Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মাসুদ রানা ০৩৪ – বিদেশী গুপ্তচর – ২

    কাজী আনোয়ার হোসেন এক পাতা গল্প154 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    বিদেশী গুপ্তচর – ২.৮

    আট

    চোখ মেলল রানা।

    প্রথমে কিছুক্ষণ কিছুই দেখতে পেল না সে, তারপর দেখতে পেল গিলটি মিয়ার উদ্বিগ্ন ফ্যাকাসে মুখ। উপুড় হয়ে ঝুঁকে রয়েছে গিলটি মিয়া ওর উপর।

    ‘আর কোথাউ লেগেচে, স্যার?’ রানাকে চোখ মেলতে দেখে খানিকটা আশ্বস্ত হলো সে।

    নিজের অজান্তেই হাতটা চলে এল রানার কপালে। ভেজা! রক্ত! ধড়মড়িয়ে উঠে বসল রানা।

    ‘নড়বেন না, স্যার!’ বিচলিত হয়ে উঠল গিলটি মিয়া। ‘আর কোথাউ লেগেচে?’

    ‘না,’ ধরা গলায় বলল রানা। ‘কোন পাথরের টুকরো ছুটে এসে লেগেছিল মনে হচ্ছে। হঠাৎ আকাশের দিকে চাইল। ‘কোথায় গেল ওটা?’

    ‘উই উদিক গিয়ে নেমে পড়েচে শালা। দেখাচ্চি। দাঁড়ান, আগে রক্ত পড়াটা বন্ধ করে নিই।

    রাকস্যাক থেকে ফার্স্ট-এইড কিট বের করল গিলটি মিয়া ব্যস্ত হাতে। পানির ফ্লাস্ক নিয়ে এল। কপালটা ধুয়ে পরিষ্কার করতেই সব পানি শেষ করে ফেলার উপক্রম করল গিলটি মিয়া। বারণ করল রানা।

    ‘সব পানি শেষ কোরো না, গিলটি মিয়া। আমার তো ব্র্যাণ্ডি আছে। তুমি শেষে ছাতি ফেটে মরবে।’

    ‘বেশি কতা বলবেন না, স্যার,’ পুরো ডাক্তারী ভঙ্গি নিয়ে নিয়েছে গিলটি মিয়া। ‘শেষ হয়ে গেলে কোন পাহাড়ী ঝর্ণা থেকে ভরে লিতে কতক্ষণ?’

    ‘পথে কোন ঝর্ণা না পড়লে?’

    ‘আবার কতা বলে!’ রেগে উঠল গিলটি মিয়া। সবটুকু পানি দিয়ে রানার কপাল ধুয়ে ফার্স্ট-এইড কিট হাতড়াচ্ছে সে। ‘কি আচে? দু’পাঁচদিন পানি না খেলে মরে না মানুষ। নিন, এবার চোখ বুজে দাঁতে দাঁত কেমড়ে ধরুন।’

    দুই মিনিট পর রানাকে ছেড়ে দিয়ে কয়েক পা পিছিয়ে গিয়ে গম্ভীর মুখে পরীক্ষা করল সে নিজের হাতের কাজ, তারপর হাসল সন্তুষ্ট চিত্তে।

    ‘লেখাপড়া করলে বিরাট সিবিল সার্জেন্ট হতে পারতুম, স্যার। হাতের কাজে খুঁত পাবেন না কোন।’

    ইলাস্টোপ্লাস্ট টিপে ব্যথার পরিমাণ অনুভব করবার চেষ্টা করল রানা, তারপর বলল, ‘ভেরি গুড। এবার বলো দেখি কি হলো ব্যাপারটা? ভাগল কেন ব্যাটারা?’

    ‘ভাগবে না মানে? না ভেগে উপায় আচে? ডাইভার ব্যাটা একা মানুষ, পেলেন চালাবে, না আক্রমণ করবে?’

    ‘রিক্‌কির কি হলো?’

    ‘ও ব্যাটা তো আপনার এক গুলিতেই শেষ। বোম ফেলার পরপরই ও-ও তো পড়েচে পেলেন থেকে। ভাগ্যিস আমার ঘাড়ে পড়েনি! পেলেনটা সরে গেচিল ততক্ষণে। ওই দেকুন ঘাড় মটকে পড়ে আচে কি রকম।’

    বিশ পঁচিশ ফুট নিচে ভাঙাচোরা বেকায়দা ভঙ্গিতে শুয়ে আছে রিকি। লাল হয়ে রয়েছে শার্টের বুক-পকেট। নিষ্প্রাণ খোলা চোখ চেয়ে আছে আকাশের দিকে নির্নিমেষে।

    ‘আর উই যে, ওখানে নেমেচে পেলেনটা। দেকতে পাচ্ছেন না? আমার আঙুল সোজা তাকান। উ…ই যে!’

    দেখতে পেল রানা। প্রায় আট-দশ মাইল দূরে একটা বিচ্ছিন্ন ফার্ম-হাউসের প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে রয়েছে হেলিকপ্টার। খুব সম্ভব ওখানেই আডি গেড়েছে সিলভিও। খেলনার মত বাড়িটার সামনে মনে হচ্ছে কয়েকটা পিঁপড়ে হেঁটে বেড়াচ্ছে।

    বিনকিউলারটা চোখে লাগাল রানা। এক লাফে অনেক কাছে চলে এল বাড়িটা। অ্যাডজাস্টিং নব ঘুরিয়ে পরিষ্কার করে নিল রানা দৃশ্যটা। দরজার গায়ে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে লুইসা পিয়েত্রো। হেলিকপ্টারের দিকে চেয়ে রয়েছে সে। একটু পাশ ফিরে কপ্টারটার দিকে চাইল রানা। ওখানটায় বেশ ভিড়। হাত নেড়ে কি যেন বলছে হেলমেট পরা পাইলট। মাথা নাড়ল সিলভিও। গিয়ান এবং পপিনিকে চিনতে পারল রানা ভিড়ের মধ্যে, বাকি সবাই অচেনা। কিছু একটা প্রশ্ন করল সিলভিও। আঙুল দিয়ে সোজা রানার দিকে দেখাল পাইলট, হেলমেটটা খুলে হাতে নিল, দুই হাত একত্র করে দ্রুত ফাঁক করল কথা বলতে বলতে। রানা বুঝল গ্রেনেডের বর্ণনা হচ্ছে।

    আবার মাথা নাড়ল সিলভিও। তারপর ঝট করে ফিরল গীয়ানের দিকে। সংক্ষেপে কয়েকটা আদেশ দিল সে, একবার হাত তুলে দেখাল এই পাহাড়ের দিকে, তারপর ঘুরে হাঁটতে শুরু করল বাড়িটার দিকে। ওর পিছু পিছু পাইলটও চলল বাড়ির দিকে। ব্যস্ত হয়ে উঠল বাকি কয়জন। দু’জন ছুটে গেল ফার্ম- হাউসের পাশেই আর একটা ঘরের সামনে। দরজা দু’পাট হাঁ করে খুলে ঢুকে গেল ভিতরে। কয়েক সেকেণ্ড পর বেরিয়ে এল দুটো গাড়ি। টপাটপ উঠে পড়ল সাতজন, যে যেটায় পারল। সাঁ করে গেট দিয়ে বেরিয়ে এল গাড়ি দুটো, উঁচু-নিচু পথ পেরিয়ে উঠে এল বড় রাস্তায়, তারপর দ্রুতবেগে রওনা হলো এই পাহাড়ের উদ্দেশে।

    ‘এত কি দেকচেন, স্যার?’ জিজ্ঞেস করল গিলটি মিয়া।

    ‘রওনা হয়ে গেল ওরা। চামড়ার খোলের ভিতর রেখে দিল রানা বিনকিউলার। ঘণ্টা দু’য়েক লাগবে ওদের এখানে পৌঁছতে। চলো এগিয়ে থাকা যাক।’

    ‘কোতায়?’

    ‘আপাতত ওরা যেখানটায় গাড়ি রেখে হাঁটতে শুরু করবে সেইখানে পৌঁছতে হবে আমাদের।’

    ‘এই জকম নিয়ে পারবেন অতটা হাঁটতে?’

    ‘পারতেই হবে। এছাড়া আর কোন উপায় নেই। ধরা পড়লে হাটুরে কিল খেয়ে মরতে হবে। নয়জন আসছে ওরা। চলো নামতে শুরু করি।’

    পাহাড় থেকে নিচে নামতে লাগল দশ মিনিট। এবড়ো- খেবড়ো পাথুরে জমির উপর দিয়ে এগোল ওরা পশ্চিম দিকে, ফার্ম-হাউসটা লক্ষ্য করে। মন্থর গতিতে এগোচ্ছে ওরা ঝোপ- ঝাড় আর পাথরের চাঁই এড়িয়ে। আধঘণ্টা একটানা হেঁটে টের পেল রানা কী অসাধ্য সাধনে লেগেছে সে। মাথাটা ঘুরছে। আর কতক্ষণ লাগবে বড় রাস্তায় পৌঁছতে কে জানে! এভাবে আর বেশিক্ষণ হাঁটা সম্ভব নয় ওর পক্ষে।

    খাড়াই বেয়ে উপরে উঠলে দেখা যায় ফার্ম-হাউসটা, নিচে নামলে অদৃশ্য হয়ে যায়। দূরত্ব এখন সাত মাইল। রাস্তার বেশ কাছাকাছি এসে গেছে ওরা নিশ্চয়ই, এবার ধীরে ধীরে বামদিকে এগোনো দরকার। আরও আধঘণ্টা চলবার পর আবার একটা খাড়াই বেয়ে উঠতে শুরু করল ওরা। খুবই সতর্কতার সাথে এগোচ্ছে ওরা এখন, মাঝে মাঝেই থেমে দাঁড়িয়ে কান খাড়া করে শুনবার চেষ্টা করছে গাড়ির এঞ্জিনের শব্দ। উঁচু জায়গায় এসে রাস্তা দেখতে পেল রানা, কিন্তু ঢাল বেয়ে নামতে গিয়েই ঝপ করে বসে পড়ল।

    বাম পাশে পাহাড়ের গোড়ায় দাঁড়িয়ে আছে দুটো গাড়ি। পাহাড়ের গা বেয়ে উপরে উঠে যাচ্ছে সাত-আটজন লোক। ঘুরপথে না এসে সরাসরি এলে ঠিক ওদের মুখোমুখি পড়ত ওরা।

    গীয়ানকে দেখা গেল বসে আছে গাড়ির কাছে। পাহারা দিচ্ছে।

    ‘আড়ালে আড়ালে নেমে যেতে হবে আমাদের।’ চাপা গলায় বলল রানা। ‘আগে এই ব্যাটারা পাহাড় ডিঙিয়ে নিচে নামতে শুরু করুক, তারপর। একটা গাড়ি অকেজো করে দিতে হবে। তার আগে কাবু করতে হবে গীয়ানকে। কিন্তু বেশিদূর তো নামা যাবে না এই ঢাল বেয়ে। শেষের তিরিশ গজ একেবারে ফাঁকা, একটা ঝোপ নেই। একবার পিছন ফিরে চাইলেই…’

    ‘গুলি খাবে, আবার কি?’ বলল গিলটি মিয়া। ‘এই মোটা মরলে আমাদের কোন ক্ষতি আচে?’

    ‘আওয়াজ হবে। ফিরে আসবে ওই ব্যাটারা কি হলো দেখতে।’

    ‘ততক্ষণে আমরা ভাগলওয়া!’ হাসল গিলটি মিয়া। ‘আমাদের অত তাড়াহুড়ো কিসের? যাক না ব্যাটারা দুটো পাহাড় ডিঙিয়ে, তারপর জিরিয়ে-টিরিয়ে নিয়ে নামব আমরা ধীরে-সুস্তে।’

    কথাটা ঠিক। রাজি হয়ে গেল রানা।

    পাশের পাহাড়ের মাথায় উঠেই বসে পড়ল পপিনি। ঝোপের আড়ালে আরও একটু ভাল করে গা ঢাকা দিল রানা ও গিলটি মিয়া। এখান থেকে গজ পঞ্চাশেক হবে। আরও একজন উঠল চূড়ায়। বিরক্ত ভঙ্গিতে থুতু ফেলল পপিনি।

    ‘এত লোক একসাথে কষ্ট করে কোন লাভ আছে?’ বলল পপিনি। পাইলট বলল তিনজনই মারা গেছে একসাথে। নিজের চোখে দেখেছে সে। তার পরেও এত লোক লস্কর নিয়ে যাওয়ার কি মানে হয়? অর্ধেক আমরা থেকে গেলেই তো পারি, বাকি অর্ধেক যাক, নিয়ে আসুক লাল খাতাটা।’

    ‘বাজে বোকো না পপিনি,’ বকা দিল দ্বিতীয় লোকটা। ‘চীফ সাবধান হতে বলে দিয়েছে গীয়ানকে। মারা না-ও গিয়ে থাকতে পারে। ওই লোকটা খুবই নাকি ভয়ঙ্কর, ঘোল খাইয়ে ছেড়ে দিয়েছে আমাদের ভেনিসে। চলো, নামা যাক। উফ্, আরও পাঁচটা পাহাড় ডিঙাতে হবে।’

    নামতে শুরু করল লোকটা। গজর গজর করতে করতে চলল পপিনিও। বাকি সবাই একে একে এসে পৌঁছল এবং নেমে গেল নিচে।

    ‘চলুন, স্যার, নিচের ওই সবশেষের ঝোপটার আড়ালে গিয়ে বিশ্রাম নেয়া যাক আদ-ঘণ্টা।’

    অতি সন্তর্পণে, হাত বা পায়ের ধাক্কায় একটি পাথর না খসিয়ে নেমে এল ওরা আড়াইশো গজ ঝোপ-ঝাড় আর পাথরের চাঁইয়ের আড়ালে আড়ালে। একটা বোল্ডারের উপর পাশ ফিরে বসে হাওয়া খাচ্ছে গীয়ান। কালো স্যুট আর কালো হ্যাট পরনে। একটা সিগারেট ধরিয়ে টানছে আনমনে।

    মনে মনে হিসেব করল রানা। নিঃশব্দে যদি কাজ সারা সম্ভব হয়, তাহলে আর দেরি করবার কোন মানে হয় না। কিন্তু গুলি যদি করতেই হয়, এবং ওরা যদি কারণ অনুসন্ধান করতে আসেও, সবাই আসবে না। বড়জোর একজন বা দু’জনকে পাঠাবে। তাদেরও গাড়ির কাছে পৌঁছতে লাগবে কমপক্ষে ঝাড়া বিশ মিনিট। ততক্ষণে একটা গাড়ি অকেজো করে দিতে পারবে ও অনায়াসে। অপরটাতে চড়ে রওনা হবে ওরা ফার্ম-হাউসের দিকে। তারপর, যদি হেলিকপ্টারটা দখল করতে পারে…

    অস্থির হয়ে উঠল রানা দশ মিনিটের মধ্যেই। প্রতীক্ষা করতে ওর ভাল লাগে না কোনদিনই। তার উপর গীয়ানের সিগারেট খাওয়া দেখে এবং ধোঁয়ার গন্ধে সিগারেটের তেষ্টা পেয়ে গেল ওর ভয়ানক। সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলল সে।

    ‘আমি চললাম, গিলটি মিয়া। তুমি এখানটাতেই থাকো। কাছাকাছি গিয়ে আমি যখন হাত তুলব, তখন একটা ঢিল মেরে ওর মনোযোগ অন্যদিকে ফেরাবার চেষ্টা করো। শেষের দশ গজ ধাওয়া করে পৌঁছতে হবে ওর কাছে।’

    গিলটি মিয়া বুঝল প্ল্যান কিছুটা পরিবর্তন করছে রানা। মাথা ঝাঁকিয়ে রাজি হয়ে গেল।

    রওনা হতে যাবে রানা, ঠিক এমনি সময় উঠে দাঁড়াল গীয়ান। পায়চারি শুরু করল গাড়ির পাশে। মাঝে মাঝে ভ্রূ কুঁচকে পাহাড়ের দিকে দেখছে। এতক্ষণে নিশ্চয়ই দ্বিতীয় পাহাড়টায় চড়তে শুরু করেছে ওরা। খানিক বাদেই দেখা যাবে ওদের। এখনও কেন দেখা যাচ্ছে না, কেন আরও দ্রুত পা চালাচ্ছে না সবাই, সেটা ভেবে নিরতিশয় বিরক্ত হচ্ছে গীয়ান। অকম্মার ঢেঁকি, খেয়ে খেয়ে খোদাই ষাঁড় হয়ে গেছে, কুঁড়ের বাদশা সব ইত্যাদি যা নয় তাই বলে গাল দিল সে কিছুক্ষণ ওদের, অস্থির পায়ে পায়চারি করল, বার বার পাহাড়ের দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করল, তারপর আবার গিয়ে বসল পাথরটার উপর। সিগারেট ধরাল আরেকটা।

    রাকস্যাকটা খুলে রেখে ক্রলিং শুরু করল রানা। দ্রুত নিঃশব্দে নেমে যাচ্ছে নিচে। থামছে। দু’একটা বিচ্ছিন্ন ঝোপের আড়ালে, বা বিক্ষিপ্ত পাথরের আড়ালে থেমে দেখে নিচ্ছে গীয়ানের মতিগতি। আবার নামছে। মনে হচ্ছে প্রকাণ্ড এক লেজ- কাটা টিকটিকি এগিয়ে যাচ্ছে শিকারের দিকে

    দশ গজের মধ্যে পৌঁছে গেল রানা। দৌড় প্রতিযোগিতার ভঙ্গিতে প্রস্তুত হলো সে- বাম পা সামনে, হাত দুটো মাটিতে। একটা হাত চট করে একবার উঁচু করেই নামিয়ে নিল।

    গুলি করল গিলটি মিয়া। খটাং করে গাড়ির গায়ে লেগে ছিটকে এসে পড়ল মার্বেলটা গীয়ানের পায়ের কাছে। চমকে গাড়ির দিকে চেয়েছিল গীয়ান, এখন অবাক চোখে দেখছে গুলিটা, পরমুহূর্তে উঠে দাঁড়াল বিপদ টের পেয়ে।

    কিন্তু ততক্ষণে দেরি হয়ে গেছে অনেক। প্রকাণ্ড এক লাফ দিয়ে ওর ঘাড়ের উপর পড়ল রানা। টাল সামলাতে না পেরে মাটিতে পড়ে গেল গীয়ান, রানা পড়ল ওর উপর। চার হাত-পা চলছে রানার সমানে।

    রানার রাকস্যাকটা মাটি থেকে তুলে নিয়ে দৌড়ে নেমে এল গিলটি মিয়া। কিন্তু সাহায্যের প্রয়োজন হলো না। ততক্ষণে পা ধরে হিড়হিড় করে টেনে আনছে রানা গীয়ানের জ্ঞানহীন দেহটা বোল্ডারের আড়ালে।

    ‘উঠে পড়ো, গিলটি মিয়া,’ বলল রানা। ‘লাল গাড়িটায়।’

    কালো গাড়িটার এঞ্জিনের বনেট খুলে ফেলল রানা, ডিস্ট্রিবিউটার ক্যাপটা খুলে হ্যাঁচকা টানে ছিঁড়ে নিয়ে এল দু’তিনটে তারসহ, মাটিতে ফেলে পা দিয়ে চেপে চুর করে দিল সেটা। বনেট নামিয়ে কি মনে করে গীয়ানের হ্যাটটা টান দিয়ে খুলে মাথায় পরল, তারপর গিয়ে বসল লাল গাড়ির ড্রাইভিং সীটে।

    বহুদূর থেকে একটা চিৎকারের শব্দ ভেসে এল। ঘাড় ফিরিয়ে দেখল রানা, দ্বিতীয় পাহাড়ের চুড়োয় দাঁড়িয়ে আর সবাইকে ডেকে রাস্তার দিকে আঙুল দিয়ে দেখাচ্ছে দু’জন লোক। দেখে ফেলেছে ওরা রানা ও গিলটি মিয়াকে। নেমে আসতে শুরু করল এবার।

    এঞ্জিন স্টার্ট দিয়ে হাসল রানা। সিগারেট ধরাল একটা।

    ‘আজ আর আমাদের ধরতে হচ্ছে না। ফার্ম হাউসে পৌঁছতে ওদের লাগবে পাক্কা আড়াই ঘণ্টা।’

    রওনা হলো ওরা। মাইল খানেক গিয়ে ভাল রাস্তায় পড়ল। বাঁক নিয়েই তুফান বেগে ছুটল ফার্ম-হাউসের দিকে। কাছাকাছি গিয়ে গতি একটু কমাল রানা।

    ‘সীট ছেড়ে নিচে নেমে বসো, গিলটি মিয়া। আমাকে দেখে ওরা মনে করবে গীয়ান ফিরছে রিপোর্ট করতে। অপ্রস্তুত অবস্থায় পাব ওদের আশা করছি।

    একগাল হেসে সীট ছেড়ে নেমে গেল গিলটি মিয়া। পিস্তলটা বেরিয়ে এসেছে ওর হাতে। মাইল খানেক গিয়ে বাঁয়ে মোড় নিল রানা। টুপিটা টেনে মুখের অর্ধেকটা ঢেকে দিয়েছে সে আগেই।

    ‘পৌঁছে গিয়েছি, গিলটি মিয়া। তুমি যেমন আছ তেমনি বসে থাকবে। আমি আগে ঢুকব বাড়ির ভিতর। পাঁচ মিনিট পর ঢুকবে তুমি। আমার কোন বিপদ হলে তুমি সাহায্য করতে পারবে। দু’জনে একসাথে বিপদে পড়া ঠিক হবে না।

    ‘ঠিক আচে। পাঁচ মিলিট পরেই বেরোব আমি নাহায়।’

    একবার ইচ্ছে করল রানার, সোজা গিয়ে হেলিকপ্টারে ওঠে। কাছেই মাঠের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে ওটা চুপচাপ। কিন্তু ইচ্ছেটা দমন করল সে। আগে এ বাড়িতে যারা আছে তাদের কাবু করে নিতে হবে।

    বাড়ির সামনে কাউকে দেখা যাচ্ছে না। বাম হাতে স্টিয়ারিং হুইল ধরে আছে রানা, ডানহাতে ওর ওয়ালথার পি. পি. কে। নিচু করে রেখেছে হাতটা।

    ঘ্যাঁচ করে ব্রেক করল রানা। তিন লাফে পেরিয়ে গেল সামনের ছোট বাগানটা।

    রানা আশা করেছিল গীয়ানকে ফিরতে দেখে দরজার কাছে এসে দাঁড়াবে সিলভিও বা আর কেউ। কিন্তু কেউ এল না। বন্ধ দরজায় কান পাতল রানা। কারও পায়ের শব্দও পাওয়া যাচ্ছে না। বুঝল প্রথম চালটা ওকেই চালতে হবে।

    হ্যাণ্ডেলে চাপ দিয়ে ঠেলা দিতেই ক্যাচম্যাচ শব্দে খুলে গেল দরজাটা। হলরূম। ঢুকে পড়ল রানা। সামনেই দোতলায় ওঠার সিঁড়ি, ডানপাশে একটা বন্ধ দরজা, সিঁড়ির পাশ দিয়ে একটা প্যাসেজ।

    আধ সেকেণ্ডের বেশি এসব দেখার সুযোগ পেল না রানা, কারণ ওর চোখ পড়ল হেলিকপ্টারের পাইলটের উপর। সিঁড়ি দিয়ে নিশ্চিন্ত মনে নেমে আসছিল লোকটা, রানাকে দেখে জমে গেছে মূর্তির মত। হাঁ হয়ে গেছে ওর মুখটা, চোখ দুটো ঠিকরে বেরিয়ে আসতে চাইছে কোটর ছেড়ে। যেন ভূত দেখতে পেয়েছে সামনে।

    ‘টু শব্দ করলেই মারা পড়বে!’ বলল রানা চাপা গলায়।

    পিস্তলটার দিকে চোখ পড়তেই হাত দুটো তুলে ফেলল সে মাথার উপর। রক্তশূন্য মুখ। ডান গালটা লাফাচ্ছে আপনাআপনি।

    ‘নেমে এসো!’ আদেশ করল রানা।

    ঠিক যেন একরাশ ডিমের উপর দিয়ে হাঁটছে এমনি সন্তর্পণে রানাকে বিন্দুমাত্র না চটিয়ে নেমে এল পাইলট।

    ‘ঘুরে দাঁড়াও,’ আবার হুকুম করল রানা।

    কান্নার ভঙ্গিতে বিকৃত হয়ে গেল লোকটার মুখের চেহারা। ওর স্থির বিশ্বাস, ঘুরলেই গুলি করবে রানা। কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল, রানার হাতের পিস্তলটা একটু নড়ে উঠতেই চোখ বুজে ঘুরে দাঁড়াল। লোকটাকে সার্চ করে দেখা গেল কোন অস্ত্র নেই ওর কাছে। তিন পা পিছিয়ে গেল রানা আবার।

    ‘আর সবাই কোথায়?’

    প্যাসেজের শেষের দিকে একটা বন্ধ দরজার দিকে আবছা ইঙ্গিত করল লোকটা।

    ‘হাঁটো। কৌশল করতে গেলেই গুলি খাবে।’

    এগোল পাইলট। প্যাসেজ ধরে কিছুদূর এগিয়ে বন্ধ দরজার সামনে এসে দাঁড়াল, হ্যাণ্ডেল ধরে চাপ দিয়ে খুলল দরজাটা, এবং পিছন থেকে রানার হাতের প্রচণ্ড এক ধাক্কায় হুমড়ি খেয়ে চার হাত-পায়ে ভর করে পড়ল গিয়ে চেয়ারে বসা সিলভিওর পায়ের কাছে।

    ‘খবরদার, কেউ নড়বে না!’ ঘরের ভিতর এক পা ঢুকে এসে বলল রানা।

    চমকে উঠল লুইসা পিয়েত্রো। জানালার ধারে বসে ব্যস্ত হাতে উল বুনছিল, থেমে গেল হাত। ঝট করে ফিরল রানার দিকে। উজ্জ্বল হয়ে উঠল চোখ দুটো।

    ‘রানা। বেঁচে আছ তুমি!’

    নিবিষ্টচিত্তে একটা ম্যাপ দেখছিল সিলভিও। জ্যান্ত, পিস্তলধারী রানাকে চোখের সামনে দেখে ফ্যাকাসে হয়ে গেল মুখটা। হাত থেকে খসে পড়ে গেল ম্যাপ। ঢোক গিলল বার দুই।

    ‘কি? ভাবতে পারোনি গ্রেনেড খেয়েও এখানে এসে হাজির হতে পারি, তাই না?’ হাসিমুখে জিজ্ঞেস করল রানা সিলভিওকে। ‘মৃত্যু-ভয় আসছে, সিলভিও?’

    ‘গ্রেনেড?’ তাজ্জব হয়ে গেল লুইসা। ‘গ্রেনেড ছুঁড়েছিল ওরা তোমার ওপর? তাই কপালটা কাটা দেখছি?’ তীব্রদৃষ্টিতে চাইল লুইসা সিলভিওর দিকে। ‘সিলভিও। তুমি হুকুম দিয়েছিলে গ্রেনেড ছোঁড়ার? কি কথা দিয়েছিলে তুমি আমাকে?’

    ‘চুপ করো লুইসা,’ ধমকে উঠল সিলভিও। ‘পুরুষ মানুষের কথার মধ্যে কথা বলোনা।’

    ‘পুরুষ, না কাপুরুষ?’ ফোঁস করে উঠল লুইসা।

    লুইসার কথায় কর্ণপাত না করে রানার দিকে ফিরল সিলভিও।

    ‘আপনার সাথে কথা আছে আমার। আপনি এদেশ থেকে বোরোতে পারবেন না। প্রত্যেকটা রাস্তায় পাহারা বসেছে। পুলিস খুঁজছে আপনাকে হন্যে হয়ে, প্রত্যেকটা বর্ডার টাউনে স্পেশাল গার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আজ হোক বা কাল হোক, ধরা আপনাকে পড়তেই হবে। আমার সাথে যদি একটা সমঝোতায় আসেন…’

    ‘তোমাকে সমঝে নিয়েছি, আর কোনরকম সমঝোতায় আসার বিন্দুমাত্র আগ্রহ আমার নেই।

    ‘বইটা ফেরত দিয়ে দিন, সিনর মাসুদ রানা। যত টাকা চান, কিনে নেব ওটা আমি আপনার কাছ থেকে।’

    ‘টাকার চেয়েও বড় দু’একটা জিনিস এখনও এই পৃথিবীতে আছে, সিলভিও। নোট বইটা পাচ্ছ না তুমি, কাজেই ও-নিয়ে বাজে বকে লাভ নেই। ‘

    ‘কুনো অসুবিদে নেই তো, স্যার?’ দরজার বাইরে থেকে জিজ্ঞেস করল গিলটি মিয়া। ‘সব ঠিকঠাক?’

    ‘এখানে কোন গোলমাল নেই,’ সিলভিওর উপর থেকে চোখ না সরিয়েই জবাব দিল রানা। ‘কিন্তু বাড়িতে আর কেউ আছে কিনা দেখার সুযোগ পাইনি। তুমি একপাক ঘুরে দেখো। যদি কাউকে দেখতে পাও, একবার প্যাঁচার ডাক ডেকে তাকে বন্দী করে নিয়ে আসবে এখানে। আর যদি বিপদে পড়ো, দু’বার ডাকবে ডাকটা। বুঝতে পেরেছ?’

    ‘নিচ্চয়। চললুম, স্যার।’

    ‘আর একটা কথা। শক্ত দড়ি পেলে নিয়ে এসো খানিকটা। ‘পেয়ে যাব, স্যার। আমি থাকতে কোন চিন্তা নেই আপনার। পাইলটটা জড়োসড়ো ভঙ্গিতে উঠে দাঁড়িয়ে ভয়ে ভয়ে একবার রানা আর একবার সিলভিওর মুখের দিকে চাইছে। কোজন বেশি ভয়ঙ্কর বুঝে উঠতে পারছে না বোধহয়।

    ‘কান পেতে রানার মুখে বাংলা কথা শুনছিল লুইসা, বলল, ‘বড় মিষ্টি ভাষা তো! যাই হোক, এখন কি করবে আমাদের? মেরে ফেলবে?’

    ‘বেঁধে রেখে চলে যাব। তোমাদের লোকজন এসে যাবে কিছুক্ষণের মধ্যে, খুলে দেবে ওরা।’

    ‘কিন্তু তাহলে পালাবে কি করে?’

    ‘হেলিকপ্টারটা নিয়ে উড়ে চলে যাব।’

    মড়ার মত ফ্যাকাসে হয়ে গেল সিলভিওর মুখ। বলল, ‘গুল মারছ! চালাতে পারবে না তুমি ওটা।’

    ‘সেটা নিজের চোখেই দেখতে পাবে।’

    ‘কিন্তু এদের তুমি চেনো না রানা,’ বলল লুইসা। ‘এরা বড় ভয়ঙ্কর। করতে পারে না এমন কাজ নেই। যতদিন বেঁচে থাকবে মৃত্যু-পরোয়ানা ঝুলবে তোমার মাথার ওপর। তার চেয়ে নোট বইটা দিয়ে দিলে ভাল হত না? তোমার নিজের দেশের ব্যাপার তো নয় এটা। আমি তোমার ভালর জন্যেই বলছি, রানা। দিয়ে দাও ওটা, প্লীজ!’

    ‘আমার মঙ্গল কামনার জন্যে অসংখ্য ধন্যবাদ, লুইসা। কিন্তু বহু দস্যুদলের বহু মৃত্যু পরোয়ানা এখনও ঝুলছে আমার মাথার ওপর, সুযোগ পেলে তারাও ছাড়বে না আমাকে। কিন্তু ওসব পরোয়া করি না। করলে ইঁদুরের গর্তে লুকিয়ে থাকতাম। নোটবইটা ফেরত দেয়ার প্রশ্নই ওঠে না।’

    ‘কিন্তু তুমি এক বিদেশী গুপ্তচর, ওটা ভারতে পৌঁছে দিলে তোমার কি লাভ, রানা?’

    ‘তোমাদের কি ক্ষতি শুনি?’

    ‘পিয়েত্রো গ্লাস ফ্যাক্টরির নাম মুছে যাবে পৃথিবী থেকে। শুধু ভারতেই নয়, গোটা ইউরোপ জুড়ে যে বিরাট ব্যবসা গড়ে উঠেছে গত দশ বছর ধরে, ধূলিসাৎ হয়ে যাবে সেটা। নোট বইটা উদ্ধার করতে না পারলে দল থেকে বের করে দেয়া হবে সিলভিওকে।’

    কিছুতেই হাসি সংবরণ করতে পারল না রানা। হেসে উঠে বলল, ‘ছেলেমানুষের মত কথা বলছ, লুইসা। তোমাদের কাছে ব্যাপারটা যতখানি গুরুত্বপূর্ণ মনে হচ্ছে, আমার কাছে মোটেই তা মনে হচ্ছে না। দশ বছর ধরে বে-আইনী ব্যবসা করে অঢেল টাকা করেছ তোমরা, এখন এ ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেলে তোমরা পথে বসবে না। আর দল থেকে যদি সিলভিওকে বের করে দেয়, সেটা ওর জন্যে শাপে বর হবে। মহা বাঁচা বেঁচে যাবে ও। কাজেই আমি তোমাদের কোন ক্ষতি দেখতে পাচ্ছি না। শুধু দেখতে পাচ্ছি টাকা আর ক্ষমতার লোভে তোমরা কত নিচে নামতে পারো। জুলি মাযিনিকে খুন করতে বাধেনি তোমাদের, অনিলকে খুন করতে বাধেনি, জবাই করেছ তোমরা স্টেফানো মন্টিনির মত একজন মহৎপ্রাণ আত্মভোলা স্পোর্টসম্যানকে, এখান পর্যন্ত তেড়ে এসেছ আমাদের দু’জনকে খুন করতে। যাবার আগে তোমাদের এই মেয়েলী চেহারার মেনীমুখো ভাইটার বুকের ভেতর একটা বুলেট ঢুকিয়ে দিয়ে যেতে পারলে আমি খুশি হতাম। কিন্তু একজন অসহায় নিরস্ত্র, পরাজিত লোককে হত্যা করতে বাধছে আমার। কিন্তু তোমাদের তো বাধেনি? বিশেষ করে তুমি কি করে এই নির্বিচার হত্যাকাণ্ড সমর্থন করলে, ভাবতে অবাক লাগছে। এতকিছুর পরেও কি করে ওকালতী করছ ভাইয়ের হয়ে? তোমার প্রতি আমার দুর্বলতা আছে, কিন্তু তাই বলে তোমার অন্যায় আবদার রক্ষা করব, তা ভেবো না। কিছুতেই দেব না আমি এ নোটবই।’

    রানার তীক্ষ্ণ তিরস্কারে স্তব্ধ হয়ে গেল লুইসা। ফ্যাকাসে হয়ে গেছে মুখটা। কয়েক সেকেণ্ড কোন জবাব খুঁজে পেল না, তারপর মৃদু কণ্ঠে বলল, খুন-খারাপীর পেছনে কোনদিনই আমার সমর্থন ছিল না। এখনও নেই। তোমার বন্ধুর মৃত্যুতে আমি সত্যিই দুঃখিত।’

    গিলটি মিয়া তার কামান হাতে ঢুকল ঘরে। অপর হাতে একগোছা পাকানো দড়ি।

    ‘কেউ নেই, স্যার। একেবারে ফাঁকা।

    ‘ঠিক আছে। এবার বেঁধে ফেলো সব ক’টাকে। জলদি।’

    পাইলট কোন আপত্তিই করল না, কিন্তু সিলভিওর দিকে এগোতেই এক লাফে চেয়ার ছেড়ে উঠে কণ্ঠনালী টিপে ধরল সে গিলটি মিয়ার। এরকম একটা ঘটনার জন্যে প্রস্তুত ছিল রানা। বিদ্যুৎবেগে এগিয়ে এল সে, বাম হাতে প্রচণ্ড এক ঘুসি মারল সিলভিওর থুতনির নিচে। চোখ কপালে উঠল সিলভিওর, হাত ছুটে গেল কণ্ঠনালী থেকে, শরীরটা ঘুরে গেল একটু। ধাঁই করে পিস্তলের বাঁট পড়ল সিলভিওর মাথায়। ধড়াস করে পড়ল মেঝেতে জ্ঞান হারিয়ে।

    ‘এবার বাঁধো।’ হুকুম করল রানা।

    প্রেমিক রানার এই ভয়ঙ্কর রূপ বোধহয় স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারেনি লুইসা। ওর আক্রমণের ক্ষিপ্রতা আর প্রচণ্ডতা এক সেকেণ্ডের জন্যে বিহ্বল করে দিল ওকে। নিজের ভাইয়ের উপর আঘাত পড়তে দেখে সহ্য করতে পারল না, ঝট করে মুখ ফিরাল জানালা দিয়ে বাইরে, পরমুহূর্তে আড়ষ্ট হয়ে গেল।

    এই হঠাৎ আড়ষ্টতা নজর এড়াল না রানার। নিঃশব্দ পায়ে এগিয়ে যাচ্ছিল, এমনি সময় বাইরের দিকে চেয়েই কথা বলে উঠল লুইসা। কণ্ঠস্বরটা ভাবলেশহীন।

    ‘তোমার একটু তাড়াতাড়ি করা দরকার রানা। ফিরে আসছে ওরা।’

    দ্রুতপায়ে জানালার ধারে এসে দাঁড়াল রানা। দেখা গেল সত্যিই একটা ছাত খোলা গাড়ি আসছে এইদিকে ধুলো উড়িয়ে। অত্যন্ত দ্রুত এগিয়ে আসছে ওটা।

    সিলভিওকে বাঁধা শেষ করে এইদিকে এগিয়ে আসছিল গিলটি মিয়া। রানার একটা বাহু ধরল লুইসা।

    ‘আমি তোমার হাতে বন্দী হতে চাই, রানা।’

    ‘তোমাকে বন্দী করতে চাই না আমি, লুইসা।’

    ‘বাঁধবে না আমাকে?’

    ‘না। কোন বাঁধনেই বাঁধব না। তুমি মুক্ত।’

    ঘর থেকে ছুটে বেরিয়ে গেল রানা ও গিলটি মিয়া।

    হেলিকপ্টারে উঠে বাইরে মুখ বের করে দেখল রানা তীব্রবেগে ছুটে আসছে হুড খোলা গাড়িটা। ভিতরে ছয়জন যাত্রী। অনেক কাছে চলে এসেছে। খুব সম্ভব বড় রাস্তায় এটাকে থামিয়ে দখল করে নিয়েছে ওরা।

    ইনস্ট্রুমেন্ট প্যানেলে একবার চোখ বুলিয়ে নিয়ে চালু করল রানা এঞ্জিন। পিচ কন্ট্রোলের থ্রটল ঘুরিয়ে চালু করল রোটর ব্লেড।

    মাথা বের করে গাড়িটা দেখল গিলটি মিয়া। ফার্ম-হাউসের গেট দিয়ে ঢুকছে এখন ওটা। গুলি করল গিলটি মিয়া। মুহূর্তে চুর হয়ে ফেটে ঝাপসা হয়ে গেল গাড়ির উইণ্ডস্ক্রীন। প্রাণপণে ব্রেক চাপল ড্রাইভার, কয়েক ফুট স্কিড করে এগিয়ে থেমে গেল গাড়িটা।

    ডোবার ব্যাঙের মত লাফ দিয়ে নামল ছয়জন গাড়ি থেকে। পজিশন নিল যে যেখানে পারল।

    হুইল ব্রেক ছেড়ে পিচ লিভারটা উপরে টানল রানা। ধীরে ধীরে শূন্যে উঠে যাচ্ছে হেলিকপ্টার।

    গুলি করতে শুরু করল ওরা। গিলটি মিয়ার কানের পাশ দিয়ে বেরিয়ে গেল একটা গুলি। আরেকটা গিয়ে ঢুকল প্যানেলের গায়ে বসানো ঘড়ির মধ্যে। একজন টেকো লোকের কপালে সুপুরীর সমান ঢেলা তুলে দিল গিলটি মিয়া গুলি করে। কিন্তু তৃতীয় গুলির আর সুযোগ পাওয়া গেল না।

    জয়স্টিকটা সামনে ঠেলে দিয়েছে রানা, আরও খানিকটা থ্রটল দিয়ে রাডার পেডালে রেখেছে বাম পা। কোণাকুণি ভাবে উঠে গেল হেলিকপ্টার। তিন সেকেণ্ডেই ফার্ম হাউসের আড়ালে পড়ে গেল ওরা ছয়জন।

    উত্তর-পশ্চিম কোণে হারিয়ে গেল হেলিকপ্টার ছোট হতে হতে বিন্দু হয়ে গিয়ে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমাসুদ রানা ০৬৩-৬৪ – গ্রাস
    Next Article মাসুদ রানা ০৩৩ – বিদেশী গুপ্তচর – ১

    Related Articles

    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৩৮৫-৩৮৬ – হ্যাকার (দুই খণ্ড একত্রে)

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫৬ – টপ টেরর

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫৪ – নরপশু

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫৩ – ধর্মগুরু

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫২ – কালো কুয়াশা

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫১ – মায়া মন্দির

    July 22, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }