মহাত্মা কবীরের জীবন – ৪
চার
আমরা আগেই বলেছি একজন মানুষের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য তার পরিবেশ এবং পরিমণ্ডলের ওপর নির্ভর করে। কবীরের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। কবীর মুসলমান জোলা পরিবারে বড়ো হয়ে ওঠেন। এই জোলা সম্প্রদায়ের একটি আলাদা নৃতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য আছে। তাঁরা হলেন নাথ সম্প্রদায়ের যোগী। একসময় নাথ শাসিত পৌরাণিক হিন্দু ধর্ম উত্তরপ্রদেশের এক বিস্তীর্ণ ভূখণ্ডে আধিপত্য বিস্তার করে। ব্রাহ্মণরা সমাজপতির আসনে আসীন হন। তাঁরা অনেক সময় ভূখণ্ড পরিচালনার ক্ষেত্রে ক্ষত্রিয়দের প্রতিস্পর্ধী হয়ে ওঠেন। যেহেতু সাধারণ মানুষের চোখে ব্রাহ্মণরা ছিলেন ঈশ্বরের প্রতিভূ, তাই তাঁরা একটি ভূখণ্ড শাসন করতে গিয়ে অতিরিক্ত ক্ষমতার অধিকারী হন। পরবর্তীকালে তাঁরা সমাজের তথাকথিত নিম্নবর্ণের মানুষদের ওপর ধারাবাহিক অত্যাচার চালাতে শুরু করেন। তখন হিন্দুধর্মের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে অনেক মানুষ মুসলমান ধর্ম গ্রহণ করতে বাধ্য হন। মুসলমান শাসকরা উত্তর—ভারতের এক বিস্তীর্ণ ভূমিখণ্ডের ওপর তাঁদের আধিপত্য কায়েম করেছেন। এই সময়ে নাথ সম্প্রদায়ের জোলারা বাধ্য হয়ে মুসলমান ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু তাঁদের সংস্কৃতির মধ্যে হিন্দু—মুসলমানের দ্বৈত—চেতনা প্রবাহিত ছিল। তাঁরা তাঁদের মনন এবং মানসিকতা থেকে হিন্দুধর্মের বিষয়গুলিকে একেবারে লুপ্ত করতে পারেননি। আবার মুসলমান ধর্মের নানা ইতিবাচক দিক তাঁদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করে।
নাথ সম্প্রদায়ের মানুষেরা বেদ, ব্রাহ্মণ, বর্ণাশ্রম, অস্পৃশ্যতা, পৌরাণিক শাস্ত্রাচার প্রভৃতি মানতেন না। কিন্তু তাঁরা ব্রহ্মকে মানতেন। তাঁরা ছিলেন নিরাকার ধর্মের উপাসক। নাথ ধর্মের মহাসাধকেরা তাঁদের জীবনব্যাপী সাধনার মাধ্যমে বলেছেন যে উপযুক্ত এবং ধারাবাহিক যোগ্য সাধনার মাধ্যমেই একজন মানুষ তার ঈপ্সিত লক্ষ্যে পৌঁছোতে পারবে। তখন জীবন্মুক্তি ঘটে যাবে এবং সেই মানুষকে আর মনুষ্যদেহ গ্রহণ করার জন্য পৃথিবীতে আসতে হবে না। এই কাজে সিদ্ধিলাভ করার জন্য নাথ সাধকেরা হঠযোগের সাধনাও করতেন।
নাথ সম্প্রদায়ের মানুষেরা মুসলমান হলেন, কিন্তু সামাজিক প্রভাব বা প্রতিপত্তি কিছুই পেলেন না। আগের মতোই তাঁত বুনে কোনোরকমে কায়ক্লেশে জীবিকা নির্বাহ করতে থাকলেন। তাঁদের দৈনন্দিন আচার আচরণের মধ্যে হিন্দুধর্মের অনেক বৈশিষ্ট্য প্রকাশিত হত। কবীর যে পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন, সেই পরিবার দু—পুরুষ আগে মুসলমান ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। তাই এই পরিবারের সদস্যরা দুটি পরিবারের সাধনাকেই মনেপ্রাণে গ্রহণ করেছিলেন। তাঁরা বুঝতে পেরেছিলেন যে ভারত—সংস্কৃতির দুটি ধারাকে একীভূত করতে না পারলে ভারতীয়ত্ব বোধের জাগরণ সম্ভব হবে না।
এমনই এক অসাম্প্রদায়িক পরিবেশের মধ্যে কবীর বেড়ে ওঠেন। যেহেতু তাঁর সংসারে ছিল দারিদ্রের অভিশাপ তাই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষালাভের সুযোগ তাঁর হয়নি। ছোটোবেলা থেকেই তাঁকে বাধ্য হয়ে তাঁত ব্যবসা শিখতে হয়। কিন্তু সেদিনের বালক কবীরের মন সদাসর্বদা ঈশ্বর—চেতনায় মগ্ন থাকত। তাঁত চালাতে চালাতে তিনি অবাক বিস্ময়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকতেন। মাঝে মাঝে কোনো বন্ধুর কাছে গিয়ে একটি কঠিন প্রশ্ন করতেন। পালক পিতাকে সাহায্য করার জন্য তাঁকে বাধ্য হয়ে তাঁত চালাতে হত। কিন্তু এই কাজে তিনি তাঁর মনপ্রাণ সমর্পণ করতে পারতেন না। কোনো তাৎক্ষণিক সুখ তাঁকে বিন্দুমাত্র আকৃষ্ট করতে পারত না। তাঁকে দেখে মনে হত তিনি বোধহয় এক ভাবরাজ্যে বিচরণ করছেন। সমবয়সি সঙ্গীসাথিদের সঙ্গে মিলে কোনো বিনোদনী কৌতুকে কখনো অংশ নিতেন না। বালক বয়স থেকেই কবীর ছিলেন অত্যন্ত গম্ভীর স্বভাবের।
তখন কাশীতে প্রায় রোজই একাধিক ধর্মসভা অনুষ্ঠিত হত। কবীর সময় এবং সুযোগ পেলেই এইসব ধর্মসভায় উপস্থিত হতেন। সেখানে ধর্মের প্রবক্তারা জ্ঞানগম্ভীর ভাষণের মাধ্যমে দর্শক এবং শ্রোতৃমণ্ডলীকে উদ্বুদ্ধ করতেন। অনেক সময় বিতর্কের আসর বসতো। একজন প্রবীণ বক্তা অন্য এক বক্তার যুক্তিগুলি খণ্ডন করার চেষ্টা করতেন। কবীরের কাছে এই জাতীয় তর্ক—বিতর্কের আসর ছিল অত্যন্ত আকর্ষণীয়। তিনি এইসব আসরে গিয়ে হিন্দুধর্মের নানা তত্ত্ব সম্পর্কে অবহিত হতেন। আবার কখনো কখনো তিনি মুসলমান ধর্মসভাতেও যেতেন। মৌলবীরা কণ্ঠমাধুর্যের সাহায্যে কোরানের এক—একটি পদ বর্ণনা করতেন। কবীর তন্ময় হয়ে এই বর্ণনাগুলি শুনতেন। কিশোর বয়স থেকেই কোনো ধর্মের প্রতি তিনি বিন্দুমাত্র বিদ্বেষ পোষণ করেননি। যেহেতু তাঁর রক্তে নাথ ধর্মের প্রভাব ছিল তাই কৈশোরে পদার্পণ করার সঙ্গে সঙ্গে কবীর যোগবিদ্যার প্রতি তীব্র আকর্ষণ বোধ করতে থাকেন।
যদিও তিনি সেভাবে শিক্ষিত হবার সুযোগ পাননি কিন্তু পরিদৃশ্যমান, পৃথিবীর নানা ঘটনাবলি সম্পর্কে ছিল তাঁর তীব্র জিজ্ঞাসা। তিনি সত্যকে উপলব্ধি করতে পারতেন। ধর্মের যে—কোনো দুরূহ আলোচনা একবার শোনার সঙ্গে সঙ্গে তার প্রতিটি অক্ষর মনে রাখতে পারতেন। গ্রামবাসীরা কিশোর কবীরের এই আশ্চর্য ক্ষমতা দেখে একেবারে অবাক হয়ে যেতেন। অনেকে তখনই মন্তব্য করেছিলেন যে, কবীর একজন বিশিষ্ট সাধকে পরিণত হবেন।
কবীর কোনো জায়গায় গিয়ে ঈশ্বর সম্পর্কে আলোচনায় অংশ নিতেন। এই বয়সে তাঁর আধ্যাত্মিক জ্ঞানের তীব্রতা দেখে জনমণ্ডলী একেবারে অবাক হয়ে যেত। ধর্ম আলোচনায় যোগ দেবার সঙ্গে সঙ্গে সব কিছু ভুলে যেতেন কিশোর কবীর। তাঁর ওপর যে একটি গুরুদায়িত্ব ন্যস্ত হয়েছে সেকথা তাঁর বিন্দুমাত্র মনে থাকত না। অনেকে কবীরের বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ করতেন। অনেকে আবার কবীরকে অলস, অকর্মণ্য বলে বিদ্রূপ করতেন। এইসব কথা তাঁর পালিত মা—বাবা নীরু ও নীমার কাছে পৌঁছে যেত। পালিত পুত্রের এহেন আচরণে তাঁরা খুবই কষ্ট পেতেন। তাঁরা জানতেন যে কবীরের মধ্যে এক আশ্চর্য ক্ষমতা লুকিয়ে আছে। কবীর তাঁদের কাছে ছিলেন ঈশ্বরের অবদান। কিন্তু কিশোর কবীরের এই ধরনের বৈরাগ্য দেখে তাঁরা মনে মনে খুবই দুঃখ পেতেন। কবীরের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে খুবই চিন্তা করতেন তাঁরা। অনেকে এসে নানা পরামর্শ দিতেন। অনেকে বলতেন কবীরকে এবার দেখেশুনে একটা বিয়ে দিলেই এই উন্মনা ভাব সেরে যাবে।
কিন্তু কবীরের কাছে এই প্রস্তাব তুলতেই তিনি তা নাকচ করার চেষ্টা করতেন। তিনি বলতেন যে ঈশ্বরকে লাভ করাই হল তাঁর জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য। তিনি ঈশ্বর চিন্তার মাধ্যমেই জীবনের প্রতিটি প্রহর কাটিয়ে দেবেন। তাই সংসারের বন্ধনে নিজেকে বন্দি করবেন না।
কবীরের কথার মধ্যে যুক্তি ছিল। এই যুক্তি খণ্ডন করতে পারেননি তাঁর পাড়া প্রতিবেশীরা। অবশেষে এগিয়ে এলেন এক বয়স্ক ভদ্রলোক।
তিনি কবীরকে নানাভাবে বোঝাতে শুরু করলেন। সেই ভদ্রলোক বুঝিয়েছিলেন যে, যদি আমরা সৎ এবং নির্ভীক থাকি তাহলে সিদ্ধিলাভ হবেই। এই পৃথিবীতে এমন অনেক সংসারী মানুষকে দেখতে পাওয়া যায় যাঁরা তাঁদের সততা, ভক্তি এবং নিষ্ঠার দ্বারা ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভ করেছেন। এর জন্য বিয়ে করা অথবা অবিবাহিত থাকা, দুটোই সমান। কবীর যদি সৎ এবং নিষ্ঠাবান হন, তাহলে ঈশ্বরের সান্নিধ্য অবশ্যই লাভ করবেন।
এতদিন পর্যন্ত কবীর গভীরভাবে বিবাহ সংক্রান্ত যে—কোনো আবেদনকে নাকচ করেছেন। সারাজীবন কঠিন কঠোর ব্রহ্মচর্য পালন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। কিন্তু এখন এসব কথা শুনে কবীর বুঝতে পারলেন যে পালক পিতা—মাতার মনে শান্তি দিতে হলে তাঁকে বিয়ে করতেই হবে। এই পালক পিতামাতা না থাকলে কবীরের পক্ষে জীবনধারণ করা কী সম্ভব হত?
অনেক ভাবনাচিন্তা করার পর কবীর লুই নামের এক মুসলমান কন্যাকে বিয়ে করেছিলেন। বিয়ের পরেও তাঁর মানসিকতার ক্ষেত্রে বিন্দুমাত্র পরিবর্তন হল না। আগের মতোই এক মুসাফির হয়ে এক আলোচনা সভা থেকে অন্য আলোচনা সভায় চলে যাচ্ছেন। কোথাও একজন যোগীপুরুষ এসেছেন এই খবর পেলে সঙ্গে সঙ্গে সেই মহাত্মা পুরুষের সঙ্গে দেখা করতে যেতেন কবীর। তরুণ সাধক হিসাবে কবীরের নাম তখন চারপাশের অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছিল। অনেকে কবীরের সঙ্গে কথা বলার জন্য অপেক্ষায় থাকতেন। অনেকে কবীরকে তাঁর ইহজীবনের গুরু বলে মেনে নিয়েছিলেন। অনেকে চলতি পথে কবীরকে দেখে তাঁর মুখ থেকে ধর্মের আলোচনা শুনতে চাইতেন। কবীর কিন্তু অতি শান্তভাবে সকলের প্রশ্নের জবাব দেবার চেষ্টা করতেন। এতেই প্রমাণিত হয় যে তিনি কত বড়ো মাপের সাধক ছিলেন।
হিন্দু ধর্ম এবং ইসলাম ধর্মের পারস্পরিক আলোচনা কবীরকে আরও প্রাজ্ঞ এবং ঋদ্ধ করে তোলে। কবীর বুঝতে পেরেছিলেন যে, কাজি এবং মৌলবীরা নানাভাবে দরিদ্র মুসলমানদের ঠকিয়ে চলেছেন। অশিক্ষিত সাধারণ মানুষের কাছে তাঁরা ধর্মের ভুল ব্যাখ্যা তুলে দিচ্ছেন। ধর্মকে আরও জটিল করে তুলছেন যাতে সাধারণ জনমানসে তাঁদের প্রভাব ও প্রতিপত্তি অক্ষুণ্ণ থাকে।
হিন্দু সমাজেও এমন কিছু পুরোহিতের দেখা মেলে যাঁরা অযথা ধর্মের বিষয়টিকে জটিল করে তুলতেন। কবীর হিন্দু এবং মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধেই কড়া সমালোচনা করতে শুরু করলেন। তাঁর লেখনীর মধ্যে এমন এক অগ্নি আবেশ ছিল যা সকলকে ভাবিয়ে তুললো। কবীর চেয়েছিলেন ভারতবর্ষের বুকে হিন্দু এবং মুসলমান যেন সম্প্রীতির বাতাবরণ রক্ষা করে বসবাস করতে পারেন। এই কাজে তিনি জীবনের অনেকগুলি রক্তিম প্রহরকে উৎসর্গ করেছিলেন। বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে ঘুরে হিন্দু এবং মুসলমান সম্প্রদায়ের সাধারণ মানুষকে সাবধান করে দিলেন। তাদের কাছে কবীরের আহ্বান ছিল কেউ যেন কবীরকে গুরু বলে না মানে। কারণ গুরু হওয়া অত সহজ কাজ নয়। এই বিষয়ে একটি দোঁহায় কবীর তাঁর মনের ভাব পরিষ্কারভাবে বললেন—
সাধো, সো সতগুরু মোহিঁ ভাবৈ।
মত্ত প্রেমকা ভর ভর প্যালা।
আপ পিঠৈ মাহি প্যাবৈ।
পরদা দূর করৈ আখিলকা,
ব্রহ্ম-দরশ দিখলাবৈ।
জিস দরশমে সব লোক দরশৈ,
অনহদ শব্দ শুনাবৈ।
একহি সব সুখ দুঃখ দিখলাবৈ,
শব্দ মেঁ সুরত সমাবৈ,
কহৈঁ কবীর তাকো ভয় নাহীঁ,
নির্ভর পদ পরমাবৈ।
সাধু, সেই সৎগুরুকে আমার ভালো লাগে যিনি সাচ্চা প্রেমের পেয়ালা ভরে নিজে পান করেন আর আমাকেও পান করান। যিনি চোখের পর্দা ঘুচিয়ে দিয়ে ব্রহ্ম দর্শন করান। যে ব্রহ্মদর্শনের রূপ রূপান্তর দেখা যায়, অনাহত শব্দ শোনা যায়, সেই দর্শন লাভ করে আমি অনাস্বাদিত আনন্দ পেয়েছি। শব্দ ও ব্রহ্মের মধ্যে যে চেতনা লুকিয়ে আছে, তার প্রকাশ দরকার। কবীর বলছেন সেই সৎগুরুর কোনো ভয় নেই, যিনি নির্ভরযোগ্য পদস্পর্শ করিয়ে দেন।
এইভাবে একটির পর একটি দোঁহা লিখে কবীর সর্বসাধারণের মধ্যে তাঁর বাণী প্রচার করতে থাকলেন। প্রথম প্রথম কেউ তাঁর দোঁহা শুনতে আসত না। ধীরে ধীরে অবস্থার ব্যাপক পরিবর্তন ঘটল। তখন এক অভূতপূর্ব দৃশ্য দেখা গেল। কবীর দোঁহা বলতে বলতে এগিয়ে চলেছেন আর অসংখ্য মানুষ তাঁকে নীরবে নিঃশব্দে অনুসরণ করছেন। তাঁরা বুঝতে পেরেছিলেন যে কবীরের মধ্যে একটি আলাদা সাধক—সত্তা লুকিয়ে আছে। তিনি তথাকথিত পুরোহিত এবং মৌলবীদের মতো জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেন না, স্বীয় স্বার্থসিদ্ধির জন্য ধর্মের ভুল ব্যাখ্যা করেন না। শহরের বিশিষ্ট মানুষজনও তখন কবীরের সম্পর্কে অন্যরকম ভাবনাচিন্তা করতে শুরু করেছেন। ভবিষ্যতে যিনি একজন সর্বজন শ্রদ্ধেয় মহাসাধক হয়ে উঠবেন, এভাবেই বুঝি শুরু হল তার প্রস্তুতির পালা।
