Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মাসুদ রানা ১৫৯-১৬০ – আবার উ সেন (দুইখণ্ড একত্রে)

    কাজী আনোয়ার হোসেন এক পাতা গল্প374 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    আবার উ সেন – ১.১০

    দশ

    ঝানের কড়া মিন্ট জুলিপ সবিনয়ে প্রত্যাখ্যান করল রানা, বদলে আরেকটা ভোদকা মার্টিনি চাইল ও।

    ‘অবশ্যই, অবশ্যই! ব্যস্ত হয়ে উঠল ঝান। ‘আপনার যা খুশি! খাওয়া আর পান করার ব্যাপারে কোন পুরুষের ওপর আমি জোর খাটাই না। কিন্তু যদি মেয়েদের কথা বলেন…মানে, সেটা আলাদা ব্যাপার।

    ‘কি বলতে চান?’ তীক্ষ্ণ প্রশ্ন করল রানা।

    বারান্দার প্রধান দরজা দিয়ে সাদা কোট পরা একজন বেয়ারা ঢুকেছে, বড়সড় ট্রলি বার-এর পিছনে সতর্ক অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে সে। ঝান নিজের হাতে অতিথিদের আপ্যায়ন করে তপ্ত হতে চায়। বোতলের ওপর দিয়ে তাকাল সে, হাত দুটো শরীরের দু’পাশে শূন্যে স্থির হয়ে আছে, সরল মুখ বিস্ময়ের মুখোশ। ‘আমি দুঃখিত, মি. রানা। আপনাকে আহত করলাম?’

    জবাবে কাঁধ ঝাঁকাল রানা। ‘বললেন পুরুষদের খাওয়াদাওয়ার ব্যাপারে জোর খাটান না, তারপর বললেন মেয়েদের ব্যাপারে খাটান’। আমি কথাটার মানে জানতে চেয়েছি।’

    শান্ত হলো ঝান, ঢিল পড়ল পেশীতে, আবার হাসল সে। ‘একটা জোক, মি. রানা। জাস্ট এ জোক, অ্যামাঙ মেন অভ দ্য ওয়ার্ল্ড। অর, মে বি ইউ আর নট আ ম্যান অভ দ্য ওয়ার্ল্ড?’

    ‘সে অভিযোগ আমার বিরুদ্ধে আছে বটে।’ চেহারায় অসন্তোষের ভাব ধরে রাখল রানা। কিন্তু তবু আমি বুঝতে অক্ষম মেয়েদের সাথে অন্য রকম ব্যবহার কেন করা হবে।

    ‘আমি শুধু বলতে চেয়েছি মেয়েদেরকে মাঝেমধ্যে মিষ্টি কথায় ভুলিয়ে প্রলুব্ধ করতে হয়।’ রিটার দিকে ফিরল ঝান। ‘কি, মিসেস লুগানিস, মাঝে মধ্যে প্রলুব্ধ হতে ইচ্ছে করে না?’

    হেসে উঠল রিটা! ‘সেটা নির্ভর করে কে, কিসের জন্যে প্রলুব্ধ করতে চায়… মাঝখান থেকে সরু মেয়েলি গলায় পিয়েরে ল্যাচাসি মন্তব্য করল, ‘আমার ধারণা ঝান সেই পুরানো প্রচলিত কথাটার ওপর ভিত্তি করে জোক করার চেষ্টা করছিল-মেয়েরা যখন ‘না’ বলে তখন আসলে তারা বলতে চায় ‘হয়তো’।’

    ‘আর যখন ওরা ‘হয়তো’ বলে তখন আসলে বলতে চায় ‘হ্যাঁ’,’ হাসিতে উদ্ভাসিত হয়ে উঠে কথাটা শেষ করল ঝান।

    ‘আচ্ছা।’ টেবিল থেকে মার্টিনির গ্লাসটা তুলে নিল রানা, শব্দটা এমন নীরস সুরে উচ্চারণ করল যেন ওর ভেতর রসবোধ বলে কিছু নেই। মনে মনে এই মাত্র একটা হিসেব শেষ করেছে ও-মলিয়ের ঝানের মত লোকের সাথে খেলতে হলে বিপরীতধর্মী একটা ভূমিকা গ্রহণ করাই সবদিক থেকে ভাল।

    ‘তা সে যাই হোক,’ বলে গ্লাসটা উঁচু করল ঝান, ‘আসুন, হাতের কাজটা শেষ করি। তারপর, সম্ভবত, মি. রানা, হোগার্থের শিল্পকর্মের সাথে পরিচিত হওয়া যাবে। লাঞ্চের আগে হাতে সময় রয়েছে।’

    নিঃশব্দে মাথা ঝাঁকাল রানা, তারপর মন্তব্য করল, ‘টাইম ইজ মানি, মি. ঝান।’

    ‘কি যে বলেন, সময় জাহান্নামে যাক।’ চেহারায় গর্ব নিয়ে বলল ঝান। ‘আমার টাকা আছে, আর আপনার আছে সময়। কিংবা আপনার যদি না থাকে, আমি সেটা কিনে নেব। এত দূরের পথ ভেঙে অতিথিরা যাঁরা আমার এখানে আসেন, তাঁদের আমি আনন্দ-ফুর্তির ভাগ না দিয়ে ছাড়ি না।’ থামল সে, যেন রিটাকে অনুরোধ করছে। ‘আপনারা ক’টা দিন থেকে যাবেন, কি বলেন, মিসেস লুগানিস? প্লীজ! সব ব্যবস্থা করা হয়েছে, গেস্ট কেবিন খুলে…’

    ‘দু’একদিনে কিছু এসে যাবে না, কি বলো, রানা?’ আবেদনের ভঙ্গিতে রানার দিকে তাকাল রিটা, চেহারায় আবদারের ভাবটুকু নিখুঁতভাবে ফুটল।

    দীর্ঘশ্বাস ফেলল রানা, ঠোঁট জোড়া প্রসারিত করল। ‘কিন্তু…মানে…’

    ‘আপত্তি কোরো না, প্লীজ, রানা। তুমি চাইলে গ্রেগকে আমি ফোন করতে পারি…’

    ‘সিদ্ধান্তটা তুমি নেবে,’ গম্ভীর গলায় জানিয়ে দিল রানা।

    ‘ব্যস, মিটে গেল!’ হাত দুটো পরস্পরের সাথে ঘষল ঝান। ‘এবার…মানে…হোগার্থ প্রিন্টগুলো এখন কি একবার দেখা সম্ভব?’

    রিটার দিকে তাকাল রানা। ‘তোমার যদি কোন অসুবিধে না থাকে, মিসেস লুগানিস।’

    মিষ্টি করে হাসল রিটা। প্রিন্টের ব্যাপারে তোমার কথাই শেষ কথা, রানা। আমার স্বামী ওগুলো তোমার হাতে তুলে দিয়েছে।’

    ইতস্তত করল রানা। ‘ঠিক আছে, আমি তো কোন অসুবিধে দেখছি না। তবে চাইব, মি. ঝান, ওগুলো আপনি বাড়ির ভেতর দেখবেন।’

    ‘প্লীজ!’ খুশিতে যেন লাফাতে শুরু করল ঝান, তার বিশাল শরীর এক পা থেকে আরেক পায়ে ঘন ঘন ভর দিচ্ছে। ‘প্লীজ কল মি মলিয়ের। আপনি এখন টেক্সাসে রয়েছেন।

    পকেট থেকে গাড়ির চাবি বের করল রানা, ধাপ বেয়ে নেমে গেল স্যাবের কাছে।

    বিশেষ ধরনের উত্তাপ-প্রতিরোধক একটা ফোল্ডারে রয়েছে প্রিন্টগুলো। স্যাবের বড়সড় বুটে, একটা শেলফের তলায় ফলস্ কমপার্টমেন্ট, সেখান থেকে ফোল্ডারটা বের করল রানা। শরীর দিয়ে আড়াল করে রাখল, পোর্টিকো থেকে ওরা যাতে দেখতে না পায় কোত্থেকে বেরুল। বুট তালা লাগিয়ে উঠে এল ও।

    ‘কি সুন্দর গাড়ি,’ স্যাবের দিকে সন্দেহ ভরা তীক্ষ্ণ চোখে তাকিয়ে থেকে বলল ঝান, তার সরল চেহারার সাথে দৃষ্টিটা মানাল না!

    ‘এ-ধরনের আর যত গাড়ি আছে, দৌড়ে এটার সাথে সেগুলোর একটাও পারবে না, বলল রানা।

    ‘অ্যাঁ, তাই নাকি?’ ঝিক্ করে উঠল ঝানের চোখ, দৃষ্টিতে প্রায় ধরা পড়ে এমন একটা আনন্দের তরঙ্গ নাড়া দিয়ে গেল তার বিশাল দেহটাকে। ‘বেশ তো, সেটা না হয় পরীক্ষা করে দেখব আমরা। কয়েকটা গাড়ি আমারও আছে, ট্র্যাকও পাবেন আমার র‍্যাঞ্চে। ইচ্ছে করলেই আমরা একটা আয়োজন করতে পারি, কি বলেন? লোকাল গ্রাঁ প্রি?’

    ‘নয় কেন!’ ফোল্ডার নেড়ে বাড়ির ভেতর দিকটা দেখাল রানা।

    ‘ও, হ্যাঁ-হ্যাঁ!’ উত্তেজনায় কেঁপে উঠল ঝান। ‘মিসেস লুগানিসকে পিয়েরের নিরাপদ হাতে রেখে যেতে পারি আমরা। লাঞ্চের পর আপনাদেরকে গেস্ট কেবিনে পৌছে দেয়ার ব্যবস্থা হবে। তারপর ঝান র‍্যাঞ্চে গাইডেড ট্যুরের আয়োজন করা যাবে। বুঝলেন, মি. রানা, আমার র‍্যাঞ্চ নিয়ে আমি গর্বিত।’

    লম্বা দরজার দিকে ইঙ্গিত করল সে, পথ থেকে সরে গিয়ে রানাকে আগে ঢুকতে দিল। বিশাল, শীতল হলওয়ে; নকশা-কাটা কাঠের মেঝে, মাঝখানে সোনালি সিঁড়ি। আর যাই হোক, স্টাইলের সাথে বেঁচে থাকতে জানে মলিয়ের ঝান।

    ‘আমাদের প্রিন্ট-রূমে যাওয়া উচিত, কি বলেন?’ সিঁড়ি বেয়ে একটা চওড়া করিডরে নেমে এল ঝান, প্রচুর বাতাস। রানাকে পাশে নিয়ে দরজা খুলল।

    বিস্ময়ের একটা ধাক্কা অনুভব করল রানা। কামরাটা খুব বড় নয়, তবে দেয়ালগুলো অসম্ভব উঁচু, খানিক পর পর ওপর থেকে পর্দা নেমে এসেছে। লাখ লাখ ডলারের সম্পত্তি, দেয়ালের সাথে ঝুলছে। কেনসিংটনে যত কমই শিখে থাকুক রানা, দেয়ালের বেশ কয়েকটা প্রিন্ট চিনতে পারল ও।

    কমপক্ষে চারটে ভারি দুর্লভ হলবীনস রয়েছে। কিছু অমূল্য প্লেয়িং কার্ড, যদিও অতিমাত্রায় রঙ চড়ানো। বাক্সটার-এর কালার প্রিন্ট একটাই, সই করা (ইনস্ট্রাক্টর রানাকে জানিয়েছিল,; বাক্সটারের কালার প্রিন্ট সংগ্রহ করা প্রায় অসম্ভব)। আরেকটা সেট দেখে মনে হলো আসল বিউইকস। শুধু দেয়ালে নয়, পর্দার ওপরও শোভা পাচ্ছে অনেক প্রিন্ট। আড়ালে রাখা স্পীকার থেকে হালকা যন্ত্রসঙ্গীতের আওয়াজ ভেসে আসছে, ঠাণ্ডা কামরার ভেতর ছড়িয়ে দিচ্ছে বিমল শান্তি। পালিশ করা কাঠের মেঝে, আয়নার মত ঝকঝকে। কামরার এখানে সেখানে কয়েকটা চেয়ার, আর জানালার পাশে একটা মাত্র টেবিল, আর কোন ফার্নিচার নেই। এগুলো, রানা ধারণা করল, অমূল্য অ্যান্টিকস-ই হবে।

    ‘মোটামুটি ভাল কালেকশন, কি বলেন, মি. রামা?’ কামরার মাঝখানে দাঁড়িয়ে রানার জবাব পাবার জন্যে উৎকর্ণ হয়ে থাকল ঝান।

    ‘বেশ ভাল। বড় বড় সংগ্রাহকদের সম্পর্কে জানি কিভাবে কোন্‌টা সংগ্ৰহ করা হয়েছে তা তারা কাউকে জানায় না, কাজেই সে প্রশ্ন আপনাকে আমি করব না।’ হঠাৎ প্রসঙ্গ পরিবর্তন করল রানা। ‘প্রফেসর লুগানিসের মুখে শুনেছি আপনার নাকি দুটো শখ বা দুর্বলতা আছে…’

    ‘মাত্র দুটো?’ ঝানের একটা ভুরু উঁচু হলো, চেহারায় বিস্ময়।

    ‘প্রিন্ট আর আইসক্রীম,’ বলল রানা। টেবিলের সামনে এসে দাঁড়াল ও, ওর পিছনে আকস্মিক অট্টহাসিতে ফেটে পড়ল ঝান।

    হঠাৎ শুরু, হঠাৎই আবার থামল হাসি। ‘আপনার প্রফেসর লুগানিস ভুল তথ্য পেয়েছেন। প্রিন্ট আর আইসক্রীম ছাড়াও আরও অনেক শখ আছে আমার-হ্যাঁ, দুর্বলতাও বলতে পারেন। দুর্বলতার প্রসঙ্গ যখন উঠলই, তাহলে বলি- অনেক মানুষের জীবনে টাকাটাই সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হয়ে দেখা দেয়। আমারও দেখা দিয়েছিল….

    ‘দিয়েছিল?’

    ‘প্লীজ, মি. রানা। হ্যাঁ-কিন্তু সে দুর্বলতা এখন আর নেই আমার। আমি ভাগ্যবান, যুবা বয়সেই টাকার পাহাড় বানিয়ে ফেলি। পিয়েরে ল্যাচাসি শুধু আমার সঙ্গী আর বন্ধুই নয়, অভিজ্ঞ ব্যবসায়িক উপদেষ্টাও বটে। প্রথম জীবনে যে টাকাটা আমি রোজগার করি, সেটা পরে দ্বিগুণ, ত্রিগুণ, চতুর্গুণ, এভাবে বাড়তে থাকে। সত্যি কথা বলতে কি, লোকটা প্রতিভা। দুর্বলতার পিছনে যতই আমি দু’হাতে খরচ করতে থাকি, আমার টাকা আর সম্পত্তি ততই বাড়তে থাকে!’

    হঠাৎ রানার দিকে হাত বাড়াল মলিয়ের ঝান, প্রিন্টগুলো চাইছে। মুহূর্তের জন্যে দ্বিধায় পড়ল রানা; প্রিন্ট সম্পর্কে লোকটা কতটুকু জানে, এগুলো যে নকল দেখার সাথে সাথে ধরে ফেলবে না তো? তবে এ-বিষয়ে এখন আর উদ্বিগ্ন হয়ে কোন লাভ নেই।

    কেন কে জানে, হাতটা আবার ফিরিয়ে নিল ঝান, অন্য প্রসঙ্গে চলে গেল, ‘একটা কথা, মি. রানা। পিয়েরে ল্যাচাসির অদ্ভুত চেহারা-ওটা আপনাকে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখতে হবে। শুকনো পেনসিলের মত দেখতে ও। জানি, দেখে মনে হয় আপনি ওকে ভেঙে দু’টুকরো করে ফেলতে পারবেন। কিন্তু চোখ ধোঁকা দিতে পারে, এ-কথা মানেন তো? আমার পরামর্শ, এ-ধরনের কিছু ভাবতেও যাবেন না। আপনার ভালর জন্যেই বললাম কথাটা। বিশ্বাস করুন, বুনো একটা ঘোড়ার চেয়েও বেশি শক্তি রাখে ল্যাচাসি।

    ་

    ‘ওর দুর্ভাগ্য-কার অ্যাক্সিডেন্ট,’ বলে চলল ঝান। ‘পা থেকে মাথা পর্যন্ত নতুন করে গড়তে ওর পিছনে তিন রাজার ভাণ্ডার শেষ করেছি আমি। শরীরটা ভয়ানক জখম হয়েছিল, তবে আসল সর্বনাশটা হয় পুড়ে গিয়ে। দুনিয়ার সেরা সার্জেনদের দিয়ে চিকিৎসা করা হয়েছে, তারা প্রায় নতুন একটা মুখ তৈরি করে দিয়েছে ওকে। ল্যাচাসির অন্যতম দুর্বলতা হলো গতি। ও খুব ভাল ড্রাইভার। লোকাল গ্রাঁ প্রি-র আয়োজন করব বলেছি, মনে আছে তো? আপনাকে ওর সাথেই প্রতিযোগিতায় নামতে হবে-পিয়েরে ল্যাচাসির সাথে।

    প্লাস্টিক সার্জারী আর প্রায় নতুন একটা শরীর? কৌতূহল এবং বিস্ময় বোধ করল রানা। উ সেন ওর হাতে গুলি খেয়েছিল সত্যি কথা, কিন্তু তারপর কি হয়েছিল জানা নেই রানার, শুধু শুনেছিল ওর পরম শত্রু মারা গেছে। এমন কি হতে পারে উ সেন মারা যায়নি…তার মৃত্যুর মিথ্যে খবর রটানো হয়, পরে হয়তো এক সময় সত্যি কার অ্যাক্সিডেন্টে আহত হয় সে?

    উঁহুঁ, এ-সব কথা ভেবে মাথাটাকে ভারী করার কোন মানে হয় না। ঘটনাগুলোকে আপন গতিতে ঘটতে দেয়া যাক, দেখা যাক তা থেকে কতটুকু জানা যায়।

    ‘হোগার্থ, মি. রানা।’ রানার সামনে হাত পাতল মলিয়ের ঝান। ‘প্লীজ।’

    সাবধানে, অত্যন্ত সাবধানে ফোল্ডারটা খুলল রানা। টিস্যু দিয়ে মোড়া প্রিন্টগুলো একটা একটা করে বের করল, পাশাপাশি সাজিয়ে রাখল টেবিলে রাখার আগে মোড়ক খুলল।

    একটা নির্দিষ্ট সাবজেক্ট নিয়ে অনেক কাজ আছে হোগার্থের, ‘দ্য লেডি’স প্রোগ্রেস’ তারই একটা। প্রথম দুটো প্রিন্টে দেখানো হয়েছে ভদ্রমহিলা বিলাস- ব্যসনে অলস জীবনযাপন করছেন। তৃতীয়টায় তাঁর পতন চিত্রিত হয়েছে, যখন জানা গেল তাঁর স্বামী অসংখ্য পাওনাদার রেখে মারা গেছেন অর্থাৎ ভদ্রমহিলা এই মুহূর্তে অসহায় কপর্দকহীন। পরবর্তী তিনটে প্রিন্টে রয়েছে তাঁর অধঃপতনের বিভিন্ন স্তর-মদের নেশা তাঁকে সাধারণ একটা বেশ্যায় পরিণত করল, এবং সবশেষে তিনি তাঁর প্রথম জীবনের অভিশপ্ত চেহারা ফিরে পেলেন: সপ্তদশ শতাব্দীর নিঃস্ব লন্ডনবাসিনীদের একজন-বিধ্বস্ত, হাভাতে, পাপে নিমগ্ন, নোংরা।

    প্রিন্টগুলোর দিকে ধীরে ধীরে ঝুঁকতে শুরু করল মলিয়ের ঝান, চেহারা দেখে রানার মনে হলো লোকটা ধ্যানে রয়েছে। অবশেষে আটকে রাখা নিঃশ্বাস ছাড়ল সে। ‘রিমার্কেবল!’ আবেগে তার গলা বুজে এল। ‘কোয়াইট রিমার্কেবল! ডিটেলসগুলো দেখছেন, মি. রানা, মুখগুলো? আর আরচিনগুলো, এই যে এখানে, জানালা দিয়ে উঁকি দিচ্ছে? ওহ্ গড, শুধু এগুলোর দিকে তাকিয়ে একজন মানুষ সারাটা জীবন কাটিয়ে দিতে পারে! প্রত্যেক দিন নতুন একটা কিছু পাবেন আপনি। বলুন-বলুন, মি. রানা! কি দাম চান আপনি?’

    কিন্তু এখুনি রানা পরিষ্কার কিছু বলতে চায় না। প্রফেসর লুগানিস এখনও ঠিক জানেন না প্রিন্টগুলো তিনি বিক্রি করবেন কিনা। ‘আপনাকে প্রথম স্বীকার করতে হবে, মি. ঝান, যে এ-ধরনের আইটেমের মূল্য নির্ধারণ করা অত্যন্ত জটিল ব্যাপার। দে আর ইউনিক। আর কোন সেটের অস্তিত্ব নেই। কিন্তু এগুলো জেনুইন। গাড়িতে অথেনটিকেশন ডকুমেন্ট আছে…’

    ‘এগুলো আমাকে পেতে হবে!’ ঝান রুদ্ধশ্বাসে বলল, ভূতে পাওয়া লোকের মত ঝাপসা দৃষ্টিতে রানার দিকে তাকাল সে। ‘এর কোন বিকল্প নেই…’

    ‘কি পেতে হবে তোমাকে, ঝান? কিসের কোন বিকল্প নেই?’ মৃদু, কোমল কণ্ঠস্বর, কোকিলের ডাকের মত পরিষ্কার, ক্ষীণ একটু ফরাসী টান; ভেসে এল দরজার কাছ থেকে। ঝান বা রানা, দু’জনের কেউই দরজা খোলার আওয়াজ পায়নি।

    দু’জনেই ওরা টেবিলের দিকে পিছন ফিরল। একটা হার্টবিট মিস করল রানা। এমন পবিত্র রূপ, এমন কমনীয় চেহারা আগে কখনও দেখেছে কিনা মনে করতে পারল না। ধীরে ধীরে চোখের ঝাপসা দৃষ্টি স্বাভাবিক হয়ে এল ঝানের, আনন্দে উদ্ভাসিত হয়ে উঠল তার চেহারা, গলা থেকে বেরিয়ে এল সাদর সম্ভাষণ, ‘ডার্লিং, মাই ডার্লিং! এসো, তোমার সাথে মি. মাসুদ রানার পরিচয় করিয়ে দিই। উনি প্রফেসর লুগানিসের প্রতিনিধিত্ব করছেন। মি. রানা, ও আমার বান্ধবী, বান্না বেলাডোনা।’

    ধারণা ছিল বেলাডোনার বয়স কম হবে, তবে এত কম আশা করেনি রানা। রাগে পিত্তি জ্বলে গেল ওর, এই মেয়েকে বিয়ে করতে চায় ঝান? মেয়ের বয়েসী একটা মেয়েকে? কত, খুব বেশি হলে বাইশ কি তেইশ হবে বেলাড়ানো। দোরগোড়ায় এখনও দাঁড়িয়ে আছে সে, যেন ক্যামেরার সামনে পোজ দিচ্ছে, বিশাল জানালা দিয়ে ঢুকে তার সারা শরীরে ফ্লাডলাইটের মত জ্বলছে সোনালি রোদ। এ যেন মঞ্চে নায়িকার আবির্ভাব।

    পরনে নিখুঁতভাবে কাটা জিনস, আর রয়্যাল ব্লু সিল্ক শার্ট; গলায় গিঁট বাঁধা উজ্জ্বল বহুরঙা রুমাল। বান্না বেলাডোনা এমন একটা হাসি উপহার দিল রানাকে, চরম নারীবিদ্বেষী পুরুষও হাঁটুর কাছে দুর্বলতা অনুভব করবে।

    বেলাডোনা লম্বা, রানার সাথে মানানসই। লম্বা পায়ে দীর্ঘ পদক্ষেপ, সরাসরি যেন রানার দিকেই এগিয়ে আসছে সে। রানা উপলব্ধি করল, এ মেয়ের কাছে যে- কোন পরিবেশই ঘরোয়া, সবখানেই সে স্বচ্ছন্দ, কোথাও আড়ষ্ট হতে জানে না। দেহ-সৌষ্ঠব আর হাঁটা-চলায় একটা মেয়ের মধ্যে যে-সব বৈশিষ্ট্য থাকলে মনে পুলক জাগে, তার সব অকৃপণ হাতে ওকে দান করেছেন ঈশ্বর। ঘরে, ঘরের বাইরে, খেলায়, অবসর মুহূর্তে, শয়নে, নির্জনে, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সে অভিজাত, সৌন্দর্যের প্রতীক।

    বেলাডোনা আরও কাছে চলে এল, রানা অনুভব করল দু’জনের মধ্যে একটা অদৃশ্য সংযোগ ঘটে গেল, অনেকটা যেন কেমিক্যাল রিঅ্যাকশনের মত। অনুভূতিটা রানাকে যেন জানিয়ে দিয়ে গেল, পরস্পরের কাছে দু’জনেরই বহু কিছু পাওয়ার আছে।

    কালো আগুনের অস্তিত্ব যদি সম্ভব হয়, কোথাও না হোক বেলাডোনার চোখে তা আছে। আবলুস কালো চোখের সাথে মিল রেখে দীর্ঘ চুল কাঁধে ঢলে পড়েছে, সেখান থেকে অবহেলায় ঠেলে নামিয়ে দেয়া হয়েছে পিঠের বাঁ দিকে। কালো আগুন থেকে জ্বলজ্বলে বুদ্ধির আলো ছড়াচ্ছে, তারুণ্যে ভরপুর বয়সকে ছাড়িয়ে আরও অনেক দূর এগিয়ে গেছে সেই আলো। দৈহিক গড়নের সাথে চুলচেরা ভারসাম্য রক্ষা করছে অবয়ব-দীর্ঘ, সরু নাক; আবেদন ভরা মুখ; সরু নিচের ঠোঁট ওপরটার চেয়ে একটু কম সরু, তাতে করে চেহারায় ইন্দ্রিয়পরায়ণতার ছাপ ভালই ফুটেছে। এই ব্যাপারটাও রানাকে কম আকৃষ্ট করল না। বেলাডোনার হাত, করমর্দনের সময় অনুভব করল রানা, কোমল, কিন্তু যখন চাপ দিল তখন রীতিমত কঠিন। এই হাত আদর করতে জানে, আবার শক্ত মুঠোয় ধরতে জানে পাগলা ঘোড়ার লাগাম।

    ‘হ্যাঁ, মি. রানাকে আমি জানি। এই মাত্র মিসেস লুগানিসের সাথে পরিচিত হলাম। আপনার সাথে পরিচিত হয়ে আনন্দিত হলাম…মে আই কল ইউ রানা, প্লীজ?’

    ‘অফকোর্স।’

    ‘ওয়েল, আই য়্যাম বেলাডোনা। জানতে পারি, মি. ঝানকে কিসের লোভ দেখিয়ে অপচয় করাতে চাইছ, রানা? হোগার্থ প্রিন্টস?’

    হেসে উঠল ঝান, গলার ভেতর থেকে উঠে আসা আনন্দোচ্ছ্বাস জলপ্রপাতের গর্জন হয়ে বাজল কানে। বেলাডোনার সামনে দাঁড়িয়ে জাপানীদের প্রিয় ভঙ্গিতে মাথা নোয়াল সে, যেন দেবীর সামনে নত হলো ভক্ত। তারপর সে বলল, ‘ওহ্ গড! ওর মুখে অপচয়ের কথা!’ কেঁপে কেঁপে হাসতে লাগল সে, কেঁপে হাসতে লাগল সে, দাড়িবিহীন গ্রীষ্মকালীন সান্তা ক্লজ।

    বেলাডোনার আরও সামনে এসে তার কোমরে হাত রাখল ঝান, কাছে টানল, টেনে নিয়ে গিয়ে বসিয়ে দিল পিঠ উঁচু একটা অ্যান্টিকস্ চেয়ারে। বেলাডোনার চোখে একটা ছায়া পড়তে দেখল রানা, সেই সাথে লক্ষ করল ঝানের স্পর্শ পাবার সাথে সাথে মৃদু শিউরে উঠল সে।

    ‘এগুলোর ওপর শুধু একবার চোখ বুলাও, ডার্লিং! আসল জিনিস! সারা দুনিয়ায় কোথাও আর এরকম নেই। ডিটেলস দেখো, মেয়েলোকটার মুখ। তারপর লোকগুলোকে দেখো, মদে চুর…’

    এক এক করে প্রিন্টগুলো পরীক্ষা করছে বেলাডোনা, তার দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে রানা। মেয়েটার চোখ থেকে শুরু হলো, নেমে এল ঠোঁটে-ক্ষীণ, ঠোঁট টেপা হাসি। শেষ প্রিন্টটায় সুন্দর লম্বা আঙুল ঠেকে রয়েছে। ‘ওটা কিন্তু লাইফ থেকে আঁকা হয়ে থাকতে পারে, মি. ঝান।’ হাসল বেলাডোনা, যেন বীণার তার কেঁপে উঠল। না, কথার সুরে কোন অভিযোগ বা ঘৃণা নেই। ‘লোকটা ঠিক আপনার মত দেখতে।’

    দু’কোমরে হাত দিয়ে কৃত্রিম রণভঙ্গিতে সিধে হলো ঝান। ‘তবে রে!’

    তাহলে শোনা যাক, রানার দিকে ফিরল বেলাডোনা, কত চাইছেন আপনি?’

    ‘কোন দাম বলা হয়নি।’ হাসি মুখে বলল রানা, বেলাডোনার চোখে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে। মুহূর্তের জন্যে মনে হলো, ওগুলোয় যেন ব্যঙ্গ ফুটে আছে। ‘এমনকি ওগুলো যে বিক্রির জন্যে এমন কথাও আমি বলতে পারছি না।’

    ‘তাহলে কেন…?’ বেলাডোনার চেহারা আগের মতই শান্ত।

    মি. ঝান প্রফেসর আর তাঁর স্ত্রীকে এখানে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। প্রিন্টগুলো উনি সবার আগে দেখতে চেয়েছিলেন…

    ‘কাম অন, মি. রানা! বলুন, সবার আগে অফার দিতে চেয়েছিলাম।’ ঝানের মধ্যে কোন পরিবর্তন লক্ষ করল না রানা, অথচ বেলাডোনা আর তার মধ্যে কি যেন একটা আছে-বোঝা যায় না, তবে আছে।

    ইতস্তত একটা ভাব দেখা গেল বেলাডোনার মধ্যে, তারপর সে বলল, ‘একটু পরেই লাঞ্চ সার্ভ করা হবে। তারপর আপনাদেরকে গেস্ট কেবিনে পৌঁছে দেব আমরা..

    ‘আর তারপর একটা গ্রাঁ প্রি-র আয়োজন করা হবে-তুমি কি বলো, ডার্লিং?’

    ‘মার্ভেলাস,’ দরজার সামনে থেমে ঘুরল বেলাডোনা, ‘মি. ঝান। হোয়াই নট? আপনি মিসেস লুগানিসকে সঙ্গ দেবেন, আর আমি রানাকে চারদিকটা ঘুরিয়ে দেখাব। কেমন হবে সেটা?’

    কৃত্রিম গাম্ভীর্যের সাথে ঝান বলল, ‘আপনার ওপর আমার নজর রাখতে হবে, মি. রানা, প্রিয় বান্ধবীকে যদি একা আপনার সাথে যেতে দিই।’ রানার উদ্দেশে চোখ মটকাল সে।

    ইতিমধ্যে, যদিও, অদৃশ্য হয়েছে বেলাডোনা।

    অনেকক্ষণ হলো ঝান র‍্যাঞ্চে এসেছে ওরা, ভাবল রানা, এবার কিছু কাজ হওয়া দরকার। ঝান আবার কথা শুরু করার আগেই প্রসঙ্গটা পাড়ল ও, প্রশ্ন করল সরাসরি, ‘মি. ঝান, প্রফেসর লুগানিসকে ওভাবে আমন্ত্রণ জানাবার মানে কি জানতে পারি?’

    লাল মুখ রানার দিকে ফিরল, চেহারায় বিস্ময় এবং সরলতা। ‘ওভাবে মানে, মি. রানা?’

    ‘প্রফেসর বলেছেন, এ-ব্যাপারে আমি যেন আপনার কাছে একটা ব্যাখ্যা চাই। সত্যি কথা বলতে কি, উনি চাননি রিটা… মিসেস লুগানিস এখানে আসুক। রিটা জেদ করে এসেছে।

    ‘কিন্তু কেন? আমি তো কিছুই…’

    ‘আমাকে ওঁরা যেমন বলেছেন-আপনার আমন্ত্রণ নাকি গায়ের জোরে গেলানোর চেষ্টা করা হয়েছিল।’

    ‘গায়ের জোরে?’

    ‘গায়ের জোর। হুমকি। আগ্নেয়াস্ত্র।’

    মাথা নাড়ল ঝান, হতভম্ব। হুমকি? আগ্নেয়াস্ত্র? আমি তো শুধু জেটটা নিউ ইয়র্কে পাঠিয়েছি। ল্যাচাসিকে বলেছিলাম আমাদের পরিচিত একটা ফার্মকে দিয়ে আয়োজনটা করাতে-মাঝে মধ্যে এটা-সেটা করে দেয়া ওরা, প্রাইভেট ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড বডিগার্ড সার্ভিস। সাদামাঠা, সাধারণ একটা আমন্ত্রণ; আর প্রিন্ট ও প্রফেসর দম্পতি যাতে নিরাপদে প্লেনে উঠতে পারে তার জন্যে একজন গার্ডের ব্যবস্থা।

    ‘ফার্মের নাম?’

    ‘নাম? ডুপে সিকিউরিটি। হেনরি ডুপ্রে হলো গিয়ে …’

    ‘একজন গুণ্ডাসর্দার, মি. ঝান।’

    ‘গুণ্ডাসর্দার? কি বলছেন! অসম্ভব! ছোটখাট অনেক কাজ করেছে সে আমাদের…’

    ‘আপনার নিজস্ব সিকিউরিটি আউটফিট রয়েছে, মি. ঝান। আলাদাভাবে একটা নিউ ইয়র্ক এজেন্সিকে ব্যবহার করা হলো কেন?’

    ‘আপনি আসলে…,’ শুরু করল ঝান। ‘বাই গড! আগ্নেয়াস্ত্র! হুমকি! আমার নিজের লোকেরা? কিন্তু ওরা স্থানীয় লোক, আগে কখনও বাইরে কোথাও কাজে পাঠাইনি। আপনি বলতে চাইছেন, ডুপ্রের লোকেরা সত্যিকার অর্থে লুগানিসদের হুমকি দিয়েছে?’

    ‘প্রফেসর ও তাঁর স্ত্রীর ভাষ্য ছিল, ডুপ্রে কথা বলেছে, আর তার সশস্ত্র সঙ্গীরা তাকে সহায়তা করেছে।’

    ‘ওহ্, গড!’ হতাশায় ঝুলে পড়ল ঝানের মুখ। ‘ল্যাচাসির সাথে আমাকে কথা বলতে হবে। গোটা ব্যাপারটা তার দায়িত্বে ছিল। সত্যি এই কারণেই কি প্রফেসর আসতে পারলেন না?’

    ‘এটা মাত্র একটা কারণ। আরেকটা কারণ ওদের জীবননাশের চেষ্টা করা হয়।’ চোখে প্রশ্ন নিয়ে রানার দিকে তাকিয়ে থাকল ঝান। ‘কি বললেন?’

    ‘প্রাণনাশের চেষ্টা, হত্যাকাণ্ড-খুন।’

    ‘খুনের চেষ্টা? জেসাস ক্রীস্ট, মি. রানা! ঠিক ধরেছেন, অবশ্যই আমি জানব কি ঘটেছে। হতে পারে বুঝতে ভুল করেছিল ডুপ্রে। কিংবা ল্যাচাসি এমন কিছু বলেছিল…গড, আই য়্যাম সরি। আমার কোন ধারণাই ছিল না! যদি দরকার হয়, ডুপ্রেকে আমরা এখানে ডেকে আনাব। বাজি ধরতে পারেন, দিন শেষ হবার আগেই লেজ নাড়তে নাড়তে এখানে পৌঁছে যাবে সে।’

    ঝান অভিনয়ে দারুণ পারদর্শী, এটুকু স্বীকার করতে হলো রানাকে। সন্দেহভাজন বন্ধুর আরেকটা গুণের পরিচয় পাওয়া গেল। সেই সাথে জানা গেল তার আমন্ত্রণে যদি ভুলভাল হয় বা ত্রুটি থাকে, সংশোধন করে নেয়ার সামর্থ্য রাখে সে, সামর্থ্য রাখে দায়িত্ব অস্বীকার করার।

    বাড়ির ভেতর কোথাও মধুকণ্ঠী একটা পাখি ডেকে উঠল। ‘লাঞ্চ, ঘোষণা করল ঝান, রাগে এখনও একটু একটু কাঁপছে সে।

    ‘ওরে শালা!’ মনে মনে গাল দিল রানা, হাসিমুখে বেরিয়ে এল প্রিন্ট- থেকে।

    ডাইনিং রুমটা ঠাণ্ডা। ঝানের কাছ থেকে জানা গেল, টেবিল-চেয়ার থেকে শুরু করে তৈজস-পত্র পর্যন্ত সবই অ্যান্টিকস। চাকর-বাকররা মনিব বা অতিথি কারও দিকেই চোখ তুলে তাকাল না, চলাফেরায় কোন শব্দ নেই। ডাইনিং রূমে ঢোকার আগে ফাঁক বুঝে স্যাবের কাছ থেকে হয়ে এসেছে রানা, গোপন কমপার্টমেন্টে রেখে এসেছে প্রিন্টগুলো।

    টেবিলে এত বেশি খাবার দেয়া হলো যেন খাওয়া নয়, অপচয় করাই মূল উদ্দেশ্য। ঝান, রানা আবিষ্কার করল, প্রতিটি অনুষ্ঠানের মধ্যমণি হয়ে থাকতে পছন্দ করে, চেষ্টা করে যাতে পিয়েরে ল্যাচাসি আর বান্না বেলাডোনাকে নেহাতই তার সভার অংশবিশেষ বলে মনে হয়।

    ওদের মেজবান নিজের র‍্যাঞ্চ সম্পর্কে ভারি গর্বিত, ঘুরেফিরে ভাল করে দেখার আগেই তার কাছ থেকে বহু কিছু জানতে পারল ওরা। আইসক্রীম ব্যবসা বিক্রি, ঝানের ভাষায়, তার বিরাট একটা বিজয় ছিল। সেই ব্যবসা বিক্রির টাকায় এই বিশাল তেপান্তর কেনে সে।

    ‘প্রথমে আমরা এয়ারস্ট্রিপ তৈরি করি,’ বলল সে। পরে অবশ্য এয়ারস্ট্রিপটাকে আরও বড় করা হয়েছে। ‘তাছাড়া উপায় ছিল না। পানির চাহিদা, ঘর-বাড়িতে ব্যবহারের জন্যে অন্তত, প্রতি দু’দিন পরপর প্লেনে করে বয়ে আনতে হয়। আন্ডারগ্রাউন্ড পাইপলাইন আছে বটে, সেই অ্যামারিলো থেকে, কিন্তু মাঝে মধ্যেই সরবরাহে অনিয়ম ঘটে—পাইপের পানিটা আসলে আমরা সেচের কাজে ব্যবহার করি।’

    মরুভূমি কেনার পর সেটাকে ভাগ করে নিয়ে কাজে হাত দেয় ঝান। এক তৃতীয়াংশে ঘাস জন্মানো হয়, পশুচারণ ভূমি হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে সেটা। ‘কৃত্রিম প্রাকৃতিক দৃশ্য, তাও আমরা তৈরি করেছি। পশুর বিরাট একটা পাল রয়েছে ওখানে।’ বাকি একশো বর্গ মাইলও সেচ ব্যবস্থার অধীনে আনা হয়, উর্বর মাটি আর পরিণত গাছ আমদানী করা হয়, কখনও প্লেনে করে কখনও ট্রাক্টরে তুলে। ‘বললেন, মি. রানা, আমার নাকি মাত্র দুটো দুর্বলতার কথা শুনেছেন আপনি-প্রিন্ট আর আইসক্রীম। না, মি. রানা, না! বলা যায়, প্রায় সমস্ত কিছুর সংগ্রাহক আমি। যেমন দেখুন না, গাড়ি! কোন্ গাড়ি আপনার প্রিয়, পুরানো না আধুনিক? প্রায় সব গাড়ির নমুনা একটা করে পাবেন ঝান র‍্যাঞ্চে। তারপর ধরুন, ঘোড়া! হ্যাঁ, তাও আছে। তবে ঠিক কথা, আইসক্রীম এমন একটা জিনিস, এখনও আমাকে খোঁচায়…

    ‘ল্যাবরেটরি আর ছোট একটা ফ্যাক্টরি আছে-হ্যাঁ, আমাদের এই র‍্যাঞ্চেই!’ এই প্রথম কথা বলার একটা সুযোগ করে নিতে পারল পিয়েরে ল্যাচাসি।

    ‘ও, ওটা!’ ঝান মৃদু হাসল। ‘আমার ধারণা, ওটা থেকেও দু’পয়সা আয়ই হয় আমাদের। বিশ্বাস করবেন, আজও আমি বেশ কয়েকটা কোম্পানীর কনস্যালট্যান্ট হিসেবে কাজ করছি? নতুন ফ্লেভার সৃষ্টি করতে ভালবাসি আমি, টাকরার জন্যে নতুন স্বাদ। বিলিভ মি, আমাকে খোঁচায়। প্রচুর তৈরি করে পাঠিয়ে দেয়া হয়। মাঝে মধ্যে কোম্পানীগুলো নিতে রাজি হয় না। খুব বেশি উন্নত মান, সেটাই কারণ বলে মনে করি। লক্ষ করেননি, মানুষের স্বাদ-বোধ ভোঁতা হয়ে যাচ্ছে?’ উত্তরের জন্যে অপেক্ষায় না থেকে আরেক প্রসঙ্গে চলে গেল সে। স্টাফদের জন্যে বিশেষ কোয়ার্টার বানানো হয়েছে, দুশো নারী-পুরুষ থাকছে সেখানে। বানানো হয়েছে লাগজারী কনফারেন্স সেন্টার, দুই বর্গমাইল জুড়ে। মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় আলাদা বলে মনে হবে কনফারেন্স সেন্টারটাকে, নিয়মিত যত্নচর্চিত চারা আর গাছের ঘন বেষ্টনী দিয়ে সম্পূর্ণ আড়াল করা। ‘আসলে একটা বনভূমি।’

    কনফারেন্স সেন্টারটাও আয়ের বড় একটা উৎস। বড় মাপের কয়েকটা কোম্পানী ওটা ব্যবহার করে, বছরে চার কি পাঁচবার, অবশ্যই ঝানের অনুমোদন সাপেক্ষে। ‘প্রসঙ্গ যখন উঠলই, তাহলে বলেই ফেলি, দিন দুয়েকের মধ্যে একটা কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, আমার ধারণা। ঠিক বলেছি, ল্যাচাসি?’

    মাথা ঝাঁকাল পিয়েরে ল্যাচাসি।

    ‘আর আছে, হ্যাঁ, অবশ্যই-আমার প্রিয়, টারা। এটাকে বাড়ি না বলে প্রাসাদ বলি আমি, যে প্রাসাদে আমিই রাজা। মুগ্ধ হবার মত, কি বলেন, মি. রানা?’

    ‘তা বটে!’ রানা ভাবছে, আসলে মতলবটা কি ঝানের? এত কথা বলে কি বোঝাতে চাইছে সে? প্রিন্টগুলো সত্যি যদি সে কিনতে চায়, প্রস্তাব দিতে কত সময় নেবে? প্রস্তাব দেয়ার পর, অতিথিদের জন্যে তার প্ল্যানটা কি হবে? সম্ভাব্য স্বাভাবিক আচরণ করে যাচ্ছে লোকটা, কিন্তু ইতিমধ্যে নিশ্চয় সে জেনেছে মাসুদ রানা আসলে কে-উ সেনের উত্তরাধিকারীর কাছে শুধু নামটাই তো অনেক অর্থ বহন করার কথা।

    আর কনফারেন্সের ব্যাপারটা কি? দু’দিন পর অনুষ্ঠিত হবে। হার্মিসের একজিকিউটিভ কমিটি মীটিঙে বসবে? একটা ব্যাপার খুব ভাল মেলে, হার্মিসের নতুন নেতার জন্যে ঝান র‍্যাঞ্চ ভারি উপযুক্ত জায়গা-রঙ ঝলমলে স্বপ্নপুরী! দুনিয়ার বাছা বাছা শয়তানগুলো এখানে বসে কুৎসিত ফ্যান্টাসীর সাথে কঠিন বাস্তবতার যোগসাধন ঘটাবে, নিরীহ মানুষের জন্যে তৈরি করবে দুঃস্বপ্ন আর সন্ত্রাস।

    যখন অপ্রীতিকর কিছু ঘটে, আর সব বিকৃত মানসের মত, সেটা ভুলে যেতে পারে ঝান-আইসক্রীমের খোঁচা অনুভব করে, প্রাইভেট রেস ট্র্যাকে গাড়ি ছোটায়, কিংবা হয়তো স্রেফ হলিউড ফ্যান্টাসী টারায় বসে অলস সময় কাটায়। গন উইথ দ্য উইন্ড।

    ‘গুড, মেহমানদের এবার বিশ্রাম পাওয়া দরকার,’ খাওয়াদাওয়ার পাট চুকতেই বলে উঠল ঝান। ‘ল্যাচাসির সাথে আমার আলাপ আছে মানেটা আপনি জানেন, মি. রানা। গাইড দিচ্ছি, আপনাদেরকে গেস্ট কেবিনে পৌছে দেবে। তারপর গ্র্যান্ড ট্যুরের জন্যে চারটের দিকে আমরা ডেকে নেব…ধরুন সাড়ে চারটের দিকে। ঠিক আছে তো?’

    রানা আর রিটা বলল, ঠিক আছে; আর এতক্ষণে এই প্রথম কথা বলল বান্‌না বেলাডোনা, ‘ভুলে যাবেন না, মি. ঝান। রানার ওপর আমার দাবি সবার আগে।’

    ইতিমধ্যে পরিচিত হয়ে উঠেছে ঝানের অট্টহাসি, আবার শুনতে হলো। ‘হ্যাঁ, অবশ্যই। তুমি কি ভেবেছ সুন্দরী মিসেস লুগানিসের সাথে একা খানিকটা সময় কাটানোর সুযোগ আমি নেব না? ভাল কথা, ডার্লিং, তুমি দুটো কেবিনের ব্যবস্থা করেছ তো?’

    হাসিমুখে মাথা ঝাঁকাল বেলডোনা। ডাইনিং রুম থেকে বেরিয়ে এল ওরা। দরজা দিয়ে বেরুবার সময় রানার বাহুর সাথে ধাক্কা খেলো বেলাডোনা, চোখের দৃষ্টিতে শুধু আনন্দ নয়, আরও কি যেন একটা অর্থ আছে; বলল, ‘তোমার সাথে কথা বলার জন্যে অপেক্ষায় আছি, রানা। চারদিকটা তোমাকে ঘুরিয়ে দেখাতে চাই।’

    কোন সন্দেহ নেই, বান্‌না বেলাডোনা মেসেজ দিচ্ছে রানাকে।

    বাইরে বেরিয়ে এসে ওরা দেখল স্যাবের সামনে একটা পিকআপ ট্রাক দাঁড়িয়ে রয়েছে, পিছনের অ্যান্টেনার সাথে টকটকে লাল একটা পতাকা। ‘আমার লোকেরা কেবিনে নিয়ে যাবে আপনাদের,’ রানার পিঠ চাপড়ে দিয়ে বলল ঝান। ‘সময়টা উদ্বেগে কাটাবেন না, প্লীজ, মি. রানা। আপনি যা বলেছেন তার সবটুকু জানব আমি। আর হ্যাঁ, আজ রাতে আপনার সাথে আমি ব্যবসা নিয়ে কথা বলব। প্রিন্টগুলো আমার চাই। আপনি একটা অফার পাবেন। বাই দ্য ওয়ে, ভাববেন না আমি লক্ষ করিনি কি নিপুণ কৌশলে ওগুলো আবার আপনি বাইরে নিয়ে গেলেন।’

    ‘পেশাগত দক্ষতা, মি. ঝান।’ রাজকীয় লাঞ্চের জন্যে ধন্যবাদ জানাল রানা। স্যাবে চড়ে রওনা হয়েছে ওরা, রানার পাশ থেকে বিস্ময় প্রকাশ করল রিটা, ‘উফ. কি একখানা সেট-আপ!’

    ‘সেট-আপ- হ্যাঁ, ঠিক বলেছ,’ জবাব দিল রানা।

    তুমি আরেক অর্থে বলছ। দু’দিন থেকে যাবার আমন্ত্রণ?’

    ‘আরও অনেক কিছুর মধ্যে ওটাও, হ্যাঁ।’

    ‘সবকিছুই আমাদের স্বস্তি আর আরামের দিকে লক্ষ রেখে।’

    ‘বেশ, ভাল,’ বলল রানা। ‘ঝান ঠিক আমাদের দেশের কর্তাব্যক্তিদের মত। তাদের লোকেরা প্রতিটি কাজে বেপরোয়া দুর্নীতি করছে, কিন্তু সে দুগ্ধপোষ্য শিশু, কিছুই জানে না। ভাব দেখাল, আমাদের বিরুদ্ধে গুণ্ডা লেলিয়ে দেয়ার ব্যাপারটা বিশ্বাসই করতে পারছে না।’

    ‘সাহস করে কথাটা তাহলে তুলেছ!’ ভুরু কোঁচকাল রিটা।

    মেজবানের সাথে কি কি কথা হয়েছে সব তাকে বলল রানা।

    ইতিমধ্যে বাড়ি ছেড়ে এক মাইলের মত চলে এসেছে স্যাব পিক-আপ ট্রাকটাকে অনুসরণ করছে ওরা।

    ‘কেবিনগুলো যেমনই হোক,’ রিটাকে সাবধান করে দিল রানা, ‘ধরে নিতে হবে আড়ি পেতে শোনার ব্যবস্থা করা আছে-টেলিফোনেও। কথা বলতে হলে খোলা জায়গায়। ওদের নিয়ে যখন ট্যুরে ৰেরোনো হবে, বলল রানা, পরে খুঁটিয়ে দেখার জন্যে কয়েকটা জায়গা মনে মনে চিহ্নিত করে রাখবে ওরা। তার মধ্যে কনফারেন্স সেন্টার একটা। তবে আরও কয়েকটা আছে। যা ধারণা করেছিলাম হাতে সময় তার চেয়ে অনেক কম, রিটা। কাজে নামতে দেরি করা উচিত হবে না।

    ‘আজ রাতেই?’

    ‘আজ রাতেই।’

    মৃদু শব্দে হেসে উঠল রিটা। ‘আমার ধারণা আজ রাতে তোমাকে অন্য কাজে ব্যস্ত থাকতে হবে।‘

    ‘মানে?’

    ‘মানে…বানা বেলাডোনা। সে তার দামী জুতো তোমার বিছানায় তোলার জন্যে এক পায়ে খাড়া। শুধু তোমার সম্মতির অপেক্ষায়, রানা।‘

    ‘সত্যি?’ রানা ভাব দেখাবার চেষ্টা করল যেন কিছুই বোঝেনি, যদিও বেলাডোনার অর্থবহ দৃষ্টি আর কথাগুলো পরিষ্কার স্মরণ আছে ওর। ঝানের সাথে লোক-দেখানো ভাল সম্পর্ক রাখছে মেয়েটা, কিন্তু পরিষ্কার বোঝা যায় ঝানের প্রতি সে আকৃষ্ট নয়। বরং ঘৃণাই করে তাকে। ঝানের স্পর্শ পেয়ে বেলাডোনাকে পরিষ্কার শিউরে উঠতে দেখেছে ও। ঝান যে তাকে র‍্যাঞ্চে আটকে রেখেছে, কথাটা সত্যি। হয়তো সে-বিষয়েই রানার সাথে কথা বলতে চায় মেয়েটা। সাহায্য পাবে কিনা জানতে চাইবে। ‘তোমার কথা যদি সত্যি হয়, রিটা, আমি দেখব আজ রাতে কেউ যাতে আমাদের বিরক্ত না করে। হেভেন ক্যান ওয়েট।’

    রানার দিকে কঠিন দৃষ্টিতে তাকাল রিটা হ্যামিলটন। ‘হয়তো,’ বলল সে, ‘বাট ক্যান হেল?’

    চারদিকে দৃশ্য এরইমধ্যে দু’বার বদলে গেছে। ‘ভেবে দেখো, মরুভূমিকে মরুদ্যান বানাতে কি বিপুল খরচ করেছে লোকটা,’ বলে বিস্ময়ে মাথা নাড়ল রিটা। দশ মাইলের মত পেরিয়ে এসেছে ওরা, এই মুহূর্তে ঢাল বেয়ে একটা রিজ- এর মাথায় উঠছে স্যাব, রিজের মাথায় সারি সারি ফার গাছ।

    ট্রাক থেকে সঙ্কেত এল, বাঁ দিকে ঘুরতে হবে। বাঁক নেয়ার পর রাস্তার দু’পাশে ঘন সবুজ গাছপালার সমারোহ দেখা গেল, তারপর হঠাৎ করে ওরা চওড়া একটা ফাঁকা জায়গায় পৌঁছে গেল।

    একজোড়া লগ কেবিন, মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে, মাঝখানে প্রায় ত্রিশ ফুট ব্যবধান। তাকালে চোখ জুড়িয়ে যায়, ছোট ছোট বারান্দা, পরিচ্ছন্ন সাদা রঙ করা।

    ‘ওরা কোন ঝুঁকি নেয়নি,’ বিড়বিড় করে উঠল রানা।

    ‘ঝুঁকি নেয়নি…মানে?

    যাতে বিপদ হয়ে না উঠি। লক্ষ করছ না, গাছপালার ভেতর দিয়ে একটাই মাত্র পথ? চারদিক ঘেরা; সহজে নজর রাখা যায়। কাজটা কঠিন হবে, রিটা, চাইলেই বেরুতে পারব না। বাজি ধরে বলতে পারি আশপাশের গাছে টিভি মনিটর, ইলেকট্রনিক অ্যালার্ম, সেই সাথে জ্যান্ত মানুষও আছে। তোমার কাছে কিছু নেই তো-অস্ত্রশস্ত্ৰ?’

    মাথা নাড়ল রিটা, জানে, ঠিক কথাই বলছে রানা। কেবিনগুলো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, সহজে যাতে মেহমানদের ওপর নজর রাখা যায়।

    ‘ব্রীফকেসে একটা স্মিথ অ্যান্ড ওয়েসন আছে,’ বলল রানা। ‘পরে তোমাকে দেব।’

    ক্যাব থেকে মাথা বের করে ওদের দিকে তাকিয়ে রয়েছে ড্রাইভার, চিৎকার করে বলল, ‘কোটা কার আপনারাই বেছে নিন, মিস্টার। হ্যাভ আ নাইস টাইম।’

    ‘মোটেলে থাকার চেয়ে ভাল,’ খুশি মনে বলল রানা। ‘তবে টারায় আরও নিরাপদ বোধ করতাম।’

    নিঃশব্দে হাসল রিটা। ‘আমাকে যদি জিজ্ঞেস করো, ডিয়ার রানা,’ জবাব দিল সে, ‘তুমি সাথে থাকলে কোথাও আমি নিরাপত্তার অভাব বোধ করব না।

    প্রায় বিশ মাইল দূরে, সবুজাভ দেয়াল ঘেরা ছোট্ট একটা স্টাডিতে বসে ফোনের রিসিভার তুলে নিয়ে নিউ ইয়র্কের একটা নাম্বারে ডায়াল করল সও মং। স্টাডিতে প্রয়োজনীয় কয়েকটা ফার্নিচার ছাড়া আর কিছু নেই-ডেস্ক, ফাইলিং কেবিনেট আর খানকতক চেয়ার।

    ‘ডুপ্রে সিকিউরিটি,’ অপরপ্রান্ত থেকে সাড়া দিল এক লোক।

    ‘হেনরিকে চাই আমি। বলো লীডার কথা বলতে চান।’

    কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে লাইনে চলে এল হেনরি ডুপ্রে।

    তাড়াতাড়ি চলে এসো এখানে,’ নির্দেশ দিল সও মং। ‘সমস্যা দেখা দিয়েছে।’

    ‘ধরুন রওনা হয়ে গেছি,’ সাথে সাথে বলল ডুপ্রে। ‘কিন্তু কনফারেন্স সংক্রান্ত আরও কয়েকটা কাজ বাকি আছে। সবচেয়ে ভাল হয় যদি দু’দিন পর ওখানে চান আপনি আমাকে। কাজ শেষ করতে পারলে আগেই পৌঁছে যাব।

    ‘যত তাড়াতাড়ি সম্ভব।’ সও মং যে খুব রেগে আছে তা তার গলার সুরেই বোঝা গেল। ‘এরই মধ্যে যথেষ্ট ক্ষতি করেছ তুমি। এদিকে রানাকে আমরা সহজ শিকার হিসেবে পেয়ে গেছি এখানে।’

    ‘যত তাড়াতাড়ি পারি। আপনি চান সব কাজ নিখুঁতভাবে সারা হোক, তাই না?’

    ‘শুধু মনে রেখো, ডুপ্রে, জলাভূমির মাঝখানে সেই বাড়িটাতে অত্যন্ত ক্ষুধার্ত কিছু প্রহরী আছে।’

    ক্রেডলে রিসিভার রেখে দিয়ে চেয়ারে হেলান দিল সও মং, হার্মিসের পরবর্তী চাল সম্পর্কে চিন্তা করছে। প্ল্যানটা করতে সময় আর বুদ্ধি কম খরচা হয়নি, আরেকটু হলেই বজ্জাত ডুপ্রেটা দিয়েছিল সব ভেস্তে। রানাকে খুন করার কোন নির্দেশ তাকে দেয়া হয়নি। নর্দমার পোকাটা চিরকালই খুন-খারাবি পছন্দ করে, যাকে বলে ট্রিগার-হ্যাপি। শেষ পর্যন্ত, সও মং ভাবল, ডুপ্রের ব্যাপারে একটা সিদ্ধান্তে আসতে হবে।

    ফ্লাইং ড্রাগন! শব্দটা মনে পড়ে যেতে আপনমনে হাসতে লাগল সও মং।

    পৃথিবীর অনেক ওপরে, ঠিক এই মুহূর্তে, শক্তিশালী এক ঝাঁক ফ্লাইং ড্রাগন রয়েছে আমেরিকানদের। আরও কয়েক ঝাঁক রাখা হয়েছে রিজার্ভ। তারা দাবি করে, তাদের এ-সব অস্ত্রের একটাও মহাশূন্যে নেই। ফালতু কথা, বিতর্ক এড়ানোর কৌশল। আর মাত্র ক’দিনের মধ্যে এই সব ফ্লাইং ড্রাগন অভ হেভেন সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য এবং ডাটা হার্মিসের মুঠোয় চলে আসবে।

    আহ্, কি চমৎকার প্ল্যান! বুদ্ধিমত্তার কি অপূর্ব ভেল্কি! কি অবিশ্বাস্য নগদপ্রাপ্তি! তথ্যগুলোর বিনিময়ে একা সোভিয়েত ইউনিয়নই সাত রাজার ধন হাতছাড়া করতে এক পায়ে খাড়া আছে।

    ফ্লাইং ড্রাগন নিয়ে যে প্ল্যান করা হয়েছে, তাতে মাসুদ রানার জন্যে নির্দিষ্ট করা ভূমিকাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। টোপ ফেলে গেলানো হয়েছে, রানা এখন টেক্সাসে, হার্মিসের হাতের তালুতে।

    সও মং তার মৃত্যু উপভোগ করবে।

    ওয়াশিংটনে খুন করার চেষ্টা হওয়ায়, যদিও সেটা প্ল্যানের মধ্যে ছিল না, যথেষ্ট নাড়া খেয়েছে দুর্ভাগা বাংলাদেশী বীর। তবে সও মঙের মাথায় আরও কিছু বুদ্ধি আছে, শিকারকে বেতাল করার জন্যে। মৃত্যু আসবে রানার জন্যে একেবারে শেষে।

    স্বভাবসুলভ অট্টহাসিতে ফেটে পড়ল সও মং।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমাসুদ রানা ৪১২ – সেই কুয়াশা (প্ৰথম খণ্ড)
    Next Article মাসুদ রানা ০৭২-৭৩ – সেই উ সেন (দুই খণ্ড একত্রে)

    Related Articles

    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৩৮৫-৩৮৬ – হ্যাকার (দুই খণ্ড একত্রে)

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫৬ – টপ টেরর

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫৪ – নরপশু

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫৩ – ধর্মগুরু

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫২ – কালো কুয়াশা

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫১ – মায়া মন্দির

    July 22, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }