Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মামা সমগ্র – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় এক পাতা গল্প1007 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ঘুস

    মেজোমামার বই বাড়ছে, বড়মামার বাড়ছে জীবজন্তু আর মাসিমার চড়ছে মেজাজ। আজ মাসিমার স্কুল বন্ধ। দুপুরবেলা খাওয়া-দাওয়ার পর আমাকে বললেন, ‘চলো লেগে পড়ি। আমাদের লাইফে তো বসার কোনও সময় নেই।’

    লেগেপড়া মানে দু’জনে মিলে খুঁজে খুঁজে বের করা বড়মামার জীবজন্তুরা কি কি অপকর্ম করেছে। ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ কতটা। বড়মামার কুকুরের সংখ্যা আপাতত সাত। শোনা যাচ্ছে আরও দুটো আসছে। একটা গোল্ডেন রিট্রিভার, আর একটা হাউণ্ড। গোল্ডেন রিট্রিভারের রূপের বর্ণনা শুনে শুনে আমাদের এখন মনে হতে শুরু করেছে—ঈশ্বরের শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি মানুষ নয়, গোল্ডেন রিট্রিভার। বড়মামাকে প্রশ্ন করেছিলুম—’বড়মামা, সব কিছুর একটা সীমা আছে তো! এত কুকুর কী হবে? সাতটা আছে, দেখতে দেখতে নটা হবে। এরপর তো কুকুর রাখার আর জায়গা থাকবে না।’

    ‘সে তুমি বুঝবে না। আমি গবেষণা করছি। আমার গবেষণার জন্যে কুকুরের প্রয়োজন।’

    ‘গবেষণার তো কিছু দেখছি না। ওরা খাচ্ছে-দাচ্ছে, ঘেউ ঘেউ করছে আর দুষ্টুমি করছে। আর আপনি একে বিস্কুট ছুঁড়ে দিচ্ছেন, ওর মাথায় চাঁটা মারছেন। এর নাম গবেষণা!’

    ‘শোনো-শোনো, এ তোমার মেজোবাবুর গবেষণা নয়। আমার এই গবেষণা সমস্ত কুকুর জাতির স্বভাব পালটে দেবে। এই যে কুকুরে কুকুরে দেখা হলেই খেয়োখেয়ি, সেই খেয়োখেয়ি আর হবে না। সব কুকুর ভাই ভাই হয়ে যাবে। মানুষ যেটা ভুলে গেছে। আমার এইটা হল কুকুরদের ট্রেনিং ক্যাম্প। ধরো এখানে সাতশো কি আটশো কুকুরকে ট্রেনিং দিয়ে দিয়ে দিকে দিগন্তে ছড়িয়ে দিলুম। সেই ট্রেইনড কুকুর তখন এক এক এলাকার কুকুরকুলকে মানুষ করে দেবে। একেবারে মানুষ।’

    মেজোমামা পরিকল্পনা শুনে বলেছিলেন, ‘একেবারে মানুষ হলে তো সেই একই হয়ে গেল। আবার খেয়োখেয়ি। তুমি কী করতে চাইছ? কুকুরকে মানুষ, না মানুষকে কুকুর, না কুকুরকে কুকুর! আগে ঠিক করে নাও।’

    ‘থাক তোমাকে আর গুলিয়ে দিতে হবে না। তুমি হলে সেই কথামালার শৃগাল, বাঘকে সে খাঁচায় বন্দী করে ছেড়েছিল। আমি আমার মতো তুমি তোমার মতো। তোমার ছাইপাঁশ গবেষণায় আমি নাক গলাই!’

    মাসিমা বললেন, ‘এই দ্যাখ বড়দার খরগোশ মেজদার অক্সফোর্ড ডিক্সনারির এ থেকে ডি পর্যন্ত চিবিয়ে খেয়েছে। মেজদা একবার দেখলেই ক্ষেপে যাবে। আর ক্ষেপে যাবারই তো কথা।’

    ‘এই দ্যাখো মাসি, বড়মামার সেই ধেড়ে বেড়ালটা এমন সুন্দর সোফার ফোমটাকে আঁচড়ে কি রকম দাগ দাগ করে দিয়েছে।’

    ‘সে কি রে, এই তো পরশু দিন নতুন করে দিয়ে গেল। আর পারি না। এ বাড়িতে ওই কুকুর বেড়াল ছাগলই থাক চল আমরা পালাই।’

    তিনটে চাদর বড়মামার কুকুরে ফালাফালা করে দিয়েছে। আমি জানি বড়মামা বলবেন, ‘ও কিছুই না। সাতটা কুকুরের উচিত ছিল সাতটা চাদর ফালা করার।’ তারপর গলাটাকে গম্ভীর করে বলবেন—’কি হয়েছে কি, চাদরের ঝোলা অংশে তো বেশ ভালোই ঝালর মতো করে দিয়েছে। ডেকরেশান।’

    মাসিমা বললেন, ‘তাহলে, এ সপ্তাহে বড়বাবুর পেয়ারের জন্তুরা কি কি উপকার করল—তিনটে চাদর খতম। সোফায় ফোমলেদারে বেড়ালের নখের নকশা। মেজোবাবুর ইংরেজি ডিক্সনারির এ থেকে ডি হজম। শিকার ধরতে গিয়ে বড়বাবুর পেয়ারের হুলো আমার বাঁয়া তবলাটা চুরমার করেছে। সবচেয়ে শয়তান ছোট কুকুরটা তোর হাওয়াই চপ্পলটাকে সজনে ডাঁটার মতো চিবিয়েছে। একটা সপ্তাহের পক্ষে যথেষ্ট, কি বলিস বুড়ো।’

    ‘এখনও তো তুমি গরু আজ ছাগলের দিকে যাওনি মাসি। ওপাড়ায় কি হয়ে আছে কে জানে?’

    ‘ও ছেড়ে দে, বাগানে তো একদিকে চলেছে বৃক্ষরোপন উৎসব, আর একদিকে বৃক্ষ হনন। বড়কর্তার পেয়ারের লক্ষ্মী তো বিশ্বপেটুক। সব কটা কলাগাছ মুড়িয়ে খেয়েছে। আর প্রাণের ছাগল রামু তো দেখি আজ দুপুরে বাগানের বেড়াটাকে টেস্ট করার চেষ্টা করছে। আর তিন দিন। তিনটে দিন পরে দেখবে বেড়া ফাঁক। বড় কর্তাকে বললেই বলবে, রিসার্চ হচ্ছে গবেষণা। ছাগলের হজম শক্তি দেখেছিস কুসি। ওদের হজম-রস থেকে একটা ওষুধ যদি কোনওরকমে বের করতে পারি তো, মার দিয়া কেল্লা। মানুষ তখন ছাতার বাঁট খেয়ে হজম করবে। দুটো পাগলে আমার জীবনটা শেষ করে দিলে!’

    ‘মেজোমামা অতটা নয়।’

    ‘ওই একই। টাকার এ-পিঠ আর ও-পিঠ। বাড়িতে বই রাখার আর জায়গা আছে? সেদিন বলছে, আলমারি থেকে সব কাপড়-জামা বের করে দিয়ে বড় মাপের বইগুলো রাখবে। যুক্তিটা শুনবি, কাপড়-জামা পুটলি করে যেখানে হোক রাখা যায়, দামী দামী বই তো আর পুটলি পাকানো যায় না। বই হল জ্ঞানের ভাণ্ডার। গুচ্ছের জামা-কাপড়ে কি হবে।’

    মেজোমামা বলছিলেন, ‘জানিস বুড়ো, বই দেখলে আমার মাথা খারাপ হয়ে যায়। নিজেকে আর ধরে রাখতে পারি না, অথচ জানিস শেষ মাসে না আমার দশপয়সার মুড়িও জোটে না।’

    ‘রাখ তো ওসব বাহারের কথা। দিন দিন ভুঁড়িটা কি রকম বাড়ছে দেখছিস, না খেলে ভুঁড়ি হয়?’

    ‘না, সে ভুঁড়ি হবার অন্য কারণ আছে। সে কথাও আমাকে বলেছেন। কি কষ্ট রে বুড়ো! একেবারে ডবল টানা। ডবল টানাটা কি জানো! সকালে খেতে বসে দু’জনের খাবার নেন। দুপুরে টিফিন আর খেতে হয় না।’

    ‘সে না হয় সকালে। আর রাতে? সেদিন রাতে গল্প করতে করতে পঞ্চাশখানা লুচি খেয়েছে। ভাবতে পারিস বুড়ো! পঞ্চাশখানা লুচি!’

    ‘সে কথাও আমাকে বলেছেন। বললেন, লুচি মানে কি? লুচি মানে এয়ার, বাতাস। ফক্কিকারি জিনিস। একশোটা ফুলচো লুচিতে কতটা ময়দা থাকে? তুই লুচির সংখ্যা দেখবি, না ময়দার ওজন দেখবি! তোর বিজ্ঞান কি বলে?’

    ‘ওসব ছেলেভোলানো কথা তুই শুনিস; আমাকে বোঝাতে আসিস নি। মেজদা চিরকালই ভোজনবিলাসী। আমি সেদিন লণ্ড্রীতে জামা পাঠাতে গিয়ে বুক পকেট থেকে রেস্তোরাঁর একটা বিল পেয়েছি। বাষট্টি টাকার চিকেন তন্দুরি খেয়েছে।’

    ‘যাকগে কারুর খাওয়া নিয়ে কথা বলতে নেই।’

    ‘না আমি তা বলছি না; তবে কি জানিস বেশি খাওয়া ঠিক নয়। শরীর তাড়াতাড়ি ভেঙে যায়, এই আর কি?’

    ‘এইবার আমি একটা নোটিশ দেব। এ বাড়িতে বই আর বাড়বে না, জীবজন্তুও বাড়ানো চলবে না। সব কিছুরই একটা সীমা আছে।’

    ‘মাসিমা, জ্ঞান যে অসীম!’

    ‘তুই থাম। কটা বই পড়ে রে!’

    ‘মেজোমামা বলেন বইয়ের মলাটে হাত দিলেই অর্ধেক পড়া হয়ে যায়।’

    ‘আর বাকি অর্ধেক? সেই হিসেবে তো হাজার কয়েক বই পড়তে হবে।’

    আমাদের কথা বন্ধ হয়ে গেল। বাইরে থেকে কে খুব চিৎকার করে ডাকছে, ‘বাবু, বাবু।’

    আমরা ছুটে গেলুম। একটা লোক দাঁড়িয়ে আছে। তাঁর কাঁধে ব্যাগ ঝুলছে এক তারের খাঁচা। খাঁচায় অনেক পাখি কিচির মিচির করছে।

    মাসিমা বললেন, ‘কি ব্যাপার!’

    ‘ডাগদার সাব।’

    ‘ডাগতার সাব বাড়ি নেই।’

    মাসিমা বেশ রেগে রেগে উত্তর দিচ্ছে।

    লোকটি বললে, ‘ডাগদার সাব ভেজিয়েছেন। এই যে চিঠি।’

    মাসিমা চিঠিটা আমার হাতে দিয়ে বললে, ‘পড়।’

    আমি জোরে জোরে পড়লুম, ‘কুসি বোনটি আমার, রাগ করিস নি। জীবে দয়া করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর। এর পর আর মনে হয় কিছু বলার থাকে না। খাঁচাটার ডেলিভারি নিয়ে নিস। তোর হিসেব থেকে লোকটাকে এখন তিনশো টাকা দিয়ে দিস। আমি তোকে সুদ সমেত চারশো টাকা দেব। মনে রাখিস জীবে দয়া। জিভে দয়া নয়। যা মেজো-র ধর্ম।’

    মাসিমা সাধারণত ইংরেজি বলেন না, আজ এত রেগে আছেন, যে চিঠিটা শেষ হওয়া মাত্রই লোকটিকে বললেন, ‘গেট আউট’।

    সে ‘গেট আউট’-এর কি বুঝবে। সে হাসি হাসি মুখে বললে, ‘হ্যাঁ মা।’

    মাসিমা তখন বললেন, ‘বেরোও, দূর হও।’

    লোকটি বেশ মজার মানুষ। সে একটু নাচের ভাব করে বলল, ‘দূর হটো ভাই দুনিয়াওয়ালে হিন্দোস্তাঁ হামারা হায়।’

    মাসিমা বিরক্ত হয়ে আমাকে বললেন, ‘এটাকে হাটা না বুড়ো।’

    ‘ও হটবে না মাসি, বড়মামা যা বলেছেন তুমি তাই করে দাও।’

    পাখিগুলো দারুণ দেখতে। আমিই বুদ্ধিটা বড়মামাকে দিয়েছিলুম। উত্তরের বারান্দাটা বেশ করে জাল দিয়ে ঘিরে মুনিয়া আর বদরি পাখি পুষুন। মনে হবে স্বর্গে আছি। আর ওদের বাচ্চা হবে। ছোট ছোট বাচ্চা ফুর ফুর উড়বে। মাসি খুব গজগজ করতে করতে তিনশোটা টাকা লোকটির হাতে দিলেন।

    ‘খাঁচাটা কোথায় রাখবো মা?’

    ‘আমার মাথায়।’

    ‘মা আমার রাগ হয়েছে।’

    আহা কি বাংলা! লোকটি আপনমনে বাগানে ঢুকে গেল। গান চলছে কিন্তু। গান থামে নি। খাঁচাটাকে ভেতরের বারান্দায় রেখে সবে কি একটা বলতে যাচ্ছে, আর বড়মামার সাত সাতটা বড় ছোট কুকুর একেবারে ঝাঁ ঝাঁ করে তেড়ে এল। লোকটি কি ভালো ছুটতে পারে! আবার কি সুন্দর লাফাতে পারে! এক লাফে বাগানের বেড়া টপকে সোজা পুকুরে। জল থেকে উঠে এসে বললে, ‘নাইতে বেশ ভালো লাগে তো বাবু।’

    ‘তুমি আগে কখনো চান করোনি?’

    ‘সে দশ বছর আগে। যেবার গঙ্গাসাগর গিয়েছিলুম। চান করবার সময় কোথায়?’

    ‘তোমার কী এমন কাজ?’

    ‘বা বা আমার কাজ নেই? আমাকে তো সব সময় পাখি পাহারা দিতে হয়।’

    ‘কেন?’

    ‘বাঃ বেড়াল খেয়ে নেবে না?’

    লোকটি বেড়ার ওপাশে দাঁড়িয়ে কথা বলছে। বড়মামার কুকুরগুলো কিছু দূর তেড়ে এসে আর আসেনি। ওরা মানুষকে ভয় দেখিয়ে মজা পায়।

    লোকটি বললে, ‘আবার ঠান্ডা না লেগে যায়! হঠাৎ চান করলুম তো!’

    ‘এই গরমে ঠান্ডা!’

    ‘ছেলেবেলায় আমার একবার বঙ্কা হয়েছিল।’

    ‘বঙ্কা আবার কী?’

    ‘সে তুমি বুঝবে না, ডাক্তারবাবু জানেন। সে খাঁশি, খালি খাঁশি। আরেব্বাপ। তা জানো, আমি চান করলুম, আর আমার মায়ের দেওয়া তিনটে নোটও চান করল।’

    নোটটাকে ঝাড়তে ঝাড়তে বলল, ‘যাঃ ব্যাটা বরাত ভালো।’ তারপর আমার দিকে তাকিয়ে বললে, ‘চারটে তো বাজল?’

    ‘তা বাজুক না! চারটে বাজলে কি হয়?’

    সুর করে বললে, ‘বাবুদের বাড়িতে চা হয়। হ্যাঁ গো তোমাদের চা হয়ে গেছে? দেখো না, একটু ম্যানেজ করো না। তোমাদের কুকুরের জন্যেই তো আমি জলে পড়ে গেলুম। আমি চেনা তাই। অচেনা হলে চিৎকার করতুম। চিৎকার করলে লোক জড়ো হলে জুলুম হত। দিনকাল তো ভালো নয়। দেখো না, আদা দিয়ে এক কাপ চা যদি হয়।’

    বাবা, লোকটা তো খুব চালু! বড়মামার সব পার্টিই সমান।

    ‘তাহলে খুচরো একটা টাকা দাও। দোকানে চা খাই। আমার তো আবার সব একশো টাকার নোট।’

    আমার পকেটে একটা টাকা ছিল, লোকটাকে দিলুম। যেতে যেতে বললে, ‘দোকানের চা ঠিক বাড়ির মতো হয় না।’

    ভেতরে যাবার জন্যে পা বাড়িয়েছি, ধরধর, ধরধর করে একটা টেম্পো এসে দাঁড়াল। ড্রাইভার মুখ বাড়িয়ে বললে, ‘মুখার্জি বাড়ি?’

    ‘হ্যাঁ মুখার্জি বাড়ি।’

    ড্রাইভার তার চেলাকে বললে, ‘মোড়ের মাথায় লোকটা ঠিকই বলেছিল। দেখবেন যে বাড়ির ছাদের আলসে থেকে মুখ ঝুলিয়ে সাত আটটা কুকুর জিভ বের করে হ্যা হ্যা করছে, সেই বাড়িটাই মুকুজ্যে বাড়ি! প্যালা ছাদের দিকে একবার তাকা! দৃশ্য। দৃশ্য। মানুষ খেতে পাচ্ছে না, দশ বারোটা কুকুর। বড়লোকদের কি দশা প্যালা!’

    মাসিমা বেরিয়ে এসেছেন, ‘এবার আবার কি?’

    ‘বোঝা যাচ্ছে না মাসিমা!’

    ড্রাইভার ভাঁজ করা একটা কাগজ এগিয়ে দিতে দিতে বললে, ‘লেটার আছে, লেটার, পড়লেই বুঝতে পারবেন দিদি।’ এবার একটা চিঠি। এবার মেজোমামা। ‘কুসি, বোনটি আমার, রাগ করিস নে বোন। জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ, হঠাৎ, সেই পরমকরুণাময়ের দয়ায়, আমার হাতের মুঠোয়, হঠাৎ, একেবারে হঠাৎ, এসে গেল, আর আমি জয় মা বলে খপাত করে ধরে ফেললুম। আজ একটা প্রাচীন লাইব্রেরি বিক্রি হয়ে গেল। আমি বেছে বেছে কিছু প্রাচীন পুঁথি আর গ্রন্থ এই টেম্পো করে তোর কাছে পাঠালুম। তুই করুণাময়ী। তুই জগদম্বা, তোকে পুজোর সময় আমি বোম্বাই নিয়ে যাব। আমি বড়কত্তা নই। আমার কথার দাম আছে। তুই মালটা ডেলিভারি নিয়ে, টেম্পো ভাড়া তিরিশ টাকা দিয়ে দিস। ত্রিসংসারে আমার কে আছে বল তুই ছাড়া। আপাতত আমার ট্যাঁক গড়ের মাঠ। খুব সাবধানে নামাস। অধিকাংশই জরাজীর্ণ। জোরে নিঃশ্বাস লাগলেও ড্যামেজ হয়ে যাবার সম্ভাবনা। মনে কর এক গাড়ি পাপড় ভাজা। এর মধ্যে একটা পুঁথিতে নানা টোটকার কথা লেখা আছে। মনে হয় চুল পড়া বন্ধেরও টোটকা আছে। একদিন তোকে পড়ে মানে করে দোব যদি সময় পাই। সোনা মেয়ে। আমার সন্টুটা আমার মন্টুটা। আমি এখনও বেছে চলেছি। ঈশ্বরের ইচ্ছায়, মনে হয় আরও এক টেম্পো পাঠাতে পারব। বই, শুধু বই। কি ঐশ্বর্য! ইতি, তোর মেজদা।’

    ড্রাইভার জিগ্যেস করলে, ‘এই জঞ্জাল কোথায় ফেলবো দিদি?’

    ‘ডাস্টবিনে।’

    মাসিমা ভেতরে চলে গেলেন। আমি মাথা খাটিয়ে কয়লার ঘরটা দেখিয়ে দিলুম।

    প্রথমে এলেন বড়মামা। দুহাত সামনে বাড়িয়ে ভয়ে ভয়ে অন্ধ মানুষের মতো হাঁটছেন। একটা করে পা অনেকটা উঁচুতে তুলে সাবধানে ফেলছেন। মাঝে, মাঝে টলে যাচ্ছেন। যাব্বাবা! এ আবার কি হল। জলাতঙ্কের মতো ভূমি আতঙ্ক নাকি? বড়মামার কাঁধে একটা ঝোলা ব্যাগ। সেটা ওইভাবে লেফট রাইট করে চলার জন্যে ধপাক ধপাক করে দুলছে। বড়মামা তো মেজোমামার মতো সাইডব্যাগ নেন না, বরং ঠাট্টা করেন। প্রফেসারদের জার্সি হল, কড়া মাড় দেওয়া পাঞ্জাবি আর সাইডব্যাগ আর তার চোখ খারাপ হোক আর না হোক, মোটা ফ্রেমের চশমা। সেই বড়মামার কাঁধে ব্যাগ!

    আমি ভয় পেয়ে চিৎকার করে মাসিমাকে ডাকলুম। বড়মামার বোধহয় স্ট্রোক হচ্ছে। মাসিমাও ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন প্রথমে। বড়মামার ওইভাবে এগিয়ে চলেছেন উঠান দিয়ে দোতলার সিঁড়ির দিকে। ওঃ মাসিমার লক্ষ্য বটে! আমি অতটা নজর করে দেখিনি। বড়মামার চোখে চশমা। প্রথম চশমা। মাসিমা এগিয়ে গিয়ে একটান মেরে চশমাটা খুলে নিয়ে বললেন, ‘নিশ্চয় বাইফোকাল’।

    বড়মামা বললেন, ‘বাঁচালি, কুসি। বাইফোকাল। কি অবস্থা রে! সব যেন ঢেউ খেলছে। এই তো দেখছিস সব সমান, চশমাটা পর, দেখবি সব উঁচু নীচু। শীতলাতলার কাছে তো দুম করে পড়েই গেলুম। ওই যে দেখছিস তলার দিকে গোল চাকা দাগ কাচের ওপর ওইটাই মারাত্মক। তুই বল, ওইটুকু জায়গা দিয়ে চোখ চালানো যায়।’

    ‘পড়ে না গিয়ে চশমাটা তো চোখ থেকে খুলে নিলেই পারতে।’

    ‘যাঃ তা কখনো হয়। চশমা তো পরার জন্যে, পড়ার জন্যে।’

    ‘তুমি তো পড়ার বদলে পড়ে গেলে। তোমার কাঁধে কি?’

    ‘ও কাঁধে!’ বড়মামা লাজুক লাজুক হাসলেন, ‘মেজোকে উপহার দোবো; কিছু বই রে কুশি।’

    ‘আবার বই!’ মাসিমা প্রায় কেঁদে ফেলেন আর কি।

    আর তখনই ঢুকলেন মেজোমামা। তাঁর কোলে ভারি সুন্দর একটা বাচ্চা কুকুর।

    মাসিমা বললেন, ‘এ কি, কুকুর! কুকুর তো তোমার সাবজেক্ট নয়!’

    ‘আমার এক ছাত্র দিলে। বড়দাকে প্রেজেন্ট করব।’

    ‘কি ব্যাপার বল তো। দু’জনে এত ভাব! বড়দা তোমার জন্যে বই এনেছে। ঝেড়ে কাশো তো। এ যেন দু’জনেই দু’জনকে ঘুস দিচ্ছে।’

    বড়মামার বইয়ের ঝোলাটা মেজোমামার দিকে এগিয়ে দিতে দিতে বললেন, ‘ফ্যান্টাসটিক কিছু বই। ফর ইউ!’

    মেজোমামা কুকুরছানাটা এগিয়ে দিতে দিতে বললেন, ‘ফ্যান্টাস্টিক কুকুর, চিওয়া ওয়া।’

    বড়মামা বললেন, ‘বেশ এবার তুমি তাহলে কাজের কথাটা বলো!’

    ‘তুমি আগে বলো।’

    ‘আমি উত্তরের বারান্দাটা জাল দিয়ে ঘিরে পাখি রাখব। ওই দেখ খাঁচা।’

    ‘আমি তোমার ঘরের দুটো দেয়াল চাই। র‍্যাক ফিট করে বই রাখব। ওই দেখ এক টেম্পো বই।’ ওদিক ওদিক তাকালেন। ‘আমার বই!’

    আমি বললাম, ‘কয়লার ঘরে রাখা হয়েছে।’

    ‘কয়লার ঘরে! কয়লার ঘরে মা সরস্বতী!’

    মেজোমামা পড়ি কি মরি করে ছুটলেন। সেখানে বড়মামার পেয়ারের গরু লক্ষ্মী এক খাবলা মা সরস্বতী মুখে পুরে চোখ বুজে চিবোচ্ছে, আরামসে, আর চামরের মতো ন্যাজটা দুলিয়ে দুলিয়ে মশা তাড়াচ্ছে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleশিউলি – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    Next Article ২৫টি দমফাটা হাসি – সম্পাদনা : সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    Related Articles

    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    গুহা – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    হর-পার্বতী সংবাদ – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    সাজাহানের জতুগৃহ – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    শ্রীকৃষ্ণের শেষ কটা দিন – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    মনুষ্যক্লেশ নিবারণী সমিতি – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    মধুর এক প্রেমকাহিনি – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }