Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মাসুদ রানা ৪৬৭ – শকওয়েভ

    কাজী আনোয়ার হোসেন এক পাতা গল্প446 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    শকওয়েভ – ৬৬

    ছেষট্টি

    ধীর গতির ভিডিয়ো-দৃশ্যের মত ঘটছে যেন ঘটনাটা। যে- দেয়ালটা ধরে রেখেছিল গার্ডারের প্রান্ত, ভিতরের দিকে বাঁকা হয়ে ধসে পড়ল সেটা। অবলম্বন হারিয়েছে; তিন আশ্রিতকে নিয়ে পড়ে যেতে শুরু করল রুফ সাপোর্ট।

    ছুটন্ত ঢেউয়ের মাঝে বিশাল, সাদা একটা কিছুকে ভেসে আসতে দেখল রানা সেলেনার কবজি আঁকড়ে ধরে পড়তে পড়তে। বিদ্যুৎ-ঝলকের মত উপলব্ধিটা এল ওর মনে। স্রেফ পানির চাপে ধসে পড়েনি দেয়াল। মাস্তুলবিহীন এক সেইলিং ইয়ট যুক্ত হয়েছে এর সঙ্গে, জলের দানো গিলে নিয়েছিল যেটাকে বহু মাইল দূরের সাগরে।

    দেয়ালের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে সমান হয়ে গেছে ইয়টের নাক। পড়ন্ত গার্ডারের কয়েক ইঞ্চি নিচ দিয়ে চলেছে এখন।

    সেলেনাকে নিয়ে লাফ দিল রানা ডেকের উদ্দেশে। পিচ্ছিল, জলমগ্ন কাঠের উপর পড়ল দু’জন ঝপাস করে। সঙ্গে সঙ্গেই সরসর করে পিছলে সরে যেতে লাগল ছুটন্ত ইয়টের স্টার্নের দিকে।

    হুইলহাউসের কোনায় গিয়ে কাঁধটা বাড়ি খেতেই অস্ফুটে কাতরে উঠল রানা। মুক্ত হাতে ডেকের রেইল ধরে ফেলল ও, ফিরে পেল নিজেদের নিয়ন্ত্রণ। কাছেই আরেকটা ‘ঝপাস আওয়াজে বুঝতে পারল, ফিল কোহেনও অনুসরণ করেছে ওদেরকে।

    গার্ডারটা যদি বোটের উপর পড়ত, দু’টুকরো হতো ইয়টটা। দু’ইঞ্চির জন্য স্টার্ন মিস করল ওটা; পানির ফোয়ারা ছিটাল আধডোবা ইয়টটার পিছনে।

    স্রোতের সম্মুখগতির কারণে সচল রয়েছে বোটটা। নানান দিক থেকে গাছের গুঁড়ি এসে বাড়ি মেরে মেরে ছাল তুলে ফেলছে ওটার। ডানে আর বাঁয়ে দুলছে ইয়ট বিপজ্জনকভাবে।

    লবণজলের জ্বলুনিতে চোখ খুলে রাখা দায় হয়ে পড়েছে রানার। শক্ত মুঠিতে রেইল ধরা এক হাতে, আরেক মুঠোয় সেলেনার কবজি।

    কীসের জানি ঠেলা লাগছে পায়ে।

    কোহেন ওটা। সর্বশক্তিতে জড়িয়ে ধরেছে কিছু একটা। ডেকের সঙ্গে দৃঢ়ভাবে আটকানো অবলম্বনটা।

    পিটপিট করে চোখ থেকে পানি সরিয়ে দেখতে পেল রানা, সোজা এগিয়ে চলেছে ওরা বিপরীত দেয়ালের দণ্ডায়মান অবশিষ্টাংশের দিকে।

    ছ্যাৎ করে উঠল মনটা অমঙ্গল আশঙ্কায়। দেয়ালের সঙ্গে বাড়ি খেলে চুরমার হয়ে যেতে পারে নৌকাটা।

    কোহেনের গাছটাই বাঁচাল ওদেরকে সরাসরি দেয়ালে আঘাত করা থেকে। বিরাট এক V-আকৃতির খোঁড়ল খুঁড়ল ওটা পাথুরে দেয়ালে আঘাত করে। এর দু’সেকেণ্ড পরই, ফোকরটার এবড়োখেবড়ো কিনারে ঘষা খেয়ে সশব্দে কেঁপে উঠল ইয়ট। আলগা ইটপাথরের টুকরো ডেকের উপর পড়ে ছিটকে গেল এদিক-সেদিক। তার পরই প্রবল স্রোতের টানে বেরিয়ে এল ওরা দালান ছেড়ে।

    পেরিমিটার ফেন্সের যতটুকু খাড়া রয়েছে এখনও, সেটার উপর দিয়ে পার হতে গিয়ে খরখরে ঝাঁকুনি অনুভব করল বোটের যাত্রীরা। ধাবমান তরঙ্গ ছাড়া সামনে মনে হচ্ছে নেই তার কিছু। এখনও কয়েকটা গাছ এক পায়ে দাঁড়িয়ে আছে ফ্যাক্টোরি বিল্ডিঙের চারপাশে।

    অবিশ্বাস্য রকমের শক্তিশালী প্লাবনটা। প্রচণ্ড গতিতে এগিয়ে চলেছে ইয়ট নিয়ন্ত্রণহীনভাবে। শক্ত মতন, ভাঙাচোরা নানান কিছুতে চারদিক থেকে ঠোক্কর খেয়ে এপাশ-ওপাশ দুলতে লাগল বাদামের খোসার মত।

    পানির ঝাপটা একটু পর পর অন্ধ করে দিচ্ছে রানাকে। তার পরও হাত ছাড়ছে না সেলেনার। অবিশ্বাস্য লাগছে যে, বিধ্বংসী এই সুনামিতেও এতক্ষণ ধরে টিকে রয়েছে ওরা। একেকটা সেকেণ্ড পার হচ্ছে, আর মনে হচ্ছে ওর, এই বারই বুঝি খতম হয়ে গেল! কিন্তু একটা-না-একটা মিরাকল ওদের বাঁচিয়ে দিচ্ছে প্রতি বারই।

    বলা মুশকিল, কতখানি গভীর এই পানি। দুর্বার গতিতে ছুটে চলেছে ওরা ডাঙার উপর দিয়ে। ভাসমান গুঁড়ি আর ভাঙা ডালপালা চতুর্দিকে।

    পাথরে টক্কর লেগে বার বার গোঁত্তা খাচ্ছে ইয়টটা। কখনও অনেক উঁচুতে উঠছে ওটার সামনের দিক, কখনও ডুব মারছে হুইলহাউসের উপর ভেঙে পড়া ফেনিল পানির নিচে।

    কত দূর সরে এসেছে ওরা কারখানা থেকে? কোনও রকমে পিছনদিকে ঘাড়টা ঘুরিয়ে অবাধ সাগর ছাড়া কিছুই দেখতে পেল না রানা।

    বলা অসম্ভব, ডাঙার কত দূর অব্দি টেনে নেবে ওদের সুনামি। এটুকু জানে শুধু, আঠার মতন লেগে থাকতে হবে ইয়টের সঙ্গে। ফাটল ধরা খোলটা যাতে পুরোপুরি তলিয়ে না যায়, এটাই এখন একমাত্র চাওয়া।

    জলমগ্ন বোটটার পাশে কী যেন জোরালো ধাক্কা মারল। রেইলটা প্রায় ছুটেই যাচ্ছিল রানার হাত থেকে। খাড়া হয়ে গেছে ডেক। চোখে লোনা পানির জ্বালা নিয়ে দেখতে পেল ও, মাটিতে আটকে থাকা বিশাল এক গাছের গুঁড়ির ভাঙা অংশ ফেড়ে দিয়েছে ইয়টটাকে। অজগরের মত বিরাট বিরাট সব মোটা শেকড়ের জটে আটকে গেছে এক পাশ। এ অবস্থায় ইয়টটাকে উল্টে দেয়ার তাল করছে স্রোত।

    বুঝতে পারছে রানা, স্রোতের ধাক্কায় বোট ওল্টানোর আগেই করতে হবে যা করার।

    কিছুটা দূরেই, একখানা কুঠার লটকানো হুইলহাউসের আউটার বাল্কহেডে। অতিশয় ঢালু ডেক ধরে স্বল্প এই দূরত্বটুকু যদি পেরোতে পারে ও, শেকড় কেটে মুক্ত করতে পারবে হয়তো বোটটাকে। কিন্তু সাহস পাচ্ছে না মেয়েটার কবজি ছাড়তে।

    ‘যাও তুমি, রানা!’ স্রোতের গর্জন ছাপিয়ে বলল সেলেনা চিৎকার করে। ‘রেইল ধরে রাখছি আমি!’

    কবজি ছেড়ে দিল রানা। রেইলিং ছাড়তেই সড়াত করে পিছলে গেল ডেকের উপর দিয়ে। বিপরীত দিকের ডেক রেইল ছাড়া আর কিছুই নেই ওকে ঠেকানোর মত।

    প্রচণ্ড জোরে পা দুটো আঘাত করল রেইলে। শক্তিশালী একটা ঢেউ এসে অকস্মাৎ গুঁড়িটাকে ঠেলা মারতেই সোজা হয়ে গেল ডেক। হয়তো কয়েক সেকেণ্ডের জন্য। আবারও আগের অবস্থানে ফিরে যেতে পারে বোটটা। যেতে পারে উল্টে।

    এ-ই সুযোগ, ভাবল রানা। ভয়ানক দুলুনির সঙ্গে এক পাশ থেকে আরেক পাশে পিছলাতে পিছলাতে হুইলহাউসের দিকে এগিয়ে গেল ও হামাগুড়ি দিয়ে।

    একটা ঢেউ এসে ঝাপটা দিলে লেপটে গেল রানা বাল্কহেডের সঙ্গে। আঁকুপাঁকু করছে অক্সিজেনের জন্য। অসাড় শরীরে মালুম পাচ্ছে না যন্ত্রণার। হাত বাড়াল কুঠারটা মুঠোয় নেয়ার জন্য।

    যে-মুহূর্তে আংটা থেকে খুলে আনল ওটা, চ্যাপ্টা মতন ধারাল কী যেন সোজা ছুটে এল ঢেউয়ের ফণা কেটে।

    লম্বা হয়ে শুয়ে পড়ল রানা ডেকের উপর। কাঁধ-মাথা চলে গেল পানির নিচে। ফ্যাক্টোরি বিল্ডিঙের ছাত থেকে খুলে আসা টিন শিটটা চলে গেল গায়ের উপর দিয়ে। রিকট আওয়াজে হুইলহাউসের কোনা চিরে দিল টিনের পাত। পাতলা কাঠ ভেদ করে ঢুকে দু’টুকরো করে ফেলল, সামনে যা-কিছু পেল।

    আধ সেকেণ্ডও যদি দেরি হতো রানার, ওরও একই দশা হতো!

    স্রোত এবার গুঁড়িটাকে পানির গভীরে টেনে নিতে চাইছে। এবার সত্যি সত্যিই ওল্টাতে শুরু করল ইয়ট।

    প্রায় খাড়া হয়ে যাওয়া হুইলহাউসের ক্ষতবিক্ষত কাঠামো. ধরে ঝুলে রইল রানা কোনও মতে। কানে ভেসে এল সেলেনার চিৎকার। কিন্তু জায়গায় দেখতে পেল না ওকে।

    বোটটা পুরোপুরি উল্টে যেতেই ডুবে গেল রানা পানিতে আছড়ে পড়ে। শক্তিশালী ঘূর্ণি-আবর্ত টেনে নিয়ে যেতে চাইছে ওকে পানির গভীরে। হাতপা চালিয়ে যুঝছে ও, সারফেসে ভেসে ওঠার চেষ্টা করছে। শ্রবণেন্দ্রিয় ভরাট করে রাখা খলবলে শব্দের ভিতরও উপর থেকে আসা জোরালো আওয়াজটা টের পেল অস্পষ্টভাবে।

    দারুণ জোরে কিছু একটা আঘাত করল পিঠে। ফুসফুস থেকে বেরিয়ে গেল সব বাতাস। সঙ্গে সঙ্গে পানির আরও গভীরে তলিয়ে গেল রানা।

    নির্জীব হয়ে পড়েছে ও। ডুবছে… ডুবে যাচ্ছে। অদ্ভুত এক প্রশান্তি যেন পানির নিচে। স্রোতের বিরুদ্ধে লড়তে আর সায় দিচ্ছে না মন। চিরশান্তির ঘুম এসে নামছে—

    ঝট্ করে চোখ দুটো খুলে গেল রানার। হাত ঝাপটাতে লাগল ও উপরে ওঠার জন্য। ভাসমান জঞ্জালের কাঠামো- গুলো দেখতে পাচ্ছে নিজের চারপাশে। সচেতনতা ফিরতেই চোখে পড়ল ওল্টানো ইয়টের স্টার্নটাও। নিচ থেকেও ঠাহর করতে পারছে, ম্লান আলো পড়ে চকচক করছে পানির উপর বেরিয়ে থাকা তলাটা।

    নড়ছে না আর ওটা। অস্বচ্ছ আঁধার আর ভাসমান ময়লা- আবর্জনার মধ্য দিয়ে উপলব্ধি করল, দুই গাছের মাঝখানে ভাঙা নাক ঢুকে রয়েছে বোটটার। গাছ দুটো এখনও খাড়া রয়েছে মানে, নিঃশেষ হয়ে এসেছে দুর্যোগটার মোমেন্টাম। সে-কারণেই মন্থর হয়ে এসেছে যেন স্রোত।

    ভুস করে সারফেসে ভেসে উঠল রানা। পৃথিবীর সবটুকু অক্সিজেন যেন হাঁ করে ভরে নিতে চাইছে ফুসফুসে। পিটপিট করে চোখ থেকে লোনা পানি ঝরিয়ে নিয়ে তাকাল চারপাশে।

    কোথায় কোহেন?

    কোথায় সেলেনা?

    নেই কোনও নামনিশানা।

    ডাক দিল নাম ধরে।

    সাড়া নেই কারও।

    বিস্তৃত ইনল্যাণ্ডের চড়াইয়ের মাঝে, বৃক্ষে ছাওয়া উঁচু এক শৈলশিরায় স্থির হয়েছে ইয়ট। যে-গুঁড়িটার কারণে উল্টেছে নৌকাটা, আধখানা হাল ছিঁড়ে নিয়ে ভেসে গেছে ওটা নির্ঘাত। দুই গাছের ফাঁকে কায়দামতন আটকেছে বাকি আধখানা। নাকটা গুঁজেছে ঢালের বুকে।

    ‘সেলেনা!’ ডাকল রানা আবার। ‘মিস্টার কোহেন!’

    সাঁতরে চলল ও খাড়াইয়ের দিকে।

    বেরিয়ে থাকা একখানা শেকড়ের উদ্দেশে হাত বাড়িয়ে পিচ্ছিল কাদায় টেনে ওঠাল নিজেকে। কম্পিত পা দুটোয় উঠে দাঁড়িয়ে ফিরে তাকাল পানির দিকে।

    জীবনেও দেখেনি এমনতরো ধ্বংসযজ্ঞ। যুদ্ধক্ষেত্রেও নয়। যেখানটায় দাঁড়িয়ে ও, সেখান থেকে দৃষ্টিগোচর হচ্ছে পুব দিকে বিস্তৃত গোটা উপকূলরেখা। পার্থক্য শুধু, উপকূল বলতে নেই কিছু আর সেখানে।

    সুনামির তাণ্ডব সয়ে টিকে থাকা কয়েকটা গাছ আর দালানের মাথা কেবল জেগে রয়েছে পানির উপর। আরও দূরের ইনল্যাণ্ডে, বানের স্রোত বইছে এখনও নিচু জমির উপর দিয়ে। দূর থেকে দেখে আগ্নেয়গিরির লাভা বলে মনে হচ্ছে জঞ্জালে ভরা ঢেউটাকে।

    চোখের সামনেই দূরের এক বসতি প্লাবিত হতে দেখল রানা। কাত হয়ে ভাসতে ভাসতে ভয়ঙ্করভাবে সামনের দিক গুঁড়িয়ে দিয়ে আস্ত এক ট্রাক ঢুকে গেল কাঠের এক বাড়ির ভিতর। সাগরের ছোবলে ধুয়ে মুছে গেল পলায়নপর গ্রাম- বাসীদের বড়সড় একটা দল।

    আরেক দিকে মুখ ঘোরাল ও। কিচ্ছু করার নেই বেচারাদের জন্য।

    ‘সেলেনা!’ আবার চেঁচাল গলাটা ফাটিয়ে।

    নাহ, পেল না উত্তর।

    অলক্ষুণে একটা ভাবনা জেঁকে বসতে আরম্ভ করল রানার মনে। সেলেনাকে হারানোর জন্য দোষারোপ করতে লাগল নিজেকে। কেন হাত ছাড়তে গেল মেয়েটার?

    সোজা উপরদিকে উঠে গেছে বৃক্ষ-ছাওয়া ঢাল। ঢেউ হয়তো উপরে ছুঁড়ে দিয়েছে ওকে—এই আশায় টলতে টলতে এগিয়ে চলল রানা ঝোপঝাড় ভেঙে। ডানে-বাঁয়ে নজর রেখেছে।

    হঠাৎ ভেসে এল কর্কশ চিৎকার।

    ঘুরে দাঁড়াল রানা।

    কোহেনের গলা! ওল্টানো বোটটার দিক থেকে আসছে।

    হামাগুড়ি দিয়ে আগের জায়গায় ফিরে এসেই ছুটল ও শব্দ লক্ষ্য করে। আঁচড়ে-খামচে বোটটার পিঠে উঠে দেখতে পেল লোকটাকে। পানির কিনারায় পড়ে রয়েছে কাদার মধ্যে। কপালের নতুন একটা গভীর ক্ষতের কারণে রক্তে ভেসে যাচ্ছে মুখ।

    ‘হেল্প!’ ব্যথায় হাঁপাতে হাঁপাতে ডান পায়ের দিকে ইঙ্গিত করল কোহেন। ‘নাড়তে পারছি না!’

    কারণটা দেখতে পেল রানা। ইয়টের নিচে চাপা পড়েছে পা-টা।

    কোহেনকে সাহায্য করবে, না সেলেনাকে খুঁজে বের করবে আগে, সেটা নিয়ে দ্বিধায় ভুগল রানা একটা মুহূর্ত। শেষ পর্যন্ত অসহায় অবস্থায় ফেলে যেতে পারল না কোহেনকে।

    পিছলে নামল ও বোট থেকে। মাটি খোঁড়ার মত কোনও কিছু পাওয়া যায় কি না, খুঁজতে লাগল আশপাশে। পেয়ে গেল চ্যাপ্টা একখানা পাথর। বেলচার কাজ চালানো যাবে এ দিয়ে।

    কোহেনের পাশে হাঁটু গেড়ে বসে বেলচা-টার সাহায্যে ভেজা মাটি তুলতে শুরু করল ও পায়ের নিচ থেকে।

    ‘ডক্টর বার্নহার্ট কোথায়?’ ব্যথায় বিকৃত মুখে জিজ্ঞেস করল কোহেন।

    ‘একই প্রশ্ন আমারও।’ খোঁড়া বন্ধ করেনি রানা।

    কয়েক মিনিটেই মুক্ত হয়ে গেল পা-টা।

    ‘নাহ, ভাঙেনি। মচকেছে শুধু, গোড়ালির বেঢপ ফোলাটা পরীক্ষা করে রায় দিল রানা। ‘দাঁড়াতে পারবেন?’

    ‘পারব বোধ হয়।’

    ধরল কোহেন রানার বাড়ানো হাতটা। কোঁচকানো মুখে উঠে দাঁড়াল ধীরে ধীরে। খোঁড়াতে খোঁড়াতে খানিকটা শুকনো জায়গায় উঠে হেলান দিল একটা গাছের গায়ে।

    ‘যিশুর মা!’ দৃষ্টি মেলে দেখছে প্রলয়ের দৃশ্য। শ্বাস নিতেও ভুলে গেছে যেন।

    ‘থাকুন এখানেই,’ বলল তাকে রানা।

    ‘চললেন কই আপনি?’ বোকার মত প্রশ্ন করল কোহেন।

    ‘খুঁজতে হবে না সেলেনাকে?’ কাঁধের উপর দিয়ে জবাব দিল রানা। কণ্ঠে উম্মা। হাতপায়ের সাহায্যে নামতে লাগল আবার পানির দিকে।

    দ্বিধাহীন চিত্তে ঝাঁপ দিল ও পানিতে। বোটটা ছাড়িয়ে সাঁতরাতে লাগল ভেসে আসতে থাকা জঞ্জালগুলো এড়িয়ে। সর্বত্র খুঁজে বেড়াচ্ছে চোখ দুটো। মাঝে মাঝে থেমে ডাকছে মেয়েটার নাম ধরে। প্রতি মুহূর্তেই আশঙ্কা বাড়ছে জলজ্যান্ত সত্যটার ব্যাপারে—সাঁতার জানে না সেলেনা। ওল্টানো বোটের আঘাত থেকে রক্ষা যদি পেয়েও থাকে, ভেসে যাবে বন্যার স্রোতে।

    ফুসফুস ভরে অক্সিজেন নিল রানা। ডুব দিল জলের আঁধারে। শক্তিশালী স্ট্রোকের সাহায্যে নেমে চলেছে নিচের দিকে।

    শেকড় যেখানে ছিঁড়ে নিয়েছে বোটটা, সেখানটায় এসে সাত ফুট নিচে খুঁজে পেল রানা ছেঁড়া অংশের এবড়োখেবড়ো ফোকরটা। সাঁতরে ঢুকে পড়ল ও ফোকরের অন্ধকারে। মনে হলো, সাঁতার কাটছে কালির দোয়াতের মধ্যে। আশার দীপ টিমটিম করছে অন্তরে—আটকা পড়া কোনও এয়ারপকেটের মধ্যে জীবিত দেখতে পাবে মেয়েটাকে।

    কিন্তু নোংরা পানি ছাড়া কিচ্ছু নেই বোটের অভ্যন্তরে। ফোকর গলে বেরিয়ে এল রানা। পানি ঠেলে ফিরে চলল সারফেসের দিকে।

    ‘লাভ নেই, রানা! চলে আসুন!’ কোহেনের কণ্ঠ ভেসে এল পাড় থেকে। ‘হারিয়েছি আমরা মেয়েটাকে।’

    পাত্তা দিল না রানা। এত সহজে হাল ছাড়ার বান্দা নয় ও।

    কঠোর প্রচেষ্টায় সাঁতরে এল অর্ধনিমজ্জিত স্টার্নের পাশ দিয়ে। এখান থেকে আরও অনেকখানি চোখে পড়ছে রিজের পশ্চিম পাশটা। প্রাণপণে পানি কেটে চলল ও সেদিকে।

    সাঁতরানোর মাঝে বিরতি নিল রানা ওয়াটারলাইন আর ঢালু পাড় থেকে শুরু করে উপরে জন্মানো গাছপালার ফাঁকে ফাঁকে নজর বোলানোর জন্য। রাজ্যের আবর্জনা ছলাৎ-ছল ডুবছে-ভাসছে পাড়ের কাছে ফেনিয়ে ওঠা পানিতে। পুরু হয়ে জমে থাকা লতাপাতা ছাড়া কিছুই দেখতে পেল না ওয়াটারলাইনের উপর। নৈরাশ্যবাদী একটা কণ্ঠ চুপি চুপি বলল ওর কানে: ঠিকই বলেছে কোহেন। আশা করাটা বাতুলতা এখন।

    কথাটা মনে আসতেই হৃদয়ঙ্গম করতে পারল রানা, কখন জানি ওর মনের অনেকখানি জায়গা অধিকার করে নিয়েছে মহৎ মনের নিঃস্বার্থ মেয়েটা। ঘুরল ও পরাজয়ের বেদনা নিয়ে। হঠাৎ করেই অসীম ক্লান্তি যেন ছেঁকে ধরেছে ওকে। সাঁতার দূরের কথা, ভেসে থাকার বল পর্যন্ত পাচ্ছে না শরীরে।

    কমতে শুরু করেছে পানি। সাগরের ডাকে ফিরে চলেছে যেন আগের ঠিকানায়।

    স্রোতের টান অনুভব করছে রানা। উল্টোমুখী সাঁতরাতে হবে এখন ওকে।

    শৈলশিরার কিনারা জুড়ে চোখের সামনে নেমে গেল পানির লেভেল। সাঁতার ছাড়াই এগোনো যাবে এখন।

    জলের উপর থেকেই দেখতে পাচ্ছে রানা জমিনের উত্থান। কাদামাখা, ভাঙাচোরা জঞ্জালের ছড়াছড়ি চারদিকে।

    নোংরা একটা আকৃতি নজরে এল চোখের কোনা দিয়ে। পাড়ে শুয়ে থাকা ওপড়ানো একটা গাছের আড়ালে ওটার অর্ধেকটা। পঁচিশ গজমত বাম দিকে।

    ধড়াস করে উঠল হৃৎপিণ্ড। ঘুরেই পানি ভাঙতে শুরু করল রানা পাড়ের দিকে।

    ‘সেলেনা!’ পৌঁছে গেছে ও।

    হ্যাঁ, মেয়েটাই। মড়ার মত পড়ে রয়েছে কাদার মধ্যে। ভেজা চুলগুলো প্রায় ঢেকে দিয়েছে মুখটা।

    যেটুকু স্বস্তি নিয়ে ওর উদ্দেশে সাঁতরাচ্ছিল রানা, শরীরে রক্ত দেখে এক লহমায় তা মিলিয়ে গিয়ে নতুন করে দুর্ভাবনা গেড়ে বসল মনে।

    ‘সেলেনা!’

    না, এক চুল নড়ছে না ও!

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমাসুদ রানা ০৭২-৭৩ – সেই উ সেন (দুই খণ্ড একত্রে)
    Next Article মাসুদ রানা ৪৬৪ – স্ট্রেঞ্জার

    Related Articles

    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৩৮৫-৩৮৬ – হ্যাকার (দুই খণ্ড একত্রে)

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫৬ – টপ টেরর

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫৪ – নরপশু

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫৩ – ধর্মগুরু

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫২ – কালো কুয়াশা

    July 22, 2025
    কাজী আনোয়ার হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫১ – মায়া মন্দির

    July 22, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }