Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মাসুদ রানা ০১০ – রানা! সাবধান!!

    কাজী আনোয়ার হোসেন এক পাতা গল্প141 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    রানা! সাবধান!! – ১০

    দশ

    ‘থামো!’ নেমে এল ললিতা সিঁড়ি বেয়ে। ‘কি করছ?’

    মুখোশটা মুখে লাগানো আছে দেখে অনেকটা আশ্বস্ত হলো ঘটোৎকচ। বলল, ‘হাতটা ভাঙছিলাম স্যার, থুড়ি, ম্যাডাম।

    ‘ওটা একটু পরে ভাঙলেও চলবে, নতুন একটা প্ল্যান এসেছে মাথায়। দেয়াল থেকে ওই মুগুরটা পেড়ে আনো।

    একটু অবাক হলো ঘটোৎকচ, কিন্তু আদেশ মত দেয়ালে টাঙানো একটা মুগুর নিয়ে এল। এটা দিয়েই বোধহয় ছাতু করে দেয়া হবে ওর মাথাটা, ভাবল রানা।

    ‘দাও ওটা আমার হাতে। এবার এর হাত পায়ের সমস্ত বাঁধন খুলে দাও। কি নাম যেন বলেছিলে তোমার?’

    ‘ঘটোৎকচ। রানার হাত পায়ের বাঁধন খুলতে খুলতে বলল সে। এই লোকটার বাঁধন খুলে দেয়া উচিত হচ্ছে বলে মনে হলো না ওর, কিন্তু ললিতার কথার ওপর কোন কথা বলবার সাহস হলো না।

    ‘ঠিক আছে। এইবার লোকটাকে তুলে দাঁড় করাও। দুই হাতে শক্ত করে ধরে রাখবে যেন নড়তে না পারে। হ্যাঁ। এবার আমার দিকে পিছন ফিরে দাঁড়াও।

    ‘ধাঁই করে পড়ল মুগুরটা ঘটোৎকচের ন্যাড়া মাথার ওপর। একটা তীক্ষ্ণ যন্ত্রণাধ্বনি বেরোল ওর মুখ থেকে। ছেড়ে দিল সে রানাকে। আবার পড়ল মুগুর। হাঁটু গেড়ে বসে পড়ল ঘটোৎকচ। তৃতীয় আঘাতেই শুয়ে পড়ল জ্ঞান হারিয়ে।

    ‘জলদি চলো, রানা! সময় নেই হাতে!’

    ‘কি ব্যাপার, ললিতা…?’

    ‘ললিতা নয়, শায়লা ফৈয়াজ। জলদি। এক্ষুণি ভাগতে হবে আমাদের!’ রানার দুই চোখে বিস্ময় আর অবিশ্বাস দেখে মুখোশটা খুলে দেখাল শায়লা।

    রানা দেখল শায়লার কপালে একটা কাটা দাগ দেখা যাচ্ছে, বাম গালে স্পষ্ট হয়ে আছে পাঁচ আঙুলের দাগ। জিজ্ঞেস করল, ‘কি হয়েছিল? ধরা পড়েছিলে?’ ডান হাতটা কয়েকবার ভাঁজ করল রানা। কমে যাচ্ছে ব্যথাটা।

    ‘না। পরে বলব সবকথা। এখন যে-কোন লোক যে-কোন মুহূর্তে এসে পড়তে পারে। আমার আগে আগে চলো মাথা নিচু করে।’ মুখোশটা পরে নিল শায়লা আবার।

    ‘এখান থেকে বেরোবে কেমন করে? ঢুকলেই বা কি করে? আৰ্য!’ রওনা হলো সিঁড়ি বেয়ে ওপর দিকে।

    ওদের বলব, তুমি তোমার সঙ্গীদের ধরিয়ে দিতে রাজি হয়েছ, তাই নিয়ে যাচ্ছি আমি। কোনও গোলমাল করতে সাহস পাবে না পুলিস। ললিতার ক্ষমতা সাংদঘাতিক।’

    ‘কোথায় সে এখন?’

    ‘এস.পি.-র অফিস রূমের অ্যাটাচড বাথরূমে পড়ে আছে। এস.পি.-র হান্টারটা ভেঙেছি আমি ওর মাথার ওপর। এইবার খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলো- ভাব দেখাবে যেন কঠোর নির্যাতনে আধমরা হয়ে গেছ। তার ওপর সব কথা স্বীকার করতে বাধ্য হয়ে লজ্জায় মিশে যাচ্ছ মাটির সঙ্গে।

    আগে আগে ঢুকল রানা এস.পি.-র অফিস রূমে, পিছন পিছন শায়লা। চট্ করে বাথরূমের বন্ধ দরজার ওপর থেকে একবার ঘুরে এল রানার চোখ- এর মধ্যে বাথরূমের দরজা খোলেনি তো কেউ?

    দু’জন লোকের সঙ্গে কথা বলছিল এস.পি.। রানাকে দেখে অবাক চোখে চাইল, কিন্তু পিছনে শায়লাকে দেখেই তড়াক করে উঠে দাঁড়াল চেয়ার ছেড়ে।

    ‘স্বীকার করেছে। ওর সাথের তিনজন কোথায় আছে দেখিয়ে দিতে রাজি হয়েছে। এক্ষুণি একটা জীপের ব্যবস্থা করুন।

    ‘নিশ্চয়ই। এক্ষুণি ব্যবস্থা করছি। ইশারা করতেই একজন লোক ছুটে বেরিয়ে গেল ঘর থেকে। ‘ঘটোৎকচ কোথায়?’

    ‘নিচেই আছে। রক্তটক্ত পরিষ্কার করে আসবে এক্ষুণি। লোকটা ভাল, কিন্তু এত সহজে সব কথা স্বীকার করে ফেলায় মন খারাপ হয়ে গেছে ওর।’ হাসল এস.পি.। বলল, ‘মাদ্রাজের কুস্তি চাম্পিয়ান লোকটা। যাক, আপনার গাড়ি এসে যাবে এক্ষুণি। সঙ্গে লোক দেব কয়জন? আপনি কি একা সামলাতে পারবেন একে?’

    ‘নিশ্চয়ই। লোকের দরকার নেই। ব্যাটার হাতে একটা হ্যাণ্ডকাফ পরিয়ে চাবিটা আমার কাছে দিয়ে দিন। কোনও রকম গোলমাল করবার মনোবলই নেই ওর এখন। আর বাকি ক’জনকে গ্রেফতার করা তো জলের মত সহজ। এই ব্যাপারে সমস্ত বাহাদুরি আমি নিজেই নিতে চাই।’

    রানার হাতে হাতকড়া পরিয়ে চাবিটা দেয়া হলো শায়লার হাতে।

    ‘ধন্যবাদ। আপনার সহযোগিতার কথা আমার বিস্তারিত রিপোর্টে দিল্লী পৌঁছবে।’

    ‘সেটা আপনার দয়া,’ হাত কচলে বলল এস.পি. বিগলিত কণ্ঠে।

    ‘এখন আরেকটা জিনিস দরকার আমার। গর্ত থেকে ইঁদুরগুলোকে বের করতে খানিকটা ধোঁয়ার প্রয়োজন হতে পারে। একটা অটোমেটিক কারবাইন আর গোটা কয়েক হ্যাণ্ড গ্রেনেড তুলে দিন জীপে।’

    এস.পি.–র ইঙ্গিতে দ্বিতীয় লোকটাও চলে গেল ঘর থেকে দ্রুত পায়ে। অল্পক্ষণের মধ্যেই রানাকে ধাক্কা দিয়ে ওঠানো হলো গাড়ির পিছন সীটে। স্টিয়ারিং ধরল শায়লা। সাঁ করে বেরিয়ে গেল জীপটা ইলোরের পুলিস হেড কোয়ার্টারের গেট দিয়ে।

    বেশ খানিকটা গিয়ে মুখোশটা একটানে খুলে ফেলল শায়লা। বলল, ‘ছি! বিচ্ছিরি গন্ধ এই মুখোশে। আর মাগো, কী ভয়ঙ্কর মেয়েলোকটার মুখের চেহারা!’ শিউরে উঠল শায়লা ললিতার চেহারা কল্পনা করে।

    ‘তোমার আব্বা কোথায়?’ জিজ্ঞেস করল রানা।

    ‘তোমার জন্যে দুইঘণ্টা অপেক্ষা করে আধমাইল ভিতরে সরে গিয়েছিলাম আমরা। ফিরতে না দেখেই বুঝেছি আমরা কোন বিপদে পড়েছ তুমি।’

    ‘কিন্তু আমি কোথায় আছি জানলে কি করে তুমি?’

    ‘সাদেক খানকে দিয়ে খুঁজিয়েছি। ও-ই খুঁজে বের করেছে তোমাকে…’

    ‘সাদেক খান!’ হঠাৎ বুঝতে পারল রানা। শায়লার কপাল আর গালের দিকে দৃষ্টি গেল ওর। ‘গোলমাল হয়েছিল কিছু?’

    ‘তেমন কিছু না,’ একটু দ্বিধা করে বলে ফেলল, ‘হঠাৎ আক্রমণ করে বসেছিল ও আমাকে। আব্বাজী একটা ইঞ্জেকশন দিয়ে না ঠেকালে, মেরেই ফেলত। হাত-পা বেঁধে নিয়ে আবার একটা স্টিমুল্যান্ট ইঞ্জেকশন দিয়ে জাগানো হয়েছে ওকে। তোমার আর ললিতার চিন্তা ওর মুখ থেকে শুনে সব ব্যাপার জানতে পারলাম আমরা। আরও জানতে পারলাম কবীর চৌধুরীর ভয়ে ভেতর ভেতর থরহরিকম্প হয়ে রয়েছে ললিতা বটব্যাল।’

    পাকা সড়ক ছেড়ে জঙ্গলের একটা সরু পথ ধরে চলল এবার গাড়িটা। রাস্তার পাশে একটা লরীর বনেট খুলে এঞ্জিন পরীক্ষা করছে ড্রাইভার- কৌতূহলী দৃষ্টিতে চেয়ে দেখল সে রানাদের।

    কিন্তু এত তাড়াতাড়ি শহরে পৌঁছলে কি করে?’ জিজ্ঞেস করল রানা। ‘হেঁটে গেলে তো আধঘণ্টার পথ।’

    ‘একটা কাঠ বোঝাই টাকের পেছনে উঠে পড়েছিলাম। জানতাম, দেরি করলে আর তোমাকে বাঁচানো যাবে না। শহরে নেমেই ছুটে গিয়ে একটা পাবলিক টেলিফোন বুদ থেকে ফোন করলাম পুলিস হেডকোয়ার্টারে, বললাম, আমি কবীর চৌধুরীর প্রাইভেট সেক্রেটারি বলছি; এক্ষুণি কর্নেল ললিতা বটব্যালের সঙ্গে কথা বলতে চান কবীর চৌধুরী, অত্যন্ত জরুরী ব্যাপার, এই মুহূর্তে যেন ডেকে দেয়া হয় তাকে। হাসল শায়লা। ‘জানতাম এস.পি.-র ঘরে আছে টেলিফোন, ঘরটা চেনা ছিল- দ্বীপে যাবার আগে আমাদের রিপোর্ট করতে হয়েছিল ইলোর পুলিস হেডকোয়ার্টারে- আর এ-ও জানতাম ফোনটা ধরবার সময় ওই ঘরে একা থাকবে ললিতা। পেছন দিকের আঙিনাটা ডিঙিয়ে উঁকি দিলাম এস. পি.-র ঘরের জানালা দিয়ে। ঘর খালি। জানালা টপকে লুকিয়ে পড়লাম কপাটের আড়ালে টেবিলের ওপর থেকে হান্টারটা তুলে নিয়ে। তারপরের ঘটনা তো তুমি জানোই

    সাফল্যের স্মিথ হাসি শায়লার মুখে। হাতকড়া খুলে দিল সে রানার। বিস্মিত দৃষ্টিতে চেয়ে রইল রানা দুঃসাহসী মেয়েটার দিকে। এমন সহজভাবে কথাগুলো বলে গেল, যেন রানাকে নিতি মৃত্যুর হাত থেকে জ্যান্ত ফিরিয়ে আনা এমন কিছুই কঠিন কাজ ছিল না।

    ‘এই বিপদের মুখে যাচ্ছ দেখে বাধা দেননি ডক্টর ফৈয়াজ?

    ‘আব্বা বাধা দেবেন কেন?’ আ র্য হলো শায়লা। ‘তুমি চেনো না আব্বাকে। এই সমস্ত প্ল্যানই তো আব্বার। উনিই তো পাঠালেন আমাকে।

    গাড়ি থামাল শায়লা। একটা ঝোপের আড়াল থেকে বেরিয়ে এলেন ডক্টর ফৈয়াজ। একগাল হাসি তাঁর মুখে। এগিয়ে এসে জড়িয়ে ধরলেন দু’জনকে দুই হাতে।

    ‘দেখলি, শায়লা, বলেছিলাম না এত সহজে মৃত্যু হবে না মাসুদ রানার! শুধু শুধুই কেঁদে ভাসাচ্ছিলি তুই। খোদা বলে একজন আছে তো মাথার ওপর…’

    ‘কেঁদে ভাসাচ্ছিল!’ ভ্রু কুঁচকে চাইল রানা শায়লার মুখের দিকে।

    ‘যাহ্। আব্বাজী বলল আর অমনি বিশ্বাস করলেন উনি।’ লজ্জায় লাল হয়ে গেল শায়লার গাল। ‘আমি কাঁদিনি।’

    ‘হ্যাঁ, কেঁদেছিস!’ চেপে ধরলেন বদ্ধ।

    ‘না, কাঁদিনি।’

    ‘হ্যাঁ, কেঁদেছিস!’

    ‘ওর জন্যে কাঁদিনি।

    ‘তবে কার জন্যে শুনি?’

    ‘কারও জন্যে না। ইচ্ছে হয়েছে কেঁদেছি, ব্যস।

    হাসিমুখে বাপ-বেটির তর্কাতর্কি শুনল রানা, তারপর জিজ্ঞেস করল, ‘সার্চ পার্টি কতদূর?’

    ‘আরও আধমাইল আছে,’ বললেন বদ্ধ। ‘এক্ষুণি রওনা হওয়া দরকার। কিন্তু যাব কোনদিকে আমরা?’

    ‘পুলিসের গাড়ি যখন পাওয়া গেছে, রোড ব্লক এড়ানো যায় কি-না দেখি চেষ্টা করে,’ বলল রানা।

    সাদেক খানকে তোলা হলো জীপের পিছনে। ডক্টর ফৈয়াজকেও তুলে বসিয়ে দিল রানা পিছনের সীটে। ওঁর কাজ পিছন দিকে নজর রাখা। অটোমেটিক কারবাইন আর হ্যাণ্ড গ্রেনেড নিয়ে রানার পাশে তৈরি থাকবে শায়লা। রানা চালাবে গাড়ি।

    হঠাৎ একটা শব্দ শুনে খাড়া হয়ে গেল রানার কান।

    ‘গাড়ির এঞ্জিন!’ বলল শায়লা।

    একলাফে উঠে বসল রানা ড্রাইভিং সীটে। ওরা যে পথে এসেছে সেই পথে বিশ গজ তফাতে মোড় ঘুরছে একটা ল্যাণ্ডরোভার।

    ‘এস.পি.!’ চিৎকার করে বললেন ডক্টর ফৈয়াজ। ‘পাশে বসে আছে ললিতা বটব্যাল। কয়েকজন পুলিসও আছে।

    ‘এদিক দিয়ে সোজা গেলে কি বড় রাস্তায় পড়া যাবে?’ জিজ্ঞেস করেই বুঝতে পারল রানা, উত্তরটা এদের কারও জানবার কথা নয়। রাস্তাটা যেখানেই গিয়ে মিশুক, এই পথেই যেতে হবে এখন। ছুটল সে সামনের দিকে। ‘জংলা পথে ওদের কাটিয়ে দিতে পারলে হয়।

    সাব-মেশিনগান গর্জে উঠল পিছনের জীপ থেকে। কয়েকটা ফুটো হয়ে গেল ক্যানভাসে।

    ‘শুয়ে পড়নি!’ বলল রানা পিছনে না ফিরে। টিপে ধরল অ্যাক্সিলারেটার যতটা যায়। স্পীডমিটারের কাঁটা উঠতে থাকল ওপরে। হঠাৎ ডান দিকে একটা বাঁক দেখতে পেল রানা। সোজা না গিয়ে মোড় নিল সে ডাইনে। একটু দেরি হয়ে গেল মোড় নিতে। প্রকাণ্ড একটা গাছের সাথে ধাক্কা খেতে যাচ্ছে গাড়িটা। অ্যাক্সিলারেটার টিপে রেখেই বাঁ পায়ে ব্রেক চাপল রানা। স্কিড করে জীপের পিছন দিকটা বাঁয়ে চলে এল খানিকটা। মৃদুভাবে ধাক্কা খেল একটা মাটির ঢিবিতে। ব্রেক ছেড়ে দিতেই সোজা ছুটল গাড়ি রাস্তা ধরে। আবার বাঁয়ে মোড়। সেকেণ্ড গিয়ার দিতেই গর্জন করে উঠল জীপের শক্তিশালী এঞ্জিন। মোড় ঘুরবার ফাঁকে দুটো গুলি ছুঁড়ল শায়লা কারবাইন থেকে।

    সামনের রাস্তাটা চওড়া হলো একটু, ক্রমেই উঁচু হয়ে যাচ্ছে এঁকেবেঁকে। হঠাৎ দেখতে পেল রানা সামনে খাদ। ভুল পথে এসেছে সে। ডানধারে কয়েক হাত নিচে দেখা যাচ্ছে ঠিক রাস্তাটা। ছোট ছোট ঝোপ ঝাড় রয়েছে ঢালু জায়গাটায়। ল্যাণ্ডরোভারটা রাস্তা ভুল করেনি, ছুটে আসছে সেটা ফুলস্পীড়ে। আর চিন্তা করবার সময় নেই, পাগলের মত স্টিয়ারিং কাটল রানা ডানদিকে। ঝোপঝাড় মাড়িয়ে এগিয়ে চলল জীপ, শেষের তিনফুট প্রায় খাড়াভাবে লাফিয়ে নামল সেটা রাস্তার ওপর। প্রাণপণে বাঁয়ে কাটল রানা স্টিয়ারিং। গর্জে উঠল পিছন থেকে সাব মেশিনগান। জবাব দিল শায়লা অটোমেটিক কারবাইন দিয়ে।

    রানার কানের পাশ দিয়ে ঠুস করে সামনের উইণ্ডস্ক্রীনটা ঝাপসা চৌচির করে দিয়ে বেরিয়ে গেল একটা বুলেট। স্পীড না কমিয়েই এক হাতে হুইল ধরে অন্যহাতে ভেঙে ফেলল রানা সামনের কাঁচ।

    আবার উঁচুতে উঠছে জংলা পথ। বেশ অনেকটা কাছে চলে এসেছে ল্যাণ্ডরোভার।

    ‘একটা গ্রেনেড ফেলো, শায়লা,’ বলল রানা চট্ করে একবার পিছন ফিরে চেয়ে।

    ছাতের একটা রড ধরে বেশ খানিকটা বাইরে বেরিয়ে পিন্‌টা দাঁতে কেটে ছুঁড়ে মারল শায়লা পিছন দিকে। অনেকটা সামনে পড়ল গ্রেনেড। ব্রেক চাপল এস.পি.। ধোঁয়ায় ঢেকে গেল পিছনের রাস্তাটা।

    ‘লেগেছে?’ জিজ্ঞেস করল রানা।

    ‘ঠিক বোঝা যাচ্ছে না। একটু যেন আগে পড়ল বলে মনে হলো, ‘ বললেন ডক্টর ফৈয়াজ। একটু থেমেই বললেন, ‘নাহ্। লাগেনি। আবার দেখা যাচ্ছে জীপ।’

    দ্বিতীয় গ্রেনেডটা ফাটলই না। রেগে গিয়ে দেহের অর্ধেকটা বাইরে বের করে তৃতীয় গ্রেনেডের পিন বের করল শায়লা দাঁত দিয়ে। তারপর ছুঁড়ে মারল পিছন দিকে। আয়নায় স্পষ্ট দেখতে পেল রানা ল্যাণ্ডরোভারের ঠিক সামনে দুই চাকার তলায় এখন ওটা।

    হঠাৎ আর্তনাদ করে উঠল শায়লা। রানা দেখল ব্যথায় বিকৃত হয়ে গেছে শায়লার মুখ। রক্ত দেখতে পেল কনুইয়ের কাছে। বাম হাতটা ছেড়ে দিয়ে পড়ে যাচ্ছিল সে বাইরের দিকে। স্টিয়ারিং ছেড়ে দুই হাতে টেনে নিয়ে এল রানা ওকে ভিতরে। আরেকটা মোড় এসে গেছে, সামলাতে পারল না রানা। ব্রেক চাপল প্রাণপণে। সোজা গিয়ে একটা মোটা গাছের গুঁড়ির সঙ্গে গুতো খেল জীপ

    ঠিক সেই মুহূর্তেই ফাটল শায়লার হ্যাণ্ড গ্রেনেড। শূন্যে উঠে গেল ল্যাণ্ডরোভারের সামনের অংশটুকু। তারপর উল্টেপাল্টে গড়িয়ে পড়ে গেল গাড়িটা পাহাড়ের ঢাল বেয়ে বিশ ফুট নিচে। দাউ দাউ করে আগুন ধরে গেল গাড়িতে। রাস্তার ওপর থেকে বিস্ফোরণের ধোঁয়াটা সরে যেতেই স্পষ্ট দেখতে পেল রানা ললিতা বটব্যালের বীভৎস মুখ। বিস্ফোরণের আগেই লাফিয়ে নেমে গিয়েছিল সে গাড়ি থেকে- এখন মাথা উঁচু করে একদৃষ্টে চেয়ে রয়েছে রানার দিকে। এমনি সময় চোখ পড়ল রানার লরীটার ওপর। এতক্ষণ দেখতে পায়নি ওরা- জীপের পিছন পিছন এতক্ষণ ধরে আসছিল সৈন্যভর্তি একটা মিলিটারি লরী।

    এঞ্জিন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল- গিয়ার নিউট্রাল করে আবার স্টার্ট দিল রানা। ব্যাক গিয়ার দিয়ে পিছিয়ে এল কয়েক হাত। তারপর ছুটল আবার।

    ‘হাত ছাড়া আর কোথাও লেগেছে গুলি?’ জিজ্ঞেস করল রানা।

    ‘না,’ জবাব দিল শায়লা। ‘মাাক কিছু নয়, এদিক দিয়ে ঢুকে ওদিক দিয়ে বেরিয়ে গেছে।

    ‘পিছনে মিলিটারি লরী। থামতে পারছি না যে!’ বলল রানা।

    ‘থামতে হবে না,’ বললেন ডক্টর ফৈয়াজ। ‘আমি তিন মিনিটে ব্যাণ্ডেজ করে দিচ্ছি।’ মেডিকেল কিট খুলে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বের করে ফেলেছেন তিনি ততক্ষণে। ‘আয় তো মা, এপাশে চলে আয়।

    জঙ্গলের আঁকাবাঁকা পথ ছেড়ে বড় রাস্তায় উঠে এল জীপ। ডান দিকে পঁচিশ মাইল গেলেই রাজামুন্দ্রি। টপ গিয়ারে দিয়ে অ্যাক্সিলারেটার পুরো টিপে ধরে পিছন ফিরে চাইল রানা। ডক্টর ফৈয়াজের বুকে মাথা রেখে হেলান দিয়ে চোখ বন্ধ করে চুপচাপ পড়ে আছে শায়লা।

    ‘এখন কেমন বোধ করছ, শায়লা?’

    ‘ভাল। হাতে কোন অনুভূতিই নেই, কাজেই ব্যথাও নেই।’

    সামনেই রোড ব্লক। একটা বাঁশ দিয়ে বন্ধ করা হয়েছে রাস্তা। কয়েকজন সশস্ত্র সৈন্য দাঁড়িয়ে আছে রাস্তার দুই পাশে। হঠাৎ মাথায় বুদ্ধি এল, সাইরেনের বাটনটা টিপে দিল রানা, গাড়ির গতি কমাল না একটুও।

    কাজ হলো সাইরেনে। পুলিসের জীপ সাইরেন বাজাতে বাজাতে ফুলস্পীডে আসছে, নিশ্চয়ই জরুরী কোন ব্যাপারে যাচ্ছে। বাঁশ তুলে দিল একজন। একরাশ ধুলো উড়িয়ে সাঁ করে বেরিয়ে গেল জীপটা ওদের সামনে দিয়ে।

    একটা ব্যাপারে নিশ্চিন্ত হলো রানা- রাস্তার ওপর যে-সব চেক পোস্ট বসানো হয়েছে সেগুলোকে এখনও ওয়্যারলেসে জানানো হয়নি যে পুলিসের জীপ নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে ওরা। খুব সম্ভব জ্ঞান ফিরে আসতেই এস.পি.-কে নিয়ে ছুটেছে ললিতা রানাদের পিছনে, খবর দেবার সময় পায়নি।

    কিন্তু আসলে খবর দেয়ার যে কোন প্রয়োজনই ছিল না সেকথা বুঝতে পারল রানা অল্পক্ষণের মধ্যেই। দু’ধারে পাহাড়ী জঙ্গল, শাল পিয়াল মহুয়ার গাছ, মাঝখান দিয়ে মসৃণ পীচ ঢালা সড়ক। মাঝে মাঝে পাহাড়ের গা বেয়ে উঁচুতে উঠে যাচ্ছে পথটা, আবার নেমে আসছে ঢাল বেয়ে। কালো মেঘ জমে মুখভার হয়ে আছে আকাশের। হু-হু করে ঠাণ্ডা বাতাস ঢুকছে ভাঙা উইণ্ডস্ক্রীন দিয়ে। আর পনেরো মাইল যেতে পারলেই হয়। নদী পেরোলেই রাজামুন্দ্রি। নদীটা পেরোবার দরকার নেই। জীপটা কোথাও লুকিয়ে রেখে নৌকো জোগাড় করে নিতে হবে ওকে। সেটা খুব বেশি অসুবিধা হবে না। শুধু জলপুলিসের হাত থেকে বাঁচবার কোন কৌশল বের করতে হবে।

    ঠিক এমনি সময় লাফিয়ে উঠল রাস্তাটা রানার চোখের সামনে। বিশ গজ সামনে পড়েছে বোমাটা। ব্রেক চাপল রানা। মস্ত একটা গর্ত সৃষ্টি হয়েছে রাস্তার মধ্যেখানে। গাড়ি নিয়ে গর্ত ডিঙিয়ে ওপাশে যাওয়ার উপায় নেই। মাথার উপর দিয়ে গাড়িটার পিছনে চলে গেল হেলিকপ্টার। গর্তের কাছে এসে থেমে গেল জীপ। বিশ গজ পিছনে পড়ল দ্বিতীয় বোমা। এইবার ধীরে ধীরে নামছে হেলিকপ্টার নিরাপদ দূরত্বে।

    সাদেক খানের বাহু থেকে সূচটা বের করে নিয়ে মেডিকেল কিটের মধ্যে সিরিঞ্জ পুরে রাখলেন ডক্টর ফৈয়াজ। বললেন, ‘ওরা রাস্তাটা ধ্বংস করছে, গাড়িটা নয়।’

    ‘হ্যাঁ। গাড়িতে সাদেক খান আর আপনি না থাকলে শুধু শুধু রাস্তা নষ্ট করত না- গাড়িতেই ফেলত বোমা।’ তিক্তকণ্ঠে বলল রানা কথাগুলো। কালো হয়ে গেছে ওর মুখ পরাজয়ের গ্লানিতে। অটোমেটিক কারবাইনটা পাশের সীট থেকে তুলে নিয়ে নেমে পড়ল রানা জীপ থেকে। ‘জলদি, সবাই নামো গাড়ি থেকে।’

    সবচেয়ে আগে নামল সাদেক খান। টকটকে লাল চোখে ভীত দৃষ্টিতে এদিক ওদিক চাইতে চাইতে, শায়লা নামল হুইল চেয়ারটা হাতে নিয়ে, ডক্টর ফৈয়াজকে কোলে তুলে নামিয়ে বসিয়ে দিল রানা চেয়ারে। কিন্তু যাবে কোন্ দিকে? দু’পাশে উঁচু পাহাড়। হেলিকপ্টারটাকে কোথাও দেখতে পেল না রানা।

    ‘আসছে!’ রানার কানের কাছে ফিসফিস করে বলল সাদেক খান। ‘আসছে ওরা! অনেক লোক!’

    ‘কোথায়?’ বলেই চোখ পড়ল রানার পিছন দিকে। ধোঁয়া সরে গেছে রাস্তার ওপর থেকে। তিন ট্রাক বোঝাই সৈন্য এসে দাঁড়িয়েছে পিছনের গর্তটার সামনে। ট্রাকের ওপর থেকে তিনটে স্প্যানডাউ মেশিনগান স্থির হয়ে আছে ওদের দিকে মুখ করে। ঝপাং ঝপাং লাফিয়ে নেমে পড়েছে স্টেনগান হাতে জনা চল্লিশেক সৈন্য, ছড়িয়ে পড়েছে ওরা রাস্তাটা জুড়ে। অর্ধেক সৈন্য উঠে যাচ্ছে দু’পাশের পাহাড়ে জীপটাকে চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলার জন্যে। রানা বুঝল এখন একটা গুলি করলেই দুই সেকেণ্ডে মৃত্যু ঘটবে ওদের সব কয়জনের। কিছুই করবার নেই এখন আর আসমর্পণ ছাড়া। জিভটা শুকিয়ে গেল ওর।

    ‘কারবাইন ফেলে দাও মাটিতে!’ তীক্ষ্ণ নারী কণ্ঠে আদেশ এল। রানা চেয়ে দেখল একটা ট্রাক থেকে নেমে আসছে ললিতা বটব্যাল। ডানহাতে পিস্তল ধরা, বাম হাতটা ব্যাণ্ডেজ করে ঝোলানো আছে গলায় বাঁধা ফিতের ওপর।

    ম্লান ভাবে হাসল রানা। ললিতার হাতেই মৃত্যু লেখা ছিল ওর। হঠাৎ ভাবল, দেবে নাকি শেষ করে? তাহলে সবাই মারা পড়বে, কিন্তু মারা তো এমনিতেও পড়বে, কাউকেই জ্যান্ত রাখবে না ওরা, কাজ ফুরালেই মেরে ফেলবে। দেবে সে ললিতাকে খতম করে? বহুকষ্টে সংযত করল রানা নিজেকে। ডক্টর ফৈয়াজ আর শায়লাকে এক্ষুণি হত্যা করবে না ওরা- হয়তো ওদের মুক্তির অন্য কোনও সুযোগ আসতেও পারে এর মধ্যে… রানার কোন অধিকার নেই নিজের ভাগ্যের সঙ্গে ওদের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়ার। হাত থেকে ফেলে দিল সে কারবাইন।

    ‘আসমর্পণ করলে, রানা?’ বলে উঠলেন বিস্মিত বৈজ্ঞানিক।

    ‘হ্যাঁ?’ চাপা কণ্ঠে বলল রানা। ‘আমার মৃত্যুতেই সব শেষ হয়ে যাবে না, ডক্টর ফৈয়াজ। ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করবেন। দেখবেন আবার একজন আসবে পাকিস্তান থেকে, আবার সুযোগ পাবেন আপনারা পালিয়ে যাবার। দোয়া করি, আমার চেয়ে ভাল ভাগ্য নিয়ে যেন আসে সেই লোক। আমি পারলাম না, শুধু শুধুই কষ্ট দিলাম আপনাদের, কিন্তু দেখবেন, আমার পরে যে আসবে সে ঠিক পারবে।

    যেন বহুদূর থেকে বলছে রানা কথাগুলো। অদ্ভুত নরম শোনাল ওর কণ্ঠস্বর। ডুকরে কেঁদে উঠল শায়লা। মৃদুহাসি ফুটে উঠল রানার ঠোঁটে। বলল, ‘এখন বুঝলাম, সকালে আমারই জন্যে কেঁদেছিলে তুমি, শায়লা।’

    এসে গেছে সৈন্যরা। কলার ধরে এক হ্যাঁচকা টান মেরে মাটিতে ফেলে দিল ওরা রানাকে। দড়াম করে পাঁজরের ওপর লাথি পড়ল একটা। আরেকজন লাথি চালাল ওর মুখ লক্ষ্য করে। চুল টেনে দাঁড় করিয়ে দেয়া হলো ওকে আবার। সামনে এসে দাঁড়িয়েছে ললিতা বটব্যাল।

    ‘এই তিনটেকে ট্রাকে নিয়ে যাও,’ হুকুম দিল ললিতা। ‘আর ঘটোৎকচ কোথায় গেল, ডাকো ওকে। গোল হয়ে ঘিরে দাঁড়াও তোমরা।’

    ছেঁচড়ে টেনে নিয়ে গেল তিনজন লোক শায়লা, ডক্টর ফৈয়াজ আর সাদেক খানকে। রানা বুঝল এটাই ওর বধ্যভূমি। গোল করে ওকে ঘিরে দাঁড়াচ্ছে স্টেনগান হাতে সৈন্যদল। কয়েকজন লোকের মাথার ওপর দিয়ে ঘটোৎকচের বেল-মাথা দেখতে পেল রানা। সগর্বে উঁচু হয়ে রয়েছে মাথার ওপর টিকিটা। এগিয়ে এল ঘটোৎকচ। ওর প্রকাণ্ড ধড়টার পাশে সেনাবাহিনীর স্বাস্থ্যবান লোকগুলোকেও নিতান্তই দুর্বল লাগছে দেখতে।

    ঘটোৎকচের বিশাল, বিপুল চেহারাটার দিকে সপ্রশংস দৃষ্টিতে চাইল ললিতা।

    ‘শুনলাম মাদ্রাজের সেরা কুস্তিগীর তুমি, তাই সঙ্গে এনেছি তোমাকে ঘটোৎকচ। বাচ্চা ছেলেরা যেমন ফড়িং-এর পাখা ছেঁড়ে তেমনি করে এর হাত-পা ছিঁড়ে ফেলতে হবে তোমার। কি, পারবে না?’

    হাসি ফুটে উঠল ঘটোৎকচের মুখে। দিনের আলোয় এত লোকজনের মধ্যে সবরকমের ভয়-ভীতি কাটিয়ে উঠেছে সে। মাথা নাড়ল রানার দিকে চেয়ে।

    ‘কিন্তু এই লোকটাও খুবই শক্তিশালী। বাইরে থেকে দেখে বুঝবার উপায় নেই। ওকেও সুযোগ দেয়া হবে আরক্ষার। প্রাণপণে যুদ্ধ করবে ও, খেয়াল রেখো। আরও একটা কথা। বেমক্কা কোথাও মেরে হঠাৎ খুন করে ফেলো না- রসিয়ে রসিয়ে উপভোগ করতে চাই আমি ওর মৃত্যুটা।

    রানা বুঝল, এই দৈত্যের সঙ্গে যুদ্ধ করতে হবে ওর। মাদ্রাজের সেরা কুস্তিগীর। জোরে ওর সঙ্গে পারার কোন প্রশ্নই উঠতে পারে না। রানার একমাত্র অস্ত্র জুজুৎসু এবং কারাতের মাঝারি গোছের দক্ষতা। তাতে কি কাজ হবে?

    হাফপ্যান্ট খুলে ল্যাংগোঠটা আরেকটু এঁটে নিল ঘটোৎকচ। ভীমের গদার মত দুই উরুতে চাপড় দিল দুটো। প্রস্তুত হয়ে নিল রানাও। বুঝল, প্রথম কয়েক সেকেণ্ডের মধ্যেই জয় পরাজয় নির্ধারিত হয়ে যাবে।

    গোল হয়ে ঘুরতে আরম্ভ করল ওরা দু’জন হাত দুটো সামনে বাড়িয়ে ঘাড়টা একটু কুঁজো করে। রানার গতিবিধি দেখেই টের পেল ঘটোৎকচ, এ লোককে চিৎ করা সহজ হবে না, বিদ্যুতের মত দ্রুত এর চালচলন!

    হঠাৎ থমকে দাঁড়িয়ে কারাত যুদ্ধের ভঙ্গিতে চিৎকার করে উঠল রানা, ‘কি…ইয়া!’ দেহের সমস্ত পেশী টান হয়ে গেছে ওর। পরমুহূর্তেই আঙুলগুলো সোজা রেখে লাফিয়ে এসে প্রচণ্ড একটা দাও চালানো কারাতের কোপ মারল সে ঘটোৎকচের ঘাড়ের ওপর। সেইসঙ্গে বাম হাঁটুটা ভয়ানক এক গুঁতো মারল ওর তলপেটে।

    হঠাৎ চিৎকার শুনে আধ সেকেণ্ডের জন্যে হকচকিয়ে গিয়েছিল ঘটোৎকচ, আঘাত ফেরাবার উপায় ছিল না ওর। জবাইয়ের খাসীর মত গগনভেদী এক আর্তনাদ করে ধড়াশ করে পড়ল সে চিৎ হয়ে পড়ার আগেই নাকের হাড়টার ঠিক নিচে কারাতের একটা আপার কাট ঝেড়ে দিয়েছে রানা।

    গলগল করে রক্ত বেরোচ্ছে ঘটোৎকচের নাক দিয়ে। কয়েক ঘণ্টার জন্যে ওকে সম্পূর্ণ অকেজো করে দিতে হলে নিয়ম মাফিক স্পাইনাল কর্ড আর ক্রোনিয়ামের জংশনে আরেকটা আঘাত করতে হয়। টিকির গোছা ধরে টান দিল রানা, টিকি ছিঁড়ে এল, কিন্তু নড়ানো গেল না ওকে একচুলও। নিশ্চিন্তে জ্ঞান হারিয়েছে প্যাহেলওয়ান।

    ‘দাঁড়াও!’ তীক্ষ্ণ কণ্ঠে চিৎকার করে উঠল ললিতা। ঠুন করে একটা শব্দ হতেই চেয়ে দেখল রানা একটা তরল পদার্থ ভর্তি কাঁচের জারের সীল করা মুখটা ভেঙে ফেলেছে ললিতা পিস্তলের নল দিয়ে টোকা মেরে। পিস্তলটা পিঙে ঝোলানো বাম হাতে চলে গেছে ওর, অ্যাসিডের জারটা ডানহাতে। এগিয়ে এসেছে সে কয়েক পা। ‘আমারই ভুল হয়েছিল ওকে তোমার যোগ্য প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করা। এসো, এবার আমার সঙ্গে এসো।

    ঠিক তিন হাত দূরে দাঁড়িয়ে কাঁচের জারটা তুলল ললিতা, রানার মুখ লক্ষ্য করে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমাসুদ রানা ০৩৩ – বিদেশী গুপ্তচর – ১
    Next Article মাসুদ রানা ০০৬ – দুর্গম দুর্গ

    Related Articles

    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৩৮৫-৩৮৬ – হ্যাকার (দুই খণ্ড একত্রে)

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫৬ – টপ টেরর

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫৪ – নরপশু

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫৩ – ধর্মগুরু

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫২ – কালো কুয়াশা

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫১ – মায়া মন্দির

    July 22, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }