Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মহীদাদুর এন্টিডোট – দীপান্বিতা রায়

    দীপান্বিতা রায় এক পাতা গল্প106 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    মহীদাদুর এন্টিডোট – ৩

    মহীদাদুর বাড়ি থেকে ফিরে আসার পর বেশ কয়েক মাস কেটে গিয়েছে। দাদুর দেওয়া ক্যাপসুলটা নয়ন খুব সাবধানে নিজের আলমারিতে তুলে রেখেছে। সেই আলমারি খুলতে হলে নানা রংয়ের লেসার রশ্মির যে কম্বিনেশন লাগে, সেটা নয়ন ছাড়া আর কেউ জানে না। তবে তার মধ্যেই একদিন সে নিজে রাতের খাওয়াদাওয়ার পর ভোলুকে সুইচড অফ করে ক্যাপসুলটা বের করে কম্পিউটারে ভরে দেখেছে। মহীদাদু খুব সহজ ভাষায় পুরো ফরমুলা বুঝিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু মুশকিল হল কাজটা শুরু করতে হলে তো একজন শিল্পী মানুষের ডি এন এ লাগবে। সেরকম মানুষ নয়ন পাবে কোথায়?

    মহীদাদু যখন কথাগুলো তাঁকে বলেছিলেন, তখন নয়ন অতটা বোঝেনি। কিন্তু এখন বুঝতে পারছে ওরকম কাউকে খুঁজে পাওয়া কতটা কঠিন। ডি এন এ কারেকশনের জন্য গত পঞ্চাশ বছরে এরকম মানুষ কেউ জন্মায়নি। তার থেকে বেশি বয়স যাঁদের, তাঁদের মধ্যে নিশ্চয়ই কিছু শিল্পী আছেন। কিন্তু তাঁদের খুঁজে পাওয়া যাবে কীভাবে? পিউ-এর পরিকল্পনা এত নিখুঁত যে বেশির ভাগ মানুষ এই ব্যাপারগুলোই ভুলে গিয়েছে। স্কুল-কলেজে শেখানো হয় না। এ সম্বন্ধে কোনও তথ্য ইন্টারনেটে পাওয়া যায় না। গান, গল্প, কবিতা এই শব্দগুলো শুনলে সবাই তাই ফ্যালফ্যাল করে তাকায়। সত্যি কথা বলতে কী নয়নের নিজেরও তো ধারণা খুব স্পষ্ট নয়। ছেলেবেলায় মহীদাদুর বাড়িতে যা শুনেছিল, সে তো ভুলেই গিয়েছে প্রায়। এরকম একটা ভাসা-ভাসা ধারণার উপর দাঁড়িয়ে সে কী করে এমন একজন মানুষকে খুঁজে বের করবে? চিনবে কী করে তাকে?

    কিন্তু তবু নয়ন সহজে হাল ছাড়ার মানুষ নয়। মহীদাদুকে সে কথা দিয়েছে। তাই ইদানীং নয়ন প্রায় সব ছুটির দিনেই আত্মীয়স্বজন বন্ধুবান্ধবদের বাড়িতে বেড়াতে যায়। বিশেষ করে একশো-দেড়শ বছর বয়স হয়েছে, এমন সব মানুষ যে বাড়িতে আছেন। তাঁদের সঙ্গে অনেক গল্প হয়। পুরনো দিনের কথাও জানা যায়। শিল্পী কাকে বলে সেটা তাঁরা জানেন। দু’-এক জনের এসব বিষয়ে আগ্রহও আছে। কিন্তু তাঁদের ডি এন এ দিয়ে যে নয়নের প্রয়োজন মিটবে না, সেটা সে নিজেই বুঝতে পারে। দু’-একবার এঁদের কাছ থেকে গল্প শুনে একদম অচেনা মানুষের বাড়িতেও হানা দিয়েছে নয়ন। যেমন তার এক বন্ধুর ঠাকুরদা একজনের নাম বলেছিলেন, তিনি নাকি ভারী সুন্দর ছবি আঁকতেন। নয়ন অনেক খুঁজে তাঁর সন্ধানও বের করেছিল। কিন্তু বাড়িতে গিয়ে জানা গেল সেই মহিলা বছরখানেক হল মারা গিয়েছেন। সেরকমই এক গায়কের সন্ধানে গিয়ে নয়ন জানতে পেরেছিল তিনি নাকি বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছেন। কোথায় গিয়েছেন কেউ জানে না। এভাবে শিল্পী মানুষ খুঁজতে খুঁজতে নয়ন ক্রমশ বুঝতে পারছিল, নিজেদের লক্ষ্যে একদম পরিকল্পনা মাফিক এগুচ্ছেন পিউ-এর কর্মকর্তারা। একদিকে শিল্পী জন্মাচ্ছে না। অন্যদিকে প্রবীণ শিল্পীরা হয় মারা যাচ্ছেন নয়তো হারিয়ে যাচ্ছেন।

    মনে-মনে যখন বেশ খানিকটা হতাশ হয়ে পড়েছে নয়ন, সেই সময় একদিন সকালে মহীদাদুর মৃত্যুসংবাদ এলো। সেদিনটা ছিল রবিবার। খবরটা শোনার পর থেকে কিছুই আর ভাল লাগছিল না নয়নের। নিজেকে খানিকটা শান্ত করার জন্যই অনেকদিন পর সে তার সুপারসনিক কার নিয়ে বেরিয়ে সোজা চলে গেল জঙ্গলে। সময়টা বসন্তকাল। গাছে-গাছে ঝলমল করছে নতুন পাতা। নানা রকম ফুল ফুটেছে। প্রজাপতিরা উড়ে বেড়াচ্ছে। অনেক রকম পাখিও ডাকছে। গাড়িটা একটা মোটামুটি ফাঁকা জায়গায় রেখে জঙ্গলের মধ্যে ঢোকে নয়ন। তারপর এদিকওদিক ঘুরতে-ঘুরতে একসময় একটা মোটা শিমুল গাছের তলায় ঘাসের উপর শুয়ে পড়ে।

    ঠাণ্ডা হাওয়ায় যখন প্রায় চোখ লেগে এসেছে, তখন হঠাৎ একটা কীরকম অদ্ভুত শব্দ শুনে তার তন্দ্রা কেটে যায়। উঠে বসে এদিকওদিক তাকিয়ে কিছুই দেখতে পায় না। আওয়াজটা কিন্তু থামেনি। ভাল করে শুনে নয়ন বুঝতে পারে একটু দূরে একটা বুনো গোলাপের ঝোপের ওপাশ থেকে আসছে শব্দটা। তাড়াতাড়ি ঝোপটা পেরিয়ে উলটোদিকে গিয়েই চমকে ওঠে সে। মাটিতে একটা লোক পড়ে আছে। তার কপাল কেটে রক্ত পড়ছে। মানুষটার প্রায় অজ্ঞান অবস্থা। মুখ দিয়ে একটা গোঁ গোঁ আওয়াজ বেরচ্ছে, যেটা গাছতলায় শুয়ে সে শুনতে পেয়েছিল। লোকটির পাশে একটা ব্যাগ আর কিছু অদ্ভুত যন্ত্রপাতি পড়ে আছে। সেগুলো সম্ভবত ওই ব্যাগ থেকেই পড়ে গিয়েছে।

    এরকম একটা জনশূন্য জায়গায় একজন মানুষকে পড়ে থাকতে দেখে প্রথমটায় খানিকটা হকচকিয়ে গিয়েছিল নয়ন। কিন্তু তারপরই নিজেকে সামলে নিয়ে সে দৌড়ে নিজের গাড়ি থেকে ওষুধপত্রের একটা ছোট বাক্স বের করে আনে। রক্ত বন্ধ করার জন্য কপালে মলম লাগায়। তারপর একটা বিশেষ ওষুধের কয়েক ফোঁটা লোকটির ঠোঁট ফাঁক করে মুখের মধ্যে ঢেলে দেয়। ওষুধটা মুখের ভিতরে যাওয়ার একটু পরেই লোকটার গোঁ গোঁ আওয়াজটা আস্তে-আস্তে কমে যায়। আরও একটু পরে নয়ন বুঝতে পারে যে, তার জ্ঞান ফিরে আসছে।

    তখন খুব সাবধানে তাকে তুলে ধীরে-ধীরে হাঁটিয়ে নিজের গাড়ির কাছে নিয়ে এসে গাড়িতে বসায়। তারপর গিয়ে সেই ব্যাগের মধ্যে যন্ত্রপাতিগুলো ভরে সেটাকেও তুলে নিয়ে আসে।

    অচেনা মানুষটির কথা বলার মতো অবস্থা নেই। শরীরের ভিতরে কোনও ক্ষতি হয়েছে কি না কিংবা কী কষ্ট হচ্ছে কিছুই বোঝা যাচ্ছে না। তাই বাড়িতে না এসে নয়ন প্রথমেই তাকে নিয়ে যায় ডাক্তারের কাছে। তিনি ভাল করে পরীক্ষা করে বলেন যে চোট খুব গুরুতর নয় ঠিকই, কিন্তু মনে হচ্ছে কোনও কারণে শক পেয়েছে। তাই বেশি নড়াচড়া না করে বিশ্রামে রাখাই ভাল। একটু সামলে উঠলে তখন সব কিছু জেনে নিয়ে বাড়ি পৌঁছে দেওয়া যাবে। ডাক্তারবাবু লোকটিকে হাসপাতালেই ভর্তি করে নিচ্ছিলেন। কিন্তু লোকটার জামাকাপড় বেশ অন্য রকম। ব্যাগের যন্ত্রপাতিগুলোও অদ্ভুত। সব মিলিয়ে মানুষটার সম্বন্ধে একটু কৌতূহল হচ্ছিল নয়নের। তা ছাড়া ও কেন জনহীন জঙ্গলে গিয়েছিল, সেটাও জানার ইচ্ছে ছিল। তাই সে ঠিক করে হাসপাতালে নয়, নিজের কাছেই রাখবে ওকে। যদি কোনও কারণে বেশি শরীর খারাপ হয়, তখন হাসপাতালের কথা ভাবা যাবে। নয়নের এমন অদ্ভুত প্রস্তাবে ডাক্তারবাবু একটু আশ্চর্য হলেও আপত্তি করেন না।

    প্রায় তিন সপ্তাহ হয়ে গেল নীল নয়নের বাড়িতেই আছে। হ্যাঁ সেই অজানা লোকটির নাম নীল। সে নিজেই তার নামটা বলেছে, কিন্তু আর কিছুই বলতে পারেনি। প্রথম কয়েকদিন অবশ্য তার কথা বলার মতো অবস্থা ছিল না। বেশির ভাগ সময়ই ওষুধের ঘোরে আচ্ছন্ন হয়ে থাকত। নয়নের নির্দেশ মতো তার সব দেখাশোনা করত ভোলু। কিন্তু আস্তে-আস্তে সে যখন সুস্থ হয়ে উঠছে, তখন তার সঙ্গে কথা বলে নয়ন বেশ আশ্চর্য হয়ে দেখল যে সে বাংলা, ইংরেজি এরকম বেশ কয়েকটা ভাষা দিব্যি বুঝতে পারছে। কিন্তু এস্পেরান্তোতে কথা বললে কিছুই বুঝছে না। যেরকম নিজের নামটা বলতে পারছে কিন্তু আর কিছু, যেমন সে কোথায় থাকত, কী করত এসব তার মনে নেই।

    ডাক্তারের সঙ্গে কথা বললে তিনি নীলের ব্রেন ম্যাপিং করতে বললেন। কিন্তু তাতেও বিশেষ কিছু বোঝা গেল না। তবে ডাক্তার বললেন অনেকসময় মাথায় আঘাত লেগে এরকম হতে পারে। সেটা ম্যাপিংয়ে সবসময় ধরা পড়ে না। যেহেতু কিছু জিনিস মনে পড়ছে, কিছু পড়ছে না, তাই একটু অপেক্ষা করাই ভাল। স্বাভাবিকভাবে যদি স্মৃতিশক্তি ফিরে না আসে, তখন চিকিৎসা শুরু করা যাবে।

    কিন্তু মুশকিল হচ্ছে, এরকম অসহায় অবস্থায় তো কোনও মানুষকে ছেড়ে দেওয়া যায় না। তাই নীল নয়নের বাড়িতেই রয়েছে। তাতে অবশ্য নয়নের কোনও আপত্তি নেই। বরং সে বেশ খুশি। কারণ নীল মানুষটি ভারী ভাল। এমনিতে আপনমনে থাকে। কিন্তু নানা রকম মজার কথা বলে দিব্যি হাসাতে পারে। আবার ভারী সুন্দর করে গল্পও করে। নয়ন বুঝতে পারে যে নীল যথেষ্ট বুদ্ধিমান। কিন্তু মাথার আঘাত লাগার কারণেই সম্ভবত এক-এক সময় এমন সব কথাবার্তা বলে যে, শুনলে মনে হয় যেন সে অনেক পুরনো দিনের মানুষ। আজকের পৃথিবীর সম্বন্ধে তার কোনও ধারণাই নেই।

    নীল নয়নের বাড়িতে থাকতে শুরু করার মাস ছয়েক পরে একদিন একটা অদ্ভুত ঘটনা ঘটল। নীলকে জঙ্গল থেকে তুলে আনার সময় নয়ন তার ব্যাগটাও তুলে এনেছিল। তারপর বাড়ি এসে ব্যাগটাকে সযত্নে ড্রয়ারের ভিতর ঢুকিয়েও রেখেছিল। কিন্তু তারপর নীলের অসুস্থতা, তাই নিয়ে নানা রকম দৌড়ঝাঁপ এসবের মাঝে সে ব্যাগটার কথা বেমালুম ভুলে যায়। নীলও ব্যাগের ব্যাপারে তার কাছে কিছু জানতে চায়নি। কিন্তু একদিন অফিসের কিছু কাগজপত্র বের করতে গিয়ে ড্রয়ারের ভিতর থেকে ব্যাগটা বেরিয়ে পড়ায় নয়ন তাড়াতাড়ি ব্যাগটা নিয়ে গিয়ে নীলের হাতে দেয়। মুহূর্তের মধ্যে নীলের মুখটা যেন আনন্দে একেবারে উজ্জ্বল, উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে, বলে, “এটা তুমি কোথায় পেলে নয়ন?”

    “তুমি যেখানে পড়ে ছিলে, সেখানেই তো ছিল। যন্ত্রপাতিগুলো পাশে ছড়িয়ে ছিল। আমি সব গুছিয়ে ব্যাগের ভিতর ভরে নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু তারপর তোমাকে নিয়ে এত টানাটানি শুরু হল যে ব্যাগের কথা ভুলেই গিয়েছি।”

    নীল ব্যাগের ভিতরের জিনিসগুলো নেড়েচেড়ে দেখতে থাকে। খুব আলতো করে একটা লম্বাটে পাইপের মতো জিনিসে হাত বোলায়। তার কাণ্ডকারখানা দেখে নয়ন ভারী অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে, “এটা কীসের যন্ত্র নীল?”

    “এটা তো যন্ত্র নয়। তুমি এটা চেন না?”

    নয়নকে মাথা নাড়তে দেখে নীলও ভারী আশ্চর্য হয়। তারপর বলে, “আচ্ছা দাঁড়াও। আজ রাতের খাবার খাওয়ার পর তোমাকে এর কেরামতি দেখাব।”

    ভোলুর সঙ্গে নীলও আজকাল মাঝে-মাঝেই রান্নার কাজে হাত লাগায়। নয়নের জন্য নানা রকম পদ তৈরি করে। সেগুলো একেবারে অন্য রকম খেতে আর স্বাদও চমৎকার। নয়ন যেহেতু সারাদিন ব্যস্ত থাকে, তাই ডিনার টেবিলে দু‘জনের অনেক গল্পও হয়। সব মিলিয়ে রাতের খাওয়াটা আজকাল নয়নের কাছে খুব উপভোগ্য একটা ব্যাপার। সেদিন রাতে কুড়মুড়ে করে আলুর খোসা ভেজেছিল নীল। নয়নের সেটা দারুণ পছন্দ হল। আনাজের খোসাও যে আবার এরকমভাবে খাওয়া যায়, সেটা তার জানাই ছিল না। খাওয়া শেষ হলে ভোলুকে সুইচড অফ করে চার্জে বসিয়ে দু‘জনে এসে বসে নয়নের ঘরে।

    ঘরের আলো নিভিয়ে দিয়ে নীল সেই লম্বাটে পাইপের মতো জিনিসটা নিজের মুখের কাছে তুলে নিয়ে ফুঁ দেয়। আর অমনি তার থেকে একটা ভারী মিষ্টি শব্দ বেরতে থাকে। তেমন আওয়াজ নয়ন আগে কখনও শোনেনি। তার মনে হয় এই শব্দের সঙ্গে-সঙ্গে তার মনটাও যেন কোন সুদূরে ভেসে যাচ্ছে। অনেকদিন পরে মায়ের মুখটা মনে পড়ে চোখে জল আসে আবার বুকের ভিতরটা কেমন যেন অন্য রকম আনন্দে ভরে ওঠে।

    এক সময় শব্দ থামে। নয়ন দু‘হাতে নীলকে জড়িয়ে ধরে বলে, “এটা কী নীল? এমন জিনিস তো আগে কখনও দেখিনি, এমন আওয়াজও কখনও শুনিনি।”

    “এটাকে বলে বাঁশি। এটা এক ধরনের বাজনা। এটা বাজাতে হয়। এই যে ফাঁপা নলটা দেখছ, এর গায়ে ছোট-ছোট ফুটো আছে। আমি ফুঁ দিলে সেই হাওয়া এই ফুটো দিয়ে বেরিয়ে নানা রকম সুর তৈরি করে। তাকেই বলে বাজানো। কিন্তু আমার খুব আশ্চর্য লাগছে নয়ন, তুমি আগে কখনও বাঁশি দেখোনি?”

    “না, সত্যিই দেখিনি। এমনকি এর নামও কখনও শুনিনি। কিন্তু তুমি এটা কোথা থেকে পেলে। আর বাজাতেই বা শিখলে কোথা থেকে?”

    “আমি তো খুব ছেলেবেলা থেকেই বাঁশি বাজাতে জানি। কিন্তু কার কাছে শিখলাম, কীভাবে শিখলাম তা তো মনে করতে পারছি না। অথচ দ্যাখো সুরগুলো কিন্তু সব ঠিকঠাক মনে পড়ছে। তোমার যদি ভাল লাগে, তা হলে আমি তোমাকে মাঝে-মাঝেই বাঁশি বাজিয়ে শোনাব। চাইলে তোমাকে শেখাতেও পারি।”

    নয়ন এবার একটু হেসে বলে, “শিখতে পারব কি না জানি না। শুনব তো নিশ্চয়ই। তবে একটা জিনিস খেয়াল রেখো, ভোলু যেন কিছু জানতে না পারে।”

    “কেন বলো তো, ভোলু জানলে অসুবিধে কোথায়?”

    “আমি যেমন কোনোদিন বাঁশি দেখিনি, সেরকম ভোলুও নিশ্চয়ই দেখেনি। একদম অজানা কিছু দেখলে, মানে যার সম্বন্ধে কোনও ডেটা ওকে ফিড করা হয়নি, ও সঙ্গে-সঙ্গে সেটা মনিটর করে আর তার রিপোর্টও তৈরি করে। সেই রিপোর্ট সরকারের ঘরে জমা পড়লেই সেখান থেকে লোক আসবে তোমার আর তোমার বাঁশির খোঁজখবর নিতে। তখন কোথা থেকে তুমি বাঁশি পেলে, কেন তোমাকে আমি হাসপাতালে না দিয়ে নিজের বাড়িতে রেখেছি, এইসব নানা প্রশ্ন উঠে জল ঘোলা হবে। তাই ওসব ঝামেলায় না যাওয়াই ভাল।”

    নয়নের কথার ধরনে হেসে ফেলে নীল। তারপর বলে, “আচ্ছা ঠিক আছে। ভোলু বাদ। আমরা দুই বন্ধুই শুধু বাঁশি শুনব। ব্যস, তা হলে খুশি তো?”

    “খুব খুশি। তবে সবচেয়ে বেশি খুশি হলাম তুমি আমাকে বন্ধু বলায়। তুমি আসার আগে আমার কিন্তু সেরকম কোনও বন্ধুই ছিল না। অথচ দ্যাখো তোমার সঙ্গে কত তাড়াতাড়ি ভাব হয়ে গিয়েছে। আজকাল তো আমার মাঝে-মাঝে মনে হয়, তোমার যখন সব কথা মনে পড়ে যাবে আর তুমি নিজের বাড়িতে চলে যাবে, তখন তো আমি ভারী বিপদে পড়ে যাব।”

    “আরে চিন্তা করছ কেন? আমি যখন নিজের বাড়িতে যাব, তখন তোমাকেও আমার সঙ্গে নিয়ে যাব?” হাসতে হাসতে বলে ওঠে নীল।

    তারপর থেকে মাঝে-মাঝেই রাতে নয়নকে বাঁশি বাজিয়ে শোনায় নীল। তার সঙ্গে থাকতে-থাকতে নয়ন ধীরে-ধীরে বুঝতে পারে শুধু বাঁশি বাজানো নয়, আরও অনেক কিছুই নীল করতে পারে, যেগুলো তার সম্পূর্ণ অজানা।

    যেরকম একদিন নীল স্নানে ঢোকার পর নয়ন শুনতে পায় স্নান ঘরের ভিতর থেকে একটা গুনগুন আওয়াজ আসছে। আওয়াজের ধরনটা নয়নের খানিকটা চেনা। কিন্তু ঠিক মনে করতে পারছে না। তাই নীল স্নান সেরে বেরনো মাত্র নয়ন তাকে চেপে ধরে, “বাথরুমে তুমি কী করছিলে বলো তো?”

    ” “বাথরুমে আবার কী করব! স্নান করছিলাম….” নীল তো অবাক। “না, না, তা নয়। একটা অন্য রকম আওয়াজ আসছিল তো…’ “ও, সে তো আমি গান গাইছিলাম।”

    মহীদাদুর কল্যাণে গান ব্যাপারটা নয়ন কিছুটা জানে। তাই বাঁশির মতো অতটা হতবাক হয়ে যায় না। বরং নিজেকে একটু সামলে নিয়ে জিজ্ঞেস করে, “তুমি কি গান গাইতে পার?”

    “অল্প-অল্প পারি। খুব ভাল বোধ হয় নয়। যদিও একসময় লোকে খুবই ভাল বলত।”

    “কারা ভাল বলত? তোমার মনে আছে তাদের কথা?”

    কিছুক্ষণ শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে মাথা নাড়ে নীল, “নাহ মনে নেই। মনে পড়ছে না। গানগুলো কিন্তু মনে আছে। গান গাইতে গেলে আমার কোনোদিন একটা শব্দও ভুল হয় না।”

    সামান্য হতাশ হয়ে নয়ন বলে, “আচ্ছা, একটা গানই শোনাও তা হলে।”

    “উঁহু, এখন নয়। তুমি বলেছ না, ভোলুর সামনে নতুন কিছু না করতে। গান তোমাকে আমি রাতে শোনাব, ভোলুকে সুইচড অফ করার পর।”

    দিনগুলো আজকাল ভারী ভাল কাটছে নয়নের। রোজ রাতে ভোলুকে সুইচ টিপে ঘুম পাড়ানোর পর বসে তাদের দুই বন্ধুর আসর। কোনোদিন নীল বাঁশি বাজিয়ে শোনায়। কোনোদিন গান গায়। নীলের কাছে শুনে-শুনে আজকাল একটু-একটু গান গাইতে পারে নয়নও। নীল বলেছে, নয়নের গলায় নাকি সুর আছে। একটু চেষ্টা করলেই সে পারবে। এই সুর ব্যাপারটা যে কী, সেটা অবশ্য নয়নের মাথায় ঢোকেনি। নীলও তাকে ঠিকমতো বোঝাতে পারেনি। কিন্তু সুরটা এখন চিনতে শিখেছে নয়ন। গলার আওয়াজটা ঠিক কেমনভাবে বেরলে সেটা সুরে বলা হয়, সেটা এখন সে বুঝতে পারে। কিন্তু মুশকিল হচ্ছে আজকাল নীলের মতো তারও খানিকটা গুনগুন করা অভ্যাস হয়েছে। দু’-একদিন অফিসে কাজ করার সময় আপনমনে গুনগুন করায় সহকর্মীরা ভুরু কুঁচকে তাকিয়েছিল। নয়ন সেটাকে খুব বেশি গুরুত্ব দেয়নি। কিন্তু তারপর একদিন বস ডেকে জিজ্ঞেস করলেন, “তোমার কি কোনও মানসিক সমস্যা হচ্ছে? মানে কোনও ধরনের অসুবিধে বা চাপ, তা হলে সেক্ষেত্রে আমার মনে হয় তোমার ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলা দরকার।”

    নয়ন তো অবাক, বলেছিল, “কেন স্যার? আমার তো সেরকম কিছু মনে হয়নি।”

    “তোমার কলিগরা বলছিল, তুমি নাকি আজকাল মাঝে-মাঝে নিজের মনে কথা বলো, অদ্ভুত ধরনের আওয়াজ করে কথা বলো….”

    অনেক কষ্টে সেদিন ব্যাপারটা ধামাচাপা দিয়েছিল নয়ন। কিন্তু তারপর থেকে সতর্ক হয়ে গিয়েছে, কোনোভাবেই যেন কাজের সময় এককলি গানও গুনগুনিয়ে মুখ থেকে বেরিয়ে না আসে। কিন্তু নয়নের কাছে কথাটা শুনে খুব আশ্চর্য হয়ে গিয়েছিল নীল, “কেন, গান করাটা তো অন্যায় কাজ নয়। ভারী সুন্দর একটা জিনিস। সেটা নিয়ে তোমাদের এত ভয়, এত লুকোছাপা কীসের? তোমার মতো ওরাও তো শিখে নিতে পারে। তা হলে ওদেরও ভাল লাগবে। নতুন কিছু শিখতে তো সবসময়ই ভাল লাগে।”

    নীলের প্রশ্নের কোনও উত্তর দেয়নি নয়ন। কারণ পিউ-এর কার্যকলাপ, যা সে নিজে মহীদাদুর কাছ থেকে শুনেছে সেগুলো তো আর নয়নকে বলা সম্ভব নয়। কিন্তু নিজের মনে-মনে ভারী আশ্চর্য হয়েছিল। নীলের বয়স প্রায় তার সমান। তা হলে তো তারও নিশ্চয়ই ডি এন এ কারেকশন হয়েছে। তা হলে সে কী করে এত অন্য রকম! নয়নের মতো তারও কি কোনও মহীদাদু ছিল? নাকি পিউ যে অল্প কিছু হাতে গোনা শিশুর ডি এন এ কারেকশন করে না, যারা বড় হয় পৃথিবীকে শাসন করার অধিকার নিয়ে, নীল তাদের মধ্যে একজন। তা হলে তো নয়নের আরও বেশি সাবধান হওয়া দরকার। কারণ নিয়মিত চিকিৎসা চলছে। কোনও একটা সময় তো নীলের স্মৃতি ফিরে আসবেই। এখন নয়ন কোনও বেফাঁস কথা বললে তখন তো বিপদে পড়ে যাবে।

    কিন্তু এতসব নানা রকম যুক্তি সত্ত্বেও, নয়ন কিন্তু নিজের মনেমনে কিছুতেই মেনে নিতে পারে না যে, নীল আসলে পিউ-এর বিশ্ব জুড়ে পেতে রাখা ষড়যন্ত্রের জালেরই একটা অংশ। নীলের সহজ হাসি, খোলামেলা কথা সবই তার ওই যুক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়ায়। কিন্তু তা যদি না হয়, তা হলে নীল কেন এত অন্য রকম তারও কোনও ব্যাখ্যা সে খুঁজে পায় না। তাই নীলকে নিয়ে সারাক্ষণই তার মধ্যে একটা দোলাচল চলে।

    এমনিতে নীল এখন পুরোপুরি সুস্থ। তাই মাঝে মাঝেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে এদিকওদিক যায়। আবার নিজে-নিজে রাস্তা চিনে দিব্যি ফিরেও আসতে পারে। কেমন করে এয়ার ক্যাব ডাকতে হয়, সেটা নয়ন তাকে শিখিয়ে দিয়েছে। নীল সাধারণত তাদের সাড়ে তিনশোতলার ব্যালকনিতে এয়ার ক্যাব ডেকে নেয়। তারপর তাতে চেপে চলে যায় নিজের পছন্দমতো জায়গায়। পছন্দমতো জায়গা বলাটা অবশ্য ভুল। সারা শহর জুড়ে যেসব অসংখ্য শপিং মল, নকল পাহাড়, নদী, সমুদ্দুর, মরুভূমি সাজানো আছে, সেসব কিছুই নীলের পছন্দ হয় না। তার সবচেয়ে ভাল লাগে ছুটির দিনে নয়নের সঙ্গে জঙ্গলে বেড়াতে যেতে, সত্যিকারের ঝরনার জলে পা ডুবিয়ে বসতে। কিন্তু তবু নয়ন তাকে বেরতে বলে। কারণ প্রথমত, চারদিকটা চেনা দরকার। আর নানা জায়গায় ঘুরতে-ঘুরতে কোনও কিছু দেখে নীলের পুরনো কথা মনে পড়েও যেতে পারে। যদিও এখনও পর্যন্ত সেরকম কোনও সম্ভাবনা দেখা যায়নি। বরং প্রতিদিনই বাইরে থেকে ঘুরে এসে নীল নানা রকম অঙ্গভঙ্গি করে নকল পাহাড়, নদী দেখে দর্শকদের উচ্ছ্বাসের বর্ণনা দেয়। আর সেগুলো শুনতে-শুনতে হেসে গড়িয়ে পড়ে নয়ন।

    নীল দু’-একবার নয়নকে জিজ্ঞেসও করেছে, “এই মানুষগুলোর কখনও ইচ্ছে হয় না আসল পাহাড়, সমুদ্র কেমন হয়, গিয়ে দেখে আসতে? নতুন জায়গায় গিয়ে সেটাকে আবিষ্কার করতে ভাল লাগে না এদের?”

    আরও অনেক কিছুর মতোই, নীলের এই প্রশ্নেরও কোনও উত্তর দেয়নি নয়ন। যদিও তার নিজের মনে অন্য আর-একটা প্রশ্ন বেশ কিছুদিন ধরেই উঁকিঝুঁকি মারছিল। নয়নের বাড়িতে নীলের থাকা প্রায় এক বছর হতে চলল। ইতিমধ্যে তার মাথার চিকিৎসাও প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। ডাক্তারবাবুর ধারণা আর অল্পদিনের মধ্যেই নীলের সম্পূর্ণ স্মৃতি ফিরে আসবে। যদিও দুই বন্ধুর কেউই সেটা নিয়ে বিশেষ ভাবিত নয়। আর ভোলুর স্টোরেজে যেহেতু এরকম পরিস্থিতি নিয়ে কোনও তথ্য ফিড করা নেই, তাই এবিষয়ে তার কোয়েশ্চেন ব্যাঙ্ক ও খালি। সুতরাং নীলকে নিয়ে ভোলুর কোনও মাথাব্যথা, কিংবা বলা ভাল কম্পিউটার-ব্যথা নেই। অতএব সবকিছু চলছিল ভালই। কিন্তু সেদিন ঘটে গেল একটা সাংঘাতিক ঘটনা।

    রোজকার মতো সকালবেলা নয়ন নিজের ল্যাবরেটরিতে মনোযোগ দিয়ে কাজ করছে। হঠাৎ তার হাতের ব্যান্ডে বিপ বিপ শব্দ করে সবুজ রংয়ের আলোর সংকেত আসতে শুরু করল। নয়ন বুঝতে পারল অচেনা কেউ তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাইছে, এমন কেউ যার সঙ্গে মনোবাহীতে তার যোগাযোগ নেই। বাটন টিপে ব্যান্ড চালু করে নয়ন তো অবাক। উলটোদিকে রয়েছেন পুলিশের একজন অফিসার। নীল নাকি রাস্তায় কী গণ্ডগোল করেছে, তাই তাকে তাঁরা নিজেদের অফিসে নিয়ে এসেছেন। নীল নিজের সম্বন্ধে কিছুই বলেনি, শুধু নয়নের নাম আর ব্যান্ড নম্বর দিয়েছে। তাই পুলিশ অফিসার নয়নের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।

    সব কথা শুনে নয়ন বুঝতে পারে যে, ব্যাপারটা ঠিক সুবিধেজনক নয়। তাই বসের সঙ্গে কথা বলে তাড়াতাড়ি বেরিয়ে হাজির হয় পুলিশের অফিসে। নীল সেখানেই রয়েছে। তবে পুরো ঘটনায় পুলিশ অফিসার যে রীতিমতো হতভম্ব, সেটা বুঝতে নয়নের অসুবিধে হয় না। ঘটনাটা যদিও খুবই সামান্য। সেদিন সকালে নয়ন বেরিয়ে যাওয়ার পর নীলও একটা ক্যাব ডেকে বেরিয়েছিল। কিছুক্ষণ এদিকওদিক ঘোরাঘুরির পর তার ইচ্ছে হয় মাটিতে হাঁটবে। ইদানীং অধিকাংশ মানুষ যেহেতু আকাশপথেই চলাফেরা করে, তাই রাস্তাঘাট প্রায় শুনশান থাকে। নীল আপনমনে ওরকম একটা ফাঁকা রাস্তায় হাঁটছিল।

    এমন সময় সে দেখে যে, একটা জায়গায় রাস্তার পাশে সার-সার রংচঙে পাথর বসানোর কাজ চলছে। পাথরগুলো দেখতে সুন্দর, রাস্তাটাকে দেখাচ্ছেও ভাল। কিন্তু এই পাথর বসানোর জন্য মিস্ত্রিরা একটা ঝলমলে হলুদ ফুলে ভরা গাছকে উপড়ে ফেলবে ঠিক করেছে। সেজন্য মাটি খোঁড়ার কাজও শুরু হয়ে গিয়েছে। নীল নাকি লোকগুলোকে গিয়ে বলে যে, গাছটা না উপড়ে ফেলে পাথর বসালে সেটা আরও সুন্দর দেখাবে। লোকগুলো স্বাভাবিকভাবেই তার কথায় রাজি হয়নি। তখন নীল গাছটাকে জড়িয়ে ধরে মাটিতে বসে পড়ে। হতভম্ব মিস্ত্রিরা পুলিশে খবর দেয়।

    পুলিশও ঘটনা দেখে অবাক। তবে তারা অনেক কষ্টে বুঝিয়ে সুজিয়ে নীলকে সেখান থেকে তুলে পুলিশ স্টেশনে নিয়ে এসেছেন। যদিও নীল নাকি তাদের ভয় দেখিয়েছে যে, কাল যদি সে গিয়ে দ্যাখে যে গাছ উপড়ে ফেলা হয়েছে, তা হলে ওখানেই মাটিতে শুয়ে থাকবে যতক্ষণ না আবার গাছটাকে ফিরিয়ে এনে পোঁতা হয়। ভয় পেয়ে মিস্ত্রিরা কাজ বন্ধ করে রেখেছে। পুলিশও ভেবে পাচ্ছে না কী করবে। কারণ এমন ধরনের কথাবার্তা তারা কস্মিনকালেও শোনেনি।

    “উনি কি অসুস্থ? চিন্তাভাবনা ঠিকমতো করতে পারেন না?” পুলিশ অফিসারের প্রশ্নের উত্তরে নয়ন জানায় যে, তাঁর অনুমান সঠিক। বছরখানেক আগে নীলের অ্যাকসিডেন্ট হয়েছিল। সে এখনও পুরো সেরে ওঠেনি। তাই তার চিন্তার সূত্রগুলো একটু এলোমেলো।

    “আমারও সেরকমই মনে হয়েছিল। তবে চিন্তাগুলো এলোমেলো নয়, খুবই অদ্ভুত। উনি বলছেন যে গাছটাকে উনি মেরে ফেলতে দেবেন না। এ আবার কী ধরনের কথা! এরকম কী বলা যায় না কি! রাস্তাটা সাজানো হচ্ছে, তাই গাছটাকে সরিয়ে দিতে হবে। এটাই তো নিয়ম। অথচ উনি সেটা মানতে চাইছেন না। আমার মনে হচ্ছে ওঁর অসুখটা বেশ জটিল। আপনি ডাক্তারকে এই ঘটনাটা বলবেন নিশ্চয়ই। দরকার হলে আমাকেও ডাকতে পারেন। আমি চাই যে উনি দ্রুত সেরে উঠুন।”

    পুলিশ অফিসারের সব কথায় সায় দিয়ে ঘাড় নাড়ে নয়ন, যাতে কোনোভাবেই ঘটনাটা আর না গড়ায়। তারপর নীলকে নিয়ে বাড়ি ফিরে আসে। কিন্তু দুশ্চিন্তাটা যায় না। তাই বাড়ি ফিরে চুপচাপ শুয়ে পড়ে। এদিকে নীলও রাস্তায় প্রায় কোনও কথাবার্তা বলেনি। ফিরে এসে নিজের ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করেছে। সারাদিন এভাবেই যায়। তারপর রাতের খাওয়াদাওয়া হলে ভোলুকে সুইচড অফ করে নীল নয়নকে বলে, “আমার জন্য তোমার আজ খুব টেনশন গিয়েছে। হেনস্থাও হতে হয়েছে বেশ খানিকটা। সেজন্য আমি ঠিক করেছি তোমাকে আজ একটা উপহার দেব। তুমি ঘরে গিয়ে বোসো, আমি আসছি।”

    একটু আশ্চর্য হয়ে নিজের ঘরে চলে যায় নয়ন। একটু পরে হাতে একটা বড় সবুজ রংয়ের বোর্ড নিয়ে নীল ঢোকে। বোর্ডটা নয়ন চেনে। একটা বড় বাক্সে কতগুলো জিনিস আনা হয়েছিল। সেই বাক্সেরই একটা টুকরো ওটা। কিন্তু নীল যখন আস্তে-আস্তে বোর্ডটা তার দিকে ঘোরায় তখন সাংঘাতিক চমকে ওঠে নয়ন। গত সপ্তাহেই তারা দু‘জনে ছুটির দিনে জঙ্গলের ধারে বসে সূর্যাস্ত দেখেছিল। গাছপালার আড়ালে টুকটুকে লাল সূর্য। ঘরে ফিরছে পাখির ঝাঁক। সেইসবই যেন কী করে উঠে এসেছে বোর্ডের গায়ে।

    “এটা কী?” অবাক হয়ে জানতে চায় নয়ন।

    “একে বলে ছবি। আমি এঁকেছি তোমার জন্য। তুমি চিনতে পারছ? এগুলো আমরা দেখেছিলাম সেদিন। তুমি আগে কখনও ছবি দেখেছ?”

    আস্তে-আস্তে মাথা নাড়ে নয়ন, “চিনতে পেরেছি। জঙ্গলের ধারে বসেছিলাম আমরা দু‘জনে। জান নীল, আমার মনে পড়ছে খুব ছেলেবেলায় আমি ছবি দেখেছি। মহীদাদুর বাড়িতে। কিন্তু ভুলে গিয়েছিলাম। ছবি কী করে তৈরি হয়, তাও জানি না। তুমি এটা তৈরি করলে কী করে?”

    “তৈরি করা নয়, একে বলে আঁকা। এর জন্য রং লাগে আর তুলি।

    সেসব তোমাদের এখানে পাওয়া যায় না। আমি অনেক খুঁজেছি। কিন্তু কিছুদিন ধরেই ছবি আঁকতে বড্ড ইচ্ছে করছিল। তাই ঠিক করলাম নিজেই বানিয়ে নেব। জঙ্গল থেকে কাঠবিড়ালির লেজের লোম তুলে এনেছিলাম। তাই দিয়ে প্রথমে তুলি বানালাম। তারপর ভোলুর রান্নাঘর হাঁটকে নানা রংয়ের মশলা জোগাড় করে গুলে নিলাম। কিন্তু ছবিটা তোমার ভাল লেগেছে নয়ন?”

    নীলের কথাগুলো খুব মন দিয়ে শুনছিল না নয়ন। কারণ তার মাথার মধ্যে তখন ঘুরপাক খাচ্ছে অন্য চিন্তা। তাই খানিকটা অন্যমনস্কভাবে মাথা নাড়ে প্রথমটায়, তারপর কেমন যেন অদ্ভুত চোখে নীলের মুখের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বলে, “তোমাকে আজ কয়েকটা কথা জিজ্ঞেস করব, তুমি আমাকে সত্যি কথা বলবে তো?”

    “নিশ্চয়ই বলব। তুমি আমার বন্ধু নয়ন। আমি কখনও বন্ধুকে মিথ্যে বলি না।”

    “তুমি কি সত্যিই সব ভুলে গিয়েছ নীল? তোমার পরিচয় কিচ্ছুটি মনে নেই?”

    ধীরে-ধীরে মাথা নাড়ে নীল, “না, আমি কিছুই ভুলে যাইনি। এতদিন তোমাদের সবাইকে যা বলে এসেছি, সেটা সত্যি কথা নয়।” “তা হলে তুমি কে?”

    “সেটা আমি তোমাকে এখুনি বলতে পারব না নয়ন। তবে এটুকু বলতে পারি, আমার থেকে তোমার কোনও ভয় নেই। আমি তোমার কোনও ক্ষতি করব না। সত্যি কথা বলতে কী, কারও কোনও ক্ষতি করতেই আমি চাই না, করার ক্ষমতাও আমার নেই। তবে তুমি যদি আমার কাছে কোনও সাহায্য চাও, আমি চেষ্টা করব সেটা করতে।”

    নয়ন যেন দু’-এক মুহূর্ত কী ভাবে। তারপর নীলের চোখের দিকে তাকিয়ে বলে, “নীল তুমি কি একজন শিল্পী?”

    “হ্যাঁ, নিশ্চয়ই। আমি একজন আপাদমস্তক শিল্পী মানুষ।” “কী করে এত নিশ্চিত হচ্ছ তুমি?”

    “আমি শিল্পী বলেই তো তোমার আশপাশে যারা আছে, তাদের থেকে আমি এতটা আলাদা। তোমরা যেটা ভাবতেই পার না, তোমাদের স্কুল, কলেজ, বই, খাতা কোথাও যা নেই, তা আমি অনায়াসে করে ফেলি। কিন্তু শিল্পীর কথা তুমি কোথায় শুনলে নয়ন? তুমি কেন শিল্পীর খোঁজ করছ?”

    “আমার যে একজন শিল্পীকে বড্ড দরকার….”

    সেদিন প্রায় সারারাত জেগে মহীদাদুর কাছে শোনা সব কথা নীলকে খুলে বলে নয়ন। শুনতে-শুনতে কখনও রাগে মুখ শক্ত হয়ে যায় নীলের। কখনও দু‘চোখ উপচে জল পড়ে

    নীলের শরীরের কোষ থেকে ডি এন এ সংগ্রহ করেছে নয়ন। মহীদাদুর ফরমুলা অনুযায়ী বাকি আর সব উপাদানও জোগাড় করা হয়েছে। এবার সবকিছু মাপমতো মিশিয়ে অ্যান্টিডোট তৈরি করতে হবে। মুশকিল হচ্ছে নয়নের নিজের বাড়িতে কোনও ল্যাবরেটরি নেই। তার কাজের জায়গায় যদিও খুব উন্নতমানের ল্যাবরেটরি আছে। কিন্তু সেখানে নিজের মতো কিছু করাটা একটু বিপজ্জনক। যদিও নয়ন নিজে যেখানে কাজ করে, সেটা একেবারেই তার নিজের দখলে আর তাকে সন্দেহ করারও কোনও কারণ নেই, কিন্তু তবু সাবধান হওয়াই ভাল।

    সবদিক বিবেচনা করে নীলই বুদ্ধি দেয় নয়নকে, “তুমি বসকে জানাও যে, একটু নতুন ধরনের ওষুধ তৈরির চেষ্টা করছ। সেজন্য আপাতত কিছুদিন তোমাকে একটু বেশি সময় ল্যাবরেটরিতে থাকতে হবে। আমার মনে হয় অনুমতি পেতে অসুবিধে হবে না। বিকেলের পর ল্যাবরেটরি যখন ফাঁকা হয়ে যাবে তখন নিজের কাজ করবে।”

    বুদ্ধিটা মনে ধরে নয়নের। তবে একটু হেসে বলে, “বস যদি পরে জানতে চায় কাজ কতটা এগোল তখন?”

    “তখন বলবে এখনও তেমন কিছু এগোয়নি। কয়েকটা জায়গায় মনে হচ্ছে ভুল হয়েছে। আবার নতুন করে করছি। তবে আমার মনে হয় না কিছু জিজ্ঞেস করবে। তোমার বসের নিজে থেকে অত চিন্তা করার ক্ষমতাই নেই। উপরওয়ালারা কেউ না বললে খোঁজও নেবে না।”

    বন্ধুর কথামতোই এগোয় নয়ন। প্রথমে কয়েকদিন একটু বেশি রাত পর্যন্ত ল্যাবরেটরিতে কাজ করে বোঝার চেষ্টা করে কেউ তার উপর নজর রাখছে কি না। কিন্তু সেরকম কিছু চোখে না পড়ায় একটু একটু করে সব উপাদানগুলো নিয়ে গিয়ে ল্যাবরেটরিতে গুছিয়ে রাখে। তারপর একদিন সবার অলক্ষ্যে শুরু হয়ে যায় অ্যান্টিডোট তৈরির কাজ। ফরমুলা অনুযায়ী সব কিছু করতে সময় লাগে প্রায় দু‘সপ্তাহ। অ্যান্টিডোট তৈরি হওয়ার পর এবার সেটাকে মেশাতে হবে ট্যাবলেটের সঙ্গে। সে কাজটা বেশ কঠিন। কারণ ট্যাবলেটের অন্যান্য উপাদানগুলো যেখানে মেশানো হয়, সেখানে অনেক লোক কাজ করে। তা ছাড়া সেটা নয়নের নিজস্ব এলাকাও নয়। তাই ঘনঘন সেখানে গেলে সেটা চোখে পড়বেই।

    নয়ন তাই প্রথমে ট্যাবলেট তৈরির পদ্ধতিটা সম্বন্ধে ভাল করে খোঁজ নেয়। ট্যাবলেটগুলো তৈরি হয় পরপর অনেক ধাপে। বিভিন্ন পর্যায়ে বিভিন্ন উপাদান মাপমতো মেশানো হয়। তারপর একটা ফাইনাল মিক্সিংয়ের পর বাইরের কোটিংটা দিয়ে ফয়েলের ভিতর ভরে ফেলা হয়। সবটা জানার পর নয়ন ঠিক করে একেবারে ওই ফাইনাল স্টেজেই অ্যান্টিডোট মেশাবে সে। একটা সুবিধে আছে, ফাইনাল স্টেজের কাজটা যার তত্ত্বাবধানে হয়, সেই হেনরি বার্টের সঙ্গে নয়নের ভাল রকম পরিচয় আছে। তাই কথাবার্তা বলার অছিলায় ওখানে যাওয়া যাবে। আর দ্বিতীয়ত, সেটা হল ওই ফাইনাল স্টেজের পর আর কোনও টেস্টিং হয় না। আগের প্রতিটি ধাপেই মিক্সিংয়ের পর একবার করে টেস্ট করা হয়। সুতরাং এই স্টেজেই অ্যান্টিডোট মেশানোটা সবচেয়ে নিরাপদ। নয়ন খোঁজ নিয়ে আরও একটা জিনিস জানতে পারে যে, এই ফাইনাল মিক্সিংটা হয় মাসে একবার। দিনটাও নির্দিষ্ট। প্রতিমাসের তৃতীয় বুধবার হেনরির তত্ত্বাবধানে এই কাজটা চলে। ট্যাবলেট ফয়েলে প্যাকিংয়ের জন্য চলে যায় শুক্রবার।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআমি লিলি – লিলি চক্রবর্তী
    Next Article তেরোর ত্রাস – দীপান্বিতা রায়

    Related Articles

    দীপান্বিতা রায়

    তেরোর ত্রাস – দীপান্বিতা রায়

    August 26, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }