Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মাসুদ রানা – ২১৭ ও ২১৮ – অন্ধ শিকারী (দুইখণ্ড একত্রে)

    কাজী আনোয়ার হোসেন এক পাতা গল্প333 Mins Read0
    ⤷

    অন্ধ শিকারী – ১.১

    এক

    মস্কো। প্রসপেক্ট মিরা ওয়ান ইলেভেন। সুউচ্চ এক ফ্রন্ট অ্যাপার্টমেন্টের চারতলা। বিলাসবহুল সীটিংরূমে দাঁড়িয়ে আছেন মাঝবয়সী, রাশভারি এক ব্যক্তি-জেনারেল পিওতর সের্গেইভিচ মার্চেঙ্কো। গ্লাভনোই রাযভেদিভেটেলনোই আপ্রাভলেনিয়ে বা জিআরইউ বা সোভিয়েত মিলিটারি ইন্টেলিজেন্স প্রধান। বেলা বাজে এগারোটা। এখনও রোব পরে অলস পায়ে ঘরময় পায়চারি করছেন জেনারেল।

    আজ অফিসে যাওয়ার তাড়া নেই তাঁর। সোভিয়েত ইউনিয়নের সর্বময় কর্তা, প্রেসিডেন্ট ও পার্টির সাধারণ সম্পাদকের গোপন নির্দেশে অনির্দিষ্টকালের জন্যে ছুটি নিয়েছেন। অসুস্থতার অজুহাতে। আজই শুরু হয়েছে ছুটি। কেন হঠাৎ করে ছুটি নিতে বলা হয়েছে জানেন না জেনারেল মার্চেঙ্কো, তবে অনুমান করতে পারেন।

    গত গ্রীষ্মের ছুটিতে সপরিবারে নিজের সরকারী সামার রিট্রিট কিসলভসক্‌-এ গিয়েছিলেন মার্চেঙ্কো। ওখানে অবসর কাটানোর ফাঁকে ফাঁকে ব্রিটেনের আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে কনজারভেটিভদের পরাজিত করে লেবার পার্টিকে ক্ষমতায় নিয়ে আসার সম্ভাব্য উপায় নিয়ে বিস্তারিত এক রিপোর্ট তৈরি করেন তিনি। লেবার পার্টি মস্কোপন্থী, ওদের ক্ষমতায় বসানো গেলে সোভিয়েত ইউনিয়নের লাভ। ছুটি সেরে মস্কো ফিরে রিপোর্টটা সাধারণ সম্পাদককে নিজে যেচে পড়তে দিয়েছিলেন জেনারেল মার্চেঙ্কো।

    তিনি জানেন এবং দৃঢ়ভাবে বিশ্বাসও করেন, তাঁর দেখিয়ে দেয়া পথে এগোতে পারলে লেবার পার্টির জয় ঠেকাতে পারবে না কেউ। ওরা ক্ষমতায় গেলে দলের ভেতর যেসব কট্টর মার্কস-লেনিন ও ট্রটস্কিপন্থী আছে, তাদের সাহায্যে চরম এক বিপ্লব ঘটিয়ে দেয়া যাবে ইংল্যাণ্ডের রাজনীতিতে। তাঁর এ বিশ্বাসের কারণ আছে। গত দু’বছর ধরে টাকা, মেয়েমানুষ এবং আনুষঙ্গিক এটা-ওটার দেদার চাহিদা মিটিয়ে আসছেন জেনারেল ওই দলের বাঘা বাঘা সব ‘পন্থীদের’।

    অর্থের অভাব নেই জেনারেল মার্চেঙ্কোর। রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে দেশের স্বার্থে যত খুশি খরচ করার অধিকার রয়েছে তাঁর। তেমনি লোকবল। শুধু ব্রিটেনেই আছে ছোটয়-বড়য় মিলিয়ে কয়েক হাজার জিআরইউ রেসিডেন্ট। প্রায় সবাইকেই কাজে লাগিয়েছেন তিনি। আর মেয়েমানুষ? ওর চেয়ে সস্তা আর কি আছে দুনিয়ায়? এর ফলও তেমনি পেয়েছেন জেনারেল মার্চেঙ্কো। সম্প্রতি ব্রিটিশ ডিফেন্স মিনিস্ট্রির এক রাঘব বোয়ালের কাছ থেকে এক হাত ঘুরে ন্যাটোর অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট হাতে পড়েছে তাঁর, যা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ অনেকটা সহজ করে দিয়েছে। কাজেই ছুটি নেয়ার গোপন নির্দেশের কারণ যে তাঁর সেই রিপোর্ট, অনুমান করতে পারেন জেনারেল পিওতর সের্গেইভিচ মাৰ্চেঙ্কো।

    ডিসপেনসার থেকে গরম এক কাপ কালো কফি নিয়ে আবার সীটিংরূমে ফিরে এলেন তিনি। বাসায় এ মুহূর্তে আর কেউ নেই। স্ত্রী দুই ছেলেমেয়েকে নিয়ে বরফ জমা গোর্কি পার্কে স্কেট্ করতে গেছেন। আকাশের মুখ ভার। আধ ঘণ্টাখানেক হলো বরফ পড়া বন্ধ হয়েছে। তবে ভার দেখে বোঝা যায় আবার শুরু হলো বলে। অ্যাপার্টমেন্টের সামনের প্রশস্ত রাস্তায় জমে ওঠা বরফ নিরলসভাবে পরিষ্কার করে চলেছে গোটা ছয়েক বাবুশকা।

    আনমনে ওদের কাজ দেখছেন সের্গেইভিচ মার্চেঙ্কো। থেকে থেকে চুমুক দিচ্ছেন গরম কফিতে। হঠাৎ ডোরবেল বেজে উঠল। ভুরু কুঁচকে দরজার দিকে ঘুরে তাকালেন তিনি। কে এল? স্ত্রী বা ছেলেমেয়েরা হতে পারে না, ঘণ্টাখানেকও হয়নি বেরিয়েছে তারা।

    প্রসপেক্ট মিরা ওয়ান ইলেভেন মূলত জিআরইউর সিনিয়র অফিসারদের আবাসিক এলাকা। এদের পরিবারের সদস্য ছাড়া বাইরের আর কেউ প্রবেশ করতে চাইলে হোস্টের অনুমতি প্রয়োজন হয়। এছাড়া গার্ড পোস্টের ঝামেলা তো রয়েইছে। কাজেই বাইরের কেউ হতে পারে না। তাহলে কে? ভাবতে ভাবতে দরজা খুললেন জেনারেল।

    দীর্ঘদেহী এক যুবক দাঁড়িয়ে সামনে। অচেনা। এ নিশ্চয়ই অন্য কারও কাছে এসেছে, ভাবলেন তিনি। পঁচিশ-ছাব্বিশের বেশি হবে না বয়স। পরনে চমৎকার ছাঁটের গ্রে ওভারকোট, মাথায় ফারের শাপকা। শীতল, স্থির চাউনি তার নীল দু-চোখে। তার খটখটে শুকনো পালিশ করা জুতো ইঙ্গিত দিচ্ছে, উষ্ণ গাড়ি থেকে সরাসরি সেন্ট্রালি এয়ারকণ্ডিশও এই অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে প্রবেশ করেছে সে।

    ওপরে উঠে এল জেনারেলের দৃষ্টি। চোখাচোখি হলো দুজনের। এই সময় কথা বলে উঠল যুবক। ভরাট, প্রায় গমগমে কণ্ঠে বলল, ‘কমরেড জেনারেল পিওতর মার্চেঙ্কো?’

    ‘হ্যাঁ!’ বিস্মিত হলেন তিনি। এ তাঁরই কাছে এসেছে! আশ্চর্য! কই, গেটের সিকিউরিটি তো হোস্টের অনুমতি চায়নি! এ জাতীয় ব্যতিক্রম আর কখনও এই ব্লকে হয়েছে বলে জানা নেই জেনারেলের।

    ‘আমি মেজর কিরলভ। নাইনথ্ ডিরেক্টরেট। সিপিএসইউ জেনারেল সেক্রেটারির পার্সোন্যাল স্টাফ।’

    কেজিবির অসংখ্য শাখার একটি নাইনথ্ ডিরেক্টরেট। উঁচু পদের পার্টি নেতাদের ব্যক্তিগত এবং অফিস ও বাসস্থানের নিরাপত্তা বিধান এদের কাজ। এদের মত সব বিষয়ে কড়া ট্রেইনড্, বিশ্বস্ত এবং নির্দয় বাহিনী দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর বিশ্বে আর একটিও গড়ে ওঠেনি। ক্রেমলিন গার্ড এদের আরেক পরিচয়। জেনারেলের কোঁচকানো ভুরু সমান হয়ে গেল। নামটা কানে যাওয়ামাত্র বুঝতে পেরেছেন, এই মেজরই পরশু জেনারেল সেক্রেটারির তরফ থেকে ফোনে তাঁকে অনির্দিষ্টকালের জন্যে ছুটি নেয়ার অনুরোধ জানিয়েছিল।

    ‘বলুন, মেজর?’

    ‘একটা চিঠি, কমরেড জেনারেল,’ গ্রেটকোটের পকেট থেকে বাদামি রঙের একটা খাম বের করে এগিয়ে ধরল মেজর কিরলভ।

    ‘ধন্যবাদ।’ খামটা রোবের পকেটে রাখতে যাচ্ছিলেন জেনারেল মার্চেঙ্কো। থেমে গেলেন মেজরকে মাথা দোলাতে দেখে।

    দুঃখিত, জেনারেল। ওটা পড়ে এখনই ফেরত দিতে হবে। কৌতুক বোধ করলেন মার্চেঙ্কো। ‘কার নির্দেশে?’

    ‘জেনারেল সেক্রেটারি, সিপিএসইউ,’ বলতে গিয়ে একটু যেন কঠোর হয়ে উঠল মেজরের চেহারা।

    মুহূর্তে কৌতুক উবে গেল জিআরইউ প্রধানের। ‘আই সী! তা…ইয়ে, ভেতরে আসুন, মেজর।’

    ‘ধন্যবাদ, কমরেড জেনারেল। আমি এখানেই অপেক্ষা করতে চাই।’

    ‘বেশ।’ কয়েক পা পিছিয়ে এসে ঘুরে দাঁড়ালেন জেনারেল মার্চেঙ্কো দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই ভেতরের চিঠিটা বের করে পড়লেন। পলকে উজ্জ্বল হয়ে উঠল তাঁর মুখমণ্ডল। মোটা নিবের সাহায্যে স্বয়ং জেনারেল সেক্রেটারি লিখেছেন চিঠিটা। ছাপার মত ঝরঝরে হস্তাক্ষর, চেয়ে চেয়ে দেখতে ইচ্ছে করে। অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত চিঠি, বাড়তি কথা নেই একটিও।

    যা অনুমান করেছিলেন জেনারেল, ঠিক তাই। আচমকা তাঁকে ছুটি নেয়ার নির্দেশের পটভূমি তাঁর সেই রিপোর্টটিই। এবং আজই, ৩১ ডিসেম্বর, এ ব্যাপারে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ডেকেছেন সাধারণ সম্পাদক। মাঝরাতে। পড়া শেষে চিঠিটা মেজর কিরলভের হাতে ফেরত দেয়ার নির্দেশও আছে ওতে। খামে পুরলেন জেনারেল চিঠিটা। ফিরে এলেন দরজার কাছে।

    ওটা পকেটে রেখে বলল মেজর, ‘ঠিক সাড়ে এগারোটায় আপনার জন্যে গাড়ি নিয়ে নিচে অপেক্ষা করব আমি, কমরেড জেনারেল।’

    ‘আমি অধীর অপেক্ষায় থাকব,’ হাসি ফুটল মার্চেঙ্কোর মুখে।

    মেজরের গাম্ভীর্যেও যেন সামান্য ফাটল ধরল এবার। তবে তা খুবই সামান্য। জেনারেলকে সম্মান জানানোর জন্যে নড করল কিরলভ। তারপর ঘুরে দাঁড়িয়ে লিফটের দিকে চলল। এক মিনিট পর সীটিংরুমের জানালা দিয়ে কুচকুচে কালো একটা চইকা লিমুজিন বেরিয়ে যেতে দেখলেন জেনারেল। সেন্ট্রাল কমিটির এমওসি নাম্বার প্লেট ওটার। শোফার নেই, মেজর নিজেই ড্রাইভ করছে। বড় রাস্তায় উঠে দক্ষিণমুখো ছুটল চইকা।

    ঘুরে দাঁড়ালেন জেনারেল। হাসতে শুরু করলেন। ক্রমেই উজ্জ্বলতর হয়ে উঠছে চেহারা। তাঁর রিপোর্টটা মনে ধরেছে জেনারেল সেক্রেটারির, এর চেয়ে আনন্দের আর কিছু হতে পারে না। আরও সুখের এবং তৃপ্তির ব্যাপার যে ওটা প্রস্তুতের আর কোন ভাগীদার নেই। সম্পূর্ণ কৃতিত্ব তাঁর একার। সব যদি ঠিকঠাক মত চলে, তাহলে অল্পদিনের মধ্যেই ব্রিটেনের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে যাচ্ছে সোভিয়েত ইউনিয়ন। এরপর একদিন পশ্চিম ইউরোপীয় অন্যান্য দেশগুলোর, এক এক করে। হুঁম! মাঝরাতে, ভাবলেন মার্চেঙ্কো।

    মস্কোর হাজার মাইল পশ্চিমে, লণ্ডনে, আরও একজন ভাবছে মাঝরাতের কথা। অভিজাত ওয়েস্ট এণ্ডের বেলগ্রাভিয়া রোডের এক কার পার্কে ভাড়া করা পিচ্চি এক ভলভো এস্টেটে বসে আছে সে। নজর উল্টোদিকের বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট ভবন ফন্টেনয় হাউসের ওপর।

    পাকা সিদ্ধান্ত নেয়া হয়ে গেছে জিম প্রেসটনের, আজ রাতেই মহামূল্য গ্লেন ডায়মণ্ডগুলো হাতাবে সে। ঠিক মাঝরাতে। সারা শহর যখন নতুন বছরকে বরণ করার উৎসবে বেসামাল উন্মত্ত থাকবে, তখন। তবে আগে নিশ্চিত হতে হবে ওগুলো সে সময় জায়গামতই থাকবে, স্থান বদল করবে না। এবং ওগুলোর মালিক, শেফিল্ডের ডিউকের ছোটবোন, লেডি ফেডোরা; যেমনটি খবর সংগ্রহ করা গেছে, ডিউকের আমন্ত্রণে তাঁর উত্তর ইয়র্কশায়ারের বাগানবাড়িতে আয়োজিত বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে স্বামীসহ লণ্ডন ত্যাগ করছেন।

    জিম প্রেসটন অ্যাংলো ইণ্ডিয়ান। জন্ম কলকাতায়। বছর পনেরো আগে এ দেশে আগমন তার। আর ফিরে যায়নি। রয়ে গেছে দূর সম্পর্কীয় এক চাচার আশ্রয়ে। প্রায় ছয় ফুট দীর্ঘ প্রেসটন। নারকেলের রশির মত পাক দেয়া পেশীবহুল চওড়া দেহ। চেহারা শিশুসুলভ। একমাথা কোঁকড়া কটা চুল, আগোছাল। পেশায় আগে ছিল প্রেসটন ছিঁচকে চোর। হাতে খড়ি নিয়েছিল কোলকাতায় বাঙালি এক ওস্তাদের কাছে। বর্তমানে চুরি ছেড়ে খানিকটা জাতে উঠেছে সে। লণ্ডনের অন্যতম সেরা ক্র্যাকম্যান এখন জিম প্রেসটন।

    পিঠ সোজা করে বসে আছে সে। পরনে শোফারের ইউনিফর্ম। এটাও ভাড়া করা। ফন্টেনয় হাউসে থাকে তার শিকার। স্থির, নিষ্কম্প দৃষ্টিতে সেদিকে চেয়ে আছে প্রেসটন। পার্কে আরও অনেক গাড়ি আছে, প্রায় সবগুলোর সঙ্গেই রয়েছে ইউনিফর্ম পরা শোফার। কাজেই প্রেসটন নিশ্চিত, কেউ সন্দেহ করবে না তাকে। ঠিক সাড়ে সাতটায় মৃদু হাসি ফুটল তার মুখে। বেরিয়ে আসছে শিকার। লেডি ফেডোরা এবং তাঁর স্বামী, রবার্ট ফিলবি।

    ভবনের আউট লেখা গেটের বিশাল স্টীলের পাল্লা খুলে গেছে। ওখানে এসে দাঁড়িয়েছে বিশাল এক লিমুজিন-ডিমলার জাগুয়ার। রবার্ট ফিলবি নিজেই ড্রাইভ করছেন। ভদ্রলোক প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন হোমরা চোমরা। পাশেই লেডি ফেডোরা। চোখ নামিয়ে নিতে বাধ্য হলো প্রেসটন। সকালের মিষ্টি রোদ জাগুয়ারের মসৃণ চকচকে দেহে পড়ে পিছলে এসে ধাঁধিয়ে দিয়েছে চোখ।

    এক মুহূর্ত থেমে থাকল গাড়িটা। বড় রাস্তায় ওঠার আগে ডানে-বাঁয়ে দেখে নিলেন ফিলবি। তারপর নিঃশব্দে গড়িয়ে দিলেন ভারি জাগুয়ারটিকে। মসৃণ গতিতে জিম প্রেসটনের নাকের ডগায় এসে বাঁক নিল ওটা, তারপর রাজকীয় চালে ছুটল হাইড পার্ক কর্নারের দিকে। ত্রিশ সেকেণ্ড পর স্টার্ট দিল প্রেসটন, লট থেকে বেরিয়ে এসে রওনা হলো পিছন পিছন।

    দশ মিনিট পর পার্ক লেনে পড়ল গাড়ি দুটো। মনে মনে ঈশ্বরকে ডাকতে লাগল প্রেসটন। সামনে কাউটস্ ব্যাঙ্কের একটি শাখা রয়েছে। লকার ভাড়া দেয়াই এদের মূল ব্যবসা। ভয় হলো ডায়মণ্ডগুলো হয়তো ওদের কাছে গচ্ছিত রেখে যাবেন লেডি ফেডোরা। কিন্তু না, থামল না জাগুয়ার ব্যাঙ্কের সামনে। স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়ল প্রেসটন।

    গতি ক্রমেই বাড়ছে সামনের গাড়ির। গ্রেট কাম্বারল্যাণ্ড প্লেস ছাড়িয়ে গ্লস্টার প্লেসে পড়ল ওটা। ঝড়ের গতিতে ছুটছে এখন উত্তরমুখো, ইয়র্কশায়ারের দিকে। পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়ার জন্যে এম ওয়ান মোটরওয়েতে ওঠা পর্যন্ত জাগুয়ারের পিছনে লেগে থাকল জিম। তারপর খুশি মনে ফিরে চলল শহরের দিকে। ইয়র্কশায়ার পৌঁছতে পুরো ছয় ঘণ্টা লাগবে ডিমলার জাগুয়ারের।

    তাহলে? ভাবছে জিম প্রেসটন, ডায়মণ্ডগুলো স্থান বদল করেনি। ফন্টেনয় হাউসেই আছে। না থাকার কোন কারণ নেই। ব্যাঙ্কে রেখে যাননি ওগুলো লেডি ফেডোরা। গত এক সপ্তাহ তার চ্যালা বিল সাইমন কড়া নজর রেখেছে ফিলবি দম্পতির ওপর। এর মধ্যে কোন ব্যাঙ্কেই যাননি ওঁরা। সঙ্গে করেও নিয়ে যাননি। এক মিলিয়ন পাউণ্ডে ইনশিওর করা আছে ডায়মণ্ডগুলো, লণ্ডন থেকে অতদূরে নিরাপত্তাহীন পরিবেশে ওগুলো নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেবে না ইনশিওরেন্স কোম্পানি।

    অতএব? নিশ্চিন্ত মনে চড়াও হবে সে আজ ফন্টেয় হাউসে। কাজ সারতে এক ঘণ্টা, বড়জোর দেড় ঘণ্টা লাগবে তার। বাজারে চালু যে-কোন তালা বা সেফ খোলা বিশেষ কোন ব্যাপার নয় জিম প্রেসটনের কাছে। মাত্র কয়েক মিনিটের খেল্। আসল হলো কৌশল, ওটা জানা চাই প্রথমে। তারপর তার প্রয়োগ। এ সব শিখেছে প্রেসটন চাচার কাছে। দু বছর হলো মারা গেছে চাচা। তার আগে দূর সম্পর্কের ভাতিজাকে নিজের জানা সমস্ত কৌশল শিখিয়ে দিয়ে গেছে লোকটা।

    প্রেসটনের মত সে-ও ছিল নামকরা ক্র্যাকম্যান। দীর্ঘদিনের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ভাতিজাকে মনের মত করে গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছিল সে মৃত্যুর আগে। এ লাইনে কাজ করে প্রচুর কামিয়েছে প্রেসটন। টাকার কোন অভাব নেই তার। তবে অন্যের হয়ে এ কাজ করে না সে কখনও, করে কেবল নিজের জন্যে। আত্মতুষ্টির জন্যে। বয়স ত্রিশ পার হতে চলল, এখনও বিয়ে থা’ করেনি জিম প্রেসটন। দক্ষিণ লণ্ডনের ওয়াগুওঅর্থে চার রূমের বিশাল এক ফ্ল্যাট ভাড়া করে রাজার হালে থাকে। একজনের তুলনায় ফ্ল্যাটটা অতিরিক্ত বড়, ভাড়াও তেমনি। কিন্তু তাতে পরোয়া নেই প্রেসটনের। দু-হাতে খরচ করে।

    তবে বাইরে প্রেসটন সম্পূর্ণ অন্য মানুষ। চোখে পড়ার মত দামী কাপড় চোপড় পরে না। চলাফেরা করে ঝক্কর মার্কা একটা ফিয়াটে। ওটা ছিল চাচার। মারা যাওয়ার সময় দিয়ে গেছে ওকে। সামর্থ্য থাকলেও নতুন গাড়ি কেনেনি, পরিচিতদের চোখ টাটাতে পারে, তাই।

    আরাম আয়েশের সব রকম আধুনিক উপকরণ আছে তার ফ্ল্যাটে। একটা বড় বদ-অভ্যেস প্রেসটনের, কিছু একটা চোখে পড়লে বা মনে ধরলেই হলো। সেটা তার চাই-ই চাই। তার জন্যে যে-কোন ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত সে। গত কয়েক মাস আগে থেকে লেডি ফেডোরার গ্লেন ডায়মণ্ডগুলোর ওপর চোখ পড়েছে তার। সেই থেকে লেগেছে ওর পিছনে।

    লণ্ডন আণ্ডারওয়ার্ল্ডে প্রচুর প্রভাব প্রেসটনের। যদিও সেখানকার কেউ নিশ্চিত জানে না কি কাজ করে সে। পুলিসের কাছে ‘ফেস’ বা ‘প্রোফাইল’ হিসেবে পরিচিত সে। তবে ওদের ‘ফর্ম বুকে’ কোন অভিযোগ নেই প্রেসটনের বিরুদ্ধে। লোক দেখানো একটা ব্যবসা আছে তার। কার রেকিঙের ব্যবসা। সেই সুবাদে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সজ্জিত এক মেশিন ওয়ার্কশপের মালিক সে। এর জন্যে আছে দুই কর্মচারী। যারা আসলে দক্ষিণ লণ্ডনের দাগী মাস্তান। ঝুট্ ঝামেলায় পড়তে হয় প্রেসটনকে প্রায়ই, তখন ওদের প্রয়োজন পড়ে।

    রেন্টাল কোম্পানিতে প্রথমে গাড়িটা ফেরত দিল জিম প্রেসটন তারপর শোফারের ইউনিফর্ম। ওর নিচে একটা গরম পোলো গেঞ্জি এবং ট্রাউজার পরাই ছিল তার। টুকটাক কিছু কেনাকাটা সেরে ট্যাক্সি চেপে রওনা হলো সে দক্ষিণ লণ্ডনের দিকে। মাইল তিনেক এগিয়ে হঠাৎ ফুটপাথে অতিপরিচিত একজনকে দেখে আনন্দে লাফিয়ে উঠল প্রেসটন বসা অবস্থায়। ড্রাইভার! পুল ওভার! পুল ওভার!!’

    ডানদিকের ফুটপাথ ধরে গুটি গুটি পায়ে হেঁটে চলেছে মানুষটি। ঘন ঘন এদিক ওদিক তাকাচ্ছে। হঠাৎ পিছনেই ব্রেক কষার কড়া আওয়াজে চমকে উঠে ঘুরে দাঁড়াল সে।

    যেমন অস্বাভাবিক রোগা, তেমনি ছোটখাট লোকটা। ছোট্ট গোল মুখ, টিকালো নাক। ভাসা ভাসা চোখ। দৃষ্টিতে অদ্ভুত সারল্য। গিলটি মিয়া। পরনে চকলেট রঙের ট্র্যাক স্যুট। ভুরু কুঁচকে যথাসম্ভব দ্রুত পা চালাচ্ছে। ভাব দেখে মনে হয় কারও ওপর চটে আছে মনে মনে।

    আসলেই তাই। ভীষণ চটে আছে গিলটি মিয়া। বেহায়া, বেলেহাজ, বেতমিজ ইংরেজদের ওপর। আরে বাবা, তিনশো পঁয়ষট্টি দিন পেরোলেই যে বচর ঘোরে, এ তো জানা কতা। তাই লিয়ে এত হাঙ্গামা-হুজ্জতের কী আচে? ভাবছে সে। রাস্তাঘাটে ছোঁড়াছুঁড়ি থেকে শুরু করে বুড়োবুড়িরা পর্যন্ত দলে দলে জটলা করছে। পরিচিত হলে তো কথাই নেই, অপরিচিতরা পর্যন্ত এ-ওর কোমর ধরে এক পাক্ নেচে নিচ্ছে। আর সেই সঙ্গে চলছে পাইকারি চুমু।

    লাজ-লজ্জার বালাই নেই ব্যাটাদের। কেন, আনন্দ প্রকাশ করার কি এছাড়া আর কোন উপায় নেই। তার ওপর একেকজনের পোশাকের কি ছিরি! গায়ে ওগুলো না থাকলেই বরং ভাল লাগত। তাও তো অনেক মানুষই শহর ছেড়ে গ্রামের বাড়ি চলে গেছে লম্বা ছুটিতে। তারা সবাই থাকলে না জানি কি অবস্থা হত লণ্ডনের। ময়-মুরুব্বি দেখাদেখি নেই, ছোটবড় বাছ-বিচার নেই…হ্যাঁ, আপনমনে মাথা দোলাল গিলটি মিয়া।

    যাকে বলে সত্যিকার উৎসব, ক্যালকাটায় দেখেছে সে। দুগ্গা পুজো কি হোলি, অথবা ঈদ, বরি’দ, বড়দিন, উফ্! সে যে কী আনন্দের ব্যাপার ছিল! ওসবের পায়ের কাচেও লাগে না ইংরেজদের এ উৎসব। আচমকা ব্রেক কষল গিলটি মিয়া। ওর পথ আগলে দাড়িয়েছে চার-পাঁচটা উদ্ভট পোশাক পরা যুবক-যুবতী। চুলের দৈর্ঘ্য প্রায় সবারই সমান। কোনটা ছেলে কোনটা মেয়ে, মাঝ বরাবর ভালমত না তাকালে ঠাহর করা মুশকিল।

    খুব সম্ভব গিলটি মিয়ার আকার এবং গায়ের রঙ আকৃষ্ট করেছে ওদের। মজা করার জন্যে তার বাঁ কাঁধে হাত রাখল একটি মেয়ে। পুরু মেক আপ্ নিয়েছে মেয়েটি। তার ওপর বাঁ গালে একজোড়া নগ্ন, আলিঙ্গনাবদ্ধ নারী- পুরুষের উল্কি। ডান হাতে ধরা একটা বিয়ারের খোলা ক্যান গিলটি মিয়ার মুখের সামনে নিয়ে এল মেয়েটি।

    ‘কামন, ডার্লিং! হ্যাভ আ সিপ্!’

    চট্ করে মুখটা দু’ইঞ্চি পিছিয়ে নিল গিলটি মিয়া। ‘ধন্যবাদ। অপাত্রে না ঢেলে ওগুলো তোমার মাতায় ঢালো, মা জননী। মাতা ঠাণ্ডা করো। আর বুকটাও ঢাকো দয়া করে। যে ভাবে উদোম করে রেকেচো, আমার মরা বাপেরও জীবন-যৌবন ফিরে আসবে দেকে।

    বুঝল না কেউই কিছু, তবুও হেসে উঠল সবাই। কাঁধের হাতটা আলতো করে সরিয়ে দিল গিলটি মিয়া। নাক কুঁচকে উঠতে চাইছে আপনাআপনি, কষ্ট করে সামলে রেখেছে। ‘ছেড়ে দে, মা,’ বিড় বিড় করে বলল ও। ‘মুকের দুর্গন্ধে ভেঁড়িয়ে থাকাই দায়।’

    এক পা এক পা করে জটলার ভেতর থেকে বেরিয়ে এল গিলটি মিয়া। তারপর হন হন করে হাঁটা ধরল। মর্নিং ওয়াকে বেরিয়েছিল ও রোজকার মত। ফরসা হওয়ার পর থেকে ইংরেজদের তামাশা দেখতে দেখতে অজান্তেই অনেকটা দূরে চলে এসেছে কখন যেন। অচেনা জায়গায় এসে পড়েছে। তাই ভেতরে ভেতরে খানিকটা ব্যস্ত। চেষ্টা করছে কারও সাহায্য ছাড়াই পথ খুঁজে বের করতে।

    আটাশ তারিখ লণ্ডন এসেছে গিলটি মিয়া। ওর জন্যে নতুন নিয়ম করা হয়েছে, রানা এজেন্সির প্রতিটি শাখায় ছ’মাস করে কাজ করতে হবে ওকে। এতে দেশ দেখা যেমন হবে, তেমনি সে সব দেশের মানুষ, ভাষা, আদব-কায়দা ইত্যাদি সম্পর্কেও খানিকটা ধারণা পাওয়া যাবে। ব্রাঞ্চ-এজেন্টরাও অনেক কিছু শিখবে ওর কাছে। এসব ভবিষ্যতে কাজে দেবে।

    এখানকার অফিশিয়াল কাজ এখনও শুরু হয়নি গিলটি মিয়ার। বড়দিন এবং নববর্ষ উপলক্ষে লম্বা ছুটি চলছে। এজেন্সির এ-দেশি এজেন্টরা প্রায় সবাই অনুপস্থিত। সিকিউরিটি গার্ড আর দু’-চারজন বাঙালি অফিসার ছাড়া কেউ নেই। তাদেরও ফাইল ওঅর্ক ছাড়া করার কিছু নেই তেমন। সবকিছুতে গা ছাড়া গা ছাড়া ভাব। তাই গিলটি মিয়াও মনের সুখে ঘুরে বেড়াচ্ছে গা ছেড়ে।

    ক’দিন পর আসছে মাসুদ রানা। প্রধানমন্ত্রীর দফতরে এজেন্সির কী এক জরুরি ফাইল অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে, ওটার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে খুব শিগগির। সে সময় ওর লণ্ডন উপস্থিতি প্রয়োজন।

    আবার ব্রেক কষল গিলটি মিয়া। দু’পাশের বাড়িঘরের দিকে তাকাল। নাহ্! মহাবিরক্তিতে চোখমুখ কোঁচকাল ও। আবারও ভুল পথে এসেছে। এদিক-ওদিক তাকাল। দূরে দাঁড়িয়ে থাকা এক পুলিস কনস্টেবলের ওপর চোখ পড়ল। হল্লারত একদল যুবতীর দিকে চেয়ে আছে হাঁ করে। তার কাছ থেকে পথের হদিস জেনে নিলে কেমন হয়?

    থাক, ভাবল গিলটি মিয়া। আরাকবার চেষ্টা করে দেকি। তারপর নাহায় জিজ্ঞেস করা যাবে। আবার পা চালাল ও। জটলা দেখলেই চোখ কুঁচকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। ভাবখানা, করগে তোদের যা.মন তাই। মিনিট পাঁচেক চলার পর বুঝল গিলটি মিয়া, এবারও ভুল পথেই এসেছে সে। গতি মন্থর হয়ে এল। থেমে দাঁড়াতে যাবে, এই সময় ঠিক পিছনেই ব্রেক কষার তীক্ষ্ণ আওয়াজ শুনে চমকে উঠল।

    লাফিয়ে ঘুরে দাঁড়াল গিলটি মিয়া। পরক্ষণেই একটা ট্যাক্সি থেকে উড়ে বেরিয়ে এল তালগাছের মত লম্বা কে একজন, জড়িয়ে ধরে শূন্যে তুলে ফেলল তাকে। হতভম্ব হয়ে পড়ল ও। হড়বড় করে কী যেন বলছে তালগাছ। কানে আসছে ঠিকই, কিন্তু বিস্ময়ের ধাক্কা এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি বলে বুঝতে অসুবিধে হচ্ছে ওর। কোন্ ভাষা ওটা?

    ‘…চিনতে পারছেন না, ওস্তাদ! আমি প্রেসটন; জিম প্রেসটন!’ কানের কাছে পরিষ্কার বাংলায় লাউড স্পীকারের মত চেঁচাচ্ছে লোকটা। ‘ওস্তাদ, আমি বউবাজারের সেই প্রেসটন।

    এবার স্বর ফুটল গিলটি মিয়ার। ট্যাক্সি ড্রাইভার হাঁ করে দেখছে ওদের। পথচারীরাও ঘুরে ঘুরে তাকাচ্ছে। ‘আরে আরে, ছাড়ুন! কি করচেন, ছাড়ুন!’

    আলতো করে গিলটি মিয়াকে নামিয়ে দিল প্রেসটন। বত্রিশ পাটি দাঁত বের করে চেয়ে আছে। আনন্দ যেন উপচে পড়ছে তার দু’চোখ দিয়ে। আবার বলল সে, ‘ওস্তাদ, আমি প্রেসটন।’

    এবার বুঝল গিলটি মিয়া। মুখ তুলে তাকে দেখছে তো দেখছেই। ‘আ- আপনি…মানে, তুমি…পেস্টন! ক্যালকাটার পেস্টন?’

    ‘হ্যাঁ, ওস্তাদ,’ হাসি দু’কান স্পর্শ করল তার। অভিভূতের মত কতক্ষণ ওস্তাদের দিকে চেয়ে থাকল সে। ‘আজ আমার এমন সুদিনে আপনার দেখা পেলাম, কি যে আনন্দ হচ্ছে, ওস্তাদ! আমার ভাগ্যটা সত্যিই ভাল।’

    গিলটি মিয়া কি বলবে ভেবে পাচ্ছে না। বিস্ময়ের ঘোর এখনও তার কাটেনি। সেই এতটুকুন পেস্টন, যাকে ক্যালকাটায় নিজহাতে মহাবিদ্যা শিখিয়েছে সে, আজ এত বছর পর কি না সাত সমুদ্দুর তেরো নদী পেরিয়ে এসে লণ্ডনে তার সঙ্গে দেকা? ব্যাপারটা বিশ্বাস করতে ঠিক ভরসা হচ্ছে না।

    ‘আসুন আমার সাথে,’ তার বাহু ধরে আকর্ষণ করল জিম প্রেসটন। ‘দাঁড়াও দাঁড়াও, কোতায়…’

    ‘যেখানে আমি নিয়ে যাব।’

    ‘কিন্তু…’ শিষ্যের কথার তোড়ে বাকি কথা বলার ফুরসত পেল না গিলটি মিয়া।

    ‘কোন কিন্তু-টিন্তু নেই। আগে গরীবখানায় চলুন, তারপর শুনব আপনার কথা।’

    প্রায় টেনে হিঁচড়ে ট্যাক্সিতে তুলল তাকে জিম প্রেসটন। রওনা হয়ে গেল ট্যাক্সি ওয়াটারলু ব্রিজের দিকে। সারাপথ একাই বক্ বক্ করল প্রেসটন, গিলটি মিয়াকে মুখ খোলার বিশেষ একটা সুযোগ দিল না। তার ফ্ল্যাটে পা রেখে থমকে গেল গিলটি মিয়া। অবাক বিস্ময়ে ঘুরে ঘুরে দেখতে লাগল ঘরগুলো। ‘এই তোর গরীবখানা?’

    হাসল প্রেসটন। ‘এইবার বোঝা গেল সত্যিই চিনেছেন আপনি আমাকে।

    ‘মানে?’

    ‘তখন থেকে তো কেবল একবার আপনি একবার তুমি করে আসছেন। ‘এই কতা? তা তুই কি আর আগের মতন ছোটটি আচিস? অতবড় জোয়ান মরদকে কি চাইলেই তুই তুকারি করা যায়?’

    ‘শুরু যখন একবার করেই ফেলেছেন, চালিয়ে যান। আপনার মুখে ওসব সম্বোধন মোটেই ভাল লাগে না, ওস্তাদ। কেমন পর পর মনে হয় নিজেকে।’

    শিষ্যটি তার আগের মতই বিনয়ী আছে বুঝতে পেরে আটাশ ইঞ্চি বুকের ছাতি আরও দু’ইঞ্চি প্রসারিত হলো গিলটি মিয়ার।

    ‘বাদ দিন ওসব, কি খাবেন বলুন। খিদে পেয়েছে নিশ্চই?’

    এইবার খেয়াল হলো গিলটি মিয়ার, ন’টা বাজতে চলেছে, এখনও পেটে কিছু দেয়ার সুযোগ হয়নি। ‘পেয়েচে মানে? সেই ভোর সক্কাল থেকে রাস্তা হারিয়ে কানা মুরগির মতন ইদিক-উদিক ঘুরে মরচি। পেটে ধাড়ি ছুঁচোর কেত্তন চলচে।

    ‘পথ হারিয়েছিলেন!’ বিস্মিত হলো জিম। ‘সে কি!’

    ‘তবে আর বলচি কি?’ পেটে হাত বোলাল গিলটি মিয়া।

    ‘আচ্ছা এখন থাক। পরে শুনব। আগে খাবারের ব্যবস্থা করি,’ কিচেনের দিকে পা বাড়াতে গিয়েও দাঁড়িয়ে পড়ল সে। খাবার ব্যাপারে গুরুর কড়া বাছ-বিচারের কথা মনে পড়ে গেছে। ‘ওস্তাদ, আপনার জন্যে…?’

    ‘সেদ্ধ ডিম আর কলা। আচে না?’

    ‘অবশ্যই। সঙ্গে কফি, না চা?’

    ‘নিভেজাল সাদা পানি।’

    নাশতা সেরে সীটিংরুমে এসে বসল ওরা। ‘তুই তাহালে একনও টায়াড?’ প্রশ্ন করল গিলটি মিয়া।

    বুঝতে না পেরে চেয়ে থাকল জিম প্রেসটন।

    ‘বুজলিনে? থ্রী সেবেনটি নাইনের কতা বলচি, একনও চলচে ওসব? আমি বাপু রিটায়াড, ছেড়ে দিয়েচি।’

    হেসে উঠল প্রেসটন। অকপটে নিজের বর্তমান পেশা সম্পর্কে জানাল গিলটি মিয়াকে। ‘এখন বেশ ভাল আছি, ওস্তাদ। একটা দান মারতে পারলেই বেশ কিছু দিনের জন্যে নিশ্চিন্ত। অনেক ভাল আছি আগের চেয়ে।’

    ‘সে তো বুজতেই পারচি,’ ঘরের চারদিকে নজর বোলাল সে। ‘সুদিন সম্পর্কে তকন কি যেন শুনলুম? কিসের সুদিন?’

    ‘আজ রাতে খুব বড় একটা দাঁও মারতে যাচ্ছি, ওস্তাদ। খুব বড় দাঁও!’

    ‘যা। সাবধান থাকিস। পেচলে একটা চোক রাকবি সব সোমায়,’ ডান হাত তুলল গিলটি মিয়া শিস্যকে আশীর্বাদ করার ভঙ্গিতে।

    ‘এমন দিনে আপনার দেখা পেলাম, বুকের বল অনেক বেড়ে গিয়েছে, ওস্তাদ।’

    আরও আধ ঘণ্টা গল্প-গুজব করে আসন ছাড়ল ওস্তাদ। ‘এবার যেতে হয়। দেরি হয়ে গেচে।

    ‘সে কি!’ আকাশ থেকে পড়ল জিম। ‘কোথায় যাবেন?’

    হেসে ফেলল গিলটি মিয়া। ‘যেকেনে যেতে গিয়ে রাস্তা হারিয়ে ফেলেছিলুম, সেকেনে।

    বেকুবের মত চেহারা হলো প্রেসটনের। ‘তাই তো! কিন্তু, ওস্তাদ, আপনি এখানে কেন, কি কাজে এসেছেন, কোথায় উঠেছেন, কিছুই তো জানা হলো না।’

    ‘বলব, বলব। কিন্তু আজ নয়, সোমায় নেই। আরাকদিন।’

    ব্যস্ত হয়ে উঠল জিম প্রেসটন। ‘আরেকদিন নয়, ওস্তাদ। কালই আসুন, একটা জিনিস দেখাব আপনাকে। গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি, অমন জিনিস আগে কখনও দেখেননি আপনি।’

    ‘জিনিসটা কি?’

    ‘উঁহুঁ, বলব না। দেখাব।’

    একটু ভেবে রাজি হয়ে গেল গিলটি মিয়া। ‘ঠিক আচে। আসবো।’

    ‘চলুন, আপনাকে পৌঁছে দিয়ে আসি।’

    ‘কুনো দরকার নেই। একাই যেতে পারব আমি ট্যাক্সি লিয়ে।’

    ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমাসুদ রানা ৪৭১ : নরকের শহর
    Next Article মাসুদ রানা ৪৭০ – কালবেলা

    Related Articles

    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৩৮৫-৩৮৬ – হ্যাকার (দুই খণ্ড একত্রে)

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫৬ – টপ টেরর

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫৪ – নরপশু

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫৩ – ধর্মগুরু

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫২ – কালো কুয়াশা

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫১ – মায়া মন্দির

    July 22, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }