Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মামা সমগ্র – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় এক পাতা গল্প1007 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    হাতপাখা

    আগ্নেয়গিরি দীর্ঘকাল বেশ শান্তশিষ্ট। ফুসফুস করে পাতলা পাতলা ধোঁয়া ছাড়ছে, কিম্বা তাও নয়। তারপর বলা নেই কও না নেই হঠাৎ একদিন বিস্ফোরণ। আমার বিখ্যাত বড়মামা, ঠিক সেইরকম। এই একবছর কোনও সমস্যা তৈরি করেননি। মন দিয়ে ডাক্তারি, চেম্বার, রুগি, হাসপাতাল। ডাক্তারদের সভায় বেশ ভালো দুটো বক্তৃতা দিলেন লিভার, জন্ডিস, আলসার, তেলেভাজা খাওয়ার কুফল, সপ্তাহে একদিন উপবাসের উপকারিতা, বেশি নুন খাওয়ার অপকারিতা, দিনে ক’লিটার জল খাওয়া উচিত। কাগজে ইন্টারভ্যু। মেজোমামা বলতে লাগলেন, ‘লোকটা একটু একটু করে ফেমাস হয়ে উঠছে। আমারও একটা কিছু করা উচিত।’ বড়মামার খোঁচা, ‘তুই আর কি করবি? অধ্যাপকদের যুগ শেষ। এখন ছাত্র-ছাত্রীরাই সব। পেটাই খা। পিঠের দিকটা শক্ত কর। এরপর তো হেলমেট পরে কলেজে ঢুকতে হবে। বই নয় ইট নিয়ে ক্লাসে আসবে ছাত্রছাত্রীরা। আমার মতো ডাক্তার হওয়ার মেধা তোর ছিল না ঠিকই, তবে অন্য কিছু হতে পারতিস। কম্পাউন্ডার হলে আমার ডাক্তারখানায় চানস পেতিস। আজ কাছা খুলে দিচ্ছে, কাল কোঁচা খুলে দিচ্ছে এই যাচ্ছেতাই অবস্থাটা হত না।’

    মেজোমামা শুধু একটা কথাই বললেন, ‘হোয়েন ঘুঁটে পোড়ে, গোবোর লাফস। সেকালে সতীদাহ হত একালে ডাক্তার দাহ। পেশেন্ট আর ডাক্তার একই চিতায়। ঘেরাও করে রেখে দিলে তিনদিন। বিপজ্জনক জীবিকা। আমার কিছু হলে, তুমি কী ভাব, তোমাকে আমি দেখাব?’

    ‘তোকে আমি দেখবই না, তোদের ডাক্তার আলাদা। তৃণভোজীদের জন্যে অন্য ব্যবস্থা।’ কথার লড়াই শুরু হলে আর রক্ষা নাই। ফটাফট চলতেই থাকল। মাসিমা আগে দুজনকে থামাবার চেষ্টা করতেন, এখন আর মাথা ঘামান না। মাঝে মাঝে বলেন, ‘দুটো শিক্ষিত দামড়া। মা যাওয়ার সময় বলে গেল, দুটোকে দেখিস, তুই ছাড়া এদের আর কেউ রইল না। হয়ে গেল। না হল বিয়ে, না হল সংসার। একটা ভালো হল, সেই ছেলেবেলা থেকে এই দুটো ছাগলের পেছনে ডাণ্ডা হাতে পড়, পড় করে ঘুরতে ঘুরতে বিরক্ত হয়ে নিজেই এম. এ-টা করে ফেললুম। একটু লেখাপড়া করলে কার কি ক্ষতি হয়, বুঝি না বাপু! ছেলেরা খুব বদমাইশ হয়। দেখিস না, গরুদের মধ্যে যারা ছেলে, মাথায় কচি কচি দুটো শিং। কোনও কারণ নেই ভোঁস করে গুঁতিয়ে দিলে। আর ছাগল সাইজে ছোট, কিন্তু বদমাইশিতে ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট। দুটো ছাগলে বিশ্বব্রহ্মাণ্ড খেয়ে ফেলতে পারি।’

    একটা পেল্লায় বাড়ি। দোতলাটা বারান্দা দিয়ে ঘেরা। বার কয়েক পাক মারলেই মর্নিংওয়াক। বাগান। সবই সুন্দর, কেবল যাঁরা থাকলে বাড়িটা জমজমাট হত, তাঁরা সব মিছিল করে স্বর্গে চলে গেলেন। মাসিমা যখন একা উদাস হয়ে বাগানে গাছতলায় বসে থাকেন, পাখিরা গান শোনায়, কাঠবেড়ালি নাচ দেখায়। সেইসময় আমাকে ডেকে কত পাশে বসিয়ে পুরনো দিনের কত কথা বলেন, ‘ভিটেটার দোষ আছে। তা না হলে পটাপট সব মরে যায়। ভাই দুটো এত ভালো না হলে এই বাড়ি, এই স্মৃতি ধ্বংস হয়ে যেত। মামলা-মকদ্দমা। বিয়ে করলে না। কী বললে জানিস, বাড়িতে দেয়াল ঢোকাবো না। মামলা না হোক। পার্টিশান। হাঁড়ি আলাদা। সুখে থাকতে ভূতে কিলোনো। আমাদের বাবা, তোর দাদুকে সবাই বলত ভগবান। অত বড় ডাক্তার। বিনা পয়সার চিকিৎসা। বলতেন মানুষের সেবা করতে এসেছি। গলা কাটতে আসিনি। লোকে বলত ডাক্তারবাবু মানে জীবন। বড়দা অনেকটা ওইরকম হয়েছে। চেহারাতেই সেই ভাবটা লেগে আছে। খুব মিল। মেজদা একেবারে মায়ের মতো। দুটো একেবারে পিঠোপিঠি। বেশ আছে দুজনে। ওরা আছে বলেই আমার দুঃখটা তেমন বুঝতে পারি না। আসে, উঁকি মেরে চলে যায়। তারপর তুই এলি। জানিস তো প্রবাদ আছে নরাণাং মাতুলক্রমঃ। ভাগনেরা মামাদের মতো হয়।’

    ‘কোথায় আর হচ্ছি! অঙ্কে ডিগবাজি।’

    মাসিমা হেসে বললেন, ‘তবে শোন, আমার বাবা, তোর দাদু অঙ্কের ভয়ে নিরুদ্দেশ হয়ে গিয়েছিল। খোঁজ খোঁজ। শেষে কাশীর হাসপাতাল থেকে চিঠি এল ষাঁড়ের গুঁতো খেয়ে ওখানে বারো নম্বর বেডে পড়ে আছে। পেটের মাঝখানে দেড় ইঞ্চি ফুটো। কলকাতায় আনা হল। আশ্চর্যের ব্যাপার অঙ্কের মাথা খুলে গেল। একশোয় একশো। একেই বলে বাবার দয়া। তোর বড়মামা অনেক চেষ্টা করছিল ষাঁড়ের গুঁতো খাওয়ার। একটা ষাঁড়ও রাজি হল না। মাঝখান থেকে রামছাগলের গুঁতো খেয়ে যাও বা চল্লিশ-পঞ্চাশ পাচ্ছিল, হয়ে গেল, টায় টায় তিরিশ, তাও এক নম্বর গ্রেস। মেজোকে অঙ্ক শেখাতে এসে গৃহশিক্ষক নিজেই অঙ্ক ভুলে গেলেন।’

    বাইরের রাস্তায় একটা টেম্পো এসে দাঁড়াল। কয়েকজনের গলা শুনতে পাচ্ছি, ‘হ্যাঁ হ্যাঁ, এই বাড়ি, এই বাড়ি। ডাক্তারবাবু, ডাক্তারবাবু।’

    পাশের বাড়ির ললিতকাকু হন্তদন্ত হয়ে এসে বললেন, ‘কে মারা গেছে, কে মারা গেছে? কই খবর পাইনি তো!’

    মাসিমা অবাক—’মারা গেছে? এই বাড়িতে?’

    ‘খাটিয়া, বাঁশ, নারকেল দড়ি, তোশক, বালিশ, সাদা চাদর, টেম্পো থেকে নামছে।’

    উত্তরটা বড়মামাই দিলেন ঢুকতে ঢুকতে—’কেউ মরেনি, জ্যান্ত মড়া খাটে তোলা হবে।’

    ‘সে আবার কি?’

    ‘বাইরের ঘরে আসুন, চা পান করতে করতে শুনবেন।’

    বৈঠকখানা। মাসিমার প্ল্যানে সাজানো। খুব সুন্দর। ললিতকাকু অনেকদিন পরে এলেন। বেশিরভাগ সময় উত্তর ভারত থাকেন। জঙ্গল আছে, আপেলবাগান আছে। ভবঘুরে মানুষ। বসার ঘরে অদ্ভুত দৃশ্য। মেজোমামা ঘরে হামাগুড়ি দিচ্ছেন। হাতে একটা ম্যাগনিফাইং গ্লাস। বড়মামা বললেন, ‘এ কি শার্লক হোমস কোথা থেকে এল? কে খুন হল?’

    ললিতকাকু বললেন, ‘আহা! ঠিক যেন বুড়ো গোপাল!’

    বড়মামা বললেন, ‘হাতে একটা টেনিস বল দিতে হবে।’

    ‘টেনিস বল কেন?’

    ‘গোপালের হাতে নাড়ু।’

    মেজোমামা সোফায় পায়ার কাছ থেকে বললেন, ‘গদা, তোর চোখে একবার দেখ তো।’

    ললিতকাকু বললেন, ‘কি খুঁজছ, সেটা যদি বলতে তা হলে আমরাও সাহায্য করার চেষ্টা করতুম।’

    মেজোমামা থেবড়ে বসে বললেন, ‘ছোট্ট এতটুকু একটা স্ক্রু। চশমার ডাণ্ডিটা খুলে গেল। হাই পাওয়ার। চশমা ছাড়া লেখাপড়া করব কী করে?’

    ললিতকাকু বললেন, ‘ওটা পাওয়া গেলেও লাগাবে কী করে?’

    ‘চেষ্টা করব কানখুশকি দিয়ে।’

    সোফার গদির খাঁজ থেকে জিনিসটা পাওয়া যেতেই মেজোমামা বললেন, ‘এ ছেলেটার কোনও তুলনা নেই, রিয়েল ভাগনে।’

    বড়মামা বললেন, ‘যখন ভাগ নেবে তখন বুঝবে, রিয়েল কতটা রিয়েল!’

    ‘কিন্তু চশমাটা কোথায়? কোথায় রাখলুম!’

    বড়মামা বললেন, ‘দাঁড়া দাঁড়া, আমি বোধহয় বসে আছি, পেছনে শক্ত মতো কি একটা!’

    চশমা ফ্ল্যাট। বড়মামার সে কি আনন্দের হাসি, ‘তোর চশমা, তোর চশমা!’

    ‘একবার দেখলে না? কোথায় কার ওপর বসছ?’

    ‘তুইও একবার ভাবলি না, কোথায় রাখছিস? সেই একইরকম, কেয়ারলেস। মনে পড়ে ছাতে চশমা খুলেছিলিস হনুমানে চোখে পরে চলে গেল। টুথব্রাশ নিয়ে গেল কাকে।’

    ‘কে কাকে বলছে! তুমি হ্যা হ্যা করে হেস না। ভিজে গামছার ওপর প্যান্ট করে হাসপাতালে চলে গেলে। সবাই বলতে লাগল, ভুলে হিসি করে ফেলেছে।’

    ‘তুই আর ফটফট করিস না, কল্যাণের বউকে নমস্কার করে বললি, স্টিল ইয়াং, ছেলে কিন্তু বুড়ো হয়ে গেছে।’

    ‘তুমিও আর বোলো ন, সেদিন ফটিককে কুমুদ ভেবে বলে বসলে, রোগটা আর ক’দিন আগে ধরা পড়লে তোমার বাবাকে বাঁচানো যেত।’

    বড়মামা ললিতকাকুকে দেখিয়ে বললেন, ‘আচ্ছা বল তো, এই ভদ্রলোক কে?’

    মেজোমামা বললেন, ‘রাধারমণবাবুকে চেনে না, এ পাড়ায় এমন কে আছে?’

    বড়মামার ঠোঁটে অদ্ভুত হাসি। খুব মিষ্টি স্বরে বললেন, ‘যা বাড়ি যা, ভালো করে রেস্ট নে।’

    ললিতকাকু বললেন, ‘স্লাইট মিস্টেক। আমি ললিত। এ পাড়ায় রাধারমণ বলে কেউ তো নেই। বৃন্দাবন অথবা নবদ্বীপে থাকতে পারে।’

    মাসিমা আর কাজলদি ঘরে ঢুকলেন। দুজনের হাতে দুটো ট্রে। চা আর গরম গরম আলুর চপ।

    মাসিমার মুখ গম্ভীর। বড়মামা লক্ষ করেছেন। হম্বিতম্বি যতই করুন, মাসিমাকে ভয় পান।

    বড়মামা বললেন, ‘কুসি, আমি তোকেই আশা করেছিলুম। একটু বসবি?’

    ‘না।’

    ‘কেন? না কেন? আমি একটা ব্যাপার একসপ্লেন করতে চাই।’

    ‘আমি শুনতে চাই না। আমি শান্তি চাই।’

    ‘এই বাড়িতে তো চির শান্তি! এমন বাড়ি কোথাও তুমি পাবে না খুঁজে। মেজোটা মাঝে মাঝে গোলমাল করে ফেলে, হট হেড, রগচটা। ওটা ওর শরীরের জন্যে। ভাল্লুকের মতো চেহারা। হজম করতে পারে না; কিন্তু খাওয়া চাই। কনস্টিপেশান।’

    ‘তুমি বকবক কর। চা-চপ ঠান্ডা হয়ে যাক। দাদা, আপনারা খান তো। শুরু করে দিন।’

    বড়মামার এইবার করুণ সুর, ‘একটু বোস। আমি এমন একটা কাণ্ড করতে চাইছি, যা হবে এই শতাব্দীর এক নম্বর নিউজ। হেডলাইন। টিভির সব কটা চ্যানেল হেরে-রেরে করে ছুটে আসবে। ঘটনাটা ঘটবে আগামীকাল বিকেল পাঁচটায়।

    ‘ঘটনাটা কি?’

    ‘যখন ঘটবে তখন জানতে পারবে। তার আগে নয়।’

    মাসিমা বললেন, ‘এই তোমার আলোচনা? এর জন্যে বসতে বললে!’

    মেজোমামার দুটো চপ খাওয়া হয়ে গেছে। তৃতীয়টাকে আক্রমণ করেছেন। সেই অবস্থায় বললেন, ‘চিরকালই বাঙলায় উইক। কোনওরকমে তিরিশ। ও ঘোষণা আর আলোচনার তফাৎটা জানে না। কাল কিছু একটা করবে। অস্বাভাবিক কিছু। সেইটাই ঘোষণা করল।’

    ‘একটা অলুক্ষণে মড়ার খাট, দুটো লম্বা বাঁশ, নারকেল দড়ি, এইসব বাড়িতে ঢুকিয়েছে। এর মানেটা কি?’

    বড়মামা বললেন, ‘দারুণ হয়েছে।’

    ‘মানে?’

    ‘আলুর চপ। ওয়ার্ল্ডস বেস্ট। রান্নাবান্নার জন্যে নোবেল পুরস্কার থাকলে আমি তোর নাম সুপারিশ করতুম।’

    মাসিমা বললেন, ‘আমি জানতে চাই।’

    ‘আমিও জানাতে চাই।’

    মেজোমামা বললেন, ‘আমি জানতে চাই না।’

    ললিতকাকু বললেন, ‘আমি জানার জন্যেই ঢুকেছি।’

    বড়মামার ঝাল লেগেছে, ‘এই লঙ্কাকাণ্ড একটা লঙ্কা থেকে এসেছে। আর ঐ কাণ্ডটা ঘটে আমাদের মুখে। প্রচুর ভিটামিন সি আছে, অ্যাপেটাইজার, রোগ প্রতিষেধক। বুদ্ধির বিকাশ ঘটায়। পোকামাকড় দমন করে।’

    মেজোমামার ঠোঁটে বাঁকা হাসি—’লঙ্কার ক্লাস নিচ্ছে। আমার বড়দা কত কি জানে! জ্ঞানের ঢিপি।’

    ললিতকাকু বললেন, ঢিপি শব্দটা চেঞ্জ করে বলুন কূপ, জ্ঞানকূপ।’

    ‘কূপ শব্দ জ্ঞানের সঙ্গে যায় না। অন্ধকার। অন্ধকূপ। জ্ঞান হল আলো, জ্ঞান-সমুদ্র।’

    বড়মামা খুব খুশি হয়ে বললেন, ‘মেজোটাকে একটা কারণে আমি ভালোবাসি, শ্রদ্ধা করি। গুণের কদর করতে জানে, ভেতরটা ওর মন্দিরের মতো পরিষ্কার। সামান্য ছটি আছে। সে আমাদের ফ্যামিলির সকলেরই ছিল। যারা জিনিয়াস তাদের মাথার সামান্য সামান্য গোলমাল থাকবেই। আমার পিতামহ পূর্ণিমার রাতে সারা রাত ঘুড়ি ওড়াতেন। বলতেন, উড়তে উড়তে ঘুড়িটা হয়ে যেত পরী। আকাশে গান গাইত। ঘুড়ি পরী হয়ে গান গাইছে। রাত দুটো। ব্যাপারটা হল, দাঁড়ান, আমি উদাহরণ দিয়ে বোঝাবার চেষ্টা করি, হনুমান যখন যেখানেই জন্মাক না কেন, ল্যাজ নিয়েই জন্মাবে। হনুমান বড় হচ্ছে ল্যাজও বড় হচ্ছে। সেইরকম এই ফ্যামিলির আমরা জ্ঞান নিয়েই জন্মেছি। কিছু করার নেই। আমরা জগতকে দিতে এসেছি।’

    ললিতকাকু ভয়ে ভয়ে জিগ্যেস করলেন, ‘এ পর্যন্ত আপনারা কি দিয়েছেন?’

    ‘সে বোঝা যাবে আমরা চলে যাওয়ার পর। লোকে হায় হায় করবে। যেন আকাশের গা থেকে একজোড়া পাহাড় সরে গেল।’

    মাসিমা রেগেমেগে উঠে পড়লেন। বড়মামা বললেন, ‘এ কি, আসল কথাটা না শুনে চলে যাচ্ছিস? বোস। ফাইভ মিনিটস।’ বড়মামা খানিকটা পায়চারি করে বললেন, যেন বক্তৃতা—’মানুষ একদিন না একদিন মরবেই। জন্ম আর কিছুই নয় মৃত্যুর চক্রান্ত। মৃত্যু হল শিকারি, আমরা হলুম গিয়ে হরিণ। মৃত্যু সাঁট সাঁট করে তির ছুঁড়ছে। কারুর পাশ দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে, কারো বুকে প্যাঁট, হয়ে গেল, ফিনিশ। মৃত্যু বললে, পালাবি কোথায়? ব্যাটা, আজ না হয় বাঁচলি, কাল! কাল, না হয় পরশু। তাহলে?’

    মাসিমা বললেন, ‘তোমার মাথা।’

    ‘ঠিক! আমার মাথা। এ মাথা পৃথিবীতে খুব বেশি নেই। বৈজ্ঞানিক মাথা। এই মাথাটা কেবল জানতে চায়। গপগপ করে গাপ্পি মাছের মতো জ্ঞান গিলতে চায়। জানবো, আরও জানবো।’

    ‘ঢাক পেটাব।’ মেজোমামার মন্তব্য।

    ‘হ্যাঁ পেটাব। একটা নয় একজোড়া। স্পর্শকাতর, ঈর্ষাকাতর, দুর্বলচিত্ত মানুষদের দাওয়াই দিতে হয়। টনক নড়িয়ে দিতে হয়। যারা অজ্ঞান তাদের এইভাবে শব্দ করে জাগিয়ে দিতে হয়।’

    মাসিমা বললেন, ‘মেজো শুনছিস?’

    ‘না, আমি এখন বিশেষভাবে ব্যস্ত আছি। প্রায় শেষ করে এনেছি। একটু গুঁড়ো পড়ে আছে।’

    ‘তার মানে?’

    ‘সোফায় বসা মাত্রই অনুভব করলুম, একটা কিছুর ওপর বসে পড়েছি। একটা কৌটো। বের করে দেখি লেখা রয়েছে ‘বাদশাহী গোলি’। দারুণ খেতে, ওয়ান আফটার অ্যানাদার।’

    বড়মামা লাফিয়ে উঠলেন, ‘নিঃশব্দে সবটা মেরে দিলি?’

    ‘বড়দা, তোমার ভালোবাসাতেই বেঁচে আছি। বলো, বলো, তুমি বলে যাও। বিভোর হয়ে বলে যাও।’

    বড়মামা বেশ ভেঙে পড়েছেন। ‘আমার এক পেশেন্ট লখনৌ থেকে এনে দিয়েছিল। আমার জন্যে একটুও রাখলি না।’

    ‘এই তো কৌটোর তলায় গুঁড়ো গুঁড়ো একটু রয়েছে। পরে টেস্ট করে দেখো। আর তোমার পেশেন্টকে দশ-বিশ কৌটো আনাতে বোলো। লোকটা মনে হয় কৃপণ। তোমার মতো এত বড় একজন ডাক্তারকে এক কৌটো? মিনিমাম দশ কৌটো দেওয়া উচিত। ডাক্তারদের লাজুক হওয়া উচিত নয়। ডাক্তার হল জীবনদাতা, নেকস্ট টু গড।’

    বড়মামা বললেন, ‘হুঁ।’

    মেজোমামা বললেন, ‘এটা একটা ইতিহাস। ভাইয়ের প্রতি ভাইয়ের এই ভালোবাসা। এমনটি পৃথিবীর আর কোথাও দেখা যাবে না। সেই ত্রেতা যুগে রাম আর লক্ষ্মণ, আর এই কলিযুগে আমরা দুটি ভাই নাড়ু কিনে খাই, শিবের গাজন গাই। এই মানুষটাকে কেউ চিনল না। আমি ভাবছি প্রচারে বেরোবো। জ্যান্ত ভগবান!’

    বড়মামা বললেন, ‘কাটা ঘায়ে কেন নুনের ছিটে দিচ্ছিস। যত আমি ভুলতে চাইছি।’

    বৃন্দাবনকাকু আমাদের ম্যানেজার কাম দারোয়ান কাম মালী। ঘরে এসে বললেন, ‘খাটিয়াটা কি বিহারীর জন্যে আনিয়েছেন? ও জিগ্যেস করছে।’

    ‘না, ওটা আমার জন্যে।’

    ‘আপনার তো খাট আছে!’

    ‘না, আমার কিচ্ছু নেই। আমি ছাড়া আমার কিচ্ছু নেই।’

    মেজোমামা বললেন, ‘চরম বৈরাগ্য। আমি লক্ষ করেছি প্রত্যেক বছর এই শ্রাবণ মাসে, বাবার মাসে দাদার মানে এই রকম একটা ভাব আসে। পূর্ব, পূর্ব জন্মে সাধক ছিল। গভীর অরণ্যে বল্কল পরে ঘুরত। পাশের তপোবনেই থাকত শকুন্তলা। আহা! সেই ঋষিকন্যাই রোজ সকালে একটু বেলপোড়া দিয়ে যেত কচি কলপাতায় মুড়ে। গোল করে রোল করে ‘বেল রোল’। সারা দিনের আহার। সেবারেই মোক্ষলাভ হয়ে যেত। সামান্য একটু আসক্তি!’

    ললিতকাকু শেষ চপটা বেশ তারিয়ে তারিয়ে খেতে খেতে প্রশ্ন করলেন, ‘কি ধরনের আসক্তি?’

    ‘চুরি।’

    ‘সে কি চুরি?’

    ‘সোনাদানা নয়। বালকস্বভাব। দুপুরবেলা শকুন্তলার আশ্রমে বেদপাঠ করতে যেত। শকুন্তলা আবার আচার তৈরিতে সিদ্ধহস্ত ছিল। কুলের আমের, তেঁতুলের। স্বর্গে সাপ্লাই করত। সেই সব আচার আশ্রমের দাওয়ায় রোদে দিত। আমার পূর্ব, পূর্ব, পূর্ব জীবনের এই দাদা সেই সব লক্ষ করত; সেই সব আচার আশ্রমের দাওয়ায় রোদে দিত। আমার পূর্ব, পূর্ব, পূর্ব জীবনের এই দাদা সেই সব লক্ষ করত; কিন্তু কড়া নিয়ম সাধুরা টক, মিষ্টি, ঝাল, নুন ছুঁতে পারবে না এমন কি মনে ভাবতেও পারবে না। জিভে জল এলে, চোখে লোভ এলে সাধনা পণ্ড। আবার শুরু থেকে শুরু করতে হবে। প্রথম প্রথম দাদা ওসব দিকে তাকাত না। কিন্তু নানারকম মশলার গন্ধ নাকে আসছে। শকুন্তলার সখীরা মাঝে-মধ্যে আচারমাখা আঙুল চুষতে চুষতে আধবোজা চোখে টকাসটাস শব্দ করছে। কতক্ষণ আর নিজেকে ঠিক রাখা যায়। একদিন শকুন্তলা দুপুরে তার প্রিয় হরিণকে আদর করতে করতে গাছতলার ঘাসের ওপর শুয়ে পড়েছে। একটু তন্দ্রা এসেছে। দাদা তেঁতুলের আচার চুরি করে মুখে পুরেছে। আর একটু নেবে বলে হাত বাড়িয়েছে, এমন সময় খপ।’

    ললিতকাকু জিগ্যেস করলেন, ‘খপ মানে?’

    ‘সিকিউরিটি। ধরে ফেলেছে। শকুন্তলা রাগী মেয়ে। বিশ্বামিত্রের মেয়ে, তার রাগ থাকবে না! টেরিফিক রাগী। না, সে কিছু অন্যায় বলেনি। বড়দাকে বললে, মাথা নেড়া করেছ, টিকি রেখেছ, গেরুয়া পরেছ, আমাকে বললে, আমি কি তোমাকে দিতুম না! তোমার হবে না, হবে না, কিস্যু হবে না। আরও হাজার বার জন্মাতে হবে। কাঁচি বের করে টিকিটা কচাত করে কেটে, হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললে, ‘নিকালো হিঁয়াসে।’

    ললিতকাকু বললেন, ‘আপনি তখন কোথায় ছিলেন?’

    ‘নিমগাছে।’

    ‘নিমগাছে কেন?’

    ‘কাকের বাসা তো নিমগাছেই হবে। শকুদিদি রোজ বারোটা সময় আলোচালের ভাত ছড়িয়ে দিত। আমি আর আমার মিসেস খেয়ে মন্দাকিনীর তীরে চলে যেতুম। কখনো চুরি, ছিনতাই করিনি। মিথ্যে কথা বলার প্রশ্নই নেই। কারণ, আমরা ‘ক’ ছাড়া কিছুই বলতে পারি না। একটাই শব্দ বেরোয় কা। মিথ্যে কথা বলতে হলে অনেক কথা বলতে হয়। আমাদের তো একটাই সম্বল ‘কা’। সেই কারণে কাক সত্যবাদী। শ্রদ্ধেয়। আমরা তো রামায়ণে স্থান পেয়েছি।’

    ললিতকাকু সহজে কিছু মানতে চান না। এক একজন এইরকম থাকেন। ভগবানের কলে অনবরত মানুষ তৈরি হচ্ছে। কোনটা কেমন হবে, সে যতক্ষণ না হচ্ছে, আগেভাগে বলা যায় না। কতকগুলো ছাঁচ তৈরি আছে। ঝপাঝপ বেরিয়ে আসছে। সে যাক, সে আমি পরে সময় পেলে বলব। স্বপ্নে আমি ভগবানের কারখানায় এক রাত ছিলুম। ললিতকাকু বড়লোক বলে নিজেকে কি ভাবেন? মেজমামাকে যে-কথাটা বললেন, শুনতে খুব খারাপ লাগল আমার। ক্যাটক্যাটে গলায় বললেন, ‘রামায়ণে জন্তু-জানোয়ার অনেক আছে, বাঁদর-হনুমানই বেশি। আর আছে পক্ষী-রাজ জটায়ু আর এক বিরাট গরুড়। সেখানে কাক?’

    মেজোমামা বললেন, ‘আপনি ভুশুণ্ডি কাকের কথা শোনেনি। আমার এই দাদাটির তপস্যা যখন পণ্ড হয়ে গেল, নিজের টিকি হাতে নিয়ে আশ্রম থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে, পতিত, অধম। দয়াময়ী শকুন্তলা হাতে ধরিয়ে দিয়েছে তেঁতুলের আচারের বয়াম, ধরিয়ে দেওয়ার কারণ, এঁটো হয়ে গেছে, দেবতার ভোগে লাগবে না, তখন আমি কিন্তু আমার পোজিশানে ঠিক আছি। স্বয়ং শিব আমার প্রশংসা করছেন।’

    ‘আপনার মানে? যে আপনি আমাদের সামনে বসে আলুর চপ খাচ্ছেন?’

    ‘ধুস! আমি তো আমার পূর্ব পূর্ব জীবনের কথা বলছি। তখন আমি হরি ভক্ত, রাম ভক্ত ভুশুণ্ডিকাক। এই তো আজও বারাণসীতে গেলে শুনবেন, সাধু সমাবেশে তুলসীদাসের শ্রীরামচরিতমানস পাঠ হচ্ছে।

    ‘উত্তর দিসি সুন্দর গিরি নীলা। তই রহ কাকভুসুণ্ডি সুসীলা। পরম পবীণা। গ্যানী গুন গৃহ বহু কালীনা।’

    ‘কি বুঝলেন?’

    ‘কাঁচকলা!’

    ‘আমার সম্পর্কে প্রশংসা।’

    ‘মানে, আপনার সেই কাক জন্মের কথা।’

    ‘সাধারণ এই কা-কা করা কাক নয়। ভুশুণ্ডি কাক। হিমালয়ের উত্তরে সুন্দর একটি নীল পাহাড়, যে পাহাড়ের নাম সুমেরু, সেইখানে একটি অসাধারণ বট বৃক্ষে আমার বাসা। বাসা নয় আশ্রম। দিনের বেলা সেই গাছে তলায় আমাকে ঘিরে যত বৃদ্ধ প্রবীণ পাখিরা সরোবরের জলে স্নান করে এসে বসত। হরি নাম, রাম নাম, আর আমার ভালো ভালো জ্ঞানগর্ভ যত কথা। সেইসব কথা শুনে মানুষের দুঃখ দূর হয়ে যেত।’

    ‘একটু বোধ হয় ভুল হল, মানুষ নয়, পাখিদের দুঃখ।’

    ‘ভুল আপনার হল, লক্ষ লক্ষ কাক, হাটে-ঘাটে, গ্রামে-গঞ্জে একটি কথাই বলছে, কা-কা। কা মানে কি?’

    ‘কি মানে?’

    ‘ভুলে গেছি। ত্রেতা যুগের কথা। মনে থাকে?’

    ‘কাক থেকে মানুষ হলেন কত সালে? বিফোর খ্রাইস্ট, আর আফটার খ্রাইস্ট, আর আফটার খ্রাইস্ট?’

    ‘ও ডি এন এ টেস্ট করলেই ধরা পড়বে। এখন বিজ্ঞান এসে গেছে।’

    মাসিমা ঘুমিয়ে পড়েছেন। বড়মামা বললেন, ‘যারা খুব বেশি কথা বলে, তারা বাজে কথা বলে।’

    ‘আরে বাবা, কথা বলতে হলে জ্ঞান থাকা চাই, লেখাপড়া চাই। জানতে হবে। না জানলে জানানো যায়।’

    মাসিমা ঘুম জড়ানো গলায় বললেন, ‘কটা বাজল রে? কাক কি এখনো ডাকছে?’

    বনমালীদা ধীরে ধীরে ঘুরে ঢুকল। অসাধারণ এক মানুষ। মালকোঁচা মারা ধুতি। হাতঅলা গেঞ্জি। চওড়া বুক। লোহার মতো শক্ত শরীর। সারাদিন কাজ করে। খুঁজে খুঁজে কাজ বের করে। মাসিমা বলেন, ‘এই বাড়িটার নাম হওয়া উচিত বনমালী ভবন।’ মানুষটার অতীত নেই। মধুপুরে একটা সুন্দর বাগানবাড়ি আছে। দাদুর শখের বাগান। গোলাপ যদি দেখতে হয় শীতকালে ওই বাগানে যেতে হবে। দাদু বনমালীদাকে ওই মধুপুরেই পেয়েছিলেন। নিজের ছেলের মতো করে মানুষ করেছিলেন। ভীষণ স্মরণশক্তি। মুখে মুখে যোগ-বিয়োগ-গুণ-ভাগ। কতদিন এমনও হয়েছে, অঙ্ক আটকে গেছে—’বনমালীদা, একটু দেখ না।’ পাঁচ মিনিটে সমাধান। দাদু বলেছিলেন, ‘তোকে আমি হাইকোর্টের অ্যাডভোকেট করব।’

    বনমালীদা বলেছিল, ‘আমি নামেও মালী, কাজে ওই মালী। আপনার একটা ছেলে মুখ্যুই থাক।’

    বনমালীদা ললিতকাকুকে বললে, ‘বাড়িতে ডাকছে। কি একটা আটকে গেছে।’

    ‘ওঃ, এই এক আলমারি হয়েছে। বর্ষা এল তো পাল্লা আটকে গেল। এই আসর ছেড়ে আমার যেতে ইচ্ছে করছে না। আরও তিনকাপ চা খাব। রাতের খাওয়াটাও যদি এরা বলে!’

    মাসিমা বললেন, ‘বলাবলির কি আছে? লুচি, ছোলার ডাল, মরিচের ঝাল দেওয়া শুকনো আলুর দম। পেটফুলো পটলভাজা।’

    ‘উঃ উঃ কতদিন এইসব খাইনি। বাবা বনমালী তুমি তো আমাদের সকলের বনমালী। যা না বাবা, খুলে দিয়ে আয় না। যদি না খোল লাথি মেরে ভেঙে দিয়ে আয়।’

    সে আমি যাচ্ছি। বড়দা, তুমি খাটিয়াটা কি জন্যে আনালে? দুটো বাঁশ, দড়ি?’

    ‘আমার জন্যে।’

    ‘খাটিয়ায় শোবে কেন?’

    ‘তুই ঘুরে আয়। অনেক কথা আছে।’

    মেজোমামা বললেন, ‘আমি বিকেলে রোজ মাইল চারেক হাঁটি। শরীর যদি ফিট না থাকে দেশের, দশের কাজ কি করে করব? আমরা সকলেই তো পরের জন্যে জন্মেছি। যেমন আপনি জন্মেছেন আমার জন্যে, আমি জন্মেছি আপনার জন্যে। ব্যাপারটা কি ইন্টারেস্টিং, তাই না! আমি একটা আইসক্রিম খেলুম আপনার জন্যে। আপনি একটা মোগলাই খেলেন আমার জন্যে। এই যে বলে, গিভ অ্যান্ড টেক—এটা কি বলুন তো?’

    ‘ও তো সেই জ্ঞান হওয়া তক শুনে আসছি, ফেলো কড়ি মাখো তেল। দাও, প্রথমে দিতে হবে, তারপর নেওয়ার প্রশ্ন। দুনিয়াদারি হল দোকানদারি। কত দাম? একশো টাকা কেজি। এই নাও একশো টাকা। মাল ওজন হচ্ছে। এক কেজি তো এক কেজিই। এক গ্রামও বেশি নয়। এই তো সেদিন একটা ইংরিজি গান শুনছিলুম। এই পৃথিবী তোমাকে ফ্রি লাঞ্চ দেবে না। এই ব্যবস্থা কোথাও নেই। এ যে একটা সেলুন! চুল তোমার কাঁচি আমার। সাউথে গিয়ে দেখি, বিনা পয়সায় মাথা কামিয়ে দিচ্ছে। ব্যাপারটা কী? ওই চুল বিদেশে চালান যাবে—পরচুল তৈরি হবে।’

    মেজোমামা বললেন, ‘আমার কাছে সত্তরটা বিয়েবাড়ি ঘোরা একটা শাড়ি আছে।’

    ‘সে আবার কি?’

    ‘ওই যে গিভ অ্যান্ড টেক। কনের হাতে দিয়েই বলি, এইবার আমার হাতে দাও। সঙ্গে সঙ্গে অ্যাবাউট টার্ন। লেফট, রাইট, লেফট রাইট, কুইক মার্চ।’

    বড়মামা এতক্ষণ পরে একটি কথা বললেন, ‘এই জন্যেই হল না। সব গল্প ফিরে এল। সব উদ্ভট। একটাও স্বাভাবিক ব্যাপার নেই। সব চরিত্রই পাগল। একটা গল্প আমাকে শুনিয়েছিল, তখন বুঝেছিলুম অসম্ভব। হবে না। বীরেশ্বর কুণ্ডু ছাতের কার্নিশে মর্নিংওয়াক করে। সেনাবাহিনীতে ছিল কর্নেল। একটা গুলিতে তিনজন ডেড। দমবন্ধ করে চব্বিশ ঘণ্টা থাকতে পারত। খাওয়ার ব্যাপারে ভেরি স্ট্রিকট। ভোরবেলা একদলা দই-চিঁড়ে। সারাদিনে কয়েক ফোঁটা গঙ্গাজল। বছরের শেষ দিনে একবারই টয়লেটে যেত। আর শরীরে ওজন ইচ্ছেমতো কমাতে-বাড়াতে পারত। কখনো তুলো, কখনো পাহাড়। যখন হাসত, মনে হত বালক। গর্জন করলে সিংহ। নিজেকে ছড়িয়ে দিতে পারে। এক হয়ে গেল এক হাজার। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় কামকাটস্কাকায় এক ভারতীয় যোগীর ঘাড়ে গিয়ে পড়েছিল বিপক্ষের তাড়া খেয়ে। যোগী ওরই পায়ের বুট খুলে বেধড়ক পিটিয়ে মহাভারত মুখস্থ করালেন। মহাভারত না পড়লে বীর যোদ্ধা হওয়া যায় না জানোয়ার কোথাকার! তারপর এটা ময়ূরের পালক হাতে নিয়ে বললেন এই তোর কৃষ্ণ! এই হল ওর গল্প। কে ছাপবে, কেন ছাপাবে! সকলে কি সব কিছু পারে? কেউ বললে, আমি গাইয়ে হব। আমার গলায় সুর নেই, আমি গাইয়ে হব। আমার ভেতরে ভাব নেই, আমি কবি হব। পাগল, পাগল, সব পাগল।’

    বনমালীদা ফিরে এল, ‘বউদি জিগ্যেস করলে, কি করবে?’

    ‘কিসের কি করবে?’

    ‘তোমার বেড়াল ছটা বাচ্চা নিয়ে বিছানায় উঠেছে।’

    ‘ইচ্ছে হয়েছে উঠেছে। আমি কী করব!’

    ‘ওরা কি থাকবে?’

    বড়মামা পশুপ্রেমী। বড়মামা বললেন, ‘মা তার ছেলেমেয়েদের নিয়ে কি পথের ধুলোয় পড়ে থাকবে? এটা কোনও প্রশ্ন হল?’

    ললিতকাকু বললেন, ‘কিছু মানুষ আছে নিজেকে ছাড়া কারোকে সহ্য করতে পারে না। বেড়ালটাকে দেখলে আপনি অবাক হয়ে যাবেন। বাসন্তী রঙের বেড়াল। আমার মনে হয় মা সরস্বতীর হাউসহোল্ড থেকে নামছে। মায়ের দেশটা যেন কোথায়? যদ্দুর জানি, মা তো মিস, মিসেস হননি, তাহলে তো বাপের বাড়ি কৈলাসেই থাকেন। এই বেড়ালটার পূর্ব পূর্ব ডট ডট ডট কম ওই কৈলাস! যেমন আমাদের মেজদা অধ্যাপক হলেও উনি কাক বংশের ক্রো। বিলেতে সায়েবদের টাইটেলে ক্রো আছে, মার্টিন ক্রো। বুল আছে। একজন নামকরা মহিলার নাম সারা বুল।’

    বড়মামা বললেন, ‘বাসন্তী আপনার বাড়িতে অনাদরে আছে। আমি বুঝতে পারছি। বাসন্তী তার ছেলে-মেয়ে নিয়ে এখানে চলে আসুক। আমি পালকি পাঠাচ্ছি। এখানে সে কন্যার আদরে থাকবে। আপনি তার পিতার মতো যখন-তখন এসে দেখে যাবেন।’

    ‘এটা বোধহয় সম্ভব হবে না। কারণ, বাসন্তী আমাদের লক্ষ্মী, ফরচুন।’

    ‘বেড়ালের সঙ্গে মা লক্ষ্মীর নয় মা ষষ্ঠীর সম্পর্ক। বেশ বাসন্তীর মেয়ের রঙও বাসন্তী হবে। আমাকে দেখেন। একটা, দুটো, তিনটে।’

    ‘অ্যায়, এইটাই হল ট্রাজেডি। একটা বাচ্চাও মায়ের দিকে গেল না।’

    ‘বাসন্তী রঙের একটাও হল না, সাদা হল, ছাপকা, সাদা-কালো।’

    খুক খুক একটা কাশি শোনা গেল। পণ্ডিতমশাই। সেই পোশাক-ধুতি, উত্তরীয়, চটি। থেকে থেকেই নাক টানেন, মুদ্রাদোষ। হাতে একটা পাঁজি থাকবেই থাকবে। একাদশী, অমাবস্যা, প্রতিপদ। গ্রহে গ্রহে ঠোকাঠুকি। ঘরে ঢুকতে ঢুকতে বললেন, ‘এবারে তাহলে পুজো হচ্ছে না?’

    বড়মামা পাল্টা প্রশ্ন করলেন, ‘কেন, পুজো হবে না কেন? আপনি বারণ করেছেন?’

    পণ্ডিতমশাই খুব রাগী। অনেকে রেগে গেলে ইংরিজি বলেন, মাঝে মাঝে হিন্দি। পণ্ডিতমশাই বলেন সংস্কৃত। গলগল করে সংস্কৃত বেরোতে থাকে, অনুস্বর, বিসর্গ, চন্দ্রবিন্দু। ভীষণ রেগে গিয়ে বললেন, ‘আমি বারণ করব কেন? কস্য ত্বং বা কৃতঃ আয়ত,—কোন ঘাটের মড়া পুজোর মাঠে প্রোমোটারি করছে, আমি জানতে চাই।’

    ‘ও আর জেনে কি হবে? সর্বং খল্বিদং প্রোমোটারং। আশ্চর্যং আশ্চর্যং ইতি মে মতি। ত্রিভুবনং প্রোমোটারেণ থিক থিকং, যত্র যত্র দৃষ্টিং পততি। বৃহৎ বৃহৎ ইমারতং দর্শতি।’

    ‘মিটিং-এ বসছ কবে?’

    ‘সে তো কমিটি জানে। পুজো এবছর কোন কোম্পানি স্পনসর করছে?’

    ‘সে তো তোমার জানার কথা, তুমি তো আজীবন প্রেসিডেন্ট।’

    ‘প্রেসিডেন্ট তো একটা নাম। মালাপাড়া পুজো কমিটির প্রেসিডেন্ট তিন বছর হল মারা গেছেন। ওরা জানেই না।’

    ‘আরে গতবার তোমাদের সেক্রেটারিকে বললুম, নদের নিমাই যাত্রাপালাটা দাও না। সে বললে, ওসব নিমাই-টিমাই চলবে না। আমাদের পুজোর একটা ঐতিহ্য আছে।’

    মাধাইদা ঘরে ঢুকল। পাড়ার সবাই বলেন, নামটা ড্যামেজিং তবে ছোলটা ভীষণ ভালো। খাঁটি। মাধাইদা প্রণাম-টনাম করে বড়মামাকে জিগ্যেস করলে, ‘কটায় বেরোবেন?’

    ‘বারোটা। তুই কি বলিস?’

    ‘রাস্তাঘাট নির্জন থাকবে, সমস্যা একটাই, কুকুর।’

    ‘ও তোরা চার-পাঁচজন থাকবি। হাতে একটা লাঠি থাকবে।’

    ‘বড়দা, লাঠি রাখব না। আজকাল সাদা-পোশাকে পুলিশ রাতবিরেতে ঘাপটি মেরে থাকে। আগে যেমন দেখলেই বোঝা যেত পুলিশের গাড়ি, এখন বোঝার উপায় নেই। আসলে ব্যাপারটা তো কিছুটা বেআইনি।’

    ‘বেআইনি বলছিস কেন?’

    ‘বডিটা তো ডেড নয়; কিন্তু সব কিছু ডেডবডির মতো। শ্মশানে ঢুকবে?’

    ‘ঢুকবে। নামাবি। কিছুক্ষণ রাখবি।’

    ‘হেভি রিস্ক। এত রাতে আর কোনও বডি না থাকলে চুল্লিতে ঢুকিয়ে দেবে। একটা ডেথ সার্টিফিকেট লিখে আমার কাছে রেখে দিন। সাবধানের মার নেই।’

    ‘এ তুই কি বলছিস, নিজের সার্টিফিকেট নিজে লিখবো?’

    ‘ও কাজে না লাগলে রেখে দেবেন, পরে একদিন না একদিন কাজে লেগে যাবে। পদ্ম আর গোলাপ এনেছি। প্রচুর গাঁদা, চার প্যাকেট চড়া গন্ধ ধূপ। অগরুও এনেছি।’

    ‘পুরো বডিটা ফুলের তলায় থাকবে। মুখটা বাদ।’

    ‘হয়ে যাবে। খই আনিনি। কুশল বললে খই আজকাল ছড়ায় না। রাস্তা নোংরা হবে। কেস খাবেন।’

    ‘তা যা, খাটিয়ায় দড়ি পরা। আর বেশি সময় নেই।’

    ‘কুশল আর মধু লেগে গেছে। বাড়ির কেউ কাঁধ দেবে?’

    ‘না, বাড়িতে কেউ নেই। একা। ওই মাধাই একটু দেখে-টেখে। রাত দশটা নাগাদ খাওয়া-দাওয়া করে বসে আছে। ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাক। এইটাই হল কেস, স্টোরি। বুঝলি!’

    ‘তার মানে, খেয়ে-দেয়ে মরবেন।’

    ‘না খেয়ে মরব কেন?’

    ‘এই পোশাকে যাবেন?’

    ‘না না ধুতি-পাঞ্জাবি। মোটা খদ্দর। স্বাধীনতা সংগ্রামী।’

    ‘বলো হরি বলা হবে?’

    ‘খুব গম্ভীর গলায় থেকে থেকে বলবি হরি বোল, হরি বোল। শান্ত, ভদ্র।’

    মাসিমার ঘুম ছুটে গেছে। জিগ্যেস করলেন, ‘মাধাই, ব্যাপারটা কি রে?’

    ‘দিদি, আমরা ঠিক বলতে পারব না। বড়দাকে জিগ্যেস করুন।’

    বড়মামার মুখে সেই হাসি, যে হাসিকে তিনি স্বপ্নে দেখেছন। চাঁদের আলোর রাতে দোতলার বারান্দায় বেতের চেয়ারে ভগবান বসেছিলেন একা একা। বড়মামার কিছুতেই ঘুম আসছিল না। তখন ভাবলেন চাঁদের আলোয় চান করে আসি। দরজা খুলে বারান্দায়। ‘বেতের মোড়ায় কে বসে? মেজো! তোরও ঘুম আসছে না?’

    ‘আমি মেজো-সেজো নই। বড়র বড়, তারও বড়, সবার বড়, ভগবান।’

    বড়মামা অজ্ঞান হয়ে ভগবানের পায়ের কাছে পড়ে গেলেন। ভগবান জ্ঞান ফেরালেন। চোখ চাইলেন। কেউ কোথাও নেই। হাসিটা ভাসছে। ভাসতে ভাসতে এদিক যাচ্ছে, ওদিক যাচ্ছে, মুখটা নেই, হাসিটা রয়েছে। বড়ামামা বলেন, ওই যে ভগবান জ্ঞান ফেরালেন, ওটা চরম জ্ঞান। এই পৃথিবীর বিলকুল জানা হয়ে গেছে। বড়মামা বলেন, আশ্চর্য ব্যাপার। আমার এই পৃথিবীতে কোনও প্রশ্ন নেই, সব উত্তর। সে নাকি খুব মজা হয়েছিল। ডাক্তারদের সেমিনার। দেশ-বিদেশের ডাক্তররা এসেছেন, রোগা, মোটা লম্বা, বেঁটে। প্রশ্নোত্তর পর্ব। ‘ডক্টর মুখার্জি! এনি কোশ্চেন?’

    বড়মামা বললেন, ‘আমার কোনও প্রশ্ন নেই, সবই উত্তর।’

    একজন দুষ্ট প্রকৃতির আমেরিকান ডাক্তার বললেন, ‘ইজ ইট? আচ্ছা বলো তো, মানুষের মাথাটা কেন ওপর দিকে?’

    বড়মামা সঙ্গে সঙ্গে বললেন, ‘পা দুটো নীচের দিকে বলে!’

    সায়েব একটু ব্যঙ্গ করলেন। আর যায় কোথায়। বড়মামা মাইক্রোফোনে—’মাই ডিয়ার ফ্রেন্ড!’ এক ঘণ্টার একটা বক্তৃতা। সাতটা আন্তর্জাতিক পত্রিকায় ছাপা হল। চিঠি এল সাতশো। বড়মামা শুরুই করলেন এইভাবে ‘সব মাথাই পায়ে পড়তে চায়, কারণ ওই জায়গাটাতেই মানুষ নিবেদন করতে চায় তার শ্রদ্ধা, তার প্রেম, তার হৃদয়েব সব ঐশ্বর্য। মাথাতেই আছে হাত, পা, দর্শন, শ্রবণ, ঘ্রাণ, অনুভূতি। মাথই হল কম্যান্ডার। বাকি সব তার অনুচর। মাথার শুরুটা পায়ের কাছেই। ইচ্ছার শক্তিতেই ওপরে ওঠে। কিন্তু মনে রাখতে হবে জ্ঞানীর উপদেশ—

    Be wise

    Soar not too high to fall, but stoop to rise.

    খুব উপরে উঠো না অনিবার্য পতন, বরং নুয়ে পড় তবেই উঠবে। পা দুটো পথিক ঘুরে ঘুরে সংগ্রহ করে অভিজ্ঞতা, জ্ঞান। আর মাথাটা হল ঝুলি, সব তুলে রাখে ওইখানে। তারপর নিজের মাথাই নিজের পায়ে পড়ে। পা তখন লাথি মেরে চলে যায় নতুন জীবনের দিকে।

    আমি সব সময় বলি, ‘বড়মামা ইজ বড়মামা, নো তুলনা।’

    মাসিমা খুব চড়া গলায় বললেন, ‘বড়দা! কী করতে চাইছ, বলবে?’

    ‘বলবো, কিছুক্ষণের জন্যে মরে যাব, তারপর আবার বেঁচে উঠব।’

    ‘মানে?’

    ‘একটা মানুষ মরে যাওয়ার পর কী করা হয়? তাকে খাটে তুলে ঘাটে নিয়ে যাওয়া হয়। রাস্তা থেকে ছ’ফুট উচ্চতায় শূন্যে ভাসতে ভাসতে চলল শ্মশানে। চারটে কাঁধ থেকে তিনি মাটিতে নামলেন। বডি রেখে সবাই চলল চা খেতে। সিগারেটে টান মারতে। যখন চিতায় চাপানো হত তখন কেউ গেল কাঠের অর্ডার দিতে। ডোমেদের হেড এসে বডি দেখে বলে দেবে ক’মন কাঠ লাগবে। তারপর এটা ওটা সেটা। তিনি চিতায় চড়লেন। মুখে আগুন। এক সময় ছাই। এই যে এতসব হচ্ছে, যে মরেছে সে কিছুই জানতে পারছে না। এত বড় একটা ব্যাপার। এ তো এই নয় যে, তালাবন্ধ করে কয়েকদিনের জন্যে কোথাও বেড়াতে যাচ্ছি। আবার ফিরে আসব!’

    মেজোমামা বললেন, ‘তা তোমার প্ল্যানটা কি?’

    ‘আমার ধারণা, সে বুঝতে পারে, খুব ভালোভাবেই পারে, প্রকাশ করতে পারে না। ‘সিস্টেম ফেলিওর।’ যন্ত্র অকেজো হয়ে গেছে। অনুভূতিটা যাবে কোথায়! অনুভূতি তো কোনও যন্ত্র নয়। একটা ব্যাপার। আমি জ্যান্ত শব হয়ে আমি আগেভাগে অনুভব করে নিতে চাই শেষযাত্রাটা আমার কেমন লাগবে! এ কথা তো কেউ অস্বীকার করতে পারবে না যে আমি একজন বিজ্ঞানী। আত্মপ্রচার অসভ্যতা।’

    ললিতকাকু বললেন, ‘ফ্যান্টাস্টিক! আপনি জাস্ট একদিন ওয়েট করুন, আমিও আপনার সঙ্গী হব। আজ তো দশকর্মা ভাণ্ডার বন্ধ হয়ে গেছে। কি কি লাগবে? খাটিয়া, নারকেল দড়ি, পাতলা তোশক, সাদা চাদর, ইত্যাদি ইত্যাদি। এটাও একটা ব্যাপার মানে সকলেই তো একা একা মরে, একা একাই শ্মশানে যায়, এ আমরা পাশাপাশি দুজনে গল্প করতে করতে যাব।’

    ‘গল্প করতে করতে? আপনি পাগল না কি? ডেডবডি কথা বলবে? লোকে কি ভাববে? ছ্যা ছ্যা করবে। গায়ে থুথু দেবে। মুখে চুন-কালি মাখাবে।’

    ‘সরি, সরি, আমি অতটা ভেবে দেখিনি। মনে করেছি বেঁচে আছি।’

    ‘বেঁচে থাকলে কার দায় পড়েছে আপনাকে কাঁধে করে শ্মশানে নিয়ে যাবে?’

    ‘বুঝেছি, বুঝেছি, একদম চুপচাপ। মনে মনে গুন গুন করে গান গাইব, হরি দিন তো গেল সন্ধ্যা হল, পার করো আমারে।’

    ‘সে আপনার যা ভালো লাগে করবেন। আমি চুপচাপ পড়ে থাকব শবাসনে। চোখের ওপর কালো আকাশ। আমি পাঁজি দেখে নিয়েছি। নটা তেত্রিশে অমাবস্যা লেগে গেছে। কালো আকাশ। ফুটকি ফুটকি তারা। দু’পাশে বাড়ি। দোতলার বারান্দা অন্ধকার। কেউ হয়তো দাঁড়িয়ে আছে। সিগারেট খাচ্ছে। অনেকটা উঁচুতে হ্যালোজেন বাতি…’

    ‘কি আশ্চর্য! আপনি দেখেছেন কেন? ডেডবডি দেখে না, দেখতে পায় না, পেলেও দেখা উচিত নয়। জোচ্চুরি হচ্ছে। চোখে তুলসীপাতা সেঁটে দেয়, নাকে তুলো। আমার গল্প বন্ধ করে দিলেন, এদিকে নিজে শুয়ে শুয়ে তারা দেখছেন? একে বলে পক্ষপাতিত্ব।’

    ‘একটা ডেডবডির আর একটা বডি কি করছে কখনোই দেখা উচিত নয়। এটা হল মিনিমাম সংযম, ভদ্রতা। যেমন পরীক্ষায় বসে টোকাটুকি অত্যন্ত গর্হিত কাজ। আমি কি দেখছি আপনি কি করছেন। একটা কথা মনে রাখতে হবে, আমরা মরে গেছি। বাংলা সিনেমায় দেখেননি, বড় বড় অভিনেতা, অভিনেত্রীরা কি ভাবে মরছেন। মরে পড়ে আছেন চিৎ হয়ে। সবাই ডুকরে ডুকরে কাঁদছে। প্রার্থনা সঙ্গীত হচ্ছে। তারপর শবযাত্রা। চিতাও দেখানো হয়। মুম্বাই ছবিতে খুব ঘটা করে দেখানো হয়। ডেডবডি উনুনে ঢুকিয়ে দিলে সিনেমা মার খাবে। দাউ দাউ আগুন চাই। লেলিহান শিখা।’

    ‘তাহলে কি দাঁড়াল?’

    ‘আজ আমি শব। আপনারা শবযাত্রী। কাল আপনি শব আমরা শবযাত্রী। মড়ার ‘সেট’ তা তৈরিই আছে। কেনাকাটার দরকার নেই।’

    ‘এক মড়ার জিনিস আর এক মড়া ব্যবহার করবে?’

    ‘ওতে দোষ নেই, গঙ্গাজল ছিটিয়ে দিলেই হবে।’

    ললিতকাকু বললেন, ‘তাহলে বাড়ি থেকে গামছাটা নিয়ে আসি। কোমরে বাঁধতে হবে তো। এই আমার প্রথম অভিজ্ঞতা। আগে কখনো মড়া পোড়াইনি। ভীষণ একসাইটেড লাগছে।’

    ‘সব আছে, এক ডজন নতুন গামছা। বড়, ছোট। বড়টা কোমরে, ছোটটা মাথায়।’

    মেজোমামার আবার এইসময় একটা ঢুলুনি আসে। সময়টা পেরিয়ে গেলে সারারাত জাগতে পারেন। খুটখুট করে কত কি যে করেন! লেখাপড়া তো আছেই, তা ছাড়াও অনেক কিছু। মেজোমামা মাথাটা ঝাঁকিয়ে নিয়ে বললেন, ‘এইমাত্র একটা আইডিয়া এল। ভীষণ রোমান্টিক। ও বেশ খ্রিস্টান, ওকে আমরা কবর দেব। কালো একটা কফিন। মাটির তলায় সাত-আট ফুট গভীরে নামিয়ে দিয়ে মাটি চাপা দোবো।’

    ‘মরে যাবে তো!’

    ‘তা কি, বেশিক্ষণ বাঁচবে না। শুধু মরবে না, আমাদেরও মেরে যাবে। ফাঁসি হবে।’

    বড়মামা বললেন, ‘ওর কথা বাদ দিন। ছেলেটার কোনও কল্পনাশক্তি নেই। কি করে অধ্যাপক হয়েছে কে জানে!’

    ললিতকাকু বললেন, ‘সে আমি ছেড়ে দিচ্ছি। একটা কথাই ভাবছি, কেউ কি খেয়ে মরে?’

    ‘কি আশ্চর্য! খেয়েই তো মরে! আমার চার-পাঁচজন পেশেন্ট। এই তো রে বাবা, ক’দিন আগে নিতাইবাবু, আমাদের নিতাইবাবু, মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে একসঙ্গে সাতটা বাগদা চিংড়ি খেয়ে অন্ত্রিকে মারা গেল। আমি লুচি খেয়ে, গ্যাস অম্বলে হার্টফেল করলুম। আরে মশাই মরার তো একটা কারণ থাকবে। মরব বললেই মরা যায়!’

    মাধাই এসে বললে, ‘সব রেডি। একবার শুয়ে দেখে নিন, পিঠে লাগছে কি না! তাহলে আর একটু খড় ঢুকিয়ে দেব।’

    ললিতকাকু বললেন, ‘মৃত ব্যক্তির লাগে না। এত শবযাত্রা দেখেছ, কখনো শুনেছ কি, শব চিৎকার করে বলছে, ‘ওরে এত নাচাচ্ছিস কেন? আমি যে ছিটকে রাস্তায় পড়ে যাব।’

    মাধাই বিরক্তি মেশানো গলায় বললে, ‘আপনি এমন ভাবে কথা বলছেন যেন বড়দা সত্যি সত্যি মারা গেছেন!’

    বড়মামা বললেন, ‘মাধাই, আজ রাতে নো রাগারাগি।’

    খাঁটি ঘিয়ে লুচি ভাজার গন্ধ। বড়মামা বললেন, ‘আমি পোশাকটা পাল্টে আসি। রাজবেশ। পণ্ডিতমশাই আজ ভগবান আপনাকে এখানে পাঠিয়েছেন। কুসি সাজিয়ে দিচ্ছে, আপনি রাধা-গোবিন্দকে একটা ভোগ নিবেদন করে দিন।’

    বড়মামা কিছুক্ষণের মধ্যে রাজবেশ ধারণ করে নেমে এলেন। কি দেখাচ্ছে? কত সুন্দর! ওদিকে ঠাকুরঘরে ঘণ্টা বাজছে। পণ্ডিতমশাই বিশুদ্ধ সংস্কৃত মন্ত্রপাঠ করছেন। বড়মামা বললেন, ‘এসো, আমরা সবাই একসঙ্গে খেতে বসি। কেউ যেন বাকি না থাকে। কুসি তো আমাদের সকলের মা। কুসি! সেই ছেলেবেলায়, মনে পড়ে, ঘুমে চোখ ঢুলে আসছে, মা আমাদের তিনজনের মুখে একে একে খাবার তুলে দিচ্ছেন! তুই প্রথম গ্রাসটা আমার মুখে তুলে দে। এইটাই আমার শেষ গ্রাস। কুসি! তুই ভীষণ ভালো মেয়ে! তুই মা, তোর মধ্যে আমি আমার বিশ্বজননীকে দেখেছি। আর ওই মেজো, ও তো চির বালক! ওকে সাবধানে রাখিস। আর আমাদের এই ভাগনে, একে ডাক্তার করিস। আমার স্টেথিস্কোপটা যেন এর গলায় ঝোলে। আমাদের পরিবারের ঐতিহ্য জান-প্রাণ দিয়ে ধরে রাখিস। বনমালীদা আরও কিছুদিন থেকো, মানুষের বাগানের মালী হয়ে।’

    ললিতকাকু বললেন, ‘কেমন যেন সিরিয়াস হয়ে যাচ্ছে।’

    মেজোমামা স্তব্ধ। মাসিমা স্তম্ভিত।

    বড়মামা দেবতাদের প্রণাম করলেন। গৃহকে প্রণাম করলেন। পূর্বপুরুষদের ছবির সামনে দাঁড়ালেন। মনে মনে কিছু বলছেন। ঠোঁট নড়ছে সকলের দিকে হাসি হাসি মুখে তাকালেন। বনমালীদার হাত দুটো ধরে বললেন, ‘তুমি রইলে।’ পণ্ডিতমশাইকে প্রণাম করলেন। মাসিমাকে বললেন, ‘আমার কপালে ভাইফোঁটা দে।’ মাসিমা একটা চন্দনের ফোঁটা দিলেন। কি হচ্ছে কিছুই বোঝা যাচ্ছে না, সকলেরই কথা বন্ধ। স্তব্ধ রাত। পাতায় পাতায় বাতাসের শব্দ। বড়মামা ধীরে ধীরে খাটের দিকে এগোচ্ছেন। পাশেই একঝুড়ি সাদা ফুল। বড় বড় পদ্ম। ধবধবে সাদা চাদর। শববাহকরা স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে কোমরে বাঁধা গামছা। ধূপের ধোঁয়া অন্ধকারে সাদা সাদা চুলের মতো ঘুরে ঘুরে আকাশের দিকে উঠছে। সেই পেঁচাটা সাদা শাঁখের মতো। একেবারে ঘড়ি ধরা সময়ে এসে গেছে। চিলের ছাতের কার্নিশে। কিছুক্ষণ ধ্যান করবে। তারপর চ্যাঁ চ্যাঁ করে উড়ে যাবে গঙ্গার ধারের শিবমন্দিরের দিকে।

    খাটের কাছে এসে বড়মামা আমাদের দিকে ফিরে তাকালেন। জোড়হাতে বললেন, ‘জ্ঞানে, অজ্ঞানে যে সব খারাপ ব্যবহার করেছি, দুঃখ দিয়েছি, অবিচার করেছি, তার জন্যে আমি ক্ষমা চাইছি। আমি এসে কিছুদিন তোমাদের সংসারে থেকে গেলুম, ‘এবার পেয়েছি ছুটি বিদায় দেয় ভাই, সবারে আমি প্রণাম করে যাই।’ হ্যাঁ, একটা কথা, হঠাৎ একটা বাতাস আসবে, সব গাছে পাতা ঝপঝপ করে উঠবে, তখনই বুঝবে, আমি চলে গেলুম, চিরবিদায়। শুনতে পাবে, কোথাও যেন ঘণ্টা বাজছে, আরতি হচ্ছে, সমুদ্রের ঢেউ আছড়ে পড়ার শব্দ শুনবে। আর কথা নয়, এবার আমাকে ধরাধরি করে শুইয়ে দাও, শবকে যেভাবে শোয়ায়। কুসি আমার বুকে একটা পদ্ম রাখবে, হৃদকমলে একটি কমল।’

    কাজলদি আঁচল দিয়েছে চোখে। বড়মামার পেছন দিকে বাগান। আলো আর অন্ধকার। হঠাৎ, বড়মামা ফুলের ঝুড়িটা হাতে তুলে নিয়ে হা হা করে হাসতে হাসতে মাসিমার দিকে এগিয়ে গেলেন। সমস্ত ফুল মাসিমার মাথায় উজাড় করে ঢেলে দিতে দিতে বললেন, ‘ওরে! তোকে ছেড়ে এত তাড়াতাড়ি আমি যে যেতে পারব না।’

    মাসিমার মাথায় একটা পদ্মফুল আটকে গেছে। পায়ের কাছে কত ফুল জমা হয়েছে। কাজলদি হাততালি দিচ্ছে, ‘সরস্বতী! আমাদের মা সরস্বতী। জয় জয় দেবি, চরাচরসারে…’

    বড়মামা জিগ্যেস করলেন, ‘কেমন হল?’

    মাসিমা বললেন, ‘অনেকদিন, অনেকদিন আমার হাতে পেটানি খাসনি। পাখাটা, সেই পাখাটা কোথায় গেল। যেটা তোর পিঠে পড়ত!’

    পণ্ডিতমশাই বললেন, ‘তালপাতার হাতপাখা এক অসাধারণ সৃষ্টি। একদিকে শীতল বাতাস, আর একদিকে কঠোর শাসন। তা ডাক্তার, তুমি করলে ভালো, পাকা অভিনেতা হে! তা এখন বলো…।’

    বড়মামা একটি ফুল তাঁর পায়ে রেখে বললেন, ‘মায়ের পুজো, হবে, হবে, হবে।’

    সেই প্যাঁচা। মা লক্ষ্মীর বাহন চ্যাঁ চ্যাঁ করে জানিয়ে দিল এই বাড়িতে আমার মা আছেন, আছেন, আছেন।

    আশ্চর্য! আজ আর উড়ে গেল না।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleশিউলি – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    Next Article ২৫টি দমফাটা হাসি – সম্পাদনা : সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    Related Articles

    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    গুহা – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    হর-পার্বতী সংবাদ – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    সাজাহানের জতুগৃহ – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    শ্রীকৃষ্ণের শেষ কটা দিন – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    মনুষ্যক্লেশ নিবারণী সমিতি – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    মধুর এক প্রেমকাহিনি – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }