Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মামা সমগ্র – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় এক পাতা গল্প1007 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    একি?

    ঠিক রাত ন’টা। তিনটে ঘড়ি একসঙ্গে বাজছে। একটা দালানে, একটা দোতলায় ওঠার সিঁড়ির বাঁকে। আর একটা দোতলার হলঘরে। ঐতিহাসিক হলঘর। ভীষণ সজানো। বড় বড় সোফা, সেন্টার টেবল, কর্নার টেবল, ডিভান। এক দেয়ালে মূল্যবান কিছু বই। একটা অর্গান। এই ঘরেই আছে বিখ্যাত সেই গ্র্যান্ড ফাদার ক্লক। ভারী গম্ভীর আওয়াজ। আমার দাদুর প্রাণের ধন। দাদুর ঘড়ির শখ বড়মামা পেয়েছেন। আর পেয়েছেন ডাক্তারি। দাদু খুব নামকরা বিলেত-ফেরত ডাক্তার ছিলেন। বড়মামাও ডাক্তার তবে দাদুর মতো হতে পারেননি। ভীষণ খেয়ালী। যখন যা মাথায় ঢুকবে সঙ্গে সঙ্গে তা করতে হবে নাওয়া-খাওয়া ভুলে। মাসিমা খুব রাগ করেন। করলে কি হবে! বড়মামা নিজের মতো চলবেন। মেজোমামা ভারী শান্তশিষ্ট, অধ্যাপক। লেখাপড়া নিয়েই থাকেন। মাঝে মাঝে খুব দুঃখ করে আমাকে বলেন, ‘তুই আমাদের একটাই ভাগনে, অসৎ সঙ্গে নষ্ট হয়ে যেতে বসেছিস!’ অসৎ সঙ্গ মানে বড়মামা। আমি বড়মামার ডান হাত। বড়মামা সেটা ঘোষণা করে দিয়েছেন। আবার বলেছেন, ‘এই দুনিয়ায় ও ছাড়া আমার আর কেউ নেই। ওকে আমি ভুবনবিখ্যাত ডাক্তার করব। রুগির ছায়া দেখে রোগ বলে দেবে।’ এই কথা শুনে মেজোমামা জোরে একটা শব্দ করেছিলেন ‘হুম’। বড়মামা খুব রেগে গিয়েছিলেন। আমাকে বললেন, ‘বুঝতেই পারছ! চতুর্দিকে আমাদের শত্রু। এই অবস্থায় তোমার নিজের ওপর নিজের দায়িত্ব অনেক বেড়ে গেছে। আমার সঙ্গে কো-অপারেট কর। প্রলোভনের ফাঁদে পা দিয়ো না। অনেকেই স্নেহ-ভালোবাসা দেখাবে—সে সব মেকি। তুমি বুদ্ধিমান, বুঝতেই পারবে—হোয়াট ইজ হোয়াট।’ মেজোমামা ঢেঁকুর তোলার মতো একটা শব্দ করেছিলেন।

    বড়মামা বলেছিলেন, ‘বদহজম। এক চামচে সোডি বাইকার্ব। পরিশ্রম নেই, শুধু খাওয়া।’

    মেজোমামা খুক খুক করে কাশলেন।

    মাসিমা হেমেন্দ্রকুমার রায়ের যকের ধন পড়ছিলেন। সামনে চায়ের কাপ। মাঝে মাঝে চুমুক দিচ্ছেন। বইয়ের পাতা থেকে চোখ না সরিয়ে বললেন, ‘তোরা কোনওদিন বড় হবি না, তাই না? চিরকাল শুম্ভ-নিশুম্ভই থেকে যাবি?’

    মেজোমামা বললেন, ‘ওর একার ভাগনে? ও আমারও ভাগনে। আমি দেখেছি ওর লিটারেচারে টেস্ট আছে। আমি ওকে প্রফেসার করব। অক্সফোর্ডে পাঠাব। নামকরা অধ্যাপক হবে। লেখক হবে, দ্বিতীয় শরৎচন্দ্র।’

    বড়মামা তেড়েফুঁড়ে বলেছিলেন, ‘হি ইজ মাই ভাগনে, ওনলি ভাগনে, ও এফ আর সি এস হবে, হবে, হবে। ওর কঙ্কালে ইন্টারেস্ট আছে। অ্যানাটমি আয়ত্ত করে ফেলেছে। সবচেয়ে টাফ সাবজেক্ট। ডাক্তারের জীবন সেবার জীবন। মানব কল্যাণের ব্রত ধারণ।’

    মাসিমা বললেন, ‘তোমরা থামবে? না আমি বেরিয়ে যাব? ভাগ্যিস! এ দুটো বিয়ে করেনি! বেশি দিন বাঁচত না। গলায় দড়ি দিত।’

    মেজোমামা হঠাৎ সুর পালটে বললেন, ‘বড়দা! আমিও চাই ও ডাক্তার হোক, নোবল প্রফেশান।’

    ‘তুই বলছিস?’

    ‘হ্যাঁ, বলছি। মানবদরদী ডাক্তার। আমার ডেথ সার্টিফিকেট ও লিখবে। ও ডাক্তার না হওয়া পর্যন্ত আমি মৃত্যুকে ঠেকিয়ে রাখব। মৃত্যু উইল ওয়েট ফর হিম।’

    বড়মামার মুখটা থমথমে হয়ে গেল। ধরা ধরা গলায় বললেন, ‘তুই আমার আগে চলে যাবি? আমার আগে?’

    বড়মামা মাথা নীচু করে ঘরের বাইরে বারান্দায় চলে গেলেন।

    মাসিমা বললেন, ‘কাঁদালি তো! জানিস তো, ওর ভেতরটা কত নরম!’

    মেজোমামাও বারান্দায় উঠে গেলেন। কিছুক্ষণ পরে দুজনে হাসতে হাসতে ঘরে ফিরে এলেন।

    মাসিমা বললেন, ‘আমি একটা সার্কাস খুলব।’

    বড়মামা ঘড়িঘরে শ’পাঁচেক বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন কালের ঘড়ি। অদ্ভুত সব দেখতে। সব কটাই চলছে। কোনওটার আওয়াজ টকটক, কোনওটার খচখচ। কোনওটার খড়খড়। মেজোমামা বলছেন, ‘কালে এই ঘড়িঘর একটা বিস্ময়ের জায়গা হয়ে উঠবে।’ মেজোমামাও খুব উৎসাহী। আমাদের কাজে সাহায্য করেন। সাবধানে মুছতে হয়, দম দিতে হয়। এক একটা ঘড়ির কারুকার্য দেখলে অবাক হয়ে যেতে হয়। মেজোমামা বললেন, ‘মানুষ কি-না পারে? মানুষই ভগবান, মানুষই শয়তান। বড় বড় যুদ্ধে এইরকম কত ঘড়ি, পিয়ানো, অর্গ্যান ভেঙে চুরমার করেছে। মিউজিয়াম, লাইব্রেরি শেষ করে দিয়েছে।’

    মেজোমামা ভীষণ ভাবুক। মাথায় কোনও ভাবনা এলে চলে যান দোতলায় বারান্দার একেবারে পশ্চিম দিকে। ওখানে একটা গোল বেতের চেয়ার আছে। বসলে সারা শরীর ঢুকে যায়। বাইরে বড় বড় গাছ। ডালপালার ফাঁকে ফাঁকে গঙ্গা, গঙ্গার জলের চিকিমিকি। একটা গাছ আছে—সুন্দর গন্ধ ছড়ায়। মন্দির-মন্দির, আরতি-আরতি। বসে থাকেন স্থির হয়ে, ভাবনা নিয়ে। দূর থেকে দেখলে মনে হবে একটা স্ট্যাচু। ফর্সা ধবধবে। বড় বড় চুল। এই সময়টায় মেজোমামাকে মনে হত একেবারে অন্য এক মানুষ—হিমালয়ের মুনি-ঋষি। চুপি চুপি এসে বসে থাকতুম তাঁর পায়ের কাছে। বড়মামা একদিন একটা কাণ্ড করলেন। মেজোমামার পা স্পর্শ করে বলতে লাগলেন, ‘তুই আমার ভগবান।’

    মেজোমামা সঙ্গে সঙ্গে বড়মামাকে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করে বলতে লাগলেন, ‘তুমি আমার মহাদেব, শিবশম্ভু।’ একসময় দেখা গেল দুজনেই মেঝেতে গড়াগড়ি যাচ্ছেন।

    রাত নটা। মাসিমার কড়া হুকুম—এ একবার, সে একবার, এই নিয়ম চলবে না। ‘ডিনার অ্যাট নাইন’।

    বড়মামা বলেছিলেন, ‘ঠিকই তো, ঠিকই তো। একটা নিয়ম অবশ্যই থাকা উচিত। সবাই মিলে গল্প করতে করতে খাবো। শিক্ষামূলক গল্প, জীবনে নানা অভিজ্ঞতার গল্প। তাছাড়া প্রত্যেকেই প্রত্যেকের প্লেটের দিকে নজর রাখব। কম-বেশি হচ্ছে কি-না, অবিচার। আমাকে ছোট মাছ, মেজোকে বড়। আমাকে হয়তো একটা আইটেম দেওয়াই হল না। এই তো সেদিন আমাকে আনারসের চাটনি দেওয়াই হল না।’ মাসিমা বললেন, ‘তার মানে? তোমাকে দুই দুই করা হয়?’

    ‘হতেই পারে। মেজোকে একটু বেশি ভালোবাসো। পণ্ডিত মানুষ! ভালোই খেতে পারে। গল্প-কবিতা লেখে। আমি তো মজদুর!’

    ‘এর মধ্যে আনারসের চাটনি কবে হল?’

    ‘রবিবার। লাস্ট সানডে।’

    ‘ওরে মুখপোড়া, ওটা আনারস নয় পেঁপে। পেঁপে তুই খাস না।’

    বড়মামা মাসিমাকে জড়িয়ে ধরে বলতে লাগলেন, ‘এ তুই কি বললি রে! মা চলে যাওয়ার পর এই কথাটা আমাকে কেউ বলে না রে। বলার মতো কেউ নেই। তোর মধ্যে মা এসেছেন। মা এসেছেন।’

    মাসিমা বললেন, ‘মা চলে যাওয়ার পর থেকে তোরা এনে বাড়াবাড়ি শুরু করেছিস, আমি আর সামলাতে পারছি না। ভাবছি দিনকতকের জন্যে কোথাও চলে যাব।’

    ‘আমরাও যাব।’

    ‘তাহলে তো হয়েই গেল।’

    ‘তুই চলে গেলে আমরা কোথায় থাকব, কে দেখবে আমাদের, বাপ-মা মরা দুটো অসহায় অনাথ। কি বল মেজো?’

    ‘আমাদের এই ভবিষ্যৎ আমি ভাবতেই পারছি না।’

    ‘কোনও অনাথাশ্রমে চলে যাবি?’

    ‘এই বয়েসে নেবে না রে!’

    ন’টা বেজে পনেরো মিনিট। বড়মামা হন্তদন্ত হয়ে ঢুকলেন। ‘লেট, লেট। উপায় ছিল না। যমে-মানুষে টানাটানি। মানুষের যত পয়সা বাড়ছে, ততই শরীর খারাপ হচ্ছে। সব এক একটা রোগের ডিপো। ওষুধ খেয়ে ক’দিন বাঁচা যাবে! আচ্ছা, তোমরা সবাই আসন গ্রহণ করো, অত্যন্ত কিছু জরুরি কিছু কথা আছে।’

    মেজোমামা বললেন, ‘আমরা তো আসনেই বসে আছি লাস্ট হাফ অ্যান আওয়ার।’

    বড়মামা ভুরু কুঁচকে জলের গেলাসের দিকে বেশ কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে নিজের মনেই এই সব কথা বলতে লাগলেন, ‘ক্রিস্ট্যাল, ক্রিস্ট্যাল, ফেথ, ফেথ, অবিশ্বাসী, অবিশ্বাসী।’

    কিছুক্ষণের নীরবতা। এরপর হাতে একটা চামচে তুলে নিয়ে বললেন, ‘ভাবছি, তোমাদের বলব কি বলব না! তোমরা অবিশ্বাসী, নাস্তিক। সন্দেহবাদী। পামর!’

    মেজোমামা বললেন, ‘যাঃ, হয়ে গেল। দু’দিন কি তিনদিন, যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনেছিল, আমি দেবতা, তুই দেবী, চোখে জল, নাক ফোঁস ফোঁস, আবার যে কে সেই। আরও এক ধাপ এগিয়ে, আজ বললে, পামর নতুন শব্দ। কোথা থেকে শিখে এল কে জানে? যাক গে, এখন ডিনার সার্ভ করতে বল, খেয়ে-দেয়ে দুর্গা বলে শুয়ে পড়ি।’

    মাসিমা বললেন, ‘সত্যি বলছি, আমার আর ভালো লাগছে না, আমি বৃন্দাবনে চলে যাই।’

    মেজোমামা বললেন, ‘অসম্ভব মশা। ম্যালেরিয়া। তুই বরং কাবুলে যা। ওখানে কাবলি ছোলা দিয়ে সুন্দর ঘুগনি করে, আমার এইরকম ধারণা, তাছাড়া খেজুর, খুবানি, মেওয়া, বড় বড় কাবলি কলা, বেদানা।’

    বড়মামা এতক্ষণ যেন একটা ঘোরে ছিলেন। চটকা ভাঙল। বললেন, ‘হ্যাঁ, কি বলছিলুম?’

    ‘কি আর বলবে? আমাদের ঝাড়ছিলে?’

    ‘তোমাদের নয়। আমি আমাকে ঝাড়ছিলুম। আমি একটা বাঁদর।’

    ‘এটা তোমার অনেকদিনের দুর্বলতা, নিজেকে যা-তা বলা। কবে কোথায় কার কাছে শুনেছ, মহান ব্যক্তিরাই আত্ম-সমালোচনা করে। সেই ছেলেবেলায় পড়েছ, ‘আপনারে বড় বলে বড় সেই নয়, লোকে যারে বড় বলে বড় সেই হয়’। এও এক ধরনের অহঙ্কার!’

    ‘সে তুই আমাকে যা বলতে চাস বল, আমি কিচ্ছু মনে করব না। কেন বাঁদর বলছি জানিস, আমি আজ একটা কলাবাগানে গিয়েছিলুম, যেখানে শুধু কলা। আমি এক-নাগাড়ে বারোটা কলা খেয়েছি। খেয়েই যাচ্ছি, খেয়েই যাচ্ছি।’

    ‘একসঙ্গে অত কলা খেলে কেন?’

    ‘আরে মর্তমান কলা। একটা কাঁদি গাড়ির ডিকির মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়েছে। কাল সকালে খাবি। এখন কাজের কথা। খুব মন দিয়ে শোন। আমি গত একমাস ধরে রোজই এক স্বপ্ন দেখছি। একেবারে স্পষ্ট। স্বপ্নটা হল—এই বাড়িটা ছাড়াও আমাদের আর একটা বাড়ি আছে। সেটা আরও সুন্দর। এই স্বপ্নটা আমার বিশ্বাসে ঢুকে গেছে।’

    মেজোমামা বললেন, ‘কি আশ্চর্য! আমিও তো ওই একই স্বপ্ন দেখছি। বাড়িটা একটু মিস্টিরিয়াস।’

    ‘রাইট। বেশ একটু ছমছমে। একটা ঢালু রাস্তা দিয়ে নেমে যেতে হয়। বড় রাস্তা থেকে বাড়িটা দেখতে পাওয়া যায় না। বড় বড় ইউক্যালিপটাস, দেবদারু, অর্জুন গাছ দিয়ে ঘেরা। সামনের দিকে চার্চের মতো চূড়া। সদর দরজা বেশ বড়। দামি কাঠের। একসময় ঝকঝকে পালিশ ছিল। পেতলের পাটি লাগানো। হালকা সবুজ রঙ।’

    ‘আর বলতে হবে না। সেম বাড়ি। ভেতরে ঢুকেছ?’

    ‘ঢুকেছি বলেই তো বলছি। বাড়িটার ভেতরে অনেক রহস্য।’

    ‘কি ভাবে ঢুকলে? সামনের দরজা তো ভেতর থেকে বন্ধ!’

    ‘পেছন দিক দিয়ে ঢুকলুম।’

    ‘রাইট। বিরাট একটা নিম গাছ।’

    ‘হ্যাঁ। নিম গাছ।’

    ‘আরে বাবা, একই বাড়ি। তুমি বলো না। আমি তো রোজই যাচ্ছি। আজও হয় তো যাব।’

    ‘আমার সঙ্গে তোর দেখা হচ্ছে না কেন?’

    ‘ঠিক বলেছ। দুজনে একই সময় একই জায়গায় যাচ্ছি, দেখা হচ্ছে না কেন?’

    মাসিমা বললেন, ‘এদের দুটোরই মাথা খারাপ হয়ে গেছে।’

    মেজোমামা বললেন, ‘আজ তুমি একটা নীল রঙের জামা পরে যাবে; আর আমি লাল।’

    বড়মামা বললেন, ‘এই সেরেছে। আমার তো নীল রঙের জামা নেই, সব সাদা।’

    ‘ঠিক আছে সাদাই পরো।’

    মাসিমার বেশ মজা লেগেছে মনে হয়। মাসিমা বললেন, ‘তোমরা কটার সময় বেরোবে?’

    বড়মামা বললেন, ‘এই বারোটা নাগাদ। তবে ট্রেন লেট করলে, দু-দশ মিনিট এদিক-ওদিক হতে পারে।’

    ‘কোন ট্রেন?’

    ‘ড্রিম এক্সপ্রেস, সিলভার লাইন, বেড প্ল্যাটফর্ম।’

    বড়মামা বললেন, ‘নাও আই অ্যাম সিরিয়াস, অ্যাজ সিরিয়াস অ্যাজ এ গোট।’

    মেজোমামা বললেন, ‘এই যে মাঝে মাঝে তুমি এক একটা ইংরিজি বলো, পা থেকে মাথা পর্যন্ত জ্বলে যায়।’

    ‘কেন, গ্রামার তো ঠিকই আছে।’

    ‘গোট বললে কেন? গোট কি সিরিয়াস?’

    ‘কি জানি! মুখে এল বলে দিলুম।’

    ‘এবার থেকে মুখে এলে বলবে না, মন দিয়ে যাচাই করে নেবে।’

    ‘ওকে, ওকে। এখন আমার সিরিয়াসলি একটু বসব। আমার মনে হচ্ছে, বাড়িটা কোথাও আছে। বাবা দেশভ্রমণ করতেন। সঙ্গী হতেন মাস্টারমশাই। একবার যেন মাকে এইরকম একটা বাড়ির কথা বলছিলেন। সবটা শোনার আগেই আমি ঘুমিয়ে পড়েছিলুম। বিষয়-সম্পত্তি বোঝার বয়েস তখনো আমার হয়নি। এখনো হয়নি। আর বাবাও খুব চাপা স্বভাবের ছিলেন। কোথায় কি করছেন, না করছেন কারোকে বলতেন না। কেউই আর বেঁচে নেই। এখন এসো স্বপ্ন আমাদের কি ক্লু দিচ্ছে দেখা যাক। বড় রাস্তাটা খুব উঁচু। কেন? নিশ্চয় ওটা বাঁধের রাস্তা! তুমি কি বল?’

    ‘সে কি! পাহাড়ে ওঠার রাস্তা নয়; কারণ পাহাড়ের রাস্তা থেকে শাখা রাস্তা বেরোতে পারে না।’

    ‘রাইট। এইবার বাঁধ মানে, হয় ডানদিকে, না হয় বাঁদিকে একটা নদী থাকবে। আমরা বাঁদিকের ঢালু রাস্তা দিয়ে নামি। তাহলে নদীটা আছে ডানদিকে।’

    ‘ঠিক। এখন নদীটার নাম কি? কোথায় আছে? বাঙলা, বিহার, উড়িষ্যা!’

    ‘ঘাটশিলা ছিল বাবার খুব প্রিয় জায়গা। নদীর নাম সুবর্ণরেখা। কি মনে হয়?’

    ‘একদম।’

    ‘তাহলে একটা এক্সপিডিশান করে দেখলে হয়! কিছু না হোক বেড়ানো তো হবে। আবহাওয়াটা সুন্দর যাচ্ছে। বর্ষা চলে গেছে। শরৎ। ঝলমলে রোদ।’

    মাসিমা বললেন, ‘আমিও যাব।’

    ‘অবশ্যই! তুই তো আমাদের গুডলাক। আমাদের বাঁচিয়ে রেখেছিস। আর এই শয়তানটাও যাবে।’

    আমি কখনো শয়তান, কখনো ভগবান। শৈলী ওপাশে সব গোছগাছ করছিল, বললে, ‘আমাকে তো যেতেই হবে। চা, কফি, পকোড়া—কে খাওয়াবে?’

    মাসিমা বললেন, ‘আমি গেলে তুইও যাবি।’

    বড়মামা বললেন, ‘তা হলে শঙ্করকে বলে দাও, ওর বড় গাড়িটা আমাদের চাই, আর ও চালাবে। কবে? কাল ভোরে পারবে?’

    মাসিমা বললেন, ‘আমাকে এখনই বললে এখনি।’

    ‘এখন দেখতে হবে শঙ্কর গাড়িটা দিতে পারবে কি না?’

    বড়মামা আমাকে বললেন, ‘ভুতো বোম্বাই ফোন লাগা।’

    ফোন বাজছে, ‘শঙ্করকাকু! তুমি কোথায়?’

    ‘তোমাদের বাড়ির গেটে।’

    ‘সে কি গো? কি করছ ওখানে?’

    ‘ডাক্তারবাবুকে চাই। আমার বোনের পেট ব্যথা করছে।’

    বড়মামা বললেন, ‘দেখেছিস, একেই বলে, মেঘ না চাইতেই জল।’

    শঙ্করকাকু সবসময় ফিটফাট। দারুণ দেখতে। ব্যায়াম করা শরীর। পেঁয়াজি খেয়ে পেট ব্যথা। বড়মামা একগাদা ওষুধ বের করে হাতে দিতে দিতে বললেন, ‘কাল ভোরবেলা পারবে?’

    ‘আমি পারব, নো প্রবলেম, একটাই সমস্যা, আমার বোনের পেঁয়াজি।’

    ‘জানি, তোমার বোন তোমার প্রাণ। তা কালকের দিনটা দেখ। উদ্বেগ নিয়ে যাওয়া উচিত হবে না।’

    ‘বড়দা, আমি আবার ভাবছি, যদি অনুমতি করেন ওকেও নিয়ে যাব। একটু বেড়িয়ে আসবে।’

    ‘খুব ভালো। ওকে আমরা ভীষণ ভালোবাসি। বড় ভালো মেয়ে। ওষুধ খেয়ে কেমন রইল আমাকে জানাবে।’

    বড়মামার ঘুম নেই। ছটফট, ছটফট। মেয়েটা কেমন রইল। দুটোর সময় শঙ্করকাকুর ফোন, ‘ভোঁস ভোঁস করে ঘুমোচ্ছে।’

    সকাল আটটা। শঙ্করকাকুর ঝকঝকে নতুন গাড়ি। আমরা একবারে সেট হয়ে গেছি। বড়মামা সামনের আসনে। গলায় ঝুলছে বাইনোকুলার। মাসিমা আর শৈলীদি প্রচুর খাবার-দাবার সঙ্গে নিয়েছেন। ফ্লাস্কে চা। কাগজের গেলাস। প্লেট। ছোট ছোট তোয়ালে। শঙ্করকাকুর বোন উমা মাসিমার পাশে। খাবারের গন্ধে ভেতরটা ভরে গেছে। আমি আর মেজোমামা একেবারে পেছনে। মেজোমামার একটু বেশি জায়গা লাগবে। আরাম করার জন্যে মাঝে মাঝে এদিক-ওদিক কাত হবেন। আর একটা কথা বলছি, বলাটা ঠিক হবে না হয়তো, তবু বলছি, সকলের পেছনে লাগার জন্যে পেছনে বসাই ভালো। উপযুক্ত স্থান।

    উমার খুব আনন্দ। মুখ-চোখ ঝলমল করছে। বলছে, ‘আমাকে কেউ কখনো বেড়াতে নিয়ে যায় না। এই প্রথম। আনন্দে নাচতে ইচ্ছে করছে।’

    বড়মামা বললেন, ‘নাচটা এখন চেপে রাখ। পরে লাগবে।’

    ‘আমরা কোথায় যাচ্ছি?’

    ‘জানি না রে।’

    ‘সে আবার কি?’

    ‘আমরা একটা অভিযানে যাচ্ছি।’

    আমি উমার দিকে তেমন তাকাচ্ছি না। লজ্জা করছে। এই তিন-চারদিন আগে ওদের বাড়ির সামনে পা পিছলে ধপাস। ও বারান্দায় দাঁড়িয়েছিল। দৌড়ে এসে আমাকে হাত ধরে তুলল। ইটের টুকরোয় হাঁটুটা কেটে গিয়েছিল। বাইরের ঘরে চেয়ারে বসিয়ে ড্রেস করে ব্যান্ড-এড লাগিয়ে দিল। শুধু জিগ্যেস করেছিল, ‘শুকনো ডাঙায় পড়লে কি করে?’

    মেয়েদের সামনে পড়ে যাওয়াটা ভীষণ লজ্জার; কিন্তু উমা কি ভালো মেয়ে! হাসেনি। মুখ টিপেও না। বরং বলেছিল, চটিটা পাল্টাও। তলাটা ক্ষয়ে গেছে। উমা আবার এখন না বলে বসে, তোমার পা কেমন আছে? না, মাসিমার সঙ্গে গল্পে মত্ত। কত রকমের গল্প। দু’পাশের দৃশ্য গোগ্রাসে গিলছে। মেজোমামা সামনের রাস্তার দিকে তাকিয়ে আছেন। আর কতদূরে সেই স্বপ্নের জায়গাটা!

    রূপনারায়ণের ব্রিজটা পেরোতেই বড়মামা লাফিয়ে উঠলেন, ‘মনে পড়েছে, মনে পড়েছে। জায়গাটার নাম মনে পড়েছে—গা, গা, প্রথম অক্ষর গা। গা দিয়ে কতকগুলো নাম বল না!’

    ‘গান্ধার।’

    ‘ধুস, সে তো অনেক উঁচুতে। মহাভারতের গান্ধারীর বাপের বাড়ি।’

    ‘তা হলে গাড়ুলিয়া।’

    ‘সে আবার কোথায়? আর একটু ভাব। আসছে, আসছে, এসে গেছে, গালুডি, গালুডি।’

    শঙ্করকাকু গোঁৎ করে গাড়িটা বাঁদিকের একটা হোটেল ধাবায় ঢুকিয়ে দিলেন, ‘এইবার লাঞ্চ।’

    বড়মামা বললেন, ‘আমাদের সঙ্গে তো প্রচুর খাবার-দাবার।’

    ‘এই ধাবার মালিক আমার অনেকদিনের বন্ধু। এখানে টয়লেট আছে।’

    উমা আমার পাশে এসে বসল। আমার হাঁটুর ওপর একটা হাত রেখে নিচু গলায় জিগ্যেস করল, ‘কেমন আছে?’

    ‘তুমি যে ব্যান্ড-এড লাগিয়ে দিয়েছিলে, সেটা লাগানোই আছে।’

    ‘চটি বদলেছ?’

    ‘ফেলে দিয়েছি।’

    ‘লক্ষ্মী ছেলে। বড়দের কথা শুনতে হয়।’

    ‘কে বড়?’

    ‘আমি, আবার কে?’

    ‘আমার চেয়ে এক বছরের ছোট।’

    ‘শোন, একটা হিসেব শোন। ছেলেদের একবছর, মেয়েদের দু’বছর। শুনিসনি, মেয়েদের বাড় কলাগাছের বাড়। ওই লম্বা সুন্দর গাছটা কি গাছ রে?’

    ‘স্বর্ণচাঁপা।’

    ‘চল না, ওদিক থেকে একটু ঘুরে আসি।’

    ঘোরা আর হল না। খাবার এসে গেল।

    সূর্যাস্তের একটু আগেই আমরা সেই স্বপ্নে দেখা জায়গায় এসে গেলুম। বড়মামা মেজোমামাকে বললেন, ‘তুই শুধু একবার মিলিয়ে নে। এই দেখ রাস্তাটা ঢালু হয়ে নীচের দিকে নামছে। বাঁদিকে একটা দোকান। সাইনবোর্ড। অস্পষ্ট হলেও পড়া যাচ্ছে। গালুডি।’

    ‘বাড়িটা চিনবি কী করে?’

    ‘কেন? মনের ছবি!’

    ‘কতটা ঢুকতে হবে?’

    ‘দাঁড়া। ঢালু রাস্তাটা সমতলে এলে আমাদের ডানদিকে যেতে হবে। বাড়িটা বাঁদিকে। সাদা ফুলে ভরা টগর গাছ। গন্ধরাজ।’

    শঙ্করকাকু ধীর গতিতে চলেছিলেন। জোরে যাওয়ার উপায় নেই। ফালি রাস্তা। পাথর পড়ে আছে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে। শঙ্করকাকু বলছেন, ‘বেশ মজা লাগছে।’ বড়মামা বসে আছেন খাড়া হয়ে। এপাশে, ওপাশে কয়েকটা বাড়ি। লোক নেই। লতাপাতা ঝুলছে। বাঁদিকে প্রাচীন একটা পাঁচিল শুরু হল। রাস্তাটা একটু পরেই ছোটখাটো একটা জঙ্গলে ঢুকে যাবে।

    বড়মামা বললেন, ‘শঙ্কর! গাড়িটা তুমি একপাশে রাখ। মেজো আর ভ্যাবলা নেমে আয়। মনে হচ্ছে আমরা ঠিক জায়গায় এসে গেছি। এরপরেই জঙ্গল, বিরাট একটা তেঁতুল গাছ। মেয়েরা গাড়িতেই থাকো। আমরা একবার দেখে আসি।’

    আপাতত আমার নাম ভ্যাবলা। উমা বললে, ‘ওর এই সুন্দর নামটা তো জানতুম না।’

    মাসিমা বললেন, ‘আমিও না। ওর থেকে থেকে নাম পাল্টায়। দেবতাদের ব্যাপার।’

    বড়মামা বললেন, ‘মেজো! মিলিয়ে নে। ওই দেখ চার্চের মতো চুড়ো। মেহগনি কাঠের প্যানেল দরজা। চারধাপ পাথরের সিঁড়ি। ঢালাই গেট। দরজা ভেতর থেকে বন্ধ; অর্থাৎ কেউ আছেন।’

    মেজোমামা বললেন, ‘খটখটাব?’

    ‘আস্তে। টুক টুক টুক। জাস্ট তিনবার।’

    দরজা খুলল। দাঁড়িয়ে আছেন মুনি-ঋষির মতো এক মানুষ। ধবধবে ফর্সা। সাদা চুল, সাদা দাড়ি। সাদা ধুতি, সাদা চাদর। ঘরের ভেতর একটা লণ্ঠন জ্বলছে। ঝকঝকে পরিষ্কার লাল মেঝে। মিষ্টি ধূপের গন্ধ। তিনি অদ্ভুত একটি কথা বললেন, ‘যাক, তোমরা শেষ পর্যন্ত এলে!’

    বড়মামা আমাকে বললেন, ‘ওদের নিয়ে এস।’

    বাড়ির বাইরে শ্বেত পাথরের ফলকে লেখা ‘ব্রজধাম’। ছোট্ট একটা আশ্রম। ঠাকুরঘরে অপূর্ব সুন্দর রাধাগোবিন্দের মূর্তি। কার্পেটের মতো মোটা একটা শতরঞ্চিতে আমরা বসেছি। বিস্ময়ের ঘোর কাটেনি। তিনিও বসেছেন।

    বড়মামা বললেন, ‘ব্যাপারটা কি বলুন তো! আমরা কিছুই জানি না।’

    ‘শোনো ব্রজরঞ্জন তোমাদের পিতামহ। নামকরা চিকিৎসক। তাঁর পুত্র কুমুদরঞ্জন তোমাদের পিতা। ডাক্তার। আমি কুমুদের সতীর্থ। আমি ঝাঁপিয়ে পড়লুম স্বদেশী আন্দোলনে। ধরতে পারলে অবধারিত ফাঁসি অথবা আন্দামান। আত্মগোপনের একটা জায়গা চাই। কুমুদ বললে, ‘দাঁড়া, তোকে লোপাট করে দি।’ খুঁজে খুঁজে এই জায়গাটা বের করলে। ঘন জঙ্গলের কিনারায়। ও বললে, অত্যাচারী, বিধর্মীদের চোখে ধুলো দিতে ধর্মের আড়ালে চলে যা। তখন চতুর্দিকে গোয়েন্দা ঘুরছে ছদ্মবেশে। ভাই ভাইকে ধরিয়ে দিচ্ছে, বাপ ছেলেকে। এখানে একটা আশ্রম তৈরি হল—ব্রজধাম। ও এক বৈষ্ণবসাধককে নিয়ে এল। প্রকৃত সাধক। বলতে পার, সিদ্ধ মহাপুরুষ। আমার জীবনটা একেবারে বদলে দিলেন তিনি। অলৌকিক সব শক্তি এল। আমার অবাক হওয়ার পালা। সম্প্রতি আমার মনে হল তোমাদের কথা। আচ্ছা শোনো, ভয়ে পালিও না। ওই দেখ কয়েকটা চাবি, সবটা তোমরা এখনো ঘুরে দেখোনি। দেখবে। এ সবই তোমাদের। লোকে চিঠি পাঠায়, আমি তোমাদের স্বপ্ন পাঠিয়েছিলুম। এইবার আসল কথা আমি কিন্তু নেই। শরীরটা ফেলে দিয়েছি। এই অবস্থায় বেশিক্ষণ থাকা যায় না। আমি তোমাদের চোখের সামনেই ধীরে ধীরে মিলিয়ে যাবো। আর আসব না। এটা রক্ষা কোরো। আমি আশীর্বাদ করে গেলুম।’

    লণ্ঠনটা দপদপ করে নিবে গেল। পাতলা চাদরের মতো কালো অন্ধকার। একসঙ্গে অনেক শাঁখ বেজে উঠল। শৈলীদি মাসিমাকে জড়িয়ে ধরে অজ্ঞান হয়ে গেল। উমা আমাকে প্রবল শক্তিতে জড়িয়ে ধরে কাঁপছে। বড়মামা মৃদু মৃদু স্বরে হরি হরি বলছেন। মেজোমামা ধর্ম, অলৌকিক মানেন না। তিনি স্তম্ভিত। ওদিকে গভীর জঙ্গলে পুরুষ হাতিদের চিৎকার। আর একটা কি জন্তু মানুষের মতো কাশছে। মনে হয় হায়না। শঙ্করকাকুকে দেখতে পাচ্ছি না। লণ্ঠনটা আপনি আবার জ্বলে উঠল। ওপরে সম্ভবত ছাতে পায়ের শব্দ। পেছনে কোথাও জল পড়ছে। শতরঞ্চির যে জায়গাটায় তিনি বসেছিলেন, সেখানে পড়ে আছে পাট পাট করা লম্বা একগুচ্ছ কাগজ, লাল দড়ি দিয়ে বাঁধা। দেখলেই বোঝা যায় দলিল। আমরা যেন একসঙ্গে দলা পাকিয়ে গেছি।

    এরপরে এল ঠান্ডা কনকনে বাতাস। দরজায়, বন্ধ জানলায় ধাক্কা মারছে। দোতলার ঘরের মেঝেতে ধাতব একটা কিছু পড়ে গড়িয়ে গেল। শব্দটা রইল অনেকক্ষণ। পূজারী নেই, কেউ নেই। অথচ আরতি শুরু হল। শঙ্খ-ঘণ্টা। পঞ্চপ্রদীপ ছাড়াই পাঁচটি শিখা শূন্যে দুলতে লাগল ছন্দে ছন্দে। চামর ছাড়াই দুধের মতো সাদা একটা ধোঁয়ার জটলা ঝাপটা মারতে লাগল বাতাস। শঙ্খ-ঘণ্টার শব্দ আকাশে-বাতাসে। সাদা একটা ফুল তুলোর মতো ভেসে বেড়াচ্ছে সর্বত্র। উমা আমার বুকে মুখে গুঁজে দিয়েছে। পিঠ ঢেকে গেছে ঘন কালো চুলে। ফুলটা ভাসতে ভাসতে এসে সাদা নরম পাখির পালকের মতো আটকে গেল উমার চুলে। হাত দিতে ভয় করছে। ফুল না তুলো! বিন্দু বিন্দু জল এসে পড়ল আমাদের গায়ে। অপূর্ব সুগন্ধ। শান্তির জল। আকাশে চাঁদ। বাইরের অন্ধকার ক্রমশ পাতলা হচ্ছে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleশিউলি – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    Next Article ২৫টি দমফাটা হাসি – সম্পাদনা : সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    Related Articles

    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    গুহা – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    হর-পার্বতী সংবাদ – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    সাজাহানের জতুগৃহ – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    শ্রীকৃষ্ণের শেষ কটা দিন – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    মনুষ্যক্লেশ নিবারণী সমিতি – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    মধুর এক প্রেমকাহিনি – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }