Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মহাভারতের ছয় প্রবীণ – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী এক পাতা গল্প1027 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ধৃতরাষ্ট্র – ৬

    ॥ ৬ ॥

    সেকালের দিনে ভাল পাত্রীর খবর পাওয়া যেত মুনি ঋষিদের কাছে। তাঁরা তীর্থে তীর্থে ঘুরে বেড়াতেন, এ-রাজা সে-রাজার যাগযজ্ঞে উপস্থিত হতেন, কখনও বা স্বেচ্ছায় আতিথ্য গ্রহণ করতেন রাজাদের বাড়িতে। এইভাবেই রাজবাড়ির রাজকন্যার খবর হয়ে যেত। ভীষ্ম গান্ধারীর খবরও পেলেন এইভাবে। ভীষ্ম ব্রাহ্মণদের কাছে শুনতে পেলেন—গান্ধার দেশের রাজা সুবলের একটি ভারী লক্ষ্মীমতী মেয়ে আছে। শিবের আরাধনা করে সে শত পুত্রের জননী হবার বর লাভ করেছে—গান্ধারী কিল পুত্রাণাং শতং লেভে বরং শুভা।

    এই পুত্রসংখ্যার ওপর ভীষ্মের কিছু দুর্বলতা আছে। এতকাল ভরতবংশের কর্ণধার হয়ে তাঁর বড় দুর্ভাবনা গেছে। তিনি এইরকমই একটি সৌভাগ্যবতী রমণী চান, যে তাঁকে ভাবনামুক্ত করবে। সমস্ত দিক বিবেচনা করে ভীষ্ম একটি বিশ্বস্ত দূত পাঠালেন গান্ধার রাজা সুবলের কাছে। দূতের মুখে ধৃতরাষ্ট্রের সমস্ত বর্ণনা শুনে বড় দ্বিধায় পড়লেন গান্ধাররাজ। যাঁর সঙ্গে গান্ধারীর সম্বন্ধ ঘটালেন ঈশ্বর, তিনি অন্ধ। একটি অন্ধ রাজপুত্রের হাতে চিরজীবনের মতো মেয়েকে সঁপে দেবার ইচ্ছে হল না তাঁর—অচক্ষুরিতি তত্রাসীৎ সুবলস্য বিচারণা। অন্যদিকে এই কথাটাও বার বার সুবলের মনে ক্রিয়া করতে লাগল যে, ছেলেটি বিখ্যাত ভরতবংশের জাতক। এই বংশের খ্যাতিতেই একটি বিশাল দেশ আজ ভারতবর্ষ নামে চিহ্নিত হয়েছে। অনেক ভাবনা, অনেক দুশ্চিন্তার পর ভরতবংশের খ্যাতির কথাই তাঁর মনে ক্রিয়া করতে লাগল। মহামতি ভীষ্ম তাঁর কন্যাকে চেয়ে পাঠিয়েছেন, এই গৌরবও তাঁকে ইতিবাচক সিন্ধান্ত নেবার ব্যাপারে ত্বরান্বিত করল। ধৃতরাষ্ট্রের কুল, তার প্রসিদ্ধি এবং ভরতবংশীয়দের চরিত্র স্মরণ করে মহারাজ সুবল রাজি হলেন বিবাহে। তিনি দূতের কাছে কথা দিলেন—এ বিয়ে হবে—দদৌ তাং ধৃতরাষ্ট্রায় গান্ধারীং ধর্মচারিণীম।

    যথাসময়ে এই বিয়ের কথা গান্ধারীর কানেও গেল। তিনি যখন বুঝলেন যে, তাঁর পিতামাতা ভরতবংশের খ্যাতি-কীর্তিতে মুগ্ধ হয়ে একটি অন্ধ রাজপুত্রের সঙ্গেই তাঁর বিবাহ ঠিক করেছেন, তখন তিনি মাতাপিতাকে যেমন অতিক্রম করলেন না, তেমনই তাঁর ভাবী স্বামীর প্রতিও একই সঙ্গে সমব্যথী হয়ে উঠলেন। যাঁর সঙ্গে তাঁর বিয়ে হবে, তিনি এই সুন্দর ভুবনের রূপ রস কিছুই অনুভব করতে পারবেন না, আর তাঁরই সহধর্মিণী হয়ে তিনি চক্ষুর বিষয়গুলি ভোগ করবেন—এমনটি তিনি চাইলেন না। ভাবী স্বামীর প্রতি সমব্যথায় তিনি একটি পট্টবস্ত্র বেঁধে নিলেন নিজের চোখের ওপর। স্বামীর উপযুক্ত হবার জন্য এই ছিল তাঁর প্রথম সাধন। তাঁর ধারণা—চক্ষুদুটি দিয়ে দেখতে পেলে, সেও এক ধরনের অতিক্রম করা হবে স্বামীকে। গান্ধারী কোনও ব্যাপারেই স্বামীকে অতিক্রম করতে চান না—নাতিশিষ্যে পতিমহম্ ইত্যেবং কৃতনিশ্চয়া। স্বামীর দুঃখ গান্ধারী যেন আগে থেকেই আত্মসাৎ করে নিলেন।

    গান্ধার রাজ্যটা ভারতবর্ষের উত্তর-পশ্চিমে এখনকার পাকিস্তান ছাড়িয়ে আরও কিছু দূরে। সেখান থেকে হস্তিনাপুরে আসা তো খুব কম কথা নয়। পাহাড়ি পথ নদ নদী, পথের ভয়। কিন্তু সেকালের দিনে এই নিয়মও ছিল—মেয়েকে শ্বশুরবাড়িতে উঠিয়ে এনে বিয়ে দেওয়া হত। অতএব যুবতী এবং সুন্দরী গান্ধারীকে নিয়ে তাঁর ভাই শকুনি রওনা দিলেন হস্তিনাপুরের পথে। সঙ্গে চলল গান্ধাররাজ্যের রথ, অশ্ব, পদাতিক—স্বসারং পরয়া লক্ষ্ম্যা যুক্তামাদায় কৌরবান্। হস্তিনায় পৌঁছে শকুনি ভীষ্মের অনুমতি নিলেন। বিবাহের দিন ঠিক হল তাঁর সঙ্গে আলোচনা করে। তারপর পরম আদরে ভগিনী গান্ধারীকে ধৃতরাষ্ট্রের হাতে তুলে দিলেন শকুনি। সঙ্গে দিলেন রাজকীয় উপহার—রথ, অশ্ব, হাতি, বহুমূল্য বস্ত্র।

    শকুনি ভগিনীকে রেখে আপাতত ফিরে গেলেন গান্ধারে। আর রাজকন্যা গান্ধারী নিজের চরিত্র এবং আচারব্যবহারে মুগ্ধ করে দিলেন কুরুবাড়ির সকলকে। তাঁর স্বামীনিষ্ঠার মধ্যে যে শুধু কর্তব্যের বাহ্য আড়ম্বর ছিল, তা মোটেই নয়। তিনি যে স্বামীর মন বা মনস্তত্ত্ব কতটা বুঝতেন, তার পরিচয় আমরা সেইদিনই বুঝেছি, যেদিন গান্ধারী তাঁর চোখদুটি বেঁধে নিয়েছিলেন। ধৃতরাষ্ট্র, অন্ধ ধৃতরাষ্ট্র নিশ্চয়ই মনে মনে ভীষণ খুশি হয়েছিলেন। অন্ধত্বের জন্য রাজ্য পাননি বলে তাঁর মনের মধ্যে যে অনন্ত জটিলতা ছিল, সেই জটিলতা হয়তো আরও বাড়ত, যদি তিনি দেখতেন তাঁর একান্ত সহধর্মিণী জগতের রূপ, রস, গন্ধ স্বাধীনভাবেই ভোগ করছেন, আর তিনি পড়ে আছেন সেই অন্ধত্বের কূপগৃহে। অতএব গান্ধারীর এই স্বারোপিত অন্ধত্ব ধৃতরাষ্ট্রকে খুশি করেছিল অন্তরে।

    ধৃতরাষ্ট্রের বিয়ের পর পর পাণ্ডুরও বিয়ে হয়ে গেল কুন্তী এবং মাদ্রীর সঙ্গে। লক্ষণীয় ব্যাপার হল, বিয়ের পর ঠিক এক মাস যেতে না যেতেই পাণ্ডু দিগ্‌বিজয়ে বেরোলেন। নানা দেশ জয় করে পাণ্ডু যে ধনরত্ন সঞ্চয় নিয়ে এসেছিলেন, সেগুলি ভাগ করে দেবার সময় পাণ্ডুকে কিন্তু আমরা ধৃতরাষ্ট্রের অনুমতি নিতে দেখছি—ধৃতরাষ্ট্রাভ্যনুজ্ঞাতঃ স্ববাহুবিজিতং ধনম্। হয়তো পাণ্ডুর এই ব্যবহারের মধ্যে রাজোচিত উদারতার সঙ্গে বড় দাদার প্রতি মায়াও কিছু ছিল। যিনি অন্ধত্বের জন্য রাজ্য পাননি, তাঁকে অতিরিক্ত মর্যাদা দিয়ে যদি তাঁর ক্ষোভ কিছুটা কমানো যায়—এই চেষ্টাই হয়তো করেছেন পাণ্ডু।

    পাণ্ডুর এই দান মানের প্রক্রিয়ায় ধৃতরাষ্ট্র যে অখুশি হয়েছেন তা মোটেই নয়, তবে এই মায়ার দান তাঁর মনে যে কোনও জটিলতার সৃষ্টি করেনি, তা বলা যাবে না। পাণ্ডুর দানে মানে পুলকিত হয়ে তাঁর লব্ধ অর্থ দিয়ে ধৃতরাষ্ট্র যজ্ঞটজ্ঞ অনেক করেছেন। তবে এই প্রকট আনন্দ প্রকাশের অন্তরালে হতাশার এক বিচিত্র অন্তঃক্রিয়া চলছিলই, যা ধৃতরাষ্ট্র নিজেও খুব যে বুঝতে পারছিলেন, তা নয়।

    সঠিক কী যে হল, তা জানি না, কিন্তু দিগ্‌বিজয় সেরে কিছুদিনের মধ্যেই পাণ্ডু রাজভোগ রাজসুখ ত্যাগ করে দুই স্ত্রীকে নিয়ে বনে চলে গেলেন। জ্যেষ্ঠ দাদার ওপর কোনও অভিমান ছিল কি না, কোনও নিঃশব্দ ক্রোধ ছিল কি না, মহাভারতের কবি তা স্পষ্টত বলেননি। শুধু বলেছেন—মৃগয়ার ব্যপদেশে পাণ্ডু দুই স্ত্রীকে নিয়ে অকালে বনবাসী হলেন। এই অবস্থায় ধৃতরাষ্ট্রকে আমরা অস্থায়ী এক কার্যনির্বাহী রাজার ভূমিকায় দেখতে পাচ্ছি, আরও দেখতে পাচ্ছি, পাণ্ডুর বনবাসের প্রথম কল্পে ধৃতরাষ্ট্র যথেষ্ট আদর করার চেষ্টা করছেন বনবাসী পাণ্ডুকে। উৎসাহী লোক দিয়ে পাণ্ডুর চিরাভ্যস্ত বিলাসদ্রব্য অথবা প্রিয় ভোজ্যদ্রব্য ধৃতরাষ্ট্র পাঠিয়ে দিচ্ছিলেন বনে—তস্য কামাংশ্চ ভোগাংশ্চ নরা নিত্যমতন্দ্রিতাঃ। উপাজহ্রু-বর্নান্তেষু…

    পাণ্ডু বন থেকে মোটেই ফিরে এলেন না। কিন্তু এক ভাই বনে এবং আরেক ভাই রাজধানীতে থাকলেও তাঁদের দুজনের মধ্যেই যে সাধারণ প্রচেষ্টা দেখা গেল, সেটা হল যত শীঘ্র সম্ভব পুত্রলাভের চেষ্টা। ধৃতরাষ্ট্রপত্নী গান্ধারী পূর্বে মহাদেবকে তুষ্ট করে শত পুত্র লাভের বর পেয়েছিলেন, সে বর আরও পরিপুষ্ট হল কৃষ্ণদ্বৈপায়ন ব্যাসের কৃপায়। কোনও এক সময় ক্ষুধাশ্রান্ত ব্যাসকে অতিরিক্ত শুশ্রূষা করে গান্ধারী তাঁর পূর্বান্বিষ্ট বরই ব্যাসের কাছে পুনরায় চাইলেন। তিনি শতপুত্রের জননী হতে চান। এর পরেই গান্ধারী ধৃতরাষ্ট্রের পুত্রবীজ ধারণ করলেন আপন গর্ভে।

    লক্ষণীয় ব্যাপার হল, মহারাজ পাণ্ডু শতশৃঙ্গ পর্বতে থেকেও এই গর্ভধারণের খবর পেয়েছেন মনে হয়। দুর্ভাগ্য, এরই মধ্যে তাঁর প্রজননক্ষমতা নষ্ট হয়ে গেছে। এর জন্য তথাকথিত মৃগ-মুনির অভিশাপই দায়ী, নাকি আদতেই তাঁর প্রজননক্ষমতা ছিল না, সে অন্য তর্ক। কিন্তু আশ্চর্য ব্যাপার হল, গান্ধারীর গর্ভধারণের অনুরূপ সময়েই পাণ্ডুও কিন্তু আপন পুত্রলাভের জন্য পাগল হয়ে উঠলেন। যে কোনও কারণেই হোক গান্ধারীর পুত্রলাভে বিলম্ব হচ্ছিল, এদিকে পাণ্ডুর প্রথমা পত্নী কুন্তী দুর্বাসার দেববশীকরণ মন্ত্রের সুযোগ নিয়ে গর্ভধারিণী গান্ধারীর পূর্বেই পুত্রলাভ করলেন—পাণ্ডুর অনুমতিক্রমে, নিয়োগপ্রথায়। পাণ্ডু এবং ধৃতরাষ্ট্র—এই দুই পরস্পরস্পর্ধী রাজভ্রাতার মধ্য পাণ্ডুর প্রথম পুত্র যুধিষ্ঠিরই যে পরবর্তী প্রজন্মের জ্যেষ্ঠ পুত্র, সে কথা সেই শতশৃঙ্গ পর্বত থেকে একজন এসে জানিয়েও গেল ধৃতরাষ্ট্রের রাজধানী হস্তিনাপুরে। পাণ্ডুর অরণ্যনিবাস থেকে যে লোকটি এসেছিল, সে এই কথাদুটি গুরুত্বপূর্ণ লোকের কানে দিয়ে গেল। তাঁদের একজন কুরুবৃদ্ধ পিতামহ ভীষ্ম, অপরজন কুরুরাষ্ট্রের বিবেক বিদুর—তদাখ্যাতন্তু ভীষ্মায় বিদুরায় চ ধীমতে। তবে আমাদের ধারণা এ খবর দিয়েছিলেন স্বয়ং মহামতি ব্যাস।

    খবরটা ছড়িয়ে পড়তে দেরি হল না। গান্ধারী যখন কুন্তীর পুত্রলাভের কথা শুনলেন, তখন তাঁর মতো মনস্বিনী ধীরা রমণীও ঈর্ষায় কাতর হলেন। বোধ করি—ধৃতরাষ্ট্রের মানসিক জটিলতা তাঁরও অন্তরে কোনওভাবে প্রবেশ করেছিল। অন্ধত্বের জন্য নিজে রাজ্য পাননি বলে ধৃতরাষ্ট্র নিশ্চয়ই চেয়েছিলেন—তাঁর পুত্রটি অন্তত রাজ্য লাভ করুক, হস্তিনাপুরে জ্যেষ্ঠের পরম্পরা থাকুক। হয়তো গান্ধারীকে তিনি বার বার এই ব্যাপারে সচেতন করেছিলেন। এই উদ্দেশেই গান্ধারী কুন্তীর পূর্বে গর্ভধারণ করেন। কিন্তু তাঁর দুর্ভাগ্য কুন্তীর গর্ভেই পাণ্ডুর প্রথম পুত্র জন্মাল।

    ঈর্ষায়, দুঃখে অধীর হয়ে গান্ধারী তাঁর নিশ্চল গর্ভে আঘাত হানলেন পুত্রলাভের আশায়। মহাভারতের কবি লিখেছেন—ধৃতরাষ্ট্রের অজ্ঞাতসারেই গান্ধারী এই কাজটি করেন—অজ্ঞতাং ধৃতরাষ্ট্রস্য। কিন্তু কেন গান্ধারী এই অধৈর্যের পরিচয় দিলেন, তা আমরা জানি। ধৃতরাষ্ট্র যে খুশিটুকু চেয়েছিলেন, সেই খুশিটুকু দিতে পারলেন না বলেই স্বামীকে না জানিয়ে কুন্তীর ওপর অক্ষম ঈর্ষা মেটালেন তিনি—সোদরং ঘাতয়ামাস গান্ধারী দুঃখমূৰ্ছিতা। গর্ভে আঘাত করেও গান্ধারী পুত্র পেলেন না। লোহার মতো শক্ত একটি মাংসময়ী পেশি প্রসব করে গান্ধারী নিরাশ হয়ে বসে রইলেন। মাংসপেশিটি ফেলেই দিতেন তিনি, কিন্তু সেই মুহূর্তেই বেদব্যাস এসে পড়লেন গান্ধারীর কাছে। কুন্তীর ওপর পুনরায় তাঁর ঈর্ষা সুব্যক্ত হল। ব্যাসকে তিনি জানালেন—কুন্তীর ছেলে হয়েছে শুনেই আমি এই আকালিক গর্ভপাত ঘটিয়েছি—দুঃখেন পরমেনেদম্ উদরং পাতিতং ময়া।

    আমরা জানি—ব্যাস অসীম করুণায় ঘৃতপূর্ণ কলসিতে শীতল জলের মধ্যে সেই মাংসপেশি রক্ষণ করেছিলেন এবং সেই শীতল-কলসির প্রক্রিয়ায় একদিন তা থেকেই গান্ধারীর শত পুত্র জন্ম লাভ করেছিল। ধৃতরাষ্ট্রের জ্যেষ্ঠ পুত্র যেদিন জন্মাল, সেদিন কবির বর্ণনায় অনেক অলক্ষণ দুর্লক্ষণ দেখা গেছে। কিন্তু সেগুলিকে আক্ষরিক অর্থে না ধরাই ভাল। আসলে এইসব দুর্লক্ষণ ধৃতরাষ্ট্রের প্রথমজন্মা পুত্রের ব্যাপারে সমকালীন মানুষের দুশ্চিন্তা এবং দুর্ভাবনা সূচনা করে। ধৃতরাষ্ট্র তাঁর পুত্রটিকে রাজসিংহাসনে অভিষিক্ত দেখতে চান বলেই, কুরুবাড়ির কর্তাব্যক্তিদের মনে নতুন এক বিপন্নতা তৈরি হয়েছে এবং এই বিপন্নতাই দুর্লক্ষণের প্রতিরূপে মহাভারতে বর্ণিত হয়েছে।

    দুর্যোধন নাকি জন্মের সময়েই একটি গর্দভের মতো কর্কশ স্বরে কেঁদে উঠেছিলেন এবং তাঁর সেই ক্রন্দনধ্বনির উত্তর শোনা গিয়েছিল শেয়াল শকুন কাকের চিৎকারে। কিন্তু এগুলি বড় কথা নয়। দুর্যোধন জন্মানোর সঙ্গে সঙ্গে মহারাজ ধৃতরাষ্ট্র মন্ত্রীপ্রতিম ব্রাহ্মণদের ডেকে এবং বিশেষত ভীষ্ম এবং বিদুরকে ডেকে একটি সভায় মিলিত হন—সমানীয় বহূন বিপ্রান্ ভীষ্মং বিদুরমেব চ। সভায় তাঁর বক্তব্য ছিল একটাই। সমবেত মন্ত্রীদের তিনি জিজ্ঞাসা করলেন—আমাদের বংশের ভূষণ যিনি, সেই যুধিষ্ঠির তো নিজের গুণে রাজ্য পেয়েই গেছেন। অতএব সে ব্যাপারে আমার কিছু বলার নেই—প্রাপ্তং স্বগুণতো রাজ্যং ন তস্মিন্ বাচ্যমস্তি নঃ। এই কথা থেকে যুধিষ্ঠিরের সম্বন্ধে ধৃতরাষ্ট্রের যে বড় তৃপ্তি ছিল, এটা ভাবার কোনও কারণ নেই। কেননা ধৃতরাষ্ট্র সভা ডেকেছিলেন সভয়ে—ততন্তু ভীতবদ্ রাজা ধৃতরাষ্ট্রো’ব্রবীদিদম্—তাঁর মনে ভয় ছিল—তিনি যা বলছেন, ভীষ্ম-বিদুররা তা সমর্থন করবেন তো? যুধিষ্ঠিরের কথা বলেই ধৃতরাষ্ট্র জিজ্ঞাসা করেছিলেন—যুধিষ্ঠির এখন না হয় রাজ্য পেলেন, কিন্তু তাঁর পরেই আমার ছেলেটি রাজ্য পাবে তো—অয়ন্তু অনন্তর-স্তস্মাদ্ অপি রাজা ভবিষ্যতি?

    ধৃতরাষ্ট্রের প্রশ্ন শুনে তাঁর মন্ত্রী, ব্রাহ্মণরা, ভীষ্ম, বিদুর সবাই অবাক হয়ে গিয়েছিলেন। আবার সেই শেয়াল শকুনের দুর্লক্ষণ রূপক বর্ণনা করতে হয়েছে মহাভারতের কবিকে। মহামতি বিদুর তাঁকে সদুপদেশ দিয়ে বলেছিলেন—যেসব দুর্লক্ষণ দেখছি, তাতে আপনার এই ছেলেটি আমাদের বংশনাশের কারণ হয়ে উঠবে। অতএব আপনি একে পরিত্যাগ করলেই অনিষ্ট হবার সম্ভাবনাটা কম থাকবে। একে রাখলে অনেক অনর্থ ঘটবে—ব্যক্তং কুলান্তকরণো ভবিতৈষ সুতস্তব।

    বিদুর ধৃতরাষ্ট্রকে বোঝানোর জন্য একটু ভাবাবেগও প্রয়োগ করলেন। বললেন—একশোটার জায়গায় আপনার বরং নিরানব্বইটি ছেলে থাকুক মহারাজ! কিন্তু একটা ছেলেকে আপনি ত্যাগ করুন। এতে এই বংশেরও মঙ্গল হবে, জগতেরও মঙ্গল হবে—একেনৈব কুরু ক্ষেমং কুলস্য জগত স্তথা। আসলে শেয়াল শকুনের দুর্লক্ষণ নয়, ধৃতরাষ্ট্রের মনের মধ্যেই সেই ভয়ংকর চাওয়াটুকু দেখা দিয়েছিল, যাতে ভবিষ্যতের জ্ঞাতি-বিরোধ স্পষ্টভাবে অনুমান করা যাচ্ছিল। ধৃতরাষ্ট্র বিদুরের কথা শোনেননি, হয়তো শোনা সম্ভবও ছিল না। আজকের আধুনিক দৃষ্টিতে এবং মানবিক ভাবনায় ধৃতরাষ্ট্রের এই ব্যবহার হয়তো স্বাভাবিকই ছিল। সে-কালের দিনের প্রজারঞ্জক রাজার সুউচ্চ আদর্শের নিরিখে ধৃতরাষ্ট্রের এই মানসিকতা ঠিক ছিল না। প্রসিদ্ধ ভরতবংশে স্বার্থান্বেষী রাজার স্থান হয়নি কোনওদিন। স্বয়ং ভরত দৌষ্মন্তি তাঁর নিজের ছেলেগুলিকে রাজকর্মের অযোগ্য দেখে তাঁদের রাজসিংহাসনের অধিকার কেড়ে নিয়েছিলেন—নাভ্যনন্দত তান্ রাজা নানুরূপা মমেত্যুত। ভরতের তিন রানি রাগে দুঃখে নিজেদের ছেলেগুলিকে মেরে ফেলেছিলেন, সে খবরও আমরা মহাভারতেই পাই—ততস্তান্ মাতরঃ ক্রুদ্ধাঃ পুত্রান্ নিন্যুর্যমক্ষয়ম্।

    কিন্তু সেই ভরতবংশের জাতক হওয়া সত্ত্বেও ধৃতরাষ্ট্র কিন্তু তাঁর প্রথম পুত্রটির মায়া ত্যাগ করতে পারলেন না—ন চকার তথা রাজা পুত্রস্নেহ-সমন্বিতঃ। ধৃতরাষ্ট্রের একশো পুত্রই রইল, সঙ্গে একশো ভাইয়ের এক বোন, ধৃতরাষ্ট্রের একটি কন্যাও জন্মাল। তার নাম দুঃশলা। গান্ধারী যখন গর্ভের ভারে শ্রান্তক্লান্ত, তখন ধৃতরাষ্ট্র তাঁর কামবেগ প্রশমনের জন্য একটি বৈশ্যজাতীয়া দাসীর সঙ্গে মিলিত হন। তাঁর গর্ভেও ধৃতরাষ্ট্রের একটি পুত্র হয়। তাঁর নাম যুযুৎসু। সে কালের দিনের সমাজে এই জাতীয় মিলনের বৈধতা সম্পূর্ণ নির্ভর করত পিতামাতার স্বীকৃতির ওপর। কাজেই বৈশ্যা রমণীর গর্ভজাত পুত্রটির সামাজিক কোনও সমস্যা হয়নি।

    ধৃতরাষ্ট্রের পুত্রসংখ্যা ঠিক একশো কি না এই সংখ্যাতত্ত্বের সত্যতার মধ্যে আমরা যাচ্ছি না। এমন হতেও পারে ধৃতরাষ্ট্র অনেকগুলি পুত্রের জনক ছিলেন বলেই হয়তো শতসংখ্যার গৌরবটুকু তিনি পেয়েছেন। যাই হোক এতগুলি পুত্রকন্যা নিয়ে ধৃতরাষ্ট্র সানন্দে দিন কাটাচ্ছিলেন। ওদিকে সেই শতশৃঙ্গ পর্বতের অরণ্য-আবাসে পাণ্ডু তাঁর পঞ্চপুত্র নিয়ে বাৎসল্য রস চরিতার্থ করছেন। কিন্তু সেই পুত্রদের নিয়ে হস্তিনায় ফিরে আসার কথা এখনও ভাবেননি পাণ্ডু। অতএব হস্তিনাপুরের রাজসুখের অধিকার এখনও সম্পূর্ণভাবেই ধৃতরাষ্ট্রের। পূর্বে তিনি ভৃত্যজনের মাধ্যমে পাণ্ডুর প্রিয় বিলাসদ্রব্য পাণ্ডুর কাছে পাঠিয়ে দিতেন। কিন্তু এখন পাণ্ডু কোথায় আছেন—ধৃতরাষ্ট্রও তা ভাল করে জানেন না। আসলে একটা সময় ছিল যখন মৃগ-মুনির অভিশাপগ্রস্ত পাণ্ডু পুত্র হবে না ভেবে প্রব্রজ্যা গ্রহণ করেছিলেন এবং সে খবর তিনি সাড়ম্বরে ধৃতরাষ্ট্রকে জানিয়েও দিয়েছিলেন। এমনকী হস্তিনার রাজবাড়ি থেকে আসা যেসব ধনরত্ন পাণ্ডুর কাছে অবশিষ্ট ছিল, তাও তিনি এক ভৃত্যের হাত দিয়ে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন ধৃতরাষ্টের কাছে—কথয়াঞ্চক্রিরে রাজ্ঞ-স্তব্ধনং বিবিধং দদুঃ।

    পাণ্ডু তখন নানা বনপর্বত এবং তীর্থগুলিতে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন। কাজেই ধৃতরাষ্ট্রের খুব দোষ ছিল না। পাণ্ডুর প্রব্রজ্যা গ্রহণে তিনি দুঃখও পেয়েছিলেন যথেষ্ট। অন্যদিকে ধৃতরাষ্ট্রের কাছে একবার একরকম বলে, তারপর পঞ্চপুত্র লাভের পর হস্তিনায় ফিরে আসাটা পাণ্ডুর রুচিতে বেধেছে। আর তারপর তো পাণ্ডু মারাই গেলেন।

    তথ্যের দিকে তাকিয়ে দেখুন—পাণ্ডু মারা যাবার পর কুন্তী যখন তাঁর পঞ্চ পুত্রের হাত ধরে হস্তিনায় এসে পৌঁছোলেন, তখন যুধিষ্ঠিরের বয়স ষোলো, তার মানে, আগের প্রবজ্যা গ্রহণের সময় থেকে ধরলে অন্তত কুড়ি-বাইশ বছর ধৃতরাষ্ট্র পাণ্ডুর কোনও খবর পান না। আর এই কুড়ি-বাইশ বছরে রাজসুখ তাঁর এতটাই অভ্যস্ত হয়ে যেতে পারে যাতে আশঙ্কা করার মতো কিছু থাকে না। ধৃতরাষ্ট্রের পুত্ররাও মানুষ হচ্ছিলেন রাজবাড়ির বাতাবরণে। বিশেষ জ্যেষ্ঠ দুর্যোধনের সম্বন্ধে ধৃতরাষ্ট্রের দুর্বলতা ছিল। জ্যেষ্ঠ পুত্র বলেই হোক অথবা তার জন্মের সময় অন্য লোকে অকথাকুকথা বলেছিল বলেই হোক, দুর্যোধনের প্রতি ধৃতরাষ্ট্রের স্নেহ প্রশ্রয় ছিল বাঁধভাঙা। ধৃতরাষ্ট্রের প্রশ্রয়ে দুর্যোধন ভবিষ্যতের রাজা হবার স্বপ্ন দেখছিলেন এবং সে স্বপ্ন ধৃতরাষ্ট্রের ছিল, যা আমরা দুর্যোধনের জন্মের সময়েই দেখেছি।

    দীর্ঘ পনেরো-কুড়ি বছরের অন্তর থাকায় ধৃতরাষ্ট্র ভুলেই গিয়েছিলেন যে পাণ্ডুরও পাঁচটি পুত্র আছে। তিনি আপন রাজসুখের বিলাসে যত না ব্যস্ত ছিলেন, তারচেয়ে অনেক বেশি আচ্ছন্ন ছিলেন সেই ভ্রান্তিবিলাসে, যাতে তিনি হয়তো ভেবেছিলেন—পাণ্ডু আর দেশে ফিরবেন না, তিনি প্রব্রজিত। বাস্তবে পাণ্ডু সত্যিই ফিরলেন না বটে, কিন্তু তাঁর মৃতদেহ ফিরে এল হস্তিনাপুরে। শতশৃঙ্গ পর্বতের আরণ্যক ঋষি মুনিরা পাণ্ডু এবং মাদ্রীর মৃতদেহ নিয়ে হস্তিনাপুরে এসেছেন; তাঁদের সঙ্গে এসেছেন কুন্তী এবং পাণ্ডুর পঞ্চ পুত্র, সহায়হীন, সম্বলহীন, হস্তিনার রাজবাড়ির দুয়ারে দাঁড়িয়ে ছিলেন তাঁরা।

    সমস্ত রাজধানী ভেঙে পড়েছিল তাঁদের দেখবার জন্য। ভীষ্ম বিদুর ধৃতরাষ্ট্র সকলে শশব্যস্তে বাইরে এসেছিলেন সমাগত মুনি ঋষিদের বক্তব্য শোনার জন্য। গান্ধারী এবং অন্তঃপুরের রমণীরা যে যেভাবে ছিলেন সে অবস্থাতেই এসে দুখিনী কুন্তীর হাত ধরেছিলেন। কিন্তু দুর্যোধনরা শত ভাই যেভাবে সালংকারে সেজেগুজে পিতৃহীন পাণ্ডবদের সামনে এসে দাঁড়িয়েছিলেন, তাতে ধৃতরাষ্ট্রের স্নেহান্ধতার অবধিটুকু বিচার করা যায়।

    পাণ্ডুর মৃত্যুতে ধৃতরাষ্ট্র যে যথেষ্ট কষ্ট পেয়েছিলেন, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। মুনি ঋষিদের সাক্ষীপ্রমাণ শুনে কুন্তী এবং তাঁর পঞ্চ পুত্রের ভরণপোষণের ব্যবস্থাও তিনি করেছেন এবং প্রয়াত পাণ্ডুর সৎকারের ব্যবস্থাও তিনি এমন রাজকীয়ভাবে করেছেন যে, তাতে ছোট ভাইয়ের প্রতি তাঁর যে কোনও অসদ্ দৃষ্টি ছিল, তা বোঝা যাবে না। কিন্তু ধৃতরাষ্ট্রের মানসিকতা পরিবর্তিত হতে সময় লাগেনি। হয়তো সেদিনকার কথা তিনি ভাবতে পারেননি, যেদিন পাণ্ডুর পঞ্চ পুত্র তাঁদের মায়ের হাত ধরে আশ্রয়প্রার্থীর মতো হস্তিনার রাজবাড়িতে প্রবেশ করেছিলেন। হয়তো এমন তিনি ভেবেছিলেন যে, রাজকীয় মর্যাদা নয়, সাধারণ ভরণপোষণের সুবিধা দিলেই মৃত পাণ্ডুর হাত থেকে তিনি মুক্তি পাবেন। কিন্তু তিনি একবারের তরেও হয়তো মনে রাখেননি যে, পাণ্ডুর জ্যেষ্ঠ পুত্রের জন্ম-সংবাদ হস্তিনাপুরে জানিয়ে দিয়ে গিয়েছিল একটি অজ্ঞাতনামা লোক এবং তাও কুরুবংশের অলিখিত কর্ণধার ভীষ্মের কাছে এবং নীতিবিদ বিদুরের কাছে।

    পাণ্ডব-ভাইরা-কৌরব ভাইদের সঙ্গেই বড় হচ্ছিলেন। তফাত শুধু এইটুকুই যে, দুর্যোধনরা যে রাজকীয়তার মধ্য দিয়ে বড় হচ্ছিলেন, পাণ্ডব-ভাইরা তা হচ্ছিলেন না হয়তো। খাবারদাবার বা সাধারণ অন্নবস্ত্রের ভোগ থেকে পাণ্ডবরা নিশ্চয়ই বঞ্চিত হচ্ছিলেন না—সংব্যর্ধন্ত ভোগাংস্তে ভুঞ্জানাঃ পিতৃবেশ্মনি। কিন্তু ষোলো-সতেরো বছরের দুর্যোধন যে ব্যক্তিত্ব নিয়ে রাজকীয় কায়দায় জলক্রীড়ার ব্যবস্থা করেছিলেন, তা পাণ্ডবদের ভাবনার মধ্যেও ছিল না। বালকোচিত নানা ক্রীড়াকৌতুকের সময় ভীম কিছু শারীরিক অত্যাচার করে ফেলতেন কৌরব-ভাইদের ওপর। দুর্যোধন এতে অসন্তুষ্ট হয়ে ভীমকে বিষ খাওয়ানোর মতো সাংঘাতিক পরিকল্পনা করলেন। ধৃতরাষ্ট্রের পরোক্ষ প্রশ্রয় ছাড়া দুর্যোধনের পক্ষে এতটা কি ভাবা সম্ভব ছিল? ভীমকে বিষ খাওয়ানোর পরিকল্পনা নিয়ে দুর্যোধন রাজধানীর বাইরে গঙ্গার তীরে এক অস্থায়ী আবাস গড়ে তুললেন এবং অস্থায়ী আবাসের গঠন-পরিকল্পনা এবং ভক্ষ্য ভোজ্য পেয়র ব্যবস্থা—সবটাই ছিল রাজকীয়। সেই কৈশোরগন্ধী যুবক বয়সেই এই কাজের জন্য দুর্যোধন রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করেছিলেন। কারও কাছে তাঁর অনুমতি নেবার প্রয়োজন হয়নি। ধৃতরাষ্ট্রের নিঃশব্দ নিরুচ্চার প্রশ্রয় ছাড়া এই কাজ কি সম্ভব ছিল? তাই বলছিলাম, পাণ্ডবরা কৌরব-ভাইদের মতো একই সমতায় মানুষ হচ্ছিলেন না। ধৃতরাষ্ট্রের পক্ষপাত তখন থেকেই সুস্পষ্ট ছিল।

    ধৃতরাষ্ট্রের এই মানসিকতা আরও পরিষ্কার করে বোঝা যাবে ভীমের বিষ পানের পর। পাণ্ডব-ভাইরা যখন ভীমের জন্য হন্যে হয়ে ঘুরছেন, তখন জননী কুন্তী বিদুরকে ডেকে এনে ভীমের হারিয়ে যাবার ঘটনা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি কিন্তু সঠিক সন্দেহ প্রকাশ করে বলেছেন—ভীমের অস্তিত্ব দুর্যোধনকে কখনও খুশি করে না। কারণ দুর্যোধন খলস্বভাব, দুষ্টবুদ্ধি, রাজ্যলোভী এবং নির্লজ্জ—ক্রূরো’সৌ দুর্মতিঃ ক্ষুদ্রো রাজ্যলুব্ধো’নপত্রপঃ। কুন্তীর আশঙ্কা থেকে বোঝা যায়, ধৃতরাষ্ট্রের রাজ্যলিপ্সা ষোলো-সতেরো বছরের দুর্যোধনের মধ্যে এরই মধ্যে সংক্রমিত হয়ে গেছে।

    এমনকী কুন্তী যে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন—এটা উচ্চ স্বরে বলাটাও পাণ্ডবদের পক্ষে বিপজ্জনক ছিল। কারণ বিদুর কুন্তীকে বলেছিলেন—আপনার কথাগুলি বড় করে জোর গলায় বলবেন না, যাঁরা বেঁচে আছেন, তাঁদেরকে অন্তত বাঁচান। কারণ চেঁচিয়ে তিরস্কার করলে এই দুরাত্মা দুর্যোধন পরে আরও ক্ষতি করবে আপনার—মৈবং বদস্ব কল্যাণি শেষ-সংরক্ষণং কুরু। তার মানে, দুর্যোধন তখনই ধৃতরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। অথবা ধৃতরাষ্ট্র তখনই দুর্যোধনের সমস্ত ব্যবহার সমর্থন করেন; তা না হলে কুন্তী তাঁর ভাশুরের কাছেও নিজপুত্রের জীবনরক্ষার আর্জিটুকুও জানাতে পারছেন না কেন?

    লক্ষ করে দেখুন, ভীম যখন বিষমুক্ত হয়ে ফিরে এসেছেন এবং তিনি দুর্যোধনের সমস্ত অসদ ব্যবহার চিৎকার করে বলছেন, তখন যুধিষ্ঠির তাঁকে থামতে বলেছেন। বলেছেন, কারণ ধৃতরাষ্ট্র ও দুর্যোধনের কানে গেলে এ ঘটনা বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে। আজকের দিনের গুন্ডা-রাজনীতিতে দেখেছি—সাধারণ একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের একজন সাধারণ মানুষ খুন হয়ে যাবার পরেও, সে বাড়ির অন্য লোকেরা চেঁচিয়ে পাড়ামাত করেন না। খুন হয়ে গেছে—এ যেন তাঁদেরই দোষ; লোক জানাজানি হয়ে নিজেদের ক্ষোভের কথা গুন্ডা-রাজনীতির নেতার কানে গেলে যদি আবারও হামলা হয়, সেই ভয়ে চুপ করে সিঁটিয়ে থাকতে হয় পরিবারের প্রত্যেকটি সদস্যকে। এখানেও ঠিক তাই। নিজের জ্যাঠা ধৃতরাষ্ট্রের শাসনে যুধিষ্ঠিররা পাঁচ ভাই পরস্পরকে পরস্পর রক্ষা করার ভার নিয়েছেন, কিন্তু সন্দেহতীতভাবে দুর্যোধন এখানে খুনি বলে জানা থাকলেও রাজা হিসেবে ধৃতরাষ্ট্রকে তা জানানো সম্ভব হয়নি। ধৃতরাষ্ট্র যদি সমদর্শী হতেন, তা হলে যুধিষ্ঠিরকে শাসন করে ভীমকে বলতে হত না—তুমি চুপ করো ভীম। এ কথা কেউ যেন জানতে না পারে। আজ থেকে কুন্তীর পুত্রেরা নিজেরাই নিজেদের রক্ষা করবেন—অদ্য প্রভৃতি কৌন্তেয়া রক্ষতান্যোন্যমাদৃতাঃ। তার মানে, দেশের রাজা এবং পাণ্ডবদের রক্ষাকর্তা হিসেবে ধৃতরাষ্ট্রের যে ভূমিকা প্রতিষ্ঠিত হবার কথা ছিল, তা নস্যাৎ হয়ে গেল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপুরাণী – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    Next Article বাল্মীকির রাম ও রামায়ণ – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    Related Articles

    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    কথা অমৃতসমান – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    September 9, 2025
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    মহাভারতের ভারতযুদ্ধ এবং কৃষ্ণ – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    September 9, 2025
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    কলিযুগ – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    September 9, 2025
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    মহাভারতের অষ্টাদশী – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    September 9, 2025
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    চৈতন্যদেব – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    September 9, 2025
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    দেবতার মানবায়ন : শাস্ত্রে সাহিত্যে ও কৌতুকে – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    September 9, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }