Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মহীদাদুর এন্টিডোট – দীপান্বিতা রায়

    দীপান্বিতা রায় এক পাতা গল্প106 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    মহীদাদুর এন্টিডোট – ৪

    একদম প্ল্যান মাফিক, সেই মাসের তৃতীয় বুধবারের প্রায় এক সপ্তাহ আগে নয়ন একদিন হেনরির ঘরে যায়। তার সঙ্গে নানা রকম গল্পটল্প করে জানায়, যে একটা নতুন প্রজেক্টের জন্য এই ট্যাবলেট তৈরির পদ্ধতিটা সম্বন্ধে তার জানা দরকার। কিন্তু যেহেতু তাদের ল্যাবরেটরির কাজের সঙ্গে এটার কোনও যোগ নেই, তাই হেনরি যদি তাকে সাহায্য করে তা হলে তার খুব উপকার হবে। আপত্তির কোনও কারণ নেই। হেনরি রাজি হয়ে যায় আর নয়নও মাসের তৃতীয় বুধবারে অ্যান্টিডোটের খুদি-খুদি ক্যাপসুলে ভরা শিশিটা জামার মধ্যে ভরে নিয়ে হাজির হয় হেনরির ঘরে।

    ফাইনাল মিক্সিংয়ের কাজ চলছে। স্বাভাবিকভাবেই হেনরি সেদিন একটু ব্যস্ত। তাই নয়ন তাকে বলে, “তুমি তোমার কাজ করো। আমি বরং আজ একটু পুরো ব্যাপারটা ঘুরে দেখি।”

    হেনরি খুশি হয়ে মাথা নেড়ে নিজের কাজে চলে যেতেই নয়ন এদিক সেদিক ঘুরতে ঘুরতে হাজির হয় ফাইনাল মিক্সিংয়ের মস্ত কন্টেইনারের কাছে। তারপর খুব সতর্কভাবে চারদিকটা দেখে নিয়ে অ্যান্টিডোটের ক্যাপসুলগুলো তার মধ্যে ফেলে দেয়। কন্টেইনারের মধ্যে অটোমেশনে সব উপাদান খুব দ্রুত মেশানোর কাজ চলছে। তাই কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ক্যাপসুলগুলো গুঁড়ো-গুঁড়ো হয়ে মিশে যায়। সেগুলোকে আলাদা করে চেনার আর কোনও উপায়ই থাকে না।

    পুরো কাজটা করে ফেলার পর বুকের ধড়ফড়ানি একটু কমলে নয়ন যতখানি সম্ভব স্বাভাবিক মুখে হেনরির টেবিলের কাছে এসে দেখে যে হেনরি ততক্ষণে ফিরে এসেছে, “কোথায় ছিলে তুমি? একটু সময় পাওয়া গিয়েছে। চলো একসঙ্গে দু‘কাপ কফি খেয়ে নেওয়া যাক।”

    কফির মাগটা নয়নের দিকে এগিয়ে দিয়ে বলে হেনরি। নয়নের তো অনেকক্ষণ ধরেই গলা-বুক শুকিয়ে কাঠ। তাই গরম কফির কাপে লম্বা একটা চুমুক দিয়ে খানিকটা ধাতস্থ হয়ে বলে, “আচ্ছা হেনরি, এই যে মিক্সিং হচ্ছে এর থেকে কত ওষুধ তৈরি হবে?”

    “বাচ্চাদের এই ট্যাবলেটগুলো তো খুবই ছোট-ছোট। একটা মিক্সিং কন্টেইনার থেকে মোটামুটি দশ লক্ষ ট্যাবলেট তৈরি হয়। তুমি জান কি না জানি না, সারা পৃথিবীতে মাত্র দুটো সংস্থা এই ট্যাবলেটটা তৈরি করে। আমরা আর নিউজিল্যান্ডের একটা কোম্পানি। তবে তাদের উৎপাদন আমাদের তুলনায় অনেকটাই কম।”

    হেনরির সঙ্গে আরও কিছুক্ষণ গল্প করে নিজের ঘরে ফিরে আসে নয়ন। তারপর সেদিন রাতে ভোলুকে সুইচড অফ করার পর নীলকে জড়িয়ে ধরে বলে, “মহীদাদুর স্বপ্ন আমি শেষ পর্যন্ত সফল করতে পারলাম নীল। পৃথিবীর অন্তত দশ লক্ষ শিশু স্বাভাবিক মানুষের জীবন ফিরে পাবে। ভাগ্যিস তোমার সঙ্গে দেখা হয়েছিল। না হলে তো এই কাজটা করতেই পারতাম না।”

    “দশ লক্ষটা কিন্তু পৃথিবীর জনসংখ্যার তুলনায় নেহাতই কম নয়ন। মহীদাদু চেয়েছিলেন পিউ-এর এই ষড়যন্ত্রের হাত থেকে মানুষকে বাঁচাতে। যদি সত্যিই সেটা করতে হয়, তা হলে কিন্তু তোমার এইটুকুতেই সন্তুষ্ট হলে চলবে না,” নীলের কথায় সায় দিয়ে মাথা নাড়ে নয়ন।

    পরপর ছয় মাস, প্রতি তৃতীয় বুধবারে নানা অজুহাতে হেনরির ঘরে গিয়ে কন্টেইনারে অ্যান্টিডোটের ক্যাপসুল মিশিয়ে আসে নয়ন। হেনরির সঙ্গে ইতিমধ্যে তার বেশ ভাবও হয়ে গিয়েছে। তাই সে কোনও সন্দেহ করেনি। কিন্তু তবু সাবধানতার জন্য মাঝখানে মাস তিনেক কাজটা বন্ধ রাখে নয়ন। ইচ্ছে করেই বুধবার বাদ দিয়ে অন্যদিনে হেনরির ঘরে যায়। বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলে। তথ্য সংগ্রহের ভান করে। তারপর আবার পরপর ছয় মাস লুকিয়ে কন্টেইনারে অ্যান্টিডোটের ক্যাপসুল মিশিয়ে দেয়।

    “মহীদাদুর ফরমুলা অ্যান্টিডোট তো মেশালাম। কিন্তু তাতে আদৌ কোনও কাজ হবে কি?”

    নয়নের প্রশ্নটা শুনে নীল একটু আশ্চর্য হয়ে বলে, “তোমার এরকম সন্দেহ হচ্ছে কেন?”

    “তার কারণ, মহীদাদু ফরমুলাটা তৈরি করেছিলেন। ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষাও করেছিলেন। কিন্তু মানুষের শরীরে প্রয়োগ করে তো দেখতে পারেননি। তাই সেখানে যদি কোনও সমস্যা হয়ে যায়?”

    “সেক্ষেত্রে আমাদের কিছু করার নেই। যদিও তোমার কাছে যা শুনেছি, তাতে আমার মনে হয় না ওঁর মতো বড় মাপের একজন বিজ্ঞানী বিষয়টা সম্বন্ধে একদম নিশ্চিত না হয়ে তোমাকে এরকম একটা কাজের দায়িত্ব দেবেন।”

    “মুশকিলটা কী বলো তো নীল, অ্যান্টিডোটটা কাজ করছে কি না, সেটা বোঝার আমার কোনও উপায় নেই। কারণ যেসব বাচ্চার শরীরে এটা যাচ্ছে, তাদের ডি এন এ যদি আগের অবস্থায় ফিরেও আসে, তা হলেও তো আমি সেটা জানতে পারব না।”

    “আমার মনে হয় তুমি জানতে পারবে। তবে সেই জানাটা তোমার পক্ষে কতটা বিপজ্জনক হবে সেটা বলতে পারছি না। তাই সেই ভাবনাটা আপাতত তুলে রেখে যত বেশি সম্ভব বাচ্চার শরীরে অ্যান্টিডোট পাঠানো যায় সেই কাজটা করাই ভাল। অবশ্যই যতটা সম্ভব সাবধানে। কোনওমতেই যেন কারও সন্দেহ না হয়।”

    অস্ট্রিয়ার বাকাও ভ্যালি। দানিয়ুব নদীর ধারে আঙুরের খেত। সোনালি রোদে ভেসে যাচ্ছে চারদিক। একপাশে একটা পুরনো দুর্গ। আসলে অবশ্য দুর্গ নয়, অনেকটা দুর্গের ধাঁচে তৈরি একটা ভিলা। পাঁচিলের গা বেয়ে উঠেছে আঙুরলতা। থোকা থোকা কালো আঙুর ফলে আছে তাতে। ভিলার ভিতরে একটা ঘরে, লম্বাটে টেবিলের চারপাশে বসে আছেন বেশ কয়েকজন মানুষ। অমন সুন্দর একটা পরিবেশে থাকা সত্ত্বেও তাঁদের কারও মুখে কিন্তু হাসি নেই, বরং কপালে ভয়ংকর দুশ্চিন্তার ভ্রুকুটি। এখানে যাঁরা রয়েছেন তাঁরা সকলেই পিউ-এর সর্বোচ্চ কমিটির মেম্বার। প্রেসিডেন্টের অত্যন্ত জরুরি তলব পেয়ে সকলকে হাজির হতে হয়েছে। পিউ-এর এখন যিনি প্রেসিডেন্ট তাঁর নাম ক্রিস্টাল ক্রেটন। ডেনমার্কের বাসিন্দা। রোগা, লম্বা, খড়গনাসা, রূপোলী চুল। অন্য সদস্যদের মধ্যে দু‘জন বিজ্ঞানী আছেন। তাদের একজন হলেন মুসায়া মাব্বা, তিনি পেরুর লোক। অন্যজন কৃষ্ণ উডুগু, যাঁর বাড়ি শ্রীলঙ্কায় হলেও ইদানীং থাকেন কানাডায়।

    ক্রেইন অভ্যেসমতো হাতের আঙুলের গাঁটগুলো বারকয়েক টেবিলে ঠুকে বললেন, “ডিয়ার মেম্বার্স, আমি এতটাই চিন্তিত যে কথাটা কীভাবে শুরু করব সেটাই বুঝতে পারছি না। আমাদের পারফেক্ট ইউনিভার্স প্রজেক্ট আজ একটা সাংঘাতিক বিপদের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে। আমরা এতদিন ধরে বহু চেষ্টায় মানুষের সব রকম অপ্রয়োজনীয় ইচ্ছে এবং চিন্তাভাবনাকে ছেঁটে ফেলার একটা ব্যবস্থা করেছিলাম। এর ফলে মানবসভ্যতা অনেক উন্নত হয়েছে। মানুষ এখন অনেক বেশি কাজ করতে পারে। কল্পনা কিংবা অবাস্তব চিন্তাভাবনা করে সময় নষ্ট করে না। আমরা যারা পৃথিবীটাকে চালাই, তারা সবদিক বিবেচনা করে যেসব সিদ্ধান্ত নিই, সেগুলোই তারা মেনে নেয়। প্রতিবাদ করার কিংবা নিজেদের খুশিমতো চলার ইচ্ছেও তাদের হয় না। এর ফলে আপনারা সবাই নিশ্চয়ই স্বীকার করবেন যে সারা বিশ্বে এখন পরিপূর্ণ শান্তি বিরাজ করছে। কোনও রকম হিংসা, হানাহানি, যুদ্ধ, বিদ্রোহ, বিপ্লব কিছুই এখন আর হয় না। কিন্তু এই শান্তি অনেকের সহ্য হচ্ছে না। তারা মানুষ, নাকি এই সৌরজগতের বাইরের কোনও প্রাণী আমি এখনও জানি না। কিন্তু তারা যে একটা গভীর ষড়যন্ত্র করছে সেটা আমরা বুঝতে পেরেছি।

    “ঘটনার সূত্রপাত ঠিক এক বছর আগে। পিউ-এর একদম নিচু স্তরের যারা সদস্য, তাদের মধ্যে কয়েকজন একটা ভারী আশ্চর্যজনক খবর আমাদের দেয়। আমরা মানে আমি এবং আমাদের দুই ভাইস প্রেসিডেন্ট কিম আর টিমোথিই প্রথমে কথাটা শুনি। খবরটা হল ইদানীং জাপানের কিছু জায়গায় বাচ্চাদের মধ্যে অদ্ভুত ধরনের প্রবণতা দেখা দিচ্ছে। তারা তাদের যে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে সেটা সব সময় মানতে চাইছে না। শুধু তাই নয় তারা নাকি ছবি আঁকছে, গান গাইছে, বানিয়ে-বানিয়ে গল্প বলছে। বুঝতেই পারছেন কথাটা শুনে আমাদের প্রথমে বিশ্বাস হয়নি। কারণ এই বাচ্চাদের সবারই ডি এন এ কারেকশন হয়েছে। তারপর এই ধরনের প্রবণতা থাকার কোনও আশঙ্কাই নেই। তাই আমরা বিষয়টাকে প্রথমে তেমন গুরুত্বও দিইনি। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ফ্রান্স, জার্মানির মতো অনেক দেশ থেকেই এরকম খবর আসতে শুরু করে এবং আমরা যথাযথভাবে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি প্রতিটি খবরই সত্যি।

    “বিপদের গুরুত্ব আঁচ করে মাস ছয়েক আগে আমি, কিম আর টিমোথি একটা মিটিং করি। আমাদের মনে হয়েছিল এর পিছনে একটাই কারণ থাকতে পারে। কোনও কারণে এইসব বাচ্চাদের ডি এন এ কারেকশন ঠিকঠাক হয়নি। যাঁরা কাজটা করেছেন তাঁদের কাজে গাফিলতি ছিল। সেক্ষেত্রে তাদের জন্য যে কড়া শাস্তির ব্যবস্থা হবে সেটাও আমরা ভেবে নিয়েছিলাম। কিন্তু তার আগে ব্যাপারটা সম্বন্ধে নিশ্চিত হওয়া দরকার ছিল। আজ আমাদের মধ্যে ডঃ মাব্বা আছেন। উনি জানেন যে এই পর্যায়ে আমরা ওঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম। আমাদের উদ্দেশ্য ছিল গণ্ডগোলটা বুঝতে বাচ্চাগুলোর ডি এন এ পরীক্ষা করে দেখা। পিউ-এর কয়েকজন চিকিৎসক সদস্যের সাহায্যে আমরা যেসব শিশুকে অস্বাভাবিক বলে চিহ্নিত করা গিয়েছে, তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের ডি এন এ সংগ্রহ করি। মাব্বা নিজে তাঁর ল্যাবরেটরিতে সেগুলো টেস্ট করেন। তার যা ফল এসেছে সেটা দেখেই আমরা আতঙ্কিত হয়ে আপনাদের সকলকে আজকের মিটিংয়ের জন্য ডেকেছি।”

    প্রেসিডেন্টের কথা শুনে পিউ-এর সদস্যদের মুখে স্বাভাবিকভাবেই বিস্ময় এবং আশঙ্কার ছাপ ফুটে উঠল। ওদেরই মধ্যে একজন অ্যানা গিনেসবার্গ আর নিজেকে সামলাতে না পেরে জিজ্ঞেস করলেন, “ডি এন এ পরীক্ষায় আপনারা কী পেলেন ক্রিস্টাল?”

    “পরীক্ষায় জানা গিয়েছে ওদের কারোরই কোনও রকম ডি এন এ কারেকশন হয়নি। একজন স্বাভাবিক মানুষের ডি এন এ যেমন থাকে, ওদেরও ঠিক তেমনই আছে। বুঝতেই পারছ সেজন্যই ওরা একজন পারফেক্ট ইউনিভার্সের শিশুর যেমন ব্যবহার করা উচিত তেমন ব্যবহার করছে না।”

    “কী সর্বনাশ, তার মানে ওদের ডি এন এ কারেকশন হয়নি?” “আমাদের কম্পিউটার ডেটা বলছে অবশ্যই হয়েছে। অপারেশনের

    পর কারেকটেড ডি এন এ-এর ছবিও আমাদের কাছে রয়েছে।” “তা হলে কী করে এটা সম্ভব হল?”

    “সেটাই তো আমরা বুঝতে পারছি না। কারেকশন হয়ে যাওয়া ডি এন এ আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরল কী করে? বাচ্চাদের মাবাবাকে অন্যভাবে জিজ্ঞেসবাদ করা হয়েছে। তাঁরা কিছুই জানেন না। যেসব ডাক্তারদের কাছে তাঁরা বাচ্চাকে নিয়ে যান, তাঁরাও কিছু বলতে পারেননি…” হতাশ ভঙ্গিতে মাথা নাড়েন ক্রিস্টাল। তাঁকে চুপ করতে দেখে কিম বলেন, “আপনারা বুঝতে পারছেন নিশ্চয়ই যে পরিস্থিতি কতটা উদ্বেগজনক। কারণ শিশুদের কিছু করার ক্ষমতা আমাদেরও নেই। পৃথিবীতে এখন শিশুমৃত্যুর হার শূন্য। অথচ এই বাচ্চাগুলো যদি বড় হয়, তা হলে পারফেক্ট ইউনিভার্সের ব্যাল্যান্সটাই পুরো নষ্ট হয়ে যাবে।”

    টিমোথি এতক্ষণ চুপ করে দুজনের কথা শুনছিলেন। এবার তিনি তাঁর স্বাভাবিক শান্ত কিন্তু স্পষ্ট উচ্চারণে কেটে-কেটে বলেন, “ সবচেয়ে সাংঘাতিক ব্যাপার হচ্ছে যে আমাদের হাতে এখনও পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনও তথ্য নেই। আমরা জানি না যতজন বাচ্চাকে আমরা আইডেন্টিফাই করতে পেরেছি, তার বাইরে আরও কত এরকম বাচ্চা আছে। এও জানি না সেই সংখ্যাটা প্রতিদিন বাড়ছে কি না ৷ ঘটনাটা কীভাবে ঘটছে বুঝতে পারা যাচ্ছে না বলেই, এটাকে কী করে নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে সেটাও আমরা বুঝতে পারছি না। আসলে ক্রিস্টাল আপনাদের সকলকে আজ এজন্যই ডেকেছেন, যাতে আমরা সবাই মিলে আলোচনা করে কীভাবে এগোব তার একটা রাস্তা ঠিক করতে পারি।”

    পিউ-এর অন্য মেম্বাররা সকলেই এতক্ষণ খুব মন দিয়ে এঁদের কথা শুনছিলেন। সকলেরই মুখে চোখে গভীর চিন্তার ছাপ স্পষ্ট। নিজের কফির কাপে একটা লম্বা চুমুক দিয়ে ক্রিস্টাল বললেন, “ডঃ মাব্বা, একজন বিজ্ঞানী হিসেবে আপনার কী মনে হয়, কীভাবে এটা হতে পারে? আপনি তো নিজে ডি এন এ টেস্ট করেছিলেন। ডঃ উডুগু আপনারই বা কী মত?”

    ডঃ মাব্বা চিন্তিত মুখে তাঁর হাতে ধরা পামটপে খুটখাট করছিলেন। এবার সেটা সরিয়ে রেখে বললেন, “দেখুন, গত কয়েকদিন ধরেই আমি এই বিষয়টা নিয়ে ক্রমাগত পড়াশোনা এবং খোঁজখবর করে যাচ্ছি। ডি এন এ কারেকশন একবার হয়ে যাওয়ার পর আবার সেটাকে আগের জায়গায় ফিরিয়ে আনার কোনও পদ্ধতি এখনও পর্যন্ত আবিষ্কার হয়নি। কোনও দেশেই কেউ এবিষয়ে নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা গবেষণাও করছে না। করলে সেটা আমরা ঠিকই জানতে পারতাম। আর তেমন করার কোনও কারণও নেই। ডি এন এ কারেকশনে ঠিক কী হচ্ছে সেটা আমরা পিউ-এর এই কয়েকজন মেম্বার ছাড়া আর কেউই জানি না। কিন্তু তা হলে কি আমরা ধরে নেব ঘটনাটা প্রাকৃতিক, আপনা থেকেই ঘটেছে?”

    কিম-এর কথার উত্তরে মাথা নাড়লেন ডঃ উডুগু, “না, প্রাকৃতিকভাবে এটা হওয়া সম্ভব নয়। অন্তত এত তাড়াতাড়ি তো নয়ই। কোনও কারণ নিশ্চয়ই আছে। সেটাকে আমাদের খুঁজে বের করতে হবে।”

    “এতক্ষণ ধরে আলোচনাটা কিন্তু একই জায়গায় ঘুরপাক খাচ্ছে, ” বেশ একটু বিরক্ত গলায় কথাটা বললেন জার্মানির জন গ্র্যান্ডি, “কেন হল সেটা যদি এখন বোঝা নাও যায়, কীভাবে হচ্ছে সেটা বোঝার তো চেষ্টা করতে হবে, যাতে আমরা অন্তত ব্যাপারটাকে কন্ট্রোল করতে পারি।”

    মার্ক চাগাল টার্কির একজন খুব নামকরা চিকিৎসক। তিনি একটু অতিরিক্ত চুপচাপ মানুষ। সহজে কথা বলেন না। কিন্তু আজ পরিস্থিতি খুবই জটিল। মার্ক তাই সামান্য গলা খাঁকারি দিয়ে বললেন, “আমরা বুঝতে পারছি যে ঘটনাটা প্রাকৃতিক নয়। লজিক্যালি দেখলে, সেক্ষেত্রে বাচ্চাদের শরীরে এমন একটা কিছু ঢুকেছে যা ডি এন এ-এর চেহারাটা আগের অবস্থায় ফিরিয়ে এনেছে, মানে সোজা কথায় বলতে গেলে একটা কোনও অ্যান্টিডোট ওদের শরীরে গিয়েছে। এখন সেটা কেউ সচেতনভাবে করেছে নাকি কোনোভাবে চলে এসেছে সেটা আমরা পরে খোঁজ নিয়ে দেখব। কিন্তু আমার মনে হয় আগে বোঝা দরকার কীভাবে এটা শরীরে ঢুকছে। সাধারণত এই দুটো পদ্ধতিতে শরীরে অ্যান্টিডোট ঢোকার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে। প্রথমত খাবার আর দ্বিতীয়ত ওষুধ।”

    “এগজ্যাক্টলি সো…” মার্কের কথায় সায় দিয়ে বলে উঠলেন আর এক সদস্য সিহান নঈম।

    সিহানের দিকে তাকিয়ে সামান্য মাথা নেড়ে মার্ক বললেন, “ঘটনাটা শুধু বাচ্চাদের ক্ষেত্রেই ঘটেছে। এখনও পর্যন্ত বড়দের ক্ষেত্রে এরকম কোনও কিছু আমাদের রাডারে ধরা পড়েনি। তার মানে খাবার এবং ওষুধ যা শুধু বাচ্চাদের জন্য ব্যবহার করা হয় সেগুলো প্রথমে পরীক্ষা করা দরকার। ক্রিস্টাল, কোনও বিশেষ অঞ্চলের শিশুদের মধ্যেই এরকম হচ্ছে বলে কি আপনাদের মনে হয়েছে?”

    মাথা নেড়ে ক্রিস্টাল বললেন, “উঁহু, একমাত্র নিউজিল্যান্ড আর তার আশপাশের কয়েকটা দেশ থেকে এখনও কোনও খবর আসেনি। যদিও আমার ধারণা ওখানে পিউ-এর গ্রাউন্ড লেভেলের যেসব কর্মী আছেন তাঁরা বিপদ সম্বন্ধে যথেষ্ট সচেতন নয় বলেই এটা হয়েছে। এছাড়া পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই আমরা এই ধরনের এক বা একাধিক বাচ্চাকে আইডেন্টিফাই করেছি।”

    “তবু এটা নোট রাখা দরকার। নিউজিল্যান্ড বা তার আশপাশের দেশের বাচ্চার কী ধরনের খাবার খায় আর ওষুধ ব্যবহার করে সেটা আমাদের একটা সার্ভে করে দেখতে হবে।”

    “তা হলে আমাদের প্রথম পদক্ষেপ হবে বাচ্চাদের রোজকার খাবার আর ওষুধ পরীক্ষা করে দেখা, তাতে কোনও ধরনের কোনও অ্যান্টিডোট বা অপরিচিত এলিমেন্ট দেখতে পাওয়া যায় কি না। আমার মনে হয় ডঃ মাব্বা আর মার্কের লিডারশীপে আমরা এই কাজটা করি। আমি সারা বিশ্বের সব পিউ-এর এজেন্টকে বলে দিচ্ছি তার এলাকায় বাচ্চাদের যে খাবার আর ওষুধ ব্যবহার হয়, সেটা অ্যানালাইসিস করে ডঃ মাব্বা আর মার্কের কাছে রিপোর্ট পাঠাতে। এর জন্য আমরা একটা ছয় মাসের টার্গেট ঠিক করছি। ঠিক ছ’মাস বাদে আমরা ওই রিপোর্টগুলো নিয়ে এখানেই আবার মিটিংয়ে বসব। যদি কিছু পাওয়া যায়, তা হলে তার উপর ভিত্তি করে পরের পদক্ষেপ ঠিক হবে। আর না পাওয়া গেলে আবার অন্যভাবে চিন্তাভাবনা করতে হবে।”

    “আজ একটা বেশ অদ্ভুত ব্যাপার হয়েছে।”

    রাতের খাবার খেয়ে, ভোলুকে সুইচড অফ করে বসেছে দুই বন্ধু। নীল কয়েকদিন আগেই বলেছে যে সে বাঁশিতে একটা খুব সুন্দর গানের সুর তুলেছে, সেটা নয়নকে শোনাবে। কিন্তু নয়নের একটা নতুন প্রজেক্টের কাজ চলছে বলে অনেক রাত পর্যন্ত লেখাপড়া আর কম্পিউটার নিয়ে খুটখাট করতে হচ্ছে। সময় আর পাচ্ছে না। নীল তাই একটু মনমরাই ছিল। কিন্তু নয়নের মুখে কথাটা শুনে একটু নড়েচড়ে বসে জিজ্ঞেস করল, “এত ব্যস্ততার মধ্যে আবার অদ্ভুত কী ঘটল ?”

    “আরে, আজ দুপুরে কাজ করতে করতে ক্লান্ত লাগছিল। আমার ল্যাবের কফি মেশিনটা গোলমাল করছে। তাই কাফে কর্নারে গিয়েছিলাম এক কাপ কফি খেতে। দেখি সেখানে এক মাগ হট চকোলেট নিয়ে হেনরি বসে আছে ভারী উদাস মুখে। ওরা তো আর তোমার মতো কবিতা-টবিতা লেখে না, তাই হেনরির অমন পাঁশুটে মার্কা মুখ দেখে আমি তো অবাক। ছেলেটা এমনিতে বেশ হাসিখুশি। আর তুমি তো জান, গত পাঁচ-ছয় বছর ধরে ইচ্ছে করেই আমি ওর সঙ্গে বেশ খানিকটা ঘনিষ্ঠতা করেছি। না হলে তো আমার মাঝেমাঝে ওর ল্যাবে যাওয়াটা সন্দেহজনক হয়ে যেত। তবে হেনরি কিন্তু আমাকে বেশ পছন্দই করে। তাই আজ ওকে ওরকমভাবে বসে থাকতে দেখে আমি নিজেই গিয়ে ওর সামনে বসলাম। প্রথমে দু‘চারটে এমনি মামুলি কথাবার্তা হল। তারপর ও যা বলল, শুনে তো আমি অবাক।

    “রহিম শাহ, মানে ওর বস নাকি আজ পুরো টিমকে ডেকে পাঠিয়েছিল। ওদের ওষুধ নিয়ে কমপ্লেন এসেছে। ওষুধ ঠিকমতো কাজ করছে না। তাই আপাতত কিছুদিনের জন্য ওষুধ বাইরে পাঠানো বন্ধ থাকবে। প্রোডাকশনও স্লো করে দেওয়া হবে। স্টোরে যে ওষুধ রয়েছে সেগুলো আর একবার পরীক্ষা করে রিপোর্ট ঠিক থাকলে তবে এক্সপোর্ট হবে। রহিম শাহ নাকি বেশ কড়াভাবে হেনরিকে কথাগুলো বলেছে। স্বাভাবিকভাবেই হেনরি বেশ আপসেট।”

    “অদ্ভুত ব্যাপার তো। হেনরি কী বলল, ও নিজে এরকম একটা অভিযোগের কী উত্তর দিয়েছে?”

    “এরা তো খুব জোর দিয়ে কিছু বলতে পারে না। তবে হেনরি এটা বলেছে যে ওষুধে সমস্যা হওয়াটা খুব অস্বাভাবিক। কারণ সবকিছু ফরমুলা মেনে করা হয়। প্রত্যেক স্টেজে আলাদা টেস্টিংয়ের ব্যবস্থা আছে। ও রহিম শাহের কাছে জানতে চেয়েছে যে কী ধরনের কমপ্লেন এসেছে। কিন্তু রহিম শাহ নাকি তার কোনও উত্তর দেয়নি। শুধু বলেছে উপরমহল থেকে ওকে এটা জানানো হয়েছে, তাই সবাইকে ভীষণ রকম অ্যালার্ট হতে হবে, না হলে বিপদ হতে পারে।”

    নীল একটু চুপ করে কী যেন ভাবে, তারপর হঠাৎ জিজ্ঞেস করে, “নয়ন তুমি প্রথমবার যে ওষুধে অ্যান্টিডোট মিশিয়েছিলে সেটা ঠিক কত বছর হল?”

    নীলের কথায় চমকে ওঠে নয়ন। মনে-মনে একটু হিসেব করে বলে, “ঠিক ছ’বছর।”

    “মহীদাদুর ওষুধ কাজ করছে নয়ন। তুমি সাবধান হও।”

    “কী করে বুঝলে তুমি?” উত্তেজনায় নয়নের গলা প্রায় বন্ধ হয়ে আসছে।

    “বুঝেছি বলব না। অনুমান বলতে পার। তবে অনুমানটা মনে হয় ভুল নয়। বাচ্চাদের স্বভাবে বদল হচ্ছে। সেই বদলের কথাটা পিউ জানতে পেরেছে। জানার পর তার কারণ খুঁজতে শুরু করে হেনরির ল্যাবরেটরি পর্যন্ত কিন্তু পৌঁছে গিয়েছে ওরা। তার মানে গোলমালের কারণটা যে ওষুধ, সেটা এখন ওরা জানে…”

    “কিন্তু হেনরির ল্যাবে গোলমালটা হচ্ছে বুঝলেও ওরা আমাকে চিহ্নিত করবে কী করে?”

    “একটা কথা ভুলে যেয়ো না নয়ন, মহীদাদু কিন্তু বলেছিলেন পিউ-এর হাত যে কত লম্বা তোমাদের কোনও ধারণা নেই।”

    নীলের অনুমান অনেকটাই ঠিক। বাস্তবিকই পিউ-এর হাত অনেকটাই লম্বা। বাকাও ভ্যালিতে সেই বৈঠকের পর পিউ-এর সব স্তরের কর্মীদের কাছেই অ্যালার্ট মেসেজ যায়। সেই মেসেজ অনুযায়ী প্রত্যেকেই তাদের নিজেদের এলাকায় বাচ্চাদের জন্য যেসব খাবার আর ওষুধ বাজারে বিক্রি হয় তার স্যাম্পল টেস্টিং শুরু করে।

    রিপোর্টগুলো আসতে থাকে ডঃ মাব্বা আর মার্কের কাছে। বেশ কিছু রিপোর্ট আসার পর সন্দেহটা প্রথমে হয় ডঃ মাব্বারই। তিনি লক্ষ করেন, জন্মের পর প্রথম পাঁচ মাস বাচ্চারা যেসব ওষুধ খাচ্ছে, তার মধ্যে নেভিটা নামের একটি ওষুধে একটা অজানা এলিমেন্ট রয়েছে। ডঃ মাব্বা সঙ্গে সঙ্গে মার্ককে ব্যাপারটা জানান। তিনিও রিপোর্টগুলো পরীক্ষা করে ডঃ মাব্বার সঙ্গে একমত হন। কিন্তু ল্যাবরেটরিতে অনেক রকম পরীক্ষা করেও এলিমেন্টটা যে কী সেটা বোঝা যায় না। তবে দু‘জনে মিলে পৃথিবীর কোন-কোন জায়গায় এই ধরনের ওষুধ বিক্রি হচ্ছে তার একটা তালিকা তৈরি করেন। তাতে দেখা যায় নিউজিল্যান্ড এবং তার আশপাশের কয়েকটা দেশ বাদ দিলে প্রায় সব দেশের রিপোর্টেই এই অজানা এলিমেন্টের অস্তিত্ব রয়েছে। ছয় মাস পরে পিউ-এর মিটিংয়ে তাঁরা যা জেনেছেন এবং বুঝেছেন সেটা পুরোটাই ব্যাখ্যা করেন ডঃ মাব্বা।

    “আপনারা কি মনে করছেন যে এই এলিমেন্টটাই ডি এন এ-কে আবার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনছে?”

    “সেটা নিশ্চিতভাবে বোঝার কোনও উপায় নেই ক্রিস্টাল। কারণ ল্যাবে এই এলিমেন্টটা বিশ্লেষণ করে আমরা এটুকু বুঝতে পেরেছি ডি এন এ তৈরি করতে যেসব উপাদান লাগে, সেগুলো এটার মধ্যে আছে। এছাড়া বাকি যেসব উপাদান রয়েছে সেগুলোও অধিকাংশই আমাদের চেনা। তাই মার্কের এক পেশেন্টের ডি এন এ নিয়ে সেই বেসিক কম্পোনেন্টের সঙ্গে অন্য উপাদানগুলো মিশিয়ে আমরা এলিমেন্টটা তৈরি করেছিলাম। তারপর ল্যাবে একটা কারেকশন করা ডি এন এ-এর উপর সেটাকে অ্যাপ্লাইও করি। কিন্তু তাতে কোনও কাজ হয়নি। কারেকশন করা ডি এন এ আগের অবস্থাতেই ছিল। কোনও বদল হয়নি। তার মানে আমি বলতে চাইছি এই অজানা এলিমেন্টটা যে আসলে অ্যান্টিডোট, তার কোনও প্রমাণ কিন্তু এখনও পর্যন্ত আমরা পাইনি।”

    “তা হলেও কিন্তু সন্দেহটা একেবারেই যাচ্ছে না ডঃ মাব্বা। বরং বিষয়টা আরও জটিল হচ্ছে,” টিমোথির গম্ভীর গলায় রীতিমতো উদ্বেগের ছাপ, “প্রথমত এই অজানা এলিমেন্টটা ওষুধে এলো কী করে? ওষুধ তৈরির সময় প্রত্যেক স্টেপে পরীক্ষা করা হয়। আপনারা আমাকে সন্দেহের কথাটা জানানোর পর আমি সেইসব রিপোর্ট আনিয়ে পরীক্ষা করেছি। কিন্তু তাতে এরকম কোনও এলিমেন্টের উল্লেখ নেই। তা হলে ওটা ওষুধের মধ্যে গেল কী করে?”

    “তার থেকেও আমার মতে এখন যেটা গুরুত্বপূর্ণ সেটা হল সারকামস্ট্যানসিয়াল এভিডেন্স মানে পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিচার করে একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছনো।”

    “আপনি কি বলতে চাইছেন ডঃ উডুগু?” জানতে চায় ক্রিস্টাল। “ভেরি সিম্পল। আমাদের সার্ভে থেকে এটা পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে, যে সব অঞ্চলের বাচ্চারা এই ওষুধটা খাচ্ছে তাদের মধ্যেই পরিবর্তনটা হচ্ছে। অন্য কোনও খাবার বা ওষুধে অজানা কিছু পাওয়া যায়নি। যে-যে অঞ্চলের ওষুধে এই এলিমেন্ট নেই, সেখানে বাচ্চাদের কোনও বদলও হয়নি। তার মানে আমরা কিছু খুঁজে পাই বা না পাই বদলটা হওয়ার পিছনে ওই এলিমেন্টের কোনও একটা ভূমিকা আছে। তাই আগে আমাদের বাচ্চারা যাতে আর এই ওষুধটা না খায় সেটার ব্যবস্থা করা দরকার।”

    “সেটা আমরা শুরু করেছি ডঃ উড়ুগু। ডঃ মাব্বা তাঁর সন্দেহের কথাটা আমাদের জানানোর সঙ্গে-সঙ্গেই যে ল্যাবরেটরিতে এই ওষুধগুলো তৈরি হয়েছিল, সেখানে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে স্টোর থেকে কোনও ওষুধ যেন এক্সপোর্ট করা না হয়। প্রোডাকশন বন্ধ করা হয়নি ঠিকই কিন্তু অনেকটাই কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। তা ছাড়া যারা ওই ওষুধ তৈরির সঙ্গে যুক্ত তারা সকলেই এখন কড়া নজরদারির অধীনে। তাদের প্রত্যেকের মনোবাহী মনিটর করা হচ্ছে। প্রত্যেকের বাড়িতে যে রোবট কাজ করে, তার হার্ড ডিস্কে একটা স্পেশাল চিপ ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমাদের মেম্বাররা নিজে ওদের সকলের বাড়িতে গিয়ে সার্ভিসিং কিংবা ব্যাটারি বদলানোর নাম করে এই কাজটা করে এসেছেন। তার ফলে এই লোকগুলো যখন বাড়িতেও থাকছে তখন কী করছে, কার সঙ্গে কথা বলছে সব কিছু আমরা নজর রাখতে পারছি।”

    “মনিটর করে কী আমরা এখনও পর্যন্ত কোনও ব্লু পেয়েছি?” টিমোথিকে জিজ্ঞেস করলেন ইজরায়েলের ম্যাক্স অ্যালেন।

    “দুর্ভাগ্যের বিষয় এখনও পর্যন্ত কিছু পাওয়া যায়নি। আমাদের সন্দেহের তালিকায় একদম প্রথমে যে লোকটি রয়েছে তার নাম হেনরি বার্ট। কারণ তার তত্ত্বাবধানেই ওষুধটা তৈরি হয়। একদম ফাইনাল স্টেজের সুপারভাইজারও সে নিজেই। হেনরিকে আমরা সবচেয়ে বেশি সন্দেহ করছি এই কারণেই যে আমরা জানতে পেরেছি ফাইনাল মিক্সিংয়ের পর আর কোনও টেস্টিংয়ের ব্যবস্থা নেই। এখান থেকে মিশ্রণটা সরাসরি ট্যাবলেট মেকিংয়ের স্টেজে চলে যায়। তার মানে কোটিং দিয়ে ফয়েলে ভরে ফেলা হয়। সুতরাং বুঝতেই পারছেন এই স্টেজে যদি কিছু মেশানো হয়, তা হলে সেটা মনিটর না হয়েই ট্যাবলেটে চলে যাবে। আর সেই কাজটা করার সুযোগ আছে একমাত্র হেনরি বার্টের। হেনরিকে কড়া নজরদারিতে রাখা হয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনও তথ্যই পাওয়া যায়নি।”

    “আপনার কি মনে হয় হেনরি নিজে এই অ্যান্টিডোট তৈরি করেছে এবং সেটা সে ফাইনাল মিক্সিংয়ের সময় মিশিয়ে দিচ্ছে?”

    ম্যাক্সের কথা শুনে খুব ধীরে-ধীরে মাথা নাড়লেন ক্রিস্টাল, “আমার মনে হয় না। একেবারেই মনে হয় না। হেনরি বার্টের পুরো বায়োডাটা আমি দেখেছি। ওর ডি এন এ কারেকশন করা আছে। একজন ডি এন এ কারেকশন করা মানুষের পক্ষে এরকম সাংঘাতিক অ্যান্টিডোট আবিষ্কার করাই সম্ভব নয়। হেনরি যে কাজটা করে তার জন্য অফিশিয়ালি আমরা ওকে বিজ্ঞানী বলি, কিন্তু আসলে ও একজন খুব সাধারণ মানের কর্মী। ট্যাবলেট তৈরি করার পদ্ধতিটা হেনরি খুব ভাল করে জানে আর সেটাই নিখুঁতভাবে করতে পারে। তাই এটাও আমাদের কাছে একটা বিরাট প্রশ্ন যে, হেনরি যদি কাজটা করেও থাকে এলিমেন্টটা ও পেল কোথা থেকে আর কীভাবেই বা পেল?”

    “এখানে আমি একটা কথা বলতে চাই,” ডঃ উডুগুর কথা শুনে তার দিকে ঘুরে তাকান ক্রিস্টাল, “একজন বিজ্ঞানী হিসেবে আমি মনে করি, এই এলিমেন্টটা যদি সত্যিই অ্যান্টিডোট হয়, তা হলে এটা তৈরি করার জন্য, ডি এন এ নিয়ে যে ধরনের জ্ঞান এবং গবেষণা দরকার, সেটা করার ক্ষমতা এই মুহূর্তে পৃথিবীতে কারও নেই। অন্য গ্রহের কোনও প্রাণী এসে যদি করে থাকে, তা হলে অবশ্য সেটা আমার পক্ষে জানা সম্ভব নয়।”

    “আমিও ডঃ উডুগুর সঙ্গে একমত,” বললেন ডঃ মাব্বা, “তবে এক্ষেত্রে আমি একটা কথাই বলব। একজন হয়তো এই কাজটা করতে পারতেন। কিন্তু তিনি অনেকদিন হল মারা গিয়েছেন।”

    “আপনি কার কথা বলছেন ডঃ মাব্বা?” টিমোথি জানতে চায়।

    “ডঃ মহীয়ান দত্ত। ডঃ দত্ত বেঁচে থাকলে কোনও সন্দেহ থাকত না তিনিই কাজটা করেছেন। ইনফ্যাক্ট অ্যান্টিডোটের প্রসঙ্গটা ওঠার পর আমার প্রথমে ওঁর কথাই মনে হয়েছিল। কিন্তু তারপর আমি হিসেব করে দেখলাম, যে বাচ্চাগুলোর মধ্যে এই পরিবর্তনটা এসেছে, তাদের কারোরই বয়স ছ’বছরের বেশি নয়। তার মানে এই অ্যান্টিডোটটা কাজে লাগানো হচ্ছে বছর ছয়েক আগে থেকে। কিন্তু ডঃ মহীয়ান দত্ত মারা গিয়েছেন প্রায় বছর দশেক। সুতরাং তিনি কোনোভাবেই এটা আবিষ্কার করতে পারেন না।”

    “আপনি ঠিকই বলেছেন ডঃ মাব্বা,” সায় দেয় কিম, “ডঃ দত্তের পক্ষেও এই কাজটা করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। কারণ আপনারা সবাই জানেন, মারা যাওয়ার আগে প্রায় বছর সাতেক উনি জুরান্তিতে নির্বাসনে ছিলেন। আমাদের কথায় রাজি হননি বলে ওঁকে ওখানে পাঠানো হয়েছিল। জুরান্তিতে কোনও ঠিকঠাক ল্যাবরেটরি ছিল না। আমরা ওঁর রোবট পিলুর কাছ থেকে জানতে পেরেছিলাম, তা সত্ত্বেও উনি নিজস্ব কিছু জিনিসপত্র নিয়ে টুকটাক কাজ করতেন। কিন্তু সেগুলো একেবারে ছেলেখেলার ব্যাপার। ডঃ দত্তর মৃত্যুর কিছুদিন পরে ওঁর স্ত্রীও মারা যান। ওঁদের কোনও সন্তান নেই। দু‘জনের মৃত্যুর পর জুরান্তির বাড়ি ভাল করে তল্লাশি করা হয়েছিল। সন্দেহজনক কিছুই পাওয়া যায়নি। সুতরাং এই সম্ভাবনাটা মনে হয় বাদ দেওয়াই ভাল।”

    মিটিংয়ে ঠিক হল হেনরি বার্টদের ল্যাবরেটরি থেকে ওষুধ এক্সপোর্ট আপাতত বন্ধ থাকবে। তবে সেটা কাউকে জানানো হবে না। ওষুধ এনে পিউ-এর তত্ত্বাবধানে স্টোর করা হবে এবং পরীক্ষা করার পর নিরাপদ বুঝলে তবেই বাইরে ছাড়া হবে। ল্যাবরেটরির কাজ স্বাভাবিকভাবেই চলতে দেওয়া হবে। যে এই দুষ্কর্মটি করছে সে যদি সব ঠিক হয়ে গিয়েছে ভেবে আবার সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করে তা হলে এবার নিশ্চিত ধরা পড়বে। যদিও ক্রিস্টাল নিজে মনে করছেন সেরকম সম্ভাবনা খুবই কম। এছাড়া ডঃ মাব্বা, ডঃ উডুগু আর মার্ক মিলে অজানা এলিমেন্টটাকে আবার পরীক্ষা করে দেখবেন যদি কিছু পাওয়া যায়।

    সব সিদ্ধান্তই সর্বসম্মতিক্রমে হয়েছে। অন্য রকম কোনও মতামতও ছিল না। কিন্তু তবু মিটিং সেরে সলসবুর্গে নিজের বাড়িতে ফিরে এসে কেমন যেন অস্বস্তি হচ্ছিল টিমোথির। বারবারই মনে হচ্ছিল কিছু একটা যেন বাদ পড়ে গেল। কোনও একটা বিষয়ে আরও একটু আলোচনা, আরও একটু আলো ফেলার দরকার ছিল, কিন্তু সেটা হল না।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআমি লিলি – লিলি চক্রবর্তী
    Next Article তেরোর ত্রাস – দীপান্বিতা রায়

    Related Articles

    দীপান্বিতা রায়

    তেরোর ত্রাস – দীপান্বিতা রায়

    August 26, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }