Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মাসুদ রানা ৪১৩ – সেই কুয়াশা (দ্বিতীয় খণ্ড)

    কাজী আনোয়ার হোসেন এক পাতা গল্প322 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সেই কুয়াশা ২.১৫

    পনেরো

    জানালা গলে সকালের রোদ মুখে পড়তেই জেগে উঠল সোনিয়া। নড়ল না সঙ্গে সঙ্গে, নিঃসাড়ে পড়ে রইল কয়েক মিনিট। আবছাভাবে কানে ভেসে আসছে পরিচিত দুটো পুরুষকণ্ঠ। আস্তে আস্তে চোখ মেলল ও, কনুইয়ে ভর দিয়ে বিছানায় উঁচু হলো একটু। চোখ বোলাল চারপাশে। কামরাটা অচেনা, হোটেলের বেডরুম বলে মনে হলো। কখন-কীভাবে এখানে এসেছে, কিছু মনে নেই। তবে রানা-কুয়াশার কণ্ঠ অন্তরে বুলিয়ে দিচ্ছে স্বস্তির পরশ।

    বিছানা থেকে নেমে পড়ল সোনিয়া। চেয়ারের ব্যাকরেস্টের সঙ্গে ঝুলছে একটা রোব-ওটা গায়ে জড়িয়ে বেরিয়ে এল স্যুইটের বসার ঘরে। সোফায় বসে আছে বাংলাদেশের দুই দুর্ধর্ষ মানুষ, ঝুঁকে রয়েছে সেন্টার টেবিলের উপর বিছানো একটা ম্যাপের উপর। নিচুস্বরে আলোচনা করছিল, পায়ের শব্দ শুনে মাথা তুলে তাকাল।

    ‘ঘুম ভেঙেছে তা হলে?’ হাসি ফুটল রানার মুখে। সোফা ছেড়ে উঠে এল ওর দিকে। ‘কেমন বোধ করছ?’

    রাতে অসুস্থতার ঘোরে রানাকে ঠিকমত চিনতেই পারেনি সোনিয়া, এখন দেখামাত্র আবেগ ভর করল। রানাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল ও। ফিসফিস করে বলল, ‘এসব কী ঘটছে, রানা?

    গলা খাঁকারি দিল কুয়াশা। তাড়াতাড়ি রানাকে ছেড়ে দিয়ে সোজা হলো সোনিয়া। মুখ অরম্ভ হয়ে উঠেছে। ‘সরি, মি. কুয়াশা।’

    ‘সরি না, ধন্যবাদ জানাও ওঁকে,’ বলল রানা। ‘জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উনিই তো উদ্ধার করেছেন তোমাকে

    বিস্ময় ফুটল সোনিয়ার চোখে। ‘তা-ই?’

    ‘ও কিছু না,’ হাত নাড়ল কুয়াশা। ‘এসব আমাদের জন্য সহজ কাজ।‘

    ‘কোথায় আমরা?’ চারপাশে তাকাল সোনিয়া।

    ‘লণ্ডনের একটা হোটেলে,’ রানা বলল। ‘গতকাল রাতে তোমাকে নিয়ে এসেছেন কুয়াশা। কিডন্যাপাররা একটা ড্রাগ দিয়েছিল তোমাকে, তাই কিছু টের পাওনি।’

    ‘লণ্ডন?’ বিস্ময় ফুটল সোনিয়ার চেহারায়।

    ‘হ্যাঁ,’ মাথা ঝাঁকাল কুয়াশা। ‘কেমন বোধ করছ তুমি? কোনও অসুবিধে নেই তো?’

    ‘একটু দুর্বল লাগছে, আর কিছু না।’

    ‘গুড। ড্রাগটা তা হলে শরীর থেকে বেরিয়ে গেছে। গোসল-টোসল সেরে খাওয়া-দাওয়া সারো। সুস্থ হয়ে নাও পুরোপুরি। আজ রাতে তোমাকে দরকার হবে আমাদের।’

    ‘কীসের জন্য?’ কৌতূহল ফুটল সোনিয়ার চোখে।

    ‘পরে জানতে পারবে,’ বলল কুয়াশা। ‘এখন যাও।’

    ‘তোমার জন্য কিছু জামা-কাপড় কিনে এনেছি সকালে,’ যোগ করল রানা। কুজিটে পাবে। ‘

    মাথা ঝাঁকিয়ে বেডরুমে চলে গেল সোনিয়া।

    কুয়াশার পাশে এসে বসল রানা। বলল, ‘রাতের অপারেশনে ওকে রাখার ব্যাপারে এখনও মনের সায় পাচ্ছি না আমি।’

    ‘কেন?’ জানতে চাইল কুয়াশা।

    ‘যথেষ্ট ধকল গেছে ওর উপর দিয়ে। তা ছাড়া এসবের জন্য ট্রেইনড্ নয় মেয়েটা।’

    ‘ভুল বললে। রেড ব্রিগেড থেকে এ-ধরনের কাজেরই ট্রেইনিং পেয়েছে ও। আর ধকল-টকল… ওসব আপাতত সহ্য করে নিতে হবে। রাতের জন্য তৃতীয় একজনকে দরকার আমাদের; ও ছাড়া হাতে আর কেউ নেই এ-মুহূর্তে।’

    ‘জানি,’ শ্রাগ করল রানা। ‘তবু…’

    ‘ওসব চিন্তা আপাতত দূর করো মাথা থেকে,’ কুয়াশা বলল। ‘আমাদের প্ল্যান অভ অ্যাকশনই তো ঠিক হলো না এখনও! এসো… হাতে সময় নেই বেশি।’

    টেবিলের উপর আবার ঝুঁকে পড়ল দু’জনে। লণ্ডন শহরের স্ট্রিট ম্যাপ বিছিয়েছে ওখানে।

    ‘বেলগ্রাভিয়া থেকে আসবেন লংফেলো… ফরেন সেক্রেটারিকে নিয়ে,’ ম্যাপে আঙুল রাখল কুয়াশা। ‘কনৌট হোটেলে আসবার জন্য ডাইরেক্ট রাস্তা হলো এটা।’

    ‘উঁহুঁ, এ-পথে আসবেন না,’ রানা মাথা নাড়ল। ‘বিএসএস হেডকোয়ার্টারে যাবার কথা বলে রওনা হবেন। কনৌট হোটেলের দিকে ঘুরবেন শেষ মুহূর্তে, যাতে আগেভাগে কিছু টের না পান উইটিংহ্যাম।‘

    ‘তা হলে হাইড পার্ক পেরুনোর পর ঘুরবেন উনি।’ চঞ্চল চোখে ম্যাপ জরিপ করল কুয়াশা। ‘অনেকগুলো রাস্তা দেখতে পাচ্ছি; তার মধ্যে যে-কোনোটা বেছে নিতে পারেন।’

    ‘সেটা শুধু বেসও অটর ক্রস করা পর্যন্ত। কার্লোস প্লেসে আসতে হলে এজওয়্যার রোডে আসতে হবে ওঁকে।’

    ‘ওখানে অ্যামবুশ করা একটু রিস্কি হয়ে যায় না?’ ভুরু কোঁচকাল কুয়াশা! ‘অনেক বড় রাস্তা, মনুষ আর গাড়িঘোড়ার অভাব নেই।’

    ‘আজ রবিবার,’ মনে করিয়ে দিল রানা। ট্রাফিক অনেক কম থাকবে রাস্তায়। তবে হ্যাঁ… তারপরেও জায়গাটা সুবিধের না। অন্য স্পট খুঁজে বের করতে হবে আমাদেরকে।‘

    ‘এটা?’ ম্যাপে আবার আঙুল রাখল কুয়াশা। ‘এজওয়্যার রোড থেকে কার্লোস প্লেসে যাবার সরাসরি রাস্তা এটা। খুব বড় নয়।’

    ‘জর্জ স্ট্রিট,’ নাম পড়ল রানা। ‘হুঁ, বেটার। তবে আরেকটু দেখা যাক।

    মিনিট পনেরো ব্যয় করল দু’জনে ম্যাপ স্টাডি করায়, কিন্তু আর কোনও ভাল জায়গা খুঁজে পেল না। পুরো রুটে জর্জ স্ট্রিট-ই একমাত্র সুবিধাজনক স্পট। তাই ওখানেই ফাঁদ পাতার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হলো।

    ‘ওকে, জায়গা ঠিক হলো,’ সোফায় হেলান দিয়ে বসল কুয়াশা। ‘গাড়ি?’

    ‘অফিশিয়াল না, ব্যক্তিগত গাড়িতে আসবেন লংফেলো,’ জানাল রানা। ‘ওটা একটা অ্যাসটন মার্টিন। ধূসর রঙা। লাইসেন্স নাম্বার জিবি-১০৯৮’

    ‘সিকিউরিটি?’

    ‘গোপন মিটিঙে আসছেন ওঁরা, সঙ্গে সিকিউরিটি থাকার কথা না। মি. লংফেলোকে মানাও করে দিয়েছি আমি।’

    ‘খুব ভাল। তা হলে আমাদের প্ল্যান ফাইনাল করে নেয়া যাক। সোনিয়া প্রাথমিক ব্যারিকেডে থাকবে- গাড়ি থামানো, এবং লংফেলোকে নিউট্রালাইজ করা শুর দায়িত্ব। এরপর অ্যাসটন-মার্টিন দখল করব আমি, উইটিংহ্যামকে নিয়ে আসব অস্ত্রের মুখে।‘

    ‘আমি?’ রানা জিজ্ঞেস করল।

    ‘মি. লংফেলোর গাড়ি চেনো তুমি, কাজেই স্পটার এবং কো-অর্ডিনেটর হিসেবে থাকতে হবে তোমাকে… সেইসঙ্গে থাকবে আমাদের ব্যাকআপ হিসাবে,’ জানাল কুয়াশা। ‘দ্বিতীয় একটা গাড়ি থাকবে তোমার কাছে। সোনিয়াকে পিকআপ করে আমার পিছু নেবে তুমি!’

    ‘সোনিয়ার কাজটা একটু কঠিন হয়ে গেল না?’

    কিছু করার নেই। লংফেলোর সামনে পরিচিত কাউকে পাঠানো যাবে না। ফাইলে আমার ছবি দেখেছেন তিনি, তোমাকে তো এক মাইল দূর থেকে চিনবেন। শুধু সোনিয়াকেই চেনেন না ভদ্রলোক। ও ছাড়া আর কেউ কাছে ঘেঁষতে পারবে না।’

    ‘কিন্তু ওঁকে কাবু করবে কীভাবে সোনিয়া?’

    ‘ইঞ্জেকশন হলে কেমন হয়? ছোট্ট একটা খোঁচা… একটা মেয়ের জন্য অতখানি কাছে যাওয়া কঠিন নয়।‘

    ভেবে দেখল রানা। ভাগ্যের একটু সহায়তা লাগবে, সেইসঙ্গে দক্ষ অভিনয় আর ঠাণ্ডা মাথা… হয়তো উৎরে যাবে সোনিয়া। তা ছাড়া কাছাকাছি ও আর কুয়াশা তো থাকছেই। মনের মধ্যে একটু খুঁতখুঁতানি থাকলেও রাজি হয়ে গেল।

    ‘ঠিক আছে,’ বলল ও। ‘আসুন, এবার কী কী জিনিসপত্র দরকার, সেগুলো ঠিক করে নিই…..’

    .

    রাত সোয়া আটটা।

    জর্জ স্ট্রিট আর এজওয়্যার রোডের মোড় থেকে সামান্য দূরে একটা বিল্ডিঙের ছাতের উপর বসে আছে রানা। চোখে লাগিয়ে রেখেছে বিনকিউলার। রোডলাইটের কারণে রাস্তা আলোকিত, তারপরেও একটা নাইট ভিশন রেখেছে সঙ্গে। কানে লাগিয়ে রেখেছে মিনিয়েচার কমিউনিকেশন ডিভাইস-রেঞ্জ দু’মাইল! একই জিনিস রয়েছে কুয়াশা আর সোনিয়ার কাছে জর্জ স্ট্রিটের একশো গজ ভিতরে ছায়ায় লুকিয়ে আছে এর পজিশন নেবার আগে সাইলেন্সার-অলা পিস্তলের গুলিতে বেশ কয়েকটা রোডলাইট নষ্ট করে দিয়েছে, অ্যামবুশের জায়গাটা যেন বেশ কিছুটা অন্ধকার হয়ে যায়।

    রানা এজেন্সির সেফ হাউস থেকে সমস্ত ইকুইপমেন্ট এনেছে রানা। কোনও সমস্যা হয়নি। এখন পর্যন্ত প্ল্যান মোতাবেক এগোচ্ছে সব। ওর ধারণাই ঠিক, সাপ্তাহিক ছুটির দিন বলে রাস্তায় গাড়িঘোড়ার সংখ্যা কম, জর্জ স্ট্রিটকে মোটামুটি নির্জনই বলা চলে। কদাচিৎ একটা-দুটো গড়ি হচ্ছে, কিংবা উদয় হচ্ছে নিঃসঙ্গ পথচারী। এভাবে চলতে থাকলে সহজেই কার্যোদ্ধার হবে।

    ‘রানা!’ খড়খড় করে উঠল কানে লাগানো রেডিও—কুয়াশার গলা। ‘কিছু দেখতে পাচ্ছ?’

    ‘না,’ জবাব দিল রানা। ‘তবে সময় হয়ে এসেছে। তৈরি থাকুন। সোনিয়ার কী অবস্থা?’

    ‘আমি রেডি, রানা,’ বলল মেয়েটা। ‘কিচ্ছু ভেবো না।’

    ‘যে-ভাবে বলেছি, সে-ভাবেই কোরো সব। বাড়তি কিছু করতে যেয়ো না।’

    ‘আচ্ছা।’

    দূরে একজোড়া হেডলাইট চকচক করে উঠল এ-সময়। বিনকিউলার ঘোরাল রানা। অ্যাসটন-মার্টিন। লাইসেন্স নাম্বার চেক করল—ভুল নেই, মারভিন লংফেলোরই গাড়ি ওটা। ঘণ্টাখানেক আগে ফোনে কথা হয়েছে তাঁর সঙ্গে। জানিয়েছেন, ইংল্যাণ্ডের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জনৈক এশিয়ান কন্ট্যাক্টের সঙ্গে মিটিঙের অজুহাত দিয়েছেন। তিনি ফরেন সেক্রেটারিকে, বিএসএস হেডকোয়ার্টারে গোপনে যাবার জন্য রাজি করিয়েছেন। কথা বলার সময় বহু কষ্টে নিজেকে সংযত রেখেছে রানা, ইচ্ছে করছিল মি. লংফেলোকে সতর্ক করে দেয়… জানায় কী করতে চলেছে ওরা। পরিস্থিতির জন্য পারেনি। তীব্র অনুশোচনায় দগ্ধ হচ্ছে হৃদয়। শ্রদ্ধেয় মানুষটিকে ধোঁকা দিতে চলেছে ও… কীভাবে তা মেনে নেবে? কিন্তু উপয়ও তো নেই!

    ভাবাবেগ চাপা দিয়ে রেডিওতে সঙ্গীদের সঙ্গে যোগাযোগ করল রানা। ‘কুয়াশা, সোনিয়া… গেট রেডি। আসছে গাড়িটা।’

    এজওয়্যার রোড থেকে মোড় নিয়ে জর্জ স্ট্রিটে ঢুকল অ্যাসটন-মার্টিন। বিনকিউলারে সামনে-পিছনে দেখে নিল রানা—না, সিকিউরিটির জন্য আর কেউ নেই! নাইট-ভিশনের সাহায্যে দেখে নিল গাড়ির ভিতরটাও। দু’জন মাত্র আরোহী। তারমানে সব ঠিকঠাক আছে। সঙ্গীদের জানিয়ে দিল সেটা।

    মোড় ঘোরার সময় গতি কমাতে বাধ্য হয়েছেন লংফেলো, জর্জ স্ট্রিটে ঢুকে ধীরে ধীরে আবার বাড়াতে শুরু করলেন। কয়েক সেকেণ্ড নীরবে নজর রাখল রানা, অ্যাসটন–মার্টিন ওর প্রত্যাশিত পজিশনে পৌঁছুতেই রেডিওতে নির্দেশ দিল, ‘এবার, সোনিয়া… এবার?’

    বিনা নোটিশে রাস্তার পাশের গলি থেকে হুড়মুড় করে বেরিয়ে এল মেয়েটা। পরনে শতচ্ছিন্ন জামা-কাপড়, হাত দিয়ে ঠেলছে একটা ভাঙাচোরা শপিং কার্ট—সেটা বাতিল জিনিসপত্রে ঠাসা গৃহহীন উদ্বাস্তুর সাজ, দেখে মনে হবে তাড়াহুড়ো করে রাস্তা পার হচ্ছে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই পৌঁছে গেল গাড়ির সামনে।

    ব্রেক কষলেন মারভিন লংফেলো, দেরি করে ফেলেছেন, রাস্তার অ্যাসফল্টে কর্কশ আওয়াজ তুলল টায়ার। ঘষটাতে ঘষটাতে ছুটে গেল সামনে। একটা চিৎকার দিয়ে গাড়ির সামনে থেকে সরে গেল সোনিয়া, অ্যাসটন-মার্টিনের বাম্পারের আঘাতে ছিটকে গেল ওর শপিং কার্ট। ভিতরের জিনিস ছড়িয়ে পড়ল রাস্তায়।

    স্কিড করে বিশ ফুট যাবার পর থামল গাড়ি। ঝট্ করে খুলে গেল ড্রাইভারের পাশের দরজা, বিএসএস চিফের পরিচিত অবয়বকে নেমে আসতে দেখল রানা। হন্তদন্ত হয়ে তিনি ছুটে গেলেন রাস্তায় কাত হয়ে পড়ে থাকা সোনিয়ার দিকে।

    ‘তোমার কোথাও লাগেনি তো?’ আন্তরিক কণ্ঠে জানতে চাইলেন লংফেলো। নিখাদ উদ্বেগ প্রকাশ পাচ্ছে তাতে!

    ‘হাঁটু ছড়ে গেছে,’ ফোঁপাতে ফোঁপাতে বলল সোনিয়া। ‘কিন্তু আমার জিনিসপত্র… ওহ্, কত কষ্ট করে জমিয়েছি ওগুলো…’

    ঘাড় ফিরিয়ে রাস্তার উপরে তাকালেন বিএসএস চিফ। ছেঁড়া কাপড়চোপড়, খালি টিন আর কাঁচের বোতল, পুরনো বইখাতা… এমন হরেক রকম জিনিস ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র। তাঁর চোখে জঞ্জাল, কিন্তু সন্দেহ নেই, গৃহহীন দরিদ্র মানুষের জন্য এগুলোই সাত রাজার ধন!

    ‘কোনও অসুবিধে নেই,’ নরম গলায় বললেন তিনি, ‘এসো, আমি সব কুড়িয়ে নিচ্ছি তোমাকে।‘

    ‘বড় ভাল মানুষ আপনি,’ একটু হাসি ফোটাল সোনিয়া ঠোঁটের কোনায়।

    ঝুঁকে রাস্তা থেকে জিনিসপত্র কুড়াতে শুরু করলেন লংফেলো, পায়ে পায়ে তাঁর পিছনে এসে দাঁড়াল সোনিয়া। সাবধানে পোশাকের আড়াল থেকে বের করে আনল একটা হাইপোডারমিক সিরিঞ্জ — চেতনানাশক ইঞ্জেকশন রয়েছে ওটার ভিতর।

    ‘মুভ!’ বিল্ডিঙের উপর থেকে কুয়াশাকে রেডিওতে নির্দেশ দিল রানা।

    ছায়া থেকে বেরিয়ে এল কুয়াশা। লম্বা লম্বা পা ফেলে হাঁটতে শুরু করল অ্যাস্টন-মার্টিনের দিকে। ওর অংশটা বেশ সহজ—দরজা খুলে উঠে পড়বে ড্রাইভিং সিটে, পিস্তল দেখাবে উইটিংহ্যামকে, তারপর গাড়ি চালিয়ে সোজা কেটে পড়বে ওখান থেকে। কিন্তু কয়েক পা এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে পাল্টে গেল পরিস্থিতি, দ্রুত ঘটতে শুরু করল ঘটনা।

    পিছনে সোনিয়ার উপস্থিতির ব্যাপারে সচেতন হয়ে উঠলেন মারভিন লংফেলো, ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় তারস্বরে বিপদসঙ্কেত দিতে শুরু করেছে। পাঁই করে ঘুরে দাঁড়ালেন। সিরিঞ্জটা তাঁর বাহুতে গেঁথে দেবার চেষ্টা করছিল সোনিয়া, তার আগেই খপ্ করে ধরে ফেললেন ওর কবজি। হাত মোচড়াল সোনিয়া, মুক্ত করতে চাইল নিজেকে, পারল না। বরং ঝাঁকি দিয়ে ওকে সিরিঞ্জ ফেলে দিতে বাধ্য করলেন বিএসএস চিফ। তারপর এক ঝটকায় ঘুরিয়ে ফেললেন লাটিমের মত, ওর পিঠ নিজের দিকে আসতেই পিছন থেকে জাপটে ধরে ফেললেন, ডানহাত মুচড়ে ধরেছেন পিঠের উপরে। ব্যথায় ককিয়ে উঠল সোনিয়া।

    ‘বিরাট ভুল করে ফেলেছ, মেয়ে,’ কঠিন গলায় বললেন লংফেলো। ‘কে তুমি?’

    বিনকিউলার দিয়ে সবই দেখতে পাচ্ছে রানা। ‘শিট!’ গাল দিয়ে উঠল ও। ‘সোনিয়া ধরা পড়ে গেছে!’

    কুয়াশাও দেখতে পেয়েছে। দাঁড়িয়ে পড়ল। দ্বিধান্বিত কণ্ঠে জানতে চাইল, ‘কী করব এখন?’

    ‘দাঁড়াবেন না! মি. লংফেলো ব্যাপারটা বুঝে ওঠার আগেই কেটে পড়ুন উইটিংহ্যামকে নিয়ে। সোনিয়াকে আমি দেখছি।’

    ছুটতে শুরু করল কুয়াশা। কপাল ভাল, এদিকে পিঠ দিয়ে রেখেছেন লংফেলো, ওকে দেখতে পাচ্ছেন না। আশপাশে নজর বোলাল, কৌতূহলী লোকজন জড়ো হতে শুরু করেছে রাস্তার দু’পাশে। হাতে সময় নেই।

    হ্যাণ্ডেল ঘুরিয়ে অ্যাস্টন-মার্টিনের দরজা খুলল কুয়াশা, লাফ দিয়ে উঠে পড়ল ড্রাইভিং সিটের পিছনে। নাইজেল উইটিংহ্যাম বসে আছেন যাত্রীর আসনে, মাথা ঘুরিয়ে হতভম্ব চোখে তাকালেন ওর দিকে। চেঁচাবার জন্য মুখ খুলে থেমে গেলেন, কুয়াশার পিস্তলের চকচকে কালো নল তাকিয়ে আছে তাঁর কপাল বরাবর।

    ‘একটুও আওয়াজ করবেন না! হিসিয়ে উঠল কুয়াশা। চুপচাপ বসে থাকুন।’ হাত বাড়াল ইগনিশনের দিকে

    ইঞ্জিন চালু করতে পারল না ও। তার আগেই দ্বিগ্বিদিক প্রকম্পিত হয়ে উঠল হাই-পাওয়ার রাইফেলের আওয়াজে। অ্যাস্টন-মার্টিনের উইণ্ডশিল্ড চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেল, উইটিংহ্যামের গলা দিয়ে বেরিয়ে এল কাতর আর্তনাদ।

    ছিটকে আসা কাঁচের টুকরোর মুখ-হাত কেটে গেছে কুয়াশার। ইনস্টিঙ্কটের বশে মাথা নামিয়ে ফেলল, ওখান থেকে তাকাল ফরেন সেক্রেটারির দিকে। দৃষ্টি বিস্ফারিত হয়ে আছে ভদ্রলোকের, বুকে বিশাল এক ক্ষত… গলগল করে রক্ত বেরুচ্ছে সেখান দিয়ে আবার গুলি হলো। সিটের উপর ঝাঁকি খেলো তাঁর দেহ, নতুন দুটো গর্ত সৃষ্টি হলে বুকে। তারপরই এলিয়ে পড়লেন উইটিংহ্যাম।

    রানা এসবের কিছুই দেখেনি, বিল্ডিঙের ছাত থেকে সিঁড়ি ধরে দ্রুত নেমে আসছে ও সোনিয়াকে সাহায্য করবার জন্য। গুলির আওয়াজ শুনে রেডিওতে চেঁচাল, ‘হচ্ছেটা কী, কুয়াশা?’

    ‘স্নাইপার!’ রুদ্ধশ্বাসে বলল কুয়াশা। ‘গুলি করছে আমাদের দিকে। উইটিংহ্যাম মারা গেছেন! আমরা একা নই, আরও কেউ অ্যামবুশ পেতেছে এখানে।’

    চমকে উঠল রানা। মস্ত ভুল করে ফেলেছে। লংফেলো আর ফরেন সেক্রেটারির পুরো যাত্রাপথে জর্জ স্ট্রিট-ই একমাত্র অ্যামবুশ-যোগ্য স্থান। কাজে নামার আগে এখানে আর কেউ ঘাপটি মেরেছে কি না, দেখা উচিত ছিল। কিন্তু এখন বড্ড দেরি হয়ে গেছে।

    ‘হায় খোদা!’ ফিস ‘সোনিয়া। মি. লংফেলো! ওদেরকে সরিয়ে নিতে হবে ওখান থেকে, কুয়াশা…!’

    ‘জানি,’ বলল কুয়াশা। ‘আমি দেখছি কী করা যায়।

    ইগনিশন ঘুরিয়ে অ্যাসটন-মার্টিনের ইঞ্জিন চালু করল ও। ব্যাক গিয়ার দিয়ে ধীরে ধীরে পিছাতে শুরু করল গাড়ি। চারদিকে তখন নরক ভেঙে পড়েছে। মুহুর্মুহু গুলির আওয়াজে কেঁপে উঠছে পুরো রাস্তা, দু’পাশে জড়ো হওয়া আতঙ্কিত মানুষ ছুটছে ঊর্ধ্বশ্বাসে।

    একের পর এক গুলিতে ফুটো হয়ে যাচ্ছে অ্যাসটন-মার্টিনের চেসিস, যতদূর সম্ভব পিছাল কুয়াশা, তারপর ব্রেক কষল। হামাগুড়ি দিয়ে চলে এল পিছনের সিটে। সেখান থেকে দরজা খুলে নেমে পড়ল রাস্তায়। মারভিন লংফেলো আর সোনিয়ার খোঁজে রাস্তার উপর নজর বোলাল, চমকে উঠল জড়াজড়ি করে রক্তাক্ত দুটো মানবদেহকে পড়ে থাকতে দেখে।

    ‘সোনিয়া! মি. লংফেলো!’ চেঁচিয়ে উঠে ওদের দিকে ছুটে গেল ও।

    নিথর হয়ে আছেন বিএসএস চিফ, শরীরের একপাশে গুলি লেগেছে, অঝোর ধারায় বেরিয়ে আসছে রক্ত। তাঁর নীচে চাপা পড়েছে সোনিয়া, ধস্তাধস্তি করছে বেরিয়ে আসার জন্য। ওকে সাহায্য করল কুয়াশা, টান দিয়ে নিয়ে এল গাড়ির পিছনে।

    ‘গুলি লেগেছে তোমার?’ মেয়েটার রক্তে ভেজা কাপড়ের দিকে তাকিয়ে উদ্বিগ্ন কণ্ঠে জানতে চাইল ও।

    ‘ন্‌… না,’ কাঁপতে কাঁপতে বলল সোনিয়া। ‘এগুলো মি. লংফেলোর রক্ত। গুলি শুরু হতেই আমাকে ছেড়ে দিয়ে গাড়ির দিকে এগোতে শুরু করেছিলেন, তখনই গুলি খেয়েছেন… ছিটকে পড়েছেন আমার গায়ে।’

    হতাশায় দাঁত পিষল কুয়াশা। রেডিওতে বল্ল, ‘রানা, আমাদের সাহায্য দরকার! কোথায় তুমি?’

    দশ সেকেণ্ডের মধ্যে পৌঁছুচ্ছি,’ সিঁড়ির ধাপ টপকাতে টপকাতে জানাল রানা।

    ওর কথা শেষ হতেই রাস্তার মাথায় কালো একটা ভ্যানকে উদয় হতে দেখল কুয়াশা। ঝড়ের বেগে এগিয়ে আসছে। কাছাকাছি পৌঁছে ব্রেক কষল, থামল একেবারে ওদের পাশে এসে। ঝটপট খুলে গেল সাইড-ডোর। স্নাইপারের গুলি থেমে গেল, স্কি-মাস্ক পরা ষণ্ডামার্কা চারজন লোক করে এল ভ্যান থেকে, ঝাঁপিয়ে পড়ল কুয়াশা আর সোনিয়ার উপর।

    বিল্ডিং থেকে বেরিয়ে রানা দেখল, জোর-জবরদস্তি করে ওদেরকে ওঠানো হচ্ছে ভ্যানে। চেঁচিয়ে উঠল ও, শোল্ডার হোলস্টার থেকে সিগ-সাওয়ার বের করে ছুটল বাধা দিতে। সঙ্গে সঙ্গে গর্জে উঠল সুইপারের রাইফেল। রানার পায়ের কাছে রাস্তার অ্যাসফল্টে মাথা কুটল বুলেট। ঝাঁপ দিল রানা, এক গড়ান দিয়ে সোজা করল পিস্তল। কোত্থেকে গুলি করা হচ্ছে, জানে না; আন্দাজের উপর ভর করে দু’বার ট্রিগার চাপল।

    কাজ হলো না ওতে। আবারও গুলি চালাল আততায়ী। মুখের কাছে ছিটকে ওঠা অ্যাসফল্টের গুঁড়োয় দৃষ্টি আচ্ছন্ন হয়ে গেল, পিছাতে বাধ্য হলো রানা। পেভমেন্টের উপর দাঁড়িয়ে থাকা মেইলবক্সের পিছনে আশ্রয় নিল ও। ওখান থেকে তাকাল ভ্যানের দিকে। ধস্তাধস্তি করে চার প্রতিপক্ষের সঙ্গে পেরে ওঠেনি কুয়াশা আর সোনিয়া, ওদেরকে তুলে ফেলা হয়েছে ভিতরে। দরজা বন্ধ হয়ে গেল, টায়ার পুড়িয়ে সবেগে আগে বাড়ল ভ্যান : সিগ-সাওয়ার তুলে ওটার চাকার দিকে গুলি করল রানা, লাগাতে পারল না। হতাশায় ছেয়ে গেল অন্তর।

    হঠাৎ থেমে গেল গোলাগুলি। আতঙ্কিত মানুষের চিৎকার-চেঁচামেচি ছাড়া আর কোনও আওয়াজ নেই এখন। কাজ শেষ করে স্নাইপারও সম্ভবত পাততাড়ি গোটাতে শুরু করেছে। ভ্যান সরে যাওয়ায় রাস্তাতে পড়ে থাকা রক্তাক্ত দেহটা চোখে পড়ল রানার। বুকটা ধক্ করে উঠল।

    আড়াল ছেড়ে বেরিয়ে এল ও। পাগলের মত ছুটে গেল বিএসএস চিফের দিকে। তাড়াতাড়ি চেক করল পালস্। বেঁচে আছেন লংফেলো, কিন্তু নাড়ির গতি অতি মন্থর। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ তাঁর জীবনীশক্তি কেড়ে নিতে শুরু করেছে। আঘাত পরীক্ষা করল রানা–বুকের ডান পাশে লেগেছে গুলি, একটুর জন্য মিস করেছে হৃৎপিণ্ড তার ফুসফুস পাংচার হয়ে গেছে। পকেট থেকে রুমাল বের করে ক্ষতস্থানে গুঁজে দিল রানা, গা থেকে নিজের কোট খুলে পেঁচাল লংফেলোর শরীরে, গিঁঠ দিল রুমালের উপরে। রক্তপাত থামানোর চেষ্টা।

    প্রাথমিক আতঙ্ক কেটে গেছে পথচারীদের মধ্য থেকে। ধীরে ধীরে ভিড় জমাতে শুরু করেছে তারা রানা আর লংফেলোর কাছে।

    ‘অ্যাম্বুলেন্সের জন্য খবর দিন, প্লিজ!’ চেঁচাল রানা জনতার দিকে তাকিয়ে। ‘হাসপাতালে নিতে হবে এঁকে

    হাত-পা কাঁপছে ওর, পরিষ্কারভাবে চিন্তা করতে পারছে না কিছু। পিছনে সাইরেনের আওয়াজ শুনল—পুলিশ না অ্যাম্বুলেন্স কে জানে, ঘাড় ফিরিয়ে তাকাল না। কোলের মধ্যে জাপটে ধরে রেখেছে মারভিন লংফেলোর নিস্পন্দ দেহ। হঠাৎ খেয়াল করল, সভয়ে পিছাতে শুরু করেছে লোকজন। কী ব্যাপার দেখার জন্য ঘাড় ফেরাতে শুরু করল, কিন্তু মাথা পুরোপুরি ঘোরার আগেই ঘাড়ের উপর পড়ল প্রচণ্ড এক রদ্দা।

    মাথা ঝিমঝিম করে উঠল রানার, কাত হয়ে পড়ে গেল একপাশে। দু’জোড়া শক্তিশালী হাত দু’পাশ থেকে চেপে ধরল ওকে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যেতে শুরু করল অপেক্ষমাণ গাড়ির দিকে। পিছনের দরজা খুলে তাতে ওঠানো হলো ওকে

    ‘সুইট ড্রিমস্‌, মি. রানা!’ বলে উঠল খসখসে একটা কণ্ঠ । পরমুহূর্তে চোয়াল বরাবর আরেকটা ঘুসি খেলো ও। দুনিয়া আঁধার হয়ে গেল চোখের সামনে!

    .

    গাড়ির মৃদু ঝাঁকিতে অনেকক্ষণ পর চোখ মেলল রানা। উল্টোদিক থেকে পার হতে থাকা বেশ কয়েকটা হেডলাইট চোখে পড়ল ওর, নিজেকে আবিষ্কার করল পুলিশ কারের পিছনের সিটে, হ্যাওকাফ পরা অবস্থায়, অস্ত্র-শস্ত্র সব কেড়ে নেয়া হয়েছে। ফ্রন্টসিট আর ব্যাকসিটের মাঝখানে রয়েছে লোহার নেট, তার ওপাশে একা বসেছে ড্রাইভার। ইউনিফর্মধারী দ্বিতীয় পুলিশ বসে আছে ওর পাশে।

    ‘ওয়েলকাম ব্যাক,’ নীরস গলায় বলে উঠল লোকটা।

    ঘাড় ফেরাতেই তার রিভলভারের নল দেখতে পেল রানা, তাক করে রাখা হয়েছে ওর দিকে। আলোছায়ার মাঝে ঠিকমত বোঝা যাচ্ছে না লোকটার চেহারা। তবে কণ্ঠটা চেনা। নাইটসব্রিজের রেস্টুরেন্টে এই কণ্ঠই শুনেছিল টেলিফোনে

    ‘স্মিথ, রাইট?’ বলল রানা।

    হাসল লোকটা। ‘আপনার স্মৃতিশক্তির প্রশংসা করছি, মি. রানা। তবে এটা আমার আসল নাম নয়।’

    ‘বুঝতে পারছি, সিটের উপর সোজা হয়ে বসল রানা। ‘ইউনিফর্ম থেকে নেমপ্লেট খুলে রেখেছ এজন্যেই।

    ‘আপনার নজর চোখা, মি. রানা।’

    ‘কোথায় যাচ্ছি আমরা?’ রানা জানতে চাইল।

    ‘এ-মুহূর্তে আপনাকে পুলিশ হেডকোয়ার্টারে নিয়ে যাবার নির্দেশ দেয়া হয়েছে আমাদেরকে। জিভ দিয়ে চুক চুক শব্দ করল স্মিথ। ‘খুব খারাপ একটা কাজ করেছেন আপনি, মি. রানা। গ্রেট ব্রিটেনের ফরেন সেক্রেটারিকে খুন করেছেন… গুলি চালিয়েছেন ব্রিটিশ সিক্রেট সার্ভিসের চিফের উপরেও।

    প্রতিবাদ করল না রানা। বোঝা যাচ্ছে, নতুন করে ওকে ফাঁসাবার চেষ্টা করছে ফেনিস। শুধু প্রশ্ন করল, ‘মি. লংফেলো…’ উনি বেঁচে আছেন?

    ‘এখন পর্যন্ত… হ্যাঁ। কপাল ভাল, ঠিক সময়ে অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছে গেছে তাঁর কাছে। তবে শেষ পর্যন্ত টিকবেন কি না, এখুনি বলা যাচ্ছে না।

    ‘আর আমার বন্ধুরা?’

    ‘কুয়াশা আর ওই মেয়েটা? ওরাও বেঁচে আছে, একটা বিমানে তুলে দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ওদেরকে। আপনি যতক্ষণ আমাদের সহযোগিতা করবেন, ততক্ষণ আয়ু থাকবে ওদের।’

    ‘সহযোগিতা?’

    ‘এখনও শ্বাস ফেলছেন দেখে বুঝতে পারছেন না সেটা? কেউ একজন আপনাকে জীবিত দেখতে চায়।

    ‘কী চায় সে আমার কাছে?’

    ‘আমার জানা নেই। আমরা খুবই নীচের লেভেলের লোক। স্রেফ একটা নির্দেশ নিয়ে এসেছি আপনার জন্য।’

    ‘কী নির্দেশ?’

    ‘আমেরিকায় যেতে হবে আপনাকে। ম্যাসাচুসেটসে…ওখানকার বিশেষ একটা শহরে। আমার ধারণা, শহরের নাম আপনি জানেন।‘

    ‘বস্টন?’ বলল রানা। ‘কেন?’

    ‘ওই বিশেষ মানুষটি দেখা করতে চান আপনার সঙ্গে। রিটজ্ কার্লটন হোটেলে উঠবেন…. সোমনাথ চ্যাটার্জি নামে। ক্লিয়ার?’

    ‘তারমানে পুলিশ হেডকোয়ার্টারে যাওয়া হচ্ছে না আমার?’

    ‘উঁহুঁ। একটু পরে গাড়ি থামাব আমরা, আপনি নেমে যাবেন।’

    ‘ফরেন সেক্রেটারির খুনিকে ছেড়ে দিচ্ছ, ওপরঅলার কাছে কী জবাব দেবে?’

    ‘ওসব নিয়ে আমাকে মাথা ঘামাতে দিন। গল্প সাজানোয় আমি একটা ছোটখাট প্রতিভা… মেটেরিয়াল এভিডেন্সও পয়দা করতে জানি। লোকে চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করবে—কৌশল খাটিয়ে পুলিশের গাড়ি থেকে পালিয়ে গেছেন আপনি।

    ‘কিন্তু পুরো ব্রিটেনে আমার নামে হুলিয়া জারি হবে। আমেরিকায় যাব কীভাবে?’

    মুখ বাঁকাল স্মিথ। ‘এ-ব্যাপারে কিছুই করার নেই আমাদের। তবে আপনি বুদ্ধিমান লোক, একটা না একটা ব্যবস্থা ঠিকই করে ফেলবেন। আমি শিয়োর! একটা কথা মনে রাখুন, আগামী আটচল্লিশ ঘণ্টার মধ্যে যদি বস্টনে না পৌঁছান, তা হলে মারভিন লংফেলো, কুয়াশা, আর ওই মেয়েটা… সবাই মারা যাবে।’

    চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল রানার। ‘একটা প্রশ্ন করব? মি. লংফেলো আর নাইজেল উইটিংহ্যাম যে ওই রাস্তায় যাবেন, তা কীভাবে জেনেছ তোমরা?’

    ‘নিজেকে যতটা বুদ্ধিমান ভাবেন আপনি, মি. রানা, আসলে তা. নন,’ তাচ্ছিল্যের সুরে বলল স্মিথ। বিএসএস চিফ স্ক্র্যাম্বলড় লাইনে ফোন করেন, তাতে কথা বোঝা যায় না, কিন্তু কোথায় ফোন করছেন না করছেন, তা ঠিকই ট্রেস করা যায়। আজ সন্ধ্যায় আপনাকে কনৌট হোটেলে ফোন করেছিলেন তিনি, সম্ভবত মিটিঙের ব্যাপারটা কনফার্ম করতে। উইটিংহ্যাম নিজেই আমাদেরকে ওই মিটিঙের ব্যাপারে জানিয়েছেন। মারভিন লংফেলোর নাম শুনে আমরা বুঝতে পারি, আসলে ওঁর মাধ্যমে আপনিই দেখা করতে চাইছেন করেন সেক্রেটারির সঙ্গে। উপর থেকে তাই নির্দেশ দেয়া হয়েছিল, কিছুতেই তাঁকে আপনার হাতে পড়তে দেয়া যাবে না। তাই মি. উইটিংহ্যামকে সরিয়ে দেবার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। রুটের সবচেয়ে সুবিধাজনক জায়গায় আক্রমণ চালিয়েছি আমরা; ওখানে আপনাকেও পেয়ে যাব, তা ভাবিনি। তবে… ফরচুন ফেভারস্ দ্য ব্রেভ, এ-কথা কে না জানে!’

    ‘শটগুলো কে নিয়েছে?’ রানার গলা থম থম করছে।

    ‘আজ্ঞে… আমি!’ একগাল হাসি দিয়ে বলল স্মিথ। ‘প্ল্যানটা চমৎকার না? গুলি চালালাম, তারপর আবার তড়িৎগতিতে রেসপণ্ড করলাম অকুস্থলে… কে সন্দেহ করবে, বলুন?’

    নির্জন একটা রাস্তায় এসে পড়েছে পুলিশ কার। গতি কমিয়ে রাস্তার পাশে, একটা গাছের তলায় থামল ড্রাইভার। বলল, ‘এটাই ভাল জায়গা।‘

    জানালা দিয়ে বাইরে তাকাল স্মিথ। বড় একটা পার্ক দেখা যাচ্ছে, ভিতরটা অন্ধকারে ছাওয়া। ওখান দিয়ে সহজেই কেটে পড়তে পারবে রানা। সন্তুষ্ট গলায় বলল, ‘হ্যাঁ, পারফেক্ট।’ রানার, দিকে ফিরল। ‘এবার আপনাকে যেতে হয়, মি. রানা। আর বোধহয় কোনোদিন দেখা হবে না আমাদের। বিদায়।

    চাবি নিয়ে একহাতে রানার হ্যাণ্ডকাফ খুলতে শুরু করল সে।

    ‘একটা বিষয় পরিষ্কার করে নিতে চাই,’ নির্বিকার ভঙ্গিতে ‘বলল রানা। ‘বললে তোমরা লোয়ার লেভেলের লোক। তারমানে গুরুত্বহীন, রাইট? তোমাদের বাঁচামরায় কিছু আসে-যায় না ফেনিসের, আমার বন্ধুদের উপর প্রভাব পড়বে না তার।’

    ভুরু কোঁচকাল স্মিথ। ‘এ-কথা কেন বলছেন?’

    ‘এ-জন্য!’ হ্যাণ্ডকাফ খুলে গেছে, সাপের মত ছোবল দিল রানার দু’হাত। বাঁ হাতে লোকটাকে চেপে ধরল সিটের উপর, ডান হাতে খামচে ধরল পিস্তল-ধরা হাতটার মুঠি। অস্ত্রটা কেড়ে নেবার চেষ্টা করল না, তার বদলে তর্জনী ঢুকিয়ে দিল ট্রিগার গার্ডের ভিতরে। পিস্তলটা ড্রাইভারের দিকে ঘোরাল, স্মিথের আঙুলের উপর দিয়েই চেপে দিল ট্রিগার।

    গাড়ির বদ্ধ জায়গায় বোমা ফাটার মত আওয়াজ হলো, নেটের ফাঁক দিয়ে চলে গেল বুলেট, ড্রাইভারের মাথার খুলির পিছনটা উড়ে গেল। একরাশ রক্ত আর মগজ ছিটিয়ে স্টিয়ারিঙের উপর এলিয়ে পড়ল তার শরীরের ঊর্ধ্বাংশ।

    হতভম্ব হয়ে গেছে স্মিথ, হাত ঘুরিয়ে রানা পিস্তলটা তার থুতনিতে ঠেকাতেই বাস্তবে ফিরে এল। দু’চোখের তারায় দেখা দিল আতঙ্ক।

    ‘প্লিজ, মি. রানা!’ ফ্যাসফেঁসে গলায় অনুনয় করল সে। ‘আমি স্রেফ হুকুমের দাস…’

    ‘আর আমি প্রতিহিংসার,’ আবেগহীন গলায় বলল রানা। ‘এটা মি. লংফেলোর জন্য।’ ট্রিগার চেপে দিল ও।

    চোয়ালের নীচ দিয়ে ঢুকল বুলেট, মগজ ভেদ করে… খুলির উপরের অংশ বিস্ফোরিত করে বেরুল। রানার মুখ-হাত ভিজে গেল তাজা রক্তে! স্মিথের নিথর মুঠি থেকে পিস্তলটা মুক্ত করে নিল ও। নিল নিজের সিগ-সাওয়ারটাও। ওটা লোকটার কোমরে গোঁজা ছিল। লাশের দিকে তাকাল না… তাকাল না আশপাশে কেউ আছে কি না, সেসব দেখার জন্যও।

    গাড়ি থেকে নেমে পার্কের অন্ধকারে মিশে গেল রানা।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমাসুদ রানা ০২৯-৩০ – রক্তের রঙ (দুই খণ্ড একত্রে)
    Next Article মাসুদ রানা ৪১২ – সেই কুয়াশা (প্ৰথম খণ্ড)

    Related Articles

    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৩৮৫-৩৮৬ – হ্যাকার (দুই খণ্ড একত্রে)

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫৬ – টপ টেরর

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫৪ – নরপশু

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫৩ – ধর্মগুরু

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫২ – কালো কুয়াশা

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫১ – মায়া মন্দির

    July 22, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }