Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মামা সমগ্র – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় এক পাতা গল্প1007 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    বড়মামার বেড়াল ধরা

    বড়মামা মিলের হাসপাতালের ডাক্তার। রসুল সেই হাসপাতালের ওয়ার্ডবয়। বড়মামার ডান-হাত বাঁ-হাত। প্রাইভেট সেক্রেটারি। যেমন ইঞ্জেকসান দিতে পারে তেমনি ভালো কাটলেট ভাজতে পারে। ফোঁড়াও কাটে। কচাকচ মুরগিও কাটে। মিল এলাকায় মুরগির ছড়াছড়ি। বড়মামার ইদানীং আবার মুরগীতে অরুচি। হিসেব করে দেখেছেন হাজারখানেক মুরগি খেয়েছেন। এখন একটু মালপো-টালপোয় রুচি এসেছে! গোবিন্দভোগ চালের ভাত। একটু গাওয়া ঘি। আলুভাতে। ঘন দুধ। আমসত্ত্ব আচার। পায়েস। একটু বৃন্দাবন বৃন্দাবন ভাব। রসুলের মহা দুঃখ। ডাক্তারবাবু মুরগি খাবেন বলে মিল কোয়ার্টার থেকে আগে যখন তখন একটা করে ধরে এনে জবাই করত। এখন সে উপায় নেই। রসুল বলছে, ‘কেন এমন হল ডাক্তারবাবু? একটু ওষুধ-টষুধ খেয়ে দেখুন না। মুরগি না খেলে শরীর থাকবে কি করে?’

    বড়মামা বললেন, ‘দূর বেটা, তুই এসবের বুঝবি কি? আমি বৈষ্ণব হয়ে গেছি, মাছ, মাংস, ডিম, পেঁয়াজ, রসুনের নাম আমার কাছে করবি না। পারিস তো এক টিন ভালো গাওয়া ঘি যোগাড় কর। দেখ কে দেহাতে যাচ্ছে, আমার নাম করে বলে দে।’ রসুল মনমরা হয়ে লম্বা টেবিলের কাছে গিয়ে চা বানাতে শুরু করল। ডাক্তারবাবু সারাদিনে বার পঞ্চাশ চা খান।

    বড়মামা এইমাত্র একটা অ্যাক্সিটেন্ড কেস অ্যাটেন্ড করে নিজের চেম্বারে এসে বসেছেন। আজকাল মেডিকেল লিটারেচার খুব কমই পড়েন। ড্রয়ারে একটা ঢাউস ভাগবত রেখেছেন। সময় পেলেই টেবিলের তলায় পা নাচাতে নাচাতে ভাগবত পড়েন। হাসপাতালের ওয়ার্ডে যে ক’টা বেড়াল ঘোরে সবকটাই বড়মামার বন্ধু। তাদের একটার গোটা চারেক বাচ্চা হয়েছে। বেড়ালটা সব কটাকে বড়মামার চেম্বারে এনে তুলেছে! কোণের দিকে ওষুধের একটা খালি পেটি ছিল! সেটাই হয়েছে বাসা। বাচ্চা ক’টার চোখ ফুটেছে। অনবরত মিউ মিউ করে। মা’টার দেখা পাওয়াই ভার। সব সময় রান্নাঘরের সামনে ওত পেতে বসে আছে। বাচ্চা সামলাবার ভার বড়মামার! চোখ ফুটেছে। জগৎ দেখতে শিখেছে। প্যাকিং বাক্স ভালো লাগবে কেন? প্রায়ই খচখচ করে গা বেয়ে বেয়ে একটা দুটো করে মেঝেতে ডিগবাজি খেয়ে পড়ছে। সারাঘরে থইথই সাদা বেড়াল। খেলছে, ছুটছে, লাফাচ্ছে। যেন বেড়ালদের নার্সারী। বড়মামা পা নাচিয়ে নাচিয়ে ভাগবত পড়ছেন। রসুল দুধ গুলছে। বাচ্চা চারটে টেবিলের তলায় বড়মামার পায়ের কাছে গুলতানি করছে। মোটা মোটা দুটো বুড়ো আঙুলের ওপর তাদের নজর। মাঝে মাঝেই লাফিয়ে উঠে আঙ্গুলের মাথাটা কুড়কুড় করে কামড়াচ্ছে। যেই বড়মামার সুড়সুড়ি লাগছে অমনি পাটা ঝাড়া দিয়ে বলছেন, ‘ডোন্ট ডিসটার্ব’। বেড়ালগুলো ছিটকে মিউ মিউ করে উঠছে। বড়মামা সঙ্গে সঙ্গে বলছেন, ‘আহা লাগল নাকি? রসুল, সব কটাকে এক চামচে করে দুধ দে।’ রসুল সঙ্গে সঙ্গে হুকুম তালিম করে আবার নতুন করে দুধ গুলছে। এই রকম বার চারেক হবার পর রসুল বিরক্ত হয়ে বাচ্চা চারটেকে প্যাকিং বাক্সে ভরে ঢাকা বন্ধ করে দিল যাতে বেরিয়ে আসতে না পারে। বাচ্চাগুলো তারস্বরে মিউ মিউ করছে। বাক্সর ভেতরটা আঁচড়াচ্ছে। বড়মামা ভাগবতে মশগুল হয়ে বলছেন, ‘রসুল, দুধ দে, দুধ দে।’ রসুল চারবারের চেষ্টায় এক একবার দুধে চায়ে এক করতে পেরেছে। সে বলছে, ‘দিয়েছি তো, দিয়েছি তো।’ ‘দিয়েছিস তো চেঁচাচ্ছে কেন? আরও দে।’

    —দুধে হবে না বাবু, মাকে চাইছে।

    —রাসকেলটার কান ধরে নিয়ে আয়।

    —কামড়ে দেবে যে।

    —কামড়ায় কামড়াক। তুই একটা এ-টি-এস নিয়ে যা। আয়, দিয়ে দি।

    —না কামড়াতেই এ-টি-এস!

    —তুই তো বলছিস কামড়াবে! কতরকম কথা বলিস বেটা?

    রসুল বড়মামার টেবিলে চায়ের কাপ ধরে দিতে দিতে বললে, ‘বেঠিক কিছু বলিনি বাবু! খেয়ে খেয়ে তার যা চেহারা হয়েছে। ইয়া তাগড়া।’

    বড়মামা বোধ হয় অন্যমনস্ক ছিলেন, জিগ্যেস করলেন, ‘ঘাগরা আবার কি হবে?’

    —’ঘাগড়া নয়, ঘাগরা নয়, তাগড়া।’

    —’কে তাগড়া?’ বড়মামা আগের কথা ভুলে গেছেন। বড়মামার এই বড় দোষ। এমনি একটু অন্যমনস্ক, তার ওপর ভাগবতে মন!

    রসুল বেশ জোরে জোরে ঘরফাটানো গলায় বললে, ‘বেড়ালটা খেয়ে খেয়ে এই ক’দিনে ইয়া তাগড়া হয়েছে!’

    বড়মামা বই থেকে মুখ তুলে রসুলের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বললেন, ‘চেঁচাচ্ছিস কেন রাসকেল? ষাঁড়ের মতো চেঁচাচ্ছিস কেন? আমি কি কালা?’

    রসুল গলাটা আগের চেয়ে একটু খাটো করে বললে, ‘আপনি যে শুনছেন না।’

    ‘শুনছি না? সব শুনেছি। তুই জানিস না। বেশি মোটা হয়ে যাওয়া স্বাস্থ্যের পক্ষে খারাপ। হার্ট উইক হয়ে যায়। দেখিসনি গুপ্তবাবুর কি হয়েছে? জেনেশুনেও যখন মোটা হচ্ছিস, হয়ে যা। আমার কি? আমার কাঁচকলা। মরবি ব্যাটা তুই।’ বড়মামা ফডাস করে চায়ে চুমুক দিয়ে আবার ভাগবতের পাতায় চোখ নামালেন।

    রসুল বললে, ‘খুব শুনেছেন! আমি মোটা হব কেন? আমি তো আপনার সামনেই দাঁড়িয়ে। দেখুন না, আমাকে কেউ মোটা বলবে?’

    বড়মামা মুখ না তুলেই হুঁ হুঁ করে একটু হেসে বললেন, ‘আজ মঙ্গলবার কারুর চেহারায় নজর দিতে নেই, তবু যখন জিগ্যেস করলি বলতেই হচ্ছে, তুই যখন চাকরিতে ঢুকলি এই রোগা লিকলিকে ছিলিস, এখন?’ বড়মামা আবার একটু হাসলেন, ‘এখন তুই রিয়েলি ফ্যাটি। ফ্যাটি রসুল। রুগীদের খাবার চুরি করে করে আর দুধ সাবড়ে সাবড়ে ইয়া কেঁদো বাঘ। তুই ভাবিস আমি কিছু দেখি না, না? ওরে আমার চোখ সবসময় খোলা। চারিদিকে আমার চোখ। মাথার পেছনেও আমার চোখ।’

    রসুল বললে, ‘কি মুশকিল! হচ্ছে অন্য কথা, আপনি বলছেন আর এক কথা।’

    বড়মামা বললেন, ‘কার কথা? তুই কি বলতে চাস আমি মোটা হচ্ছি! তুমি চুরি করে কিচেন থেকে খাবার সাবড়াবে আর মোটা হব আমি, তাই না রাসকেল! তোদের সব অকর্মের ভাগ আমার! ভুল ওষুধ দিবি, দায় আমার। ইন্টার মাসকুলার ইঞ্জেকসান ইন্টার ভেনাস করে দিবি, দায় আমার। আজ বলছিস, তুই চুরি করে খাবি মোটা হব আমি! মামার বাড়ি পেয়েছিস, তাই না? দিস ইজ হসপিটাল, দিস ইজ নট ইওর মামার বাড়ি।’

    রসুল বললে, ‘যাঃ বাবা।’

    বড়মামা রসুলের কথার উপর দিয়েই মেল ট্রেনের মতো কথা চালিয়ে দিলেন, ‘আমি মোটা হচ্ছি আমার নিজের পয়সায়। নিজের রোজগারের পয়সায় ঘি খেয়ে মোটা হচ্ছি। তাতে তোর এত চোখ টাটাচ্ছে কেন? বেরো! গেট আউট? দূর হয়ে যা রাসকেল।’

    রসুল বললে, ‘ঠিক আছে আমি আবার প্রথম থেকে বলছি। একেবারে ফার্স্ট থেকে বলছি, তা না হলে আপনি সারাদিন চেঁচাতেই থাকবেন। আমি চা করছিলুম।’ বড়মামা ভাগবত থেকে মুখ না তুলেই বললেন, ‘কে তোকে চা করতে বলেছিল হতভাগা? আমি জানি না ভাবো? তুমি দুধ খাবার লোভে চা করতে আস। এক টিন দুধে ক’কাপ চা হল বল রাসকেল!’

    ‘সে হিসেব পরে হবে সাহেব, আমি আগে ফার্স্ট থেকে বলি। প্রথমে আমি চা করছিলুম। জল ফুটছে! আমি দুধ গুলছি, এমন সময় চারটে বাচ্চা বাক্স থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে সায়েবের পায়ের আঙ্গুল নিয়ে খেলা করছে। সায়েব মাঝে মাঝে বিরক্ত হয়ে যেই না পা ছুড়ছেন বাচ্চাগুলো মিউ মিউ করে উঠছে। সায়েব অমনি বলেছেন রসুল দুধ দে। আমি অমনি যেটুকু দুধ গুলেছিলুম দিয়ে আবার চায়ের জন্যে নতুন করে দুধ গুলতে শুরু করলুম, সায়েব আবার লাথি মারলেন, বাচ্চাগুলো আবার মিউ মিউ করে উঠল, সায়েব আবার দুধ দিতে বললেন, আমি দিলুম, আবার নতুন করে গুলতে শুরু করলুম, সায়েব আবার লাথি মারলেন বেড়াল বাচ্চা মিউ করে উঠল, সায়েব বললেন দুধ দিতে, আমি আবার দুধ দিলুম, দিয়ে নতুন করে দুধ গুলতে শুরু করলুম।’

    বড়মামা একটু একটু করে মুখ তুলছিলেন এবার পুরো মুখ তুলে রসুলকে ধমকে উঠলেন, ‘তুই আমার খাটাল দেখেছিস, তাই না! তোর মামার বাড়ির দুধ। আমিও বললুম, তুইও দিয়ে দিলি! অতবার দুধ খাইয়ে বেড়ালগুলোকে মারবার তাল করে। জানিস না বেশি দুধ খেলে বাচ্চাদের ইনফ্যানটাইল লিভার হয়।’

    রসুল বললে, ‘জানি বলেই তো বাচ্চাগুলোকে ধরে ধরে প্যাকিং ব্যাক্সি ঢুকিয়ে দিয়েছি। যাতে বেরোতে না পারে তার জন্যে মাথায় ঢাকনা লাগিয়ে দিয়েছি। তখন থেকেই শুরু হয়েছে মিউ মিউ। ওই যে শুনুন এখনো মিউ মিউ করছে।’

    বড়মামা কান খাড়া করে শুনলেন। শুনে বললেন, ‘সত্যি তো, ভীষণ মিউ মিউ করছে। একটু দুধ দে।’

    রসুল বললে, ‘না। দুধে হবে না। আগেও আপনি ঠিক এই কথাই বলেছিলেন। তখন আমি বলেছিলুম দুধে হবে না বাবু, ওদের মাকে চাই।’

    বড়মামা বললেন, ‘ঠিক বলেছিস। কোথায় রে রাসকেল? বেটাকে কান ধরে নিয়ে আয়!’

    রসুল বললে, ‘তখনো আপনি এই কথা বললেন। আমি বললুম, সেটা খেয়ে খেয়ে অ্যায়সা তাগড়া হয়েছে কান ধরে টেনে আনতে গেলেই আঁচড়ে কামড়ে দেবে। তখন আপনি সব গুলিয়ে ফেললেন। কে মোটা, কেন মোটা, বেড়ালের মোটা থেকে আমি মোটা, আপনি মোটা তারপর আমাকে চোর বলেছেন, গেট আউট করে দিয়েছেন, সাতবার রাসকেল বলেছেন।’

    বড়মামা খুব চিন্তিত হলেন। চিন্তা-টিন্তা করে রসুলকেই প্রশ্ন করলেন, ‘কেন এসব বলেছি বল তো! যে ভাগবত পড়ে, যে আজ একমাস মাছ, মাংস, ডিম, পেঁয়াজ স্পর্শ করেনি, তার মুখে এসব কথা কেন? তার জানা উচিত কাউকে চুরি করতে না দেখে চোর বলা ভীষণ অপরাধ। তোকে তো আমি চুরি করতে দেখিনি। আমি শুনেছি রসুল চুরি করে। সেই শোনা কথা রাগের মাথায় তোর ওপর চালান করলুম কেন? এত রাগ তো ভালো নয়। যাকগে, যা হয়ে গেছে গেছে। কিছু মনে করিস নি বাবা। এখন কড়া করে দু’কাপ চা কর। আর বিস্কুটের টিনটা খোল। যা ঝামেলায় ফেলেছিলি, সব জট পাকিয়ে গিয়েছিল। এরচে ডাক্তারি সোজা রে!’

    বড়মামা আবার ভাগবতে চলে গেলেন। রসুল চলে গেল চায়ে। এদিকে প্যাকিং বাক্সের ভেতরে দক্ষযজ্ঞ চলেছে। চারটে বাচ্চার মধ্যে দুটো হলো। সে দুটো মাঝে মাঝে কর্কশ গলায় মিয়াও, মিয়াও করে উঠছে। বাক্সর ধারগুলো খচর মচর করে আঁচড়াচ্ছে। ডালাটা খোলার জন্যে গোঁত্তা মারছে। বড়মামা আর থাকতে না পেরে রসুলকে বললেন, ‘একটা কিছু করনা রে। আর তো পারা যায় না! কানের পোকা বের করে দিলে। তুই দেখ না চুক চুক করে লোভ দেখিয়ে, দুধের লোভ দেখিয়ে মা’টাকে যদি ধরে আনতে পারিস।’

    রসুল চা আনছিল। কাপটা রাখতে বললে, ‘এ মা সে মা নয় সায়েব। বরং এক কাজ করি, বাক্সটাকে বাইরে মাঠে ফেলে দিয়ে আসি দূর করে।’

    বড়মামা আঁকতে উঠলেন, ‘না না না। চিলে ছোঁ মেরে নিয়ে যাবে! মরে যাবে রে!’

    ‘কিন্তু স্যার ডাক্তারখানায় বেড়ালছানার ডাক খুব ভালো শোনায় না। এই নিয়ে কিন্তু কমপ্লেন হতে পারে।’

    ‘কমপ্লেন!’ বড়মামা লাফিয়ে উঠলেন, ‘কে কমপ্লেন করবে রে! কার ঘাড়ে ক’টা মাথা আছে! জানিস আমি ডক্টর-ইন-চার্জ! মানুষ রুগি হতে পারে, বেড়াল পারে না!’

    ‘পারে। তবে তার জন্যে তো পশু হাসপাতাল আছে স্যার। সেই কথা যদি কেউ বলে?’

    ‘বললে মারবো মুখে এক থাবড়া। এখানে দশ মাইলের মধ্যে পশু চিকিৎসালয় কোথা রে? তুই যখন কমপ্লেনের ভয় দেখালি বেড়াল আমার চেম্বারেই থাকবে, যদ্দিন না বড় হয় তদ্দিন থাকবে। আর তোর মতো ওয়ার্থলেসের দ্বারা চা-ই হতে পারে, বেড়াল মানুষ হতে পারে না। আমি নিজেই যাচ্ছি ওদের মায়ের খোঁজে। করপোরেশান সাঁড়াশি দিয়ে পাগলা কুকুর ধরতে পারে আর আমি ডাক্তার হয়ে একটা বেড়াল ধরতে পারব না! চ্যালেঞ্জ।’

    এক চুমুকে চা শেষ করে বড়মামা উঠে দাঁড়ালেন। দাঁড়িয়েই আবার বসে পড়লেন। বসে পড়ে বললেন, ‘রসুল, একটু উত্তেজিত হয়ে পড়েছি তাই না?’ রসুল বললে, ‘আজ্ঞে হ্যাঁ, তা একটু হয়েছেন বটে।’

    ‘কেন হলুম?’

    ‘ওই বেড়াল স্যার! অনবরত চেল্লাচ্ছে।’

    ‘না, ঠিক নয়। সামান্য বেড়াল আমাকে উত্তেজিত করছে। ভেরি ব্যাড। ভাগবতের কোনও ফল পেলুম না রে! দপ করে রেগে যাচ্ছি কথায় কথায়। রাগটা যেন আগের চেয়ে বেড়েই যাচ্ছে। এটা ঘি খেয়ে হচ্ছে বোধ হয়। ডাক্তার, কাল থেকে তোমার ঘি বন্ধ।’ বড়মামা নিজেই নিজের ঘি বন্ধ করে আবার ভাগবত নিয়ে বসলেন।

    রসুল বললেন, ‘এই যে বললেন বেড়াল ধরতে যাবেন!’

    ‘বেড়াল ধরতে যাব মানে? ইয়ারকি পেয়েছিস! ডাক্তারের কাজ বেড়াল ধরা, রাসকেল?’

    বড়মামা আবার রেগে গেলেন। রসুল বড়মামাকে হাড়ে হাড়ে চেনে।

    রসুল কিন্তু ঘাবড়ে গেল না। সে বললে, ‘এমনি বেড়াল নয়। মা বেড়াল। বেড়ালের মা। বিল্লী কী মাতাজী!’ প্রায় সব ভাষাতেই রসুল বোঝাতে চাইল। ইংরেজীটাই বাকি রইল। বললেই পারত, ক্যাটস মাদার বা মাদার অপ কিটেনস।

    বড়মামা বললেন, ‘দেখেছিস মাথার কি অবস্থা হয়েছে। এই বলছি, এই ভুলে যাচ্ছি! ঘি খেলে আগে মানুষের স্মৃতিশক্তি বাড়ত। এখন উলটোটা হয়, কমে যায়। ঘিয়ে ভেজাল আছে রে রসুল। লাগা আজ, লাগিয়ে দে বেশ ঝোল ঝোল।’

    বড়মামার কথায় রসুলের চোখ চকচক করে উঠল। গত দু’মাস ভোরবেলা মুরগির ডাকই খালি শুনছে, একটা ঠ্যাঙও চিবোতে পারছে না। রসুল লাফিয়ে উঠল, ‘ইয়াসিন একটা দিয়েই রেখেছে স্যার। কাজে লাগাতে পারছিলুম না। প্রেশার কুকারে মরচে ধরে গেল। আমি তাহলে এখুনি শুরু করে দি? একবার মোল্লার হাটে চলে যাই। ফাইন বাসমতী নিয়ে আসি। কিলোটাক আলু। মশলাও কিছু লাগবে। এখন আরম্ভ করলে সন্ধ্যে সাতটা-আটটার মধ্যে রেডি হয়ে যাবে।’ রসুল ধড়ফড় করে পালাচ্ছিল।

    বড়মামা বললেন, ‘রোককে! আগে বেড়াল তারপর অন্য কাজ।’

    ‘বেড়াল তো আপনি ধরবেন স্যার। সেই রকমেই তো বললেন।’

    ‘ভুলে গেছিস বোধহয় তুই আমার অ্যাসিসটেন্ট। আমি যা করব সব সময় তুই আমার পাশে থাকবি পাঁঠা।’

    বেড়াল ধরার সরঞ্জাম অনেক। বড়মামার হাতে অফিসের ওয়েস্ট পেপার বাসকেট। রসুলের হাতে দুটো বিস্কুট, ক্লোরোফর্মের শিশি, একটা বড় ডাস্টার, একটা ইঁদুর ধরা কলে ছোট একটা নেংটি ইঁদুর। বড়মামার প্ল্যান একরকম, রসুলের প্ল্যান আর একরকম। কারুর সঙ্গে কারুর মিল নেই। বড়মামা ঠিক করেছেন হাসপাতালের কিচেনের কাছে গিয়ে, মিনি মিনি, আয় মিনি করে চুকচুক করে বেড়ালদের গাদা থেকে আসল বেড়ালটাকে ডেকে এনে বিস্কুট খেতে দেবেন। বেড়াল যেই খেতে শুরু করবে ঝপ করে বাসকেটটা চাপা দিয়েই, ডাস্টারে খানিকটা ক্লোরোফর্ম ছড়িয়ে ওপরে চেপে ধরবেন। বেড়ালটা অজ্ঞান হয়ে যাবে তখন সেটাকে চ্যাদোলা করে এনে বাচ্চাগুলোর কাছে চিৎপটাং করে শুইয়ে দেবেন।

    রসুলের প্ল্যান অন্য। রসুল ইঁদুরের লোভ দেখিয়ে দেখিয়ে বেড়ালটাকে ঘর পর্যন্ত টেনে আনবে। তারপর ঘরে ঢুকিয়ে ডাস্টার দিয়ে চেপে ধরে গলায় একটা দড়ি বেঁধে গ্রিলের সঙ্গে আটকে রাখবে। থাকো বেটা বন্দী হয়ে। ছেলেমেয়ে যদ্দিন না মানুষ হচ্ছে তদ্দিন তোমার মুক্তি নেই।

    বড়মামা বলছে, ‘মরবি রসুল। বেড়ালের গলায় কেউ কখনো ঘণ্টা বাঁধাতে পারেনি। ঘণ্টা আর দড়িতে তফাত কতটুকু! তোর জন্যে দেখবি সব ভণ্ডুল হয়ে যাবে।’

    দু’জন দু’রকম প্ল্যান নিয়ে রান্নাঘরের সামনে। ছ’টা বেড়াল ছোঁক ছোঁক করে বেড়াচ্ছে। বড়মামা বললেন, ‘কোনটা বল তো? কোন রাসকেলটা রে?’

    বেড়ালটা মাঝে মাঝেই আসে যায়! কেউই তেমন লক্ষ্য করে দেখেনি। ছ’টা বেড়ালের তিনটে সাদা। দু’টো সাদাতে কালোতে। একটা কুচকুচে কালো! কালোটা নয়। সাদা তিনটের যে কোন একটা। কিন্তু কোনটা? বড়মামা আবার রেগে গেলেন, ‘তোর মতো গাধা আর দু’টো নেই রসুল। তুই একটা বেড়াল চিনতে পারিস না, রুগি চিনিস কী করে?’

    রসুল বললে, ‘মানুষের নাম আছে, কার্ড আছে। এক একটা মানুষকে এক এক রকম দেখতে। বেড়াল তো সব এক রকম। খালি যা একটু রংয়ের তফাৎ।’

    বড়মামা বললেন, ‘জানিস যখন এক, তখন চিহ্ন দিয়ে রাখিসনি কেন? গায়ে অফিসের একটা শীল মেরে দিতে কি হয়েছিল? সবেতেই ফাঁকিবাজি। আমি জানি না, আমার বেড়াল ধরে দাও।’

    রসুল ইঁদুর-ধরা কলটা মেঝেতে নামিয়ে একবার চুকচুক করতেই ছটা বেড়াল দৌড়ে এল। একটা ফোঁস ফোঁস করে সামনে জালটা শুঁকছে, একটা কলের ওপরে থাবা মারছে। দু’টো শিকার পাছে হাতছাড়া হয়ে যায়। সেই ভয়ে মুখোমুখি বসে ল্যাজ ফুলিয়ে ফোঁস ফোঁস করছে। ফ্যাঁ ফ্যাঁ গড়র গড়র গড়র। দুজনেরই পিঠ ধনুকের মতো বেঁকে উঠেছে। বড়মামা পায়ে পায়ে পেছোতে পেছোতে কোণের দিকে দেয়ালে পিঠ রেখে দাঁড়িয়েছেন। আর সরবার জায়গা নেই। কিছু করবারও নেই। একমাত্র রসুলকে গালাগাল দেবার জন্যে মুখটাই যা খোলা আছে। দু’টো হাতই জোড়া।

    বড়মামা বললেন, ‘রাসকেল, তখনই বলেছিলুম কাঙালদের শাকের ক্ষেত দেখাসনি। একটা ইঁদুর ছ’টা বেড়াল। সামলা এবার ঠ্যালা ইডিয়েট, তোর মাথায় কবে যে ভগবান একটু বুদ্ধি দেবেন! ও, তোর তো আবার ভগবান নয়, আল্লা।’

    রসুল বললে, ‘ইঁদুরটাকে ছেড়ে দিয়ে দেখি।’

    ‘তা দেখবে না! নেংটি ইঁদুরের দৌড় জানিস? ছাড়লেই দৌড়োবে, পেছন পেছন বেড়ালও ছুটবে। তখন ধরবি কি করে! এক বালতি জল এনে গায়ে ছিটো তাহলে যদি মারামারি থামে!’

    ‘জল ছিটোলে বেড়ালের ঝগড়া বেড়ে যায় বাবু। ছেলেবেলায় দেখেছি তো, তার চেয়ে ইঁদুরটাকে নিয়ে ঘরে চলে যাই তাহলে লোভে লোভে সব ক’টা চেম্বারে চলে আসবে আমাদের এরিয়ার, তখন ঠিক ম্যানেজ করা যাবে।’

    ‘পাগল হয়েছিস। এর মধ্যে দু’টো হুলো আছে না ইডিয়েট, বাচ্চা চারটেকে সাবাড় করে দেবে। তুই ক্লোরোফর্ম ছিটো, সবক’টা অজ্ঞান হয়ে থাক। তারপর যা-হোক একটা কিছু করা যাবে।’

    রসুল আর মামা কথা কাটাকাটি করছেন, এদিকে ইঁদুরকে সাক্ষী রেখে তিন জোড়া বিড়াল ফুলছে, গোঁ গোঁ করছে, মাঝে মাঝে থাবার তুলে ফ্যাঁস ফ্যাঁস করে উঠছে। বড়মামার এই দুঃসময়ে রণক্ষেত্রে প্রায় হাঁপাতে হাঁপাতে প্রবেশ করলেন হাসপাতালের সিস্টার। সাদা কাপড়, সাদা টুপি। বড়মামার খোঁজে চেম্বার থেকে এই পর্যন্ত ছুটে এসেছেন। ব্যাপার দেখে মুখের কথা মুখেই আটকে গেছে। রসুল আর বড়মামাকে দেখে মনে হচ্ছে চাঁদে যাবেন। হাতে নানা ধরনের সরঞ্জাম। বড়মামা রসুলকে বলছেন, ‘তোর তো মানুষ মারাই কাজ, সাহস করে যে কোন একটা সাদাকে চেপে ধরতে পারছিস না ব্যাটা।’ রসুল একপা এগোয়ে তো দশপা পেছোয়। ইঁদুর কলে ইঁদুরটা ভয়ে সিঁটকে একেবারে ভিতরের দিকে ঢুকে বসে আছে। ছ’টা বেড়ালের গন্ধে আর শব্দে সে ভবিষ্যৎ বুঝে ফেলেছে—রক্তাক্ত মৃত্যু। সিস্টার বলছেন, ‘ডাক্তারবাবু শিগগির চলুন, গুপ্তু সায়েবের অবস্থা আবার খারাপের দিকে। শ্বাস নিতে পারছেন না।’

    বড়মামা বললেন, ‘গুপ্তু সায়েবটা কে? একে আবার কোত্থেকে আমদানী করলেন?’

    ‘ওই তো আমাদের ক্যাশিয়ার বাবু।’

    ‘তার নাম তো গুপ্ত বাবু, গুপ্তু বলছেন কেন? ইংরেজীর উচ্চারণ জানেন না বুঝি!’

    ‘আজ্ঞে উনি যে ডবল ও লেখেন।’

    ‘ডবল কেন, তার ডবল লিখলেও গুপ্ত ইজ গুপ্ত। সিঙ্গল ডিমের ওমলেটও ওমলেট, ডবল ডিমের ওমলেটও ওমলেট।’

    ‘গুপ্তু না বললে উনি রেগে যান। ওই তো সেদিন যখন জ্ঞান ফিরে এল কে যেন দেখতে এসে বলেছিলেন গুপ্ত সাহেব, উনি চটেমটে বললেন, অ্যাই অ্যাম গুপ্তু, নট গুপ্তওও। এত উত্তেজিত হলেন শেষে আপনি গিয়ে সেই আবার ঘুমের ইঞ্জেকসান দিলেন!’

    বড়মামা দার্শনিকের মতো বললেন, ‘গুপ্ত আর গুপ্তু, মুখার্জি আর মুকার্জি, দাশ আর দশ চিতায় উঠলে সব সমান সিস্টার। কিন্তু আমি এখন যাই কি করে! দেখছেন তো আমার অবস্থা! ডু ওয়ান থিং, অক্সিজেনের নলটা ঠেসে নাকে ঢুকিয়ে দিয়ে রুম কুলারের ভল্যুমটা বাড়িয়ে দিন। অত খেলে মানুষ বাঁচে? চারদিক থেকে চর্বি এসে হার্টটাকে চেপে ধরেছে। ডাক্তার কি করবে! গবগব করে খাবার সময় গুপ্তুর খেয়াল ছিল না দিন দিন আড়ামনি কৈলাশ হচ্ছি। যেতে দিন, যো যায়েগা যাউক যো আয়েগা আউক।’

    ‘আজ্ঞে যায়েগা যাউক বললে, আমাদেরই বিপদ। মাইনে হবে না এ মাসে। ক্যাশিয়ার ছাড়া মাইনে দেবে কে?’ বড়মামা এতক্ষণে একটু হাসলেন, ‘পৃথিবীতে ক্যাশিয়ারের অভাব আছে সিস্টার! এক যাবে আর এক আসবে। গুপ্ত গেলে, ঘোষ, বোস, মিত্তির যে কেউ একজন আসবে।’

    ‘তা হলেও হাতের পাঁচ কি ছাড়া উচিত স্যার? একে তো বাঁচাবার চেষ্টা করতেই হবে।’

    ‘তা তো হবেই, খাবার জন্যে বাঁচাতে হবে। দেশে দুর্ভিক্ষ করার জন্যে এদের বাঁচিয়ে রাখতে হবে। চলুন দেখি।’

    যাবার সময় রসুলকে বললেন, ‘একটাকে পটকে ফেল তারপর ওই ডাস্টার দিয়ে জড়িয়ে আমার ঘরে নিয়ে গিয়ে চেন দিয়ে টেবিলের পায়ার সঙ্গে বেঁধে ফেল।’

    সিস্টার আর বড়মামা পাশপাশি হাঁটতে-হাঁটতে চলে গেলেন। সিস্টার যেতে যেতে শুধু একবার প্রশ্ন করলেন, ‘বেড়াল কি করবেন ডাক্তারবাবু?’ বড়মামার এক উত্তরে সব কথা বন্ধ, ‘আমার শ্রাদ্ধে ব্রাহ্মণকে দান করা হবে।’

    বড়মামা চলে যেতেই রান্না ঘর থেকে বেরিয়ে এল ইয়াসিন। ইয়াসিনের বাড়ি বিহারে। এই হাসপাতালে রাঁধুনিক কাজ করছে বছর দশেক। থেকে থেকে বাংলা শিখেছে! ভাঙা ভাঙা বাংলা বলে। গুণ্ডার সর্দারের মতো বিশাল চেহারা। ইয়া মোটা লোমঅলা হাত, গর্দান। লাল গুলি গুলি চোখ। খাকি পোশাক, কাঁধে একটা হাত-টাত-মোছা তোয়ালে। ইয়াসিন একটা বিড়ি ধরিয়ে বেড়ালের যুদ্ধ কিছুক্ষণ দেখে রসুলকে জিগ্যেস করলে, ‘ক্যা শুরু কর দিয়া। আরে মারো না ইয়ার এক লাথ।’

    ‘মারো না এক লাথ’ রসুল ভেঁচি কেটে বললে, ‘আর হামারা চাকরি চলা যায়গা।’

    ‘আই বাপ। চাকরি তুমহার যাবে কেন? বিল্লী কো তো এইসি আদমী লাথাতা। হাম ঝাড়েগা একঠো। এক লাথ সে ছেগোকো একসাথ চারদিওয়ারিকা উধার কমপাউন্ডমে ফেক দেঙ্গে। দেখেগা।’ ইয়াসিন এমন একটা ভঙ্গী করল যেন হাবিব পেনালটি কিক নিতে যাচ্ছে।

    রসুল বললেন, ‘লাথ মারতা হায় মারো লেকিন ইসমে ডাগদারবাবুকা একঠো সফেদ বিল্লী হায়, উ চলা যায় তো তুমহারা কেয়া হোকা, আল্লা মালুম।’

    ইয়াসিন কোমর থেকে হাত নামিয়ে বললে, ‘সাচ!’

    ‘সাচ’ রসুল বললে। এদিকে একটা কালো আর একটা সাদায় খুব জমেছে। সাদাটা একটা কোণ পেয়েছে। কালোটা ল্যাজ ফুলিয়ে একেবারে ধনুক। সাদাটাকে দু’একবার থাবা চালিয়েছে। কোষা কোষা লোম খসে পড়েছে। নবাবী আমলের মুরগির লড়াই দেখা পূর্বপুরুষের রক্ত ইয়াসিনের শরীরে। বেড়ালের লড়াই দেখে তার মহানন্দ। মুঠো পাকিয়ে ইয়াসিন কালোটাকে উৎসাহ দিচ্ছে, লাগা-লাগা, মার এক থাবা! বহুত আচ্ছা। কালো বেটা জিতে যাবে।

    রসুল জানে, যে বেড়াল কোণ নিয়েছে তাকে হারাবার সাধ্য কারুর নেই। সে বললে, ‘কালা জিতে তো দশ রুপীয়া বেট।’

    ইয়াসিন বললেন, ‘সাদা জিতে তো বিশ রুপীয়া বেট। চলো, হো যায়।’

    রসুল মাথা ঝাঁকিয়ে বললে, ‘হাঁ হো যায়।’

    কালো দশ, সাদা কুড়ি। টাকার লড়াই হচ্ছে। একপাশে রসুল, একপাশে ইয়াসিন। মাঝে মাঝে দুজনে চিৎকার করে উঠছে, ইয়া, লাগা আওর থোড়া। আ-আ। ইয়াসিন মাঝে মাঝে গোঁফ চুমড়ে নিচ্ছে। রসুলের সাদাটা ইয়াসিনের কালোটার চোখের কাছে একটা থাবা বসিয়ে দিতেই ইয়াসিন একটু চুপসে গেল। রসুলের ধেই ধেই নাচ, ‘লাগা বাহাদুর, লাগা বাহাদুর।’ ইয়াসিন কালোটাকে বলছে, ‘মছিলিকা বেড়া দেগা, মার এক থাবা, এক বাটি দুধ দেগা, মার এক থাবা।’ রসুল বললে, ‘ইয়াসিন, এটা কিন্তু অন্যায় হচ্ছে। তোমার হাতে রান্নাঘর বলে তুমি মাছের লোভ, দুধের লোভ দেখাচ্ছ। এভাবে জেতালে টাকা পাবে না।’ রসুল এমনভাবে বল বেড়াল যেন মানুষের কথা বোঝে। কালোটা হঠাৎ তেড়ে গেল। ইয়াসিন মছলি মছলি বলে দালান ফাটানো চিৎকার করতেই, রসুল কনডেনস মিল্ক বলে তার সাদাটাকে লোভ দেখাল। রান্নাঘর থেকে এগিকে আরও অনেকে বেরিয়ে এসেছে। সকলেই রসুলের বিপক্ষে, কারণ ইয়াসিনের জেতার অঙ্ক অনেক বেশি।

    কে জেতে কে হারে! সাদাটা কোণ নিয়ে এ্যায়সা বসেছে, কালোটা তেড়ে গেলেও সাদাটার ফ্যাঁস আর থাবার ভয়ে ছটাপটি লটাপটি করতে পারছে না। ঝটাপটি লটাপটি না হলে লড়াইয়ের ফয়সালাও হবে না। এইভাবে চললে সারারাত কাবার হয়ে যাবে। ইয়াসিন সেটা বুঝেছে। ইয়াসিন বলছে, ‘উসকো হুঁয়াসে নিকালো।’

    ‘হুঁয়াসে নিকালো?’ রসুল প্রতিবাদ করে উঠল, ‘কাহে হুঁয়াসে নিকালবে? মামার বাড়ি পা গিয়া! যে যেই পোজিসানে আছে সেই পোজিসানেই লড়বে।’

    ইয়াসিন বললে, ‘ফুটবলমে পোজিসান চেঞ্জ হোতা নেই? আবি কালা আয়েগা উধার, সাদা জাগেয়া ইধার। নেহিতো দোনা চলা আয়েগা পেনালটি পোজিসানে। এ হামিদ ভাই, উসকো খোঁচাও।’!

    অ্যাসিসটেন্ট হামিদ সত্যিসত্যিই সাদাটাকে খোঁচাতে গেল। রসুলের মেজাজটা এমনিই ভালো নয়। কথায় কথায় তার হাত ওঠে। রসুল ধাঁ করে হামিদের কলার চেপে ধরে বললে, ‘এক পা আগে বাড়ে তো হালত চেঞ্জ কর দেগা।’ ইয়াসিন সঙ্গে সঙ্গে রসুলের ঘাড় চেপে ধরে দুবার ঝাঁকানি দিয়ে বললে, ‘চোপরাও জমাদার।’ এদিকে সাদাটা কালোটাকে আর একটা মোক্ষম থাবা দিয়েছে। রসুল জানে, জিততে হলে এখন তাকে গায়ের জোরে জিততে হবে।

    রসুল হামিদের কলার ছেড়ে দিয়ে ইয়াসিনের চিবুকের তলায় একটা ঘুষি মেরে বলল, ‘চোট্টা কাঁহাকা।’ আর বেশি কিছু বলার সে সময় পেল না। মাটি থেকে অল্প একটু উঁচু হয়ে, জমির হাত খানেক ওপর দিয়ে প্রায় উড়ে গিয়ে যে কোণে সাদা আর কালো বেড়াল দুটো বাজির লড়াই লড়ছিল সেই কোণে ঘাড় মুখ গুঁজড়ে বেড়াল দুটোর ঘাড়ে গিয়ে পড়ল। ক্লোরোফর্ম শিশির ভাঙা গলাটা বাঁ হাতের তালুতে বিঁধে গেল। সারা দালানে ক্লোরোফর্ম উড়ছে। একপাশে ডাস্টার, অন্যপাসে গড়াচ্ছে ওয়েস্ট পেপার বাসকেট। রসুলকে আর উঠতে হল না। ইয়াসিনের ঘুষি আর ক্লোরোফর্ম যে কোনও একটাই তার পক্ষে যথেষ্ট ছিল। একসঙ্গে দুটো! বেড়াল ছটারও সে একই অবস্থা। বারকতক ফোঁস ফোঁস করে সবকটাই পালাবার চেষ্টা করছিল। কেউ একপা কেউ দু’পা গিয়ে লটকে পড়েছে। ইঁদুরটা খাঁচার মুখে এসে মুখ থুবড়ে পড়েছে। তার লম্বা ল্যাচটা ফাঁক দিয়ে বাইরে বেরিয়ে এসেছে।

    বড়মামা তখন গুপ্তু সাহেবকে নিয়ে হিমসিম। আজীবন নস্যি নিয়ে নিয়ে সাহেবের নাকের ছিদ্র দুটো কামানের নলের গর্তের মতো। বড়মামা সিস্টারকে বলছেন, ‘এ ছেঁদা ছোট না করলে অক্সিজেন ভেতরে যাবে কি করে। সবই তো লিক করে বেরিয়ে আসবে। চারদিক থেকে প্লাস্টার অফ প্যারিস দিয়ে গোল করে বুজিয়ে আনতে হবে। এ কি আমাদের কম্ম! রাজমিস্ত্রী ডাকুন।’

    স্লিপ নিয়ে সিস্টার-ইন-চার্জ এলেন। এমার্জেন্সি কেস। তলার চোয়াল ঝুলে গেছে, খুলে গেছে বলেই মনে হয়। বাঁ হাতের চালু এ-ফোঁড় ও-ফোঁড়। সেনসলেস। ভিকটিম নিজেই নিজেকে অ্যানেসথেসিয়া দিয়েছে। সারা গায়ে মুখে অসংখ্য আঁচড়ের দাগ। দাগ দেখে মনে হয় বন্য জন্তুর আক্রমণ। অ্যাটেন্ডিং ফিজিসিয়ানের রিপোর্টটাই পড়লেন। পেশেন্টের নামটা দেখেও দেখলেন না। বড়মামা বললেন, ‘চলুন দেখি। সুন্দরবন তো অনেক দূরে। বাঘে কামড়েছে বলে মনে হচ্ছে!’

    সিস্টার-ইন-চার্জ বললেন,—’বুঝতে পারছি না ঠিক, তবে মুখটা ফালা ফালা করে দিয়েছে। চোয়ালটা কব্জা ভাঙা বাক্সর ডালার মতো ঝুলে পড়েছে।’

    বড়মামা একটু ভেবেচিন্তে বললেন, ‘হতেও পারে। সার্কাস কিম্বা চিড়িয়াখানার বাঘ হয়তো।’ সার্জিক্যাল ওয়ার্ডের অপারেশন টেবিলে রসুল মুখে ভেঙচি কেটে শুয়ে আছে। ডক্টর মিত্র ইতিমধ্যে বোতল ভাঙাটা বের করে ছোট বুরুশ দিয়ে ঝেড়ে ঝেড়ে কাঁচের টুকরো বের করছেন। বড়মামা রসুলের মুখটা দেখেই বললেন,—’রাসকেল, অপদার্থ, তখনই বলেছিলুম ছটা বেড়াল একটা ইঁদুর, মরবি রসুল। বেড়াল হল বাঘের মাসি। ইস চোয়ালটা পর্যন্ত খুলে নেবার চেষ্টা করেছিল। মুখে মাংসর গন্ধ পেয়েছে। সবক’টা কামড়ে ধরে টানতে শুরু করেছিল বোধহয়!’

    ডক্টর মিত্র বুরুশ দিয়ে কাঁচের টুকরো ঝাড়তে ঝাড়তে বললেন, ‘মাইনের ব্রুইজগুলো বেড়ালের। চোখটা জোর বেঁচে গেছে। আসল ঘটনা ইয়াসিনের ঘুষি। দৈত্যের ঘুষি। এক ঘুষিতেই চোয়াল খুলে গেছে। ক্লোরোফর্মটা কে ঢেলেছে বুঝতে পারছি না। চব্বিশ ঘণ্টার আগে জ্ঞান হবে বলে মনে হয় না।’

    ক্লোরোফর্মের রহস্য বড়মামা জানে। বেড়ালের আঁচর, তাও বুঝলেন। বুঝলেন না ইয়াসিনের ঘুষি। কুক ইয়াসিন রসুলকে ঘুষি মারবে কেন? চোরাই খাবারের ভাগ-বাঁটোয়ারা নাকি? জুনিয়ার ডক্টর মিত্রকে যে নির্দেশ দেবার দিয়ে বড়মামা কিচেনের দিকে চললেন। আহা কি দৃশ্য! চোখ জুড়িয়ে যায়। শ্রীক্ষেত্রের মতো বেড়াল ক্ষেত্র। ছ’টা তাগড়া বেড়াল ছ’দিকে ঠ্যাং ছড়িয়ে পড়ে আছে। রান্নাঘরে সকলেই আছে, ইয়াসিন আছে, বিশু আছে, গদাই আছে, একটা বড় রুই মাছ আছে, ছ’টা মুরগি আছে, এক ঝুড়ি ডিম আছে, ঘি আছে, তেল, মশলা, নুন, মাখন সব আছে। তবে কথা বলার মতো অবস্থায় কেউ নেই। ইয়াসিন সব্জী-কাটা লম্বা টেবিলে কাঁচাকলা মাথায় দিয়ে চিৎ হয়ে শুয়ে আছে। থামের মতো একটা পা কিচেন র‍্যাকের ওপর। চায়ের একটা বড় কৌটো, দুটো জ্যামের টিন পায়ের দিকের মেঝেতে গড়াগড়ি। হামিত ওই দিকেই উপুড় হয়ে আছে। সারা মাথায় চা পাতা। এক এক ভঙ্গীতে সকলেই গভীর ঘুমে। উনুন কড়ায় একটা কিছু চাপান ছিল। কি বস্তু এখন বোঝার উপায় নেই। কড়াটা উনুনের তাতে ফেটে দু’চাকলা হয়ে দুদিকে সরে গেছে।

    কাউকে ঘাঁটাবার সাহস বড়মামার হল না। সারা হাসপাতালের রুগি আর হাউস স্টাফের আজ উপবাস। সব ক’টাকে দাওয়াই দিয়ে চাঙ্গা করতে হবে। ক্লোরোফর্ম সার্জিক্যাল ওয়ার্ড থেকে রান্নাঘরে আসে কি করে, রসুলকে তার জবাবদিহি করার জন্যে ফতোয়া জারি করতে হবে। পুরো ব্যাপারটা তদন্তের জন্যে কমিটি বসাতে হবে। চেয়ারম্যান বড়মামা—ডক্টর মুখার্জি। সব কিছুর মূলে, বড়মামা—ডক্টর মুখার্জি, তার চারটি বেড়ালছানা আর ছটি বেড়াল।

    চিন্তিত বড়মামা বেছে বেছে সাদা একটা বেড়াল বগলদাবা করে চেম্বারে ফিরে এলেন। একটা রবার-স্ট্যাম্প দিয়ে সারা গায়ে দেগে দিলেন। এবার আর গুলিয়ে যাবার উপায় নেই। বেড়ালটাকে মেঝেতে ফেলে মিউ মিউ বাচ্চা চারটেকে ছেড়ে দিয়ে ঘটনার নোট লিখতে বসলেন। রসুলকেও সাসপেন্ড করতে হবে, নিজেকেও সাসপেন্ড করতে হবে। বড়মামা একবারও লক্ষ্য করলেন না, মা বলে যে বেড়ালটাকে ধরে এনেছেন সেটা একটা বিশাল হুলো।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleশিউলি – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    Next Article ২৫টি দমফাটা হাসি – সম্পাদনা : সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    Related Articles

    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    গুহা – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    হর-পার্বতী সংবাদ – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    সাজাহানের জতুগৃহ – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    শ্রীকৃষ্ণের শেষ কটা দিন – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    মনুষ্যক্লেশ নিবারণী সমিতি – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    মধুর এক প্রেমকাহিনি – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }