Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মাসুদ রানা ০৭২-৭৩ – সেই উ সেন (দুই খণ্ড একত্রে)

    কাজী আনোয়ার হোসেন এক পাতা গল্প438 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সেই উ সেন – ১.৬

    ছয়

    দুপুর। গার দ্যু নর্দ প্রায় নির্জন স্টেশন। রানাকে নিয়ে বিদ্যুৎবেগে ছুটে এসে থামল বারব্যান্ট এক্সপ্রেস ট্রেন। ট্যাক্সি নিয়ে প্যালেস দি লা ম্যাডেলিন ছাড়িয়ে ছোট কিন্তু সুরম্য একটা হোটেলে উঠল ও। সুপরিচিত এলাকার বিখ্যাত হোটেলগুলো এড়িয়ে যাবার অন্যতম কারণ, বেশ ক’দিন প্যারিসে থাকতে হবে ওকে, এ-সময় পরিচিত কারও চোখে পড়ে যেতে চায় না ও। রিসেপশনিস্টের সামনে কোন মেয়ে যদি হঠাৎ চিনতে পেরে ‘হাই রানা’ বলে কান ফাটায়, চোখ কপালে উঠে যাবে রিসেপশনিস্টের, কেননা রানা খাতায় নিজের নাম লিখিয়েছে অরগ্যান হিসেবে।

    প্যারিসে পা দিয়েই একটা স্ট্রীট ম্যাপ কিনে নিয়েছে রানা। যে-সব বিশেষ বিশেষ জায়গা ঘুরে ফিরে দেখার ইচ্ছে, নামগুলো একটা নোটবুকে টুকে নিয়েছে। গতিবিধি এবং আচরণে নতুন ট্যুরিস্টদের স্বভাব বজায় রাখার চেষ্টা করছে ও উৎসাহী, মুগ্ধ একজন ট্যুরিস্টের মতই ঐতিহাসিক দর্শনীয় জায়গাগুলো নিয়মিত দেখতে যায়, তন্ময় হয়ে উপভোগ করে স্থাপত্য-শিল্পের মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য।

    প্রথমে ধরল আর্ক ডি ট্রায়াম্পকে। ঘুরে ফিরে মনুমেন্ট দেখে অথবা কাফে দে এলিসিতে বসে প্লেস দে ইতোয়লিকে ঘিরে আকাশ ছুঁয়ে দাঁড়িয়ে থাকা দালানগুলোর কার্নিস, ছাদ, উপরতলার সার সার জানালার গায়ে চোখ বুলায়। ঘন্টার পর ঘণ্টা বসে কফির কাপে চামচ দিয়ে চিনি নাড়ছে আর মনে মনে হিসেব কয়ছে উপরতলা থেকে আর্কের নিচের ইটারন্যাল ফ্রেমের দূরত্ব, অ্যাঙ্গেলস অভ ফায়ার, গুলি করে নিরাপদে কেটে পড়ার উপায়। এই চিরঞ্জীব অগ্নিশিখা দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে নিহত ফ্রেঞ্চ সৈন্যদের ত্যাগ এবং অসমসাহসের প্রতি সম্মানস্বরূপ জ্বালানো হয়েছে। নিহতরা অধিকাংশই কর্সিকান, তাই রীতি অনুযায়ী অভিষেক অনুষ্ঠান শেষ করেই নতুন কাপ, দ্বিতীয়বার তিন বছর মেয়াদের জন্যে নির্বাচিত উ সেন, এখানে একবার আসবে ইউনিয়ন কর্মের শহীদ সদস্যদের প্রতি তার শ্রদ্ধার্ঘ্য জ্ঞাপনের জন্যে।

    তিনদিন পর জায়গাটার সুবিধে অসুবিধে যোগ বিয়োগ করল রানা, ফলাফল সুবিধের নয় দেখে নিরাশ হলো। চতুর্থ দিন সকালে নতুন দ্রষ্টব্য স্থানের দিকে রওনা

    হলো সে।

    মন্ত ভ্যালেরিনে শহীদ ফ্রেঞ্চ রেজিস্ট্যান্স বাহিনীর গণকবরে এল রানা হাতে এক তোড়া ফুল নিয়ে, সাথে জুটিয়ে নিল একজন গাইডকে। প্রায় কিছুই শুনছে না ও, তবু দেড় মিনিটেই বকবক করে মাথা ধরাবার কারণ হয়ে দাঁড়াল লোকটা। গাইডরা সবাই জানলেও, ইউনিয়ন কর্সের কাপু অভিষেক শেষ করে এই শহীদ মিনারে ফুল দিতে আসে একথাটা অপ্রাসঙ্গিক বলেই তারা কেউ ট্যুরিস্টদেরকে জানাতে উৎসাহবোধ করে না। কিন্তু রানা বুদ্ধি করে একজন কর্সিকান গাইডকে বেছে নিয়েছে। কর্সিকান মাত্রই ইউনিয়ন কর্সের সদস্য, তা হয়তো নয়। কিন্তু এই জায়গার গুরুত্ব বিবেচনা করে এবং অভিষেক অনুষ্ঠানের নির্ধারিত সময় ঘনিয়ে আলায় ইউনিয়ন কর্স নিজেদের লোককে এখানে রাখবেই। দেখা গেল, রানার অনুমান মিথ্যে নয়। রানিং কমেন্ট্রি হঠাৎ হোঁচট খেয়ে থেমে গেল, গাইড খুব নিচু গলায়, প্রায় ফিস ফিস করে বলল, ‘মশিয়ের কি জানা আছে, ফ্রেঞ্চ রেজিস্ট্যান্সে শতকরা ষাটজন ছিল কর্সিকা দ্বীপের বাসিন্দা? সেজন্যে কর্সিকানরা গর্বিত। ওদের আঞ্চলিক প্রতিষ্ঠান, বিশ্বজোড়া যার নাম ছড়িয়ে আছে, সেই ইউনিয়ন কর্সের প্রধান কাপু স্বয়ং এখানে আসেন শহীদদের প্রতি কর্সিকানদের শ্রদ্ধা জানাবার জন্যে।’

    রানা কোনরকম আগ্রহ দেখাল না। শহীদ মিনারে ঢোকার পর পরই পাশের জেলখানার উঁচু পাঁচিলটা দেখে মন খারাপ হয়ে গেছে ওর। চারদিকের উঁচু বিল্ডিংগুলোর ছাদ থেকে শহীদ মিনারের মাঝারি আকারের চাতালটাকে আড়াল করে রেখেছে পাঁচিলটা। এই চাতালে দাঁড়িয়েই এক মিনিট মৌনতা অবলম্বন করে শহীদদের প্রতি সম্মান দেখাবে কাপু উ সেন। কিন্তু বাইরের কোন বহুতলা বাড়ির ছাদ থেকে তাকে দেখা যাবে না। একঘণ্টা পর গাইডকে বিদায় করে দিয়ে বেরিয়ে এল রানা।

    প্লেস দে ইনভ্যালিড-এ এল রানা। দক্ষিণ দিকে প্রকাণ্ড হোটেল দি ইনভ্যালিড। এখানে নেপোলিয়নের কবর রয়েছে। বিশাল চৌরাস্তার পশ্চিম দিকটা সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করল রানার দৃষ্টিকে। রু ফ্যাবার্ত খুদে তেকোণা প্লেস দে সান্তিয়াগো দ্যু বিলির সাথে যেখানে মিশেছে, এককোণে একটা কাফেতে বসে পুরো একটা সকাল কাটাল রানা। ওর ঠিক মাথার উপর সাত কি আট তলা বিল্ডিংটা ১৪৬নং রু দে গ্রেনেল। দুই রাস্তার কোণে শেষ বাড়ি এটা। এর সামনেই রু দে গ্রেনেল রু ফ্যাবার্তের সাথে নব্বুই ডিগ্রী কোণ সৃষ্টি করে মিশেছে। বাড়িটার উপরতলা থেকে একজন অস্ত্রধারী, হিসাব কষে অনুমান করল রানা, বাগানের সামনের ভাগ, ভিতরের চাতালে ঢোকার প্রবেশ পথ, প্রায় সবটা প্লেস দি ইনভ্যালিড এবং দুই কি তিনটে রাস্তা গুলি করার আওতায় পেতে পারে। হাতের পাঁচ হিসেবে জায়গাটা উত্তরে যেতে পারে, কিন্তু বাধ্য না হলে এখান থেকে গুলি করবে না রানা। বাড়িটার যে-কোন প্রান্তে ছাদ বা জানালা থেকে পার্কিং এলাকা, প্রবেশ পথ, চাতাল, বাগান, কবর এবং রাস্তার দূরত্ব দুশো মিটারেরও বেশি। প্লেস দে সান্তিয়াগোর গায়ে প্রায় গা ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে লাইম গাছগুলো, ১৪৬ নং বাড়িটার নিচের তলায় জানালায় দাঁড়ালে দৃষ্টিপথকে বাধা দেবে বিশাল ছাতার মত একটা শাখা, সেটার উপর বসে সাদা ফুলের মত পালক ছড়াচ্ছে ভওবান-এর স্ট্যাচুর কাঁধে ঝাঁক ঝাঁক কবুতর। কফির দাম চুকিয়ে দিয়ে কেটে পড়ল রানা।

    একটা দিন কাটল নটরডেম ক্যাথেড্রালে। গলি, তস্য গলি, বাঁকানো লোহার সিঁড়ি, বাড়ির ছাদ, চিলেকোঠা – বিভিন্ন জায়গা থেকে ক্যাথেড্রালে ঢোকার জায়গাটাকে পরীক্ষা করল রানা। উৎসাহিত হবার মত একটা জায়গাও চোখে পড়ল না। সম্ভাব্য প্রতিটি জায়গাই খুব কাছে হয়ে যাচ্ছে। আবার প্লেস দ্য পারভিসের ছাদটা থেকে দূরত্ব প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি।

    আজ সেপ্টেম্বরের আটাশ তারিখ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় সব শেষে এল রানা। রু দি রেনেস-এর দক্ষিণ প্রান্তের চৌরাস্তা এটা। আগের নাম ছিল প্লেস দে রেনেস, সিটি হলের ক্ষমতা গলিস্টদের হাতে আসার পর এই চৌরাস্তার নতুন নামকরণ করা হয়েছে, Place du 18 Ju।n 1940. একটা প্রাসাদোপম বাড়ির দেয়ালে সাদা মার্বেল পাথরের উপর কালো হরফে নামফলক, সেটার পাশে এসে দাঁড়াল রানা।

    এই চৌরাস্তার সাথে জড়িয়ে আছে যুদ্ধের বেদনাদায়ক স্মৃতি। দক্ষিণ দিকে বিশালকায় কচ্ছপের মত গুঁড়ি মেরে রয়েছে রেলওয়ে স্টেশন গার মন্তপারনাস। ধীরে ধীরে চোখ বুলিয়ে নিচ্ছে রানা কংক্রিটের অতিকায় টারমাকের উপর। সার সার অসংখ্য যানবাহন মাকড়সার জালের মত জটিলতার সৃষ্টি করছে, হুড়মুড় করে গিয়ে পড়ছে বুলেভার্ড দে মন্তপারনাস, রুডি ওডেসা এবং রু দি রেনেস থেকেও অবিরাম স্রোতের মত যানবাহন বেরিয়ে এসে যোগ দিচ্ছে একই রাস্তায়, বুলেভার্ড দে মন্ত্রপারনেসে। ঘাড় ফিরিয়ে রু দে রেনেসের দু’পাশে দাঁড়ানো লম্বা, উঁচু দালানগুলোর দিকে তাকাল রানা। উঁচু দালানের উপরতলা থেকে চৌরাস্তাটা দেখা যায়। ধীরে ধীরে দক্ষিণ দিকে ফিরিয়ে আনল দৃষ্টি। স্টেশনের মস্ত এলাকা, রেলিং দিয়ে ঘেরা। প্রতিদিন গেটের ভিতরে ঢোকে হাজার হাজার গাড়ি, ট্রেন-যাত্রীদের নামিয়ে দেয়, তুলে নিয়ে বেরিয়ে আসে। একলক্ষ যাত্রী রোজ আসা যাওয়া করে এই স্টেশনে। প্যারিসের মেইন লাইন স্টেশনগুলোর মধ্যে এটা একটা। আগামী শীতে এই কোলাহল, এত ব্যস্ততা সব থেমে যাবে। এর ধোঁয়াটে ছায়ায় কত দিনের কত ঐতিহাসিক, ব্যক্তিগত স্মৃতি জমা হয়ে আছে, সব চিরকালের জন্যে মুছে সাফ হয়ে যাবে। পৌর পিতাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইতোমধ্যেই নতুন স্টেশন তৈরি করা হয়ে গেছে, পুরানোটাকে ধ্বংস করে ফেলা হবে।

    রেলিংয়ের দিকে পিছন ফিরল রানা, নিচের রু দে রেনেস থেকে বেরিয়ে আসা চলমান চওড়া, সুদীর্ঘ যানবাহনের সারিগুলোর দিকে তাকাল। প্লেস দ্যু এইটিন জুন, নাইনটিন-ফরটির দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে আছে ও। জানে, ইউনিয়ন কর্সের কাপু অভিষেকের নির্ধারিত দিনে শেষবারের মত এই জায়গাতে আসবেই। এক হপ্তা ধরে যে ক’টা জায়গা দেখেছে ও, প্রত্যেকটি জায়গাতে আসার সম্ভাবনা আছে কাপুর, কিন্তু কোন কারণ দেখা দিলে শেষ মুহূর্তে ওসব জায়গায় সে নিজে না গিয়ে প্রতিনিধি পাঠিয়েও আনুষ্ঠানিকতা সারতে পারে। কিন্তু এই জায়গার কথা আলাদা। কাপুকে এখানে আসতেই হবে: প্রতি তিন বছর পর পর, তিনশো বছর ধরে, এই জায়গায় অনুষ্ঠিত হয়ে এসেছে ইউনিয়ন কর্মের অভিষেক অনুষ্ঠান। নির্বাচিত কাপু এইখানে দাঁড়িয়ে শপথ নেবেন, সদস্যদের বীরত্বের স্বীকৃতি হিসেবে পদক দেবেন। আজ পর্যন্ত এই ব্যতিক্রম হতে দেখেনি কেউ। কাপু অসুস্থ হোক, তার জীবন বিপন্ন হোক, প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিক—কিছুতেই কিছু এসে যাবে না-সে আসবেই।

    রু দে রেনেস-এর পশ্চিম প্রান্তের শেষ বাড়িটার সবচেয়ে উপরের তলা থেকে স্টেশনের সম্মুখ চাতালের দূরত্ব একশো তিরিশ মিটার। এলাকার কোণে দাঁড়ানো দুটো বাড়ির যে-কোন একটা বেছে নিতে হবে ওকে। উত্তর প্রান্তের প্রথম তিনটে বাড়ির উপরতলা থেকেও সম্মুখ চাতাল ফায়ারিং রেঞ্জের আওতায় পড়বে, কিন্তু ফায়ারিং অ্যাঙ্গেল নাক বরাবর না হয়ে বেশ খানিকটা কোনাকুনি হয়ে যায়। ওগুলোর পিছনে যে ক’টা বাড়ি রয়েছে, প্রতিটি সম্মুখ চাতাল থেকে অতিরিক্ত দূরে, সুতরাং বাতিল। বুলেভার্ড দে মন্তপারনাস-এর মুখের প্রথম তিনটে বাড়ির ব্যাপারটাও তাই। রাস্তাটা পুব দিক থেকে এসে চৌরাস্তার মাঝখান দিয়ে পশ্চিম দিকে চলে গেছে। প্রথম বাড়ি তিনটের যে-কোন একটা বেছে নিতে পারা যায়, কিন্তু সরাসরি নয়, কোনাকুনিভাবে রাইফেল তাক করে গুলি করতে হবে। এগুলোর পিছনের প্রতিটি বাড়ি অনেক বেশি দূর। রু দে রেনেস-এর পশ্চিম প্রান্তের দুটো দালান ছাড়া সম্মুখ চাতালটার কাছাকাছি আরেকটা মাত্র বিল্ডিং রয়েছে, সেটা স্টেশন বিল্ডিং। উপরের অফিস কামরার জানালাগুলোয় দাঁড়িয়ে থাকবে সশস্ত্র কর্সিকান গার্ড, কোন সন্দেহ নেই। সুতরাং, ওটাও বাদ।

    পুব দিকের কোণে একটা কাফেতে গিয়ে বসল রানা। রু দি রেঁনেস-এর পশ্চিম প্রান্তের দালান তিনটে খুঁটিয়ে দেখে নিতে চাইছে ও। খোলা টেরেসে বসে আছে, কয়েক ফিট সামনে দিয়ে সগর্জনে তীর বেগে ছুটে যাচ্ছে যানবাহনের দীর্ঘ মিছিল। কফির অর্ডার দিল ও। সিগারেট ধরাল। রাস্তার অপর দিকের বাড়িগুলো দেখছে। হকারের কাছ থেকে খবরের কাগজ কিনল একটু পর। আবার কফির অর্ডার দিল। পড়ার ভান করে সামনে ধরে আছে কাগজটা, তাকিয়ে আছে রাস্তার ওপারে। তিন ঘণ্টা পর উঠল ও। শেষ প্রান্তের একটা রেস্তোরাঁয় বসে লাঞ্চ খাবার সময় পুব দিকের বাড়িগুলোর সম্মুখ ভাগ দেখে নিল। বিকেলটা এদিক থেকে ওদিকে হাঁটা-হাঁটি করে সম্ভাবনা হিসেবে যেগুলোকে বেছে নিয়েছে সেই দালানগুলোর সদর দরজার কাছ থেকে নিরীখ করে নিল। ধুলেভার্ড দে মন্তপারনাস-এর দিকে মুখ করে দাঁড়ানো বাড়িগুলোও কাছ থেকে দেখল ও। এগুলো সব অফিস বিল্ডিং, তৈরি, লোকজনের ব্যস্ততা খুব বেশি। নির্দিষ্ট তারিখের আগের দিনই অবশ্য গোটা এলাকার প্রায় সব ক’টা বাড়ি, অফিস বিল্ডিং খালি করার নির্দেশ দেয়া হবে। বাড়ি আর অফিস বিল্ডিংগুলোর মালিক ধনী কর্সিকানরা। কোনটা জায়গা কিনে তৈরি করা, কোনটা সরকারের কাছ থেকে লীজ নেয়া।

    পরদিন আবার ফিরে এল রানা। দালানগুলোর সামনে দিয়ে হেঁটে এগিয়ে গেল, রাস্তা পেরিয়ে পেভমেন্টের একটা বেঞ্চে গাছের ছায়ায় বসল। ঠোঁটে সিগারেট, হাতে খবরের কাগজ, চোখের দৃষ্টি বাড়িগুলোর উপরতলার সম্মুখভাগে। পাঁচ কি ছয়তলা পর্যন্ত পাথর দিয়ে মোড়া, মাথার উপর লম্বা প্রাচীরের মত প্যারাপেট, তার উপর থেকে অত্যন্ত খাড়া ভাবে ঢালু কালো টালির ছাদ উঠে গেছে. চিলেকোঠাটাকে নিজের ছত্রছায়ায় নিয়ে। প্রাচীরের গায়ে লম্বা লম্বা ফাটল দেখা যাচ্ছে, ওগুলো জানালা। এক কালে চাকরবাকরদের কোয়ার্টার ছিল এগুলো। আজকাল গ্রীব পেনশন ভোগীরা থাকে, বাকিগুলো বেসরকারী ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠানের অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ছাদ এবং জানালার উপর তীক্ষ্ণ নজর রাখা হবে সেদিন, ভাবল রানা। ছাদে সশস্ত্র প্রহরী থাকাও বিচিত্র নয়। চিমনিগুলোর আড়ালে গুঁড়ি মেরে বসে থাকবে, বিনকিউলার দিয়ে নজর রাখবে উল্টো দিকের ছাদ আর জানালার দিকে। কিন্তু চিলেকোঠার নিচের ফ্লোরটা যথেষ্ট উঁচু, একজন লোক একটা কামরার অনেকটা ভিতরে অন্ধকারে বসে থাকলে উল্টোদিকের রাস্তা থেকে তাকে দেখতে পাবে না কেউ। একটু গরম পড়বে তখন, তাতে খোলা জানালা কারও মনে সন্দেহেরও উদ্রেক করবে না।

    কিন্তু কামরার খুব বেশি ভির দিকে বসলে অ্যাঙ্গেল অভ ফায়ার অনেকটা আড়াআড়ি হয়ে যাবে, কেননা স্টেশনের সম্মুখ চাতালটা জানালার ঠিক সরাসরি উল্টো দিকে নয়, বেশ একটু এক পাশ ঘেঁষে। তাই রু দি রেনেস-এর দু’দিকের রাস্তার তৃতীয় বাড়ি দুটোর আশা ছেড়ে দিল রানা। অনেক কোনাকুনিভাবে গুলি ছুড়তে হবে।

    হাতে এখন থাকল চারটে বাড়ি, এগুলোর মধ্যে থেকেই যে-কোন একটাকে বেছে নিতে হবে। বিকেলের মাঝামাঝি সময়ে গুলি করার সুযোগ পাবে বলে আশা করছে ও, সূর্য তখন পশ্চিম দিকে ঢলে পড়লেও তখনও আকাশের বেশ উপরে থাকবে, অন্তত স্টেশনের ছাদের উপরে তো থাকবেই—তার মানে, পুব ধারের বাড়িগুলোর জানালা দিয়ে রোদ ঢুকবে তখনও। ভেবেচিন্তে পশ্চিম দিকের দুটো বাড়ির যে-কোন একটা বেছে নেবার সিদ্ধান্ত নিল ও।

    ঊনত্রিশে সেপ্টেম্বর, বিকেল চারটে পর্যন্ত অপেক্ষা করল রানা। লক্ষ করল, পশ্চিম দিকের উপরতলার জানালা গলে সরু এক আধ ফালি রোদ ঢুকছে, কিন্তু একই সময়ে পুব দিকের বাড়িগুলোর পা থেকে মাথা পর্যন্ত ঝাঁ ঝাঁ রোদে পুড়ছে।

    পরদিন দরজা আগলে বসে থাকা বুড়ীটাকে চোখে পড়ল রানার। ফ্ল্যাট সিস্টেমে ভাড়া দেয়া দুটো ব্লকের সদর দরজার কাছ থেকে কয়েক ফিট দূরে একটা বেঞ্চে বসে আছে ও। ওর পিছনে পেভমেন্ট, অসংখ্য লোকজন যাওয়া-আসা করছে। পেভমেন্টের পরই বাড়িটার দরজা। দরজার বাইরে একটা টুলে বসে আছে ভীষণ মোটা বুড়ী। প্যারিসের বাড়িওয়ালারা দরজা পাহারা দেবার জন্যে পঙ্গু লোক এবং বৃদ্ধা মহিলাকেই পছন্দ করে, অন্যতম কারণ এদেরকে স্বল্প বেতন দিলেই চলে। বুড়ী এদিক ওদিক তাকাচ্ছে না। মাথা নিচু করে উল বুনছে।

    একবার কাছের একটা কাফে থেকে একজন ওয়েটার এসে ফ্লাস্ক ভর্তি গরম কফি দিয়ে গেল বুড়ীকে। দু’মিনিট গল্প করে গেল সে। বুড়ীর নাম মাদাম আৰ্থা, বিশ ফিট দূর থেকেও শুনতে পেল রানা।

    বাড়ির ভিতর যারা ঢুকছে এবং বেরোচ্ছে, সবার সাথে সুন্দর সম্পর্ক বুড়ীর। কয়েক মুহূর্ত দাঁড়িয়ে প্রায় সবাই জেনে নিচ্ছে বুড়ীর কুশল, বুড়ীও দাঁতহীন মাড়ি বের করে হাসছে, মাথা নাড়ছে, কুশলাদি জিজ্ঞেস করছে। বেলা দুটোর সময় কোত্থেকে এল কালো একটা বিড়াল। তাকে দেখেই একগাল হাসল মাদাম আর্থা। টুল থেকে নেমে দরজা পেরিয়ে সিঁড়ির নিচের জায়গাটায় মাথা নিচু করে ঢুকে গেল. সাথে সাথে বেরিয়ে এল হাতে এক বাটি দুধ নিয়ে। পেভমেন্টের উপর বাটিটা রাখতেই বিড়ালটা দুধ খেতে শুরু করল। তৃপ্তি ফুটে উঠল বুড়ীর দুই চোখে বিড়ালটার খাওয়া মন ভরে দেখছে।

    চারটে বাজার একটু আগে উল বোনার সরঞ্জাম মস্ত ঘেরওয়ালা গাউনের সাইড পকেটে ঢুকিয়ে উঠে দাঁড়াল মাদাম আর্থা। ছোট ছোট পা ফেলে পেভমেন্টের উপর দিয়ে হেঁটে একটা কনফেকশনারীর দোকানে গিয়ে ঢুকল। ঘাড় ফিরিয়ে বুড়ীকে অদৃশ্য হয়ে যেতে দেখে শান্তভাবে উঠে দাঁড়াল রানা। পেভমেন্টে ফেলে জুতো দিয়ে চেপে মারল সিগারেটটা, এই ফাঁকে দু’দিকটা দেখে নিল ভাল করে একবার। তারপর সহজ সাবলীল ভঙ্গিতে হেঁটে ঢুকে পড়ল অ্যাপার্টমেন্ট ব্লকে। এলিভেটরে না চড়ে সিঁড়িটা বেছে নিল ও। নিঃশব্দ পায়ে উপরে উঠছে!

    এলিভেটর শ্যাফটটাকে চক্কর মেরে উঠে গেছে সিঁড়িটা। প্রতিটি বাঁকে সিঁড়ির শেষ হয়ে গেছে ছোট্ট একটা হাফ ল্যান্ডিংয়ে পৌঁছে। প্রতি একতলা পর পর এই হাফ ল্যান্ডিংয়ের পিছনের দেয়ালে একটা করে দরজা, দরজার ওপারে স্টীলের ফায়ারএস্কেপ। পাঁচ এবং ছয়তলার মাঝখানে হাফ ল্যান্ডিংয়ে পৌঁছে পিছনের দরজাটা খুলে নিচের দিকে তাকাল রানা। ভিতরের একটা উঠানে গিয়ে নেমেছে ফায়ারএস্কেপের সিঁড়ি। উঠানটার চারদিকে অন্যান্য ব্লকের খিড়কী দরজা রয়েছে। যা কিছু দেখার দেখে নিয়ে দরজাটা নিঃশব্দে বন্ধ করে দিল রানা, জায়গা মত তুলে দিল সেফটি বারটা, তারপর হাফ ল্যান্ডিং থেকে কয়েকটা সিঁড়ি টপকে ছয়তলায় পৌঁছল। প্যাসেজের শেষ প্রান্তে বেশ চওড়া একটা সিঁড়ি দেখা যাচ্ছে, উঠে গেছে চিলেকোঠার দিকে। প্যাসেজের এক দিকে দুটো দরজা দেখা যাচ্ছে, এই ফ্ল্যাট দুটো থেকে ভিতরে উঠান দেখা যায়, অনুমান করল রানা। প্যাসেজের আরেক ধারে আরও দুটো দরজা, দরজার ভিতরের এই দুটো ফ্ল্যাট বাড়ির সম্মুখভাগের অংশ। দিক সম্পর্কে ওর অনুমান যদি সঠিক হয়, তাহলে, ভাবছে রানা, সামনের এই দুটো ফ্ল্যাটের জানালা দিয়ে নিচে তাকালে রু দি রেনেস দেখা যাবে, খানিকটা পাশে দেখা যাবে চৌরাস্তা এবং তার পিছনে স্টেশনের সম্মুখ চাতাল। নিচে থেকে কদিন ধরে এই ফ্ল্যাট দুটোর জানালার উপরই নজর রাখছে সে।

    দরজায় কান পেতে অপেক্ষা করল রানা, কিন্তু দুটো ফ্ল্যাটের কোনটা থেকেই কোন শব্দ পেল না। তালা দুটো নেড়েচেড়ে পরীক্ষা করল। কাঠের ভিতর ঢোকানো, এবং দরজার কাঠও খুব মজবুত। কী-হোলে চোখ রেখে দেখল ও। চাবি ছাড়া খোলা অসম্ভব, দুটো তালাই ডাবল লকিং ধরনের। মাদাম আর্থার হাতে কালো ছোট্ট একটা পুরানো হাতব্যাগ দেখেছে ও, সেটায় প্রতিটা ফ্ল্যাটের একটা করে চাবি থাকার কথা, ভাবল ও।

    কয়েক মুহূর্ত পর সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে এল রানা। ব্লকে ঢুকেছে পাঁচ মিনিটের বেশি হয়নি, কিন্তু এরই মধ্যে বুড়ী ফিরে এসেছে নিজের আস্তানায়। সিঁড়ির নিচে ছোট্ট একটা ঘর, দরজার ঝাপসা কাঁচ ভেদ করে ভিতরে চলে গেল ওর দৃষ্টি। চেয়ারে বসে রুটিতে মাখন অথবা জেলি লেপছে বুড়ী, অস্পষ্টভাবে দেখতে পেল। নিঃশব্দ, দীর্ঘ পদক্ষেপে দরজা টপকে বাইরে বেরিয়ে এল রানা।

    বাঁ দিকে মোড় নিয়ে রু দি রেনেসের দিকে এগোচ্ছে ও। অ্যাপার্টমেন্টের আরও দুটো ব্লক এবং একটা পোস্ট-অফিসের পাশ ঘেঁষে এগিয়ে থামল কোণে, তারপর বাঁক নিয়ে সরু একটা রাস্তায় পড়ল। রাস্তাটার নাম রু লিটরে। পোস্ট- অফিসের পাঁচিল ঘেঁষে এগোচ্ছে এখনও সে। পাঁচিলের শেষ মাথায় মাথা-ঢাকা সরু একটা গলি। গলিমুখে দাড়িয়ে একটা সিগারেট ধরাচ্ছে রানা। লাইটারের আগুন মুখের সামনে নাচানাচি করছে, এই ফাঁকে আড়চোখে গলির ভিতরটা দেখে নিচ্ছে ও। গলির গায়ে পোস্ট-অফিসের খিড়কী দরজাটা দেখা যাচ্ছে। শেষ মাথায় একটা রৌদ্র-করোজ্জ্বল উঠান। এক প্রান্তে ফায়ারএস্কেপের শেষ ধাপ ক’টার ছায়া দেখা যাচ্ছে। কষে লম্বা একটা টান মারল সিগারেটে রানা, তারপর সামনে এগোল। গুলি করে কোন্ পথে পালাবে এই প্রশ্নের উত্তর পেয়ে গেছে ও।

    রু লিটরের শেষ মাথায় পৌঁছে আবার বাঁ দিকে মোড় নিল রানা, রু দি ভ্যাগিরাদ ধরে ফিরে এল রাস্তাটা যেখানে বুলেভার্ড দে মন্তপারনাসের সাথে মিলিত হয়েছে। মোড়ের একধারে দাঁড়িয়ে মেইন রোডের এদিক ওদিক তাকাচ্ছে ট্যাক্সির জন্যে, এমন সময় একজন পুলিস মোটরসাইক্লিস্ট তীরবেগে ছুটে এসে ঘ্যাঁচ করে ব্রেক কষে থামল রোড জাংশনে, লাফ দিয়ে নেমে স্ট্যান্ডের উপড় দাঁড় করাল মোটল সাইকেলটাকে, তারপর দু’হাত নেড়ে এবং তীক্ষ্ণ হুইসেল বাজিয়ে সমস্ত যানবাহনকে দাঁড়িয়ে পড়ার সিগন্যাল দিতে শুরু করল। রু দি ভ্যাগিরাদ থেকে বিশাল স্রোতের মত এগিয়ে আসছিল অসংখ্য যানবাহন। মুহূর্তে দাঁড়িয়ে পড়ল সবগুলো। স্টেশনের দিক থেকে বুলেভার্ডের দিকে ছুটে আসছিল আরেকটা যানবাহনের স্রোত, সেটাও স্থির হয়ে গেল। ডিউরক এর দিক থেকে যানবাহনের আরেকটা মিছিল বুলেভার্ডের দিকে আসছে, পুলিস সার্জেন্ট সেটাকে থামার নির্দেশ না দিয়ে হাত নেড়ে রাস্তার ডান দিকে সরে যাবার সিগন্যাল দিচ্ছে। মোটরসাইকেল থেকে তার নামার পর পনেরো সেকেন্ডও পেরোয়নি, এমন সময় ডিউরকের দিক থেকে ভেসে এল সাইরেনের শব্দ। দ্রুত এগিয়ে আসছে আওয়াজটা। কোণে দাঁড়িয়ে ঘাড় ফিরিয়ে বুলেভার্ড দে মন্তপারনাসের দীর্ঘ রাস্তাটার দিকে তাকাল রানা। রাস্তার দু’পাশে দু’লাইনে সার বেঁধে নিশ্চল দাঁড়িয়ে আছে অসংখ্য যানবাহন, মাঝখানটা ফাঁকা। মাত্র ত্রিশ হাত দূরে হঠাৎ একটা মেয়ের উপর চোখ পড়ল রানার। নির্জন পেভমেন্টে একা দাঁড়িয়ে আছে, রানার দিকে পিছন ফিরে। দাঁড়াবার ভঙ্গিটা অত্যন্ত পরিচিত লাগছে। মেয়েটাকে চেনে নাকি সে? বেশ লম্বা মেয়েটা, ক্ষীণ কটি, প্রশস্ত কিন্তু সুগঠিত নিতম্ব, ঝিলিক দিয়ে উঠল স্মৃতিভাণ্ডারে একটা কণা-চিনতে পারছে রানা মেয়েটাকে। সিলভিও পিয়েত্রোর বোন ও, লুইসা পিয়েত্রো। সিলভিওর গ্লাস ফ্যাক্টরি ছিল ভেনিসে, কোসানোস্ট্রার পক্ষে কাজ করত। ভাই-অন্ত-প্রাণ এই লুইসা পিয়েত্রো, কিন্তু ভেনিসে রানাকে দেখে হৃদয়টা মচকে যাওয়ায় সাংঘাতিক দুর্বল হয়ে পড়েছিল সে একবার, তাতে সিলভিও এবং কোসানোস্ট্রাকে বোকা বানাতে বেশ একটু সুবিধে হয়েছিল রানার। এক সেকেন্ডে আরও অনেক কথা মনে পড়ে গেল। দ্রুত এগোল রানা লুইসা পিয়েত্রোর দিকে। দামী মিনি স্কার্ট আর হাফ হাতা ব্লাউজ পরে আছে, হাত দুটো বুকের কাছে আড়াআড়ি ভাবে ভাঁজ করা। দাঁড়িয়ে আছে আশ্চর্য এক দৃঢ়, প্রায় আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে। পাঁচশো গজ আরও সামনে, বাঁক নিয়ে ডিউরকের জাংশনে তীব্রবেগে বেরিয়ে এল এক ঝাঁক মোটরসাইকেল, সেগুলোর ঠিক পিছনেই হুড তোলা কয়েকটা প্রাইভেট কার। মোটরসাইক্লিস্টের মাথায় হলুদ হেলমেট, পরনে বুক খোলা শার্ট, শার্টের ভিতরে দেখা যাচ্ছে শোল্ডার হোলস্টারে গোঁজা রিভলভার! হুড় তোলা প্রতিটি গাড়িতে সামনে দু’জন পিছনে দু’জন আরোহী, প্রত্যেকের কঠোর চেহারা, রাস্তার দু’দিকে তীক্ষ্ণ নজর। হাতগুলো উরুর মাঝখানে পড়ে আছে, প্রয়োজন হলেই কারবাইন তুলে নেবে। প্রাইভেট কারের পিছনে পাশাপাশি এই লাইনে তিনটে গাড়ি, দু’পাশে দুটো হুড তোলা বুইক, মাঝখানে একটা রোলসরয়েস। রোলসরয়েসের পিছনে আরেক ঝাঁক হুড তোলা গাড়ির পাহারা। সেগুলোর পিছনে আবার দশজন মোটরসাইক্লিস্ট। গোটা দলটা সমান গতিতে ছুটে আসছে রাস্তা ধরে রানার দিকে।

    হঠাৎ দাঁড়িয়ে পড়ল রানা। যা ভেবেছিল তা নয়, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট জিসকার দেস্তা আসছেন না। আসছে ইউনিয়ন কর্সের কাপু দোর্দণ্ডপ্রতাপ উ সেন।

    রোলসরয়েসটা কাছে চলে এসেছে। বুলেট প্রুফ জানালার কাঁচ ভেদ করে ভিতরে ঢুকে গেল রানার দৃষ্টি। এক সেকেন্ডের জন্যে উ সেনের মুখটা দেখতে পেল রানা। চোখে গাঢ় রঙের সানগ্লাস। স্যাঁত করে সামনে থেকে বেরিয়ে গেল রোলসরয়েস। ‘এরপর টেলিস্কোপ দিয়ে খুব কাছে এনে মুখটা দেখব তোমার, এবং…’ চিন্তায় বাধা পড়ল রানার। লুইসা মাত্র পাঁচ গজ সামনে দাঁড়িয়ে আছে। রানাকে ছাড়িয়ে চলে গেছে তার দৃষ্টি, এখনও অনুসরণ করছে রোলসরয়েসটাকে। লুইসার চোখ দুটো জ্বলজ্বল করছে তীব্র ঘৃণায়।

    চোখাচোখি হলো এক সেকেন্ডেরও কম সময়ের জন্যে। দৃষ্টি ফিরিয়ে নিল লুইসা পিয়েত্রো, পরমুহূর্তে ঝট্ করে ঘাড় ফিরিয়ে তাকাল আবার। এগিয়ে এল দ্রুত। ক্রোধের জায়গায় বিস্ময় ফুটে উঠেছে চেহারায়। ‘মাই গড! রানা? তুমি এখানে?’

    ‘হ্যাঁ,’ মৃদু হেসে বলল রানা। একটা হাত ধরল লুইসার। ‘তুমিও যেখানে আমিও সেখানে। মনের অবস্থাও দু’জনের একই রকম।’ একটু বিরতি নিল রানা, লক্ষ করল ভুরু কুঁচকে উঠছে লুইসার। তারপর বলল, ‘প্রতিশোধ নেবার কথা ভাবছ, তাই না?’

    ‘মানে?’ হাত ছাড়িয়ে নিল লুইসা, এক পা পিছিয়ে গেল। ‘তোমার কথা আমি কিছুই বুঝতে পারছি না। কি….

    ‘আমি সব জানি,’ মৃদু কণ্ঠে বলল রানা। ‘এখানে নয়, চলো কোথাও গিয়ে বসি।’

    কি সব জানো তুমি? কি যা তা বলছ?’

    ‘তোমার ভাই ছাড়া দুনিয়ায় আর কেউ ছিল না তোমার। সেই ভাইটি আজ নেই। খবরটাই শুধু পেয়েছি আমি. লুইসা। আর কিছু জানি। উ সেনের সাথে লাগতে গেল কেন সিলভিও

    অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে নিল লুইসা। চোখে পানি এসে গেছে। তুমি যাও চাপা গলায় বলল সে। তুমিও তো শত্রু। তুমি যাও, রানা।

    কাঁধ ঝাঁকাল রানা। হ্যাঁ, শত্রুতা ছিল। কিন্তু সিলভিওর সাথে, তোমার সাথে নয়। ঠিক আছে. আমাকে বিশ্বাস করতে যদি ভয় পাও চলে যাচ্ছি! তুমিও ঘরে ফিরে গিয়ে নিশ্চিন্তে অপেক্ষা করো, ব্যবস্থা করছি আমি। অল্পদিনের মধ্যেই সুখবর পাবে।’ কথাগুলো বলে আর দাঁড়াল না রানা, ঘুরে উল্টোদিকে হাঁটা ধরল।

    ‘শোনো।’

    দাঁড়াল রানা। এগিয়ে এল লুইসা। ‘কিসের সুখবরের জন্য অপেক্ষা করব তা তো বললে না?’

    তোমার জন্যে একটা খবরই সুখবর হতে পারে, সেটা কি তা আমি জানি, ‘ বলল রানা, ‘ভেঙে-চুরে বলার দরকার আছে কি?’

    ‘তার মানে তুমিও…তুমিও?’

    ‘হ্যাঁ,’ বলল রানা। ‘আমিও।’

    ‘তোমাকে বিশ্বাস করতে পারি?’

    ‘পারো।’

    রানার হাত ধরল লুইসা। ‘কোথাও নিয়ে চলো আমাকে, বসব।’

    কাছাকাছি একটা কাফেতে ঢুকল ওরা, বসল কোণের এক টেবিলে। কফির অর্ডার দিল রানা। পাশে বসে আছে লুইসা। নিচু গলায় কথা বলছে।

    সিলভিওর সাথে উ সেনের ব্যক্তিগত কোন বিরোধ ছিল না। কোসানোস্ট্রার ড্রাগ বিজনেস ধ্বংস করে দিয়ে বাজারটা দখল করতে চেয়েছিল উ সেন। স্রেফ এই উদ্দেশ্যে সিলভিওকে খুন করেছে সে। ব্যাপারটা ঘটার আগে কিছুই জানা যায়নি। ঘটার পরও হত্যাকাণ্ডের রহস্য মীমাংসা করতে পারেনি কোসানোস্ট্রা। প্রায় তিন মাস চেষ্টা করে ব্যক্তিগতভাবে এটুকু জানতে পেরেছে লুইসা। কিভাবে?

    রানার প্রশ্ন শুনে এদিক ওদিক মাথা দোলাল লুইসা। ‘অনেক বলে ফেলেছি। এবার তোমার কথা শুনব। উ সেনের ওপর তোমার কিসের রাগ? কি করতে চাইছ তুমি?’

    কফি দিয়ে চলে গেল ওয়েটার।

    ‘দুঃখিত, লুইসা,’ সিগারেট ধরিয়ে বলল। ‘রাগের কারণটা বলতে পারি, কিন্তু কি করতে যাচ্ছি তা বলতে পারি না। তোমাকে বিশ্বাস করি না, তা নয়। আমি কোন রকম ঝুঁকি নিতে চাই না।’

    মুখটা কালো হয়ে গেল লুইসার। ‘সব কথা শুনলে আমি হয়তো তোমাকে সাহায্য করতে পারতাম।

    ‘সাহায্য করার অবস্থায় আছ নাকি?’

    ‘আছি,’ চাপা, কিন্তু দৃঢ় গলায় বলল লুইসা পিয়েত্রো।

    কাজের মেয়ে,’ প্রশংসার সুরে বলল রানা। ‘সাহায্য করতে চাওয়ার জন্যে ধন্যবাদ। কোন সাহায্য আমার দরকার হবে না। আমি একাই পারব।’

    আমি বিশ্বাস করি না।’ স্পষ্ট জানিয়ে দিল মেয়েটা। উ সেনকে তুমি আন্ডারএস্টিমেট করছ। ওর ক্ষমতা সম্পর্কে তোমার কোন ধারণাই নেই। তোমার মত এক হাজার মাসুদ রানাকে জুতার তলায় পিষে মারতে এক ঘণ্টার বেশি লাগবে না ওর। তুমি…’

    আঁতকে উঠল রানা। ‘থাক, থাক। রীতিমত ভয় লাগছে, আর শুনতে চাই না।’ কথা শেষ করেই হোঃ হোঃ করে হেসে উঠল নিজের রসিকতায়।

    ভুরু কুঁচকে রানাকে তীক্ষ্ণ চোখে দেখছে লুইসা। একটু সঙ্কোচের সাথে বলল। ‘না, উ সেন সম্পর্কে তোমার কোন ভুল ধারণা থাকতে পারে না, আমারই ভুল হয়েছে। কিন্তু….

    বাড়ি গিয়ে নাক ডেকে ঘুমাও,’ বলল রানা। ‘এর বেশি তোমাকে কিছু বলার নেই আমার, মনোবাঞ্ছা পূরণ হবে অচিরেই। এসো, উঠি এবার।

    ‘এক মিনিট,’ দ্রুত বলল লুইসা। ‘ঠিক আছে, কিভাবে কি করতে যাচ্ছ শুনতে চাইব না। কিন্তু বিশ্বাস করো, তোমাকে আমি সাহায্য করতে পারি। কিভাবে, তা খানিকটা শুনলেই বুঝতে পারবে তুমি।

    ‘বেশ। শুনতে আপত্তি নেই।

    ফ্রেঞ্চ সুরেতের কর্নেল প্যাপেনের নাম শুনেছ?’

    ‘সুরেতের অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর জেনারেল,’ ভুরু একটু কুঁচকে উঠেছে রানার। ‘মেয়েদের ব্যাপারে দুর্বল বলে বদনাম আছে।

    ঠিক ধরেছ। ওকে গেঁথেছি আমি। হাবুডুবু খাচ্ছে আমার প্রেমে। এবার বুঝেছ?’

    খানিকক্ষণ চিন্তা করল রানা। তারপর বলল, উঁহুঁ, তেমন কোন সাহায্য তুমি করতে পারবে না। তবু, ছোট্ট একটা অ্যাসাইনমেন্ট দেব তোমাকে। টেলিফোনে যোগাযোগ করা যাবে তোমার সাথে?’

    ‘যাবে,’ বলল লুইসা।

    ‘নাম্বারটা দাও আমাকে। আমি লন্ডন থেকে যোগাযোগ করব তোমার সাথে। কথাবার্তা হবে না, শুধু একটা টেলিফোন নাম্বার দেব তোমাকে। কোথাও টুকে রেখো না, মনে রেখো শুধু। ফ্রেঞ্চ পুলিসের গতিবিধি যদি আমার বিরুদ্ধে যায়, এবং সে সম্পর্কে জরুরী কোন তথ্য যদি জানতে পারো, শুধু তখনই ওই নাম্বারে ডায়াল করে জানাবে। অপর প্রান্তে কেউ রিসিভার তুলবে না, সুতরাং কোন প্রশ্ন কোরো না, উত্তর পাবে না। স্রেফ তোমার যা বলার বলে রিসিভার নামিয়ে রাখবে। বুঝেছ?’

    ‘পানির মত,’ বলল লুইসা। ভাল কথা, জানো তো ফ্রেঞ্চ পুলিস, সিক্রেট সার্ভিস, অ্যাকশন সার্ভিস-সবগুলোতে কর্সিকানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। উ সেন চাইলে সবগুলো প্রতিষ্ঠানকে তোমার বিরুদ্ধে খেপিয়ে তুলতে পারে।’

    উঠে দাঁড়াল রানা, ‘মনে করিয়ে দেবার জন্যে ধন্যবাদ, লুইসা। কাউন্টারে বিল মিটিয়ে দিয়ে যাচ্ছি আমি। তুমি একটু পর বেরিয়ে যেয়ো। আবার দেখা হবে। বলে আর দাঁড়াল না রানা।

    কিছু বলতে গিয়েও নিজেকে সামলে নিয়ে চুপচাপ বসে থাকল লুইসা পিয়েত্রো। দু’জনকে এক সাথে কেউ দেখুক, রানা তা চাইছে না, বুঝতে পেরেছে সে। বিল মিটিয়ে দিয়ে একবারও পিছন ফিরে না তাকিয়ে দ্রুত কাফে থেকে বেরিয়ে গেল রানা।

    আচ্ছন্নের মত কয়েক মুহূর্ত স্তব্ধ হয়ে বসে থাকল লুইসা। হঠাৎ দিব্য দৃষ্টিতে দেখতে পেল সে, রানা যা করতে চাইছে তা আত্মহত্যারই নামান্তর। চেয়ার ছেড়ে ত্রস্ত পদে কাফের দরজার দিকে এগোল সে। এ স্রেফ পাগলামি! এখনও সময় আছে. ফিরিয়ে আনা যায় রানাকে।

    কাফে থেকে দ্রুত বেরিয়ে এসে পেভমেন্টে দাঁড়িয়ে এদিক ওদিক অস্থিরভাবে তাকাচ্ছে লুইসা। নেই রানা! এরই মধ্যে জনারণ্যে মিশে গেছে সে। লুইসার ইচ্ছা হলো রানার নাম ধরে চিৎকার করে ডাকে। তারপরই মনে হলো, ডেকেও লাভ নেই, শুনতে পেলেও সাড়া দেবে না রানা, ফিরে সে আসবে না।

    চোখ দুটো ঝাপসা হয়ে এল লুইসার। ভাই গেছে, একই পথে রওনা হয়ে গেছে আরেক লোক। বড় অদ্ভুত ছিল লোকটা, যাকে দেখে সেই যে হৃদয় মচকে ছিল, সে-আঘাত আজও সারেনি, কোনদিন সারবে না। যার জন্যে তার অন্তরের অন্তস্তলে চিরকাল বিরাজ করবে অদ্ভুত এক দুর্বলতা।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমাসুদ রানা ১৫৯-১৬০ – আবার উ সেন (দুইখণ্ড একত্রে)
    Next Article মাসুদ রানা ৪৬৭ – শকওয়েভ

    Related Articles

    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৩৮৫-৩৮৬ – হ্যাকার (দুই খণ্ড একত্রে)

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫৬ – টপ টেরর

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫৪ – নরপশু

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫৩ – ধর্মগুরু

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫২ – কালো কুয়াশা

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫১ – মায়া মন্দির

    July 22, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }