Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026

    এক বুড়ো আর সমুদ্র – আর্নেস্ট হেমিংওয়ে

    February 18, 2026

    মৃত কৈটভ ২ – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মায়াজাতক – অমৃতা কোনার

    অমৃতা কোনার এক পাতা গল্প217 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    মায়াজাতক – ৫

    (৫)

    বাস থেকে নেমে রিক্সা নিল সুনেত্রা। এইটুকু রাস্তা। তবুও আজ আর হাঁটতে ইচ্ছা করছে না ওর। মনে হচ্ছে যেন কতদূর ওদের বাড়িটা। হাঁটার শক্তি নেই ওর। পায়ে জোর আসছে না। শরীর কেমন যেন ছেড়ে দিচ্ছে। শরীরের আর কী বা দোষ! মনটাই তো ঠিক নেই। ওর কি মানসিক অসুস্থতা হচ্ছে? কিন্তু ওর এই চাওয়াটাও কি ভুল? এ তো এক স্বাভাবিক চাওয়া! তাহলে ও অস্বাভাবিক কেন? প্রশ্নগুলো সারাক্ষণ মাথার মধ্যে বিরক্ত করে চলেছে। আর তারপরেই পূবালির কথাটা মনে পড়ে গেল। এই শেষ চেষ্টাটা তো করে দেখা যায়! যতই ডাক্তার বলুক সম্ভব নয়? একেবারেই কি নয়?

    অদ্ভুত একটা অস্থিরতা কাজ করছে ওর মধ্যে। বাড়ি ফিরে ফ্রেশ হয়েই বিছানায় পড়েছে। খায়নি কিছুই। ওর শাশুড়িমা আজকাল ওর সাথে কথা কম বলে। তাই খায়নি আর এসেই শুয়ে পড়েছে দেখে একবার বলল, ‘সন্ধের খাবার কী খাবে নমিতাকে জানিয়ে দিও।’

    সুনেত্রা কোনওক্রমে মাথাটা তুলে বলল, ‘আমি কিছু খাব না। তোমরা যা খাবে তাই বলে দাও।’

    ওর শাশুড়ি আর দ্বিতীয় কথা বলেনি। শুধু বিড়বিড় করতে করতে বেরিয়ে এল, ‘নির্ঘাত মাথাব্যথা। শরীরের আর কী দোষ। সত্যি কথা বললেই একটা অস্ত্র, রাত জেগে কান্নাকাটি। ও করে হবেটাই বা কী? শরীর খারাপটাই হবে। কী জানি কার যে নজর পড়ল আমার সংসারে! যা খুশি করুক। আমার আর ভালোলাগে না কিছু।’

    সুনেত্রার আর এসবে কিছু যায় আসছে না। ওর কানেও ঢুকছে না কিছু। ও শুধু ভাবছে এই শেষ চেষ্টাটা যেন সফল হয়! আচ্ছা অভীক কি রাজি হবে? ওকে জানানোর পর ও যদি রাজি না হয়? না না… বোঝাতে হবে ওকে। কিন্তু ও তো একপ্রকার হাল ছেড়ে দিয়েছে। কথাগুলো ভাবতে ভাবতেই ওর মনে পড়ে গেল সেই প্রথমের দিকের কথা।

    .

    ভয়ে ভয়ে ডাক্তারের চেম্বারের পর্দাটার সামনে এসে দাঁড়াল সুনেত্রা। অভীক পর্দাটা তুলে ভিতরে ঢুকতে যাচ্ছে। কিন্তু ও নড়তে পারছে না। ওর পা দু’টো কেউ যেন আঁঠা দিয়ে আটকে দিয়েছে মাটির সাথে। কী ভার লাগছে পায়ে। মনে হচ্ছে এই পা তুলতেই পারবে না ও। অদ্ভুত অস্বস্তি, আশঙ্কা আর ভয় ওর ভিতরটা কুঁড়ে খাচ্ছে। ইচ্ছে করছে এক ছুটে পালিয়ে যাবে ও এখান থেকে। দরকার নেই কিছু জানার, কিছু বোঝার। যদি খারাপ কিছু বলে ডাক্তার! তখন কী করে সামলাবে সে নিজেকে? সমস্যাটা অভীক বা ওর যারই হোক! সেই ঝড় তো ওদের দু’জনের ওপরেই আছড়ে পড়বে!

    ভিতরে ঢুকতে গিয়েও ঢুকল না অভীক। পাশে তাকিয়ে দেখল সুনেত্রাকে। বুঝতেই পারল মেয়েটা সাংঘাতিক টেনশনে আছে। সুনেত্রার হাতটা শক্ত করে ধরে বলল, সমস্যা যারই হোক! যা-ই হোক! তার সমাধান তো থাকবে। এত ভেব না।’

    সুনেত্রা শুধু তাকায় অভীকের দিকে। কিছু বলতে গিয়েও ঠোঁট কেঁপে ওঠে। অভীকের হাতটাকে আঁকড়ে ধরে ঢুকল ও। ডাক্তারদের চেম্বার বা নার্সিংহোমগুলোয় একটা অন্যরকম গন্ধ থাকে। না খারাপ নয়। আবার রুম ফ্রেশনারের গন্ধ সেটাকে চাপা দিতে চাইলেও পেশেন্টদের নাক সেটা খুঁজে নিয়েই যেন বুঝতে পারে এটাই ডাক্তারের চেম্বার। আজ ওই গন্ধটা রুম ফ্রেশনারের গন্ধের সাথে মিশে নাকে ঢুকতেই সুনেত্রার ভিতরটা গুলিয়ে উঠল। ওর মনে হল আজ যেন গন্ধটা খারাপ কোনও বার্তা বয়ে আনছে।

    ‘ওহ মি. অ্যান্ড মিসেস বোস! আপনারা এসে গেছেন! বসুন।’ সুনেত্রা আর অভীককে উদ্দেশ্য করে বললেন গাইনোকলজিস্ট দময়ন্তী ঘোষাল। হাতে বেশ কিছু রিপোর্ট নাড়াচাড়া করে দেখছেন উনি। এগুলো সুনেত্রা আর অভীকের রিপোর্ট। রিপোর্ট নাকি ভাগ্য নির্ধারণের কাগজ? সুনেত্রার মনে হয় এক্ষুনি এখান থেকে ও বেরিয়ে যাবে। দরকার নেই ওর কিছু জানার। আরও কয়েকবার চেষ্টা করলে নিশ্চয়ই ও কনসিভ করতে পারবে। কত মানুষেরই তো বাচ্চা হতে দেরি হয়। ওদেরও সেরকমই কিছু হয়েছে।

    ‘কিছু সমস্যা আছে ডক্টর?’ অভীক আর চুপ না থেকে প্রশ্ন করে। ডাক্তার ঘোষালের মুখটার মিহি হাসিটা মিলিয়ে গেছে। পেশেন্টকে কীভাবে ভালো বা মন্দ খবর জানাতে হবে তা ওঁর জানা।

    ‘হুম্! দেখুন! সমস্যা আছে। তবে সেটা আপনার নয়, মিসেস বোসের।’

    ডাক্তারের মুখে এই কথাটা শোনামাত্র সুনেত্রার পা-টা টলে যায়। ওর মনে হল একটা হার্টবিট যেন মিস হয়ে গেল। এই… এই ভয়টাই ও পাচ্ছিল। এই কথাটাই তো ও শুনতে চাইছিল না। আর সেই আশঙ্কাই সত্যি হল!

    ‘আমার কী সমস্যা ডক্টর?’ শুকনো গলায় প্রশ্ন করে সুনেত্রা। এখানে আসা থেকে এই প্রথম ও কিছু বলল।

    ‘আপনার মেডিকাল রিপোর্টস বলছে আপনার পি.সি.ও.এস আছে। ফুল ফর্মে যাকে পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিন্ড্রোম বলে। এটা থাকলে এমনিতে একটু প্রেগন্যান্সি আসতে ডিলে হয়। কিন্তু সেটা এমন কিছু নয়। একটু নিয়ম মেনে চললেই প্রবলেম সলভ হয়ে যায়। এখন বহু মেয়ের এই সমস্যা।’

    ‘তাহলে আমারও সমস্যা মিটে যাবে? আমি সব…সব নিয়ম মেনে চলব ডক্টর। আপনি শুধু বলুন কী করতে হবে। ব্যাকুল হয়ে ওঠে সুনেত্রা। ওর মনে হয় এই তো! খারাপের মধ্যেও আশার আলো দেখা গেছে।

    ‘মিসেস বোস! দেখুন এই সমস্যাটা আজকাল সেরকম সমস্যা নয়। কিন্তু আপনার আরও সমস্যা আছে। আর সেটা খুব রেয়ার একটা কেস। আপনার ইউটেরাসের একটা প্রবলেম আছে। সেটাকে আমাদের মেডিক্যাল টার্মে ইউনিকর্নয়েট ইউটেরাস বলা হয়। আপনার ইউনিকর্ণয়েট ইউটেরাস উইথ ভেরি স্মল ক্যাভিটি। এই ধরনের কেসে কনসিভ করার সম্ভাবনা খুবই কম এবং প্রবলেমেটিক। ইনফ্যাক্ট লাকিলি কনসিভ করলেও মিসক্যারেজের প্রবল সম্ভাবনা। বাকিদের যেমন দুটো ওভারি ওয়ার্কিং কন্ডিশনে থাকে। আপনার একটা। এরকম ক্ষেত্রে আপনার কনসিভ করাটা…’ কথাটা অসমাপ্তই রাখেন ডক্টর ঘোষাল।

    সুনেত্রা কেমন অদ্ভুত ভাবে তাকিয়ে আছে ওঁর দিকে। ওর যেন গোটা পৃথিবীটাই পালটে গেল এক লহমায়। অভীক নিজেকে এতক্ষণ শক্ত রেখেছিল। কিন্তু এইবার ওরও অসহায় লাগছে ভীষণ। খুব নার্ভাস লাগছে। কষ্ট হচ্ছে প্রবল। কিন্তু তার সঙ্গে ভয়ও হচ্ছে! সুনেত্রাকে সামলাবে কী করে? ও তো পাগল হয়ে যাবে!

    ***

    সারা বাড়ি আলোয় আলোকিত! সবাই কী সুন্দর করে সেজেছে। সুনেত্রা, অভীক, সুনেত্রার বাবা-মা, শ্বশুর-শাশুড়ি সবাই উপস্থিত! সবার মুখে হাসি-আনন্দ। পাড়া-প্রতিবেশী কত আত্মীয়-স্বজন সবাই এসেছে। আর সকলের মধ্যমণি হয়ে বসে রয়েছে একটা ছোট্ট বাচ্চা। সে খিলখিল করে হাসছে। সুনেত্রার দিকে তাকিয়ে সে বলে উঠল ‘মা!’

    মা? এই মা ডাক শুনে চোখে জল চলে এল সুনেত্রার। ওর মনে হল হঠাৎ ওর আনন্দের পারদ ওর আবেগ সব অনেক অনেক উপরে উঠে গেছে। মনে হল যেন চারিদিকে সবকিছু শুভ, সবকিছু ভালো। কী আনন্দ! কী উচ্ছাস! কোথাও একটুও খারাপ নেই! কোনও দুঃখ নেই কোনও কষ্ট নেই! এক ছুটে সুনেত্রা বাচ্চাটার কাছে এসে ওকে কোলে তুলে নিল। বাচ্চাটার গায়ে একটা গোলাপি জামা হাঁটু পর্যন্ত ঢাকা। বোঝা যাচ্ছে না সে ছেলে না মেয়ে। সুনেত্রা ওকে বুকে জড়িয়ে ধরে হাউ হাউ করে কেঁদে উঠল। মনে হল এতদিন ধরে বুকে পাথর চাপা দিয়ে রাখা কান্নাগুলোর এবার বাঁধ ভেঙেছে।

    ঠিক এই মুহূর্তে একটা প্রচণ্ড শব্দ হল। ধরমড়িয়ে বিছানায় উঠে বসে সুনেত্রা। চারিদিকে তাকিয়ে দেখে ঘর অন্ধকার। দরজাটা খুলে গেছে। তাই অন্ধকারের মধ্যে ওই খোলা দরজা দিয়ে আলো ঢুকে এসেছে। সুনেত্রা চোখটা আবার বন্ধ করে নেয়। এই আলোর তীব্রতা এই মুহূর্তে ওর ভালো লাগছে না। চোখে অসুবিধা হচ্ছে। মাথার যন্ত্রণাটা বেড়ে যাচ্ছে। দরজায় দাঁড়িয়ে আছে কেউ। কিন্তু চোখ খুলতে ইচ্ছে করছে না সুনেত্রার। এতক্ষণ সবটা তার মানে স্বপ্ন ছিল? এই সুন্দর স্বপ্ন কি ওর জীবনে শুধু স্বপ্নই হয়ে রয়ে যাবে. বাস্তবে কি কোনওদিন ধরা দেবে না?

    ‘সরি! তুমি ঘুমিয়ে ছিলে। ঘুমটা ভেঙে গেল। আসলে দরজাটা আটকে গেছিল। ভিতর থেকে লকড না। আর বাইরে থেকেও না। অথচ লকের জায়গাটা এমন জ্যাম হয়ে গেছিল! এই অটোলকের মুশকিল। খুব জোরে ধাক্কা দিয়ে খুলতে হল।’ কথাটা বলতে বলতেই অভীক ঘরে ঢুকে এসে লাইট জ্বালাল। সুনেত্রা চোখ না খুলেই প্রশ্ন করল, ‘কখন এলে?’

    ‘এই তো! শরীর খারাপ লাগছে না কি?’ সুনেত্রার চোখ মুখের অবস্থা দেখে অভীক একটু চিন্তিত হয়ে উঠল।

    সুনেত্রা মাথা নাড়ল। তারপর আস্তে আস্তে চোখ খুলল। ওর চোখ দুটো লাল হয়ে রয়েছে। ফুলেও আছে। অভীক বুঝল কান্নাকাটি মাথার যন্ত্রণা আর ঘুম সব মিলেই এই অবস্থা হয়েছে চোখের। কাছে এসে ওর মাথায় হাত রেখে জিজ্ঞেস করল, ‘শরীর কি খুব খারাপ লাগছে?’

    সুনেত্রা নিজেকে সামলাতে না পেরে হাউ হাউ করে কেঁদে ফেলল, ‘আমার আর ভালো লাগছে না অভীক! আর সহ্য করতে পারছি না। সে তো ধরা দিল! কিন্তু আমার স্বপ্নে। আমি যে ওকে বাস্তবে চাই অভীক। আমি আর পারছি না।’

    অভীক একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে, ‘আবার? তোমাকে তো কতবার বলেছি সত্যিটা মেনে নাও সুনেত্রা! সবার জীবনে সব আনন্দ থাকে না। সব সুখ থাকে না। আমরা দু’জন দু’জনের সাথে আছি, পাশে আছি এটাও তো আমাদের সম্পর্কের জন্য অনেক। অনেক পরিবারে তো এই সুখটুকুও থাকে না।’

    ‘আমি তোমাকে কিছু বলতে চাই অভীক।’ চোখের জল দুহাতের উল্টো দিকের পাতায় মুছে নিল সুনেত্রা।

    ‘কী বলবে? আবার কি অ্যাডপশনের কথা? আমি তো তোমাকে বলেছি আমার আপত্তি নেই। কিন্তু মা-বাবা এমন করছে। আমরা পারব যে বাচ্চাটাকে নিয়ে আসব তাকে এখানে সুস্থ পরিবেশ দিতে? মা-বাবা কোনওদিন তাকে মেনে নেবে না। আমি আর তুমি হঠাৎ করে এখান থেকে আলাদা হয়ে চলে যাব একটা বাচ্চাকে দত্তক নিয়ে, সেটাও তো হয় না সুনেত্রা। আমি একটা দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আর একটা দায়িত্ব থেকে এভাবে মুখ ঘুরিয়ে নেব? সেটা কি হয়?’

    ‘না অভীক দত্তকের কথা নয়!’

    ‘তবে? কাঁধ থেকে অফিসের ব্যাগটা সাইডের একটা টেবিলে রেখে বিছানার সামনের চেয়ারটায় বসল অভীক।

    ‘আইভিএফ।’

    ‘আইভিএফ?’ ভুরু কুঁচকে প্রশ্ন করে অভীক।

    ‘হুম! পুবালি বলল আজ কথাটা। তখন আমিও ভাবলাম এটা ট্রাই করে দেখা যাক।’

    ‘দেখো পুবালি আমাদের প্রবলেমটা সম্পূর্ণরূপে হয়তো জানে না। বা মেডিক্যাল কন্ডিশন বুঝবে না। ও তো ডাক্তার নয়। কিন্তু আইভিএফ-এ কি আমাদের সমস্যাটার সমাধান হবে?’

    ‘আমি জানি না অভীক। আমরা তো কোনও ডক্টরের সাথে আইভিএফ নিয়ে কনসাল্ট করিনি। আমি ডাক্তার নই অভীক। কী হতে পারে আমি জানি না। আমি শুধু এটা জানি আমরা নরমাল প্রসিডিওর-এ কিছু করতে পারলাম না। তাহলে আমরা কি একবার আইভিএফ ট্রাই করে দেখতে পারি না? যদি এবার কিছু হয়? এত ঠাকুর পুজো, এত কিছু করলাম। কত কত জায়গায় মানসিক করেছি। যে যা বলেছে সব করেছি। নিশ্চয়ই মিরাকেল একটা কিছু হবে! আর আগেরবার ডাক্তার তো বলেছিলেন মিরাকেল ঘটে, আমাদের হাল না ছাড়তে। হতাশ না হতে।’

    ‘আমরা ওঁকে আর কনসাল্ট করিনি ঠিকই। আমরা তারপর তো আরও অনেক ডাক্তার দেখিয়েছি। কিন্তু সকলের তো একই বক্তব্য। যদিও বা কনসিভ করো সেটা…’

    ‘থাক না অভীক। আর ওই কথা আমি শুনতে চাই না। একবার আইভিএফ ক্লিনিকে যেতে চাই আমি। ওখানে একবার কথা বলি প্রয়োজনে দুটো ক্লিনিক ভিজিট করব। একবার ট্রাই তো করি! যদি সেটা সফল হয়ে যায়! যদি প্রেগন্যান্সিটা লাস্ট করে যায়! কোনও ভাবে যদি মিরাকেল ঘটে যায়! আমাদের সাথে আর খারাপ হবে না বলো? আমি শুধু একটা চেষ্টা করতে চাই। আমি আর পারছি না অভীক।’ আবার অভিককে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে থাকে সুনেত্রা।

    অভীক কিছু বলতে পারে না। ওরও তো বাবা হওয়ার শখ ভীষণ ও-ও চায় ঘর আলো করে এই সংসারে, ওদের কোলজুড়ে ফুটফুটে একটা সন্তান আসুক। যে হবে ওদের সন্তান! সত্যি বলতে কী, দত্তক নেওয়ায় খারাপ কিছু নেই। কিন্তু প্রথমে কি কেউ দত্তক নেওয়ার কথা ভাবতে পারে? সবাই তো আগে নিজের সন্তান হওয়ার কথাই ভাবে। এতে তো অন্যায় কিছু নেই। সুনেত্রা মানসিকভাবে বিধ্বস্ত হয়ে গেছে, একটা ছোট বাচ্চার থেকেও খারাপ কন্ডিশন এখন ওর। ওকে বাস্তবের মাটিতে টেনে হিঁচড়ে ফেলে কিছু করা সম্ভব নয়। অভীক সেটা বোঝে। ও বড্ড ভালোবাসে সুনেত্রাকে।

    না! লাভ ম্যারেজ ওদের নয়। বিয়েটা অ্যারেঞ্জড। কিন্তু কী অদ্ভুতভাবে দু’জনের মধ্যে ভালোবাসা, বন্ধুত্ব আর আন্ডারস্ট্যান্ডিং-এর একটা বন্ডিং গড়ে ওঠে মাত্র কয়েকটা মাসে। যার শক্তি এখনও টিকিয়ে রেখেছে এই সম্পর্কটাকে। সুনেত্রার অবস্থা এমন হয়ে গেছিল যে ও খারাপ কিছু করে ফেলতে পারত। নিজের বাচ্চাকে নিজের গর্ভে ধারণ করা এবং জন্ম দেওয়ার জন্য ও মরিয়া হয়ে উঠেছিল। তার জন্য কত উপাচার, কতকিছু! দোষ একা সুনেত্রারও নয়। পরিবার পরিস্থিতি আর চারপাশের মানুষজন সবকিছু ওকে এমন করে তুলেছিল যে ও সন্তানের জন্য পাগল হয়ে গেছিল। তারপর একজন ডাক্তারের সাথে কনসাল্ট করে একটু ঠিক হয়। এই ৬-৭ মাসে চারটে ট্রিপ করে ফেলেছে ওরা। ঘুরতে গেলে ওর মনটা একটু ভালো থাকে। কিন্তু আবার সেখানে যখন কোনও ছোট বাচ্চাকে দেখতে পায় তখন ওর মনের ভেতরটা কী যে হয়।

    এইবার ওর মনে এত আশা জেগেছে। যদি এবারও কিছু সমস্যা হয়? ওকে তো রাখা যাবে মা! ওর ডিপ্রেশন চরম মাত্রায় পৌঁছে যাবে। এই ভয়টাই এখন অভীককে তাড়া করে বেড়াচ্ছে।

    (৬)

    একটা অন্ধকার ঘর। খুব হালকা পাওয়ারের একটা আলো জ্বলছে। যার ফলে ঘরে একটা আলো আঁধারের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে ঘরটার মধ্যে। ঘরটায় দম মিলিয়ে একটি মাত্র জানলা। সেটা বন্ধ করা। এমনকি দরজাটাও বন্ধ! এই ঘরে থেকে দিন বা রাত বোঝার একটাই উপায়। উপরের দিকের একটা ভেন্টিলেয়ার। দিনের বেলায় ওখান দিয়ে আলো আসে আর রাতে আসে না। সারা ঘরে আসবাব বলতে কেবলমাত্র একটা খাট, একটা ড্রেসিং টেবিল আর একটা আলমারি। এর বাইরে আর কিচ্ছু নেই। ঘরটাও অবশ্য খুব একটা বড় না। সাধারণ ঘরের থেকেও খানিকটা ছোটই বলা চলে।

    সিঙ্গেল বেডের খাটটার উপর গুটিসুটি মেরে শুয়ে আছে একটা নারী শরীর। অস্থিরভাবে এপাশ ওপাশ করছে। সে ঠিক বুঝতে পারছে না কি অসুবিধা হচ্ছে তার। শুধু মনে হচ্ছে ফুলে থাকা পেটটার মধ্যে কিছু যেন একটা হচ্ছে। উঠে বসে মেয়েটা। সে গর্ভবতী। পেটে একটা হাত রেখে বোঝার চেষ্টা করে ঠিক কী অস্বস্তি হচ্ছে ওর। তারপর ধীরে ধীরে খাট থেকে নেমে এগিয়ে আসে আয়নার দিকে। ঠিক করে চলতে পারছে না মেয়েটা। একটু পা টেনে টেনে একটু ধীরে ধীরে আর খুব অসুবিধার মধ্যে সে একটু একটু করে এগিয়ে আসে আয়নাটার কাছে। আয়নার পর্দা সরিয়ে দেখার চেষ্টা করে নিজেকে। আলো অন্ধকার ঘরের মধ্যে থাকতে থাকতে ওর মুখ, রং, শরীর সবকিছু কেমন যেন একটা অন্ধকারের ছায়া পড়ে গেছে। নিজেকে দেখতে যে কেমন লাগছে সেটাই ও বুঝে পায় না! মেয়েটা মুখের ওপরে এলিয়ে থাকা চুলগুলো দুই হাতে সরিয়ে দেখে নিজেকে। চোখের তলায় বিস্তর কালি পড়েছিল যেদিন নিজেকে শেষবার ভালো করে দেখেছিল ও। কালিটা এখন ঠিক বোঝা যাচ্ছে না। আসলে ঘরের পরিবেশটা এমন যে ও কালি আর আলাদা করে বোঝা যাবে না। এই সময় সবাই বলে মেয়েদের চেহারা খারাপ হলেও দেখতে ভালোই লাগে। ওকেও কি ভালো লাগছে? কী করেই বা লাগবে? ওষুধ খাওয়াদাওয়া ঠিক হলেও মনের যত্ন কোথায়। নিশ্চয়ই ও দেখতে খুব বাজে হয়ে গেছে! খুব কান্না পায় মেয়েটার। কাঁদতে থাকে ও। পেটের উপর ডান হাতটা রেখে শুধু বলে, ‘আমি এসব চাইনি! চাইনি আমি এসব! না চাইতেই এমন দিন দেখতে হল। এই দিনটার জন্য তো সব মেয়েই স্বপ্ন দেখে। কিন্তু আমার কাছে এভাবে এল কেন এই দিনটা? না আমি তার আনন্দ অনুভব করছি না বাদ দিয়ে থাকতে পারছি। আবার নিজের এই অংশকে অস্বীকারও করতে পারি না। কিসের যেন একটা টানে বেঁধে গেছি।’

    কান্না থামায় মেয়েটা। তারপর একটা তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে বলে, ‘এসব ভেবেই বা কী লাভ? আমি তো আর ধরে রাখতে পারব না তোকে! আমি কী করব? আমার আর কি কিছুই করার নেই? বল! তুই বল তোর আমার সম্পর্ক কি এটুকুই? কেন হল তোর আর আমার সম্পর্ক? আমিতো চাইনি! আর যখন হল তখন কী করে ছেড়ে দিই? শুধু দিন গুনছি তোর থেকে আমি কবে যেন আলাদা হয়ে যাব। তুই তখন থাকতে পারবি আমাকে ছাড়া? আমি থাকতে পারব? কে জানে! সব হয়তো মানিয়ে যায়।’

    এই শেষ কথাটা বলতে বলতেই হঠাৎ করে একটা যন্ত্রণা অনুভব হয় মেয়েটার। চিৎকার করে ওঠে সে। কিছু একটা ঘটতে চলেছে বুঝি! তবে কি সেই সময় এসে উপস্থিত হল? মেয়েটা কোনওক্রমে পা টেনে টেনে বিছানার কাছে এসে বসে। যন্ত্রণাটা দেখতে মারাত্মক ভাবে বেড়ে যাচ্ছে, আর সহ্য করতে পারছে না। চিৎকার করে ওঠে আর সেই চিৎকারে মনে হয় যেন ওর শরীরের সমস্ত শক্তি বেরিয়ে যাচ্ছে। চেষ্টা করে ও নিজেকে টেনে বিছানায় শোয়াতে। কিন্তু পারে না। মেঝের উপর পড়ে গেল। আর তারপরেই যন্ত্রণাটা আরও বেড়ে গেল। এইবার সে আরও জোরে কোকিয়ে ওঠে। ওর আর্তনাদ আর কান্নার শব্দে গোটা ঘর গমগম করে উঠছে। মেয়েটার মনে হয় ও এবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলবে। এই যন্ত্রণা ও আর সহ্য করতে পারছে না। কিন্তু তার মধ্যেও ও শুনতে পেল কিছু পায়ের শব্দ। ওর মনে হল কারা যেন উপরের দিকে উঠে আসছে। কেউ কি ওকে বাঁচাবে? নাকি ওইভাবেই পড়ে থাকবে ও? আর মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়বে? হ্যাঁ ওইতো। দরজাটা খুলে গেছে। বাইরের আলো এসে ঢুকছে ঘরের মধ্যে। আর দুটো ছায়া মূর্তি দাঁড়িয়ে আছে। মেয়েটা বুঝল তাদের মধ্যে একটা নারী মূর্তি এবং অন্যটি পুরুষ মূর্তি। তারা দু’জনেই ওর দিকে এগিয়ে আসছে। কী যেন বলছে চিৎকার করে। কিন্তু মেয়েটার কানে ঢুকছে না। শুধু একটা ক্ষীণ শব্দ আসছে কানে। ওরা ছুটে আসছে ওর দিকে। ওরা কি ওকে বাঁচিয়ে নেবে। আর বাচ্চাটাকে? ওকে বাঁচিয়ে নেবে তো? মেয়েটার যন্ত্রণার মধ্যেও ওর পেটে থাকা বাচ্চাটার কথা মনে হয়। আর ডান হাতটা অজান্তেই পেটের উপরে উঠে আসে। গর্ভধারিণী মা সকল বিপদ থেকে যেন বাঁচানোর পণ করেছে তার শিশুকে। আর কিছু বুঝতে পারল না মেয়েটা। হাতটা পেটের উপরে দিয়েই ও জ্ঞান হারাল।

    (৭)

    রাত দেড়টা বাজে। কলকাতা শহর এখনও সজাগ! হ্যাঁ অলিতে গলিতে থাকা বাড়িগুলো ঝিমিয়ে গেছে ঠিকই। কিন্তু বড় রাস্তার বড় বড় স্ট্রিটলাইটগুলো আর দুরন্ত গতিতে ছুটে চলা গাড়িগুলো এখনও শহরটাকে জাগিয়ে রেখেছে। তবে ওই ব্যস্ত বড় রাস্তার থেকে অনেকটা ভিতরে সরে এসে বস্তিগুলো এখন নিঝুম। ঘুপচি গলিগুলো ফাঁকা। এরকমই একটা বস্তিতে ঢোকার রাস্তাটায় হেঁটে চলেছে রতন। কাজ সেরে সে অনেকক্ষণই ফিরে আসতে পারত। কিন্তু কাজের পরে জমে ওদের একটা আড্ডা। সেই ঠেকেই রাত অবধি পড়ে থাকে ও। কতদিন ভোর রাতে বাড়ি ফেরে। সেখানে ভালোরকম খানাপিনা চলে! রোজ খানাটা অবশ্য ওই টুকটাক চাটেই সীমাবদ্ধ। আসল মেইন কোর্স ওখানে পানীয়। সেখান থেকে মোটামুটি পুরো মাতাল অবস্থায় রতন বেরিয়ে এসেছে। টলতে টলতে এসে এই সবে নিজের বস্তির রাস্তাটা ধরেছে। আর গুনগুন করে গেয়ে চলেছে হিন্দি গানের লাইন—‘ঝুমে জো পাঠান… মেরি জান… মেহফিল জম্ জায়েগি!’

    শাহরুখ খানের ‘পাঠান’ সিনেমাটা বেশ কিছুদিন হল সিনেমা হলে গিয়ে দেখে এসেছিল রতন। শাহরুখ খান ওর প্রিয় হিরো। আরেকটা সিনেমা বেরিয়েছে ওর প্রিয় হিরোর। জওয়ান! সেটাও দেখতে যাবে রতন। আসলে ওর আদব-কায়দা একটু আলাদা। না না। নুন আনতে পান্তা ফুরোনো বস্তির বাকি লোকগুলোর মতন দিন আনি দিন খাই অবস্থায় না খেয়ে টাকা বাঁচিয়ে সিনেমা দেখবে এমন লোক রতন নয়। সে ভারী হিসেবি লোক। তবে ভালো-মন্দ খেয়ে-পরে মাঝে মধ্যে সিনেমা হলে শাহরুখের সিনেমা দেখা কিংবা রেস্টুরেন্টের খাবার এনে খাওয়ানোর মতন সামর্থ্য রতনের আছে। এই এঁদো বস্তিতে ও পড়ে রয়েছে কেবল জন্মস্থান বলে। তবে বেশিদিন না! রতনের ইচ্ছা একটা ভালো জায়গা দেখে ভাড়া উঠে যাবে! তবে তাতেও একটা সমস্যা আছে। ভালো পাড়ায় গিয়ে থাকতে গেলে যেটুকু বিদ্যে ওর আর ওর বউয়ের লাগবে সেটা ওদের নেই। দেখা যাবে সেই পাড়াতে গিয়ে ওর বউ হয়তো কারও সাথে ঝগড়া লাগিয়ে দিল। সেই রিস্কটা নিতে পারছে না রতন। সেই জন্যই আর যেতে পারছে না। ভালো বাড়িতে না যেতে পারলেও রতন পরিবারের লোকদের স্বাচ্ছন্দ্য দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু ওর মেয়েটা একদম পড়াশোনায় ভালো না। ক্লাস এইটে পড়ে। কিন্তু কোন একটা ছোকরার সাথে নাকি ঘুরে বেড়ায়। স্কুলে যায় না। রতনের কানে খবর এসেছে। রতন ঝুটঝামেলায় যায় না। ও বুঝে গেছে মেয়েটার দ্বারা পড়াশোনা হবে না। ঠিকই করে নিয়েছে মেয়েটার বিয়ে দিয়ে দেবে। কোনদিন পালিয়ে যাবে! তার চেয়ে ছি ছি হওয়ার আগেই বিয়ে দিয়ে দেওয়া ভালো। ওই ছেলে তখন বিয়ে করতে না চাইলে অন্য ছেলে দেখে বিয়ে দিয়ে দেবে। মেয়েটা বাউন্ডুলে হলেও রতনের ছেলেটা পড়াশোনায় ভালো। ক্লাস সিক্সে পড়ে। ওকে ভালো টিউশনি দিয়েছে রতন। ইচ্ছা আছে কলেজ পাশ করাবে ভালোভাবে। তার জন্য টাকা লাগবে অনেক। তাই হিসাব করে জমিয়ে রাখছে সব। ছেলেটা দাঁড়িয়ে গেলে ও আর কাজ করবে না! চায়ের দোকানটাও বেচে দেবে। ধুর! অত পোষায় নাকি তখন? তাছাড়া তখন সে চাকরিওয়ালা ছেলের বাপ! চায়ের দোকান চালাবে না মোটেই। পায়ের উপর পা তুলে আরামে দিন কাটাবে।

    নিজের বস্তির পাড়ায় ঢুকে পড়ল রতন। সবাই মোটামুটি ঘুমিয়ে পড়েছে। দু-একটা বাড়িতে আলো জ্বলছে টিমটিমে। কোনওক্রমে টাল খেতে খেতে যখন বাড়ির গলিটায় বাঁক নেবে তখনই কিসে যেন একটা ধাক্কা খেয়ে হুড়মুড়িয়ে পড়তে যাচ্ছিল রতন। সামলে নিয়েছে কোন মতে। রাগের চোটে গালি বেরিয়ে এল ওর মুখ থেকে ‘শালা! রাস্তার মাঝখানে বস্তা কে রাখলি রে?’ কিন্তু পরক্ষণেই পিছন ফিরে তাকিয়ে রতনের ভুল ভাঙল। না বস্তা তো নয়। একটা মানুষ মনে হচ্ছে। নিজেকে সামলে কোনওমতে সোজা হয়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে রতন। চোখ সরু করে বোঝার চেষ্টা করে এটা কে। কিন্তু পেটে যা পড়েছে তাতে ভালো করে তাকানো ওর পক্ষে মুশকিল। একটু কাছে এগিয়ে আসে ও। এটা মানুষ সে বিষয়ে সন্দেহ নেই। কিন্তু কে সেটা বোঝা যাচ্ছে না।

    ‘এ কে রে তুই? রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছিস কেন?’ লোকটা কোনও উত্তর দেয় না। রতনের মাথা গরম হতে শুরু করে, ‘কীরে কানে বয়রা নাকি? শুনতে পাস না? রাস্তার মধ্যেখানে দাঁড়িয়ে আছিস কেন?’

    সেই ব্যক্তি এবারও কোনও উত্তর দেয় না। রতন ভীষণ রেগে গেছে। একে ওর মাতাল অবস্থা। তার ওপর এত রাত হয়েছে! খুব ঘুমও পেয়েছে। তার উপর বাড়িতে যেতে যাবে আর রাস্তার মাঝখানে একটা লোক যদি খাম্বার মতো দাঁড়িয়ে থাকে কেমন লাগে! আর একটু হলে রতন গিয়ে হুমড়ি খেয়ে পড়ত নর্দমাটার মধ্যে। নোংরা নর্দমা—গোটা বস্তির নোংরা জল ওটা দিয়েই পাস করে।

    ‘এটা দেখি শুধু বয়রা না। মুখেও বোবা! তবে রে! মাঝ রাতে ইয়ার্কি হচ্ছে আমার সাথে? দাঁড়া! দেখাচ্ছি তোকে মজা শালা! আজকেই তোর নটাঙ্কি শেষ করব আমি।’ কথাটা বলে রতন রাস্তার আশপাশে কিছ একটা খুঁজতে লাগে। কিছুক্ষণের মধ্যেই পাশে একটা ছোট লাঠি পড়ে থাকতে দেখে। খুব একটা শক্তপোক্ত সেটা নয়। তবু এই অবস্থায় রতনের মনে হয় ওটাই ওর অস্ত্র! হয়তো ছাগল তাড়ানোর মতন করে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ওই মানুষটাকেও এই সরু লাঠির বাড়ি মেরে তাড়িয়ে দেবে এমনটাই ভেবেছে ও। রতন লাঠিটাকে তুলে নেয়। তারপর সামনের প্রতিপক্ষর দিকে এগিয়ে আসে ‘তবে রে শালা! আজ তোরই একদিন কি আমারই একদিন!’ বলে এগিয়ে আসে। রতনকে এগিয়ে আসতে দেখে সে এইবার একটু নড়েচড়ে দাঁড়াল। মনে হল প্রতিপক্ষর সাথে এইবার যুদ্ধে নামবে সে। তবুও মুখে কোনও কথা বলল না।

    রতনও উল্টোদিকের মানুষের প্রস্তুতি দেখে ভিতর থেকে নতুন উদ্যম পেল। ডান হাতে ধরে থাকা লাঠিটা উঁচিয়ে প্রথম প্রহার করতে গেল। আর ঠিক তখনই গ্লাভস পরা হাতে সে রতনের লাঠি ধরে রাখা হাতটা ধরে ফেলে। আর মুহূর্তে এক মোচড় দিতেই লাঠিটা হাত থেকে পড়ে গেল রতনের। ও চিৎকার করে উঠল। তবে সে চিৎকারের শব্দ হওয়ার আগেই সেই ব্যক্তি আর এক হাত দিয়ে রতনের মুখ চেপে ধরল। রতন বুঝতে পারছে না ঠিক কী হচ্ছে। এই লোকটা ওর সাথে এমন ব্যবহার করছে কেন? এইবার সেই ব্যক্তি রতনকে এক ঝটকায় রাস্তায় ফেলে দিল। রতনের এমনিতেই মদ্যপ অবস্থা। ঠিক করে দাঁড়াতে বা চলতে পারছে না। তার উপরে গায়ের জোরটাও কম কম লাগছে। সেখানে একজন এইভাবে গায়ের জোরে ওকে মাটিতে ফেলে দিতে ও বিশেষ প্রতিরোধ করতে পারেনি। হঠাৎ করে রাস্তায় আছড়ে পড়ায় হাঁটুতেও জোর লেগেছে। নিজেকে ধাতস্থ করে একটু ওঠার চেষ্টা করতে লাগল রতন। ওর পিছনে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তিটা ওকে খেয়াল করল। আর তারপরেই রতনের কাছে এসে সজোরে একটা হাতে বাড়ি মারল রতনের ঘাড়ে। রতন একটু কোকিয়ে উঠতে গেল। কিন্তু তখনই সেই ব্যক্তি ওর মুখটা আবার চেপে ধরল। তারপর ট্রাউজারের পকেট থেকে দ্রুত বের করে নিল ধাতব অস্ত্রটা। রতন পিছন ফিরে থাকায় বুঝতে পারল না ওর পিছনে দাঁড়িয়ে থাকা এই ব্যক্তি আরেক হাতে বের করেছে ওর মৃত্যুবাণ। আর সময় নষ্ট করেনি সে। ধারালো ছুরিটা বের করেই চালিয়ে দিল রতনের গলায়। ফিনকি দিয়ে রক্তের স্রোত বেরিয়ে এল। রতন ছটফট করতে লাগল। ওর মুখ থেকে এখন সেই হাতটা সরে গেছে। কিন্তু ওর গলা দিয়ে আর আওয়াজ বের হচ্ছে না। যুদ্ধ শেষে শত্রু নিধন করে সেই ব্যক্তি নির্দ্বিধায় সেখান থেকে উঠে চলে গেল। পিছন ফিরে একবারও দেখল না রতনের কাটা ছাগলের মতো ছটফট করতে থাকা শরীরটাকে। আর তারপর কোথায় যেন অন্ধকারে মিলিয়ে গেল সে।

    (৮)

    ‘নেক্সট কে আছেন? চার নম্বর স্লিপটা যার কাছে আছে তিনি চলে যাবেন।’ রিসেপশন ডেস্ক থেকে একটি সুন্দর সুসজ্জিত মেয়ে বেশ জোর গলায় কথাটা বলল সামনে বসে থাকা কতগুলো মানুষের উদ্দেশ্যে। এটা একটা ঝাঁ চকচকে আইভিএফ ক্লিনিক। ছোটখাটো নার্সিংহোম টাইপের বলা যায়। পাশাপাশি দুটো বিল্ডিং। এই বিল্ডিংয়ে পেশেন্টের ডাক্তারের সাথে ভিজিট হয় আর পাশের বিল্ডিংয়ে হয় ডেলিভারি বা অন্য এমন ট্রিটমেন্ট যার জন্য ভর্তি থাকতে হয়।

    মেয়েটার কথা শুনে সামনে সারিতে বসে থাকা একটি দম্পতি উঠে এগিয়ে গেল সামনের দিকের ঘরটার দরজার সামনে। ভিতর থেকে আর এক দম্পতি দরজা ঠেলে বেরিয়ে এল। আর তারা বেরিয়ে আসতেই এই দম্পতি আবার দরজা ঠেলে ভিতর ঢুকে গেল। ওরা দরজাটার ভেতরে ঢুকে যেতেই সুনেত্রার বুকটা ধক করে উঠল। হাতের আঁকড়ে থাকা টোকেনটাকে দেখে নিল। তাতে লেখা আছে নাম্বার ফাইভ। অর্থাৎ এই যে দম্পতি এক্ষুনি ভিতরে ঢুকে গেল এরা বেরোতেই সুনেত্রাদের ডাক পড়বে। সুনেত্রার খুব ভয় করছে। এখানে আসার আগে মনের মধ্যে যত সাহস ছিল সব যেন কুঁকড়ে কোথায় ভিতরে ঢুকে গেছে। এখন গোটা মন আর শরীর জুড়ে শুধু ভয় আর ভয়ের আবেশ। অভীক সুনেত্রার ডান হাতটা চেপে ধরল। ও বুঝতে পেরেছে এই মুহূর্তে সুনেত্রার মনের ভেতর ঠিক কী চলছে। ভয় অভীকেরও লাগছে। এক প্রকার আশা তো ছেড়েই দিয়েছিল ও। সবকিছুকে স্বাভাবিক জীবনের ছন্দে রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছিল। কিন্তু সুনেত্রার এই একটা প্রচেষ্টায় ওর মনের কোণেও আবার আশার প্রদীপটা দপ করে জ্বলে উঠেছে। আর সেই জন্যই অভীকের মনেও ভয়ের সঞ্চার হয়েছে। প্রায় দশ মিনিট সময় পার হয়ে গেল। এই ডাক্তার বেশ অনেকক্ষণ ধরে সব পেশেন্টকে দেখছেন। আসলে এখানে যাঁরাই এসেছেন তাঁদের সকলে একই নৌকার যাত্রী। তাই ডাক্তারের চেম্বারে এখানে শুধু শারীরিক চিকিৎসাই হয় না, মানসিক ভরসাটাও দিতে হয়। ফলে সময় লাগে।

    আরও দশ মিনিট পার হতে সেই রিসেপশন ডেস্কে বসে থাকা মেয়েটির সামনে রাখা বেলটা বেজে উঠল। তৎক্ষণাৎ সে আবার বলে উঠল, ‘নেক্সট! নাম্বার ফাইভ! পাঁচ নম্বর টোকেন যার কাছে আছে এবার তিনি যাবেন।’

    একটা ভারী বরফের চাঁই যেন সুনেত্রার শরীরের উপর থেকে নিচের দিকে নেমে গেল। এইবার ওর পালা। কে জানে ডাক্তার কী বলবেন! এখানে বসে থাকা সকলেরই বোধ হয় সুনেত্রার মতনই অবস্থা। সকলেরই মনের মধ্যে ভয় এবং আশা দুটোই পাশাপাশি বাস করছে। সুনেত্রা আর অভীক উঠে দাঁড়ায়। এবার এগিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে।

    ***

    ‘হ্যাঁ! বসুন। আপনাদের টোকেনটা এখানে রেখে দিন।’

    সুনেত্রা এবং অভীক ভিতরে ঢুকতেই টেবিলের ওপাশে বসে থাকা ভদ্রলোক কথাটা বললেন। ইনি ডঃ তিমির কর।

    টেবিলের উপর একটা ছোট্ট বাক্সের মধ্যে টোকেনটা রেখে দিল সুনেত্রা। তারপর ও আর অভীক টেবিলের এপাশের দুটো রিভলভিং চেয়ারে বসল। ওরা বসতেই ডাক্তারবাবু ওদের ফাইলটা দেখতে চাইলেন। অভীক ওর হাতে ধরে রাখা ফাইলটা ডাক্তারের দিকে এগিয়ে দিল। ডক্টর কর বেশ কয়েক মিনিট ধরে ফাইলটা ভালো করে দেখলেন। তার ভেতরের থাকা প্রতিটা রিপোর্ট এবং বেশ কিছু প্রেসক্রিপশন সবটাই ভালো করে চেক করলেন। তারপর ফাইলটা বন্ধ করে বললেন, ‘আপনারা জানেন নিশ্চয়ই আপনাদের সমস্যার কথা?’

    সুনেত্রা আর অভীক দু’জনেই মাথা নাড়ে। ডাক্তার কর বলেন, ‘দেখুন আইভিএফ প্রসেসটা সম্পর্কে আপনাদেরও জানা উচিত। এখানে নরমাল প্রসেসে যাদের বাচ্চা হয় না অর্থাৎ নরমাল প্রসেসে যাঁরা কনসিভ করতে পারেন না তাঁরাই আইভিএফ চিকিৎসা করাতে আসেন। মেল ডোনারের থেকে স্পার্ম এবং ফিমেল ডোনারের থেকে এগ কালেক্ট করা হয় এবং সেটা আর্টিফিসিয়ালি ফার্টিলাইজ করিয়ে পরিস্থিতি বুঝে মাদার বডিতে প্রতিস্থাপন করা হয়। সেখানে একটা বিষয় খুব ইম্পর্ট্যান্ট। মাদার বডিকে বেবি ক্যারি করার জন্য উপযুক্ত হতে হবে। এখানে আপনাদের রিপোর্ট অনুযায়ী মি. বোস আপনার কোনও প্রবলেম নেই। মিসেস বোসের এগ কালেকশনেও কোনও প্রবলেম হওয়ার নয়। সেটা আগে থেকে মেডিসিন দিয়ে ট্রিটমেন্ট করে কোয়ালিটি এনহেন্স করা সম্ভব। কিন্তু…’ একটু থামলেন ভদ্রলোক। এভাবে সব সমস্যার কথা একসাথে বললে পেশেন্ট পার্টি ঘাবড়ে যায় টেনসড হয়ে পড়ে। এমনিতেই এখানে যারা আসে তারা অনেক ভরসা, অনেক আশা নিয়ে আসে। তাদের আচমকাই এত মেডিক্যাল টার্ম আর কঠিন বাস্তবের কথাগুলো একটানা বলে গেলে মুশকিল।

    অভীক বলে, ‘আমার ওয়াইফের আরেকটা কিছু প্রবলেম আছে। সেটা বলছেন?’

    ‘হ্যাঁ! ওঁর যে প্রবলেমটা আছে তাতে ইউটেরাসের ক্যাভিটি ভীষণই ছোট। আপনারা তো জানেনই যে একটা ফেটাস বড় হয় আস্তে আস্তে মায়ের শরীরে। তাহলে তাকে ক্যারি করতে যতটা জায়গা প্রয়োজন এবং ইউটেরাসকে যতটা স্ট্রং হতে হবে। আপনার সেক্ষেত্রে… একটু সমস্যা আছে।’

    ‘ডক্টর! আমার কেন এই রোগ হল? এর কি কোনও ট্রিটমেন্ট নেই?’ সুনেত্রার কণ্ঠস্বর কেঁপে উঠল। ইনিও কি তবে কোনও আশা দেবেন না?

    ‘দেখুন! এটা কেন হলর উত্তর কিন্তু আমাদের কাছে নেই। মেডিক্যাল সায়েন্সে এটা রেয়ার ডিজিজ। অবশ্য খুব রেয়ার বলা চলে না। প্ৰায় প্রতি চার হাজার জন মহিলার মধ্যে একজনের এই রেয়ার ডিজিটা দেখা যায়। এটা জন্মগত। অর্থাৎ আপনি ইউনিকর্ণয়েট ইউটেরাস নিয়েই জন্মেছেন। পরবর্তীতে সেটা ডেভেলপ করেনি। তাতে আপনার কোনও দোষ নেই। আমি এরকম বলছি না যে কনসিভ একেবারেই করা সম্ভব নয়। এমন ক্ষেত্রেও অনেক সময় কনসিভ করা সম্ভব হয়। কিন্তু যেটা সমস্যা হয় সেটা হচ্ছে মিসক্যারেজের সম্ভাবনা থেকেই যায়। তবে হোপ ফর দ্য বেস্ট! মিরাকেল তো ঘটে। আমরা ট্রাই করে দেখি একবার আইভিএফ সফল হয় কি না। তারপর পরবর্তী ভাবনাটা ভাবা যাবে। তবে তার আগে আপনার যাবতীয় টেস্ট আমাদের ক্লিনিক থেকে করাতে হবে। কারণ এই পুরনো কোনও রিপোর্টকেই আমি সেই ভাবে ভরসা করতে পারব না। এখানে এটাই নিয়ম। সম্পূর্ণটা আমার তত্ত্বাবধানে হবে টেস্টগুলো। দেখি আগে এই সমস্যা সত্যিই আছে কি না।’

    ‘ডক্টর ঠিক হয়ে যাবে তো সবকিছু?’ সুনেত্রা প্রশ্ন করল।

    ‘ওই যে বললাম। মিরাকেল তো ঘটে। ভগবানের উপর আস্থা রাখুন। প্রে করুন।’ খসখস করে কিছু লিখলেন ডঃ কর। তারপর আবার বললেন, ‘আপনি চাইলে আজকে কিছু টেস্ট করে নিতে পারেন। আর বাকিটা কালকে করিয়ে নিতে পারেন। যতটা তাড়াতাড়ি সম্ভব আমরা প্রসেসটা শুরু করি। আর হ্যাঁ এই আইভিএফ ট্রিটমেন্ট কিন্তু বেশ কস্টলি! সেটাও মাথায় রাখতে হবে।’

    ‘আমরা জানি ডক্টর। এটা খরচসাপেক্ষ। আপনি ভাববেন না।’ কথাটা বলে অভীক উঠে দাঁড়ায়। ডঃ কর ফাইলটা অভীকের দিকে এগিয়ে দেন। তারপর ফাইলটা নিয়ে ওরা ডক্টরের চেম্বার থেকে বেরিয়ে আসে। ওরা বেরিয়ে এসে ডাক্তারের নির্দেশমতো রিসেপশনে যায়। সেখানে রিসেপশনে থাকা মেয়েটি পাশের একটি ছেলেকে বলে ওদের পাশের বিল্ডিংয়ে নিয়ে যেতে। সেখানেই যাবতীয় টেস্ট হয়।

    সুনেত্রা ও অভীক রিসেপশনের ছেলেটির সাথে যেতে শুরু করে। এই ছেলেটি পেশেন্ট অ্যাটেন্ডেন্ট। পাশের বিল্ডিংয়ে পৌঁছতেই ওরা বুঝতে পারে এটা একটা নার্সিংহোম। আর এখানে টেস্টও হয় আবার ডেলিভারিও হয়। সুনেত্রা আর অভীক নার্সিংহোমে ঢুকে ফার্স্ট ফ্লোরে উঠতেই সুনেত্রার নজর যায় করিডরের বাঁদিকে একদম শেষ প্রান্তে বন্ধ সাদা দরজাটার দিকে। তার উপরে লেখা আছে ওটি! দরজার বাইরে কয়েকজন চেয়ারে বসে আছে। একজন ভদ্রলোক পায়চারি করছেন। এই পরিবেশ দেখলেই বোঝা যায় ভিতরে কারওর ডেলিভারি হচ্ছে। আর বাইরে পায়চারি করা লোকটি নিশ্চয়ই বাবা হতে চলেছে। সুনেত্রার দৃষ্টি লক্ষ্য করে অভীকের নজরও যায় সেই দিকে। আর তখনই একটা বাচ্চার কান্নার আওয়াজ আসে। বুকের ভিতরটা কেমন করে ওঠে ওদের। একইসাথে আনন্দ আর কষ্ট হয়। সাদা দরজাটা ঠেলে বেরিয়ে এলেন একজন নার্স। তার কোলে এক সদ্যোজাত! কী নিষ্পাপ মুখ। কী সুন্দর দৃশ্য। পরিবারের আনন্দ ভরা মুখগুলো এগিয়ে যাচ্ছে তার কাছে। এমন আনন্দঘন মুহূর্তের সাক্ষী কি কোনওদিন হতে পারবে অভীক আর সুনেত্রা? ওদের দু’জনেরই চটক ভাঙে সেই অ্যাটেন্ডেন্ট ছেলেটির ডাকে—’স্যার! এদিকে আসুন। আপনাদের টেস্ট এদিকে হবে।’ একদম ডানদিকের শেষ ঘরটার সামনে দাঁড়িয়ে ছেলেটা। তার ডাক শুনেই ওরা দু’জন সেদিকেই যায়। কিন্তু যেতে যেতে দু’জনেরই দৃষ্টি বারবার পিছন ফিরে দেখে নিচ্ছিল ওই সুন্দর মুহূর্তটাকে।

    (৯)

    চোখের জল মুছে সার্টিফিকেটের ফাইলটা ব্যাগে ঢোকায় খুশি। তারপর চেনটা আটকে একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে। ও যতই বলুক কষ্ট তো ওর খুব হচ্ছে। মাকে ছেড়ে আজ অবধি কোনওদিন ও থাকেনি। পরিবারে তো সদস্য বলতে ওর মা আর ও। মা-ই মেয়ের জগৎ। আর মেয়ে মায়ের। ও যে ওর মাকে ছেড়ে কীভাবে শহরে থাকবে সেটা ভেবেই ওর কান্না পায়। আবার ওর মা যে ওকে ছাড়া কেমন করে সময় কাটাবে সেটা নিয়েও বেশ বুঝতে পারে না নিজের টিফিনের টাকা জমিয়ে মাকে একটা ছোট্ট টিভি কিনে দিয়েছে যাতে মায়ের সারাটা দিন ওকে ছাড়াও কিছু নিয়ে ব্যস্ত থাকার থাকে খুশির মা সবই বুঝতে পারে খুশির এই প্রচেষ্টা যে তাকে খুশির অবর্তমানে ব্যস্ত রাখার জন্য তা সে ভালো করেই জানে আবার খুশিও সব বুঝতে পারে তার উপর মানে মায়ের যে কোনও কিছুতেই মন ভুলবে না সেটা সে ছাড়া আর কে বা ভালো জানে। সব সময় আনন্দে থাকার একটা অভিনয় করে ও দেখায়, ওর প্যাশন। ওর এতদিনের স্বপ্ন শহরে চাকরি করতে যাওয়ার—এইসব কিছু যখন সফল হচ্ছে তখন ও খুশি আছে ওর মায়ের চোখের সামনে ধরা পড়ে যায় কিন্তু এই সব নাটকের আড়ালে সত্যি কথা তো এটাই যে খুশির মন ভেতর ভেতর কাঁদে আর সেই ডুকরে ওঠা কান্নার শব্দ যাতে বাইরে না আসে তাই মুখে ঝুলিয়ে রাখতে হয় এক টুকরো হাসি। যখন মা সামনে থাকে না তখন ও খুব করে কেঁদে নেয়। এই যেমন এখন ব্যাগ গোছাতে গোছাতে ওর কান্নাই থামছে না। সত্যিই ভেবে পাচ্ছে না ওখানে গিয়ে মাকে ছাড়া ও কী করে থাকবে। ওর মাও ওকে ছাড়া কীভাবে যে দিন কাটাবে সেটা ভেবে পায় না।

    ‘না গেলেই তো পারতিস।’

    কাঁধের উপর মায়ের হাতের স্পর্শ পেয়ে সজাগ হয়ে উঠল খুশি। না না, মাকে কিছু বুঝতে দেওয়া যাবে না। ও যে এতক্ষণ কাঁদছিল এটা কি ওর মা বুঝে ফেলেছে? নিজেকে সামলে নিয়ে পিছন ফিরে হাসিমুখে বলে, ‘না গেলে কি হবে বলো? চাকরি তো করতে হবে! চাকরি করার জন্যই তো পড়াশোনাটা করলাম। তুমিও কত কষ্ট করে আমাদের পড়াশোনা শেষ করালে। আজীবন তোমাকে কী করে কষ্ট করতে দিই বলোতো? এইবার তো আমার পালা! তুমি আরাম করে থাকবে আর আমি চাকরি করে তোমার ইচ্ছা পূরণ করব!’

    ‘এখানেই না হয় গ্রামের স্কুলে পড়াতিস!’

    ‘মা এখানে গ্রামের স্কুলে পড়াতে গেলে আমাকে পরীক্ষা দিয়ে সরকারিভাবে যুক্ত হলে ঠিকঠাক মাইনে পাব। আর পরীক্ষা দিয়ে যে এখানে পাওয়া যাবে তার তো কোনও মানে নেই। দেখলে সেই অন্য কোথাও যেতে হবে। তাছাড়া এখানে যদি এমনিই চাকরি চাইতে যাই খুব বেশি মাইনে পাব না। তাতে কি তোমার-আমার চলবে সারাজীবন? তার চেয়ে যে চাকরিটা আমি পেয়েছি কলকাতায়, ওটা করলে একটু টাকাপয়সা আসবে। তাছাড়া এখানে থেকে কী করে সেটা সম্ভব বলো?’

    ‘আমি জানি রে তোরও খুব কষ্ট হচ্ছে। সে যতই তুই মিথ্যে অভিনয় করে যাস না কেন! মাকে ছেড়ে যেতে তোর কষ্ট হবে না এটা হতেই পারে না। আমি জানি এই গ্রামটা ছেড়ে যেতেও তোর খুব কষ্ট হচ্ছে। হাজার হোক এখানেই তো তোর সব স্মৃতি! আমাদেরই কপাল! যে এইভাবে থাকতে হচ্ছে! তোকে বাইরে যেতে হচ্ছে আর আমি এখানে পড়ে থাকব একা একা। কীভাবে যে দিন কাটবে!’ খুশির মাথায় হাত রাখেন ওর মা।

    ‘মা আমি ওখানে একটু থাকার মতন ঠিকঠাক ব্যবস্থা করে নিই তারপরে তোমাকে নিয়ে যাব চাকরিটা মোটামুটি পাকা হতেই।’

    ‘নারে মা! এই গ্রাম ছেড়ে আমি যেতে পারব না। এখানেই তো আমার সব চেনাজানা বল। ওখানে গিয়ে সেই ঘরের মধ্যে ঘরে বন্দি! তাছাড়া ওখানকার লোকজনের সাথে কথা বলার মতন অভিজ্ঞতাও তো আমার নেই। ভয়ে ভয়ে ভেতরে থাকতে হবে। তার চেয়ে আমার এই বাড়ি এই গ্রামই ভালো বল? খোলামেলা। সব চেনা মানুষ। তুই বরং ওখানে কিছুদিন চাকরি করে এখানে চলে আয়। তারপর কাছাকাছি কিছু একটা দেখে নিবি। বেশিদিন ওখানে থাকতে হবে না। তখন কাছেপিঠে ভালো ছেলে দেখে তোর বিয়ে দেব! আর প্রত্যেক মাসে কিন্তু এসে আমার সাথে দেখা করে যাবি।’ আঁচলের খুঁটে একবার চোখের জলটা মুছে নিল খুশির মা।

    ‘হ্যাঁ মা। প্রতি মাসেই আমি এসে তোমার সাথে দেখা করে যাব। কিন্তু ওসব বিয়ের কথা বলো না। এখন সেসবের সময় নয় আমার।’ চোখের জলটা আর আটকে রাখতে পারল না খুশি। যেই মা ওর প্রতিমুহূর্তের সঙ্গী। তার সঙ্গে ওকে দেখা করতে হবে মাসে একবার? ভাবতেই বুকের ভেতরটা দুমড়ে মুচড়ে গেল। কিন্তু কী করবে ও? ওর মা ওকে বড় করতে অনেক কষ্ট করেছে একা হাতে সব দিক সামলেছে। এখন ওরও সময় এসেছে নিজের মাকে একটু সুখের দিন দেওয়ার। সেটা হাতছাড়া হতে দেয় কী করে?

    খুশি ওর মাকে জড়িয়ে ধরে বলল, ‘খুব মন খারাপ করবে আমার কিন্তু তবুও আমাকে যেতে হচ্ছে মা! তুমি চিন্তা কোরো না তপন কাকার বুথে আমি ফোন করব ওখান থেকে। আমার কাছে তো মোবাইল নেই। প্রথম মাসে মাইনেটা পাই। তারপর আমার জন্য একটা ছোট ফোন আর তোমার জন্য একটা ছোট ফোন কিনে নেব। তাহলে তুমি আর আমি সব সময় কথা বলতে পারব কেমন!’

    কিছু বলতে পারে না ওর মা। গলাটা বুজে আসছে। মেয়েকে ছেড়ে থাকার কষ্ট অন্য কিছু দিয়ে ভুলিয়ে রাখা যায় না। মেয়েটা একা ওখানে কী করবে সে চিন্তাও দূর হয় না। চোখের জল মুছে বলে, ‘সব গোছানো হয়ে গেছে তো? আমি কিন্তু গুছিয়ে রেখেছিলাম তোর ব্যাগ। আবার কী এসব ওলটপালট করছিস?’

    ‘না মা কিচ্ছু করিনি। শুধু ফাইলটা ঢোকালাম। আর তো সবই তুমি দিয়ে দিয়েছ। হাতে বানানো নাড়ু, মুড়কি কত কিছু দিয়েছ!’

    ‘তা দেব না? আবার যখন সামনের মাসে আসবি তখন আবার এক মাসের এরকম ভরে দেব। হ্যাঁ রে ট্রেন কখন?’

    ‘এইতো এক ঘণ্টা পর। স্টেশনে গিয়ে দেখি। আর কিছুক্ষণের মধ্যেই বেরোব। তোমাকে আসতে হবে না মা ভ্যানস্ট্যান্ড অবধি। ওখান থেকে আবার তোমাকে একা একা ফিরতে হবে। তুমি এখানেই থাকো।’

    ‘সাবধানে যাস মা। মনে করে কিন্তু পৌঁছে আমাকে অবশ্যই ফোন করে দিবি। আমি বড্ড চিন্তায় থাকব।’

    ‘হ্যাঁ মা ফোন করব আমি। তুমি চিন্তা কোরো না।’

    মাকে একটা প্রণাম করে ঘরের বাইরে বেরিয়ে আসে খুশি। ব্যাগটা কাঁধে চাপিয়ে একটু এগিয়ে যেতেই পিছন ফিরে একবার ওর মাকে দেখে। ওর মায়ের দু’চোখ ছাপিয়ে জল নেমেছে। দাঁড়িয়ে আছে দরজাটা ধরে। খুশির কেমন যেন একটা কষ্ট হচ্ছে। কিছুই ভালো লাগছে না। মনে হচ্ছে ও যেন মায়ের থেকে অনেক দিনের জন্য দূরে চলে যাচ্ছে। এই একটা মাস যে কীভাবে কাটাবে কে জানে! কবে যে এসে আবার মায়ের পাশে শুয়ে ঘুমোতে পারবে, মায়ের হাতের রান্না খেতে পারবে তাও জানে না! যখন আসবে তখন মন ভরে মায়ের কাছে থেকে যাবে। ও জানে

    চাকরির শুরু সবে। এখন বেশি ছুটি ও পাবে না। তবে যতটুকুনি পাবে তাতেই মায়ের কাছে রাত জেগে হলেও মন খুলে সময় কাটিয়ে যাবে। আর তাকিয়ে থাকতে পারে না খুশি। এবার ওর চোখেও জলের ধারা নেমেছে। সামনে ফিরে এগোতে থাকে। উঠোন শেষে বেড়াটা পার হতেই খুশির মায়ের বুকের ভেতরটা কেমন হু হু করে ওঠে। মনে হলো মেয়েটা এই যে বেরোল না জানি আবার কবে বাড়ি ফিরবে। ইচ্ছা হল এক ছুটে গিয়ে মেয়েটাকে জড়িয়ে ধরে বলবে ‘যেতে হবে না! লাগবে না ওসব কিছুই। যা হবে নুনে ভাতে মায়ে মেয়ে দু’জন এখানেই থেকে কাটিয়ে দেব। তুই যাস না।’

    কিন্তু পারল না। এইসব কষ্টের বাইরেও একটা সত্যি আছে। তা হল মেয়েটার স্বপ্ন। মেয়েটা ছোট থেকেই পড়াশোনা করেছে। খুব কষ্ট করে মায়ের সাথে হাতে হাতে কাজ করেছে। ঘর সামলেছে। ওর মা তো এর ওর বাড়িতে টুকটাক কাজ করে সেলাই করে সংসারটাকে চালিয়েছে। সেই সময় বাড়ির যাবতীয় কাজ তো খুশিই সামলেছে। তার সাথে পড়াশোনাটাও করেছে। ও চিরকালই বলত ও বড় হয়ে চাকরি করবে। সেই যখন চাকরির সুযোগটা এল তখন কী করে ছেড়ে দেয়? এই চাকরিটা অবশ্য হঠাৎ করেই এল। ওদের গ্রামে একটি ছেলে আছে। পড়াশোনা করে একদিন বাইরে চলে গেল। কলকাতা শহরে চাকরি করে। মাঝেমধ্যে গ্রামে আসে। গ্রামের ভালো-মন্দ নিয়ে সে ভাবনাচিন্তা করে। আবার নিজের কাজে ফেরে। এই গ্রামের একটা ছেলের চাকরি ও করে দিয়েছিল। খুশির মা যখন তাকে বলেছিল খুশির পড়াশোনা শেষ হয়ে গেছে, সে চাকরি করতে চায় আর পড়াশোনা করতে চায় না! তখন সেই ছেলেটি বলেছিল সে-ই একটা চাকরির সুযোগ করে দেবে খুশিকে। আর কলকাতার ই একটা এনজিওতে খুশির চাকরি সে পাকা করে দেয়। বড় পরোপকারী ছেলে! খুশিকে সে সব বুঝিয়ে দিয়েছে। তারপর তার সময় মতো সে কলকাতায় ফিরে গেছে নিজের কাজে। আর খুশিকে জানিয়ে গেছে কতদিনের মধ্যে তাকে চাকরিতে জয়েন করতে হবে। সেই অনুযায়ী এনজিওর তরফের অফার লেটারও সে খুশিতে দিয়ে গেছিল। কলকাতায় সে স্টেশনে খুশির জন্য অপেক্ষা করবে। ওখানে গেলেই সব ব্যবস্থা করে দেবে।

    সেই সব কাগজপত্র গুছিয়ে নিয়ে খুশি আজ রওনা দিল। আগামিকাল মধ্যে তাকে জয়েন করতে হবে। তার আগে সে ওখানে পৌঁছাবে এবং এনজিওর যে হেড তার সাথে দেখা করে যাবতীয় ফরমালিটিজ পূরণ করবে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার
    Next Article মৃত কৈটভ ১ – সৌরভ চক্রবর্তী
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Our Picks

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026

    এক বুড়ো আর সমুদ্র – আর্নেস্ট হেমিংওয়ে

    February 18, 2026

    মৃত কৈটভ ২ – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }