Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মামা সমগ্র – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় এক পাতা গল্প1007 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    আবিষ্কার

    বড়মামা বসে আছেন তাঁর সাধের গোয়ালঘরের সামনে ভীষণ চিন্তিত। কপালে তিনটে ভাঁজ। গোয়ালে তিনটে বিশাল আকারের জার্সি গোরু মশমশ শব্দ করে তাদের খাবার খাচ্ছে। গোরু তিনটে বেশ আদুরে-আদুরে দেখতে। যত্নে থাকে, ভালো খায়। ক্ষীরের মতো শরীর। দুধও দেয় তেমনই। দুধের বন্যা বয়ে যায়। বড়মামা দুধ বিক্রি করেন না। বিলিয়ে দেন। এক বালতি হাসপাতালে। এক বালতি আশ্রমে। এক বালতি স্কুলে বিলোবার পরও অনেকটা থেকে যায়। বড়মামার কুকুরের সংখ্যা এখন দশ। তারা দুধ খেয়ে খেয়ে এক-একটা কেঁদো বাঘ। মেজোমামা দুধ ভালোবাসেন না। তাঁর জন্য পায়েস হয়। মাসিমা ভালোবাসেন সন্দেশ। ছানা কাটিয়ে সন্দেশ তৈরি করেন। আর বড়মামা! দুধে অ্যালার্জি, খেলেই পেট খোলে। তিনি দুধ দেখে আনন্দ পান। বালতি-বালতি সাদা দুধ।

    বড়মামার একপাশে আমি বসে আছি। আমার মুখে কোনও কথা নেই। কথা বলার ইচ্ছেও নেই আমার। কাল রাতে মশারি ফেলা নিয়ে বড়মামার সঙ্গে আমার ঝগড়া হয়ে গেছে। একই বিছানায় আমরা দু’জনে শুই। মশারিটা আমাকেই ফেলতে হয়। আমি একটু আগেই শুয়ে পড়ি। বড়মামার শুতে বেশ রাত হয়। ডাক্তার তো! রুগিরা ছেঁকে ধরে থাকে। চেম্বার থেকে উঠতে দেয় না। কাশি, জ্বর, পেটব্যথা, মাথা ঘোরা। মানুষের অসুখের শেষ নেই। তার ওপর বড়মামার গল্প করার বাতিক আছে। কেউ কিছু বললেই হল। শুরু হয়ে গেল যুক্তি, তর্ক, গল্প। সে চলছে তো চলছেই। আর রুগিরা নানা সুরে শব্দ করছে ‘ও ডাক্তারবাবু!’ কে কার কথা শোনে! নেহাত খুব হাতযশ, তাই সব ছুটে আসে।

    কাল বড়মামা কত রাতে ফিরেছিলেন জানি না, মাঝরাতে মশারির একপাশের দড়ি খুলে চাল ঝুলে গিয়েছিল। বড়মামার আবার ভীষণ ভূতের ভয়। তাঁর আবার একটা ভূতের ডিকশনারি আছে। মশারির চালেও নাকি ভূত থাকে। বড়মামার গোঁ গোঁ শব্দ শুনে ঘুম ভেঙে গেল। চালটা ঝুলছে দেখে আমারও ভয় লেগে গেল। অন্ধকার ঘর। ভুসভুস বাতাসের শব্দ। ঘড়ির টিকটিক। বাইরে বেড়ালের ঝগড়া। কোথায় একটা বাচ্চা ওঁয়া-ওঁয়া করে কাঁদছে। ভয় তো পেতেই পারে। তবে আমি তেমন ভিতু নই। আমার মাস্টারমশাই বলেছেন, ‘ভূত বলে কিছু নেই। ভূত আছে মানুষের মনে। আর কোনও-কোনও মানুষ আছে ভূতের মতো, তাদের বলে অদ্ভুত।’

    শুয়ে-শুয়ে ভাবলুম অনেকক্ষণ, ব্যাপারটা কী হতে পারে! মশারির একপাশের দড়িটা ছিঁড়ে গেছে। ছিঁড়েছে বড়মামারই জন্য। খুব খারাপ শোয়া। দুড়ুম-দাড়াম হাত-পা ছোড়ে। খাটের বাইরে পা ঝুলে যায় কোনও-কোনওদিন। ধাক্কা-টাক্কা মেরে জাগাতেই ভীষণ রেগে গেলেন আমার ওপর, ‘তোর কোনও কাণ্ডজ্ঞান নেই। ভগবানের সঙ্গে আমার ডায়ালগ চলছিল, দিলি তো সব বারোটা বাজিয়ে!’

    আমি বললুম, ‘মশারির দড়িটা যে ছিঁড়ে বসে আছেন।’

    বড়মামা বললেন, ‘এ তো তোর রোজের কেস। মশারিটাও ভালো করে খাটাতে পারিস না! অপদার্থ! তুই তা হলে তাঁবু খাটাবি কেমন করে! মশারিতেই যার এই অবস্থা!’

    ‘তাঁবু খাটাতে যাব কেন?’

    ‘ধর যদি কোনও দিন এভারেস্টে যাস এক্সপিডিশানে!’

    ‘আপনার মতো শোয়া হলে তাঁবু কেন পাকা দেওয়ালও ধসে পড়ে যাবে। আপনি তো শুয়ে-শুয়ে ব্যালে নৃত্য করেন।’

    ‘যে-কোনও জ্যান্ত মানুষ এভাবেই শোয়। শোয়া মানে তো আর মরে যাওয়া নয়। তোরা যাকে শোয়া বলিস, সেটা আসলে আর-একটা প্লেনে দাঁড়ানো। প্লেন বুঝিস না, অ্যাঙ্গল বুঝিস না, ডাইমেনশান বুঝিস না। টপ থেকে একটা ছবি তুলে খাড়া করে দিলে কী দেখবি, আমি দাঁড়িয়ে আছি খাটের ব্যাকগ্রাউন্ডে।’

    শেষে বললেন, ‘কাল থেকে আমি আমার বিছানা আলাদা করে নেব। একটু খেলিয়ে শোওয়ার স্বাধীনতা নিশ্চয় আমার আছে! আমি অমন মড়ার মতো কাঠ হয়ে শুতে পারব না। আমি কি কফিনে শুয়ে আছি! চিতায় শুয়ে আছি!’

    রাত আড়াইটের ঝগড়া তিনটেতে শেষ হল। গজগজ চলল আরও কিছুক্ষণ। ‘শুয়ে শুয়ে ভাবতে হবে অপারেশান টেবিলে অ্যানাসথেসিয়া নিয়ে পড়ে আছি চিতপাত। এর নাম দেশ স্বাধীন হয়েছে। কাল থেকে আমি মেঝেতে শোব!’

    গম্ভীর গলায় বললুম, ‘আপনি কেন মেঝেতে শোবেন। আমিই শোব।’

    ‘তুই কেন শুবি! তোর তো এটা মামার বাড়ি, আমার তো আর মামার বাড়ি নয়।’

    সকালবেলা ব্যাপারটা আমি ভুলেই গিয়েছিলুম। শুধু মেজোমামা একবার চা খেতে-খেতে জিগ্যেস করলেন, ‘মাঝরাতে কি শুম্ভ-নিশুম্ভের লড়াই চলছিল! বাড়িতে আরও দুটো প্রাণী যে ঘুমোচ্ছে, সেটুকু সিভিক সেন্স তোদের এখনও হল না? একজনের তো আর আশা নেই। পাকা বাঁশ। ও আর নুইবে না। তা ছাড়া সঙ্গদোষ। কুকুর, বেড়াল, ছাগল, গোরুর সঙ্গে মিশলে মানুষের কি আর মনুষ্যত্ব বলে কিছু থাকে। কিন্তু তোমার ওপর আমার একটা হাই হোপ ছিল। তুমি তো আবার বড়মামা ছাড়া দুনিয়ায় আর কাউকে চেনো না ভাই!’

    মেজোমামা অধ্যাপক। অধ্যাপকের মতোই কথা। কয়েকদিন আগে বিলেত ঘুরে এসেছেন। সেখানে নাকি হর্ন থাকলেও গাড়ি হর্ন দেয় না। মানুষ কানে হেডফোন লাগিয়ে গান শোনে। কেউ চিৎকার করে কাউকে ডাকে না। মেজোমামার এমনই একটু অহঙ্কার আছে, সেই অহঙ্কার আরও কয়েক ডিগ্রি চড়েছে। মেজোমামার ক্যাঁটক্যাঁট কথায় বড়মামার ওপর আমার ভালোবাসা আরও বেড়ে গেল। সহজ-সরল, আত্মভোলা। সমবয়সী এক বন্ধুর মতো।

    চেম্বার থেকে ফিরে গোরুদের খেতে দিয়ে বসে আছেন। বিষণ্ণ ভীষণ ভাবনা।

    বড়মামা অনেকক্ষণ পরে বললেন, ‘কী রে আমার সঙ্গে ঝগড়া! কথা বলবি না!’

    হেসে বললুম, ‘আপনার সঙ্গে কথা না বলে থাকা যায়! ইউ আর মাই ফ্রেন্ড, বেস্ট ফ্রেন্ড।’

    বড়মামার চোখে জল এসে গেল, এই সামান্য কথায়। বললেন, ‘তা হলে বোস আমার পাশে।’

    ‘এত কী ভাবছেন তখন থেকে!’

    ‘জানিস তো, আমার মাথাটাই হল উচ্চ ভাবনার বাসা। মন সব সময় গবেষণার দিকে ছুটছে। বিরাট কোনও আবিষ্কার। যে আবিষ্কারে জগৎ স্তম্ভিত হয়ে যাবে। সৃষ্টি থমকে যাবে। স্বয়ং বিধাতা নড়েচড়ে বসবেন। বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের মানুষ একসঙ্গে এমন হাততালি দেবে, মনে হবে প্রলয় এসে গেছে।’

    ‘তা সেটা হবে কীভাবে।’

    ‘অ্যায়! সেই আইডিয়াটা আমার মাথায় স্ট্রাইক করেছে, বজ্রের মতো, বিদ্যুতের মতো, গোলার মতো, স্কাড মিসাইলের মতো।’

    ‘জিনিসটা কী?’

    ‘তোর মনে আছে নিউটন আপেল পড়া দেখেছিলেন।’

    ‘মনে আছে।’

    ‘তারপর! তিনি আপেলটা তুলে কচকচ করে খেয়ে রুমালে মুখ মুছে বাড়ি চলে গেলে মানুষ চাঁদে যেতে পারত! মহাকাশে পাড়ি দিতে পারত! আবিষ্কারের আগে দর্শন, দর্শনের পর ভাবনা। আমি এখন সেই ভাবনার স্টেজে আছি।’

    ‘আপনি কী পড়তে দেখলেন? তাল, না নারকেল?’

    ‘পড়াপড়ির ব্যাপারে শেষ। ও-পথে আর নো হোপ।’

    ‘তা হলে?’

    ‘আমি আজ ক্ষেত্রবাবুর বাড়িতে রুগি দেখতে গিয়েছিলুম। সেখানে আর একটা জিনিস দেখলুম। বললেন বনসাই। একটা ছোট্ট টবে বটগাছ। বললে ছ-সাত বছর বয়স। এই এতটুকু, এক ফুটের মতো বড়। মোটা গুঁড়ি। ঝুরি নেমেছে ঠিক বটের মতো। ডালপালায় ছোট্ট একটা পাখির বাসা বসিয়েছে। ফ্যান্টাসটিক!’

    ‘ও-আবিষ্কার তো হয়ে গেছে বড়মামা!’

    ‘আরে ধুর, ওইটা থেকেই তো আমার আইডিয়াটা এল। সামনে কী দেখছিস?’

    ‘তিনটে জবরদস্ত গোরু।’

    ‘এক-একটা কতটা জায়গা নিয়েছে! লম্বায় ফুট ছয়েক তো হবেই। গোল ব্যারেলের মতো পেট। হাইট পাঁচ ফুট তো হবেই। পৃথিবী কী ক্রাউডেড। মানুষেরই থাকার জায়গা নেই। কিলবিল করছে পোকার মতো। তার মাঝখানে বিশাল-বিশাল শরীর নিয়ে ভোঁস-ভোঁস করছে। কোনও মানে হয়! তাও যদি মানুষের মতো, গাছের মতো খাড়া ওপর দিকে উঠত তা হলে কিছু বলার থাকত না। এরা সব শুয়ে-শুয়ে পেল্লায় হচ্ছে। এ আর চলে না। অসহ্য!’

    ‘তা আর আপনি কী করবেন? আপনার হাতের বাইরে। ভগবান যেমন করেছেন!’

    ‘সে তো বটগাছকেও ভগবান বিশাল বড় করেছেন। মানুষ তাকে কায়দা করে ছোট করেছে। খোদার ওপর খোদকারি। আমিও সেইরকম ”বনসাই গোরু” করব।’

    বড়মামা ভাবের জগতে চলে গেলেন। নিজের মনেই বলতে লাগলেন, ”এই দু’ফুট সাইজের ধবধবে সাদা গোরু আমাদের ঘরময় ঘুরে বেড়াবে। বড়-বড় চোখ। লোটা লোটা কান। কালো ঝকঝকে খুর। মাঝে-মাঝে পালিশ করে দেব।”

    বড়মামার ভাব চটকে দিয়ে বললুম, ‘সে গোরু দুধ দেবে তো।’

    ‘অফকোর্স! গোরুর ধর্ম দুধ দেওয়া। দুধ দেবেই। বালতি-বালতি দেবে না। তবে এমন কায়দা করে দেব, কল ঘোরালেই জলের মতো গেলাস ধরলেই দুধ। আর পরিমাণে কম বলে আরও ঘন, একবারে ক্ষীরের মতো। আর তেমনই মিষ্টি। এই গোরুর জন্য গোয়ালের প্রয়োজন হবে না। আমরা আমাদের বিছানায় নিয়েও শুতে পারব। সে এক বিপ্লব! সে এক রেভলিউশান।’

    ‘হবে না বড়মামা। এ হতে পারে না। অসম্ভব!’

    ‘দাঁড়া, দাঁড়া। তোর গলার সন্দেহবাদীদের সুর। মেজোটার সঙ্গে বুঝি খুব মিশছিস। ও তোর ফিউচার ক্র্যাক করে দেবে। শোন, নেকড়েবাঘ থেকে মানুষ তৈরি করল শেপহার্ড, ডগ, অ্যালসেশিয়ান। তারপরে যেমন-যেমন প্রয়োজন হল করে নিল সেইরকম কুকুর। মানুষ পাখি মারবে গুলি করে, সেই পাখি পড়বে জলায়। উদ্ধার করে আনতে হবে। তুলে আনবে। কিন্তু খাবে না। এসে গেল গোল্ডেন রিট্রিভার। সাইবেরিয়ার তুষার প্রান্তরে রাতের অন্ধকারে বরফচাপা পড়ে আছে পথিক। পথ ভুলে গিয়েছিল, এল সেন্ট বার্নাড কুকুর। বিশাল তাগড়াই, প্রায় ঘোড়ার মতো। বরফ থেকে উদ্ধার করে আনবে মানুষকে। চার্চের ফাদার তার গলায় লণ্ঠন ঝুলিয়ে দেবেন। সাইবেরিয়ায় রাতের বেলা পাল-পাল নেকড়ে বেরোয় শিকারের সন্ধানে। ঝোড়ো বাতাস, মাইনাস তিরিশ চল্লিশ টেম্পারেচার। অসহায় মানুষ দেখছে, লণ্ঠনের আলো দোলাতে দোলাতে আসছে সেন্ট বার্নাড। নেকড়েরা থমকে গেছে। কুকুর এসে মানুষটিকে পিঠে তুলে নিল। আরও বড়-বড় কুকুর আছে, গ্রেট ডেন, পেরিয়ার মাউন্ট। আবার কোলে-কোলে থাকবে, আদর খাবে, এল ল্যাপ ডগ, পিকিনিজ, পুডল। কুকুর যদি বড়-ছোট করা যায়, গোরু কেন যাবে না! জানিস, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডে ছোট-ছোট ঘোড়া তৈরি হয়েছে। মানুষের বৈঠকখানায় খুটখুট করে ঘুরে বেড়ায়। ছোট-ছোট ছেলেরা পিঠে চেপে এ-ঘর, ও-ঘর করে। হবে না বলে কোনও শব্দ মানুষের অভিধানে নেই। এই তো সেদিন ওড়িশায় গিয়ে ভ্যাগোল দেখে কজনকে জিগ্যেস করলুম। বললে, ‘ভ্যাগোল। ভেড়ার ভ্যা আর ছাগলের গোল মিলিয়ে তৈরি। আমিও ওইরকম ছাগলের ছা গোরুর রু যোগ করে তৈরি করব ছারু। করব চুরগি।’

    ‘চুরগিটা কী বড়মামা?’

    ‘সে এক মজার প্রাণী। চড়াইয়ের চু আর মুরগির রগি নিয়ে চুরগি। ছোট-ছোট টেবিল, চেয়ারে ঘুরবে। ড্রয়ারে থাকবে। রোজ সকালে টেবিলের ওপর পুটপুট করে মুক্তোর মতো এক ডজন ডিম পেড়ে দেবে। সে-ডিমের সবটাই হবে হলদে, সাদা একদম থাকবে না।’

    ‘তা কি সম্ভব বড়মামা!’

    ‘আবার সন্দেহ! তিমির মতো বড় মাছ যেমন আছে আবার জিরের মতো ছোট মাছও আছে। হাতি যেমন আছে, ছুঁচোও তেমনই আছে। ছুঁচো হল ছোট হাতি। শোন, কল্পনা থেকেই আসে আবিষ্কার। আমি এখন কল্পনার স্তরে আছি।’

    মাসিমা কখন পেছনে এসে দাঁড়িয়েছেন খেয়াল করিনি আমরা। মাসিমা বেশ রাগের গলায় বললেন, ‘বাঃ, বেশ আছ তোমরা! বেলা তিনটে হয়ে গেল, আর কখন খাবে! আমি বসেই আছি, বসেই আছি, আর দুই পাগলে মুরগি, চুরগি হচ্ছে। দয়া করে খেয়ে নিয়ে আমাকে উদ্ধার করো।’

    বড়মামা উদার গলায় হেসে বললেন, ‘আজকে আমাদের এমন তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করছিস তো, পরে পস্তাবি। যখন সারা বিশ্বের মানুষ এই বাড়িতে এসে ভিড় করবে। হইহই পড়ে যাবে। ছাদে এসে নামবে হেলিকপ্টার। সেই দিন আসছে, যখন আজ আমি আমেরিকায় তো কাল আমি ভিয়েনায়।’

    মাসিমা বললেন, ‘সে যখন তখন হবে। তখন তোমাকে আমরা উঠতে-বসতে সেলাম করব। হ্যাঁ, শুনে রাখো, তোমার পেয়ারের পঞ্চাননের মা এসে যা-তা বলে গেছে।’

    ‘কী যা-তা?’

    ‘তুমি নাকি এত দুধ পাঠাচ্ছ, সেই খেয়ে হোল ফ্যামিলির পেট ছেড়েছে। যাও, পরোপকার করো। পরসেবা, পরপ্রেম।’

    বড়মামা বললেন, ‘আমি মহাপ্রভুর চেলা। মেরেছ কলসির কানা, তা বলে কি প্রেম দেব না! মানে দুধ দেব না। আচ্ছা, দুধ যখন সহ্য হচ্ছে না, তখন ছানা করে পাঠালে হয় না! খাঁটি দুধ অনেকেরই সহ্য হয় না।’

    মাসিমা রেগে চলে গেলেন।

    রাত্তির বেলা। বড়মামা আজ সকাল সকাল প্র্যাকটিস থেকে ফিরেছেন। মনে হয় অনেক রুগিকে ভাগিয়ে দিয়েছেন। টেবিলে বসে আছেন, টেবিলল্যাম্প জ্বলছে। আমি পড়ছি। বড়মামা ভীষণ চিন্তিত। হঠাৎ বললেন, ‘তোর কোনও আইডিয়া আছে?’

    ‘কী আইডিয়া?’

    ‘মানে কীভাবে করা যায়! বড়কে কতভাবে ছোট করা যায়! এক, ধর কেটে করা যায়, সেটা চলবে না। মরেই যাবে। আর এক, যদি বাড়টা কোনওভাবে বন্ধ করে দেওয়া যায়! ধর বাছুর। বাছুরটাকে যদি আগাপাশতলা ব্যান্ডেজ কি প্লাস্টার করে দেওয়া হয়। কী ধর, খাপে ভরে রাখা হল।’

    ‘খুব অবৈজ্ঞানিক হয়ে যাচ্ছে বড়মামা। মানে খুবই বোকা-বোকা। তা ছাড়া এক একটা বাছুরের সাইজ দেখেছেন। আপনি তো জিনিসটাকে ছাগলছানার সাইজে আনতে চাইছেন।’

    ‘তা অবশ্য ঠিক।’

    ‘তা হলে!’

    ‘ও হবে না বড়মামা। হলে এতদিনে হয়ে যেত। বৈজ্ঞানিকরা কি এতদিন বসে থাকতেন!’

    ‘একবার নিউজিল্যান্ড গেলে কেমন হয়। ওরা তো ঘোড়াটাকে বাগে এনেছে।’

    ‘কী দরকার বড়মামা! যে যেমন আছে সেইরকম থাক না!’

    বড়মামা উঠে সারা ঘরে পায়চারি করলেন কয়েকবার, তারপর বললেন, ‘শোন, সমস্ত বড় আবিষ্কারই হয়েছে হঠাৎ। এক করতে গিয়ে আর এক হয়েছে। অনেক সময় স্বপ্নেও অনেক কিছু পাওয়া যায়। চল, আমরা শুয়ে পড়ি স্বপ্নে কিছু আসে কি না দেখা যাক।’

    আমরা শুয়ে পড়লুম। মশারির দড়ি আজ আরও দুর্বল। জপের মালার মতো গাঁটের মালা। যতবার ছিঁড়েছে ততবার একটা করে গিঁটে পড়েছে। মাসিমার কাছে দড়ি চেয়ে বকা ঝকা খেয়েছি, ‘আমার দড়ির কারখানা নেই। এইবার তোমার বড়মামাকে বলো, চেন কিনে আনতে।’

    বড়মামা দু’বার এপাশ-ওপাশ করে ঘুমিয়ে পড়লেন। ফুরফুর করে নাক ডাকছে। বড়মামার নাক ডাকার শব্দটা ভারি সুন্দর, যেন নাকের ফুটোয় কেউ পাতলা কাগজের পরদা ঝুলিয়ে দিয়েছে। খুলছে আর বন্ধ হচ্ছে। আমিও ঘুমিয়ে পড়লুম। ঘুম বললে ভুল হবে, চলে গেলুম আবিষ্কারের জগতে। স্বপ্নের ল্যাবরেটারিতে বড়মামা আগেই চলে গেছেন সেখানে। হয়তো শুরু করে দিয়েছেন পরীক্ষা।

    কতক্ষণ ঘুমিয়েছিলুম জানি না। হঠাৎ ঢিপ করে একটা শব্দ হল। শব্দটা এত জোরে হল যে, ঘুম ভেঙে গেল। অন্ধকারে কিছুই বুঝতে পারছি না। মশারির চালটা মুখে নেমে এসেছে। মশারি আর মশারি নেই। জাল হয়ে গেছে। বড়মামার দিকটা চলে গেছে মেঝেতে। সেখানে জালে জড়ানোর মাছের মতো বড়মামা। ঘুমের ঘোরে বলে চলেছেন, ‘ইউরেকা, ইউরেকা।’

    ঘরের বাইরে থেকে মেজোমামা আর মাসিমা চিৎকার করছেন, ‘কী হল! কী হল! আজকের খেলাটা কী! বুড়ো খোকা!’

    কোনও রকমে নিজেকে জালমুক্ত করে প্রথমে আলো জ্বাললুম। তারপর দরজা খুলতেই প্রথমে ঢুকলেন মাসিমা, পেছনে মেজোমামা। মশারি-ফসারি নিয়ে বড়মামা মেঝেতে। খাটের একটা ছতরি টিভির অ্যান্টেনার মতো হেলে গেছে একপাশে। একটা টুল ছিল, উলটে গেছে। টুলের ওপর ছিল রেডিয়ো। ছিটকে চলে গেছে ঘরের কোণে। কীভাবে, সুইচ অন হয়ে গিয়ে কড়াইভাজার মতো আওয়াজ করছে। আর বড়মামা নাগাড়ে বলে চলেছেন, ‘ইউরেকা, ইউরেকা।’

    মেজোমামা প্রথমেই বললেন, ‘এ তো আর্কিমিডিস কেস! একে এখনই তুলে বাথরুমে ফেলে দাও।’

    মাসিমা বড়মামাকে ভীষণ ভালোবাসেন। মুখে খ্যাচরম্যাচর করলে কী হবে। নীরবে জাল ছাড়িয়ে বড়মামাকে তুলে বসালেন। বড়মামা ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থেকে বললেন, ‘আমি কোথায়?’

    মেজোমামা বললেন, ‘তুমি এখন রোমে ভাই! রোমিং ইন রোম। আস্ত আছ না ভেঙে গেছ।’

    বড়মামা ছেলেমানুষের মতো হেসে, ‘পেয়ে গেছি।’

    মেজোমামা বললেন, ‘কী দুর্লভ জিনিস পেলে ভাই?’

    বড়মামা মাসিমার হাত দুটো ধরে বললেন, ‘ভালোবাসা! তোমাদের ভালোবাসা।’

    মাসিমা ঝাঁ-ঝাঁ করে বললেন, ‘কাল থেকে তোমাদের বিছানা হবে মেঝেতে। এই বোম্বাই খাট আমি বিদায় করে দেব বাড়ি থেকে।’

    সব শান্ত হয়ে যাওয়ার পর বড়মামাকে জিগ্যেস করলাম, ‘আসল জিনিসের কী পেলেন?’

    বড়মামা বললেন, ‘জানিস, বিদ্যাসাগর এসেছিলেন। তিনি বললেন, ‘এত ভাবছ কেন? সমাধান তো খুবই সহজ। গোরুটাকে বাঙালি করে দাও। তা হলে দেখবে নিজের চেষ্টাতেই ছোট হয়ে যাবে। আর কিছু করতে হবে না তোমাকে। লিখে রাখো, ছোট যদি হতে চাও বাঙালি হও তবে।’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleশিউলি – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    Next Article ২৫টি দমফাটা হাসি – সম্পাদনা : সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    Related Articles

    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    গুহা – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    হর-পার্বতী সংবাদ – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    সাজাহানের জতুগৃহ – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    শ্রীকৃষ্ণের শেষ কটা দিন – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    মনুষ্যক্লেশ নিবারণী সমিতি – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    মধুর এক প্রেমকাহিনি – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }