Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মামা সমগ্র – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় এক পাতা গল্প1007 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    বড়মামার সাইকেল

    বড়মামা সাইকেলের বল বেয়ারিং-এ তেল দিচ্ছিলেন। মেজোমামা রকে জলচৌকির উপর আয়না রেখে ছোট মতো একটা কাঁচি দিয়ে গোঁফ ছাঁটছিলেন। আমি একটা বেতের মোড়ায় বসে বড়মামার সবচেয়ে বড় খরগোশটার অপকর্ম দেখছিলাম। সেটা একটা জুতো পরিষ্কার করার বুরুশ কুড় কুড় করে খাচ্ছিল! ভেবেছিলাম সরিয়ে নেব। তারপর মন হল কাজটা ঠিক হবে না। এ বাড়ির পশুদের স্বাধীনতায় বাধা দেবার মতো ডিকটেটার যখন কেউ নেই, আমি তো একটা নেহাৎ থার্ড পার্সন সিঙ্গুলার নাম্বার।

    তেল দেওয়া শেষ। বড়মামা চাকা দুটোকে বাঁই বাঁই করে বারকতক ঘুরিয়ে সাইকেলটাকে দেওয়ালে ঠেসিয়ে রাখলেন। তেল দেবার কেলে ডিবাটাকে পাঁচিলের ফোকরে রাখতে রাখতে বললেন,—’সাইকেল চাপবে সব ব্যাটা, তেল দিয়ে মরলে সুধাংশু ব্যাটা। কেন? কেন শুনি!’ বুঝলাম কথাটা বলা হচ্ছে মেজোমামাকে শুনিয়ে শুনিয়ে। মেজোমামার হাতের কাঁচির কুটকুট শব্দ থেমে গেছে। কান দুটো খাড়া খাড়া। কাঁচিটা চৌকির উপর রেখে বললেন—’তেল ছাড়াই সাইকেল চলে। তেল দেওয়া যাদের অভ্যাস তারা কিছু না পেলে সাত সকালে সাইকেলের তেল দেবে। মানুষের নেচার। নেচার তো আর পালটানো যাবে না।’

    কিছুদূরে কলতলায় বড়মামা হাতে সাবান ঘষতে ঘষতে শুনলেন। শুনে সাবান দেওয়া বন্ধ হয়ে গেল। ঘাড় ঘুরিয়ে বললেন—’গোঁফ ছাঁটছিস ছাঁট। সুধাংশু মুকুজ্জের চরকায় তেল দিতে আসিসনি। সুধাংশু মুকুজ্জে কবে কাকে তেল দিয়েছে রে! আই অ্যাম এ সেলফমেড ম্যান।’

    মেজোমামা কাঁচিটা হাতে তুলে নিলেন। ফুঁ দিয়ে কুঁচো ওড়াতে ওড়াতে বললেন—’মিথ্যে বল না। এইমাত্র সাইকেলে তেল দিচ্ছিলে। বরং বলতে পার আমি একটা লোক যে কাউকে তেল দেয় না, এমন কি সাইকেলেও নয়।’

    মেজোমামার কথার কেরামতির সামনে বড়মামা প্রায়ই একটু অপ্রতিভ মতো হয়ে পড়েন। ঠিক পেরে ওঠেন না। আজও তাই হল। সত্যই তো তেল দিচ্ছিলেন সাইকেলে। এই মাত্র, একটু আগে। নিজেই মেজোকে শুনিয়ে শুনিয়ে বলেছিলেন—তেলের ব্যাপারটা তাঁরই। বড়মামা কলের তলায় হাত পেতে চারদিকে ছেলেমানুষের মতো খানিক জল ছিটোলেন তারপর তারে ঝোলানো তোয়ালের এক কোণে হাত মুছতে মুছতে দেরিতে হলেও জবাবটা যেন খুঁজে পেলেন—’তুইও একটি জায়গায় তেল দিস এবং ভালো করেই দিস।’

    মেজোমামার হাতের কাঁচি আবার থেমে গেল। অবাক চোখে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বললেন—’আমি! আই নেভার টাচ অয়েল।’

    —’হ্যাঁ, তুমি। ‘বড়মামা গলাটা একটু বিকৃত করে বললেন—’তুমি রোজ সকালে চানের আগে তোমার নাইকুণ্ডুলে আধবাটি তেল ঢাল। সকলে জানে। জিগ্যেস করে দেখ তুমি সকলকে!’

    —’সে তো নিজের শরীরে, স্বাস্থ্য রক্ষার্থে। এ তেল কি সে তেল নাকি। অয়েলিং মাই ওন মেশিন।’ —’ওই হল রে। নিজেকে নিজে যারা তেল দেয় তারা ভয়ঙ্কর লোক। ভয়াল, ভয়ঙ্কর অজগর সর্প’ বড়মামা মুখটাকে হাঁ মতো করে হাত-পা নেড়ে মেজোমামার ভয়ঙ্কর চরিত্রটা বোঝাবার চেষ্টা করলেন।

    এইবার বড়মামার নজর পড়ল আমার দিকে। মোড়ার উপর পা গুটিয়ে বসে বসে মজা দেখছিলুম। খরগোশটা জুতো-ঝাড়া বুরুশটাকে টানতে টানতে প্রায় পায়ের কাছে এনে তিনের চার অংশই মেরে দিয়েছে। গোঁফের সঙ্গে বুরুশের চুল জড়িয়ে আছে।

    —’তুই এখানে বসে বসে চোরের মতো কি করছিস? তোকে আমি সেই সকাল থেকে গরু খোঁজা খুঁজছি।’

    —’আমি তো সারা সকাল এখানেই বসে আছি। দেখতে পান নি।’

    —’দেখার কি উপায় আছে। অতবড় একটা পর্বতের আড়ালে বসে আছিস। তিন ঘণ্টা ধরে শুধু গোঁফই ছেঁটে যাচ্ছে। গোঁফের জন্যে জীবনটাই নষ্ট হয়ে গেল।’

    মেজোমামা হাঁটু খুলে মেঝে থেকে উঠতে উঠতে একটু টাল খেয়ে পড়ে যাবার মতো হলেন। অনেকক্ষণ পা মুড়ে বসে থাকার জন্যেই বোধহয়। সেই টাল খাওয়া অবস্থাতেই মেজোমামা বললেন,—’তুমি গোঁফের মর্ম কি বুঝবে বল? তোমার তো সব চাঁছা ছোলা—প্লেন। পুরুষের মতো পুরুষ যারা তাদের সব ইয়া ইয়া গোঁফ। গোবর, গামা, বড়ে গোলাম আলি, আখতার সিং, অবতার সিং, স্বর্ণ সিং। তুমি সুধাংশু মুখুজ্জে, তোমার না আছে গোঁফ, না আছে দাড়ি।’ মেজোমামা বেকায়দা অবস্থা থেকে কথা বলতে বলতে সটান উঠে দাঁড়ালেন, এক হাতে আয়না অন্য হাতে কাঁচি। এতক্ষণ আমার উপর নজর পড়েনি, এইবার পড়ল।

    —’তুইও আমার মতো গোঁফ রাখবি! গোঁফ না রাখলে পুরুষ মানুষকে মেনি বেড়ালের মতো দেখায়।’

    বড়মামা জুতো পরছিলেন। এক পায়ে জুতো, অন্য পা রকের কোণায় ঘষে ঘষে ধুলো ঝাড়ছিলেন। মেজোমামার মন্তব্যে উত্তর না দিয়ে পারলেন না,—’ডাক্তারদের তোর মতো গুঁপো হলে চলে না বুজেছিস। আমার মুখ দেখে রোগীদের আদ্দেক অসুখ সেরে যায়। আমার মুখখানা দেখেছিস! অনেকটা যিশুর মতো। এ মুখ দেখলে মানুষ ভরসা পায়, তোর মুখ দেখলে ভিমরি যায়।’

    মেজোমামা একটা প্রাণখোলা হাসি হাসলেন, তারপর একখানা সংস্কৃত ছাড়লেন—’অমৃতং বাল ভাষিতং।’ দুম দুম করে এগিয়ে গেলেন কলের দিকে, যাবার সময় একহাত দিয়ে তার থেকে তোয়ালেটা টেনে নিলেন। গোটা কয়েক হ্যাঙার ঝুলছিল। পাকা আমের মতো টপাটপ পড়ে গেল। বড়মামার কুকুর লাকি এক পাশে মৌজ করে শুয়েছিল। একটা পড়ল তার ঘাড়ে। সে ঘেউ ঘেউ করে উঠল। খরগোশটা খোঁড়াতে খোঁড়াতে পালাল।

    জুতো পরা শেষ। বড়মামা বললেন—’চল। তাড়াতাড়ি পা নামিয়ে নিলুম।’ —’কোথায় যাবেন?’

    —’চল চল। কলে যাবো। সাইকেলের কেরিয়ারে বসতে পারবি তো?’

    —’কেন পারব না?’

    মেজোমামা মুখে জল থাবড়াতে থাবড়াতে বললেন,—’কেন ছেলেটাকে খানায় ফেলবে। তোমার তো ব্যালেনস নেই। বেশ বসে আছে চুপচাপ। কেন সুখে থাকতে ভূতে কিলোবে।’

    বড়মামা আমার দিকে তাকিয়ে অভিযোগের সুরে বললেন—’যাবি না তুই?’

    মহা বিপদে পড়লাম। কার কথা শুনি। আমি কিছু বলার আগেই মেজোমামা বললেন,—’না না, তোমার সঙ্গে ও কোথায় যাবে? ওর জীবনের দাম আছে।’

    বড়মামা গম্ভীর গলায় বললেন—’উত্তরটা আমি ওর কাছ থেকেই শুনতে চাই। নট ফ্রম এনি থার্ড পার্সন। ‘বড়মামা আমার কাছে এগিয়ে এসে বললেন,—’আশু ময়রার বাড়িতে কল আছে। এই বড় বড় সন্দেশ খাওয়াবে। একাল আর কত খাবো। তুই তবু কাছে থাকলে খাওয়ার ব্যাপারে একটু হেলপ করতে পারবি। চল, উঠে পড়। রোদ চড়ে যাচ্ছে।’

    মোল্লারচকে আশু ময়রার বিখ্যাত মিষ্টির দোকান। লোভ সামলানো মুশকিল। উঠে পড়তে হল। মেজোমামা বললেন,—’ডাক্তার আমি অনেক দেখছি, তবে এমন পেটুক ডাক্তার বড় একটা দেখা যায় না। সেদিক থেকে তুমি অবশ্যই দর্শনীয় বস্তু। ডাক্তার না হয়ে বামুন হওয়াই উচিত ছিল।’

    ‘ডিসপেপসিয়ায় সারা জীবন ভুগলে সুস্থ মানুষকে পেটুক বলেই মনে হবে। তোর দোষ নেই রে, তোর ভাগ্যের দোষ। সারা জীবন ঘুমিয়েই কাটালি। একটু ব্যায়াম করলি না। বদ হজমে মানুষের মাথার ঠিক থাকে না। আর পাগলে? পাগলে কিনা বলে। বাকিটা তুই বল?’ বড়মামা আমার ডান কানটা মুচড়ে দিলেন।

    ‘ছাগলে কিনা খায়—’বলে পাদ-পুরাণের সাহস হল না। মেজোমামাকে ছাগল বলাটা খুব গর্হিত কাজ এই বুদ্ধিটা অন্তত আমার আছে। বড়মামা ইতিমধ্যে সাইকেলটাকে হাঁটাতে হাঁটাতে বাড়ির বাইরে বাগান গিয়ে পড়েছেন। সামনের রডে ক্ল্যাম্প দিয়ে আটকানো কালো রঙের ডাক্তারি ব্যাগ। গলার দু’পাশে বুকের উপর ঝুলছে বুক-দেখা যন্ত্র। লম্বা চওড়া ফরসা চেহারা। মুখে সব সময় একটা হাসি লেগেই আছে।

    বড়মামা পকেট থেকে কাগজে মোড়া দুটো পিপারমিন্ট লজেন্স বের করলেন। একটা আমাকে দিলেন। মোড়ক খুলে অন্যটা নিজের মুখে ফেলে দিলেন,—’বুঝলি, সব সময় নিজেকে কোনও না কোনও কাজে ব্যস্ত রাখবি। একদম আইডল থাকবি না। যখন কোনও কাজ নেই তখন লজেন্স খাবি। নে উঠে বস। দু’পাশে পা ঝুলিয়ে দে আর কেরিয়ারের সামনের সিটের পিছনের এই প্যাঁচানো লোহার গোলটা শক্ত করে ধরে ব্যালেনস রেখে বস। ছটফট করবি না। বারে বারে ঘাড় ঘোরাবি না।’

    বড়মামার সাইকেল চলল কাঁচা রাস্তার উপর দিয়ে। ঝাঁকুনিতে হ্যান্ডেলের বেলটা টিন টিন শব্দ করছে। মাঝে মাঝে সাইকেলটা লগবগ করে উঠছে। বড়মামা বলছেন,—’ভয় পাবি না একদম।’ দূরে রাস্তা জুড়ে একটা গরুর গাড়ি আসছে। দু’পাশে বিশাল নর্দমা। আমি একটু মিনমিন গলায় বললুম,—’বড়মামা নর্দমা।’ বড়মামা বললেন,—’স্টেডি থাক, দেখ-না নর্দমার পাশ দিয়ে কায়দা করে সুট করে বেরিয়ে যাবো। তুই বরং চোখ বুজে থাক।’

    চোখ বুজতেই মেজোমামার কথা মনে পড়ে গেল—’কেন ছেলেটাকে মারবে।’ বড়মামা বললেন,—’পা দুটোকে ছড়াসনি, গরুর গাড়ির চাকায় ঘষে যাবে, ক্লোজ করে রাখ।’ পাশ দিয়ে হওয়ার মতো কি একটা বেরিয়ে এল। চোখ বুজলাম। গরুর গাড়ি পেরিয়ে এসেছি। সামনে ফাঁকা রাস্তা সটান বেরিয়ে গেছে। বড়মামা সাইকেলে স্পিড দিলেন। বললেন,—’দেখলি তো, একে বলে সাইকেল চালানো। আমিও চোখ বুজে ছিলুম। ভয় পেলেই চোখ বুজিয়ে ফেলবি। আমার ঠাকুমা শিখিয়ে গিয়েছিলেন।’

    —’আপনি চোখ বুজিয়ে দিলেন?’

    —’হ্যাঁ রে। তা না হলে তো খানায় পড়ে যেতুম। ঠাকুরমার শিক্ষা আজো ভুলিনি।’

    ভয়ে আড়ষ্ট হয়ে সাইকেলের পিছনে বসে রইলুম। ঠাকুমা কি মারাত্মক শিক্ষা বড়মামাকে দিয়েছিল! বড়মামা এখন গুন গুন করে গান গাইছেন,—’কি রে ঘুমোলি নাকি?’

    —’সাইকেলে বসে কেউ ঘুমোয় নাকি?’

    বড়মামা হাসলেন—’আমি তখন তোর মতো ছোট। বাবার সাইকেলের পেছনে বসে তুই যেমন চলেছিস আমিও চলেছি বাবার সঙ্গে কলে। সময়টা কেবল তফাৎ। সকাল নয় রাত্রি। কখন ঘুমিয়ে পড়েছি। হাত আলগা হয়ে ধপাস! ওদিকে বাবাও চালাতে চালাতে ঘুমিয়ে পড়েছেন। টের পাননি আমি পড়ে গেছি। বাবার আবার ভীষণ ভুলো মন। রুগির বাড়ি গিয়ে খেয়ালই হয়নি যে আমি সঙ্গে ছিলুম। রুগিটুগি দেখে ঘুর পথে বাবা বাড়ি চলে এসেছেন। মা জিগ্যেস করলেন—ন্যাড়াকে কোথায় রেখে এলে? বাবা তখন খেতে বসতে যাচ্ছেন। লাফিয়ে উঠলেন—তাই তো?’

    ঝগড়া করতে করতে দুটো কুকুর সাইকেলের সামনে চলে এসেছে। বড়মামা কায়দা করে কাটাতে গেলেন। ভীত কুকুরটা পালাল। মোটা কেলে কুকুরটা সামনের চাকায় এসে পড়ল। তারপর কি হ’ল বোঝা গেল না, কুকুরটার একটা পা জড়িয়ে গেল স্পোকের সঙ্গে। বড়মামা, আমি এবং কুকুর তিনজনেই ডিগবাজী খেয়ে রাস্তার ধারের ঘাসের উপর পড়ে গেলুম। সাইকেলটা ঘাড়ের উপর শুয়ে পড়ল।

    শুয়ে শুয়েই বড়মামা বললেন—’আমার দোষ নেই। দেখলি তো কেলে ব্যাটা চাকায় জড়িয়ে গেছে। তুই বলতে পারবি না যে আমি ফেলে দিয়েছি।’ বড়মামা প্রথমে উঠলেন ধুলোটুলো ঝেড়ে। আমাকে হাত ধরে টেনে তুললেন। সাইকেলের চাকায় পা জড়ানো অবস্থায় কুকুরটা তখন মর্মান্তিক আর্তনাদ করে চলেছে।

    রাস্তার ধারে উবু হয়ে বসে বড়মামা কুকুরটার অবস্থা ভালো করে দেখলেন। আমি বড়মামার চেয়ে আর একটু দূরে দাঁড়িয়ে দেখলুম, ডান পা’টা চাকার স্পোকে পাকিয়ে গেছে,—’বড়মামা?’

    —’বল?’

    ‘দুঃসাধ্য ব্যাপার। এ তো ছাড়ানো যাবে না। ছাড়াতে গেলেই কামড়ে দেবে।’

    —’হুঁ, বলেছিস ঠিক। এ রকম ঘটনা আগে কখনো দেখেছিস?’

    —’না বড়মামা। এ জিনিস দেখা যায় না। পা’টা বোধ হয় অ্যামপুট করতে হবে।’

    বড়মামা কিছুক্ষণ চিন্তা করলেন,—’কি যে বলিস? ডাক্তার হয়েছি কি করতে? দেখছিস কুকুরটার চোখ দিয়ে জল গড়াচ্ছে?’

    —’তুমি ওর চিৎকারটা বন্ধ করতে পার?’

    বড়মামা উঠে দাঁড়ালেন। পকেট থেকে আবার দুটো লজেন্স বেরোলো। একটা আমার। একটা বড়মামার। লজেন্সটা চুষতে চুষতে বড়মামা বললেন—’আমার কেরামতিটা একবার দেখ।’

    —’হাত দেবেন নাকি?’

    —’দেবো, তবে একটু পরে।’

    সাইকেল থেকে ডাক্তারি ব্যাগটা খুলে নিলেন। ব্যাগ থেকে বেরোলো ইঞ্জেকসানের সিরিঞ্জ, ওষুধের অ্যামপুল। শুনেছি, কুকুরে কামড়ালে পেটে ইঞ্জেকসান নিতে হয়। ভাবলুম, বড়মামা বোধহয় আগেই নিজের পেটে ছুঁচ ঢুকিয়ে তারপর কুকুরটাকে ধরবেন। কারণ ধরা মাত্রই কুকুর কামড়ে ছিঁড়ে দেবে।

    না। বড়মামা করলেন কি, কুকুরটার পাছায় পুট করে ছুঁচটা ঢুকিয়ে দিলেন।

    —’কি লাগালুম বল তো? মরফিয়া, কুকুরটা ঘুমিয়ে পড়বে দেখবি।’ কিছুক্ষণের মধ্যে কুকুরটা লটকে পড়ল। বড়মামা আস্তে আস্তে পা-টা বের করে আনলেন। শোচনীয় অবস্থা। পা-টা পেঁচিয়ে গেছে।

    —’একটা গাছের ডাল ভেঙ্গে আনতে পারিস?’

    দূরে একটা বেড়ার ধারে জিওল গাছ হয়েছিল। একটা ডাল তৎক্ষণাৎ ভেঙ্গে নিয়ে এলুম। বড়মামার ব্যাগ থেকে চওড়া ব্যাঞ্জেজ বেরোলো। ডাল দিয়ে টাইট করে কুকুরটার পা ব্যাণ্ডেজ করা হল।

    —’নে, ধর।’

    চ্যাংদোলা করে এটা ঝোপের ধারে কুকুরটাকে শুইয়ে দেওয়া হল। কখন জ্ঞান হবে কে জানে। বড়মামা বললেন,—’চড়া ডোজ দিয়েছি। বিকেলের আগে জ্ঞান হবে বলে মনে হয় না।’

    সাইকেলের হ্যান্ডেলটা বেঁকে গিয়েছিল। সামনের চাকার উপর ঘোড়ার মতো বসে দু’হাত দিয়ে বড়মামা হ্যান্ডেলটা ঠিকঠাক করলেন। সাদা প্যান্টে খাবলা খাবলা ধুলো। বড়মামাকে তখন ডাক্তার নয়, মিস্ত্রীর মতো দেখাচ্ছিল।

    —’বিকেলে আবার কুকুরটাকে দেখে যেতে হবে। জায়গাটা মনে রাখিস। কালভার্টের ধারে ভাঁট ফুলের ঝোপ।’

    সাইকেলে উঠতে উঠতে বড়মামা বললেন,—’ইস, ভীষণ দেরি হয়ে গেল রে, আমার রুগী বোধহয় একক্ষণ টেঁসে গেল।’

    বড়মামার সাইকেল এবড়োখেবড়ো রাস্তার উপর দিয়ে হুড়মুড় করে চলল। আমি ভয়ে সিঁটকে বসে রইলুম। একবার আছাড় খেয়েছি, আর একবার খেতে কতক্ষণ! হাঁটুর কাছটা ছড়ে গেছে, বেশ জ্বালা করছে। ঘাড়টা মটকে গিয়ে ভীষণ ব্যথা করছে।

    —’তোর কোথাও লেগেছে নাকি রে।’

    হাসি হাসি গলা করে বললুম—’না বড়মামা। খুব একটা লাগেনি।’

    —’লাগবে কি করে বল, আমরা তো আস্তে আস্তে ঘাসের উপর শুয়ে পড়লুম, তাই না? মেজোকে কিন্তু একটা কথাও বলবি না। বললে হইহই করে বাড়ি মাথায় করবে।

    একটা লাল রকওলা বড় বাড়ির সামনে বড়মামা সাইকেল থেকে নামলেন। মার্বেল পাথরের ফলকে লেখা, ‘পঞ্জী লজ’। রকের পাশে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে একটা বাচ্চা ছেলে আমের আঁটি চুষছিল। বড়মামাকে দেখে, ‘ডেক্তার এসেছে, ডেক্তার এসেছে’—বলে বাড়ির ভেতর দৌড়ল। বড়মামা সাইকেলটা ঢোকাচ্ছেন, বাড়ির ভেতর থেকে বেরিয়ে এলেন, মিশকালো বিশাল মোটা এক ভদ্রলোক। বেঁটে, মাথার চুল কাঁচাপাকা, পালোয়ানের মতো ছাঁট। পাকা পুরুষ্ট দু’জোড়া গোঁফ ঠোঁটের উপর কাঠবিড়ালীর ল্যাজের মতো বসে আছে। পরনে লাল গামছা, গায়ে একটা হলদেটে রঙের টাইট ফতুয়া। ভুঁড়িটা ঠেলে উঁচু হয়ে আছে। খালি পা।

    —’এস এস, ডাক্তার এস,’ গরিলার থাবার মতো দুটো হাত তুলে বড়মামাকে সাইকেল সুদ্ধ জড়িয়ে ধরেন আর কি! বড়মামা কোনও রকমে রক্ষে পেলেও আমি পেলুম না।

    —’খোকাটি কে?’ যেই বড়মামা বললেন,—’ভাগ্নে,’ ভদ্রলোক আমাকে বুকে জড়িয়ে ধরে জমি থেকে ফুটখানেক উপরে তুলে দুম করে ছেড়ে দিলেন। —’কোনও ওজন নেই ডাক্তারবাবু। এক্কেবারে দুবলা। খায়-টায় না নাকি।’

    সাইকেলটা উঠোনোর কোণে দাঁড় করাতে করাতে বড়মামা বললেন,—’আর বলবেন না, আমাদের বংশের কলঙ্ক। খাচ্ছে দাচ্ছে, কোথায় যে সব যাচ্ছে। গায়ে কিছুই লাগছে না। ব্যাটার পেটে বোধহয় কৃমির বংশ আছে। দাঁড়ান না, আমার পাল্লায় পড়ছে, কৃমির বংশ ধ্বংস করে দিচ্ছি।’

    ‘—কৃমি!’ আশুবাবু শব্দটাকে এমনভাবে উচ্চারণ করলেন যেন তাঁর পায়ের কাছেই গোটা কতক ঘুরে বেড়াচ্ছে—’রোজ সকালে এক গেলাস করে নিমপাতার রস খাওয়ান না। আমার ছোট নাতিটার হয়েছিল। সারাদিন খাই খাই করত, এখন রোজ দশটার বেশি সন্দেশ খায় না।’

    আশুবাবুর সারা গায়ে একটা টকটক ছানার জলের গন্ধ। ছানার জিনিস সুস্বাদু, কিন্তু গন্ধটা সহ্য করা শক্ত।

    —’কার অসুখ, আশুবাবু!’ এবার ডাক্তারের মতো গম্ভীর গলা বড়মামার!

    আশুবাবু হাত কচলে অপরাধীর মতো গলায় বললেন,—’আমার অসুখ।’

    চলমান পাহাড়ের মতো আশুবাবুর গামছা আর ফতুয়া পরা শরীরের দিকে বড়মামা অবিশ্বাসীর চোখে তাকিয়ে রইলেন। আশুবাবু বড়মামার চোখের দিকে তাকিয়েই বুঝলেন, ডাক্তারবাবু বিশ্বাস করছেন না।

    উঠোনের চারদিকে চওড়া লাল রক, চকচকে তেলা। একদিকে গোটাকতক দামী পুরু সোফা। আশুবাবু বড়মামা আর আমাকে নিয়ে সেইদিকে এগিয়ে গেলেন। বসতে বসতে বড়মামা জিগ্যেস করলেন,—’কি, হয়েছে কি?’

    —’মেয়েরা বলছে, ভূতে ধরেছে, আমার কিন্তু মনে হচ্ছে অন্য রকম। ওরা সব রোজাও এনেছিল। ওই ব্যাটা দক্ষিণ পাড়ার পরশুরাম। অনেক টাকার ধার খেয়ে রেখেছে আমার দোকান থেকে। সেই ঝালটাই আমার উপর রোজা সেজে ঝাড়ল। কি ঝ্যাঁটাটাই যে পিটেছে আমার পিঠে, এই দেখো ডাক্তার।’ আশুবাবু ছলছলে চেখে পিঠ খুলে বড়মামাকে দেখালেন। কালো কুচকুচে চওড়া পিঠে দাগড়া দাগড়া ঝ্যাঁটার দাগ।

    —’ঝ্যাঁটাটা নতুন ছিল, না পুরনো?’ বড়মামার অন্য ধরনের প্রশ্ন।

    —’পুরনো ঝ্যাঁটা ডাক্তার। এক্কেবারে মুড়ো খ্যাংরা। আমার নিজের পরিবার উঠোনের কোণ থেকে নিজে হাতে করে সেই শয়তানটার হাতে তুলে দিলে। এও এক প্রতিশোধ।’

    পিছনের দরজার পাশে চুড়ির শব্দ হল প্রথমে, তারপর শোনা গেল একখানা গলার মতো গলা। মনে হয়, আট রকমের বাদ্যযন্ত্র একসঙ্গে আট রকমের সুরে বাজছে,—’বুড়ো বয়সে ভীমরতিতে ধরেছে। প্রতিশোধের কি হয়েছে। আত্মায় ভর করল, ভালোর জন্যে রোজা ধরে আনলুম। কথা দেখ! বলে যার জন্যে চুরি করি সেই বলে চোর।’

    —’শোনো ডাক্তার, তুমিই এর বিচার কর।’

    আশুবাবু চোখের জল মুছে তেড়ে মেড়ে উঠলেন,—’তুমি তিত্থি করতে যাবার জন্যে টাকা চেয়েছিলে—হ্যাঁ কি না।’ সওয়ারজবাব শুরু হয়ে গেল।

    বড়মামা বিচারকের আসনে।

    উত্তর এল দরজার পাশ থেকে—’হ্যাঁ।’

    —’আমি কি বলেছিলুম?’

    —’হাতে টেকা নেই, তিত্থি এখন মাথায় থাক। গঙ্গার ধারে শিবের মন্দিরে জল ঢাল। তারপর গুন গুন গ্যান গেয়েছিলে—গয়া গঙ্গা পেভাসাদি ক্যাশী ক্যাঞ্চি কেবা চায়।’

    —’তুমি কি বলেছিলে?’

    —’কিপটে বুড়ো, মলে ট্যাকা কি সঙ্গে যাবে?’

    —’আর কি বলেছিলে?’

    —’আর কিছু বলিনি।’

    —’বল নি? মিথ্যেবাদী! এই নারায়ণের মাথায় হাত রেখে বল তো, আর কিছু বলিনি।’ আশুবাবু সোফা থেকে আমাকে খামচে তুলে ধরে দরজার দিকে ঠেলে দিলেন। অন্য সময় হলে রেগে যেতুম, যেহেতু নারায়ণ বলেছেন তাই…।

    দরজার সামনে দাঁড়াতেই ভদ্রমহিলা বললেন—’আর বলেছিলুম চোরের ধর বাটপাড়ে খায়!’

    —’আমি চোর’! —আশুবাবু সপ্তমে চিৎকার করে উঠলেন। বড়মামা চোখ বুজিয়ে ছিলেন। আচমকা চিৎকারে চমকে উঠলেন। হাত থেকে বুকে-দেখা যন্ত্র ছিটকে পড়ল। বড়মামা উঠে দাঁড়িয়ে দু’হাত তুলে বললেন, ‘বাস বাস, নো মোর।’

    বিচারকের গলায় ইংরেজী শুনে আশুবাবু শান্ত হলেন। আমি দরজার কাছে ভোঁদার মতো দাঁড়িয়ে ছিলুম। বড়মামা ডাকলেন,—’চলে আয়।’ বড়মামা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ডাক্তারী ব্যাগ খুললেন। বেরোলো অ্যালুমিনিয়ামের চকচকে একটা কৌটো। আশুবাবু আড়চোখে তাকিয়ে বললেন,—’পান নাকি ডাক্তার, জর্দা দেওয়া?’

    বড়মামা খুব রেগে আছেন মনে হল, কোনও উত্তর নেই।

    কোটো হাতে আবার সোফার উপর চেপে বসলেন। পান খাবার লোভে আশুবাবুর চোখ চকচক করছে।

    —’একটা দেবে নাকি ডাক্তার?’

    কৌটো খুলতে খুলতে বড়মামা বললেন,—’দেবার জন্যেই তো এসেছি।’

    কৌটো থেকে পান বেরোলো না, বেরোলো ইঞ্জেকসানের সিরিঞ্জ। আশুবাবু তো এত ভালো দৌড়তে পারেন জানা ছিল না। নিমেষে একটা কালো তাল উঠোনের ওমাথায় বাথরুমের দিকে গড়িয়ে গেল। দড়াম করে দরজা বন্ধ হবার শব্দ হল। বড়মামা সিরিঞ্জের পেছনে ধীরে ধীরে পিস্টনটা পরালেন। মুখে একটা লম্বা ছুঁট ফিট করে উঠে দাঁড়ালেন। বড়মামার চোখ দেখে মনে হল যেন বাঘ শিকারে যাচ্ছেন। দরজার দিকে মুখ করে বেশ ভারী গলায় আশুবাবুর পরিবারের উদ্দেশ্যে বললেন,—’কথাটা শোনা আছে নিশ্চয়—পতির পুণ্যে সতীর পুণ্য। ইঞ্জেকসানটা তাহলে আপনাকেই নিতে হচ্ছে। কত্তা তো ভয়ে বাথরুমে পালালেন।’ বড়মামার কথা শেষ হবার আগেই দুটো মোটা হাত দরজার পাশ থেকে বেরিয়ে বিদ্যুতের গতিতে ছিটকিনি খুলে সশব্দে দরজা বন্ধ করে দিল। বড়মামা আমার দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করলেন—’নাউ হোয়াট টু ডু? সহজে ছাড়ছি না। ডাক্তার ডেকে ইয়ার্কি! এক ইঞ্জেকসানে ভূত ছাড়িয়ে দোব।’ বড়মামা বন্ধ বাথরুমের দরজার কাছে সিরিঞ্জ হাতে এগিয়ে গেলেন। আশুবাবু বাথরুমে বন্ধ। দরজায় একটা টোকা মেরে বড়মামা বললেন,—’কতক্ষণ বসে থাকবেন? আমিও রইলুম বাইরে দাঁড়িয়ে, ইঞ্জেকসান আনাকে নিতেই হবে।’

    —’আমার কিছু হয়নি ডাক্তার। মিছিমিছি বলেছিলুম।’

    —’কি বলেছিলেন শুনি?’

    —’ওই পরিবারকে জব্দ করার জন্যে। একমাস কথা বন্ধ করে দিয়েছিল কেন? তাই তো বলেছিলুম।’

    —’কি এমন বলেছিলেন যে রোজা ডাকতে হল ভূত ছাড়াবার জন্যে?’

    —’বলেছিলুম, রোজ রাতে ঘর অন্ধকার করে শুলেই কে যেন কানের কাছে বলছে, আশু, আর কেন, তোর দিন তো শেষ হয়ে এল রে! আর বলেছিলুম, কানের কাছে অষ্টপ্রহর কে যেন কাঁসর ঘণ্টা বাজাচ্ছে। সব মিছে কথা ডাক্তার। ভয় দেখাবার জন্যে বলেছিলুম।’

    —’সব বুজেছি, এখন দয়া করে বেরিয়ে আসুন, পিঠের যা অবস্থা, পাঁচলাখ পেনিসিলিন ঠুকে না দিলে বিষিয়ে মারা যাবেন!’

    —’ইঞ্জেকসান আমি নেবো না ডাক্তার, তোমার পায়ে পড়ি। ইঞ্জেকসানে আমার ভীষণ ভয়। আমার বাবা ওইতেই মারা গিয়েছিলেন।’

    —’তা বললে তো চলবে না। দেখেছি যখন আমার ডাক্তারের কর্তব্য করতেই হবে।’

    —’তোমাকে আমি ডবল ফী দোবো ডাক্তার। একমাস বিন পয়সায় বড় বড় সন্দেশ খাওয়াবো, যত পার।’

    —’ঘুষ আমি খাই না আশুদা।’

    আশুবাবু ভেউ ভেউ করে কেঁদে ফেললেন,—’দয়া কর ডাক্তার। তোমার আমার কি? তুমি আছ ফাঁকা হাওয়ায়, আমি এদিকে গরমে, গন্ধে মারা যেতে বসেছি।’

    —’সেই জন্যেই তো দাঁড়িয়ে আছি। বেরোনো মাত্রই ফ্যাঁস।’

    আশুবাবুর আর সাড়া শব্দ পাওয়া গেল না। বড়মামা আমার দিকে ভয়ে ভয়ে তাকালেন। বাথরুমের ভেতর ভারী কিছু এটা পড়ে যাবার শব্দ হল।

    —’কি হল বল তো!’

    —’বোধহয় অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেলেন।’

    —’হার্ট ফেল করেনি তো!’

    —’দেখতে তো পাচ্ছি না বড়মামা, তবে ভয়ে অনেকে হার্টফেল করে।’

    —’সে কি রে? পুলিশ কেস হয়ে যাবে যে! চল পালাই।’ বড়মামা ছুটে সাইকেলের কাছে গেলেন। আমিই ছুটলুম পেছন পেছনে।

    বড়মামার সাইকেল ছুটেছে হাওয়ার বেগে। ঝড় ঝড় ঝড় ঝড় শব্দ করছে। ইটে পড়ে মাঝে মাঝে বেমক্কা লাফিয়ে উঠছে। কোনও রকমে কেরিয়ারে ঝুলে আছি।’

    কিছু দূরে গিয়ে বললেন,—’কোথায় যাই বল তো! চল পালাই। একটু পরেই তো পুলিশ আসবে। তারপর অ্যারেস্ট। ওরে বাবারে!’ বাবারে বলা মাত্রই বড়মামা টাল সামলাতে না পেরে সাইকেল সুদ্ধ উলটে পড়ে গেলেন! আমিও কয়েক হাত দূরে ছিটকে পড়লুম।

    ধুলোর উপর শুয়ে শুয়েই বড়মামা বললেন,—’চল থানায় গিয়ে সারেন্ডার করি। তুই আমার সাক্ষী। উলটোপালটা কিছু বলবি না।’

    ভয়ে আমার মুখ শুকিয়ে গেল। মনে হল, গলা ছেড়ে মেজোমামা-আ বলে চিৎকার করি।

    থানা অফিসার টেবিলে মোটা রুল-কাঠ ঠুকতে ঠুকতে বড়মামার বক্তব্য শুনলেন। কিছু বুঝলেন বলে মনে হল না। ব্যাপারটাকে বোঝার জন্যে আগাগোড়া নিজেই একবার বলে গেলেন—’আশু ময়রা বাথরুমে ঢুকেছে। বেশ, ঢুকলো, ছুটে গিয়ে দরজা বন করল। ছুটে গেল কেন? ও বুজেছি। ভীষণ বেগ এসেছিল। আসতেই পারে, আমারও আসে, সকলেরই আসে। ভারী কিছু পড়ে যাবার শব্দ শুনলেন? ভারী, ভারী।’ ভারীর জায়গাটায় এসে অফিসার খুব চিন্তিত হয়ে পড়লেন। তাঁর চিন্তা দেখে আমরাও কাঠ হয়ে বসে রইলুম।

    হঠাৎ অফিসার চিৎকার করে উঠলেন,—’বুঝেছি। বেগ যখন প্রবল তখন শব্দও তো ভারী হবে। দুই আর দুয়ে চার। সেই শব্দ শুনে ব্যাগ-ট্যাগ ফেলে আপনি দৌড়ে চলে এলেন থানায়। কেন এলেন?’

    বড়মামা বললেন,—’আমার মনের হচ্ছে, আশুবাবু ইজ ডেড।’

    ‘ডেড!’ অফিসার হো হো করে হেসে উঠলেন,—’বাথরুমে আশু ডেড। বেশ ডেড। ধরে নিলুম ডেড। এতে আসুর অপরাধটা কোথায়? অ্যারেস্ট করার মতো অপরাধটা সে কি করেছে? আমি তো মশাই কিছুই বুজছি না। এতে পুলিশ আসে কোথা থেকে?’

    বড়মামা বোকা বোকা মুখে তাকিয়ে রইলেন। কিছুক্ষণ কোনও তরফেই কোনও কথা নেই। শেষে অফিসার হাসি হাসি মুখে বললেন,—’পাবেন না, কিচ্ছু খুঁজে পাবেন না। ইন্ডিয়ান পেনাল কোডের কোথাও লেখা নেই—বাথরুমে ছুটে যাওয়া অপরাধ, কিংবা, শব্দ করে মল ত্যাগ করা অপরাধ। ইনডিসেন্ট বলতে পারেন? তাই বা বলি কি করে নেচারস কল।’ অফিসার উঠতে যাচ্ছিলেন, বড়মামা বললেন, ‘আর একটু। আর একটা কথা।’ অফিসার বসে পড়লেন,—’বলুন। তবে যা-ই বলুন, যে ভাবেই বলুন, কোর্টে প্রমাণ করতে পারবেন না। আশুকে জব্দ করতে চান, অন্যভাবে করুন, বাথরুম থেকে কায়দা করে বের করে এনে রাস্তায় করান, পাঁচ আইনে ফেলে দোবো।’

    বড়মামা বললেন,—’সে কথা নয়। ধরুন, কেউ এসে বলল, আশুবাবুকে আমি মেরে ফেলেছি। তা হলে?’

    অফিসার রুল নাড়া বন্ধ করলেন—’সে তো মশাই সাঙ্ঘাতিক কথা! না, দাঁড়ান, হঠাৎ লোকে এমন কথা বলবে কেন? আর বললেই বা আমি বিশ্বাস করব কেন? আমরা কি কান-পাতলা লোক?’

    —’না, ধরুন যদি বলে?’

    —’বললেই হল! আচ্ছা বেশ বলল। তখন আমরা ইনভেসটিগেশানে যাব। দেখবো কি ভাবে মার্ডার করেছেন। পোস্ট-মর্টেমে পাঠাবো। ফরেনসিক রিপোর্ট আসবে। ফিঙ্গার প্রিন্ট নেবো। সেই প্রিন্টের সঙ্গে আপনার হাতের প্রিন্ট মেলাবো। মার্ডারের জায়গায় দেখবো খুনী কিছু ফেলে গেছে কিনাই! মার্ডার কি মশাই ছেলে খেলা নাকি! অনেক জল ঘোলা করে তবে খুন হয়। অত সোজা নয় মশাই। ও সব আপনার কম্ম নয়। ভুলে যান ওসব।’ কথা শেষ করে অফিসার একটা হাঁক ছাড়লেন,—’রাম খেলোয়ান!’ দূর থেকে উত্তর এল,—’যাই হুজুর।’

    —’টিফিন কেরিয়ার লে আও, আমি ফ্র্যাঙ্কলি বলছি মশাই, আমার ভীষণ খিদে পেয়েছে, খেতে বসব, আর আমাকে বিরক্ত করবেন না।’

    বড়মামা অনিচ্ছা সত্ত্বেও উঠে দাঁড়ালেন—’একটা কথা।’

    —’একটা একটা করে অনেক কথা সেই থেকে বলে গেলেন, আর একটাও কথা নয়।’

    —’না না, কথা নয়। একটা পারমিশান। আমরা এই থানার কাছে ঘুরে বেড়াতে পারি?’

    —’হ্যাঁ হ্যাঁ, ঘুরুন না, যত খুশি ঘুরুন। কত চোর ছ্যাঁচোড় ঘুরছে, আপনারা তো সৎ নাগরিক।’

    আমরা দু’জনে রাস্তায় এসে দাঁড়ালুম। —কিছু দূরেই একটা বটতলা। বটতলায় এসে আমরা পাশাপাশি বসলুম। পাশে সাইকেলটাকে দাঁড় করানো রইল। বড়মামা আমার কানে কানে বললেন,—’কোনও আশা নেই রে। নির্ঘাৎ প্রমাণ হয়ে যাবে। আমার ব্যাগটা আশুর বাড়িতে ফেলে এসেছি।’ আমি হঠাৎ আবিষ্কার করলুম, আমারও চটি দু’পাটি ফেলে এসেছি।

    —’বড়মামা, এখানে বসে থেকে কি হবে?’

    —’তুই বুঝছিস না। যে কোনও মুহূর্তে আশুর বাড়ির লোক থানায় এসে যেতে পারে। এলেই আমি অফিসারের কাছে আত্মসমর্পণ করবো। এতে সাজা অনেক কমে যাবে।’ বটতলায় বসে বসে দেখছি লোকজন আসছে যাচ্ছে। গাড়ি বেরোচ্ছে ঢুকছে। সারাদিন খাওয়া নেই দাওয়া নেই। খিদেতে পেট চুঁই চুঁই করছে। বড়মামার পকেটে লজেন্স আর নেই। সূর্য ক্রমশ পশ্চিমে ঢলে পড়ল। বটের ডালে ডালে পাখিদের কিচির-মিচিরও থেমে গেল।

    —’বড়মামা, আর কতক্ষণ?’

    —’আর একটু দেখি রে! বলা যায় না। প্রথমে দরজা ভেঙ্গে হাসপাতালে নিয়ে যাবে, তারপর ওই পিঠে ঝ্যাঁটার দাগ! দেখবি আমার ঘাড়েই চাপিয়ে দেবে। সাংঘাতিক জাঁহাবাজ মেয়েছেলে। একটা দিন একটু কষ্ট কর না আমার জন্যে। আমি ওই গারদে ঢুকলেই তুই চলে যাবি। তোর সঙ্গে আবার দেখা হবে সাক্ষীর কাঠগড়ার কোর্টে।’

    থানার পেটা ঘড়িতে দশটা বাজল। আমি বোধহয় বসে বসেই ঘুমিয়ে পড়েছিলুম। বড়মামা বোধহয় ঢুলতে ঢুলতে ফ্ল্যাট হয়ে শুয়ে পড়েছিলেন। পেটা ঘড়ির কানফাটানো শব্দ আর মেজোমামার ডাক ও ধাক্কায় ধড়মড় করে উঠে বসলুম। প্রথম ঘুম-চোখে বুঝতেই পারছিলুম না কোথায় আছি। বড়মামা ভেবেছেন ভোর হয়েছে, শুয়ে শুয়েই চোখ না খুলে বললেন—’রেখে যা।’

    —’কি রেখে যাবো?’

    —’তুই চা নিয়ে এলি কেন? কষ্ট করে তোকে আবার কে আনতে বললে?’

    —’চা নয়, চা নয়, উঠে বোসো।’ মেজোমামা ধাক্কা মারলেন।

    বড়মামা ধড়মড় করে উঠে বসে বললেন,—’সারেন্ডার।’ মেজোমামার কাছে সারেন্ডার করায় মেজোমামা খুব খুশি হলেন। আমি তো জানি ব্যাপারটা কি?

    মেজোমামা বললেন,—’সারেণ্ডার করে ভালোই করলে; কিন্তু তোমার আক্কেলটা কি? বটতলায় পড়ে পড়ে ঘুমোচ্ছ, এদিকে আমরা ভেবে মরি। আশু ময়রা সেই দুপুরবেলাই লোক দিয়ে তোমার ব্যাগ, ফী’র টাকা, এক চ্যাঙারি ইয়া বড় বড় সন্দেশ পাঠিয়ে দিয়েছে। লোকটি বললে, ডাক্তারবাবুর বড় বাইরে পেয়েছে বলে তাড়াতাড়ি চলে এসেছেন। তোর চটি দু’পাটিও দিয়ে গেছে। কি হয়েছিল তোমাদের? থানায় ডায়েরি করতে এসেছিলুম, অফিসার বললেন, খুঁজে নিন কাছাকাছি আছেন, বড়টির মাথাটা গেছে, ছোটটাকে বোবা বলেই মনে হল।’

    বড়মামা লাফিয়ে উঠে বললেন,—’আশু বেঁচে আছে?’

    ‘বেঁচে আছে মানে? বহাল তবিয়তে আছে। আসার সময় দেখে এলুম গরম গরম রসগোল্লা ছাঁকচে। বেশি না, গোটা আষ্টেক খেলাম। বেশি মিষ্টি খাওয়া ভালো নয়। সকালে ওই সন্দেশ থেকে গোটা আষ্টেক খেয়ে ফেলেছি খাবো-না খাবো-না করে।’

    বড়মামা করুণ চোখে তাকালেন। —’বড্ড খিদে পেয়েছে রে মেজো।’

    —’চল, বাড়ি চল, কিছু জোটে কিনা দেখি।’

    বড়মামা জুতো খুলে রেখেছিলেন। দাঁড়াবার আগে পা গলায়ে গিয়ে লাফিয়ে উঠলেন,—’আমার জুতো।’ ঝুঁকে পড়ে আমরা সবাই দেখলুম, জুতো নেই, মিসিং। এর পরের লাফটা আরও বড়,—’আমার সাইকেল!’ বটতলাটা গোল হয়ে প্রদক্ষিণ করা হল, সাইকেলও নেই।

    —’বুঝেছি!’ বড়মামা বললেন, আমরা না বুঝে হাঁ করে তাঁর মুখের দিকে তাকিয়ে রইলুম। মেজোমামা বললেন,—’কি বুঝলে?’ উত্তর পাওয়া গেল না, বড়মামা হনহন করে থানায় গিয়ে ঢুকলেন। আমরা পেছনে পেছনে। অফিসার চেয়ারে একটা পা তুলে ভীষণ চিৎকার করে ফোনে কথা বলছিলেন—’দুটোর মাথা ঠুকে দে। পেটে গোটাকতক রুলের গোত্তা মার।’ কথা আর শেষ হতেই চায় না। ফোন নামাতেই বড়মামা বললেন,—’আমার জুতো আর সাইকেলটা দিন স্যার, এইবার বাড়ি যাই।’

    অফিসারের মুখের নীচের চোয়ালটা ঝুলে পড়ল। জীবনে আমি কাউকে এমন অবাক হতে দেখিনি। আস্তে আস্তে উঠে দাঁড়ালেন তারপর বড়মামার সামনে হাত জোড় করে দাঁড়িয়ে বললেন,—’আমি কালই ট্রান্সফার হয়ে যাচ্ছি। দয়া করে আমায় মুক্তি দিন। সকালে ছিল খুন, এখন জুতো আর সাইকেল। আমাদের সারাদিন বড্ড খাটতে হয়, সব সময় ইয়ার্কি ভালো লাগে না।’

    বড়মামা অফিসারের বিনয়ে একটু ঘাবড়ে গেলেন,—’না, ঠিক ইয়ার্কি নয়, সাইকেল আর জুতোটা পাচ্ছি না। ঘুমোচ্ছিলুম তো, তাই ভাবলুম যদি তুলে রেখে থাকেন।’

    —’আমাদের কি দায় পড়েছে মশাই ধরে ধরে লোকের জিনিস তুলে রাখবো? কাল সকালে এসে খুঁজে নেবেন। আজ অন্ধকার তো।’

    বড়মামা বললেন,—’তাই হবে।’

    থানার বাইরে এসে বড়মামা বললেন,—’জুতোটা না হয় বুঝলাম ছোট জিনিস। কুকুরও নিতে পারে। কিন্তু সাইকেল একটা বড় জিনিস। সেটা কেন খুঁজে পাচ্ছি না? কাল ভোরে এসে দেখতে হবে।’ উত্তরে মেজোমামা খুক খুক করে একটু কাশলেন।

    বড়মামা খুব নিরীহের মতো প্রশ্ন করলেন,—’কি রে, ঠান্ডা লেগেছে নাকি? কতদিন তোকে বারণ করেছি পুকুরে স্নান করিসনি। বড়দের কথা শুনবি না তো।’

    মেজোমামা বললেন—’ঠান্ডা নয়। গলাটা কেমন জ্বালা জ্বালা করছে। অনেক মিষ্টি খেলাম তো সারাদিনে।’

    ছ’ফুট লম্বা বড়মামা আগে চলেছেন খালি পায়ে। আমরা পেছনে। মেজোমামা বললেন,—’নেবে নাকি আমার এক পাটি জুতো? তোমার ডান পায়ে কড়া, আমার বাঁ পায়ে। ভালোই হয়েছে। ভাগাভাগি করে নেবো।’

    —’থাক, খুব হয়েছে। একবার তো দেখেছ, এখন ক্ষান্তি দাও। সে বেচারা দোকান বন্ধ করে শুয়ে পড়েছে। যাই বল, আশু হল জাত শিল্পী। যেমন রসগোল্লার হাত, তেমনি সন্দেশে। আমাদের পেনেটি গ্রামের গর্ব। হাত দুটো সোনা দিয়ে বাঁধিয়ে দেওয়া উচিত।’

    —’রাখ রাখ।’ বড়মামা অন্ধকার থেকে উত্তর দিলেন।

    —’সুধাংশু মুকুজ্জের নাম ক’টা লোক মনে রাখবে? আমাদের আশু ময়রা অমর।’

    মনে হল, বড় মামার চলার গতি বেড়ে গেল। এক পায়ে জুতো, এক পা খালি। হাঁটাটা তাই অদ্ভুত দেখাচ্ছে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleশিউলি – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    Next Article ২৫টি দমফাটা হাসি – সম্পাদনা : সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    Related Articles

    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    গুহা – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    হর-পার্বতী সংবাদ – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    সাজাহানের জতুগৃহ – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    শ্রীকৃষ্ণের শেষ কটা দিন – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    মনুষ্যক্লেশ নিবারণী সমিতি – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    মধুর এক প্রেমকাহিনি – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }