Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মাসুদ রানা ৪৬২ – এক্স এজেন্ট

    কাজী আনোয়ার হোসেন এক পাতা গল্প373 Mins Read0
    ⤶

    এক্স এজেন্ট – ৫৫

    ৫৫

    রানা টান দিয়ে ভাঙা দরজাটা খুলতেই দেখল লোকটার দেহ ভেসে যাচ্ছে তাজা রক্তে। ‘ফুর্তি করবে না, কর্নেল?’ শোফেল্ডের মুখে আলো ফেলল ও।

    ‘আমার পা,’ গুঙিয়ে উঠল লোকটা। ‘দুটো পা-ই ভেঙে গেছে।’

    ‘পা দিয়ে কী করবে?’ বলল রানা। ‘যেখানে, যাচ্ছ, ওখানে ওগুলো লাগবে না।’

    কাঁপা হাত তুলে ককিয়ে উঠল শোফেল্ড, ‘সাহায্য করো।’

    ‘মানুষ তো মানুষেরই জন্যে- এ ধরনের কিছু বাণী শোনাতে চাও?’

    আরও বাড়ছে অকটেনের গন্ধ। গাড়ির ভেতর পুড়ছে তারের প্লাস্টিক আবরণ। কিছুক্ষণ পর অকটেনের কাছে পৌঁছুবে আগুনের ফুলকি। দাউদাউ শিখার সময় লাগবে না গাড়িটা গিলে নিতে। এটা বুঝতে পেরেছে বলেই নরম হয়েছে শোফেল্ড।

    ‘আমাকে বের করো, প্লিয,’ বলল সে, ‘এটা যে-কোনও মানুষের কর্তব্য।’

    ‘কর্তব্য?’ তিক্ত হাসল রানা।

    ‘এটা এক যোদ্ধার কাছে আরেক যোদ্ধার দাবি,’ করুণ সুরে বলল শোফেল্ড। থরথর করে কাঁপছে হাতের পাঁচ আঙুল। চোখে আলো পড়ছে বলে চোখ বুজল। ‘আমি হলেও আগুনের হাত থেকে তোমাকে বাঁচাতাম।’

    ‘আগে কখনও বুঝিনি তুমি এত দয়ালু,’ বলল রানা।

    তীব্র ব্যথায় ফুঁপিয়ে উঠল শোফেল্ড। কুঁচকে গেল চেহারা। কয়েক মুহূর্ত পর বলল, ‘ঈশ্বরের দোহাই, রানা! আমাকে যা বলা হয়েছে, শুধু তা-ই করেছি! আমার কিছু করার ছিল না!’

    ‘বুঝলাম,’ বলল রানা। ‘তবে এখানে নেমেছি তোমার প্রস্তাবের ব্যাপারে আমার জবাবটা জানাতে, তোমাকে সাহায্য করতে নয়।’

    ‘জানি, মানা করে দেবে তুমি,’ হাসতে চাইল শোফেল্ড। প্রচণ্ড ব্যথা সহ্য করতে গিয়ে হাসিটা হলো ভেঙচির মত।

    ‘মানুষের, জীবনে আসে নানান প্রস্তাব,’ বলল রানা, ‘আমারও একটা প্রস্তাব আছে। সেটা শুনতে চাও?’

    মাথা দোলাল শোফেল্ড।

    ‘কথা বলতে চাই ফ্লেয়ার অপারেশনের চেয়ারম্যানের সঙ্গে।’

    ধীরে ধীরে মাথা নাড়ল প্রাক্তন কর্নেল। ‘সে উপায় নেই।’

    গাড়ির পাশে উঠে দাঁড়াল রানা। ‘ঠিক আছে, তা হলে বিদায়।’

    ‘একমিনিট!’

    ‘কিছু বলবে?’

    হিসহিস করে বলল শোফেল্ড, ‘কী চাও?’ গাড়ির বনেট থেকে উল্টে যাওয়া কেবিনে ঢুকছে বিশ্রী গন্ধের ধোঁয়া।

    ‘তোমার মোবাইল ফোনটা দাও,’ বলল রানা। ‘যেটা দিয়ে বসের সঙ্গে কথা বলো। তারপর দেবে তার নাম্বার।’

    ‘তারপর কী করবে?’

    ‘তখন ভাবব তোমাকে সাহায্য করা যায় কি না।’

    কয়েক মুহূর্ত কী যেন ভাবল লোকটা, তারপর পকেট থেকে বের করল মোবাইল ফোন। বুড়ো আঙুল দিয়ে অ্যাকটিভ করল স্ক্রিন। স্ক্রল করল নাম্বারের মেন্যু। সঠিক নাম্বার পাওয়ার পর রানার দিকে বাড়িয়ে দিল মোবাইল ফোন। ‘নাও! এবার আমাকে বের করো এখান থেকে!’

    ‘একটু পরেই তোমাকে বের করে ওপরে নিয়ে যাওয়া হবে, কর্নেল,’ শোফেল্ডের ফোনটা নিয়ে ডাক্তার নেবেসার ফোন পকেটে পুরল রানা। উঠে দাঁড়িয়ে প্যান্ট থেকে ঝেড়ে নিল ধুলো।

    অন্ধকারে মার্সিডিযের ভেতর ভীষণ ভয় লাগছে শোফেল্ডের। আতঙ্ক ভরা কণ্ঠে বলল, ‘আমাকে ফেলে কোথায় যাচ্ছ, রানা?’

    ‘একটা কল করতে,’ বলল রানা।

    ধোঁয়ায় ভরে উঠছে গাড়ির ভেতর। চোখ জ্বলছে। বুঝতে পেরেছে, মৃত্যু আর দূরে নেই। ব্যর্থতা ও তীব্র ব্যথায় ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগল প্রাক্তন কর্নেল।

    খাদের ঢালু অংশের দিকে চলেছে রানা। দূর থেকে এল ফায়ার ব্রিগেডের গাড়ির সাইরেন। সাহসী মানুষগুলো চলেছে আণ্ডারপাসের দিকে। পুলিশ খুঁজছে অপরাধীদেরকে। বহু দূরে রাতের আকাশ চিরে দিচ্ছে কপ্টারের উজ্জ্বল আলো।

    মার্সিডিয়ের ভেতর হাউমাউ করে উঠল শোফেল্ড, ‘রানা! ভাই আমার! আমাকে বের করো! বাঁচাও!’

    বড়জোর তিন মিনিট, তারপর আগুনে পুড়বে গাড়ি। রানা আশা করছে, তার আগেই শেষ হবে চেয়ারম্যানের সঙ্গে ওর আলাপ। কল-রেকর্ডিং চালু করে বোতামে চাপ দিল ও। কয়েক মুহূর্ত পর ফোনে শুনল ভারী পুরুষ কণ্ঠ: ‘হ্যালো।’

    ‘আমি কি চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলতে পারি?’ জানতে চাইল রানা।

    ‘আপনি কে?’ জানতে চাইল লোকটা। কণ্ঠ গুরুগম্ভীর।

    ‘আমার নাম মাসুদ রানা,’ বলল বিসিআই এজেন্ট। ‘আপনি ভাল করেই জানেন আমি কে। আর আমিও জানি আপনি কে। সুতরাং সরাসরি আসছি কাজের কথায়।’

    ‘বলুন,’ বলল লোকটা।

    ‘আপনাদের এস. এম. ৬১৪৩ ডিভাইসের কারণে জানতে পেরেছি ফ্লেয়ার অপারেশন সম্পর্কে। আমি মুখ খুললে ভাল ধরনের ঝামেলায় পড়বেন আপনারা।’

    ‘বলুন, আমি শুনছি।’

    এবার শুনুন আমার দুটো প্রস্তাব,’ বলল গম্ভীর রানা। ‘সহজ শর্ত। ভবিষ্যতে ফুলের টোকাও দেবেন না অ্যান্টোনিন নিকোলভ এবং তার মেয়ে ইউনার গায়ে। যদি তেমন কিছু করেন, ধরে নেবেন আপনি হাত ভরে দিয়েছেন চুলোর আগুনে। রক্ষা পাবে না দলের কেউ।’

    ‘বুঝলাম,’ বলল চেয়ারম্যান, ‘তার মানে এককথায়: ওদের দু’জনকে বিরক্ত করব না আমরা। সেক্ষেত্রে আমাদেরকেও বিরক্ত করবেন না আপনি।’ মৃদু হাসল বয়স্ক লোকটা। ‘কিন্তু কেন ভাবছেন আপনার কথা আমরা মেনে নেব? আপনি তো মাত্র একজন লোক।’

    ‘আপনিও একজনই। কাজ মাত্র শুরু করেছি আমি,’ বলল রানা। ‘এবার আমার দ্বিতীয় প্রস্তাব: এই মুহূর্তে বন্ধ করবেন এ সংক্রান্ত আপনাদের সমস্ত কর্মকাণ্ড। নইলে এক এক করে কাটা পড়বে আপনাদের সংগঠনের বড় বড় মাথাগুলো। শুরু হবে আপনাকে দিয়ে।’

    ‘হুমকি দিচ্ছেন?’

    ‘তা তো দেবই। আমাদের প্রতিটা কথা রেকর্ড হচ্ছে আমার মোবাইলে। প্রয়োজনে ব্যবহার করব আমি এটা। যদি সামান্য একটু এদিক ওদিক দেখি, আপনার লেজে আমি আগুন লাগিয়ে দেব। দুনিয়ার প্রতিটা পত্রিকায় বিস্তারিত ছাপা হবে সব।’

    ওদিকে নীরবতা। পেরোল একমিনিট। রানা ভাবতে শুরু করল, ডেড হয়ে গেছে লাইন। কিন্তু তখনই শান্ত স্বরে বলল চেয়ারম্যান, ‘আপনি সরাসরি কথা বলতে অভ্যস্ত, রানা। আমিও পছন্দ করি এ ধরনের লোক।’

    ‘তা হলে সরাসরি জবাব দিন। হ্যাঁ কি না।

    আবারও নীরব হলো চেয়ারম্যান। ভাবছে। একটু পর বলল, ‘আর তো কোনও উপায় দেখছি না, মেজর। ক্ষতি হয়েছে অনেক। আপনার প্রস্তাবে রাজি না হলে আরও বাড়বে ক্ষতি।’

    ‘তা হলে কি ধরে নেব আপনি রাজি?’

    ‘এই প্রস্তাবে কর্নেল শোফেল্ডের ভূমিকা কী?’

    ‘আর কোনও ভূমিকা নেই,’ বলল রানা। ‘একটু পরেই দুনিয়া থেকে বিদায় নেবে সে।

    রানা শুনল, নাইট ক্যাপের জন্যে ক্রিস্টাল গ্লাসে ড্রিঙ্ক ঢালছে লোকটা। এক ঢোক তরল গিলেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলল চেয়ারম্যান। ‘ঠিক আছে। আমি রাজি। অপারেশন বন্ধ করে দিচ্ছি। নিকোলভ আর তার মেয়েকে বিরক্ত করব না আমরা। আপনিও আর আমাকে বিরক্ত করবেন না। আপনার সঙ্গে কথা বলে ভাল লাগল। আশা করি আর কখনও আমাকে ফোন দেবেন না। ‘

    ডেড হয়ে গেল লাইন।

    উইলিয়াম শোফেল্ডের মার্সিডিয়ের দিকে পা বাড়াল রানা। ভাবছে, প্রস্তাব দিয়েছি। নিজে রাজি হইনি কোনও শর্তে। পকেটে পুরে রাখল মোবাইল ফোন। থাকুক এটা আমার কাছে। ভবিষ্যতে অপারেশন ফ্লেয়ারের কর্মকাণ্ডের আভাস পাওয়া মাত্র যা বলেছি ঠিক তা-ই করব। তারপর রেকর্ডিং সহ মোবাইল ফোনটা পাঠিয়ে দেব ব্রিটিশ ইন্টেলিজেন্স চিফ মিস্টার লংফেলোর কাছে।

    নিশ্চয়ই ব্যথাতুর চেহারায় গাড়ির ভেতর পড়ে আছে উইলিয়াম শোফেল্ড। মুখে থাকবে বিন্দু-বিন্দু ঘাম। গাড়ির দিকে পা বাড়িয়ে রানা ভাবল, ওকে দেখেই বলবে প্রাক্তন কর্নেল, ‘ভেবেছি ফেলে চলে গেছ! আগুন ধরে যাওয়ার আগেই এখান থেকে আমাকে বের করো!’ হাত বাড়িয়ে তাগাদা দেবে সে, ‘রানা, জলদি!’

    শোফেল্ডের হাতটা ধরবে না রানা। কাপরিস্কির স্মিথ অ্যাণ্ড ওয়েসন পিস্তলটা বের করে অফ করবে সেফটি ক্যাচ। আলো পড়ে ঝিকিয়ে উঠবে নিকেল প্লেট। ওটার দিকে চেয়ে শিউরে উঠবে শোফেল্ড। কাঁদতে গিয়েও থেয়ে গিয়ে বলবে, ‘ক্-কী করছ?’

    ‘সঠিক কাজ,’ বলবে রানা।

    করুণ সুরে বলবে লোকটা, ‘ত্… তুমি তো কথা দিয়েছ!’

    ‘সবসময় কথা রক্ষা করি,’ বলবে রানা।

    ‘রানা, তুমি কি পাগল হলে?’ কেঁপে উঠবে শোফেল্ডের কণ্ঠ।

    হাঁটতে হাঁটতে পিস্তলটার ওজন মেপে নিল রানা। ভাবছে: গাড়ির খোলা দরজার পাশে থেমে বলবে, ‘আরো কিছু মগজে ভরে দেয়া যায়, তবে ওটার কথা তুমি একবারও বলোনি, শোফেল্ড। ওটা খুব হাইটেক নয়। দামও পড়ে মাত্র কয়েক পাউণ্ড। তবে কাজ করে সবসময়। ওই ডিভাইস তৈরি সীসা দিয়ে। পেছনে থাকে তামার জ্যাকেট। মগজে ঢোকে তীব্র বেগে। সেজন্যে ব্যবহার করতে হয় বিশেষ যন্ত্র। এই মুহূর্তে আমার হাতে অমনই একটা জিনিস।’ শোফেল্ডের মাথার দিকে পিস্তলের নল তাক করবে রানা। শীতল সুরে বলবে, ‘এই ডিভাইসটা পাচ্ছ গালিনা বেলিনভ ও তাতভ বেযুখফের তরফ থেকে।’

    ‘না-না!’ আর্তচিৎকার করে উঠবে শোফেল্ড। ‘মাফ করো, রানা। ভুল হয়ে গেছে! কসম! আর কখনও…’

    কড়াৎ শব্দে গর্জে উঠবে রানার স্মিথ অ্যাণ্ড ওয়েসন। পিস্তলটা গাড়ির ভেতর ফেলে ফিরতি পথ ধরবে রানা। কাউকে খুন করলে ছোট হয়ে যায় মন। ভারী হবে ওর বুকটাও। করুণ মৃত্যু সবসময় ঘৃণ্য, সেটা ইঁদুরের হলেও।

    মার্সিডিয থেকে বেশ দূরে সরে গিয়েছিল রানা। হঠাৎ করেই দেখল গাড়ির ভেতর উজ্জ্বল সাদা আলো। বৈদ্যুতিক ফুলকি খুঁজে পেয়েছে অকটেনের পুকুর। করুণ এক আর্তনাদ শুনল ও। ফাঁপা, জোরালো হুইম্‌প্ আওয়াজে আকাশে উঠেছে বিশাল নীলচে আগুন, গিলে ফেলেছে গোটা গাড়িটাকে। কয়েক সেকেণ্ড পর আকাশে উঠল কালো ধোঁয়ার মস্ত পিলার। রাতের হাওয়ায় ভর করে বিদঘুটে এক দৈত্যের মত ওটা ভাসতে ভাসতে চলল মস্কো শহরের দিকে।

    গাড়ির ভীষণ নীল আগুনে খুন হয়েছে প্রাক্তন কর্নেল উইলিয়াম শোফেল্ড। নরহত্যা করতে হলো না বলে স্বস্তিই পেল রানা। একবার কাঁধ ঝাঁকাল। তারপর পিস্তলটা ফেলে দিল আগুনের মধ্যে।

    কে জানে, হয়তো ধোঁয়ার ধূসর-কালো দানবের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কোথাও ভেসে চলেছে কর্নেলের পাপাত্মা!

    ঘুরে সেতুর দিকে চলল রানা। ভ্যানের কাছে ওর জন্যে অপেক্ষা করছে অ্যান্টোনিন নিকোলভ আর ছোট্ট ইউনা।

    ৫৬

    ভিআনুকোভা এয়ারপোর্টে ব্রেয়নেভ কর্পোরেশনের গালফস্ট্রিম হ্যাঙারের সামনে দাঁড়িয়ে আছে পাইলট রবার্ট স্টিফান ও কো-পাইলট এদোমণ্ড মার্কাস। অনেকক্ষণ হলো তৈরি তারা। মাসুদ রানা আর ইউনা পৌঁছে গেলেই আকাশে তুলবে বিমান। দু’জনই ভাবছে, অদ্ভুত মানুষ মাসুদ রানা। তাদের বসের কাছে ফোন দিয়ে বলেছে বিমান পাঠিয়ে দিতে। কিন্তু এরপর এক এক করে পেরিয়ে গেছে দুইঘণ্টা, আসেনি কেউ। স্টিফান আর মার্কাস এখন ভাবছে ফোন দেবে মিস্টার ব্রেযনেভকে। বিলিয়নেয়ারের দুর্গে চিন্তিত সবাই। মাসুদ রানার সঙ্গে তৃতীয় মানুষটা কে, এ ব্যাপারে কিছুই জানে না কেউ। দুর্গে নিজের লিভিংরুমে পায়চারি করছেন উদ্বিগ্ন লুকা ব্রেযনেভ।

    যতই সময় পেরিয়ে যাচ্ছে, হতাশ হয়ে উঠছে পাইলট ও কো-পাইলট। আবারও বোধহয় ফিরতে হবে খালি বিমান নিয়ে। ফ্লাডলাইটে আলোকিত টারমাকে বিমান পর্যন্ত হেঁটে যাচ্ছে স্টিফান, তারপর আবারও ফিরছে হ্যাঙারের কাছে। দুই হাত ভরে দিয়েছে প্যান্টের পকেটে। ঝুঁকে গেছে দুই কাঁধ। হ্যাঙারের কোণে লুকিয়ে একটু পর পর সিগারেট ফুঁকছে কো-পাইলট এদোমণ্ড, অথচ প্রাইভেট জেট টার্মিনালের চারপাশে রয়েছে শতখানেক নো স্মোকিং সাইন।

    ‘তোমার কী মনে হয়?’ সপ্তমবারের মত জানতে চাইল পাইলট স্টিফান।

    ‘আসবে না,’ বিরস সুরে বলল এদোমণ্ড।

    হঠাৎ করেই সোজা হয়ে কান পাতল স্টিফান। ‘একমিনিট! কীসের একটা আওয়াজ এগিয়ে আসছে!’

    একইসময়ে শুনতে পেয়েছে এদোমণ্ড। চট্ করে হাত থেকে ফেলে দিল সিগারেট। সময় পেলে মোটর সাইকেল নিয়ে মেতে থাকে সে। কয়েক সেকেণ্ড পর বুঝল, ওই ইঞ্জিন টুইন-স্ট্রোক মোটর সাইকেলের। দামি লিমাযিন বা এসইউভি খুবই স্বাভাবিক প্রাইভেট জেট টার্মিনালে, কিন্তু সাধারণ এক মোটর সাইকেলে চেপে আসছে কে?

    বিস্মিত চোখে পরস্পরকে দেখল পাইলট ও কো- পাইলট। মাত্র কয়েক সেকেণ্ড পর সামনের দৃশ্য দেখে হতবাক হয়ে গেল তারা। টারমাক ধরে ছুটে আসছে অদ্ভুত এক বাহন।

    এদোমণ্ড বলল না, ওটা রাশান ইউরাল। পাশেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ওয়েইমাখট্ বিএমডাব্লিউ মিলিটারি সাইডকার। তার চেয়েও বিস্ময়কর তিন আরোহী। মোটর সাইকেল চালাচ্ছে মাসুদ রানা। রক্তাক্ত। ধুলোয় ভরা। যে-কেউ বলবে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে এসেছে সে। পেছন সিটে উস্কোখুস্কো চুল- দাড়ি ভরা অ্যান্টোনিন নিকোলভ। যেন এইমাত্র ছাড়া পেয়েছে লেবার ক্যাম্প থেকে। আর সাইডকারের ভেতর গোলাপি জ্যাকেট আর ছেঁড়া জিন্সের প্যান্ট পরে নোংরা চুলের ইউনা নিকোলভ। তবে ওর হাসি হাজার কোটি ওয়াটের বাতির চেয়েও ঝলমলে। বাচ্চা মেয়েটাকে দেখে মোটর সাইকেলের দিকে দৌড় দিল দুই বৈমানিক। বিমানের পাশে থেমে গেছে অদ্ভুত বাহন। ইউনাকে জড়িয়ে ধরল স্টিফান। তবে ওকে ঠেলে সরিয়ে ইউনার হাত ধরে নাচতে শুরু করেছে এদোমণ্ড। পাইলট স্টিফান ভুলেই গেছে নিকোলভকে সামনে পেলে ঘুষিয়ে তার দাঁতগুলো ফেলে দেবে ভেবেছিল।

    ‘দেরির জন্যে দুঃখিত,’ বলল রানা, ‘আসার পথে ঝামেলা হয়েছে।’

    ‘কোত্থেকে… কী করে…’ একের পর এক প্রশ্ন করবে ভেবেছে স্টিফান।

    কিন্তু তাকে থামিয়ে দিল রানা, ‘পরে বলব।’ উজ্জ্বল আলোয় ঝিকমিক করছে আধুনিক বিমান। ওটা দেখাল রানা। ‘জলদি চলে যেতে হবে। নইলে ওদের সুন্দর শহরের বারোটা বাজিয়ে দেয়ায় আটকে দেবে রাশান কর্তৃপক্ষ।’

    মাত্র পাঁচ মিনিটে আকাশে উঠল গালফস্ট্রিম জেট। বিমানে ওঠার আগে হ্যাঙারের পাশে মোটর সাইকেলটা রেখেছে রানা। হ্যাণ্ডেলে রাবার ব্যাণ্ড দিয়ে ঝুলিয়ে দিয়েছে একটা কাগজ। ওটাতে লেখা: সত্যিই দুঃখিত। আপনার মোটর সাইকেলটা না নিয়ে পারিনি। মাফ করবেন।

    পরিত্যক্ত এলাকা ত্যাগ করে পায়ে হেঁটে শহরের দিকে ফিরেছে রানা, নিকোলভ ও ইউনা। রানা ভেবেছিল গাড়ি চুরি করবে। কিন্তু আশপাশে কোথাও পাওয়া গেল না ও জিনিস একটা পেট্রল পাম্পে পেল ইউরাল মোটর সাইকেল। ওটাই লোপাট করেছে ও। শেষ কয়েক মাইল মোটর সাইকেলে চেপে পৌঁছেছে এয়ারপোর্টে। দ্রুত কাজ করেছেন রাশান এভিয়েশন মিনিস্টার। গার্ডদের হাতে ছিল রানা ও ইউনার ছবি। নিকোলভ অচেনা হলেও বাধা দেয়নি তারা। এখন বিলাসবহুল বিমানের রাজকীয় সিটে বসে অদ্ভুত লাগছে একটু আগের স্মৃতি। রাশান এয়ারস্পেসে মিগ যুদ্ধবিমান ওদেরকে বাধা না দিলে ওরা পৌঁছে যাবে ফ্রান্সের এলাকায়। সিটে হেলান দিয়ে চোখ বুজল রানা।

    তিন ঘণ্টা পর লে ম্যান্স-অনাজ এয়ারপোর্টে নামল গালফস্ট্রিম জেট বিমান। টারমাকে নামতেই রানা দেখল, একটু দূরে থেমেছে ক্যাডিলাকের কনভয়। একটা গাড়ি থেকে নেমে দৌড়ে এল তামারা ব্রেনেভ। পাগলের মত জড়িয়ে ধরল মেয়েকে। চুমুর পর চুমু দিচ্ছে গালে, কপালে, থুতনিতে। গাড়ি থেকে নেমে নাচতে শুরু করেছেন চিরকালের গম্ভীর লুকা ব্রেযনেভ। ইউনা ছাড়া, আর কোনও দিকেই খেয়াল নেই তাঁর। তামারাকে ঠেলে সরিয়ে জড়িয়ে ধরলেন নাতনিকে। একটু দূরে চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে নিকোলভ। খুব অসহায় বোধ করছে।

    তার দিকে চেয়ে আছে তামারা ব্রেয়নেভ।

    নিকোলভের কাঁধে হাত রাখল রানা। নিচু গলায় বলল, ‘কেন যেন মনে হচ্ছে, এবার ঠিক হয়ে যাবে সব।’

    মন খারাপ, নীরব থাকল নিকোলভ।

    রানা ভাবল, একবার স্নান শেষে নরম বিছানা পেলে আগামী তিন দিন ঘুম থেকে উঠবে না। তবে এত ভাল নয় ওর কপাল। এগিয়ে এসে ওকে জড়িয়ে ধরলেন লুকা ব্রেনেভ। হাজারবার বলতে লাগলেন কতখানি কৃতজ্ঞ তিনি।

    ইউনার হাত ধরে ওদের পাশে থামল তামারা। চট্ করে চুমু দিল রানার গালে। ‘থ্যাঙ্ক ইউ, মিস্টার রানা।’

    ‘ইউ আর ওয়েলকাম,’ মৃদু হাসল বিসিআই এজেন্ট।

    ‘তুমি সত্যিকারের হিরো!’ ঘুরিয়ে ফিরিয়ে একই কথা বলে চলেছেন ব্রেযনেভ। ‘তুমি সত্যিই মহৎ লোক, রানা! সত্যিকারের মহান নাইট…’

    প্রতিবাদ করে লাভ হবে না বুঝে চুপ থাকল রানা।

    বারবার ওকে দেখছে ইউনা। চোখে অদ্ভুত এক আলো। ক্ষণে ক্ষণে লালচে হচ্ছে দুই গাল।

    নিকোলভ চুপ করে আছে বলে তার সামনে থামল তামারা ব্রেযনেভ। কথা বলছে না ওরা কেউ। ওদিকে চোখ পড়েছে লুকা ব্রেযনেভের। নিকোলভকে দেখে কঠোর হলো তাঁর চেহারা। কড়া সুরে বললেন, ‘তুমি এখানে কী করছ, নিকোলভ?’

    ‘আপনি ওকে ভুল বুঝেছেন, মিস্টার ব্রেনেভ, মাঝখান থেকে বলল রানা। ‘পরে সব খুলে বলব। দীর্ঘ কাহিনী। শুধু এটুকু বলাই যথেষ্ট, নিজের মেয়েকে কেউ এত ভালবাসতে পারে, নিকোলভকে না দেখলে জানতাম না। ইউনার জন্যে মরতেও দ্বিধা নেই ওর।’

    কথাগুলো শুনে কেমন থমকে গেলেন ব্রেনেভ। কাঁধ ঝাঁকালেন। এগিয়ে গিয়ে বাবা ও মা’র হাত ধরল ইউনা। একবার ওকে দেখল নিকোলভ ও তামারা, তারপর তাকাল পরস্পরের চোখে। ওখানে খুব প্রিয় কাউকে হারিয়ে বসার দুঃখ, কষ্ট ও সত্যিকারের ভালবাসা। রানা আরেকবার বলল, ‘দুর্গে গিয়ে খুলে বলব সব। আশা করি তাতে ক্ষোভ দূর হবে সবার মন থেকে।’

    একটু পর ব্রেযনেভ এস্টেটের দিকে ছুটল মোটরকেড। সামনের গাড়িতে লুকা ব্রেনেভ, তামারা ও ইউনা। পরের গাড়িতে রানা ও নিকোলভ। পেছনে কয়েকটা গাড়িতে গার্ডরা।

    ‘কাজ তো শেষ, আমরা খারাপ করিনি, কী বলো?’ বলল রানা।

    মাথা নাড়ল নিকোলভ। না, বন্ধু, আমি কিছুই করিনি। যা করার করেছ তুমি একা। কষ্ট লাগছে যে আজ আর নেই তাতভ। আমি বেঁচে আছি জানলে খুব খুশি হতো।’

    বন্ধু হারাবার কষ্ট কতটা, জানে বলেই চুপ করে থাকল রানা।

    দুর্গে পৌঁছে ইউনাকে নিয়ে দোতলায় চলে গেল তামারা। লুকা ব্রেযনেভের সঙ্গে রানা ও নিকোলভ এল ড্রয়িংরুমে। সবাই বসার পর রানার দিকে চাইলেন বিলিয়নেয়ার। বেয়ারা এসে টেবিলে দিয়ে গেল লুই তেরো কনিয়াকের বোতল ও তিনটে ক্রিস্টালের গ্লাস। সবার জন্যে গ্লাসে ব্র্যাণ্ডি ঢাললেন ব্রেযনেভ।

    প্রথম থেকে খুলে বলতে লাগল রানা।

    বারবার নিকোলভকে দেখছেন ব্রেযনেভ, চোখে বিস্ময়। রানার কথা শেষ হওয়ার পর বললেন, ‘তার মানে ইউনাকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ দিতেও রাজি ছিল নিকোলভ। রানা তো চিরকালই হিরো, ওর কথা আলাদা। আর আমি, যে-লোক কখনও মানুষ চিনতে ভুল করি না, সে-ও একদম বোকা বনে গেছি নিকোলভের ব্যাপারে!’

    ব্র্যাণ্ডির গ্লাস হাতে চুপ করে বসে আছে নিকোলভ।

    ‘একটা কথা,’ বললেন ব্রেনেভ, ‘কোথায় লুকিয়েছিলে ওই ডিভাইস, নিকোলভ?’

    ‘ট্রেইলার থেকে রওনা হওয়ার পর প্রথমবারের মত যখন থামলাম, তখন,’ বলল নিকোলভ, ‘অন্য কোথাও রাখতে ভয় হচ্ছিল।’

    ‘কোথায় সরালে?’ জানতে চাইল রানা।

    ‘তাতভ আর আমি নিয়মিত খাবার ঘুষ দিতাম ওর ঝগড়াটে কুকুরটাকে, যাতে কান ফাটিয়ে না দেয়। যে- কোনও কিছু দিলেই দু’বার চিবিয়ে গিলে ফেলত। খাবারের সঙ্গে ডিভাইস, মাইক্রোফিল্ম আর ফ্ল্যাশ ড্রাইভ গিলিয়ে দিয়েছিলাম ওকে,’ বলল নিকোলভ। ‘কে ভাববে ওটার পেটে ওসব থাকবে! এতক্ষণে জঙ্গলের কোথাও পড়ে আছে মলমূত্রের ভেতর।’

    ‘নিকোলভ বোধহয় আর কখনও রাশায় ফিরতে পারবে না,’ ব্রেনেভকে বলল রানা, ‘ওর বাড়ি নেই। চাকরিও নেই। তবে ওর রয়েছে ইউনার জন্যে একবুক ভালবাসা।’

    মাথা দোলালেন ব্রেনেভ। ‘চাকরি, বাড়ি বা টাকা নিয়ে ভাবতে হবে না ওকে।’ চুপ হয়ে গেলেন তিনি। আনমনে কী যেন ভাবছেন। কিছুক্ষণ পর বললেন, ‘চিনি তামারাকে। আজও ভালবাসে নিকোলভকে। রাতে চুপচাপ কাঁদে ওর কথা ভেবে।’ এক্স এজেন্টের দিকে তাকালেন বিলিয়নেয়ার।

    তাঁর কথা শুনে হতবাক হয়েছে নিকোলভ। জবান ফিরতেই বলল, ‘আমিও ভালবাসি ওকে। ভালবাসব বাকি জীবন।

    ‘সুযোগ থাকলে তুমি ওকে বিয়ে করে সংসার পাতবে?’ জানতে চাইলেন ব্রেযনেভ।

    মাথা নিচু করে নিল অ্যান্টোনিন। ‘হ্যাঁ। কিন্তু জানি না তামারা আমাকে গ্রহণ করবে কি না।’

    ‘আজই ওর সঙ্গে কথা বলব,’ বললেন ব্রেনেভ। ‘আশা করি চুকেবুকে যাবে ঝামেলা।’ রানার দিকে তাকালেন তিনি। ‘এবার আর আটকে রাখব না তোমাদেরকে। রানা, নিকোলভ, তোমরা আহত এবং ক্লান্ত। এখন চাই ভাল চিকিৎসা। এ দুর্গ থেকে কয়েক মাইল দূরে ছোট্ট এক ক্লিনিক খুলেছি। আপাতত তোমরা ওখানে ভর্তি হও। নামকরা ক’জন ডাক্তার দেখবে তোমাদেরকে।’

    ‘আমার কিছুই হয়নি,’ আপত্তি তুলল রানা।

    মাথা নাড়লেন বিলিয়নেয়ার। ‘দেখেই বুঝতে পারছি সুস্থ নও। এখন তোমাকে ছেড়ে দিলে সবই জানবে রাহাত। ভয়ানক খেপে যাবে আমার ওপর। তুমি নিশ্চয়ই চাও না সেটা?’

    ৫৭

    বিলিয়নেয়ার ব্রেযনেভ বলেছিলেন, ছোট্ট ক্লিনিক খুলেছেন। অথচ ওটা উত্তর ফ্রান্সের সেরা আধুনিক প্রাইভেট হাসপাতাল। নিজে রানা ও নিকোলভকে ড্রাইভ করে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করিয়ে দিয়েছেন তিনি। সর্বক্ষণ ওদের ওপর চোখ রাখছে চারজন ডাক্তার আর আটজন নার্স।

    পরের দু’দিন গৃহবন্দির মত অলস সময় কাটিয়ে রীতিমত খেপে গেল রানা। ঠিক করল পালিয়ে যাবে বিলাসবহুল এই হাসপাতাল থেকে। তবে বুদ্ধিমান দু’জন ডাক্তার ওর মনের কথা বুঝতে পেরে ব্যবস্থা নিলেন: এখন থেকে বাগানে যেতে পারবে রানা। একা থাকতে চাইলে বিরক্ত করবে না কেউ।

    তৃতীয় দিন বাগানে যেতে পেরে খুশি হলো রানা। একটু পর দেখল দুই ক্রাচে ভর দিয়ে আসছে অ্যান্টোনিন নিকোলভ।

    দু’চার কথার পর আরামদায়ক একটা বেঞ্চে বসল ওরা। ক্রাচ দেখাল নিকোলভ। ‘প্রায় এক মাস লাগবে পা ঠিক হতে।’

    ‘তারপর যোগ দেবে মিস্টার ব্রেযনেভের অফিসে?’

    ‘না। ওঁর এক বন্ধুর অফিসে।’

    আস্তে করে মাথা দোলাল নিকোলভ। ‘আমার ওপর রেগে নেই তিনি।’ দূরে তাকাল। ‘গত দু’দিনে তিনবার আমাকে দেখতে এসেছে তামারা। আগেই আমার উচিত ছিল ওকে সব খুলে বলা। এখন আর কিছুই গোপন নেই।’

    ‘সব ভালর দিকে যাচ্ছে জেনে ভাল লাগছে,’ বলল রানা।

    ‘আর সেজন্যে, বন্ধু, চিরকালের জন্যে তোমার কাছে আমি কৃতজ্ঞ রয়ে গেলাম,’ জানাল নিকোলভ। ‘কোনও দিনই শোধ দিতে পারব না তোমার ঋণ।’

    ‘তুমি কোনও ঋণ নাওনি, কাজেই শোধ দেয়ার কথাও ওঠে না,’ বলল রানা।

    ‘প্রতিদিন চারবার দেখা করে ইউনা,’ হাসল নিকোলভ। ‘ওর ভেতর বেশ পরিবর্তন দেখছি।’

    ‘কী ধরনের?’ জানতে চাইল রানা।

    হাসিটা চওড়া হলো নিকোলভের। ‘নিজেই জেনে নিয়ো। তবে আমার মনে হয়েছে, তোমাকে বিয়ে করতে চায় ইউনা। ওর বয়স বছর দশেক বেশি হলে আমি হয়তো হতাম তোমার শ্বশুর!’ পকেট থেকে খাম বের করল সে। বাড়িয়ে দিল রানার দিকে। ‘খুব লজ্জা পাচ্ছে বলে আমাকে বলেছে তোমাকে দেয়ার জন্যে।’

    খামটা নিয়ে ভেতর থেকে গোলাপি কাগজ বের করল রানা। পড়তে লাগল ইউনার চিঠি।

    রানা,

    অনেক-অনেক-অনেক ধন্যবাদ। তুমি আমার বাবা আর আমার জন্যে যা করেছ, সেটা কখনও ভুলব না। আশা করি কয়েক দিনের ভেতর তোমার সঙ্গে দেখা হবে।

    আমার বুক ভরা ভালবাসা নিয়ো, সবচেয়ে সেরা বন্ধু তুমি আমার!

    ইউনা নিকোলভ’।

    চিঠিটা ভাঁজ করে বুক পকেটে রাখল রানা। ওর হৃদয় স্পর্শ করেছে লক্ষ্মী মেয়েটার অকপট লেখা। মৃদু স্বরে বলল ও, ‘ইউনাকে বোলো, কখনও হারিয়ে ফেলব না ওর এই মিষ্টি চিঠি।’

    মুচকি হাসল নিকোলভ। ‘প্রথম প্রেম বলে কথা!’

    চুপ হয়ে গেল ওরা। চারপাশে সবুজ টিলা, রঙিন ফুলের বাগান, নীল জলের সুইমিংপুল। চমৎকার দৃশ্য। ভাবা যায় না গত ক’দিন কীসের ভেতর দিয়ে গেছে ওরা। আস্তে করে মাথা নাড়ল নিকোলভ। ‘খারাপ লাগছে কুকুরটার জন্যে। বেচারা হয়তো পেটে খিদে নিয়ে জঙ্গলে ঘুরছে।’

    ‘বেযুখফের খামারে বা অন্য খামারটায় ইঁদুরের অভাব নেই। নিজের ব্যবস্থা করে নেবে,’ বলল রানা, ‘তুমিই তো বলেছ, ভালমন্দ সবই গিলে ফেলে। হয়তো নিজের জন্যে খুঁজে নেবে নতুন মনিব।’

    মাথা দোলাল নিকোলভ।

    .

    বিকেলে সুস্থ বোধ করছে জানিয়ে প্রায় জোর করেই হাসপাতাল থেকে রিলিয় নিল রানা। নরম্যাণ্ডিতে রানা এজেন্সিতে পড়ে আছে অনেক কাজ। তবে ওখানে যাওয়ার আগে ট্যাক্সিতে চেপে হাজির হলো ব্রেযনেভের দুর্গে। সরাসরি ওকে নেয়া হলো বিলিয়নেয়ারের লিভিংরুমে। সোফায় বসার পর আবারও ওকে ধন্যবাদ দিলেন বৃদ্ধ। তারপর তুললেন পারিশ্রমিকের বিষয়ে। এক মিলিয়ন ডলারের একটা চেক লিখে রেখেছেন।

    মাথা নাড়ল রানা। হাসিমুখে জানতে চাইল ও, ‘গতবার কত দিয়েছিলেন?’

    থমকে গেলেন ব্রেযনেভ।

    ‘তুমি তো কিছুই নাওনি। কিন্তু বারবার…’

    ‘কাজটা নিয়েছি আমার বস আর আপনার সম্মানে। কাজেই এবারও টাকা নেয়ার প্রশ্ন ওঠে না।’

    ব্রেযনেভ বললেন, ‘অন্তত হেলিকপ্টারে করে তো তোমাকে পৌঁছে দিতে পারি রানা এজেন্সিতে? পরে আমার শোফার দিয়ে আসবে তোমার গাড়ি।’

    মাথা নাড়ল রানা। ‘ড্রাইভ করতে ভাল লাগে। চারপাশ দেখতে দেখতে পৌঁছে যাব গন্তব্যে।’ সোফা ছেড়ে উঠে দাঁড়াল ও। দরজার দিকে রওনা হয়ে বলল, ‘পরে দেখা হবে।’

    উঠে দাঁড়িয়েছেন ব্রেনেভও। নরম সুরে বললেন, ‘অজস্র ধন্যবাদ, রানা।’ অদ্ভুত চোখে দেখছেন নির্লোভ বাঙালি ছেলেটাকে। রানা দরজার কাছে যেতেই হঠাৎ পেছন থেকে ডাকলেন, ‘রানা?’

    ঘুরে তাকাল বিসিআই এজেন্ট।

    চকচক করছে গম্ভীর বিলিয়নেয়ারের দু’চোখ। ‘একটা কথা, তুমি কিন্তু আমার প্রায় নাত-জামাই হয়ে গেছ!’

    ‘কী করে?’ মৃদু হেসে ফেলল রানা।

    ‘কী জাদু করেছ সেটা তুমিই জানো, তবে ওর গোলাপি ঘরে মাসুদ রানা লিখে সবক’টা দেয়াল লাল, কালো, নীল, সবুজ করে ফেলেছে ইউনা! মুখে শুধু তোমার নাম!’

    ‘ঠিক আছে, নাত-জামাই হতে রাজি, তবে আগে ষোলো বছর বয়স তো হোক আমার,’ বলে লিভিংরুম থেকে বেরিয়ে এল রানা। একটু পর দুর্গ থেকে বেরিয়ে তুমুল বেগে নরম্যাণ্ডির দিকে ছুটল ওর গাড়ি। আনমনে ভাবছে বিসিআই এজেন্ট: সত্যিই, ষোলো বছর বয়সে ফিরে যেতে পারলে মন্দ হতো না!

    ***

    ⤶
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমাসুদ রানা ৪৩৫ – মৃত্যুদ্বীপ
    Next Article মাসুদ রানা ৪৬৫ – কাউণ্ট কোবরা

    Related Articles

    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৩৮৫-৩৮৬ – হ্যাকার (দুই খণ্ড একত্রে)

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫৬ – টপ টেরর

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫৪ – নরপশু

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫৩ – ধর্মগুরু

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫২ – কালো কুয়াশা

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫১ – মায়া মন্দির

    July 22, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }