Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মাটির দেওয়াল – প্রচেত গুপ্ত

    প্রচেত গুপ্ত এক পাতা গল্প190 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    মাটির দেওয়াল – ৭

    ৭

    সরু আলপথের শেষে একটা বাঁশের সাঁকো।

    ঠিক যেন কেউ ছবি এঁকে রেখে গিয়েছে। শিরীষ থমকে দাঁড়াল। নয় নয় করেও আট মাসের বেশি এখানে থাকা হয়ে গেল, কই এই সেতু তো আগে নজরে পড়েনি! এটাও কি নাওডুবি গ্রামের মধ্যে? নাকি হাঁটতে হাঁটতে অন্য কোথাও চলে এসেছে? অন্য কোনও গ্রামে?

    শিরীষের বেশ অবাকই লাগছে। এদিকটায় কি সে কখনও আসেনি? তা কী করে হবে? নিশ্চয়ই এসেছে, এত মন দিয়ে খেয়াল করেনি। অনেক সময় এরকম হয়। একই জায়গা অন্যরকম লাগে। মানুষের বেলাতেও তাই। চেনা মানুষকে মনে হয় বদলে গিয়েছে। আসলে সব কিছুর ভিতরেই খানিকটা অদেখা থেকে যায়। সে প্রকৃতিই হোক আর মানুষই হোক। শিরীষ লম্বা করে শ্বাস টানে। সোমদত্তার এমনটাই হয়েছে। সে এতদিন ঘর করবার পরও, স্বামীর পুরোটা দেখেনি। তাই এই ঘটনায় বড় ধাক্কা খেয়েছে। মেনে নিতে পারছে না। শিরীষও কি নিজেকে এভাবে জানত? এতদিন ধরে তিলতিল করে গড়ে তোলা সিস্টেম এভাবে ভেঙে দেবে জানত সে? মনে হয় না। চেনা মানুষের ভিতরে ঘুমিয়ে থাকা অচেনা মানুষটা কখন জেগে উঠবে কেউ আগাম জানতে পারে না।

    সাঁকোটা দেখেই বোঝা যাচ্ছে, পলকা একটা সেতু। বাতাসে একটু একটু দুলছে। পাশাপাশি দু’জনও যেতে পারবে কিনা সন্দেহ। উলটো দিক থেকে আর একজন চলে এলে চেপে দাঁড়াতে হবে। তাতেও কি পারবে? ফিরে যেতে হতে পারে। জীবনের মতো। কোনও কোনও সেতু একা পার হতে হয়।

    ছবির মতো সাঁকোর ওপাশের আকাশ কালো মেঘে ভরা। খানিক আগেও এই মেঘ ছিল না। আকাশ ছিল নীল। আলো ঝলমলে। শরতের আলো। হঠাৎ কোথা থেকে যে এত ঘন কালো মেঘ এসে পড়ল কে জানে! যদিও সময়টা ‘এই রোদ এই মেঘ’-এর সময়। বৃষ্টি কখনও হয়, কখনও হয় না। হলেও বেশি হয় না। এক পশলা, দু’ পশলায় ক্ষান্ত দেয়। এখন মনে হচ্ছে, জোরে নামবে। নামলে কি সমস্যা হবে? শিরীষ ছাতা নিয়ে বেরোয়নি। ক’টা বাজে? শিরীষ কবজি উলটে ঘড়ি দেখতে গেল। ঘড়িও পরা হয়নি। হিসেব মতো দুপুর তিনটে -সাড়ে তিনটে হওয়ার কথা। আর একটু বেশি হতে পারে। মনে হচ্ছে, সন্ধে নেমে এসেছে। গ্রামে এমনিতেই তাড়াতাড়ি সন্ধে নামে। এখন তো মেঘে সব আলো ঢেকেছে। ঠান্ডা বাতাস দিচ্ছে। ঝড় উঠবে নাকি? শিরীষ আরও এগিয়ে গেল।

    নাওডুবি আসার পর বেশ কয়েকবার ঝড়জল দেখা হয়ে গেল শিরীষের। প্রথমবারের ঝড় ভয়ংকর ছিল। তখন জমির ঘরটায় ছাউনি ছিল খানিকটা টিনের, খানিকটা বাঁশ খড়ের, দেয়াল মাটির। রাতে হাওয়ার দাপটে সেই ছাউনির আধখানা ভেঙে, দুমড়ে মুচড়ে গেল উড়ে। শিরীষ বেরিয়ে যে অন্য কোনও বাড়িতে আশ্রয় নেবে, সে উপায় ছিল না। বড়মামা ঠিকই বলেছিলেন, এই জমির ধারেকাছে ঘরবাড়ি নেই। যে একটা-দুটো কাঁচা ঘর রয়েছে, সেগুলোও সব জমির মধ্যে। সেখানে মানুষজন থাকে না। জলের পাম্প, চাষবাস সরঞ্জাম রাখা হয়। অধিকাংশ সময় তাও থাকে না। খালিই পড়ে থাকে। জায়গাটা নাওডুবির গ্রামের মধ্যে পড়লে কী হবে, ঘরবাড়ির দেখা মেলে অনেকটা যাওয়ার পর। ফলে সেদিনের ঝড়জলে কোথাও যাওয়ার ছিল না। ঘরের একদিকের চাল উড়ে গিয়েছে, যে-কোনও মুহূর্তে বাঁশ, মাটির দেয়ালও ধসে পড়বে। বাইরে বেরোলেও বিপদ। খোলা মাঠে মাথায় বাজ পড়তে পারে। এইসব জায়গায় বাজ সবচেয়ে ভয়ের। বেরিয়ে গাড়ি পর্যন্ত যাওয়া অসম্ভব। গাড়ি কি আস্ত আছে? উপড়ে গাছ ভেঙে পড়েনি তো? নিকষ অন্ধকার। ঘরের হ্যারিকেন নিভে গিয়েছে। টর্চও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ভরসা শুধু আকাশ চেরা বিদ্যুতের আলো। সেই আলোতে ভিজে যাওয়া তক্তপোশ খানিকটা টেনে সরিয়েছিল শিরীষ। তারপর চুপ করে বসে জলের ছাঁটে ভিজতে ভিজতে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, মাথার উপর ঘরের বাকি চালটুকু যদি ভেঙে না পড়ে, কাল সকাল পর্যন্ত বেঁচে থাকে যদি, তবে এখানেই ‘প্রজেক্ট নাওডুবি’র ইতি। ফাইল ক্লোজ়ড। ফিরে যাবে কলকাতায়। মালপত্র ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কিছু নেই। জামাকাপড়, ব্যাগ জুতো যেটুকু যা আছে সবই ভিজে ঢোল। পড়ে থাকবে এখানে। পরে গ্রামের লোক যদি কেউ ঢোকে ঝড় জলে ছিন্নভিন্ন হয়ে যাওয়া এই ঘরে, জানবে, একটা লোক কিছুদিন পাগলামি করে বেসামাল হয়ে পালিয়েছে।

    কিন্তু ঘটল অন্য ঘটনা।

    ঝড়-জল থেমে গেল রাতেই। পরদিন ভোরের আলো ফুটতে ঘর থেকে বেরোল রাত জাগা শিরীষ। মেঘমুক্ত, ঝকঝকে নীল আকাশ। কে বলবে কাল সারারাত ভয়ংকর দুর্যোগ হয়েছে? পুব দিক থেকে সূর্য মুখ বাড়িয়েছে। সোনালি আলোতে রুক্ষ মাঠ ভেসে যাচ্ছে দিগন্ত পর্যন্ত। এই সময়ে এক ধরনের হ্যালুসিনেশন হল শিরীষের। মনে হল, পাকা ধানে তার খেত ভরে গিয়েছে। রাতের বৃষ্টিতে স্নান করে তারা ঝলমলে, খুশি। হাওয়ায় মাথা দুলিয়ে হাসছে। ফিসফিস করে কথা বলছে—”কেমন আছেন শিরীষবাবু? রাতে ঘুম কেমন হল?”

    মন ভরে গেল শিরীষের। সে স্বপ্নকে যেন চোখের সামনে দেখতে পেল। তার আর কলকাতায় ফেরা হল না। হাঁটু পর্যন্ত গামবুট পরে আলপথে ধরে দ্রুত হাঁটতে লাগল সে। কাজ অনেক। ট্রাক্টরের মালিককে খবর দিতে হবে। মাটিতে জল পড়েছে। বাতানোর কাজ সহজ হবে। মাটিতে নাইট্রোজেন বাড়াতে ধনঞ্চা গাছের বীজ ছড়াতে হবে। হারান বলেছে, মাস খানেক, মাসদেড়েকে এই ঘাস হাতখানেক বড় হবে। তখন ওই গাছ সমেত জমিতে ফাল চাষ দিতে হবে। ধনঞ্চা গাছের শিকড়বাকড়, পাতা জমির জন্য উপকারী। রুক্ষ পতিত জমিতে ফসল ফলানো কি সহজ কথা? অনেক ধৈর্য, অনেক পরিশ্রম লাগে। এরপর রোটার দিয়ে মাটিকে দলাই মলাই করা লাগবে। মাটি হবে ঝুরোকুরো। এরপর জৈব সার আর জল। এই জল পেয়ে জমি হবে কাদাকাদা। গ্রামের মানুষ বলে, ‘ভেকসা কাদা’। কাজ কি কম হল? কাদায় মাখামাখি হয়ে গাড়ির কাছে যায় শিরীষ। জমির গায়ে একটা বুড়ো অশ্বথ গাছের নীচে গাড়ি রাখার ব্যবস্থা করেছিল সে। রাতের ঝড়ে গাড়ির উপর ডাল ভেঙে পড়েছে। তবে ক্ষতি কিছু হয়নি। ছোটখাটো ডাল। সেসব সরিয়ে শিরীষ গাড়ি স্টার্ট করেছিল সবেরগঞ্জের দিকে। এখনই ট্রাক্টর ভাড়া করতে হবে।

    সাঁকোটা গিয়েছে একটা খালের ওপর দিয়ে। খালটা বাঁদিকে খানিকটা গিয়ে দুম করে মিলিয়ে গিয়েছে। আসলে বাঁক নিয়েছে। গোটা বর্ষাকাল কেটে যাওয়ার পরও খালে জল নেই তেমন। যেটুকু আছে আহামরি কিছু নয়। বাঁশের সাঁকোতেই যখন পারাপার চলে, খালের অবস্থা কতটা শোচনীয় বোঝা যায়। এমনটা হওয়ার কথা নয়। বর্ষার পর খাল বিল ভরে থাকে। এটাও একটা আশ্চর্য ঘটনা। দু’পাড়ে বড় বড় ঘাসের জঙ্গল। একজন বুড়োমানুষ সাঁকোর কাছে বসে রয়েছেন উবু হয়ে। ধুতি ধরনের একটা কাপড় লুঙ্গির মতো করে পরা। গায়ে ফতুয়া গেঞ্জি। মানুষটা জলের দিকে তাকিয়ে আছেন। শিরীষ গুটিগুটি পায়ে তাঁর পিছনে গিয়ে দাঁড়াল।

    “কর্তা, এই খালের নাম কী?”

    বুড়োমানুষ মুখ ফেরালেন। এক মুখ দাড়ি। বিড়ি খাচ্ছেন। তাঁর ঘাড় ফেরানোর ভঙ্গি দেখেই বোঝা গেল, শিরীষের ডাকে বিরক্ত হয়েছেন। কোনও কিছু মন দিয়ে দেখছিলেন, তাতে ব্যাঘাত পড়ল।

    শিরীষ আবার বলল, “খালের নাম কী?”

    বুড়োমানুষ গম্ভীর মুখে বললেন, “এইডা খাল নয়, এইডা নদী।”

    শিরীষ অবাক হয়ে বলল, “নদী! এইটুকু নদী!”

    বুড়োমানুষ আরও বিরক্তি নিয়ে বললেন, “কেন? নদী এইটুকু হলে আপনার অসুবিধা আছে? নদী বড় হইলে, আপনি কী করতেন? জাহাজ চালাতেন?”

    রাগের কথা শুনে শিরীষের বেশ মজা লাগল। এই ছ’মাসে সে জেনেছে, গ্রামের মানুষের রাগ, ভালবাসার, দুঃখের মধ্যে কোনও প্যাঁচ-পয়জার নেই। তাতে আবার অনেক সময় স্নেহের ধমকও থাকে। আরও কয়েক পা এগিয়ে গেল শিরীষ। খানিকটা নিচু গলায় বলল, “কর্তা, আমি কি হেঁটে পার হতে পারব?”

    বুড়োমানুষ মুখ ফিরিয়ে নিতে নিতে তাচ্ছিলোর সুরে বললেন, “আপনার হাঁটা আপনি বোঝেন, আমি বলব কেন?”

    ‘সাঁকো ভেঙে পড়বে না তো?”

    বুড়োমানুষ এই কথার জবাব না দিয়ে একই ভাবে জলের দিকে তাকিয়ে রইলেন। শিরীষের খুব ভাল লাগল। মনে হল, ছবি-সাঁকোর পাশে একজন ছবি-মানুষ বসে রয়েছেন। জীবন সম্পর্কে নির্মোহ একজন মানুষ।

    কালো আকাশ নেমে এসে মাটিতে ঠোঁট ছুইয়েছে। এতক্ষণে বৃষ্টি শুরু হরে যাওয়ার কথা। কেন অপেক্ষা করছে কে জানে। বয়স্ক মানুষটি এবার শীর্ণ নদীর পাশ থেকে উঠে দাঁড়ালেন। শিরীষ বুঝতে পারছে, আবার কথা বলতে গেলে আরও রেগে যাবেন। তারপরেও সে বলল। রাগলে রাগুক।

    “এই নদীর নাম কী?”

    আশ্চর্যের বিষয় হল এবার আর মানুষটি রাগলেন না। মুখ নামিয়ে অন্যমনস্ক ভাবে বলল, “নাওডুবি।”

    শিরীষ অস্ফুটে বলল, “নাওডুবি! গ্রামের নাম?”

    মানুষটা একইরকম আনমনে বললেন, “হ্যাঁ, এই নদীর নামেই গ্রামের নাম, নাওডুবি। একসময়ে নদীর জোর ছিল। এখন মজে গিয়েছে। খালের মতো চেহারা হয়েছে। বৃষ্টির জলও ধরে রাখতে পারে না।”

    কথা শেষ করে মানুষটা উঠে দাঁড়ান। শিরীষ এবার দেখতে পেল, সঙ্গে একটা ছাতাও রয়েছে। কাঠের হাতের লম্বা ছাতা।

    “কর্তা, আপনি থাকেন কতদূর?”

    ছাতা খুলতে খুলতে বুড়োমানুষ আবার বিরক্ত গলায় বললেন, “আপনার দরকার কী? ঘাড়ে করে পৌঁছে দিবেন?”

    শিরীষ একটু হেসে বলল, “না, বৃষ্টি নামবে তো…”

    ছাতা খুলে মানুষটা মাঠ ধরে এগিয়ে গেল। শিরীষ সাঁকোর দিকে এগিয়ে গেল।

    নাওডুবিতে এসে শিরীষ জানতে পেরেছিল, মামা জমি রেজিষ্ট্রি অফিসে, স্থানীয় পঞ্চায়েত অফিসে দেখা করে, কথা বলে সব পাকা করে গিয়েছেন। কী আশ্চর্য! মানুষ হারিয়ে যায়, ভালবাসার চিহ্ন ফেলে ফেলে যেতে থাকে।

    শিরীষ সাঁকোর উপরে উঠল। দেখে যতটা মনে হয়েছিল, উঠে বোঝা যাচ্ছে, তার চেয়ে বেশি নড়বড়ে। নাকি বাতাসের জোর বেড়েছে বলে কাঁপছে? নদীর উপর সাঁকো! ভাবতেই অবাক লাগছে। কতটা হেঁটে এসেছে? একঘণ্টা? নাকি আরও বেশি? এখনও গজ, ফুট, মিটারের ধারণা খুব স্পষ্ট হয়নি শিরীষের। হওয়া উচিত ছিল। ছ’মাস হয়ে গেল জমিতে কাজ করছে। মাপামাপির ধারণা থাকবে না। যদিও সবটা হারান আর রতনকাকা দেখে। হারান থাকে নাওডুবি গ্রামে। রতনকাকা আসে সবেরগঞ্জ থেকে। হারানের বয়স চল্লিশের কম। রতনকাকারও বয়স বেশি নয়, তারপরেও সবাই ‘কাকা’ ডাকে। দুজনেই চাষবাসে এক্সপার্ট। তবে নিজের জমি নেই, অন্যের জমিতে কাজ করে। হারানের পরামর্শ মতো জমির পাশে পাকা ঘর তোলা হয়েছে। দেড়খানা ঘর। বড়টা শিরীষের, আর ছোটটা গেস্টরুমের মতো। আর কেউ যদি এসে থাকে। হারান, রতনকাকা তো কাজ করতে করতে কোন দিন আটকে যেতে পারে। ছোট ঘরটায় যেতে গেলে বাগান পেরিয়ে যেতে হয়। বাড়ির মধ্যে দিয়ে যাওয়ার পথ নেই। ইচ্ছে করেই রাখেনি শিরীষ, আর কেউ থাকলে, নিজের মতো আড়ালে থাকতে পারবে। এই দুই ঘরের ছাদটুকু যা ঢালাই করা, বাকি সব টিনের চালা। দুটো ঘরের সঙ্গে বাথরুম, ছোট একটা রান্নার জায়গা, একফালি বারান্দা। পিছনের উঠোনে শেডের নীচে চাষের জিনিসপত্র থাকে। কুয়ো খুঁড়তে হয়েছে, একটা টিউবওয়েলও বসাতে হয়েছে। এই দুটোতে সময়,খরচ দুই-ই বেশি হয়েছে। এখানে জল পেতে গেলে মাটির অনেকটা গভীরে যেতে হয়।

    বাড়ির চারপাশে বেড়া দিয়ে, সামনে একটুখানি সবজির বাগান করে দিয়েছে রতনকাকা। শাক, লেবু, লঙ্কা। ছোট একটা মাচা করে কুমড়ো। বারান্দায় চেয়ার পেতে বসে থাকা যায়। দিগন্ত পর্যন্ত খেত, মাঠ, আকাশ মিলেমিশে, জড়িয়ে মুড়িয়ে থাকে। হারান আর রতনকাকা বেশিরভাগ সময়েই দিনে দিনে কাজ করে চলে যায়। হারানের সাইকেল আছে, রনকাকা বড় রাস্তা পর্যন্ত চলে যায়, তারপর সবেরগঞ্জ যাওয়ার জন্য ভ্যান বা ট্রাক্টর ধরে। আর যদি রাতে থাকতেই হয়, ভাগাভাগি করে থাকে। শিরীষও কলকাতা থেকে এসে এখানেই ওঠে। প্রথমে থাকত উইকেন্ডে। তারপর সপ্তাহে তিনদিন। চাকরি ছাড়ার পর কখনও কখনও টানা পনেরো- কুড়িদিন পর্যন্ত থেকে যায়।

    এবার একমাস হতে চলল, ফেরা হয়নি। বারান্দায় চেয়ার পেতে বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাকিয়ে থাকে সামনের খেতের দিকে। এক-একটা করে পর্ব দেখতে পায়। খুব আনন্দ হয়। মনে হয়, স্বপ্ন দেখছে। মাঝেমধ্যে অবাক লাগে। দাদু তাকে কেন বেছে গেলেন? চোখ দেখে মনে হয়েছিল, বালকটি অন্যরকম? নাকি ভরসা করেছিলেন? যদি পারে, এ-ই পারবে। জিন তো রয়ে গিয়েছে। নাকি নিজের মনের মধ্যেই কোথাও এই খ্যাপামি লুকিয়ে ছিল? দাদুর স্বপ্ন তাকে খুঁচিয়ে দিল। এটাই বোধহয় সত্যি। অনেককিছু ভাল লাগছিল না। সেই কবে চাকরি শুরু করেছে! কেরিয়ারের দৌড় ক্লান্ত, অবসন্ন করে তুলছিল। স্কুলে পড়ার সময় ভাবত, শুধুই ছবি আঁকবে, আর্টিস্ট হবে! কলেজে উঠে কবিতা লিখতে শুরু করেছিল, বইমেলায় লিটল ম্যাগাজ়িন করল। ম্যাগাজ়িনের নাম ছিল, আঁখি। নাটকের দল করে অভিনয় করল। মাঝেমধ্যে হুটপাট করে বেরিয়ে পড়ত একা। বাস থেকে নেমে পড়ত হাইওয়ের মাঝখানে। এই চাষবাসের জীবন কি সেই রোমান্টিক মননের মধ্যে কোথাও লুকিয়ে ছিল?

    বাঁশের সাঁকোর মাঝখানে গিয়ে দাঁড়াল শিরীষ। ঝড় উঠেছে। এতক্ষণ থম মেরে থাকা কালো মেঘ ভেঙে টুকরো হয়ে ছুট লাগিয়েছে চারপাশে। সেই কলেজ জীবনে লেখা একটা কবিতার দুটো লাইন মাথায় ভেসে আসছে। আবার মিলিয়েও যাচ্ছে। শিরীষ বিড়বিড় করে বলে উঠল।

    “তোমার সঙ্গে পণ রেখেছি ঝড়/ কে আগে বলবে, কে আগে…”

    মনে পড়ছে না। বাকিটা মনে পড়ছে না। কতদিন পরে মাথায় কবিতা ফিরে এল!

    বাতাস দিচ্ছে। ঝড় উঠবে নাকি? শিরীষ আরও এগিয়ে গেল।

    বাতাস এবং বৃষ্টিতে বাঁশের সাঁকো দুলছে। শিরীষ ফিরে যাওয়ার জন্য পা বাড়াল আর তখনই মনে পড়ে গেল কবিতার ভুলে যাওয়া লাইনগুলো। অস্ফুটে শিরীষ বলে উঠল, “তোমার সঙ্গে পণ রেখেছি ঝড়/ কে আগে বলবে, কে আগে ছিঁড়বে চরাচর।”

    শিরীষের আনন্দ হচ্ছে, আবার দুঃখও হচ্ছে। আনন্দ হচ্ছে এই কারণে যে, কতদিন আগে ফেলে আসা কবিতা আবার তার কাছে ফিরে এসেছে। প্রয়াত দাদু, হারিয়ে যাওয়া বড়মামাকে মনে মনে ধন্যবাদ জানাল শিরীষ। তাঁরা না থাকলে এই মুহূর্ত তো আসত না। তারপরেও দুঃখ হচ্ছে। প্রিয় মানুষরা এই কবিতা শোনার জন্য তার পাশে নেই। সোমদত্তা নেই, দোতারা নেই। এই সময়ে নারীকন্ঠের চিৎকারে মুখ তুলল শিরীষ।

    “স্যার, আপনি দাঁড়ান, আমি আপনার কাছে যাচ্ছি। আমি ছাতা এনেছি স্যার…আর এগোবেন না…পড়ে যাবেন স্যার…প্লিজ় স্যার…”

    একটা ছাতা মাথায় সাঁকোর দিকে দ্রুত পায়ে এগিয়ে আসছে অতিরিক্ত ছিপছিপে এক তরুণী। পারলে ছুটে আসছে। জিন্‌স এবং শার্টের ওপর কোট মতো কিছু পরেছে। বৃষ্টি ও অন্ধকারে কোনওটার রংই চেনা যাচ্ছে, না। তবে মেয়েটিকে চেনা যাচ্ছে। মেয়েটির নাম এপা। ত্রপা বসু। বাড়ি কলকাতায়, কৃষি নিয়ে লেখাপড়া করেছে কল্যাণীতে। এখন গবেষণার জন্য থাকে বোলপুরে। মাস্টার ডিগ্রি করে এখন গবেষণায় ব্যস্ত। সেই গবেষণার একটা অংশ হিসেবে সে শিরীষ মুখার্জির ‘প্রজেক্ট নাওডুবি’ নিয়েছে। এরকম ঘটনা বিদেশে ঘটলেও, এদেশে নাকি বিরল। শহরের বিলাসী, স্বছন্দ, নিশ্চিন্ত জীবন ছেড়ে উচ্চশিক্ষিত, প্রতিষ্ঠিত কেউ গ্রামে চাষবাস করতে চলে এসেছে, এমনটা কখনও শোনা যায়নি। তার গবেষণার গাইড একজন কৃষিবিজ্ঞানী। তিনি সব শুনে উত্তেজিত।

    “ত্রপা, তুমি এই পাগল লোকটাকে ছাড়বে না। তার সঙ্গে লেগে থাকবে। কীভাবে নিজেকে অ্যাডজাস্ট করতে যাচ্ছে এবং ব্যর্থ হচ্ছে, সেটা স্টাডি করবে। পারলে ওর মনের ভিতর ঢুকতে চেষ্টা করবে। এই প্রজেক্টের পিছনে অন্য কোনও উদ্দেশ্য আছে কিনা জানার চেষ্টা করবে। অনেক সময় পলিটিক্যাল লোকেরা গ্রামে ঢোকার জন্য এই ধরনের আড়াল তৈরি করে। যদিও এই লোকের সাইটে গিয়ে যে প্রোফাইল দেখছি, তাতে সেরকম কিছু মনে হচ্ছে না। যাই হোক, ত্রপা মনে রাখবে, তুমি একটা দারুণ সুযোগ পেয়েছ। ঠিকমতো ধরতে পারলে, ভবিষ্যতে খুব কাজে লাগবে। বলা যায় না, এগ্রিকালচারাল ইকনমিক্সে একটা উদাহরণ হয়ে থেকে যেতে পারে। এই লোকে কিন্তু বেশিদিন খেতে-মাঠে থাকতে পারবে না। নানারকম চাপ আসবে। ফ্যামিলির কথা জানবে। নেক্সট ফেজ়ে বাড়ির লোকের সঙ্গে কথা বলবে। তারা এই ঘটনা কেমন ভাবে নিয়েছে জানতে হবে। এই লোক কিন্তু পালিয়ে যাবে। ফিল্ড ওয়র্ক হিসেবে সবটাই তোমাকে রিসার্চ পেপারে তুলে ধরতে হবে।”

    এপার বয়স পঁচিশ। দু’-তিন মাস কম বেশি হতে পারে। সেই অর্থে সে দোতারার চেয়ে সামান্য কয়েক বছরের বড়। রোগা হলেও মেয়েটি বেশ সুন্দরী। গায়ের রং ফরসা। চোখে একধরনের মায়াভাব। কথা শুনলে বোঝা যায়, নরম প্রকৃতির। হাসি ও কান্না দুটিই সরল। ছোট করে কাটা চুলের এই মেয়েটির সঙ্গে শিরীষের আলাপ হয় এক কৃষিমেলায়। বিভিন্ন ইউনিভার্সিটির কৃষি বিভাগ থেকে ক্যাম্প করা হয়েছিল। ওরকমই একটা ক্যাম্পে ছিল ত্রপা তখন শিরীষের নাওডুবি প্রজেক্ট একেবারে গোড়ার সময়। সে তখন এই ধরনের বিভিন্ন মেলা, সেমিনারে ঘুরে বেড়াত। জিনিসটা বুঝতে চেষ্টা করত। ত্রপা সেদিন মেলায় ধান চাষের পদ্ধতি নিয়ে কথা বলছিল। কেউই শুনছিল না। দু’-তিনজন ছিল, তারাও একসময়ে সরে যায়। শিরীষ গোটাটা মন দিয়ে শোনে। শেষে কথা বলে।

    “আমি নিজে এই ধরনের একটা কাজ করতে চলেছি। আপনার সঙ্গে আরও একটু কথা বলতে পারি?”

    শিরীষের পোশাক, কথা বলার ভঙ্গি দেখে থমকে যায় ত্রপা। আদ্যোপান্ত শহুরে এই মানুষটা কি তার সঙ্গে ঠাট্টা করছে? তাই হবে। সে কড়া গলায় উত্তর দেয়।

    “স্যার, আপনি ভুল করছেন। আমি কৃষি কাজের জন্য পরামর্শ দিচ্ছি।”

    শিরীষ বলল, “আমি জানি, সেই কারণেই আমি কথা বলতে চাই। আপনার যদি অসুবিধে হয় আপনি অন্য কাউকেও ডেকে দিতে পারেন। তার সঙ্গে কথা বলব।”

    প্রেস্টিজে লাগে ত্রপার। শিরীষের ব্যক্তিত্বের কাছে থমকে যায়। সে বলে, “আপনি আমার সঙ্গে কথা বলতে পারেন স্যার।”

    শিরীষ বলল, “আমি কি একটু বসতে পারি?”

    “অবশ্যই।”

    সেই শুরু আলাপের। শিরীষের নাওডুবি প্রজেক্টের কথা শুনে সে মুগ্ধ হয়। সে তার রিসার্চ গাইডকে বিস্তারিত জানায়। পঁচিশ বছরের এই তরুণী গবেষণার কাজ হিসেবে প্রায় পঞ্চাশ বছরের এই মানুষটির সান্নিধ্যে এলেও খুব অল্পদিনের মধ্যেই তার মনে হতে শুরু করছে, এই মানুষটি আলাদা। এঁর কাছে থাকলে তার মন ভাল লাগে। মানুষটি তাকে মাঝেমধ্যে বকুনি দেন। কেন সে বারবার আসে, এই কারণে। সেই বকুনি বেশ জোরেই দেন। চোখে জল চলে আসে। সে চলে যায়। কিন্তু দু’দিন পরে মন কেমন করে। নাওডুবিতে চলে আসে আবার। তখন মানুষটা আবার বকুনি দেন। কারণ সম্পূর্ণ উলটো, কেন এতদিন আসেনি!

    সেতুর উপর থেকে ত্রপাকে দেখে শিরীষ খুশি হল আবার রাগও করল। এই দুর্যোগেও মেয়েটি কেন এসেছে? শিরীষ নিজেকে সামলাল। এখন এসব ভাবনার সময় নয়। এখন দুটো লাইন মাথার মধ্যে ঘুরুক—

    “তোমার সঙ্গে পণ রেখেছি ঝড়/ কে আগে বলবে, কে আগে ছিঁড়বে চরাচর।”

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleনুড়ি পাথরের দিনগুলি – প্রচেত গুপ্ত
    Next Article রুপোর খাঁচা – প্রচেত গুপ্ত

    Related Articles

    প্রচেত গুপ্ত

    দেরি হয়ে গেছে – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    পঞ্চাশটি গল্প – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    ধুলোবালির জীবন – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    রুপোর খাঁচা – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    নুড়ি পাথরের দিনগুলি – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    নিষাদ – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }