Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মাসুদ রানা ৪১৩ – সেই কুয়াশা (দ্বিতীয় খণ্ড)

    কাজী আনোয়ার হোসেন এক পাতা গল্প322 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সেই কুয়াশা ২.২

    দুই

    সন্ধ্যার ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় ভিলা দেস্তে-র জাঁকজমক একবিন্দু কমেনি। আলোকসজ্জায় ঝলমল করছে পুরো এস্টেট। জ্বেলে দেয়া হয়েছে ফ্লাডলাইট—খাড়া ঢাল বেয়ে নামা ঝর্ণার পানি ঝিকমিকিয়ে উঠছে বহুমূল্য হীরকখণ্ডের মত। বড় বড় পুলগুলোর মাঝখানে মাথা তুলে রেখেছে ফোয়ারা, ছাতার আকৃতি নিয়ে ছড়িয়ে পড়ছে চারদিকে। বানানো হয়েছে কৃত্রিম জলপ্রপাত, সেই পানি আছড়ে পড়ছে প্রাচীন একগুচ্ছ বাগান-ভাস্কর্যের সামনে। পানির ছিটেয় চকচক করছে পাথুরে মূর্তির ভেজা শরীর। আজকের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে এস্টেটের বাগান, নিষিদ্ধ করা হয়েছে সাধারণ জনতা এবং টুরিস্টদের ঘোরাফের’ : প্রবেশাধিকার পেয়েছেন কেবল সমাজের মানী-গুণী ব্যক্তিরা : অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য হিসেবে কাগজে-কলমে এই ঐতিহাসিক এস্টেট ও বাগানের সংস্কার কাজের জন্য ফাণ্ড জোগাড়ের বাহানা দেয়া হয়েছে; কিন্তু ভিতরে ঢুকলে বোঝা যায়—আসলে বাছাই করা একদল মানুষের মনোরঞ্জনই আজ সন্ধ্যার মূল লক্ষ্য। ভুল বলেনি লুচিনি, পুরো রোম আজ হাজির হয়েছে ভিলা দেস্তে-তে। সাধারণ মানুষের রোম নয়… টাক্সিডোর ভেলভেট ল্যাপেল স্পর্শ করে ভাবল রানা… ধনীদের রোম।

    এস্টেটের মূল ফটকে গাড়ি থামাল ও। দু’জন ইউনিফর্ম পরা গার্ড এগিয়ে এল; দেখতে চাইল আমন্ত্রণপত্র। খোলা জানালা দিয়ে এনভেলাপে ভরা দুটো কার্ড বের করে দিল রানা। অতিথিদের তালিকা পরীক্ষা করছে গার্ডরা, রানা আর সোনিয়া সত্যি আমন্ত্রিত অতিথি কিনা নিশ্চিত হতে চাইছে। ‘তালিকায় নাম আছে দেখে হলদেটে চেহারায় হাসি ফুটল, কুর্নিশ করবার ভঙ্গিতে মাথা নোয়াল, তারপর রিমোট ট্রান্সমিটারে চাপ দিয়ে খুলে দিল গেট। গাড়ি নিয়ে লম্বা পথটুকু দ্রুত পেরিয়ে এল রানা, থামল ভিলার পোর্টিকোর নীচে।

    সোনিয়াকে দেখে মনে হলো কিশোরী একটা মেয়ে তাজমহল দেখতে এসেছে। ‘এত বড় পার্টিতে আগে কখনও আসিনি আমি। তোমাকে না বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে দিই।

    ‘ফেলবে না,’ আশ্বস্ত করল রানা। ‘নিজেকে বোঝাও, এটা স্রেফ একটা সামাজিক নাটক। রোমের এলিট-রা এ-ধরনের পার্টিতে আসেন, কারণ, হয় তাঁরা কিছু বিক্রি করতে চান, নয়তো কিছু কিনতে। হাস্য-রসাত্মক কথাবার্তা হবে, মদ্যপান চলবে, চালচলনে নিজেকে প্রভাবশালী হিসেবে জাহির করবার চেষ্টা থাকবে, তারই ফাঁকে চলবে তথ্য বিনিময়।’

    ‘বোঝা যাচ্ছে, তুমি বহুবার এ-রকম পার্টিতে এসেছ।

    মুচকি হাসল রানা, গাড়ি থেকে নেমে ভ্যালে-র হাতে চাবি- ধরিয়ে দিল। তারপর সোনিয়াকে নিয়ে পা বাড়াল ভিলার ভিতরে।

    কোর্টইয়ার্ডের আদলে সাজানো হয়েছে ভিলার বৃহদায়তন হলঘর। পুরো কামরা জুড়ে বসানো হয়েছে ব্যাঙ্কোয়েট টেবিল, রয়েছে সোনার গিল্টি করা চেয়ারের সারি, দেয়াল ঢাকা পড়েছে নানা রঙের রেশমি পর্দায়। দামি পোশাক-আশাকে সজ্জিত মানুষেরা ভিড় জমিয়েছে সেখানে। মহিলাদের নাক-কান-গলায় শোভা পাচ্ছে সোনা-রূপা আর হীরার সমাহার, পুরুষদের পরনে দামি টাক্সিডো আর কোমরবন্ধনী। টাক পড়তে থাকা মাথা, ধূসর চুল আর হাতে দামি সিগার নিয়ে ক্ষমতা আর প্রতিপত্তির নীরব প্রদর্শনী করছে তারা। এককোণে রয়েছে অর্কেস্ট্রা—জনাবিশেক মিউজিশিয়ান ধীর লয়ে বাজিয়ে যাচ্ছে পরিবেশের সঙ্গে মানানসই সঙ্গীত

    এতসব মানুষের মাঝে আলাদা জৌলুস নিয়ে হাজির হয়েছে সোনিয়া। গলায় বা হাতে কোনও অলঙ্কার নেই ওর, তার কোনও প্রয়োজনও পড়েনি। ব্রোঞ্জের মত রঙ আর মাখনের মত কোমল ত্বক-ই ওর অলঙ্কার। পরেছে সোনালি বর্ডারের একটা সাদা গাউন, তাতে পদ্মফুলের মত লাগছে ওকে। মুখের কালসিটে আর ফোলাভাব কমে গেছে ইতিমধ্যে, সানগ্লাসও পরতে হয়নি। পুরো কামরায় ওকে সবচেয়ে সুন্দরী বললে অত্যুক্তি হয় না মোটেই যে-ই তাকাচ্ছে, তারই চোখ আটকে যাচ্ছে ওর উপর।

    রহস্যময় মি. রঘুনাথ সাপের বান্ধবী হিসেবে পরিচয় দেয়া হয়েছে সোনিয়ার, এসেছে লেক কোমো থেকে। কাভারটা চমৎকার, ওই এলাকা ভূমধ্যসাগরীয় ধনীদের প্রমোদরাজ্য হিসেবে বিখ্যাত। লুচিনির কাজে কোনও খুঁত নেই। অতিথিদের আগ্রহ জাগাবার মত যথেষ্ট তথ্য সরবরাহ করেছে, সেটা আবার এমন নয় যে কারও মনে খুঁতখুঁতানির সৃষ্টি হবে। প্রত্যাশিত ভঙ্গিতেই বেশ কিছু মানুষ এগিয়ে এল রানার দিকে, খাতির জমাবার চেষ্টা করল। তাদেরকে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি-বাণিজ্য সংক্রান্ত কিছু মূল্যবান উপদেশ খয়রাত করে সন্তুষ্ট রাখল ও, তারপর পাশ কাটিয়ে চলে এল সোনিয়াকে নিয়ে।

    শ্যাম্পেনের গ্লাসে চুমুক দিতে দিতে নজর বোলাল রানা, চারদিকে। অল্পক্ষণেই খুঁজে বের করে নিল কাউন্ট মার্সেলো বিয়াঞ্চিকে। এই প্রথম দেখছে, তারপরেও চিনতে কষ্ট হলো না। হলঘরের এক কোণে দাঁড়িয়ে স্বর্ণকেশী দুই যুবতীর সঙ্গে খোশগল্প করছে কাউন্ট, কথার ফাঁকে চঞ্চল দৃষ্টি বোলাচ্ছে অন্যান্য অতিথিদের উপর। লম্বা, একহারা দেহ; তীক্ষ্ণ চেহারা; কপালের দু’পাশের চুলে পাক ধরতে শুরু করেছে। কোটের ল্যাপেলে শোভা পাচ্ছে বহুরঙা রিবন, কোমরে বেঁধেছে একটা সোনালি স্যাশ। রিবনের গুরুত্ব যদি কেউ না-ও বোঝে; সোনালি কাপড়টা দেখে বুঝে নেবে তা। পুরো অনুষ্ঠানে একমাত্র কাউণ্ট বিয়াঞ্চি-ই পরেছে ওই জিনিস—প্রকাশ করছে আপন আভিজাত্য এবং অনুষ্ঠানের হোস্ট হিসেবে নিজের পদবী। পঞ্চাশোর্ধ মানুষটা রোমের সর্বোচ্চ সমাজের মূর্ত প্রতীক

    ‘কোথায় পাবে কাউণ্টকে?’ ফিসফিসিয়ে পাশ থেকে জানতে চাইল সোনিয়া

    ‘অলরেডি পেয়ে গেছি,’ বলল রানা। ‘ওই তো

    ‘ওই ভদ্রলোক?’ ওর দৃষ্টি অনুসরণ করে হলঘরের কোনায় তাকাল সোনিয়া। একটু পর মাথা ঝাঁকাল। ‘হ্যাঁ, ঠিকই বলেছ। পেপারে দেখেছি আমি ওঁর ছবি। কী করবে? এগিয়ে গিয়ে পরিচিত হতে চাও?’

    ‘মনে হয় না তার কোনও প্রয়োজন আছে। যদি ভুল করে না – থাকি, কাউণ্টই আমাকে খুঁজছে।’ হাতের ইশারা করল রানা। চলো, ব্যাঙ্কোয়েট টেবিলের ওপাশটায় চলে যাই। আমাদেরকে দেখতে পাবে তা হলে।’

    নাহয় দেখল… চিনবে কীভাবে?’

    ‘পুরো হলঘরে আমিই একমাত্র ভারতীয় চেহারার লোক। তারপরেও যদি খেয়াল না করে, অন্তত তোমাকে খেয়াল করতে বাধা।’

    ‘বলেছে তোমাকে!’ মুচকি হাসল সোনিয়া।

    হাসি মুখে ওকে নিয়ে টেবিলের দিকে এগোল রানা। বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হলো না, একটু পরেই পিছনে গমগম করে উঠল ভরাট গলা।

    ‘সেনিয়র সাপ্রে, আই বিলিভ?’

    ধীরে ধীরে পিছন ফিরল রানা। চেহারায় গোবেচারা ভাব ফুটিয়ে জানতে চাইল, ‘মাফ করবেন, আমরা কি পূর্ব-পরিচিত?’

    হেসে উঠল কাউণ্ট। বলল, জী না, তবে পরিচয়টা গাঢ় হতে সময় লাগবে না।’ হাত বাড়িয়ে দিল করমর্দনের জন্য। ‘আমি বিয়াঞ্চি…. মার্সেলো বিয়াঞ্চি।’ উপাধিটা উহ্য রাখল বুঝি গুরুত্ব বাড়াবার জন্যই। আপনার দেখা পেয়ে অত্যন্ত খুশি হলাম, সেনিয়র সাপ্রে!

    ও! আপনিই সেই বিখ্যাত কাউন্ট বিয়াঞ্চি? বিস্মিত হবার ভান করে হাত মেলাল রানা। ‘লুচিনিকে বলেছিলাম, এখানে এলে আপনার সঙ্গে অবশ্যই দেখা করে যাব। আপনিই তো দেখি খুঁজে নিলেন আমাকে! চিনেছেন কীভাবে?’

    কাউন্টের মুখের হাসি বিস্তৃত হলো, ঝিকমিকিয়ে উঠল মুক্তোর মত সাদা দাঁতের পাটি। ‘লুচিনি কাজের লোক, তবে খানিকটা দুষ্টুও বটে। এই সিনোরিনাকে নিয়ে যেভাবে উচ্ছ্বাস দেখাল…… সোনিয়ার দিকে ইশারা করল সে, ‘…তাতে বুঝতে পারলাম, পার্টির সবচেয়ে সুন্দরী মহিলাটিকে খুঁজে বের করলে আপনাকেও পাওয়া যাবে।’

    ‘ওফফো, আপনাদের তো পরিচয় করিয়ে দিইনি,’ সোনিয়ার বাহুতে হাত রাখল রানা। কাউন্ট বিয়াঞ্চি, এ হলো আমার বান্ধবী… সোনিয়া। লেক কোমো থেকে এসেছে।’

    ‘আ প্লেজার!’ ঝুঁকে সোনিয়ার হাতের উল্টোপিঠে চুমো খেল কাউণ্ট। ‘এমন রূপ সচরাচর চোখে পড়ে না।’

    ‘প্লিজ, সেনিয়র!’ কপট হাসি দিয়ে বলল সোনিয়া। আপনি আমাকে লজ্জা দিচ্ছেন!’

    মনে মনে ওর প্রশংসা করল রানা। সুন্দর অভিনয়!

    রানার দিকে ফিরল বিয়াঞ্চি। ‘আপনার কাছে ক্ষমা চাইছি, সেনিয়র সাপ্রে। শুনলাম আমার বন্ধুরা নাকি মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক নানা রকম প্রশ্ন করে আপনাকে বিরক্ত করেছে?’

    না, না, ক্ষমা চাইবার কিছু নেই,’ মাছি তাড়াবার ভঙ্গিতে হাত নাড়ল রানা। ‘লুচিনির আরেকটু সতর্ক হওয়া উচিত ছিল। তবে… আমার পেশা জানার পর লোকে কৌতূহলী হয়ে ওঠে-ই! এতে আমি অভ্যস্ত।’

    ‘বলতে বাধ্য হচ্ছি, আপনি অত্যন্ত ধৈর্যশীল মানুষ।’

    ‘ওটা আসলে কঠিন কিছু না। তবে লোকে যতটা ভাবে, অতটা জ্ঞান আমার থাকলে মন্দ হতো না। এমনিতে আমি শুধু নিয়োগকর্তাদের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করি; তাঁদেরকে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সাহায্য করি না

    ‘কিন্তু ওসব সিদ্ধান্তের মাঝেও তো জানার মত অনেক কিছু থাকে, তাই না?’

    ‘তা তো বটেই। নইলে কী আর কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা জলাঞ্জলি দিচ্ছেন শেখ-রা।’

    ‘জলাঞ্জলি? সুন্দর উপমা দিয়েছেন।’ একটু যেন গম্ভীর হলো বিয়াঞ্চি। ‘কেন যেন মনে হচ্ছে, আপনাকে আগে কোথাও দেখেছি আমি, সেনিয়র সাপে –

    আচমকা এ-প্রশ্নে ঘাবড়াল না রানা। এমন পরিস্থিতির জন্য মনে মনে প্রস্তুতি নিয়ে এসেছে ও। হালকা গলায় তাই বলল, ‘দেখা হলে অবশ্যই মনে থাকত আমার। তবে… কোনও এম্বাসির পার্টিতেও দেখে থাকতে পারেন। হয়তো কথা হয়নি…..

    ‘এম্বাসি সার্কেলে নিয়মিত আসা-যাওয়া আছে আপনার?’

    ‘উঁহুঁ। শুধু পার্টিতে যাই… তাও আবার শেষ মুহূর্তের গেস্ট হিসেবে। কী আর বলব, মাঝে মাঝে লোকের মনে নানা রকম প্রশ্ন জাগে; সেগুলোর জবাব খোঁজার জন্য আমাকে ডেকে নিয়ে যায় তারা। এই আর কী! কিছু তো আর বলতে পারি না, মাঝখান থেকে বিনে পয়সায় খাওয়া-দাওয়া হয়ে যায়।’

    আজকালকার যুগে যুদ্ধজয়ের জন্য… সে যে যুদ্ধই হোক না কেন… তথ্যই সবচেয়ে বড় অস্ত্র। আপনি সে-অস্ত্র লুকিয়ে রাখছেন, সেনিয়র।’

    ‘কী যে বলেন! আমি যুদ্ধ-টুদ্ধ বুঝি না। স্রেফ জীবিকা নির্বাহ করছি।’

    ‘কোনকিছু জানার জন্য চাপাচাপি করব না আপনাকে, ঠোঁটের কোনা বাঁকা করল বিয়াঞ্চি। ‘আমার বিশ্বাস, আপনি অত্যন্ত পাকা বিক্রেতা। লাভক্ষতির হিসেব ছাড়া জিনিস বের-ই করবেন না।’

    ‘শুনে দুঃখ পেলাম,’ গলার সুর বদলে বলল রানা, যাতে ইটালিয়ান কাউন্ট পরিবর্তনটা ধরতে পারে। আপনার সঙ্গে কিছুক্ষণ আলাপ করবার ইচ্ছে ছিল আমার।’

    ‘তা-ই?’ আগ্রহ ‘ফুটল বিয়াঞ্চির কণ্ঠে। ইয়ে … সিনোরিনা আবার ব্যবসায়িক আলাপ শুনে বিরক্ত হবেন না তো?’

    ‘আলোচনার সময় ও না থাকলেও চলে। বিকল্প ব্যবস্থা যদি করা যায়…’

    ‘আর কিছু বলতে হবে না।’ হাত তুলে কালো চুলের এক যুবককে ডাকল বিয়াঞ্চি। কাছে এলে পরিচয় করিয়ে দিল, ‘এ হলো আমার ব্যক্তিগত সহকারী – পিয়েত্রো। সিনোরিনার দিকে নজর রাখবে ও।’ সহকারীর দিকে ফিরল, ‘খেয়াল রেখো, ওঁর যেন অসুবিধে না হয় কোনও।’ তারপর তাকাল সোনিয়ার দিকে। ‘চাইলে নাচতে পারেন, সিনোরিনা। পিয়েত্রো খুব ভাল ড্যান্সার।’.

    মাথা ঝুঁকিয়ে বাউ করল যুবক, এক হাত বাড়িয়ে দিল সোনিয়ার দিকে। মৃদু হেসে সেটা গ্রহণ করল ও। এক পা এগিয়ে ঘাড় ফেরাল রানা আর কাউন্ট বিয়ার্কির দিকে।

    ‘চাও!’ ইটালিয়ানে বিদায়-সম্ভাষণ জানাল সোনিয়া, তারপর পিয়েত্রোর সঙ্গে চলে গেল একদিকে।

    ‘আপনাকে ঈর্ষা করতে হয়, সেনিয়র সাপ্রে,’ মন্তব্য করল বিয়াঞ্চি, সোনিয়ার অপসৃয়মাণ অবয়বের দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে। ‘অপূর্ব এক মেয়ে… লেক কোমো-য় পেয়েছেন ওকে?’

    লোকটার কণ্ঠে ফুটে ওঠা কামনার সুর কান এড়াল না রানার। সোনিয়ার ব্যাপারে লোভী হয়ে উঠেছে। নিশ্চয়ই খোঁজখবর নেয়ার মতলব… সময়-সুযোগ বুঝে ওকে শয্যাসঙ্গিনী বানাতে চায়। তা নিয়ে মাথাব্যথা নেই রানার, কিন্তু এ-মুহূর্তে যদি খোঁজখবর নিতে শুরু করে, কাভার ফাঁস হয়ে যাবার সম্ভাবনা আছে। তাই হালকা গলায় ও বলল, ‘সত্যি বলতে কী, আসলে কোত্থেকে এসেছে মেয়েটা, আমি জানি না। রিয়াদের এক বন্ধু নাম্বার দিয়েছিল ওর, ফোনেই ওকে ভাড়া করেছি। ফ্রান্সের নিস-এ আমার সঙ্গে যোগ দিয়েছে ও। চেহারা-সুরত দেখে এত পছন্দ হয়ে গেল যে, ব্যাকগ্রাউণ্ডের ব্যাপার নিয়ে আর মাথা ঘামাইনি। বলেছে লেক কোমো থেকে এসেছে, তা-ই মেনে নিয়েছি। এমন হুর-পরী জাহান্নাম থেকে এলেই বা কী এসে যায়? দু’চারদিনের বেশি তো আর থাকছে না আমার সঙ্গে।

    ‘তা হলে ওর ক্যালেণ্ডারের ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে একটু জানাতে পারেন আমাকে? মানে… যদি আপনার আপত্তি না থাকে আর কী।’

    ‘না, না, আপত্তি কীসের? কবে নাগাদ ওকে চান আপনি?’

    ‘যত তাড়াতাড়ি হয়, ততই ভাল। ওকে বলবেন, তুরিনের পাভোরোনি অফিসের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে পারবে আমার সঙ্গে ‘

    ‘তুরিন?’

    হুঁ। দেশের উত্তরাঞ্চলে বেশ ক’টা প্ল্যান্ট আছে আমাদের। তুরিন… সেইসঙ্গে ইয়োরোপের একটা বড় অংশ চালাই আমরা— বিয়াঞ্চি-পাভোরোনিরা।’

    ‘আমার সেটা জানা ছিল না।’

    ‘তা-ই? আমি তো ভেবেছিলাম সেই কারণেই আপনি আমার সঙ্গে আলাপ করতে চাইছেন।’

    শ্যাম্পেনের গ্লাসে শেষবারের মত চুমুক দিল রানা। ওটা নামিয়ে রেখে নিচু গলায় বলল, কিছুক্ষণের জন্য আমরা বাইরে যেতে পারি? আমার এক ক্লায়েন্টের কাছ থেকে কনফিডেশিয়াল মেসেজ আছে আপনার জন্য। আসলে….. সেজন্যেই আজ আমার এখানে আসা।’

    ‘কোথাকার ক্লায়েন্ট?’ ভুরু কুঁচকে জানতে চাইল বিয়াঞ্চি। ‘অ্যারাবিয়ান গালফ … . আপাতত এর বেশি বলতে পারছি না আপনাকে।’

    ‘অ্যারাবিয়ান গালফ থেকে মেসেজ?’ ভ্রূকুটি স্বাভাবিক হচ্ছে না বিয়াঞ্চির। রোম আর তুরিনের অন্যান্য এলিটদের মত ওখানকার বহু গণ্যমান্য ব্যক্তির সঙ্গে পরিচয় আছে তার, কিন্তু ঘনিষ্ঠতা নেই কারও সঙ্গে। তা হলে মেসেজ পাঠিয়েছে কে? কৌতূহলী হয়ে উঠল। বলল, ঠিক আছে, বাগানে নাহয় একটু হাঁটব আমরা। আসুন…’

    হাত তুলে তাকে থামাল রানা। ‘একসঙ্গে আমাদেরকে বেরুতে দেখা না গেলেই ভাল হয়। কোথায় যেতে হবে বলে দিন। আমি বিশ মিনিট পর পৌঁছচ্ছি ওখানে।

    ‘ইন্টারেস্টিং!’ মাথা দোলাল কাউন্ট। ইপোলিটোর ফোয়ারা চেনেন?’

    ‘খুঁজে নিতে পারব।’

    ‘বাগানের একটু ভিতরদিকে ওটা। নির্জন।

    ‘বেশ। বিশ মিনিট।

    কাউণ্ট বিয়াঞ্চিকে আর কিছু বলবার সুযোগ না দিয়ে অতিথিদের ভিড়ে মিশে গেল রানা।

    .

    ফোয়ারার চারপাশ অন্ধকার, কোথাও আলো জ্বলছে না। পানির কুলুকুলু ধ্বনি ছাড়া আর কোনও আওয়াজ নেই। পাথরসারি আর ঝোপঝাড়ের আড়াল ব্যবহার করে সন্তর্পণে ওখানে পৌঁছল রানা। কোনও ঝুঁকি নিচ্ছে না ও, আশপাশে কাউন্টের মোতায়েন করা প্রহরী থাকতে পারে। তেমন কিছুর আভাস পেলে অন্য জায়গা খুঁজে বের করবে কথা বলবার জন্য।

    ভালমত তল্লাশি চালিয়েও কারও দেখা পাওয়া গেল না। একটু পর শোনা গেল পদশব্দ। নুড়ি বিছানো হাঁটাপথ ধরে ফোয়ারার দিকে আসছে কাউন্ট বিয়াঞ্চি। দৃষ্টিসীমায় উদয় হলে ঝোপের আড়াল থেকে বেরিয়ে এল রানা। গলা খাঁকারি দিল। ঘাড় ফিরিয়ে ওকে দেখল কাউন্ট। ফোয়ারার নিচু সীমানা-প্রাচীরের পাশে মুখোমুখি হলো দু’জনে। আবছা আলোয় লোকটার স্রেফ অবয়ব দেখতে পাচ্ছে রানা, ব্যাপারটা পছন্দ হলো না। ছায়া অপছন্দ ওর।

    ‘এতদূর আসার কোনও প্রয়োজন ছিল কি?’ রুক্ষগলায় বলল রানা। ‘একান্তে কথা বলতে চেয়েছি, তাই বলে রোমের দিকে অর্ধেক রাস্তা হাঁটতে চাইনি।’

    ‘অমন কোনও ইচ্ছে আমারও ছিল না, সেনিয়র সাপ্রে, ‘ নিরুত্তাপ কণ্ঠে জবাব দিল বিয়াঞ্চি। কিন্তু একসঙ্গে বেরুতে চাইলেন না দেখে এ-জায়গার কথা ভাবতে হলো। আপনার সঙ্গে আমাকে দেখা গেলে সেটা হয়তো নিজের জন্যেই ভাল হবে না। আফটার অল, আপনি আরব শেখদের ব্রোকার।

    ‘তাতে সমস্যা কোথায়?’

    ‘তা হলে আপনিই বলুন, আলাদাভাবে বেরুতে চাইলেন কেন?’

    সন্দেহপ্রবণ লোক, মনে মনে ভাবল রানা। ‘স্রেফ সতর্কতা, আর কিছু না। আমাদেরকে একসঙ্গে বেরুতে দেখার কথা কেউ মনে রাখুক, তা চাইছিলাম না। বাগানে কেউ বেড়াতে এসেও আমাদেরকে দেখে ফেলতে পারে, তবে সেটা কো-ইনসিডেন্স বলে চালিয়ে দেয়া যাবে।’

    ‘সে-ভয় নেই, জানাল কাউন্ট। ইপোলিটোর ফোয়ারায় পৌঁছুনোর রাস্তা কেবল একটা। এন্ট্রান্সের সামনে আমার এক লোক পাহারা দিচ্ছে। কাউকে ঢুকতে দেবে না। সেটা নিয়ে উচ্চবাচ্চ্যও করবে না কেউ। আমি যে মাঝে-মধ্যে বন্ধুবান্ধব নিয়ে একাকী এখানে ঘুরতে পছন্দ করি, তা সবার জানা

    ‘ধরে নিচ্ছি, পাহারাদার বসিয়েছেন শুধু আমারই কারণে।’

    গম্ভীর হয়ে গেল বিয়াঞ্চি। মনে রাখবেন, সেনিয়র সাথে, বিয়াঞ্চি-পাডোরোনি পুরো ইয়োরোপ-আমেরিকা জুড়ে ব্যবসা করছে। নিত্যনতুন মার্কেট খুঁজছি আমরা, তাই বলে আরব্য পুঁজি চাইছি না। কাজটা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এ-ধরনের ইনভেস্টমেন্ট ঠেকানোর জন্য দুনিয়াজুড়ে নানা রকম বিধি-নিষেধের দেয়াল দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। চেষ্টা করতে গেলে বিপদে পড়ব—তদন্ত-টদন্ত কিছুই হবে না, শুধু প্যারিস আর নিউ ইয়র্কের ইহুদি ব্যবসায়ীরাই আমাদেরকে ধ্বংস করে দেবে।’

    ‘যদি বলি বিয়াঞ্চি-পাভারোনির সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক নেই?’ কণ্ঠে রহস্য ফোটাল রানা। ‘সম্পর্ক আছে শুধু বিয়াঞ্চি অংশটুকুর?’

    ‘স্পর্শকাতর একটা বিষয় নিয়ে খোঁচাখুঁচি করছেন আপনি, সেনিয়র সাপ্রে। পরিষ্কার করে বলুন ঠিক কী বলতে চান।’

    ‘আপনি তো কাউণ্ট আলবার্তো বিয়াঞ্চির ছেলে, তাই না?’

    ‘এ তো সবাই জানে! পাভোরোনি ইণ্ডাস্ট্রিজের বিস্তারের পিছনে আমার অবদানের কথাও অজানা নয় কারও। বিয়াঞ্চি এবং পাভোরোনি নামদুটো এখন অবিচ্ছেদ্য, আশা করি সেটা বলে দিতে হবে না আপনাকে?’

    ‘না, তবে তার কোনও গুরুত্ব নেই। আমি স্রেফ একজন মধ্যস্বত্বভোগী হিসেবে কাজ করছি—দুটো পক্ষের হয়ে খবর আদান-প্রদান ছাড়া অন্য কিছু নিয়ে মাথা ঘামানোর প্রয়োজন নেই আমার। বাইরের দুনিয়া যদি কোনও প্রশ্ন তোলে, বলব তিভোলির এক পার্টিতে আপনার সঙ্গে পরিচয় হয়েছে আমার, আর কিছু না। এই মিটিং-টা ঘটেইনি!’

    ‘খুব নাটকীয়তা করছেন। মেসেজটা নিশ্চয়ই ইম্পরট্যান্ট। কে পাঠিয়েছে?’

    তাকে থামানোর ভঙ্গিতে হাত তুলল রানা। ‘প্লিজ… যদ্দূর বুঝি, তাতে এ-ধরনের কেসে প্রথম সাক্ষাতে ক্লায়েন্টের পরিচয় ফাঁস না করাই নিয়ম। আমি শুধু আপনাকে জিয়োগ্রাফিকাল লোকেশন এবং একটা রাজনৈতিক সমীকরণের কথা বলতে পারি, যাতে হাইপথেটিক্যালি দুটো পক্ষ রয়েছে।

    সরু হয়ে এল বিয়াঞ্চির দু’চোখ, তার মনোযোগ আকৃষ্ট করতে পেরেছে রানা। ‘বলে যান।’

    আপনি একজন মানীগুণী মানুষ, কাজেই নিয়ম কিছুটা শিথিল করা যেতে পারে। ধরা যাক, আরব্য উপসাগরীয় এলাকায় জনৈক প্রিন্স আছেন। তাঁর চাচা… মানে দেশের বাদশাহ, পুরনো জামানার লোক। বয়স হয়েছে, কিন্তু এখনও ইস্পাতকঠিন হাতে দেশ চালাচ্ছেন; তাঁর কথাই আইন। বহুকাল আগে বেদুঈন গোত্রের দলপতি ছিলেন, আজও সে-সময়ের মতই একগুঁয়ে তিনি। কারও মতামতের তোয়াক্কা করেন না, বাজে ইনভেস্টমেন্টের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা নষ্ট করেছেন… আজও করছেন। এর ফলে পুরো দেশের কোষাগার-ই শূন্য হবার দশা। দেশের স্বার্থে, দশের স্বার্থে… সেইসঙ্গে নিজের স্বার্থে তো বটেই….. আমাদের হাইপথেটিক্যাল প্রিন্স তাঁর চাচাকে সরিয়ে দিতে চাইছেন। তাই আলবার্তো বিয়াঞ্চির ছেলের মাধ্যমে কাউন্সিলের কাছে সাহায্য চাইছেন তিনি… ফেনিস কাউন্সিলের কাছে! মেসেজ বলতে এতটুকুই। তবে এর সঙ্গে আরও কটা কথা আমি যোগ করব…’

    চমকে গেছে কাউণ্ট বিয়াঞ্চি, বিস্ফারিত হয়ে গেছে চোখ। ‘কে তুমি?’ কাঁপা কাঁপা গলায় জিজ্ঞেস করল সে, সম্বোধন পাল্টে ফেলেছে। ‘কে পাঠিয়েছে তোমাকে?’

    ‘আমার কথা শেষ করতে দিন,’ নির্বিকার ভঙ্গিতে বলল রানা। প্রথম ধাক্কাটা সফলভাবে দেয়া গেছে, এবার দ্বিতীয়টার পালা। ‘নিরপেক্ষ দর্শক হিসেবে আপনাকে আমি বলতে পারি, আমাদের এই হাইপথেটিক্যাল সিচুয়েশনটা বর্তমানে অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় পৌছে গেছে। নষ্ট করবার মত একটা দিনও হাতে নেই। প্রিন্স তাঁর প্রস্তাবের জবাব চান… এবং খুব শীঘ্রি। আমার মাধ্যমেই পাঠাতে হবে ওটা। আপনি এখুনি আমাকে কাউন্সিলের পারিশ্রমিক বলে দিতে পারেন; যত বেশিই হোক, তাতে কিছু যায় আসে না। এটুকু বলে রাখি, আমরা একশো মিলিয়ন ইউ.এস. ডলার পর্যন্ত দিতে, রাজি আছি।’

    ‘একশো মিলিয়ন।’ চমকে উঠল বিয়াঞ্চি।

    দেয়া হয়েছে দ্বিতীয় ধাক্কা। কাউণ্ট বিয়াঞ্চির মত ধনী মানুষের জন্যেও একশো মিলিয়ন ডলার হেলাফেলার বস্তু নয়। অন্ধকার ইতিমধ্যে চোখে সয়ে এসেছে, আবছা আলোয় ফলাফল দেখতে পেল রানা। মুখ হাঁ হয়ে গেছে কাউন্টের, লোভীর মত ঠোঁট চাটল। আরেকটু খোঁচানো যেতে পারে।

    ‘বলা বাহুল্য, অফারটার সঙ্গে কিছু শর্ত আছে,’ বলল ও। ‘যে-অ্যামাউন্ট বলেছি, সেটা আমাদের সর্বোচ্চ অফার; তবে সেজন্যে এক্ষুণি জবাব দিতে হবে, যাতে দ্বিতীয়বার যোগাযোগ করবার দরকার না হয়। কাজটা সারতে হবে সাতদিনের মধ্যে। তবে সেটা সহজ হবে না। বুড়ো বাদশাহকে দিনরাত পাহারা দিচ্ছে সাবাথি নামে একদল পাহারাদার…’ একটু থামল রানা। হাসল। ‘অবশ্য… মনে হয় না শেখ নাঈম ইবনে আল-হাসান সম্পর্কে বেশিকিছু ব্যাখ্যা করবার প্রয়োজন আছে। আমার জানামতে, কর্সিকান ব্রাদারহুডের পুরনো মক্কেল তিনি। এনিওয়ে, প্রিন্স চাইছেন ব্যাপারটা যেন আত্মহত্যার মত দেখায়….

    ‘থামো!’ হিসিয়ে উঠল বিয়াঞ্চি। ‘কে তুমি, সাপে? কী চাও এখানে? আমাকে পরীক্ষা করতে এসেছ?’ গলার স্বর চড়ে গেল তার। ‘কবর হয়ে যাওয়া অতীত নিয়ে কথা বলছ তুমি, কোন্ সাহসে!’

    ‘আমি শুধু একশো মিলিয়ন ডলারের কথা বলছি,’ শান্ত ভঙ্গিতে জবাব দিল রানা। আর দয়া করে আমাকে, কিংবা আমার ক্লায়েন্টকে কবর বা অতীতের কথা বলবেন না। কবর তো হয়েছে প্রিন্সের বাবার–কাউন্সিলের পাঠানো খুনির ছুরিতে গলা দু’ফাঁক হয়ে। আর সেটার পিছনে ছিলেন স্বয়ং নাঈম ইবনে আল-হাসান।

    সিংহাসন পাবার জন্য ঘটিয়েছিলেন তিনি কাণ্ডটা। যদি আপনাদের কোনও রেকর্ড থাকে, তা ঘেঁটে দেখুন। আমার কথার সত্যতা জানতে পারবেন। এতদিন পর প্রিন্স সে-অন্যায়ের প্রতিশোধ চাইছেন। বাদশাহকে তাঁর নিজের ওষুধই খাওয়াতে চাইছেন। আর সেজন্যে অরিজিন্যাল কন্ট্রাক্টের পাঁচগুণ খরচ করবেন তিনি।’ কণ্ঠে হতাশা ফোটাল ও। ‘পুরোটাই পাগলামি! প্রিন্সকে বলেছিলাম, এর অর্ধেক টাকায় বৈধ একটা আন্দোলন করানো যাবে… ক্ষমতাচ্যুত করা যাবে তাঁর চাচাকে। জাতিসংঘ থেকেও সাপোর্ট এনে দিতে পারব আমি। কিন্তু না… এভাবেই কাজটা করতে চান তিনি! আমাকে বলেছেন, ফেনিসের পন্থাই একমাত্র পন্থা। ওরা বুঝবে আমার আদর্শ। আরও বলেছেন, তিনি আপনাদের সঙ্গে যোগ দিতে চান।

    নার্ভাস হয়ে গেছে কাউন্ট বিয়াঞ্চি, পিছিয়ে গিয়ে হেলান দিল ফোয়ারার সীমানা-প্রাচীরের গায়ে। ‘কে তুমি? কেন এসব কথা বলছ? আমি জানি না এসবের অর্থ কী।’

    ‘সত্যি?’ বাঁকা সুরে বলল রানা। তা হলে ভুল লোকের কাছে এসেছি। অসুবিধে নেই, আসল লোককে খুঁজে নেব আমি। তাকে কী বলতে হবে, তা জানা আছে আমার।’

    ‘কী বলতে হবে?’

    হাসল রানা। ফিসফিসাল, ‘পার নস্ত্রো…’

    কথাটা শেষ করল না ও, আবছা আলোয় চুম্বকের মত সেঁটে রইল ওর দৃষ্টি সামনের মানুষটির মুখের উপর। কাউন্টের ঠোঁট ফাঁক হতে দেখল, তৃতীয় শব্দটা উচ্চারণ করতে চলেছে। কর্সিকার পাহাড়ে শোনা সেই পুরনো মন্ত্র প্রতিধ্বনিত হতে যাচ্ছে তিভোলির এই অন্ধকার বাগানে।

    শেষ মুহূর্তে নিজেকে সংযত করল বিয়াঞ্চি। বিস্ময় কেটে গিয়ে এখন নিখাদ আতঙ্ক ভর করেছে তার ভিতর। বলল, ‘মাই গড! তুমি… না, এ হতে পারে না। সত্যি করে বলো, কোত্থেকে এসেছ তুমি? কী বলা হয়েছে তোমাকে?’

    ‘সঠিক লোকের কাছে এসেছি, এটুকু বোঝার জন্য যথেষ্ট। বলুন এখন, আমাদের মধ্যে কি চুক্তি হবে?

    নিজেকে বড্ড সেয়ানা ভাবছ তুমি, সাপ্রে… অথবা যা-ই তোমার নাম হোক না কেন!’ হঠাৎ খেপে গেল বিয়াঞ্চি।

    ‘আপাতত ওই নামটাই থাকুক,’ উত্তেজিত হলো না রানা। ঠিক আছে, জবাব পেয়ে গেছি আমি। আপনি ফিরিয়ে দিচ্ছেন প্রস্তাব। আমার ক্লায়েন্টকে জানাব সেটা।’ চলে যাবার জন্য ঘুরল ও।

    ‘অল্টো!’ ইটালিয়ানে থামার জন্য চেঁচিয়ে উঠল বিয়াঞ্চি।

    থামল রানা, কিন্তু ঘুরল না কাউন্টের দিকে। মাথাটা পাশ ফিরিয়ে বলল, ‘পাশে? চে কসা?’

    ‘তোমার ইটালিয়ান অত্যন্ত নিখুঁত, সেনিয়র। ইংরেজিতে বলল বিয়াঞ্চি।

    ‘সেইসঙ্গে আরও কয়েকটা, ভাষা। ঘোরাফেরার সময় খুব কাজে লাগে। আমি প্রচুর ট্র্যাভেল করি কি না! যাক সে-কথা, কী চার আপনি?’

    ‘আমি না বলা পর্যন্ত এখানেই থাকবে তুমি!’

    ‘তাতে লাভ?’ এবার কাউন্টের দিকে ফিরল রানা। জবাব তো দিয়েই ফেলেছেন আপনি!’

    ‘যা বলছি, তা-ই করো। কথা না শুনলে শুধু গলা চড়াতে হবে আমাকে। আমার লোক এসে আটকে ফেলবে তোমাকে।’

    ভেবে দেখল রানা, এখনও কিছু অর্জন করতে পারেনি ও। কিছুই স্বীকার করেনি কাউণ্ট। হাবভাবে বোঝা যাচ্ছে, ফেনিসের সঙ্গে তার কানেকশন আছে; কিন্তু এখনও তো মুখে বলেনি সেটা। বরং ঘটনার আকস্মিকতায় যেন বোকা বনে গেছে, সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না। নার্ভাসনেস দেখে মনে হচ্ছে, কারও সাহায্য কামনা- করছে সে। তবে কী…

    হ্যাঁ… কোনও সন্দেহ নেই… নাগালের মধ্যে অন্তত আরেকজন আছে ফেনিসের; হয়তো আজকের পার্টির ভিতরেই। রাঘব-বোয়াল, বিয়াঞ্চির উপরের লোক। তার পরামর্শ নিতে চাইছে কাউন্ট’। ফোয়ারার প্রাচীরে পিঠ ঠেকাল রানা, জল আরেকটু ঘোলা করা দরকার।

    তার মানে কি প্রস্তাবটা আবার ভেবে দেখছেন আপনি?’ মুচকি হাসির সঙ্গে বলল ও।

    ‘কিছুই ভাবছি না আমি!’

    তা হলে অপেক্ষা করব কেন? আমাকে অর্ডার দেয়া সাজে না আপনার। আমি আপনার পোষা কুকুর নই। ব্যবসায়িক সম্পর্ক হতে পারে কেবল আমাদের মাঝে–হ্যাঁ, কিংবা না! দ্যাট’স অল।’

    ‘ব্যাপারটা এত সোজা নয়, সেনিয়র!’ খ্যাপাটে শোনাল বিয়াঞ্চির গলা।

    ‘আমার জন্য সোজা। এখানে স্রেফ সময় নষ্ট করছি আমি।’ আবার পা বাড়াল রানা। চাইছে গার্ডকে ডেকে পাঠাক কাউণ্ট। বাস্তবেও তা-ই ঘটল

    ‘নিকো!’ অদৃশ্য পাহারাদারের নাম ধরে ডেকে উঠল বিয়াঞ্চি। ‘প্রেস্তো!’

    নুড়ি বিছানো পথে দ্রুত পদশব্দ হলো, কয়েক মুহূর্ত পরেই ফোয়ারার সামনের খোলা জায়গায় বেরিয়ে এল মুশকো এক পালোয়ান। মনিবের নির্দেশ পেয়ে কোটের আড়াল থেকে বের করে আনল একটা ছোট রিভলভার, তাক করল রানার দিকে।

    মুখ খুলল বিয়াঞ্চি, কথার সাহায্যে পরিস্থিতিকে নিজের আয়ত্তে আনার প্রয়াস চালাল বুঝি : ‘জামানা বড়ই কঠিন, সেনিয়র সাথে। আমার মত মানুষকে সাবধানে চলতে-ফিরতে হয়, সশস্ত্র বডিগার্ড রাখতে হয় সঙ্গে। আশা করি বুঝতে পারছ ব্যাপারটা? সবখানে এখন সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্য।’

    খোঁচা মারার লোভ সামলাতে পারল না রানা। কথার ছুরি চালাল সঙ্গে সঙ্গে। অবাক হচ্ছি না, এসব ব্যাপারে আপনাদেরই সবচেয়ে ভাল জানার কথা। মানে… টেরোরিস্টদের কথা… ব্রিগেডের কথা। আদেশগুলো কার কাছ থেকে আসে? রাখাল বালক?

    যেন ভয়ানক এক ঘুসি খেয়েছে, এমন ভঙ্গিতে এক পা পিছিয়ে গেল বিয়াঞ্চি। কেঁপে উঠল শরীরের ঊর্ধ্বাংশ। কপাল বেয়ে ঘাম নামতে দেখল রানা। চোখদুটো যেন ভীত কোনও প্রাণীর!

    ‘খেয়াল রেখো ওর দিকে,’ ফিসফিসিয়ে গার্ডকে বল্‌ল কাউন্ট। তারপর ত্রস্ত পায়ে চলে গেল হাঁটাপথ ধরে।

    নিষ্কম্প হাতে রিভলভার ধরে রানার কাছাকাছি চলে এল গার্ড। তার দিকে তাকিয়ে নার্ভাস হবার অভিনয় করল ও। ইটালিয়ানে বলল, ‘কী ঘটল, কিছুই বুঝতে পারছি না। তোমার বসের কাছে একটা বড়সড় ব্যবসায়িক প্রস্তাব নিয়ে এসেছিলাম, উনি দেখি সেটা শুনে পাগলামি শুরু করলেন! ফর গডস্ সেক, আমি স্রেফ একজন ‘সেলসম্যান! আমাকে আটক করছে কেন?’

    চুপ করে রইল গার্ড। কিন্তু রানাকে ঘাবড়ে যেতে দেখে পেশি একটু ঢিল করল সে। বিপদের আশঙ্কা করছে না আর, ওকে নিরীহ বন্দি বলে ভাবছে।

    ‘একটা সিগারেট ধরাতে পারি?’ বলল রানা। ‘বন্দুক-টন্দুক দেখলে ভীষণ নার্ভাস হয়ে যাই আমি।’

    ’ধরাও,’ অনুমতি দিল গার্ড।

    পরের কয়েক ঘণ্টার জন্য ওটাই তার শেষ কথা।

    সিগারেটের প্যাকেট বের করবার ভঙ্গিতে ডান হাত কোটের পকেটে ঢোকাল রানা, অন্যহাতটা রাখল শরীরের পাশে, ছায়ার আড়ালে। গার্ডের চোখ ওর মুঠো করা ডানহাতের উপর আটকে যেতেই ছোবল দিল। বাঁ হাতে খপ্ করে আঁকড়ে ধরল রিভলভার-সহ হাত, প্রচণ্ড এক মোচড় দিয়ে কবজি মচকে দিল চেঁচাতে পারল না লোকটা, ডানহাতও চালিয়েছে রানা প্রায় একই সঙ্গে। সাঁড়াশির মত ও-হাতটা টিপে ধরল গার্ডের গলা, শব্দ বেরুতে দিল না, তারপর প্রচণ্ড এক ধাক্কা দিয়ে তাকে নিয়ে গেল ফোয়ারার পাশের ঝোপঝাড়ের ভিতরে।

    তাল হারিয়ে চিৎপাত হয়ে পড়ে গেল লোকটা। তার মচকানো হাতের মুঠো থেকে রিভলভার কেড়ে নিল রানা, উল্টে নিয়ে সজোরে নামিয়ে আনল কপালের উপর। বাটের সঙ্গে হাড়ের সংঘর্ষের বিচ্ছিরি আওয়াজ হলো। অস্ফুট আর্তনাদ করে নিথর হয়ে গেল গার্ড। অজ্ঞান দেহটাকে ঝোপঝাড়ের আরেকটু ভিতরে নিয়ে গেল রানা, তারপর রিভলভারটা কোমরে গুঁজে রওনা হলো ভিলার দিকে। হাতে একবিন্দু সময় নেই, কাউন্ট বিয়াঞ্চির হদিস পেতে হবে। দেখতে হবে, রহস্যময় রঘুনাথ সাগ্রে-র সঙ্গে সাক্ষাতের বিবরণ সে কার কাছে দিচ্ছে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমাসুদ রানা ০২৯-৩০ – রক্তের রঙ (দুই খণ্ড একত্রে)
    Next Article মাসুদ রানা ৪১২ – সেই কুয়াশা (প্ৰথম খণ্ড)

    Related Articles

    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৩৮৫-৩৮৬ – হ্যাকার (দুই খণ্ড একত্রে)

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫৬ – টপ টেরর

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫৪ – নরপশু

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫৩ – ধর্মগুরু

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫২ – কালো কুয়াশা

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫১ – মায়া মন্দির

    July 22, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }