা।

    তিনরাত পর সে হারুনের শরীর স্পর্শ করলো। আর সে স্পর্শ পেয়েই ঘুমের মধ্যে একটু একটু করে জাগ্রত হতে শুরু করে শরীরের একখণ্ড শিথিল মাংস। ক্রমে তাতে প্রাণ সঞ্চার হলো। জেগে উঠলো পৌরুষ তার আপন বিক্রমে। হারুন তৈরি। ঘুমের মধ্যে যেন তারও অধীর অনন্ত অপেক্ষা। আর অলক্ষ্যে, অপেক্ষা যেন আরো কার! দেয়ালের ওপারে সেই পায়ের শব্দটির অশান্ত আনাগোনা! সন্ত্রস্ত পদক্ষেপ। কে যেন হেঁটে বেড়াচ্ছে। কে যেন অস্থির শ্বাস নিচ্ছে। বিশ্রী এবং নিঃসন্দেহে তা কোনও বেড়ালের নয়।

    হারুন বললো, কেউ না। নেলী, এসব আমাদের ভুল শোনা। দু’জনের শরীর সবকিছু ভুলে এগিয়ে যেতে থাকে। আর ঠিক তখনই, সেই পায়ের শব্দ আরও শব্দ করে কাছে, যেন একেবারে শিয়রে এসে দাঁড়ায়! শব্দ, দাঁড়ায় দেয়ালের একটি ফুটোর কাছে। শব্দ–চোখ বুজে দেখে। শব্দ অস্থির উত্তাল হয়ে দৌড়ে পালাতে গিয়ে দেয়ালে ধাক্কা খায়। শব্দ মিলিয়ে যায়।

    ছত্রিশ বছরের বিধবা শরীরে আজ রাতে যেন আগুন লেগেছে। মৃত স্বামীর ছবিটা হাতে নিয়ে অধ্যাপিকা নার্গিস বেগম হঠাৎ এক জ্বলন্ত অনুভূতির প্লাবনে ধসে গিয়ে সেই রাতে অন্য এক নার্গিসে রূপান্তর হয়। যার সামনে কোনও অনুশাসন নেই। না ধর্মের, না সমাজের। তিনি তার মৃত স্বামীকে ছবির অ্যালবাম থেকে জাগানোর ব্যর্থ চেষ্টা করতে গিয়ে তার সার্টের কলার মিছে চেপে ফিরে আসেন শুধুই মুঠো মুঠো শূন্যতা নিয়ে। তার কোঁকড়া কোঁকড়া চুল ধরতে গিয়ে ফিরে আসেন নির্জনতা নিয়ে। অস্থিরতায় ঘাম সমস্ত করতল জুড়ে তার। গায়ে তার আগ্নেয়গিরির মতো লাল কালো তরল পাথুরে আগুন। তিনি কি চান, নিজেও জানেন না। স্বামীর ছবিটাকেই প্রশ্ন করেন, কেন চলে গেলে? কেন? কেন? তিনি চান তৃষ্ণার জল। তাকে ফিরিয়ে চান। সংশোধন করতে চায় অতীতের সব ভুল। শরীফকে ফিরিয়ে আনতে চায়, বৈধব্য সত্ত্বেও তার কামনা হয়। ইকবালের সঙ্গে বিয়ের প্রস্তাব দিতে এলে বৃদ্ধা মাকেও সে অপমান করেছিল। কত ভুল যে সে করেছে! কত ভুল! কাঁচি দিয়ে কুচি কুচি করে ঘরের পর্দা কাটতে শুরু করে। নিজের পরনের শাড়িও কাটে। অতীতের গহ্বরে হারানো এই ক্ষতি সে কি দিয়ে পূর্ণ করবে। সবই তো অতীত। সময়, সে কি আর বসে থাকে!

    তার সব রাগ নেলীর ওপরে। ঈর্ষা! দারুণ ঈর্ষা! নেলী, হ্যাঁ নেলী নামের নির্বোধ মেয়েটি, সে সুখ করছে তার সুখের বিনিময়ে, যার কারণে সে তার নিজের সমস্ত সুখ বিসর্জন দিয়েছিলেন, ত্রিশ বছর আগে। তা হয় না। হবে না। কিছুতেই না। অবশেষে শরীর ও মনের ভীষণ সঙ্কটে আক্রান্ত অধ্যাপিকা নার্গিস বেগম ঝড়ের বেগে তার রতি ক্রীড়ায় মগ্ন সন্তানের ঘরে ঢুকেই একটি অবুঝ শিশুর মতো আলুথালু চুলে সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। হারুনের পুরুষবৃন্ত মাত্র তখন সবে শৈথিল্যে ফিরছে। তখনো দুই পা বিযুক্ত নেলী অন্ধকারে তার কাপড় হাতড়াচ্ছে। আর অনন্যোপায়, অন্যলোকের বাসিন্দা দু’জন অসহায় স্বামী-স্ত্রী ওরা যেমন ছিল তেমনি গায়ে গায়ে লাগা অবস্থায় পড়ে রইলো। স্বাভাবিক জ্ঞানবুদ্ধি হারিয়ে অধ্যাপিকা নার্গিস বেগম, তখনও ঠায় দাঁড়িয়ে! একচুলও সরলো না। নড়লো না পর্যন্ত। যেন অনড় পাথর।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleচতুর্দশপদী কবিতাবলী – মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    Next Article অতীত একটা ভিনদেশ – মোজাফ্‌ফর হোসেন
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026
    Our Picks

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026

    কলিকাতার কথা (আদিকাণ্ড) – প্রমথনাথ মল্লিক

    January 20, 2026

    দশরূপা – সৌমিত্র বিশ্বাস

    January 20, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }