Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মাই জার্নি : স্বপ্নকে বাস্তবতা প্রদান – এ পি জে আবদুল কালাম

    এ পি জে আবদুল কালাম এক পাতা গল্প131 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    আমার শিক্ষক : আহমেদ জালালউদ্দীন

    আমার জীবনের বিশেষ কিছু মুহূর্তে বিশেষ কিছু লোকের দিক নির্দেশনা পাই। এরা আমার জীবন গঠন এবং চিন্তাভূবনে বিরাট ভূমিকা পালন করেন। এমন কি অনেক সময় এদের সহযোগিতায় আমার জীবন ভিন্ন মাত্রা পেয়ে নতুন পথে পরিচালিত হতে থাকে। আমার গড়ার পেছনে এই সকল শিক্ষক স্থানীয় লোকদের অবদান সবচাইতে বেশি। আমি এদের কাছে চিরকৃতজ্ঞ থাকব। আমি যদি অনেকটা সময় পেতাম তাহলে আমি সেই পুরোটা সময়ই এদের কথা চিন্তা করে ব্যয় করতাম। তারা প্রত্যেকেই সূর্যের মতো। এদের আলিঙ্গনে জীবন এক নতুন উষ্ণতা এবং শক্তি পায়।

    এমনই একজন শিক্ষক হলেন-আহমেদ জালালউদ্দীন। আমি যখন ছোট ছিলাম। আমার বাবা নতুন একটা ব্যবসা শুরু করতে চাচ্ছিলেন। তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন যে, তিনি নৌকা তৈরি করে ফেরী পারাপারের ব্যবসায় করবেন। নিজের সামনে নৌকা তৈরি হতে দেখে আমি মুগ্ধ হয়ে যাই। একের পর এক কাঠ জোড়া লাগানো হচ্ছিল। আর প্রতিটি কাঠ

    যথাপযুক্ত স্থানে বসানোর সাথে সাথে। নৌকার অবয়ব পরিষ্কার হয়ে আসছিল। যখন আমি নৌকার কাজ দেখতে, নৌকা তৈরির স্থানে যেতাম। সেখান থেকে সরতে চাইতাম। আমি এক মনে নৌকা তৈরির প্রক্রিয়া দেখতে থাকলাম।

    জালালউদ্দীন তখন রামেশ্বরামে। তিনি বাবাকে সাহায্য করতে এসেছিলেন। নৌকা তৈরিতে সাহায্য। তিনি নৌকার প্রতি আমার আগ্রহের ব্যাপারটা লক্ষ করেছিলেন। তিনি মোটেও অন্যসব বয়ষ্ক লোকের মতো ছিলেন না।

    অধিকাংশ বয়ষ্ক লোকই তাদের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকে। এতটাই ব্যস্ত যে, কাজ করার সময় ছোটদের সাথে কোনো কথা বলার প্রয়োজন মনে করেন না। কেউ আগ্রহবোধ করলেও না। তবে জালালউদ্দীন ছিলেন ব্যতিক্রম। তিনি কাজের ফাঁকে ফাঁকে আমার সাথে কিছুটা সময় কাটাতেন। তিনি নৌকার কাজ নিয়েই আলোচনা করতেন।

    আমরা নৌকা নিয়ে বিভিন্ন আলাপ আলোচনা করতাম। কেমন করে নৌকা তৈরি হবে। কীভাবে রং করা হবে। আর কী কী কাজ বাকি আছে এইসব। এভাবেই একটি ছোট ছেলে এবং একজন প্রাপ্তবয়ষ্ক লোকের মধ্যে গড়ে ওঠে অদ্ভুত রকমের বন্ধুত্ব। জালালউদ্দীন বয়সে আমার থেকে ১৫ বছরের বড় এবং তার জ্ঞানও আমার তুলনায় অনেক বেশি।

    জালালউদ্দীনও রামেশ্বরামে থেকে গেলেন। আর আমাদের বয়সের পরিবর্তনে সাথে সাথে, আমাদের আলোচনায়ও ভিন্নতা আসতে থাকল। দিন কেটে বছর পেরোল। জালালউদ্দীনের সাথে আমার বোন জোহরার বিয়ে হলো। আমাদের সম্পর্ক আরও বেশি গভীরতা পেল।

    জালালউদ্দীনের কথা যদি মনে করি, তবে আমার প্রথম মনে পড়বে আমাদের দুজনের রামেশ্বরামের রাস্তায় হেঁটে বেড়ানোর কথা। প্রায় প্রতিদিন সন্ধ্যায় আমরা হাঁটতে বের হতাম। আমাদের বাড়ি ছিল মস্ক স্ট্রিটে। যেখানে থেকেই আমরা পথচলা শুরু করতাম। হাঁটতে হাঁটতে সমুদ্রের তীরে পৌঁছে যেতাম। শহর এ-সময় ব্যস্ত থাকত। মন্দিরে পূণ্যার্থিদের আসা-যাওয়া লেগে থাকত।

    আমাদের প্রথম যাত্রাবিরত পড়ত শিবমন্দিরে। এখানে আমাদের গতি কিছুটা কমে যেত। পূণ্যার্থিদের ভিড়ের কারণে গতি কিছুটা শ্লথ হয়ে আসত। পূণ্যার্থিদের কেউ হাঁটু গেড়ে প্রার্থনা করতে বসত। আবার কেউ কেউ মন্দিরে প্রতিটি সিঁড়ির ধাপে হাত ঠেকাতে ঠেকাতে আসত। যারা সাথে করে বৃদ্ধ মা- বাবা বা আত্মীয়স্বজন নিয়ে এসেছেন, তারাও সাবধানে ধীরে ধীরে পথ চলত।

    মন্দির এলাকায় পূণ্যার্থিদের মাঝে এলেই আমাদের চিন্তা ভাবনা এবং আলাপ আলোচনার বিষয়ে পরিবর্তন আসত। আমাদের মাঝে তখন আধ্যাত্মিক বিষয় নিয়ে আলাপ আলোচনা শুরু হয়ে যেত। অধিকাংশ সময়ই আমাদের আলোচনার বিষয়বস্তু থাকত সৃষ্টিকর্তা।

    সৃষ্টিকর্তা সম্পর্কে জালালউদ্দীনের দৃষ্টিভঙ্গি ছিল কিছুটা ভিন্ন। মূলত আমাদের বাবার যেমনটা ছিল, সেরকম ছিল না।

    .

    আমার বাবা ছিলেন একজন ধার্মিক লোক। তিনি ধর্মের প্রতিটি নিয়মকানুনই পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অনুসরণ করতেন। কেবল সৃষ্টিকর্তার বাধ্যবাধকতার কারণে তিনি ইবাদত করতেন না। তিনি পূর্ণভাবে বিশ্বাস করতেন, তার নিজের জন্য তার ইবাদত করা প্রয়োজন।

    শ্বাস-প্রশ্বাস এবং খাদ্যগ্রহণ যেমন মানুষের স্বাভাবিক প্ররোচণা, নামায- রোজাও আমার বাবার কাছে ততটাই স্বাভাবিক ছিল।

    জালালউদ্দীনও একজন নিষ্ঠাবান ধার্মিক লোক। তবে তিনি সৃষ্টিকর্তাকে বন্ধু বলে বিবেচনা করতেন। যেমন করে আমরা বন্ধুর সাথে কথা বলে থাকি তিনি তেমনভাবে সৃষ্টিকর্তাকে নিজের অসুবিধা এবং সমস্যাগুলো জানাতেন। জালালউদ্দীনের দৃঢ় বিশ্বাস ছিল তিনি যদি সৃষ্টিকর্তাকে তার সমস্যার কথা জানান, সৃষ্টিকর্তা অবশ্যই তার সমাধান দেবেন।

    মন্দির পার হওয়ার সময় আমি সমান মনোযোগে পূণ্যার্থিদেরকে নিজেদের প্রথা পালন করতে দেখতাম। আবার জালালউদ্দীনের কথাও শুনতাম। আমার মাথায় এই দু ধরনের বিশ্বাস একত্রে মিলে যেত।

    রামেশ্বরামে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে আগত পূণ্যার্থি, যারা দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এসেছে এবং ভিন্ন ভিন্ন ভাষায় প্রার্থনা করে তাদের এবং রামেশ্বরামে বসবাসরত লোকজনের প্রার্থনা কি একাধিক সৃষ্টিকর্তার কাছে পৌঁছায়? কারণ, এক এক সম্প্রদায়ের বিশ্বাসও এক এক ধরনের। না এমনটা সম্ভব হবে না। আমি বিশ্বাস করি যে, মানুষের ধর্ম যাই হোক না কেন, সৃষ্টিকর্তা এক এবং অদ্বিতীয়। তবে আমি মাঝে মাঝে ভেবে অবাক হই আমার বন্ধুর বিশ্বাস দেখে। অবশ্য আমার অবাক হওয়ার বিষয়টা আমি তার কাছে গোপন রেখেছি। আমার বন্ধু, জালালউদ্দীনের সাথে সৃষ্টিকর্তার কী কোনো বিশেষ সম্পর্ক আছে। যার কারণে সে সৃষ্টিকর্তাকে সর্বত্র খুঁজে পায়। এবং অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দের সাথে তাকে নিজের সমস্যার কথা বলে যায়।

    জালালউদ্দীন মোটেই উচ্চশিক্ষিত নয়। তিনি কেবল অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করেছে। নিজের পরিবারটাকে টিকিয়ে রাখতে তাকে কাজে নামতে হয়। তাই আর তার পড়ালেখা করা হয়ে ওঠেনি।

    কিন্তু, তিনি রামেশ্বরামের হাতেগোনা কিছু লোকজনদের মধ্যে ছিলেন। ইংরেজি ভাষা সম্পর্কে জ্ঞান রাখতেন। তিনি ইংরেজি ভাষা লিখতে ও পড়তে পারতেন। তাই এলাকার মানুষের তাকে প্রয়োজন ছিল। এলাকার মানুষজন জালালউদ্দীনের কাছ থেকে দাপ্তরিক চিঠিপত্র লিখিয়ে নিত। এলাকার লোকজন তাকে ভীষণ সম্মান করত। আর মানুষজনের চোখে তার জন্য সম্মান দেখে আমিও তার মতো হতে চাইতাম। এবং অনেক পড়ালেখা করতে চাইতাম। আর যদি জালালউদ্দীনের দিক থেকে দেখি, তাহলে আমি বলব শিক্ষিত হওয়ার কারণে জালালউদ্দীন আমার মাঝে কৌতূহল এবং জ্ঞানের স্পৃহা ধরতে পেরেছিলেন। সেই দিনগুলো সবকিছু, আন্তরিক অর্থেই সবকিছুর প্রতি আমার আগ্রহের সীমা ছিল না। আর জালালউদ্দীনই সেই ব্যক্তি যিনি আমার সকল প্রশ্নের জবাব দিতেন। আমি তাকে এক নাগাড়ে প্রশ্ন করতেই থাকতাম। তিনি অত্যন্ত ধৈয্য সহকারে আমার কথা শুনতেন এবং আমার প্রশ্নের উত্তর দিতেন। তিনি প্রাত্যাহিক জীবনধারার বাইরে যা আছে তা সম্পর্কে আমাকে জানাতেন। যেমন, প্রকৃতি, মহাকাশ, বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার, বই এবং বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব এভাবেই তিনি আমার জ্ঞানের চক্ষু খুলে দেন।

    আমি প্রায়ই নিজেকে কিছু প্রশ্ন করতাম। তা হলো—কী সে আমাদের ব্যক্তিত্ব তৈরি হবে? প্রকৃতি মানুষকে কতটা গড়ে দেয়। আর মানুষ জন্মগতভাবে কতটা বিশেষত্ব নিয়ে আসে? আমি যদি সেই দিনগুলোর দিকে ফিরে তাকাই তবে আমি আঙুল দিয়ে কাছের মানুষগুলোর গুণাগুণ চিহ্নিত করতে পারব। আর তাদের এই সকল গুণাবলিই তাদের সঙ্গের কারণে আমার মাঝে স্থানান্তরিত হয়েছে। আমার মা বাবার কাছে থেকে আমি সততা, নিয়মাবর্তিত, ভক্তি এবং পরোপকারি হবার শিক্ষা পেয়েছি। আর জালালউদ্দীন এবং আমার আরেক চাচাত ভাই শামসউদ্দীনের কাছে আমি শিখেছি—’প্রতিটি মানুষই বিশেষ কিছু গুণাবলি নিয়ে জন্মায়। এগুলো তার মাঝে নিহিত থাকে। এরা আমার মাঝে এক ধরনের জ্বলন্ত শিখা দেখতে পায়।’ আমাকে তারা উৎসাহ দেয় এবং গড়ে তুলতে সাহায্য করে।

    তারা মোটেও জটিল মানুষ ছিলেন না। তারা ছিলেন সহজ সরল এবং স্পষ্টভাষী কিছু মানুষ। আমার অনেক কিছুই যেমন-চিন্তা ভাবনা, তাদেরকে বলা লাগত না। তারা নিজে থেকেই বুঝতে পারতেন। তারা সেগুলোকে আমার ভেতর থেকে বের করে এনে আমার জীবনের লক্ষ্য সুন্দর করে গড়ে তুলতে সহায়তা করতেন।

    আমি যখন বেড়ে উঠতে থাকি, জালালউদ্দীন প্রথম আমাকে রামেশ্বরামের গণ্ডি ভেদ করে বেরিয়ে আমার উৎসাহ দিয়েছিলেন। যখন আমি আরোও বড় শহরে, ভালো স্কুলে আমার পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছাপোষণ করলাম। তিনিই তার ব্যবস্থা করে দেন।

    এমন কি তিনি আমার সাথে রামনাথপুরে পর্যন্ত গিয়েছিলেনও। আমি রামনাথপুরের Schwartz High School-এ মানিয়ে নেয়ার পর তিনি রামেশ্বরামে ফিরে গিয়েছিলেন। যে সকল ছেলেরা আগে কোনো বড় শহরে বাস করেনি। অর্থাৎ নিজ স্থান ছেড়ে অন্য কোথাও বাস করার অভিজ্ঞতা নেই তাদের জন্য জায়গা পরিবর্তনের সাথে সাথে অনেক কিছুই পরিবর্তন হয়। আমিও তার ব্যতিক্রম ছিলাম না। তাই রামনাথপুরে এসে অমি বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্মুখিন হয়েছিলাম।

    আমার পরিবারকে ছেড়ে অন্য একটি জায়গায় বাস করতে ভীষণ কষ্ট হচ্ছিল। আমার বাড়ি, রামেশ্বরামের মনোরম পরিবেশ, মা, মায়ের হাতের রান্নার কথা বার বার মনে পড়ছিল। সেই সময় জালালউদ্দীন জাদুকরের মতো ভূমিকা পালন করলেন। তিনি আমাকে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন হতে শেখালেন। তিনি বললেন, ভালো স্কুলে পড়াশুনা করতে হলে আমাকে নিজের আবেগ অনুভূতির ওপর নিয়ন্ত্রণ আনতে হবে। যখনই আমার বাড়ির কথা মনে পড়ত বা খারাপ লাগত, তার উপদেশবাণি মনে করতাম। আমি নতুন করে উদ্যোগ এবং অনুপ্রেরণা পেতাম। আমি নিজেকে এই সকল ছেলেমেয়েদের সাথে বিবেচনা করতাম যারা বোর্ডিং স্কুলে থেকে লেখাপড়া করে।

    আমি প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগ পর্যন্ত এই মানুষটি আমাকে সাহায্য করে গেছেন। প্রাপ্তবয়স্ক বলতে আমি বোঝাতে চেয়েছি নিজের সিন্ধান্ত নিজে নেওয়ার সক্ষমতার পর্যায়কে। আমার পথে তিনিও আমার সাথে থেকে আমাকে অনুপ্রেরণা দিয়ে গেছেন। আমি যখনই হোঁচট খেয়েছি, তিনি আমাকে উঠে দাঁড়াতে সাহায্য করেছেন। যখন আমার মনে হচ্ছিল, ‘আমি পারব না’, তখন আমার মাঝে উদ্যমের সঞ্চার করেছেন তিনি।

    আমি এমন কিছু করেছিলাম যা মাত্র ২০ বছর আগেও রামেশ্বরামে কেউ করার স্বপ্ন পর্যন্ত দেখতে সাহস পায়নি। আমি একটি ট্রেনিং প্রোগ্রামে জাভায় যাচ্ছিলাম। ট্রেনিং প্রোগ্রাম চলেছিল ৬ মাস। জালালউদ্দীন এবং সামসউদ্দীন বোম্বের (বর্তমান মুম্বাই) সান্টা ক্রুজ এয়ারপোর্ট পর্যন্ত আমার সঙ্গে আসে। এই স্মৃতি আমি কোনোদিন ভুলতে পারব না। ততদিনে আমি একজন ইঞ্জিনিয়ার হয়ে গেছি। Indian National Committee for Space Reasearch (INCOSPA)-এ একজন রকেট সায়েন্টিস্ট হিসেবে যোগদান করেছিলাম। তারাই আমাকে যুক্তরাষ্ট্রের NASA-তে ট্রেনিংয়ের জন্য পাঠাচ্ছিল। জালালউদ্দীন এবং সামসউদ্দীন আমাকে বিদায় জানাতে এয়ারপোর্টে পর্যন্ত আসেন। আমার উত্তেজনা তাদের মাঝেও সঞ্চারিত হচ্ছিল। তারপরও তারা নিজেরা শান্ত থেকে আমাকে উৎসাহ দিয়েছিলেন। আমার মনে পড়ে এয়ারপোর্টে একেবারে শেষমুহূর্তে আমি তাদের দিকে ফিরে তাকাই। আমি তাদের চোখে স্পষ্টভাবে আশাবাদ ও অনুপ্রেরণা দেখতে পাই। তাদের সেই অনুভূতি আমাকেও ছুঁয়ে যায়।

    তারা এমন দুজন মানুষ যারা আমার মাঝের ভালোটাই বের করে আনতে পেরেছেন এবং আমাকে সর্বদা সঠিক পথে পরিচালিত করতে পেরেছেন। সেখানে দাঁড়িয়ে তাদের দিকে তাকিয়ে আমি আর আমার আবেগ এবং তাদের প্রতি আমার ভালোবাসা চেপে রাখতে পারলাম না। আমরা চোখ বেয়ে পানি পড়তে লাগল। ভেজা চোখ নিয়েই আমি তাদেরকে একে একে আলিঙ্গন করেছিলাম। তখন জালালউদ্দীন আমাকে বলেছিলেন, ‘ আব্দুল, আমরা সবসময়ই তোমাকে ভালোবাসা দিয়ে গেছি। তোমার ওপর আমাদের পূর্ণ বিশ্বাস আছে। আমরা তোমাকে নিয়ে গর্বিত।’ তার এই কথাগুলো ভুলে যাওয়া আমার পক্ষে সম্ভব হবে না।

    .

    এখন সেদিনগুলোর কথা মনে পড়লে, আমি জালালউদ্দীনের অবদান বুঝতে পারি। তিনি কেবল আমাকে হাত ধরে হাঁটতে শেখাননি, তিনি আমাকে শিখিয়েছেন কী করে বাঁচতে হয়। তার প্রভাবের বশবর্তী হয়েই আমি একজন সম্পূর্ণ মানুষ হতে পেরেছি। নিজের বুদ্ধি এবং সৃজনশীলতাকে কাজে লাগাতে শিখেছি। যখন আমি আমার পরিবার থেকে অনেক অনেক দূরে ছিলাম, তখনও তার প্রভাব আমার মাঝে রয়ে গিয়েছিল। আমি এই দুনিয়ার নিজের পথ করে নিতে সক্ষম হয়েছি।

    তিনি যে শুধু আমাকে জীবনের শিক্ষা দিয়েছেন তাই কিন্তু নয়। তিনি আমাকে কঠিন বাস্তবতা ‘মৃত্যু’র শিক্ষাও দিয়েছেন। যখন আমি Indian Space Research Organization (TSPO) -এর SLV-3 প্রজেক্টে কাজ করছিলাম। তখন খবর এলো আমার বন্ধু, দিক-নির্দেশক আর এ-দুনিয়াতে নেই। তার মৃত্যুতে আমি বড় ধরনের ধাক্কা খেলাম। জালালউদ্দীনের এখনও মৃত্যুর বয়স হয়নি। আমি তাই এই খবর শুনে নির্বাক হয়ে রইলাম। এমনটা কীভাবে হলো? আমরা সবাই বেঁচে থাকতে এই লোকটা কেন মারা গেল? তার মৃত্যুর পর আমি কি প্রলাপ বকেছি তা আর মনে নেই। একটা সময়ের জন্য আমি অনুভূতিশূন্য হয়ে পড়েছিলাম। অবশেষে আমি নিজেকে শক্ত করলাম। আমার সহকর্মীদের জানালাম যে, আমি রামেশ্বরামে যাব।

    বাড়ি ফেরার পরে আমি বাসে যাচ্ছিলাম। পাথুরে শহরে রাস্তায় শত শত লোকের কোলাহল এবং প্রকৃতির গুঞ্জনের মাঝে আমার নিজেকে একা মনে হতে লাগল। সম্পূর্ণ একা। আমাদের সবার জীবনেই এমন একটা সময় আসে যখন আমাদেরকে নিজেদের শৈশব পেছনে ফেলে সামনে এগোতে হয়। আমার জন্য সেই সময়টাই সামনে এগোনোর সময় ছিল।

    জালালউদ্দীনের সাথে সাথে আমার জীবনের বড় একটা অংশের সমাপ্তি ঘটেছে। সেই আমার মাঝের ছেলেটিও চিরতরে হারিয়ে গেল। যার কি না দিক নির্দেশনার দরকার ছিল, যে কৌতূহলের বশবর্তী হয়ে প্রশ্ন করতেই থাকত। যে জানত যে তাকে নির্দেশনা দেয়ার জন্য একজন বিশেষ লোক রয়েছে।

    যখন আমি নিজের চোখ বন্ধ করলাম, আমার চোখের সামনে সকল স্মৃতি ফিরে আসল। আমি স্পষ্ট দেখছিলাম জালালউদ্দীনকে, আমার বই কেনার জন্য টাকার ব্যবস্থা করেছেন-সান্টা ক্রুজ এয়ারপোর্টে আমাকে বিদায় জানাচ্ছেন, আমার চোখ বেয়ে পানি পড়তে শুরু করল। এই কান্না কেবল তারাই কাঁদতে পারবে যাদেরকে ছোটবেলায় কেউ গভীর ভালোবাসা দিয়ে বড় করেছিল। আমি আবারও স্মৃতির ভূবনে চলে গেলাম। দেখতে পেলাম যে, তিনি আমার সাথে আমাদের ছোট্ট শহরে হেঁটে বেড়াচ্ছেন। তিনি আকাশের চাঁদ-তারার দিকে আঙুল তুলে দেখালেন। আমাকে ব্যাখ্যা করলেন কেন সূর্য এবং চাঁদ আকাশে দেখা যায় এবং কীভাবে অস্ত যায়।

    আমি বাড়ি পৌঁছে দেখলাম আমার বোন আকুল নয়নে কাঁদছে। তার কাছে দাঁড়িয়ে ছিল আমার ছোট্ট মেহবুব। মেহবুব আমার ভাতিজী। তার বাবার অকাল মৃত্যুর ছায়া তার মাঝেও দেখা যাচ্ছিল। আমি আমার বাবার সাথে দেখা করলাম। বাবার বয়স তখন একশ হবে। বাবাকে দেখে প্রথমবারের মতো আমার মনে হচ্ছিল, বাবার বয়স হয়ে গেছে। তার আদরের জামাইয়ের মৃত্যুর শোক রাতারাতি এই বয়স বৃদ্ধির জন্য দায়ী। আমরা জালালউদ্দীনকে কবর দিলাম। তাকে কবর দিয়ে আসার পর আমি আর নিজের চোখের পানি ধরে রাখতে পারলাম না। আমার কাছে মনে হচ্ছিল, আমি আমার স্মৃতিমহলে ঘোরের মধ্যে হেঁটে যাচ্ছি! চারদিক ঘন কুয়াশা।

    কবর দিয়ে বাড়ি ফিরে আসার পর আমার বাবা আমার পাশে বসলেন। তিনি আমার হাত ধরলেন। আমি প্রথমবারের মতো লক্ষ করে দেখলাম যে বাবার চোখেও পানি। এবং তিনি তার কান্না লুকানোর কোনোরকম চেষ্টাই করছিলেন না। বাবা বললেন-

    ‘কালাম, তুমি কী ছায়ার নড়াচড়া দেখতে পাও? সৃষ্টিকর্তা যদি চাইতেন ছায়া নড়াচড়া করতে পারত না। কারণ তার ইচ্ছার বাইরে কিছুই সম্ভব নয়। কিন্তু তিনি কী করেছেন জানো? তিনি সূর্যকে দিয়ে ছায়াকে নিয়ন্ত্রণ করেন। বেলা যত বাড়তে থাকে ছায়া ততই কমতে থাকে। তিনি রাত সৃষ্টি করেছেন আমাদের বিশ্রামের জন্য।’

    সৃষ্টিকর্তা জালালউদ্দীনকে এক গভীর নিদ্রায় শায়িত করেছেন। এক স্বপ্নবিহীন নিদ্রায় আছেন জালালউদ্দীন। বিশ্রাম করছেন তিনি। সৃষ্টিকর্তা না চাইলে কোনো কিছুই সম্ভব না। আর মানুষ জন্মমৃত্যু নিয়েই এই পৃথিবীতে আসে। তাই সৃষ্টিকর্তার ওপর আমাদের বিশ্বাস অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে।

    আমি বসে বসে বাবার জ্ঞানের কথাগুলো ভাবছিলাম। মৃত্যুকে ভয় পেলে চলবে না। আমি কখনই মৃত্যুকে ভয়ের চোখে দেখিনি। জন্ম-মৃত্যু দুটোই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তবুও, মৃত্যুর কারণে যে দুঃখ হৃদয়কে ভারাক্রান্ত করে ফেলে তা থেকে সহজে নিস্তার লাভ করা সম্ভব নয়। আমাদের সবাইকেই এক সময় না এক সময় মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। তবে জালালউদ্দীনের মতো যারা অল্পবয়সে মারা যান, যে কিনা নিজের সন্তানদের বড় হতে দেখেনি, নিজের সন্তানদের বিয়ে হতে দেখেনি, নাতি-নাতনির সুখ পায়নি—তাহলে সেই মৃত্যু এক ধরনের শোকের ছায়া ফেলে হৃদয়ে। আর সেই শোকই বাস্তবতায় রূপ নেয়। সেই কঠিন বাস্তবতা নিয়েই বেঁচে থাকতে হয়।

    আমার বন্ধু জালালউদ্দীন একজন সাধারণ মানুষ তবে শিক্ষক এবং বন্ধু হিসেবে তিনি অসাধারণ। তিনি ভালোবাসা, সরলতা এবং বোধগম্য দ্বারা তার চারপাশের মানুষগুলোর জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতেন। প্রতিটি শহরে, গ্রামে এবং দেশে তার মতো কিছু মহৎপ্রাণ লোক থেকে থাকে। আমি অনেক ভাগ্যবান যে, আমি তার সান্নিধ্য পেয়েছি। তিনি না হলে আজকের আমি আর আমি হতে পারলাম না।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআল আকসা মসজিদের ইতিকথা – এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    Next Article টার্নিং পয়েন্টস : এ জার্নি থ্র চ্যালেঞ্জেস – এ.পি.জে. আবদুল কালাম

    Related Articles

    এ পি জে আবদুল কালাম

    উত্তরণ : শ্রেষ্ঠত্বের পথে সকলে – এ পি জে আবদুল কালাম

    July 15, 2025
    এ পি জে আবদুল কালাম

    সন্ধিক্ষণ : প্রতিকূলতা জয়ের লক্ষ্যে যাত্রা – এ পি জে আবদুল কালাম

    July 15, 2025
    এ পি জে আবদুল কালাম

    উইংস অব ফায়ার – এ পি জে আবদুল কালাম

    July 15, 2025
    এ পি জে আবদুল কালাম

    ইগনাইটেড মাইন্ডস – এ পি জে আবদুল কালাম

    July 15, 2025
    এ পি জে আবদুল কালাম

    লার্নিং হাউ টু ফ্লাই : লাইফ লেসন্‌স ফর দি ইয়ুথ – এ পি জে আবদুল কালাম

    July 15, 2025
    এ পি জে আবদুল কালাম

    টার্নিং পয়েন্টস : এ জার্নি থ্র চ্যালেঞ্জেস – এ.পি.জে. আবদুল কালাম

    July 15, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }