Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মাছের কাঁটা – নারায়ণ সান্যাল

    নারায়ণ সান্যাল এক পাতা গল্প107 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    মাছের কাঁটা – ২

    ২

    মাসখানেক পরের কথা।

    এই একমাসে নিউ আলিপুরের ও-ব্লকের বাড়িটার অনেক পরিবর্তন হয়েছে। এতদিন অধিকাংশ ঘরই তালাবদ্ধ হয়ে পড়েছিল। মিস্সে বাসুর গতিবিধি শুধুমাত্র একতলাতেই সীমিত। দোতলাটা ভাড়া দেবার কথা হয়েছে মাঝে মাঝে—কিন্তু অজানা উটকো লোক এসে ঝামেলা না বাধায় মাথার উপর বসে—এ জন্যই এতদিন দোতলাটা ভাড়া দেওয়া হয়নি। অর্থের প্রয়োজন তো আর ওঁদের নেই। প্রথম জীবনে মাসে দশ-বিশ হাজার টাকা পর্যন্ত রোজগার করেছেন বাসু-সাহেব।

    বাড়ির পুবদিকের অংশের দুখানি ঘর। পিছনের ঘরটা হচ্ছে লাইব্রেরি, সামনেটা দুটি অংশে বিভক্ত। সামনের দিকটা ল অফিস–ভিতরে বাসু-সাহেবের চেম্বার। একজন সদ্য-পাশ উকিল, প্রদ্যোত নাথ, জুনিয়ার হিসাবে কাজ শিখতে এসেছে। এছাড়া আর দ্বিতীয় কর্মী নেই। বাসু-সাহেব বলেন, অনেকদিন পর শুরু করেছি তো—প্রথমেই কতগুলো লোককে চাকরি দেব না। প্র্যাকটিস্ যেমন যেমন জমবে, অফিসে লোকও বাড়াব।

    পশ্চিমদিকের অংশটাতেও দুখানি ঘর। ‘সুকৌশলী ও কোনো বাড়তি লোক নেয়নি। সুজাতা উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া একটা পোর্টেব্ল টাইপরাইটারে ধীরে ধীরে টাইপ করে। কৌশিক প্রথম মাসে একটাও বিজনেস্ পায়নি। কীভাবে বিজ্ঞাপন দেবে তাই শুধু ভাবছে। বাসু-সাহেব একটা কেস্ পাঠিয়েছিলেন—ডিভোর্স কেস! মেয়েটির অভিযোগ তার স্বামী অসৎচরিত্র। তাই কৌশিককে কদিন তার পিছনে ছোটাছুটি করতে হচ্ছে। খারাপ পাড়ায়।

    তারপর একদিন। শুক্রবার বারোই এপ্রিল। বাসু-সাহেব নিজের ঘরে বসে, একটা আইনের বই পড়ছিলেন। হঠাৎ ইন্টারকমটা বেজে উঠল। সুইচটা টিপে বাসু-সাহেব বলেন, কী ব্যাপার, ব্রেকফাস্ট রেডি?

    —না। তোমার সঙ্গে একজন দেখা করতে চাইছেন। মিস্টার জীবন কুমার বিশ্বাস। প্রয়োজন বলছেন, আইনঘটিত পরামর্শ। পাঠিয়ে দেব?

    বইটা সরিয়ে রেখে বাসু-সাহেব বললেন, দাও।

    সকাল সাড়ে আটটা। অফিস আজ ছুটি, গুড ফ্রাইডে। প্রদ্যোত আসবে না আজ। কাছারি বন্ধ। একটু পরে বিশু পথ দেখিয়ে একজন ভদ্রলোককে নিয়ে এল। ভদ্রলোক কাশলেন। বাসু-সাহেব এবার ওঁর দিকে ফিরে বললেন, আসুন। বসুন ঐ সোফাটায়।

    আগন্তুক ভদ্রলোক জানতেন না বাসু-সাহেবের টেকনিক। মানব-চরিত্র সম্বন্ধে ওয়াকিবহাল পি.কে. বাসু জানেন উকিলের সাক্ষাত্মাত্র লোকে একটা আবরণ টেনে দেয় তার মনের উপর। ঠিক যে মুহূর্তে সে উকিলের দিকে চোখে-চোখ তুলে তাকায় তখনই সেই পর্দাটা সে টেনে দেয়—ঠিক তার আগের মুহূর্তটাতেই সে সব চেয়ে দুর্বল—যখন সে ছদ্মবেশ ধারণ করতে চাইছে। তাই বাসু-সাহেবের চেম্বারে ওঁর সামনেই অন্ধকারে টাঙানো আছে, একটা আয়না, আর প্রবেশ পথের উপর ফেলা আছে একটা জোরালো আলো। আগন্তুক ধ্যানস্থ ব্যারিস্টার সাহেবকে দেখে স্বপ্নেও ভাবতে পারে না—তিনি সামনের দিকে তাকিয়ে আয়নার ভিতর দিয়ে ওকেই লক্ষ্য করছিলেন। ঘরে ঢুকে পরে হয়তো সে এটা লক্ষ্য করে—কিন্তু ততক্ষণে প্রথম প্রবেশ-মুহূর্তটি অতিক্রান্ত।

    —বলুন, কী ভাবে আপনাকে সাহায্য করতে পারি?

    আগন্তুক ধুতি-পাঞ্জাবি পরা—বেশবাসে আভিজাত্য নেই কিছু। বয়স পঞ্চাশের কাছাকাছি। চোখে চশমা, ঝোলা গোঁফ, হাতে একটি ফোলিও ব্যাগ

    —ব্যাগটা পাশে রেখে জীবনবাবু বসলেন সোফাটায়। হাত দুটো জোড় করে নমস্কার করলেন। বললেন, তার আগে স্যার, একটা কথা জানতে চাই। আপনাকে কত ফি দিতে হবে? আমি মধ্যবিত্তর ছাপোষা মানুষ, বিপদে পড়ে এসেছি। আপনার নাম আমি অনেক শুনেছি; কিন্তু আপনাকে উপযুক্ত মর্যাদা দেবার আর্থিক ক্ষমতা আমার নেই।

    —কী করেন আপনি?

    — আমি স্যার বোম্বাই-এর কাপাডিয়া অ্যান্ড কাপাডিয়া কোম্পানির ক্যাশিয়ার। কুল্লে চারশ পঁচাত্তর টাকা মাইনে পাই, আর ফ্রি কোয়ার্টার্স। ব্যবসায়ের কাজেই কলকাতায় এসেছি—মানে মালিকের নির্দেশে। আমি আজ দশ বছর কলকাতা ছাড়া—পথ-ঘাটও ভাল চিনি না। এখানে এসেই বিপদে পড়ে গেছি। আত্মীয়-বন্ধু কেউ নেই যে পরামর্শ করি। আপনার নাম জানা ছিল। টেলিফোন গাইড খুঁজে ঠিকানা দেখে চলে এসেছি।

    —তাহলে আগে একটা টেলিফোন করলেই পারতেন?

    —টেলিফোনে ও সব কথা বলতে চাই না স্যার।

    —কী আশ্চর্য! টেলিফোনে তো শুধু অ্যাপয়েন্টমেন্ট করতেন। যাক সে কথা, আপনার বিপদটা কী জাতীয়?

    —স্যার, আপনার ফি-এর কথাটা—

    —ফি-এর অঙ্কটা নির্ভর করবে আপনার কেস-এর উপর। তবে কেসটা শোনার জন্য আমি কিছু চার্জ করব না। আপনি বিস্তারিত বলে যান। ফি-এর কথা অত ভাববেন না, প্রয়োজন হলে আপনাকে পরামর্শও দেব, ফি চার্জ করব না।—বলুন—

    —আপনি আমাকে বাঁচালেন স্যার। তাহলে খুলেই বলি সব কথা

    জীবন বিশ্বাস মাড়োয়ারি সওদাগরি অফিসের ক্যাশিয়ার। কাপাডিয়া অ্যান্ড কাপাডিয়া একটি কোটিপতি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান। মালিকের নির্দেশে জীবনবাবু কলকাতায় এসেছেন দিন-সাতেক আগে। একা নয়, সঙ্গে আছেন ম্যানেজার সুপ্রিয় দাশগুপ্ত। ম্যানেজারের নতুন চাকরি, এম.এ. পাশ। চাকরি নতুন হলেও বড়কর্তার প্রিয় পাত্র। ওঁরা এসে উঠেছেন পার্ক স্ট্রিটের পার্ক হোটেলে—

    বাসু-সাহেব ওকে থামিয়ে দিয়ে বলেন, ঐ সুপ্রিয় কত টাকা মাইনে পায়?

    —কাটাকুটি করে পে-প্যাকেট পায় এগারো শো টাকার, লোন নেওয়া আছে বলে বেশ কিছু কাটা যায়।

    —বুঝলাম। পার্ক হোটেলে দৈনিক কত খরচ পড়ছে আপনাদের?

    জীবনবাবু রুমাল দিয়ে মুখটা মুছে নিয়ে বললেন, আপনি ঠিকই ধরেছেন স্যার। খুলেই বলি। আমরা ঠিক কোম্পানির কাজে আসিনি-এসেছি আমাদের বড়কর্তা মোহনস্বরূপ কাপাডিয়ার ব্যক্তিগত কাজে—যাবতীয় খরচ তাঁরই। বড়কর্তার সাদা অ্যাভিন্যুতে একটা বাড়ি আছে। সেটা বিক্রির ব্যাপারে। বিক্রি হল সাড়ে ছয় লাখ টাকায়। রেজেস্ট্রি ডিডে কিন্তু লেখা হল সাড়ে চার। দুই লাখ হচ্ছে কালো টাকা। এটা আমরা নগদ নিয়েছি। টাকাটা ব্যাঙ্কে রাখা চলবে না, ব্যাঙ্ক ড্রাফট্ করানো চলবে না। বড়কর্তার নির্দেশ আছে ওটা নগদে বড়বাজারে একজনের কাছে জমা দিয়ে হুন্ডি করিয়ে নিয়ে যেতে হবে। নগদ দু’লাখ টাকা হয়তো দু-একদিন হোটেলে লুকিয়ে রাখতে হতে পারে। তাই বড়কর্তা আমাদের দুজনকে কোনো খানদানি বড়-হোটেলেই উঠতে বলেছিলেন। দিন চার-পাঁচের তো ব্যাপার-

    —বুঝলাম। তারপর? লেনদেন হয়ে গেছে?

    —হ্যাঁ স্যার, কিন্তু মুশকিল হয়েছে কি, সুপ্রিয়বাবুর মতি-গতি সন্দেহজনক লাগছে আমার কাছে। উনি টাকাটা নগদেই বোম্বাই নিয়ে যেতে চাইছেন। কারণ, বলছেন, যাঁর কাছ থেকে হুন্ডি করানোর কথা তিনি এখন কলকাতায় নেই—

    —এ কথাটা সত্যি? আপনি খোঁজ নিয়ে দেখেছেন?

    —হ্যাঁ স্যার। সত্যি।

    —তাহলে আপনার বড়কর্তার সঙ্গে ট্রাংক লাইনে কথাবার্তা বলে নিৰ্দেশ নিন না।

    —ঐখানেই তো হয়েছে মুশকিল স্যার। বড়কর্তা বোম্বাইয়ে নেই—এমনকি ভারতবর্ষে নেই। উনি এখন আছেন ব্যাঙ্ককে। আর সবচেয়ে ঝামেলা হয়েছে এই যে, বড়কর্তা এই সম্পত্তিটা বেচে দিচ্ছেন গোপনে-মানে তাঁর পরিবারের লোকেরাও জানে না। ওঁর স্ত্রী পর্যন্ত না।

    —স্ত্রী পর্যন্ত না? আপনি সেটা কেমন করে জানলেন?

    —হাসলেন জীবনবাবু। বললেন, ও আপনি শুনতে চাইবেন না স্যার—মেয়েছেলে- ঘটিত ব্যাপার। টাকাটা উনি ওঁর রক্ষিতাকে দিচ্ছেন। মানে ওড়াচ্ছেন!

    —বেশ তো, তাঁর টাকা তিনি ওড়াচ্ছেন—তাতে আপনার আমার কী?

    –না, তো তো বটেই। আমার আশঙ্কা হচ্ছে ঐ দু’লাখ টাকা নগদে নিয়ে যাবার সময় যদি ভালমন্দ কিছু হয়ে যায়, তবে আমি ফেঁসে যাব না তো?

    বাসু-সাহেব তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে ওর দিকে তাকিয়ে বললেন, দায়িত্বটা আপনার বড়কর্তা কার উপর দিয়েছেন?

    —ম্যানেজারের উপর স্যার। আমি তো ক্যাশিয়ার মাত্র। পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি দেওয়া আছে ম্যানেজারকে। দলিলে, রসিদে সইও করেছেন তিনি—আমি শুধু সঙ্গে আছি। উনিই আমার উপরওয়ালা—

    —তবে আর কী? আপনার ভয়টা কী?

    জীবনবাবু ইতস্তত করে বললেন, এর মধ্যে স্যার আরও একটা ব্যাপার হয়েছে। ম্যানেজার-সাহেব আমাকে ট্রেনের টিকিট কাটতে পাঠিয়েছিলেন। বোম্বে মেলে একটা ফার্স্ট ক্লাস ক্যুপেতে দুখানা টিকিট আমি কেটে এনেছি—কিন্তু টিকিটটা কাটা হয়েছে মিস্টার অ্যান্ড মিসেস দাশগুপ্তের নামে।

    —তাতে কী? মিসেস দাশগুপ্তাও ঐ ট্রেনে যাচ্ছেন বুঝি? আর আপনার টিকিট হয়েছে কি পাশের কামরায়?

    —আজ্ঞে হ্যাঁ। কিন্তু মজা হচ্ছে এই যে, মিসেস দাশগুপ্তা বর্তমানে বোম্বাইতে আছেন।

    –তার মানে? আপনি আপনার ম্যানেজারকে জিজ্ঞাসা করেননি এমন করার অর্থটা কী?

    —করেছিলাম। উনি বললেন, মিস্টার অ্যান্ড মিসেস্ না বললে ক্যুপে পাওয়া যাবে না। তাই উনি তিনখানা টিকিট কাটতে বলেছেন, ট্রেন ছাড়ার সময় আমি বসব পাশের কামরায়। ক্যুপের একটা সিট ফাঁকা থাকবে। তারপর আমি চলে আসব ক্যুপেতে।

    বাসু-সাহেব জবাব দিলেন না। কী যেন ভাবছেন তিনি। জীবনবাবু বলেন, ইতিমধ্যে আরও এক ব্যাপার হয়েছে স্যার। আমাদের হোটেলে পাশের ঘরেই একজন মহিলা এসে উঠেছেন। তিনি ম্যানেজারের সঙ্গে মাঝে মাঝে গুজগুজ ফুসফুস করছেন। তিনি যে কে, তা আমি জানি না। প্রথমে ভেবেছিলাম তিনি বুঝি বাঙালি। কিন্তু ম্যানেজার-সাহেব বললেন, ওঁর নাম মিস্ ডিক্রুজা এবং জানালেন তিনিও নাকি ঐ একই ট্রেনে বোম্বাই যাচ্ছেন।

    —ইন্টারেস্টিং কেস! ঐ একই ক্যুপেতে?

    —হঠাৎ লজ্জা পেলেন জীবনবাবু। মুখটা নীচু করে বললেন, সেটা আমি জিজ্ঞাসা করিনি স্যার। হাজার হোক উনি আমার ওপরওয়ালা। কিন্তু সমস্ত ব্যাপারটাই আমার কাছে কেমন যেন রহস্যময় মনে হচ্ছে। এক নম্বর—কেন উনি এভাবে অতগুলো নগদ টাকা ট্রেনে করে নিয়ে যাচ্ছেন? দু নম্বর—কেন আমাকে পাশের ঘরে পাচার করলেন, তিন নম্বর—ঐ অচেনা মেয়েটা যদি সত্যিই ওঁর সঙ্গে এক ক্যুপেতে-সঙ্কোচে মাঝখানেই থেমে গেলেন জীবনবাবু।

    —বুঝলাম। তা আপনি কী করতে চান?

    —সেই পরামর্শই তো করতে এসেছি আপনার সঙ্গে।

    —কবে আপনাদের রওনা হওয়ার কথা?

    —আজ রাত্রে সাড়ে সাতটার বম্বে মেল-এ।

    —টাকাটা বর্তমানে কোথায় আছে? হোটেলে আপনাদের ঘরে?

    —হোটেলেই; তবে আমাদের ঘরে নয়। হোটেলের সেফ-ডিপজিট ভল্টে।

    —টাকাটা কি একশ’ টাকার নোটে?’

    —আজ্ঞে না দশ টাকার নোটে। স্যুটকেস বোঝাই!

    —ঠিক আছে। আপনি এক কাজ করুন—আমাকে যা যা বললেন তা একটা বিবৃতির আকারে লিখে ফেলুন। সেটা আমাকে দিয়ে যান। যাতে প্রমাণ হবে কোনও দুর্ঘটনা ঘটার পর আপনি বানিয়ে কিছু বলছেন না।

    জীবনবাবু গোঁজ হয়ে বসে কী ভাবতে থাকেন।

    —কী ভাবছেন বলুন তো?

    —ভাবছিলাম কি স্যার, আপনি যা বলছেন তা খুবই ভাল–কিন্তু একটা মুশকিল আছে। ধরুন যদি ভালমন্দ কিছু হয়েই যায় তখন আপনি হবেন আমার পক্ষের উকিল। সে ক্ষেত্রে তো আপনি নিজেই সাক্ষী দিতে পারবেন না। তার চেয়ে এক কাজ করি না কেন? আমি এখন হোটেলে ফিরে যাই। সব কথা একটা বিবৃতির আকারে লিখে ফেলি। তারপর পোস্ট-অফিস থেকে রেজিস্ট্রি ডাকে আপনাকে পাঠাই। সিল মোহর করে। আমি ভাল করে দেখে দেব যাবে পোস্ট-অফিসে তারিখের ছাপটা খামের উপর পড়ে। সে ক্ষেত্রে আপনি সিলটা ভাঙবেন না। চিঠিটাও পড়বেন না। ভালমন্দ কিছু ঘটলে সিল-মোহর করা খামটাই আপনি প্রমাণ হিসাবে দাখিল করবেন!

    বাসু-সাহেব বুঝতে পারেন এই ক্যাশিয়ার একটি ধুরন্ধর ব্যক্তি। বললেন, কিন্তু পোস্ট-অফিস তো আজ বন্ধ। গুড-ফ্রাইডের ছুটি।

    —জি.পি.ও. তে রেজিস্ট্রেশন খোলা। সে আপনাকে ভাবতে হবে না।

    —ঠিক আছে। তাই করুন।

    —আপনি আমাকে বাঁচালেন স্যার।

    বাসু-সাহেব তাঁর ডায়েরিতে ওঁদের নাম, ধাম, পার্ক হোটেলের রুম নম্বর, রেলওয়ে টিকিট তিনটের নম্বর এবং বোম্বাইয়ের ঠিকানা লিখে নিলেন। জীবনবাবু প্রশ্ন করেন, আপনাকে কী দেব স্যার?

    —কিছু দিতে হবে না আপনাকে। এবার আসুন আপনি

    জীবনবাবু যেন এই জবাবই আশা করছিলেন। নমস্কার করে তৎক্ষণাৎ বেরিয়ে গেলেন তিনি। জীবনবাবু ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়া মাত্র বাসু-সাহেব ইন্টারকমে সকলকে ডেকে পাঠালেন তাঁর ঘরে। পূর্বাংশ, পশ্চিমাংশ এবং মধ্যমাংশের রিসেপশান কাউন্টারের মধ্যে ইন্টারকম ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। পাঁচ মিনিটের ভিতরেই বাসু-সাহেবের ঘরে এসে বসলেন মিসেস বাসু, কৌশিক আর সুজাতা। বাসু-সাহেব বললেন, তোমাদের পরমার্শ চাইছি, বল আমার কী করা উচিত? ওয়ান ইজটু টোয়েন্টি রেশিওতে একটা বাজি ধরার সুযোগ এসেছে আমার সামনে। পাঁচশ’ টাকা ঢালতে হবে—পেলে পাব দশহাজার, না পেলে পাঁচশ’ টাকাই বরবাদ হবে! এখন তোমরা বল, আমার কী করা উচিত?

    কৌশিক বললে, ওয়ান ইজ-টু টোয়েন্টি! নিশ্চয় বাজি ধরবেন!

    সুজাতা বলে, আগে বলুন জেতার চান্স কত পার্সেন্ট?

    রানি বললেন, করছ ওকালতি, এর মধ্যে বাজি ধরাধরির কী আছে?

    বাসু-সাহেব নিরুপায়ভাবে শ্রাগ্ করলেন শুধু

    ওদের পীড়াপীড়িতে খুলে বলতে হল সব কথা। শেষে বললেন, আমার অভিজ্ঞতা বলছে—ব্যাপারটা ঘোরালো! ঈশান কোণে যে ছোট্ট কালো স্পটটা দেখা যাচ্ছে ওটা কালবৈশাখী হবার সম্ভাবনা যথেষ্ট। খুন, তহবিল তছরুপ, রাহাজানি, ডাকাতি যা হোক কিছু একটা হবে। কেসটা তাহলে অনিবার্যভাবে আসবে আমার কাছে। দু-লাখ টাকা ইনভল্ভড্ হলে পাঁচ পার্সেন্ট হিসাবে আমার কমিশন হবে দশ হাজার টাকা। কিন্তু এখনই আমাকে সেই আশায় শ’ পাঁচেক টাকা ইনভেস্ট করতে হয়। আমার প্রশ্ন : করব?

    কৌশিক আবার বললে, আলবাত!

    সুজাতা বলে, এটা গাছে-কাঁঠাল-গোঁফে-তেল হচ্ছে না কি?

    বাসু-সাহেব বলেন, আর রানু? তোমার মত?

    রানি বলেন, আমার মতে সুজাতা একটু বেশি আশাবাদী। গাছে কাঁঠাল নজরে পড়ছে না আমার! বরং বলতে পার ট্যাকে-বিচি, গোঁফে তেল!’

    —সেটা আবার কী?

    —তুমি কাঁঠালের বিচি পকেটে নিয়ে ঘুরছ। পুঁতলেই গাছ হবে, গাছ হলেই কাঁঠাল, পাকলেই পেড়ে খেতে হবে—তাই গোঁফে তেল দিতে শুরু করেছ!

    হো-হো করে হেসে ওঠে সবাই। মায় বাসু-সাহেব পর্যন্ত

    শেষ পর্যন্ত কিন্তু বাসু-সাহেবকে রোখা গেল না। ওঁর দৃঢ় বিশ্বাস, হয় জীবনবাবু, না হয় ঐ সুপ্রিয়-ডিক্রুজা টাকাটা হাতাবার তালে আছে। এখন থেকে ব্যবস্থা করলে এ দুর্ঘটনা এড়ানো চলতে পারে। কৌশিককে উনি বললেন, তুমি এখনই একটা স্যুটকেস্ নিয়ে পার্ক হোটেলে চলে যাও। ওরা আছে রুম নম্বর 39-এ। তার কাছাকাছি একটা ঘর একদিনের জন্য ভাড়া নিও। ঘরটা নেওয়ার আগে দেখে নিও ওখান থেকে রুম 39 নজরে আসে কি না। তারপর সারাদিন ঐ ক্যাশিয়ার ম্যানেজারের উপর নজর রাখ। কে কখন বেরিয়ে যাচ্ছে, ঢুকছে, কোনও বাইরের ভিজিটার্স আসছে কি না, কোথায় লাঞ্চ করছে ইত্যাদি।

    কৌশিক বলে, আর কিছু?

    —হ্যাঁ। এছাড়া তুমি বম্বে মেলে-এ একখানা ফার্স্ট ক্লাস টিকিট কাট। রিজার্ভেশান যদি না পাও তাহলেও টিকিট কাটবে। সুপ্রিয় যে কথা জীবন বিশ্বাসকে বলেছে তা যদি সত্য হয় তাহলে একটা ব্যার্থ শেষ মুহূর্তে খালি পাবেই। যদি নাও পাও তবে কন্ডাকটার গার্ড-এর সঙ্গে ম্যানেজ করে নিও। শেষ পর্যন্ত দরকার হলে প্যাসেজে বসেই যেতে হবে। মোটকথা ঐ বগিতে তোমাকে বোম্বাই যেতে হবে।

    —বুঝলাম। বোম্বাই গেলাম। তারপর?

    —ঐ ম্যানেজার আর ক্যাশিয়ার নিরাপদে তাদের গন্তব্যস্থলে পৌঁছে গেলেই তোমার ছুটি। ফিরে আসবে। কিন্তু তার আগে সহযাত্রী হিসাবে ওদের দু-জনের সঙ্গেই যতটা পার আলাপ জমাবে।

    —আর কিছু নির্দেশ?

    —আছে। প্রথম কথা, পার্ক হোটেলে যখন উঠবে তখন তোমার ছদ্মবেশ থাকবে। ট্রেনে স্বাভাবিক চেহারায়। যাতে ওরা দুজন বুঝতে না পারে যে, ওদের ট্রেনের সহযাত্রী ভদ্রলোকে ঐ পার্ক-হোটেলেরই বোর্ডার ছিল। দ্বিতীয় কথা, ট্রেন ছাড়ার আগে তুমি সুজাতার সঙ্গে কথা বলবে না।

    —সুজাতা! সুজাতাকে কোথায় পাব?

    বাসু-সাহেব এবার সুজাতার দিকে ফিরে বলেন, তুমি সুজাতা, সন্ধ্যা সাড়ে ছটার সময় একটা ট্যাক্সি নিয়ে হাওড়া স্টেশানে চলে যাবে। সঙ্গে নেবে শুধু একটা লেডিজ হাত-ব্যাগ। স্টেশানে পৌঁছে একটা প্ল্যাটফর্ম টিকিট কাটবে। বম্বে মেল নয় নম্বর প্ল্যাটফর্ম থেকে রাত সাড়ে সাতটার সময় ছাড়ে। কিন্তু সেটাকে বেদবাক্য বলে ধরে নিও না। কানখাড়া করে শুনে নিও ঘোষক বলছে কি না : কৃপা কর্ শুনিয়ে থ্রি-আপ বোম্বাই মেল নও নম্বরকে বদলে—

    সুজাতা বাধা দিয়ে বলে, আপনি কি আমাকে বাচ্চা খুকিটি পেয়েছেন?

    —না। সব সম্ভাবনাই ভেবে দেখছি আমি। মোটকথা ফার্স্ট ক্লাস রিজার্ভেশান চার্টে দেখবে 3542 এবং 3543 টিকিটধারি মিস্টার অ্যান্ড মিসেস্ দাসগুপ্তের ক্যুপ কোন্ বগিতে আছে। ঐ ক্যুপেতে গিয়ে গ্যাঁট হয়ে বসে-থাকবে। কী হচ্ছে না হচ্ছে দেখবে।

    —আর-কন্ডাকটার গার্ড যখন আমার রিজার্ভেশান টিকিট দেখতে চাইবে?

    —তখন বলবে, তুমি মিসেস দাশগুপ্তা। তোমার কর্তা টিকিট আর মালপত্র নিয়ে পিছনের ট্যাক্সিতে আসছেন। ট্রেন ছাড়া পর্যন্ত ঐ অজুহাতে কামরায় বসে থাকবে। তারপর বাধ্য হয়ে নেবে কর্তাকে খুঁজবার অভিনয় করবে। এনি কোশ্চেন?

    —ধরুন যদি ঐ সুপ্রিয় দাশগুপ্ত একটি মহিলাকে নিয়ে এসে কন্ডাকটার গার্ডকে তাদের রিজার্ভেশান দেখায়?

    —তা তো দেখাবেই। তবু তুমি সিট ছাড়বে না। ঝগড়া-চেঁচামেচি করবে—যাতে ভিড় জমে যায়।…অমন করে আমার দিকে তাকাচ্ছ কেন সুজাতা এ জাতীয় কাজ তো তোমরা হামেশাই অহেতুক করে থাক, আজ প্রয়োজনে পারবে না?

    —কী করে থাকি?

    —অবুঝের মতে অহেতুক চেঁচামেচি! আবদেরে ন্যাকা ন্যাকা গলায় বলা— আগে আমার মিস্টার আসুন, না হলে আমি সিট ছাড়ব না।’

    সুজাতা হেসে ফেলে। বলে, আপনার উদ্দেশ্যটা কী বলুন তো?

    ভিড় জমানো। যাতে আশপাশের কামরার প্যাসেঞ্জার কৌতূহল হয়ে ব্যাপারটা দেখতে আসে। অন্তত কন্ডাকটার গার্ড যাতে ঐ তথাকথিত মিসেস্ দাশগুপ্তকে অনেকক্ষণ ধরে দেখে। সে ক্ষেত্রে প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে ঐ কন্ডাকটার গার্ড বা অন্য কোনো সহযাত্রী সহজেই মেয়েটিকে শনাক্ত করতে পারবে।

    রানি বলেন, আর আমার কাজ? কড়ায় তেল বসিয়ে দেব?

    —তেল?

    —ভ্যারেণ্ডা ভাজতে?

    —না! তুমি হচ্ছ আমাদের কন্ট্রোলরুম। কৌশিক প্রতি দু’তিন ঘণ্টা অন্তর রিপোর্ট দেবে। তুমি সেই রিপোর্ট সময়-চিহ্ন দিয়ে নোট করে যাবে। আমাদের তিনজনকে গাইড করবে ওর রিপোর্ট অনুযায়ী।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপথের কাঁটা – নারায়ণ সান্যাল
    Next Article সোনার কাঁটা – নারায়ণ সান্যাল

    Related Articles

    নারায়ণ সান্যাল

    অলকনন্দা – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    আবার যদি ইচ্ছা কর – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    আম্রপালী – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    বিশ্বাসঘাতক – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    সোনার কাঁটা – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    পথের কাঁটা – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }