Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মাসুদ রানা ০৬৩-৬৪ – গ্রাস

    কাজী আনোয়ার হোসেন এক পাতা গল্প358 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    গ্রাস – ১৮

    আঠারো

    আরেকজন লোক জীপের পিছনটা ঘুরে এগিয়ে আসছে। হাতে ছোৱা। লাফ দিয়ে নিচে পড়েই সিধে হয়ে দাঁড়াল রানা। লোকটা নামতে দেখেনি রানাকে, এক ছুটে ওর গায়ের উপর এসে পড়ল সে। হাঁটু দিয়ে প্রচণ্ড এক গুঁতো মারল রানা লোকটার তলপেটে। ভাঁজ হয়ে গেল লোকটা, পড়ে গেল কাত হয়ে, কাটা মুরগীর মত লাফাচ্ছে দম নেবার জন্যে। আধ পাক ঘুরে জঙ্গলের দিকে ছুটল রানা। চিৎকার আর বুট জুতোর ছুটন্ত পদশব্দ ওর বিশ হাত পিছনে।

    রানার চেয়ে কম যায় না লোক দুজন, পাঁচ মিনিট প্রাণপণে দৌড়েও মধ্যবর্তী দূরত্ব একহাত বাড়াতে পারল না রানা। কিন্তু দৌড়ের সাথে সাথে চেঁচিয়ে জঙ্গল মাথায় করছে বলে লোক দুজন হাঁপিয়ে উঠল দ্রুত। মুখ বুজে প্রাণপণে ছুটছে রানা, কাজেই পিছিয়ে পড়তে শুরু করল লোক দু‘জন।

    এই প্রথম ঘাড় ফিরিয়ে পিছন দিকে তাকাল রানা। কাউকে দেখতে না পেলেও চেঁচামেচি আর ধুপধাপ বুটের আওয়াজ এগিয়ে আসছে। সামনের একটা নাদুসসুদুস গাণ্ডু বেছে নিয়ে সেটার আড়ালে গা ঢাকা দিল রানা। একটু জিরিয়ে নেয়া দরকার। উত্তেজিত কণ্ঠস্বর কাছে এগিয়ে আসছে। ঝোপ জঙ্গলের শাখা ভাঙার মট মট শব্দ পাচ্ছে রানা। প্রথম লোকটা আকাশের দিকে মুখ তুলে ছুটে গেল পাশ ঘেঁষে। কিছু বলল না রানা তাকে। লোকটার পিঠের দিকে চোখ রেখে ঝুঁকে পড়ল ও, তুলে নিল দেড় সের ওজনের একটা পাথর। দ্বিতীয় লোকটা আসছে। এসে পড়েছে। ধীরেসুস্থে গাছটার আড়াল থেকে বেরুল রানা। দাঁত বের করে নিঃশব্দে হাসছে ও। থমকে দাঁড়াল লোকটা। ঠিক নাকের সামনে দেখতে পেল রানার হাতের পাথরটা। হাত তুলে আত্মরক্ষার সুযোগও পেল না, বিস্ময়ে মুখ খুলে গেছে তার। আসন্ন চিৎকারটা বন্ধ করে দিল রানা লোকটার কপাল বরাবর পাথরের ঘা মেরে।

    ঠাঁটু মুড়ে মাটিতে পড়ে গেল লোকটা। পাথরটা আবার লোকটার চাঁদির ওপর নামিয়ে আনতে যাবে রানা, হঠাৎ সামলে নিল। নড়ছে না লোকটা, জ্ঞান হারিয়েছে। অসহায় ভঙ্গিতে কাঁধ ঝাঁকিয়ে পাথরটা ফেলে দিল।

    এক মিনিট নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে থেকে চারপাশের শব্দ শোনার চেষ্টা করল রানা। প্রথম লোকটা সামনে এগিয়ে অদৃশ্য হয়ে গেছে, তবে দূর থেকে তার চিৎকার শোনা যাচ্ছে পরিষ্কার। আরও লোকজনের আওয়াজ পাচ্ছে রানা। রাস্তার দিক থেকে আসছে সেগুলো। মোটামুটি আন্দাজ করল রানা, কমপক্ষে ষোলোজন লোক রয়েছে রাস্তার উপর।

    দিক না বদলেই আবার দ্রুত হাঁটতে শুরু করল রানা। নিঃশব্দে। লোকগুলোকে লেলিয়ে দিয়েছে বয়েড, এবং সম্ভবত বিগ প্যাটের নেতৃত্বে রানাকে খুজেঁ বের করার সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে তারা। এই মুহূর্তে একমাত্র জরুরী কাজ, ভাবছে রানা, ওদের চোখকে ফাঁকি দেয়া। কিছুতেই ধরা দেয়া চলবে না।

    কিন্তু কাজটা সহজ নয়। লোকগুলো কাঠুরে, এসব জঙ্গলের প্রতিটি ইঞ্চি তাদের নখদর্পণে। তারা কৌশলে ওকে জঙ্গলের বিশেষ একটা এলাকায় তাড়িয়ে নিয়ে যেতে চাইবে যেখানে ঘেরাও করে ওকে ধরাটা সহজ হবে। এই ফাঁদ থেকে দূরে সরে থাকতে হবে ওকে।

    শহরের কাছাকাছি এদিকের জঙ্গল তেমন ঘন নয় বলেই ব্যবসায়িক প্রয়োজনে এখান থেকে গাছ কাটা হয়নি, শুধু জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের জন্যে ডালপালাই কাটা হয়েছে৷ যে-কোন জায়গা থেকে সাধারণত জঙ্গলের বহুদূর পর্যন্ত দেখতে পাওয়া যায়। গা ঢাকা দেয়া প্রায় অসম্ভব একটা ব্যাপার বলে মনে হলো রানা। তার উপর, গায়ে রয়েছে লাল রঙের শার্ট।

    আধ ঘণ্টা পর মনে হলো কাঠুরেদের চোখকে ফাঁকি দিতে পেরেছে ও। কিন্তু হঠাৎ বেশ কাছাকাছিই গলার আওয়াজ পেয়ে বুঝতে পারল, পারেনি।

    শব্দ না করে এগোতে হচ্ছে বলে গতি বাড়াতে পারছে না। সিদ্ধান্ত পাল্টে শব্দের তোয়াক্কা না করেই দ্রুততর বেগে ছুটতে শুরু করল এবার ও। এদিকের জঙ্গল ক্রমশ উঠে গেছে পাহাড়ের দিকে।

    দশ মিনিট পর মাথায় উঠে পড়ল রানা। উপত্যকার দিকে তাকিয়ে মহীরুহে ভরাট সত্যিকার গভীর বনভূমিকে দেখতে পেল ও। ওখানে একবার পৌঁছুতে পারলে পিছনের লোকগুলোকে ফাঁকি দেবার একটা সুযোগ পেতেও পারে।

    নামতে শুরু করল রানা। যদিও কাজটা উচিত হচ্ছে কিনা সে ব্যাপারে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। গভীর জঙ্গল নিজেই একটা ফাঁদ, সেখানে প্রবেশ করা না করা নিজের ইচ্ছা, কিন্তু বেরিয়ে আসাটা অনেক সময় ভাগ্যের ব্যাপার।

    পিছনের আওয়াজ শুনে বুঝতে পারছে রানা, দূরত্ব বজায় রাখতে পারছে এখনও ও! তবে, এটা খুব একটা শুভ লক্ষণ নয়। এক ডজনের উপর বেপরোয়া লোক দীর্ঘ দৌড় প্রতিযোগিতায় নিঃসঙ্গ একজনকে শেষপর্যন্ত হারিয়ে দেবেই। লোকগুলো ওর সাথে খোশ-আলাপ করার জন্যে এত পরিশ্রম করে পিছু ধাওয়া করছে না, এ ব্যাপারে রানার মনে কোন সংশয় নেই।

    প্রতিবাদ জানাচ্ছে পা দুটোর পেশী, কিন্তু গ্রাহ্য করছে না রানা। নিক্ষিপ্ত তীরের মত নিচের গভীর জঙ্গলের দিকে নেমে যাচ্ছে। সামনের মাটির দিকে চোখ রেখে সহজতম পথ বেছে নিয়ে মোটামুটি একটা সরলরেখা ধরে ছুটছে সে।

    কিন্তু কান সজাগ আছে, পিছন থেকে ভেসে আসা আওয়াজ এখনও শুনতে পাচ্ছে রানা। কাছ থেকে ভরাট, দূর থেকে দুর্বোধ্য, আরও দূর থেকে ক্ষীণ শব্দ ভেসে আসছে। সহজে হাল ছাড়বে না বলে প্রতিজ্ঞা করেছে যেন ওরা।

    আকাশ ছোঁয়া গাছগুলো দ্রুত কাছে চলে আসছে। একশো মাইল বিস্তৃত জঙ্গলে একবার হারিয়ে যেতে পারলে খানিকটা নিশ্চিন্ত হওয়া যায়, ভাবছে রানা। হেমলক, ডগলাস ফার আর রেড সিডারের আড়ালে সাতটনী একখানা প্রকাণ্ড ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকলেও দেখতে পাওয়া সম্ভব নয়। সূর্যের আলো পাতা আর ডালের ফাঁক গলে নিচে পড়ে আলোছায়ার অদ্ভুত এক মায়া তৈরি করে রেখেছে। ঝড়ে পড়া গাছের নিচে পাতার ভিতর ভাল মত লুকালে একজন মানুষকে খুঁজে বের করা অসম্ভব। গাছের গায়ে যে-সব গহ্বর আছে তাতে ঢুকেও অদৃশ্য হয়ে যাওয়া যায়।

    প্রথম বড় ফার গাছটার কাছে পৌঁছে পিছন দিকে তাকাল একবার রানা। প্রথম লোকটা ওর কাছ থেকে দুশো গজ দূরে, বাকি সবাই তার পিছনে লম্বা একটা লাইনের মধ্যে রয়েছে। দু‘চারটে গাছকে পাশ কাটিয়ে দিক পরিবর্তন করল রানা। কিনারার দিকে জঙ্গল এখানে খুব ঘন নয়। শব্দ করা উচিত নয় মনে করে গতি কমিয়ে দিল। খানিক পরপরই দিক বদলাচ্ছে, এঁকেবেঁকে ছুটছে সামনের দিকে ওদের চোখে পড়ে যাচ্ছে কিনা দেখার জন্যে ঘন ঘন তাকাতে হচ্ছে এখন পিছনে।

    দৌড়ের গতি কমিয়ে আনার পর খানিকটা দম ফিরে পেলেও হৃৎপিণ্ডটা বুকের পাশে এমন লাফাচ্ছে, মনে হচ্ছে ফেটে বেরিয়ে যাবে। অনুসরণকারীদের অবস্থাও যে ওর চেয়ে ভাল নয় সে-কথা ভেবে কিছুটা সান্ত্বনা পাওয়ার চেষ্টা করল রানা। আরও গভীর অঞ্চলে ঢুকছে এখন ও। পিছনের সমস্ত শব্দ কখন যেন থেমে গেছে। স্বস্তির একটা ঠাণ্ডা আরাম অনুভূতি হাওয়া দিচ্ছে শরীরে। বাঁ দিক থেকে হাঁকটা ভেসে এল তখুনি, আরেকজন উত্তর দিল ডান দিক থেকে। মুহূর্তে গতি বাড়ল রানার। একটা আশঙ্কা মনে জাগতে ছ্যাঁৎ করে উঠল বুক। ছড়িয়ে পড়েছে ব্যাটারা, তিন দিক থেকে চেপে রেখেছে ওকে, এক সময় ঘিরে ফেলবে গোল হয়ে। খোলা শুধু সামনেটা।

    সূর্য ডুবতে এখনও চার ঘণ্টা দেরি আছে। ওঁদের মধ্যে অভিজ্ঞ কোনও গাইড আছে কিনা জানে না রানা। ভাবছে, বয়েডের বাহিনী সন্ধ্যা পর্যন্ত এই নিষ্ঠা বজায় রাখতে পারবে কি?

    দ্রুত একটা সিদ্ধান্ত নিল রানা। গা ঢাকা দিয়ে মূর্তিমান শত্রুতার ঢেউটাকে ওর ওপর দিয়ে বয়ে যেতে দেবে ও। গভীর হবার সাথে সাথে ঘন, প্রায় কালচে সবুজ হয়ে উঠেছে সামনের জঙ্গল। চোখ খোলা রেখেছে রানা, বেছে বের করতে চাইছে জুতসই একটা জায়গা। পঞ্চাশ গজ লম্বা আর বিশ গজ চওড়া জায়গা জুড়ে নুড়ি পাথরের একটা স্তূপ দেখল রানা, মাঝখানে খুদে একটা পাহাড়, তোবড়ানো গা নিয়ে উঠে গেছে চল্লিশ গজের মত। লুকাবার মত গর্ত অনেকগুলোই দেখতে পেল রানা পাহাড়টার গায়ে, কিন্তু প্রলুব্ধ হলো না মোটেও। শত্রুপক্ষ ওটার প্রতি ইঞ্চি পাথরে সন্ধানী দৃষ্টি না ফেলে সামনে এগোবে না, এ ব্যাপারে নিশ্চিত ও।

    ক্রমশ দূরত্ব কমছে ওদের মধ্যে। মাটিতে পড়া গাছ, গাছের গায়ের গর্ত, ঝোপ আর গাছে ঢাকা পাথরের স্তূপে লুকাবার জায়গা খুঁজতে গিয়ে প্রচুর সময় অপব্যয় 2.চ্ছে রানার। জঙ্গলের আরও গভীরে ঢুকতে সায় দিচ্ছে না মন। লংফেলোর কথা ভেবে অস্থিরতা মনের মধ্যে বাড়ছে ক্রমশ। শীলা সার্জেন্ট হ্যামিলটনের কাছে গেছে ঠিকই, কিন্তু যখন সে রওনা হয় তখনকার পরিস্থিতি তেমন গুরুতর ছিল না। তাই গে সাথে করে হ্যামিলটনকে নিয়ে লংফেলোর কেবিনে ফেরার কথা নাও ভাবতে পারে। বয়েড এবং পুসি লংফেলোর কোন ভুলের সুযোগ নিতে ছাড়বে না, সুতরাং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কেবিনে ফিরতে চায় ও। তার মানে যে ক’ইঞ্চি সামনে এগোবে সেই ক’ইঞ্চি পিছিয়ে আসতে হবে ওকে আবার কেবিনে ফিরতে হলে।

    ওর চারদিকে ফার গাছের বেড়া, প্রতিটি শাখাহীন কাণ্ডের দৈর্ঘ্য পঞ্চাশ ফিটের কম নয়। যা খুঁজছিল কপালগুণে পেয়ে গেল রানা। অপ্রাপ্ত-বয়স্ক একটা সিডার গাছ, যথেষ্ট নিচের দিকে রয়েছে শাখাগুলো। সহজেই উপরে উঠে পড়ল রানা। দুটো শাখা ছাড়িয়ে চলে গেল আরও উপরে। তৃতীয় শাখার উপর লম্বা হয়ে শুয়ে পড়ল উপুড় হয়ে। গাছের পাতা আর প্রশাখাগুলো মাটি থেকে ওকে আড়াল করে রাখবে বলে আশা করছে ও। সাবধানের মার নেই ভেবে গায়ের লাল শার্টটা খুলে গোল পাকিয়ে বুকের নিচে চেপে রাখল। এবার অপেক্ষা।

    দশ মিনিট পেরিয়ে যেতেও ঘটল না কিছু। তারপর এমন নিঃশব্দ পায়ে এল ওরা যে কোন শব্দ শুনতে পাবার আগে মৃদু নড়ে উঠতে দেখল রানা এটা ঝোপকে। পাতার ফাঁক দিয়ে উঁকি দিয়ে রানা দেখল লোকটাকে, খোলা জায়গাটার কিনারায় পৌঁছেচে সে। তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে দেখছে চারদিক। শক্ত হয়ে আছে পেশী। ঠিক সিডার গাছটার দিকে সরাসরি তাকাল একবার। আপনা-আপনি নিঃশ্বাস আটকে গেল রানার। এখন যদি উপরে তাকায়, পরিষ্কার দেখতে পাবে রানার চোখ দুটো। মুখটা সরিয়ে নেবার ঝুঁকি নিতে পারছে না রান্ন। একটু নড়লেই দৃষ্টি আকৃষ্ট হতে পারে এদিকে।

    বিশ গজ দূরে লোকটা। তার সামনে ফাঁকা জায়গা, তারপর ফার আর সিডার গাছের উঁচু বেড়া। একই জায়গায় পাথরের মূর্তির মত দাঁড়িয়ে আছে। কিছু একটা সন্দেহ করেছে, বোঝা গেল একচুল একচুল করে মাথা ঘুরিয়ে গাছগুলোর প্রতিটি ইঞ্চি তীক্ষ্ণ সন্ধানী চোখে যাচাই করছে দেখে। হঠাৎ মাথা ঝাঁকাল লোকটা। পরিষ্কার বুঝল রানা, কাউকে ইশারা করল। পরমুহূর্তে তার পিছনের জঙ্গল থেকে বেরিয়ে এসে পাশে দাঁড়াল আর একজন লোক।

    দু‘জন ফাঁকা জায়গাটার উপর দিয়ে হেঁটে আসছে অনেকটা নিশ্চিন্ত ভাবে। প্রথম লোকটার মনে কিছু একটা সন্দেহ জেগে থাকলেও, এখন আর তা অবশিষ্ট নেই বলে মনে হলো রানার।

    ঠিক সিডার গাছটার নিচে দাঁড়াল তারা।

    ‘এর নাম ঘোড়ার ডিম!’

    ‘চুপ। হয়তো কাছে পিঠেই আছে ব্যাটা।

    ‘দূর! দেখোগে যাও, পাঁচ মাইল এগিয়ে গেছে সে। গাছ থেকে ডুমুর পেড়ে খাচ্ছে। আমরা যখন ওখানে পৌঁছাব যে তখন সাত মাইল এগিয়ে গেছে। মোটকথা অযথা পা দুটোকে কষ্ট দেয়াই সার হবে।’

    ‘বিগ প্যাটকে অসন্তুষ্ট করার চেয়ে পা দুটোকে একটু কষ্ট দেয়া তবু ভাল।’

    ‘শালার ডাঁট বড় বেশি। ধরাকে সরা জ্ঞান করছে আজকাল। যাই বলো, এই ব্যাপারে ওর এত লম্ফঝম্পের কারণ ঠিক বুঝতে পারছি না।’

    ‘সহজ। বয়েড এই লোকটাকে দু‘হাতের নাগালে পেতে চায়। আর বিগ প্যাট উচ্চাভিলাষী। বুঝলে?’

    ‘দরকার নেই বুঝে। পাওয়া গেল না-বলে দিলেই তো হয়ে যায়, তোর শালা এত কুদ পাড়ার দরকার কি?’

    ‘বয়েড শুনবে না। পেতেই হবে ওকে আমাদের।’

    লোক দু‘জন বেরিয়ে গেল ফাঁকা জায়গা ছেড়ে, জঙ্গল গ্রাস করল তাদের। দূর থেকে একটা হাঁক ভেসে এল। এছাড়া চারদিক নিস্তব্ধ হয়ে গেছে। আরও পনেরো মিনিট অপেক্ষা করল রানা। তারপর নিচে নামল। শার্টটা উপরেই লুকানো থাকল।

    সোজা ফিরতি পথ না ধরে তির্যক একটা দিক ঠিক করে নিয়ে হাঁটতে শুরু করল রানা লংফেলোর কেবিনের দিকে। ওখানে পৌঁছে কি দেখবে ভাবতে বুক কাঁপছে ওর। কিন্তু পৌঁছে যদি দেখে পরিস্থিতি এখনও লংফেলোর আয়ত্তে, তাহলে—এরকম ইঁদুর তাড়া করবার জন্যে সত্যিই দুঃখ আছে বয়েডের কপালে। কিন্তু পরিস্থিতি কি এখনও তাই আছে, না থাকার কথা?

    প্রতিটি ফাঁকা জায়গায় পা দেবার আগে সন্দিহান, সতর্ক চোখে তিনটে দিক দেখে নিচ্ছে রানা। প্রচুর সময় লাগল ঠিকই, কিন্তু কারও সামনাসামনি না হয়ে কনভূমির কিনারায় পৌছে গেল ও।

    মানুষের যে কোন দলে এক-আধজন অলস লোক সবসময়ই থাকে. উঁকি দিয়ে সামনে তাকিয়ে লোকটাকে পা ছড়িয়ে বসে থাকতে দেখে ভাবল রানা। একটা গাছের গুঁড়িতে হেলান দিয়ে সিগারেট ফুঁকছে পরম নিশ্চিন্তে। পায়ে ব্যথা পেয়েছে লোকটা, এক পাটি জুতো পাশে পড়ে থাকতে দেখে ভাবল রানা -এবার ঘাড়ে ব্যথা না পেলে চলছে না ব্যাটার,

    জঙ্গলের এমন একটা কিনারা বেছে বসে আছে, যাতে লংফেলোর কেবিনে যেতে হলে যে আড়াআড়ি তেপান্তরটা পেরোতে হবে ওকে, সেটার পুরোটা তার দৃষ্টি সীমার মধ্যে পড়ে। লোকটার ওখানে বসে থাকার মধ্যে যদি বিগ প্যাটের নির্দেশ কাজ করে থাকে তাহলে বুঝতে হবে যথেষ্ট বুদ্ধি খরচ করেই জায়গাটা বাছাই করেছে লোকটা। কেবিনের দিকে ও ফিরে যায় কিনা তা দেখার জন্যে এর চেয়ে ভাল জায়গা আর হতে পারে না।

    নিঃশব্দে পিছিয়ে এল রানা। একটা হাতিয়ার দরকার। আক্রমণটা হতে হবে অকস্মাৎ এবং দ্রুত। একবার যদি লোকটা গলা ছেড়ে চিৎকার করার সুযোগ পায়, ফের দৌড় প্রতিযোগিতা শুরু করতে হবে ওকে। মোটাসোটা দেখে একটা শুকনো ডাল কুড়িয়ে নিল রানা। জঙ্গল থেকে আবার যখন উঁকি দিল ও, নতুন একটা সিগারেট ধরাচ্ছে লোকটা।

    বেশ অনেকটা ঘুরে অতি সাবধানে গাছটার পিছনে পৌঁছুল রানা। গাছটার দিকে এগোবার সময় ডান হাতে ধরা ভারি ডালটা তুলল মাথার উপর। কিসের আঘাতে ধরাশায়ী হলো জানার কোন সুযোগই পেল না লোকটা। ঘাড়ের পিছনে পড়ল ডালটা, কাত হয়ে পড়ে যাবার সময় একটা টু শব্দও করল না, আঙুলের ফাঁক থেকে পড়ে গেল জ্বলন্ত সিগারেট। ডালটা ফেলে দিয়ে লোকটার সামনে চলে এল রানা, একটা পা পড়ল সিগারেটের উপর। ঝুঁকে পড়ে দু‘হাত দিয়ে লোকটাকে ধরে টেনে নিয়ে গেল একটা ঝোপের মধ্যে, যেখানে সহজে চোখ পড়বে না কারও।

    লোকটার পাল্স দেখে নিয়ে গাঢ় খয়েরী রঙের শার্টটা ওর গা থেকে খুলে নিল রানা। ট্রাউজারের পকেটে বিশেষ কিছু পাওয়া গেল না। একটা জ্যাক-নাইফ, এগারোটা ডলার, সিগারেটের প্যাকেট, দিয়াশলাই আর কিছু খুচরো পয়সা। দিয়াশলাই আর ছুরিটা বাদে আর সব ফেলে দিল রানা। তারপর শার্টটা গায়ে চড়িয়ে দৃঢ় পদক্ষেপে জঙ্গল থেকে বেরিয়ে পড়ল ফাঁকা মাঠে।

    হিসেব মত মাইলচারেক হাঁটতে হবে লংফেলোর কেবিনে পৌঁছুতে। আধাআধি পথ পেরোবার পর একজন লোক থামিয়ে দিল ওকে। অনেক দূর থেকে দেখছে বলে ওর মুখটা দিন শেষের ম্লান আলোয় চিনতে পারল না সে। ‘ওহে! খবর কি?’

    মুখের কাছে চোঙের মত করল হাত দুটো রানা। ‘ব্যাটা ফাঁকি দিয়েছে!’

    ‘সবাইকে লংফেলোর কেবিনে যেতে বলা হয়েছে,’ চিৎকার করে জানাল লোকটা ‘বি. পারকিনসন সবাইকে ডেকেছে।

    বুকের ভিতর হৃৎপিণ্ডপটা লাফ দিয়ে উঠল রানার। কি ঘটেছে লংফেলোর কপালে? হাত নাড়ল ও, চেঁচিয়ে বলল, ‘ওখানেই যাচ্ছি আমি।’

    আবার এগোতে শুরু করল রানা। মুখটা একটু ফিরিয়ে রেখে তির্যকভাবে কেবিনের উদ্দেশ্যে হাঁটছে। প্রায় পঞ্চাশ গজ দূর দিয়ে পাশ কাটাল ওরা পরস্পরকে। পিছন ফিরে দেখছে রানা বারবার। লোকটা চোখের আড়াল হতেই দৌড়ুতে শুরু করল।

    আবছা অন্ধকারে আলোর ঝলক দেখে থামল রানা। কি করা উচিত এখন ভাবতে চেষ্টা করল। লংফেলোর অবস্থা কি হয়েছে সেটা জানতে হবে সবচেয়ে আগে, তারপর ঠিক করতে যাবে পরবর্তী কর্তব্য। কেরিনটাকে ঘুরে পিছন দিকে চলে এল রানা। নিঃশব্দ পায়ে দ্রুত কাছে এগোচ্ছে। ক্রমশ বাড়ছে লোকজনের কথাবার্তার আওয়াজ। একজন লোককে দেখল রানা, হাতে একটা হ্যাজাক লাইট। সেটা উঁচু বারান্দায় রেখে কেবিনের ভিতর ফিরে গেল সে। সন্তর্পণে এগিয়ে যাচ্ছে রানা। ঝর্ণাটার পাশে গিয়ে শুয়ে পড়ল। আর এগোনো উচিত হবে না। কেবিনের সামনে পঁচিশ ত্রিশজন লোককে দেখতে পাচ্ছে ও এখন। ঘুরঘুর করছে সবাই উঠানে। দু‘একজন করে বাড়ছে ওরা সংখ্যায়। জঙ্গল থেকে ফিরে আসছে সবাই এক এক করে। তার মানে, সংখ্যায় ওরা পঞ্চাশ জনের কম হবে না। গম্ভীর হয়ে উঠল রানা। রীতিমত বিশাল সেনাবাহিনী গঠন করছে বয়েড ওর বিরুদ্ধে।

    উপুড় হয়ে অনেকক্ষণ শুয়ে রইল রানা। আঁধার বাড়ছে চারপাশে। পুরো একটা ঘণ্টা কেটে গেল। কি ঘটছে কেবিনের ভিতর অনুমান করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হলো ও। লংফেলো, শীলা বা হ্যামিলটনের কোন চিহ্ন পর্যন্ত নেই কোথাও। উঠানে দু‘একবার দেখা গেল বিগ প্যাটকে। অত্যন্ত ব্যস্ত সে। একে তাকে ডেকে ধমক মারছে। দ্রুত ফিরে যাচ্ছে কেবিনের ভিতর।

    অবশেষে বয়েডকে নিয়ে বেরিয়ে এল রিগ প্যাট বারান্দায়। দুহাত উপরে তুলে সকলকে চুপ করার নির্দেশ দিল বয়েড। মুহূর্তে নিস্তব্ধ হয়ে গেল উঠানটা।

    রানার চারপাশে শুধু ঝর্ণার কুলকুল আর মাঝে মধ্যে ব্যাঙের ডাক ছাড়া আর কোন শব্দ নেই।

    ‘ভায়েরা আমার,’ ভাষণ দেবার ভঙ্গিতে জোরাল কণ্ঠে শুরু করল বয়েড। ‘এখানে আজ তোমরা কেন জমায়েত হয়েছ তা সবাই জানো। একজন বহিরাগত লোককে খুঁজে বের করতে হবে তোমাদের—লোকটার নাম মাসুদ রানা। তোমরা প্রায় সবাই তাকে দেখেছ ফোর্ট ফ্যারেলে বা তার আশপাশে তার মানে তাকে তোমরা দেখলেই চিনতে পারবে। এবং তাকে আমরা কেন খুঁজছি তাও তোমরা জানো, ঠিক কিনা?’

    একটা শোরগোল জাগল বয়েডের কথার সমর্থনে। আবার শুরু করল বয়েড। ‘যারা দেরি করে এসেছ, তাদেরকে জানাবার জন্যে সংক্ষেপে বলছি কি ঘটেছে। এই মাসুদ রানা লোকটা আমার বুড়ো বাবাকে নির্মম ভাবে মারধোর করেছে। যার ফলে আমার বাবাকে নিয়ে যমে মানুষে টানাটানি শুরু হয়েছে, তিনি বাঁচবেন কিনা সন্দেহ। একজন বহিরাগত লোক, ফোর্ট ফ্যারেলে পা দেবার তার একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল আমাদের কাজে অকারণে বাধা সৃষ্টি করে কিছু নগদ লাভ হয় কিনা পরীক্ষা করে দেখা। সে আমার বাবার কাছ থেকে অসঙ্গতভাবে মোটা টাকা দাবি করে, কিন্তু আমার বাবা তার দাবি মেটাতে অস্বীকৃতি জানালে সে বুড়ো মানুষটার গায়ে হাত তোলে, যার বয়স তার নিজের বয়সের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি। আমার বাবার বয়স আটাত্তর বছর। মাসুদ রানার বয়স কত হবে বলে মনে করো তোমরা?’

    বারান্দার সামনে থেকে ভিড়টা এমন শোরগোল তুলল, শুনতে শুনতে ভয়ের একটা ঢেউ উঠতে শুরু করল রানার শিরদাঁড়া বেয়ে। হাত তুলে থামাল ওদের বয়েড।

    ‘কেন তাকে আমি খুঁজছি তা এখন তোমরা সবাই জানলে, তাকে যতক্ষণ না পাওয়া যায় পুরো বেতন পাবে তোমরা, এবং প্রথম তাকে যে দেখবে সে পাবে নগদ এক হাজার ডলার।’

    উল্লাসে চিৎকার করে উঠল লোকজন। আবার হাত উঁচু করে থামতে নির্দেশ দিল বয়েড়। সবাই চুপ করতে সে বলল, ‘এছাড়া যে লোক তাকে ধরতে পারবে, সে আমার কাছ থেকে পাবে পাঁচ হাজার ডলার। নগদ।’

    আনন্দে কেউ কেউ ভিড় থেকে লাফিয়ে উঠল শূন্যে। উপর দিকে মুষ্টিবদ্ধ হাত উঠতে দেখল রানা। উত্তেজনায় কে কি করবে ভেবে পাচ্ছে না যেন। কান ফাটানো হৈ-চৈটাকে থামাবার কোন চেষ্টা করল না এবার বয়েড। হ্যাজাক বাতির আলোয় তার মুখের বাঁকা হাসিটা পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছে রানা। বুক টান করে দেখছে সে লোকজনের উল্লাস। অদ্ভুত একটা সন্তুষ্টির ছাপ ফুটে উঠেছে তার চোখেমুখে। আবার সে তার হাত তুলল।

    ক্রমশ নিস্তেজ হয়ে গেল শোরগোলটা। ‘এখন, সাময়িক ভাবে তাকে আমরা হারিয়ে ফেলেছি। কিন্তু আমরা জানি, জঙ্গলের ভিতরই আছে সে। তার সঙ্গে খাবার নেই, এবং আমি বাজি রেখে বলতে পারি ভয়ে ঠক ঠক করে কাঁপছে সে—হয়তো নিজের দোষে এ কি হলো ভেবে, কোনও গাছের নিচে একা দাঁড়িয়ে হাউমাউ করে কাঁদছে ও এখন। কিন্তু সাবধান, তার কাছে অস্ত্র আছে, আবার বাবাকে মেরেছে শুনে এখানে তাকে শায়েস্তা করার জন্যে আসি আমি, কিন্তু সে আমার দিকে রাইফেল তাক করে খুন করার হুমকি দেয়। সুতরাং, খুব সাবধানে এগোবে।’

    বিগ প্যাট বয়েডের কানের কাছে মুখ নিয়ে গিয়ে কিছু বলতে শুরু করতেই ভাষণ বন্ধ করল বয়েড। দশ সেকেণ্ড কথা শুনল সে। তারপর আবার বলতে শুরু করল, ‘আমার ভুল হয়েছে, প্রিয় ভায়েরা। তোমাদের বিগ প্যাট আমাকে এইমাত্র জানাল, বদমাশটা যখন জঙ্গলে প্রবেশ করে তখন তার কাছে রাইফেলটা ছিল না। তারমানে তোমাদের কাজটা এবার একেবারেই পানির মত সহজ হয়ে যাচ্ছে। তোমাদেরকে কয়েকটা দলে ভাগ করে দিচ্ছি আমি, তারপরই তোমরা রওনা হয়ে যাবে। তাকে যেখানে ধরবে তোমরা সেখানেই আটকে রেখে তাড়াতাড়ি খবর পাঠাবে আমার কাছে। এই ব্যাপারটা সবাই ভাল করে বুঝে নাও—ফোর্ট ফ্যারেলে তাকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা কোরো না। এই লোক ভয়ঙ্কর ধরনের ধুরন্ধর, ফস্কে বেরিয়ে যাবার হাজারটা কৌশল জানা আছে তার। তাই পালিয়ে যাবার কোন সুযোগ তাকে আমি দিতে চাই না। ফোর্ট ফ্যারেল থেকে সে যদি একবার ছুটে যেতে পারে, কখনোই তাকে আর খুঁজে পাওয়া সম্ভব নয়। ওইখানেই বেঁধে রাখবে তাকে, যতক্ষণ না সেখানে আমি পৌঁছাই। সাথে যদি তোমাদের দড়ি না থাকে তার পা ভেঙে পঙ্গু করে রাখবে, যাতে পালাতে না পারে। খানিক উত্তম মধ্যম দিলে আমি তার জন্যে চোখের পানি ফেলতে যাব না।’

    সমবেত হাসিটা নির্মম আর বীভৎস শোনাল রানার কানে।

    বয়েড় বলল, ‘ঠিক আছে, এবার দলের নেতৃত্ব ভাগ করে দিচ্ছি আমি। আমি চাই চারটে ভাগে ভাগ হয়ে যাও তোমরা—বিগ প্যাট, সোভাক, এণ্ডারসন আর ম্যাকগলের নেতৃত্বে। কেবিনের ভিতর এসো তোমরা চারজন, নকশা এঁকে দেখিয়ে দিচ্ছি আমি কিভাবে কি করতে হবে তাকে খুঁজে বের করতে হলে।

    কেবিনে গিয়ে ঢুকল বয়েড। তাকে অনুসরণ করল চার নেতা।

    দু‘মিনিট নড়ল না রানা। কেবিনের ভিতর কি হচ্ছে জানার ইচ্ছা প্রবল, কিন্তু কোন উপায়েই তা সম্ভব নয় বুঝতে পেরে হামাগুড়ি দিয়ে পিছিয়ে এল সে তারপর উঠে দাঁড়াল কেবিনের দিকে পিছন ফিরে

    নিশ্ছিদ্র অন্ধকারের ভিতর প্রবেশ করল রানা। বয়েড তার গোঁয়ার, অশিক্ষিত কাঠুরেদের ভাল করেই চেনে, ভাবছে রানা, কি বললে তাদেরকে খেপিয়ে তোলা যাবে তা সে আগে থেকেই ভেবে ঠিক করে রেখেছিল। ফোর্ট ফ্যারেল বা তার আশপাশটা ওর জন্যে এখন আর নিরাপদ নয়, যেহেতু মাথার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে পাঁচ হাজার ডলার। সারা বছরে একজন কাঠুরে নগদ রোজগার করে বড়জোর পাঁচশো ডলার। ওদের কাছে পাঁচ হাজার ডলার অনেক বেশি টাকা; বিনিময়ে একজন মানুষকে খুন করতেও পিছপা হবে না ওরা। খুনটা করার ব্যাপারে বিবেকের দংশনও পোহাতে হবে না তাদের, কারণ মিথ্যে কথাগুলো বয়েড আশ্চর্য বিশ্বাস্য ভঙ্গিতে ওদেরকে শুনিয়ে প্রমাণ করে ছেড়েছে রানা আসলেই একটা অমার্জনীয় অপরাধ করে গা ঢাকা দিয়েছে জঙ্গলে।

    কাউকে ধরে কিছু ব্যাখ্যা করে শোনালেও কোন ফল হবে না, বুঝতে পারছে রানা। ওকে একবিন্দু বিশ্বাস করবে না কেউ।

    হঠাৎ একটা কথা মনে পড়ে যেতে মনটা খুশি হয়ে উঠল রানার। গতরাতে যেখানে তাঁবু গেড়েছিল সেখান থেকে বিছানাপত্র কেবিনে নিয়ে যায়নি সে। ওদিকেই এগোল সে সাবধানে।

    তিন মিনিট হাঁটার পর ব্যাগটা নির্দিষ্ট জায়গাতেই দেখতে পেল রানা, দু‘চারটে জিনিস যা ও ব্যাগে ভরে রেখে যায়নি, কুড়িয়ে নিয়ে যথাস্থানে রাখল এক এক করে। জঙ্গলে যদি দু‘চারদিন থাকতেই হয়, ব্যাগের জিনিসগুলো একান্ত প্রয়োজন মেটাতে কাজে লাগতে পারে৷ সবই আছে এতে, তিক্ত হেসে ভাবল রানা, খাবার আর অস্ত্র ছাড়া।

    কেবিনের দিক থেকে ক্ষীণ হট্টগোলের নতুন আওয়াজ ভেসে এল। এঞ্জিন স্টার্ট নেবার শব্দ হলো ক’টা!

    ব্যাগটা কাঁধে ঝুলিয়ে কিছুক্ষণ চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল রানা। কি করবে এখন ও? কোথায় যাবে?

    ভাবতে গিয়ে এগোতে পারছে না রানা। ঢুকছে না কিছু মাথায়।

    ‘বুদ্ধি খাটাও!’ নিজেকে পরামর্শ দিল রানা, ‘নিরাপদ একটা জায়গার কথা ভাব।’

    হাজত! ওটাই একমাত্র নিরাপদ জায়গা এখন ওর জন্যে। ভাবল রানা। অবশ্য, সম্মানীয় অতিথি হিসেবে হ্যামিলটন, যদি ওকে বরণ করতে রাজি হয় তবেই।

    ঝুঁকি নিয়ে শহরের দিকে অর্থাৎ বিপদের দিকে রওনা হব? ভাবতে ভাবতে কাধ ঝাঁজিয়ে বিপদের ভয়টাকে ঝেড়ে ফেলে দিল রানা। রওনা হলো। শহরটাকে পাশ কাটিয়ে এগোনো সম্ভব নয়, আবার মাঝখান দিয়ে যাওয়াটাও উচিত হবে না। ভেবেচিন্তে একটা পথ ঠিক করল রানা, সেটা ধরেই পুলিস স্টেশনে পৌছুতে চেষ্টা করবে ও। রাস্তাটা ফোর্ট ফ্যারেলের ভিতর দিয়ে গেলেও লোকজনের যাতায়াত খুবই কম।

    দিগন্তরেখায় আধখানা চাঁদ দেখে বিরূপ হলো রানা। যতটা সম্ভব ছায়ার মধ্যে থেকে গলিপথ ধরে এগোচ্ছে ও, এখনও কোন পথিক পড়েনি ওর চোখে। পুলিস স্টেশনে পৌঁছানো সম্ভব হবে বুঝতে পেরে মনে মনে একটু অবাকই লাগছে ওর। পলিস স্টেশনের দিকে এগোবার পথে বয়েড তার কোন দলকে পাঠায়নি নাকি? আশ্চর্য লাগছে। এখন, হ্যামিলটন যদি স্টেশনে থাকে, ভাগ্য সুপ্রসন্নই বলতে হবে। আর মাত্র একশো গজ এগোলেই পৌঁছে যাবে ও।

    চোখ ঝলসানো উজ্জ্বল আলোর চোখে অন্ধকার দেখল রানা। ঘটনার আকস্মিকতায় ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল ও। টর্চটা জ্বলে উঠতেই একটা চিৎকার ঢুকল ওর কানে।

    ‘এই লোকই!’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleডেজার্ট গড – উইলবার স্মিথ
    Next Article মাসুদ রানা ০৩৪ – বিদেশী গুপ্তচর – ২

    Related Articles

    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৩৮৫-৩৮৬ – হ্যাকার (দুই খণ্ড একত্রে)

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫৬ – টপ টেরর

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫৪ – নরপশু

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫৩ – ধর্মগুরু

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫২ – কালো কুয়াশা

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫১ – মায়া মন্দির

    July 22, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }