Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মামা সমগ্র – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় এক পাতা গল্প1007 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    বড়মামার মিনেজারি

    হাড়ের নস্যির ডিবে। আগে কখনো দেখিনি। পুরী থেকে স্পেশাল আমদানি। বড়মামার এক রোগী পুরী থেকে এনে প্রেজেণ্ট করেছে, পুরস্কার। ভদ্রলোক একদিন বেদম হাসছিলেন। চোয়াল আটকে হাঁ হয়ে গেল। কোনও ডাক্তারেই কিছু করতে পারে না। শেষ বড়মামা। বড়মামা সেই সময় বাড়িতে সিল্কের লুঙ্গি পরে পেয়ারের কুকুর লাকিকে ওঠবোস করাচ্ছিলেন। ভদ্রলোক হাঁ করে রিকসা থেকে নেমে এলেন। ভদ্রলোকের অবস্থা দেখে বড়মামাও হাঁ। ভদ্রলোকের বাড়িতে সেদিন মাংসের ঝোল হয়েছিল। চোয়াল আটকে গেলে খাওয়া যায় নাকি? দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়ে গেল। ঝোল জুড়িয়ে জল। এখন শেষ ভরসা বড়মামা।

    লাকিও ভদ্রলোকের অবস্থা দেখে হাঁ। আশেপাশে যাঁরা ছিলেন তাঁরাও হাঁ। বড়মামা মিনিট খানেক কী ভাবলেন! তারপর ঠেসে এক চড় ভদ্রলোকের গালে। খুট করে একটা শব্দ হল। ভদ্রলোকের চোয়াল নিমেষে খুলে গেল। এক মুখ হাসি। বড়মামাকে জড়িয়ে ধরে সে কি আদর! বড়মামা যত বলেন, ‘ছাড়ুন ছাড়ুন, কাতুকুতু লাগছে,’ আদর যেন ততই বেড়ে যাচ্ছে! শেষে লাকি যখন রেগে গর গর করে উঠল ভদ্রলোক তাঁর উচ্ছ্বাস সংযত করলেন।

    —মশাই, পাঁচকড়ি বসে বসে তারিয়ে তারিয়ে আমার মাংস আমারই চোখের সামনে খেয়ে যাবে, বলুন সহ্য করা যায়! পাঁচকড়ি ভদ্রলোকের বেকার ভাই। বড়মামা বললেন,—আজকের দিনটা লিকুইড খেলেই ভালো হয়। —লিকুইড তো, মাংসের ঝোলটাই তো বেশি, পাঁচশো মাংস আর ক’টা টুকরো বলুন। ঝোলের সঙ্গেই গিলে নেব। কড়কড়ে আটটা টাকা হাতে গুঁজে দিয়েই পাঁচকড়ির দাদা সাতকড়ি রিক্সায় উঠলেন। চড় মামার ফি। সেই সাতকড়িবাবুই নস্যির ডিবেটা দিয়েছেন।

    নস্যির ডিবেটা সিল্কের লুঙ্গি দিয়ে পালিশ করতে করতে বড়মামা বললেন,—তুই আমার কাছে শুবি। ফাসক্লাস তিন তলার ঘর। বড় বড় জানালা। ফুর ফুর করে হাওয়া খেলে যাচ্ছে। দুজনে মজা করে পাশাপাশি শোব। গল্প করতে করতে ঘুমিয়ে পড়ব। বড়মামা এক টিপ নস্যি নিলেন সশব্দে। মেজোমামা জানালার কাচ পালিশ করছিলেন। মেজোমামার হল পরিষ্কার বাতিক। সব সময় কাঁধে ঝাড়ন নিয়ে ঘুরছেন। আসা-যাওয়ার পথে এটা ওটা সেটা ঝাড়ছেন। সিঁড়ির হাতল, খাটের মাথা, টেবিল, ফুলদানি। তখন পড়েছিলেন জানালার কাচ নিয়ে। ঘুরে দাঁড়িয়ে বললেন, ‘শোবে শোও, তবে অপঘাতে মরলে আমাদের দোষ দিও না।’ আমি অবাক হয়ে বড়মামার মুখের দিকে তাকিয়ে রইলুম। বড়মামা ইশারায় নিজের মাথার উপর একটা আঙুল বার কতক গোল করে ঘুরিয়ে বুঝিয়ে দিলেন মেজোর মাথার গণ্ডগোল আছে। জানালার কাচে বড়মামার হাত ঘোরানো মেজোমামা দেখতে পেয়েছিলেন, ফিরে দাঁড়িয়ে বললেন,—’হ্যাঁ, আমার মাথার গোলমাল তো হবেই, তোমার মাথাটা খুব ঠিক আছে, তাই তো। বাড়িটা তো একটা চিড়িয়াখানা বানিয়েছ! ছটা গরু, কোনওটার দুধ নেই। খাচ্ছে দাচ্ছে, নাদা নাদা হাগছে। মশার চোটে বাড়িতে টেঁকা যাচ্ছে না। চার চারটে কুকুর, ঠাকুর ঘরে চুরি হয়ে গেল! দুটো কাকাতুয়া সারাদিন চেল্লাচ্ছে। কার্নিসে একঝাঁক পায়রা অনবরত মাথায় পায়খানা করছে।’ বড়মামা খুব রেগে গেলেন,—’তাতে তোর কি, তোর কি অসুবিধে হয়েছে?’ মেজোমামার কাচ পরিষ্কার বন্ধ হয়ে গেল,—’আমার কি? আমার কি তাই না? তোমার লাকি সকাল বেলা কার্পেট ভিজিয়েছে। তোমার গরু লক্ষ্মী, সকালে আমার বাগানে ঢুকে সব গাছ মুড়িয়ে খেয়েছে। তোমার কাকাতুয়া সকালে ডানার ঝাপটা মেরে আমার চোখের চশমা ফেলে কাচ ফাটিয়ে দিয়েছে।’

    বড়মামা আবার এক টিপ নস্যি নিয়ে বললেন,—’লাকি, লাকির পেচ্ছাপ গোলাপ জল, জানিস ও রোজ ডগসোপ মেখে চান করে। তুই তো সাত জন্মেও চান করিস না।’ মেজোমামা কিছুক্ষণ বড় বড় চোখে তাকিয়ে রইলেন তারপর বিস্ফোরণ—’ওঃ, গোলাপ জল, তাই না! এবার থেকে বিয়ে বাড়িতে ওটাকে নিয়ে যেও, কাজে লাগবে। ভাড়া খাটাতে পার তো, গোলাপ জল ছিটিয়ে আসবে। কার্পেট তুমি পরিষ্কার করবে, আমি পারব না।’

    —’আমার সময় কোথায়, জানিস আমার গর্জমান প্র্যাকটিস।’ বড়মামা রোরিং-এর বাঙলা করলেন গর্জমান। প্রতিজ্ঞা করেছেন, যখন বাংলা বলবেন ‘পিওর বাংলা’ যখন ইংরেজি তখন ‘খাঁটি ইংলিশ।’

    —’তোমার প্র্যাকটিস আমার জানা আছে, যত চড়-চাপড় মেরে বুদ্ধু লোকের কাছ থেকে টাকা বাগাও।’ মেজোমামা সেই সাতকড়ির চোয়াল আটকে যাবার কেসটা বললেন।

    —’তুই ডাক্তারির কি বুঝবি। এ কি তোর ফিলজফি!’ বড়মামা মেজোমামার দর্শন নিয়ে এম.এ. পড়ার ঘোর বিরোধী ছিলেন।

    —’তোমার গরু যদি কাল আমার বাগানে ঢোকে, আমি খোঁয়ারে দিয়ে আসব।’ মেজোমামা এইবার গরু দিয়ে বড়মামাকে কাবু করার চেষ্টা করলেন।

    —’ঠিক আছে, খাঁটি ক্ষীরের মতো দুধ হলে তোকে দেখিয়ে খাব।’ বড়মামা লোভ দেখালেন।

    —’দুধ!’ মেজোমামা একখানা নাটকীয় হাসি ছাড়লেন। —’কার দুধ? লক্ষ্মীর দুধ! ওর পেটে দুধ ভরে বাঁটের কাছে একটা কল ফিট করে দিলে তবে যদি দুধ পড়ে, বুঝেছো? ছ’বছরেও যে দুধ দিলে না, তার দুধ তুমিই খেও। ডুমুরের ফুল দেখেছ, সাপের পা দেখেছ, সোনার পাথর বাটি দেখেছ, কুমিরের চোখে জল দেখেছ!’ মেজোমামা মনে হয় উপমার বন্যা বইয়ে দিতেন যদি না সেই সময় ঘরে ছোটোমাসি ঢুকতেন!

    ছোটোমাসির হাতে একটা শাড়ি। মেজাজ একেবারে সপ্তমে। —’বড়দা এটা কি হয়েছে?’ শাড়িটার একটা দিক টুকরো টুকরো। মনে হয় কেউ চিবিয়েছে। বড়মামা নস্যির ডিবেটা নাচাতে নাচাতে বললেন,—’ছিঁড়ে ফেলেছিস?’

    বারুদে যেন আগুন লাগলো,—’আমি ছিঁড়েচি! তোমার খরগোশের কীর্তি।’

    —’যাঃ, খরগোশে তোর শাড়ি চিবোতে যাবে কেন?’ বড়মামার অবিশ্বাস।

    —’যাবে কেন? তোমার খরগোশ কোনও কিছু আস্ত রেখেছে। স্টেনলেস স্টিলের বাসনগুলোও চেষ্টা করেছিল, পারে নি।’ মেজোমামা মনে হল বেশ খুশি। মেজোমামা বললেন,—’খরগোশের পেটে সব কিছু যাবার আগে রোস্ট করে ওগুলোকে পেটে পুরে দে।’ বড়মামা যেন শিউরে উঠলেন। —’কাপড় তুই যেখানে সেখানে ফেলে রাখিস কেন, কেয়ারলেসের মতো?’ —’যেখানে সেখানে!’ মাসিমা তেড়ে এলেন, —’বাসকেটে রেখেছিলুম ছাড়া কাপড়ের সঙ্গে, সেখানে গিয়ে ঢুকেছে শয়তানগুলো।’ —’বাসকেটে কেউ কাপড় রাখে?’ —বড়মামা দোষটা মাসিমার ঘাড়ে চাপাতে চাইলেন। —’ছাড়া কাপড় বাসকেটেই রাখে বড়দা, চিরকাল তাই রাখা হয়।’ বড়মামা হাল্কা চালে বললেন,—’আর রাখিস নি। ছাড়া কাপড় একটু উঁচুতে রাখিস।’ —’কড়িকাঠে ঝুলিয়ে রাখব, কিংবা মাথায় করে নিয়ে ঘুরবো এবার থেকে।’ মাসিমা রেগে বেরিয়ে গেলেন।

    মেজোমামার আবার আক্রমণ,—’তোমার খরগোশ সেদিন আমার চটি জুতো খেয়েছে। বলো, চটি এবার থেকে মেঝেতে খুলে না রেখে মাথায় করে ঘুরে বেড়াস?’ বড়মামা ফাইন্যালি এক টিন নস্যি নিয়ে বললেন,—’দেখ মেজো, আমার বাবার বাড়িতে আমি যা খুশি তাই করতে পারি, তোদের পছন্দ না হয় আমার কিছু করার নেই। গরু আমার থাকবে, কুকুর থাকবে, কুকুর আমার বিশ্বস্ত বন্ধু, বেটার দ্যান মেন, পাখি আমার দাঁড়ে ঝুলবে, খরগোশ আমার নেচে নেচে ঘুরবে। পৃথিবীর পশু জাতি আমার বন্ধু, আমার ফ্রেন্ড।’ মেজোমামা কি বলবেন একটু যেন ভেবে নিলেন, তারপর ছাড়লেন তাঁর উত্তর—’বাড়িটা তোমার একলার নয়, বুঝেছ। জয়েন্ট ফ্যামিলিতে একটু মিলে মিশে থাকতে হয়। এরপর তুমি একটা কেঁদো বাঘ আমদানী করবে, তারপর একটা বিটকেল ভাল্লুক। একদিন বাড়ি ফিরে দেখলে আমরা সব ক’টা চলে গেছি পেটে, হাড় ক’খানা পড়ে আছে। তোমার বাঘ বসে বসে জিভ দিয়ে ঠোঁট চাটছে। তখন কি হবে! বলো কি হবে!’

    ‘ঘোড়ার ডিম হবে’, বড়মামার নির্বিকার উত্তর। —’ভাল্লুক কেউ পোষে না, কথার কথা বললেই হল, না! আসলে তোরা ভীষণ মিন মাইন্ডে, আত্মসুখী, তোদের কোনও ক্যারেকটার নেই!’

    —’কী বললে? আমরা চরিত্রহীন! তোমার ভারি চরিত্র আছে, না? জোচ্চোর ডাক্তার। তুমি আর কথা বোলো না। রামকৃষ্ণ কী বলে গেছেন জানো, ডাক্তার আর উকিলরা কখনো সিদ্ধিলাভ করতে পারে না।’ মেজোমামা এক নিঃশ্বাসে কথা ক’টা বলে গেলেন। বলে যেন বেশ তৃপ্তি পেলেন।

    বড়মামা এক টিপ নস্যি বেশ সশব্দে নাকে গুঁজে বললেন, ‘পশু-পক্ষী নিয়েই আমি থাকব। তোরা হলি বিষাক্ত সাপ।’ তারপর আমাকে বললেন,—’তুই আমার একমাত্র ভাগ্নে। তুই এইসব নোংরা আদমিদের সঙ্গে একদম থাকবি না, আমার তিন তলার ঘরে আরামে ফুরফুরে হাওয়ায় আমার পাশে ঘুমোবি, সকালে আমার সঙ্গে বেড়াবি। বিকেলে লাকির সঙ্গে খেলবি।’ মেজোমামা কান খাড়া করেছিলেন, সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ,—’ভাগ্নে তোমার একলার নয়, আমাদের সকলের, আমরা সকলেই তার ভাগ পাব। তুমি বেচারাকে তিনতলার ঘরে পুরে সারারাত ফুটবল খেলবে, তা হবে না, আমি প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আই প্রোটেস্ট।’

    —’তোর প্রোটেস্ট?’ বড়মামা হাসলেন— ‘তোর মতো অমানুষের হাতে একে আমি ছেড়ে দিতে পারি না।’

    অমানুষ বলায় মেজোমামা ফিউরিয়াস। —’অমানুষ কাকে বলে জানো? পশুদের কাছাকাছি যারা থাকে তারাই অমানুষ। পশুদের নিয়ে এ বাড়িতে কে থাকে? তুমি থাকো। সুতরাং অমানুষ তুমি, আর তাই ছেলেটা তোমার হেফাজতে যাতে চলে না যায়, আমাদের দেখতে হবে!’

    এইবার বড়মামার হাসবার পালা,—’তুই দেখবি! তোকে কে দেখে তার ঠিক নেই, তুই দেখবি! তুই সারা বাড়ির ধুলো আর নোংরা ছাড়া তো কিছুই দেখতে পাস না, আগের জন্মে বোধহয় ধাঙড় ছিলিস।’ মেজোমামাও ছাড়বার পাত্র নন,—’তোমার মতো অপদার্থরা বাড়িতে থাকলে আমাদের মতো পদার্থওয়ালাদের তো খাটতেই হবে। তোমার পাখি, তোমার পেয়ারের কুকুর, তোমার শুকনো গরু, তোমার বোকা রুগীর দল চব্বিশ ঘণ্টা বাড়িটাকে ডাস্টবিন বানিয়ে যাচ্ছে। আমি আছি বলে বাস করতে পারছ, চলে গেলে বঝবে ঠ্যালা। Cleanliness is next to godliness, বুঝেছো। আমি হলুম সেই God!’

    বড়মামার বিস্ময়। —’তুই হলি গিয়ে God আর আমরা হলুম Demon’, বড়মামার সে কি প্রাণখোলা হাসি। —’গায়ত্রী জপ করতে জানিস? গলায় তোর পৈতে আছে? সেটাকে তো বহুকাল ধোপার বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছিস।’ বড়মামার কথা শেষ হবার আগেই মাসির তাড়া খেয়ে সবচেয়ে বড় খরগোশটা, যেটাকে আমরা পালের গোদা বলি, সেটা ল্যাংচাতে ল্যাংচাতে ঘরে এসে ঢুকল। মেজোমামা সঙ্গে সঙ্গে ফেদার ডাস্টার তুলে সেটাকে পেটাতে যাচ্ছিলেন। বড়মামা খরগোশটাকে তুলে নিয়ে বললেন,—’এই যে God, জীবে দয়া করার কথাটা বুঝি তোর শাস্ত্রে লেখা নেই! শুধু জিভে দয়াটাই বুঝেছিস, না?’

    বড়মামা এক বগলে খরগোশ অন্য বগলে আমাকে নিয়ে বাগানে চলে এলেন। বড়মামা জুট মিলের ডাক্তার। মিলের দুটো জোয়ান ছেলে বড়মামার চাকর কাম এডি-কং কাম কনফিডেনসিয়াল এডভাইসার। একজনের নাম রতন আর একজনের নাম প্রফুল্ল। রতনের মুখের ডানদিকে একটা গভীর কাটা দাগ লম্বা হয়ে ভুরুর কাছ থেকে দাড়ি অবধি নেমে এসেছে। মিল এলাকায় কে যেন ছোরা মেরেছিল বছর কয়েক আগে। বড়মামা খুব জোর চোখটা বাঁচিয়ে দিয়েছিলেন। সেই থেকে রতনের ভগবান বড়মামা। প্রফুল্লর একবার কার্ডিং মেশিনে হাত ঢুকে প্রায় ছিংড়ে গিয়ে কনুইয়ের কাছ থেকে ঝুলে গিয়েছিল। বড়মামা খুব কায়দা করে জোড়াতালি মেরে হাতটা বাঁচিয়ে দিয়েছিলেন।

    মেজোমামার সখ ফুলবাগান। বড়মামার ফল বাগান। রতন আর প্রফুল্ল তার মালি। শ’খানেক নারকেল গাছ সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। কেরালার গাছ। মাথায় বেশি বড় হয় না। ছোট ঝাঁকড়া গাছ। কাঁদি কাঁদি ডাব নেমে এসেছে। রতন তারই একটায় উঠে, পাতার আড়ালে ঢুকে ছিল, পা দুটো খালি দেখা যাচ্ছিল। প্রফুল্ল ছিল বাগানে। কোদাল পেড়ে মাটি কোপাচ্ছিল। বড়মামা বাগানে আসা মানে তিনটে কুকুরও পেছনে পেছনে এসেছে। এর মধ্যে লাকি সবার আগে, কারণ সে হল পেয়ারের কুকুর। তার সাতখুন মাপ।

    বড়মামা বললেন,—’ওই দ্যাখ, রতন তোর জন্যে ডাব পাড়ছে। এক একটা ডাবের কতটা ফল জানিস, ফুল দু’গেলাস, আর ইয়া পুরু নারকেল। তোর মেজোমামার ক্ষমতায় কুলোবে, পারবে তোকে কেরালার ডাব খাওয়াতে? এই তো বাগানের ছিরি, ক’টা দোপাটি, কলা ফুলের ঝাড়! প্রফুল্ল’—বড়মামা হাঁক ছাড়লেন। প্রফুল্ল কোদাল ফেলে, মিলিটারি কায়দায় এগিয়ে এল,—’শোন, শিগগির মোল্লার হাটে যা, দু’কেজি ফাসক্লাস মাংস নিয়ে আয়, আর আনবি দই। জানিস কে এসেছে, হামারা ভাগনে।’ প্রফুল্ল দৌড়োল হুকুম তালিম করতে। বড়মামা এক মুখ হাসি,—’এখান থেকে যখন ফিরে যাবি, তোর ওজন চার কেজি বাড়িয়ে তবে ছাড়ব। তোকে মাল্টি ভিটামিন খাওয়াব, ফেরাডল খাওয়াব, বোতলে ভরা নেবুর রস খাওয়াবো, দুধটা এবার খাওয়াতে পারব না, গরুগুলো খুব শয়তানি করছে।’ তারপর ফিস ফিস করে বললেন,—’মেজোটার নজর লেগে দুধ শুকিয়ে যাচ্ছে। তবে হ্যাঁ, তার বদলে তোকে মোল্লারচকের দই খাওয়াব।’

    রতনের দাঁতে ছুরি কোমরে দড়ি বাঁধা, হনুমানের লেজের মতো ঝুলে এসেছে। কাঁদি কাঁদি সবুজ ডাব দড়িতে বেঁধে ঝুলিয়ে দিচ্ছিল।

    মেজোমামার যে কেন ঠিক এই সময় বাগানে আসার দরকার পড়ে গেল কে জানে। মেজোমামার আবার সব ব্যাপারে নাক গলানো চাই। বিশেষত বড়মামার ব্যাপারে। দোপাটি গাছের চারায় বাঁশের কঞ্চির গোঁজ দিতে দিতে কাকে উদ্দেশ্য করে বললেন বোঝা গেল না,—’এরা সব দেশের শত্রু, কচি কচি ডাব পেড়ে নষ্ট করছে। কেরালার কচি ডাব পেড়ে নষ্ট করছে। কেরালায় কচি ডাব পাড়া সরকার আইন করে বন্ধ করে দিয়েছে। ঝুনো হলে নারকেল হয়, ছোবড়া হয়। দেশের কাজে লাগে। তা না, বাবুরা ডাবের জল খাবেন। ডাবের জলে কি আছে! ঘোড়ার ডিম আছে!’

    বড়মামা বেশ বড় করে এক টিপ নস্যি নিয়ে বলেন,—’বুনো ফুলগাছ করেছিস, তাই নিয়ে থাক। ডাব নিয়ে তোকে মাথা ঘামাতে হবে না। আমার ডাব আমি বুঝব।’

    —’তোমার ডাব মানে? গাছ আমাদের সকলের। জানো, তুমি কি অনিষ্ট করছ? দেশের কত বড় ক্ষতি করছ? নারকেল শুকিয়ে ‘ফোপরা’ হয়, সেই ‘ফোপরা’ থেকে নারকেল তেল হয়। নারকেল তেলের কিলো জানো?’

    —’যা যা, তোর ফোপরা আর তেলের নিকুচি করেছে। ডাবের জল খেয়ে পেট ঠান্ডা হয়।’ বড়মামা একটা কাঁদির গায়ে হাত বুলোতে বুলোতে বললেন। মেজোমামা বললেন,—’মাথা জোড়া যার টাক সে আর তেলের কী মর্ম বুঝবে! ছোবড়া থেকে কতরকম শিল্প হয় জানো? বিদেশে রপ্তানি করে কত টাকা রোজগার করা যায় জানো?’

    —’আমার জেনে দরকার নেই। আমাতে আর আমার ভাগ্নেতে মিলে গেলাস গেলাস জল খাব, দুরমো নারকেল খাব ফুলো ফুলো মুড়ি দিয়ে।’

    মেজোমামা আগাছা পরিষ্কার করতে করতে বললেন,—’তাই নাকি? বার করছি তোমাদের ডাব খাওয়া, আমি কোর্ট থেকে ইনজাংসান দেওয়াব।’

    —’ইংজাংসান!’ বড়মামা হইহই করে হেসে উঠলেন, —’পাগলের পাগলামী বাড়িতে চলে বুঝেছিস, কোর্টে চলে না। ঘাস ওপড়াচ্ছিস ওপড়া, অন্যের চরকায় তেল দিতে আসিস নি।’

    রতনের উপর হুকুম হল,—’যা, সমস্ত ডাব তেতলায় আমার ঘরে খাটের তলায় নারকেল পাতা বিছিয়ে সাজিয়ে রেখে আয়। আর এখন থেকে বলে রাখছি তোর মেজোবাবু যদি কোনো দিন বলে রতন পেট-গরম হয়েছে রে, একটা ডাব কাট তো। সোজা বলে দিবি, বাজারে গিয়ে খেয়ে আসুন। গাছের ডাব একটাও দিবি না। আমাকে আইন দেখাতে এসেছে, কোর্ট দেখাতে এসেছে।’

    ব্যাপারটা কতদূর গড়াত কে জানে, হঠাৎ বড়মামার এক রোগী এসে গেল। একটা বাচ্চা ছেলে নাকে ন্যাপথালিনের বল ঢুকিয়ে ফেলেছে। বড়মামা প্রথমে পাত্তা দিতে চান নি। —’ন্যাপথালিন, আরে ভালোই তো, আস্তে আস্তে উড়ে যাবে, ভয়ের কী আছে।’ ছেলের মা নাছোড়বান্দা,—’উড়ে যেতে যেতে ছেলের এদিকে প্রাণ যায়, নিঃশ্বাস নিতে পারছে না। —’হাতের কাছে ওসব রাখো কেন?’ বড়মামার ধমক। —’উপায় কি না রেখে। আমাদের যে ন্যাপথালিনের কারবার! সারা বাড়িতেই ছড়ানো।’ বড়মামা বললেন,—’তাহলে বাড়িতে তো সব সময় একজন ডাক্তার রাখা উচিত, সেই বের করে দিয়ে আসবে, পেছনে ফিরতে না ফিরতেই তো আবার ঢোকাবে।’ ছেলের মা করুণ গলায় বললেন,—’আর একবার ঢুকিয়েছিল, নাকে চিমটে ঢুকিয়ে বের করে দিয়েছিলুম, এবার আর বেরোচ্ছে না, আপনি একটু দয়া করুন, ছেলেটাকে মামার বাড়ি পাঠিয়ে দিচ্ছি, বড় হলে তারপর আনব।’

    পাড়ার কলে বড়মামা সিল্কের লুঙ্গির উপর একটা গেরুয়া পাঞ্জাবি পরেই বেরিয়ে পড়েন। রতন পাঞ্জাবি আর ডাক্তারি ব্যাগটা নামিয়ে আনল। বাড়িরই সাইকেল রিকশা রেডি ছিল। রহমতুল্লা চালায়। বড়মামা কলে বেরিয়ে গেলেন। বাগানে আমি একা। লাকিটা তখন শুঁকে শুঁকে আমাকে টেস্ট করছে, আমার স্বভাব কি রকম। শুনেছি কুকুররা নাকি শুঁকেই বলে দিতে পারে মানুষটা চোর না সাধু।

    মেজোমামার আবার কুকুর দু চোক্ষের বিষ। নিজের ফুল বাগান থেকে হেঁকে বললেন,—’এদিকে আয়। একলা আসবি, ওই শয়তানটাকে আনবি না।’ কুকুর যদি সঙ্গে সঙ্গে আসে আমার কি দোষ! মেজোমামা এক দাবড়ানি দিলেন,—’তোকেও এবার কুকুরে পেয়েছে!’—’আমি কী করব? পেছনে পেছনে আসছে যে!’—’ঠিক আছে তুই ওইখান থেকেই শোন, তুই কার দলে?’

    কী উত্তর দেব, বললুম,—’নিরপেক্ষ, স্বতন্ত্রও বলতে পারেন।’

    —’নিরপেক্ষ তো বড়র পেছন পেছন ঘুরছিস কেন?’ একটু ভেবে বললুম। —’ঘোরাচ্ছেন তাই ঘুরছি।’ মেজোমামা বললেন,—’ঘুরবি না, চুপ করে বসে থাকবি ঘরে, তুই আমাদের কমন ভাগ্নে।’ এমন জানলে কে আসত মামার বাড়িতে! দরকার নেই বাবা, মামার বাড়ির আদরে। আমি যে এখন কোন দলে যাই! মাসির কাছে যে ভিড়ব তারও উপায় নেই। তিনি তো সারাদিন রবীন্দ্রসঙ্গীত আর নাচ নিয়েই ব্যস্ত। আর মাঝে মাঝে সময় পেলেই খরগোশে লাথি। লাথি মারার মতো খরগোশের অভাব বড়মামা রাখেননি।

    সকালের খাওয়া যেমন গুরুপাক হল, রাতের খাওয়াও কিছু কমতি হল না। দুপুরে আবার গোটা দুই ডাবের জল! সব মিলিয়ে টইটম্বুর ভরা নদীর মতো অবস্থা। রাতের খাবার পর একটা বিশাল দাঁড়ানো টেবল ল্যাম্প জ্বেলে মেজোমামা মোটা একটা দর্শনের বইয়ে ডুবে গেলেন। সংসারে তখন কে কার। দু’বার পাশে ঘুর ঘুর করলুম, মনে হল মেজোমামা যেন চেনেনই না। দিশি কাপড়ের কোঁচার খুঁট কারপেটে লুটোচ্ছে। বড়মামার সবচেয়ে বড় খরগোশটা সোফার তলায় শরীর ঢুকিয়ে কেঁচার খুঁট চিবোচ্ছে। মেজোমামাকে বললুম। গ্রাহ্যই করলেন না। শেষে বললেন, যা বললেন তার মানেও বুঝলুম না, সংসারে কিছুই চিরকাল থাকে না। শরীরটাই যখন চলে যাবে তখন তুচ্ছ কোঁচার খুঁট। আবার সকালেই চায়ের টেবিলে মেজোমামার অন্য রূপ দেখব। কাঁধে ঝাড়ন। এটা ঝাড়ছেন ওটা ঝাড়ছেন। তখন এই চিবোনো কাপড় নিয়ে বড়মামার সঙ্গে ধুম লেগে যাবে। মাসিমাকে হুকুম হবে, ‘আজই খরগোশের রোস্ট বানা।’

    রাত ১১টা নাগাদ বড়মামা বললেন,—’চল এবার শোয়া যাক।’ আমি একটা শোফার উপর ঘুমিয়েই পড়েছিলুম। ধড়মড় করে উঠে বসলুম। ঘুম চোখেই সিঁড়ি ভেঙ্গে ভেঙ্গে তিন তলায় উঠে এলুম। পিছন পিছন লাকি। বড়মামার হাতে পাঁচ সেলের একটা টর্চ। বড়মামার ঘরটা বেশ বড়ই। বিশাল একটা খাট। খাটের তলায় ডাবের গোডাউন। চারিদিকে বড় বড় জানালা। দুটো জানালা ছাদের দিকে। সারা ছাদ চাঁদের আলোয় ফুটফুট করছে। পিন পড়লে খুঁজে নেওয়া যায়।

    ছাদের দিকের জানালা দুটো বন্ধ করে দিলেন।—’বন্ধ করছেন?’

    —’তোর তো আবার সর্দির ধাত।’ বড়মামার উত্তরে অবাক হয়ে গেলুম, —’কে বললে আমার সর্দির ধাত।’ বড়মামা বললেন,—’আমি জানি। জানিস আমি ডাক্তার।’

    —’তা জানি, কিন্তু আমার সর্দিকাশি বহু বছর হয়নি।’ আমি একটু প্রতিবাদ করে ফেললুম। বড়মামা বললেন,—’দেখি তোর নখ।’ অবাক হয়ে হাতের দশটা আঙুল টর্চের আলোর তলায় মেলে ধরলুম। —’এই দেখ’, ‘বড়মামা দেখালেন,—’দেখছিস নখের উপর সাদা ফুল। ক্যালসিয়ামের অভাব। সর্দি তোর হবেই, হতে বাধ্য। দাঁড়া, আমার গরুর দুধ হোক। দুই খাইয়ে তোর সর্দি সরিয়ে দেব।’

    বিছানার উপর কেমন চাঁদের আলো লুটিয়ে পড়ছিল। জানালা বন্ধ করে বড়মামা চাঁদের আলো আসার পথ বন্ধ করে দিলেন। —’কেমন চাঁদের আলো আসছিল সমুদ্রের জলের মতো,’ আমি খুঁতখুঁত করে উঠলুম। —’চাঁদের আলো!’ বড়মামা চমকে উঠলেন,—’চাঁদের আলো বেশি গায়ে লাগালে চর্মরোগ হয়।’ তর্ক না করে শুয়ে পড়লুম। পাতলা মশারি নেমে এল। দুটো বালিশের মাঝখানে টর্চলাইট। লাকি চলে গেল ঘরের কোণে তার নিজের জায়গায়।

    বড়মামার হাই উঠলো। —ঘুমোলি নাকি?—না।—ভূতের ভয় আছে! গা-টা একটু ছম ছম করে উঠলো। —ভয় নেই, আমি আছি, টর্চ আছে। —ভূত আছে নাকি? ভয়ে ভয়ে জিগ্যেস করলুম। ‘থাকতে পারে, তাই তো ছাদের দিকের জানালা দুটো বন্ধ করে দিলুম।’ বড়মামার আর একটা হাই উঠলো। —’আজ তুই পাশে আছিস, ভূত এলে দু’জনে লড়ব। অন্যদিনে একলা থাকি তো, একটু ভয় ভয় করে। স্লিপিং ট্যাবলেট খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ি। আজ আর খাইনি।’

    বড়মামার কথায় ঘুম চমকে গেল। টর্চটা একবার হাত দিয়ে দেখে নিলুম। ভূত তাড়াবার দাওয়াই। আমার ঘুম আসার আগেই, বড়মামার নাক ডাকা শুরু হয়ে গেল। বেশ মিঠে ডাক। ফুড়ুত, ফুড়ুত, ফুড়, ফুড়, ফুড়ুত। কখন ঘুমিয়ে পড়েছিলুম নিজেই জানি না। হঠাৎ কোঁক করে ঘুম ভেঙ্গে গেল। বুকের উপর দুম করে একটা কি পড়ল! ভয়ে ভয়ে হাত দিলুম। বড় বড় লোম। কি এটা! ভয়ে প্রায় আধমরা হয়ে যাবার জোগাড়। শেষে আবিষ্কার করলুম বড়মামার হাত। হাতটাই দমাস করে বুকে পড়েছে। হাতটা আস্তে আস্তে সরিয়ে দিলুম। একবার ঘুম ভেঙে গেলে ঘুম কি আর আসতে চায়! ছাদে যেন একটা খড় খড় আওয়াজ হল। ক’টা বাজল কে জানে! চোখ চেয়ে চিৎ হয়ে শুয়ে আছি। হঠাৎ বড়মামার হাতটা উপরে উঠলো, এইবার পড়ছে, পড়ছে, উরে বাবা, আমার বুকের দিকে নেমে আসছে, তাড়াতাড়ি পাশ ফিরে খাটের সীমানায় সরে গেলুম। হাতটা দুম করে পাশে পড়ল। এক চুলের জন্যে বেঁচে গেলুম। এরপরই দুম করে বড়মামা একটা পা ছুঁড়লেন। নেহাৎ সীমানার বাইরে ছিলুম। তা না হলে ফুটবল হয়ে যেতুম।

    আড়ষ্ট হয়ে, সেই খাটের সীমানায়, বড়মামার হাত আর পায়ের ধাক্কা থেকে নিজেকে কোনোরকমে বাঁচিয়ে আবার কখন এক সময় ঘুমিয়ে পড়েছিলুম। স্বপ্ন দেখছি, আমি যেন ছোটনাগপুরের কোনও এক প্রান্তরে অজস্র টিলার উপর শুয়ে আছি। সবটাই অসমতল, ভীষণ লাগছে। মাঝে মাঝে ছুরির ফলার মতো কি যেন ঘাড়ের কাছের নরম জায়গায় খোঁচা মারছে। ঘুম ভেঙে গেল। এ কি! আমি কোথায় শুয়ে আছি। মাথা উঁচু করতে গেলুম। উঃ! মাথা ঠুকে গেল। ঘরের ছাদটা মাথার এত কাছে নেমে এল কি করে। অন্ধকারে চোখ সয়ে এলো। আমি পড়ে আছি খাটের তলায়। ডাবের গাদার উপর। নারকেল পাতার খোঁচা লাগছে ঘাড়ের কাছে। বড়মামার বিশাল একটা পা মশারি ভেদ করে খাটের পাশে ঝুলছে। মানে, বেশ মোক্ষম লাথিই আমাকে খাট থেকে ডাবের গাদায় ফেলে দিয়েছে।

    খাটে ওঠার আর চেষ্টা করলুম না। বড় বিপজ্জনক জায়গা। বড়মামার দুটো হাত আর পা’র মহড়া নেবার মতো শক্তি আমার নেই। তার চেয়ে কেরালার ডাবের উপর শুয়ে থাকাই ভালো। একটু অসমতল। তা আর কী করা যাবে। ভোর হতে আর কতই বা দেরী। বেশ আরামেই ঘুমিয়ে পড়লুম আবার। মাথার উপর খাটের ছাদে বড়মামা সারা রাত অদৃশ্য শত্রুর সঙ্গে প্রচণ্ড যুদ্ধ করে ভীষণ ক্লান্ত হয়ে সকাল সাতটায় ঘুম থেকে উঠলেন! আমি তখন ছাদে হাওয়া খাচ্ছি।

    হাতের নস্যির ডিবে থেকে এক টিপ নস্যি নিতে নিতে হাসি হাসি মুখে জিগ্যেস করলেন,—’কেমন ঘুমোলি বল, ফাসক্লাস’ লাকি বেড়ে লেজটা দু’বার নাচিয়ে দিল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleশিউলি – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    Next Article ২৫টি দমফাটা হাসি – সম্পাদনা : সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    Related Articles

    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    গুহা – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    হর-পার্বতী সংবাদ – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    সাজাহানের জতুগৃহ – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    শ্রীকৃষ্ণের শেষ কটা দিন – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    মনুষ্যক্লেশ নিবারণী সমিতি – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    মধুর এক প্রেমকাহিনি – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }