Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মাসুদ রানা – ২১৭ ও ২১৮ – অন্ধ শিকারী (দুইখণ্ড একত্রে)

    কাজী আনোয়ার হোসেন এক পাতা গল্প333 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    অন্ধ শিকারী – ২.১

    এক

    বিপজ্জনক! অন্যমনস্কের মত মাথা দোলালেন ভাদিম ভ্যাসিলিয়েভিচ বরিসভ, অত্যন্ত বিপজ্জনক খেলায় মেতেছেন জেনারেল সেক্রেটারি। উল্টোপাল্টা কিছু ঘটে গেলে অকল্পনীয় ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে সোভিয়েত ইউনিয়নকে। পুরো পৃথিবী তার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যাবে। দুর্ভাগ্যবশত, তেমন মুহূর্ত যদি উপস্থিত হয়, নিজ বলয়ের বন্ধু দেশগুলোর সহানুভূতিও পাবে না সোভিয়েত ইউনিয়ন। মুখ ঘুরিয়ে নেবে সবাই, কারণ এ কাজে হাত দেয়ার আগে তাদের জানানোই হয়নি।

    তাদের কথা না হয় বাদ, ভাবছেন বরিসভ, কেজিবিকে পর্যন্ত সামান্য আভার্স দেয়া হলো না, এ কী আজব কথা! গ্রু আছে, কেজিবি নেই! কেউ কখনও শুনেছে এমন ছন্নছাড়া অদ্ভুত সিদ্ধান্তের কথা?

    যদিও বরিসভ জানেন, রাষ্ট্রের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হিসেবে যে- কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার জেনারেল সেক্রেটারির রয়েছে। গোটা বিশ্বকে যে-কোন মুহূর্তে পারমাণবিক যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলার ক্ষমতা রাখেন তিনি, বরিসভ একশোবার স্বীকার করেন। কিন্তু সে জন্যে ক্ষেত্র তো চাই! কি, না, লেবার পার্টিকে জেতাবার জন্যে দেড় মেগাটন ক্ষমতাসম্পন্ন একটা নিউক্লিয়ার বোমা ফাটাতে চলেছেন তিনি ব্রিটেনের কলজের মধ্যে পাগলামিরও তো একটা সীমা আছে।

    দু’হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে ভাল করে দু’চোখ রগড়ালেন বরিসভ। কাল সারা রাত ঘুমাতে পারেননি। দুই চোখের ধারেকাছেও আসেনি ঘুম। বিছানায় ছটফট করে কেটেছে তাঁর। প্রথমে ক্রোধ, পরে বিস্ময় এবং সবশেষে অজানা এক ভয় চেপে বসেছে ভেতরে একটু একটু করে। ডক্টর পাভলভের ফ্ল্যাট ছেড়ে বেরিয়ে আসার পর থেকেই সারাক্ষণ তটস্থ হয়ে আছেন জেনারেল কি হয় কি হয় ভেবে।

    ড্রয়ার থেকে একটা মাইক্রো ক্যাসেট রেকর্ডার বের করলেন তিনি কাল জিনিসটা পোর্ট ফোলিওর ভেতরে করে নিয়ে গিয়েছিলেন ড. পাভলভের বাসায়। প্ল্যান অরোরা সম্পর্কে কায়দা করে ডক্টরের পুরো বক্তব্য রেকর্ড করে এনেছেন। কাল বাসায় ফিরে এবং আজ অফিসে এসে অসংখ্যবার বাজিয়ে শুনেছেন তাঁদের দু’জনের কথোপকথন। তবু যেন আশ মেটে না। বারবার শুনতে মন চায়।

    ফিতে পুরোটা পিছিয়ে আনলেন জেনারেল, তারপর ভল্যুম ফুল করে ‘প্লে’ বোতাম টিপে দিলেন।

    ‘…শুরু হয়েছে মাস দুয়েক আগে,’ ড. পাভলভের গলা শোনা গেল।’আমরা কেউ এ ব্যাপারে জানতাম না কিছুই। জেনারেল সের্গেইভিচ মার্চেঙ্কো এর হোতা। গত গ্রীষ্মে নিজের সামার রিট্রিটে ছুটি কাটানোর সময়, ব্রিটেনের আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে কনজারভেটিভদের পরাজিত করে লেবার পার্টিকে কী উপায়ে ক্ষমতায় আনা যায়, তা নিয়ে বিস্তারিত এক রিপোর্ট তৈরি করেন তিনি। এবং ছুটি শেষে মস্কো ফিরে সেটা সাবমিট করেন কমরেড জেনারেল সেক্রেটারির সামনে। ওতে জেনারেল দাবি করেন, ব্রিটিশ লেবার পার্টির ভেতরকার হার্ড লেফট উইঙ, অর্থাৎ মার্কসবাদী-লেনিনবাদী ক্যাডারের সহযোগিতায় কাজটা প্রায় অনায়াসেই করা সম্ভব।’’কি ভাবে?’ জেনারেল বরিসভের প্রশ্ন ‘বলতে দিন।’

    ‘শিওর।’

    ‘জেনারেলের মত, যদিও আমরাও তাই মনে করি, নির্বাচনে লেবার পার্টি জয়ী হবে এবং পার্টি প্রধান নীল কিনকের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠন করবে। এর ঠিক পরপরই শুরু হবে জেনারেল মার্চেঙ্কোর প্রার্থিত ‘খেলা’। জেনারেল, আপনার মনে আছে, ১৯৮১ সালের ৭ মে বৃহত্তর লণ্ডন কাউন্সিল নির্বাচনের মাত্র ষোলো ঘণ্টা পর কি ঘটেছিল?’

    কয়েক মুহূর্ত নীরবতা। ‘না, কমরেড। মনে করিয়ে দিলে বাধিত হব।’

    ‘ওয়েল। স্যার হোরেস কাটলারের নেতৃত্বাধীন কনজারভেটিভ পার্টি ছিল তখন গ্রেটার লণ্ডন কাউন্সিল বা জিএলসি’র নেতৃত্বে। সেদিনের নির্বাচনে অত্যন্ত জনপ্রিয় শ্রমিক নেতা অ্যান্ড্রু ম্যাকিনটোশের লেবার পার্টি জয়ী হয়।.এই বিজয়ের ষোলো ঘণ্টা পর, মাইণ্ড ইট, মাস নয়, সপ্তা নয়, এমন কি একটি দিনও পুরো হওয়ার সুযোগ হয়নি, মাত্র ষোলো ঘণ্টা পর পার্টি গভর্নিং কমিটির এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকের সিদ্ধান্তে দলীয় প্রধানের পদটি হারাতে হয় ম্যাকিনটোশকে। সে পদে বসানো হয় কেন লিভিংস্টোন নামে এক কট্টর বামপন্থী অ্যাকটিভিস্টকে। এর আগে পাঁচ শতাংশ সাধারণ লণ্ডনবাসীও যার নাম পর্যন্ত শোনেনি জীবনে কোনদিন। অবশ্য খুব অল্প ভোটের ব্যবধানে কেন লিভিংস্টোনের কাছে হেরে গিয়েছিলেন ম্যাকিনটোশ। ওটা ছিল ব্রিটিশ মার্কস-লেনিনপন্থীদের শতাব্দীর সেরা বিজয়।

    ‘রাজনীতিক হিসেবে কেন লিভিংস্টোন ছিলেন সাংঘাতিক চৌকস। জনগণ না চিনলেও দলের প্রত্যেকে খুব ভাল করেই চিনত তাঁকে। খুব অল্প বয়সে মার্কস এবং লেনিনবাদে উদ্বুদ্ধ হন তিনি। পার্টির প্রাথমিক সদস্য পদ পাওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই বড় নেতাদের নজর পড়ে তাঁর ওপর। কারণ লিভিংস্টোন সেই ধরনের রাজনীতিক, যাঁর চব্বিশ ঘণ্টার ধ্যান-জ্ঞানই ছিল রাজনীতি। লেবার পার্টির কোন সভায় লিভিংস্টোন উপস্থিত নেই বা ছিলেন না, এমন অভিযোগ তাঁর চরম শত্রুও করতে পারবে না। তা সে যতই গুরুত্বহীন বৈঠক হোক না কেন।

    ‘সে যা-ই হোক। জিএলসি প্রধান হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণের পর লিভিংস্টোন কাউন্টি হলকে মার্কস-লেনিনপন্থীদের স্প্রিংবোর্ড হিসেবে গড়ে তোলেন। যা-তা কথা নয়, কমরেড জেনারেল। গ্রেটার লণ্ডনের জনসংখ্যা এখন এগারো মিলিয়ন। সারা দেশের জনসংখ্যার প্রায় বিশ শতাংশ। যা লিখটেনস্টেইন বা লুক্সেমবুর্গের মত মিনি স্টেটের জনসংখ্যার চাইতেও বেশি। আর লণ্ডন শহরের বাজেট? জাতিসংঘের আশিটি সদস্য দেশের মিলিত বাৎসরিক বাজেটের চাইতেও বেশি।’

    ‘আমরা বোধহয় আসল বক্তব্য থেকে অনেকটা দূরে সরে এসেছি, কমরেড,’ জেনারেল বরিসভের কণ্ঠে ধৈর্যের অভাব ঘটার আবছা ইঙ্গিত।

    ‘হ্যাঁ। খানিকটা। আসন্ন নির্বাচনে লেবার পার্টি কী করে বিজয়ী হবে, সে কথায় একটু পরে আসছি। আগে শুনুন পরে কি ঘটবে। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পর অ্যান্ড্রু ম্যাকিনটোশের মতই পাৰ্টি প্রধানের পদটি হারাবেন বর্তমান নেতা নিল কিনক। সেই একই উপায়ে পদচ্যুত করা হবে কিনককে। তাঁর জায়গায় বসানো হবে এক কট্টর মস্কোপন্থী, আই মীন, হার্ড লেফটিস্টকে।’

    ‘কি নাম তার?’

    ‘দুঃখিত। জানা নেই আমার।’

    ‘শুনে মনে হয় জেনারেল মার্চেঙ্কোই সব করেছেন। তাহলে আপনারা তিনজন কেন এর মধ্যে?’কমরেড জেনারেলের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন যাতে পুরোপুরি নিশ্চিত হয়, সে ব্যাপারে সহযোগিতা করার জন্যে অনুরোধ জানিয়েছিলেন আমাদের কমরেড জেনারেল সেক্রেটারি। তাঁর নির্দেশ ছিল এক ঢিলে দুই পাখি মারার, সেই অনুযায়ী আমাদের কাজ করতে হয়েছে।

    ‘এক পাখি নিশ্চয়ই কনজারভেটিভ পার্টি?’

    ‘হ্যাঁ।’

    ‘অন্যটা?’

    ‘ইংল্যাণ্ডের মাটি থেকে সব ধরনের মার্কিন সামরিক স্থাপনা তুলে নিতে ওয়াশিংটনকে বাধ্য করা। অবশ্যই ব্রিটিশ জনমতের চাপে।’

    ‘কি রকম?’

    ‘নির্বাচনের প্রচারণার শুরু থেকেই এসব স্থাপনার ক্ষতিকারক দিক এবং সম্ভাব্য হুমকি সম্পর্কে জনসাধারণের মনে ভয় ভীতি ঢোকানোর চেষ্টা চালিয়ে আসছে লেবার পার্টির হার্ড লেফট উইঙ। ন্যাটো নিয়ন্ত্রিত ও দেশে মার্কিন এবং ইঙ্গ-মার্কিন যতগুলো সামরিক ঘাঁটি আছে, সবগুলোতেই পারমাণবিক বোমা, মিজাইল মজুত আছে। ওগুলো নিয়েই ভয়-ভীতি ছড়ানো হচ্ছে তাদের মধ্যে। যে কোন সময় ওর যে কোন একটায় মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে, যা হবে চেরনোবিল দুর্ঘটনার চাইতেও ভয়ঙ্কর, তাতে হাজার হাজার নিরীহ নিরপরাধ মানুষের মৃত্যু হতে পারে, এই সমস্ত বলে আর কি! সেই সঙ্গে তাদের বোঝানো হচ্ছে, লেবার পার্টি ক্ষমতায় গেলে আমেরিকানদের সঙ্গে সব সামরিক সহযোগিতা চুক্তি বাতিল করে দেয়া হবে, ন্যাটোর সব ঘাঁটি তুলে দেয়া হবে ইংল্যাণ্ডের মাটি থেকে।

    ‘ওঁদের ভীতির আগুনে ঘি ঢালার আয়োজন করা হয়েছে। নির্বাচনের সপ্তাখানেক আগে সত্যি সত্যি ছোটখাট একটা পারমাণবিক দুর্ঘটনা ঘটবে এক মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে।’’এ পরামর্শটা কার?’ এই জায়গায় সিধে হয়ে গিয়েছিলেন জেনারেল বরিসভ। বিস্ফারিত চোখে চেয়ে ছিলেন ড. পাভলভের দিকে।

    ‘কমরেড জেনারেল মার্চেঙ্কোর।’

    ‘কি করে ঘটবে আপনাদের সো কলড় দুর্ঘটনা?’

    ‘একজন টপ্‌ ক্লাস সোভিয়েত এজেন্ট ইনফিলট্রেট করবে ইংল্যাণ্ডে। তার হাতে বিভিন্ন দিক থেকে নয়টা নিউক্লিয়ার বোমা তৈরির সরঞ্জাম পৌঁছে দেয়া হবে। ওগুলো জুড়ে বোমা তৈরি করা হবে, তারপর বিস্ফোরণ ঘটানো হবে। কাজটা এমনভাবে করা হবে, যাতে সবাই পরিষ্কার বোঝে যে ওটা দুর্ঘটনাই, এবং মার্কিনীদের অসাবধানতার জন্যেই ঘটেছে। সাফোকের বেন্টওয়াটার্সে মার্কিনীদের এফ-ফাইভ স্ট্রাইক বিমান ঘাঁটিটি বেছে নেয়া হয়েছে এ জন্যে। বেশ কিছু ট্যাকটিক্যাল নিউক্লিয়ার ডিভাইস মোতায়েন আছে ওখানে। সম্ভাব্য সোভিয়েত সামরিক হুমকি মোকাবেলার জন্যে।’

    কত কিলোটন ক্ষমতাসম্পন্ন বোমা ফাটানো হবে?’

    ‘বেশি না, দেড় কিলোটন। বড় বোমা হলে ক্ষয়ক্ষতি হবে প্রচুর, তাতে নির্বাচনই পিছিয়ে যাবে। এই দুর্ঘটনার পর লেবার এমপিদের আর ভোট চাইতে হবে না, কম করেও আশি পার্সেন্ট ভোট পাবে তারা। আরও আছে। জানা কথা, এ ব্যাপারে মার্কিন প্রতিক্রিয়া হবে হিস্টিরিয়াগ্রস্তের মত। সরাসরি অস্বীকার করবে তারা যে এ দুর্ঘটনার জন্যে তারা দায়ী নয়। কিন্তু তাতে কিছু যায় আসে না। এর পরদিন কমরেড জেনারেল সেক্রেটারি রেডিও-টিভিতে ভাষণ দেবেন। তাতে বিশ্বাবাসীকে জানানো হবে আমেরিকানরা উন্মাদ হয়ে গেছে। এ পরিস্থিতিতে দেশ এবং জনগণের স্বার্থ রক্ষায় সোভিয়েত ফোর্সেসের জন্যে রেড অ্যালার্ট ঘোষণা করা ছাড়া তাঁর কোন বিকল্প নেই।

    ‘ওই দিনই লণ্ডনের সোভিয়েত রাষ্ট্রদূত স্বয়ং মিস্টার নিল কিনককে মস্কো সফরে যাওয়ার আহব্বান জানাবেন। অনুরোধ করবেন তিনি যেন কমরেড জেনারেল সেক্রেটারির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এ জটিলতা নিয়ে আলোচনা করেন, মানবতার স্বার্থে শান্তি প্রার্থনা করেন। ভোট নিজের পক্ষে টানতে হলে কিনকেরও কোন বিকল্প থাকবে না এ ছাড়া। আর আমাদের বিশ্বাস, ওয়ার্ল্ড প্রেসের হাজারো রিপোর্টার, ফটোগ্রাফার আর টিভি ক্যামেরার সামনে তাকে মস্কো যেতে বাধা দেয়ার কথা ভুলেও চিন্তা করবে না কনজারভেটিভরা।

    ‘কয়েক মিনিটের মধ্যে কিনকের ভিসা তৈরি হয়ে যাবে। পরদিন সকালে অ্যারোফ্লোটের বিশেষ রিমানে মস্কো যাবেন কিনক। কমরেড জেনারেল সেক্রেটারি তাঁকে রিসিভ করবেন, দু’জনে বৈঠক করবেন। তারপর ফিরে আসবেন কিনক। তাঁর বিমান হিথ্রো ল্যাণ্ড করার আগেই আবার রেডিও-টিভিতে ভাষণ দেবেন কমরেড জেনারেল সেক্রেটারি। জানাবেন, ব্রিটিশ লেবার পার্টি প্রধানের আবেদনে সাড়া দিয়ে আর্মর্ড ফোর্সেসকে গ্রীন স্ট্যাটাসে প্রত্যাহার করে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

    ‘এরপর, ভোটের আগের দিন জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন নিল কিনক। ঘোষণা করবেন, তাঁর পার্টি নির্বাচিত হলে শান্তির উদ্দেশ্য ছাড়া কোনরকম সামরিক উদ্দেশ্যে পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার ইংল্যাণ্ডে নিষিদ্ধ করে দেয়া হবে। ওদিকে, সবার ধারণা, এই ক’দিনে ব্রিটেন আর আমেরিকার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী মৈত্রী খান খান হয়ে যাবে। বাধ্য হয়েই সমস্ত সামরিক ঘাঁটি প্রত্যাহার করতে হবে ওয়াশিংটনকে। অন্য সব পশ্চিম ইউরোপীয় দেশেও একই দুর্গতি ঘটবে তার, মৈত্রীর বন্ধন ছিঁড়ে পালিয়ে আসার পথ পাবে না ওরা।’

    ‘তারপর?’ জেনারেল বরিসভের থমথমে কন্ঠের প্রশ্ন।

    ‘তারপর নির্বাচনে বিজয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পার্টির রুদ্ধদ্বার বৈঠকে কিনককে ক্ষমতাচ্যুত করা হবে। বসানো হবে এক হার্ড লেফটিস্টকে। গ্রেট ব্রিটেনের প্রথম মার্কস-লেনিনবাদী প্রধানমন্ত্রী হবে সে।’

    ‘উদ্দেশ্য?’

    ‘ক্রমান্বয়ে সামরিক দিক থেকে ব্রিটেনকে নির্জীব করা। তারপর একে একে আর সব পশ্চিম ইউরোপীয় দেশগুলোকেও। এসব পরিকল্পনা অনেক আগেই সেরে ফেলেছেন জেনারেল মার্চেঙ্কো। ক্ষমতা গ্রহণের কয়েক মাসের মধ্যেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, অন্তত সোভিয়েত ইউনিয়নের জন্যে, গোটা পাঁচেক পদক্ষেপ নেবে লেবার পার্টি। যার মধ্যে আছে, যত বাধ্যবাধকতাই থাকুক, সব চুক্তি বাতিল করে ইইসি থেকে ব্রিটেনের প্রত্যাহার। অনতিবিলম্বে ব্রিটিশ সামরিক বাহিনীর আকার এক পঞ্চমাংশে নামিয়ে আনা, সকল পারমাণবিক বোমা ধ্বংস ও হারওয়েল আর অ্যালডারমাস্টনের ‘অ্যাডভান্সড ওয়েপনস্ রিসার্চ এস্টাবলিশমেন্টের বিলুপ্তি। ব্রিটেন থেকে সকল মার্কিন কনভেনশনাল এবং নিউক্লিয়ার অস্ত্র ও পারসোনেল অপসারণ। এবং সবশেষে ন্যাটো জোট থেকেও ব্রিটেনের নিজেকে প্রত্যাহার।

    ‘এসব পদক্ষেপ যদি নিতে সক্ষম হয় লেবার, চিরদিনের জন্যে মুখ থুবড়ে পড়বে ব্রিটেন, গুঁড়িয়ে যাবে মেরুদণ্ড। এ ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে না কোনদিনও।

    দীর্ঘ নীরবতা। ‘কতটা ক্ষতি হবে এই বিস্ফোরণে?’

    ‘বেন্টওয়াটার্স এয়ার বেস, রেনডলেসহ্যাম ফরেস্ট, তিনটে হ্যামলেট এবং পুরো একটা গ্রাম, সব বাষ্প হয়ে উবে যাবে।’

    ‘কত লোকের মৃত্যু হবে?

    ‘তা…কয়েক হাজার তো বটেই।’

    ‘কিন্তু যদি আমেরিকানরা ভেতরের ব্যাপার টের পেয়ে যায়? বা এ নিয়ে যদি কোন সন্দেহ দেখা দেয় ব্রিটেনের? যদি ধরা পড়ে যায় আমাদের এজেন্ট?’

    ‘পড়বে না। এসব খুঁটিনাটি প্ল্যান করেছেন…

    ‘ভিক্টরোভিচ।’

    ‘হ্যাঁ। লোকটিকে বলা হয়েছে, বোমার বাটন টেপার দু’ঘণ্টা পর বিস্ফোরণ ঘটবে। এই সময়ের ভেতর সে সরে যেতে পারবে নিরাপদ দূরত্বে। আসলে তা নয়। ওটার সীলড্ টাইমার ইউনিট তৈরি করা হয়েছে তাৎক্ষণিক বিস্ফোরণের জন্যে। ধরা পড়ার প্রশ্নই আসে না তার।’

    ‘বেচারা, মেজর ভ্যালেরি!’ বরিসভের চাপা কণ্ঠ।

    ‘কিছু বললেন, কমরেড জেনারেল?’

    ‘অ্যা? না। কিন্তু এটা যে দুর্ঘটনাই, তা বিশ্বাসযোগ্যভাবে উপস্থাপন করার কি ব্যবস্থা?’

    ‘আছে। সে ব্যবস্থাও আছে। দুর্ঘটনার দিন সন্ধের পর এক ইসরায়েলি নিউক্লিয়ার ফিজিসিস্ট ডক্টর নাহুম ওয়েজম্যান প্রাগে এক আন্তর্জাতিক সংবাদ সম্মেলন ডাকবেন। এ মুহূর্তে লণ্ডনে আছেন ভদ্রলোক, মার্কিন এক সামরিক স্থাপনায় কর্মরত। ভদ্রলোক কভার্ড রুশ এজেন্ট। সম্মেলনে ডক্টর জানাবেন, গত কয়েক বছর যাবত আমেরিকানদের সঙ্গে ইংল্যাণ্ডে কাজ করছেন তিনি। ওই ঘাঁটিতে কিছু নিউক্লিয়ার ওয়ারহেড নিয়ে গবেষণা চালিয়ে আসছিল আমেরিকানরা। কিন্তু ডক্টর নাহুম বার বার তাদের সতর্ক করে আসছিলেন যে ওয়ারহেডগুলো বিপজ্জনক।

    ‘ব্যাপারটা হলো, বোমাগুলো আকারে বেশ বড়। ওগুলো নিয়ে উড়তে প্রচুর তেল লোড করতে হত বিমানে। এতে বিমানের গতিও পুরোপুরি তোলা যেত না। তাই মার্কিনীরা ওগুলোর আকার ছোট করে আল্ট্রা স্মল ওয়ারহেডে পরিণত করার জন্যে কাজ করে চলেছে। ডক্টর ওয়েজার দাবি করবেন, ওগুলোকে ভেঙে ছোট করতে গিয়ে ওরাই এ বিপদ ডেকে এনেছে। কেউ অবিশ্বাস করবে না তাঁকে, কারণ ব্যাপারটা পুরোপুরি সত্যি। এবং ডক্টর নাহুম বাস্তবিক পক্ষেই মার্কিনীদের এ গবেষণা বন্ধ করতে অনুরোধ জানিয়েছিলেন বেশ কয়েকবার। আরও কয়েকজন নিউক্লিয়ার ফিজিসিস্ট এর সাক্ষী।’

    ডক্টর নাহুমকে খুব ভাল করে চেনেন ভাদিম বরিসভ। বিপত্নীক ওয়েজম্যানের একমাত্র পুত্র ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট ছিল এক সময়। ‘৮২ সালে বৈরুতে কর্মরত ছিল সে। যে রাতে ভারী অস্ত্রসজ্জিত ফালাঞ্জিস্ট বাহিনী ফিলিস্তিনী রিফিউজি ক্যাম্প শাবরা ও শাতিলায় গণহত্যা চালায় সে রাতেই তার মৃত্যু হয়।

    ঘাতকদের নিরস্ত করার জন্যে জীপ নিয়ে এগিয়ে আসার চেষ্টা করেছিল লেফটেন্যান্ট। তারাই হত্যা করে তাকে। কেজিবির ভাগ্য ভাল, লেফটেন্যান্টকে গুলি করা হয়েছিল উজি দিয়ে। হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার দেহ থেকে উজির সাত সাতটি বুলেট বের করে ডাক্তাররা। সুযোগ চিনতে ভুল করেনি কেজিবি। শোকার্ত ডক্টর ওয়েজম্যানকে তারা বোঝাতে সক্ষম হয় যে ফালাঞ্জিস্ট নয়, ইসরায়েলি সৈন্যের গুলিতেই মৃত্যু হয়েছে তাঁর ছেলের। লিকুদ পার্টির নামও শুনতে পারতেন না ভদ্রলোক। চিরকাল বিরোধীদলের সমর্থক ছিলেন।

    এই ঘটনার পর ঘৃণায়, ক্রোধে উন্মাদপ্রায় হয়ে উঠলেন তিনি।যে সরকার তাঁর একমাত্র সন্তানকে কেড়ে নিয়েছে, তার ক্ষতি করা যায় কি ভাবে, সারাক্ষণ সেই ফিকিরে থাকলেন। যখন মনে হলো সময় হয়েছে, আলগোছে এগোল কেজিবি। রাশিয়ার হয়ে আজীবন কাজ করে যাওয়ার শপথ করলেন নাহুম ওয়েজম্যান।

    সচকিত হলেন ভাদিম ভ্যাসিলিয়েভ বরিসভ। হাত বাড়িয়ে বন্ধ করে দিলেন রেকর্ডার। কিন্তু আতঙ্কের হাত থেকে রেহাই পেলেন না। কাল রাত থেকেই তাড়িয়ে ফিরছে তাঁকে এ আতঙ্ক, জান্তব এক দুঃস্বপ্ন। এর হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় নিয়ে অনেক মাথা ঘামিয়েছেন জেনারেল, কিন্তু কোন পথ বের করতে পারেননি।

    আসন ছাড়লেন বরিসভ। পায়চারি শুরু করলেন। মিনিট দশেক পর হঠাৎ করেই মাথায় এল আইডিয়াটা। দাঁড়িয়ে পড়লেন জেনারেল। দেখতে দেখতে উদ্ভাসিত হয়ে উঠল চেহারা। পাওয়া গেছে! মুক্তির পথ পাওয়া গেছে। তিনি একজন সরকারি চাকুরে। অনেক প্রতিবন্ধকতা আছে তাঁর, যা থেকে বেরিয়ে আসা অসম্ভব।

    যে কারণে এ ব্যাপারে নিজে সরাসরি কিছুই করতে পারবেন না। এছাড়া পার্টির জেনারেল সেক্রেটারির পিছনে লাগার পরিণতি…ভাবতেই শিউরে উঠলেন জেনারেল বরিসভ। সর্বনাশ হয়ে যাবে। জ্ঞাতি-গুষ্ঠি নিয়ে ধনে-প্রাণে মরতে হবে যদি জানাজানি হয়ে যায়। তাই বলে পিছিয়ে গেলেও চলবে না। বাধা দিতেই হবে। এর ওপরই নির্ভর করছে পৃথিবীর ভবিষ্যৎ। কেরল সোভিয়েত ইউনিয়ন বা ইংল্যাণ্ডই নয়, এ ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে সমগ্র মানবজাতিকে।

    তা হতে দিতে পারেন না জেনারেল বরিসভ। হতে দেয়া যায় না। নিজে এর পিছনে লাগতে পারবেন না, ঠিক আছে। কিন্তু আর কাউকে সব জানিয়ে লাগিয়ে দিতে বাধা কোথায়? তাই করতে যাচ্ছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল ভাদিম ভ্যাসিলিয়েভিচ বরিসভ। বুকের ওপর চেপে বসা একটা ভার যেন নেমে গেল তাঁর হঠাৎ করেই। আতঙ্কিত দিশেহারা ভাবটাও কেটে যেতে থাকল একটু একটু করে।

    •

    চিকস্যাণ্ডস, বেডফোর্ডশায়ার। রাত এগারোটা। ইউএস মাস্টার সার্জেন্ট গ্যারি লুইস বসে আছে ব্রিটিশ-আমেরিকান লিসনিঙ স্টেশনের মাস্টার কম্পিউটরের সামনে। সুন্দরী ব্রিটিশ বান্ধবীর কথা ভাবছে সে মনে মনে। বেডফোর্ডে থাকে লুইসের বান্ধবী। সপ্তাহে একদিন মিলিত হওয়ার সুযোগ পায় লুইস মেয়েটির সঙ্গে। রোববার।

    কাল সেই দিন। এ দিনটির আগমনের প্রতীক্ষায় সপ্তাহের বাকি ছয় দিন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে সার্জেন্ট। কাজেই মনটা আজ তার বেশ প্রফুল্ল। গুন গুন করে গান গাইছে। আঙুল দিয়ে তবলা বাজাচ্ছে হাঁটুতে। চোখ মাস্টার কম্পিউটরের পর্দায়।

    এটি ব্রিটিশ ইলেক্ট্রোনিক মনিটরিঙ অ্যাণ্ড কোড় ব্রেকিং কমপ্লেক্সের একটি শাখা। গ্লস্টারশায়ারের চেলটেনহ্যামে এর হেড অফিস। সংক্ষেপে গভর্নমেন্ট কমিউনিকেশনস্ হেডকোয়ার্টার্স বা জিসিএইচকিউ বলা হয় একে। সারা দেশে এর অনেক শাখা রয়েছে। যার কয়েকটা যৌথভাবে পরিচালনা করে জিসিএইচকিউ এবং আমেরিকান ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সি বা এনএসএ। চিকস্যাণ্ডসের এ স্টেশনটিও তেমনি একটি।

    অতীতের মত ইয়ারফোন কানে লাগিয়ে আত্মগোপন করে থাকা কোন শত্রু দেশের স্পাইয়ের মোর্স-কীর মাধ্যমে পাঠানো বার্তা ইথার থেকে উদ্ধার এবং তা রেকর্ড করার প্রাণান্তকর খাটুনির দিন গত হয়েছে অনেক আগেই। আজকাল সে কাজ করে কম্পিউটর। বার্তা কেবল রিসিভ আর রেকর্ডই করে না ইলেক্ট্রোনিক পরিবারের এই বিস্ময়কর জাদুর বাক্সটি, করে আরও অনেক অ-নে-ক কিছু।

    অতএব চিন্তার কিছু নেই, জানে মাস্টার সার্জেন্ট গ্যারি লুইস। সারাক্ষণ তটস্থ হয়ে থাকারও প্রয়োজন নেই। বাতাসে যদি কোন ইলেক্ট্রোনিক ফিসফিসানি ওঠে, ইথারে অস্বাভাবিক কম্পন ধরায়, তার মাথার ওপর, ভবনের হাতে এরিয়েলের জঙ্গলে তা ধরা পড়বেই। পরমুহূর্তে তা লুইসের সামনের জাদুর বাক্সের মেমোরি ব্যাঙ্কে প্রবেশ করবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে।

    এরপর পলকে ঘটে যাবে আরও অনেক কিছু। প্রথমেই মাস্টার কম্পিউটরের ‘হিট’ বাটনটি ঝপ্ করে বসে পড়বে নিজের এনট্রেইলে। মেসেজটা রেকর্ড হয়ে যাবে। এবার অটোমেটিক ব্যাণ্ড স্ক্যানার লেগে পড়বে নিজের কাজে। ফিসফিসানিটা কোত্থেকে এল, তার বিয়ারিঙ আত্মস্থ করে নেবে সে। তারপর সারা দেশের সবগুলো লিসনিঙ স্টেশনের ব্রাদার কম্পিউটরকে নির্দেশ পাঠারে তার ক্রসবিয়ারিঙ গ্রহণের। এবং সবশেষে মৃদু ‘পিঁ-হ-হ-হঁ’ গান গেয়ে সতর্ক করবে ডিউটি অফিসারকে।

    এগারোটা তেতাল্লিশ। আরও সতেরো মিনিট ডিউটি করতে হবে গ্যারি লুইসকে। তারপর মুক্তি। আড়মোড়া ভেঙে হাই তুলল সে, কিন্তু কাজটা পুরো করতে পারল না। অদ্ভুত এক নাচের ছন্দে ত্যাড়াবাঁকা দেহটা শক্ত হয়ে গৈল তার। নিমেষে কপালে উঠে গেছে চোখ, হাঁ বন্ধ করার কথা ভুলে গেছে। চোখের সামনে ‘হিট’ বাটনটা এনট্রেইলে বসে পড়েছে দেখেও বিশ্বাস করতে পারছে না মাস্টার সার্জেন্ট।

    বায়ুমণ্ডলে সারাক্ষণ ভেসে বেড়ানো শব্দজটের ভেতর অস্বাভাবিক একটা কিছু সনাক্ত করেছে মাস্টার কম্পিউটর। ইলেক্ট্রোনিক ফিসফিসানি! মাই গড! ঝট করে সিধে হয়ে বসল গ্যারি, ঝাঁপ দিল সামনের টেলিফোনের রিসিভার লক্ষ্য করে। কয়েক মুহূর্তের মধ্যে জ্যান্ত হয়ে উঠল লিসনিঙ স্টেশন। হুলস্থুল কাণ্ড শুরু হয়ে গেল।

    দু’মিনিট পর বোঝা গেল, কম্পিউটর যা সনাক্ত করেছে তা সেকেণ্ড তিনেক স্থায়ী জট পাকানো কিছু শব্দের এক গোলাক ধাঁধা ছাড়া আর কিছুই নয়। অনেকগুলো শব্দ যেন আটকে রাখা হয়েছিল পাইপের ভেতর, ট্যাপের প্যাঁচ খুলতেই ফোয়ারার মত হড় হড় করে বেরিয়ে এল একযোগে। স্কোয়ার্ট বলা হয় একে। সর্বাধুনিক পদ্ধতিতে প্রেরিত কোন ক্ল্যানডেস্টাইন মেসেজ (গোপন বার্তা)। অত্যন্ত নিরাপদ। যার মর্মোদ্ধার মানুষ তো দূরের কথা, কম্পিউটরেরও সাধ্যের অতীত।

    এ জাতীয় বার্তা তৈরি করতে প্রচুর সময় এবং শ্রম ব্যয় হয়। প্রথমে বার্তাটা পরিষ্কার করে যথাসম্ভব সংক্ষেপে লিখতে হয়। পরে তা রূপান্তর করা হয়-কোডে। এরপর ক্যাসেট রেকর্ডার চালিয়ে মোর্স-কী টিপে ওটা রেকর্ড করা হয়। কী-র ট্যাপ ট্যাপ উঁচু-নিচু পর্দার আওয়াজের ভেতরই লুকিয়ে থাকে বার্তা। বলা বাহুল্য রেকর্ডারটি এ ধরনের ‘বিশেষ কাজের’ জন্যেই তৈরি।

    এবার নির্দিষ্ট একটি বোতাম টিপলেই কয়েক ইঞ্চি ফিতে জুড়ে রেকর্ড হওয়া কী-র ট্যাপিঙের আওয়াজগুলো এগিয়ে এসে একেবারে গায়ে গায়ে লেগে আধ ইঞ্চি কি বড়জোর পৌনে এক ইঞ্চি ফিতের ভেতর অবস্থান নেয়। ফলে বার্তাটা যখন ট্র্যান্সমিট করা হয়, সবগুলো অক্ষর বা ডষ্ট-ড্যাশ ইত্যাদি ফোয়ারার মত ছিটকে বেরিয়ে এসে ইথারে মুহূর্তের জন্যে ফিসফিসানির সৃষ্টি করেই গায়েব হয়ে যায়, পৌঁছে যায় জায়গামত।স্কোয়ার্টে কোন প্যাটার্ন বা রিপিটেশন থাকে না, কাজেই এর মর্মোদ্ধার করা একেবারেই অসম্ভব।

    সেটা না পারলেও কোত্থেকে স্কোয়ার্ট ট্র্যান্সমিট করা হলো, বিয়ারিঙ আর ক্রসবিয়ারিঙের সাহায্যে জায়গাটা পিন-পয়েন্ট করতে সময় লাগে না কম্পিউটরের। কাজেই, কম্মটি সেরেই ঘটনাস্থল ছেড়ে তক্ষুণি সরে পড়তে হয় প্রেরককে। এ ক্ষেত্রেও ঠিক তাই ঘটল। দশ মিনিট পর ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাশ হলো স্থানীয় পুলিস। ডার্বিশায়ার পিক ডিস্ট্রিক্টের জনশূন্য এক রাস্তার পাশের ছোটখাট একটা ঝোপ ওটা। যার ত্রিসীমানার মধ্যেও কেউ নেই।

    নিয়ম আনুযায়ী চেলটেনহ্যামের জিসিএইচকিউ হেড কোয়ার্টার্সে পৌছল ক্ল্যানডেস্টাইন মেসেজটা। ঝটপট কাজে লেগে পড়ল ওখানকার ঝানু চীফ অ্যানালিস্ট। স্লো মুভিঙ রেকর্ডারে নতুন করে টেপ করা হলো স্কোয়ার্ট, ফুটখানেক ফিতে জুড়ে জায়গা নিল ওটা। যাতে প্রতিটি অক্ষর ডট-ড্যাশ আলাদা আলাদা সনাক্ত করা সম্ভব হয় সহজেই। কিন্তু কোন লাভ হলো না! চব্বিশ ঘণ্টা একনাগাড়ে চেষ্টা চালিয়ে হার স্বীকার করতে বাধ্য হলো মানুষ এবং কম্পিউটর ব্রেনের মিলিত শক্তি। ফল দাঁড়াল বড় একটা অশ্বডিম্ব।

    ‘এ নিশ্চয়ই কোন স্লীপার ট্র্যান্সমিটার, স্যার,’ সংস্থার নির্বাহী পরিচালকের কাছে রিপোর্ট করল চীফ অ্যানালিস্ট। ‘ডেড ছিল, অ্যাকটিভ করা হয়েছে। উত্তর মিডল্যাণ্ডের কোথাও আছে ওটা খুব সম্ভব। আমাদের স্পাই বন্ধুটি প্রতি শব্দের জন্যে একটা করে ফ্রেশ ওয়ান-টাইম প্যাড ব্যবহার করেছে।

    সিদ্ধান্ত নেয়া হলো ‘স্পাই বন্ধুটি’ যে চ্যানেলে স্কোয়ার্ট ট্র্যান্সমিট করেছে তার ওপর কড়া নজর রাখতে হবে। যদিও সবাই নিশ্চিত, ফের যদি ট্র্যান্সমিট করে সে নিঃসন্দেহে অন্য চ্যানেলের মাধ্যমে করবে। তবুও। পরদিন দুপুরের আগেই গোপন মাধ্যমে ঘটনার লিখিত পূর্ণ বিবরণ পৌঁছে গেল লণ্ডনে, বিএসএস চীফের টেবিলে।

    এর অনেক আগে, স্থানীয় সময় রাত দুটো তেতাল্লিশে বার্তাটা রিসিভ করা হয়েছে মস্কোয়। ওর বক্তব্য ছিল, মার্টিন ফ্যানারি জায়গামত প্ৰস্তুত। প্রথম ‘চালান’ পৌঁছার অপেক্ষায় আছে সে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমাসুদ রানা ৪৭১ : নরকের শহর
    Next Article মাসুদ রানা ৪৭০ – কালবেলা

    Related Articles

    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৩৮৫-৩৮৬ – হ্যাকার (দুই খণ্ড একত্রে)

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫৬ – টপ টেরর

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫৪ – নরপশু

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫৩ – ধর্মগুরু

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫২ – কালো কুয়াশা

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫১ – মায়া মন্দির

    July 22, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }