Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মামা সমগ্র – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় এক পাতা গল্প1007 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    লঙ্গরখানা

    বড়মামা খেতে খেতে বললেন, ‘আমি একটা গাধা।’

    মেজোমামার বাঁ হাতে একটা বই, ডান হাতে ঝোলে ডোবান রুটির টুকরো। এইটাই তাঁর অভ্যাস। সামান্য সময়ও নষ্ট করা চলবে না। অগাধ জ্ঞান-সমুদ্র, আয়ু অল্প বহু বিঘ্ন। সব সময় পড়ে যাও। সকালের কাগজ বাথরুমে বসে বসেই পড়েন। এখন যে বইটা খাওয়ার ফাঁকে ফাঁকে পড়ছেন, সেটা কাক সম্বন্ধে। কাকের স্বভাব, কাকের সমাজ, কাকের নিয়মনিষ্ঠা। পড়তে পড়তেই বললেন।

    ‘কি করে বুঝলে? তোমার কান দুটো অবশ্য একটু বড়ই ঝোলা ঝোলা, সাধারণ মানুষের কান অত বড় হয় না। প্রকৃতির ব্যাপার। বোঝা শক্ত। কে যে কি ভাবে জন্মায়। চীনে মেয়েদের শিং বেরোচ্ছে। কলকাতায় ছেলেদের ন্যাজ বেরোচ্ছে।’

    রুটির টুকরোটা মুখে ঢোকালেন। কোলের ওপর এক ফোঁটা ঝোল পড়ল। আগেও দু-এক ফোঁটা পড়েছে। দৃকপাত নেই। জ্ঞান-তপস্বী।

    বড়মামা বললেন, ‘স্কুলে অনেকবার আমাকে গাধা প্রমাণ করার চেষ্টা হয়েছিল। মানতে রাজী হইনি। তখন বোকা ছিলুম, গাধা ছিলুম না। এখন বোকাগাধা। ও সব কানটান নয়, এ আমার স্বীকারোক্তি। আত্মসমীক্ষার ফল।’

    মেজোমামা বই থেকে চোখ না তুলেই বললেন, ‘আমি দর্শনের ছাত্র, তর্কশাস্ত্র পড়েছি, অত সহজে মানতে পারব না। তুমি প্রমাণ কর। ডেকে দেখাও। গাধা চেনা যায় ডাক দেখে।’

    ‘আমি চিনেছি গরু দেখে।’

    ‘গরু দেখে গাধা চেনা! অবশ্য দুটো জন্তুরই চারটে পা। চতুষ্পদ। তা হলেও মুখে মেলে না স্বভাবেও মেলে না। তোমার সিদ্ধান্ত ধোপে টিকল না। ধোপে টিকলে তুমি এতক্ষণে এই খাবার টেবিলে না থেকে ধোপার আস্তাবলে বাঁধা থাকতে। খাচ্ছ খেয়ে যাও। তর্কে এস না, হেরে যাবে।’

    বড়মামা মাংসর হাড় চুষতে চুষতে বললেন, ‘তুই একটা গাধা। দার্শনিক গাধা।’

    মেজোমামা বইটা কোলের ওপর উপুড় করে রেখে বললেন, ‘তুমি একটা ডাক্তার গাধা।’ মাসিমা ফ্রিজ থেকে পুডিং বের করতে করতে বললেন, ‘হ্যাঁ, এইবার গাধা গাধা করতে করতে হাতাহাতি হোক। খাওয়া মাথায় উঠুক।’

    বড়মামা বললেন, ‘তুই দেখ কুসি, কি রকম আনসিভিলাইজড। আমি যখন বলছি, আমি গাধা, তখন নিশ্চয় কারণ আছে। সেটুকু মেনে নেবার উদারতা পর্যন্ত নেই। উনি দার্শনিক। ঘোড়ার ডিমের দার্শনিক।’

    মাসিমা টেবিলে পুডিং-এর ডিশ সাজাতে সাজাতে বললেন, ‘মেজদা, তোমারও ভীষণ একগুঁয়ে স্বভাব। তোমার এই সামান্য কথাটা মানতে কি হয়? মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যায়?’

    ‘কি করে মানব তুই বল কুসি। আমার তো স্মৃতিশক্তি এখনও তেমন দুর্বল হয়ে যায়নি। এই তিন দিন আগে, এই টেবিলে বসেই উনি বললেন, আমি ভগবান। লজিক কি বলে? গাধাই ভগবান, ভগবানই গাধা। আমি ভগবান না মানলেও হিন্দুর ছেলে। আমার একটা সংস্কার আছে। গর্দভকে আমি ভগবান বলতে পারব না।’

    মাসিমা খুব রেগে গেলেন। ‘ওই লজিকেই তোমাকে মেরেছে মেজদা, যেমন ডাক্তারি মেরেছে বড়দাকে। দু’জনকেই আর বিয়ে করতে হল না।’

    বড়মামা বললেন, ‘একেই বলে মেয়েছেলে! গাধা থেকে বিয়েতে চলে গেলি?’

    মেজোমামা সঙ্গে সঙ্গে বড়মামার সঙ্গে একমত হয়ে গেলেন, ‘ঠিক বলেছ বড়দা, ওটা একটা রিয়েল গাধা।’

    মাসিমা বললেন, ‘হ্যাঁ রিয়েল গাধা না হলে তোমাদের ভার বহন করবে কে? সকালে কাপের পর কাপ চা, কারুর নরম টোস্ট, কারুর কড়া, কারুর ডিমের ওমলেট, কারুর পোচ, জল গরম, ত্রিফলা, পাঁচন, ইসবগুল, কারুর স্টু। যত রকমের ফ্যাচাং, কে সহ্য করবে। হাড়ে দুব্বো গজিয়ে গেল। কে গাধা, কে গাধা নয়, এ তর্ক এখন থাক। দয়া করে খাওয়া সেরে উঠে পড়। অনেক রাত হল। পাড়া নিশুতি হয়ে এসেছে।’

    মেজোমামা বললেন, ‘আমি এখুনি উঠে পড়ছি, যারা ভগবানকে গাধা বলে, গাধাকে ভগবান, তাদের আমি ঘৃণা করি। আই হেট দেম।’

    বড়মামা চামচে দিয়ে পুডিং-এর মাথা থেকে লাল চেরিটা খসিয়ে নিয়ে বললেন, ‘একে বলে গায়ে পড়ে ঝগড়া। অবশ্য ছেলে ঠেঙিয়ে প্রফেসারদের স্বভাবটাই মিনমিনে হয়ে যায়। পাঁচিলের ওপর হুলো বেড়ালের মতো। মিঁআও মিঁআও। চলাও চলাও, ঝগড়া করি চাঁদের আলোয়।’

    মেজোমামা তড়াক করে চেয়ার ছেড়ে লাফিয়ে উঠলেন। কোলের বইটা পায়ের কাছে পড়ে গেল। মাসিমা মেজোমামার হাতটা চেপে ধরলেন, ‘কি ছেলেমানুষী হচ্ছে মেজদা?’

    ‘ছেলেমানুষি! আমাকে হুলো বলবে, আমি বসে বসে সহ্য করব! ডাক্তারদের মারার লাইসেনস আছে জানি, যা তা বলার পারমিট আছে কি?’

    ‘মেজদা, তুমি দয়া করে বড়দাকে গাধা বলে মেনে নিলেই তো লেঠা চুকে যায়। সেদিন ভগবান বলে মানতে পারলে, আর আজ গাধা বলে মেনে নিলে তোমার মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যাবে। যাঁহা রাম তাঁহা কৃষ্ণ।’

    ‘সেদিনও মানিনি আজও মানব না।’

    বড়মামা খুব শান্ত গলায় বললেন, ‘বোস, বোস। অশান্তি করিসনি। স্বভাবটা পালটা। পুডিংটা খেয়ে দেখ। কুসিটা দারুণ বানিয়েছে। তোর ওই ভুঁড়ি আরও এক বিঘত বেড়ে যাবে।’

    মেজোমামা আবার চেয়ারে বসে পড়লেন। আমি তো জানি, পুডিং মেজোমামার ভীষণ প্রিয় জিনিস। রাগ করে ছেড়ে চলে গেলে রাতে নানারকম দর্শনেই বই পড়ায় মন বসবে না। আমাকে একদিন বলেছিলেন, খাব না তো খাব না, খেতে বসে আধাখ্যাঁচড়া খাওয়া হলে মেজাজটা খিঁচড়ে যায়। জানবি মুড়ি আর ভুঁড়ে কানেকটেড। দুটোর মধ্যে ভীষণ যোগ।

    বড়মামা বেশি আদর মাখানো গলায় বললেন, ‘এবার প্লেটটা কোলের কাছে লক্ষ্মীছেলের মতো টেনে নাও। লজ্জা কোরো না। জানই তো আর একবার সাধিলেই খাইব।’

    মেজোমামা আবার চেয়ার ছেড়ে উঠে পড়লেন, ‘ইমপসিবল। ইনসালট। ব্রুট্যাল অ্যাসলট।’

    মাসিমা বললেন, ‘এবার থেকে তোমরা দুজনে একসঙ্গে খেতে বসবে না। নেভার।’

    বড়মামা বললেন, ‘তুই অত সহজে খেপে যাস কেন? তর্কে রেগে গেলেই হার। পরাজয়। বোস, বোস। অবশ্য এটাও তোর একটা টেকনিক। ওঠ বোস করে খিদে বাড়ানো।’

    মেজোমামা বসতে গিয়েও আবার উঠে পড়লেন। বড়মামার পায়ের কাছে যেন একটা স্প্রিং আছে। এক একবার একটু করে চাপ দিচ্ছেন আর মেজোমামা উঠে পড়ছেন।

    মাসিমা খুব রেগেমেগে বললেন, ‘কি হচ্ছে কি বড়দা? তোমার রসিকতা থামাবে, না আমরা উঠে যাব? মেজদা তুমি না দার্শনিক? কোনও কথায় কান না দিয়ে খেয়ে উঠে যেতে পারছ না?’

    বড়মামা বললেন, ‘শুরুতেই বলেছি, আমি একটা গাধা। গাধা না হলে প্রফেসারের সঙ্গে কেউ এক টেবিলে খেতে বসে?’

    ‘আবার শুরু করলে। তখন থেকে কেন গাধা গাধা করছ। আচ্ছা গাধায় পেয়েছে তো।’ মেজোমামা সিলিংয়ের দিকে তাকিয়ে বাঁ হাতটা একবার করে মুঠো করছেন আবার খুলছেন। চেয়ারে বসতে সম্মানে লাগছে। মাসিমা মেজোমামাকেও এক ধমক লাগালেন—

    ‘তোমার ছেলেমানুষী দেখলে রাগ ধরে মেজদা। জানই তো বড়দার পেছনে লাগা স্বভাব! তুমি যতই লাফাচ্ছ উনি ততই তোমাকে উসকে দিয়ে মজা পাচ্ছেন।’

    মেজোমামা মুখ গোঁজ করে চেয়ারে বসে পড়লেন। চামচে দিয়ে রাগমাগ করে ইয়া বড় এক খাবলা পুডিং তুলে মুখে পুরলেন।

    বড়মামা বললেন, ‘আমি গাধা, তার প্রমাণ আমার গরু। আমার মতো গাধা না হলে কেউ ওরকম তিনটে গরু পোষে না। তোরাই বল, ওই গরু তিনটে আজ পর্যন্ত ক’ছটাক দুধ দিয়েছে!’

    মাসিমা যেন বেশ খুশিই হলেন, ‘ঠিক বলেছ বড়দা। গরু দিয়েই প্রমাণ করা যায় তুমি একটা গাধা।’

    মেজোমামা সব সময় বাঁকা পথ ধরেন। প্রতিবাদ করার জন্যে মুখিয়ে আছেন। বড়মামা বলেন, ‘প্রোটেসটান্ট। মেজোমামার উচিত ছিল চুপ করে শুনে যাওয়া। তা আর হল কই। হঠাৎ বলে বসলেন, ‘কেন? ওয়ানস আপন এ টাইম তোমার কালো গরুটা হঠাৎ দিন তিনেক দুধ দিয়ে ফেলেছিল। তুমি সেই দুধ দেখে কলতলায় রবারের জুতো পায়ে দিয়ে নাচতে নাচতে পিছলে পড়ে গিয়েছিলে। একদিন গরুর আনারে সত্যনারায়ণ পুজো হয়েছিল। তুমি বলেছিলে সিন্নি খেয়ে সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে, দুধে এতই নাকি ফ্যাট। একদিন মেজারিং গ্লাসে করে প্রত্যেককে এক আউনস করে দুধ খাইয়েছিলে। সেই খাঁটি দুধ খেয়ে আমাদের সব পেট খারাপ হয়ে গেল। গরুর ভাষা নেই। প্রতিবাদ করতে জানে না বলে যা খুশি তাই বলে যাবে?’

    ‘হ্যাঁ দিয়েছিল ঠিকই। তারপর আর দিয়েছে কি?’

    ‘কেন দেয়নি?’

    ‘তোর মতো একগুঁয়ে স্বভাব বলে দেয়নি। দিতে পারি তবু দোব না। কি করতে পার কর।’ মেজোমামা এবার সশব্দে চেয়ার ঠেলে উঠে পড়লেন।

    ‘আমি আর তোমার ভুঁসো কালো গরু এক শ্রেণীতে পড়ল। অসম্ভব! আর সহ্য করা যায় না।’ মেজোমামা বিদ্যাসাগরী চটির ফটাস ফটাস শব্দ তুলে ঘর ছেড়ে চলে গেলেন। খুব রেগে গেছেন। যাক বাবা, পুডিংটা শেষ করে গেছেন।

    মাসিমা বললেন, ‘তোমার বড়দা ভীষণ পেছনে লাগা স্বভাব!’

    বড়মামা হি হি করে হেসে বললেন, ‘ফায়ার হয়ে গেছে। ভেতরে গড়ড় গড়ড় শব্দ হচ্ছে।’

    ‘গরুর সঙ্গে তুলনা না করলেই পারতে।’

    ‘গাধার ভাই গরুই হয়। আমাদের ভায়ে ভায়ে হচ্ছে তুই এর মধ্যে নাক গলাতে আসিসনি। থার্ড পার্সন সিঙ্গুলার নাম্বার।’

    ‘ও, আমি হলুম থার্ড পার্সন? ঠিক আছে।’ মাসিমাও রাগ করে উঠে গেলেন।

    বড়মামা আমাকে বললেন, ‘এদের আজ কি হয়েছে বল তো। কথায় কথায় রেগে যাচ্ছে। সব কটা ব্লাডপ্রেসারের রুগী। আমার যেমন বরাত। গরু তিনটেরও প্রেসার। তোর জানা আছে গরুর প্রেসার কোন পায়ে মাপে? মানুষের প্রেসার মাপি বাঁ হাতে। গরুর তো চারটেই পা। হাতের বালাই নেই।’

    বড়মামা ভীষণ ভাবনায় পড়লেন। ব্যাপারটা ডাক্তারির দিকে চলে গেল। আমি বললুম, ‘বোধহয় নেজে মাপে।’

    কথাটা পছন্দ হল না, ‘ধুর, নেজ আবার একটা জিনিস! দড়ির মতো ঝোলে। নেজে কিস্যু নেই। ওটা একটা আব্রু। ওই যেখান দিয়ে গোবর বেরোয় সেটাকে ঢেকে রাখে। নেজ নয়, বুঝলি! দেখি, পশু-চিকিৎসার বই ঘেঁটে দেখতে হবে।’

    বড়মামা হঠাৎ চিৎকার শুরু করলেন, ‘কুসি, কুসি।’

    মাসিমা ঘরের বাইরে খুটুস খুটুস করেছিলেন।

    ‘কি হল? চেঁচাচ্ছ কেন।’

    ‘বাঃ চেঁচাব না। আর কিছু দিবি না?’

    ‘আবার কি দোব? পুডিং-এর পর আর বাকি থাকে কি? দি এণ্ড।’

    ‘সে কি রে! ফ্রুটস-ট্রুটস দিবি না।’

    ‘না, দয়া করে উঠে পড় টেবিলটা পরিষ্কার করে নিক।’

    রাতে খাওয়া-দাওয়ার পর আমার চোখ ঘুমে জুড়ে আসে। ধপাস করে শুয়ে পড়তে পারলে আর কিছুই চাই না। আজও সেই তালেই ছিলুম। পরিষ্কার বিছানা। নরম মাথার বালিস, কোল বালিস। মৃদু পাখার বাতাস। জানালার বাইরে সাদা ফুলে ফুটফুটে কামিনী গাছ। থমথম করছে মিষ্টি গন্ধ। কোণের দিকে বড়মামার আরাম-কেদারার কাছে তে-ঠ্যাঙা বড় টেবিলে ল্যাম্পের মাথার ওপর হালকা সবুজ রঙের শেড স্বপ্নের মতো আলো ছড়িয়ে রেখেছে। ঘুম আয়, ঘুম আয় বলতে হয় না, ঘুম যেন ভেসে ভেসে বেড়াচ্ছে।

    বিছানায় পা দুটো তুলে সব শুতে যাচ্ছি, বড়মামা ‘হাঁ হাঁ’ করে উঠলেন।

    ‘খেয়েই সোয়া কি? ভেরি ব্যাড হ্যাবিট। হজম হবে না, ডিসপেপসিয়া ধরবে। চাঁদ উঠেছে। চলো ছাদে যাই। ঘণ্টাখানেক পায়চারি করে, পেট কমিয়ে, এক গেলাস জল খেয়ে, জল বিয়োগ করে তারপর বিছানা। নট নাও, নট নাও। উঠে এসো।’

    ব্যস ঘুমের বারোটা বেজে গেল। বড়মামার যখন স্বাস্থ্যের দিকে আজ নজর পড়েছে তখন আর বিছানা না ছেড়ে উপায় নেই।

    আজ অবশ্য ছাতটা বেশ সুন্দর দেখাচ্ছে। হু হু আকাশ। চাঁদের আলো যেন গানের মতো ছড়িয়ে আছে। ছোট ছোট তারারা আজ আর ফোটেনি। বড় বড় গ্রহরা এখানে ওখানে পড়তে বসে আমার ঘুম-রাঙা চোখের মতো ড্যাবড্যাব করছে।

    ছাদের এ-মাথা থেকে ও-মাথায় যেতে যেতে বড়মামা বললেন, ‘একটা ডেয়ারী হয়ে যেত।’

    ‘সে আবার কি?’

    ‘যত টাকা ওই বাঁদর গরু তিনটের পেছনে ঢেলেছি সেই টাকায় একটা ছোটখাটো ডেয়ারী হয়ে যেত।’

    ‘আজ বুঝি হিসেবে বসেছিলেন?’

    ‘হিসেবে কি রে? এরপর নগেন আমার গলায় গামছা দেবে। হাজার টাকা পাওনা। গত পাঁচ মাসে বাবুরা হাজার টাকার খড় খেয়েছেন। এর উপর ভুসি আছে, ছোলার চুনি আছে, ভেলিগুড় আছে, গোষুধ আছে, দুটো লোকের মাইনে আছে।’

    ‘গোষুধ কি বড়মামা!’

    ‘গরুর ওষুধ।’

    ছাতের ও-মাথায় তুলসীগাছের টব ছুঁয়ে আমরা এ-মাথার রজনীগন্ধার টবের কাছাকাছি এসে গেছি। বিশাল ছাত, তিরিশ পাকে এক মাইল তো হবেই।

    ‘ইয়ারকি পেয়ে গেছে। দুষ্ট গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল ভালো। ”দুর্জনং গরুনাং তথা শূন্য গোয়ালং শ্রেয়ঃ, পঞ্চতন্ত্রে আছে। কুঁক করে হাসছিস কেন?’

    ‘মানে সংস্কৃতটা কি রকম বায়োকেমিক বায়োকেমিক লাগছে।’

    ‘হ্যাঁ-হ্যাঁ, তুই আমার চেয়ে সংস্কৃত বেশি জানিস। ম্যাট্রিকে লেটার পাওয়া ছেলে আমি। ভাটপাড়ায় টোল না করে ডাক্তার হয়ে লাল জল, নীল জল করছি।’

    সংস্কৃত নিয়ে বেশি খোঁচাখুঁচি করার সাহস হল না। হঠাৎ যদি জিগ্যেস করে বসেন, ঠিকটা কি হবে তুই তা হলে বল। সংস্কৃত ছেড়ে গরুর দিকেই থাকা ভালো।

    ‘আপনি গরুগুলোকে তা হলে কী করবেন? ছেড়ে দেবেন?’

    ‘ছেড়ে দোব না, তবে গরু-গরু করে গাধার মতো আর নাচানাচি করব না। দুধের আশায়ও থাকব না। তোমরা থাক তোমাদের গোয়ালে, আমি থাকি আমার ঘরে। দুধ দিতে হয় দেবে, না দিতে হয় না দেবে। পয়সা থাকে কিনে খাব, না থাকে চা খাব। আমি কি ডরাই কভু ভিখারি গারবে।’

    বাবা! আজ একেবারে সংস্কৃতের ফোয়ারা ছুটছে। পটাস পটাস করতে করতে আবার তুলসী-গাছের টবের কাছে এসে পড়েছি। এবার তো শুয়ে পড়লেই হয়।

    ‘বড়মামা, সব তো হজম হয়ে গেল, এবার একটু বিশ্রাম করলে হয় না।’

    ‘খেপেছিস। এর মধ্যে শুবি কি-রে। একটা ফিউচার প্ল্যান তৈরি করতে হবে না?’

    ‘কিসের প্ল্যান?’

    ‘গরু ছেড়ে দিলুম। আর একটা কিছু ধরতে হবে তো।’

    ‘কেন। কুকুর রয়েছে গোটাছয়েক, পাখি রয়েছে খাঁচায় খাঁচায়, দুটো বেড়াল।’

    ‘ধ্যার। ওদের কি ধরব? বড় একটা কিছু ধরতে হবে। মহান, মহৎ, অসীম, অনন্ত।’

    ‘সে আবার কি?’

    ‘আমি একটা লঙ্গরখানা খুলব।’

    ‘লঙ্গরখানা?’

    ‘কিছুই জানিস না? রোজ হাঁড়ি হাঁড়ি খিচুড়ি তৈরি করে দুপুরবেলা দরিদ্র মানুষদের খাওয়াব। রাজা রাজেন মল্লিকের মতো। দাতব্য চিকিৎসালয় খুলে ফ্রী চিকিৎসা চালাব। একটু একটু করে আমার এই সমাজসেবা এমন চেহারা নেবে হেঁ হেঁ!’

    ‘হেঁ হেঁ মানে?’

    ‘হেঁ হেঁ মানে মাদার টেরেসা! তোর মেজোকে বলে আয় মনের জোর, ইচ্ছাশক্তি, তেজ আর ত্যাগ থাকলে নোবেল পুরস্কার পাওয়াটা এমন কিছু শক্ত কাজ নয়। শুধু পুডিং খেলেই হয় না, পুডিং খাওয়াতে হয়। আমি-আমি করলে নিজের ভুঁড়ি বাড়ে। তুমি-তুমি করলে আমিটা পেল্লায় বড় হয়ে বিশ্ব-আমি হয়। বিশ্বামি ভবেৎ।’

    ‘বিশ্বামি?’

    ‘হ্যাঁ, স্বরসন্ধি। অকারের পর অকার থাকিলে উভয় মিলিয়া দীর্ঘাকার হয়। এখুনি জিগ্যেস করবি দীর্ঘাকার কি? দীর্ঘ প্লাস আকার। এও স্বরসন্ধি।’

    ‘মেজোমামাকে এখুনি বলে আসব?’

    ‘শিওর! নাকের ডগায় রাসেল নিয়ে বসে আছে বার্ট্রান্ড বানান জানে না।’

    যাক বাবা! বড়মামার হাত থেকে ছাড়া পাওয়া গেছে। মেজোমামার ঘরে গিয়ে ঘুম লাগাই।

    সকালবেলা বড়মামাকে ঘরে পেলুম না। অথচ এই সময়ে ঘরে থাকারই কথা। লাল টকটকে সিল্কের লুঙ্গি? খোলা গা। পিঠের ওপর ইয়া মোটা সাদা পইতে। তাতে আবার একটা আঙটি বাঁধা। হাতের আঙুলে জায়গা নেই। আঙটি কোমরের কাছে ঝুলছে। চেয়ারে বাবু হয়ে বসা। ছটা কুকুর ঘরময় হ্যা হ্যা করছে। এক একটা পালা করে লাফিয়ে উঠে বড়মামার হাত থেকে বিস্কুট ছিনিয়ে নিচ্ছে। মনে মনে হিসেব করে এক একটা বদমাইশকে ধরে ফেলছেন, ‘উঁহু উঁহু, তোর দুটো হয়ে গেছে, এইবার ওইটার পালা।’ কে কার কথা শোনে। সব কটা এ ওর ঘাড়ে লাফাচ্ছে। মাঝে-মাঝে পইতেতে পা আটকে যাচ্ছে। বড়মামা ভীষণ বিরক্ত হয়ে বলছেন, ‘এইবার সব কটাকে দূর করে দেব। ইনডিসিপ্লিনড জানোয়ার।’ বলেই পইতের ঝোলা অংশ তুলে কপালে ঠেকাচ্ছেন। কোথায় সেই পরিচিত দৃশ্য! ঘরময় কুকুরের ছড়াছড়ি। প্রভু বেপাত্তা।

    দক্ষিণের জানালায় উঁকি মেরে দেখি বড়মামা আছেন। মুখের চেহারায় ভীষণ ভাবনা। কি হল কে জানে? হঠাৎ চোখাচোখি হতেই ইশারায় ডাকলেন। বাগানে নামতেই আমাকে বললেন—

    ‘বুঝলি, এইখানেই হবে।’

    ‘কি হবে বড়মামা? নারকোল গাছ?’

    ‘আরে না রে না। তোর কেবল খাবার চিন্তা।’

    ‘তবে?’

    ‘এইখানে হবে সেই লঙ্গরখানা। একপাশে বিশাল উনুন। আর একপাশে সারি সারি টেবিল আর ফোলডিং চেয়ার। এই কোণে কল আর জল। এইখানটায় একটা পেটা ঘড়ি। ঢ্যাং করে যেই একটা বাজবে, খাওয়া স্টার্ট। দুটোর মধ্যে যারা আসবে তারাই খেতে পারে। একটা থেকে দুটো। কড়া নিয়ম।’

    ‘টেবিল, চেয়ার?’

    ‘তবে না তো কি? দরিদ্রনারায়ণ সেবা। ভেজিটেবিল খিচুড়ি আর যে কোনও একটা ভাজা। সপ্তাহে একদিন চাটনি। চল, এইবার চট করে হিসেবটা করে ফেলি।’

    বড়মামা ঘরে ঢুকতেই কুকুরগুলো মুখিয়েছিল, সকালের বিস্কুট পায়নি। চারপাশ থেকে ছেঁকে ধরল। একটা পায়ের কাছে। একটা পেছনের দিকে লাফাচ্ছে। বড়মামা বললেন, ‘উঁ পাওনাদারদের জ্বালায় জীবন গেল।’

    বিস্কুট পর্ব শেষ হতে না হতেই মাসিমা চা নিয়ে ঘরে ঢুকলেন। সব কটা কুকুরকে এক জায়গায় দেখে বললেন, ‘পয়সার কি জ্বালা! কত মানুষ না খেয়ে জীবন কাটাচ্ছে আর কারুর আধডজন কুকুর রোজ এক কেজি হরলিকস বিস্কুট দিয়ে ব্রেকফাস্ট করছে। উৎপাতের ধন এইভাবেই চিৎপাতে যায়!’

    ‘ঠিক বলেছিস কুসি।’

    বড়মামার সমর্থন শুনে মাসিমা ভীষণ অবাক হলেন, ‘অ্যাঁ ভূতের মুখে রামনাম!’

    বড়মামা চায়ে চুমুক দিয়ে বললেন, ‘একেবারে অন্য রাস্তায় যাত্রা। কমপ্লিট বিবেকানন্দ। জীবে দয়া করে যেই জন সেইজন সেবিছে ঈশ্বর! প্রথমে পঁচিশজন দিয়ে শুরু, ধীরে ধীরে একশো, দুশো, তিনশো, পাঁচশো, হাজার।’

    মাসিমা চোখ কপালে তুলে বললেন, ‘হাজার কুকুর। অত কুকুর পাবে কোথায়?’

    ‘গবেট! কুকুর নয়, কুকুর নয়, মানুষ। দরিদ্রনারায়ণ সেবা।’

    ‘সে আবার কি। বারোয়ারী পূজো প্যাণ্ডেলে ফি বছর একদিন নারায়ণ সেবা হয়। তুমি তার প্রেসিডেন্ট হলে নাকি?’

    ‘আজ্ঞে না স্যার। এ হবে সুধাংশু মুখোপাধ্যায়ের ফ্রী কিচেন, জাস্ট লাইক রাজা রাজেন মল্লিক অফ মার্বেল প্যালেস। আজই নগেনকে ডেকে বাগানে একটা আটচালা তৈরির হুকুম দিচ্ছি। কালই খগেন এসে উনুন করে দেবে। পরশু আসবে চাল, ডাল, আলু, নুন, তেল, মশলা, তেজপাতা, তরশু বেলা একটা। দেখবি সে কি কাণ্ড। গরমাগরম খিচুড়ি খেয়ে লোক দু হাত তুলে আর্শীবাদ করতে করতে চলেছে—লং লিভ রাজা, সরি, ডাক্তার সুধাংশু মুকুজ্যে!’

    ‘সর্বনাশ!’

    ‘সর্বনাশ কি রে! বিবেকানন্দ বলে গেছেন, জন্মেছিস যখন দেয়ালের গায়ে একটা আঁচড় রেখে যা। তুই হবি এই নারায়ণ-যজ্ঞের সুপারভাইজার। এক সেকেন্ড বস তো। তোর পরামর্শে হিসেবটা সেরে নি। ধর পঁচিশ জন।’

    মাসিমা ধপাস করে চেয়ারে বসে পড়লেন।

    ‘তুমি দেউলে হয়ে যাবে বড়দা? তুমি নিজে মরবে আমাদেরও মারবে।’

    ‘আমি মরি মরব। জন্মিলে মরিতে হবে। তোরা মরবি কেন, বালাই ষাট। নে বল, পঁচিশজনে ডেলি কত চাল খেতে পারে? পেট ভরে খাবে, হাফভরা নয় ফুলভরা!’

    মাসিমা বললেন, ‘পঁচিশ কেজি।’

    বড়মামা অবাক হয়ে বললেন, ‘নার্ভাস করে দিচ্ছিস। বল পঁচিশ পো, মিনস ওই ছ’সের। মিনস ব্ল্যাকে কিনলে আঠারো টাকা। এইবার ডাল। ছ’সের চালে কত ডাল লাগে রে? ফর্মুলাটা কি।’

    ‘চালের ডবল ডাল।’

    ‘ভাগ, ভাঙচি দিচ্ছিস, হাফ ডাল হাফ মিনস তিন কেজি, পনেরো টাকা। আঠারো প্লাস পনেরো ইজিকলুট তেত্রিশ। ইত্যাদি আরও সাত, মানে চল্লিশ। কয়লা, রান্না ইত্যাদি দশ। রোজ পঞ্চাশ টাকা, নাথিং, নাথিং। চল ভাগনে লেগে পড়ি।’

    বড়মামা সে কী উৎসাহ! তড়াৎ করে চেয়ার ছেড়ে লাফিয়ে উঠলেন।

    মাসিমা বললেন, ‘ভাগনে কি ভাবে লেগে পড়বে?’

    ‘যে ভাবে লাগাবে সেই ভাবে লাগবে। ওর মতো ছেলে লাখে একটা মেলে কিনা সন্দেহ।’

    ‘সে তো বুঝলুম, কিন্তু তোমার এই রাজসূয় যজ্ঞে একি ঘোড়া ধরতে বেরোবে!’

    ‘আমাদের এখন কত কাজ জানিস! আটচালা তৈরি, রাঁধবার লোক ঠিক করা। উনুন বসান। চাল ডাল কেনা। তারপর প্রচার।’

    ‘প্রচার মানে?’

    ‘প্রচার মানে?’ বড়মামা রেগে গেলেন। ‘প্রচার মানে প্রচার। লোকে জানবে কি করে? না জানতে পারলে লোক আসবে কি করে।’

    ‘অ। তা সেটা কি ভাবে হবে? কাগজে বিজ্ঞাপন, বিবিধ ভারতী, দেয়ালে পোস্টার, মাইক নিয়ে পাড়ায় পাড়ায় ঘোরা, সিনেমায় স্লাইড। কোনটা।’

    ‘ভ্যাক। ওর কোনওটাতেই কাজ হবে না। দুঃস্থ মানুষ যারা পড়তে জানে না, যাদের পয়সা নেই সিনেমা দেখে না, তারে অন্যভাবে জানাতে হবে। ভোটার লিস্ট তৈরির মতো পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে ঘুরে প্রকৃত গরিব মানুষ খুঁজে বের করে হাত জোড় করে সবিনয়ে বৈষ্ণবদের মতো বলতে হবে—দয়া করে এই অধমের গরীবখানায় প্রসাদ গ্রহণ করিবেন।’

    মাসিমা বললেন, ‘ডাক্তারি তা হলে মাথায় উঠল!’

    ‘যে রাঁধে সে কি চুল বাঁধে না, ইডিয়েট। যা, আর এক কাপ চা করে আন। বেরিয়ে পড়ি। তোমাদের মতো আলস্য যোগে জীবন ম্যাসাকার হতে দোব না। কর্মযোগ, কর্মযোগ। যোগ কর্মসু কৌশলম। গীতায় শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে বলেছিলেন। গীতা পড়েছিস গবেট!’ মাসিমা ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন।

    বড়মামা প্যান্ট জামা পরে তৈরি হবার জন্যে পর্দার আড়ালে অদৃশ্য হলেন।

    মাসিমা ঠক করে চায়ের কাপ টেবিলে রাখলেন। বড়মামা চমকে মুখ তুলে তাকালেন। কাগজে দক্ষিণ পাড়ার ম্যাপ আঁকছিলেন। যে যে রাস্তা ধরে আমরা যাব তারই পরিকল্পনা। ‘খুব রেগে গেছিস মনে হচ্ছে।’

    ‘রাগলে তোমার আর কি? তুমি কার পরোয়া কর? তবে তোমার এই সব ব্যাপার মেজদা জানে?’

    ‘হু ইজ মেজদা! তার দর্শনে জীবে দয়া নেই জিভে দয়া আছে। ভগবান একটা না দুটো, না শূন্য, ভগবান আমি না আমিই ভগবান, তিনি সাকার না নিরাকার, এই গোলকধাঁধাতেই বেচারা সারা জীবন বোকার মতো ঘুরতে ঘুরতে ম্যাড হয়ে গেল। তুই যা, তুই যা, আমাদের এখন অনেক কাজ। মেয়েদের সঙ্গে বকবক করার সময় নেই।’

    মাসিমা বেশ বিরক্ত হয়ে চলে গেলেন। আমি বললুম, ‘বড়মামা হাওয়া খুব সুবিধের মনে হচ্ছে না।’

    ‘রাখ রাখ, ঝোড়ো হাওয়াতেই আমাদের নিশান উড়বে পত পত করে।’

    মোটরসাইকেলে উঠতে উঠতে বড়মামা বললেন, ‘প্রথমে একবার চক্কর মেরে যাই। তুই শুধু চোখ-কান সজাগ রেখে দেখে যাবি। যেই মনে হবে এই লোক সেই লোক, সঙ্গে সঙ্গে আমার পিঠে খোঁচা দিবি। গাড়ি থামিয়ে তাকে যা বলার আমি বলব।’

    বড়মামার মোটরসাইকেল, তার যেমন রঙ তেমন আওয়াজ। কানে তালা লেগে যাবার মতো অবস্থা। শক্ত করে ধরে বসে আছি। পকেটে সেই ম্যাপ। বীরেন শাসমল রোড দিয়ে ঢুকে, রাম চ্যাটার্জী রোডে পড়ে, শরৎচন্দ্র স্ট্রীট হয়ে, কালু শেখ রোড ধরে বিরাট একটা চক্কর মারা হবে। জাতি বর্ণ নির্বিশেষে সকলেই বড়মামার অন্যসূত্রে আসতে পারবে। বড় বড় হরফে দরমার গায়ে লেখা থাকবে, শক, হূণ, দল মোগল পাঠান এক দেহে হল লীন।

    সবে সকাল হয়েছে। রাস্তায় বেশ লোক চলাচল। সকলেই যে যার কাজে চলেছেন। কেউ বাজারে। কেউ স্কুলে ছেড়ে মেয়ে পৌঁছতে। কেউ অফিসে। চারপাশের দোকানপাট খুলে গেছে। জমজমাট ব্যাপার। সাইকেলের সামনে কাগজ ডাঁই করে হকার চলেছেন বাড়ি বাড়ি কাগজ দিতে। চোখে এমন একজনও পড়ছে না যাকে মনে ধরে। বড়মামা বলে দিয়েছিলেন, দেখবি মুখে খোঁচা খোঁচা দাড়ি। জটপাকান চুল, তোবড়ান গাল, গর্তে বসা চোখ, শির বের করা হাত, সামনে কুঁজো হয়ে ধুঁকতে ধুঁকতে চলেছে, কিংবা উদাস হয়ে রকে কি গাছতলায় বসে আছে, বিড় বিড় করে আপন মনে বকছে, দখলে বুঝবি এই সেই লোক, দি ম্যান।

    অনেকক্ষণ ঘোরাঘুরির পর বড়মামা একটা বটগাছতলায় গাড়ি থামিয়ে বললেন।—

    ‘দেশের কি রকম উন্নতি হয়েছে দেখছিস! গরিবী হাটাও তো সত্যিই গরিব হাটাও, সবাই ওয়েল-টু-ডু ম্যান। একটা লোকও চোখে পড়ল না!’

    ‘বুধবার তা হলে পাল পাল ভিখিরি আসে কোথা থেকে?’

    ‘আরে দূর। বুধবার এ তল্লাটের মিল-ফিল বন্ধ থাকে, পালে পালে সব বেরিয়ে পড়ে উপরি রোজগারের ধান্দায়। ওরা কেউ রিয়েল ভিখিরি নয়।’

    ‘আমার কি মনে হয় জানেন?’

    ‘কি?’

    ‘আমরা যাদের খুঁজছি তারা কেউ উঠে হেঁটে আর বেড়াতে পারছে না। কোথাও না কোথাও ফ্ল্যাট হয়ে শুয়ে আছে।’

    ‘হতে পারে। কিন্তু কোথায় শুয়ে আছে?’

    ‘মনে হয় গঙ্গার ঘাটে, মোচ্ছবতলায়, শ্মশানে পাকুড়তলায় বাঁধান চাতালে।’

    বড়মামা খুব তারিফ করলেন, ‘মন্দ বলিস নি। উঠতেই যদি পারবে তাহলে তো খেটে খাবে। না খেতে পেয়ে সব লটকে পড়ে আছে। ঠিক বলেছিস। বড় হয়ে তুই ব্যারিস্টার হবি। চল, তা হলে মোচ্ছবতলাতেই আগে যাই।’

    বড়মামা নেচে নেচে মোটরসাইকেল স্টার্ট করলেন। ভুল, ভট-ভট শব্দে আকাশ ফেটে গেল। গাছের ডালপালা থেকে পাখি উড়ে পালাল ভয়ে। গঙ্গার দিকে রাস্তাটা যতই এগোচ্ছে ততই ঢালু হচ্ছে। ইঁটের গোলা, বাঁশের গোলা। খড়কাটা কল চলছে ঘস-ঘস করে।

    মোচ্ছবতলাতেই আমাদের প্রথম বউনি হল। একটি লোক উদাস মুখে বসে আছে। যেন জীবনের সব কাজ শেষ। হাত পা ছড়িয়ে বসে আছে। মুখে অল্প অল্প কাঁচাপাকা দাড়ি। কোটরে বসে ঘোলাটে চোখ শীর্ণ-শীর্ণ হাত পা। ভাঙা গাল। বকের মতো গলা।

    ‘বড়মামা-আ!’

    ‘দেখছি।’

    ‘সব মিলছে। তবে নাকে তিলক-সেবা করেছে।’

    ‘তা করুক। বৈষ্ণব, বুঝেছিস!’ বড়মামা গাড়ির স্টার্ট বন্ধ করে নেমে পড়লেন। এইবার কথাটা পাড়বেন। লোকটির কোনও ভ্রূক্ষেপ নেই। কে তো কে। জগতে কোনও কিছুর পরোয়া করে না। এই রকম একটা ভাব। বড়মামা প্রথমে গঙ্গাদর্শন করলেন। তারপর মোচ্ছবতলায় মাথা ঠেকিয়ে প্রণাম করলেন। এইবার কী করেন দেখি।

    লোকটির সামনে দাঁড়িয়ে বললেন, ‘নমস্কার হই।’

    লোকটি বললে, ‘জয় নিতাই।’

    বড়মামা বললেন, ‘জয় নিতাই।’

    লোকটি বললে, ‘দেশলাই আছে?’

    ‘দেশলাই তো নেই।’

    ‘সিগারেট আছে?’

    ‘সিগারেট তো খাই না।’ বড়মামা যেন খুব লজ্জা পেলেন।

    ‘জয় নেতাই। পঞ্চাশটা পয়সা হবে?’

    বড়মামার মুখের দিকে চেয়ে মনে হল আশায় আলো ফুটেছে। এতক্ষণে লোকটি এমন একটা জিনিস চেয়েছে যা বড়মামার কাছে আছে। পকেট থেকে একটা গোল টাকা বের করে লোকটির হাতে হাসি হাসি মুখে দিলেন।

    ‘জয় নেতাই। পঞ্চাশটা পয়সা আবার ফেরত দিতে হবে না কি?’

    ‘না না, পুরোটাই আপনার। এইবার একটা কথা বলব?’

    ‘কি কথা? কেউ মরেচে নাকি?’

    বড়মামা চমকে উঠলেন, ‘কেউ মরবে কেন?’

    আমার সঙ্গে লোকের কথা মানে তো কেউ মরেচে,—দুখী বোস্টুম চল হে কেত্তন গাইতে হবে।’

    ‘না না ওসব নয়, ওসব নয়, অন্য কথা। আপনি খেতে পারবেন!’

    ‘খেতে? কি খেতে? শ্রাদ্ধ?’

    ‘না না শ্রাদ্ধট্রাদ্ধ নয়। এমনি খাওয়া। রোজের খাওয়া। ভোগ আর কি!’

    ‘কোন আশ্রম? আমি চরণদাস বাবাজীর চেলা অন্য ঘরে নাম লেখাতে পারব না। ধম্মে সইবে না।’

    ‘আশ্রম নয়। আমার বাড়িতে।’

    ‘কার পাচিত্তির? কি অসুখ!’

    ‘পাচিত্তির মানে? ও বুঝেছি। প্রায়শ্চিত্ত। না না প্রায়শ্চিত্ত নয়। জাস্ট এমনি খাওয়া।’

    ‘বদলে কি করে দিতে হবে? বেড়া বাঁধা, ঘুঁটে দেওয়া, চেলা কাঠ কাটা, খড় কাটা!’

    ‘কিচ্ছু না, কিচ্ছু না, ও সব কিচ্ছু না। রোজ একটা নাগাদ যাবেন, খাবেন-দাবেন, চলে আসবেন।’

    ‘কি খাওয়া!’

    ‘খিচুড়ি, ভাজাটাজা এই আর কি।’

    ‘কি ডাল? মুসুল ডাল চলবে না। মুগ হওয়া চাই।’

    ‘তাই হবে।’

    ‘কি চাল? আলো না সেদ্ধ?’

    ‘ধরুন সেদ্ধ।’

    ‘হ্যাঁ, সেদ্ধই ভালো। আলোতে পেট ছেড়ে দেবে। ও বেধবাদেরই চলে। রেশানের কাঁই বিচি চাল, না বাজারের চাল?’

    ‘বাজারের, খোলা বাজারের ভালো চাল।’

    ‘ঘি পড়বে, না খসখসে খেসকুটে? খিচুড়িতে ঘি না পড়লে টেস্ট হয় না।’

    ‘হ্যাঁ, তা পড়বে।’

    ‘শালপাতায়, না কলাপাতায়, না চটা ওঠা এনামেলের থালায়?’

    ‘না না, ধরুন শালপাতায়।’

    ‘হ্যাঁ, এনামেল হলে খাব না। তা শেষ পাতে একটু মিষ্টি না থাকলে জল খাব কি করে? বোষ্টম মানুষ। একটু পায়েস হলেই ভালো হয়।’

    ‘সপ্তাহে তিন দিন।’

    ‘রোজ হলেই ভালো হয়। যাক মন্দের ভালো। হ্যাঁ, একটা কথা, বোস্টমীকে নিয়ে আমরা সাতটি প্রাণী। সপরিবারে, না আমি একলা?’

    বড়মামার মুখ দেখে মনে হল আকাশের চাঁদ পেয়ে গেছেন, ‘সাত জন? বলেন কি? এ যে দেখছি মেঘ না চাইতেই জল। না না, একা নয় একা নয়। সপরিবারে।’

    ‘জয় নেতাই। তা হলে কবে থেকে?’

    ‘আজ হল গিয়ে রোববার। সোম, মঙ্গল, বুধ। হ্যাঁ বুধবার থেকে। বুধ ভালো বার।’

    ‘প্রভুর নিবাস?’

    বাব্বা! বড়মামা প্রভু হয়ে গেলেন! মেজোমামা একবার শুনলে হয়, জ্বলে যাবেন। বড়মামা বাড়ির নির্দেশ দিতেই লোকটি বললে, ‘অ আমাদের কেদারবাবুর বড় ছেলে। সেই ছিটেল ডাক্তার।’ বড়মামার মুখটা কেমন হয়ে গেল,—’ছিটেল বললেন!’

    ‘ছিটেল বলব না? সবাই জানে ডাক্তারটা খেয়ালী।’

    ‘আমিই সেই ডাক্তার।’

    ‘সে আগেই বুঝেচি। হক কথা বলব, ভয়টা কিসের! উকিল আর ডাক্তার শেষ জীবনে পারের কড়ি কুড়োতে চায় ধম্মকম্ম করে। সারা জীবনের অধর্মের পয়সা। একজন মারে মক্কেল, আর একজন মারে রুগি। দেখেন না, আজকাল মন্দিরে আশ্রমে কত ভিড়! সব ওই ভেজালদার, কালোবাজারী, ডাক্তার, উকিল, এম.এল.এ. মন্ত্রী।’

    ভট-ভট করে মোটরবাইকে আসতে আসতে বড়মামা বললেন—

    ‘কি রকম ট্যাঁকট্যাঁকে কথা শুনেছিস! ওই জন্যে লোকের ভালো করতে নেই। নেহাত সেদিন বইয়ে পড়লুম, লিভ, লাভ অ্যাণ্ড লাফ তা না হলে অ্যায়সা রাগ ধরছিল। যাক বরাতটা খুব ভালো। এই বাজারে সাত সাতটা লোক পাওয়া! বাকি রইল আঠারোটা।’

    ‘ভাববেন না বড়মামা। ঠিক যোগাড় হয়ে যাবে। একবার খবরটা ছড়াতে দিন।’

    আরও টহল মারা হল। এবার আর চারে মাছ পড়ল না, যাক সাতটা পড়েছে। ভালো ক্যাচ। বড়মামার বৃদ্ধ কমপাউন্ডারের নাম সতুবাবু। সতুবাবুকে ভার দেওয়া হল আরও আঠারোজন সংগ্রহ করার। পারবেন তো?’

    ‘হ্যাঃ’ সতুবাবু অবজ্ঞার হাসি হাসলেন, ‘আঠারো কেন, আঠারোশো ধরে এনে দিতে পারি।’

    বেলা বারোটা নাগাদ লোক লস্কর নিয়ে বড়মামা নেপোলিয়ানের মতো মার্চ করে বাড়ি ঢুকলেন। একজন বাগানের আগাছা পরিষ্কার করবে। একজন বাঁশ বাঁধবে। একজন উনুন পাতবে। একজন দরজা ঘিরবে। মাসিমা সেই পল্টন দেখে হাঁ হয়ে গেলেন। এখনি হুকুম হবে, ‘চা দে কুসি, চাল নে, সব ভাত খাবে।’ হই-হই ব্যাপার।

    মেজোমামা এক ফাঁকে খুব গম্ভীর মুখে আমাকে ডাকলেন।

    ‘কি সব হচ্ছে হে! ভূতের নৃত্য!’

    ‘খুব মজা মেজোমামা। কত লোক আসবে। খাবে। দু’হাত তুলে যাবার সময় চিৎকার করে বলবে, জয় রাজা রাজেন মল্লিক।’

    ‘রাজা রাজেন মল্লিক? তোমার বড়মামা নাম পালটে ফেললে না কি? নাম ভাঁড়িয়ে শেষে এই অসৎ কাজে নেমে পড়ল?’

    ‘আমি কি বলতে কি বলে ফেলেছি। আসলে বলবে, জয় রাজা সুধাংশু মুকুজ্যে।’

    ‘রাজা! কোথাকার রাজা? কামপুচিয়ার? ওই টাইম-টেবলটা আন তো।’

    ড্রয়ারের ওপর থেকে টাইম-টেবলটা এনে মেজোমামার হাতে দিলুম। একটা পাতা খুলে বিড়বিড় করে বলতে লাগলেন, ‘আট নম্বর প্ল্যাটফর্ম, রাত নটা চল্লিশ।’

    ‘কোথায় যাবেন মেজোমামা?’

    ‘যেদিকে দুচোখ যায়।’

    ‘সে কি?’

    ‘হ্যাঁ তাই। পাগলামি অনেক সহ্য করেছি। আর নয়।’

    ‘দরিদ্রসেবা পাগলামি? অসৎ কাজ?’

    ‘পরে বুঝবে। এখন যেমন নাচ্ছ নেচে যাও। সবুরে মেওয়া ফলবে। তখন মেও সামলাতে পুলিশ ডাকতে হবে।’

    বড়মামা জিগ্যেস করলেন, ‘প্রফেসার কি বলছিল রে?’

    ‘বলছিলেন, অসৎ কাজের ঠেলা পরে বুঝবে কামপুচিয়ার রাজা।’

    ‘অসৎ কাজ!’ বড়মামা হই-হই করে হেসে উঠলেন, ‘হিংসে, বুঝলি, হিংসে। সারা জীবন ছেলে ঠেঙিয়ে কিছুই করতে পারল না। আমি এক কথায় ফেমাস হয়ে গেলুম। এখন পরিচয় দিতে গেলে বলতে হবে, সুধাংশু মুকুজ্যের ভাই। কোন সুধাংশু? আরে সেই ডাক্তার সুধাংশু, গরিবের মা-বাপ।’

    ‘মেজোমামা তো রাত নটা চল্লিশের ট্রেনে যেদিকে দু’চোখ যায় সেই দিকে চলে যাচ্ছেন।’

    ‘তাই না কি? হিংসায় উন্মত্ত পৃথিবী। ভজা, ভজা।’

    বড়মামা পার্শ্বচর ভজা। ‘যাই বড়বাবু।’

    ‘চাল?’

    ‘আ গিয়া।’

    ‘ডাল?’

    ‘ও ভি আ গিয়া।’

    ‘বহত আচ্ছা। চা বানাও।’

    ভজা গান গাইতে গাইতে চলে গেল। গোয়ালে গরু তিনটে ফ্যাল-ফ্যাল করে প্রায় খালি ডাবরের দিকে তাকিয়ে আছে। কালোটা হাম্বা করে উঠল। মানে, এবার দুধ দেবার চেষ্টা কর, নয়ত মালিক খুব খেপে গেছে। ন্যাজ মলে বিদায় করে দেবে।

    মঙ্গলের ঊষা বুধে পা। সানাইটাই যা বাজল না। তা ছাড়া সবই হল। সকালে মন্ত্র পড়ে উনুন পুজো হল। বাঁশ থেকে ফুলের মালা ঝুলল ঝুলুর-ঝুলুর করে। কাগজের রঙীন শিকলি চলে গেল এপাশ থেকে ওপাশে। শ্যামজেঠা বেলতলায় বসে সকাল থেকে চণ্ডীপাঠ করলেন। বড়মামা মাসিমাকে ডেকে বললেন, ‘কুসি, সকালে আমি আর তোদের বাড়িতে খাব না। সকলের সাথে ভাগ করে নিতে হবে অন্নপান, অপমানে হতে হবে তাহাদের সবার সমান। আমি হর্ষবর্ধন। সঙ্গমে স্নান করে নিজের পরনের কাপড়টা পর্যন্ত দান করে দোব…।’

    ‘তারপর নেংটি পরে কুয়োতলায় ধেই-ধেই করে নাচব।’ মাসিমা রেগে চলে গেলেন।

    মেজোমামা দোতলার বারান্দা থেকে মাসিমাকে চিৎকার করে বললেন, ‘ভুলে যাসনি, আমার ট্রেন রাত নটা চল্লিশে।’

    ওদিকে বেলতলায় শ্যামজেঠার উদাত্ত গলা, ‘রূপং দেহি, যশো দেহি।’

    জোড়া উনুনে আগুনে পড়েছে। গল-ল করে ধোঁয়া উঠেছে আকাশের দিকে গাছের ডালপালা ভেদ করে।

    মেজোমামা খুব উত্তেজিত হয়ে বারান্দায় পায়চারি করতে করতে বললেন, ‘সেই সাতসকাল থেকে দেহি দেহি শুরু হয়েছে। যার অত দেহি দেহি সে হবে দাতা কর্ণ?’

    ছটা কুকুর বাড়ি একেবারে মাথায় করে রেখেছে। যত অচেনা অচেনা লোক দেখছে ততই ঘেউ-ঘেউ করছে। মাসিমা গ্লিসারিন তুলো ভিজিয়ে কানে গুঁজে রেখেছেন। কোনও কথাই শুনতে পাচ্ছেন না।

    সে এক জ্বালা! জল চাইলে তেল এনে দিচ্ছেন।

    পেয়ারা গাছের ডালে কাঁসার ঘড়ি বাঁধা হয়েছে। সাবেক কালের জিনিস। বেলা একটার সময় ঠ্যাং করে বাজিয়ে ঘোষণা করা হবে—শুরু হল। সবাই বসে পড়।

    দেখতে দেখতে একটা বেজে গেল। ভজুয়া দাঁত মুখ খিঁচিয়ে, চোখ বন্ধ করে, দু’হাতে একটা লোহার রড ধরে ঘড়িতে ঘা মারল। সারা এলাকা কেঁপে উঠল ঠ্যাং শব্দে। আওয়াজ বটে। কানে তালা লেগে যাবার যোগাড়।

    সবার আগে এল জয় নিতাইয়ের দল। সপরিবারে, হই-হই করে। সকলেরই নাকে নিখুঁত রসকলি।

    বোষ্টম, বোষ্টমী, গেঁড়ি গেঁড়ে ছেলে মেয়ে। এটা লাফায়, ওটা ছোটে। বড়টা ছোটটার মাথায় গাঁট্টা মারে। ছোটটা চিৎকার করে কেঁদে ওঠে। মা সবকটাকে ধরে পাইকারি পিটিয়ে দেয়। ‘ওঁ শান্তি, ওঁ শান্তি’, শ্যামজেঠার আর্তনাদ।

    ‘বসে পড় সব, বসে পড় সব।’

    ফোলডিং চেয়ার উলটে চার বছরের ছেলেটা মাটিতে চিৎপাত হল। বুকের ওপর চেয়ার। পায়ায় ঠ্যাং জড়িয়ে গেছে।

    ‘জয় নেতাই, পড়ে গেছে রে বাপ। খেঁচকে তোল আপদটাকে।’

    ‘তুলসী গাছ কোন দিকে?’

    ‘তুলসী গাছ কি হবে গো?’ ভজুয়া জিগ্যেস করল।

    ‘দূর বেটা খোঁট্টা। তুলসীপাতা ছাড়া ভোগ হয়!’ বড়মামার তুলসীঝাড় ফাঁক।

    ‘পঁচিশ কোথায়? পিল-পিল করে লোক আসছে।

    বড়মামা আঁতকে উঠলেন, ‘মরেছে, এ যে রাজসূয় যজ্ঞ রে! হাঁড়ি নয়, ড্রাম ড্রাম খিচুড়ি লাগবে। স্টপ দেব? অ্যানাউনস করে দে, পঁচিশ জনের বেশি নয়। গেটটা বন্ধ করে দে রাশকেল ভজুয়া।’

    ‘গেট বন্ধ করে আটকান যাবে না ডাগদারবাবু। গেট টপকে চলে আসবে।’

    ‘ধাক্কা মেরে বের করে দে।’

    ‘মেরে শেষ করে দেবে বাবু!’

    বড়মামা গলা চড়িয়ে বললেন, ‘শুনুন, শুনুন, আমাদের এই আয়োজন মাত্র পঁচিশ জনের জন্য।’

    প্রত্যেকেই চিৎকার করে উঠল, ‘আমি সেই পঁচিশজনের একজন।’

    ‘তা কি করে হয়! এখানে অনেককেই দেখছি যাঁরা টেরিকটনের প্যান্ট শার্ট পরে এসেছেন। বড় বড় চুল। দে আর নট গরিব।’

    চিৎকার উঠল, ‘আমরা মডার্ন গরিব। বেকার বসে আছি বছরের পর বছর।’

    ‘আমি মডেল গরিব বেছে নেব।’

    ‘বেছে নেব মানে? এটা কি স্টেট লটারি? কে বেছে নেবে?’

    বড়মামা খুব অসহায়ের মতো বললেন, ‘সে কি রে বাবা। এরা যে দেখছি তেরিয়া হয়ে উঠছে। বেশ, জোর যার মুলুক তার। আপনারা পঁচিশ জন বাকি সকলকে ঠেকিয়ে রাখুন। তাজিয়া কাজিয়া যা হয় নিজেরাই ফয়সালা করুন।’

    মার, মার, হই হই, রই রই। হে রে রে রে করে লোক ঢুকছে। যেন দশ আনার টিকিটের সিনেমার কাউন্টার খোলা হয়েছে। ভজুয়া পালাতে পালাতে বলল, ‘আরও আসছে বাবু। নারায়ণকা জলুস নিকলেছে আজ।’

    শ্যামজেঠা পালাতে পালাতে বললেন, ‘সুধাংশু, প্রাণে যদি বাঁচতে চাও, পেছনের দরজা দিয়ে পালাও।’

    বড়মামা ভয়ে পেছনে পেছনে বললেন, ‘য পলায়তি স জীবতি। ব্যাপারটা বুফে-লাঞ্চের মতো হয়ে গেল। যে পারে সে নিয়ে খাক।’

    চেয়ার ছোঁড়াছুঁড়ি শুরু হয়ে গেছে। বাঁশের খুঁটি উপড়ে ফেলেছে। একপাশের সামিয়ানা কেতরে গেছে। পেছনের দরজা দিয়ে রাস্তায় পড়ে বড়মামার লাল মোটরবাইক তীরবেগে পশ্চিমে ছুটছে। মেজোমামা কাঁপতে কাঁপতে টেলিফোন ডায়াল করছেন—

    ‘হ্যালো থানা। নরনারায়ণে বাড়ি ঘেরাও করে ফেলেছে। বড় বড় থান ইট ছুঁড়ছে। ও সেভ আস, সেভ আস।’

    ছটা কুকুর বাগানে নেমে পড়েছে খেপে গিয়ে। মাসিমার কানে অ্যায়সা তুলো ঢুকেছে কিছুতেই বের করতে পারছেন না। মাথার কাঁটা, দেশলাই কাঠি, যতই খোঁচাখুঁচি করছেন গ্লিসারিন-তুলো ততই ভেতরে চলে যাচ্ছে। কেবল বলছেন, ‘এখনও চণ্ডীপাঠ হচ্ছে! শিলাবৃষ্টি হচ্ছে না কি রে।’

    মেজোমামা রিসিভার চেপে বলছেন, ‘আর দাঁড়াতে পারছি না। আমার পা কাঁপছে। প্যাণ্ডিমোনিয়াম! আরে দূর মশাই হারমোনিয়াম নয়, প্যাণ্ডিমোনিয়াম।’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleশিউলি – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    Next Article ২৫টি দমফাটা হাসি – সম্পাদনা : সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    Related Articles

    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    গুহা – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    হর-পার্বতী সংবাদ – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    সাজাহানের জতুগৃহ – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    শ্রীকৃষ্ণের শেষ কটা দিন – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    মনুষ্যক্লেশ নিবারণী সমিতি – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    মধুর এক প্রেমকাহিনি – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }