Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মাসুদ রানা ০০৬ – দুর্গম দুর্গ

    কাজী আনোয়ার হোসেন এক পাতা গল্প165 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    দুর্গম দুর্গ – ৪

    চার

    ‘আমি আর আলতাফ আগে উঠে যাব ওপরে। জিনিসপত্র ওপরে তোলা হয়ে গেলে তোমরা দু’জন আসবে।’ কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে উঠে দাঁড়াল রানা।

    মস্ত বড় কোনও গাছের অসংখ্য শিকড় বেরিয়ে আছে বিশ ফুট প্রায় খাড়া হয়ে থাকা পাহাড়টার গা থেকে। দড়িটা কয়েকবার ছুঁড়ে দিয়েও যখন কোনও কিছুর সঙ্গে বাধাতে পারল না, তখন এই শিকড় বেয়ে ওঠাই স্থির করল রানা। যে-কোনও মুহূর্তে শিকড় ছিঁড়ে পাথরের ওপর পড়ে হাড়গোড় ভাঙবার সম্ভাবনা আছে, কিন্তু এছাড়া আর উপায়ই বা কি।

    হাত ছাড়া আর কিছুর সাহায্য নিতে পারছে না ওরা। পা রাখার কোনও জায়গা নেই। অনেকটা রশি বেয়ে ওঠার মত। একটা করে শক্ত মত শিকড় ধরছে, টেনে দেখছে ছিঁড়ে যাবে কিনা, তারপর এক হাতের ওপর ভর দিয়ে উঠছে ছয় ইঞ্চি, অপর হাত খুঁজছে আরেকটা শিকড়। অতি সাবধানে এইভাবে একফুট-দুইফুট করে উঠে যাচ্ছে ওরা ওপরে। সাত মিনিটের মধ্যেই দুই হাত ব্যথা হয়ে গেল রানার। বাইসেপের পেশী দুটো কাঁপছে থর-থর করে। হাতে আর শক্তি নেই। দুই হাতে শিকড় ধরে ঝুলে থাকল সে কিছুক্ষণ। আরও পাঁচ ফুট উঠতে হবে। হাঁপাচ্ছে রানা। হৃৎপিণ্ডটা ফেটে বেরিয়ে আসতে চাইছে বুকের ভেতর থেকে। মাথাটা কাৎ করে দেখল, আলতাফ হাসছে ওর দিকে চেয়ে।

    ‘আলতাফ!’ ফিস্ ফিস্ করে বলল রানা, ‘বাকিটুকু খুব সাবধানে উঠতে হবে। কিসের যেন শব্দ পেলাম!’

    মাথা ঝাঁকাল আলতাফ। আবার উঠতে থাকল ওরা। দুই মিনিট পর দুই হাতে ধরল রানা কিনারের একটা পাথর।

    ধীরে, অত্যন্ত সাবধানে মাথাটা উঁচু করল রানা। চোখ জোড়া ওপরে উঠতেই থেমে গেল সে। চারদিকের অন্ধকারে একবার চোখ বুলাল। প্রকাণ্ড একটা বট গাছ ঝড়ে উপড়ে পড়ে আছে বেশ খানিকটা দূরে। এই বটেরই শিকড় ধরে উঠেছে ওরা। তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে চাইল সে চারদিকে। সমস্ত অনুভূতি শ্রবণেন্দ্রিয়ে একত্রীভূত করবার চেষ্টা করল। নাহ্, কিচ্ছু দেখা যাচ্ছে না। বাতাসের শনশন শব্দ ছাড়া আর কিছু শোনাও যাচ্ছে না। যতদূর দেখা যাচ্ছে অন্ধকার আর অন্ধকার। কোথাও একটু বেশি গাঢ়, কোথাও হালকা। নিজের অসহায় অবস্থার কথা চিন্তা করে হাসি পেল রানার। এই মুহূর্তে কেউ যদি লাথি মেরে ওর আঙুলগুলো সরিয়ে দেয় তাহলেও কিছু করবার উপায় নেই ওর। এক ঝাঁকিতে দুই হাতের ওপর ভর দিয়ে বুক পর্যন্ত উঠে এল সে ওপরে।

    হঠাৎ চমকে উঠল রানা। লাফিয়ে উঠল ওর হৃৎপিণ্ড। বেশ কিছুটা দূরে বড় বড় গোটা কয়েক পাথরের চাঁই পড়ে ছিল- একটা পাথর নড়ে উঠল উঠে দাঁড়াল একজন লোক। দশ গজও হবে না। এগিয়ে আসছে ছায়া- মূর্তিটা এদিকে। এই অন্ধকারেও পরিষ্কার চিনতে পারল রানা- আর্মি গার্ড। গায়ে রেইনকোট, পায়ে গাম বুট, মাথায় লোহার শিরস্ত্রাণ। সেনা বাহিনীর লোক- ভুল নেই তাতে

    দুই সেকেণ্ড পাথরের মত নিশ্চল হয়ে রইল রানা। বুকের রক্ত হিম হয়ে জমে গেছে। কিচ্ছু ভাবতে পারছে না সে আর। এইভাবে মৃত্যুই তাহলে কপালে লেখা ছিল! কয়েক পা এগিয়ে এসেছে সেন্ট্রি। রাইফেল প্রস্তুত। মাথাটা একপাশে সরিয়ে কিছু শুনবার চেষ্টা করছে যেন সে। বাতাসের সাঁই সাঁই শব্দ আর সমুদ্র তরঙ্গের উচ্ছ্বাসকে ছাপিয়ে আরও কিছু যেন শুনবার চেষ্টা করছে সে।

    রানা সামলে নিয়েছে নিজেকে। এখন ওপরে উঠবার চেষ্টা করা অহত্যারই সামিল। কিছুটা শব্দ হবেই, এবং বিনা দ্বিধায় গুলি করবে প্রহরী। আবার নিচে নামতে হবে তাকে। অত্যন্ত সাবধানে নামতে হবে। এক ইঞ্চি দুই ইঞ্চি করে। দ্রুত কিছু করতে গেলেই ধরা পড়ে যাবে ওর চোখে।

    অতি যত্নের সঙ্গে ধীরে ধীরে মাথাটা নামাল রানা নিচে। প্রহরীটা এগিয়ে আসছে। রানার গজ পাঁচেক ডাইনে ওর লক্ষ্যবিন্দু। মাথাটা অদৃশ্য হয়ে গেল রানার। দুই হাতের আটটা আঙুল ছাড়া কিছুই অবশিষ্ট রইল না ওপরে। আলতাফ দুই ফুট নিচে থাকতে আর শিকড় পায়নি হাতের কাছে। কিছুটা নেমে আবার উঠল সে রানার পাশে। কানে কানে জিজ্ঞেস করল, ‘কি ব্যাপার, রানা?’

    ‘সেন্ট্রি!’ ফিস ফিস করে জবাব দিল রানা। ‘ও কিছু শুনেছে। খুঁজছে আমাদের।’

    হঠাৎ দেয়ালের গায়ে সেঁটে গেল রানা। আলতাফও তাই করল। ঝলসে উঠল এক ঝলক আলো। ওদের অনভ্যস্ত চোখ আঁধার হয়ে গেল। টর্চ জ্বেলে সেন্ট্রিটা এবার পাড়টা পরীক্ষা করছে মনোযোগের সাথে। কিনার থেকে কয়েক ফুট দূর দিয়ে হাঁটছে সে। এই ঝড়ের রাতে পা পিছলে নিচে পড়ে যাওয়ার ভয়েই বোধহয়। কিংবা কিনার দিয়ে হাঁটলে হঠাৎ একটা হাত এগিয়ে এসে খপ করে পা ধরে টেনে ফেলে দিতে পারে নিচে, সেই ভয়ে।

    ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে আলোটা। রানা বুঝল ওর আঙুলগুলো সেন্ট্রি দেখতে পাবেই। কারণ সে পরিষ্কার উপলব্ধি করল, কেবল সন্দেহপ্রবণ হয়েই যে লোকটা খুঁজছে তা নয়, লোকটা স্থির নিশ্চিত যে কিছু না কিছু সে দেখতে পাবেই। এবং যতক্ষণ খুঁজে না পাচ্ছে ততক্ষণ থামবে না। এই অবস্থায় বাদুড়-ঝোলা হয়ে ওর হাতে ধরা পড়া ছাড়া আর কোনও উপায় নেই। এমনি সময় এক হাতে স্পর্শ করল আলতাফ রানার হাত।

    ‘একটা পাথর!’ ফিসফিস করে বলল আলতাফ। ‘ওর পেছন দিকে ফেলতে হবে।

    ডান হাতে খুঁজল রানা কিনারটা, কাদা আর ঘাসের গুচ্ছ ছাড়া কিছুই ঠেকল না হাতে। একটা মার্বেলের অর্ধেক সাইজ পাথরও পেল না সে। হঠাৎ মনে পড়ল ওর অফিসের একটা চাবি রয়ে গেছে ওর পকেটে। আলোটা তখন তিন ফুট দূরে। চাবিটা বের করে ছুঁড়ে মারল সে বাম দিকের অন্ধকারে আন্দাজের ওপর কয়েকটা পাথর লক্ষ্য করে। এক সেকেণ্ড পার হয়ে গেল, তারপর দুই সেকেণ্ড, রানার মনে হলো পাথরে লাগেনি চাবিটা- হয়তো কাদায় পড়েছে। আলোটা আলতাফের কাঁধ থেকে কয়েক ইঞ্চি দূরে আছে। এমনি সময় ঠং করে পাথরের ওপর চাবির শব্দ হলো। ঝট্ করে ঘুরে দাঁড়াল সেন্ট্রি। একবার অনেকখানি জায়গার ওপর টর্চটা বুলিয়ে দেখে নিয়ে আলো ফেলল সে পাথরগুলোর ওপর। তারপর ছুটল সেদিকে। রাইফেলটা টর্চের সাথে চেপে ধরেছে সে। চকচক করছে ব্যারেলটা আলো পড়ে।

    গার্ডটা দশ গজও যায়নি, চিতাবাঘের মত নিঃশব্দে উঠে গেল আলতাফ ওপরে। ছুটে গিয়ে ঝড়ে পড়া গাছটার আড়ালে অদৃশ্য হয়ে গেল সে।

    বিশ গজ দূরে সেন্ট্রিটা তখন ভয়ে ভয়ে এ-পাথর, ও-পাথরের ওপর আলো ফেলছে। আলতাফ ওর ছুরির বাঁট দিয়ে একটা পাথরের ওপর দুটো টোকা দিল। পাঁই করে ঘুরে দাঁড়াল সেন্ট্রি। গাছটার দিকে আলো ফেলল, তারপর পিচ্ছিল পাথরের ওপর দিয়ে আনাড়ির মত দৌড় দিল গাছের দিকে। হাঁটুর কাছে রেইনকোটের ফ্ল্যাপ দুটো বাড়ি খাচ্ছে। দৌড়ের ফলে টর্চটা দুলছে ওপর নিচে। রানা এক নজর দেখতে পেল সেন্ট্রির বিভ্রান্ত চেহারাটা। অল্পবয়সী- মাহবুবের সমান হবে। ভয়ে বিস্ফারিত হয়ে আছে দুই চোখ। রানা ভাবল, একমাত্র খোদাই জানে বেচারার মনের মধ্যে এখন ভয় আর আতঙ্কের কি প্রবল আলোড়ন চলেছে। নির্জন সমুদ্রের উঁচু পাড়ের ওপর ঠুংঠাং খুট-খাট শব্দ, অথচ কাউকে দেখা যাচ্ছে না; নিঃসঙ্গ, একাকী সে। ঝড়-বৃষ্টির অন্ধকার রাতে বাতাসের সাঁই-সাঁই শব্দ আর সাগরের ক্রুদ্ধ গর্জন। ভয় পেয়েছে ছেলেটা। রানার মনের মধ্যে অদ্ভুত একটা মমত্ববোধ জাগল। রানারই মত সে-ও মানুষ, কারও আদরের সন্তান, কিংবা ভাই, অথবা স্বামী, প্রিয়তম। কর্তব্য পালন করতে এসেছে সে, ওপরওয়ালার হুকুম তামিল করছে মাত্র। দুঃখ হলো রানার এই একাকী, উদ্বিগ্ন, আতঙ্কিত ছেলেটির জন্যে। অথচ মরতেই হবে একে। আর দশ সেকেণ্ডের মধ্যেই মৃত্যু হবে ওর। ধীরে ধীরে মাথা তুলল রানা ওপরে।

    ‘বাঁচাও! বাঁচাও!’ ককিয়ে উঠল রানা। স্পড়ে যাচ্ছি, ধরো!’

    থমকে দাঁড়াল আতঙ্কিত সেন্ট্রি আলতাফ যেখানটায় লুকিয়ে আছে তার চার ফুটের মধ্যে। ঘুরে দাঁড়াল রানার দিকে। এক সেকেণ্ড এদিক ওদিক খুঁজে স্থির হলো আলোটা এসে রানার মুখের ওপর। একমুহূর্ত মূর্তির মত দাঁড়িয়ে থেকে রাইফেল তুলল সে কাঁধে। পরমুহূর্তেই একটা চাপা আর্তনাদ বেরিয়ে এল ওর মুখ থেকে। ঢলে পড়ল সে মাটিতে।

    উঠে এল রানা ওপরে। মৃত সেন্ট্রির দিকে চাইল একবার। রক্ত মাখা ছুরিটা সেন্ট্রির রেইনকোটে মুছে নিয়ে বেল্টে বাঁধা খাপের মধ্যে রেখে দিল আলতাফ।

    ‘এতে কি প্রমাণ হয়, রানা?’ জিজ্ঞেস করল আলতাফ। লোকজনের সামনে মেজর বলে ডাকে সে রানাকে। স্পর পর অনেকগুলো দৈব-সংযোগ। সন্দেহজনক, তাই না?’

    ‘হ্যাঁ। লঞ্চে করে তাড়া, দ্বীপে সৈনিক, এখানে পৌঁছে গার্ড! কেটি বন্দরের সেই ক্যাপ্টেনের কপাল খারাপ। কমোডোর জুলফিকার আর আমাদের বুড়ো মিটা, কেউ ছাড়বে না ওকে। আস্ত চিবিয়ে খেয়ে ফেলবে।

    মাথা ঝাঁকাল আলতাফ।

    ‘ও নিশ্চয়ই করিমকে ছেড়ে দিয়েছিল।’

    ‘নিশ্চয়ই, তাছাড়া আর কে জানবে আমাদের গন্তব্যস্থল? এরা আমাদের পৌঁছানোর অপেক্ষায় প্রস্তুত আছে। এই ঝড়ের রাতেও অন্ততঃপক্ষে তিরিশ- চল্লিশটা গার্ড মোতায়েন করে দিয়েছে এই পাহাড়ী সমুদ্র-তীরে।’ গলার স্বরটা নিচু করে প্রায় আপন মনে বলল রানা, ‘এখন যত শিগগির সম্ভব সরে যেতে হবে এখান থেকে।

    ‘সিগন্যাল, তাই না?’ বলল আলতাফ। ‘ওরা পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার জন্যে নিশ্চয়ই কোনও সিগন্যালের ব্যবস্থা করেছে। হয়তো ফ্লেয়ার…’

    ‘না। তাহলে ওদের অবস্থান জেনে ফেলার সম্ভাবনা আছে আমাদের। খুব সম্ভব টেলিফোন। ফিল্ড টেলিফোনে যোগাযোগ রাখছে ওরা। ফ্লেয়ার নয়।’

    মাথা ঝাঁকাল আলতাফ। মাটি থেকে মরা সেন্ট্রির টর্চটা তুলে নিয়ে চারদিক খুঁজল। আধ মিনিটের মধ্যেই তার পাওয়া গেল খুঁজে, আর আধ মিনিটের মধ্যেই সেই তার ধরে গিয়ে দেখা গেল পাথরের আড়ালে রাখা আছে একটা টেলিফোন সেট।

    ‘এখন পালানো ছাড়া আর কোনও উপায় দেখছি না। যদি রিং হয়, জবাব দিতে হবে, নইলে সব ব্যাটা ছুটে আসবে এখানে। কিন্তু ব্যাটাদের কোনও কোড সিগন্যাল থাকলেই গেছি।’ কয়েক পা এগিয়েই থামল রানা। কিন্তু আলতাফ, আর কিছুক্ষণের মধ্যে কেউ না কেউ এসে পড়বেই। হয়তো কোনও সার্জেন্ট, নয়তো কোনও রিলিফ, কিংবা হয়তো একে পনেরো মিনিট পর পর রিপোর্ট করবার আদেশ দেয়া হয়েছিল। যে-কোনও মুহূর্তে বিনা নোটিসে কেউ এসে হাজির হতে পারে। ধরো, লাশটা ছুঁড়ে ফেলে দিই সমুদ্রে।’

    গাছের একটা মোটা ডালের সাথে শক্ত করে রশিটা বেঁধে ঝুলিয়ে দিল রানা নিচে। এক্সপ্লোসিভের বাক্সটা এল প্রথম, তারপর একে একে আসতে থাকল অন্যান্য জিনিসপত্র। আলতাফ টেনে তুলছে মালগুলো, রানা বসে আছে টেলিফোনের পাশে। হঠাৎ ‘আহ্হা’ বলে উঠল আলতাফ। তিন লাফে কাছে চলে এল রানা।

    ‘কি ব্যাপার, আলতাফ

    ‘কি যেন একটা জিনিস খসে পড়ে গেল। ভালমত বাঁধতে পারেনি।’

    কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল রানা, কড়-কড়াৎ করে বাজ পড়ল কাছেই কোথাও। পোড়া তামাটে গন্ধ এল নাকে।

    ‘সেরেছে। আর একটু হলেই মাথায় পড়ত। যাক, কি জিনিস খোয়া গেল?’

    প্রশ্নটা করেই রানা বুঝতে পারল জিনিসটা কি। ও নিজেই সাজিয়ে রেখেছিল ওগুলো গুরুত্ব অনুসারে।

    ‘খাবার,’ বলল আলতাফ। ‘খাবার, স্টোভ- সব।’

    দমে গেল রানা। খাবার ছাড়া এই অজানা অচেনা শত্রুদেশে চলবে কি করে? বৃষ্টির ছাঁট লেগে এতক্ষণ শীত লাগেনি, এবার হঠাৎ শিউরে উঠল রানার সর্বশরীর। কাঁধের ওপর হাত রাখল আলতাফ। মুখে মৃদু হাসি।

    ‘এতে কিছু এসে যায় না, রানা। বয়ে নিয়ে যাবার বোঝা তো কমল। ভেবে দেখো, ক্লান্ত ক্যাপ্টেন মিশ্ৰী খান কত খুশি হবে এই বোঝা হালকা হয়ে যাওয়ায়!’

    এমন সময় তীক্ষ্ণ একটা শব্দে একসাথে চমকে উঠল আলতাফ ও রানা। ক্রিং ক্রিং ক্রিং ক্রিং বেজে উঠেছে টেলিফোন। শক্ত হয়ে গেল রানার মুঠি, আড়ষ্ট হয়ে শুনল সে টেলিফোন রিং। তারপর এগোতে গিয়েও থেমে দাঁড়াল। ফিরল আলতাফের দিকে।

    ‘মত পরিবর্তন করলে?’ জিজ্ঞেস করল আলতাফ।

    মাথা ঝাঁকাল রানা। মুখে কিছুই বলল না। আলতাফই বলল, ‘উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত বাজতেই থাকবে। যখন কিছুতেই উত্তর পাবে না তখন আসবে ওরা, এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব।’

    ‘ভেবে দেখলাম ওই ঝুঁকিটা আমাদের নিতেই হবে। কিন্তু কতক্ষণ লাগবে ওদের পৌঁছতে সেটাই প্রশ্ন।’ চারদিকে একবার চোখ বুলাল রানা। ‘টেলিফোন ধরা ঠিক হত না। ধরা পড়ে যাবার শতকরা পঁচানব্বই ভাগ সম্ভাবনা। হয়তো গলার স্বরে ধরা পড়ব, কিংবা ভাষায় ধরা পড়ব, কিংবা হয়তো কোড সিগন্যালে ধরা পড়ব- কিন্তু বোঝার উপায় নেই ধরা পড়েছি কিনা। তাছাড়া মিশ্রী আর মাহবুব ছাড়া সবকিছু উঠে এসেছে আমাদের। কেউ জানে না যে আমরা পৌঁছে গেছি। সেন্ট্রিটাকে যখন পাওয়া যাবে না ওরা মনে করবে বেশি কিনারে চলে গিয়েছিল নিষেধ সত্ত্বেও এবং পা পিছলে পড়ে ডুবে গেছে সমুদ্রে। এখন ওদের দু’জনকে নিয়ে কেটে পড়তে পারলেই এই মিশনের প্রথম অর্ধেক সফল হয়।’

    ‘হ্যাঁ। ঠিক বলেছ তুমি। এত কষ্টের পর যেটুকু অর্জন করেছি আমরা সেটুকু সামান্য ভুলে নষ্ট করার মত বোকামি আর নেই। কিন্তু এতক্ষণে ওরা রওনা হয়ে গেছে। ফোন থেমে গেছে। নিশ্চয়ই দৌড়ে আসছে ওরা এদিকে ‘

    আলতাফের কথা শেষ হবার আগেই দু’জনের চোখে পড়ল কয়েকটা টর্চ এগিয়ে আসছে ওদের দিকে। প্রায় চার-পাঁচশো গজ দূরে আছে। চলার বেগে টর্চের আলো নাচানাচি করছে এদিক-ওদিক।

    দ্রুত রশিটা নামিয়ে দিল আলতাফ। মিশ্রী খান উঠে এল ওপরে- অর্ধেকটা নিজের চেষ্টায়, বাকি অর্ধেক আলতাফের টানে। মাথাটুকু বেরোতেই থেমে গেল। রানা জিনিসপত্রগুলো সরিয়ে রাখছিল পাহাড়ের ঢাল বেয়ে কিছুদূর নেমে বড় বড় কয়েকটা পাথরের চাঁইয়ের আড়ালে। ফিরে আসতেই দেখল মিশ্রী খানের মাথা। অবাক হয়ে ঝুঁকে দেখল রানা দাঁতে দাঁত চেপে চোখ বন্ধ করে আছে মিশ্রী খান।

    ‘পৌঁছে গেছ, ক্যাপ্টেন। এবার উঠে পড়ো। ওর কাঁধে দুটো চাপড় দিল রানা আস্তে করে।

    ধীরে ধীরে চোখ মেলে চাইল মিশ্ৰী খান। তারপর আছড়ে-পাছড়ে উঠে পড়ল ওপরে। রানা অবাক হয়ে দেখল ওকে, রেইনকোট থাকা সত্ত্বেও ভিজে চুপচুপে ওর জামা-কাপড়। জিজ্ঞেস করল, ‘ওপরে উঠে চোখ বন্ধ করে রেখেছিলে কেন?’

    ‘ওপরে উঠে তো চোখ বন্ধ করিনি, ওস্তাদ!’

    ‘তবে?’

    ‘নিচেই চোখটা বন্ধ করে নিয়েছিলাম, ওপরে উঠে খুলেছি।’

    ‘এই বিশ ফুট চোখ বন্ধ করে উঠেছ?’

    ‘ঠিক তাই। ঝোলাঝুলির কারবারে আর যাব না বাবা, ভারি ভয় লাগে একবার শিয়ালকোটে…’

    ‘থাক, ক্যাপ্টেন, ওসব তোমার আজীবনীর জন্যে সঞ্চয় করে রাখো। এখন ওই দেখো কারা আসছেন, আমাকে একটু সাহায্য করো মালপত্রগুলো সরাবার কাজে।’

    অনেক কাছে চলে এসেছে প্রহরীগুলো। মাহবুব এখনও অর্ধেক উঠতে পারেনি। আলতাফ আর মিশ্রী খানকে সাব মেশিনগান নিয়ে তৈরি থাকতে বলল রানা নিচের ওই পাথরের আড়ালে। নিজে শুয়ে পড়ল মাটির ওপর। মাথাটা বের করে দেখছে সে মাহবুব কতটা এল। বিশ গজের মধ্যে এসে গেছে প্রহরীরা।

    পরিষ্কার বুঝতে পারল রানা এখন যদি মাহবুব ওপরে ওঠে তাহলে ঠিক ওদের হাতে গুলি খেয়ে মরতে হবে ওকে। মাহবুব যদি না-ও মরে প্রহরীগুলো প্রত্যেকে মরবে মিশ্রী আর আলতাফের হাতে। হঠাৎ একটা বুদ্ধি খেলে গেল ওর মাথায়। দুই হাত মুখের কাছে এনে মৃদুস্বরে ডাকল একবার, ‘মাহবুব!’

    চট করে ওপর দিকে চাইল মাহবুব।

    ‘নেমে যাও, মাহবুব! কয়েকজন সেন্ট্রি আসছে এদিকে। আমরা সরে যাচ্ছি, কাছেই লুকিয়ে থাকব। নিচে নেমে উপুড় হয়ে শুয়ে থাকো মরা মানুষের মত। নেমে রশি ধরে দুটো টান দেবে, আমি উঠিয়ে নেব রশিটা।’

    বিস্ফারিত নেত্রে চেয়ে কথাগুলো বুঝবার চেষ্টা করল রক্তক্ষরণে দুর্বল, ক্লান্ত, পরিশ্রান্ত মাহবুব। বুঝতে পারল। নেমে যাচ্ছে সে এখন। আর পনেরো গজ দূরেই সেন্ট্রিদের বুটের শব্দ। হঠাৎ হাত ছেড়ে দিল মাহবুব। ও যে কতখানি ক্লান্ত হয়ে পড়েছে সে ধারণাই ছিল না রানার। দাঁতে দাঁত চেপে অপেক্ষা করল সে ভারি কিছু পতনের। বোধহয় কোনও শিকড়ে পা বেধে গেছে। মড়াৎ করে কিছু ভাঙার শব্দ পাওয়া গেল। বুকে হেঁটে সরে এল রানা উপড়ে যাওয়া বট গাছটার আড়ালে। আর অপেক্ষা করা যায় না। একবার পাঁচ ফুটের মধ্যে এসে পড়ল একটা টর্চের আলো। মাটিতে মুখ গুঁজে পড়ে রইল রানা আলোটা সরে না যাওয়া পর্যন্ত। রানা জানে ওর ওপর টর্চের আলো পড়া মানেই পাঁচটি সেন্ট্রির মৃত্যু। আর তাহলে ওদের আগমন আর গোপন থাকবে না কারও কাছে।

    গাছের আড়ালে পৌঁছেই রশিটা উঠিয়ে ফেলল রানা, লুকিয়ে রাখল একটা ডালের নিচে।

    এসে গেছে সেন্ট্রিরা।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমাসুদ রানা ০১০ – রানা! সাবধান!!
    Next Article মাসুদ রানা ৪৬১ – অপশক্তি

    Related Articles

    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৩৮৫-৩৮৬ – হ্যাকার (দুই খণ্ড একত্রে)

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫৬ – টপ টেরর

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫৪ – নরপশু

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫৩ – ধর্মগুরু

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫২ – কালো কুয়াশা

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫১ – মায়া মন্দির

    July 22, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }