Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মাসুদ রানা – ২১৭ ও ২১৮ – অন্ধ শিকারী (দুইখণ্ড একত্রে)

    কাজী আনোয়ার হোসেন এক পাতা গল্প333 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    অন্ধ শিকারী – ২.৮

    আট

    ওইদিনই অন্তরের প্রার্থনা মঞ্জুর হলো মাসুদ রানার। একেবারে অপ্রত্যাশিতভাবে উপস্থিত হলো সুযোগ।

    ভিয়েনা থেকে ছেড়ে আসা অস্ট্রিয়ান এয়ারলাইনসের একটি বিমান হিথ্রো অবতরণ করল বিকেল চারটে দশে। নিয়ম অনুযায়ী ইমিগ্রেশন ডেস্ক অতিক্রম করতে লাগল যাত্রীরা। তিনটে ইমিগ্রেশন ডেস্ক। একটা ব্রিটিশ নাগরিকদের জন্যে, একটা ইইসি দেশসমূহের নাগরিকদের জন্যে এবং শেষেরটা নন্-ইউকে, নন্-ইইসি ডেস্ক।

    শেষ ডেস্কটির সামনে এসে দাঁড়াল এক মাঝবয়সী লোক। আটত্রিশ- চল্লিশ বছর হবে বয়স। লম্বা পাঁচ ফুট আট। নীল চোখ। খাঁজ কাটা থুতনি। চেহারা সুরত সব মিলিয়ে মন্দ নয়। কিন্তু ঝামেলা বাধিয়েছে চুল। ভীষণ পাতলা মাথার চুল। খুলির প্রায় পুরোটাই দেখা যায় ওর ভেতর দিয়ে। একটা গ্রিপ ছাড়া আর কোন লাগেজ নেই তার সঙ্গে।

    তার পাসপোর্টের ওপর শকুন দৃষ্টি বোলাতে আরম্ভ করল ইমিগ্রেশন অফিসার। লোকটাকে কেন যেন পছন্দ হয়নি তার। পরিচিত নীল প্লাস্টিক মোড়া পাসপোর্ট। ওপরে এমব্লেম করা সোনালি ঈগল। বেশিদিন হয়নি ইস্যু করা হয়েছে। কভার ওল্টাল অফিসার। ফ্রানজ ওসনিয়াক লোকটার নাম। পেশা ব্যবসা। পাসপোর্টের নাম্বারটা সামনের কম্পিউটরে ফিড করল অফিসার।

    কিছু একটা ঘটে গেল ডিসপ্লে স্ক্রীনে। শক্ত হয়ে গেল অফিসার। যদিও ওসনিয়াককে টের পেতে দিল না সে কিছু। বরং সন্তুষ্ট হওয়ার ভান করে মাথা দোলাল। ‘ধন্যবাদ, স্যার। আনন্দের হোক আপনার ব্রিটেন সফর। নেক্সট, প্লীজ!’

    ওসনিয়াক সামনে থেকে সরে যেতেই মুখ তুলল অফিসার। সরাসরি সামনের দিকে তাকাল। দশ-বারো গজ তফাতে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের দুই পোর্টার দাঁড়িয়ে। চোখাচোখি হলো। একটা চোখ টিপল অফিসার, মুখ ঘুরিয়ে আবছাভাবে ইঙ্গিত করল অস্ট্রিয়ানের উদ্দেশে। অলস ভঙ্গিতে ঘুরে দাঁড়াল দুই পোর্টার। তারপর পা বাড়াল লোকটার পিছন পিছন। ওদের একজন রানা এজেন্সির ব্রায়ান হারকোর্ট স্মিথ, অন্যজন বিএসএসের হ্যারি নিগেল।

    কয়েক পা এগোতেই ডানে ল্যাভেটরি। চট্ করে ভেতরে ঢুকে পড়ল স্মিথ। কেউ নেই ভেতরে। নিশ্চিত হয়ে পকেট থেকে ছোট, শক্তিশালী একটা কমিউনিকেটর বের করে খুব দ্রুত কিছু নির্দেশ দিল সে। মাত্র কয়েক সেকেণ্ড, বেরিয়ে এসে যোগ দিল স্মিথ হ্যারির সঙ্গে। ফ্রানজ ওসনিয়াক তখন কনকোর্সের শেষ মাথায় মিডল্যাণ্ড ব্যাঙ্কের কাউন্টারে দাঁড়িয়ে ট্রাভেলার্স চেক ভাঙাচ্ছে। টেরও পেল না ওপরের ব্যালকনি থেকে টপাটপ চার পাঁচটা ছবি তুলে নেয়া হলো তার এই আচমকা যেন ঢিল পড়েছে মৌচাকে। স্মিথের নির্দেশে এয়ারপোর্টে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা আরও চারজন সহকারী যোগ দিল ওদের সঙ্গে। ফ্রানজ ওসনিয়াককে চারদিক থেকে ঘেরাও করে এগোতে থাকল দলটা। দু’নম্বর টার্মিন্যাল ভবনের সামনের র‍্যাঙ্ক থেকে ট্যাক্সি চাপল অস্ট্রিয়ান। তিনটে গাড়িতে ভাগ ভাগ হয়ে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে লোকটাকে অনুসরণ করতে লাগল ওরা ছয়জন। বেজওয়াটারের সাসেক্স গার্ডেন ও এজওয়্যার রোডের সংযোগস্থল প্যাডিংটনে ট্যাক্সি ত্যাগ করল ওসনিয়াক। বি অ্যাণ্ড বি, বেড অ্যাণ্ড ব্রেকফাস্ট বোর্ডিং হাউস আছে এখানে অনেকগুলো। এ বোর্ডিং ও বোর্ডিং ঘোরাঘুরি করতে দেখা গেল অস্ট্রিয়ানকে, তার মানে রিজার্ভেশন নেই লোকটার। অবশেষে একটার জানালায় ‘রূম খালি’ নোটিশ ঝুলতে দেখে ভেতরে ঢুকে পড়ল সে।

    আশ্রয় জুটেছে ব্যাটার, ভাবল স্মিথ। পাশে বসা নিগেল হ্যারিকে বলল, তুমি ওটার ব্যাক ডোরের ওপর নজর রাখো। আমি কথা বলছি চীফের সাথে।’ বিনা বাক্য ব্যয়ে বেরিয়ে গেল লোকটা। ঘড়ি দেখল স্মিথ। এয়ারপোর্ট ত্যাগ করেছে ওরা এক ঘণ্টা আগে। আর দেরি না যোগাযোগ করল সে মাসুদ রানার সঙ্গে।

    ‘একটার খোঁজ বোধহয় পাওয়া গেছে, চীফ।’

    ‘হোয়াট!’ লাফিয়ে উঠল রানা। ‘কোথায়?’

    ‘প্যাডিংটনের এক বোর্ডিং হাউসে ঢুকেছে এসে। আমরা পাহারায়।’

    ‘কোন্ দেশী?

    ‘অস্ট্রিয়ান। নাম ফ্রানজ ওসনিয়াক।’

    ‘ওকে সন্দেহ করার কারণ?’

    ‘পাসপোর্টে গোলমাল আছে। রেড লাইট শো করেছে কম্পিউটর।’

    ‘ছবি তোলা হয়েছে?’ উত্তেজনায় ফ্যাসফেঁসে শোনাচ্ছে রানার কণ্ঠ। ‘হ্যাঁ। এতক্ষণে মামির হাতে পৌঁছেও গেছে হয়তো।’

    ‘অল রাইট। আমি যাচ্ছি মামির ওখানে। ক’জন আছ তোমরা?’

    ‘ছয়জন।’

    ‘গুড। আর, স্মিথ! ওয়েলডান। রাখছি। যোগাযোগ রেখো।’

    ‘রাইট, চীফ।’ কমিউনিকেটর রেখে বোর্ডিঙ হাউসের দিকে নজর দিল ব্রায়ান হারকোর্ট স্মিথ। সন্ধে হয়ে এসেছে। কোন ঘটনা ছাড়াই মিনিটের পর মিনিট পেরিয়ে যাচ্ছে। দশ মিনিট পর পর অন্যদের সঙ্গে কথা বলছে স্মিথ। তার নির্দেশে অন্য চারজন আরও আগেই বেরিয়ে পড়েছে গাড়ি ছেড়ে।

    বোর্ডিঙ হাউসের সামনের রাস্তার ওপারে দু’জন আর এপারে দু’জন রয়েছে তারা। সবার সঙ্গেই রয়েছে একটি করে কমিউনিকেটর। আশায় আশায় রয়েছে, কিছু একটা করবে ফ্রানজ ওসনিয়াক। কিন্তু করছে না। কিছুই করছে না লোকটা। একসময় প্রতীক্ষার অবসান ঘটল ওদের। ঠিক সাড়ে আটটায় বেরিয়ে এল অস্ট্রিয়ান। গা ছাড়া ভঙ্গিতে এজওয়্যার রোডের সাধারণ মানের একটা রেস্টুরেন্টে গিয়ে ঢুকল। সাপার সারল ধীরেসুস্থে। ওখান থেকে বেরিয়ে আবার বোর্ডিঙ হাউস।

    পথে কারও সঙ্গে কথা হয়নি ওসনিয়াকের। তুলে দেয়নি কিছু কারও হাতে, নেয়ওনি কিছু কারও কাছ থেকে। তবে দুটো কাজ করেছে সে যা তার পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত করে তুলেছে ওদেরকে। রেস্টুরেন্ট যাওয়ার পথে একটা দোকানের শো-কেসের কাঁচে চোখ রেখে পিছনে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল লোকটা কয়েক সেকেণ্ড। তারপর হঠাৎ ঘুরে দাঁড়িয়ে ফিরে এসেছে বোর্ডিঙ হাউস পর্যন্ত। যখন নিশ্চিত বুঝেছে ওসনিয়াক যে কেউ তাকে অনুসরণ করছে না, সোজা রেস্টুরেন্টে গিয়ে ঢুকেছে। খাওয়ার সময় পাশের টেবিলে কফি পানরত ব্রায়ান স্মিথের দিকে একবার ভুলেও তাকায়নি লোকটা।

    খাওয়া সেরে বেরিয়ে এসে আরেক খেল্ দেখিয়েছে লোকটা। রেস্টুরেন্ট আর বোর্ডিঙ হাউসের মাঝামাঝি পৌছে হান্ড্রেড মিটার স্প্রিন্ট দেয়ার মত আচমকা এক দৌড়ে রাস্তা অতিক্রম করে ওপারের ফুটপাথে গিয়ে উঠেই কয়েক মুহূর্ত তাকিয়ে থেকেছে পিছনে, আর কেউ স্প্রিন্ট দেয় না বোঝার জন্যে। কিন্তু তেমন কেউ ছিল না। প্রয়োজনও ছিল না। ওসনিয়াক যখন সম্ভাব্য অনুসরণকারীকে পিছনে খুঁজছে, তারা তখন ওপারেই, তার দশ হাতের মধ্যে দাঁড়িয়ে ট্যাক্সি খোঁজার ভান করছে।

    ‘শালারা আধুনিক কায়দা আর কবে শিখবে!’ আপনমনে হেসেছে স্মিথ।

    ওদিকে বিএসএস রেকর্ড অফিসে বসে ছটফট করছে মাসুদ রানা। আসার সময় গিলটি মিয়াকে সঙ্গে নিয়ে এসেছে কাজে লাগতে পারে ভেবে। খবর পেয়ে স্যার লংফেলোও এসেছেন একটু আগে। এনসাইক্লোপেডিক মেমোরির অধিকারী পঁয়ষট্টি বছরের মিস ডরোথির সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছে ওরা। বৃদ্ধা সবার কমন মামি।

    অন্য সব ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির তুলনায় বিএসএসের রেকর্ডরূমই পৃথিবীর সর্ববৃহৎ। এর সবচেয়ে বড় অংশটির নাম অ্যালবাম সেকশন। এমন কোন ব্যক্তি; যাকে বিদেশী এজেন্ট বা স্পাই হতে পারে বলে সন্দেহ হবে, পৃথিবীর সব গোয়েন্দা সংস্থাই ছবি তুলে রাখে তার সুযোগমত। বিভিন্ন অ্যাঙ্গেলে তোলা হয় ছবিগুলো। সন্দেহ সত্য হোক, না হোক, প্রতি বছর অমন হাজার হাজার ছবি তুলে থাকে তারা। সব সময় সন্দেহভাজনদের ছবিই তোলা হয়, ব্যাপারটা তাও নয়। যার খুশি তারই ছবি তোলে ওরা।

    এর কোনটিই ফেলে দেয়া হয় না। সযত্নে তুলে রাখা হয় অ্যালবাম সেকশনে। কে জানে কখন কোনটির প্রয়োজন দেখা দেবে। বিদেশী ডিপ্লোম্যাট, ট্রেড ডেলিগেটের সদস্য, সাইন্টিফিক অথবা কালচারাল ডেলিগেটের সদস্য, এদের ছবি তোলা হয় বেশি। কোন সন্দেহভাজন ব্যক্তি বা মহিলার সর্বোচ্চ ষাটটি পর্যন্ত ছবিও রয়েছে ব্রিটিশ অ্যালবাম সেকশনে। বিভিন্ন স্থানে, বিভিন্ন পরিবেশে—সময়ে তোলা।

    এছাড়া সংস্থাগুলোর আন্তঃদেশীয় পারস্পরিক সহযোগিতা ও বিনিময় চুক্তির ফলেও এক সংস্থা অন্য সংস্থার কাছ থেকে প্রচুর ছবি পেয়ে থাকে প্রতি বছর। কখনও হয়তো কোন সোভিয়েত ট্রেড ডেলিগেশন গেল কানাডা সফরে। তাতে রয়েছে হয়তো ইভানভ। সন্দেহভাজন। রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিস অবিলম্বে তার ছবি পাঠিয়ে দেবে ওয়াশিংটন, লণ্ডন ও অন্যান্য ন্যাটো মিত্রদের কাছে। সযত্নে ছবিটা সংরক্ষণ করা হবে।

    হয়তো পাঁচ বছর পর কোন এক এশিয়ান অথবা আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে সাংবাদিক হিসেবে দেখা যাবে তাকেই। কিন্তু তখন তার নাম কজলভ। এসব ক্ষেত্রে ইভানভ বা কজলভ বা আর যা-ই হোক লোকটির নাম, তার ছবির নিচে পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ক্যাপশন হয় ‘ফুল টাইম কেজিবি হুড’। সোভিয়েত এবং তার মিত্রদের বেলায় বিএসএস অত্যন্ত হুঁশিয়ার। এদের রুশ বা ইস্ট ব্লক স্পাই অথবা সম্ভাব্য স্পাইয়ের ছবির আর্কাইভ দেখলে মাথা ঘুরে যাবে যে কারও। এভারেস্ট সমান তার অ্যালবামের পাহাড়।

    এর অর্ধেক সংগ্রহও যাদের নেই, তারা পর্যন্ত যেখানে সদ্য তোলা কারও ছবির সঙ্গে মিলিয়ে দেখার জন্যে তার অতীতে তোলা কোন ছবি আছে কি না খুঁজে বের করতে কম্পিউটরের শরণাপন্ন হয়, সেখানে বিএসএস শরণাপন্ন হয় মিস্ ডরোথির। দীর্ঘ চল্লিশ বছরের অভিজ্ঞতা বৃদ্ধার। অদ্ভুত তার স্মরণশক্তি।

    নাকের আকার, চোয়ালের গঠন, থুতনির কাটা দাগ, গালের তিল কি আঁচিল, ঠোঁটের বাঁক, চোখের আকার, গ্লাস অথবা সিগারেট ধরার ভঙ্গি, বা অস্ট্রেলিয়ার কোন পাবে হাসতে গিয়ে বেরিয়ে পড়া বাঁধানো দাঁত, একবার দেখলেই মুখস্থ হয়ে যায় বৃদ্ধার। জীবনেও ভোলে না।

    ফ্রানজ ওসনিয়াকের ছবিগুলো পাশাপাশি বিছিয়ে চেয়ে আছে মামি।কপালের কোঁচকানো চামড়া আরও কুঁচকে আছে। ভেতরে অস্থিরতা থাকলেও তা চেপে রেখেছে সামনে বসা তিনজন। ঝাড়া এক ঘণ্টা পর দুটো মাত্র শব্দ উচ্চারণ করল বৃদ্ধা, ‘ফার ইস্ট!’ উঠে গিয়ে একটা র‍্যাকের সামনে দাঁড়াল। মিনিট পাঁচেক খোঁজাখুঁজি করে বের করে আনল প্রয়োজনীয় অ্যালবাম।

    ফ্রানজ ওসনিয়াকের একটা ছবি বের করল মামি ভেতর থেকে। পাঁচ বছর আগে তোলা। তখন তার চুল অনেক ঘন ছিল। কোমর ছিল সরু। টোকিওর ভারতীয় দূতাবাসের এক পার্টিতে হাসিমুখে আলাপ আরেকজনের সঙ্গে।

    ‘চেক,’ ঘোষণা করল মিস ডরোথি। ‘পাঁচ বছর আগে টোকিওর চেক দূতাবাসের লো-লেভেল এজেন্ট ছিল। নাম জিরি হেইক।’

    দাঁত বেরিয়ে পড়ল মাসুদ রানার। খুশিতে না কিসে ঠিক বোঝা গেল না।

    পরদিন সকাল এগারোটায় আবার বোর্ডিঙ হাউস ত্যাগ করল ফ্রানজ ওসনিয়াক। তার ওপর নজর রাখার জন্যে গিলটি মিয়াসহ রানা এজেন্সির সাতজন ওয়াচার রয়েছে এ মুহূর্তে। রাতে লোকটার আসল পরিচয় জানার সঙ্গে সঙ্গে ছুটে এসেছিল মাসুদ রানা। কিন্তু বারোটা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও যখন ওসনিয়াককে আর বেরোতে দেখা গেল না, তখন ফিরে গিয়েছিল ও সকালে আসার কথা বলে। যদি না এর মাঝে আসার পড়ে।

    স্মিথ-হ্যারি ও অন্যদের বদলে রাতের পাহারাদারীর জন্যে এসেছিল আরেক দল। সে সময়ও থেকে গিয়েছিল গিলটি মিয়া রানার নিষেধ অমান্য করে। রাতে বিশ্রাম নিয়ে সকালে আসার কথা বলেছিল ওকে রানা।

    ‘কাজের সোমায় আবার কিসের বিশ্রাম?’ উত্তর দিয়েছিল গিলটি মিয়া। ‘চিন্তায় আমার ঘুম হবে ভেবেচেন? মাজরাতে উটে যদি ব্যাটা ন্যাজ তুলে পালায়, তকন?’

    গাড়িতে বসেই রাত কাটিয়েছে গিলটি মিয়া। চোখ ছিল বোর্ডিঙ হাউসের দরজায়, ব্যাটা ন্যাজ তুলে পালায় কি না দেখার জন্যে। সকালে রাতের দল বিদেয় নিয়েছে, এসেছে কালকের দল। কিন্তু তাকে নড়ানো যায়নি। অনেকদিন পর মনের মত একটা কাজ পেয়েছে সে। মিস্ করতে রাজি নয় কারও কথায়।

    •

    এজওয়্যার রোডে এসে ট্যাক্সি নিল অস্ট্রিয়ান। রওনা হলো পার্ক লেন। পিছনে ব্রায়ান স্মিথের নেতৃত্বে তিনটে গাড়িতে তাকে অনুসরণ করছে দলটা। পিকাডিলিতে ট্যাক্সি ছেড়ে দিল ওসনিয়াক। তারপর পিছনের কাল্পনিক ফেউ খসাবার জন্যে কয়েকটা বেসিক ট্রিক্ খাটাল। ততক্ষণে গাড়ি ছেড়ে নেমে পড়েছে গিলটি মিয়া ও অন্য তিনজন ওয়াচার। একটু পর হঠাৎ ঝেড়ে দৌড় দিল লোকটা কাছের বড়সড় এক অফিস বিল্ডিং লক্ষ্য করে।

    এ মাথা দিয়ে ঢুকে বেরিয়ে এল রিয়ার এক্সিট দিয়ে। এবং সঙ্গে সঙ্গে ঘুরে তাকাল আর কেউ দৌড়ে আসছে কি না দেখার জন্যে। কিন্তু না, ছুটে আসছে না কেউ। দরকারও ছিল না। কারণ সংক্ষিপ্ত পথে আগেই ওখানে পৌঁছে গেছে এক ওয়াচার। কাল রাতের কথা মনে রেখেছে ওরা। তাই লোকটাকে ট্যাক্সি বিদেয় করতে দেখেই সতর্ক হয়ে গেছে। দ্রুত ছড়িয়ে ছিটিয়ে অবস্থান নিয়েছে।

    চারদিক দেখে শুনে সন্তুষ্ট মনে লোয়ার রিজেন্ট স্ট্রীটের ব্রিটিশ রেল ট্রাভেল সেন্টারে এসে ঢুকল সে। কাউন্টারে শেফিল্ডের ট্রেন ক’টায় ক’টায় ছাড়ে জেনে নিল। তারপর রাত নয়টা পঁচিশের গাড়ির একটা রিটার্ন টিকেট কিনল। দ্বিতীয় শ্রেণীর। তার পাশের কাউন্টারে মাদারওয়েলের টিকেট কেনার জন্যে খুচরো শিলিং গুণছিল এক যুবক, ওসনিয়াক কাউন্টার ত্যাগ করতেই তারও প্রয়োজন ফুরিয়ে গেল। ক্লার্কের উদ্দেশে ‘জাস্ট আ মিনিট’ বলে পিছিয়ে এল সে।

    খবরটা মাসুদ রানাকে জানানো হলো। ‘লেগে থাকো ‘ নির্দেশ দিল ও। ‘মিস লীড করার জন্যেও করে থাকতে পারে টিকেটটা।’

    ‘আমার মনে হয় না, চীফ। অত বুদ্ধি নেই শালার। ওর টেকনিক মান্ধাতা আমলের।’

    ‘হতে পারে। তবে সন্দেহ নেই একেই খুঁজছি আমরা। ভিয়েনার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম। ওরা কনফার্ম করেছে জিরি হেইক এসটিবির হলেও ভেতরে ভেতরে কেজিবির।’

    ‘অল রাইট, চীফ। ভাৱনার কিছু নেই। কথায় বলে চোরের দশদিন গৃহস্থের একদিন। ছুটতে পারবে না ও কিছুতেই।’

    ওদিকে চার্লস স্ট্রীটের এক হোটেল কক্ষে জানালার পাশে বসে আছে মাসুদ রানা। বাঁ হাতে শক্তিশালী বিনকিউলার, ডান হাতে খুদে কমিউনিকেটর। ব্রায়ান স্মিথের সঙ্গে আলাপ সেরে বিনকিউলার চোখে লাগাল ও। কয়েকশো গজ দূরের সাউথ আফ্রিকান এমব্যাসি ওর লক্ষ্য। ডি অ্যাঙ্গাসের ওপর নজর রাখছে।

    লোকটার • সার্ভিস রেকর্ড জানা আছে মাসুদ রানার। দুই দফায় ভিয়েনার সাউথ আফ্রিকান এমব্যাসিতে সাত বছর চাকরি করেছে। ফ্রানজ ওসনিয়াক ওরফে জিরি হেইকের আগমনে তার মধ্যে বাড়তি কোন তৎপরতা দেখা যায় কি না আবিষ্কার করার আশায় বসে আছে রানা। কিন্তু দিনভর বসে থাকাই সার হলো। তেমন কিছু ঘটল না। যদিও তাতে কিছুই প্রমাণ হয় না। বলা যায় না, হয়তো শেফিল্ডেই মোলাকাত হবে দু’জনের। রাত সাড়ে আটটায় শেষবারের মত বোর্ডিঙ হাউস ত্যাগ করল ফ্রানজ ওসনিয়াক। ট্যাক্সি চেপে রওনা হলো গন্তব্যে। দশ মিনিট চলার পর লোকটার গন্তব্য সম্পর্কে নিশ্চিত হলো ব্রায়ান স্মিথ, জানিয়ে দিল খরটা মাসুদ রানাকে। সঙ্গে সঙ্গে অন্য পথে ছুটল ও লোয়ার রিজেন্ট স্ট্রীটের দিকে।

    স্টেশনের সামনে ট্যাক্সি বিদেয় করল অস্ট্রিয়ান। বেশ ধীরস্থির সে এবার। কোনদিক দেখাদেখি নেই, কোন ট্রিক খাটাবার চেষ্টাও নেই। নিশ্চিন্ত। ডিপারচার বোর্ডে চোখ বোলাচ্ছে। তার চারপাশে ভিড়ের মধ্যে মিশে রয়েছে মাসুদ রানা ও অন্যরা। নয়টা পঁচিশের লেস্টার-ডার্বি- চেস্টারফিল্ড-শেফিল্ড ইন্টারসিটি দু’নম্বর প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে। একটু পর সেদিকে এগোল ওসনিয়াক।

    প্রথমে বাইরে থেকে গাড়ির এক মাথা থেকে অন্য মাথা পর্যন্ত ঘুরে এল লোকটা। এঞ্জিনের সঙ্গেই রয়েছে তিনটে ফার্স্ট ক্লাস ক্যারিজ, বুফে কার। এরপর নীল কভার মোড়া ক্লাব সীটের তিনটে সেকেণ্ড ক্লাস ক্যারিজ। ওর মাঝেরটায় উঠে পড়ল অস্ট্রিয়ান। মাথার ওপরের র‍্যাকে গ্রিপটা রাখল। আরাম করে বসে বাইরে তাকিয়ে থাকল।

    যাত্রী একেবারেই অল্প। কাজেই কাছাকাছি যাওয়ার ঝুঁকি নিল না রানা। ওসনিয়াকের সামনে-পিছনের ক্যারিজে ভাগ ভাগ হয়ে বসল। গিলটি মিয়া ও অন্য দু’জনকে সঙ্গে নিয়ে রানা থাকল পিছনে। স্মিথসহ অন্যরা সামনে। ইন্টার ক্যারিজ কাঁচের দরজা দিয়ে ওসনিয়াককে দেখতে পাচ্ছে সবাই। গাড়ি ছাড়ার পাঁচ মিনিট আগে এক নিগ্রো যুবক উঠল মাঝেরটিতে। কানে ওয়াকম্যান। আধবোজা চোখ।

    মিউজিকের তালে তালে তুড়ি বাজাতে বাজাতে ওসনিয়াকের তিন সারি সামনে বসে পড়ল সে। তারপর চোখ পুরো বুজে ফেলল। তুড়ি বাজাচ্ছে। পুরু সোলের কেডস্ পরা পা দোলাচ্ছে। তবে এতে রানা বা স্মিথের কোন অসুবিধে হলো না। দু’জনের ওপরই সমান নজর রাখতে পারছে ওরা।

    ঠিক সময় মতই সেন্ট প্যানক্রাস স্টেশন ত্যাগ করল আন্তঃনগর। সোজা ছুটল উত্তরে। ঝাড়া এক ঘণ্টা পনেরো মিনিট নিজের আসনে বসে থাকল অস্ট্রিয়ান। করার মত ছিলও না কিছু। সঙ্গে পত্রিকা-বই কিছুই আনেনি ব্যাটা। ধূমপানের অভ্যেসও নেই বোঝা গেল। জানালা দিয়ে স্রেফ বাইরের অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে সময় কাটাল।

    দশটা পঁয়তাল্লিশে গতি কমে এল আন্তঃনগরের। সামনেই লেস্টার। উঠে গ্রিপটা পাড়ল ওসনিয়াক। গ্রাহ্য করল না মাসুদ রানা ও তার সঙ্গীদের ভ্রূকুটি। টয়লেট এরিয়া পার হয়ে এসে বন্ধ দরজার সামনে দাঁড়াল। কাঁচ নামিয়ে পেট পর্যন্ত বাইরে বের করে দিয়ে ডানে তাকিয়ে থাকল ফ্রেমে দুই কনুইয়ে দেহের ভর চাপিয়ে।

    গাড়ি থেমে দাঁড়াতে প্ল্যাটফর্মে দাঁড়ানো স্থানীয় রেলওয়ের এক পোর্টারের উদ্দেশে হাঁক ছাড়ল অস্ট্রিয়ান। ‘এক্সকিউজ মি, ইজ দিস শেফিল্ড?’

    ‘নো, স্যার। ইট ইজ লেস্টার।’

    ‘আহ্, সো। থ্যাঙ্ক ইউ।’ গাড়ি ছাড়া পর্যন্ত ওখানেই দাঁড়িয়ে থাকল সে। তারপর কাঁচ তুলে দিয়ে নিজের আসনে ফিরে এল। এগারোটা বারো মিনিটে দ্বিতীয়বারের ট্রেনের গতি কমে আসতে দেখে আবারও একই কাজ করল লোকটা। ডার্বি ইন করেছে গাড়ি। উঠে দরজায় এসে দাঁড়াল সে। একই প্রশ্ন করল একজন যাত্রীকে।

    ‘ডার্বি,’ উত্তর দিল যাত্রী।

    গাড়ি যাত্রা শুরু করতে ফিরে এল আসনে। গ্রিপ্‌টা র‍্যাকে তুলে রেখে বসে পড়ল।এগারোটা তেতাল্লিশে চেস্টারফিল্ড স্টেশনে ইন করল গাড়ি। ভিক্টোরিয়ান মডেলের বিশাল, ঝকঝক্ েভবন। মাথার ওপর রূপালি চেইনের সাহায্যে ঝোলানো অসংখ্য ফুলের উঠে দরজার দিকে পা বাড়াল ফ্রানজ ওসনিয়াক। এবার আর গ্রিপ্‌টা নিল না, র‍্যাকেই পড়ে থাকল ওটা। মুখ বের করে এদিক ওদিক তাকাতে লাগল। ডান পায়ে তাল ঠুকছে ফ্লোরে। চার-পাঁচজন যাত্রী নামল এখানে। গাড়ি ছাড়ার আগেই ফাঁকা হয়ে গেল প্ল্যাটফর্ম। লম্বা হুইসল বাজাল এঞ্জিন, পরমুহূর্তে বিশাল এক পাইথনের মত হেলেদুলে রওনা হলো ইন্টার সিটি।

    হঠাৎ ঝট করে সিধে হলো অস্ট্রিয়ান, কেউ কিছু ভাল করে বুঝে ওঠার আগেই এক হ্যাঁচকা টানে দরজা খুলে ফেলল। প্ল্যাটফর্মে লাফিয়ে পড়ল। ছুটে এল সবাই। এমনটা কেউ-ই আশা করেনি। গতি এখনও তেমন তুলতে পারেনি গাড়ি, ইচ্ছে করলেই নেমে যেতে পারে সবাই। কিন্তু তাতে ফাঁস হয়ে যাবে ওদের উপস্থিতি। ফাঁকা প্ল্যাটফর্মে নিজেদের রাখা যাবে না।

    চট্ করে একবার পিছনে তাকিয়ে দেখে নিল মাসুদ রানা। শিকার হাতছাড়া হওয়া বাঘের মত হিংস্র হয়ে উঠেছে চেহারা। এদিকেই তাকিয়ে ছিল ওসনিয়াক, যখন নিশ্চিত হলো আর কেউ নামেনি গাড়ি থেকে, নিশ্চিন্তমনে ঘুরে দাঁড়াল। সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ খেলে গেল রানার দেহে। ঝট্‌কা মেরে দরজা খুলে ফেলল ও।

    শেফিল্ড চলে যাও তোমরা,’ চেঁচিয়ে বলল রানা। ‘গাড়ি নিয়ে ফিরে আসবে যত তাড়াতাড়ি পারো। দরজা বন্ধ করে দাও।

    রানিং বোর্ডে নেমে পড়ল মাসুদ রানা। বাইরে অন্ধকার। বেশ বেড়ে গেছে ট্রেনের গতি। ত্রিশ মাইলে উঠে গেছে কম করেও। মনে খানিকটা দ্বিধা থাকলেও সাহস হারাল না ও। ঝাঁপ দিল সামনে প্যারাট্রুপারদের মত। মনে মনে আল্লাকে স্মরণ করল যেন কোন লোহার খুঁটি বা বোল্ডারের ওপর আছড়ে না পড়ে। বাতাসের গতি অনুযায়ী প্যারাট্রুপাররা এগারো থেকে পনেরো মাইল গতিতে মাটি স্পর্শ করে।

    মাসুদ রানা করল বিশ মাইল গতিতে। তবে ওর ভাগ্য ভাল, কার্পেটেরমত মোলায়েম, ঘন মে-ঘাস মৃদু অভ্যর্থনা জানাল। পরমুহূর্তেই বল হয়ে গেল রানা। পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত দু’হাঁটু বুকের কাছে, কনুই দুই পায়ের ফাঁকে, মাথা ও দুই হাঁটু দুই কনুইয়ের মাঝখানে—টেনিস বলের মত ড্রপ্ খেতে খেতে পনেরো-বিশ গজ় গিয়ে থামল মাসুদ রানা। আন্তঃনগর ততক্ষণে সরে গেছে অনেক দূরে।

    তড়াক করে উঠে দাঁড়াল ও। ছুটল আলোকিত স্টেশনের দিকে। টিকেট ব্যারিয়ারের সামনে যখন পৌঁছল রানা, গার্ড তখন রাতের মত কাজ সেরে স্টেশন সংলগ্ন নিজের কোয়ার্টারের দিকে পা বাড়িয়েছে। ওর দিকে তাকাল লোকটা অবাক হয়ে।

    ‘শেষ যে যাত্রীটি বেরিয়ে গেল, গ্রে স্যুট পরা, খালি হাত, গেছে লোকটা?’

    হাত তুলে স্টেশনের সামনের কার পার্ক দেখাল গার্ড; ‘ওদিকে।’ তীরবেগে ছুটল মাসুদ রানা। পিছন থেকে চেঁচিয়ে ডাকছে ওকে গার্ড, ‘হেই, ম্যান! হেই, কাম ব্যাক!’ টিকেটের কথা মনে পড়ে গেছে বোধহয় তার। পাত্তা দিল না রানা কার পার্কে পৌঁছে এদিক-ওদিক তাকাল। একটা ট্যাক্সিও নেই। শেষ গাড়িটাই নিয়ে ভেগেছে হারামজাদা। হঠাৎ ওপাশের আড়াল থেকে এক পোর্টারকে বেরিয়ে আসতে দেখল রানা। সঙ্গে মোটর সাইকেল রয়েছে লোকটার, ঠেলে নিয়ে আসছে। বাড়ি ফেরার ধান্ধায় আছে হয়তো।

    সেদিকে ছুটল রানা। দৌড়ের ফাঁকে পকেট থেকে একশো পাউণ্ডের দুটো নোট বের করে ফেলেছে। ও দুটো পোর্টারের হাতে গুঁজে দিল রানা। ‘দু’ঘণ্টার জন্যে তোমার বাইকটা ধার দাও।’

    ‘হবে না,’ সোজা সাপ্টা জবাব লোকটার। চেহারা দেখে চোর-ছ্যাচড় ভেবেছে হয়তো রানাকে।

    ওজন মেপে মারল রানা। কথা বাড়াবার সময় নেই, অনেক দূরে চলে গেছে তখন ফ্রানজ ওসনিয়াক। তার চোয়ালের ওপর মাঝারি শক্তির এক ঘুসি বসিয়ে দিল মাসুদ রানা। জায়গাটা চেপে ধরে বসে পড়ল পোর্টার বাইক ছেড়ে। এক লাফে এগিয়ে এসে পড়ন্ত বাইক ধরল রানা, নোট দুটো লোকটার দিকে ছুঁড়ে দিয়ে কিক্ করল স্টার্টারে। ‘সরি,’ দুঃখ প্রকাশ করল ও। ‘সকালে ফেরত পাবে গাড়ি।’

    পরমুহূর্তেই লাফিয়ে ছুটল মোটর সাইকেল। রাস্তার দু’পাশের সবগুলো পোস্টেই আলো আছে, কাজেই হেড লাইট জ্বালল না রানা। অনেক দূরে দেখা যাচ্ছে একজোড়া টেইল লাইট, গতি যথাসম্ভব বাড়িয়ে ধেয়ে চলল সেদিকে। পর পর দু’তিনটে ট্রাফিক পয়েন্টে লাল সিগন্যালের কারণে দাঁড়াতে হলো ট্যাক্সিটিকে, ফলে ব্যবধান দ্রুত কমিয়ে আনতে সক্ষম হলো রানা। হলিওয়েল রোড ছেড়ে ওটা যখন সল্টারগেটে পৌঁছল, ও তখন ওসনিয়াকের মাত্র একশো গজ পিছনে।

    হঠাৎ ট্যাক্সির ব্রেক লাইট জ্বলে উঠতে দেখল মাসুদ রানা। জায়গায় দাঁড় করিয়ে ফেলল ও বাইক। বন্ধ করে দিল এঞ্জিন। ওসনিয়াক বেরিয়ে পড়েছে গাড়ি ছেড়ে, তাকাচ্ছে না সে কোনদিকে। কেউ যে ওকে অনুসরণ করেনি সে ব্যাপারে পুরোপুরি নিশ্চিত। মোটর সাইকেলটা পথের পাশে কাৎ করে শুইয়ে রাখল মাসুদ রানা! নিজেও বসে পড়ল ওটার পাশে।

    চলে গেল ট্যাক্সি। জন-যানহীন পথের এ-মাথা ও-মাথা নজর বোলাল একবার অস্ট্রিয়ান, তারপর রাস্তা পেরিয়ে ওপারের উঁচু দেয়াল ঘেরা চেস্টারফিল্ড ফুটবল মাঠের দিকে চলল। ছায়ায় ছায়ায় সন্তর্পণে এগোল মাসুদ রানা। মাঠ অর্ধেকটা চক্কর দিতেই কম্পটন স্ট্রীট। মাঠের দেয়ালে পিঠ দিয়ে দাঁড়ানো এ রোডের বাড়িগুলো। বেশিরভাগই অন্ধকার। ঘুমিয়ে পড়েছে মানুষ। সোজা হেঁটে গিয়ে ওর একটার সামনে থামল ওসনিয়াক। নক করল দরজায়।

    কয়েক সেকেণ্ড পর আলো জ্বলে উঠল অন্ধকার ঘরটির ভেতরে। দরজা খুলে গেল, ভেতরে সেঁধিয়ে গেল ফ্রানজ ওসনিয়াক। দীর্ঘশ্বাস ত্যাগ করল রানা, বসে পড়ল একটা ঝোপের আড়ালে। ঘড়ি দেখল, সবে বারোটা পাঁচ। আশ্চর্য হলো ও, মাত্র বিশ মিনিট হয়েছে চেস্টারফিল্ড পৌঁছেছে ট্রেন? অথচ মনে হচ্ছিল না জানি কয় ঘণ্টা পেরিয়ে গেছে ধারেকাছেই কোথাও গাড়ির আওয়াজ উঠল। মনে হলো দাঁড়িয়ে পড়েছে গাড়িটা। খুব সম্ভব ফুটবল মাঠের ওপাশে কোথাও হবে। রানা যেখানে মোটর সাইকেল রেখে এসেছে, সেখানে। এক মুহূর্ত মাত্র, তারপরই আবার চলতে শুরু করল ওটা। আওয়াজ ক্রমেই মিলিয়ে যাচ্ছে দূরে।

    পরক্ষণেই চমকে উঠল রানা কমিউনিকেটরে গিলটি মিয়ার ক্ষীণ কণ্ঠ শুনে। ‘স্যার, আপনি কি ধারেকাচে কোতাউ রয়েচেন।’

    ব্যাপারটা বিশ্বাসই হতে চাইল না ওর। ‘গিলটি মিয়া!’

    ‘আপনি কোতায়, ‘স্যার?’

    ‘তুমি কোথায়!’

    ‘মটোর সাইকেলটার কাচে।’

    ‘কোন দিক থেকে এখানে আসতে হবে জানাল তাকে রানা। দুই মিনিট পর ভূতের মত নিঃশব্দে হাজির হলো মানুষটা। নির্দেশ অমান্য করেছে গিলটি মিয়া, কাজেই ওর ওপর রাগ হওয়ার কথা। অথচ উল্টে কৃতজ্ঞ বোধ করল রানা।

    ‘কি করে এলে তুমি?’

    একটু ইতস্তত করল গিলটি মিয়া। ‘আপনার পেচন পেচন আমিও লাপিয়ে পড়েচিলুম টেরেন থেকে।

    ‘ওরা বাধা দেয়নি তোমাকে?’

    অন্ধকারে সাদা দাঁত দেখা গেল তার। ‘সুযোগ পেলে তো!’

    *খুব খারাপ কাজ করেছ। হাত-পা ভাঙত যদি?’

    ‘আপনার হাত-পা ভাঙত যদি?’

    এরপর কথা বাড়ানো নিরর্থক। ‘বুঝলাম। কিন্তু এতদূর এলে কি করে?’

    ‘গাড়িতে করে।’

    ‘কোথায় পেলে গাড়ি!’

    ‘আপনি স্যার দেকেননি। ইস্টিশানের বাইরে বাঁ দিকে একটা পেট্টল পাম্প ছিল। আপনি তো কুলি ব্যাটাকে ঢিসুম দিয়ে লম্বা দিলেন। আমি কি করি? খুঁজতে খুঁজতে গেলাম পেট্রল…’

    ‘কথা কম। সংক্ষেপে বলো।’

    মুখ ব্যাজার হয়ে গেল গিলটি মিয়ার। ভেবেছিল গাড়ি সংগ্রহের কাহিনী শেষ করে ট্রেন থেকে লাফিয়ে পড়ার লোমহর্ষক একটা বর্ণনা দেবে। কিন্তু হলো না। ‘ওকেনে তেল নিচ্চিল একটা ট্যাক্সি। ওটা লিয়ে এয়েচি।’

    ‘ভাল করেছ।’ রানা জানে আরও কথা বাকি আছে গিলটি মিয়ার। চান্স পেলে রাত কাবার করে দিতে পারবে। কাজেই চুপ করিয়ে দিল ওকে। ‘বসে পড়ো চুপ করে।’

    দুটোর দিকে ব্রায়ান স্মিথের সাড়া পাওয়া গেল। রেঞ্জের ভেতর এসে পড়েছে ওরা। আরও আধঘণ্টা পর একত্র হলো সবাই। রানার সঙ্গে গিলটি মিয়াকে দেখে আশ্চর্য হলো দলের অন্যরা। ‘গড!’ অস্ফুটে বলল ব্রায়ান। আমি ধরে নিয়েছিলাম…।’

    আরেকবার দত্ত প্রদর্শন করল গিলটি মিয়া।

    বিটওয়েল স্ট্রীট। চেস্টারফিল্ড পুলিস স্টেশনে পুলিস সুপার স্যাম রসটনের মুখোমুখি বসে আছে মাসুদ রানা। এত রাতে গভীর ঘুম থেকে উঠে আসতে হয়েছে বলে মনে মনে বিরক্ত হয়েছেন ভদ্রলোক। তবে মাসুদ রানা কেন কি কাজে এসেছে, খানিকটা আভাস পাওয়ার পর মেজাজ মোটামুটি নিউট্রাল হয়েছে।

    সুপারের আগ্রহ মেটাবার জন্যে আসল ঘটনা যতদূর সম্ভব রেখে-ঢেকে জানাল মাসুদ রানা। ‘বলেন কি!’ লাফিয়ে উঠলেন সুপার। ‘তাহলে তো এখনই অ্যারেস্ট করতে হয় ব্যাটাকে।’

    ‘উঁহুঁ, তাতে কোন লাভ হবে না। অ্যারেস্ট করলে তো লণ্ডনেই করা যেত।’

    ‘তাহলে?’

    ‘আগে জানতে হবে ওই বাড়িতে কে থাকে।

    ‘কোন সমস্যা নয়। নম্বর কত বাড়িটার?’

    ‘অন্ধকারে দেখতে পাইনি। সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে সে জন্যে।’

    ‘আই সী দ্য পয়েন্ট। তাহলে আর কি সাহায্য করতে পারি আপনাকে?

    ‘সকালে চার-পাঁচজন ওয়াচার দরকার হবে আমার। আমার সঙ্গে যারা আছে, তাদের কাউকে না কাউকে ট্রেনে হয়তো দেখেছে লোকটা। এখানে যদি আবার দেখে নিশ্চয়ই সন্দেহ করে বসবে।’

    ‘দেয়া যাবে। আর কিছু?

    ‘যে বাড়িতে ঢুকেছে আমার সাসপেক্ট, তার মুখোমুখি কোন একটা বাড়ি প্রয়োজনে খালি করে দিতে হবে। অথবা যদি রাস্তার দিকের একটা রূমও পাওয়া যায়, তাতেও চলবে। আড়াল থেকে লোকটার এবং ও বাড়িতে আর যারা থাকে তাদের ওপর চোখ রাখার জন্যে দরকার হবে। আমার লোক থাকবে ওখানে।’

    কি যেন ভাবলেন সুপার। কম্পটন রোড বললেন না? আমার এক বন্ধু -থাকে ওখানে, আটষট্টি নম্বর বাড়ি ও…’

    রানার কমিউনিকেটর খড়মড় করে উঠতে থেমে পড়লেন ভদ্রলোক। ওটা মুখের কাছে তুলল রানা। ‘ইয়েস! হ্যাঁ, কত? ফিফটি নাইন? শিওর? ঠিক আছে।’ যন্ত্রটা টেবিলে রাখল রানা। ‘আমার লোক বলছে ওই বাড়ির নম্বর ঊনষাট।’

    ‘দারুণ!’ বললেন সুপার। ‘মনে পড়েছে, আমার বন্ধুর মুখোমুখি বাড়িটির নম্বর ষাট।’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমাসুদ রানা ৪৭১ : নরকের শহর
    Next Article মাসুদ রানা ৪৭০ – কালবেলা

    Related Articles

    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৩৮৫-৩৮৬ – হ্যাকার (দুই খণ্ড একত্রে)

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫৬ – টপ টেরর

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫৪ – নরপশু

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫৩ – ধর্মগুরু

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫২ – কালো কুয়াশা

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫১ – মায়া মন্দির

    July 22, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }