Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মাছের কাঁটা – নারায়ণ সান্যাল

    নারায়ণ সান্যাল এক পাতা গল্প107 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    মাছের কাঁটা – ৮

    ৮

    বাড়িতে যখন এসে পৌঁছলেন তখন বিকাল পাঁচটা। গাড়ি থেকে নেমে উনি ধীরে ধীরে ঢুকে গেলেন নিজের চেম্বারে। অন্যদিন সচরাচর প্রথমেই গিয়ে রানির সঙ্গে দেখা করেন। দু-চারটে খোশ-গল্প করতে করতেই এক কাপ কফি খান। তারপর স্নান করেন, এবং তারপর নিজের চেম্বারে গিয়ে বসেন। পিছনে থাক-দেওয়া আইনের, বই—নিচেকার লকারে থাকে লিকার-গ্লাস। বিশু রেখে যায় বরফের কুচির প্লেট। রাত নটায় ডিনার। কিন্তু তারপর আবার শুরু হয় পড়াশুনা। আবার গিয়ে বসেন চেম্বারে—তখন আর মদ্যপান করেন না। ক্বচিৎ কোনোদিন হয়তো একটা ড্রাই মার্টিনি নিলেন—সেটা ধর্তব্যের মধ্যে নয়। কখন শুতে যাবেন সেটা নির্ভর করে পরদিনের মামলার গুরুত্বের উপর—অথবা হয়তো নির্ভর করে কতক্ষণে একটা চাকা দেওয়া চেয়ার এসে থামবে ঐ চেম্বারের দ্বারপথে। শোনা যাবে প্রশ্ন, রাত অনেক হল যে, শোবে না?

    আজ তার ব্যতিক্রম হল। বাসু স্নান করলেন না, কফি খেলেন না। রানি দেবীর সঙ্গে দুটো হাল্কা-রসিকতাও করলেন না। এমনকি জামা জুতো পর্যন্ত ছাড়লেন না। ঢুকে গেলেন চেম্বারে।

    মিনিট দশেক পরে ইন্টারকমটা সাড়া দিয়ে উঠল। কাচের গবলেটটা সরিয়ে রেখে বাসু সুইচ টিপে বললেন, বলো, শুনছি।

    —কফি খাবে না? ভিতরে আসবে না?

    —আসব রানু—ভিতরে আসব বই কি। একটু পরে-

    —শোনো, ইতিমধ্যে একটা ব্যাপার হয়েছে। একটু আগে সুবর্ণ এসেছে-

    চমকে উঠলেন বাসু। অস্বাভাবিকভাবে। হয়তো আনমনা ছিলেন, কিম্বা অত্যন্ত দ্রুত মদটা খাচ্ছিলেন—প্রায় আর্তকণ্ঠে বলে ওঠেন, কে? কে এসেছে বললে?

    —ঐ সুপ্রিয়ের স্ত্রী। যাকে আসতে বলেছিলে তুমি—

    —হ্যাঁ, কিন্তু কী নাম বললে তাঁর?

    বেদনাহত কণ্ঠ ভেসে এল রানি দেবীর, হ্যাঁ, ঐ নামই! আশ্চর্য কোয়েন্সিডেন্স নয়? দুজনেই নীরব। প্রায় আধ মিনিট। শেষে রানি বললেন, আমি ও-ঘরে আসব? –তাই এস আমি ঐ মেয়েটার সামনে দাঁড়াতে…তুমি চলে এস—

    নিতান্ত কাকতালীয় ব্যাপার। বছর সাতেক আগে ম্যাসানজোর বাঁধ দেখতে গিয়ে পথ-দুর্ঘটনায় বাসু-সাহেবের যে মেয়েটি মারা যায় তার নাম এবং ঐ ‘দাগী আসামি’ সুপ্রিয় দাশগুপ্তের স্ত্রীর নাম অভিন্ন। দুজনেই সুবর্ণ!

    একটু পরে চেম্বারের দরজাটা খুলে গেল। চাকা-দেওয়া চেয়ারে এসে উপস্থিত হলেন মিসেস বাসু। বললেন, সুজাতার কাছে সব শুনলাম। আজকের মামলার খবর।—একটু থেমে আবার বলেন, ছেলেটাকে বাঁচানো যাবে না, নয়?

    অসহায়ভাবে মাথা নাড়লেন বাসুসাহেব।

    দুজনেই কিছুটা নীরব। তারপর বাসু বললেন, তুমি যা ভাবছ তা নয় রানু। আমার আনব্রোকন রেকর্ড আজ ভেঙে যাচ্ছে বলে আজ ভেঙে পড়িনি আমি। আফটার অল, হোয়াট্স দ্যাট আনব্রোকন রেকর্ড? মিয়ার চান্স! আমি বরাবর জিতেছি। কেন জিতেছি? আমার বাকপটুতার জন্যে? বুদ্ধির জন্যে? আইনজ্ঞানের জন্যে? না! নিতান্ত কোয়েন্সিডেন্স। ঘটনাচক্রে প্রতিটি ক্ষেত্রেই সত্য ছিল আমার পক্ষে। আমি যাদের হয়ে লড়েছি তারা প্রতিক্ষেত্রেই ছিল নির্দোষ। হ্যাঁ, একটিমাত্র ব্যতিক্রম আছে—তোমার মনে আছে নিশ্চয়। সেই মারোয়াড়ি ছেলেটার কেস—যে তার বাপকে খুন করেছিল। কিন্তু আমি যখন তার কেস লড়েছিলাম তখন আমি আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করেছিলাম তার কথায়—যে, সে নির্দোষ? সেও বেকসুর খালাস হয়েছিল। খালাস পাবার পর আনন্দের আতিশয্যে সে এসে আমার কাছে স্বীকার করেছিল—সে নিজেই তার বাপকে খুন করেছে!

    রানি বললেন, মনে আছে আমার। তারপরে বহুদিন তুমি কোর্টে যাওনি

    —সেবার তবু একটা সান্ত্বনা ছিল রানি—আমি আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করেছিলাম যে, ছেলেটা নির্দোষ! বিবেকের কাছে আমি পরিষ্কার ছিলাম। কিন্তু এবার? এবার যে আমি নিজেই বুঝতে পারছি লোকটা একটা পাকা ক্রিমিনাল!

    —সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই?

    —থাকলে এভাবে ভেঙে পড়ি আমি? আগামীকাল জীবনে প্রথম কোর্ট থেকে হেরে ফিরব—সেজন্য আমার কোনো দুঃখ নেই। অতটা আত্মকেন্দ্রিক নই আমি। কোর্ট থেকে ফেরার কথা ভাবছি না আমি। কোর্টে যাবার কথাই ভাবছি। লোকটা দোষী জেনেও কেমন করে তার পক্ষে সওয়াল করব? সেখানেই যে আমার সত্যিকারের অনাব্রোকন রেকর্ড সজ্ঞানে ভাঙব আমি।

    —উপায় কী বল? এ অবস্থায় কি তুমি আইনত ওর পক্ষ ত্যাগ করতে পার?

    —পারি! আইনত পারি—প্রফেশনাল এথিক্সে পারি না। সমস্ত বার অ্যাসোসিয়েশান একবাক্যে বলবে—নিশ্চিত পরাজয় এড়াতে বাসু-সাহেব পালিয়ে গেল!

    —ওরা তোমার আসল বেদনার কথাটা বুঝবে না?

    —কেমন করে বুঝবে রানু? তুমি ওদের সাইকলজিটা দেখছ না? ওদের সবারই একবার না একবার লেজ কাটা গেছে। দল-ছুট এই লাঙ্গুল-যুক্ত শৃগালটিকে কেমন করে ওরা ক্ষমা করতে পারবে? আর তাছাড়া কথাটাও তো ঠিক! নিশ্চিত পরাজয় এড়াতে সবাই যদি এমনভাবে সরে দাঁড়ায় তবে মক্কেলরা কোথায় দাঁড়াবে?

    —মিঠুর সঙ্গে দেখা করবে না?

    —মিঠু!—চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ান বাসু-সাহেব!

    অত্যন্ত লজ্জা পেয়ে যান রানি দেবী, না, না। ওটা আমারই ভুল! ওর নাম মিঠু নয়। ওর…ওর ডাক নাম আমি জানি না! আমার…আমার…

    হঠাৎ কোথাও কিছু নেই মুখে আঁচল চাপা দিলেন রানি বাসু।

    অনেক অনেক দিন পর ঐ দুটো নাম—’সুবর্ণ’ আর ‘মিঠু’ এ বাড়িতে উচ্চারিত হল। বাসু-সাহেব বুঝতে পারেন—রানি অজান্তে ঐ নামের সাযুজ্যে ধরে অজানা অচেনা মেয়েটাকে আপন করে নিয়েছে। তাই সুপ্রিয় দাশগুপ্তের স্ত্রী সুবর্ণ হঠাৎ ‘মিঠু’ও হয়ে গেছে তাঁর কাছে। বাসু উঠে এসে ওঁর পিঠে একটা হাত রাখেন। রানি ততক্ষণে সামলেছেন। স্বামীর দিকে তাকিয়ে বললেন, চল, ভিতরে যাই।

    সুপ্রিয় বলেছিল তার স্ত্রী নার্ভাস প্রকৃতির। কিন্তু তেমন কিছু নার্ভাস প্রকৃতির বলে মনে হল না বাসু-সাহেবের। এমন দুঃসংবাদ আচমকা পেলে সবাই কিছুটা হতচকিত হয়ে পড়ে। তার বেশি কিছু নয়। সে নিজেই চলে এসেছে। প্লেনে নয়, ট্রেনেই। হাওড়া স্টেশন থেকে ট্যাক্সি নিয়ে একেবারে নিউ আলিপুরে। বাসু-সাহেব ওকে আপাদমস্তক ভাল করে দেখে নিলেন। ওঁদের মেয়ে সুবর্ণ মারা গেছে সাত বছর আগে। তখন তার বয়স ছিল আট নয়—অর্থাৎ থাকলে আজ সেই সুবর্ণের বয়স হত ষোলো। এ মেয়েটি ষোড়শী নয়। বছর-বাইশ বয়স ওর। দুই সুবর্ণের আকৃতিগত পার্থক্যও যথেষ্ট। সে ছিল ফর্সা, এ শ্যামলা। সে ছিল রোগা একহারা, এ দোহারা, স্বাস্থ্যবতী। একমাত্র নাম—সাযুজ্য ছাড়া আর কোনো সাদৃশ্য নেই!

    না! ভুল হল! আর একটা সাদৃশ্য আছে! সেই সুবর্ণের মাথা লক্ষ্য করে যখন এক নিষ্ঠুর অলক্ষ্যচারী বজ্র নিক্ষেপ করেছিলেন তখন বাসু-সাহেব বুক পেতে দিয়েও তাকে রক্ষা করতে পারেননি। ওঁর বিদ্যা, বুদ্ধি, প্রতিপত্তি, অর্থ সব কিছু নিষ্ফল হয়ে গিয়েছিল সেই অসহায় ছোট্ট মেয়েটার শেষ-সংগ্রামে। আজ এই সুবর্ণের অবস্থাও তাই। ওঁর বিদ্যা-বুদ্ধি-আইনজ্ঞান কোনো কিছুই ঐ আশ্রিতা মেয়েটিকে রক্ষা করতে পারবে না!

    —কতদিন বিয়ে হয়েছে তোমাদের?—প্রশ্ন করলেন বাসু।

    —দু’বছর।

    —বাচ্চা-টাচ্চা হয়নি?

    মেয়েটি মুখ নিচু করল। রানি দেবী পাশ থেকে বলে ওঠেন, পেটে এসেছিল, থাকেনি।

    —বাবা-মা আছেন? বাপের বাড়ি কোথায়?

    মেয়েটি মুখ তুলল না। টপ্ টপ্ করে কয়েক ফোঁটা জল ঝরে পড়ল কোলের উপর রানি দেবীই জবাব দিলেন এ প্রশ্নের। বললেন—বাপের বাড়ি, শ্বশুরবাড়ি কোথাও ওকে নেবে না। অ্যারেঞ্জড ম্যারেজ নয়—অসবর্ণ বিয়ে। ওরা পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেছিল।

    কোথায় এ রোমান্টিক সংবাদে খুশিয়াল হয়ে উঠবেন আধুনিকমনা ব্যারিস্টার-সাহেব, তা নয় খিঁচিয়ে ওঠেন উনি, প্রেম করে বিয়ে! তা প্রেম করার আগে ওর ফিঙ্গার-প্রিন্টটা নিয়ে যাচাই করাওনি?—চেয়ার ছেড়ে উঠে পদচারণা শুরু করেন।

    বেদনাহত জলভরা দু-চোখ তুলে মেয়েটি বললে, ও খুন করেনি! আপনি বিশ্বাস করুন!

    বাসু-সাহেব বাঁ-হাতের তালুতে ডান হাত দিয়ে একটা মুষ্টাঘাত করলেন শুধু।

    —ও মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে পড়েছে…আপনি…আপনি ওকে বাঁচান!—মেয়েটি উঠে দাঁড়াতে চায়। ওঁর পায়ের উপর লুটিয়ে পড়ত—কিংবা—

    বাসু-সাহেব প্রচণ্ড ধমক দিয়ে ওঠেন : সিট ডাউন!

    থতমত খেয়ে মেয়েটি আবার চেয়ারে বসে পড়ে।

    —আজ থেকে ছ’মাস আগে—ধর, গত বছর অক্টোবর-নভেম্বর-ডিসেম্বর সুপ্রিয় বোম্বাই থেকে ক’লকাতা এসেছিল?

    সুবর্ণ মনে মনে কী হিসাব করে বলল, হ্যাঁ, অফিসের কাজে। মাসখানেকের জন্য কেন?

    —’কেন’ সে-কথা থাক। তুমি কি কোনোদিন এমন আশঙ্কা করনি, যে, ওর কোন ‘শেডি-পাস্ট’ থাকতে পারে?

    —ওর কোনো শেডি-পাস্ট নেই!

    —কাকে কী বলছ সুবর্ণ? মায়ের কাছে মাসির গল্প?

    রানি দেবী এবার প্রতিবাদ করে ওঠেন, তুমি কথায় কথায় ওকে অমন ধমক দেবে না কিন্তু

    বাসু-সাহেব একবার সুবর্ণের দিকে তাকিয়ে দেখলেন। শ্রাগ করলেন। গিয়ে বসলেন তাঁর ইজিচেয়ারে। পাইপটা ধরালেন।

    সুবর্ণ বললে, আমি ওর সঙ্গে দেখা করব।

    —তা তো করবেই। কাল সকালে তোমাকে নিয়ে যাব।

    ঠিক তখনই বিশু এনে দিল একটা ওভার-সিজ টেলিগ্রাফ। খামটা খুলে বাসু দেখলেন তারবার্তাটা আসছে ব্যাঙ্কক থেকে। তাতে লেখা :

    “সুপ্রিয় দাশগুপ্তকে ডিফেন্ড করুন এএএ তার সততা এবং কর্মদক্ষতা সন্দেহের অতীত এএএ যাবতীয় খরচ আমার এএএ আকাশ হচ্ছে খরচের ঊর্ধ্বসীমা এএএ রবিবার দমদম পৌঁছাব এএএ মোহনস্বরূপ কাপাডিয়া।”

    বাসু-সাহেব টেলিগ্রাফখানা বাড়িয়ে ধরলেন সুবর্ণের দিকে। বললেন, আই নাউ বেগ য়োর পার্ডন, সুবর্ণ! আমি অন্যায় কথা বলেছিলাম। তুমি প্রেমে পড়ে যে ভুল করেছ তোমার স্বামীর এমপ্লয়ার ধুরন্ধর কোটিপতি হওয়া সত্ত্বেও সেই একই ভুল করেছেন!

    নিজের ঘরে গিয়ে টেলিফোন তুলে নিলেন বাসু। পার্ক-হোটেলের নাম্বার চাইলেন। অপারেটারকে বললেন, রুম নম্বর 78 প্লিজ।

    একটু পরে রিঙিং টোন শোনা গেল। ওপ্রান্ত বলল, হ্যালো, জীবন বিশ্বাস বলছি—

    —আমাকে না বলে কোর্ট ছেড়ে চলে এলেন কেন?

    —আপনি কে? বাসু-সাহেব?

    —হ্যাঁ, আমি। কোর্ট থেকে পালিয়ে এলেন কেন?

    —পালিয়ে তো আসিনি স্যার। কেন, কোনো দরকার আছে?

    —আছে! তুমি ইচ্ছে করে তোমার বন্ধুকে ফাঁসাচ্ছ!

    —কী যে বলেন স্যার! আমি কেন ফাঁসাব? আমি তো তার জন্যে পার্জারির কেসে ফাঁসতে পর্যন্ত রাজি হয়েছিলাম?

    বাসু-সাহেব একটু চুপ করে থাকলেন। তারপর বললেন, তুমি ঘণ্টাখানেক হোটেল ছেড়ে বের হয়ো না। তোমাকে একটা জরুরি খবর দেব। বুঝলে?

    —আজ্ঞে আচ্ছা!

    ‘বাসু-সাহেব টেলিফোনটা রেখে টানা-ড্রয়ারটা খুললেন। বার করে নিলেন আত্মরক্ষার একটা অস্ত্র। সুজাতা এসে দাঁড়ালো দরজায়। বললে, বের হচ্ছেন নাকি আবার?

    —হ্যাঁ, সুজাতা! আবার এক মিস্টিরিয়াস্ ব্যাপার। পার্ক-হোটেলে ফোন করে এইমাত্র জীবন বিশ্বাসের সঙ্গে কথা বললাম। লোকটা জীবন বিশ্বাস নয়। আই মাস্ট ‘ফাইন্ড আউট—লোকটা কে!

    —সে কী! লোকটা বলল যে, সে জীবন বিশ্বাস?

    —তাই সে বলল। গলাটা নকল করবার চেষ্টাও করছিল—কিন্তু পারেনি।

    গাড়িটা নিয়ে বেরিয়ে গেলেন উনি। একাই।

    আধঘণ্টা পরে পার্ক হোটেলের নিচে গাড়িটা রেখে এগিয়ে গেলেন রিসেপশান কাউন্টারের দিকে। জীবন বিশ্বাসের রুম নম্বর জেনে নিয়ে লিফ্ট ধরে উপরে উঠলেন। চিহ্নিত দরজায় যখন বাঁ-হাতে টোকা মারলেন তখন তাঁর ডান হাতটা ছিল পকেটে—যে পকেটে আছে তাঁর আত্মরক্ষার অস্ত্রটা।

    একটু পরেই দরজা খুলে গেল। ভিতরে দাঁড়িয়ে আছে কৌশিক।

    —তুমি! তুমিই তখন ফোন ধরেছিলে?

    —হ্যাঁ, কিন্তু আপনি যে বললেন আবার ফোন করবেন?

    বাসু-সাহেব দরজাটা বন্ধ করে দিলেন। হাসতে হাসতে গিয়ে বসলেন একটা চেয়ারে। বললেন, টিকটিকিগিরি ভালই করছ। কিন্তু একটা ভুল হয়েছিল তোমার। তুমি ভুলে গিয়েছিলে জীবন বিশ্বাসের কাছে ‘পার্জারির’ অর্থ জোলাপ নেওয়া।

    এবার কৌশিকও হেসে ওঠে উচ্চকণ্ঠে। বলে, আয়াম সরি।

    কৌশিক তার এই অদ্ভুত আচরণের কৈফিয়ত দিল—

    মিথ্যা-সাক্ষী ধরা পড়ার পরেই জীবন আদালতে ছেড়ে বেরিয়ে আসে। কৌশিকের সন্দেহ হয় যে, সে আত্মগোপন করতে চাইছে! সে পিছন পিছন বেরিয়ে আসে। জীবন একটি ফ্লাইং ট্যাক্সি ধরে রওনা দেয়। দ্বিতীয় ট্যাক্সি পেতে প্রায় মিনিট দশেক দেরি হয়ে যায় তার। দুর্ভাগ্যক্রমে পথে একটা মিছিল পড়ে আরও দশ মিনিট দেরি হয়ে যায়। কৌশিক এসে পৌঁছয় পার্ক-হোটেলে। রুম বেয়ারা হরিমোহনের খোঁজ পেতে বিলম্ব হয় না। তার মাধ্যমে রিসেপশান কাউন্টারে খবর নিয়ে জানতে পারে, মিনিট পাঁচেক আগে জীবন বিশ্বাস চেক আউট করে বেরিয়ে গেছে। ও তার রুম নাম্বারটা জেনে নেয় এবং জে. বিশ্বাস নামে তখনই ঘরটা বুক করে।

    —কেন?

    —আমি একটা চান্স নিলাম স্যার, আর অদ্ভুত ফল ফলেছে তাতে!

    —কী রকম?

    কৌশিক নাকি ঘরে এসেই টেলিফোনটা তুলে নিয়েছিল। অপারেটারকে বলে, রুম নাম্বার 78 থেকে মিস্টার বিশ্বাস বলছি—আমার কোনো ট্রাংক কল এসেছিল ইতিমধ্যে?

    মেয়েটি বললে, না স্যার। কাল বিকালে সেই যে ট্রাংক কল এসেছিল তারপর তো আসেনি।

    —কৌশিক বলেছিল, আচ্ছা কালকে আমি যে কলটা রিসিভ করেছিলাম সেটা বর্ধমান থেকে, না দুর্গাপুর থেকে? মনে আছে আপনার?

    —আপনার মনে নেই? আসানসোল থেকে। কলার-এর নাম্বারটা চান?

    —আছে আপনার কাছে? আমাকে উনি বলেছিলেন, লিখেও রেখেছি; কিন্তু কোথায় যে ফেললাম!

    —এক মিনিট। আপনি লাইনটা ছেড়ে দিন। এখুনি জানাব আপনাকে। সমস্ত ইন-কামিং আর আউট-গোয়িং ট্রাংক কল লেখা থাকে একটা রেজিস্টারে।

    —তাই নাকি? তা তো জানতাম না।

    —নাহলে এত চার্জ আপনারা দেন কেন পার্ক-হোটেলে?

    কৌশিক টেলিফোনটা নামিয়ে রাখল। সে মনে মনে হাসছিল—মেয়েটা ধরতে পারেনি, যে, রুম নম্বর 78-এর বাসিন্দা গত দশ মিনিটের ভিতর বদলে গেছে। ‘বিশ্বাস’ উপাধিটাই কি ওর বিশ্বাস উৎপাদন করল? মেয়েটিও তখন ও-প্রান্তে মনে মনে হাসছিল—রুম 78-এর ভদ্রলোকের কাছে হোটেলের বিজ্ঞাপনটা সে ভালই করেছে। সে জানে এ ব্যবস্থার জন্য আসলে দায়ী কলকাতার পুলিশ কমিশনার! খানদানি হোটেলেই খানদানি ষড়যন্ত্রকারীরা ওঠে। তাদের গতিবিধির উপর নজর রাখার জন্যই এই আদেশ দিয়েছে আরক্ষা বিভাগ

    এক মিনিট পরে মেয়েটি ফোন করে জানাল, কাল আপনার কলার ছিলেন আসানসোল…

    — থ্যাঙ্কু। আপনি আর কতক্ষণ বোর্ডে আছেন?

    —কেন বলুন তো? কোন ইন্সট্রাকশান থাকলে আমার সাসেসারকে বলে যাব।

    -–সে জন্য নয়। কারণটা না জানালে বলতে আপত্তি আছে?

    —না না, তা কেন? আমার এখনই ডিউটি শেষ হল। আবার কাল বেলা দশটায় আসব আমি। এবার বলুন, কেন জানতে চাইছিলেন।

    কৌশিক অম্লান বদনে বললে, তাহলে কাল দশটার সময় আবার আপনাকে বিরক্ত করব। আপনার কণ্ঠস্বরটা আমার খুব ভাল লাগছে। ডোন্ট টেক ইট আদার-ওয়াইজ আমার এক নিকট আত্মীয়া, আত্মীয়া ঠিক নয় বান্ধবীর সঙ্গে আপনার কণ্ঠস্বরের অদ্ভুত মিল।

    মেয়েটির হাসির জলতরঙ্গ ভেসে এসেছিল টেলিফোনে। বলেছিল, গুডনাইট স্যার। সুইট ড্রিমস!

    —সেম টু য়ু। লাইন কেটে দিয়েছিল কৌশিক।

    তারপর আধঘন্টা অপেক্ষা করে সে আবার ফোনটা তুলেছিল। এবার কণ্ঠস্বর অনেক ভারী, অনেক ভরাট। কৌশিক বর্ধমান সদর থানার ও.সি.-কে একটা পি.পি. কল বুক করে। লাইটনিং কল। তৎক্ষণাৎ লাইন পায়। সে নৃপেন ঘোষালকে জানায় যে, বাসু-সাহেব যে মিস ডিক্রুজাকে খুঁজছেন সে আসানসোলের ‘অমুক’ নম্বর থেকে গতকাল ফোন করেছিল। নৃপেন ওকে বলে—এরপর যদি মেয়েটাকে চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে পাকড়াও করতে না পারি তবে আমার নামটা পালটে রাখবেন।

    কৌশিকের এতবড় কৃতিত্বেও কিন্তু বাসু-সাহেবের কোনো ভাবান্তর হল না। তিনি স্থির হয়ে বসে আছেন। যেন ধ্যানস্থ। এতক্ষণ শুনছিলেন কি না তাই বোঝা গেল না। কৌশিক বুঝতে পারে উনি গভীর চিন্তায় মগ্ন। সে কোনো সাড়াশব্দ দেয় না। পুরো পাঁচ মিনিট কী চিন্তা করে হঠাৎ নড়েচড়ে বসলেন উনি। বলেন, কৌশিক, আমি কোনো চান্স নেব না। মনে হচ্ছে সমাধান হয়ে গেছে। এখনও দু-চারটে ছোট ছোট অসঙ্গতি রয়েছে বটে, কিন্তু মূল সমস্যাটার মীমাংসা হয়ে গেছে

    —কী বুঝেছেন আপনি?

    —দুই আর দুইয়ে চার!

    —তার মানে?

    —তার মানে তুমি এখান থেকেই আমার এই গাড়িটা নিয়ে আসানসোল চলে যাও। এখন সন্ধ্যা সাতটা। রাত দশটা নাগাদ তুমি বর্ধমানে পৌঁছাবে। সেখানে যদি নৃপেনের দেখা পাও ভাল, না পাও প্রসিড টু আসানসোল। রাত একটা নাগাদ সেখানে পৌঁছবে। সোজা কোতোয়ালিতে চলে যাবে। সেখানে আমার পরবর্তী নির্দেশ পাবে।

    —কার কাছে?

    —ডিউটি অফিসারের কাছে। আমি বাড়ি ফিরে এ.ডি. এম্ আসানসোল, ডি. এস. পি. অথবা এস. ডি. ও. সদর যাকে কনট্যাক্ট করতে পারব তাঁকে ব্যাপারটা জানাব। মার্ডার-কেস। ওরা তোমাকে সাহায্য করবেই।

    কৌশিক বলে, আর যে-সে মার্ডার নয়! লক্ষপতি এস.পি. জৈনের মার্ডার-কেস! বাসু উঠে দাঁড়িয়ে ছিলেন। ওর কাঁধে একখানা হাত রেখে বলেন, তুমি আমাকে ভুল বুঝছ কোশিক। আমি হত্যা তদন্তের কথা বলছি না—হত্যাকাণ্ড বন্ধ করতে চাইছি! আজ রাত্রেই আসানসোলে দ্বিতীয় একটা মার্ডার হবার আশঙ্কা আছে!

    কৌশিক স্তব্ধ বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকে।

    বাসু-সাহেব পকেট থেকে রিভলভারটা বার করে ওর হাতে দেন, ধর!

    —সে কী! এর লাইসেন্স যে আপনার নামে!

    —সে দায়িত্ব আমার, কৌশিক। কিন্তু মৃত্যুর মুখে তোমাকে তো আমি নিরস্ত্র যেতে বলতে পারি না। আমি নিজে যেতে পারছি না। কাল দশটায় আমার কেস আবার উঠবে। আশা করছি, তার আগেই ভোররাত্রে তোমার একটা ফোন পাব। আমার অনুমান যদি সত্যি হয় মিঠুকে এবার বাঁচাতে পারব!

    কৌশিক অবাক বিস্ময়ে বলে, মিঠু কে?

    ম্লান হাসলেন বাসু। নিজেকেই বললেন যেন, আই বেগ য়োর পার্ডন। মিসেস্ সুপ্রিয় দাশগুপ্ত। সে এসে উঠেছে আমার বাড়িতে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপথের কাঁটা – নারায়ণ সান্যাল
    Next Article সোনার কাঁটা – নারায়ণ সান্যাল

    Related Articles

    নারায়ণ সান্যাল

    অলকনন্দা – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    আবার যদি ইচ্ছা কর – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    আম্রপালী – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    বিশ্বাসঘাতক – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    সোনার কাঁটা – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    পথের কাঁটা – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }