Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মাসুদ রানা ০৭২-৭৩ – সেই উ সেন (দুই খণ্ড একত্রে)

    কাজী আনোয়ার হোসেন এক পাতা গল্প438 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সেই উ সেন – ১.১০

    দশ

    মাঝরাত। মস্ত বপু আর সারা শরীরে মণ খানেক চর্বি নিয়ে গাড়ি থেকে নামল ফ্রেঞ্চ সুরেতের উপপ্রধান কর্নেল প্যাপন। দোতলার একটা কামরায় আলো জ্বলছে দেখে লুইসা পিয়েত্রোর মুখটা ভেসে উঠল মনের পর্দায়। অমনি সারা শরীরে একটা পুলকের ঢেউ বয়ে গেল। স্ত্রী লায়নস্ ইন্টারন্যাশনালের আন্তর্জাতিক মীটিংয়ে যোগ দিতে দেশের বাইরে গেছে, এই সুযোগে সব ক’টা মহাদেশও বেড়িয়ে আসবে—এবং বাড়ি খালি থাকার সুযোগে কর্নেল প্যাপনও রোজ রাতে চুটিয়ে প্রেম করছে তার নতুন বান্ধবী লুইসা পিয়েত্রোর সাথে। সিঁড়ি বেয়ে দোতলায় ওঠার সময় মুচকি হাসল প্যাপন। আশ্চর্য খেল দেয় মেয়েটা, ঢোক গিলে ভাবল সে, শরীরও বটে একখানা, ঠিক যেন একটা ঢেউ ওঠা নদী। স্ত্রী ফিরে এলেও এ জিনিস হারানো চলবে না, অন্য একটা বাড়িতে গোপনে থাকার ব্যবস্থা করে দিতে হবে।

    করিডরে উঠে প্যাপন দেখল লুইসা পিয়েত্রোর কামরার দরজা খোলা, পর্দা ঝুলছে। অদ্ভুত একটা তৃপ্তি বোধ করল প্যাপন। ফিরতে তার যত দেরিই হোক, তার জন্যে রাত জেগে বসে থাকে মেয়েটা। ভাবল, সে-ও লুইসার কাছে সেক্স পার্টনার হিসেবে কম লোভনীয় নয়।

    পর্দা সরিয়ে বেডরূমে ঢুকল প্যাপন। বিছানা খালি, সোফায় হেলান দিয়ে বসে আছে লুইসা পিয়েত্রো। হাতে একটা মদের গ্লাস। কর্নেলকে দেখেই উঠে দাঁড়াল সে। কিন্তু সাথে সাথে টলতে শুরু করল। কর্নেলের মনে হলো, পিয়েত্রো বুঝি টলে পড়েই যাবে। দ্রুত এগিয়ে গিয়ে দু’হাত দিয়ে মেয়েটাকে ধরল সে, টেনে বুকের উপর আনল।

    ঢুলু ঢুলু চোখ মেলে কর্নেল প্যাপনকে দেখছে লুইসা পিয়েত্রো। ‘কে? কে তুমি?’ জড়িত কণ্ঠে থেমে থেমে কথা বলছে সে, ‘আমার কর্নেল প্যাপন?’ কর্নেলের বুকে মুখ ঘষতে শুরু করল সে। তারপর ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল। ‘তুমি নির্মম! তুমি নিষ্ঠুর! রাত জেগে দুশ্চিন্তায় ছটফট করি, অথচ একটা ফোন করে আমাকে শান্ত করার কথা তোমার মনে থাকে না।’

    ব্যস্তভাবে কর্নেল বলল, ‘কতবার বলেছি তোমাকে, আমার জন্যে জেগে বসে থেকো না তুমি। জানোই তো, পুলিসের চাকরি করি, ইচ্ছা থাকলেও সব সময় ফোন করা সম্ভব নয়। তুমি…’

    তুমি আমাকে ভালবাস না,’ জড়িয়ে জড়িয়ে বলল লুইসা। হাত দিয়ে কর্নেলের বুকে ধাক্কা দিয়ে তাকে সরিয়ে দিতে চাইছে। বাঁ হাতের গ্লাসটা মুখের সামনে তুলল সে। মনের দুঃখে আজ আমি মাতাল হয়েছি। তুমি যাও, আমাকে একা থাকতে দাও।

    গ্লাসে চুমুক দিতে যাচ্ছে লুইসা, কিন্তু তার হাত থেকে সেটা কেড়ে নিয়ে মৃদু শব্দে হাসল কর্নেল প্যাপন। ‘মাতাল হয়েছ, ভাল করেছ। তোমার সব দুঃখ আজ কড়ায় গণ্ডায় মিটিয়ে দেব।’ নিচু হয়ে একটা হাত লুইসার হাঁটু দুটোর পিছন দিকে নিয়ে গেল কর্নেল, আরেকটা হাত লুইসার বগলের তলা দিয়ে অপর দিকের কাঁধে তুলে দিল। মাটি থেকে শূন্যে তুলে নিল সে লুইসাকে, এগোল বিছানার দিকে। কিন্তু তার পিঠে দমাদম ঘুষি মারছে লুইসা, চেঁচাচ্ছে, ‘নামাও আমাকে, ছাড়ো আমাকে…তুমি পাষাণ, একটা খবর পর্যন্ত যে দেয় না তার সাথে শোব না

    হোঃ হোঃ হাসছে কর্নেল প্যাপন। বিছানায় শুইয়ে দিল সে লুইসাকে। সিধে হয়ে দাঁড়াল। দ্রুত কাপড় ছেড়ে দিগম্বর হতে ত্রিশ সেকেন্ডের বেশি সময় নিল না সে।

    বিছানায় গড়াগড়ি খাচ্ছে লুইসা পিয়েত্রো। প্রকাণ্ড ভুঁড়ি, কালো লোমে ঢাকা উদোম বেঢপ শরীরটা দেখে ঘৃণায় গা রী রী করে উঠল তার। বিছানায় উঠে তার পাশে মস্ত শিম্পাঞ্জীর মত উবু হয়ে বসল কর্নেল প্যাপন। গাউনের ভিতর হাত ঢুকিয়ে অন্তর্বাস টানাটানি করছে। তার মুখের উপর থাবা বসিয়ে দিল লুইসা পিয়েত্রো। পরমুহূর্তে গড়িয়ে উপুড় হয়ে শুলো।

    ‘প্লীজ, লুইসা!’ আরেদনের সুরে বলল কর্নেল প্যাপন। ‘তোমাকে পাব এই আশায় সারাদিন অপেক্ষা করেছি। এখন যদি ফিরিয়ে দাও, পাগল হয়ে যাব আমি।’

    ‘সারাদিন করেছটা কি? আমার কথা মনে পড়েনি…

    লুইসার নিতম্বে হাত রেখে কর্নেল প্যাপন বলল, ‘আরে, কি ঝামেলায় যে জড়িয়ে পড়েছি, শুনলে আঁতকে উঠবে তুমি, একনিমেষে ছুটে যাবে নেশা।

    ‘মিথ্যে কথা। আমাকে শান্ত করার চেষ্টা করছ।’

    ‘আরে না!’ কর্নেল প্যাপন দু’হাত দিয়ে ধরে চিৎ করল লুইসাকে। লুইসা বাধা দিল না দেখে খই ফুটতে শুরু করল তার মুখে। ‘একটা হত্যা ষড়যন্ত্ৰ আবিষ্কৃত হয়েছে, বুঝলে? আল কাপুর বিরুদ্ধে।

    মুহূর্তের জন্যে শক্ত হয়ে গেল লুইসার শরীর। ‘দূর, দূর!’ অবিশ্বাসের সুরে বলে উঠল সে, ‘স্রেফ গুল ছাড়ছ। তুমিই না বলো, তোমাদের কাকে ছুঁতে হলে ছয়শো সশস্ত্র গার্ডের লাশ টপকে যেতে হবে? তাকে খুন করতে চাইবে এমন পাগল কে আছে!’

    অত্যন্ত দক্ষ হাতে লুইসার কাপড় খুলছে কর্নেল প্যাপন। বলল, ‘খবরটা মিথ্যে হতে পারে না। এমন শারীরিক কষ্ট দেয়া হয়েছে যে ম্যাটাপ্যান মিথ্যে কথা বলতেই পারে না। লোকটা কাপুর পুরানো এক শত্রু, বাংলাদেশের একজন স্পাই—মাসুদ রানা। বদ্ধ একটা পাগল, তাতে কোন সন্দেহ নেই।’

    ‘দূর, বিশ্বাস হয় না…’

    বিশ্বাস না হবারই কথা।’ বলল কর্নেল। কাপড়চোপড় সরানো শেষ করেছে সে, এখন হাত দিয়ে স্পর্শ নিচ্ছে ঢেউ ওঠা নদীর।

    আধঘণ্টা পর ঘুমিয়ে পড়েছে কর্নেল প্যাপন। নাক ডাকছে। ধীরে ধীরে বিছানা ছেড়ে নামল লুইসা পিয়েত্রো। কাপড় পরার জন্যে সময় নিল না, পা টিপে টিপে বেডরূম থেকে বেরিয়ে পাশের কামরায় ঢুকল। মাঝখানের দরজাটা নিঃশব্দে বন্ধ করল সে। দ্রুত এগিয়ে গেল টেলিফোনের দিকে।

    একটা Mol।tor নাম্বার ডায়াল করল লুইসা পিয়েত্রো। অপরপ্রান্ত থেকে কারও সাড়া পাওয়া গেল না। সে জানে, অপরপ্রান্তে চালু হয়ে গেছে একটা টেপরেকর্ডার। ঝাড়া দুই মিনিট একটানা কথা বলে গেল সে। কথা শেষ করে রিসিভার নামিয়ে রাখল। তারপর দরজা খুলে পা টিপে টিপে ফিরে এল শোবার ঘরে। বিছানায় শুয়ে কর্নেলের গলা জড়িয়ে ধরল এক হাতে। লাভ নেই, জানে ও, তবু প্রার্থনা করছে মনে মনে রানার জন্যে। নিঃশব্দে ভিজে যাচ্ছে মাথার বালিশ চোখের পানিতে। সব শেষ! ঠেকিয়ে দেবে ওরা মাসুদ রানাকে। জানাজানি হয়ে গেছে সব।

    .

    প্যারিস। দূতাবাস পাড়ার একটি ছোট্ট, একতলা বাড়ি। গোটা বাড়িতে একটা মাত্র প্রাণী, সারারাত জেগে বসে আছে শোবার ঘরে। লুইসা পিয়েত্রোর মেসেজ পাবার পর থেকে সাতদিনের সিগারেট এক রাতে পুড়িয়ে ফেলেছে রূপা। প্যাকেটের শেষ সিগারেটটা ধরিয়ে সোফার উপর হেলান দিল ও। মনস্থির করতে পারছে না কিছুতেই। এখন তার কর্তব্য কি? মাসুদ রানার সাথে যোগাযোগ করে তাকে সব জানিয়ে দেশে ফিরে যেতে বলবে? লাভ নেই। আগেই ঢাকার মীটিংয়ে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে রানা, কারও কাছ থেকে কোন নির্দেশ বা অনুরোধ যেন তার কাছে না যায়, গেলে সে তা রক্ষা করবে না।

    কিন্তু লুইসা পিয়েত্রোর মেসেজ পাবার পর চুপ করে বসে থাকাও যায় না। বিপদটা অকল্পনীয়। মরার আগে সর্বনাশ যা করার করে গেছে ম্যাটাপ্যান। ইউনিয়ন কর্স এখন জানে রানা বেঁচে আছে। শুধু তাই নয়, সান্তিনো ভ্যালেন্টি ছদ্মনাম নিয়ে রোম থেকে লন্ডনে পৌঁছেছে, এবং তার উদ্দেশ্য উ সেনকে খুন করা—কিছুই জানতে বাকি নেই ওদের। এখন শুধু সময়ের প্রশ্ন, রানা ধরা পড়বেই। আর ইউনিয়ন কর্সের হাতে ধরা পড়া মানে…মানেটা স্মরণ করতে গিয়ে শিউরে উঠল রূপা।

    রানাকে সতর্ক করার চিন্তাটা মাথা থেকে সরিয়ে ফেলল রূপা। তার কথায় কান দেবে না রানা! কিন্তু হেডকোয়ার্টার থেকে যদি সরাসরি মেজর জেনারেল রাহাত খানের নির্দেশ পায়, হয়তো সিদ্ধান্ত পাল্টাবে সে। কিন্তু, ভাবছে রূপা, ঢাকার সাথে যোগাযোগ করবে কিভাবে সে? যোগাযোগ করতে গেলে ঝুঁকি নিতে হয়। ইন্টারন্যাশনাল এক্সচেঞ্জ থেকে কল বুক করলে মেসেজটা গোপন থাকবে না। উ সেন অত্যন্ত কৌশলে ফ্রান্সের সরকারী প্রশাসনকে খেপিয়ে তুলেছে রানার বিরুদ্ধে, ন্যাশনাল সুরেতের শাখা DST-এর লোকেরা নিশ্চয়ই আন্তর্জাতিক কলগুলো টেপ করার জন্যে আড়ি পাতা যন্ত্র ব্যবহার করতে শুরু করেছে এরই মধ্যে। মেসেজ পাঠাবার সময়ই হয়তো ধরা পড়ে যাবে সে। এবং ধরা পড়া মানে…আবার একবার শিউরে উঠল রূপা।

    বাংলাদেশ দূতাবাসের সাহায্য নেবে কিনা ভাবল একবার। সাথে সাথে চিন্তাটাকে বাতিল করে দিল। কঠোর ভাবে নিষেধ করে দিয়েছে ঢাকা অফিস, কোনভাবেই দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ করা চলবে না। দূতাবাসে গেলে তাকে চিনতেই অস্বীকার করবে ওরা, সাহায্য করা তো দূরের কথা।

    তাহলে?

    ভাবতে ভাবতে সকাল হয়ে গেল। দিনের আলোয় আরও প্রকট মনে হলো সমস্যাটাকে। ওর সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে বাংলাদেশ কাউন্টার ইন্টেলিজেন্সের ভবিষ্যৎ। ওর ভুল সিদ্ধান্তের ফলে রানা যদি ধরা পড়ে, রানাহীন বাংলাদেশ কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স কানা হয়ে যাবে। এর উপর নির্ভর করছে ওর নিজের জীবনও। ভাগ্য যদি প্রসন্ন না হয়, তাকেও দুনিয়ার বুক থেকে এক নিমেষে ঝরে পড়তে হবে অকালে!

    সোফা ছেড়ে উঠল রূপা। বাথরূমে ঢুকে আধঘণ্টা ভিজল শাওয়ারের নিচে দাঁড়িয়ে। মাথাটা ঠাণ্ডা হলো না তবু। দোদুল-দোল দুলছে মন। স্থির সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারছে না।

    বাথরূম থেকে সেজেগুঁজে বেরোল, কিন্তু বাইরে যাবার ব্যাপারে এখনও কিছু ঠিক করেনি। কিচেনে ঢুকে কফি তৈরি করল এক কাপ। ড্রয়িংরূমে বসে ছোট ছোট চুমুক দিয়ে শেষ করল কাপটা। দরজা খুলে বারান্দা থেকে তুলে নিল সংবাদপত্রের প্রভাত সংস্করণটা। সোফায় ফিরে এসে চোখের সামনে মেলে ধরল কাগজটা। উল্লেখযোগ্য অনেক খবরই রয়েছে, কিন্তু সবই ওর কাছে তাৎপর্যহীন লাগছে। নামিয়ে রাখল কাগজটা পাশে। একটা মাত্র নাম বাজছে কানে। বারবার তার চেহারাটা ভেসে উঠছে চোখের সামনে। মাসুদ রানা।

    বিপদ থেকে তাকে উদ্ধার করার পথ কি?

    শেষ পর্যন্ত বেলা ন’টা বেজে গেল। অস্থিরতা কাটিয়ে উঠল রূপা। যা হয় হবে, ঝুঁকিটা নিজের উপর দিয়েই নেবে সে। ফোন করবে ঢাকায়। আন- অফিশিয়াল ফোন নাম্বার জানা আছে তার, খোঁজ করলেও এই নাম্বারে মালিককে খুঁজে পাবে না কেউ কোনদিন।

    বাড়িতে তালা লাগিয়ে বেরিয়ে পড়ল রূপা। গাড়িটা গ্যারেজেই থাকল। পায়ে হেঁটে মেইন রোডে এসে হাত তুলে দাঁড় করাল ধাবমান একটা ট্যাক্সিকে। ‘জার দু নর্দে যাব,’ উঠে বসে বলল ড্রাইভারকে। স্টেশনের সম্মুখ চাতালে নেমে ট্যাক্সি ছেড়ে দিল ও। ট্যাক্সি নিয়ে ড্রাইভার অদৃশ্য হয়ে না যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করল, তারপর পায়ে হেঁটে বেরিয়ে এল স্টেশন থেকে।

    রাস্তা পেরিয়ে একটা কাফেতে ঢুকল রূপা। কাউন্টারের সামনে দাঁড়িয়ে কফি আর টেলিফোনের জন্যে একটা ধাতব চাকতির অর্ডার দিল। চাকতিটা নিয়ে কি যেন ভাবল একটু। তারপর কাউন্টারে কফি রেখে কাফের পিছন দিকে চলে গেল টেলিফোন করতে। ডাইরেক্টরী এনকোয়েরির নাম্বারে ডায়াল করে প্রশ্ন করতেই অপারেটর ওকে ইন্টারন্যাশনাল এক্সচেঞ্জের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানাল। ইন্টারন্যাশনাল এক্সচেঞ্জের নাম্বারটা মুখস্থ করতে করতে রিসিভার নামিয়ে রাখল রূপা।

    কফির দাম চুকিয়ে দিয়ে কাফে থেকে বেরিয়ে পায়ে হেঁটে একশো মিটার এগোল রূপা, রাস্তা পেরোল, তারপর আবার একটা কাফেতে ঢুকে টেলিফোন ব্যবহার করল। এবার এনকোয়েরিকে জিজ্ঞেস করল, আন্তর্জাতিক টেলিফোন কল বুক করা যায় কাছাকাছি এমন কোন পোস্টাফিস আছে কিনা। উত্তর এল, মেইন লাইন রেলওয়ে স্টেশনের মোড়ে সে-রকম একটা পোস্টাফিস আছে।

    তিন মিনিটের পথ পেরিয়ে পোস্টাফিসে পৌঁছল রূপা। সম্ভাব্য বিপদের কথা ভেবে দুরু দুরু করছে বুকের ভিতরটা। হাতের তালু ঘামছে। কিন্তু নিজের সিদ্ধান্তে অটল সে। ইতস্তত না করে রিসিভার তুলল ও। ডায়াল করে অপারেটরকে বলল, বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার একটা অভিজাত হোটেলের সাথে যোগাযোগ করতে চায় সে। হোটেলের একটা ফোন নাম্বারও অপারেটরকে জানাতে ভুল করল না। কিন্তু নাম্বারটা কার দখলে, বা যার সাথে সে কথা বলতে চায় তার নাম কি তা উল্লেখ করল না।

    এরপর শুরু হলো প্রতীক্ষার পালা। নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে আছে রূপা বুদের ভিতর। উদ্বেগে আর আশঙ্কায় গলা শুকিয়ে গেছে। বিশ মিনিট পেরিয়ে গেছে তবু কোন সাড়া নেই রিসিভারে। হঠাৎ ভয় পেয়ে গেল রূপা। মনে হলো,

    এই মুহূর্তে পোস্টাফিস থেকে পালিয়ে যাওয়া উচিত ওর। ফ্রান্সের জাতীয় সুরেতের এসপিওনাজ শাখায় (DST) ইউনিয়ন কর্সের লোকই বেশি। তারা নিশ্চয়ই আন্তর্জাতিক টেলিফোন যোগাযোগ ব্যবস্থার উপর তীক্ষ্ণ নজর রেখেছে। ঢাকায় কেউ ফোন করতে চাইলেই খবরটা জেনে যাবে তারা। ইতোমধ্যে নিশ্চয়ই জেনে গেছে। হয়তো জীপ নিয়ে রওনা হয়ে গেছে। যে-কোন মুহূর্তে পৌঁছে যাবে।

    আতঙ্কে নীল হয়ে উঠল রূপার চেহারা। কি করবে, দ্রুত ভাবছে-এমন সময় অপারেটর বলল, ‘কথা বলুন।’

    ‘আপনি কে বলছেন?’ একটানা বিচিত্র যান্ত্রিক গোলযোগের ভিতর শোনা গেল অস্পষ্ট একটা কণ্ঠস্বর।

    প্রশ্নের উত্তর দিল না রূপা, বলল, ‘আমি একজন বাঙ্গালী ভদ্রমহিলার সাথে কথা বলতে চাই। মিস নাহাসো। ওকে দিন।

    রিসিভার থেকে তীব্র ঝড়ের একটানা গর্জন আসছে, তার মধ্যে অস্পষ্টভাবে কানে এল, ‘অপেক্ষা করুন।

    তারপর ক্লিক-ক্লিক কতকগুলো যান্ত্রিক শব্দ ভেসে এল অপরপ্রান্ত থেকে, এবং ক্লান্ত একটা কণ্ঠস্বর শোনা গেল, ‘নাহাসো বলছি।’

    ‘আমি পারূ,’ জাপানী ভাষায় দ্রুত কথা বলছে রূপা, ‘শোনো, হাতে সময় কম। যা বলছি কাগজে টুকে নাও। শুরু করছি। নারার অস্তিত্ব প্রকাশ পেয়ে গেছে। রিপিট। নারার অস্তিত্ব প্রকাশ পেয়ে গেছে। একজনকে কথা বলানো হয়েছে। মরার আগে বলে গেছে সব। শেষ। লিখেছ?’

    অস্ফুট, প্রায় শোনা গেল না সোহানার কণ্ঠস্বর, ‘হ্যাঁ।’

    রিসিভার রেখে বিল মিটিয়ে পোস্টাফিস থেকে দ্রুত বেরিয়ে এল রূপা। এক মিনিটের মধ্যে মেইন লাইন স্টেশনের লোকারণ্যে হারিয়ে গেল সে।

    দু’মিনিট পর পোস্টাফিসের সামনে এসে ঘ্যাঁচ করে ব্রেক কষে থামল একটা জীপ। লাফ দিয়ে দু’জন DST-এর লোক নামল সেটা থেকে, ছুটে ঢুকে গেল দালানটার ভিতরে। সুইচবোর্ড অপারেটরের কাছ থেকে রূপার চেহারার এবং পোশাকের বর্ণনা ছাড়া আর কিছু পেল না তারা। কিন্তু এও কম পাওয়া নয়। ‘প্যারিসে শাড়ি পরা বাংলাদেশী নারী সংখ্যায় খুব বেশি নেই, সুতরাং মেয়েটাকে খুঁজে বের করতে তেমন বেগ পেতে হবে না।

    .

    ঢাকা। বাংলাদেশ কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স।

    আন্তমহাদেশীয় টেলিফোন কল রিসিভ করার জন্যে স্থানীয় একটা অভিজাত হোটেলে বি-সি-আই-এর একটা টেলিফোন আছে, প্রয়োজনে এই সেটটার সাথে সরাসরি হেডকোয়ার্টারের কমিউনিকেশন রুমের একটা সেটের সংযোগ ঘটানো যায়। বি-সি-আই-এর হাই অফিশিয়াল এবং স্পেশাল এজেন্টস ছাড়া এই সেটের নাম্বার আর কারও জানা নেই।

    কমিউনিকেশন রূম থেকে উদ্ভ্রান্তের মত করিডরে বেরিয়ে এল সোহানা। হাতে কাগজের একটা টুকরো। ঠিক এই সময় নিজের কামরা থেকে বেরোল চীফ অ্যাডমিনিস্ট্রেটর। লাঞ্চ খেতে যাচ্ছে সে। তাকে দেখেই ছুটতে শুরু করল সোহানা।

    হাইহিলের দ্রুত খটাখট শব্দ শুনে থমকে দাঁড়িয়ে পড়ল সোহেল। ঘুরল। হাঁপাতে হাঁপাতে তার সামনে এসে দাঁড়াল সোহানা।

    ‘কি…’ প্রশ্ন শুরু করে সারতে পারল না সোহেল, হাতের কাগজটা বাড়িয়ে দিল সোহানা তার দিকে। কথা বলবে, সে-শক্তি এখনও ফিরে আসেনি ওর।

    ভাঁজ খুলে কাগজে লেখা মেসেজটা পড়তে শুরু করল সোহেল। ছোট্ট মেসেজ। প্রথমবার দ্রুত পড়ে গেল সোহেল। দ্বিতীয়বার প্রতিটি বাক্য পড়া শেষ করে অর্থ হৃদয়ঙ্গম করার জন্যে কয়েক সেকেন্ড বিরতি নিল। তৃতীয়বার কয়েক সেকেন্ড বিরতির ব্যবধানে পড়ছিল প্রতিটি শব্দ। চেহারায় কোনই প্রতিক্রিয়া নেই। কাগজটা থেকে মুখ তুলে তাকাল সোহানার দিকে। মৃদু গলায় বলল, ‘এসো।’ বলেই সোহানাকে পাশ কাটিয়ে নিজের কামরার দিকে এগোল সে।

    সোহেলের নির্বিকার, নিরুদ্বিগ্ন হাবভাব লক্ষ করে কেমন যেন হতভম্ব হয়ে গেছে সোহানা। তিন সেকেন্ড একই জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকল সে। মেসেজটায় রানার জন্যে যে সাংঘাতিক বিপদের ঘোষণা রয়েছে, সোহেল ভাইয়ের কি তা নজরে পড়েনি? ভাবতে ভাবতে ঘুরে দাঁড়াল সোহানা, অনুসরণ করল সোহেলকে।

    চক্কর খেয়ে গেছে সোহেলের মাথা, মুহূর্তে সুস্থতা হারিয়ে ফেলেছে সে। সোহানা ভয় পেয়ে যাবে ভেবে অতি কষ্টে নিজেকে সামলে রেখেছে সে। ঝড় বয়ে যাচ্ছে মাথার ভিতর। সব রাগ গিয়ে পড়ছে রানার উপর। বিপদে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্যে ছটফট করছিল ও। কারও কথায় কান দেয়নি। বসের উপরও একটা অসন্তোষ দানা বেঁধে উঠল সোহেলের মনে। তিনি অন্তত বাধা দিতে পারতেন রানাকে।

    চোয়াল দুটো শক্ত হয়ে উঠল সোহেলের। কামরায় ঢুকে সোজা এগিয়ে গিয়ে বসল নিজের রিভলভিং চেয়ারে। পর্দা সরিয়ে ভিতরে ঢুকল সোহানা। নিঃশব্দে এগিয়ে এসে ডেস্কের সামনে দাঁড়াল।

    ‘বসো,’ গলাটা যথাসম্ভব শান্ত রাখার চেষ্টা করে বলল সোহেল।

    ‘এই মুহূর্তে সাবধান করা উচিত রানাকে, তাই না?’ বসল না সোহানা, দু’হাত দিয়ে ডেস্কের কিনারা শক্ত করে ধরে ঝুঁকে পড়ল সোহেলের দিকে। দু’চোখে ব্যাকুল দৃষ্টি।

    সাবধান করে কোন লাভ হবে না,’ বলল সোহেল। অপারেশন বাতিল করে ফিরে আসার জন্যে অফিশিয়াল নির্দেশ জানাতে হবে ওকে। এখন আর সফল হবার কোন আশা নেই রানার। ইতিমধ্যে ধরা পড়ে গিয়ে না থাকলেই হয়।’

    ‘কিন্তু যোগাযোগ করব কিভাবে?

    ‘ওর লন্ডনের ফোন নাম্বারে যোগাযোগ করার মধ্যে ঝুঁকি আছে,’ বলল সোহেল। আড়চোখে তাকাল ইন্টারকম সেটটার দিকে। বসের সাথে আলোচনার আগেই অফিশিয়াল নির্দেশ দিতে চায় সে রানাকে। কিন্তু আরও কয়েক সেকেন্ড চিন্তা করল ও। তারপর কাঁধ ঝাঁকাল। ‘কিন্তু ঝুঁকিটা না নিয়ে এখন কোন উপায় নেই আমাদের। তুমি যাও, কমিউনিকেশন রুম থেকে সরাসরি ফোন করো রানাকে। আমি বসের চেম্বারে যাচ্ছি মীটিং ডাকার প্রস্তাব নিয়ে।

    দ্রুত ঘুরে দাঁড়াল সোহানা। ছুটে বেরিয়ে গেল সে সোহেলের কামরা থেকে।

    কপালে হাত দিয়ে বসে রইল সোহেল। মুহূর্তের জন্যে দুশ্চিন্তায়, উদ্বেগে বিকৃত হয়ে উঠল মুখের চেহারা। তারপর নিজেকে সামলে নিয়ে উঠে দাঁড়াল সে। পরিষ্কার জানা আছে তার, একটা ফোন কল রানাকে ফিরিয়ে আনার জন্যে যথেষ্ট নয়। রানা এই অফিশিয়াল নির্দেশ গ্রাহ্যই করবে না। নিজে যা ভাল মনে করে, তাই চিরকাল করে এসেছে ও। এক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হবে না। রানাকে ফিরিয়ে আনতে পারে মাত্র একজনই। তিনি মেজর জেনারেল রাহাত খান। একমাত্র তাঁর কণ্ঠস্বর থেকে সরাসরি নির্দেশ পেলে গ্রাহ্য না করে পারবে না রানা।

    এখন, ভাবছে সোহেল, বসকে রাজি করাতে পারলেই হয়।

    ওদিকে কমিউনিকেশন রূম থেকে সরাসরি লন্ডনে রানার ফোন নাম্বারে রিঙ করছে সোহানা। ঝন ঝন করে ফোনের বেল বাজছে অপর প্রান্তে। সাড়া নেই। কেউ রিসিভার তুলছে না। হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে কপালের স্বেদ বিন্দু মুছল সোহানা। কানের সাথে চেপে ধরে আছে রিসিভারটা। রানা নেই বাড়িতে? ধরা পড়ে গেছে? গলার কাছে একটা কান্নার প্রচণ্ড চাপ অনুভব করছে সোহানা। অপরপ্রান্তে ফোনের বেল বাজছে। রিসিভার তুলছে না কেউ।

    .

    লন্ডন।

    ঘুম থেকে আজ কাক ভোরে উঠেছে রানা। অনেক কাজ হাতে।

    আগের সন্ধ্যায় সুটকেস তিনটে পরীক্ষা করার জন্যে খালি করে আবার সব জিনিস একটা একটা করে ভরে রেখেছে ও। স্পঞ্জের ব্যাগ আর দাড়ি কামাবার যন্ত্রপাতি, হ্যান্ড-গ্রিপে এই দুটো জিনিস তুলতে বাকি আছে শুধু।

    ঘুম থেকে উঠে কফি তৈরি করে খেয়েছে, বাথরূম এবং শাওয়ার সেরে দাড়ি কামিয়েছে। তারপর হ্যান্ড-গ্রিপে স্পঞ্জের ব্যাগ আর দাড়ি কামাবার যন্ত্রপাতি ভরে তিনটে সুটকেসের সাথে সেটাকেও দাঁড় করিয়ে রেখেছে দরজার একপাশে।

    ছোট্ট কিচেনে ঢুকে মামুলি ব্রেকফাস্ট তৈরি করল রানা। ভাজা ডিম, অরেঞ্জ জুস, এবং আরও এক কাপ কালো কফি। ব্রেকফাস্ট শেষ করে অবশিষ্ট ডিম দুটো ভেঙে বেসিনে ফেলে দিল ও, দুধের আধখালি টিনটাও উপুড় করে ধরল বেসিনে। অরেঞ্জ জুসটুকু ফেলতে গিয়ে মায়া অনুভব করল, ভাই গলায় ঢেলে খালি করল বোতলটা। আবর্জনা জমা করার প্লাস্টিকের ঢাকনিওয়ালা বাস্কেটে বোতল, দুধের খালি টিন, ডিমের খোসা ইত্যাদি ফেলল ও। ওর অনুপস্থিতিতে কিছুই যেন পচে দুর্গন্ধ না ছড়ায়।

    এরপর পোশাক পরতে শুরু করল সে। বেছে নিল সিল্কের পোলো-নেকড সোয়েটার, ডাভ-গ্রে রঙের স্যুট, গাঢ় বাদামী রঙের মোজা এবং সরু কালো মোকাসিন জুতো। স্যুটের পকেটে ভরল অরগ্যানের সমস্ত ব্যক্তিগত কাগজপত্র, নগদ এক হাজার ব্রিটিশ পাউন্ড।

    পোশাক পরা শেষ হলো। এরপর চোখে লাগান গাঢ় রঙের চশমাটা।

    নয়টা পনেরো মিনিটে দু’হাতে দুটো করে ব্যাগ নিয়ে কামরা থেকে বেরিয়ে এল রানা। বারান্দায় হাতের জিনিস নামিয়ে রেখে দরজায় তালা মারল। কৌতূহলী প্রতিবেশীরা বিরক্ত করতে এল না কেউ। অবশ্য গত রাতে একজন এসেছিল। তাকে রানা জানিয়েছে, আইসল্যান্ডে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে আজ রওনা হয়ে যাবে ও।

    সাউথ অডলে স্ট্রীট খুব দূরে নয়, হেঁটেই পৌঁছে গেল রানা। দ্রুত ধাবমান একটা ট্যাক্সি থামাল হাত তুলে। ‘লন্ডন এয়ারপোর্ট,’ ড্রাইভারকে জানাল ও। ‘দু’নম্বর বিল্ডিং।’

    ট্যাক্সি ছেড়ে দিল ড্রাইভার। ঠিক সেই সময় রানার বাড়িতে টেলিফোন বাজতে শুরু করল।

    .

    ঢাকা। বাংলাদেশ কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স।

    হাই অফিশিয়াল এবং স্পেশাল এজেন্টদের নিয়ে মীটিং বসেছে মেজর জেনারেল রাহাত খানের চেম্বারে। আলোচ্য বিষয়: রানা ইন ডেঞ্জার।

    মীটিং শুরু হলো সবাইকে রূপার পাঠানো মেসেজের কপি পড়তে দিয়ে। রানা বিপদগ্রস্ত, বা তার বিপদের মাত্রা, ধরন ইত্যাদি প্রসঙ্গে আলোচনার শুরুতে কেউ কোন প্রশ্ন তুলল না। মেসেজটা পড়ার পর এ ব্যাপারে কারও মনে কোন সন্দেহের অবকাশ থাকল না যে রানার অস্তিত্ব এবং উদ্দেশ্য প্রকাশ হয়ে পড়ায় তার আর কোন আশা নেই। ইউনিয়ন কর্সের খপ্পর থেকে প্রাণে বাঁচতে হলে তাকে পিছু হটতে হবে, ফিরে আসতে হবে দেশে।

    কিন্তু রানার সাথে যোগাযোগ করা হবে কিভাবে? প্রথমে এ প্রশ্ন নিয়েই আলোচনা শুরু হলো।

    সোহানা তার রিপোর্টে জানাল, রানার লন্ডনের বাড়িতে ঘণ্টা দুই ধরে ফোন করেও কোন সাড়া পায়নি সে। কমিউনিকেশন রূমের একজন কর্মী দশ মিনিট পর পর এখনও রিঙ করছে, রানার সাড়া পাওয়া গেলেই খবর পাঠাবে সে।

    ‘রানা এখন কোথায়?’ এই প্রথম প্রশ্ন করলেন রাহাত খান। অদ্ভুত একটা ব্যতিক্রম লক্ষ করছে আজ সবাই তাঁর আচরণে। আস্ত একটা চুরুট দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে আছেন তিনি, কিন্তু তাতে অগ্নিসংযোগ করেননি। আগুন ধরাতে ভুলে গেছেন, ব্যাপারটা তাও হতে পারে না। এ ধরনের ব্যাপারে ভুলটা বড় জোর দু’এক মিনিট স্থায়ী হতে পারে, কিন্তু আগুনহীন চুরুটটাকে তিনি প্রায় মিনিট পনেরো ধরে দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে আছেন। শুধু তাই নয়, মুঠোয় রয়েছে গ্যাস লাইটারটা, সেটা নাড়াচাড়া করছেন, কখনও সেটার দিকে তাকিয়ে থাকছেন, কিন্তু চুরুট ধরাবার কোন লক্ষণ তাঁর মধ্যে দেখা যাচ্ছে না। তার কণ্ঠস্বরটাও আজ কানে বাজল সবার। আশ্চর্য মৃদু শোনাল তাঁর কণ্ঠস্বর। তাতে ঝাঁঝ নেই, নেই রাগ, তিরস্কার বা কাঠিন্য।

    ‘কোথায়, আমরা তা জানি না,’ ম্লান গলায় বলল সোহেল। পর মুহূর্তে গলা চড়ে গেল তার, ‘কিন্তু স্যার, যেভাবেই হোক ওকে থামাতে হবে। আমাদের কারও কথা শুনবে না ও। এ ব্যাপারে আমি আপনার প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপ কামনা করি। গোটা ফ্রান্স চষে খুঁজে বের করে ফেলবে ওরা রানাকে. তার আগে…

    নিঃশব্দে একটা তর্জনী খাড়া করলেন মেজর জেনারেল। অর্থাৎ সোহেলকে থামতে ইঙ্গিত করছেন তিনি। কথা শেষ না করে চুপ করে গেল সোহেল।

    গোটা ফ্রান্স চষবে ওরা, কারেক্ট,’ রাহাত খান বললেন, ‘কিন্তু কার খোঁজে? দীর্ঘদেহী একজন বিদেশীর খোঁজে, তাই না? চলতি মৌসুমে দশ লক্ষ বিদেশী ট্যুরিস্ট ঢুকবে ফ্রান্সে। যতদূর জানি, রানাকে খুঁজে বের করার জন্যে ইউনিয়ন কর্সের হাতে তেমন কোন সূত্র নেই। রানা ছদ্মবেশ নিয়ে থাকবে, ছদ্মনাম ব্যবহার করবে, এবং একজন প্রফেশন্যাল হিসেবে অবশ্যই জাল পাসপোর্ট ব্যবহার করছে সে। সোহেলের বুকের দিকে তর্জনী খাড়া করলেন তিনি, ‘এই মুহূর্তে ওর বিপদটা কোথায় দেখতে পাচ্ছ তুমি?’

    আপাদমস্তক চমকে উঠল সোহেল। বসের কথায় শুধু যে চোখ খুলে গেল তাই নয়, নিজের বুদ্ধি এবং কল্পনা শক্তির দৈন্যতা উপলব্ধি করে মনটা সেই সাথে একটু দমেও গেল। বলল, ‘কিন্তু শেষ পর্যন্ত রানা ওদেরকে ফাঁকি দিতে পারবে বলে মনে করেন, স্যার?’

    গম্ভীর হলেন রাহাত খান। বললেন, ‘তা নির্ভর করে ওর আত্মবিশ্বাস, বুদ্ধি এবং প্ল্যানিংয়ের ওপর।

    সোহেল বসের সাথে একা কুলিয়ে উঠতে পারছে না লক্ষ করে এবার তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে এল সোহানা। বলল, ‘আমি মনে করি, রানাকে সতর্ক করে দেবার প্রয়োজন আছে, স্যার। এ কাজটা রূপাই করতে পারবে, প্রথমবার রানা তাকে ফোন করলেই,’ অত্যন্ত সাবধানে, ভেবেচিন্তে কথা বলছে সোহানা, ‘এই মুহূর্তে ফ্রান্স ত্যাগ করা উচিত রানার। ও যদি না চায়, ওকে বাধ্য করা উচিত বাধ্য করার একমাত্র অস্ত্র শুধু আপনার হাতেই আছে, স্যার। আর কারও কথা শুনবে না ও।’

    ‘থিওরি হিসেবে তোমার এই বক্তব্য কারেক্ট,’ মেজর জেনারেল বললেন।

    ‘যা ঘটে গেছে, এরপর কি রানার কোন আশা আছে বলে মনে করেন আপনি?’ সোজা প্রশ্নটা সোজাভাবে করল সোহানা।

    ‘নেই,’ মেজর জেনারেল রাহাত খান সোজা উত্তর দিলেন। ধীরেসুস্থে চুরুটে আগুন ধরালেন তিনি। কিন্তু তাঁর হাত কাঁপছে, এটা আবিষ্কার করে কলজে শুকিয়ে গেল সোহেলের। ‘কিন্তু রানা একজন প্রফেশন্যাল। আরেক অর্থে, আমিও তাই। একজন প্রফেশন্যাল আরেকজন প্রফেশন্যালের পরিকল্পিত অপারেশনকে খাটো করে দেখতে পছন্দ করে না।

    ‘স্যার, ওকে ফিরিয়ে আনুন!’ আবেদনের সুরে হঠাৎ বলে উঠল সোহানা। তার কণ্ঠস্বরে এমন কিছু ছিল, কারও কারও গায়ের রোম দাঁড়িয়ে গেল সাথে সাথে। ঘন ঘন চুরুটে টান দিয়ে একরাশ ধোঁয়ার আড়ালে রাহাত খান যেন মুখ লুকালেন। সবাই শুধু তাঁর ভারী কণ্ঠস্বর শুনতে পেল, ‘পারি না। পারলে, আনতাম। নিজের পথে চলে গেছে ও। সে কোথায়, কি করতে যাচ্ছে—কিছুই জানা নেই আমাদের।

    ‘রূপাকে দিয়ে…

    ‘সম্ভব নয়,’ বললেন মেজর জেনারেল। তাতে শত্রুদেরকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়া হবে রূপার অস্তিত্ব। একটু বিরতি নিলেন তিনি। এখনও তাঁর মুখ ধোঁয়ার আড়ালে অদৃশ্য। তারপর বললেন, ‘রানাকে থামাবার সাধ্য এখন কারও নেই। আমারও না। অনেক দেরি হয়ে গেছে। পরিষ্কার বুঝতে পারছি আমি—রওনা হয়ে গেছে সৈ প্যারিসের উদ্দেশে। প্রস্তুতি পর্ব শেষ হয়েছে. এইবার ঘটতে শুরু করবে ঘটনা।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমাসুদ রানা ১৫৯-১৬০ – আবার উ সেন (দুইখণ্ড একত্রে)
    Next Article মাসুদ রানা ৪৬৭ – শকওয়েভ

    Related Articles

    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৩৮৫-৩৮৬ – হ্যাকার (দুই খণ্ড একত্রে)

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫৬ – টপ টেরর

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫৪ – নরপশু

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫৩ – ধর্মগুরু

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫২ – কালো কুয়াশা

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫১ – মায়া মন্দির

    July 22, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }