Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মাসুদ রানা ০৭২-৭৩ – সেই উ সেন (দুই খণ্ড একত্রে)

    কাজী আনোয়ার হোসেন এক পাতা গল্প438 Mins Read0
    ⤶

    সেই উ সেন – ২.১০

    দশ

    ঘন ঘন পানি খেয়ে মস্ত ভুঁড়িটাকে আরও ফুলিয়ে তুলেছে লেফটেন্যান্ট-কর্নেল জাঁ থেরি। কিন্তু তৃষ্ণা তবু মিটছে না। মরুভূমির মত সেই শুকনোই থেকে যাচ্ছে গলাটা। জীবনে এই বোধহয় প্রথম ভয়ে পেটের ভিতর হাত-পা সেঁধিয়ে যাবার দশা হয়েছে তার। মনের ভিতর অবিরাম কে যেন বাজিয়ে চলেছে বিপদের ডঙ্কা। আজ বিকেলে কিছু একটা ঘটবে, এই আশঙ্কায় কাঁপছে বুকটা। কিন্তু কিভাবে, ঠিক কোথায়, কখন, কি ঘটবে তার কোন পূর্বাভাস বা সূত্র কোথাও দেখতে পাচ্ছে না সে।

    নিজের প্রাণ যায় যাক—যদি মাসুদ রানাকে ধরতে না পারে সে, যাবেই। কিন্তু তার চেয়ে বড় দুশ্চিন্তা, কাপু উ সেন বিপদগ্রস্ত। কোন সুযোগে রানা যদি তাঁর উপর আঘাত হানতে পারে…

    এরপর কি ঘটবে ভাবতে পারে না জাঁ থেরি। ভাবতে গেলে শুধু শিউরে শিউরে ওঠে। সে ব্যর্থ হলে তার একার প্রাণ যাবে। কিন্তু কাপুর যদি কোন ক্ষতি হয় ইউনিয়ন কর্স তাকে তো খতম করবেই, খতম করবে তার সন্তানদের, তার স্ত্রীকে, ভাই-বোনদের—চোদ্দগুষ্টির কাউকে ছাড়বে না ওরা। ইউনিয়ন কর্সের দৃষ্টিতে ব্যর্থতার শাস্তি সমূলে নিশ্চিহ্ন করা।

    আর্ক ডি ট্রায়াম্প, নটরডেম এবং মন্তভ্যালেরিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিল জা থেরি। কিছুই ঘটেনি। লাঞ্চের পর পুনঃ নির্বাচিত কাপু উ সেন-এর সুরক্ষিত দুর্গ- প্রাসাদের একটি কামরায় ইউনিয়ন কর্সের হাই অফিশিয়ালরা সংক্ষিপ্ত এক বৈঠকে মিলিত হয়েছিল। সেখানে উপস্থিত ছিল লেফটেন্যান্ট-কর্নেল। উত্তেজনা আর আতঙ্কবোধ এমনভাবে গ্রাস করেছে প্রত্যেককে, কথা বলার শক্তি পায়নি কেউ। সবাই যথাসাধ্য চেষ্টা করেছে মুখের চেহারায় স্বাভাবিক ভাব ফুটিয়ে রাখতে। কিন্তু কারও পক্ষে তা সম্ভব হয়নি। আতঙ্কিত, অসহায় পশুর মত দেখাচ্ছিল সবাইকে।

    শুধু কর্নেল বোল্যান্ড কয়েকটা কথা বলল। প্রথমে জানাল, ‘আর মাত্র একটি অনুষ্ঠান বাকি আছে। প্লেস দু এইটিন জুনে। গোটা এলাকা নিশ্ছিদ্রভাবে ঘিরে ফেলা হয়েছে। অনুষ্ঠানের কেন্দ্রস্থল থেকে তিন মাইলের মধ্যে চোখকান খোলা রেখে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে ইউনিয়ন কর্মের চল্লিশ হাজার সশস্ত্র সদস্য। কর্সিকান নয় এমন কোন লোকের পক্ষে এদের চোখকে ফাঁকি দিয়ে অনুষ্ঠানের কাছাকাছি পৌঁছানো সম্ভব নয়।’

    ‘কাপুর গাড়ি যে-সব রাস্তা দিয়ে যাবে…

    জাঁ থেরির প্রশ্ন শেষ হলো না, কর্নেল বোল্যান্ড বলল, ‘অনুষ্ঠানে পৌঁছুবার অনেকগুলো রাস্তা আছে, ট্রাফিক কন্ট্রোলারের কাছ থেকে নির্দিষ্ট একটা ব্যবহার করার অনুমতি নিয়ে রাখা হয়েছে। অনুষ্ঠান শুরুর দশ মিনিট আগে থাকতে সে- রাস্তা খালি করে দেয়া হবে। অনুষ্ঠান শুরুর পরও তাই। কিন্তু কাপুর গাড়ি সে- রাস্তা দিয়ে যাবে না। নিরাপত্তার খাতিরে অন্য একটা রাস্তা ব্যবহার করা হবে। যানবাহনের ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্যে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হবে কাপু রওনা হবার সাথে সাথে। অনুষ্ঠানে পৌছুবার পাঁচটা রাস্তাতেই ইউনিয়ন কর্সের অসংখ্য লোকজন রয়েছে। এমন কি সবক’টা রাস্তায়, দু’পাশের দালানগুলোর ছাদে, জানালায় বিনকিউলার এবং রাইফেল হাতে পজিশন নিয়ে আছে তারা।’

    একজনের প্রশ্নের উত্তরে কর্নেল বোল্যান্ড মাথা নিচু করল। গভীরভাবে খানিকক্ষণ চিন্তা করে জানাল, ‘সে চলে গেছে—আমার বিশ্বাস। ভয়ে পালিয়েছে। অবশ্য কেটে পড়াই তার জন্যে বুদ্ধিমানের কাজ হয়েছে। কিন্তু যত গভীরেই ডুব দিক সে, যত দূরেই পালিয়ে যাক—কোথাও তাকে ভেসে উঠতে হবেই। তখন তার নিস্তার নেই।’ এই বলে একটু হাসল সে, জাঁ থেরির কাঁধ চাপড়ে বলল। ‘রানা যদি দেখা না দেয়, তোমার অবস্থা কি হবে?’

    দেখা না দিলে কাপু কি সিদ্ধান্ত নেবেন জানা নেই, ভাবছে লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাঁ থেরি, হয়তো রানাকে খুঁজে বের করার হুকুম দেবেন তাকে। কিন্তু দেখা দেবে না রানা একথা বিশ্বাস করতে পারছে না সে। অবশ্য নিজের সন্দেহের কথা, উদ্বেগের কথা প্রকাশ করেনি সে বৈঠকে। কেউই তা করেনি। অথচ সে জানে, কর্নেল বোল্যান্ডের কথায় আশ্বস্ত হয়নি কেউ। সবাই বুঝেছে, প্রলাপ বকছে কর্নেল।

    একা একা বুলেভার্দ দে মন্তপারনেসের কাছে ঘুর ঘুর করছে জাঁ থেরি। ভিড়ের কিনারা ধরে হাঁটছে সে। দুশো মিটার দূরে অনুষ্ঠান। চৌরাস্তার এতদূর থেকে অনুষ্ঠানের কিছুই চাক্ষুষ করার উপায় নেই। তার মানে ভিড়ের ভিতর কোথাও নেই রানা। প্রত্যেক প্রহরীকে প্রশ্ন করছে সে। সকলের কাছ থেকে একই উত্তর পাচ্ছে—না, ব্যারিয়ারের ভিতর কাউকে ঢুকতে দেয়নি তারা।

    প্রধান সড়ক, গলি, উপগলি…সব জায়গায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে। প্রত্যেকটি ছাদে নজর রাখার নিখুঁত ব্যবস্থা সম্পন্ন হয়েছে। শুধু স্টেশন পাহারাতেই রয়েছে চারশো লোক। সামনের চাতালের মুখোমুখি দালানগুলোর প্রতিটিতে সত্তর-আশি জন করে প্রহরী তৈরি হয়ে আছে। স্টেশনের এঞ্জিন শেডের মাথায়, প্ল্যাটফর্মের চূড়ায় শুয়ে আছে রাইফেলধারীরা।

    একটা সাইড রোড ধরে রু দে রেনেসে ঢুকে পড়ল জাঁ থেরি।

    ‘কাউকে দেখেছ?’ পরিচয়পত্র দেখিয়ে ব্যারিয়ার টপকাল সে, প্রশ্ন করল প্রহরীকে।

    ‘না, মশিয়ে,’ সসম্ভ্রমে বলল প্রহরী।

    ‘কাউকে আসতে দাওনি এপারে? কাউকে না?’

    ‘না, মশিয়ে।

    ‘ঠিক মনে আছে? ভেবে দেখো, ভুল করছ না তো?’

    ‘না, মশিয়ে। কেউ ঢোকেনি। কেউ ঢুকতে চায়নি বা চেষ্টা করেনি।’

    ‘সাবধান! কোন অবস্থাতেই নিজেদের লোক ছাড়া কাউকে ঢুকতে দিয়ো না।’ বলল জাঁ থেরি, কই, তোমার কার্ড দেখি?’ প্রহরীর কাঁধের ব্যাজটা পরীক্ষা করে দেখল সে। তারপর কার্ডটা পরীক্ষা করল। ‘জায়গা ছেড়ে নোড়ো না। চোখ কান খোলা রাখো।’

    চৌরাস্তার দিকে ফিরে এগোতে যাবে, এমন সময় একটা তীক্ষ্ণ চিৎকার শুনতে পেল লেফটেন্যান্ট-কর্নেল। দূরে এক ঝাঁক সাদা মোটরসাইকেল দেখতে পাচ্ছে সে। পঁচিশ ত্রিশটার কম নয়। প্লৈস দু এইটিন জুনে ঢুকছে ঝড়ের বেগে। বাঁক নিয়ে স্টেশনের সামনে চাতালের গেট পেরোচ্ছে। দু’ধারে দাঁড়ানো প্রহরীরা কাঠের পুতুলের মত দাঁড়িয়ে আছে গায়ে গা ঠেকিয়ে, বিশাল কনভয়ের দিকে পিছন ফিরে।

    উঁচু ছাদগুলোর দিকে তাকাল জাঁ থেরি। শাবাশ ভায়েরা! ছাদের প্রহরীরা কেউ নিচের দৃশ্যের দিকে তাকিয়ে নেই, সকলের দৃষ্টি উল্টো দিকের ছাদ আর জানালার দিকে।

    রু দে রেনেসের পশ্চিম দিকে পৌঁছল জাঁ থেরি। একশো বত্রিশ নম্বর বাড়ির কাছে শেষ ব্যারিয়ার, সেখানে একজন যুবক প্রহরী দাঁড়িয়ে আছে। কার্ড দেখাতেই সিম্ভ্রমে মাথা নোয়াল প্রহরী।

    ‘এদিক দিয়ে গেছে কেউ?’

    ‘না, মশিয়ে,’ বলল,পেরি তেসিয়ার। কখন থেকে আছ তুমি এখানে?’

    ‘বেলা বারোটা থেকে, মশিয়ে।’

    ‘ব্যারিয়ারের এপারে কাউকে ঢুকতে দাওনি তুমি?’

    ‘না, মশিয়ে।‘

    ‘ভুল করছ না তো? ঠিক মনে আছে? কেউ ঢোকেনি? ভেবে দেখে বলো। ভাল করে মনে করার চেষ্টা করো।’

    ঘাবড়ে গেল তেসিয়ার।

    ‘না, মশিয়ে… কাউকে আমি ঢুকতে দেইনি… হঠাৎ তার মনে পড়ে গেল বুড়োটার কথা। ‘হ্যাঁ, মাত্র একজন পঙ্গুকে যেতে দিয়েছি। ওদিকেই থাকে সে।’

    ‘পঙ্গু? কোন্ পঙ্গু? কে পঙ্গু?’

    ‘একটা বুড়ো, মশিয়ে। প্রায় অচল একজন লোক। মহান কাপুর পদক পেয়েছে কয়েক বছর আগে। আমাদেরই লোক। তার কার্ডে কাপুর সীল এবং সইও আছে। এ গ্রেট কর্সিকান, লেখা আছে তাতে। ঢুকতে না দিয়ে কি করি, মশিয়ে—সাংঘাতিক অসুস্থ দেখাচ্ছিল তাকে। নোংরা গ্রেটকোট পরে ছিল, চোখে ভাল দেখে না…

    ‘গ্রেটকোট?’

    ‘জী, মশিয়ে। খুব লম্বা আর ঢোলা গ্রেটকোট।’

    দুই হাত শক্ত মুঠো হয়ে গেছে জাঁ থেরির।

    ত্রুটিটা কোথায় তার?’ রুদ্ধশ্বাসে, কিন্তু যথাসম্ভব নিচু গলায় প্রশ্নটা করল সে।

    ‘একটা পা নেই, মশিয়ে। টলমল করতে করতে হেঁটে এল; ক্রাচে ভর দিয়ে। একশো চুয়ান্ন নম্বর ফ্ল্যাট বাড়িতে থাকে বলল…’

    চৌরাস্তা থেকে ভেসে আসছে বাদ্যযন্ত্রের ছন্দবদ্ধ ঐকতান। তার সাথে কোরাস ধরেছে গায়করা। দুশো বছরের পুরানো গীতি কবিতার মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে নব অভিষিক্ত মহান কাপুর অপার মহিমা।

    ‘ক্রাচ?’ নিজের কণ্ঠস্বর নিজের কানেই বিকৃত শোনাল জাঁ থেরির

    ‘জী, মশিয়ে। খোঁড়া লোকেরা যে ধরনের ক্রাচ ব্যবহার করে। অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি…’

    টেনে চড় কষল জাঁ থেরি, পঞ্চাশ গজ দূর থেকেও শোনা গেল—চটাস। মাথা ঘুরে পড়ে গেল পেরি তেসিয়ার। কংক্রিটের রাস্তার সাথে প্রচণ্ডভাবে ঠুকে গেল তার মাথা।

    পেরির অবস্থা দেখার মত সময় নেই লেফটেন্যান্ট-কর্নেলের, রাস্তা ধরে উন্মাদের মত ছুটতে শুরু করেই চেঁচিয়ে উঠল সে, ‘ফলো মি, ইউ বাস্টার্ড!’

    .

    স্টেশনের সামনের ফাঁকা জায়গায় কয়েকশো যানবাহন সার সার দাঁড়িয়ে আছে। গাড়িগুলোর ঠিক উল্টোদিকে একটা রেলিং, এই রেলিংটাই সামনের চাতাল এবং চৌরাস্তাকে দু’ভাগে ভাগ করে রেখেছে। কাপু উ সেন-এর কাছ থেকে সম্মানজনক পদক গ্রহণ করে কৃতার্থ হবার জন্যে রেলিংয়ের কাছে দাঁড়িয়ে আছে দশজন প্রৌঢ় কর্সিকান। চাতালের পুব দিকে উপস্থিত রয়েছে ইউনিয়ন কর্মের হাই অফিশিয়ালরা। চারকোল গ্রে-রঙের স্যুটের বিশাল একটা প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হচ্ছে যেন ওখানে। তার মাঝখানে গোলাপের মত ফুটে আছে লাল ব্যাজগুলো। চাতালের পশ্চিম দিকে রঙচঙে ইউনিফর্ম পরা বাদ্যযন্ত্রীরা দাঁড়িয়ে আছে। গোটা চাতালটাকে কয়েক দফায় ঘিরে রেখেছে সশস্ত্র প্রহরীরা গায়ে গা ঠেকিয়ে।

    রাইফেল তুলে এক চোখ বুজে টেলিস্কোপিক সাইটে দৃষ্টি রাখল রানা। পদক গ্রহণ করার জন্যে যারা দাঁড়িয়ে আছে তাদের মধ্যে সবচেয়ে কাছের লোকটাকে বেছে নিল ও। বেঁটে, গাঁট্টাগোটা একজন কর্সিকান, শিরদাঁড়া খাড়া করে দাঁড়িয়ে আছে, ফুলে উঠেছে বুকটা। টেলিস্কোপিক সাইটে তার মাথাটা পুরোপুরি এবং পরিষ্কারভাবে ধরা দিল। আর ক’মিনিট পরই এই লোকটার সামনে এর চেয়ে আরও এক ফিট লম্বা লোক, উ সেন, এসে দাঁড়াবে।

    বুম-বা-বুম! উদ্দাম গতিতে বেজে ইউনিয়ন কর্সের দলীয় সঙ্গীত থেমে গেল। অটুট নিস্তব্ধতা নেমে এল বিশাল চৌরাস্তায়। কয়েক হাজার মানুষকে দেখতে পাচ্ছে রানা, কিন্তু একচুল নড়াচড়া চোখে পড়ছে না কোথাও। অকস্মাৎ কমান্ডার অভ দি গার্ডের কর্কশ গর্জন চুরমার করে দিল অখণ্ড নিস্তব্ধতাকে। ‘জেনারেল স্যালুট…প্রে-জে-এ-ন্ট আর্মস!’ সশস্ত্র কর্সিকান গার্ডদের সাদা দস্তানা পরা হাতগুলো বিদ্যুৎবেগে শরীরের পাশ থেকে উঠে এসে কাত হয়ে কাঁধে ঠেকে থাকা যার যার রাইফেলটাকে উপর দিকে খাড়া করে ধরল, তারপর ঝট করে নামিয়ে আনল খাড়াভাবে নাকের পাশে, একই সাথে একযোগে জোড়া লেগে গেল প্রত্যেকের পা, খটাস করে শব্দ হলো একটা।

    সামনের ভিড়টা দ্বিধাবিভক্ত হয়ে গেল। মাঝখান থেকে বেরিয়ে আসছে অস্বাভাবিক লম্বা একজন লোক। অদ্ভুত যান্ত্রিক কিন্তু দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে সে রেলিংয়ের দিকে। পিঠটা খাড়া হয়ে আছে। হাঁটছে, কিন্তু হাঁটার দোলায় কাঁধ দুটো একচুল এদিক-ওদিক নড়ছে না বা উঁচু-নিচু হচ্ছে না। গর্বোদ্ধত একটা ভাব ফুটে আছে তার চেহারায়। গাঢ় রঙিন চশমার ভিতর চোখ নেই, পাথর। ব্রেস্ট পকেট থেকে সরু একটা তার কানে গিয়ে ঢুকেছে। সাউন্ড ট্র্যান্সমিটার যন্ত্রের সাহায্যে শব্দ শুনছে সে, তা থেকেই জেনে যাচ্ছে নিজের চারপাশে কি ঘটছে না ঘটছে।

    রেলিং থেকে আর মাত্র পঞ্চাশ মিটার দূরে উ সেন। এই সময় তাকে ঘিরে অগ্রসরমান দেহরক্ষী, কর্নেল বোল্যান্ড এবং হাই অফিশিয়ালদেরকে উদ্দেশ্য করে অধৈর্যের সাথে একটা হাত নাড়ল সে, তার ঠোঁট দুটোও নড়ে উঠল মুহূর্তের জন্যে।

    হকচকিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল সবাই। কাপু সবাইকে আর এক পা-ও তার সাথে যেতে নিষেধ করছেন। এভাবে ঘেরাও হয়ে থাকা পছন্দ নয় তাঁর। কিন্তু সাংঘাতিক ঝুঁকি নিয়ে ইতস্তত ভাবটা কাটিয়ে উঠল কর্নেল বোল্যান্ড। কাপুর নির্দেশ অমান্য করে তাঁর পাশে রয়ে গেল সে। এবং ইঙ্গিত করল দেহরক্ষীদের তারা যেন একটু দূরত্ব বজায় রেখে কাপুকে ঘিরে থাকে।

    উ সেন-এর কাছ থেকে দশ ফুট পিছিয়ে গেল দীর্ঘদেহী দেহরক্ষীরা।

    রেলিংয়ের কাছে একজন হাই অফিশিয়াল একটা ভেলভেটের কুশন হাতে নিয়ে অপেক্ষা করছে। কুশনে এক সারিতে সাজানো রয়েছে ধাতব পদার্থের তৈরি দশটা মেডেল এবং দশটা রঙিন রিবন।

    এগিয়ে আসছে কাপু উ-সেন।

    .

    ছুটে এসে ফ্ল্যাটবাড়িটার সামনে দাঁড়িয়ে পড়ল লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাঁ থেরি। হাঁপাচ্ছে সে। মুখ তুলে বাড়ির নাম্বার দেখল। একশো চুয়ান্ন। পিছনে ছুটন্ত পায়ের শব্দ শুনে বুঝল প্রহরী অনুসরণ করছে তাকে। কিন্তু তার এসে পৌঁছবার অপেক্ষায় না থেকে ফ্ল্যাটবাড়ির ভিতর ঢুকে পড়ল সে। প্রতি লাফে সিঁড়ির তিনটে করে ধাপ টপকে উঠে যাচ্ছে উপরে।

    তিন তলায় উঠে জাঁ থেরি নিচের দিকে তাকাল। পায়ের শব্দ পাচ্ছে সে,

    কিন্তু প্রহরীকে দেখতে পাচ্ছে না। ‘টপ ফ্লোরে এসো!’ বলেই উঠতে শুরু করল আবার। এক ঝটকায় কোটের বোতাম খুলে শোল্ডার হোলস্টার থেকে বের করে আনল সে রিভলভারটা।

    .

    সারির প্রথম লোকটার সামনে দাঁড়াল কাপু। পাশ থেকে কর্নেল বোল্যান্ড ব্যাখ্যা করছে লোকটার বীরত্ব আর কীর্তির কথা। কর্নেল বোল্যান্ড থামতে সরাসরি লোকটার দিকে মুখ তুলল উ সেন। একবার আধইঞ্চি উঁচু-নিচু করল মাথাটা। ‘তুমি আমাদের গর্ব,’ প্রশান্ত উৎফুন্ন কণ্ঠে বলল সে। শরীরের পাশ থেকে একটা সুদীর্ঘ হাত উঠে এল কুশন নিয়ে দাড়িয়ে থাকা হাই অফিশিয়ালের দিকে। তার হাতে একটা মেডেল তুলে দিল অফিসার। মৃদু, মধুর সুরে বেজে উঠল যন্ত্র সঙ্গীত। ‘কাপু দীর্ঘজীবী হোন, আমরা যেন তাঁর নির্দেশে প্রয়োজনে মৃত্যুবরণ করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হই’—কর্সিকানদের প্রিয় সঙ্গীতের সুরে দুলে উঠল নিস্তব্ধ পরিবেশটা। বয়স্ক কর্সিকানের বুকে মেডেলটা গেঁথে দিল কাপু। এরপর সে পিছিয়ে এল স্যালুট করার জন্যে।

    ছয় তলার উপরে এবং একশো ত্রিশ মিটার দূরে অত্যন্ত যত্নের সাথে, সাবধানে রাইফেলটাকে স্থির করে ধরে রেখে টেলিস্কোপিক সাইট দিয়ে তাকাল রানা। চেহারাটা পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছে ও। রোদ লেগে চকচক করছে উ-সেন-এর মস্ত কপাল। গাঢ় সবুজ চশমাটার ফ্রেম, হাতল সব পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছে। কার্নিসওয়ালা টুপিটা রয়েছে তার মাথায়। স্যালুট করতে উদ্যত হাতটা নড়ে উঠল। ঝট্ করে উঠে গেল সেটা টুপির কার্নিসের কাছে। সাইটের ক্রস চিহ্নের মাঝখানটায় রয়েছে উ সেন-এর উন্মুক্ত কপালের একটা পাশ। মৃদু, আলতোভাবে ট্রিগার টিপল রানা…

    .

    পাঁচতলায় উঠে ঘাবড়ে গেল লেফটেন্যান্ট-কর্নেল জাঁ থেরি। শেষ পর্যন্ত বোধহয় মাসুদ রানাকে ঠেকানো গেল না। কথাটা মনে হতেই আশ্চর্য দুর্বল হয়ে পড়ল তার শরীর। সশব্দে হাঁপাচ্ছে সে, মনে হচ্ছে মাথা ঘুরে পড়ে যাবে, ছয়তলায় কোন দিন সম্ভব হবে না ওঠা…

    কিন্তু এখনও কিছু ঘটেনি। হয়তো এক সেকেন্ড সময় পাবে সে শেষ রক্ষার। কথাটা মনে হতেই আবার ছুটল সে। এটাই শেষ সিঁড়ি, তারপরই ছয়তলা…

    .

    ট্রিগার টানার পর এক সেকেন্ড পেরিয়ে গেছে। নিচে, স্টেশনের সামনে চাতালের দিকে স্তম্ভিত হয়ে তাকিয়ে আছে রানা, যেন বিশ্বাস করতে পারছে না নিজের চোখকে। ব্যারেলের শেষ প্রান্ত থেকে বুলেটটা বেরিয়ে যাবার আগেই ইউনিয়ন কর্সের কাপু কোনরকম আগাম আভাস না দিয়েই ঝট্ করে নামিয়ে নিয়েছে মাথা। চোখে অবিশ্বাস ভরা দৃষ্টি নিয়ে দেখছে রানা, সামনে দাঁড়ানো প্রৌঢ় কর্সিকানের গালে একটা চুমো খাচ্ছে সে। লোকটার চেয়ে উ সেন এক ফুট বেশি লম্বা, তাই রীতি অনুযায়ী চুমো দেয়ার জন্যে ঘাড়, পিঠ সহ মাথা নিচু করতে হয়েছে তাকে।

    মাথাটা যখন নিচের দিকে নামছে সেই সময় মাথার সিকি ইঞ্চি পিছন দিয়ে বেরিয়ে গেছে বুলেটটা, অনুমান করল রানা। বাতাস কেটে বুলেটের বেরিয়ে যাওয়ার শব্দ উ সেন পেয়েছে কিনা বুঝতে পারল না ও। শুনতে যদি পেয়েও থাকে, তার মধ্যে কোন প্রতিক্রিয়া নেই। কর্নেল বোল্যান্ড, হাই অফিশিয়াল এবং সার দিয়ে দাঁড়ানো প্রৌঢ় কর্সিকানরা কিছুই শুনতে পায়নি বা টের পায়নি। দশ ফুটের বাইরে দাঁড়ানো দেহ রক্ষীরা বা পঞ্চাশ মিটার দূরে অপেক্ষমাণ কর্সিকানরাও বুঝতে পারেনি কিছু।

    রোদ লেগে নরম হয়ে থাকা চাতালের পিচ ফুটো করে ভিতরে সেঁধিয়ে গেছে বুলেটটা, এক ইঞ্চি গভীরে ঢুকে বিস্ফোরিত হয়েছে। একই সুর এবং তাল বজায় রেখে বেজেই চলেছে যন্ত্র-সঙ্গীত। প্রৌঢ়ের দ্বিতীয় গালে চুমো খেয়ে সিধে হলো উ সেন, গোটা শরীর নিয়ে ঘুরে দাঁড়াল, এগোল দু’পা, তারপর আবার পুরো শরীর ঘুরিয়ে মুখোমুখি হলো দ্বিতীয় কর্সিকানের।

    রাইফেলের পিছনে বসে মুচকি হাসল রানা। অপ্রত্যাশিত ঘটনাটা কয়েক সেকেন্ড আয়ু বাড়িয়ে দিয়েছে উ সেন-এর। এর আগে টার্গেট প্র্যাকটিসের সময় একশো পঞ্চাশ মিটার দূরত্বের স্থির কোন লক্ষ্যকে ভেদ করতে ব্যর্থ হয়নি ও। তার জীবনের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর শত্রু উ সেনের বেলায় কাণ্ডটা ঘটল। মন খারাপ করার কিছু নেই, নিজেকে সান্ত্বনা দিল সে, সময় আছে এখনও। রাইফেলের বীচ খুলল রানা। খোলার সাথেই ব্যবহৃত কার্ট্রিজটা পড়ল কার্পেটে। টেবিল থেকে দ্বিতীয় শেলটা তুলে নিল ও। জায়গা মত সেটাকে ঢুকিয়ে দিয়ে বন্ধ করল ব্রীচ।

    হাঁপাতে হাঁপাতে ছয়তলায় পৌঁছল লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাঁ থেরি। বুকের ভিতর থেকে পাঁজরের খাঁচা ভেঙে হৃৎপিণ্ডটা বেরিয়ে আসতে চাইছে যেন তার। দালানটার সামনের দিকে দুটো ফ্ল্যাট। দুটো দরজার দিকে উদ্‌ভ্রান্তের মত তাকাচ্ছে সে। দুটোর একটার ভিতর আছে মাসুদ রানা…ভাবছে সে, কিন্তু কোনটার ভিতর? ইতস্তত করছে, এমন সময় ‘পুট্’ করে মৃদু শব্দ কানে ঢুকল।

    এক লাফে কিছুটা পিছিয়ে এল জাঁ থেরি। শব্দটা ডান পাশের কামরা থেকে এসেছে। হতভম্ব হয়ে এক সেকেন্ড দাঁড়িয়ে থাকল সে। পরমুহূর্তে রিভলভারটা কোমরের কাছে তুলে গুলি করল তালার ফুটো লক্ষ্য করে। কাঠের আর পিতলের কণা ছড়িয়ে পড়ল চার দিকে, কেঁপে কেঁপে উন্মুক্ত হয়ে যাচ্ছে দরজার কপাট দুটো।

    পিছনে পায়ের শব্দ। কিন্তু অপেক্ষা না করে কামরার ভিতর ঢুকে পড়ল জাঁ থেরি।

    একটা নয়, লোকটার দুটো পা। গায়ে গ্রেটকোটটা নেই এখন। বগলের সাথে যেভাবে শক্ত করে চেপে ধরে আছে রাইফেলটা, বুঝতে অসুবিধে হচ্ছে না জাঁ থেরির, এ লোক শক্তিশালী যুবক, অসুস্থ বুড়ো নয়। হতভম্ব হয়ে এক সেকেন্ড দাঁড়িয়ে থাকল সে। টেবিলের পিছন থেকে ওঠার সাথেই সাবলীল ভঙ্গিতে আধপাক ঘুরে গিয়ে কোমরের কাছ থেকে গুলি করল রানা। এক নজরেই চিনতে পেরেছে সে সালমার হত্যাকারীকে। ও যখন ঘুরছে, ছ্যাঁৎ করে উঠল বুকটা জাঁ থেরির। নিজের ভুলটা বুঝতে পারল সে। গুলি করতে চেষ্টা করল সে, কিন্তু ট্রিগারে আঙুল চেপে বসার আগেই বুকের এক পাশে প্রচণ্ড ধাক্কা খেল সে।

    কোন শব্দই করেনি বুলেটটা। ভিতরে ঢুকেই বিস্ফোরিত হলো সেটা। কাটাকুটি, ছেঁড়াছিঁড়ি এবং অকস্মাৎ প্রচণ্ড ব্যথার একটা তীব্র অনুভূতি গ্রাস করল জাঁ থেরিকে। পরমুহূর্তে তাও দূর হয়ে গেল। দেখতে পেল, এক টুকরো কার্পেট স্যাত্ করে উঠে এসে বাড়ি মারল তার মুখে। আসলে মুখ থুবড়ে পড়ে গেছে সে কার্পেটের উপর। সেই সাথে তার খোলা চোখের সামনে থেকে দপ্ করে নিভে গেছে সব আলো।

    জানালার দিকে ফিরল রানা। এক পা পিছিয়ে এসে তৃতীয় লোকটাকে স্যালুট করছে উ সেন। ছোঁ মেরে তৃতীয় এবং শেষ বুলেটটা টেবিল থেকে তুলে নিল রানা। রাইফেলে ভরল সেটা। পা বাধিয়ে টেনে আনল চেয়ারটাকে সামনে। সেটার উপর একটা পা তুলে দিয়ে শরীরটাকে স্থির করল, তারপর রাইফেল তুলে চোখ রাখল টেলিস্কোপিক সাইটে।

    পায়ের শব্দ পাচ্ছে রানা। ভুরু কুঁচকে উঠল ওর। দেখতে পাচ্ছে, মৃদু হাসি লেগে রয়েছে উ সেন-এর ঠোঁটে। কপালের পাশে ছোট্ট একটা কালো তিল দেখা যাচ্ছে। সাইটের ক্রস চিহ্নের মাঝখানটা সেটার উপর রেখে লক্ষ্য স্থির করল ও। চতুর্থ কর্সিকানের গালে চুমো খাচ্ছে উ সেন। প্রথমে বাঁ গালে। তারপর ডান গালে। পায়ের শব্দটা পাচ্ছে রানা, এখন আরও কাছে এসে পড়েছে।

    সিধে হয়ে দাঁড়াচ্ছে উ সেন। সিধে হয়েছে। শব্দটার কথা ভুলে থাকতে চাইছে রানা। ভুলে গেল। তারপর টিপে দিল ট্রিগার।

    মাথার উপর খাড়াভাবে উঠে গেল উ সেনের দুটো হাত। কপালের পাশে এইমাত্র তৈরি হওয়া কালো গর্তটা ঢাকা পড়ে গেল একটা হাতের আড়ালে। পাক খাচ্ছে শরীরটা। কিন্তু আধ পাক ঘোরার আগেই কাত হয়ে গেল একদিকে। সটান আছাড় খেল সে চাতালের শক্ত মেঝেতে। মাথার ভিতর বিস্ফোরণের ফলে ফেটে গেছে টুপিতে ঢাকা মাথার খুলি। টুপির তলা থেকে নেমে আসছে হলদেটে মগজ।

    চারদিক স্তব্ধ হয়ে গেছে। থেমে গেছে বাদ্যযন্ত্রগুলো। চোখে দেখেও ঠিক কি ঘটেছে বুঝে নিতে পারছে না কেউ এখনও। পরমুহূর্তে নড়ে উঠল বিশাল এলাকা জোড়া ভিড়টা। গর্জন, ছুটোছুটি—নরক গুলজার হয়ে উঠল। গুলিটা কোনদিক থেকে এসেছে আঁচ করে নিয়ে সব ক’টা মুখ ফিরল ছয়তলা দালানটার দিকে কয়েক সেকেন্ড, বিহ্বল দৃষ্টিতে চেয়ে রইল খোলা অন্ধকার জানালার দিকে। তারপর দুলে উঠল যার যার অস্ত্র হাতে ভিড়টা। ছুটে আসছে সবাই দালানটার দিকে। সবার আগে কর্নেল বোল্যান্ড।

    চরকির মত ঘুরেই ডাইভ দিয়ে পড়ল রানা জাঁ থেরির পাশে, খপ্ করে তার রিভলভারটা তুলে নিয়েই লক্ষ্য স্থির করল খোলা দরজার দিকে। এক সেকেন্ড পর দরজায় এসে দাড়াল একজন।

    ট্রিগার টিপতে গিয়েও টিপল না রানা। ছোটখাট একজন লোককে দেখতে পাচ্ছে ও। দু’হাত দিয়ে ধরে আছে একটা সাবমেশিনগান। হাঁপাচ্ছে এখনও। মেহেদী রঙের ফ্রেঞ্চকাট দাড়ি মুখে।

    চিনতে পারল রানা। মৃদু কণ্ঠে বলল, ‘মশিয়ে ক্লড র‍্যাঁবো।’

    ‘মশিয়ে মাসুদ রানা,’ বললেন ক্লড রাবো।

    ‘আমাকে চিনলেন কিভাবে?’

    ‘রূপা এখন আমার বাড়িতে,’ সংক্ষিপ্ত উত্তর দিলেন ক্লড র‍্যাঁবো। ‘উ সেন…?’ শেষ। কিন্তু আপনি এখানে?’

    জাঁ থেরিকে অনুসরণ করে।’

    ক্লড র‍্যাঁবোর কপাল লক্ষ্য করে ধরে আছে রিভলভারটা রানা। ‘মশিয়ে, হাতের ওটা এবার ফেলে দিন।’

    মুচকি হাসলেন ক্লড র‍্যাঁবো। বাঁ হাতে সাবমেশিনগানটা উল্টো করে ধরে বাড়িয়ে দিলেন রানার দিকে। বললেন, ‘আপনার কাজে লাগতে পারে।’

    ‘ধন্যবাদ, লাগবে না। ফ্রেঞ্চ প্রশাসন কি তাহলে…’

    চোখ খুলে গেছে আমাদের,’ বললেন ক্লড র‍্যাঁবো। ‘ইউনিয়ন কর্স এতটা বেড়ে গেছে, জানা ছিল না আমাদের। আমি মনে করি, আত্মরক্ষার জন্যে আপনি যা করেছেন, ঠিকই করেছেন। কংগ্রাচুলেশনস্!’ চোখে চোখ রেখে দুই গোয়েন্দা পরস্পরের দিকে তাকিয়ে রইল তিন সেকেন্ড। রিভলভারটা পকেটে ভরে ডান সেই হাতটা বাড়িয়ে দিল রানা। বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ গোয়েন্দা হাত রাখলেন বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ গুপ্তচরের হাতে। মৃদু হেসে বললেন ক্লড র‍্যাঁবো, ‘আপনার কাজ শেষ, কিন্তু আমাদের কাজ সবে শুরু হলো।’

    ‘মানে?’

    মাথাটাকে কেটে ফেলে দিয়েছেন আপনি, এবার গাছের ডালপালা আর শিকড়গুলো ধ্বংস করব আমরা।’ হঠাৎ ব্যস্ত হয়ে উঠলেন ক্লড র‍্যাঁবো। দেরি করিয়ে দিচ্ছি…এক্ষুণি আপনার পালানো দরকার…’

    মুচকি হাসল রানা, বলল, ‘আপনারও। এখানে এই অবস্থায় ধরতে পারলে চার হাত-পা ধরে টেনে ছিঁড়ে ফেলবে ওরা আপনাকে।’

    ‘জানি। পালাবার পথও ভেবে রেখেছি। আসুন আমার সাথে।’

    ‘নিঃসন্দেহে বলতে পারি আপনার চেয়ে আমার পথটা বেশি নিরাপদ,’ বলল রানা।

    হেসে ফেললেন ক্লড র‍্যাঁবো। বললেন, ‘মানি। এ কদিন যা খেলা দেখিয়েছেন…পালাবার ব্যাপারে আপনার ওপর নিশ্চিন্তে নির্ভর করা যায়। তবে, এই মুহূর্তে সারা প্যারিসে একমাত্র আমিই দিতে পারি আপনাকে নিরাপদ আশ্রয়। চলুন। পথ দেখান। ‘

    দ্রুত পায়ে সিঁড়ি বেয়ে নামছে রানা।

    পিছনে ক্লড র‍্যাঁবো।

    ***

    ⤶
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমাসুদ রানা ১৫৯-১৬০ – আবার উ সেন (দুইখণ্ড একত্রে)
    Next Article মাসুদ রানা ৪৬৭ – শকওয়েভ

    Related Articles

    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৩৮৫-৩৮৬ – হ্যাকার (দুই খণ্ড একত্রে)

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫৬ – টপ টেরর

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫৪ – নরপশু

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫৩ – ধর্মগুরু

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫২ – কালো কুয়াশা

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫১ – মায়া মন্দির

    July 22, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }