Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মাতাল হাওয়া – হুমায়ূন আহমেদ

    হুমায়ূন আহমেদ এক পাতা গল্প255 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৮. হাবীব খানের বাড়িতে মাওলানা এসেছেন

    হাবীব খানের বাড়িতে মাওলানা এসেছেন। তিনি ময়মনসিংহ জামে মসজিদের পেশ ইমাম। নাম মাওলানা তাজ কাশেমপুরী। জনশ্রুতি আছে, তিনি একটি জ্বিন পালেন। জিনের নাম খামজী। জ্বিনের মাধ্যমে তিনি জ্বিনের দেশ থেকে গাছগাছড়ার ওষুধ এনে চিকিৎসা করেন। খামজার সঙ্গে না-কি জ্বিনের বাদশার সখ্য আছে। জ্বিনের বাদশা তার প্রিয় একজনকে মানুষের হাতে বন্দি দেখে ক্ষুব্ধ। মাওলানা তাজ কাশেমপুরী কঠিন লোক বলেই এখনো কিছু করে উঠতে পারছে না। তবে যে-কোনো সময় অঘটন ঘটবে। মাওলানা তাজ কাশেমপুরী অত্যন্ত সাবধানে জীবনযাপন করেন। পুকুরে বা নদীতে গোসল করেন না। মানুষকে পুকুরের পানিতে ডুবিয়ে মারতে জ্বিনরা না-কি পারদর্শী। তিনি তোলা পানিতে গোসল করেন। গলায় একটা তাবিজ পরেন। তাবিজটা আল্লাহর এক অলি স্বপ্নে তাকে দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতে তাহাজ্জুদের নামাজ শেষ করে তিনি ঘুমুতে গেছেন, তখন স্বপ্নে দেখেন সাদা আলখাল্লা পরা এক সুফী দরবেশ তাঁকে বলছেন, তাজ! জ্বিনের বাদশার হাত থেকে সাবধান। একটা তাবিজ তোকে দিলাম। সবসময় গৃলায় পরে থাকবি। না হলে মহাবিপদ। মাওলানা তাজের ঘুম ভাঙল। তিনি দেখেন, তার হাতের মুঠিতে রুপার এক তাবিজ। সেই থেকে তিনি তাবিজ গলায় পরছেন।

    মাওলানাকে আনা হয়েছে দোতলায় ওঠার সিঁড়িতে ফু দেওয়ার জন্যে। সিঁড়ির শেষ ধাপে অনেকবার হাবীবের পা পিছলিয়েছে। বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে ঘটতে ঘটেনি। তার ধারণা সিড়ির এই ধাপে দোষ আছে। দোষ কাটানোর ব্যবস্থা।

    মাওলানা তাজ কাশেমপুরী সিড়িতে ফু দিলেন। একটা তাবিজ সিড়ির রেলিং-এ বেঁধে সিঁড়ি বন্ধন দিয়ে ঘোষণা করলেন, ‘দোষী’ জিনিসটা থাকে পুকুরঘাটে। সেখান থেকে উড়ে আসে। জিনিসটা যথেষ্ট শক্তিধর। তাকে পুকুরঘাট থেকে বিদায় করা যাবে না। তবে সে যেন মূলবাড়িতে আসতে না পারে সেই ব্যবস্থা তিনি করে দিচ্ছেন। তবে বাড়ির মেয়েদের চুলখোলা অবস্থায় এবং হয়েজ-নেফাজ চলাকালে পুকুরঘাটে যাওয়া সম্পূর্ণ নিষেধ। খারাপ জিনিস মেয়েদের খোলা চুলের মুঠি ধরে বাড়িতে ঢোকে।

    নাদিয়া বাবার পাশে দাঁড়িয়ে মাওলানার কথা শুনছিল। সে বিরক্ত গলায় বলল, খারাপ জিনিস বলতে কী বোঝাচ্ছেন?

    মাওলানা বললেন, এটা একটা হাওয়া। খারাপ হাওয়া।

    এর জীবন আছে?

    অবশ্যই আছে। তবে তাদের জীবন এবং মানুষের জীবন একরকম না। মানুষ খাদ্যগ্রহণ করে, এরা খাদ্যগ্রহণ করে না।

    নাদিয়া বলল, যার জীবন আছে তার মৃত্যুও আছে। এরা কি মারা যায়?

    হাবীব মেয়ের দিকে তাকিয়ে বললেন, মা, চুপ কর তো। সব বিষয় নিয়ে কথা বলা ঠিক না।

    নাদিয়া বলল, একটা খারাপ জিনিস আমাদের পুকুরঘাটে বসে থাকবে, আর তার বিষয়ে জানতে চাইব না—এটা কেমন কথা! আমি এখনই এলোচুলে একা পুকুরঘাটে যাব। কিছুক্ষণ পুকুরঘাটে বসে থাকব। তারপর ঘরে ফিরব। খারাপ জিনিসটা আমার চুলের মুঠি ধরে ঘরে ঢুকবে। তখন তাকে আমি শায়েস্তা করব।

    হাবীব বললেন, কীভাবে শায়েস্তা করবি?

    নাদিয়া বলল, আমি কানে ধরে তাকে উঠবোস করাব।

    হাবীব গম্ভীর হয়ে রইলেন। প্রণব শব্দ করে হেসে ফেলে চারদিকের পরিস্থিতি দেখে হাসি সামলানোর চেষ্টা করতে লাগলেন। হাবীব বললেন, মা, ঘরে যা।

    নাদিয়া বলল, আমি ঘরে যাব না। আমি পুকুরঘাটে যাব।

    সে সত্যি সত্যি সিড়ি বেয়ে নামতে থাকল। হাবীবের মনে হলো মেয়েকে কঠিন ধমক দেওয়া প্রয়োজন। ধমক দিতে পারলেন না। বাইরের একজন মানুষ আছে। তাছাড়া মেয়েটার সাহস দেখে তার ভালো লাগছে।

    মাওলানা তাজ বললেন, উচ্চশিক্ষার কিছু কুফল আছে জনাব। প্রধান কুফল মুরুব্বিদের অবাধ্য হওয়া। ধর্মশিক্ষা না হলে এটা হয়।

    হাবীব বললেন, আমার মেয়ের ধর্মশিক্ষা আছে। তাকে মুনশি রেখে কোরানপাঠ শিখানো হয়েছে। প্রতি রমজান মাসে সে কোরান খতম দেয়।

    মাওলানা বললেন, আপনার মেয়ে সত্যি সত্যি পুকুরঘাটে গিয়েছে, এটা চিন্তার বিষয়। আমি একটা তাবিজ পাঠায়ে দিব। চেষ্টা নিবেন যেন তাবিজটা পরে। আমার কেন জানি মনে উঠছে, আপনের মেয়ের উপর খারাপ বাতাসের নজর আছে। লক্ষণ বিচারে সেরকম পাই।

    হাবীব বললেন, তাবিজ পাঠিয়ে দিবেন। আমি ব্যবস্থা করব যেন সে পরে।

    সময় সন্ধ্যামাখা বিকাল। নাদিয়া ঘাটে, পানিতে পা ডুবিয়ে বসেছে। পুকুরভর্তি শাপলা ফুল। ফুল রাতে ফোটে। দুপুরে নিজেকে গুটিয়ে নেয়।

    নাদিয়া মাথার বাঁধা চুল খুলে দিতে দিতে মনে মনে বলল, আয় খারাপ বাতাস আয়। আমার চুল ধরে ঝুলে পড়। তোকে আমি নিজের ঘরে নিয়ে পুষব।

    এই সময় একটা ঘটনা ঘটল। হঠাৎ নাদিয়া দেখল, শাপলা ফুলের ঝাঁকের মধ্যে একটি ডুবন্ত মেয়ের মুখ। মেয়েটির চোখ খোলা। সে পানির ভেতর থেকে নাদিয়ার দিকে তাকিয়ে আছে।

    নাদিয়া বিকট চিৎকার করে অজ্ঞান হয়ে ঘাটে পড়ে গেল। বাড়ির প্রায় সবাই। ছুটে এল। সবার আগে উপস্থিত হলেন প্রণব। তিনি অজ্ঞান নাদিয়াকে কোলে তুলে নিলেন।

    হাবীব বললেন, কী সর্বনাশ! মাওলানা সাহেবকে আবার খবর দাও। ডাক্তার ডাকো।

    নাদিয়ার জ্ঞান ফিরল এক ঘণ্টা পর। ততক্ষণে বাড়িতে কোরান পাঠ শুরু হয়েছে। মাদ্রাসার একদল তালেবুল এলেম এসে দোয়া ইউনুস খতম দিচ্ছে। এক লক্ষ পঁচিশ হাজার বার এই দোয়া পাঠ করা হবে।

    হাবীব শম্ভুগঞ্জ থেকে ভাইপীরকে আনতে লোক পাঠালেন। যত রাতই হোক ভাইপীর যেন উপস্থিত হন। হাবীব একটা গরু সদগার ব্যবস্থা করলেন।

    নাদিয়ার মা জায়নামাজে বসলেন। মেয়ের জ্ঞান না ফেরা পর্যন্ত তিনি জায়নামাজ ছেড়ে উঠবেন না।

    নাদিয়ার জ্ঞান ফিরল রাত আটটা পঁচিশ মিনিটে। সে বাবার একটা হাত শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আছে। সে থরথর করে কাঁপছে। হাবীব বললেন, মা, আর কোনো ভয় নাই। ভাইপীর সাহেব চলে এসেছেন। তিনি এখনো দোয়াতে আছেন।

    নাদিয়া বলল, বাবা, আমি ভয় পেয়েছি। আমি খুব ভয় পেয়েছি।

    হাবীব বললেন, আর ভয় নাই মা। আমার সারা দুনিয়া একদিকে আর তুমি একদিকে। কেন ভয় পেয়েছ বলতে চাও? বলতে না চাইলে বলতে হবে না।

    নাদিয়া বলল, বাবা, দিঘির পানির নিচ থেকে একটা মেয়ে আমার দিকে তাকিয়ে ছিল। মেয়েটা মৃত না বাবা, জীবিত। মেয়েটা চোখের পাতা ফেলছিল। মেয়েটা খুব সুন্দর। গায়ের রঙ কাঁচা হলুদের মতো।

    থাক, আর বলার দরকার নাই। তোমার মা আজ সারা রাত তোমাকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে থাকবে।

    হাজেরা বিবি তখন থেকে ‘ও হাবুরে, ও হাবুরে’ বলে চিৎকার করছেন। তার কাছে কেউ নেই। সবাই নাদিয়াকে ঘিরে আছে। তার চিৎকার সবাই শুনেও শুনছে না।

    হাবীব মায়ের ঘরে ঢুকলেন। হাজেরা বিবি বললেন, শুনলাম তোর মেয়ে নাকি মারা গেছে?

    হাবীব বিরক্ত হয়ে বললেন, কেন ক ডাক ডাকো? নাদিয়া মারা যাবে কেন? সে ভালো আছে, সুস্থ আছে। একা পুকুরঘাটে গিয়েছিল। সেখানে কী দেখে যেন ভয় পেয়েছে।

    কী দেখছে?

    কী দেখেছে সেটা জানার কোনো প্রয়োজন নাই মা।

    অবশ্যই প্রয়োজন আছে। বল কী দেখছে?

    হাবীব বললেন, সে দেখেছে দিঘির পানির নিচে একটা মেয়ে। নাদিয়ার দিকে তাকিয়ে আছে।

    হাজেরা বিবি বললেন, এক্ষণ দিঘিতে জাল ফেলার ব্যবস্থা কর।

    জাল ফেলতে হবে কেন?

    হাজেরা বিবি বললেন, কোনো এক মাইয়ারে খুন কইরা দিঘির পানিতে ফেলছে। নাদিয়া দেখছে মরা লাশ। জাল ফেলার ব্যবস্থা কর।

    হাবীব মা’র ঘর থেকে বের হলেন। থানায় খবর দিলেন। জাল ফেলার সময় পুলিশের উপস্থিতির প্রয়োজন আছে।

    রাত দশটায় জেলেরা পুকুরে জাল ফেলল। ঘাটে চারটা হ্যাজাক লাইট জুলছে। থানার ওসি সাহেব এবং সেকেন্ড অফিসার এসেছেন। তাদের জন্যে ঘাটের কাছে চেয়ার-টেবিল পাতা হয়েছে। তারা অন্ধকারে বসেছেন। সন্ধ্যার পর ওসি সাহেবের সামান্য পানের অভাস আছে। তার জন্যে ময়মনসিংহ রেলস্টেশনের রিফ্রেশমেন্ট রুম থেকে জিনিস এসেছে। জিনিসের সঙ্গে চিকেন কাটলেট এসেছে। (সে সময় রেলের রিফ্রেশমেন্ট রুমে বিয়ার, ভদকা এবং হুইস্কি পাওয়া যেত।) প্রণব তাদের দেখাশোনা করছেন। ওসি সাহেব বললেন, হাবীব ভাইয়ের ব্যবস্থা নিখুঁত। সবদিকে তাঁর নজর এটা একটা আশ্চর্য ব্যাপার। এই ধরনের মানুষ দেশের লিডার হলে দেশ পাল্টে যেত।

    প্রণব বললেন, রাতে কিন্তু স্যার খাওয়াদাওয়া করে তারপর যাবেন। খাসি জবেহ করা হয়েছে। হাজি নূর মিয়া বাবুর্চি চলে এসেছে।

    ওসি সাহেব বললেন, তার কোনো প্রয়োজন নাই। যা ব্যবস্থা করে রেখেছেন, তারচেয়ে উত্তম ব্যবস্থা আর কিছু হতে পারে না।

    প্রণব বললেন, স্যার প্রয়োজন আছে। খাওয়াদাওয়ার পর স্যার আপনাকে বিশেষ কিছু কথা বলবেন। জরুরি কথা।

    হাবীব ভাই কোথায়? তাঁকে দেখছি না তো।

    প্রণব বললেন, গভর্নর সাহেব ঢাকা থেকে টেলিফোন করেছেন নাদিয়ার খোঁজ নিতে। এই নিয়ে ব্যস্ত আছেন।

    ওসি সাহেব থতমত খেয়ে বললেন, অবশ্যই। অবশ্যই।

    পুকুরে জাল ফেলে কিছুই পাওয়া গেল না। দুটা বিশাল সাইজের কাতল মাছ ধরা পড়ল। গায়ে শ্যাওলা পড়া কাতল। প্রণবের নির্দেশে একটা মাছ ওসি সাহেবের বাসায়, একটা মাছ সেকেন্ড অফিসারের বাসায় চলে গেল।

    সেকেন্ড অফিসার ওসি সাহেবের দিকে তাকিয়ে বলল, জমিদারি আইনের সময় এমন মেহমানদারি দেখেছি, তার পরে দেখি নাই।

    রাতের খাবার শেষ হয়েছে। হাবীব ওসি এবং সেকেন্ড অফিসারকে নিয়ে চেম্বারে বসেছেন। প্রণব নিজেও উপস্থিত আছেন। হাবীব বললেন, খানা কি মনমতো হয়েছে ওসি সাহেব?

    ওসি আখলাকুর রহমান বললেন, গত দশ বছরে এমন খানা খাই নাই। পেট ফেটে মারা যাওয়ার অবস্থা। হজমি বড়ি খাওয়া লাগবে। এখন হাবীব ভাই বলেন, আপনার জন্য কী করব?

    আমার জন্য কিছু করা লাগবে না। আপনাদের সামান্য সাহায্য করতে চাই। কইতরবাড়িতে যে খুন হয়েছে, সেই খুনের আসামিকে আমি খবর দিয়ে এনেছি। ফরিদ নাম। তাকে গ্রেফতার করে নিয়ে যান।

    আখলাকুর রহমান প্রণবের দেওয়া পান মুখে দিয়ে সরু চোখে তাকালেন। হাবীব বললেন, প্রণব, ওসি সাহেবকে ঘটনা খুলে বলো। বাড়িতে এত ঝামেলা! পরিষ্কার করে কিছু চিন্তাও করতে পারছি না। বলতেও পারছি না। দুনিয়ার কথা বলার দরকার নাই! সারসংক্ষেপ বলে।

    প্রণবের মুখভর্তি পান। তিনি চিলুমচিতে মুখের পান ফেলে দিয়ে বললেন, ফরিদ ছিল হাসান রাজা চৌধুরীর খাস কামলা। উনার কাপড় ধােয়া, হাত-পা টিপে দেওয়া, গোসল দেওয়া সব দায়িত্ব তার। হাসান তাকে নিয়ে পাখি শিকারে যাবেন। বন্দুক পরিষ্কার করতে বললেন। বন্দুক পরিষ্কারের সময় দুর্ঘটনা। আচমকা গুলি বের হয়ে গেল। কাছেই হাসানের মামা ফজরের নামাজে বসেছিলেন। এক গুলিতে শেষ। স্যার, ফরিদকে নিয়ে আসি?

    নিয়ে আসুন।

    ফরিদ ঘরে ঢুকে জড়সড় হয়ে রইল। তার মাথায় টুপি। পরনে পাঞ্জাবি, হাতে তসবি। সে এতক্ষণ তালেবুল এলেমদের সঙ্গে দোয়া ইউনুস খতম দিচ্ছিল।

    আখলাকুর রহমান বললেন, তুমি হাসান সাহেবের খাস লোক?

    জি স্যার।

    শিকারে যাওয়ার আগে কি উনার বন্দুক আগেও পরিষ্কার করেছ?

    জি স্যার।

    সেফটি ক্যাচ কাকে বলে?

    ফরিদ হতাশ চোখে একবার হাবীবের দিকে আরেকবার প্রণবের দিকে তাকাল।

    সেফটি ক্যাচ কী জানো না?

    জি-না।

    পাখি শিকারের জন্যে ছররা গুলি ব্যবহার হয়। ফায়ার করলে একসঙ্গে অনেক ছোট ছোট গুলি বের হয়। এতে পাখি মরে। মানুষের গায়ে লাগলে মানুষ জখম হয়। মরে না। সেদিন বন্দুকে ছররা গুলির বদলে বুলেট ছিল কী জন্যে?

    স্যার, আমি জানি না।

    বন্দুকে ট্রিগার থাকে। ট্রিগার চাপলে গুলি বের হয়, এটা তো জানো?

    জি স্যার।

    তোমার হাসান স্যারের বন্দুকে ট্রিগার কয়টা?

    জানি না স্যার।

    মোহনভোগ বলে একটা মিষ্টি আছে। মিষ্টিটা কী?

    হালুয়া স্যার।

    এই হালুয়াকে অল্প আঁচে অনেকক্ষণ জ্বাল দিলে হালুয়ার রস কমে যায়। হালয়া টাইট হয়। থানায় নিয়ে আমরা প্রথম যে কাজ করি, রস কমিয়ে হালয়া টাইট করি। তুমি বন্দুক জীবনে কোনোদিনও দেখো নাই। আর বলছ বন্দুক দিয়ে গুলি করে মানুষ মেরেছ? অপরাধ করেছে অন্য একজন। দোষ নিজের কাঁধে নিচ্ছ। ঘটনা তো এইটা?

    ফরিদ হতাশ চোখে হাবীবের দিকে তাকাল।

    হাবীব বললেন, ওসি সাহেব ঠিকই ধরেছেন। এইটাই ঘটনা।

    আখলাকুর রহমান বললেন, আপনার মতো অতি বুদ্ধিমান লোক এত বড় ভুল করে! আসামি শিখিয়ে পড়িয়ে নিবেন না?

    হাবীব বললেন, ওসি সাহেব, শিখানোর জন্যে দায়িত্ব আপনার। আপনি শিখিয়ে নিবেন। আপনাদের জন্যে ভালো নজরানার ব্যবস্থা করা আছে। প্রণব! নজরানার পরিমাণ ওসি সাহেবকে কানে কানে বলো। উনার দিলখোশ হবে।

    প্রণবের কথা শুনে ওসি সাহেবের দিলখোশ হলো না। তিনি বিরক্তিতে ভুরু কুঁচকে বললেন, হাবীব ভাই, আপনি হয়তো জানেন না আমি জুমনপুরের পীরসাহেবের মুরিদ হয়েছি। এইসব কাজ ছেড়ে দিয়েছি। পীর বাবার পা ছুঁয়ে প্রতিজ্ঞা করেছি, বাকিজীবন দুষ্টের দমন শিষ্টের পালন করব। এর অন্যথা হবে না।

    হাবীব সিগারেট ব্রাতে ধরাতে বললেন, এটা অত্যন্ত ভালো খবর। এরকম অফিসারই আমাদের দরকার। সেকেন্ড অফিসার সাহেব কী বলেন?

    সেকেন্ড অফিসার শুকনামুখে বললেন, অবশ্যই অবশ্যই।

    হাবীব বললেন, যেহেতু পীরসাহেবের মুরিদ হয়েছেন, আপনার উচিত কোনো নির্জন জায়গায় বসে আল্লাখোদার নাম নেওয়া। গর্ভনর সাহেবকে বলে কাল-পরশুর মধ্যে আপনাকে পার্বত্য চট্টগ্রামে পাঠিয়ে দেই। নির্জন পরিবেশ পাবেন। আল্লাখোদার নাম নিবেন চিল্লায় চলে যাবেন।

    আখলাকুর রহমান ছোটখাটো ধাক্কার মতো খেলেন। হাবীব বললেন, আপনি মদ্যপান বেশি করেছেন বলে কার সঙ্গে কী কথা বলছেন হিসাব নাই। এইজন্যেই আল্লাহপাক কোরান মজিদে বলেছেন, মদ এবং জুয়া উভয়ের মধ্যেই কিঞ্চিৎ উপকার আছে। তবে উপকারের চেয়ে অপকার অধিক। ইহার পরেও কি তোমরা মদ্যপান থেকে বিরত হবে না? ওসি সাহেব! আপনি তো জুয়াও খেলেন, তাই? সালাহউদ্দিনের বজরায় জুয়ার আড্ডা বসে। নটবাড়ির অল্পবয়স্ক একটা নটি মেয়েকে মাঝেমধ্যে বজরায় নিয়ে যান। মেয়েটার নাম রানী। তাকে আপনি একটা সোনার চেইন বানিয়ে দিয়েছেন। চেইনটা কেনা হয়েছে সুবল স্বর্ণকারের দোকান থেকে। ঠিক বলছি? না-কি কোনো ভুলত্রুটি করলাম?

    আখলাকের নেশা সম্পূর্ণ কেটে গেছে। তার চোখে ভয়ের ছাপ স্পষ্ট। হাবীব বললেন, আমি বলেছিলাম রানী মেয়েটার সঙ্গে আপনার কিছু ঘনিষ্ঠ ছবির ব্যবস্থা করে দিতে। কিছু ছবি তারা পাঠিয়েছে। ছবি ভালো আসে নাই। আপনার চেহারা বোঝা যায়, কিন্তু রানী মেয়েটার চেহারা স্পষ্ট আসে নাই। প্রণব, ওসি সাহেবরে ছবি তিনটা দেখাও।

    প্রণব দ্রুত আদেশ পালন করল।

    হাবীব বললেন, ওসি সাহেব কিছু বলবেন? রানী মেয়েটাকে দিয়ে আমি একটা মামলা করতে পারি, অপহরণ এবং ধর্ষণ মামলা। দশ বছরের জন্যে জেলে চলে যাবেন। আপনার সুবিধা হবে, জুমনপুরের পীরসাহেবের তরিকায় চলার সুযোগ পাবেন।

    আখলাকুর রহমান বিড়বিড় করে বললেন, আমি আপনাকে বড়ভাইয়ের মতো দেখি। এখানে আপনি আমার মুরুব্বি। ছোটভাইয়ের ভুলত্রুটি বড়ভাই যদি ক্ষমা না করে, কে করবে?

    হাবীব বললেন, নজরানা যেটা নির্ধারণ করা হয়েছে সেটা কি ঠিক আছে? অবশ্যই ঠিক আছে। অবশ্যই।

    হাবীব বললেন, আসামি দিচ্ছি, আসামি নিয়ে যান। তাকে ভালোমতো শিখিয়ে-পড়িয়ে নেবেন। হাসান রাজা চৌধুরী এবং তার পরিবারের যেন কোনো ঝামেলা না হয়।

    আপনি যেভাবে বলবেন ঠিক সেই মতো কার্য সম্পন্ন হবে। আমার পীর সাবের দোহাই।

    আখলাকুর রহমান আসামি নিয়ে চলে গেছেন। ঘরে প্রণব এবং হাবীব। পাংখাপুলার রশিদ পাংখা টানছে। যদিও পাংখার প্রয়োজন নাই। আবহাওয়া শীতল। দূরে কোথাও বৃষ্টি হচ্ছে। ঠান্ডা হাওয়া আসছে।

    প্রণব বললেন, শোকের মুখে নুন পড়েছে। সাধারণ নুন না। সৈন্ধব লবণ।

    হাবীব বললেন, লবণ এখনো পড়ে নাই। লবণ পড়বে চার-পাঁচ দিনের ভিতরে। যখন তারে বদলি করা হবে রামু থানায় কিংবা খাগড়াছড়িতে।

    প্রণব বললেন, এখন তাকে বদলি করলে তো আমাদের সমস্যা।

    হাবীব হাই তুলতে তুলতে বললেন, আমাদের কোনো সমস্যা নাই। ওসি আমার কাছে ছুটে আসবে তদবিরে। আমি তদবির করে বদলি বন্ধ করব। ওসি আমার কাছে বাকিজীবনের জন্যে বান্ধা থাকবে। এখন বুঝেছ?

    জলের মতো পরিষ্কার বুঝেছি।

    মেয়েছেলের কান্না শুনছি। কে কাঁদে।

    ফরিদের বউ।

    অল্পদিনেই দেখি স্বামীর প্রতি তার বিরাট দরদ হয়েছে।

    প্রণব বললেন, তা হয়েছে।

    হাবীব বললেন, হাসান রাজা চৌধুরীকে বলবে আমার বাড়িতে থাকার তার আর প্রয়োজন নাই। সে এখন নিশ্চিন্ত মনে তার বাড়িতে গিয়ে থাকতে পারে।

    জি বলব। আপনার সঙ্গে ছোট্ট একটা কথা ছিল।

    বলো। তোমার কোনো কথাই তো ছোট না। ডালপালায় বিশাল বটবৃক্ষ। বটবৃক্ষের যেমন ঝুড়ি নামে তোমার কারও তেমন ঝুড়ি নামে। বলো কী কথা?

    প্রণব বললেন, নাদিয়া মামণির এক শিক্ষক এসেছেন ঢাকা থেকে। নাদিয়া মামণির সঙ্গে দেখা করতে চান। আপনার সঙ্গে দেখা করতে চান। তাঁকে অতিথঘরে থাকতে দিয়েছি। খাওয়দাওয়ার ব্যবস্থা করেছি। বাড়িতে এত ঝামেলা, এইজন্যে আপনাকে কিছু জানাই নাই।

    হাবীব বললেন, না জানিয়ে ভালো করেছ। এখন না জানিয়ে সকালে জানালে আরও ভালো হতো।

    হাবীব উঠে পড়লেন। তার ভুরু কুঁচকে আছে। তালেবুল এলেমরা নিচুগলায় দোয়াপাঠ করেই যাচ্ছে। এদের গলা ছাড়িয়ে শোনা যাচ্ছে ফরিদের স্ত্রীর কান্না।

    নাদিয়াকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছে। লাইলী মেয়েকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে আছেন। ঘরে হারিকেন জ্বালানো। জ্বলন্ত অগ্নির কাছে খারাপ কিছু আসতে পারে না। খাটের নিচে একটা মালশায় সরিষা এবং একগোছা চাবি রাখা হয়েছে। নাদিয়ার গলায় তিনটা ভারী তাবিজ। দুটা দিয়েছেন শম্ভুগঞ্জের পীরসাহেব। একটা মওলানা তাজ কাশেমপুরী। নাদিয়ার ঘরে দুজন কাজের মেয়ে। তারা ঘোমটা দিয়ে জায়নামাজে বসে মাথা দুলিয়ে দুলিয়ে নিঃশব্দে কোরান পাঠ করছে।

    হাজেরা বিবির মাথা আজ মনে হয় একেবারেই ঠিক নেই। তিনি সুর করে মাতম করছেন—আমার নাতনি মারা গেছে গো! কেউ আমারে খবর দিল না গো! নাতনির মরামুখ আমারে কেউ দেখাইলো না গো! আমি তার শাদি দেখলাম না গো!

    রাত তিনটায় নাদিয়ার ঘুম ভাঙল। সে চাপা গলায় ডাকল, মা!

    লাইলী সঙ্গে সঙ্গে বললেন, এই যে আমি।

    নাদিয়া বলল, পুকুরের পানির নিচে আমি যে মেয়েটাকে দেখেছি সে কাঁদছে। আমি তার কান্নার শব্দ শুনতে পাচ্ছি। তুমি কি শুনতে পাচ্ছ মা?

    লাইলী বললেন, পাচ্ছি। কাঁদছে ফরিদের পোয়াতি বউটা।

    কেন কাঁদছে?

    লাইলী বললেন, এরা গরিব দুঃখী মানুষ। এদের নানান কষ্ট। কোন কষ্টে কাঁদে কে জানে!

    একটু খোঁজ নিবে মা?

    সকালে খোঁজ নিব। এখন তোক ছেড়ে যাব না।

    নাদিয়া বলল, অদ্ভুত একটা স্বপ্ন দেখেছি মা। স্বপ্নটা বলি?

    দিনের বেলা বলিস। রাতে স্বপ্ন বলতে নাই।

    কিচ্ছু হবে না মা। শোনো। আমি স্বপ্নে দেখি পানিতে বিরাট বড় একটা ডেগ। আমি সেই ডেগের ভেতর বসে আছি। ডেগটা ভাসতে ভাসতে যাচ্ছে। মাঝে মাঝে আমি ডেগের ভেতর থেকে মাথা বের করছি। তখন দেখি চারদিকে পানি। সমুদ্রের মতো, কিন্তু কোনো ঢেউ নেই। বাতাসও নেই। তারপরেও ডেগটা ভাসতে ভাসতে যাচ্ছে। ৩য়র স্বপ্ন, কিন্তু আমার একটুও ভয় লাগছে না!

    লাইলী বললেন, ভালো কোনো তফসিরকারীর কাছে স্বপ্নটা বলে পাঠাব। উনি তফশির করবেন।

    আমার যে স্যারের কথা তোমাকে বলেছি উনি যে-কোনো স্বপ্নের লৌকিক ব্যাখ্যা করতে পারেন।

    তোর ওই হিন্দু স্যার?

    হুঁ। উনার অনেক বুদ্ধি। ছাত্রদের কাছে স্যারের অনেকগুলি নাম আছে। একটা নাম হলো মালাউন শার্লক হোমস।

    স্যারের কথা থাকুক মা। তুই আরাম করে ঘুমা। আমি সারা রাত তোর মাথায় বিলি করে দেব। এক গ্লাস গরম দুধ খাবি?

    খাব। মা, আমার দাদির সঙ্গে ঘুমাতে ইচ্ছা করছে।

    লাইলী বললেন, তুই এইখানেই ঘুমাবি।

    হাবীব নাদিয়ার স্যারের সঙ্গে বসেছেন। মেহমানদের সঙ্গে তিনি বাংলাঘরে বসেন। মামলা-মোকদ্দমার লোকজনের সঙ্গে চেম্বারে।

    জনাব, আমার নাম বিদ্যুত কান্তি দে।

    হাবীব বললেন, আপনার নাম আমি আমার কন্যার কাছ থেকে শুনেছি। সে আপনার কাছ থেকে কী একটা ম্যাজিকও যেন শিখেছে। রাতে আপনার থাকার কি কোনো সমস্যা হয়েছিল?

    না।

    খাওয়াদাওয়ায় কোনো তকলিফ কি হয়েছে? আমার মেয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছিল, তাকে নিয়ে ব্যস্ততা গেছে।

    এখন সে কেমন?

    সে ভালো আছে।

    তার সঙ্গে একটু দেখা করব।

    হাবীব বললেন, আমাদের এই বাড়ি একটা প্রাচীন বাড়ি। প্রাচীন বাড়ির প্রাচীন নিয়মকানুন। অনাত্মীয় পুরুষমানুষের অন্দরমহলে প্রবেশ নিষেধ। নাদিয়ার শরীরের এখনো এমন অবস্থা না যে সে বাইরে এসে আপনার সঙ্গে দেখা করবে। আপনার স্কলারশিপের কী যেন সমস্যার কথা নাদিয়া বলেছিল। কাগজপত্রগুলি যদি রেখে যান, তাহলে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করতে পারি।

    বিদ্যুত কান্তি দে বললেন, স্কলারশিপের সমস্যা সমাধানের চেয়ে নাদিয়ার সঙ্গে দেখা করা এখন আমার অনেক জরুরি।

    হাবীবের চোখের দৃষ্টি তীক্ষ হলো। তিনি তাঁর সামনে বসা যুবকের দিকে তাকিয়ে রইলেন। যুবকের কথাবার্তার মধ্যে উদ্ধত ভঙ্গি আছে। তবে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী ছেলে। আত্মবিশ্বাস চোখের তারায় ঝলমল করছে। হিন্দুদের চোখেমুখে একধরনের কাঁচুমাচু নিরামিষ ভাব থাকে, এর মধ্যে তা নেই। হাবীব বললেন, আমার মেয়ের সঙ্গে দেখা হওয়া অত্যন্ত জরুরি কেন?

    বিদ্যুত বললেন, এন্টিগ্র্যাভিটি একটা ম্যাজিক শেখার তার খুবই শখ ছিল। ম্যাজিকের আইটেমটা সঙ্গে করে নিয়ে এসেছি। যেহেতু তার শরীরটা খারাপ, ম্যাজিকটা শিখলে ভালো লাগবে।

    হাবীব বললেন, আপনি জিনিসটা রেখে যান, আমি মেয়ের কাছে পৌঁছে দেব।

    ম্যাজিকটা কীভাবে দেখাতে হবে সেটা তো তাকে বলতে হবে।

    আপনি কাগজে লিখে দিয়ে যান। তাতে হবে না?
    হ্যাঁ হবে। আচ্ছা আমি আজ ছটা পর্যন্ত যদি আপনার বাড়িতে থাকি, তাহলে কি কোনো সমস্যা হবে?

    কোনো সমস্যা নেই।

    ঠিক সন্ধ্যা ছ’টায় আপনি কি আমাকে দশ মিনিট সময় দেবেন? তখন ম্যাজিকের বোতলটা আপনার হাতে বুঝিয়ে দেব।

    হাবীব বললেন, ঠিক আছে। সন্ধ্যা ছ’টায় আমি চেম্বারে উপস্থিত থাকব। একসঙ্গে চা খাব।

    বিদ্যুত বলল, আমার ছোট্ট আর্জি আমরা চা-টা খাব দিঘিরঘাটে। বিশেষ একটি কারণে দিঘিরঘাটে উপস্থিত থাকতে বলছি। যদি আপনার তেমন কোনো সমস্যা না হয়।

    হাবীব কিছু না বলে উঠে দাঁড়ালেন।

    ছ’টা বাজে। সূর্য ডুবিডুবি করছে। হাবীব দিঘিরঘাটে উপস্থিত হলেন। তাঁর সঙ্গে প্রণব আছেন। রশিদ এসেছে ট্রেতে করে চা নিয়ে। বিদ্যুত হাবীবের দিকে তাকিয়ে বললেন, আপনি কি ঘাটের ঠিক এই জায়গাটায় বসবেন? আপনার মেয়ে সন্ধ্যা ছ’টার দিকে এখানে বসে ভয় পেয়েছিল। কষ্ট করে বসুন। প্লিজ।

    হাবীব বসলেন।

    বিদ্যুত বললেন, এখন আপনি ডানদিকে তাকান। শেষ সূর্যের আলো আপনার গায়ে পড়েছে। সেখান থেকে প্রতিফলিত হয়েছে দিঘিতে। আপনার কি মনে হচ্ছে—দিঘির পানির ভেতর আপনি নিজেকে দেখছেন?

    হুঁ।

    নাদিয়ার ক্ষেত্রে ঠিক এই ঘটনা ঘটেছে। সে ভয় পেয়েছে পানিতে নিজের ছায়া দেখে। যে-কোনো কারণেই হোক, সে আগে থেকেই ভয়ে অস্থির ছিল। দিঘির পানিতে নিজেকে দেখে সেই ভয় তুঙ্গস্পর্শী হয়েছে।

    হাবীব চুপ করে রইলেন।

    বিদ্যুত বললেন, সে নিজেকে চিনতে পারেনি, তার কারণ আছে। শেষ বিকেলের আলো হয় গাঢ় হলুদ থেকে লাল। অর্থাৎ Longer wave length এর আলো। নাদিয়ার গায়ের রঙ শ্যামলা। সে দেখেছে প্রায় হলুদ রঙের এক তরুণীকে।

    প্রণব বললেন, আপনার বুদ্ধিতে চমকৃত হয়েছি। বিশেষভাবে চমৎকৃত হয়েছি। স্যার কী বলেন?

    হাবীব বললেন, এমন জটিল একটি বিষয়ে এত সহজ ব্যাখ্যা চিন্তা করি নাই।

    বিদ্যুত বললেন, আমরা প্রকৃতিকে অতি রহস্যময় কিছু ভেবে দূরে সরিয়ে রাখি। প্রকৃতি কিন্তু মোটেই রহস্যময় না। প্রকৃতি বিশাল একটা সরল অংকের মতো। যার উত্তর আমাদের জানা। হয় শূন্য আর নয় ১, এর বাইরে না। আমরা দিঘিরঘাটে বসে একটা সরল অংক কষেছি। উত্তর পেয়েছি শূন্য। অর্থাৎ ভূতপ্রেত বলে কিছু নেই।

    প্রণব বললেন, ঘাটে ভূত না থাকলেও এই বাগানে অবশ্যই আছে। একটা ঘটনা বলি—শীতের সময়, কার্তিক মাস, বাগানের দু’টা খেজুরগাছ কাটানো হবে। গাছি খবর দিয়েছি…

    হাবীব প্রণবকে থামিয়ে দিয়ে বললেন, এই গল্প এখন থাকুক।

    বিদ্যুত বললেন, এই খামটা আপনি রাখুন। নাদিয়াকে পৌঁছে দেবেন। এন্টিগ্র্যাভিটি ম্যাজিকের কৌশলটা এখানে লেখা আছে। আমি চা খেয়েই ঢাকার দিকে রওনা হব।

    হাবীব মেয়েকে চিঠি দেওয়ার আগে খাম খুলে নিজে পড়লেন কাজটা যে অন্যায় তাও না। মেয়ে বড় হলে তার ওপর নজর রাখতে হয়। সন্তানের প্রতি অনেক কর্তববার মতো এটাও কর্তব্য। যারা কর্তব্য পালনে ভুল করে তারাই বিপদে পড়ে হাবীব মন দিয়ে চিঠি পড়লেন দু’বার পড়লেন। সাধারণ চিঠি, তারপরেও সাংকেতিক কিছু থাকতে পারে।

    নাদিয়া,
    তুমি অসুস্থ বলে তোমার সঙ্গে দেখা হলো না। অসুস্থতার মূল কারণ ধরে দিয়েছি, কাজেই তুমি দ্রুত আরোগ্য লাভ করবে বলে আমার ধারণা।

    তোমার অতি পছন্দের এন্টিগ্র্যাভিটি বটলের ম্যাজিকের কৌশলটা শোনো। বাদামি রঙের একটা কাচের বোতল এবং দড়ি দিয়ে যাচ্ছি। বোতলের মুখের ব্যাস দড়ির মুখের ব্যাসের চেয়ে বড়। কাজেই দড়ির মাথা কামড়ে ধরে বোতল শূন্যে ঝুলতে পারবে না। গ্র্যাভিটির কারণে পড়ে যাবে। বোতলের ভেতর কর্কের একটা গোল বল আছে। ম্যাজিকের মূল কৌশল ওই গোল বলে। ম্যাজিশিয়ান হিসেবে তোমার কাজ হলো কোনোভাবে দড়ি এবং বোতলের মুখের মাঝখানে কর্কটা নিয়ে আসা।

    তাহলেই কার্য সিদ্ধি হবে। বোতল মধ্যাকর্ষণ শক্তিকে কলা দেখিয়ে দড়ির মাথা কামড়ে ঝুলতে থাকবে।

    ভালো কথা, কর্কটা শুরুতে বোতলের ভেতর থাকলে হবে না। কারণ বোতলটা দর্শক দেখতে চাইবে। কর্কের বল পাম করে হাতে লুকিয়ে রাখতে হবে।

    তুমি ভালো থেকো।

    ইতি

    বিদ্যুত কান্তি

    পুনশ্চ : সাপ এবং আপেল বিষয়ের যে বইটি তুমি দিয়েছ, তার মতো খারাপ বই আমি অনেক দিন পড়িনি। সর্বমোট আটটি গল্প। প্রতিটি একটার চেয়ে আরেকটা খারাপ। বইটির

    নাম হওয়া উচিত আটটি নিকৃষ্ট গল্প’।

    হাবীব চিঠি শেষ করে ভুরু কুঁচকে বসে রইলেন। নাদিয়া তার শিক্ষককে গল্পের বই কেন দিবে! তার সমস্যা কী?

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমন্দ্রসপ্তক – হুমায়ূন আহমেদ
    Next Article মৃণ্ময়ীর মন ভালো নেই – হুমায়ূন আহমেদ

    Related Articles

    হুমায়ূন আহমেদ

    বোতল ভূত – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    নিউইয়র্কের নীলাকাশে ঝকঝকে রোদ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    রং পেন্সিল – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    বিবিধ / অগ্রন্থিত লেখা – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    আজ হিমুর বিয়ে – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    কৃষ্ণপক্ষ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }