Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মাসুদ রানা ০৭২-৭৩ – সেই উ সেন (দুই খণ্ড একত্রে)

    কাজী আনোয়ার হোসেন এক পাতা গল্প438 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সেই উ সেন – ১.৮

    আট

    ব্রাসেলসে রানা যখন কেনাকাটায় ব্যস্ত, ম্যাটাপ্যান তখন রোমের মেইন পোস্ট- অফিসের ইন্টারন্যাশনাল টেলিফোন এনকোয়েরীতে প্রদর্শনীর একটা বস্তু হয়ে দাঁড়িয়ে গলদঘর্ম হচ্ছে।

    আশপাশে ছোটখাট ভিড় জমে গেছে সুসজ্জিত, সভ্য গরিলাটাকে দেখার জন্যে। মন চারেক ওজনের সাত ফিট লম্বা বিশাল ম্যাটাপ্যানের সেদিকে ভ্রূক্ষেপ করার অরসর নেই। মনের অবস্থা খুবই খারাপ তার। মেয়ে ভ্যালেন্টিনা কেমন রইল জানার জন্যে ছটফট করছে সে।

    একজন কেরানীকে সমস্যাটা বোঝাতে পেরেছে ম্যাটাপ্যান: প্যারিসের একজন লোককে ফোন করতে চায় সে। লোকটার নাম ভিক্টর কাউলাস্কি। তার বাড়ির ঠিকানাও তার জানা আছে! কিন্তু ফোন আছে কিনা জানা নেই, সুতরাং ফোন নাম্বার জানারও কোন প্রশ্ন ওঠে না। যদি থাকে, যোগাযোগ করা সম্ভব কিনা?

    ‘সম্ভব কিনা জানি না,’ একটা কাগজে সমস্ত তথ্য লিখে নিয়ে কেরানী বলল, ‘এই চিরকুটটা নিয়ে অপারেটরের কাছে যান, দেখুন কতদূর কি করতে পারে সে আপনার জন্যে।’

    অপারেটরকে চিরকুটটা দিয়ে অপেক্ষা করছে ম্যাটাপ্যান। একঘন্টার উপর হয়ে গেছে, ঠায় দাঁড়িয়ে আছে সে। অপারেটর তাকে জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় তথ্য পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে প্যারিসের হেড পোস্ট অফিসে, সেখান থেকে উত্তর না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে তাকে।

    আরও আধঘণ্টা পর সুখবর দিল অপারেটর। রিসিভারটা ম্যাটাপ্যানের হাতে ধরিয়ে দিয়ে একমুখ হেসে বলল, ‘নিন, আপনার বন্ধু ভিক্টর কাউলাস্কির সাথে কথা বলুন।

    ‘…হ্যাঁ, ডাক্তার বলেছে, রোগটা খুবই সাংঘাতিক,’ ম্যাটাপ্যানের প্রশ্নের উত্তরে প্যারিস থেকে জানাচ্ছে তার বন্ধু এবং তার মেয়ের পালক-পিতা ভিক্টর কাউলাস্কি। হ্যাঁ, পাশের কামরায় শুয়ে আছে সে, ডাক্তার বিছানা থেকে নামতে নিষেধ করে দিয়েছে।…না-না, আগের সেই ফ্ল্যাটে নেই আমরা। এখন যেটায় আছি সেটা অনেক বড়।… কি?…ঠিকানা? দিচ্ছি…’ ধীরে ধীরে প্যারিস থেকে ঠিকানাটা দিল কাউলাস্কি। দাঁত দিয়ে ঠোঁট কামড়ে সেটা একটা কাগজে লিখে নিল ম্যাটাপ্যান।

    ডাক্তার কি কোন রকম আশাই দেননি?’ জানতে চাইল ম্যাটাপ্যান। অপর প্রান্তে কোন সাড়া নেই দেখে তারস্বরে চেঁচাতে শুরু করল সে, ‘হ্যালো? হ্যালো?’

    আবার শোনা গেল কাউলাস্কির যান্ত্রিক, অস্পষ্ট কন্ঠস্বর। ‘না…মানে কিছুই বলতে পারেননি ডাক্তার…এক মাস, এক হপ্তা— আবার এক বছরও টিকে যেতে পারে…’

    বুকটা মোচড় দিয়ে উঠল ম্যাটাপ্যানের। হঠাৎ সে আবিষ্কার করল রিসিভার ধরা হাতটা তার কাঁপছে। কথা বলতে গিয়ে অনুভব করল আবেগে রুদ্ধ হয়ে গেছে গলা। দ্রুত রিসিভারটা নামিয়ে রাখল সে।

    .

    প্যারিস। ভিক্টর কাউলাস্কির ফ্ল্যাট। স্ত্রী এবং পালক কন্যা ভ্যালেন্টিনাকে নিয়ে এই ফ্ল্যাটেই দীর্ঘদিন থেকে বসবাস করছে সে।

    রোমে ম্যাটাপ্যান রিসিভার নামিয়ে রেখেছে বুঝতে পেরে কাউলাস্কিও ধীরে ধীরে ক্র্যাডলে নামিয়ে রাখল রিসিভারটা। তারপর মুখ তুলে সামনে বসা ফ্রেঞ্চ অ্যাকশন সার্ভিসের লোক দু’জনের দিকে তাকাল। দু’জনের হাতেই দুটো কোল্ট, .৪৫ পুলিস স্পেশাল, কাউলাস্কির বুক এবং কপাল লক্ষ্য করে ধরা।

    ‘প্যারিসে আসছে ম্যাটাপ্যান?’ দু’জনের একজন জানতে চাইল।

    বলেনি আমাকে,’ রক্তশূন্য, ফ্যাকাসে হয়ে আছে কাউলাস্কির মুখের চেহারা হঠাৎ কানেকশন কেটে দিল।

    ‘এতবড় দুঃসংবাদ, আসতে তাকে হবেই, কি বলো?’ ফ্রেঞ্চ অ্যাকশন সার্ভিসের দ্বিতীয় লোকটা ভুরু নাচিয়ে বলল।

    বোকার মত তাকিয়ে আছে কাউলাস্কি।

    ‘যাই হোক,’ দ্বিতীয় লোকটা বলল, ‘তোমার কাজ তুমি শেষ করেছ। এবার আরেকটু কষ্ট করতে হবে তোমাদেরকে। অন্দর মহলে গিয়ে তোমার স্ত্রীকে তাড়াতাড়ি একটা সুটকেসে কিছু প্রয়োজনীয় কাপড়চোপড় গুছিয়ে নিতে বলো। আমাদের সাথে এক জায়গায় যেতে হবে তোমাদেরকে।’

    ‘কেন?’ ভুরু কুঁচকে জানতে চাইল কাউলাস্কি।

    ‘আগেই বলেছি, গোটা ব্যাপারটা অত্যন্ত গোপনীয়, এর সাথে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার, ব্যাপার জড়িত। আমরা চলে গেলে ফোন করে তুমি ম্যাটাপ্যানকে আবার সাবধান করে দাও, এ আমরা চাই না। তোমাদের চিন্তার কিছু নেই। ক’টা দিন সমুদ্রের ধারে নিখরচায় বেড়িয়ে আসবে, তার বেশি কিছু নয়। ওঠো, মিসেসকে তাড়াতাড়ি করতে বলো।’

    মান মুখে বসে থাকল কাউলাস্কি। চিন্তা করছে। এদের পরিচয় সম্পর্কে সন্দেহ করার কিছু নেই। কিন্তু ম্যাটাপ্যান তার বন্ধু, তার কোন ক্ষতি হতে দিতে চায় না সে। বলল, ‘কিন্তু মি. ম্যাটাপ্যানকে কেন দরকার আপনাদের?’

    কেন দরকার তা বলতে নিষেধ আছে। তবে, তার কোন ক্ষতি করা হবে না। কিছু তথ্য চাইব আমরা। ব্যস।’

    কাঁধ ঝাঁকাল কাউলাস্কি। হয়তো তাই, ভাবল সে। বলল, ‘কিন্তু ভ্যালেন্টিনার কি হবে?

    ‘স্কুলের পাশ দিয়ে যাবার সময় গাড়ি থামাব একবার, তুলে নেব ওকে, ‘ অ্যাকশন সার্ভিসের অপেক্ষাকৃত বয়স্ক লোকটা জানাল। ‘হেডমিসট্রেসকে আগেই জানানো হয়েছে, ভ্যালেন্টিনার দাদী মৃত্যুশয্যায় তাঁকে শেষবার দেখার জন্যে ভ্যালেন্টিনাকে ছুটি দিতে হবে।’

    একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে সোফা ত্যাগ করল কাউলাস্কি।

    সাপ্তাহিক ছুটির দিন ক’টা সাগর তীরে কাটাল রানা। একজোড়া সুইমিং ট্রাঙ্ক কিনে শনিবারটা জিবরাগ এর তীরে গায়ে রোদ খেলো, কয়েকবার গোসল করল, উত্তর সাগরে, বাকি সময়টা ছোট্ট বন্দর শহরে একাকী ঘুরেফিরে বেড়াল। রোববারদিন সকালবেলা জিনিসপত্র গোছগাছ করে নিয়ে গাড়িতে উঠল। অলস ভঙ্গিতে গাড়ি চালিয়ে-গেন্ট আর ব্রাজেস-এর সরু গলিগুলোর ভিতর দিয়ে পৌঁছল ড্যাম-এ, সিকন রেস্তোরায় বাঁশের আগুনে ঝলসানো মুরগীর লাঞ্চ খেলো, তারপর গাড়ির নাক ঘুরিয়ে নিয়ে ফিরে চলল ব্রাসেলসের দিকে। হোটেলে পৌঁছে রূম- সার্ভিসকে জানিয়ে রাখল আগামীকাল ভোরে বিছানায় ব্রেকফাস্ট চাই ওর, সাথে এক প্যাকেট লাঞ্চ। কথা প্রসঙ্গে রিসেপশনিস্টকে জানাল বালজ এর যুদ্ধে নিহত ওর বড় ভাইয়ের কবর দেখার জন্যে খুব ভোরে আরডেনেসের দিকে রওনা হয়ে যাবে ও।

    .

    সাপ্তাহিক ছুটির দিন ক’টা বিছানায় শুয়ে কাটাল ম্যাটাপ্যান। তার ম্লান চেহারা দেখে খটকা লাগল মোনিকার। প্রশ্ন করতে ম্যাটাপ্যান সংক্ষেপে জানাল, ‘শরীরটা ভাল যাচ্ছে না।’

    ক’দিন ছুটি নিলেই তো পারো, বাপু,’ রাগের সাথেই বলল কথাটা মোনিকা। রাগ করার যথেষ্ট কারণও আছে। দিনের পর দিন গাধার মত খাটে লোকটা, বিশ্রামের ধার ধারে না। এ নিয়ে অনেক বকাঝকা করেছে মোনিকা, কিন্তু হেসে উড়িয়ে দিয়েছে তার কথা ম্যাটাপ্যান। শোনো, সোমবার থেকে সাতদিন তোমাকে যদি অফিসে দেখি, মাথা খাবে আমার। এই ক’দিন কমপ্লিট রেস্ট নিতে হবে তোমাকে। ‘

    একদৃষ্টিতে মোনিকার দিকে তাকিয়ে আছে ম্যাটাপ্যান। নিজেকে যতটা ভালবাসে, তারচেয়েও বুঝি বেশি ভালবাসে মোনিকাকে। কিন্তু যতই ভালবাসুক, আজ হঠাৎ সে উপলব্ধি করছে, মোনিকা তার নিজের মেয়ে নয়। তবু, মোনিকাই এখন তার একমাত্র সান্ত্বনা। নিজের মেয়েটা মরতে চলেছে।

    সোমবারের ভোর। অফিসে আজ নামবে না ম্যাটাপ্যান। সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে সে। অপ্রত্যাশিতভাবে পাওয়া সাতদিনের ছুটিটাকে কাজে লাগাবে! ফ্রান্সে যাবে সে। মেয়েকে শেষ দেখা দেখবে। মনস্থির করে বিছানা ছেড়ে উঠে পড়ল ম্যাটাপ্যান। পা টিপে টিপে বেরোল ঘর থেকে।

    .

    সোমবার ভোরে সেই সময় বিছানা ছেড়ে অত্যন্ত যত্নের সাথে গোছগাছের কাজে হাত দিল রানা।

    প্রথমে শাওয়ার সারল ও, দাড়ি কামাল, বিছানার পাশের টেবিলে রাখা ট্রে থেকে নিয়ে ব্রেকফাস্ট সারল। তালা খুলে ওয়ারড্রোব থেকে বের করল রাইফেল ভর্তি কেসটা। কেস খুলে এক এক করে বের করল রাইফেলের প্রতিটি পার্টস তারপর যত্নের সাথে প্রতিটি পার্টস কয়েকবার করে মুড়ল ফোম রাবার দিয়ে। সবগুলো একত্রিত করে সরু রশি দিয়ে বেঁধে একটা বান্ডিল তৈরি করল, তারপর বান্ডিলটা ঢুকিয়ে দিল রা স্যাকের নিচে। এর উপর চাপাল রঙের কৌটা আর ব্রাশগুলো, ডেনিশ ট্রাউজার, চেক শার্ট, মোজা আর বুটজোড়া। সুতো দিয়ে বোনা ফোকরওয়ালা শপিং ব্যাগটা ঢোকাল রাকস্যাকের বাইরের একটা পকেটে, দ্বিতীয় পকেটে রাখল বুলেটের বাক্সটা।

    ডোরাকাটা একটা শার্টের উপর ডাভ-গ্রে রঙের লাইটওয়েট স্যুট, একজোড়া হালকা কালো লেদার স্নেকার, কালো সিল্ক দিয়ে বোনা টাই পরল রানা। রাকস্যাকটা একহাতে নিয়ে নিচের গ্যারেজে নেমে এল ও। গাড়ির বুটে রাকস্যাকটা রেখে লক করে দিল। কেবিনে গিয়ে ডেলিভারি নিল অর্ডার দিয়ে রাখা প্যাকেট লাঞ্চটা।

    সকাল ন’টা। পুরানো ই-চল্লিশ হাইওয়ে ধরে ব্রাসেলস ছেড়ে নামুরের দিকে ছুটছে অসটিন ঝড়ের বেগে। সমতল তৃণভূমিতে সকালের মিঠে রোদ ঝলমল করছে, মনে হচ্ছে গরম পড়বে আজ। রোড ম্যাপ অনুযায়ী আরদেনেসের লাগোয়া ছোট্ট শহর ব্যাসটোন নব্বুই মাইল দূরে। শহর ছাড়িয়ে দক্ষিণে আরও কয়েক মাইল এগোবে রানা, পাহাড় আর জঙ্গলের কোথাও নির্জন জায়গা খুঁজে নেবে। দুপুরের মধ্যেই শ’খানেক মাইল পেরিয়ে যাওয়া সম্ভব, রাস্তার অবস্থা দেখে বুঝতে পারছে ও। ওয়ালুন প্রান্তরের মাঝখান দিয়ে সমতল রাস্তাটা সরলরেখার মত এগিয়ে গেছে, হারিয়ে গেছে দিগন্তরেখার আড়ালে। গাড়ির স্পীড বাড়িয়ে ঘণ্টায় ষাট মাইল তুলল রানা।

    সূর্য সুবিন্দু রেখার কাছে পৌছবার আগেই নামুর এবং মার্চ পেরিয়ে এল রানা। রাস্তার ধারের মাইলপোস্ট দেখে বুঝতে পারছে ব্যাসটোন দ্রুত এগিয়ে আসছে কাছে।

    ছোট্ট শহর। উনিশশো চুয়াল্লিশ সালের শীতকালে Hasso von Manteuffel-এর K।ng T।gar ট্যাঙ্কগুলো গোলা ছুঁড়ে গোটা শহরটাকে মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু ধ্বংসের একবিন্দু চিহ্ন কোথাও অবশিষ্ট নেই দেখে মনে মনে বেলজিয়ানদের দেশপ্রেম এবং শ্রম-প্রবণতার প্রশংসা না করে পারল না রানা। ধ্বংসস্তূপের উপর নতুন করে গড়ে তুলেছে তারা শহরটাকে। এ ধরনের দৃষ্টান্ত অবশ্য গোটা ইউরোপ এবং এশিয়ার জাপান ও কোরিয়ায়ও ভূরি ভূরি লক্ষ করা যায়। প্রাসঙ্গিকভাবেই নিজের দেশ আর দেশবাসীর কথা মনে পড়ে গেল রানার। নিজের অজান্তেই একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এল। দেশের বর্তমান হাল দেখে ভবিষ্যতের কথা ভাবতে ভয় হয় ওর। ছোট্ট একটু জায়গা, তাতে গিজগিজ করছে কোটি কোটি মানুষ। খরা, পোকা আর বন্যার ত্রিমুখী আক্রমণে ফসলের দফা সারা। পাব পাব করেও পাওয়া আর হচ্ছে না তেল। সীমিত সম্পদ, তাও লুটেপুটে খাচ্ছে দুর্নীতি নামের রাক্ষসটা। নৈতিকতা এখন পরাজিত সৈনিক, বেশির ভাগ মানুষ তাকে পা দিয়ে মাড়িয়ে যাচ্ছে। এসবের পরে রয়েছে আন্তর্জাতিক কূটনীতির ষড়যন্ত্র, ইজমের দৌরাত্ম্য, কর্মবিমুখতা, ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদি। মাছ ধরার জাল পরা, অভুক্ত, হাড্ডিসার কুলবধূ বাসন্তীর ছবিটা চোখের সামনে ভেসে উঠতেই গায়ের রোম দাঁড়িয়ে পড়ল রানার। কপালের পাশে দপ্ দপ্ করছে একটা শিরা।

    বাঁক নিয়ে দক্ষিণ দিকে ছুটছে গাড়ি। সামনে জঙ্গলের ভিতর পাহাড়। ক্রমশ আরও গভীর হচ্ছে বনভূমি।

    কাউকে দোষ দিয়ে লাভ নেই, ভাবছে রানা। দেশের ভাল চাইলে কাজ করতে হবে। সবাই শুরু করুক, এই আশায় হাত পা গুটিয়ে বসে থাকলে চলবে না। ‘যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে, তবে একলা চলরে’—বাংলাদেশের বিবেকসম্পন্ন প্রতিটি লোককে এখন এই নীতিতেই চলতে হবে। ঝটপট একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলল রানা। এবার দেশে ফিরে পোলট্রি ফার্ম আর গম চাষের প্রকল্পে হাত দেবে সে। অনেকদিনের পুরানো স্বপ্ন, উঠে পড়ে কাজে হাত না দিলে চিরকাল স্বপ্নই থেকে যাবে।

    মেটো পথ, কিন্তু বেশ চওড়া। মাইলখানেক এগিয়ে রাস্তা ছেড়ে ঘাস বিছানো সমতল ছোট্ট মাঠে নেমে সোজা এগিয়ে আবার প্রবেশ করল বনভূমিতে। গজ বিশেক এগিয়ে মাথা সমান উঁচু ঝোপের আড়ালে দাঁড় করাল গাড়ি।

    সুশীতল ছায়া চারদিকে, আশপাশে মিষ্টি মধুর পাখির কোলাহল, বাতাসে বুনো ফুলের গন্ধ—ভাল লেগে গেল জায়গাটাকে। গাড়িতে বসে একটা সিগারেট ধরাল রানা। একজনের অভাব বোধ করছে হঠাৎ। পাশে সোহানা থাকলে বড় ভাল লাগত এখন। পরমুহূর্তে কাজের কথা মনে পড়তেই উবে গেল মন থেকে রোমান্সের আমেজটুকু। কঠোর হয়ে উঠল ওর মুখের চেহারা। এর পরই হয়তো সালমার কথা মনে পড়ে যাবে। ধীরে ধীরে গাড়ি থেকে নেমে চারদিকে দৃষ্টি বুলিয়ে নিল একবার। হাতের সিগারেটটা পায়ের সামনে ফেলে জুতো দিয়ে মাড়িয়ে চিঁড়ে চ্যাপ্টা করল।

    নব ধরে টান দিয়ে লক খুলে বুটের সামনে গিয়ে দাঁড়াল ও, রাকস্যাকটা বের করে রাখল বনেটের উপর।

    স্যুট খুলে গাড়ির ব্যাক সীটে ভাঁজ করে রাখল। ডেনিশ স্ন্যাকসটা পরল, ডোরাকাটা শার্ট খুলে পরল লাম্বারজ্যাক চেক শার্ট। হাইকিং বুট আর উলেন মোজা জোড়াকে জায়গা ছেড়ে দিল শহুরে স্নেকার জোড়া। বুটের ভিতর গুঁজে নিল ট্রাউজারের নিচের অংশ।

    বান্ডিল খুলে এক এক করে বের করল রাইফেলের প্রতিটি অংশ। সময় নিয়ে, অত্যন্ত যত্ন এবং সাবধানতার সাথে অংশগুলো জোড়া লাগিয়ে তৈরি করে ফেলল রাইফেলটা। ট্রাউজারের এক পকেটে ঢুকিয়ে নিল সাইলেন্সার, আরেক পকেটে টেলিস্কোপ সাইট। কার্ডবোর্ডের বাক্স থেকে বিশটা শেল বের করে শার্টের বুক পকেটে ভরল, টিসু পেপারে জড়ানো এক্সপ্লোসিভ শেলটা রাখল শার্টের আরেক বুক পকেটে।

    বাকি অংশগুলো জোড়া লাগিয়ে রাইফেলটা গাড়ির বনেটে রেখে আবার পিছনের বুটের সামনে গিয়ে দাঁড়াল রানা। সেটা খুলে মস্ত একটা তরমুজ বের করল। গত সন্ধ্যায় হোটেলে ফেরার পথে বাজার থেকে কিনেছে এটা, সারারাত এই বুটের ভিতরই ছিল। বুটটা লক করে রঙের কৌটা, ব্রাশ এবং হান্টিং নাইফের সাথে রাকস্যাকের ভিতর রেখে দিল তরমুজটা।

    গাড়িতে তালা লাগিয়ে ঠিক দুপুর বেলা রওনা হলো রানা

    দশ মিনিটের মধ্যে মনের মত লম্বা, অপ্রশস্ত একটা ফাঁকা জায়গা পেয়ে গেল ও। জায়গাটার এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে অপর প্রান্তের দিকে তাকালে একশো পঞ্চাশ গজ পরিষ্কার দৃষ্টি চলে। একটা গাছের পাশে রাইফেলটা রেখে লম্বা পা ফেলে পদক্ষেপ গুনতে গুনতে এগোল, থামল একশো পঞ্চাশ পা এগিয়ে, আশপাশে তাকিয়ে রেখে আসা রাইফেলটার কাছ থেকে দেখতে পাওয়া যায় এমন একটা গাছ খুঁজছে।

    গাছ নির্বাচনের পর রাকস্যাকের ভিতর থেকে সব জিনিস ঘাসের উপর নামাল ও। হাঁটু গেড়ে বসে তুলি দিয়ে তরমুজের গায়ে শিল্প চর্চা শুরু করল। ফলটার উপর এবং নিচের গাঢ় সবুজ ত্বকে তামাটে রঙের প্রলেপ দিল ও, মাঝখানে লালচে রঙ মাখাল। রঙ দুটো তরল থাকতে থাকতেই তর্জনী দিয়ে তরমুজের গায়ে এক জোড়া চোখ, একটা নাক, গোঁফ এবং মুখ আঁকল।

    ফলটার মাথায় খাড়াভাবে ছুরি ঢুকিয়ে দিল ও, ছুরির হাতল ধরে ধীরে ধীরে উপরে তুলল, তারপর অত্যন্ত সাবধানে সেটাকে নামাল সুতো দিয়ে ফাঁক ফাঁক করে বোনা শপিং ব্যাগে। ফাঁকগুলো বেশ বড় বড়, সুতোটাও মিহি, তাই তরমুজের আউট লাইন বা গায়ের নকশা কিছুই ঢাকা পড়েনি।

    মাটি থেকে সাত ফিট উঁচুতে গাছের কাণ্ডে ছুরিটা গাঁথল রানা। ছুরির বাঁটে ঝুলিয়ে দিল ব্যাগটা। ব্যাকগ্রাউন্ডে গাছের সবুজ ছাল, লালচে এবং বাদামী তরমুজ ঠিক একটা গম্ভীর-দর্শন মানুষের কাটা মুণ্ডুর মত ঝুলছে। দু’পা পিছিয়ে এসে নিজের শিল্পকর্মটি পরখ করল রানা। আপন মনে হাসল একটু।

    রঙের কৌটা আর তুলিগুলো দূরের একটা ঝোপের ভিতর ফেলে দিল রানা। রাকস্যাকটা তুলে নিয়ে ফিরে এল রাইফেলের কাছে। প্রথমে ফিট করল সাইলেন্সার, তারপর ব্যারেলের উপর টেলিস্কোপ সাইট। বোল্টটাকে পিছনে টেনে এনে একটা কারট্রিজ ভরল ব্রীচে। টেলিস্কোপে চোখ রেখে ফাঁকা জায়গাটার শেষ প্রান্তে তাকাল। ঝুলন্ত টার্গেটটাকে একেবারে সামনে দেখতে পেল ও, ফলে অনেক বড় দেখাচ্ছে তরমুজটাকে। তরমুজের গায়ে সেঁটে থাকা ব্যাগের সুতোগুলো পরিষ্কার দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। চোখ, নাক, ঠোঁট—সব স্পষ্ট।

    একটু সরে দাঁড়াল রানা, লক্ষ্য স্থির করার জন্যে হেলান দিল একটা গাছে। টেলিস্কোপের ক্রস চিহ্নটা ঠিক মত পড়েনি মাঝখানে, অ্যাডজাসটিং স্ক্রু ঘুরিয়ে সেন্টারে আনল সেটাকে। তারপর অত্যন্ত সাবধানে তরমুজের মাঝখানে লক্ষ্যস্থির করে গুলি করল।

    যতটা আশা করেছিল তার চেয়ে অনেক কম ধাক্কা মারল রাইফেলটা। সাইলেন্সারটাও দারুণ সন্তুষ্ট করল ওকে। ‘পুট’ করে যে শব্দটা হলো, নির্জন একটা রাস্তার এপার থেকে গুলি করলে ওপার থেকেও বোধহয় শুনতে পাওয়া যাবে না। রাইফেলটাকে বগলদাবা করে এগিয়ে গেল রানা, দাঁড়াল তরমুজটার সামনে। ফলটার মাথার দিকে ডান পাশের কিনারা ঘেঁষে একটা ফুটো করে বেরিয়ে গেছে বুলেট, দু’টুকরো করে দিয়ে গেছে শপিং ব্যাগের একটা সুতোকে, ওপাশ দিয়ে বেরিয়ে গিয়ে ঢুকে পড়েছে গাছের গায়ে। ফিরে এসে টেলিস্কোপ সাইটের সেটিং না বদলে আবার গুলি করল ও।

    ফলাফল প্রায় আগের মতই, মাত্র আধ ইঞ্চির হেরফের। মোট চারবার গুলি করে নিশ্চিত হলো ও, ওর হাতের টিপ ঠিকই আছে, টেলিস্কোপটাই সামান্য গোলমাল করছে—একটু উপরে, ডান দিক ঘেঁষে লাগছে বুলেট। স্ক্রু ঘুরিয়ে রি- অ্যাডজাস্ট করে নিল টেলিস্কোপ, তারপর আবার গুলি করল।

    পরবর্তী গুলিটা একটু নিচের দিকে বাঁ দিক ঘেঁষে লাগল। পুরোপুরি নিশ্চিত হবার জন্যে তরমুজের কাছে হেঁটে এসে ফুটোটা পরীক্ষা করল রানা’। মুখের নিচের বাম প্রান্তে লেগেছে বুলেট। টেলিস্কোপের নতুন পজিশন না বদলে আরও তিনটে গুলি ছুঁড়ল ও, প্রতিটি বুলেট একই এলাকায় গিয়ে বিদ্ধ হলো। দুটো স্ক্রু সামান্য ঘুরিয়ে আবার টেলিস্কোপ সাইট অ্যাডজাস্ট করল ও।

    নয় নম্বর বুলেটটা তরমুজের কপাল ভেদ করে গেল, ঠিক যেখানে তাক করেছিল ও। এবার নিয়ে তৃতীয়বার তরমুজটার কাছে ফিরে এল ও। পকেট থেকে একটা সাদা চক বের করে গুলি লাগা এলাকাগুলোকে আলাদা আলাদা ভাবে চিহ্নিত করল—উপরের ডান দিকে কয়েকটা ফুটোকে আলাদা করল একটা বৃত্ত এঁকে, আরেকটা বৃত্ত আঁকল মুখের বাঁ দিকে, সবশেষে ছোট্ট একটা বৃত্ত আঁকল কপালের একমাত্র ফুটোকে ঘিরে।

    এরপর গুলি ছুঁড়ে এক এক করে দুটো চোখ, নাকের ব্রীজ, উপরের ঠোঁট এবং চিবুক ফুটো করল রানা। শেষ ছয়টা গুলি দ্রুত ছুঁড়ল ও, সবগুলো মুঞ্জুর একটা পাশ লক্ষ্য করে। প্রথম তিনটে গুলি কপালের পাশ, কানের গর্ত, ঘাড় ভেদ করে গেল, পরবর্তী তিনটে ফুটো করল গাল, চোয়াল এবং খুলি। মাত্র একটা বুলেট সামান্য একটু লক্ষ্যচ্যুত হলো।

    সন্তুষ্ট বোধ করছে রানা, রাইফেলটা ওকে পুরোপুরি খুশি করতে পেরেছে। পকেট থেকে বালসা-উড সিমেন্টের ছোট্ট একটা টিউব বের করল ও। টেলিস্কোপ সাইটের বর্তমান সেটিং শক্তভাবে বহাল রাখার জন্যে অ্যাডজাসটিং স্ক্রু দুটোর মাথায় খানিকটা করে তরল পদার্থ ঢেলে দিল

    সিগারেট ধরিয়ে ঘাসের উপর পা ছড়িয়ে বসল রানা। আধঘণ্টা পর আঙুল দিয়ে পরীক্ষা করে দেখল স্ক্রু দুটোর উপর সিমেন্ট লোহার মত শক্ত হয়ে গেছে। উঠে দাঁড়ান ও। শার্টের বুক পকেট থেকে এক্সপ্লোসিভ বুলেটটা বের করে রাইফেলের বীচে ঢোকাল, সময় নিয়ে লক্ষ্যস্থির করল তরমুজের ঠিক মাঝখানে, তারপর ট্রিগার টিপল।

    সাইলেন্সারের মুখ থেকে নীলচে ধোঁয়ার শেষ রেশটুকু এঁকেবেঁকে বেরিয়ে যেতে রাইফেলটা গাছের গায়ে ঠেস দিয়ে রাখল রানা, হেঁটে ফিরে এল ঝুলন্ত শপিং ব্যাগটার কাছে। ফাটা বেলুনের মত চুপসে গেছে ব্যাগটা, সেঁটে আছে গাছের গায়ে। প্রায় খালি হয়ে গেছে সেটা। বিশটা গুলি খেয়েও টুকরো টুকরো হয়নি তরমুজটা, কিন্তু শেষ বুলেটটা সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত করেছে তাকে। প্রায় সবটাই গলে ছাতু হয়ে গেছে। ব্যাগের ফুটো গলে পড়ে গেছে মাটিতে। গাছের ছাল বেয়ে সড় সড় করে নামছে রস, সাথে লাল রঙের তরমুজ-বিচি। ব্যাগের তলায় আটকে আছে তরমুজের কয়েকটা মোটা বহিরাবরণ। ব্যাগটা ছুরির বাঁট থেকে নামিয়ে কাছাকাছি একটা ঝোপের ভিতর ফেলে দিল ও। ছুরিটা গাছের গা থেকে টান মেরে খুলে নিয়ে খাপে ভরে রাখল। রাইফেলের কাছে ফিরে এসে সিগারেট ধরাল একটা। তারপর জায়গাটা ছেড়ে চলে এল গাড়ির কাছে।

    গাড়িতে বসে রাইফেলটাকে আবার বিচ্ছিন্ন করল রানা। ফোম রাবার দিয়ে প্রতিটি পার্ট মুড়ল। সবগুলো একত্রিত করে সুতো দিয়ে বেঁধে বান্ডিলটা বুট, মোজা, শার্ট এবং স্ন্যাকসের সাথে রেখে দিল রাকস্যাকে। হাতের কাজ শেষ এবার হামলা চালাল রানা প্যাকেট-লাঞ্চের উপর।

    খাওয়া শেষ করে গাড়িতে স্টার্ট দিল ও, ফিরে এল মেন রোডে।

    বিকেল ছয়টার একটু পর হোটেলে পৌঁছল রানা। রাকস্যাক নিয়ে উঠে এল নিজের কামরায়। টেলিফোনে রিসেপশনিস্টকে জানাল, ওর আর দরকার নেই গাড়িটার। ডিনারের জন্যে গোসল করার আগে একটা ঘণ্টা ব্যয় করল ও রাইফেলটার পিছনে। প্রত্যেকটি অংশ পরিষ্কার করে বিশেষ বিশেষ অংশগুলোয় তেল দিল, তারপর কেসে যথাযথভাবে ভরে নিয়ে ওয়ারড্রোবে তালাচাবির ভিতর বন্ধ করে রাখল। সেই রাতেরই অন্য এক সময় রাকস্যাক, সুতোর বল, ফোমরাবারের কিছু টুকরো বাইরের একটা ডাস্টবিনে ফেলে দিল ও। একুশটা ব্যবহৃত কার্ট্রিজ কেস পাক খেতে খেতে নেমে গেল মিউনিসিপ্যালিটির খালের তলায়।

    .

    রোম। পাঁচই অক্টোবর, সোমবার সকাল।

    আবার রোমের মেইন পোস্ট-অফিসে এসেছে ম্যাটাপ্যান, ট্র্যাভেল এজেন্সীতে ফোন করে প্যারিস ফ্লাইটের সময়সূচী জেনে নিতে। ট্র্যাভেল এজেন্সী নিরাশ করল তাকে। আজকের ফ্লাইট একঘণ্টা আগে ছেড়ে গেছে। আজ আর কোন রোম টু প্যারিস সরাসরি ফ্লাইট নেই।…হ্যাঁ আগামীকাল অ্যালিটালিয়া এয়ারলাইন্সের একটা ফ্লাইট আছে, এগারোটা পনেরো মিনিটে ছেড়ে অরলি বিমানবন্দর নামবে দুপুরবেলা। রিটার্ন ফ্লাইট পরদিন। ভেবেচিন্তে আগামীকাল ফ্লাইটের একটা রিটার্ন টিকেট বুক করল ম্যাটাপ্যান। কমনমার্কেট-ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে পাসপোর্টের কোন সমস্যা না থাকায়, টিকেট বুক করতে কোন ঝক্কি পোহাতে হলো না তাকে।

    .

    পুরদিন সকালে একটা সুটকেস হাতে শেষবার দেখা করল রানা বৃদ্ধ ম্যানিকিন পীসের সাথে।

    ‘টার্গেট প্র্যাকটিস কেমন হলো!’ হাসি মুখে অভ্যর্থনা জানিয়ে নিজের অফিসরূমে রানাকে বসিয়েই জানতে চাইল পীস।

    ‘খুব ভাল,’ বলল রানা।

    ফোম রাবার দিয়ে মোড়া কয়েকটা লম্বা প্যাকেট পায়ের কাছ থেকে তুলে ডেস্কের উপর রাখল বেলজিয়ান লোকটা। মোড়ক খুলে পাতলা টিউবগুলো একটার পাশে একটা রাখছে সে, পালিশ করা ঝকঝকে ইস্পাতের পাত দিয়ে তৈরি, দেখে মনে হচ্ছে অ্যালুমিনিয়াম। রাইফেলের পার্টস ভরা কেসটা টেনে নিয়ে খুলল সেটা। একটা করে অংশ তুলে নিয়ে সেটার জন্যে তৈরি করা টিউবে ভরছে। প্রতিটি অংশ ফিট হয়ে গেল নিখুঁতভাবে।

    রাইফেলের পার্টস ভরা প্রতিটি টিউব হাতে নিয়ে নাড়া দিয়ে দেখল রানা। সন্তুষ্ট হলো ও। ‘নিখুঁত,’ মৃদু কণ্ঠে বলল। টিউবগুলো ফোম রাবারে মুড়ে নিয়ে প্রত্যেকটি ভরন ওর ফাইবার সুটকেসে।

    ‘মজুরি নেবার জন্যে জেদ ধরে আপনাকে আমি অসম্মান করতে চাই না, চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে বলল রানা। কিন্তু আপনার কাজে আমি সন্তুষ্ট হয়ে সামান্য একটা জিনিস উপহার দিতে চাই।’ পকেট থেকে ছোট্ট একটা সোনালী কেস বের করে টেবিলে রাখল ও।

    একটু ইতস্তত করে কেসটা তুলে নিল ম্যানিকিন পীস। সেটা খুলতেই চোখমুখ উজ্জ্বল, উদ্ভাসিত হয়ে উঠল তার। হীরের একটা অত্যন্ত দামী আঙটি রয়েছে কেসে, মশিয়ে, এত দামী জিনিস…’

    তাকে বাধা দিয়ে বলল রানা, ‘দামের কথা ওঠে না। আমি আপনার গুণের মূল্য দিতে পারব না, কৃতজ্ঞতার চিহ্ন হিসেবে এটা যদি রাখেন, আমি খুশি হব।’

    ‘এমন দামী উপহার ফিরিয়ে দেব তেমন বোকা আমি নই,’ চোখ টিপে নকল দাঁত বের করে হাসল বৃদ্ধ।

    ‘আশা করি আপনার সাথে এটাই আমার শেষ দেখা,’ বলল রানা। ‘কিন্তু আবার দেখা হবে, যদি আপনি আমার নির্দেশগুলো অমান্য করেন। নির্দেশগুলোর কথা নিশ্চয়ই মনে আছে আপনার?’

    ‘নিশ্চয়, নিশ্চয় মনে আছে,’ তাড়াতাড়ি বলল পীস।

    আপনি ভয় পান, তা আমি চাই না,’ বলল রানা। ‘জানি, আপনার মত বুদ্ধিমান লোক সতর্কতা অবলম্বন না করে পারেন না। খদ্দেরদের হাতে আপনার খুন হওয়ার আশঙ্কা সব সময়ই আছে। সেজন্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও নেয়া থাকে আপনার। আমার বেলায়ও নিশ্চয়ই কোন ব্যবস্থা নিয়েছেন। সেটা ঠিক কি, আমি জানি না। হয়তো কোন উকিলের কাছে সীল করা একটা চিঠি রেখে এসেছেন, আপনার মৃত্যু সংবাদ পেলে সেটা খুলবে সে। খুলে দেখবে আজকের তারিখে শুধু আমার সাথে দেখা করার কথা ছিল আপনার। খুনী হিসেবে আমাকেই সে সন্দেহ করবে। এ-ধরনের কোন না কোন সতর্কতা আপনি অবলম্বন করেছেন, সন্দেহ নেই। সেজন্যে আপনাকে খুন করলে আমার সমস্যা মিটবে না, বরং বাড়বে।’

    বৃদ্ধ ম্যানিকিন পীস স্তম্ভিত হয়ে গেছে। লোকটা যাদু জানে নাকি? ভাবছে সে। একজন উকিলের কাছে সত্যিই একটা চিঠি জমা রেখে এসেছে সে, তার মৃত্যু হলে খোলা হবে সেটা। চিঠিতে পুলিসকে জানানো হয়েছে তার বাড়ির বাগানের একটা বিশেষ পাথরের নিচে ছোট্ট একটা স্টীলের বাক্স আছে, তাতে পীসের নিজের হাতে তৈরি করা একটা তালিকায় লেখা আছে প্রত্যেকদিন তার সাথে দেখা করার জন্যে কার কার আসার কথা। প্রতিদিন তালিকায় নতুন নাম সংযোজিত হয়। আজকের তারিখে পীস লিখেছে: একজন ইংরেজ দেখা করতে আসবে, ভিনসেন্ট গগলের বন্ধু, প্রায় ছয় ফিট লম্বা, নিজের পরিচয় দেয় অরগ্যান নামে।

    ‘কিন্তু,’ বলছে রানা, ‘আমার সম্পর্কে কোন কথা কাউকে যদি বলেন, খবর পাব আমি, এবং ফিরে আসব। যত সাবধানই হোন, আপনি আমার হাত থেকে বাঁচতে পারবেন না। মনে রাখবেন, আমি চলে যাবার সাথে সাথে আমার অস্তিত্বের কথা সম্পূর্ণ ভুলে যেতে হবে আপনাকে।’

    স্মিত হাসল বৃদ্ধ পীস। মৃদু কণ্ঠে বলল, ‘মশিয়ে, আমি শুধু একটা কথাই বলতে চাই। তা হলো, আমার তরফ থেকে আপনার কোন ক্ষতি হবে না।

    ‘ধন্যবাদ,’ বলে আর দাঁড়াল না রানা। ফাইবার সুটকেসটা ডেস্ক থেকে তুলে নিয়ে ঘুরে দাঁড়াল।

    পীসের অফিস থেকে বেরিয়ে ট্যাক্সি নিয়ে সোজা মেন লাইন রেলওয়ে স্টেশনে চলে এল রানা, লেফট-লাগেজ অফিসে সুটকেসটা জমা দিয়ে টিকেট চেয়ে নিল, টিকেটটা ওয়ালেটের ভিতরের পকেটে আটকে রাখল পিন দিয়ে।

    মৃদু স্বস্তির পরশ অনুভব করছে রানা। ফ্রান্স এবং বেলজিয়ামে ছুটোছুটি করে পরিকল্পনা এবং প্রস্তুতি পর্যায়ের কাজ শেষ করেছে ও। রাজসিক রেস্তোরাঁ সাইন-এ মধ্যাহ্ন ভোজন সারল ও। হেঁটে ফিরে এল অ্যামিগো হোটেলে। ফিরেই জিনিসপত্র গুছিয়ে নিল, মিটিয়ে দিল বিল। যেভাবে উঠেছিল হোটেলে ঠিক সেইভাবে বেরিয়ে এল ও-পরনে নিখুঁতভাবে ফিট করা চেক শার্ট, চোখে গাঢ় রঙের চশমা, পিছনে পোর্টারের হাতে দামী দুটো সুটকেস।

    রাইফেলটা নিরাপদে রেখে যাচ্ছে ও লেফট-লাগেজ অফিসে। জাল পরিচয়পত্র তিনটে ওর স্যুটের একটা ভিতরের পকেটে রয়েছে। ট্যাক্সি নিয়ে এয়ারপোর্টে পৌছল ঠিক সময় মতই। লন্ডনগামী বোয়িং ব্রাসেলস ছাড়ল চারটের একটু পর। কাস্টমস অফিসাররা ওর একটা সুটকেস বেশ খুঁটিয়ে খুঁজে পেতে দেখল বটে, কিন্তু পেল না কিছুই। ডিনারে বেরোবার আগে সন্ধ্যা সাতটায় প্যাডিংটন প্যারেডে নিজের বাড়িতে শাওয়ার সারছে রানা।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমাসুদ রানা ১৫৯-১৬০ – আবার উ সেন (দুইখণ্ড একত্রে)
    Next Article মাসুদ রানা ৪৬৭ – শকওয়েভ

    Related Articles

    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৩৮৫-৩৮৬ – হ্যাকার (দুই খণ্ড একত্রে)

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫৬ – টপ টেরর

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫৪ – নরপশু

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫৩ – ধর্মগুরু

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫২ – কালো কুয়াশা

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫১ – মায়া মন্দির

    July 22, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }