Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মাসুদ রানা ০৩৪ – বিদেশী গুপ্তচর – ২

    কাজী আনোয়ার হোসেন এক পাতা গল্প154 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    বিদেশী গুপ্তচর – ২.৬

    ছয়

    পনেরো মিনিট দৌড়ে একটা সরু রাস্তায় পড়ল ওরা। আরও কিছুদূর এগিয়ে পড়ল বড় রাস্তায়। দ্রুত পায়ে হেঁটে চলেছে ওরা। কিছুদূর হেঁটে মুখ খুলল গিলটি মিয়া।

    ‘সকাল হতে আর খুব বেশি দেরি নেই, স্যার। এই খোলামেলা জায়গায় দিনের বেলা চলা বোধায় ঠিক হবে না। বহুদূর থেকেও চেনা যাবে আমাদের।’

    দু’পাশে এবড়ো-খেবড়ো মাঠ, খেত। সব সমতল। সত্যিই, আত্মগোপনের কোন উপায় নেই। রানা জানে, কেবিন-ক্রুসেট খালি দেখেই পুরো এলাকাটা সার্চের ব্যবস্থা করবে পুলিস। বিশেষ করে বড় বড় শহরে খুবই তৎপর থাকবে ওরা। কাজেই এখন গ্রামের কাছাকাছি থাকাই ভাল। হাঁটা পথে সরে যেতে হবে যতদূর পারা যায়। এবং সবার অলক্ষে।

    ‘সবই নির্ভর করছে এখন আমাদের ধরার ব্যাপারে পুলিস কতটা আগ্রহী, তার ওপর,’ বলল রানা। ‘আমরা ভাবছি খুব বেশি কিছু অপরাধ করিনি আমরা। কিন্তু ওদের দৃষ্টিভঙ্গিটা আমাদের থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন হওয়া বিচিত্র নয়। ওরা হয়তো ভাবছে, ম্যারিয়ানোর কেবিন-ক্রুসেট চুরি করে, পিস্তল দেখিয়ে ডিজেল চুরি করে ভয়ঙ্কর দুই বিদেশী ডাকাত বেরিয়েছে ডাকাতি করতে। পুলিস থামতে বলেছিল, আদেশ অমান্য করেছি আমরা, এটাকেও ওরা হয়তো বিরাট করে দেখছে। কতখানি গুরুত্ব দিচ্ছে ওরা ব্যাপারটাকে সেটা বুঝতে না পারলে আমাদের পক্ষে সিদ্ধান্ত নেয়া সহজ হবে না। হয় বেশি ভয় পেয়ে অনর্থক সময় নষ্ট করব, নয়তো ধরা পড়ে যাব অসতর্ক অবস্থায়।’

    ‘প্রথমটাই তো আমার কাছে ভাল মনে হচ্চে, স্যার। বেশি সাবদান হওয়াই ভাল। দেরি হয় হোক। কিন্তু রাতের বেলা তো হাঁটচি নিচ্চিন্ত মনে, দিনের বেলা কি করব?’

    ‘আমিও সেই কথাই ভাবছি। দু’পাশে ফার্ম-হাউস খুঁজতে খুঁজতে যাব আমরা। দিনের বেলাটা লুকিয়ে থাকার মত কোন জায়গা পেয়ে যেতেও পারি। খড়ের গাদায়, গোয়াল ঘরে বা গুদাম ঘরে কোথাও না কোথাও জায়গা পেয়েই যাব।’

    ঘণ্টা দেড়েক হাঁটার পর হঠাৎ কান খাড়া করল রানা।

    ‘আমিও শুনতে পেয়েচি, স্যার!’ বলল গিলটি মিয়া। রাস্তা ছেড়ে ঢাল বেয়ে পাশের খাদে নামতে শুরু করেছে সে।

    রানাও নামল পিছু পিছু। পঁয়তাল্লিশ ডিগ্রি ঢালের গায়ে শুয়ে পড়ল ওরা উপুড় হয়ে। একটা গাড়ির এঞ্জিনের শব্দ এগিয়ে আসছে দ্রুত।

    ‘মাটির গোন্দো সব দেশেই এক, তাই না, স্যার?’ ফিসফিস করে জিজ্ঞেস করল গিলটি মিয়া।

    ঝট করে ওর দিকে ফিরল রানা। ‘হ্যাঁ। মানুষও এক। সব মানুষ এক।’

    চলে গেল গাড়িটা। হেডলাইট নেভানো। শুধু সাইডলাইট জ্বলছে। পুলিসের টুপি চিনতে পারল রানা এক ঝলক দেখেই। সময় নষ্ট করেনি ওরা।

    রাস্তায় উঠে এল রানা।

    ‘মাটের মদ্যে দিয়ে হাঁটা ধরলে কেমন হয়, স্যার? রাস্তাটা বিশেষ নিরাপদ মনে হচ্চে না।’

    ‘এবড়ো-খেবড়ো মাঠে খুবই কষ্ট হবে হাঁটতে, অথচ বেশিদূর এগোতে পারব না। চলো, যতদূর পারা যায় রাস্তা ধরে এগোই, তারপর অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা করা যাবে।’

    ভাঙা চাঁদের আলো বেশ কিছুটা জোরদার হয়েছে। আরও হালকা হয়ে যাচ্ছে মেঘ। মোলায়েম আলোর মধ্যে দিয়ে হেঁটে চলল ওরা। ফুরফুরে ঠাণ্ডা বাতাস। প্রাণ জুড়িয়ে যায়। বিদেশী এক নির্জন রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে অতীতের অনেক কথা ভিড় করে আসতে চাইছে রানার মনে। অবচেতন মনের কোন্ গোপন মণিকোঠায় পড়ে ছিল হাজারো টুকরো কথা, স্মৃতি- ভেসে উঠছে সেসব মনের পর্দায়। মনে হচ্ছে স্বপ্নের ঘোরে আছে সে, হাঁটছে স্বপ্নে। পৃথিবীটা মায়াবী এক স্বপ্নের দেশ।

    আরও আধ ঘণ্টা হাঁটার পর ফার্ম-হাউস পাওয়া গেল একটা। ঘড়ি দেখল রানা। সাড়ে চারটা। ভোর হতে দেরি নেই। এখানেই চেষ্টা করবে, না আরও সামনে গিয়ে আরেকটা ফার্ম-হাউস খুঁজবে, সিদ্ধান্ত নেয়ার চেষ্টা করছিল রানা, এমনি সময় কথা বলে উঠল গিলটি মিয়া।

    ‘চেষ্টা করে দেকতে ক্ষতি কি, স্যার? পরেরটা আবার কতদূর তার ঠিক আছে?’

    দাঁড়িয়ে পড়ল রানা। রাস্তা থেকে শ দেড়েক গজ উত্তরে টালির ছাত দেয়া চুনকাম করা দোতলা বাড়ি। ইটালীর গৃহস্থ- বাড়ি। ঝকঝক করছে চাঁদের আলোয়। পাশেই গোলাঘর। তার পাশে গোয়াল।

    ‘সাবধান করে দেয়া হয়েছে এদের,’ বলল রানা। ‘রাস্তার দু’পাশে যত ফার্ম-হাউস আছে প্রত্যেকের কাছে যাবে পুলিস। তবু চেষ্টা করে দেখতে ক্ষতি নেই। চলো। রাত থাকতে থাকতে একটা আশ্রয় খুঁজে নিতেই হবে।’

    বড় রাস্তা ধরে একটা খোয়া বিছানো পথ গেছে ফার্ম-হাউস পর্যন্ত। কিন্তু সে পথে না গিয়ে মাঠ ভেঙে এগোল ওরা। একশো গজ নিশ্চিন্তে হেঁটে এসে হঠাৎ থমকে দাঁড়াল গিলটি মিয়া।

    ঘেউ ঘেউ করে ডেকে উঠেছে একটা কুকুর। কুকুর তো নয়, যেন বাঘের গর্জন।

    ‘দেকা হয়েচে, স্যার! চলুন এবার!’

    ‘হাউণ্ড!’ আপন মনে বলল রানা। ‘গুণ্ডাকে বশ করবার কায়দাটা কাজে লাগাব নাকি? এটার বেলায় খাটবে সেটা?’

    গুণ্ডা হচ্ছে রানার পোষা ব্লাড-হাউণ্ডের বাচ্চা। কষ্ট করে ওটার সাথে খাতির করেছে সে। এখন দারুণ ভাব।

    ‘কোন কিছু খাটবে না, স্যার! চলুন, মানে মানে কেটে পড়ি। ওই দেকুন!’

    বাতি জ্বলে উঠেছে দোতলার একটা ঘরে। দ্বিগুণ জোরে চিৎকার শুরু করেছে কুকুরটা, টেনে ছিঁড়ে ফেলবার উপক্রম করেছে চেন। মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নিল রানা।

    ‘দৌড় দাও, গিলটি মিয়া। এসো আমার সাথে। ওরা মনে করবে কুকুরের ডাকে ভয় পেয়ে ভেগেছি আমরা।

    উল্টো দিকে দৌড়াতে যাচ্ছিল গিলটি মিয়া, রানাকে সোজা সামনের দিকে দৌড়াতে দেখে থমকে গেল এক সেকেণ্ড, তারপর পিছু নিল। এক ছুটে গোলাঘরের পিছনে এসে দাঁড়াল ওরা। ঘটাং করে দরজা খোলার শব্দ শুনতে পেল ওরা পরিষ্কার

    দোতলা থেকে একটা মেয়ের কণ্ঠস্বর শোনা গেল। ‘হুট করে বেরিয়ে পড়ো না, বাবা। সাবধান! নেন্নি যাচ্ছে, একটু দাঁড়াও।’

    ‘ওই হারামজাদা ছেলের জন্যে দাঁড়ালে সারারাত দাঁড়িয়ে থাকতে হবে আমার,’ মোটা পুরুষ কণ্ঠস্বর শোনা গেল। ‘কুকুরটাকে বিরক্ত করছে জানি কোন শালা।

    ‘আমি আসছি, বাবা, একটু দাঁড়াও!’ হারামজাদা ছেলের কণ্ঠস্বর ভেসে এল।

    ‘দু’জন আসচে!’ ভয়ে ভয়ে বলল গিলটি মিয়া।

    ‘তিনজন,’ বলল রানা। ঝনাৎ করে শব্দ হলো শিকলের। ‘কুকুরটাকে ছেড়ে দিল ব্যাটা।

    ‘এই সেরেচে।’ দেয়ালের সাথে সেঁটে পিঠ লাগিয়ে দাঁড়িয়ে রইল গিলটি মিয়া। ‘সব্বো শরীল কাঁপচে স্যার। বুকের ভেতর…’

    ‘চুপ!’ চাপা গলায় ধমক দিল রানা। এগিয়ে গেল কয়েক পা। দশ সেকেণ্ডের মধ্যেই গোলাঘরটা ঘুরে চলে এল একটা বড়সড় হাউণ্ড। রানাকে দেখেই চাপা একটা গর্জন ছেড়ে বিদ্যুৎবেগে ছুটে এল ওর দিকে।

    ছ্যাৎ করে উঠল রানার বুকের ভিতরটা। কিন্তু নড়ল না একটুও। শেষ লাফটা দেয়ার আগে হঠাৎ থেমে দাঁড়াল হাউণ্ডটা। ইতস্তত করল কিছুক্ষণ, তারপর নাক নিচু করে শুঁকতে শুরু করল রানার চারপাশটা।

    ‘এই তো লক্ষ্মী ছেলে!’ বলল রানা। হালকা করে শিস দিল দাঁতের সাথে জিভ ঠেকিয়ে।

    কাজ হলো এতে। কাছে সরে এল কুকুরটা। লেজ নাড়তে দেখেই নিচু হয়ে ওটার মাথায় আদর করল রানা। আদর পেয়ে একেবারে গলে গেল কুত্তার বাচ্চা, রানার গাল চেটে দেয়ার উপক্রম করল।

    ‘বিউনো! এদিকে এসো!’ চিৎকার শোনা গেল বুড়ো লোকটার।

    আওয়াজ শুনে বোঝা গেল গোলাঘরের কাছাকাছি কোথাও রয়েছে লোকটা।

    ‘যাও, বিউনো। ডাকছে!’ মৃদুকণ্ঠে বলল রানা। ঠেলা দিল ওকে গোলাঘরের দিকে।

    রানার মুখের দিকে চাইল হাউণ্ডটা, বুঝতে পারল কি বলতে চাইছে সে, এক ছুটে গোলাঘরটা ঘুরে অদৃশ্য হয়ে গেল। রানা ফিরল গিলটি মিয়ার দিকে। নেই!

    অবাক হয়ে কয়েক পা এগিয়ে এল রানা। দেখল ইতিমধ্যেই একটা দরজা পেয়ে গোলাঘরের ভিতরে ঢুকে গেছে গিলটি মিয়া, দরজাটা সামান্য একটু ফাঁক করে দেখছে বাইরের অবস্থা। রানা কাছে যেতেই বিগলিত কণ্ঠে বলে উঠল, ‘এমনটি আর দেকিনি! একেবারে ভোজবাজী দেকিয়ে দিয়েচেন, স্যার!’

    দরজাটা মেলে ধরল গিলটি মিয়া। ভিতরে ঢুকল রানা। দরজাটা বন্ধ হয়ে যেতেই টর্চ বের করল পকেট থেকে। ঘরটা চট করে একবার দেখে মইয়ের দিকে এগোল রানা।

    একগাদা খড় জড়ো করা আছে মাচার উপর। চারপাশে হাতখানেক জায়গা শুধু খালি রাখা আছে চলাফেরার জন্যে। গাদার উপর উঠে পড়ল গিলটি মিয়া। মচমচ শব্দ হলো। হাত-পা ছড়িয়ে শুয়ে আরামের একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল সে। সরু পথ বেয়ে রানা চলে এল একটা দরজার কাছে, সামান্য ফাঁক করে চোখ রাখল সেই ফাঁকে।

    কয়েক হাত নিচেই দাঁড়িয়ে আছে দু’জন লোক। একজনের হাতে একটা লণ্ঠন। কান খাড়া করে কি যেন শুনছে ওরা। কাৎ হয়ে আছে ঘাড়।

    ‘খুব সম্ভব বিড়াল,’ হারামজাদা পুত্র বলল পিতাকে। ‘চলো বাবা, ঘুমিয়ে পড়বে। নইলে কাল আবার তোমার মেজাজের ঠেলায় জান বেরিয়ে যাবে সবার। বিউনোকে তো জানোই। কেউ থাকলে…’

    গজগজ করে কি যেন বলল বুড়ো বোঝা গেল না। তারপর কাঁধ ঝাঁকিয়ে রওনা হলো বাড়ির দিকে।

    ‘এটাকে ছেড়ে রেখে দাও আজ রাতে,’ বুড়োর গলার আওয়াজ পাওয়া গেল। পুলিসকে খুশি করার জন্যে সারারাত জাগতে পারব না আমি। ওরা আমার কোন্ কাজে লেগেছে কবে?’

    বোঝা গেল বাড়ির ভিতর ঢুকে পড়ল দু’জনই। ঘটাং করে লেগে গেল বল্টু। খানিক বাদে দোতলার বাতি নিভে গেল।

    উঠে পড়ল রানা খড়ের গাদায়।

    ‘শুয়ে পড়েছে ওরা। খিদে লেগেছে? কিছু খেয়ে নেবে?’

    ‘না, স্যার। একোন আর কিচু খাব না। ঘুম আসচে দু-চোক ভেঙে।’

    ‘ঠিক আছে, ঘুমিয়ে পড়ো তাহলে। কাল সারাটা দিন বোধহয় এখানেই থাকতে হবে আমাদের। সন্ধের পর হাঁটা ধরব আবার।’ চিৎ হয়ে শুয়ে পড়ল রানা। ‘পড়ুয়া পেরিয়ে পাহাড়ী এলাকায় গিয়ে পড়তে পারলে দিনেও হাঁটা যাবে। তার আগে নয়।

    একটা সিগারেট ধরাবার ইচ্ছে দমন করল রানা। বেশ কিছুক্ষণ ঘুম এল না ওর চোখে। অতিরিক্ত ক্লান্ত হয়ে পড়লে ঘুম আসতে চায় না সহজে। কম ধকল যায়নি গত কয়েকটা ঘণ্টা।

    ভবিষ্যতের কথা ভাবল রানা কিছুক্ষণ। কত পথ চলতে হবে কে জানে। হন্যে হয়ে খুঁজছে ওদের পুলিস। সিলভিও যে চুপচাপ বসে নেই সেটাও সহজেই বোঝা যায়। একদিকে ইটালিয়ান পুলিস, অন্যদিকে ভয়ঙ্কর কোসা নোস্ট্রা- কিভাবে বেরোবে সে এদেশ থেকে? কোনদিকে যাবে?

    আকাশ পাতাল ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়ল রানা।

    .

    চমকে জেগে উঠল রানা। ওর হাত ধরে নাড়া দিচ্ছে গিলটি মিয়া।

    কয়েকটা ফুটো দিয়ে রোদ এসে পড়েছে অন্ধকার ঘরে, বেশ কিছুটা ফিকে হয়ে গেছে তার ফলে অন্ধকার। কয়েকজনের গলার আওয়াজ পেল রানা। খুব কাছেই।

    ‘কি ব্যাপার?’ চাপা গলায় জিজ্ঞেস করল রানা।

    ‘বাঁদা-কপি, স্যার!’ ফিসফিস করে বলল গিলটি মিয়া। ‘লরীতে তুলচে।’

    সাবধানে কোন রকম শব্দ না করে উঠে পড়ল রানা। নিঃশব্দ পায়ে দরজার কাছে এসে চোখ রাখল ফাঁকে। দরজার ঠিক নিচেই দাঁড়িয়ে আছে একটা দশ-টনী ট্রাক। ত্রিপল দিয়ে অর্ধেকটা ঢাকা। ঝুড়ির পর ঝুড়ি সাজানো রয়েছে বাঁধা কপি।

    বাপ-বেটা কথা বলছে ড্রাইভারটার সাথে খোশমেজাজে।

    খানিকক্ষণ কান পেতেই বুঝতে পারল রানা। পড়ুয়ায় চলেছে এই বাঁধা-কপির চালান। কথা বলতে বলতে চলে গেল ওরা বাড়ির দিকে। বোধহয় চা-নাস্তা খাওয়ানো হবে ড্রাইভার সাহেবকে।

    মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নিল রানা।

    ‘চলো, গিলটি মিয়া! রওনা হওয়া যাক।’

    ঝটপট রাকস্যাক ঝুলিয়ে নিল ওরা পিঠে। দরজা খুলেই লাফিয়ে নামল রানা ঝুড়ি ভর্তি কপির উপর। দ্রুত হাতে কয়েকটা ঝুড়ি সরিয়ে দু’জনের বসবার মত জায়গা করল। তারপর ইশারা করল গিলটি মিয়াকে।

    সরু একচিলতে জায়গায় দাঁড়িয়ে দরজাটা বন্ধ করে দিল আগে গিলটি মিয়া, তারপর ঝুপ করে নামল রানার পাশে। বসে পড়ল দু’জন।

    না, চা-নাস্তা নয়, বোধহয় ভাড়া চুকিয়ে দেবার জন্যে নিয়ে গিয়েছিল ওরা ড্রাইভারকে। কারণ এক মিনিট পরেই ফিরে এল তিনজন ট্রাকের কাছে।

    ‘চলি, কাল দেখা হবে আবার,’ বলল ড্রাইভার গাড়িতে উঠতে উঠতে।

    ‘পারলে আর একটু সকাল সকাল এসো। গুডবাই।’

    স্টার্ট হয়ে গেল এঞ্জিন। খোয়া বিছানো উঁচু-নিচু রাস্তা ধরে নাচতে নাচতে চলল ট্রাক বড় রাস্তার দিকে।

    একগাল হাসল গিলটি মিয়া।

    ‘আজকের দিনটা খুব ভাল যাবে, স্যার।’

    ‘কি করে বুঝলে?’

    ‘শুরুটা দেকলেই বোজা যায়। ঘুম থেকে উটেই এই যে তৈরী গাড়ি পেয়ে গেলুম, এটাকে কি বলবেন আপনি? কপাল বলবেন না? আমরা ডেকেচি লরীটাকে? আপনিই এসে হাজির। দেকবেন, দিনটা আজ এরকমই যাবে। ঠিক সোমায় মতন সবকিচু হাজির পাবেন আজকে।’

    ‘দেখা যাক। সিগারেট ধরাল রানা। ‘এবার ম্যাপটা বের করো দেখি। শহরে ঢোকার আগেই নেমে পড়তে হবে আমাদের। কোনদিক থেকে কোনদিকে যাব আগে থেকে দেখে রাখা ভাল।’

    ম্যাপটা খুলে পড়ুয়ার নিচে আঙুল রাখল রানা।

    ‘এইখানটায় নেমে যাব আমরা ট্রাক থেকে। শহরে কড়া পাহারার ব্যবস্থা থাকবে। কাজেই আগে নামব। এই যে দেখছ, এটা হচ্ছে পাহাড়ী এলাকা। অ্যাবানোর দিকে রওনা হব আমরা। ওখান থেকে হেঁটে চলে যাব বারবানো। ওখান থেকে ভিনসেনযায় এসে বাস ধরব ব্রেসিয়ার উদ্দেশে। ব্রেসিয়ায় পৌঁছতে পারলে কোন কৌশলে মিলানো পৌঁছানো অসম্ভব হবে না।’

    ‘তারপরেই পেলেনে উটব?’

    ‘সেই চেষ্টাই করব, তবে আগে থেকে বলা যায় না কিছুই। আমাদের আটকাবার সব ব্যবস্থাই করবে ওরা। যে-কোন মুহূর্তে প্ল্যান বদলাতে হতে পারে। আপাতত এই ঠিক থাকল, তারপর যেমন সমস্যা আসবে তার তেমন সমাধান বের করে নেব আমরা চলতে চলতে। আগে থেকে সব সমস্যার বোঝা ঘাড়ে নিয়ে লাভ নেই।’

    আধঘণ্টা বাঁধা-কপি ঝুড়ির গায়ে হেলান দিয়ে দুলল ওরা ট্রাকের দোলায়। ট্রাকের গতি আঁচ করে নিয়ে মনে মনে অংক কষে বের করল রানা পড়ুয়া পৌঁছতে আর বড়জোর মিনিট দশেক আছে। সাবধানে ঝুড়ি সরিয়ে পথ করে চলে এল ওরা ট্রাকের পিছনে।

    চারপাশে একবার চোখ বুলিয়েই মনটা দমে গেল রানার। সমতল খোলা জায়গা। দূরে দেখা যাচ্ছে মাঠে কাজ করছে কয়েকজন কৃষক।

    ‘এখেনে নামলে এস্টেট ধরা পড়ে যাব, স্যার,’ বলল গিলটি মিয়া। ‘নিয়ন সাইনবোর্ডের মত দেকা যাবে আমাদের তিন মাইল দূর থেকেও।’

    ‘এছাড়া আর কোন উপায় নেই এখন।’

    ‘তা ঠিক। শহরে ঢুকলেই ক্যাঁক করে ধরে নেবে শালারা।’ হাসল গিলটি মিয়া, ‘বহুদিন এরকম চোরের মতন পালিয়ে বেড়াইনি, স্যার। বেশ মজাই লাগচে কিন্তু! আপনি সাতে আচেন বলে অত ভয় লাগছে না। তা চলুন, হাঁ করে কি ভাবচেন, নেমে পড়া যাক!’

    ‘দূরে ওই যে পাহাড় দেখা যাচ্ছে, ওই পর্যন্ত নিরাপদে পৌঁছতে পারলে আপাতত সমস্যার শেষ। চলো। আমি রেডি বললেই লাফ দেবে।’

    টেইলবোর্ড ধরে ঝুলে পড়ল দু’জন। নিচ দিয়ে সড়সড় সরে যাচ্ছে রাস্তা দ্রুতবেগে।

    ‘রেডি!’

    একসাথে লাফ দিল দু’জন। কয়েক পা দৌড়ে ঠিক করে নিল ভারসাম্য, তারপর সাঁৎ করে সেঁটে গেল রাস্তার পাশে দেয়ালের গায়ে। আড়াল হয়ে গেল মাঠে কর্মরত লোকগুলো।

    চারপাশে চোখ বুলিয়ে নিয়ে গিলটি মিয়া বলল, ‘ওদের চোকে ফাঁকি দিয়ে পাহাড়ে পৌঁচানো যাবে না।’

    ‘ওই পাহাড়ে পৌঁছতে কতক্ষণ লাগবে বলে মনে হয়?’ জিজ্ঞেস করল রানা।

    ‘দেকতে তো কাচেই মনে হয়, স্যার। কিন্তুক আমার মনে হয়, এই মাট-ঘাট পেরিয়ে ওখেনে পৌঁচতে একটি ঘণ্টা সোমায় তো লাগবেই।’ খোঁচা খোঁচা দাড়ি ভর্তি গাল চুলকাল গিলটি মিয়া! ‘ওই গোলাঘরে দিনটা থেকে গেলেই বোধায় ভাল করতুম, স্যার।’

    ‘ওই কৃষকগুলো ছাড়া আর কেউ নেই আশেপাশে। ওরা আমাদের নিয়ে মাথা ঘামাতে যাবে কেন?’ ঘড়ি দেখল রানা। সোয়া নয়টা। ‘তিরিশ মাইল সরে এসেছি আমরা। কম কথা নয়। চলো, অনুশোচনা না করে এগোনো যাক।’

    দেয়াল টপকে মাঠে নামল ওরা। এগোল পাহাড় লক্ষ্য করে। অসমান জমিতে হাঁটার গতি বাড়ানো যাচ্ছে না। বার বার ঘাড় কাত করে দেখছে ওরা কর্মরত কৃষকদের। পাঁচ-ছয়শো গজ দূরে কাজ করছে ওরা। ব্যস্ত হয়ে আছে কাজে, এদিকে চাইছে না কেউ। চারজন বিট তুলছে খেত থেকে। একজন কাস্তে দিয়ে ঘ্যাচ করে কাটছে বিটের সবুজ মাথা। অপর একজন সাজিয়ে রাখছে একখানা তিন চাকার ঠেলাগাড়িতে।

    হাঁটু সমান উঁচু সবুজ ঘাস মাড়িয়ে এগিয়ে চলল ওরা। মাইল দু’য়েক গিয়ে ক্রমে ঢালু হয়ে গেছে জমিটা। এই ঢালের শেষ থেকে শুরু হয়েছে প্রথম পাহাড়। কয়েকটা ছোট ছোট পাহাড় ডিঙিয়ে যেতে পারলে পৌঁছানো যাবে বড় পাহাড়ের গায়ে। তারপর শুরু হবে খাড়াই উতরাই ভেঙে শুধু হাঁটা আর হাঁটা।

    লম্বা ঘাসের মাঠ অর্ধেক পেরোতেই দূর থেকে ভেসে এল একটা চিৎকার-ধ্বনি।

    ‘এই সেরেচে, স্যার!’

    ‘সরাসরি ওদের দিকে চেয়ো না!’ ধমক দিল রানা। ‘ডাকুক। শুনতে পাচ্ছি না আমরা।’

    কৃষকদের ছাড়িয়ে মাত্র একশো গজ এগিয়েছে ওরা পাহাড়ের দিকে এমনি সময়ে দেখে ফেলেছে ওদের কেউ। তবে ওদের থেকে পাঁচ-ছয়শো গজ ডাইনে সোজা পাহাড়ের দিকে হাঁটছে রানা ও গিলটি মিয়া, ধরে ফেলা সহজ হবে না। আর একটু জোরে পা চালাল রানা।

    আড়চোখে দেখল রানা তিনজন কৃষক হাত নেড়ে ডাকছে ওদের।

    ‘দৌড় দেব, স্যার?’

    ‘পা চালাও, গিলটি মিয়া। ওরা দৌড় দিলে আমরা দৌড়াব, তার আগে নয়।’

    ‘কিন্তুক ডাকচে কেন শালারা? আমরা যা-মন তাই করচি, ওদের কি?’

    ‘মনে হয় ওদের খবর দিয়ে রেখেছে পুলিস কিংবা কোসা নোস্টা।

    আবার একবার আড়চোখে ওদের দিকে চেয়েই থমকে দাঁড়াল রানা। একজন লোক তীর বেগে ছুটছে একটা ফার্মহাউসের দিকে। বাকি পাঁচজন এগোচ্ছে ওদের দিকে কোণা-কোণি ভাবে। প্রমাদ গুনল রানা। চট করে ফিরল গিলটি মিয়ার দিকে।

    ‘না-হে, আর ভদ্রতা করে লাভ নেই। এসো ওদের দেখিয়ে দিই বাঙালী লৌড় কাকে বলে।’

    ছুটল দু’জন। গিলটি মিয়াকে পাঁই পাঁই করে ছুটতে দেখে হেসে ফেলল রানা।

    ‘অত জোরে না। আরও দু’মাইল যেতে হবে আমাদের দৌড়ে। দম পাবে না শেষে।’

    মাঝারি গতিতে এগিয়ে চলল দু’জন পাহাড়ের দিকে। ওই পাঁচজনও দৌড়াতে শুরু করেছে। জনা তিনেক খুব জোরে দৌড়াচ্ছে, রানা বুঝতে পারল বড়জোর পাঁচশো গজ দৌড়াবে ওরা ওই গতিতে, তারপর শুয়ে পড়বে চিৎ হয়ে। ঢালের কাছাকাছি দৌড়ের গতি আর একটু বাড়িয়ে দিল রানা। পাহাড় আরও দেড় মাইল।

    পিছন ফিরে দেখল রানা, প্রায় দু’শো গজের মধ্যে এসে গিয়েছিল তিনজন, এখন পিছিয়ে যাচ্ছে আবার। বেশ অনেকখানি পিছনে আরও চারজন লোককে দেখতে পেল রানা। একজনের মাথায় কৃষকদের মাথাল, বাকি তিনজনের মাথায় হ্যাট। প্রাণপণে ছুটছে ওরা।

    দশ মিনিটের মধ্যে পৌঁছল ওরা পাহাড়ের গায়ের কাছে। একটু হাঁপ ধরেছে দেখে মনে মনে স্থির করল রানা এবার ঢাকায় ফিরে স্কিপিং-এর মাত্রা বাড়িয়ে দেবে। পাঁচ ফুট উঁচু একটা দেয়াল ডিঙিয়ে এবড়ো-খেবড়ো রাস্তায় পড়ল ওরা। রাস্তা পেরিয়ে আবার একটা দেয়াল। সেটা পেরিয়ে উঠতে শুরু করল ওরা পাহাড়ে।

    পিছনের চারজন ধরে ফেলেছে সামনের পাঁচজনকে। বেশ অনেকখানি জায়গা জুড়ে ছড়িয়ে এগোচ্ছে ওরা।

    একই গতিতে পাহাড়ে উঠতে বেশ কষ্ট হচ্ছে কিন্তু গতি কমাল না রানা। দশ মিনিট পর পাহাড়ের মাথায় উঠে থেমে দাঁড়িয়ে চাইল পিছন ফিরে। বেশ জোরে হাঁপাচ্ছে ওরা এখন।

    তিনজন এখনও দৌড়াচ্ছে ঢালু মাঠে, জনা চারেক দেয়াল টপকাচ্ছে, আর দু’জন উঠতে শুরু করেছে পাহাড় বেয়ে। হাঁপাচ্ছে হাপরের মত।

    প্রায় দৌড়ে নামতে শুরু করল ওরা পাহাড়ের ঢাল বেয়ে। অনেকখানি নেমে আসবার পর আরেকটা দেয়াল পাওয়া গেল সামনে। সেটা টপকেই থমকে দাঁড়িয়ে পড়ল রানা।

    ‘রেলওয়ে! এটার কথা খেয়াল ছিল না আমার!’ বলল রানা।

    আর একটু নেমে রেল লাইন দেখতে পেল ওরা। পাহাড়ের খানিকটা অংশ প্রায় খাড়াভাবে কেটে বসানো হয়েছে রেল লাইন।

    হেসে উঠল গিলটি মিয়া। চট করে চাইল রানা ওর দিকে। কান খাড়া করে কি যেন শোনার চেষ্টা করছিল গিলটি মিয়া। ঘাড় সোজা করে চাইল রানার দিকে।

    ‘এই দেকুন, স্যার, বলেছিলাম না দিনটা ভাল যাবে! কপাল আর কাকে বলে!’

    কি ব্যাপারে কথা বলছে সেটা আর জিজ্ঞেস করতে হলো না রানাকে, গিলটি মিয়া থামতেই অস্পষ্টভাবে কানে এল ট্রেনের শব্দ। হাসি ফুটে উঠল রানার মুখে। ভুরু কপালে তুলে মাথাটা ডানদিকে কাত করল গিলটি মিয়া। ভাবটা- এই দেখুন!

    আছড়ে-পাছড়ে দশ ফুট প্রায়-খাড়া পাহাড় বেয়ে নেমে এল ওরা নিচে। রেল লাইনের পাশ দিয়ে দৌড় দিল গজ-পঞ্চাশেক দূরে ঝোপের আড়ালে আত্মগোপন করবে বলে। ঝোপের আড়ালে পৌঁছবার সাথে সাথেই এঞ্জিনের নাকটা দেখতে পেল রানা। মোড় ঘুরে বেরিয়ে আসছে পাহাড়ের আড়াল থেকে।

    মস্ত লম্বা এক মালগাড়ি। ওয়াগনের পর ওয়াগন- যেন শেষ নেই। টেনে নিয়ে এগোতে গিয়ে এঞ্জিনের জিভ বেরিয়ে যাওয়ার দশা। বড়জোর পনেরো কি ষোলো মাইল স্পীডে পার হয়ে গেল এঞ্জিনটা রানাদের লুকিয়ে থাকা ঝোপের পাশ দিয়ে। পরিষ্কার দেখা গেল ড্রাইভার ও ফায়ারম্যানকে। গিলটি মিয়ার কনুই ধরে টান দিল রানা। বেরিয়ে গেল আড়াল থেকে।

    প্রথম দশ বারোটা বন্ধ ওয়াগন পেরিয়ে যেতে দিল ওরা। তারপরই এল গোটা কয়েক ছাত খোলা নিচু ওয়াগন, একটা করে হলুদ পেইন্ট করা ঝকঝকে ট্রাক্টর বসানো আছে প্রত্যেকটায়। ছ’সাত গজ দৌড়ে লাফ দিয়ে উঠে পড়ল ওরা দ্বিতীয় খোলা ওয়াগনে।

    ‘লুকিয়ে পড়ো, গিলটি মিয়া।’ বলেই এক গড়ান দিয়ে ট্রাক্টরের আড়ালে চলে গেল রানা।

    গিলটি মিয়াও এল পিছু পিছু।

    খট্ খট্ খটাখট, খট্ খট্ খটাখট- এগিয়ে চলল মালগাড়ি। বেশ কিছুদূর যাওয়ার পর ট্রাক্টরের আড়াল থেকে দেখতে পেল রানা, পাহাড়ের মাথায় দাঁড়িয়ে ট্রেনের দিকে আঙুল দিয়ে দেখাচ্ছে একজন লোক আরেকজনকে। মোড় ঘুরে আড়াল হয়ে গেল ট্রেনটা, দেখা যাচ্ছে না ওদের। উঠে বসল রানা।

    ‘ওরা বুঝে নেবে আমরা পাড়ি জমিয়েছি এই ট্রেনে করেই। কিছু না, সামনের স্টেশনে শুধু একটা ফোন করে দিলেই হাতকড়া লাগিয়ে দেবে রেলওয়ে পলিস।’

    ‘আগে হাতের কাচে টেলিফোন পেতে হবে না ওদের?’

    নিশ্চিন্ত মনে রাকস্যাক খুলে খাবার বের করতে শুরু করেছে গিলটি মিয়া।

    ‘পরের তিনজন পুলিসের লোক হলে আর ফোন পর্যন্ত পৌঁছতে হবে না, গাড়িতে পৌঁছে ওয়্যারলেসে খবর দিলেই চলবে। যাই হোক, আগে খেয়ে নেয়া যাক, তারপর ভেবে বের করা যাবে কি করা যায়।’

    আধ ডজন করে স্যাণ্ডউইচ, দুটো করে আপেল, আর সামান্য কিছু আঙ্গুর দিয়ে নাস্তা সারল ওরা।

    আউন্স দু’য়েক ব্র্যাণ্ডি ঢেলে নিল রানা ফ্লাস্কের মুখে। গিলটি মিয়া পানি খেল শুধু, এসব খেলে নাকি বমি আসে ওর। ম্যাপটা বিছিয়ে নিয়ে তার উপর ঝুঁকে পড়ল রানা।

    ‘এহ্-হে! দশ মাইল পরেই ক্যাসেলফ্রাংকো স্টেশন,’ বলল রানা। ‘দাঁড়াও, এই যে আরেকটা লাইন দেখা যাচ্ছে, ক্যাসেলফ্রাংকো ছুঁয়ে চলে গেছে ভিনসেন্যা। ওই ট্রেনে একটু জায়গা করে নিতে পারলে বোঝা যাবে সত্যিই আজ কপালটা খুলে গেছে।

    ‘শিম্পাঞ্জী না কি যেন বললেন, ওখানে গিয়ে কি করব?’

    ‘সারাদিন গা ঢাকা দিয়ে থাকব, তারপর সন্ধের পর একটা বাসে উঠে রওনা হয়ে যাব ভেরোনার পথে।’

    ‘তার মানে আর হাঁটতে হচ্ছে না। ওফ্, বাঁচালেন, স্যার। আবার যদি হাঁটতে বলতেন, তাহলেই কম্মো কাবার হয়ে গিয়েছিল আমার।’

    ‘কিছুই বলা যায় না, গিলটি মিয়া। অত খুশি হয়ো না। অবস্থা খারাপ দেখলে আবার পাহাড়ী পথ ধরব আমরা।’

    *

    নীল আর ঘিয়ে রঙের মস্ত সি.আই.টি. বাসটা থেমে দাঁড়াল বাস স্টপেজে। দশ-বারোজন যাত্রী বসে আছে ভিতরে, আরও সাত-আটজন নারী-পুরুষ বাস-শেল্টার ছেড়ে এগোল বাসের দিকে। নামল না কেউ। তীক্ষ্ণদৃষ্টিতে প্রত্যেকটা মুখ পরীক্ষা করে দেখে নিয়ে কনুই দিয়ে গুঁতো দিল রানা গিলটি মিয়ার পাঁজরে।

    উঠে পড়ল ওরা বাসে। ভেরোনার টিকেট কাটল রানা। এগিয়ে গিয়ে একেবারে ড্রাইভারের কাছাকাছি একটা সীটে বসে পড়ল দু’জন রাকস্যাক দুটো লাগেজ র‍্যাকে গুঁজে দিয়ে।

    বাসটা ছেড়ে দিতেই বিরাট একটা হাঁপ ছেড়ে রানার দিকে ফিরল গিলটি মিয়া। ফিফিস্ করে বলল, ‘ভাগ্যদেবি ছাড়েনি আমাদের, স্যার, একোনো আচে কাঁদের ওপর।

    বেলা একটা দেড়টার দিকে ভিনসেন্যায় পৌঁছে গেছে ওরা। সারাটা দিন কাটিয়েছে একটা সিনেমা হলে পর পর তিনটে ছবি দেখে। সন্ধে একটু ঘন হয়ে আসতেই বেরিয়ে এসে দাঁড়িয়েছে এই বাস-স্ট্যাণ্ডে।

    ‘ভেরোনায় পৌঁছে একটা গাড়ি চুরির চেষ্টা করতে হবে,’ বলল রানা। ‘ভাড়া নিতে গেলেই ধরা পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। রাতারাতি যদি ব্রেসিয়া পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারি, তাহলে বুঝব সত্যিই কাজের কাজ হলো।’

    ‘মিলানো পর্যন্ত সেই গাড়িতে গেলে ক্ষতি কি?’ জিজ্ঞেস করল গিলটি মিয়া।

    ‘অটোস্ট্রাডা পেরোনো মুশকিল হবে।’

    ‘সেটা আবার কি?’

    ‘ব্রেসিয়া থেকে মিলানো পর্যন্ত মোটরের রাস্তাকে অটোস্ট্রাডা বলে। টিকেট কাটতে হয় ওই রাস্তা ব্যবহার করতে হলে। দু’মাথায় পুলিসের চেক পোস্ট আছে। ধরা পড়ে যাব।’

    ‘কোনও লরীর পেচনে উটে বসলেই হয়।’

    ‘আমাদের খোঁজে আছে ওরা,’ বলল রানা। ‘সার্চ করতে পারে।’

    ‘তাহালে অন্য কোন রাস্তায় গেলেই হয়। আর রাস্তা নেই?’

    ‘আগে গাড়ি তো একটা সংগ্রহ করি, তারপর দেখা যাবে কি করা যায়।’

    আটটা চল্লিশে থামল বাস ট্যাভারনিল বাস-স্টপেজে। গোলমালের জন্য মনে মনে তৈরি ছিল ওরা, কিন্তু এতই আকস্মিকভাবে ঘটল ব্যাপারটা যে রীতিমত চমকে উঠল দু’জন।

    বাস-স্টপেজে আলো ছিল না, কাঁচের জানালা দিয়ে বাইরে চেয়ে বাসের ভিতরের আলোয় নিজেরই ছায়া দেখতে পাচ্ছিল রানা। বাইরেটা অন্ধকার।

    দরজা খুলে গেল, ক্র্যাশ-হেলমেট পরা একজন মোটরসাইকেল সার্জেন্ট দাঁড়াল সেখানে এসে। পিঠে ঝুলানো অটোমেটিক কারবাইন, ডান হাতটা ওয়েইস্ট-হোলস্টারে রাখা রিভলভারের বাঁটের উপর। মুহূর্তে ফ্যাকাসে হয়ে গেল গিলটি মিয়ার মুখটা।

    প্রত্যেকটা প্যাসেঞ্জারের মুখের উপর দৃষ্টি বুলিয়ে স্থির হলো সার্জেন্টের চোখ দুটো রানার মুখে এসে। তারপর দেখল গিলটি মিয়াকে।

    ‘এই সেরেচে!’ ঠোঁট না নড়িয়ে বলল গিলটি মিয়া।

    ‘বোঝা যাচ্ছে, কপালটা খুব ভাল আজ!’ টিটকারির সুরে বলল রানা।

    ‘দিনটা ভাল যাবে বলেচি, স্যার,’ রেগে গেল গিলটি মিয়া। ‘রাতের কতা তো বলিনি!’

    ‘আমি বলছি। রাতটাও ভাল যাবে। তুমি শুধু আমার ইঙ্গিতের অপেক্ষায় থেকো।’

    ‘আপনারা দয়া করে বাইরে আসুন,’ তীক্ষ্ণকণ্ঠে বলল সার্জেন্ট।

    বোকার মত চেয়ে রইল রানা ওর দিকে।

    ‘আমাকে কিছু বলছেন?

    ‘আপনাদের দু’জনকে। একটু বাইরে আসুন, সিনর।’

    ‘কেন? কি ব্যাপার!’ যেন আকাশ থেকে পড়ল রানা।

    আর সব প্যাসেঞ্জার হাঁ করে চেয়ে আছে ওদের দিকে। ড্রাইভার ঘাড় ফিরিয়ে দেখছে সার্জেন্টকে, চোখে-মুখে অস্বস্তি। ওর বাসের ভিতর কোন গোলমাল হোক সেটা ও চায় না।

    ‘আপনাদের কাগজপত্র দেখতে হবে,’ বলল ধৈর্যের প্রতিমূর্তি সার্জেন্ট। ‘নেমে আসুন।’

    হতাশ ও বিরক্ত ভঙ্গিতে কাঁধ ঝাঁকাল রানা, উঠে দাঁড়িয়ে রাকস্যাকটা নামাল, ওটা পরতে পরতে বলল, ‘তোমারটা হাতেই রাখো, গিলটি মিয়া। এই ব্যাটাকে কাবু করতে হতে পারে। তৈরি থেকো।’

    বাস ড্রাইভার চিৎকার করে প্রশ্ন করল, ‘কত দেরি হবে আপনাদের? এমনিতেই লেট হয়ে গেছি।’

    ‘এদের জন্যে অপেক্ষা করবার দরকার নেই,’ বলল সার্জেন্ট। ‘তুমি রওনা হতে পারো।’ কথাটা বলেই রাস্তায় নেমে দাঁড়াল সে, রানাকে উদ্দেশ করে বলল, ‘জলদি!’

    বুঝতে কিছুই বাকি রইল না রানার। গিলটি মিয়ার দিকে চেয়ে হাসল অভয়-হাসি। এগোল দরজার দিকে।

    রাস্তায় নেমে কালো হয়ে গেল গিলটি মিয়ার মুখ। আরও দু’জন সার্জেন্ট দাঁড়িয়ে। একজনের হাতে কারবাইন।

    ‘এই সেরেচে! এরা দেকচি তিনজন!’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমাসুদ রানা ০৬৩-৬৪ – গ্রাস
    Next Article মাসুদ রানা ০৩৩ – বিদেশী গুপ্তচর – ১

    Related Articles

    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৩৮৫-৩৮৬ – হ্যাকার (দুই খণ্ড একত্রে)

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫৬ – টপ টেরর

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫৪ – নরপশু

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫৩ – ধর্মগুরু

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫২ – কালো কুয়াশা

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫১ – মায়া মন্দির

    July 22, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }