Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মাসুদ রানা ০১০ – রানা! সাবধান!!

    কাজী আনোয়ার হোসেন এক পাতা গল্প141 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    রানা! সাবধান!! – ৬

    ছয়

    মাথা গুঁজে পড়ে আছে রানা ঘাসের ওপর। ঠিক এই জায়গায় গার্ড থাকতে পারে কল্পনাও করতে পারেনি সে। হাওয়াটা উল্টোদিকে বইছে বলে সিগারেটের গন্ধও আসেনি নাকে। বুকে হেঁটে এগোচ্ছিল রানা অন্ধকারে গা ঢাকা দিয়ে- পাঁচ হাতের মধ্যে চলে আসার পর হঠাৎ চোখে পড়েছে ওর সিগারেটের আগুন। জোনাকীর মত জ্বলছে-নিভছে। পাথর হয়ে জমে গেছে সে। তিন মিনিট ধরে মুখ গুঁজে পড়ে আছে সে মাটিতে- দেরি হয়ে যাচ্ছে, অথচ নড়বার নাম নেই গার্ডটার। একমনে সিগারেট ফুঁকছে সে, আর ডাইনে-বাঁয়ে চাইছে, পাছে ডিউটি সার্জেন্টের কাছে ধরা পড়ে যায়। ভাগ্যিস পিছন ফিরে চাইছে না সে!

    টর্চ না জ্বালালে অবশ্য অন্ধকারের মধ্যে কালো পোশাক পরা রানাকে দেখতে পাবে না সে পিছন ফিরলেও- কিন্তু সরছে না কেন ব্যাটা। রানার দশ গজ পিছনে দুই নম্বর দেয়াল। দেয়ালের ওপাশে ফ্লাড লাইট জ্বেলে দুর্ভেদ্য করা হয়েছে দুই দেয়ালের মাঝের ফাঁকা জায়গাটা। আর টেলিভিশন ওয়াচ- টাওয়ারের মাথায় বসানো সার্চলাইটটা সতর্ক দৃষ্টি রেখেছে দেয়ালের এপাশটায়। যে-কোন মুহূর্তে আলো এসে পড়তে পারে রানার ওপর। এখন ছুটাছুটি করছে ওটা পাওয়ার হাউসের দিকটায়।

    দূরে হুইস্লের শব্দ শোনা গেল। চঞ্চল হয়ে উঠল গার্ডটা। কষে দু’তিনটে সুখ টান দিয়ে ফেলে দিল সিগারেট, খ্যাক্-থু করে থুথু ফেলে আগুনটা মাড়িয়ে চলে গেল সে হুইস্লের শব্দ লক্ষ্য করে। স্টেনগানটা কাঁধে ঝুলছে মাটির দিকে মুখ করে।

    আবার এগোল রানা বুকে হেঁটে। তরল পদার্থ ভর্তি একটা ড্রাম ঠেলে নিয়ে চলেছে সে আগে আগে। আর দেরি করা চলে না। তিন মিনিট পিছিয়ে পড়েছে সে নির্ধারিত সময় থেকে। অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিল্ডিং-এর অফিস, টেলিফোন এক্সচেঞ্জ আর রেডিও রূম বাঁয়ে রেখে এগিয়ে গেল রানা অন্ধকার ছায়ায় ছায়ায়। গন্তব্যস্থলে এসে পৌঁছেচে সে। এই বাড়ির পিছনেই কোথাও আছে সেই ভেন্টিলেটার।

    বেশিক্ষণ খুঁজতে হলো না। দেয়ালের গায়ে বসানো আছে আণ্ডারগ্রাউণ্ড কামরার ইনটেক ভেন্টিলেটার গ্রিল। পেয়ে গেল রানা। হুড লাগানো পেন্সিল টর্চ জ্বেলে নম্বর মিলিয়ে দেখল ঠিকই আছে। কোমরে জড়ানো লম্বা রাবার টিউবটা খুলল সে এবার ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে। তারপর টিউবের একমাথা ঢুকিয়ে দিল গ্রিলের ফাঁক দিয়ে- ধীরে ধীরে নামিয়ে দিল সেটা নিচের কামরায়। কয়েক ইঞ্চি বাকি থাকতে ড্রামটা কোলে তুলে নিয়ে ওটার গায়ে বসানো একটা ছোট্ট কলের মুখে লাগাল রাবার টিউবের মুখ। এবার কলটা খুলে দিতেই কলকল করে পাইপ বেয়ে নিচের দিকে রওনা হলো ড্রামের তরল পদার্থ।

    দু’মিনিট লাগবে ড্রাম খালি হতে। রানার মনটা ফিরে গেল সেই ছোট্ট ঘরে, যেখানে ডক্টর আবদুল্লাহ্ ফৈয়াজ প্রবেশ করতেই নেমে এসেছিল সমাধির মত নিস্তব্ধতা। শায়লা ঠকিয়েছে ওকে…

    বজ্রাহতের মত দাঁড়িয়ে ছিল রানা। সাদেক খানকে নিয়ে যাওয়াই প্রায় অসম্ভব ব্যাপার- তার ওপর একটি নারী এবং একটি পঙ্গ] যদি জোটে তাহলে এক পা-ও এগোতে পারবে না সে। ভয়ানক রাগ হলো ওর শায়লার ওপর। কিন্তু কিছু বলার আগেই কথা বলে উঠলেন ডক্টর ফৈয়াজ।

    ‘এখানে দাঁড়িয়ে থাকা ঠিক হচ্ছে না। ক্যাপ্টেন খান্নাকে এইদিকেই আসতে দেখলাম।

    স্টেরিলাইজার অফ করে দিল শায়লা। বলল, ‘দুই-একটা জায়গায় সামান্য একটু আঘাত ছাড়া শারীরিক আর কোন ক্ষতি হয়নি মিস্টার মাসুদ রানার। কিন্তু ওঁর রেস্ট দরকার, আব্বাজী। তোমার ট্রিটমেন্ট শুরু হওয়ার আগে ভালমত বিশ্রাম দিতে হবে ওঁকে।

    ‘কিন্তু এদের যে এদিকে তাড়া খুব, শায়লা,’ বললেন বদ্ধ। ‘এই ভদ্রলোকের অ্যামনেশিয়া দুদিনের মধ্যে দূর করবার হুকুম দেয়া হয়েছে আমাকে। তা ঠিক আছে। ওষুধ খাইয়ে ঘণ্টা কয়েক ঘুম পাড়িয়ে রাখো–আমি না হয় একটু বেশি রাতে আমার ট্রিটমেন্ট শুরু করব।’

    ‘আপনি আসুন আমার সঙ্গে,’ বলল শায়লা রানার উদ্দেশে।

    একটা করিডর ধরে কিছুদূর গিয়ে লিফটের দিকে এগোল শায়লা। দ্রুতপায়ে এগিয়ে গেল রানা ওর পাশে। বলল, ‘অসম্ভব, শায়লা। ভারতীয় এলাকা থেকে…

    চেয়ারটা ঘুরিয়ে লিফটে উঠে পড়লেন ডক্টর ফৈয়াজ। ‘চারতলায় কয়েকটা রোগী দেখতে যাব আমি।’

    লিফটের দরজা বন্ধ হয়ে যেতেই কিছু বলতে যাচ্ছিল রানা, মাথা নেড়ে নিষেধ করল শায়লা। রানা বুঝল লিফটেও মাইক্রোফোন আছে। লিফট থেকে বেরিয়ে চাপা গলায় বললেন বদ্ধ, ‘খাঁচায় পোরা জন্তুর মত আছি আমরা এখানে। সর্বক্ষণ নজর রেখেছে আমাদের ওপর সন্তোষ আর খান্না। এখানে মাইক্রোফোন, ওখানে ক্যামেরা, অসহ্য…’

    ‘আর দেরি নেই, আব্বাজী। রানা কথা দিয়েছে। আমরা পালিয়ে যাব এখান থেকে।’

    ‘আমার কথায় বিশেষ ভরসা কোরো না, শায়লা,’ বলল রানা।

    ‘কিন্তু তুমি কথা দিয়েছ…’

    ‘দিয়েছি। বলেছি চেষ্টা করব। চেষ্টায় আর সাফল্যে অনেক তফাৎ। তাছাড়া তোমার আব্বার এই অবস্থার কথা আমি জানতাম না।’

    একটা ঘরে এসে পৌঁছল ওরা। মাইক্রোফোন নেই এই ঘরে। দরজা বন্ধ করে দিল শায়লা ভেতর থেকে। ডক্টর ফৈয়াজও এসেছেন ঘরের মধ্যে।

    ‘আমি এই পাগলি মেয়েটাকে অনেক বুঝিয়েছি, মিস্টার রানা,’ বললেন বদ্ধ ধীর কণ্ঠে। ‘আমার এই অবস্থায় আমাকে সাথে নিলে তোমাদের সবাইকে আমি মস্ত বিপদে ফেলব। তারচেয়ে আমাকে রেখে তোমরা চলে যাও…’

    ‘না। অসম্ভব!’ বাধা দিল শায়লা। দৃঢ় সঙ্কল্প তার কণ্ঠে। ‘তোমাকে ছেড়ে যাব না আমি। পৃথিবীতে তোমাকে ছাড়া আর কি আছে আমার? তোমাকে ছেড়ে যাব- কোথায় যাব?’

    ‘কিন্তু, শায়লা, ব্যাপারটার সম্ভাব্যতার দিকটাও বিচার করে দেখতে হবে। তুমি বুঝতে পারছ না, কিন্তু আমি পারছি। আমাকে নিয়ে তোমরা মহা সঙ্কটে পড়বে। পদে পদে বাধার সৃষ্টি হবে আমাকে সাথে নিলে।

    রানার দিকে ফিরল শায়লা। বলল, ‘রানা। তুমি যদি তোমার কথা না রাখো, তাহলে সাদেক খানের ব্যাপারে কোনও সাহায্য করব না আমি।

    ‘কিন্তু আমি করব,’ বললেন বদ্ধ।

    ‘আমি খান্নাকে জানিয়ে দেব সবকিছু!’ জেদ ধরল শায়লা।

    ‘ছিঃ। এই কথা মুখেও আনতে হয় না, মা। যার কাছ থেকে একবার উপকার পাওয়া যায় তার অমঙ্গলের কথা মুখে আনা তো দূরের কথা, মনে আনাও পাপ!’

    চুপচাপ বাপ-বেটির তর্ক শুনছে রানা। দুইজনেরই মনের ভাব উপলব্ধি করতে পারছে সে। যদি এটা কোন বিশেষ অ্যাসাইনমেন্ট না হত, যে কাজে এসেছে সেটা ভণ্ডুল হয়ে যাওয়ার সম্ভবনা না থাকত,তাহলে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করত না রানা। কিন্তু আর দ্বিধায় সময় নেই। মনে মনে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলল সে।

    ‘ঠিক আছে,’ বলল শায়লা এবার রানার দিকে চেয়ে। ‘তাহলে আমাদের দু’জনকেই রেখে চলে যাও তুমি। মৃত্যুই হোক আমাদের। তবু তোমাকে সাহায্য করব আমরা।’

    ‘বাজে বোকো না, শায়লা,’ বলল রানা শাসনের ভঙ্গিতে। ‘আমি দুঃখিত, তোমাদের এখানে ফেলে রেখে চলে যাওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়। তোমাকে কথা দিয়েছি- আমার কথা আমি রক্ষা করব। সবাই মিলে বিপদের মুখে ঝাঁপিয়ে পড়লে ভয় খেয়ে পিছিয়েও যেতে পারে বিপদ।

    আনন্দে উদ্ভাসিত হয়ে উঠল শায়লার মুখ। খুশি আর রাখতে পারছে না সে ধরে।

    ‘দেখলে, আব্বাজী? আমি জানতাম! আমি আগেই বলেছিলাম না তোমাকে, বিপদ দেখে পিছিয়ে যাবার মানুষ ও নয়? বলেছিলাম না, রাজি হবে? তুমি মিছেই দ্বিধা-সঙ্কোচ করছিলে।

    ‘তবে একটা কথা আগেই পরিষ্কার হয়ে যাওয়া দরকার,’ বলল রানা, ‘যে, আমাদের ধরা পড়বার সম্ভাবনা শতকরা নিরানব্বই ভাগ। ইণ্ডিয়ান সিক্রেট সার্ভিসের কাছে আমার সত্যিকার পরিচয় এবং উদ্দেশ্য গোপন নেই। কেন ওরা আমাকে নিরাপদে ক্লিনিক পর্যন্ত পৌঁছবার সুযোগ দিয়েছে তা বলতে পারব না….

    ‘তোমার স্মৃতি-বিভ্রাট যে ভান, সেকথা জানে ওরা?’ জিজ্ঞেস করলেন বদ্ধ।

    ‘জানে। সন্তোষের বোকামিতে টের পেয়ে গেছি আমি। হায়দ্রাবাদে হেলিকপ্টারে উঠেই ও প্রকাশ করে দিয়েছে যে ও আমার পরিচয় এবং রোগ সম্বন্ধে ওয়াকেফহাল।

    ‘কিন্তু তা কি করে হয়? ও তো ক্লিনিক থেকে গিয়েছিল পরশু সকালে। খবর তো পৌঁছেচে গতকাল সন্ধ্যায়,’ বললেন বদ্ধ।

    ‘তার মানে আগে থেকেই জানত সে আমার কথা। পাইলটের কাছে আমার নাম শুনেই বুঝতে পেরেছে সবকিছু। অর্থাৎ এখন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কেটে পড়তে হবে আমাদের। সম্ভব হলে আজই রাতে।’

    ‘ঠিক আছে। আমি এক কাজ করি, খান্না আর সন্তোষকে বলিগু তোমাকে বারো ঘণ্টার জন্যে ঘুমপাড়িয়ে রাখছি আমি, কাল ট্রিটমেন্ট শুরু করা হবে। এর ফলে অনেকটা নিশ্চিন্ত থাকবে ওরা। শায়লাকে বুঝিয়ে দাও কি কি করতে হবে আমাদের। আমি ঘণ্টা খানেকের মধ্যে ফিরে আসবার চেষ্টা করব।’ রানার দিকে কয়েক সেকেণ্ড গভীর দৃষ্টিতে চেয়ে রইলেন ডক্টর ফৈয়াজ, তারপর হুইল চেয়ার ঘুরিয়ে বেরিয়ে গেলেন ঘর থেকে।

    ‘বিছানায় উঠে পড়ো। তোমাকে নজরবন্দী রাখার জন্যে হয়তো অন্য কোন ডাক্তারকেও পাঠাতে পারে সন্তোষ পরীক্ষার ছলে,’ বলল শায়লা।

    ‘সন্তোষ লোকটা দেখছি মোটেই সন্তোষজনক নয়।’ বিছানায় শুয়ে পড়ল রানা। কম্বল দিয়ে ঢেকে দিল শায়লা ওর গলা পর্যন্ত। ‘উফ! পিঠটা বিছানায় ঠেকিয়ে কী আরাম যে লাগছে! ইচ্ছে করছে একঘুমে চব্বিশ ঘণ্টা পার করে দিই।

    ‘চেহারা দেখেই বোঝা যাচ্ছে অনেক ধকল গেছে তোমার উপর দিয়ে। যাক, এবার প্ল্যানটা বলো।

    ‘প্রথমে আমাদের সাদেক খানকে বের করে আনতে হবে ওয়ার্ড থেকে।’

    ‘তাতে অসুবিধে হবে না। প্রথম দিকে কড়া পাহারার ব্যবস্থা ছিল। এখন ওর প্রয়োজনীয়তা প্রায় নিঃশেষ হয়েছে বলে গার্ড থাকে না সঙ্গে। আব্বাজীর যখন ইচ্ছে ওকে ল্যাবরেটরিতে আনতে পারেন পরীক্ষার জন্যে।

    ‘আজ রাতে ওকে আনা সম্ভব হবে?’

    একটু চিন্তা করে বলল শায়লা, ‘আনা যাবে। ওর খাবারের সঙ্গে একটু ওষুধ মিশিয়ে দেব যাতে পেট ব্যথা আরম্ভ হয়। ওয়ার্ড সুপারিন্টেণ্ডেণ্ট হয় আব্বাজীকে, নয় আমাকে ডেকে পাঠাবে। আমি ল্যাবরেটরির সার্জারিতে নিয়ে আসতে বলব ওকে। সাথে অবশ্য দু’জন মেল নার্স থাকবে, ওদেরকে ওয়ার্ডে ফেরত পাঠিয়ে দেয়া যাবে।’

    ‘বেশ। সার্জারিতে নিয়ে ঘুমের ওষুধ পুশ করে ঘুম পাড়িয়ে রাখবে তুমি ওকে। এবার দ্বিতীয় কাজ হচ্ছে কম্পিউটারটা নষ্ট করে দেয়া। ওটা নষ্ট করে দিয়ে হেলিকপ্টারে করে চলে যাব আমরা নরসাপুর। এখন বলো, কম্পিউটার ধ্বংস করবার কি উপায়।’

    ‘সেটা অসম্ভব,’ মাথা নাড়ল শায়লা। ‘মাটির তলায় একটা ঘরে রাখা হয়েছে সেটাকে। একটা মাত্র পথ আছে ওই ঘরে ঢুকবার- আর সেখানে চব্বিশ ঘণ্টা পাহারা দিচ্ছে ছয়জন গার্ড। ওখানে যেতে হলে দুটো পাস্ দরকার। তিনটে স্টীলের দরজা পেরিয়ে তারপর সেই ঘর। শেষের দরজাটায় চাবি লাগালেই চালু হয়ে যায় টেলিভিশন ক্যামেরা। কম্পিউটার নষ্ট করবার কোন উপায় নেই।

    ‘ঘরটা কি রকম?’

    ‘কংক্রিটের দেয়াল। ফায়ারপ্রুফ। বোমা মারলেও ওর কোন ক্ষতি করা যাবে না।’ শায়লার হাতের ঘড়ির মধ্যে থেকে শব্দ এল পিপ্ পিপ্। উঠে দাঁড়াল সে। ‘আমাকে যেতে হবে এখন।

    ‘যত শিগগির পারো ফিরে এসো।’

    ‘আসব। তোমার জন্যে খাবার পাঠিয়ে দিচ্ছি আমি এক্ষুণি গিয়ে।’

    ‘যাবার আগে কম্পিউটার রূমের একটা মোটামুটি নক্সা এঁকে দিয়ে যাও। ঘরের কোনখানটায় কিভাবে রাখা আছে ওটা দেখতে চাই আমি।

    দ্রুত কয়েকটা আঁচড় কেটে এঁকে দিল শায়লা নক্সা। বলল, ‘অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিল্ডিং-এর নিচে এই কম্পিউটার রূম ‘

    ‘চারকোণা ওই জিনিসটা কি আঁকলে?’

    ‘ভেন্টিলেশন শ্যাফট্। ওই জায়গা দিয়ে বাইরের খোলা বাতাস টেনে আনা হয় ভিতরে।’

    ‘বাতাসটা কি ফিলটার্ড হয়ে আসে?’

    ‘না। এবার উঠতে হবে আমাকে। তুমি খেয়ে নিয়ে শুয়ে থাকো ঘুমের ভান করে।

    ‘তাড়াতাড়ি এসো। আমাদের হাতে একমাত্র অস্ত্র সময়।

    বিশ মিনিট মন দিয়ে দেখল রানা শায়লার আঁকা নক্সাটা। বার কয়েক ভুরু কুঁচকাল, তারপর মৃদু হাসি ফুটে উঠল ওর মুখে। কাগজটা ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে বাথরূমে ফেলে চেন টেনে দিল সে। সমাধান হয়ে গেছে সমস্যার।

    খাওয়া-দাওয়া সেরে নিল রানা বিছানায় শুয়েই। অর্ডারলি ট্রে-টা নিয়ে বেরিয়ে গেল। ভবিষ্যতের কথা ভেবে সত্যিই ভয় পেল রানা এবার। শায়লাকে এভাবে কথাটা দিয়ে কি ঠিক করল সে? এত বড় দায়িত্ব নিল সে মাথার ওপর, অথচ ক্ষমতা তার কতটুকু? একজন স্ত্রীলোক আর একজন পঙ্গু বদ্ধকে বিপদের মুখে ঠেলে দেয়ার অধিকার সে পেল কোত্থেকে? ওরই ভরসায় এত বড় ঝুঁকি নিচ্ছে ওরা- বাধা দেয়া কি উচিত ছিল না ওর? কিন্তু না নিয়েই বা উপায় কি? ওদেরকে নিশ্চিত মৃত্যুর মুখে ফেলে রেখে পালাবেই বা সে কি করে? তার চেয়ে চেষ্টা করে যদি সফল না হয় সেটাও বরং ভাল।

    আস্তে করে দরজা খুলে ভিতরে ঢুকলেন ডক্টর ফৈয়াজ। বিছানার পাশে নিয়ে এলেন ওঁর হুইল চেয়ার।

    ‘পারলে কিছু প্ল্যান বের করতে?’ জিজ্ঞেস করলেন বদ্ধ।

    ‘আগে আমার কয়েকটা প্রশ্নের উত্তর দিন। কম্পিউটারটা আমরা যদি ধ্বংস করে দিয়ে যাই তাহলে ওরা কি আবার একটা বানাতে পারবে?’

    ‘মনে হয় না। ক্যালিব্রেশন চার্টে ভুল ফিগার বসিয়ে রেখেছি আমি। আমাকে ছাড়া…’

    ‘কবীর চৌধুরীকে যেসব চার্ট দিয়েছেন সেগুলো?’

    ‘সেগুলো ঠিক আছে। কিন্তু সম্পূর্ণ নেই। শেষের অংশটুকু আমার কাছেই আছে।’

    ‘ওকে ঠিক চার্টটা দিয়েছেন কেন?’ জিজ্ঞেস করল রানা।

    ‘কারণ ওকে ফাঁকি দেয়া সম্ভব ছিল না। এমন প্রতিভাবান লোক আমি খুব কমই দেখেছি। নিজে সে ফিজিক্সের লোক, অথচ প্রত্যেকটা সাবজেক্টে ওর অপরিসীম জ্ঞান। ওর চোখে ধুলো দেয়া কারও পক্ষেই সম্ভব নয়। তাছাড়া ও আমাকে বলেছে, এই যন্ত্র তৈরি হলে পর ভারত যেন তার সাহায্যে নিজের হীন মনোবৃত্তি চরিতার্থ করতে না পারে সেদিকে সে নজর রাখবে। কম্পিউটার তৈরি হয়ে গেলে ওটা নষ্ট করে দিয়ে কেবল চার্টগুলো নিয়ে সে চলে যাবে ভারত থেকে। মানুষের বৃহত্তর কল্যাণের কাজে ব্যবহার করবে সে যন্ত্রটা।’

    ‘ওর কথায় বিশ্বাস করেছেন আপনি?’

    ‘বিশ্বাস-অবিশ্বাসের প্রশ্নই উঠতে পারে না, রানা। ওর কথামত কাজ না করে উপায় ছিল না আমার। অত্যন্ত ক্ষমতাশালী লোক ও এখানকার। কর্নেল বটব্যাল পর্যন্ত ওর ভয়ে থরহরিকম্প। ওর মুখের এক কথায় জেল থেকে ছেড়ে দিয়েছে আমাকে ভারত সরকার। ওরই উদ্ভাবিত পন্থায় রিসার্চ করেছি আমি। ওকে ভুল চার্ট ধরিয়ে দিয়ে গোঁজামিল দেয়া আমার সাধ্যের বাইরে ছিল। কিন্তু চিন্তা কোরো না। শেষের অংশটুকু লুকানো আছে আমার কাছে। আজই যদি পালিয়ে যেতে পারি আমরা, যন্ত্রটা তৈরি করা কারও পক্ষেই সম্ভব হবে না আর।’

    ‘এই কম্পিউটারটা নষ্ট হয়ে গেলে এবং সাদেক খান বা আপনি হাত ছাড়া হয়ে গেলে আরেকটা মেশিন তৈরি করতে পারবে না ওরা?’

    ‘না। কিন্তু কম্পিউটার নষ্ট করা সহজ হবে না।

    ‘আমার মাথায় একটা প্ল্যান এসেছে। আপনাদের ল্যাবরেটরিতে নিশ্চয়ই ডাই-এথিল ইথার আছে?

    ‘আছে। কিন্তু ওটা দিয়ে কি হবে?’ আশ্চর্য হলেন বদ্ধ।

    ‘ধরুন, ভেন্টিলেটার গ্রিল দিয়ে যদি ছাড়ি ওটা ঘরের মধ্যে?’

    বিস্মিত দৃষ্টিতে চেয়ে রইলেন বদ্ধ রানার মুখের দিকে। তারপর ধীরে ধীরে হাসি ফুটে উঠল ওঁর নির্যাতিত শীর্ণ মুখে।

    ‘বুঝেছি! তুমি জানলে কি করে? বাতাসের সঙ্গে মিশলে ভয়ঙ্কর জিনিস হয়ে দাঁড়ায় ডাই-এথিল ইথার। শ্যাফট দিয়ে যদি ঘরের মধ্যে ফেলা যায় তাহলে বাতাসের সঙ্গে মিশে পুরো ঘরটাই একটা ভয়ঙ্কর বোমায় পরিণত হবে। একটু আগুন বা স্ফুলিঙ্গ পেলেই ফাটবে সেই বোমা। ঠিক বলেছ। আমেরিকার একটা ছয়তলা গবেষণাগার এই রকম একটা অ্যাক্সিডেন্টে ধূলিসাৎ হয়ে গিয়েছিল ফিফটি সিক্সে। কিন্তু ডিটোনেট করবে কি করে, আগুন পাবে কোথায়?’

    ‘আগুনের ব্যবস্থা আপনাকে করতে হবে। কম্পিউটারটায় কোথাও শর্ট সার্কিট করে দিয়ে স্পার্কের ব্যবস্থা করা যায় না?’

    ‘আজ রাতেই কি ফাটাতে চাও?’

    মাথা ঝাঁকাল রানা। ভুরু কুঁচকে চিন্তা করলেন বদ্ধ কিছুক্ষণ, তারপর বললেন, ‘কঠিন হবে। রাত ন’টার পরই করিডরের মেইন সুইচ-বোর্ড থেকে ওই ঘরের কানেকশন অফ করে দেয়া হয়। তাতে অবশ্য অসুবিধে হবে না। ইমার্জেন্সী জেনারেটার আছে এখানে। যদি কোনও কারণে মেইন সাপ্লাই বন্ধ হয়ে যায়, সঙ্গে সঙ্গে চালু হয়ে যায় ইমার্জেন্সী জেনারেটার। অটোমেটিক। কয়েকটা জরুরী জায়গায় আপনা-আপনি ইমার্জেন্সী কারেন্ট চালু হয়ে যায়। যেমন ধরো, অপারেশন থিয়েটার, ল্যাবরেটরি, ইলেকট্রনিক্স রূম, দেয়ালের ওপাশের ফ্লাড লাইট এবং ভয়ঙ্কর ওয়ার্ডগুলোতে মেইন জেনারেটার বন্ধ হবার সঙ্গে সঙ্গেই ইমার্জেন্সী জেনারেটার এসে টেক-ওভার করে। কিন্তু অন্যান্য সমস্ত জায়গায় একটা প্লাগ মেইন পয়েন্ট থেকে খুলে ইমার্জেন্সী পয়েন্টে লাগালে পরে সাপ্লাই পেতে পারে। আমি এক কাজ করব। কোন এক ছুতোয় ওই ঘরে ঢুকব আজ। কোন একটা ছোট-খাট সাধারণ ইলেকট্রিক যন্ত্রে শর্ট সার্কিট করে দিয়ে ওটা ইমার্জেন্সী লাইনে প্লাগ লাগিয়ে রেখে আসব। ওরা যখন করিডরের মেইন সুইচটা অফ করে দেবে ইমার্জেন্সী লাইনটা খোলাই থাকবে। তুমি যদি কোন কৌশলে মেইন পাওয়ার লাইনটা ফিউজ করে দিতে পার, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে চালু হয়ে যাবে ইমার্জেন্সী জেনারেটার।’

    ‘এবং সঙ্গে সঙ্গে ঘরের মধ্যে স্পার্ক হবে। এই তো?’ হেসে ফেলল রানা বদ্ধ বৈজ্ঞানিকের পেটে-পেটে বত্রিশ প্যাঁচ দেখে। ডক্টর ফৈয়াজও হাসলেন তাঁর শিশুসুলভ হাসি। ‘কিন্তু মেইন লাইনটা ফিউজ করতে কি বিশেষ বেগ পেতে হবে?’

    ‘মোটেও না,’ বললেন বৈজ্ঞানিক। ‘আমি সহজ কৌশল বাতলে দেব। আমাদের এই প্ল্যানের আরও একটা সুবিধা আছে। কম্পিউটার রুমটা ঠিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ব্লকের নিচে। ওটার মধ্যে যদি বোমা ফাটাও, এই দ্বীপের টেলিফোন আর রেডিও লিঙ্ক বিধ্বস্ত হয়ে যাচ্ছে সাথে সাথে।’

    চলে গেলেন বদ্ধ বৈজ্ঞানিক। বিছানায় চিৎ হয়ে শবাসনে শুয়ে মন থেকে সমস্ত চিন্তা আর উদ্বেগ দূর করে দিল রানা। সমস্ত দেহ ঢিল করে দিয়ে বিশ্রাম নিল সে দশ মিনিট। তার সমস্ত শক্তি আর বুদ্ধি কাজে লাগবে আজ রাতে- বিশ্রাম দরকার।

    ঠিক সাড়ে আটটার সময় এল শায়লা।

    ‘আমাকে এখুনি যেতে হবে। কয়েকটা খবর দিতে এলাম, আব্বা খান্নাকে বলেছেন তোমাকে ঘুম পাড়িয়ে রেখেছেন বারো ঘণ্টার জন্যে।’ রানার মাথার কাছে বিছানার ধারে বসে পড়ল শায়লা। হাত চালিয়ে দিল চুলের মধ্যে।

    ‘আর সব ব্যবস্থা ঠিক আছে?’ জিজ্ঞেস করল রানা।

    ‘ভাল খারাপ দুই রকম খবরই আছে। সাদেক খানের ব্যাপারে গোলমাল হবে না কিছু। কবীর চৌধুরীর গাড়িটা যখন খুশি ব্যবহার করবার জন্যে অনুরোধ করে গেছে সে আব্বাজীকে। সবাইকে বলে দিয়ে গেছে যেন কেউ কোনও বাধা সৃষ্টি না করে। গত কয়েকদিন যাবত আমরা প্রায়ই সে গাড়িতে করে সারাদিনের খাটুনির পর হাওয়া খেতে যাচ্ছি।

    ‘কে চালাচ্ছে?’

    ‘আমিই। সার্জারির সামনে এনে রেখে দিয়েছি আমি গাড়িটা। ওষুধ দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে সাদেক খানকে কম্বল মুড়ে তুলে দেব গাড়ির পিছনে। গাড়ি নিয়ে আজও যদি হাওয়া খেতে যাই, কারও কোন সন্দেহ করবার কারণ নেই।’

    ‘গুড। কম্পিউটার রূমের ব্যাপারটা কতদূর?’

    ‘আব্বাজী এখন কাজ করছেন ওখানে। কপাল ভাল, সন্তোষ মুখার্জী আবার সন্ধ্যার দিকে কি একটা জরুরী ব্যাপারে হায়দ্রাবাদ চলে গেছে।

    ‘চমৎকার! একমাত্র ওর ভয়ই করছিলাম আমি। তোমার আব্বার সঙ্গে কম্পিউটার রূমে ওই ব্যাটা ঢুকে পড়লে অসুবিধে হত।’

    ‘আর দুঃসংবাদ হচ্ছে–হেলিকপ্টারে করে গেছে সে। ওটা ব্যবহার করতে পারছি না আমরা।’

    একটু দমে গেল রানা কিন্তু সে-ভাবটা প্রকাশ করল না সে। শুধু শুধু মেয়েটাকে ঘাবড়ে দেয়ার কোন মানে হয় না। বলল, ‘ওটা পেলে সুবিধা হত অনেক। কিন্তু কি আর করা। এই দ্বীপ থেকে পালাবার আর কি রাস্তা আছে?

    ‘লঞ্চ আছে দুটো, আর একটা স্পীড বোট। বড় লঞ্চটায় করে খাবারদাবার, বাজার-মাছ-ডিম ইত্যাদি আসে। ছোট লঞ্চ আর স্পীড বোটে করে পাহারা দেয়া হয় দ্বীপের চারপাশ।’

    ‘গার্ড আছে?’

    ‘ঠিক বলতে পারব না। রাতের বেলা ওদিকে যাইনি কখনও।

    ‘ঠিক আছে। গার্ড যদি থাকে তাহলে তার কপাল খারাপ বলতে হবে,’ বলল রানা। ‘কিন্তু বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে সমস্ত গার্ড ছুটবে ল্যাবরেটরির দিকে। তার আগেই এরিয়া থেকে বেরিয়ে যেতে হবে তোমাদের। নইলে আটকা পড়ে যাবে ওদের মধ্যে। আমি তোমাদের সাথে দেখা করব জেটির কাছে। এখন আমার দরকার কিছু কালো জামা-কাপড়।’

    ‘ওসব জোগাড় করে রেখেছে আব্বাজী। এমন কি একটা মেল নার্সের সীলমোহর করা আইডেন্টিটি কার্ড পর্যন্ত।’

    ‘ইথারের ব্যবস্থা হয়েছে?’

    ‘আমি একটু আগে একটা ড্রাম আর কিছু পাইপ রেখে এসেছি ক্লিনিকের সাত নম্বর ওয়ার্ডের পেছনে একটা ঝোপের মধ্যে। ইথারটা আস্তে আস্তে ছেড়ো যাতে ভেপোরাইজড হতে সময় না নেয়।’

    ‘দরজার ফাঁক দিয়ে চুইয়ে চুইয়ে বাইরে বেরোবে না তো? তাহলে গার্ডগুলো…’

    ‘না। কামরাটা এয়ারটাইট। এবার চলি আমি। ঠিক সাড়ে দশটার সময় বেরোবে তুমি এই ঘর থেকে। প্যাসেজের শেষ মাথায় জানালাটার গরাদ নেই। জানালার পাশেই পানি তুলবার পাইপ পাবে। ওটা বেয়ে অনায়াসে নেমে যেতে পারবে নিচে। সাড়ে দশটা থেকে এগারোটার মধ্যে কোন গার্ড থাকে না ওখানে। খুব সাবধান, রানা! আমাদের কাজগুলো আমরা করছি- কিন্তু সবকিছু নির্ভর করছে এখন তোমার ওপর। চলি। হঠাৎ রানার কপালে চুমো খেলো শায়লা। মাথাটা বুকের মধ্যে জড়িয়ে ধরে থাকল কয়েক সেকেণ্ড, তারপর ছেড়ে দিয়ে উঠে দাঁড়াল। ‘আব্বা কিছুতেই রাজি হচ্ছিলেন না আমাদের সঙ্গে যেতে, পাছে আমাদের কাঁধের বোঝা হয়ে দাঁড়ান সেই ভেবে- সেজন্যে তখন তোমাদের সঙ্গে ওই রকম অভিনয় করতে হয়েছিল। রাগ করোনি তো, রানা?’

    ‘না।’

    চলে গেল শায়লা। ঠিক সোয়া-দশটায় প্রেজ্ঞার মত নিঃশব্দে হুইল চেয়ারের চাকা ঘুরিয়ে ঘরে ঢুকলেন ডক্টর আবদুল্লাহ্ ফৈয়াজ। চোখ বন্ধ করে পড়ে ছিল রানা। হঠাৎ চোখ খুলতেই দেখল একাগ্র দৃষ্টিতে ওর দিকে চেয়ে বসে আছেন বদ্ধ বৈজ্ঞানিক।

    ‘সব ঠিক আছে?’ জিজ্ঞেস করল রানা।

    ‘সাদেক খানকে গাড়িতে তুলে নেয়া হয়েছে।’

    ‘ও যে খোয়া গেছে সেটা কতক্ষণে বুঝতে পারবে এরা?’

    ‘বুঝতে পারবে না। নয়টার সময় শিফট্ চেঞ্জ হয় নার্সদের। একজন মহিলা নার্সকে হঠাৎ আক্রমণ করে খুন করায় রাতে ওর ওয়ার্ডে কেউ যায় না। ওষুধ দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয় বলে যাবার দরকারও পড়ে না।

    ‘কখন রওনা হচ্ছেন আপনারা?’

    ‘এখান থেকে নিচে নেমেই। ঘণ্টা খানেক কোন খোঁজ পড়বে না আমাদের।’

    ‘আপনাদের অনুসরণ করবে না তো কেউ?’

    ‘না। কম্পিউটার রূমের একটা ইলেকট্রিক ড্রিলিং মেশিন শর্ট সার্কিট করে রেখে ইমার্জেন্সী লাইনে প্লাগ লাগিয়ে দিয়ে এসেছি। যেই ইমার্জেন্সী জেনারেটার চালু হবে অমনি স্পার্ক হবে একটা। আর এই জিনিসটা দিয়ে, কাপড়ের ভিতর থেকে একটা পুঁটুলি বের করলেন বদ্ধ, ‘মেইন লাইন ফিউজ করে দিতে পারবে।’

    একটা নাইলন কর্ডের রীল। সুতোর একমাথায় তামার একটা রড বাঁধা। পিঠের কাছ থেকে একটা কালো পুলওভার আর গাঢ় ছাই রঙের প্যান্ট বের করে দিলেন বদ্ধ। শীর্ণহাতে রানার হাত ধরে বললেন, ‘খোদা তোমার সহায় হোন।

    বেরিয়ে গেলেন ডক্টর ফৈয়াজ।

    দশ মিনিটের মধ্যে বিছানা ছেড়ে উঠে তৈরি হয়ে নিল রানা। ঠিক সাড়ে দশটায় দরজা দিয়ে বাইরে মুখ বাড়িয়ে করিডরটা দেখল সে। ফাঁকা। নিঃশব্দ পায়ে চলে এল শেষ মাথার কাছে। নেমে এল পাইপ বেয়ে।

    প্রেতাত্মার মত মিশে গেল সে অন্ধকারে।

    .

    ড্রাম খালি হতেই কলের মুখ থেকে রাবারের পাইপটা খুলে ভেন্টিলেটার গ্রিলের ভিতর ঢুকিয়ে দিল রানা। কোল থেকে নামিয়ে দিল ড্রামটা। এবার পাওয়ার হাউসের দিকে যেতে হবে। আবার বুকে হেঁটে এগোল রানা। দুশো গজ দূরে পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন প্ল্যান্ট। তারের বেড়া দিয়ে ঘেরা। কিন্তু আসলে ওর মধ্যে কোন প্রয়োজন নেই রানার। যতটা সম্ভব দূরে সরে যেতে চায় সে কম্পিউটার রূম থেকে।

    সাবধানে এগোল রানা চারদিকে সতর্ক দৃষ্টি ফেলে। কিন্তু সার্চলাইটের ভয় সর্বক্ষণ রয়েই যাচ্ছে। কোন নির্দিষ্ট গতিতে বা নির্দিষ্ট পথ ধরে ঘুরছে না আলোটা। যে-কোন জায়গায় যে-কোন সময় দপ করে জ্বলে উঠতে পারে সার্চলাইট। এখন এই অবস্থায় ধরা পড়ে গেলে সব শেষ হয়ে যাবে।

    পাওয়ার হাউসের দশ গজের মধ্যে চলে এল রানা। হাই টেনশন তারগুলোর নিচে এসে পড়েছে সে। শুয়ে শুয়েই রীল থেকে বেশ খানিকটা সুতো বের করল রানা তামার রডটা হাতে ধরে রেখে। তারপর হাঁটু গেড়ে বসে ছুঁড়ে দিল রীলটা ওপর দিকে। তারগুলোর ওপর দিয়ে গিয়ে মাটিতে পড়ল সেটা। সন্তর্পণে চাইল রানা চারপাশে। হামাগুড়ি দিয়ে হাতড়ে হাতড়ে মাটি থেকে কুড়িয়ে নিল সে রীলটা, তামার রড ওখানেই ফেলে রেখে। হাতে গ্লাভস পরে নিল এবার। সুতো ধরে ধীরে ধীরে টান দিতেই দুলতে দুলতে উঠতে আরম্ভ করল তামার রড ওপর দিকে। আর খানিকটা বাকি আছে তারের কাছে পৌঁছতে।

    হঠাৎ একটা প্রচণ্ড গগন-বিদারী চিৎকার শুনে হাত থেকে ছুটে যাচ্ছিল রানার সুতোটা। চেয়ে দেখল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ব্লকের দিক থেকে ছুটে আসছে ওর দিকে দুইজন গার্ড। পরমুহূর্তেই দপ করে জ্বলে উঠল সার্চলাইট। দিনের মত পরিষ্কার আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে গেল জায়গাটা। সুতো ধরে দাঁড়িয়ে আছে রানা। ছুটে আসছে গার্ড দু’জন।

    জোরে টান দিল রানা সুতো ধরে। তামার রডটা দুটো তার স্পর্শ করতেই কড়াৎ করে শব্দ হলো একটা, নীলচে-সাদা আলো জ্বলে উঠল তারে। যেমন জ্বলে উঠেছিল তেমনি দপ করে নিভে গেল সার্চলাইট। পরমুহূর্তে স্নানভাবে জ্বলে উঠল আবার ইমার্জেন্সী জেনারেটার চালু হতেই।

    কেঁপে উঠল দ্বীপটা। ভূমিকম্প হচ্ছে যেন। চুরমার হয়ে আকাশের দিকে উঠে গেল গোটা অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ব্লক। হুমমুড় করে একটা অংশ পড়ল গার্ড দু’জনের ওপর। মিশে গেল ওরা মাটির সাথে। প্রাণপণে ছুটল রানা মেইন গেটের দিকে। অন্ধকার একটা জায়গায় চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল পাঁচ মিনিট।

    হৈ-চৈ হুলস্থুল পড়ে গেছে চারদিকে। ব্যারাক থেকে ছুটে আসছে একদল সৈন্য। সাইরেন বাজাতে বাজাতে এগিয়ে আসছে ট্রাক, জীপ। দমকলের ঘণ্টাও শুনতে পেল রানা।

    মেইন গেটটা হাঁ করে খোলা। অন্ধকারে ভিড়ের হট্টগোলের মধ্যে দিয়ে নিরাপদে বেরিয়ে এল রানা বাইরে। রাস্তার ঠিক মাঝখান দিয়ে দৌড় দিল জেটির দিকে। গাড়িটা দেখতে পেল সে জেটির কাছে। ছুটে এল শায়লা।

    ‘তোমার কোথাও লাগেনি তো?’

    ‘না।’

    ‘জেটিতে স্পীড বোটটা আছে রানা। ওটা স্টার্ট দেয়ার জোগাড় করেছিল ওরা, কিন্তু বিস্ফোরণের শব্দ শুনে দৌড়ে চলে গেছে ল্যাবরেটরির দিকে।’

    ‘বেশ। সাদেক খানকে এই বোটে তুলে ফেল টেনে-টুনে। আমি আসছি এক্ষুণি।’

    ‘কোথায় যাচ্ছ?’ জিজ্ঞেস করল শায়লা।

    ‘ওই যে লঞ্চটা দাঁড়িয়ে আছে ওটাকে খতম করে দেব। তাহলে সঙ্গে সঙ্গে পিছু নিতে পারবে না ওরা।’ কথাটা শেষ হবার আগেই ছুটে চলে গেল রানা।

    ডিস্ট্রিবিউটারটা টেনে ছিঁড়ে পানিতে ফেলে দিল সে। তারপর একখানা হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে দুটো বড় গর্ত সৃষ্টি করল পেট্রল ট্যাঙ্কের গায়ে। ফিরে আসবার আগে লঞ্চের ডেকের ওপর থেকে দেয়াল ঘেরা এলাকাটার দিকে একবার চাইল রানা। দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে সেখানে।

    লাফিয়ে নিচে নামল রানা। দৌড়ে চলে এল স্পীড বোটের কাছে। সাদেক খানকে বোটে ওঠাবার চেষ্টা করছে শায়লা। ডক্টর ফৈয়াজ সাহায্য করবার চেষ্টা করছেন সাধ্যমত। রানা পায়ের দিকটা ধরল। সাদেক খানকে উঠিয়ে ডক্টর ফৈয়াজকে কোলে তুলে নিল রানা, যত্নের সঙ্গে বসিয়ে দিল বোটের মাঝখানে। হুইল চেয়ারটা ভাঁজ করে রানার হাতে দিল শায়লা।

    ‘একটা জিনিস রয়ে গেছে গাড়িতে,’ ছুটল শায়লা।

    ‘জলদি এসো,’ বলেই স্টার্টার বাটন টিপে দিল রানা। গর্জন করে উঠল এইটিন হর্স পাওয়ার এভিনরুড এঞ্জিন। অল্পক্ষণেই একটা মেডিকেল কিট আর খাবারের প্যাকেট নিয়ে ফিরে এল শায়লা। ‘গুড, দরকার হতে পারে,’ বলল রানা উৎসাহিত কণ্ঠে।

    শায়লা উঠে বসতেই রশি খুলে দিয়ে বোট ছেড়ে দিল রানা। সোজা পশ্চিম দিকে চলল বোট আঁধার কেটে। চুপচাপ কয়েক সেকেণ্ড মুক্তির আনন্দ উপভোগ করল ওরা। হেসে উঠল শায়লা। ‘আম্বালার সেই মড়ার খাটিয়ায় করে পালাবার কথা মনে পড়ছে। কোনদিকে চলেছি আমরা, রানা?’

    ‘ইলোর। বোটটা পানিতে ডুবিয়ে রেখে জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে হেঁটে চলে যাব ছ’মাইল। ইলোর পৌঁছে কারও গাড়ি চুরি করে যেতে হবে আমাদের রাজামুন্দ্রি। ওখান থেকে জেলে নৌকায় করে মাছ ধরতে ধরতে গোদাবরী নদী বেয়ে চলে যাব নরসাপুর। ভোরের আগে রাজামুন্দ্রিতে পৌঁছতে পারলে হয়তো ওদের চোখে ধুলো দেয়া সম্ভব হতে পারে।

    অনেকক্ষণ কাটল চুপচাপ। ছ’মাইল দূরে চলে এসেছে স্পীড বোট দ্বীপ থেকে। ‘আর মাইল খানেক গেলেই পৌঁছে যাবে ঘাটে। হঠাৎ একটা কথা মনে পড়ে যাওয়ায় জিজ্ঞেস করল রানা, ‘দ্বীপের মধ্যে আগুন দেখে কি বাইরে থেকে সাহায্য করতে আসবে লোকজন?’

    ‘না। নিষিদ্ধ এলাকা ওটা। এমন কি ইলোরের পুলিস পর্যন্ত কাছে এগোবার সাহস পাবে না অনুমতি ছাড়া। রেডিও মারফত আগে অনুমতি নিতে হবে,’ বললেন ডক্টর ফৈয়াজ।

    ‘রেডিও রূমের যে অবস্থা হয়েছে তাতে সে সম্ভাবনা আছে বলে মনে হয় না,’ হাসল রানা। আবিশ্বাস ফিরে আসছে ওর। খুশি হয়ে উঠছে সে নিজের ওপর।

    ঠিক এমনি সময় তিনজনই একসাথে চমকে উঠে চাইল ওরা আকাশের দিকে। এঞ্জিনের শব্দ। পুরু মেঘ জমেছে আকাশে। একটা জায়গা শুধু অপেক্ষাকৃত ফর্সা দেখাচ্ছে কৃষ্ণপক্ষের ম্লান চাঁদের আলোয়। ঠিক সেইখানেই দেখা গেল হেলিকপ্টারটা। দ্বীপের দিক থেকে সোজা এগিয়ে আসছে স্পীড বোটের দিকে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমাসুদ রানা ০৩৩ – বিদেশী গুপ্তচর – ১
    Next Article মাসুদ রানা ০০৬ – দুর্গম দুর্গ

    Related Articles

    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৩৮৫-৩৮৬ – হ্যাকার (দুই খণ্ড একত্রে)

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫৬ – টপ টেরর

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫৪ – নরপশু

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫৩ – ধর্মগুরু

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫২ – কালো কুয়াশা

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫১ – মায়া মন্দির

    July 22, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }