Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মাসুদ রানা ১৫৯-১৬০ – আবার উ সেন (দুইখণ্ড একত্রে)

    কাজী আনোয়ার হোসেন এক পাতা গল্প374 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    আবার উ সেন – ২.৮

    আট

    যাত্রার প্রথম দিকে চোখ বুজে কিছুক্ষণ ঝিমাল জেনারেল। তারপর যখন চোখ মেলল, তাকে বেশ প্রফুল্ল এবং সতেজ লাগল। এক সময় নিজের সীটে ঘুরে বসল পাইলট, ইঙ্গিতে নিচের দিকটা দেখাল। কলোরাডোর উঁচু, নির্মল আকাশে রয়েছে ওরা। দূরে পাহাড়শ্রেণীর চূড়া দেখা গেল, এবড়োখেবড়ো পাথুরে কিনারা।

    কয়েক মিনিট পর পিটারসন ফিল্ড আর জেনারেলের জন্যে অপেক্ষারত কনভয়ের দিকে নামতে শুরু করল হেলিকপ্টার। ডুপ্রের চেহারায় নির্লিপ্ত ভাব, জেনারেল গম্ভীর। তাকে হেলিকপ্টার থেকে নামতে সাহায্য করল অ্যাডজুট্যান্ট, জানতে চাইল যান-বাহনের সামনে লাইনে দাঁড়ানো লোকগুলোকে তিনি খুঁটিয়ে দেখতে চান কিনা। কয়েক মুহূর্ত স্থির দাঁড়িয়ে থেকে লোকগুলোকে দেখল জেনারেল, মাথা ঝাঁকাল, তারপর হাড়সর্বস্ব ক্যাপটেনের দিকে এগোল।

    ক্যাপটেন স্যালুট করল জেনারেলকে। ‘ক্যাপটেন ল্যাচাসি, স্যার।’ ল্যাচাসিই পথ দেখিয়ে লাইনের দিকে নিয়ে চলল জেনারেলকে।

    ‘তোমার সাথে আগে কখনও দেখা হয়েছে আমার, ক্যাপটেন?’ কঠিন দৃষ্টিতে ক্যাপটেনের দিকে তাকাল জেনারেল।

    ‘না, স্যার।’

    স্টাফ কারের দিকে এগোবার সময়, ল্যাচাসি তখন একটু পিছিয়ে পড়েছে, ফিসফিস করে ডুপ্রেকে বলল জেনারেল, ‘ক্যাপটেন ‘লোকটা। আমার বিশ্বাস আগেও আমি ওকে দেখেছি, হেনরি।’

    ‘আপনি ওর ফটো দেখেছেন, জেনারেল,’ মেজরও নিচু গলায় জবাব দিল। ‘এমন কোন কাগজ নেই যাতে ওর ছবি ছাপা হয়নি। দুনিয়ার সেরা একজন প্লাস্টিক সার্জেন সাধ্যমত চেষ্টা করে চেহারার ওইটুকুই বাঁচাতে পেরেছে। ভিয়েতনামীরা বেচারার মুখ পুড়িয়ে দিয়েছিল।

    ‘বেজন্মা!’ ঘৃণার সাথে বিড়বিড় করল জেনারেল।

    কনভয়ের আয়োজন দেখার মত। প্রথমে দু’জন মটরসাইকেল আউটরাইডার, তারপর একটা এম/ওয়ান-ওয়ান-থ্রী আর্মারড পারসোনেল ক্যারিয়ার। ক্যারিয়ারে রয়েছে ভারী টুয়েলভ পয়েন্ট সেভেন এম. এম., সাথে দু’জন ক্রু সহ কমব্যাট ট্রুপসের একটা সেকশন। ব্রাউনিঙের বাঁকা সুইভেল মাউন্টিং-এ দাঁড়িয়ে রয়েছে ক্রুরা।

    ক্যারিয়ারের পিছনে রয়েছে জেনারেল পিলারের স্টাফ কার, স্টাফ কারের পর আরেকটা এ.পি.সি.।

    স্টাফ কারের ড্রাইভারকে আগে কখনও দেখেনি জেনারেল, দ-এর মত তেড়া-বাঁকা দেহ-কাঠামো। সার্জেন্টের ইউনিফর্ম তার গায়ে জোর করে ঢোকানো হয়েছে। তবে ভালই গাড়ি চালায় লোকটা, যখন যেমন প্রয়োজন ভদ্রতাসূচক আচরণ করতেও জানে। নিজের নিয়মিত ড্রাইভার থাকলে খুশি হত জেনারেল, যদিও এই মুহূর্তে তার নাম ঠিক মনে করতে পারল না সে।

    পিছনের সীটে জেনারেলের সাথেই বসেছে মেজর ডুপ্রে, কঙ্কালের মুখ নিয়ে সামনে বসেছে ক্যাপটেন ল্যাচাসি, ড্রাইভারের পাশে। হেলিপ্যাড থেকে ধীরগতিতে রওনা হলো ছোট কনভয়টা পিটারসন ফিল্ডের মেইন গেটের দিকে। স্টাফ কারের একদিকে জেনারেলের সরু উজ্জ্বল পতাকা পত পত করে উড়ছে। জেনারেলের ইউনিফর্মেও তারকা আর ফিতের ছড়াছড়ি।

    কোন প্রশ্ন না করে ব্যারিয়ার তোলা হলো। অস্ত্র বাগিয়ে ধরে সম্মান প্রদর্শনে ব্যস্ত হয়ে উঠল গার্ড, স্যাৎ করে তাকে পাশ কাটাল স্টাফ কার। অন্যান্য অফিসার আর সৈনিকরাও অ্যাটেনশন ভঙ্গিতে অটল হলো, তারপর একজন ফোর-স্টার জেনারেল যাচ্ছেন বুঝতে পেরে স্যালুট করল তারা সবাই।

    প্রায় এক ঘণ্টা পর দেখা গেল পাহাড়ের পাদদেশ ধরে এগিয়ে যাওয়া মিলিটারি রোড ধরে ছুটছে কনভয়। রাস্তা ও আশপাশের এলাকায় কড়া পাহারায় রয়েছে এয়ার ফোর্স আর আর্মি, কিন্তু কেউ ওদেরকে থামাবার চেষ্টা করল না বা কাগজ-পত্র দেখতে চাইল না। ছোট ছোট মিলিটারি পুলিস ডিটাচমেন্টগুলো শুধু অ্যাটেনশন হলো, নির্বাধায় এগিয়ে যেতে দিল কনভয়টাকে।

    কনভয়ের আয়োজন সম্পর্কে আরেকবার চিন্তা করল জেনারেল পিলার। দু’জন মটরসাইকেল আরোহী, দুটো ক্যারিয়ারে দু’জন করে চারজন ক্রু, প্রতিটি ক্যারিয়ারে আরও রয়েছে বারো কি তেরো জন করে কমব্যাট ট্রুপসের সদস্য, অফিসার রয়েছে একজন করে। বত্রিশ জন লোক, বেশিও হতে পারে। তার ড্রাইভার, হেনরি আর ক্যাপটেন ল্যাচাসিকে ধরলে পঁয়ত্রিশ জন। বাহ্ চমৎকার! সবার সাথে একটা করে এম সিক্সটিন আর হ্যান্ডগান রয়েছে। মেজর হেনরি ডুপ্রে, ক্যাপটেন পিয়ের ল্যাচাসি আর ড্রাইভারের কাছেও সাইড আর্মস রয়েছে। এরচেয়ে ভাল প্রোটেকশন আর কি আশা করতে পারে জেনারেল?

    ‘গোটা ব্যাপারটা নিখুঁত হয়েছে, হেনরি-চমৎকার আয়োজন, ‘ বলল জেনারেল, উজ্জ্বল হাসি তার মুখে। ‘ওয়েল অর্গানাইজড। ওয়েল ডান।

    ‘আমি শুধু টেলিফোনের রিসিভার তুলেছি, জেনারেল। সবই তো জানেন আপনি, স্যার।

    দু’মিনিট হলো পাহাড়ে চড়তে শুরু করেছে ওরা, পাশ কাটিয়ে এল একটা সাইড রোডকে, একধারে ছোট একটা সাইনবোর্ডে তীরচিহ্ন সহ লেখা রয়েছে, নোরাড় হেডকোয়ার্টার।

    ‘ওটা, স্যার,’ জেনারেলকে জানাল মেজর ডুপ্রে, ‘মেইন এন্ট্রান্সের দিকে চলে গেছে। এই রাস্তা ধরে মাইল পাঁচেক উঠব আমরা, তারপর বাঁক নিয়ে পৌঁছুব সাইড এন্ট্রান্সে। আমার বিশ্বাস, পিটারসনের কেউ ইতিমধ্যে খবরটা ওদের কাছে নিশ্চয়ই ফাঁস করে দিয়েছে। কোন সন্দেহ নেই, মেইন এন্ট্রান্স বিল্ডিঙের সামনে জড়ো হয়েছে সবাই।’

    ‘এই রাস্তার শেষ মাথাতেও থাকবে ওরা,’ বলল জেনারেল। ‘ওদেরকে বোকা মনে করার কোন কারণ নেই। সবাই ওরা জানবে। যেখানেই আমরা পৌঁছুই না কেন, দেখা যাবে সেখানেই আমাদেরকে আশা করছে ওরা।’

    প্রায় মিনিট দশেক পর আবার দুই রাস্তার মাথায় পৌছল কনভয়, দ্বিতীয় রাস্তার ধারে একটা সাইন বোর্ড, তাতে তীরচিহ্নসহ লেখা রয়েছে, নোরাড টু।

    আমরা এবার সরাসরি যাব, স্যার। আপনি, স্যার, সুস্থ বোধ করছেন তো?’ রাজহাঁসের মত গলাটা বাঁকা করল ডুপ্রে, জেনারেলকে ভাল করে দেখতে চাইছে।

    নিজের সীটে ঘুরে বসল কঙ্কালসার ক্যাপটেন ল্যাচাসি। ‘জেনারেলের শরীর কি ভাল নয়?’

    ‘ক্যাপটেন,’ মেঘের মত গুরুগুরু ডাক ছাড়ল জেনারেল। ‘কয়েকটা কথা মনে রাখলে জেনারেলের অবস্থা তোমার মত হাঁদার কাছেও পরিষ্কার হয়ে যাবে। নতুন একটা পদ দেয়া হয়েছে তাকে, পদটা অতীব গুরুত্বপূর্ণ এবং মর্যাদাসম্পন্ন। স্ত্রীকে একা রেখে বেসে থাকতে হয় তাকে, অফিসারদের পাল্লায় পড়ে রাতে প্রচুর পরিমাণে মদ গিলতে হয়। এরকম অবস্থায় তার সুস্থ থাকার কোন কারণ নেই। অথচ আমি অসুস্থ নই, শুধু একটু অস্বস্তি বোধ করছি।

    ক্যাপটেন ল্যাচাসি একটা শব্দ করল, যার অর্থ হতে পারে কৌতুকটার রসাস্বাদ করতে পেরেছে সে।

    ‘নিজেকে আমার বোকা বোকা লাগছে,’ বলে চলেছে জেনারেল। যেন আমি একটা পুতুল।’ ডুপ্রের দিকে ফিরল সে। ‘তুমি আমাকে হাঁটিয়ে নিয়ে যাবে, ঠিক হ্যায়? যদি আমাকে গাইড করো তাহলে আর কোন সমস্যা হবে না।’

    ‘চিন্তা করবেন না, স্যার-এ-সব আমরা আগেও করেছি।

    ‘অবশ্যই করেছি,’ হাসল জেনারেল। ‘এটাই তো আমাদের কাজ, বিশেষ করে তেমন বড় ধরনের কোন যুদ্ধ যখন আমেরিকা করছে না।’

    মাথার ওপর থেকে হেলিকপ্টারের একঘেয়ে আওয়াজ ভেসে এল। পাহাড়ের আড়ালে রয়েছে বলে দেখা গেল না, তবে কোন সন্দেহ নেই কনভয়টাকে অনুসরণ করেই আসছে ওটা।

    ওরা এখন একটা ফাঁকের মধ্যে রয়েছে-দু’পাশে নিরেট পাথর, আকাশ ছোঁয়া দু’সারি পাহাড়ের মাঝখানে। বাম দিকে ঘুরল কনভয়, বেরিয়ে এল ফাঁকটা থেকে, সেই সাথে ধূসর রঙের রাস্তা চওড়া হয়ে গেল, সাদা ধুলো উঠল পিছনে, সামনে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন পাথুরে বিস্তৃতি। সামনে আবার আকাশ ছুঁয়েছে পাহাড়শ্রেণী, প্রায় এক মাইল দূরে নিরেট দর্শন একজোড়া গেট, গেটের দু’পাশে কাঁটাতারের উঁচু বেড়া। বেড়ার গায়ে খানিক পর পর একটা করে স্টীল গার্ডার, প্রতিটির মাথায় বিরতিহীন ঘুরছে একটা করে ক্যামেরা। বেড়ার ওপারে অনেকগুলো বিল্ডিং, আরও অনেক সামনে চেইন পাহাড়ের গম্ভীরদর্শন প্রাচীর।

    গেটের সামনে দু’জন জি.আই. দাঁড়িয়ে আছে। কনভয়টাকে ভাল করে দেখার পর তাদের একজন ব্লকহাউসের দিকে ঘুরে গিয়ে চিৎকার করল, ব্লকহাউসটা গেটের ডান দিকে। ব্যারিয়ারের কাছ থেকে কনভয়টা যখন একশো গজ দূরে, ব্লকহাউসের ছোট একটা দরজা দিয়ে একজন অফিসার বেরিয়ে এল। দূর থেকে দেখে মনে হলো হাসছে সে।

    কনভয়ের গতি মন্থর হলো, অর্ধবৃত্ত রচনা করে স্টাফ কারের ডান আর বাঁ দিকে চলে এল মটরসাইকেল এসকর্ট। প্রথম এ.পি.সি.ও ঘুরল, ডান দিকে বাঁক নিয়ে লাটিমের মত, থামল গেটের দিকে মুখ করে। নিখুঁত এবং সামরিকসুলভ। আবারও অত্যন্ত মুগ্ধ হলো জেনারেল। লোকগুলো নিজেদের কাজ খুব ভাল বোঝে।

    মেজর ডুপ্রের দিকে ফিরে বলল সে, ‘পরিচয় ইত্যাদি সব তোমার দায়িত্ব, হেনরি, কেমন? বরাবরের মত আর কি। কোন ঝামেলা চাই না। আমাকে তোমরা কিছুটা নির্লিপ্ত দেখতে পাবে।’

    ‘জ্বী, স্যার!’ মেজরকে ভারি তৃপ্ত দেখাল। স্টাফ কারের ইলেকট্রিক জানালা নেমে যাবার সাথে সাথে স্টাফ কারের দিকে দৃঢ় পায়ে এগিয়ে এল একজন নোরাড ক্যাপটেন। বয়সে তরুণ, সত্যি সত্যি মৃদু হাসি লেগে রয়েছে তার ঠোঁটে

    হ্যাঁ, ভাবল জেনারেল, এখানেও ওরা তৈরি হয়ে অপেক্ষা করছিল। কাঁটাতারের বেড়ার ওপারে তাকিয়ে দেখল এরইমধ্যে একটা অনার গার্ড বেরিয়ে এসেছে, গেটের একেবারে সামনের সমতল জায়গাটায় ঝাঁক বাঁধছে তারা।

    যুবক অফিসার চৌকশ ভঙ্গিতে স্যালুট করল।

    নীরস, কড়া সুরে কথা বলল মেজর ডুপ্রে, ‘জেনারেল পিলার-ইন্সপেক্টর- জেনারেল ইউনাইটেড স্টেটস এয়ার/ডিফেন্স-অফিশিয়ালি তোমার বেস ইন্সপেকশন করতে এসেছেন, ক্যাপটেন।’ মসৃণ এবং কড়কড়ে একটা ডকুমেন্ট হস্তান্তর করল সে, ক্যাপটেন সেটার দিকে ভাল করে একবার তাকালও না। উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে কি ধরনের ব্যবহার করতে হয় তার জানা আছে।

    ‘ভেরি গুড, স্যার।’ মৃদু হেসে ঘাড় ফেরাল ক্যাপটেন, গেট খোলার আদেশ জানাল। ‘আপনাকে নিজেদের মধ্যে পেয়ে আমরা যার পর নাই আনন্দিত, জেনারেল, স্যার। বেস আপনার জন্যে খোলা। আপনার আনন্দের জন্যে যদি কিছু করার থাকে আমাদের…’

    ‘আমরা এখানে আনন্দ-ফুর্তি করতে আসিনি, ক্যাপটেন,’ ধমকে উঠল জেনারেল। ‘এসেছি তোমাদের অপারেশনস্ রূম দেখতে আর কিছু প্রশ্ন করতে। মাথায় ঢুকেছে, ক্যাপটেন?’

    তারপরও যুবক ক্যাপটেনের ঠোঁটে হাসির রেশটুকু অম্লান থাকল। ‘জ্বী, স্যার। আপনি যা বলেন, স্যার। আমরা আপনার যেকোন আদেশের জন্যে একপায়ে খাড়া। দয়া করে ভেতরে চলুন, স্যার।’

    ‘জেনারেল চান যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পাহাড়ের ভেতর ঢুকবেন,’ মাঝখান থেকে কথা বলল মেজর ডুপ্রে।

    ‘রাইট, স্যার। আমাদের অ্যাকটিং কমান্ডিং অফিসার আপনাদের জন্যে অপারেশনস্ রূমে অপেক্ষা করছেন। ওখানে আপনাদের পৌঁছুতে খুব বেশি সময় লাগবে না।

    গেট খুলে গেল, একটা এ.পি.সি-র পিছু পিছু ভেতরে ঢুকল ওরা। বাকি সবাই পেরিমিটারের বাইরে থেকে গেল, গাড়ি থেকে নেমে গেটের বাইরে ও ভেতরে বিভিন্ন পয়েন্টে পজিশন নিল তারা। কয়েক মিনিটের মধ্যেই জেনারেলের টীম নোরাড হেডকোয়ার্টারের দু’নম্বর প্রবেশপথ সম্পূর্ণ সীল করে দিল।

    স্টাফ কার গেটের ভেতর ঢুকে থামতেই অ্যাটেনশন হলো অনার গার্ড, তারপর প্রেজেন্ট আর্ম পজিশনে স্থির হলো।

    ‘হেনরি,’ মেজরের মনোযোগ আকৃষ্ট করল জেনারেল পিলার। যুবক অফিসারের হাবভাব লক্ষ করেছ? কেমন যেন হালকা ভাবে নিল আমাদেরকে।’ স্টাফ কার থেকে নামছে সে।

    হ্যাঁ। কার সাধ্যি আপনার চোখকে ফাঁকি দেয়। সম্ভবত এর আগে ইন্সপেক্টর-জেনারেলদের সংস্পর্শে খুব বেশি আসেনি ছোকরা, স্যার; ভেবেছে হাসিখুশি ভাব দেখানে সুবিধে হবে এর ওর নামটা আমি জেনে কনের স্যার।

    ‘হ্যাঁ, যেন ভুল না হয়।’ ডুপ্রের মনে হলো ছোকরা ক্যাপটেনের ওপর খুব চটেছেন জেনারেল।

    ‘আপনি বোধহয় অনার গার্ড ইন্সপেকশন করতে চান না, তাই না, স্যার?’ জিজ্ঞেস করল ডুপ্রে। কিন্তু জেনারেল মাথা নাড়ল, অস্বস্তিবোধ করা সত্ত্বেও নিয়ম ধরে সব কাজ সারতে চায় সে। লাইনের সামনে দিয়ে ধীর পায়ে এগোল, দু’জন অন্তর একজনের সামনে থেমে প্রশ্ন করল দু’একটা।

    শেষ লাইনের মাথায় পৌঁছে গার্ড কমান্ডারকে বিদায় দিল জেনারেল, তার তীক্ষ্ণ স্যালুটের জবাব দিল, তারপর ফিরল যুবক ক্যাপটেনের দিকে। ‘রাইট, ধমকের সুরে বলল সে, ‘আমি চাই, ক্যাপটেন, আমাকে, আমার অ্যাডজুট্যান্ট আর সঙ্গী ক্যাপটেন সহ, ভেতরে নিয়ে যাবে তুমি।’ ঝট্ করে ডুপ্রের দিকে ফিরল সে। ‘সঙ্গী ক্যাপটেনের কি যেন নাম বলেছিলে…’

    ‘ল্যাচাসি,’ কঙ্কালসার ক্যাপটেন নিজেই জবাব দিল। ‘ক্যাপটেন ল্যাচাসি।’

    ‘হ্যাঁ।’ ল্যাচাসির দিকে রাগের সাথে তাক্বাল জেনারেল, যেন লোকটাকে তার পছন্দ হয়নি। হ্যাঁ। তুমি, মেজর হেনরি ডুপ্রে, আর ক্যাপটেন ল্যাচাসি। আর কেউ নয়, শুধু এই আমরা চারজন ভেতরে ঢুকব।’ যুবক ক্যাপটেনের দিকে আবার তাকাল সে। ‘এবং আমি তোমার কমান্ডিং অফিসারের সাথে দেখা করতে চাই।’

    জেনারেলের কনুইয়ের কাছ থেকে দ্রুত কথা বলল ডুপ্রে। ‘স্যার, আপনার কি মনে হয় না অন্তত জনাছয়েক লোক সাথে থাকলে ভাল হয়…?’

    ‘না, মেজর।’ নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকল জেনারেল। ‘আমরা যা দেখব সবার তা দেখা উচিত হবে না। ক্লাসিফায়েড, টপ সিক্রেট, এ-সব শব্দের অর্থ বদলে দেয়া একদম পছন্দ করি না আমি। এই আকারের একটা এসকর্ট কেন আমরা সাথে রাখলাম তা-ও আমার জানা নেই। উঁহুঁ, আমরা ছাড়া আর কেউ ভেতরে ঢুকবে না। এসো, রওনা হওয়া যাক। সারাটা দিন এখানে ঘুর ঘুর করতে আসিনি।…শুধু চারজন…।’ কথা শেষ হয়নি, তার আগেই পা বাড়াল জেনারেল, পাঁচিলের মত শক্ত আর সোজা হয়ে আছে পিঠ।

    ডুপ্রে আর ল্যাচাসিকে পিছনে ফেলে বেশ খানিকটা এগিয়ে গেছে জেনারেল, নোরাড ক্যাপটেন তার পিছু নিয়ে প্রায় দৌড়াচ্ছে। ‘আমাদের কমান্ডিং অফিসার, স্যার…’

    ‘ইয়েস?’

    ‘মানে, স্যার…আপনাকে তো আগেই বলেছি, ডিউটিতে রয়েছেন একজন ফুল কর্নেল, অপেক্ষা করছেন আপনার জন্যে। আমাদের কমান্ডিং অফিসার আজ ছুটিতে আছেন, স্যার। ভাবলাম আপনাকে ব্যাপারটা জানানো দরকার…’

    মাথা ঝাঁকাল জেনারেল। ‘তাতে কিছু আসে যায় না। কেউ একজন থাকলেই হলো।’

    পাথুরে প্রাচীরে ঠেকে রয়েছে বিল্ডিংগুলো, আসলে প্রবেশপথটাকে আড়াল করার জন্যে ডিফেন্সিভ ক্যামোফ্লেজ হিসেবে কাজ করছে ওগুলো। কংক্রিট আর ইস্পাতের সাহায্যে যতটা সম্ভব মজবুত করে তৈরি করা হয়েছে, ভেতরে অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অফিসের কাজ চলে, পাহাড়ের অভ্যন্তরে ঢোকার টানেলটা সম্পূর্ণ ঢেকে রেখেছে।

    নোরাড ক্যাপটেন বক বক করে চলেছে, ‘মেইন এন্ট্রান্সে, অর্থাৎ অপরদিকে, স্যার, একটা আন্ডারগ্রাউন্ড পার্ক আছে গাড়ি রাখা ছাড়াও অন্যান্য কাজে ব্যবহার করা হয়। এটাকে খিড়কি দরজা বলতে পারেন…’

    একজোড়া স্টীল ডোর পেরিয়ে এল ওরা। নোরাড ক্যাপটেন ছোট একটা পর্দার ভেতর হাত গলাতেই কবাট খুলে গেল। দরজার ওপারে বদলে গেল পরিবেশ, আরেক জগতে চলে এল ওরা। প্যাসেজটা সরু হয়ে গিয়ে চৌকো ধাতব টানেলে পরিণত হয়েছে, প্রতিবার শুধু একজন মানুষ যেতে বা আসতে পারবে। টানেলটা শেষ হয়েছে ছোট একটা কমান্ড পোস্টে, চারজন গম্ভীর মেরিনের দখলে রয়েছে সেটা, স্লাইডিং স্টীল প্যানেলসহ পরবর্তী প্রবেশপথটা পাহারা দিচ্ছে তারা।

    গম্ভীর এবং সতর্ক হলেও, ইউনিফর্ম পরা মেরিনরা ওদের সাথে সহযোগিতা করল, কোন প্রশ্ন না তুলেই। নোরাড ক্যাপটেনের কথা শেষ হতে তাদের একজন ইন্টারকমে আলাপ করল, তারপর চারজনেই সরে দাঁড়াল একপাশে নিঃশব্দে খুলে গেল বিস্ফোরণ-প্রতিরোধক প্যানেল।

    পাহাড়ের ভেতর কি আছে জেনারেল বা তার সঙ্গীদের সে-সম্পর্কে কোন ধারণাই নেই। জেনারেলের ব্যক্তিগত বিশ্বাস, এ-ধরনের অন্যান্য সামরিক স্থাপনায় যা সে দেখেছে এখানেও সেরকম কিছু দেখতে পাবে, যদিও সেগুলো তার চোখে অনেকটা যেন মুভি সেট-এর মত লাগে। বড় বড় এলিভেটর থাকে, স্টাফদের আন্ডারগ্রাউন্ডে নিয়ে যাবার কাজে ব্যবহার হয়। কিংবা থাকে খোলা রেলকার, যেমনটা আধুনিক কয়লা খনিতে দেখা যায় আজকাল।

    কিন্তু দরজা পেরিয়ে এসে সে-সব কিছুই ওরা দেখল না। ওদের সামনে বিশাল একটা গোলাকার চেম্বার রয়েছে, রিসেপশন এরিয়া বলা যেতে পারে, দেয়ালগুলো নগ্ন পাথর। শীতাতপনিয়ন্ত্রিত, ফলে ভেতরে গা-জুড়ানো ঠাণ্ডা একটা ভাব। মেঝেতে কার্পেটও আছে, যদিও এটাকে পরিচ্ছন্ন একটা গুহা ছাড়া আর কিছু বলা যায় না।

    চারটে বড় আকারের ডেস্কে চারজন লোক, চেহারা দেখে মনে হয় দুনিয়ার কোন ব্যাপারেই তাদের যেন কোন আগ্রহ নেই। আড়িপাতা যন্ত্র, অস্ত্রশস্ত্র এবং বিস্ফোরক অনুসন্ধানী, ইলেকট্রনিক ডিভাইসগুলোর দায়িত্বে রয়েছে ওরা। দীর্ঘদেহী, তাম্রবর্ণ কর্নেলের দিকে ভাল করে না তাকিয়ে জেনারেল জানাল, আগে সৈ ডেস্কগুলো চেক করতে চায়। কর্নেলের বুকে অনেকগুলো রক্তবর্ণ মেডেল আর রিবন, তার পিছনে চারজনের ছোট একটা টীম। টীমের একজন ক্যাপটেন, বাকি তিনজন মেজর। সবার বয়সই ত্রিশ থেকে চল্লিশের মধ্যে।

    স্যালুট করল কর্নেল, নিজের এবং অফিসারদের পরিচয় জানাল, কমান্ডিং অফিসারের অনুপস্থিতির জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করল সবিনয়ে, সবশেষে সম্ভাব্য সমস্ত বিষয়ে সহযোগিতা এবং সুবিধে প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিল সে।

    মাথা ঝাঁকাল জেনারেল পিলার, লক্ষ করল কর্নেল আর তার অফিসাররা প্রত্যেকে সাইড আর্মস্ বহন করছে। কর্নেলকে নিজের স্টাফ মেম্বারদের পরিচয় জানাল সে। অপরদিকে কর্নেলও লক্ষ করল, জেনারেল পিলার ড্রেস ইউনিফর্ম পরে থাকলেও তার স্টাফ অফিসাররা পরে আছে কমব্যাট ড্রেস, এবং দু’জনেই সাইড আর্মস বহন করছে। ব্যাপারটা তার কাছে অশুভ ধরনের কিছু মনে না হলেও, অস্বাভাবিক লাগল। কন্ট্রোল রূম থেকে এখানে আসার আগে কর্নেল একটা অস্বাভাবিক ঘটনার রিপোর্টও পেয়েছে মেইন গেট থেকে-জেনারেল পিলারের ডিটাচমেন্ট ট্রুপস দু’নম্বর মাউন্টেইন এন্ট্রান্স সীল করে দিয়েছে, গেটের বাইরে ও ভেতরে পজিশন নিয়েছে তারা।

    কর্নেল আরও লক্ষ করল, জেনারেল তেমন কোন প্রশ্ন করছে না। ব্যাপারটা বেশ একটু উদ্ভট। কাজেই সাথের চারজন অফিসারের উপস্থিতি সম্পর্কে নিজেই একটা ব্যাখ্যা দিল সে-ডিউটিতে থেকে যাবার সিদ্ধান্ত স্বেচ্ছায় নিয়েছে ওরা।

    ‘নিয়ম অনুসারে আর একটু পরই শেষ হয়ে যাবে ওদের শিফট,’ বলল কর্নেল, সারা মুখে সগর্ব হাসি। ‘কিন্তু ওরা থেকে যাবার প্রস্তাব দিয়েছে ইন্সপেকশনের সময় আপনাকে সাহায্য করবে বলে, জেনারেল।’ সে আরও ব্যাখ্যা করল, ডিউটির সময় এই অফিসাররা বিভিন্ন কমান্ড পোস্ট, মেইন কন্ট্রোল রূম আর মনিটরগুলো সুপারভাইজ করে। ‘এখানে ডিউটি দেয়া মানে ছয় ঘণ্টার প্রতিটি সেকেন্ড গভীর মনোযোগের সাথে কাজ করা।’ কাজ প্রসঙ্গে কথা বলার সময় অস্বাভাবিক সিরিয়াস দেখা গেল তাকে। এই মুহূর্তে যারা ডিউটিতে রয়েছে, নিজেদের কাজ নিয়ে তারা এতই ব্যস্ত, আপনার কোন প্রশ্নেরই উত্তর তারা ঠিকমত দিতে পারবে বলে মনে হয় না, স্যার।’

    অফিসাররা থেকে যাওয়ায় কর্নেলকে ধন্যবাদ জানাল জেনারেল, জিজ্ঞেস করল প্রথমে কোন্ জিনিসটা তার দেখা দরকার।

    ‘যেটা আপনার খুশি, জেনারেল। আমরা এখানে আপনার নির্দেশের অপেক্ষায় আছি। যে-কোন দিকে যান, যেটা খুশি পরীক্ষা করুন। কেউ কিছু মনে করবে না। আমরা সবাই এখানে সিরিয়াস লোক, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছি, তবু আপনার সন্তুষ্টির জন্যে সবকিছুই দেখতে দেব আপনাকে, প্রয়োজনীয় যে-কোন তথ্য চাইলেই আপনি পাবেন।’

    সিরিয়াস লোক? মনে মনে চিন্তা করল জেনারেল। সিরিয়াস লোকের বোধবুদ্ধি এত কম হয় কি করে? তবে, যারা দায়িত্বে থাকে তাদের কাছ থেকে এ- ধরনের সহযোগিতা প্রায়ক্ষেত্রেই পাওয়া যায়।

    এবার মেজর ডুপ্রে ওদের আলোচনার মধ্যে ঢুকে পড়ল। ‘আমার ধারণা, জেনারেল বিশেষভাবে জানতে চাইবেন কিভাবে আপনারা ফ্লাইং ড্রাগন কন্ট্রোল করেন, স্যার।’

    ট্রাফিক পুলিসের মত একটা হাত তুলল জেনারেল। তাড়াহুড়ো করে একটা কিছু গিলিয়ো না তো, হেনরি। এই আউটফিট কিভাবে কাজ করে কর্নেল জানেন। আফটার অল, গোটা দেশের মধ্যে এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা ঘাঁটি…’

    ‘ওয়েল, কর্নেলের কন্ঠস্বর মার্জিত ও শ্রুতিমধুর। ‘কোথাও যদি কোন গোলযোগ দেখা দেয়, আমরাই প্রথম সেটা জানব, স্যার। আমার মনে হয়, এ- প্রসঙ্গেই জানতে চাইছেন আপনি। আমি আপনাকে অনুরোধ করব, প্রথমে আপনি আমাদের মেইন অপারেশনস্ কন্ট্রোল দেখুন…’

    ‘আপনি যা বলেন,’ রাজি হলো জেনারেল।

    আরও এক জোড়া বিস্ফোরক প্রতিরোধক দরজার দিকে ইঙ্গিত করল কর্নেল, সিকিউরিটি ডেস্কগুলোর পিছনে অর্ধবৃত্ত আকৃতির দেয়ালের ঠিক মাঝখানে। ‘আসুন, স্যার।’

    কর্নেলকে অনুসরণ করল জেনারেল, তাদের সাথে দরজা দিয়ে বেরিয়ে এল ডুপ্রে আর ল্যাচাসি সহ অন্যান্য অফিসাররা। দরজার পর চওড়া একটা প্যাসেজ, শেষ হয়েছে টি-জাংশন করিডরে। ডানে বাঁয়ে তাকিয়ে খানিক পরপর দু’পাশে সুইং ডোর দেখতে পেল জেনারেল। নাক বরাবর সামনেও আরেকটা দরজা, বড় বড় সাদা হরফে লেখা রয়েছে, মেইন অপারেশনস্।

    একপাশে সরে দাঁড়িয়ে জেনারেলকে ভেতরে ঢোকার পথ করে দিল কর্নেল, বাকি সবাই ওদেরকে সশ্রদ্ধ ভঙ্গিতে অনুসরণ করল।

    প্রশস্ত একটা প্ল্যাটফর্মে পৌঁচেছে ওরা, অনেকগুলো চেয়ার আর উঁচু মোটা কাঁচের পর্দা রয়েছে। এই গ্যালারি থেকে সামনের দৃশ্য যে-কোন মানুষকে মুগ্ধ ও অভিভূত করবে।

    ওদের নিচে বিশাল এক অ্যামফিথিয়েটার, প্রায় একশো নারী-পুরুষ প্রত্যেকে সামনে থরে থরে সাজানো কমপিউটর ও ইলেকট্রনিক ইন্সট্রুমেন্ট নিয়ে বসে আছে। কীবোর্ড, স্ক্যানার ইত্যাদি নিয়ে সবাই এত ব্যস্ত, যে-যার কাজে তারা এতই মগ্ন, ভুলেও কেউ কারও দিকে মুখ তুলে তাকাচ্ছে না।

    ওদের ওপরদিকে, দূরবর্তী বাঁকা দেয়ালে, প্রকাণ্ড আকারের তিনটে ইলেকট্রনিক মারকেটর প্রোজেকশন, প্রতিটিতে পৃথিবীর মানচিত্র। তিনটে প্রোজেকশনের মাথায় শোভা পাচ্ছে সার সার ডিজিটাল ক্লক, পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গার বিভিন্ন সময় দেখা যাচ্ছে ওগুলোতে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, প্রতিটি প্রোজেকশনে অসংখ্য মন্থরগতি রঙিন রেখা রয়েছে-নীল আর সবুজ, চোখ ধাঁধানো সাদা, ঘন কালো, কমলা, আবার কিছু কিছু রেখা বিভিন্ন বর্ণে রঞ্জিত, টেকনিকালার।

    আটকে রাখা দম ধীরে ধীরে ছাড়লেও, জেনারেলের নাক দিয়ে বাঁশির মত আওয়াজ বেরিয়ে এল। তার মনে পড়ল এই জিনিসেরই ছোট সংস্করণ আগেও দেখেছে সে, তবে এটার সাথে সেগুলোর তুলনা চলে না। ‘কর্নেল,’ মৃদু কণ্ঠে বলল সে, ‘খুব খুশি হতাম আপনি যদি আমার পাশে এসে দাঁড়াতেন। এই অদ্ভুত প্রদর্শনী সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাই আমরা।’

    আনন্দের সাথে মেইন কন্ট্রোলের ব্যবহার ও উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করল কর্নেল। ইতিমধ্যে কক্ষপথে স্থাপিত স্যাটেলাইট ও অন্যান্য স্পেস হার্ডওয়্যারের সঠিক সংখ্যা জানিয়ে দিচ্ছে প্রোজেকশনগুলো, বাঁ দিকের প্রোজেকশন শুধু বিদেশী স্যাটেলাইটের হিসেব দেবে, ডান দিকেরটা দেবে আমেরিকান স্যাটেলাইটের, আর মাঝেরটা মনিটর করবে যে-কোন নতুন স্পেস-ক্রাফটের উপস্থিতি।

    মাঝের প্রোজেকশনের আরেকটা গুণ আছে। মুহূর্তের মধ্যে প্রোগ্রাম করা যায়, ফলে মার্কিন অ-মার্কিন যে-কোন স্যাটেলাইটের পারস্পরিক দূরত্ব, অবস্থান, ইত্যাদি সম্পর্কে বিশদ জানা সম্ভব।

    ‘এটাকে আর্লি ওয়ার্নিং প্রোজেকশনও বলা হয়,’ ওদেরকে জানাল কর্নেল। ‘বিদেশী শক্তি আকাশে নতুন কিছু পাঠালেই এই সেন্ট্রাল স্ক্রীনে ধরা পড়ে যাবে।’

    বিশাল ইলেকট্রনিক ম্যাপগুলো অপারেট ও মনিটর করছে অ্যামফিথিয়েটারে বসা টেকনিশিয়ানরা, বিভিন্ন উৎস থেকে ইনফরমেশন সংগ্রহ করে নিয়মিত যোগান দিচ্ছে তারা। ‘নতুন যে-কোন তৎপরতার খবর আমাদের ট্র্যাকিং স্টেশনগুলোর একটা থেকে আসবে, সেটা হয় গ্রাউন্ড-বেস নয়তো স্যাটেলাইট স্টেশন হবে। আমাদের নিজেদের স্যাটেলাইট ইনফরমেশন যোগান দেবে যার যার কমান্ড পোস্টকে, কমান্ড পোস্টগুলো এই কমপ্লেক্সের ভেতরেই আছে,’ এমনভাবে ব্যাখ্যা করছে কর্নেল, সব যেন পানির মত সহজ। কিন্তু যার বোঝার ক্ষমতা আছে তার পক্ষে বিস্ময়ে স্তম্ভিত না হয়ে উপায় নেই।

    কর্নেল বলে চলেছে, ‘একটা উদাহরণ দেয়া যেতে পারে। বিগ বার্ড আর কীহোল টু রিকনিসনস্ স্যাটেলাইটের কথা ধরুন, ডান দিকের প্রোজেকশনে। এই গ্যালারির বাইরের প্যাসেজে রয়েছে ওগুলোর কমান্ড পোস্ট, ওগুলোর কাজ মনিটর করা হবে ওই পোস্ট থেকে। তবে, বলাই বাহুল্য, স্যাটেলাইট থেকে যে তথ্য আসে তার সবই অন্যান্য স্টেশনেও পাঠানো হয়।

    ‘এখন, যদি আমরা কিছু পাই, ধরুন সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে, ট্রেস সাথে সাথে পিক করবে সেটা।

    কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে আমাদের এস.ডি.এস.-স্যাটেলাইট ডাটা সিস্টেম-ডিটেলস রিলে করতে শুরু করবে। নতুন জিনিসটা কি তা জানার আগেই অ্যাকশন নেব আমরা। তবে এ-ধরনের ঘটনা বিদ্যুৎবেগেই ঘটে, এবং প্রায়ই।

    বলে চলেছে কর্নেল। ‘প্রতিটি স্যাটেলাইট সিস্টেমের নিজস্ব হেডকোয়ার্টার রয়েছে, কাজ করছে স্বাধীনভাবে। ওয়েদার স্যাটেলাইটগুলো তথ্য সরবরাহ করছে সরাসরি আবহাওয়া কেন্দ্রগুলোয়, রিকনিসনস্ স্যাটেলাইটগুলো সম্পর্কেও সেই একই কথা।

    ‘এক অর্থে আমরা যেন অনেকটা পুলিস প্যাট্রল,’ সরাসরি জেনারেলের সাথে কথা বলছে কর্নেল। ওপরে কি রয়েছে দেখতে পাচ্ছি, চেক করছি ব্যাপারটা, প্রাপ্ত তথ্য জায়গামত পাঠাচ্ছি, এবং অ্যাকশন নিচ্ছি।’

    ফ্লাইং ড্রাগন সম্পর্কে কিছু বলছেন না কেন, কর্নেল, স্যার?’ জেনারেলের ডান দিক থেকে সবিনয়ে প্রশ্ন করল ডুপে।

    গম্ভীর হলো কর্নেল, ওপর-নিচে মাথা দোলাল বারকয়েক। ‘দ্যাট’স আ ভেরি স্পেশাল প্রজেক্ট,’ বলল সে। ‘জেনারেল কি ওগুলোর কমান্ড পোস্ট দেখতে ইচ্ছে করেন? এখানে সম্ভবত সবচেয়ে বড়টাই রয়েছে।

    জেনারেল পিলারের হয়ে মেজর ডুপ্রে আর ক্যাপটেন ল্যাচাসি জবাব দিল। হ্যাঁ, ফ্লাইং ড্রাগনের কমান্ড পোস্ট দেখার জন্যে আগ্রহের সাথে অপেক্ষা করছেন জেনারেল।

    ‘আপনার ইচ্ছাই আমার ইচ্ছা, স্যার।’ পথ দেখিয়ে ওদেরকে মেইন অপারেশনস্ গ্যালারি থেকে বের করে আনল কর্নেল। বাঁ দিকের প্যাসেজ ধরে খানিকদূর এগোবার পর একজোড়া সুইংডোরের সামনে দাঁড়াল সে, কবাটে লেখা রয়েছে, কে.এস. কন্ট্রোল। ‘কিলারস্যাট, স্যার,’ ব্যাখ্যা করল কর্নেল, পথ দেখিয়ে নিয়ে এল বড় একটা চেম্বারে।

    ভেতরে আধো অন্ধকার। উল্টোদিকের দেয়ালে আলোয় ঝলমল করছে ইলেকট্রনিক মারকেটর প্রোজেকশনের ছোট একটা সংস্করণ-রক্তবর্ণ রেখাগুলো দুনিয়ার ওপরটা অনবরত ঝাড়ু দিচ্ছে। কমপিউটর আর ইলেকট্রনিক সেট নিয়ন্ত্রণ করছে তিনজন টেকনিশিয়ান, একজন অফিসার, দু’জন মাস্টার-সার্জেন্ট।

    ‘ওই দেখুন,’ হাত তুলল কর্নেল, এরপর কথা বলল গলা চড়িয়ে, যাতে ফ্লাইং ড্রাগন কমান্ড পোস্ট নিয়ন্ত্রণে ব্যস্ত লোক তিনজন তার কথা শুনতে পায়, ‘জেন্টলমেন, জেনারেল পিলার, দা ইন্সপেক্টর-জেনারেল এয়ার স্পেস ডিফেন্স। স্রেফ একটু দেখতে এসেছেন।

    সরে এসে জেনারেলের একেবারে গা ঘেঁষে দাঁড়াল মেজর ডুপে। ঠিক বোধহয় তা নয়,’ বেশ উঁচু গলায় বলল সে। ‘আমার ধারণা, শুধু দেখতেই আসেননি জেনারেল, আরও কিছু ব্যাপার আছে।’

    ডুপ্রের দিকে ফিরল জেনারেল, ঠোঁট জোড়া একটা প্রশ্নের আকৃতি পেতে যাচ্ছে।

    ‘আপনার মনে আছে, স্যার,’ উৎসাহ দিল ডুপ্রে, জেনারেলের যাতে মনে পড়ে। ‘আপনিই তো এখন এখানকার সবচেয়ে সিনিয়র অফিসার।’

    ভুরু কুঁচকে উঠল জেনারেলের, চারপাশে তাকাল সে। তার পাশেই দাঁড়িয়ে রয়েছে কর্নেল, বাকি স্টাফরা ভিড় করে রয়েছে দোরগোড়ার কাছে। ক্যাপটেন ল্যাচাসি রয়েছে স্টাফদের পিছনে, বাইরের করিডরে।

    ‘স্যার, কমপিউটর টেপ আর প্রিন্টআউট,’ বলল ডুপ্রে, জেনারেলের ডান কনুইয়ের কাছ থেকে।

    ‘ও, হ্যাঁ, অবশ্যই। দুঃখিত, হেনরি।’ হাসল জেনারেল, তারপর গলা চড়াল, ‘আপনাদেরকে বিরক্ত করার কোন ইচ্ছে আমার নেই, জেন্টলমেন, তবু আমাকে জানতে হবে এই কমান্ড পোস্টের চার্জে কে রয়েছেন।’

    মাঝখানের কন্ট্রোল প্যানেলের সামনে বসা অফিসার একটা হাত তুলল। ‘স্যার।’

    ‘হুক থেকে কমপিউটর টেপগুলো নামাবেন, প্লীজ? প্রিন্টআউটগুলো একটা বাক্সে ভরবেন, প্লীজ? পরীক্ষা করার জন্যে ওগুলো আমি সাথে করে নিয়ে যেতে চাই,’ শান্তকণ্ঠে বলল জেনারেল।

    ধীরে ধীরে সীট ছেড়ে উঠে দাঁড়াল অফিসার। ‘ভেরি ওয়েল, স্যার,’ বিড়বিড় করে বলল সে, বড়সড় কনসোল-এর পিছনে চলে গেল। কয়েক মিনিটের মধ্যে টেপগুলো কয়েকটা বাক্সে ভরল সে। কমপিউটর প্রিন্টআউটগুলো ভরা হলো চ্যাপ্টা আকৃতির কয়েকটা মেটাল বক্সে। ‘জেনারেল আরও কিছু চান?’ জিজ্ঞেস করল সে।

    ‘না, ওগুলো হলেই চলবে,’ জেনারেলের হয়ে জবাব দিল ডুপ্রে। ‘এদিকে নিয়ে আসুন।

    ফ্লাইং ড্রাগন কমান্ড পোস্ট অফিসার আধো অন্ধকারে ওদের দিকে এগিয়ে আসতে লাগল।

    তারপর হঠাৎ, ক্ষিপ্রবেগে, অপ্রত্যাশিতভাবে, সবাইকে বিস্ময়ে স্তম্ভিত করে দিল জেনারেল পিলার। গোড়ালিতে ভর দিয়ে চরকির মত আধপাক ঘুরল সে, ফিরল কর্নেলের দিকে, একটা হাত লম্বা করে দ্রুত উঠিয়ে নিল হোলস্টার থেকে কর্নেলের পিস্তলটা।

    ঘোরা শেষ হয়নি তখনও, জেনারেলের গলা থেকে চিৎকার বেরিয়ে এল, ‘স্টপ! বাক্সগুলো দেবেন না! আমার সাথে ওই লোক দু’জন, ধরুন ওদেরকে। ওরা ভুয়া, নকল, ছদ্মবেশী। জলদি! ধরুন! ধরুন!’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমাসুদ রানা ৪১২ – সেই কুয়াশা (প্ৰথম খণ্ড)
    Next Article মাসুদ রানা ০৭২-৭৩ – সেই উ সেন (দুই খণ্ড একত্রে)

    Related Articles

    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৩৮৫-৩৮৬ – হ্যাকার (দুই খণ্ড একত্রে)

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫৬ – টপ টেরর

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫৪ – নরপশু

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫৩ – ধর্মগুরু

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫২ – কালো কুয়াশা

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫১ – মায়া মন্দির

    July 22, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }