Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মাসুদ রানা – ২১৭ ও ২১৮ – অন্ধ শিকারী (দুইখণ্ড একত্রে)

    কাজী আনোয়ার হোসেন এক পাতা গল্প333 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    অন্ধ শিকারী – ১.৮

    আট

    চওড়া মোটরওয়ে ধরে ডুয়েলফের দিকে ছুটছে রানা আর পিয়েনার। এক ঘণ্টার পথ পেরিয়ে এসেছে ওরা এরমধ্যে। নাইলস্ট্রম আর পটজিয়েটারস্বাস পিছনে ফেলে পিটার্সবার্গের দিকে চলেছে এখন। দুপাশে ধু-ধু আফ্রিকার বিশাল বিস্তৃতি। তারও ওপাশে, উত্তরে, যেখানে মাটি ছুঁয়েছে আকাশ, জিম্বাবুয়ের দক্ষিণ সীমান্ত।

    হঠাৎ করেই রেবেকা সাউলের মুখটা ভেসে উঠল রানার মনের পর্দায়। একটা দীর্ঘশ্বাস মোচন করল ও। ভালবেসে ফেলেছিল মেয়েটি দুর্দান্ত ‘বেপরোয়া বাঙালি যুবক মাসুদ রানাকে। আজও ভুলতে পারেনি ও রেবেকার স্মৃতি। ভুলতে পারেনি সবিতা আর অনিতার স্মৃতিও। পারবেও না কোনদিন। থেকে থেকেই স্মৃতির আরশিতে উদয় হয় ওরা, বুকের কোথায় কোন গভীর গহনে অব্যক্ত এক বেদনা অনুভব করে মাসুদ রানা।

    নড়েচড়ে বসল ও। একটা সিগারেট ধরিয়ে ডি অ্যাঙ্গাসের মধ্যে ডুবে গেল। ঠিক নয়টা পঞ্চাশে ডুয়েলফ পৌছল ওরা। গতি কমিয়ে খুদে শহরটির প্রধান রাস্তা বোথা অ্যাভিনিউতে গাড়ি ঢোকাল পিয়েনার। ‘কোথায় যেতে চান প্ৰথমে?’

    ‘লইয়ারের অফিসে,’ বলল রানা। গতকাল কথায় কথায় জেনারেল গেরহার্ডের কাছ থেকে জেনে নিয়েছে ও, এ দেশের ছোট ছোট মফস্বল শহরে সরকার নিয়োজিত একজন করে লইয়ার থাকে। সব ধরনের দলিল তার অফিসেই সম্পাদিত হয়।

    একটা কাফের সামনে গাড়ি দাঁড় করাল ক্যাপ্টেন অ্যানড্রিয়াস। ‘এদের কাছ থেকে লইয়ারের ঠিকানা জানতে হবে। চলুন, এই ফাঁকে এক কাপ কফিও পান করা যাক।

    কফি সার্ভ করার আগেই ম্যানেজারকে প্রশ্ন করে ঠিকানা বের করে ফেলল ক্যাপ্টেন। ‘লোকটা অ্যাংলো,’ ফিরে এসে বলল সে। ‘নাম জনসন। কাছেই অফিস, রাস্তার ওপারে।’

    অ্যানড্রিয়াসের ওয়ালেটে চোখ বুলিয়েই তড়াক করে আসন ছাড়ল জনসনের সেক্রেটারি। ভেতরের অফিসে গিয়ে ঢুকল। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই বেরিয়ে এসে বলল, ‘আসুন, প্লীজ।’

    জনসন মাঝবয়সী, সম্ভবত পঞ্চাশের কাছাকাছি, অনুমান করল মাসুদ রানা। আমুদে স্বভাবের, বেশি কথা বলার মানুষ। মাসুদ রানাকে তার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিল অ্যানড্রিয়াস। ‘লণ্ডন থেকে এসেছেন। কিছু তথ্য জানতে চান আপনার কাছে।’

    ওদের বসতে ইশারা করল জনসন। ‘বলুন, কি সাহায্য করতে পারি।’

    ‘আপনার সঠিক বয়স কত, বলবেন দয়া করে?’ ভূমিকা বাদ দিয়ে সরাসরি জানতে চাইল রানা।

    বিস্ময় চেপে পাল্টা প্রশ্ন করল লইয়ার, ‘লণ্ডন থেকে এতদূর এসেছেন আপনি আমার বয়স জানতে?’ পরক্ষণেই হাসল সে। ‘সরি।আমার তেপ্পান্ন চলছে।’

    তার মানে ১৯৪৬ সালে আপনি বারো বছরের ছিলেন?’

    একটু চিন্তা করে মাথা দোলাল লোকটা। ‘হ্যাঁ।’

    ‘ওই বছর এখানকার লইয়ার কে ছিলেন, বলতে পারেন?’

    ‘নিশ্চই। আমার বাবা, হ্যারি জনসন।’

    ‘উনি বেঁচে আছেন?’

    ‘হ্যাঁ, বহাল তবিয়তে। আশি ছাড়িয়ে গেছে বাবার বয়স। হলে হবে কি, এখনও প্রায় আমার মতই কর্মঠ। পনেরো বছর আগে রিটায়ার করেছেন তিনি।’

    ‘তাঁর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব?’

    ‘এক মিনিট,’ রিসিভার তুলে একটা নাম্বার ডায়াল করল পুত্র জনসন। এক মিনিট লাগল না, আধ মিনিট পর রিসিভার রেখে রানার দিকে ফিরল। সম্ভব। উনি আসছেন। একটু অপেক্ষা করতে হবে আপনাকে।’

    ‘শিওর। এই ফাঁকে আপনাকেও একটু কষ্ট করতে হবে। পুরানো ফাইল ঘেঁটে চেক করে দেখুন, ওই বছর এখানকারই. এক কৃষিজীবী, নাম ভ্যান অ্যাঙ্গাস, কোন উইল সম্পাদন করেছিলেন কিনা।’

    ‘নিশ্চই, দেখছি,’ আসন ছাড়ল জনসন। ‘একটু সময় লাগতে পারে, অনেক দিন আগের কথা তো! এক্সকিউজ মি।’ বেরিয়ে গেল সে অফিস ছেড়ে।

    মিনিট দশেক পর বাপ-বেটা এক সঙ্গে অফিসে ঢুকল। ছেলের হাতে ধুলোমাখা একটা কার্ডবোর্ড বক্স। মাথার চুল ধপধপে সাদা হ্যারি জনসনের। বয়সের ভারে সামান্য নুয়ে পড়েছে দেহ সামনের দিকে। কিন্তু দেখলেই বোঝা যায়, এখনও যথেষ্ট শক্তি ধরেন। রানাকে বাবার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিল ছেলে। ঘুরে ডেস্কের ওপাশে গিয়ে বসলেন বৃদ্ধ ছেলের আসনে। আরেকটা চেয়ার টেনে বাপের পাশে বসল সে।

    ‘হ্যাঁ,’ বললেন প্রাক্তন লইয়ার। ‘ভ্যান অ্যাঙ্গাসের কথা পরিষ্কার মনে আছে আমার। সম্পত্তির উইল ‘করিয়েছিল সে মারা যাওয়ার কিছুদিন আগে। আমিই করেছি সে উইল।’ বক্স খুলে ভেতর থেকে ধূসর কভারের একটা ফাইল বের করলেন বৃদ্ধ। সোনালি ফ্রেমের একটা চশমা নাকে লটকে চোখ বোলাতে আরম্ভ করলেন ওটার ভেতরে। ‘হ্যাঁ, এই তো। সব আছে এখানে। বিপত্নীক ছিল ভ্যান অ্যাঙ্গাস। মৃত্যুর সময় কেউ ছিল না কাছে। একটিই সন্তান তার, ডি অ্যাঙ্গাস। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে লড়েছে সে। যুদ্ধ শেষে ডি অ্যাঙ্গাস যখন দেশে ফিরে আসে, ঠিক তখনই মৃত্যু হয় ভ্যানের। ছেলেকে রিসিভ করতে কেপ টাউন যাওয়ার পথে,’ থেমে মাথা দোলালেন বুড়ো জনসন। ‘খুবই দুঃখজনক।’

    ‘সম্পত্তি কাকে দিয়ে গিয়েছিলেন তিনি?’ প্রশ্ন করল মাসুদ রানা।

    ‘ছেলেকেই। যাবতীয় কিছু। অনেক বড় কৃষি খামার ছিল ভ্যানের। খামার, বাড়ি, কৃষি যন্ত্রপাতি সব দিয়ে গেছে ছেলেকে।’

    ‘আর কাউকে কিছুই দেননি তিনি?’

    চোখ নামিয়ে পৃষ্ঠা ওল্টালেন বৃদ্ধ। ‘হ্যাঁ, একটা আইভরির দাবা সেট দিয়ে গিয়েছিল তার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে। অবসর সময়ে তার সঙ্গেই দাবা খেলত ভ্যান ওই সেট দিয়ে।’

    ‘এই খামার আর অন্যান্য সম্পত্তি এখন কি অবস্থায় আছে, মিস্টার জনসন?’

    ‘অনেক আগেই বিক্রি হয়ে গেছে।

    ‘আপনার উপস্থিতিতে নিশ্চয়ই?’

    ‘হ্যাঁ। তবে বিক্রি করেছে আসলে অকশনিয়ার। আমি উপস্থিত ছিলাম উইলের এক্সিকিউটর হিসেবে।’

    ‘ওসবের মধ্যে ভ্যান অ্যাঙ্গাসের এমন কোন ব্যক্তিগত কিছু কি ছিল, যা বিক্রি হয়নি? আই মীন আপনার জানামতে?’

    ভুরু কুঁচকে ভাবলেন বৃদ্ধ। ‘না, তেমন কিছু ছিল না। সবই বিক্রি…হ্যাঁ, ছিল, মনে পড়েছে। একটা পারিবারিক ফটো অ্যালবাম ছিল ভ্যানের। কমার্শিয়াল মূল্য নেই বলে ওটা বিক্রি হয়নি।’

    উৎসাহিত হয়ে উঠল মাসুদ রানা। মনে মনে এ ধরনেরই কিছু একটা চাইছিল ও। ‘ওটা আছে আপনার কাছে?’

    ‘না, দুঃখিত। ভ্যানের সেই বন্ধুই ওটা চেয়ে নিয়ে গেছে আমার কাছ থেকে।

    ‘তিনি কে?’

    ‘নাম ভ্যান বার্গ,’ বলল ছেলে, ‘আমার স্কুল শিক্ষক ছিলেন ভদ্রলোক।’

    ‘বেঁচে আছেন?’

    ‘না। প্রায় দশ বছর আগে মারা গেছেন,’ বললেন বুড়ো জনসন। ‘তাঁর এক মেয়ে আছে, সিসি। আমার ক্লাসফ্রেণ্ড ছিল,’ আবার নাক ঢোকাল ছোট জনসন।

    ‘কোথায় আছে সে, জানেন?’

    ‘হ্যাঁ, এই শহরেই আছে। যানিন রোডে বাসা।’

    বৃদ্ধের দিকে ফিরল মাসুদ রানা। ‘ভ্যান অ্যাঙ্গাসের সম্পত্তি কেন বিক্রি করা হয়েছিল? কার কথায়?’

    তার ছেলের কথায়, অবশ্যই। সে সময় ছেলেটা কেপ টাউনের ওয়েনবার্গ মিলিটারি হসপিটালে চিকিৎসাধীন ছিল। টেলিগ্রামে সব সম্পত্তি বিক্রি করে দেয়ার অনুরোধ জানিয়েছিল সে আমাকে। টেলিগ্রাম পেয়ে তার সত্যতা যাচাই করার জন্যে আমি ডি অ্যাঙ্গাসের কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠাই। নিজে যাওয়াই উচিত ছিল, কিন্তু তখনকার দিনে ট্রেন ছাড়া যোগাযোগের আর কোন পথ ছিল না। অতদূর আসা-যাওয়ায় প্রায় আট-দশদিন লেগে যেত। তাই, মানে, ব্যবসার কথা চিন্তা করে ইচ্ছে থাকলেও যেতে পারিনি। অ্যাঙ্গাসের কর্তৃপক্ষ তার পরিচয় সম্পর্কে আমাকে নিশ্চয়তা দিয়ে চিঠি পাঠায়। তারপর ওগুলো বিক্রির ব্যবস্থা গ্রহণ করি এবং টাকাগুলো অ্যাঙ্গাসের অনুরোধে ওই হাসপাতালের ঠিকানায় পাঠিয়ে দিই।’

    ‘পিতার শেষকৃত্যে আসেনি সে?’

    ‘না। এলেও পেত না। জানুয়ারি আমাদের এখানে পুরো গরমের সময়। মর্গের সুবিধে সেকালে তেমন ছিল না; তাই তাড়াতাড়ি সমাধিস্থ করা হয় ভ্যান অ্যাঙ্গাসকে। আর সুযোগ থাকলেই যে আসত সে, আমি মনে করি না। শেষ সম্বল বাপই যখন নেই, এতদূর ছুটে এসে কি লাভ হতো তার?’

    মন্তব্যটা যেন মনে ধরেছে ক্যাপ্টেন পিয়েনারের। এই প্রথম মুখ খুলল সে এতক্ষণে। ‘ঠিক। ভ্যান অ্যাঙ্গাসের কবরটা কোথায়?’

    ‘পাহাড়ের ওপর। কবরস্থানে।’

    জনসন জুনিয়রের কাছ থেকে স্কুল শিক্ষকের মেয়ে সিসির ঠিকানা নিয়ে বাপ-বেটাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বেরিয়ে এল ওরা। সিসির স্বামীর করাত কলের ব্যবসা আছে। কিন্তু তাকে পাওয়া গেল না অফিসে। এক কর্মচারী কারখানার পিছনে মালিকের বাসায় পৌঁছে দিয়ে গেল রানা আর পিয়েনারকে। স্থানীয় ভাষায় সিসিকে ওদের আগমনের কারণ ব্যাখ্যা করল সে।

    সব শুনে নেতিবাচক মাথা দোলাল মহিলা। দাবার কথা মনে আছে। কিন্তু অ্যালবাম…নাহ্! মনে পড়ছে না।’

    ‘আপনার বাবার মৃত্যুর পর তার জিনিসপত্র আপনিই তো পেয়েছেন?’ ‘না। ওসব বাবার বাড়িতেই আছে। তার অনেক আগেই বিয়ে হয় আমার। তারপর আর ওসব দিকে নজর দেয়ার খুব একটা সুযোগ পাইনি বাবার বিধবা এক বোন আছেন ও বাড়িতে। তিনিই বর্তমানে ওগুলোর মালিক।’

    ঠিকানা নিয়ে আবার পথে নামল ওরা দুজন। ভাইয়ের প্রসঙ্গ উঠতেই চোখে পানি এসে গেল বৃদ্ধার। উঠে গিয়ে আলমারির ভেতর থেকে একটা ছোট কাঠের বাক্স বের করে নিয়ে এল। ‘বেচারা! সারাদিন এই দাবা নিয়েই পড়ে থাকত। এটাই তো খুঁজছেন আপনারা?’

    ‘না, এটা নয়। আরেকটা জিনিস। একটা অ্যালবাম।’

    ‘অ্যালবাম!’ কিছু ভাবল বৃদ্ধা। ‘দাঁড়ান, দেখি। আছে মনে হয়। একবার দেখেছিলাম।’ ভেতরে চলে গেল সে।

    ফিরে এল পুরো দশ মিনিট পর। হাতে একটা চামড়া বাঁধানো অ্যালবাম। ‘এই যে, পেয়েছি।’

    নিল ওটা মাসুদ রানা। পুরু কভার তুলে ভেতরে তাকাল। হ্যাঁ, ঠিকই আছে। ভ্যান অ্যাঙ্গাসের পারিবারিক অ্যালবাম। সেই ১৯২০ সাল থেকে তোলা নানা উপলক্ষের ছবি। ডি অ্যাঙ্গাসের অ্যাংলো মায়ের বিয়ের পোশাক পরা লাজুক হাসিমাখা একটা ছবি দেখল রানা কিছুক্ষণ। ‘২০ সালে, বিয়ের সময় তোলা। অত্যন্ত সুন্দরী ছিলেন মহিলা। ‘২৫ সালে জন্ম হয় তার একমাত্র সন্তানের। বিয়ের পাঁচ বছর পর। ‘৩০ সালে তোলা তাঁর আরেকটা ছবির ওপর নজর পড়ল। শিশু অ্যাঙ্গাসকে কোলে নিয়ে হাসিমুখে ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে আছেন।

    কাগজ লাল হয়ে এলেও ছবিগুলো এখনও বেশ স্পষ্ট। পাতা ওল্টাতে ওল্টাতে আবার থামল রানা। জীবনে প্রথম টাট্টু ঘোড়ার পিঠে ওঠার কসরৎ করছে কিশোর অ্যাঙ্গাস। দূরে দাঁতে পাইপ কামড়ে ধরে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তাই দেখছেন ভ্যান অ্যাঙ্গাস। চোখেমুখে তাঁর ফুটে আছে পিতৃত্বের অহঙ্কার। পায়ের সামনে এক দল খরগোশ হুটোপুটি করছে।

    সবার শেষের ছবিটার ওপর আবার দৃষ্টি থমকাল রানার। সতেরো বছরের তরুণ, স্মার্ট ডি অ্যাঙ্গাস। পরনে ক্রিকেট ফ্যানেল। উইকেটের দিকে ছুটে আসছে বল করতে। ছবির নিচে ক্যাপশন : ডি অ্যাঙ্গাস, ক্যাপ্টেন অভ ক্রিকেট, মেরেনস্কি হাই স্কুল, ১৯৪৩। ওটাই শেষ ছবি অনেকক্ষণ চেয়ে থাকল রানা ছবিটার দিকে। ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে চেহারা।

    ‘আমরা অ্যালবামটা নিয়ে যেতে পারি?’ রানার মনের ভাব টের পেয়ে আগেভাগে নিজে থেকেই বৃদ্ধাকে প্রশ্ন করল ক্যাপ্টেন অ্যান্ড্রিয়াস।

    ‘হ্যাঁ।’

    ‘আপনার ভাই কখনও মিস্টার ভ্যান অ্যাঙ্গাসের গল্প করেছেন আপনার সঙ্গে?’

    করবে না কেন! অনেকবার। কতদিনের পুরানো বন্ধুত্ব ছিল ওদের।’

    ‘কিভাবে অ্যাঙ্গাস মারা যান, শুনেছেন?’

    ‘হ্যাঁ। কেন, আপনাদের বলেনি বুড়ো জনসন? আসলে বুড়োর স্মৃতি শক্তি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অ্যাঙ্গাস মারা গেছে একটা হিট্‌-অ্যাণ্ড রান অ্যাকসিডেন্টে।’ কথাটা কানে যাওয়ামাত্র শক্ত হয়ে গেল মাসুদ রানা। ‘ছেলেকে রিসিভ করতে কেপ টাউন যাচ্ছিল সে। পথের মাঝে গাড়ির ফুটো হয়ে যাওয়া টায়ার বদল করার সময় একটা দ্রুতগামী ট্রাক চাপা দেয় বেচারা অ্যাঙ্গাসকে। প্রথমে ধারণা করা হয়, ট্রাক চালক মাতাল ছিল। কিন্তু…।’ আচমকা থেমে গেল বৃদ্ধা, চেপে ধরল নিজের মুখ। আড়চোখে মাসুদ রানার কঠিন মুখের দিকে তাকাল ক্যাপ্টেন এক পলক।

    ‘দুঃখিত। এসব নিয়ে আলোচনা করা ঠিক হচ্ছে না আমার। সে যাই হোক, সেই চালকটির খোঁজ আর কোনদিন পাওয়া যায়নি।’

    গাড়িতে এসে উঠল রানা আর পিয়েনার। রানা গম্ভীর। অন্যমনষ্ক ভঙ্গিতে টোকা মারছে অনবরত অ্যালবামের শক্ত চামড়ার ওপর।

    ‘এবার?’ বলল ক্যাপ্টেন।

    ‘পাহাড়ে। কবরস্থানে। ‘

    ভুরু কুঁচকে গাড়ি স্টার্ট দিল পিয়েনার। ডুয়েলসূফ্লুফের মাইল দুয়েক উত্তরে, ছোটখাট এক পাহাড়ের ওপর জায়গাটা। কোলাহল থেকে দূরে, শান্ত, সমাহিত। ঠিক কবরের মতই। অনেক নিচে ডুয়েলফ। ছবির মত। বিশাল এক মাওয়াটাবা গাছের নিচে ভ্যান অ্যাঙ্গাসের কবর। ওর মাথার কাছে পাথরের স্মৃতি ফলকে বসে অদ্ভুত সুরেলা কণ্ঠে গান গাইছে ছোট একটা নাম না জানা পাখি। যেমন সুন্দর সুর, তেমনি পাখির চেহারা।

    রানাকে এগিয়ে আসতে দেখে গান থামিয়ে গলা টান করে উড়ি উড়ি ভাব নিয়ে বসে থাকল পাখিটা। কাছে এসে দাঁড়িয়ে পড়ল মাসুদ রানা। চোখ বোলাল ফলকে। গ্র্যানিট পাথরে খোদাই করে লেখা : ভ্যান অ্যাঙ্গাস, জন্ম ১৮৭৯, মৃত্যু ১৯৪৬, অলওয়েজ উইথ গড। অনেকক্ষণ ধরে সেদিকে চেয়ে থাকল ও।

    পায়ের কাছে একটা জংলা গাছের লম্বা ডালওয়ালা ফুল ছেঁড়ার জন্যে ঝুঁকল ও। বিপদ ভেবে সুড়ৎ করে উড়াল দিল পাখি। ফুলটা নিয়ে কয়েক পা এগিয়ে কবরের মাথার কাছে হাঁটু গেড়ে বসে পড়ল রানা। আলতো করে রেখে দিল ওটা ভ্যান অ্যাঙ্গাসের বুক সোজা। তাজ্জব হয়ে ওর কার্যকলাপ দেখছে পিয়েনার দূর থেকে।

    একটু পর রওমা হলো ওরা ফিরতি পথে। পিছন ফিরে পাহাড়টার দিকে তাকাল রানা শেষবারের মত। গাঢ় মেঘ জমেছে ডুয়েলফের আকাশে। এখনই নামবে হয়তো বৃষ্টি। সে বৃষ্টিতে সব পাপ-পঙ্কিলতা হয়তো ধুয়েমুছে যাবে, যাবে না কেবল একটি সত্য, গোপন করে যাওয়া চরম এক সত্য। যা আবিষ্কার করেছে হাজার মাইল দূর থেকে ছুটে আসা অনুসন্ধিৎসু এক বাঙালি যুবক, মাত্র কিছুক্ষণ আগে।

    কবরে ফুল দেয়ার কারণ জিজ্ঞেস করবে বলে মুখ ঘোরাল অ্যানড্রিয়াস পিয়েনার। কিন্তু চোখ বুজে রানাকে নিশ্চুপ বসে থাকতে দেখে করল না।

    মস্কো। ইয়াসিনেভোর সাততলা ফার্স্ট চীফ ডিরেক্টরেটের চারতলায়, নিজের বিশাল অফিস রূমে চিন্তিত মুখে বসে আছেন এর প্রধান, লেফটেন্যান্ট জেনারেল ভাদিম ভ্যাসিলিয়েভিচ বরিসভ। ছয় ফুটের মত লম্বা ভদ্রলোক। বয়স বাষট্টি। গোল থালার মত বড়সড় মুখটা টকটকে লাল। বুদ্ধিদীপ্ত বড় বড় নীল চোখ। সোনালি চুল, এলোমেলো। জানালা দিয়ে সড়কের দু’ পাশে বরফের টুপি পরে দণ্ডায়মান সারি সারি পাইনের দিকে চেয়ে আছেন তিনি।

    আজ রোববার। সরকারি ছুটির দিন। স্ত্রী, ছেলেমেয়ে, নাতি-নাতনী সবাই পেরেদেলকিনোয় তাঁর দাচায় অবসর কাটাতে গেছে। যেতে পারেননি কেবল জেনারেল বরিসভ। এ ধরনের উঁচু পদে থাকলে যা হয়; বিনা নোটিসে ঘাড়ে এসে চাপে ঝামেলা, আজও তাই হয়েছে। কোপেনহেগেন থেকে জরুরি এক বার্তা আসার কথা, তাই সব ছেড়েছুড়ে দিয়ে বসে আছেন তিনি প্রায় জনমানবহীন এফসিডি বিল্ডিঙে।

    হঠাৎ টেলিফোনের শব্দে চমকে উঠলেন বরিসভ। রিসিভার তুললেন। ‘ইয়েস?’

    ‘কমরেড মেজর জেনারেল ভ্লাদিমির চেরনোভস্কি লাইনে অপেক্ষা করছেন, কমরেড জেনারেল।

    ‘লাইন দাও,’ কোঁচকানো ভুরু আরও কুঁচকে উঠল তাঁর। ‘ভ্লাদিমির, কি ব্যাপার? এমন অসময়ে?’

    ‘হ্যাঁ, দুঃখিত। বাসায় না পেয়ে দাচায় চেষ্টা করেছিলাম। লুদমিলা বলল কি কাজে অফিসেই রয়েছ তুমি।’

    ‘হ্যাঁ। জরুরি একটা কাজ পড়ে গেছে। সে যাক, বলো, কি খবর?’ ‘তোমার সঙ্গে আমার দেখা হওয়া দরকার। খুব জরুরি, বরিসভ।’

    ‘বেশ তো, চলে এসো। নাকি চাইছ, আমি আসি?’

    ‘এলে খুব ভাল হয়।’

    ‘ঠিক আছে; কাল আসা যাবে।

    ‘কাল নয়, বরিসভ। আজই।’

    ‘আজই! কপালও কুঁচকে উঠল এবার জেনারেলের। ‘ভ্লাদিমির, ব্যাপার কি? কোন অসুবিধে?’

    ‘সামনা-সামনি বলব।’

    ঠিক, নিশ্চয়ই কোথাও কোন ঝামেলা হয়েছে। চেরনোভস্কি তাঁর স্কুল জীবনের বন্ধু। খুব সহজে উতলা হওয়ার মানুষ তিনি নন। খুব সম্ভব জটিল কিছু হবে। ‘অল রাইট, স্টারেট। কোথায় আসতে হবে?’

    ‘আমার বাসায় চলে এসো।’

    ‘কখন?’

    ‘সন্ধেয়। ধরো, ছ’টায়?’

    একটা দীর্ঘশ্বাস চাপলেন বরিসভ। যাও বা একটু আশা ছিল বিকেলে দাচায় যাওয়ার, দিল ব্যাটা নষ্ট করে। তবে তা নিয়ে মনে আক্ষেপ নেই তাঁর। ভ্লাদিমির যখন এত জরুরিভাবে দেখা করার অনুরোধ জানিয়েছে, তখন নিশ্চয়ই মারাত্মক কিছু না হয়ে যায় না। ক্ষতিটা পুষিয়ে যাওয়ার চান্স আছে। ‘ঠিক আছে। ঠিক ছ’টায় পৌঁছে যাব আমি।’

    ‘ধন্যবাদ,’ চেপে রাখা দম ছাড়লেন চেরনোভস্কি। ‘তোমার জন্যে স্পেশাল ভদকা রেডি থাকবে।

    রিসিভার রেখে দিলেন জেনারেল বরিসভ। বেশিরভাগ রুশ থেকে উল্টো তিনি, মদ খুব একটা পছন্দ করেন না। যখন করেন, হয় আমেরিকান ব্র্যাণ্ডি, নয়ত স্কচ। ওগুলো তাঁর জন্যে লণ্ডন থেকে আসে। বহু বছর ওদেশে কাটিয়ে এসেছেন জেনারেল। তখনই রুচির পরিবর্তন ঘটে তাঁর। ভদকা তেমন রোচে না। তবুও, খেতেই হয় মাঝেমধ্যে, নানান সরকারি পার্টিতে- ফাংশানে। তা-ও বড়জোর ভদকা। ভদকা? নাক কোঁচকালেন জেনারেল, অসহ্য!

    ঠিক ছ’টায় মেজর জেনারেলের স্পাসকায়া প্রসপেক্টের ফ্ল্যাটে পৌছলেন বরিসভ। সাইবেরিয়ান শার্ট, কর্ড ট্রাউজারস আর নরম সোলের জুতো পরা চেরনোভস্কি নিজেই দরজা খুললেন। ভদ্রলোক পার্মানেন্ট ব্যাচেলর। আধ গ্লাস করে কড়া ভদকা নিয়ে মুখোমুখি বসলেন দুই বন্ধু। টুকটাক মামুলি দুয়েকটা বাক্য বিনিময়ের পর বরিসভই প্রথম প্রসঙ্গ তুললেন। ‘তারপর, স্টারেট, বলো কি সমস্যা।’

    চেরনোভস্কি তার তিন-চার বছরের বড়। তাবে সার্ভিসে এক র‍্যাঙ্ক নিচে। ব্যক্তিত্বসম্পন্ন, রাশভারি মানুষ। চেহারা অনেকটা মার্কিন প্রেসিডেন্ট আইসেনহাওয়ারের মত। সহকর্মীরা প্রায় সবাই তাঁকে পছন্দ করে তাঁর ব্যক্তিত্বের কারণে। তারাই মেজর জেনারেলের নাম দিয়েছে স্টারেট। অর্থাৎ, দ্য ওল্ড ম্যান বা বন্ধু বরিসভের চোখে চোখ রাখলেন চেরনোভস্কি। ‘আমাদের বন্ধুত্ব কত বছরের ভাদিম ভ্যাসিলিয়েভিচ?’

    বিস্মিত হলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল। ‘এটা আবার কেমন প্রশ্ন? ‘বলোই না।’

    ‘বহু বছরের। সত্যি কথা বলতে, স্মরণাতীত কালের।’

    ‘এর মধ্যে আমি কি তোমার কোন অসুবিধে করেছি? কখনও?

    ‘তোমার হয়েছে কি, চেরনোভস্কি?’

    আগে আমার প্রশ্নের উত্তর দাও।

    ‘তুমি আমার বন্ধু, তুমি কেন আমার অসুবিধে করতে যাবে?’

    ‘আবারও ঘুরিয়ে বলছ?’

    ‘আচ্ছা বারা, না। করোনি। হলো?’ হয়েছে কি আজ ওর? ভাবলেন তিনি।

    ‘তাহলে তুমি কেন এই শেষ বয়সে আমার ডিপার্টমেন্টের পিছনে লেগেছ?’

    প্রশ্নটা নিয়ে ভাবতে বসলেন বরিসভ। এ অভিযোগ কেন আমার বিরুদ্ধে?

    ‘কি ঘটেছে তোমার ডিপার্টমেন্টে, খুলে বলছ না কেন, ভ্লাদিমির?’

    ‘কি আর ঘটবে!’ তীব্র হতাশা আর আক্ষেপ প্রকাশ পেল তাঁর কণ্ঠে। ‘বরবাদ করে দেয়া হয়েছে আমার সব। বারোটা বাজিয়ে দেয়া হয়েছে এস- এর। হয় তুমি রয়েছ এর পিছনে, নয়ত জানো কী চলছে ভেতরে ভেতরে। কি করে কাজ চালাব আমি, যেখানে আমার সেরা মানুষগুলোকে, সেরা ডকুমেন্টস, ফ্যাসিলিটিজ সব বিনা নোটিসে ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে? আমার এত বছরের সাধনা…সব এক নিমেষে তছনছ করে দেয়া হয়েছে!’

    সম্ভবত এই প্রথম ভ্লাদিমির চেরনোভস্কিকে রাগতে দেখলেন এফসিডি চীফ। অথচ সবাই জানে এঁর মত ঠাণ্ডা মানুষ খুব কমই হয়। মনের ভেতর সতর্ক সঙ্কেত বেজে উঠল লেফটেন্যান্ট জেনারেলের। যা-ই ঘটে থাকুক, ঘটেছে। অথচ তিনি জানেন না বিন্দু বিসর্গ। কেন? তিনি ডিরেক্টরেট চীফ, তাঁকে না জানিয়ে ‘এস’-এর ওপর হাত দেয়ার ক্ষমতা নেই কারও। অন্তত তা তাঁর নলেজে থাকতে হবে। ব্যাপার যত গোপনীয়ই হোক। সামনে ঝুঁকে বসলেন জেনারেল বরিসভ। ‘স্টারেট, তুমি বিশ্বাস করো আর না-ই করো, আমাদের বন্ধুত্বের শপথ করে বলছি, এ ব্যাপারে কিছুই জানি না আমি। কিচ্ছু জানি না। সত্যি বলছি। এবার দয়া করে খুলে বলো কি হয়েছে।

    এবার চেরনোভস্কি বিস্মিত হলেন। কারণ তাঁরও জানা আছে, চীফকে না জানিয়ে তারই অঙ্গ সংগঠনে হাত দেয়ার কারও উপায় নেই।কয়েক মুহূর্ত আহাম্মকের মত চেয়ে থাকলেন জেনারেল বন্ধুর দিকে। ‘বেশ, শোনো। প্রথম দিন দুই হারামজাদা এল আমার অফিসে, সেন্ট্রাল কমিটির অনুমোদন নিয়েই। বলল, আমার সেরা ইল্লিগ্যালটিকে তাদের চাই। ব্যাপারটা পছন্দ না হলেও কমিটির নির্দেশ, কি করব, দিয়ে দিলাম। ভেবে দেখো, যাকে আমি নিজে বছরের পর বছর ট্রেনিঙ দিয়েছি ভবিষ্যতে বড় কোন কাজে লাগানোর আশায়, এক কথায় দিয়ে দিতে হলো তাকে।’

    ‘তারপর?’

    ‘ভাবলাম, আপদ বিদেয় হয়েছে। কিন্তু দুদিন পর আবার হাজির ওরা।’

    ‘কারণ?’

    ‘আমার সেরা ‘লিজেণ্ড’ ওদের চাই,’ টেবিলের ওপর প্রচণ্ড ঘুসি বসিয়ে দিলেন মেজর জেনারেল। ‘দশ বছরেরও বেশি লেগেছে আমার ওই কভার স্টোরি ফুলপ্রুফ করতে, জানো?

    কোনটা কি, জানা আছে ভ্যাসেলিয়েভিচ বরিসভের। এক সময় তিনিও ছিলেন ‘এস.’-এর প্রধান পদে। এসব তখন তাঁকেও করতে হয়েছে। ধীরস্থির গলায় জানতে চাইলেন, ‘কাকে দিয়েছ ওদের?’

    ‘কাকে আবার, মেজর ভ্যালেরি তাতায়েভকে! মনে আছে তোমার ওর কথা?’

    নীরবে মাথা দোলালেন বরিসভ, আছে। বেশিদিন নয়, মাত্র বছর দুয়েক তিনি ‘এস’-এর প্রধান ছিলেন। তবু, এখনও ভ্যালেরিকে মনে আছে তাঁর। অন্যদের কথাও। ‘ইনডেন্টগুলোর অথরিটি কে ছিল?’

    ‘টেকনিক্যালি সেন্ট্রাল কমিটি। তবে রেটিং…।’ ডান হাতের তর্জনি তুললেন তিনি সিলিঙের দিকে।

    কি বোঝাতে চাইছেন বন্ধু, বুঝে নিলেন বরিসভ পলকে। ‘ঈশ্বর?’

    ‘কাছাকাছি,’ মুখ বিকৃত করলেন চেরনোভস্কি। ‘আমাদের প্রিয় জেনারেল সেক্রেটারি। অন্তত আমার তাই ধারণা।’

    ‘হুঁম! আর কিছু?’

    ‘অনেক কিছু। আবারও এসেছিল ওরা।’

    ‘কি চাইল সেবার?’

    ‘চার বছর আগে তুমি ব্রিটেনে যে গোপন ট্র্যান্সমিটারগুলো স্থাপন করে রেখে এসেছিলে, তার একটা রিসিভার ক্রিস্ট্যাল। এই কারণেই আমি ভেবেছি তুমি এর পিছনে না থেকে পারো না।’

    চোখের পাতা সরু হয়ে এল জেনারেল বরিসভের। যখন ইল্লিগ্যালস- এর প্রধান ছিলেন তিনি, ন্যাটো তখন ইউরোপ-আমেরিকা জুড়ে পার্সিং টু এবং ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র বাড়িয়েই চলেছে আশঙ্কাজনক হারে। এ নিয়ে পলিট ব্যুরোর দুশ্চিন্তা দিন দিন বেড়ে চলছে, ঘন ঘন মীটিঙে বসছে ব্যুরোর সদস্যরা।

    এরপর এক সময় তাদের নির্দেশ এল, পশ্চিম ইউরোপে নাশকতামূলক অপারেশন চালানোর জন্যে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে, প্রস্তুত করতে হবে অপারেশনের ক্ষেত্র। কন্টিঞ্জেন্সি প্ল্যান তৈরি করতে হবে। প্রয়োজনে যাতে সংক্ষিপ্ততম সময়ের নোটিসে পুরো পশ্চিম ইউরোপের সর্বত্র যুগপৎ কার্যকর করা যায় প্ল্যানগুলো।

    ওই নির্দেশের ভিত্তিতেই সে অঞ্চলে অনেকগুলো ক্যানডেস্টাইন রেডিও ট্র্যান্সমিটার স্থাপন করেছিলেন জেনারেল বরিসভ। ওর মধ্যে তিনটে বসানো হয় ব্রিটেনে। মস্কো থেকে পাঠানো যে কোন বার্তা গ্রহণ করতে সক্ষম অত্যাধুনিক সেট ওগুলো। ওদের মাধ্যমে পাঠানো বার্তার বক্তব্য ধারেকাছে অবস্থানরত কেজিবির কোন এজেন্টকে উদ্ধার করতে হলে বিশেষভাবে তৈরি ক্রিস্ট্যাল রিসিভার ব্যবহার করতে হবে। কোডেড বার্তা ডি-কোড করে দিয়ে তার সময় ও পরিশ্রম, দুটোই বাঁচিয়ে দেয় এই রিসিভার। অবশ্যই তাকে ‘প্রোগ্রামড্’ ক্রিস্ট্যাল হতে হবে। এগুলো সব সময় ‘এস’-এর স্টোরে, কড়া নিরাপত্তার মাঝে রাখা হয়।

    ট্র্যান্সমিটারগুলোর প্রহরার দায়িত্বে ইউরোপে রয়েছে যে সব কেজিবি এজেন্ট. তারা সবাই ‘স্লীপার’। জেগে জেগে ঘুমিয়ে আছে। ঘুম তখনই ভাঙবে, যখন আর কোন এজেন্ট তাদের সামনে সঠিক আইডেন্টিফিকেশন কোডটি উচ্চারণ করবে।

    ‘রিসিভার কোনটা নিয়ে গেছে,’ যেন কিছুই হয়নি, কিছুই ঘটেনি, এমনভাবে জানতে চাইলেন বরিসভ।

    ‘যেটার নাম তুমি দিয়েছিলে পপলার।

    মাথা দোলালেন এফসিডি প্রধান। নিজ হাতে ব্রিটেনেরগুলো স্থাপন করেছিলেন তিনি। কোথায় কোনটা আছে, কোনটার কোড নেম কি, ওগুলোর পাহারায় যারা রয়েছে, তাদের কার কি নাম, কি কোড নেম, কোড নম্বর, সব আজও পরিষ্কার মনে আছে তাঁর। তিনটেই লণ্ডন ডিস্ট্রিক্টের মধ্যে বসানো আছে। অন্য দুটোর নাম হ্যাকনি এবং সোরেডিচ্। ‘আরও কিছু, স্টারেট?’

    ‘হ্যাঁ। মেজর ক্রিপচেঙ্কোকেও নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

    ডিপার্টমেন্ট ‘ভি’ বা এক্সিকিউটিভ অ্যাকশনে ছিল মেজর এক সময়। এখন কিসে আছে জানেন না জেনারেল। ‘এর স্পেশালিটি কি?

    ‘ক্যানডেস্টাইন প্যাকেজ এদেশ ওদেশ আনা-নেয়া করা।’

    ‘মানে স্মাগলিঙ?’

    হ্যাঁ। পশ্চিম ইউরোপের সবগুলো বর্ডার পয়েন্ট তার নিজ হাতের তালুর মতই পরিচিত। জানে কি করে কাস্টমস্ আর ইমিগ্রেশনকে পাশ কাটানো সম্ভব।’

    ‘তোমাকে প্রথমেই বলেছি, স্টারেট, আমি এর কিছুই জানি না। এ আমার অপারেশন নয়, বিশ্বাস করো। কোন সন্দেহ নেই; এটা অনেক ওপরের মহলের কাজ। তোমার-আমার ধরাছোঁয়ার বাইরের। কাজেই এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা বিপদ ডেকে আনতে পারে। শান্ত থাকার চেষ্টা করো, লোকসানের কথা ভুলে যাও। আমি খোঁজ-খবর কিছু বের করতে পারি কি না, দেখব। তুমি একদম চেপে যাও সব। ডু নাথিং, সে নাথিং।’

    ‘ঠিক আছে।

    বেরিয়ে এসে গাড়িতে উঠলেন এফসিডি চীফ। একেবারে আচমকা চিন্তাটা ঢুকল তাঁর মাথায়।গত প্রায় দুই সপ্তাহ দেখা নেই জিআরইউ প্রধান জেনারেল মার্চেঙ্কোর। কেন? কোথায় তিনি? এর সঙ্গে তাঁর কি কোন যোগসাজশ আছে? জানালার কাঁচ ইঞ্চি খানেক নামিয়ে মাথায় ঠাণ্ডা বাতাস লাগালেন জেনারেল কিছুক্ষণ। প্রশ্নটা মাথা গরম করে তুলেছে।

    কালই এ ব্যাপারে পুরোপুরি খোঁজ নেবেন তিনি গোপনে। তাঁকে না জানিয়ে কোথায় কি ঘটতে চলেছে, জানার পুরো অধিকার রয়েছে কেজিবির ‘ইল্লিগ্যালস তথা এস’ ডিরেক্টরেট প্রধানের।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমাসুদ রানা ৪৭১ : নরকের শহর
    Next Article মাসুদ রানা ৪৭০ – কালবেলা

    Related Articles

    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৩৮৫-৩৮৬ – হ্যাকার (দুই খণ্ড একত্রে)

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫৬ – টপ টেরর

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫৪ – নরপশু

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫৩ – ধর্মগুরু

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫২ – কালো কুয়াশা

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫১ – মায়া মন্দির

    July 22, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }