Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মানসী তুমি – নীহাররঞ্জন গুপ্ত

    নীহাররঞ্জন গুপ্ত এক পাতা গল্প99 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    মানসী তুমি – পরিচ্ছেদ ৫

    ০৫.

    ঘটনাটা ঘটল আরও মাসখানেক পরে। দীঘায় বেড়াতে গিয়েছিল শরদিন্দু রীণাকে নিয়ে–দিন চারেক পরে ফিরে এল একা।

    সুকুমার তিনতলা থেকে সিঁড়ি দিয়ে নামছিল, হঠাৎ শরদিন্দুর দিকে তাকিয়ে থমকে দাঁড়াল। উসকো-খুসকো মাথার চুল, ছোট ছোট দাড়ি। দুচোখে কেমন যেন বিভ্রান্ত দৃষ্টি। নিঃসন্দেহে। চমকে উঠেছিল সুকুমার।–কি হয়েছে শরদিন্দুদা!

    রীণা নেই।

    নেই? কি বলছ তুমি?

    বোধ হয় সমুদ্রের জলে ড়ুবে মারা গেছে।

    সমুদ্রের জলে ড়ুবে?

    হ্যাঁ, স্নান করতে নেমেছিল-সন্ধ্যার ঘোর নামছে তখন, কত বারণ করলাম শুনল না আমার কথা। জল থেকে আর উঠল না। পরের দিন কত খুঁজলাম—জেলেরা কত চেষ্টা করল

    পুলিসে খবর দিয়েছিলে? সুকুমার শুধাল।

    হ্যাঁ, তারা এখন ডেড বডিটার অনুসন্ধানে আছে।

    সুকুমার কি বলবে বুঝে পায় না, কোন সান্ত্বনার বাণী তার মুখ থেকে বের হয় না।

    আরও দিন পনেরো কেটে গেল। রীণার মৃতদেহের সন্ধান করতে পারেনি পুলিস, যেমন পারেনি পুরীতে মানসীর মৃতদেহের কোন সন্ধান।

    মানসীর মৃত্যুর ব্যাপারটাও নিয়ে পরবর্তীকালে যেমন শরদিন্দু আর মাথা ঘামায়নি, তেমনি রীণার মৃত্যুর ব্যাপারটাও বোধ করি অনিবার্য একটা দুর্ঘটনা বলে শরদিন্দু মেনে নিয়েছিল।

    কিন্তু মানসীর ঐ আকস্মিক মৃত্যুর ব্যাপারটা ভুলতে পারেননি একজন, তিনি মানসীর বাবা পরেশ নন্দী। একটা সন্দেহের কুয়াশা যেন ক্রমশ তার মনের মধ্যে জমাট বেঁধে উঠতে থাকে। মানসী ছিল ভাল সাঁতারু। কলেজ জীবনে সে তার সাঁতারের কৃতিত্ব স্বরূপ অনেক কাপ মেডেল পেয়েছিল। সেই মানসী পুরীর সমুদ্রে স্নান করতে নেমে তলিয়ে যাবে—কথাটা যেন মন থেকে কিছুতেই পরেশ নন্দী মেনে নিতে পারছিলেন না।

    কেমন যেন ব্যাপারটা রীতিমত অবিশ্বাস্য মনে হত তার কাছে। মনে হত মানসীর মৃত্যুর মধ্যে কোথাও একটা কোন রহস্য আছে নিশ্চয়ই।

    এমনি যখন মনের অবস্থা পরেশ নন্দীর, হঠাৎ একজনের কথা তার মনে পড়ল। মানুষটি সম্পর্কে অনেক কিছু তিনি শুনেছিলেন কিন্তু সাক্ষাৎ পরিচয় ছিল না। অবশেষে অনেক ভেবে সাহসে ভর করে একদিন তিনি গড়িয়াহাটায় তার গৃহে গিয়ে উপস্থিত হলেন।

    কিরীটী রায়।

    কিরীটী বাড়িতেই ছিল। প্রাতঃভ্রমণ শেষ করে সবে ফিরেছে কিরীটী। বসবার ঘরে বসে ঐদিনকার সংবাদপত্রের পাতাটা ওলটাচ্ছিল কিরীটী, জংলী এসে বললে, একজন বুড়ো বাবু তোমার সঙ্গে দেখা করতে চায়।

    বুড়ো বাবু? কিরীটী বলল, তুই বললি না কেন কারও সঙ্গে আমি দেখা করি না?

    বলেছি, কিন্তু শুনছে না

    যা এই ঘরে নিয়ে আয়।

    একটু পরে জংলীর সঙ্গে পরেশ নন্দী এসে ঘরে ঢুকলেন, পরনে একটা ময়লা ধুতি আর পাঞ্জাবি, চোখে চশমা, পায়ে চপ্পল।

    রায়মশাই, আপনাকে বিরক্ত করতে আসতে হল বলে আমি বিশেষ দুঃখিত, কিন্তু আপনি ছাড়া কেউ আমাকে সাহায্য করতে পারবেন না ভেবেই

    বসুন। কোথা থেকে আসছেন?

    পরেশ নন্দী তার নাম-ধাম বললেন।

    আমার কাছে কি দরকার বলুন তো পরেশবাবু? কিরীটী শুধাল।

    আমার যা বলবার যদি একটু ধৈর্য ধরে শোনেন রায়মশাই অনুগ্রহ করে—

    বেশ বলুন!

    পরেশ নন্দী, তখন মানুসীর কাহিনী আদ্যোপান্ত বলে গেলেন ধীরে ধীরে।

    আপনি বিশ্বাস করতে পারছেন না নিশ্চয়ই নন্দীমশাই যে আপনার মেয়েটি জলে ড়ুবে মরতে পারে! কিরীটী বলল সবকিছু শুনে।

    না। আমার মনে হয় তার যদি মৃত্যুই হয়ে থাকে জলে ড়ুবে, তাহলে সে মৃত্যু স্বাভাবিক নয়।

    সমুদ্রে কখনও আপনার মেয়ে সাঁতার কেটেছে?

    না।

    তাহলে ব্যাপারটা তো আকস্মিক দুর্ঘটনাও হতে পারে নন্দীমশাই।

    পরেশ নন্দী বললেন, হতে যে পারে না তা নয়। কিন্তু তবুও মনকে প্রবোধ দিতে পারছি। তাছাড়া একটা কথা ভেবে দেখুন রায়মশাই-শরদিন্দু আবার বিবাহ করল দেড় বৎসরের মধ্যে এবং তার দ্বিতীয় স্ত্রীর ভাগ্যেও অনুরূপ ব্যাপার ঘটল। আবার সেই সমুদ্র–

    আচ্ছা নন্দীমশাই, শরদিন্দুবাবু দ্বিতীয়বার যাকে বিবাহ করলেন—সেই রীণা না কি নাম মেয়েটির—তার পরিচয় কিছু জানেন? কার মেয়ে—কোথায় বিয়ে করলেন তাকে উনি?

    না, সেসব কিছুই আমার জানা নেই হয়তো সুকুমার জানে।

    সুকুমার মানে শরদিন্দুবাবুর জ্ঞাতিভাই, যিনি এই বাড়িতেই থাকেন?

    হ্যাঁ। একটা কথা রায়মশাই কথাটা আমি বলিনি এখনও, কিন্তু বোধ হয় আপনার জানা দরকার, আমার মেয়ে মানসীর সঙ্গে ঐ ছেলেটির একটু যেন হৃদ্যতা গড়ে উঠেছিল একসময়

    ভালোবাসা?

    বলতে পারেন।

    আপনার মেয়ের বিবাহের পূর্বে না পরে?

    পূর্বে।

    তবু আপনি শরদিন্দুবাবুর সঙ্গে মেয়ের বিবাহ দিয়েছিলেন কেন?

    সে কথা তো পূর্বেই আপনাকে বলেছি শরদিন্দু এক সময় আমার মালিক ছিল—তারপর হঠাৎ অকালে শরদিন্দু আমাকে রিটায়ার করাবার জন্য জেদ প্রকাশ করল-মানসী সেকথা জেনে প্রতিবাদ জানাতে যায় শরদিন্দুর কাছে শরদিন্দু ওকে দেখে মুগ্ধ হয়—বিবাহের প্রস্তাব দেয় আমার কাছে, সেই সঙ্গে একটা লোভনীয় পেনসনের লোভ দেখায়। চাকরি গেলে আমার আর্থিক অবস্থার কি হবে ভেবে আমি মানসীকে অনুরোধ জানাই বিবাহে সম্মত হতে। মানসী আমায় অত্যন্ত ভালোবাসত—সে সব কথা শুনে প্রথমটার গুম হয়ে রইল—তারপর একটু পরে বলল, ঠিক আছে, তাই হবে বাবা।

    কয়েকটা মুহূর্ত চুপ করে থেকে কিরীটী বললে, আচ্ছা বিবাহের পর শরদিন্দু কি ব্যাপারটা জানতে পেরেছিল—মানে তার স্ত্রীর পূর্বরাগের কথা?

    বোধ হয় জেনেছিল।

    আপনি জানলেন কি করে?

    মানুর ডাইরি থেকে—

    ডাইরি?

    হ্যাঁ, মানুর একটা ডাইরি ছিল—মধ্যে মধ্যে যে ডাইরি লিখত। সেই ডাইরিটা এখনও আমার কাছে আছে।

    আপনি পেলেন কি করে সেই ডাইরি?

    ও যেবারে পুরী যায়, তার দুদিন আগে আমার কাছে এসেছিল—বোধ হয় সেই সময়ই ডাইরিটা তার পড়ার টেবিলে বইয়ের মধ্যে রেখে যায়—তার মৃত্যুর পর একদিন তার পড়ার টেবিলের বইগুলো ঘাঁটতে ঘাঁটতে হঠাৎ ডাইরিটা পাই—ওর পুরী যাওয়ার তিন দিন আগে রাত্রে ডাইরির শেষ পাতা লেখা।

    আপনি আমাকে একবার ডাইরিটা পড়াতে পারেন নন্দীমশাই?

    কাল এনে দেব।

    তাই দেবেন, আগে আমি ডাইরিটা পড়ে দেখি, ডাইরির মধ্যে যদি এমন কিছু পাইযাতে করে আপনার সংশয়টা যুক্তিযুক্ত মনে হয়

    পরেশ নন্দী বললেন, বেশ, তাই পড়ে দেখুন কালই আমি দিয়ে যাব। ডাইরিটা—পরেশ নন্দী কথাগুলো বলে ঘর থেকে বের হয়ে গেলেন।

    ঐদিনই সন্ধ্যার দিকে পরেশ নন্দী এসে মানসীর ডাইরিটা কিরীটীর হাতে তুলে দিয়ে গিয়েছিল। ১৯৬০ সনের একটা পুরাতন ডাইরি। সেই ডাইরির পাতার মধ্যে মধ্যে মানসী ডাইরি লিখেছে। রাত্রে বসবার ঘরের সোফাটায় বসে কিরীটী ডাইরির পাতাগুলি ওলটাচ্ছিল।

    প্রথম তারিখ ১৯৬৩ সনের ৬ই জুলাই। প্রথমে বেশ অনেকগুলো খালি পাতার পর বোধ হয় ঐ ডাইরি লেখা শুরু। মানসী লিখছে, মাত্র কয়েকটি লাইন—আজ আমার জন্মদিন, রথযাত্রার দিনই নাকি আমি জন্মেছিলাম—ঠিক সন্ধ্যা সোয়া সাতটায়, হিসাব করে দেখলে আজ আমার বয়স উনিশ পূর্ণ হল, কুড়ি বছরে পা দিলাম!

    পরের ডাইরি লেখা হয়েছে—এক মাস পরে—৭ই আগস্ট। বুধবার।

    সকাল থেকেই আকাশ মেঘলা হয়ে আছে। কাল সারারাত বৃষ্টি পড়েছে। বৃষ্টি আমার খুব ভাল লাগে, বৃষ্টির যেন একটা আলাদা সুর আছে রিম ঝিম রিম ঝিম।

    তারপরের যে তারিখটায় ডাইরি লেখা শুরু হয়েছে লাল কালি দিয়ে সে তারিখটা লেখা। তারিখটা ইংরেজী তারিখ নয়, বাংলা তারিখ। ২১শে ফায়ূন, রাত্রি দশটা।

    আজ স্নানের পর আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে প্রথম আবিষ্কার করলাম যেন। বাড়িতে কেউ ছিল না। আমি একাই ছিলাম। সত্যি আমি দেখতে এত সুন্দুর? দেহের কানায় কানায় যৌবন। আমি নিজেই যেন চমকে উঠেছিলাম নিজের সেই ভরা যৌবনের দিকে তাকিয়ে

    ঐ পর্যন্তই, তারপর আর কিছু লেখা নেই।

    লেখা শুরু আবার সাত মাস পরে।

    এবারে পুজো আশ্বিনের মাঝামাঝি। আকাশে এখনও মধ্যে মধ্যে মেঘ জমে ওঠে। দু-এক পশলা বৃষ্টিও হয়। আচ্ছা সুকুমারকে কি সত্যিই আমি ভালোবাসি? কি জানি, জানি না। তবে এটা জানি, সুকুমার আমাকে ভালোবাসে।

    বুঝতে পারি দেখা হলে সুকুমার কি রকম মুগ্ধ দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে থাকে। ওর দুচোখের দৃষ্টি যেন আমাকে বন্দনা করে। সুকুমার কিন্তু বড় চাপা। আচ্ছা, মুখ খুলতে ওর এত ভয় কেন, কিসেরই বা ভয়?

    আবার দু মাস পরে লেখা ডাইরি।

    লেকে আজ বেড়াতে গিয়েছিলাম দুজনে। আমি আর সুকুমার দুজনে একটা বেঞ্চে পাশাপাশি বসেছিলাম, ও আমার একটা হাত দুহাতের মধ্যে নিয়ে খেলা করছিল। সন্ধ্যার অন্ধকারে চারিদিক ঝাপসা হয়ে গিয়েছে, কারও মুখ স্পষ্ট দেখা যায় না। বললাম আমিই, কিছু বলবে সুকুমার?

    সুকুমার বললে, কি বলব?

    কিছু বলার নেই?

    তুমি বল মানসী। সুকুমার বলল।

    কেন, তুমি বলতে পার না সুকুমার?

    যা বলবার আগেই তো সব বলেছি। কেন, তুমি জান না! শুনতে পাওনি?

    কই না তো!

    তবে আর শুনে কাজ নেই।

    বাবুর অমনি রাগ হয়ে গেল, বেশ, গো বেশ আমি হার মানছি, হল তো?

    সুকুমার হঠাৎ দুহাত বাড়িয়ে আমাকে বুকের মধ্যে টেনে নিল।

    আঃ, কি হচ্ছে ছাড়—কেউ দেখে ফেলবে, বললাম।

    আরও মাস দুই পরে আবার ডাইরি লেখা। কোন তারিখ নেই। তবে লেখা :

    দুমাস কোন ডাইরি লিখিনি।

    আশ্চর্য, সত্যি আজও যেন সুকুমারকে বুঝতে পারলাম না। ও আমাকে চায়, বুঝতে পারি, কিন্তু বলে না স্পষ্ট করে—এ এক দুঃসহ যন্ত্রণা-ভোগ। এক যন্ত্রণার সাগর উত্তীর্ণ হওয়া। তবে ওর ভালোবাসাটা ও প্রকাশ করতে পারে না। কেন পারে না ও—আমি তো পারি, ও ছাড়া জীবনে আমার অন্য কোন পুরুষ আসতে পারে না।

    আবার মাস দুই পরে ডাইরি লেখা হয়েছে :

    বুঝতে পেরেছি সুকুমারের মধ্যে একটা কমপ্লেক্স আছে। হীনমন্যতার কমপ্লেক্স। কেবলই ও নিজেকে বলে, পরাশ্রয়ী। শরদিন্দুবাবু না থাকলে নাকি ওর বাঁচাটাই দুষ্কর হত।

    আমার কেন যেন মনে হয় শরদিন্দুর কাছে আশ্রয় পাওয়াটাই হয়েছে ওর জীবনের সব চাইতে বড় অভিশাপ। শরদিন্দু যদি ওকে আশ্রয় না দিত, ও বোধহয় অন্য মানুষ হতে পারত। ও মরে গিয়েছে। বিয়ের পর ওকে আমি ঐ শরদিন্দুর কাছ থেকে দূরে—অনেক দূরে নিয়ে যাব।

    এবারে মাস আষ্টেক বাদে ডাইরি লেখা হয়েছে। ওপরের তারিখটা ১০ই ফেব্রুয়ারি ১৯৬৫।

    ও কোন দিনই বলবে না। ভাবছি এবারে আমিই ওকে বলব—আচ্ছা সুকুমার, এবার আমরা বিয়ে করলে কেমন হয়? এস, বিয়ে কর আমায়। দূর, তাই কখনও বলা যায় নাকি! ভাবতেই হাসি পাচ্ছে। কিন্তু ওকে যতটুকু চিনেছি, ও কোন দিন হয়তো মুখ ফুটে বলবে না, আমাদের বিয়ের কথা। আমাকে হয়তো ঐ কথাটা শুনবার আশায় এমনি করেই চেয়ে থাকতে হবে।

    তারপর আবার—৩১শে অক্টোবর ১৯৬৫।

    হঠাৎ কাল সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে বাবা বললেন, ওঁর কারখানার মালিক নাকি ওঁকে রিটায়ার। করতে বলেছেন।

    কথাটা শুনে আমার প্রচণ্ড রাগ হল, এ কি অদ্ভুত খেয়াল মানুষটার! মালিক বলে যা খুশি তাই করবে নাকি! আর আমাদের সেটা সহ্য করতে হবে? না, এ হতে পারে না। আমি কাল দেখা করব মানুষটার সঙ্গে, বলব, আপনি যা খুশি তাই করতে পারেন না। একটা সংসারকে আপনি আপনার খেয়ালে নষ্ট করতে পারেন না।

    ১লা নভেম্বর ১৯৬৫।

    গিয়েছিলাম ভদ্রলোকের অফিসে। মানুষটার চোখের দৃষ্টি কি বিশ্রী। সর্বক্ষণ আমার দিকে চেয়ে থেকেছেন, আমার এমন বিশ্রী লাগছিল। কিন্তু তবু মনে হয়, মানুষটাকে বোধ হয় যতটা খারাপ ভেবেছি ততটা খারাপ নয়।

    দিন দুই পরে আবার লিখছে মানসী–

    বাবার মুখে প্রথমে কথাটা শুনে সত্যিই আমার ভীষণ রাগ হয়েছিল, স্পর্ধা তো কম নয়—আমাকে বিয়ে করতে চায়! বেচারীর বোধ হয় আমাকে দেখে এতকালের কৌমার্যের আসনটা টলে গিয়েছে!

    যত ভাবছি কথাটা, ততই রাগ হচ্ছে বটে কিন্তু হাসিও পাচ্ছে। বেচারী শরদিন্দু! কিন্তু যা-ই বলি না কেন, ভদ্রলোকের চেহারাটা কিন্তু পুরুষালী এবং রীতিমত হ্যাণ্ডসাম।

    বাবা আজ সকালেই আমাকে ডেকে বললেন সব কথা, তারপর বললেন আমি এখন কি

    করি বল্ তো মা? আমি হঠাৎ বললাম কি করে বললাম তা জানি না, বললাম, তুমি যা ভাল বুঝবে তাই করবে। আমার মতামতের জন্য অত ভাবছ কেন?

    তুমি আমায় বাঁচালি মা। বেঁচে থাক, শরদিন্দু সত্যি ভদ্রলোক। তুই সুখী হবি আমি বলছি, বাবার সমস্ত মুখ জুড়ে সে এক তৃপ্তির আনন্দ!

    দীর্ঘ দেড় মাস পরে আবার ডাইরি শুরু

    গত প্রায় মাস দেড়েক সুকুমারের সঙ্গে দেখা হয় নি হয়তো বেশিও হতে পারে। বিয়ের পর এই বাড়িতে এসে প্রথমে যে বিস্ময়ের সম্মুখীন হলাম, সে সুকুমার।

    সুকুমারকে দেখলাম। সে এসে আমাদের যে ঘরে ফুলশয্যা রচিত হয়েছিল সেই ঘরে প্রবেশ করল। ভেবেছিলাম জীবনে আর হয়তো সুকুমারের সম্মুখীন হতে হবে না, কিন্তু আমার  ভাগ্যবিধাতা বোধ হয় অলক্ষ্যে হেসেছিলেন। সুকুমার এই বাড়িতেই থাকে, ও শরদিন্দুর ভাই।

    ঐ পর্যন্ত লিখে ডাইরি যেন শেষ হয়েছে। অনেকগুলো শূন্য পৃষ্ঠা। কিছু লেখা নেই। কিন্তু ডাইরি যে ওখানেই শেষ হয়নি, কিরীটী বুঝতে পারল, ডাইরির শেষের দিকে এসে অনেকগুলো শূন্য পাতার পর আবার ডাইরির শুরু। মানসী লিখেছে।– মানুষের বুকের মধ্যে যে এমন একটা আক্রোশ, এমন জমাটবাঁধা ঘৃণা থাকতে পারেসত্যি যেন আমার ধারণাও অতীত ছিল।

    কাল রাত্রে শরদিন্দুর অন্য রূপ দেখলাম। শরদিন্দু নেই, কি একটা ব্যবসার কাজে দিল্লী গিয়েছে, কাল ফিরবে। যেন হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছিলাম, তার কামনার উগ্র তাপ থেকে। আমার দেহটা যেন সুতীক্ষ্ণ নখের আঁচড়ে একেবারে ক্ষতবিক্ষত করে ফেলেছে। ক্লান্ত—বড় ক্লান্ত হয়ে পড়েছি যেন। সত্যি, আর যেন সহ্য করতে পারছি না।

    একদিকে শরদিন্দুর ঐ অত্যাচার, অন্যদিকে সুকুমারের দুচোখের ঘৃণাভরা দৃষ্টি। চুপচাপ অন্ধকার ঘরের মধ্যে অন্ধকার জানালার সামনে দাঁড়িয়ে ছিলাম, হঠাৎ কানে এল বেহালার করুণ সুর, কে যেন এই বাড়ির মধ্যেই কোথায় বাজাচ্ছে। কে বেহালা বাজায় এ বাড়িতে? পায়ে পায়ে একসময় ঘর থেকে বের হয়ে গেলাম। বেহালা কাঁদছে। বেহালার সুর অনুসরণ করে করে তিনতলায় চলে গেলাম। সুকুমার তার ঘরে বেহালা বাজাচ্ছিল।

    হঠাৎ কানে এল গাড়ির শব্দ। শরদিন্দুর আগে-আগেই ঘরের মধ্যে ঢুকলাম। শরদিন্দু আমার পশ্চাতে ঘরে ঢুকল, ঘরের দরজার অর্গল তুলে দিল। ঘরে ঢুকেই আমি আলোটা সুইচ টিপে জ্বালিয়ে দিয়েছিলাম। মনে হল, তার দু চোখের দৃষ্টিতে যেন একটা হত্যা করবার লিপ্সা, শিকারের পূর্ব মুহূর্তে বাঘ যেমন তার শিকারের দিকে তাকিয়ে থাকে তেমনি করে যেন শরদিন্দু তাকিয়ে আছে আমার দিকে। এখুনি বুঝি আমার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়বে।

    বুকটার মধ্যে হঠাৎ যেন কেঁপে উঠল আমার।–কি হয়েছে, অমন করে তাকিয়ে আছ কেন? ভয়ে ভয়ে বললাম।

    মানসী, আমার অবর্তমানে তাহলে তুমি সুকুমারের ঘরে রাত কাটাও? কেন, কেন বলনি তুমি আমাকে বিয়ের আগে কথাটা? কেন জানতে দাওনি সত্য কথাটা?

    তুমি তো জানতে চাওনি, আমি বললাম। মাথার মধ্যে তখন আমারও যেন আগুন জ্বলছে, আমিও যেন সহ্যের শেষ সীমায় এসে দাঁড়িয়েছি।

    আমি জানতে চাই, বিয়ের আগে কতদূর পর্যন্ত তোমরা এগিয়েছিলে, শরদিন্দুর গলার স্বর যেন কাপছিল।

    সে কথা তোমায় বলে কোন লাভ নেই বললাম আমি। মৃত্যুর জন্য আমি প্রস্তুত।

    স্বৈরিণী–বেশ্যা!

    ভদ্রভাবে কথা বলহারামজাদী, ভদ্রভাবে কথা বলব তোর সঙ্গে! কথাগুলো বলেই হঠাৎ দুহাত বাড়িয়ে আমার গলাটা দশ আঙুল দিয়ে চেপে ধরল শরদিন্দু খুন—আজ তোকে খুনই করে ফেলব—চাপা গলায় হিসহিস করে বললে শরদিন্দু।

    হঠাৎ ঐসময় গোকুল দরজায় ধাক্কা দিল, দাদাবাবু—দাদাবাবু!

    শরদিন্দুর দশ আঙুলের চাপ শিথিল হয়ে গেল। ও আমায় ছেড়ে দিয়ে দরজাটা খুলে দিল। আশ্চর্য! শরদিন্দু তখন একেবারে শান্ত, একেবারে স্বাভাবিক, তার চোখে মুখে ও কণ্ঠস্বরে ক্ষণপূর্বে যে কুটিল হিংসা তাকে ভয়ঙ্কর করে তুলেছিল তার কিছুই যেন নেই। বললে, কিরে গোকুল?

    খাবে তো চল, খাবার তৈরী হয়েছে।

    পরে সেই রাত্রেই হঠাৎ শরদিন্দু আমার দুহাত ধরে হাউ হাউ করে কেঁদে ফেললে, আর বলতে লাগল, ক্ষমা কর মণি আমাকে ক্ষমা কর, পশুরও অধম ব্যবহার করেছি আজ তোমার সঙ্গে আমি, বল—আমায় ক্ষমা করেছ বল!

    ঘৃণায় লজ্জায় আমি যেন তখন একেবারে পাথর হয়ে গিয়েছি।

    মণি বল—আমি পশু—আমি একটা পশু।

    আমি বললাম, আজ বোধ হয় ড্রিঙ্ক করনি–

    না।

    আমি তখন বোতল থেকে গ্লাসে ড্রিংক ঢেলে দিলাম।

    আমি বুঝতে পারছি ঐ শরদিন্দুর হাতেই আমার মৃত্যু আছে।

    এর পর আর ডাইরি লেখা হয়নি। বোঝাই যায়, মানসী আর ডাইরি লেখবার সুযোগ পায়নি। অতল জলধির মৃত্যু তাকে গ্রাস করেছে। ঐ ঘটনার পরেই তো সে পুরী গেল স্বামীর সঙ্গে, ডাইরিটা সঙ্গে নিয়ে যায়নি। নিজেদের বাড়িতে রেখে গিয়েছিল। মানসী কি তাহলে বুঝতে পেরেছিল, আর সে ডাইরি লেখার সুযোগ পাবে না? তাই—তাই কি সে ডাইরিটা সঙ্গে নেয়নি, বাপের বাড়িতে রেখে গিয়েছিল?

    কিরীটীর মনে হয়, কলকাতায় নিজের বাপের বাড়িতে তার পড়ার টেবিলে ডাইরিটা রেখে যাওয়ার দুটি কারণ থাকতে পারে—প্রথমত সে সুনিশ্চিত ভাবে বুঝতে পেরেছিল, পুরী থেকে : সে আর ফিরে আসবে না এবং দ্বিতীয়ত, যদি তার মৃত্যু সেখানে হয়ই, তাহলে একদিন না একদিন ঐ ডাইরিই তার মৃত্যুর কারণটা প্রকাশ করে দেবে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅবগুণ্ঠিতা – নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    Next Article সামনে সমুদ্র নীল – নীহাররঞ্জন গুপ্ত

    Related Articles

    নীহাররঞ্জন গুপ্ত

    কিরীটী অমনিবাস ১ – নীহাররঞ্জন গুপ্ত

    September 8, 2025
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত

    কিরীটী অমনিবাস ১৩ – নীহাররঞ্জন গুপ্ত

    September 8, 2025
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত

    কিরীটী অমনিবাস ২ – নীহাররঞ্জন গুপ্ত

    September 8, 2025
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত

    কিরীটী অমনিবাস ১২ – নীহাররঞ্জন গুপ্ত

    September 8, 2025
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত

    কিরীটী অমনিবাস ৩ – নীহাররঞ্জন গুপ্ত

    September 8, 2025
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত

    কিরীটী অমনিবাস ৪ – নীহাররঞ্জন গুপ্ত

    September 8, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }