Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026

    কলিকাতার কথা (আদিকাণ্ড) – প্রমথনাথ মল্লিক

    January 20, 2026

    দশরূপা – সৌমিত্র বিশ্বাস

    January 20, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মহাদেবী – অভীক সরকার

    অভীক সরকার এক পাতা গল্প166 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    মহাদেবী – ৫

    সভাসদ, পাত্র-মিত্র-অমাত্য সমভিব্যাহারে মহারাজ রামগুপ্তর বিজয়যাত্রা চলেছে। চলেছে উত্তরাপথের দিকে। চলেছে নগর, গ্রাম, অরণ্যানী স্রোতস্বিনী প্রকম্পিত করে। দরিদ্র, করভারপীড়িত প্রজাপুঞ্জ সেই গর্বোদ্ধত বিজয়শোভাযাত্রার দিকে সভয়ে চেয়ে থাকে, আর যাত্রাদল অন্তর্হিত হলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বলে, ‘অহো, কী প্রতাপ!’

    শোভাযাত্রার একদম প্রথম দিকে রয়েছে সম্রাট এবং তাঁর পারিষদবর্গের শিবিকা। আড়ম্বরে, পারিপাট্যে, গৌরবে সুসজ্জিত তারা। তাদের দিক থেকে চোখ ফেরানো যায় না। মধ্যস্থলের শিবিকাগুলি মহাদেবী, রাজমাতা সহ অন্যান্য পুরনারীদের জন্য। আর শোভাযাত্রার একদম শেষে সবচাইতে ক্ষুদ্র, অনাড়ম্বর এবং বাহুল্যবর্জিত শিবিকাটি নির্দিষ্ট হয়েছে কুমার চন্দ্রগুপ্তর জন্য।

    মহাদেবী ধ্রুবার চতুর্দোলার ঠিক পরেই থাকে রাজমাতা দত্তাদেবীর চতুর্দোলা। ধ্রুবা প্রয়োজন ছাড়া কারও সঙ্গেই বাক্যালাপে বিশেষ উৎসাহী নন। তিনি জানেন যে তাঁর প্রতিটি মুহূর্ত, প্রতিটি চলাফেরা দত্তাদেবী বা সম্রাটের লক্ষ্যবন্দী। তিনি জানেন যে পরিচারিকাদের সামনে কোনও অসতর্ক মুহূর্ত, কোনও আপত্তিকর উক্তি তাঁর জীবনে বৃহত্তর দুর্ভোগ এনে দিতে পারে। আর রাজমাতার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক শীতল বললে কম বলা হয়।

    এদিকে রাজস্কন্ধাবারের মধ্যে ঘনিয়ে উঠেছে অন্য সমীকরণ। রামগুপ্ত প্রায় সারাদিনই মদ্যপানে রত থাকেন। তাঁর ঘটমান অবর্তমানে শাসনক্ষমতা কুক্ষিগত করে রেখেছেন সেনাপতি সূর্যস্বামী। তাঁর কথাই এখন রাজস্কন্ধাবারের শেষ কথা। তিনি যা পরামর্শ দেন, সম্রাট তাতেই সায় দেন। তিনি যে পথে যেতে বলেন, সম্রাট সেই পথেই হাঁটেন।

    অযোগ্য পুরুষের হাতে ক্ষমতার গুরুদায়িত্ব অর্পিত হলে যা হয় তাই হতে লাগল। সূর্যস্বামী ক্ষমতার দম্ভে অন্যান্য পারিষদদের, এমনকী নিজের পিতা প্রধানমন্ত্রী শিখরস্বামীকেও অবজ্ঞা করতে শুরু করলেন। প্রৌঢ় শিখরস্বামী সবার অজানিতে শুধু নিজশিরে করাঘাত করেন আর ভাবেন কোন পাপে এই অর্বাচীনের পিতা হওয়ার দুর্ভাগ্য হল তাঁর।

    যাত্রার শুরুর দিন থেকে রামগুপ্ত আরও উদ্ধত, আরও দুর্বিনীত, আরও দুঃসহ হয়ে উঠেছেন। বিশেষ করে কুমার চন্দ্রগুপ্ত যেন তাঁর দুচক্ষের বিষ। তিনি প্রতিনিয়ত সর্বসমক্ষে চন্দ্রগুপ্তকে হেয় করেন, অপমান করেন। অহোরাত্র তাঁকে মনে করিয়ে দেন যে তিনি গুপ্তসাম্রাজ্যের একজন বেতনভুক কর্মচারী বৈ আর কেউ নন। আর তাতে ক্রমাগত ইন্ধন জুগিয়ে যান সূর্যস্বামী।

    সূর্যস্বামী পরশ্রীকাতর, ভীরু, এবং কুটিল। এবং যে কোনও পরশ্রীকাতর, ভীরু এবং কুটিল পুরুষ সর্বদাই কোনও প্রতিভাবান ও স্বাবলম্বী পুরুষকে ভয়মিশ্রিত ঘৃণা করে। সূর্যস্বামী চন্দ্রগুপ্তকে অত্যন্ত ভয় করতেন। এবং তার সঙ্গে অনেকটা ঈর্ষাও মিশে ছিল। তিনি জানতেন তাঁর গুপ্তসাম্রাজ্যের ভাগ্যনিয়ন্তা হয়ে ওঠার পথে একজনই বাধা হতে পারেন, কুমার চন্দ্রগুপ্ত। তিনি ক্রমাগত মিথ্যা কথা বলে সম্রাটকে কুমার চন্দ্রগুপ্তর প্রতি আরও বিদ্বিষ্ট করে তুললেন।

    কিন্তু ভাগ্যলক্ষ্মী বড় স্থিরবুদ্ধির মেয়ে নন। উগ্র দম্ভ, কুটিল ঈর্ষা এসব তাঁর রুচিবিহর্গিত৷ তিনি ঈষৎ চঞ্চলা হলেন।

    পাটলিপুত্র থেকে বারাণসীর পথে সাকেত পৌঁছেছে রাজশোভাযাত্রা। অনতিদূরে কান্যকুব্জ। নির্মল শারদপ্রভাত, বর্ষাবসানে তরুণ মেঘগুলি আকাশে ভেসে বেড়াচ্ছে নবনীখণ্ডের মতো।

    রামগুপ্ত শিবিকা থেকে বেরিয়ে রথারূঢ় হয়েছেন। পরনে সযত্নে পরিহিত রাজবেশ। এই প্রভাতেই ঈষৎ টলায়মান তিনি। চোখদুটি ঢুলুঢুলু। ঠোঁটদুটি ঈষৎ শিথিল। ওষ্ঠপ্রান্তে একটি দুর্বোধ্য হাসি। রামগুপ্তর পাশে আছেন তাঁর সর্বক্ষণের সঙ্গী সেনাপ্রধান সূর্যস্বামী।

    পথপার্শ্বে প্রজাদের ভিড়। আজ মহারাজাধিরাজ দর্শন দেবেন শুনে তারা রাজসন্দর্শনে এসেছে৷ কে না জানে, রাজদর্শনে তীর্থযাত্রার সমান পুণ্যফল? ভীত, ক্লিষ্ট, দারিদ্র্যপীড়িত ভাগ্যহত প্রজাদের দল ভীতসমস্ত ভাবে পথের পাশে সারিবদ্ধ দাঁড়িয়ে আছে। সম্রাটের রথের চূড়া দেখামাত্র তাঁরা ধুলায় লুটিয়ে প্রণাম জানাতে লাগল মহাপরাক্রান্ত গুপ্তসাম্রাজ্যের মহিমান্বিত সম্রাট রামগুপ্তর উদ্দেশে।

    রামগুপ্ত বড় প্রসন্ন হলেন। আহা, এই তো চেয়েছিলেন তিনি। নিঃশঙ্ক, নিঃসপত্ন আনুগত্য। প্রজারা তাঁকে ভয় করবে, পারিষদবর্গ থাকবে অনুগত। আর তিনি রাজলক্ষ্মীর বরমাল্যটি নিজগলে ধারণ করে প্রবলপ্রতাপে সসাগরা ধরিত্রীর রাজচক্রবর্তী সম্রাট হয়ে বিরাজ করবেন। আহা, মধুবাতা ঋতায়তে, মধুক্ষরন্তি সিন্ধবাঃ…

    একটু পরেই প্রজাদের মধ্যে কী যেন একটা চাঞ্চল্য দেখা দিল। তারা ইতিউতি তাকাচ্ছে, একে অন্যের কানে ফিসফিস করে কথা বলছে। যেন রাজসন্দর্শনের মতো মহাপুণ্যকর্মে তাদের আর মতি নেই।

    রামগুপ্ত বুঝলেন না তাদের এই চঞ্চলতা কীসের। তিনি ঘাড় ঘুরিয়ে সূর্যস্বামীকে প্রশ্ন করতে যাবেন, এমন সময় একটি বেগবান অশ্ব ধূলি উড়িয়ে রামগুপ্তর রথের পাশে এসে দাঁড়াল। আর সঙ্গে সঙ্গে প্রজাদের মধ্য থেকে গগনবিদারী জয়ধ্বনি উত্থিত হল, ‘জয় কুমার চন্দ্রগুপ্তর জয়। জয় গুপ্তসাম্রাজ্যের জয়। জয় ভারতভাগ্যবিধাতার জয়।’

    রামগুপ্ত তাকিয়ে দেখলেন তাঁর রথের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন কুমার চন্দ্রগুপ্ত। সূর্যের আলো তাঁর বর্মে প্রতিফলিত হয়ে ছড়িয়ে পড়ছে চারিদিকে। তাঁর ঋজু শরীরে, উন্নত ললাটে, উজ্জ্বল মুখমণ্ডলে প্রতিভাত হচ্ছে রাজোচিত গাম্ভীর্য। তাঁর ব্যক্তিত্বের প্রভায় অন্যান্য রাজন্যবর্গকে নিতান্তই নিষ্প্রভ দেখাচ্ছে।

    রামগুপ্তর মুখ ক্রোধে রক্তবর্ণ ধারণ করল। তিনি গম্ভীরমুখে সারথিতে আদেশ দিলেন দ্রুত রথচালনা করতে।

    অন্য একটি শিবিকায় আরও একজনের মুখও অরুণবর্ণ ধারণ করল বটে, তবে ক্রোধে নয়। কেন, কেউ জানে না। তিনি অতি নিভৃতে নিজের চোখ থেকে ঝরে পড়া দুই ফোঁটা মুকুতাবিন্দু মুছে নিলেন। সেই বিন্দুর মধ্যে কতখানি আনন্দ আর কতখানি বেদনা মিশে ছিল সে শুধু ঈশ্বরই জানেন।

    .

    পত্রটি হাতে নিয়ে অনেকক্ষণ সেইদিকে ভ্রুকুটিকুটিল চোখে চেয়ে রইলেন মহারাজ চন্দ্রজ্যোতি। রাজসভা শূন্য। সভাসদদের রাজকার্য হতে অনেক আগেই অব্যাহতি দিয়েছেন তিনি। তিনি ছাড়া এই রাজসভায় উপস্থিত কেবলমাত্র বীজনকার।

    একটু পর প্রতিহারী এসে বিনম্রস্বরে বলল, ‘কুমারী মন্দা উপস্থিত হয়েছেন প্রভু। তাঁকে অন্দরে আসতে বলি?’

    মহারাজ অনুমতি দিলে মন্দা এসে আভূমি প্রণাম করে দাঁড়ালেন। তিনি মহারাজের বয়স্য দন্তিদুর্গের কন্যা। স্বরাজ্য রক্ষা করতে গিয়ে দন্তিদুর্গ যুদ্ধক্ষেত্রে বীরগতি প্রাপ্ত হন। মন্দার মাতৃদেবী পরাশর সংহিতার বিধিবলে পুনর্বিবাহ করেন। সেই বিবাহে মহারাজ স্বয়ং উপস্থিত হয়ে নবদম্পতিকে আশীর্বাদ করেন। এবং মন্দাকে দত্তক নেন।

    সেই হতে মন্দা এই রাজগৃহে রাজকুমারীর সমান যত্নে পালিতা। মহারাজ মন্দা আর ধ্রুবাকে কোনওদিন পৃথকচক্ষে দেখেননি।

    মহারাজ চন্দ্রজ্যোতি ধ্রুবাকে দেখে স্নেহস্বরে বললেন, ‘কেমন আছ মা মন্দা। তোমার মাতৃদেবী কেমন আছেন?’

    মন্দা শুষ্কস্বরে যথাবিহিত সম্মানের সঙ্গে বললেন, ‘আপনার আশীর্বাদে ভালো আছি মহারাজ। মা’ও ভালো আছেন।’

    মন্দার নিষ্প্রাণ স্বর মহারাজের কান এড়াল না। তিনি পত্রটি মন্দার দিকে এগিয়ে দিয়ে বললেন, ‘ধ্রুবার পত্র এসেছে মন্দা। তাই তোমাকে ডাকলাম। দেখ দেখি, পত্রটি পড়ে কিছু বুঝতে পারো কিনা।’

    মন্দা সাগ্রহে এগিয়ে এসে পত্রটি নিলেন। তারপর পত্রটি যে কতবার পড়লেন, কতবার গণ্ডদেশে স্পর্শ করে দেখলেন, কতবার তার সুগন্ধ নিলেন তার ইয়ত্তা নেই। কে জানত, এইভাবেও প্রাণাধিক প্রিয়সখীর স্পর্শ অনুভব করা যায়?

    মহারাজ দুই সখীর প্রণয় সম্পর্কে সম্যক অবগত ছিলেন। তাঁর চোখ দুখানি বাষ্পাচ্ছন্ন হয়ে এল। তিনিও কি কন্যাবিরহে এমনই কাতর নন?

    কিছুক্ষণ পর মন্দা কিঞ্চিৎ সুস্থির হলে মহারাজ কোমলস্বরে প্রশ্ন করলেন, ‘কী বুঝলে মা মন্দা?’

    মন্দা অশ্রুগোপন করে বললেন, ‘ধ্রুবা ভালো আছে মহারাজ। মহান গুপ্তসাম্রাজ্যের পট্টমহিষী হয়ে সে সুখে আছে।’

    ‘আর কুমার চন্দ্রগুপ্ত?’

    এইবার মন্দার চোখের জল আর শিষ্টাচারের বাধা মানল না। তাঁর দুচোখ উপচিয়ে, কপোলতল বেয়ে অনেকদিনের সঞ্চিত কষ্টের স্রোত নেমে আসতে লাগল। তিনি শুধু অস্ফুটে একবার বললেন, ‘কেবল ভালো মানুষদের সঙ্গেই কেন এমন হয় জ্যেঠ?’

    মন্দা বালিকাবয়সে মহারাজকে নিজের আপন জ্যেষ্ঠপিতৃব্যরূপেই চিনতেন। বয়সকালে প্রাপ্ত শিষ্টশিক্ষা অনুযায়ী তিনি তাঁর পিতৃব্যকে মহারাজ সম্বোধনে অভ্যস্ত হলেও এই আবেগমথিত কালে সেই শিক্ষা আর তাঁর মনে রইল না।

    অশ্রুমোচন করলেন মহারাজ চন্দ্রজ্যোতিও। কে বলে পুরুষ মানুষ কাঁদে না?

    কিছুক্ষণ পর মহারাজ স্থির হয়ে বললেন, ‘ধ্রুবা ভালো নেই রে, মা মন্দা।’

    ‘কেন এ কথা বলছেন জ্যেঠ?’

    ‘পত্রটি ভালো করে দেখ রে মা। নীচের দিকে জলবিন্দুর ছাপ দেখতে পাচ্ছিস?’

    মন্দা অত্যন্ত অভিনিবেশ সহকারে পত্রটি লক্ষ করলেন। তারপর সন্ধান পেলেন প্রায় মিলিয়ে আসা সেই অশ্রুবিন্দুছাপের।

    বিষণ্ণ হাসলেন মহারাজ, ‘কন্যার অশ্রুর চিহ্ন পিতার থেকে ভালো আর কেই বা চেনে রে মা?’

    মন্দা স্থির দাঁড়িয়ে রইলেন৷ দুঃখে তাঁর অন্তর বিদীর্ণ হয়ে যাচ্ছিল।

    মহারাজ চন্দ্রজ্যোতি মৃদুস্বরে ডাকলেন, ‘হিমবন্ত।’

    বীজনকার ব্যজন বন্ধ করে বললেন, ‘আদেশ প্রভু।’

    ‘রামগুপ্তর ওই বিজয়শোভাযাত্রা না কী, তার কী সংবাদ?’

    ‘প্রভু, আমার কাছে সংবাদ আছে যে সম্রাট রামগুপ্তর বিজয়শোভাযাত্রা ত্রিগর্তর পথে নগরকোটে পৌঁছবে।’

    ভ্রুকুঞ্চন করলেন মহারাজা, ‘আর নগরকোট হতে রুদ্রসিংহের ভীমনগর দুর্গ কতদূর?’

    ‘অনধিক বিশ ক্রোশ, মহারাজ।’

    ‘তাহলে রামগুপ্ত তার সভাসদ, কলত্র, পরিজন, সবাইকে নিয়ে শত্রুদুর্গের দিকে যাচ্ছে ঠিক কোন উদ্দেশে?’

    ‘তিনি যাচ্ছেন না মহারাজ, তাঁকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।’

    ‘বটে? আর তাঁকে ওই শত্রুপরিবেষ্টিত অঞ্চলে নিয়ে যাওয়ার ছল তিনি বুঝতে পারছেন না কেন?’

    ‘কারণ তিনি মূর্খ, মহারাজ। দাম্ভিক, অবিবেচক এবং মহামূর্খ।’

    মন্দা চমৎকৃত হয়ে এই বার্তালাপ শুনছিলেন। এবার প্রশ্ন না করে পারলেন না, ‘ইনি কে মহারাজ? ইতি এত সংবাদ পেলেন কোথা থেকে?’

    মহারাজ চন্দ্রজ্যোতি স্নেহসিক্ত সুরে বললেন, ‘এর নাম হিমবন্ত মা, পাটলিপুত্রের গুপ্তচর বাহিনীর অন্যতম প্রধান। রামগুপ্তর প্রিয় সেনাপ্রধান সূর্যস্বামী একে পাঠিয়েছিল আমার ওপর গুপ্তচরবৃত্তির জন্য। বেচারি প্রথম রাত্রেই ধরা পড়ে যায়৷ সেইদিনই এর শিরশ্ছেদ নিশ্চিত ছিল, যদি না আমি একে প্রাণভিক্ষা দিতাম।

    সেই হতে হিমবন্ত আমার ভারি অনুগত হয়ে পড়েছে। সে পাটলিপুত্রের সঠিক সংবাদ আমাকে দেয়, আর মালবের বেঠিক সংবাদ পাটলিপুত্রে প্রেরণ করে। কী হিমবন্ত, ঠিক বলছি তো?’

    হিমবন্ত আভূমি প্রণত হয়ে বলে, ‘মহারাজের অশেষ কৃপা।’

    মহারাজ চন্দ্রজ্যোতি বললেন, ‘আমাকে যেতে হবে মা মন্দা। আমার মন বলছে মেয়ের সামনে বিপদ আসতে চলেছে, ভয়ংকর বিপদ।’

    মন্দা চোখের জল মুছলেন। তারপর দৃঢ়স্বরে বললেন, ‘আমিও আপনার সঙ্গে যাব মহারাজ, আদেশ করুন।’

    .

    পাটলিপুত্র নগরীর প্রবেশদ্বার চারটি। তার মধ্যে যেটি গঙ্গার ধারে, সেখানে এক প্রহরী দাঁড়িয়ে নাগরিকদের গতিবিধি পর্যালোচনা করছিল। সম্রাট সপারিষদ বিজয়যাত্রায় গেছেন। তাই স্বাভাবিকভাবেই রাজধানীর সর্বত্র কাজেকর্মে শৈথিল্য দেখা দিয়েছে।

    যে প্রহরী নাগরিকদের গতিবিধি লক্ষ্য করছিলেন তিনি কোনও সামান্য ব্যক্তি নন, পাটলিপুত্রের প্রধান দৌবারিক মতিল। মগধ সাম্রাজ্যের দণ্ডপাশিক নাগদত্তর কঠোর আদেশ, পাটলিপুত্রে আগত এবং পাটলিপুত্র হতে নির্গত প্রতিটি নাগরিকের উপর যেন দৃষ্টি রাখা হয়। মহাপ্রতিহার রুদ্রদেব-এর কাছে গোপন সংবাদ আছে, গুপ্তসাম্রাজ্যের প্রভূত ক্ষতি হতে পারে এমন কোনও সংবাদ পাটলিপুত্রের বাইরে নিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা চলছে। তাই মতিল স্বয়ং এই দ্বারের দৌবারিক হয়েছেন।

    একটু পরেই একটা কোলাহলের সংবাদ পেয়ে মতিল দেখলেন একটি রথ তাঁর দিকেই ধাবমান, আর তার সঙ্গে পথ-বালকবালিকাদের হইহই রব। মতিল আশ্চর্য হলেন দেখে যে রথের কোনও সারথি নেই, অথচ রথের গতি সাবলীল।

    একটু পরেই তার কারণ বুঝতে পারলেন তিনি।

    রথটি চালনা করছে এক অদ্ভুত দর্শন বামন। তাকে অবশ্য চেনেন মতিল। শুধু মতিল কেন, একে বোধকরি পাটলিপুত্রের প্রতিটি মানুষ চেনে।

    এ হচ্ছে প্রাক্তন সেনাধ্যক্ষ দনুজদমনের ব্যক্তিগত ভৃত্য। ঘোরকৃষ্ণ গাত্রবর্ণ, দুই হস্তের অনধিক উচ্চতা, এবং মাথায় ঘনমেঘের মতো পুঞ্জীভূত কেশরাজির এই বামনটি পাটলিপুত্রের একটি দর্শনীয় বস্তুবিশেষ। তদুপরি কিশোরটি মূক ও বধির, এবং সম্পূর্ণরূপে দন্তহীন। দনুজদমন নাকি উত্তরদেশে তীর্থ করতে গিয়ে একে ক্রয় করেন। তবে অদ্ভুতদর্শন হলে কী হবে, বামনটি যথেষ্ট গুণী। শুনেছেন অতি অল্পদিনের মধ্যেই দনুজদমন গৃহিণীর প্রিয়পাত্র হয়ে উঠেছে। আর বিবিধ বাজিকরের খেলা বা মায়াজাল জানে সে। সেইজন্যই শিশুদের কাছে অতিশয় প্রিয়।

    রথটি এসে থামলে মতিল হাতের সঙ্কেতে জানতে চাইলেন কী চায় সে? আর এই রথ ব্যবহারের অধিকারই বা সে পেল কী করে?

    উত্তরে একটি ক্ষুদ্র লিপিকা বার করে মতিলের হাতে দিল সেই বালক। মতিল দেখলেন পত্রটি লিখেছেন দনুজদমনপত্নী।

    রাজপরিষদ থেকে বিতাড়িত করলে কী হবে, সম্রাট কিন্তু তাঁর বিজয়শোভাযাত্রায় প্রাক্তন সৈন্যাধ্যক্ষকে সঙ্গী করতে ভোলেননি। বোধহয় আশঙ্কায় ছিলেন যে তাঁর অবর্তমানে অপমানিত এবং ক্ষুব্ধ দনুজদমন সেনাবাহিনীর একাংশকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্রোহী হতে পারেন।

    লিপিকাটি দৌবারিক-এর প্রতি। তাতে লেখা আছে যে এই কিশোর একটি বিশেষ পত্র নিয়ে মহারাজাধিরাজের শোভাযাত্রার দিকে যাচ্ছে৷ পত্রটি দনুজদমনপত্নী লিখেছেন তাঁর পতির উদ্দেশে। পত্রটি যত দ্রুত সম্ভব প্রাক্তন সৈন্যাধ্যক্ষর কাছে পৌঁছনো প্রয়োজন। তাই এই রথ ব্যবহারের অনুমতি তিনিই দিয়েছেন। দৌবারিক মহাশয় যেন এই কিশোরের নির্বিঘ্ন নির্গমনের ব্যবস্থা করেন।

    মতিল হাতের সঙ্কেতে মূল পত্রটি দেখতে চাইলেন। যা পরিস্থিতি, তাতে কাউকে বিশ্বাস করা সম্ভব না, সে তিনি যতই প্রভাবশালী হন না কেন। কোন পত্রে কে যে কাকে কোন গূঢ় সংবাদ পাঠাতে চায় সে অনুমান করা অসম্ভব। গত মাসেই তিনজন গুপ্তচর ধরা পড়েছে পাটলিপুত্রে। প্রবল শারীরিক নিগ্রহের পরেও তারা জানায়নি যে তাদের প্রভু কে। এই জটিল এবং ঝঞ্ঝাটময় সময়ে কে যে কার অনুগত, কে যে কার সঙ্গে কোন সূত্রে সম্পর্কিত, কিছুই বোঝা যাচ্ছে না। তাই প্রতিটি সংবাদ উত্তমরূপে পরীক্ষা করা আবশ্যক হয়ে পড়েছে।

    কিশোরটি ঘন ঘন মাথা নেড়ে জানালো যে সে কিছুতেই মূল পত্রটি হস্তান্তর করবে না। এসব আপত্তিতে অবশ্য মতিল কোনওদিনই খুব একটা কান দেন না। তিনি কিশোরের গণ্ডদেশে একটি চপেটাঘাত করে মূল পত্রটি হস্তগত করলেন।

    পত্রটি সংক্ষিপ্ত। দনুজদমনপত্নী তাঁর পতিকে জানাচ্ছেন যে তাঁদের কন্যা ভামিনী গর্ভবতী হয়েছে। আপাতত পিতৃগৃহে অবস্থান করছে সে। এই আনন্দসংবাদ দেওয়ার পাশাপাশি প্রেরক এও জানাচ্ছেন যে স্বামী যেন সম্রাটের কাছে অনুমতি প্রার্থনা করেন, দ্রুত পাটলিপুত্রে ফিরে আসার জন্য। ভামিনী বড়ই পিতৃসোহাগী মেয়ে। পিতার জন্য তার বড়ই মন কেমন করছে।

    অতি সাধারণ সাংসারিক পত্র, কোনও গোপন গূঢ়লেখ নয়। তাও পত্রটি বারবার পড়লেন মতিল। গোপন সংবাদ বা সঙ্কেত উদ্ধারে বিশেষ পারদর্শিতা আছে তাঁর। বহুরকমভাবে পত্রটি পরীক্ষা করলেন। কিন্তু কোনও গোপন সঙ্কেত উদ্ধার করতে পারলেন না।

    এইবার কিশোরের বস্ত্রাদি পরীক্ষা করা শুরু করলেন মতিল। একইসঙ্গে রক্ষীদের আদেশ দিলেন রথটি ভালোভাবে পরীক্ষা করার জন্য।

    কিন্তু নাহ, সেখানেও ব্যর্থ হতে হল তাঁকে। কোথাও কোনও গোপন সঙ্কেত নেই। অথচ তাঁর ষষ্ঠেন্দ্রিয় বলছিল কোথাও একটা অস্বাভাবিক কিছু ঘটছে।

    অবশেষে এক কৌশল করলেন তিনি। কিশোরকে নতুন বস্ত্র দিলেন পরিধানের জন্য। সঙ্গে আনা চিপিটকাদি বহন করার জন্য অন্য বস্ত্রখণ্ড দিলেন। আর রথের বদলে একটি বেগবান অশ্ব দিলেন যাতে কিশোরটি আরও দ্রুত এগিয়ে যেতে পারে।

    কিশোর বাক্যব্যয় করল না। নিষ্পাপ অমল হাসিতে মুখমণ্ডল ভরিয়ে যাত্রা শুরু করল সে।

    .

    দত্তাদেবীর মুখখানি ক্রোধে থমথম করছিল। তিনি শীতল কণ্ঠে চন্দ্রগুপ্তকে প্রশ্ন করলেন, ‘শুনলাম তুমি নাকি প্রজাদের প্ররোচনা দিচ্ছ রামগুপ্তর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে? এ কথা কি সত্য?’

    চন্দ্রগুপ্ত এত অবাক হয়ে গেলেন যে, প্রথমে তাঁর বাক্যস্ফূর্তি হল না।

    কাল সারাদিন তিনি ব্যস্ত ছিলেন যাত্রা নির্বিঘ্ন করার কাজে। সম্রাটের শোভাযাত্রা তো আর সাধারণ্যের তীর্থযাত্রা নয়। তার প্রস্তুতিও রাজসূয় যজ্ঞায়োজনের থেকে কম কিছু নয়। প্রথমে স্থির করতে হয় শোভাযাত্রার পথ। তারপর নিশ্চিত করা হয় যে সে পথ সুনির্মিত, অনুচ্চাবচ এবং খন্দহীন। মহারাজাধিরাজের অঙ্গরক্ষকরা দেখেন সেই পথে কোনও অতর্কিত আক্রমণের আশঙ্কা আছে কিনা। যেখানে রাত্রিবাসের ব্যবস্থা করা হবে সেখানে বন্যজন্তু বা শত্রুপক্ষের আক্রমণের সম্ভাবনা আছে কি নেই। খাদ্য এবং পেয় জলের উৎস নিশ্চিত করা হয়।

    চন্দ্রগুপ্ত’কে অন্য সমস্ত দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে আপাতত তাঁকে সম্রাটের প্রধান অঙ্গরক্ষকের পদ দেওয়া হয়েছে। এ যেন মহাসেনানায়ককে সাধারণ চৌরধনিক পদে নিয়োগ করা। এই প্রবল অসম্মানের কারণ সবাই জানেন, বোঝেন। কিন্তু কেউ একটি শব্দও উচ্চারণ করেন না।

    চন্দ্রগুপ্ত অবশ্য কর্তব্যে অবিচল। যা দায়িত্ব তাঁকে দেওয়া হয়, তার প্রতি তিনি সম্পূর্ণ সুবিচার করেন। তাঁর অধীনে থাকা সমস্ত কর্ম সুচারুরূপে যথাসময়ে সুসম্পাদিত হয়। তাঁর কর্তব্যনিষ্ঠা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনও অবকাশই তিনি কাউকে দেন না।

    আজ প্রভাতে রাজমাতার আদেশ পেয়ে কিঞ্চিৎ আশ্চর্য হয়েছিলেন তিনি। বহুদিন হল তাঁর গর্ভধারিণীর সঙ্গে বার্তালাপ করেন না। রাজপ্রাসাদ থেকে তাঁকে যেন একপ্রকার অচ্ছুৎ করে রাখা হয়েছে। যেন তাঁকে বিদায় করতে পারলেই তাঁর বংশ, তাঁর পরিবার সর্বান্তকরণে সুখী হয়।

    তাই চন্দ্রগুপ্ত দ্রুত এসেছেন রাজমাতার শিবিরে। এসে যথাবিহিত পাদবন্দনা করে দাঁড়িয়েছেন। প্রশ্ন করেছেন, ‘কী আদেশ রাজমাতা?’

    আর তার পরেই এই অন্যায় এবং বিস্ফোরক অভিযোগ।

    নিজেকে সংহত করতে কিছু সময় নিলেন চন্দ্রগুপ্ত। তারপর তিনি অপমানিত এবং ক্ষুব্ধ স্বরে বললেন, ‘আমি গুপ্তবংশের সন্তান মা, এই বংশের প্রতি আমার আনুগত্য অচল এবং অপরিবর্তনীয়৷ এ নিয়ে কোনও প্রশ্নই উঠতে পারে না। আজ অবধি আমার আচার আচরণে এর কোনও ব্যত্যয় দেখেছেন?’

    ‘দেখিনি, তবে শুনেছি।’

    ‘কী শুনেছেন মা? এমন কী সূচনা আপনার কানে এসেছে যার জন্য আপনি আমার নামে এত বড় একটি অভিযোগ উত্থাপন করেছেন?’

    ‘শুনেছি তুমি নাকি ইতর প্রজাসাধারণ, সামান্য সৈন্যবর্গ, সবার সঙ্গে অবাধ মেলামেশা করো? তোমার নিজের সম্মান থাকুক না থাকুক, গুপ্তবংশের গৌরবের কথাটাও কি ভুলে গেছ?’

    ‘ইতর জনসাধারণ বা সামান্য সৈন্যবর্গের সঙ্গে অবাধে মেলামেশা কবে থেকে রাষ্ট্রদ্রোহ বলে বিবেচিত হল মা?’

    ‘আমার সন্দেহ এইভাবে তুমি ওদের তোমার স্বপক্ষে সংগঠিত করছ যাতে সম্রাটের প্রতি সৈন্যবাহিনী এবং জনসাধারণের অখণ্ড আনুগত্য আর অখণ্ড না থাকে।

    ‘কিন্তু মা, পিতা কি জন্মাবধি আমাদের সেই শিক্ষাই দেননি? পিতার কি এই নির্দেশ ছিল না যে নিজের সুখ ও বিলাসের আগে প্রজাদের সুখ-সুবিধাকে প্রাধান্য দিতে হবে? তিনিই তো বলেছিলেন জনগণই ঈশ্বর, সম্রাট তাঁদের প্রতিভূ মাত্র।’

    দত্তাদেবী পুত্রের চোখে চোখ মেলাতে পারেন না, ‘হ্যাঁ, তিনি বলেছিলেন। কিন্তু তার মানে এই নয়, যে তুমি তোমার পিতার কথা মান্য করতে গিয়ে নিজের ছায়ায় নিজের অগ্রজকে আবৃত করে ফেলবে! মনে রেখো চন্দ্র, তুমি নও, গুপ্তসাম্রাজ্যের মহারাজাধিরাজ এখন রামগুপ্ত।’

    ‘বেশ। তাহলে এই সাম্রাজ্যে এখন আমার কী ভূমিকা?’

    ‘যা তোমাকে তোমার জ্যেষ্ঠ বেছে দেবেন।’

    ম্লান হাসেন চন্দ্রগুপ্ত, ‘কোন জ্যেষ্ঠর কথা বলছেন মা? যাঁর আচরণ দেখলে মনে হয় যিনি আমার অস্তিত্ব সম্পর্কে অবগতই নন? যিনি আমাকে অহরহ সর্বসমক্ষে অপমানিত করেন, হেয় করেন, দলিত করেন? যিনি আমার সঙ্গে সাধারণ বাক্যালাপ অবধি করেন না? যিনি আমাকে সাধারণ অঙ্গরক্ষক করে রেখেছেন, সেই জ্যেষ্ঠর কথা বলছেন মা?’

    দত্তাদেবী নীরব রইলেন।

    চন্দ্রগুপ্ত বলতেই থাকলেন, ‘আর শুধু কি আমি? বাকি রাজপার্ষদরা? তাঁদের সঙ্গে কী ঔদ্ধত্য এবং দম্ভের সঙ্গে কথা বলেন সম্রাট সে সংবাদ আপনাকে কেউ দেয়নি রাজমাতা? এমনকী শিখরস্বামীর মতো প্রাজ্ঞ এবং বিচক্ষণ মহামন্ত্রীকে অবধি বৃদ্ধ এবং মূর্খ বলে উপহাস করতে ছাড়েন না তিনি।’

    দত্তাদেবী অন্যদিকে তাকিয়ে রইলেন।

    ‘আর মহাদেবী ধ্রুবা? তাঁর প্রসঙ্গে কী বলবেন মা? আপনি তো আমাকে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে নিষেধ করেছেন। কিন্তু আপনি কি জানেন কী অসহ দুরবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন গুপ্তসাম্রাজ্যের মহাদেবী?’

    ‘চন্দ্রগুপ্ত!’ চিৎকার করে উঠলেন রাজমাতা দত্তাদেবী, ‘নিজের অগ্রজের বৈবাহিক জীবন নিয়ে কটুকথা বলার ধৃষ্টতা তোমার হল কী করে? মনে রেখো চন্দ্র, তোমাদের মধ্যে এককালে যা সম্পর্কই থাকুক না কেন, ধ্রুবা এখন মহারাজাধিরাজ রামগুপ্তর সম্পত্তি। তার সুখ স্বাচ্ছন্দ্য নিয়ে তুমি ব্যস্ত না হলেই আমি খুশি হব। কথাটা যেন স্মরণে থাকে।’

    চন্দ্রগুপ্তর কানে ‘সম্পত্তি’ শব্দটি বড় কটু শোনাল। তিনি কিছু বললেন না, রাজমাতাকে প্রণাম করে ধীরে ধীরে নিষ্ক্রান্ত হলেন।

    .

    দৌবারিকপ্রধান মতিল নিজের কপালে সজোর করাঘাত করলেন। স্ত্রীজাতির পেটে যে কোনও গোপন কথা থাকে না, এই আপ্তবাক্যটি তাঁর স্মরণে রাখা উচিত ছিল। এখন যে কী করে এই ঝঞ্ঝাট সামাল দেবেন তার কোনও উপায় তাঁর বুদ্ধিতে আসছে না।

    মন্ত্রগুপ্তি হচ্ছে রাজপুরুষদের প্রধানতম চরিত্রভূষণ। খুব সম্ভবত তাঁদের আচার সংহিতার প্রথম বাক্যটিই হচ্ছে ‘যাহা যাহা দেখিবেন, জানিবেন এবং শুনিবেন, কদাচ ঘুণাক্ষরেও কোথাও প্রকাশ করিবেন না। প্রকাশ করিলেই মরিবেন।’ আর মতিল সেই আপ্তবাক্যটিই লঙ্ঘন করে বসে আছেন।

    মতিলের স্ত্রী অপালা হচ্ছেন দনুজদমনকন্যা ভামিনীর প্রিয়সখী। দুজনে একই সঙ্গে খেলাধুলা করে বড় হয়েছেন। মতিল তাই খেলাচ্ছলেই ভামিনীর গর্ভাধানের সংবাদটা বলে ফেলেছিলেন অপালাকে। বলেই বুঝেছিলেন যে কাজটা উচিত হয়নি। এই তথ্য কোনও গতিকে রাষ্ট্র হলে প্রকাশ পেয়ে যাবে যে পাটলিপুত্র থেকে প্রেরিত সমস্ত সংবাদ পরীক্ষা এবং নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। এমনকী উচ্চপদস্থ রাজকর্মচারীদের পারিবারিক সংবাদও। সে গুপ্তসাম্রাজ্যের পক্ষে গৌরবের কথা হবে না।

    তাই তৎক্ষণাৎ স্ত্রীকে দিয়ে গৃহদেবতা পরিহাসকেশবের নামে শপথ করিয়েছিলেন এ কথা যেন ঘুণাক্ষরেও প্রকাশ না পায়। অপালা কথা দিয়েছিলেন, এ কথা ঘুণাক্ষরেও প্রকাশ পাবে না।

    অপালা অক্ষরে অক্ষরে তাঁর কথা রেখেছেন। যাঁকেই প্রিয়সখীর গর্ভাধানের সংবাদ দিয়েছেন, তাঁকে দিয়ে অবশ্যই প্রতিজ্ঞা করিয়ে নিয়েছেন, ‘দেখো, কথাটা যেন ঘুণাক্ষরেও প্রকাশ না পায়।’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআমি নকুবাবু – সুশীলকুমার চট্টোপাধ্যায়
    Next Article বিদুর – মিহির সেনগুপ্ত
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026
    Our Picks

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026

    কলিকাতার কথা (আদিকাণ্ড) – প্রমথনাথ মল্লিক

    January 20, 2026

    দশরূপা – সৌমিত্র বিশ্বাস

    January 20, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }