ডার্টি গেম – ২৮
আটাশ
মাথা নিচু করে নিল এফবিআই-এর স্পেশাল এজেন্ট এডওয়ার্ড সিমন্স, দমে গেছে তার মন। এইমাত্র প্রচণ্ড বিস্ফোরণে উড়ে গেছে আর্টিলারি বাঙ্কার। চারপাশে আগুনের বিশাল গোলক।
সিমন্সের দেয়া কোঅর্ডিনেট্স্ অনুযায়ী দ্বীপের ওপর দিয়ে নেভির বিমান উড়ে যাবে কি না, জানা নেই তার। উসবার্টি হয়তো তার কথায় গুরুত্ব দেননি। হয়তো এক কথায় তাঁকে মানা করে দিয়েছেন ডিআইএ চিফ।
সেক্ষেত্রে নিজে কী করতে পারবে সিমন্স?
অবশ্য উসবার্টির চোখে আগ্রহের ছাপ দেখেছে ও।
তিনি হয়তো ভেবেছেন, কাগজ নেয়ায় সহজেই ওকে সন্তুষ্ট করা গেছে।
যতই ভাবছে সিমন্স, বুঝতে পারছে যে ওর মতই নিজেও আসলে অসহায় উসবার্টি। দু’জনেরই বস্ হয়তো চান গোটা ব্যাপারটা পাপোশের নিচে চাপা দিতে।
সেক্ষেত্রে কী করবেন উসবার্টি?
বস্ মানা করার আগেই হয়তো নেভিতে যোগাযোগ করেছেন তিনি। মনে মনে স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা করছে সিমন্স, উসবার্টি যেন সে-কাজটাই করেন। তবে রানাসহ আর্টিলারি বাঙ্কার উড়ে যাওয়ার পর এখন আর বাঙালি এজেন্টের বাঁচার কোন উপায় নেই।
এখন ব্র্যাড স্টিলকে গ্রেফতার করতে হলে কোঅর্ডিনেট্স্ অনুযায়ী যেতে হবে নির্জন সেই দ্বীপে।
এককাপ কফি নেয়ার জন্যে কিউবিকল থেকে বেরিয়ে এল সিমন্স। নিজেকে সান্ত্বনা দিতে চাইল-বাঙালি হিরোকে বাঁচাবার জন্যে সাধ্যমত চেষ্টা করেছি। এরই ভেতরে বিসিআই অফিসের সবাই জেনে গেছে, তাদের সহকর্মী এখন আর নেই।
সিমন্সের মনে পড়ল রানাকে কত শ্রদ্ধার দৃষ্টিতে দেখে রায়হান রশিদ। কথাটা ভাবতে গিয়ে মুখের ভেতরে তিতকুটে স্বাদ পেল সে।
অফিসে ফিরে বিসিআই-এর কমপিউটার ডিপার্টমেন্টে ফোন দিল। তারই ফাঁকে চোখ বোলাল কমপিউটার স্ক্রিনে। হঠাৎ ধক করে উঠল তার হৃৎপিণ্ড। জঙ্গলে পুরু এক গাছের আড়াল থেকে বেরিয়ে এসেছে মাসুদ রানা!
তার প্রচণ্ড এক ঘুষি খেয়ে ছিটকে পড়ল জাপানি খুনি।
চট্ করে কল কেটে কমপিউটার স্ক্রিনে মন দিল সিমন্স।
.
জঙ্গলের ভেতরে শ্যাননকে ধাওয়া করেছে রানা। গত ঊনত্রিশ ঘণ্টা স্রেফ ফূর্তির জন্যে নির্যাতন, ধর্ষণ ও খুন করে গেছে ব্রিটিশ সাইকো। এল সালভেদরের ড্রাগ লর্ড ও তাদের দলের সদস্যদের চেয়ে বড় অপরাধী সে। নিজে নানান সময়ে বহু মানুষকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে রানা। তবে সেটা করেছে দেশের ক্ষতি ঠেকাতে গিয়ে। বিষয়টা ব্যক্তিগত কিছু ছিল না। এবং ব্যক্তিগত কারণে যখন কাউকে খুন করেছে, তার পেছনে সবসময় ছিল উপযুক্ত কারণ। এই দ্বীপে নিজের চোখে দেখেছে কীভাবে চরম নির্যাতন করে তিলে তিলে আলকারাযকে খুন করেছে ইংরেজ সাইকো। আর এ- ধরনের ভয়াবহ অপরাধের জন্যে অবশ্যই তার পাওনা হয় কষ্টকর মৃত্যু। শ্যাননের মতই মস্তবড় এক অপরাধী ডার্টি গেম শো-র প্রযোজক ব্র্যাড স্টিল। অন্য মানুষের জীবন নিয়ে খেলার জন্যে অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে তাকে।
তিন শ’ গজ দূরে প্রাণপণে ছুটে পালাচ্ছে রুপার্ট শ্যানন। বাড়াতে চাইছে রানার সঙ্গে ব্যবধান। তাড়া খেয়ে আবারও গিরিখাদের দিকে চলেছে সে। তাতে সামনে পড়বে খাড়া পাথুরে কার্নিশ। ওটার পর আছে শুধু বিশাল এক কালো গভীর গহ্বর। ওখানে প্রবেশ করেনি সূর্যের কোন আলো। বহু নিচে গিয়ে পড়েছে বড় এক জলপ্রপাত। এখন আর অন্য কোন পথে পালিয়ে যেতে পারবে না শ্যানন।
.
এতকাল যাকে খুশি খুন করতে পারলেও শ্যানন কখনও ভাবেনি যে তাকেও কখনও মরে যেতে হবে। গত ক’ঘণ্টায় বুঝতে পেরেছে মাসুদ রানা নামের যুবকের মনে কোথায় যেন আছে নরম একটা জায়গা। তাই একবার ভাবল আত্মসমর্পণ করবে কি না। পরক্ষণে নাকচ করল ভাবনাটা। এই দ্বীপে এসে, যেসব চরম অন্যায় করেছে, তাতে কোনভাবেই তাকে ক্ষমা করবে না বাঙালি যুবক। এদিকে লড়াই করে যে জিতে যাবে, সেটাও প্রায় অসম্ভব। জীবনে এই প্রথমবারের মত নিজের আত্মবিশ্বাস হারিয়ে দ্বিধান্বিত হয়ে গেছে শ্যানন।
.
এদিকে রুপার্ট শ্যাননের পেছনে ছুটতে ছুটতে বুঝে গেছে রানা, বড় ধরনের সুবিধা পাচ্ছে ও। সোজা সামনে যাওয়া ছাড়া অন্য কোনদিকেই আর যেতে পারবে না শ্যানন। এখন বড় প্রশ্ন হচ্ছে, হাতাহাতি লড়াইয়ে কতটা দক্ষ সে? নিষ্ঠুর পিশাচটাকে গভীর গহ্বরে ফেলে দেয়া হলে সেটা হবে খুব সহজ বিচার। তাতে চট করে দুনিয়া থেকে বিদায় নেবে সে। তবে গভীর খাদের নিচে কী আছে সেটা কে জানে! হয়তো পতনের পরেও কোনভাবে বেঁচে যাবে শ্যানন। তার চেয়ে ঢের ভাল হ্যাণ্ড-টু-হ্যাণ্ড কমব্যাটে তাকে শেষ করে দেয়া। কাউকে খুন করতে হবে ভাবতে গিয়ে তিক্ত হয়ে গেল রানার মন। আর তখনই চোখের সামনে ভেসে উঠল আলকারাযের রক্তাক্ত মুখ।
পাহাড়ে উঠতে গিয়ে ছোটার গতি কমে গেছে শ্যাননের। পেছন থেকে গলা ছাড়ল রানা, ‘যাও কই? সাহস থাকলে মোকাবিলা করো!’
শ্যাননের কাছাকাছি পৌঁছে তার চোখে আতঙ্কের ছাপ দেখতে পেল ও। পরিষ্কার বুঝে গেল, বেশিরভাগ স্যাডিস্ট খুনির মতই শ্যাননও একজন কাপুরুষ। এতদিন সুযোগ পেয়েছে বলে নিজের পৈশাচিক আনন্দের জন্যে চড়াও হয়েছে দুর্বলের ওপরে। এখন নিজে বিপদে পড়ে ভাবতে শুরু করেছে কোন উপায়ে রেহাই পাবে কি না।
‘আজ আর লড়াই নয়,’ চিৎকার করে বলল শ্যানন। পরক্ষণে দৌড়ের গতি না কমিয়ে সরু কার্নিশ পার করে পাহাড় থেকে ঝাঁপ দিল অতল গহ্বরে।
রানা প্রথমে ভাবল, কাপুরুষের মত আত্মহত্যা করেছে লোকটা। কিন্তু বেশ কয়েক সেকেণ্ড পর নিচ থেকে এল ঝপাৎ করে একটা শব্দ। ও বুঝে গেল, শ্যানন বোধহয় এখনও বেঁচে আছে!
ডার্টি গেম শো-র নিষ্ঠুর নিয়ম অনুযায়ী অন্যদেরকে শেষ করে দিয়ে বাঁচতে হবে মাত্র একজনকে। তবে প্রতিযোগীরা যদি পার করে দেয় তিরিশ ঘণ্টা, সেক্ষেত্রে তাদেরকে মরতে হবে বোমার বিস্ফোরণে।
গভীর গহ্বরের কিনারায় থেমে নিচে তাকাল রানা। ওদিকে কালো অন্ধকার ছাড়া আর কিছুই যেন নেই। চট্ করে দেখল গোড়ালির টাইমার-০০:৫৯:০২। ওর বুঝতে দেরি হলো না, নিচে ঝাঁপ দিলে যেমন মরতে হতে পারে, তেমনি ঝাঁপ না দিলেও ওকে মরতেই হবে টাইমারের সময় শেষ হলে।
একসেকেণ্ড পর শ্যাননের মত অতল কালো গহ্বরে ঝাঁপিয়ে পড়ল রানা। ওর মনে হলো নেমে চলেছে অনন্তকাল ধরে। একটু দূরে সাঁই-সাঁই করে ওপরে উঠছে শেওলা ভরা এবড়োখেবড়ো পাথুরে দেয়াল। কী এক গাছের ডাল চাবুকের মত সপাং করে লাগল ওর পিঠে। ভাবতে শুরু করল রানা, বোধহয় মস্তবড় ভুল করেছে ও! হয়তো নিচে নদীর জলমগ্ন কোন পাথরে পড়ে ঘাড় ভেঙে মরেছে শ্যানন। আর বোকামি করে একই পরিণতি বেছে নিয়েছে রানা!
আরও ধীর হয়ে গেল সময়। ফার্নে ভরা পাথুরে দেয়াল একটু পর হলো কুচকুচে কালো। মাত্র কয়েক সেকেণ্ডে ওর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ কিছু ঘটনা দেখতে পেল চোখের সামনে। আর্মিতে যোগ দেয়ার প্রথম দিনের স্মৃতি, সোহানার ঠোঁটে প্রথম চুমু, ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের সঙ্গে খুনসুটি, সুলতা, রেবেকা, লুবনা ও প্রিয় ক’জনের মৃত্যু… বসের কঠোর দুটো চোখ… কুঁচকে গেছে তাঁর সাদা-পাকা দুই ভুরু…
তারপর হঠাৎ করে ওর মনে হলো, আকাশ থেকে পতন হলো নিরেট কংক্রিটের চাতালে। ঝনঝন করে উঠল শরীরের সব হাড়গোড়। কানের কাছে কিসের যেন ভারী গর্জন। পরক্ষণে আবছা হলো সেই আওয়াজ। চোখ মেলেও কিছুই দেখতে পেল না রানা। চারপাশে শুধু ঘুটঘুটে কালো অন্ধকার। বুট ঠেকে গেল নদীর নিচের মেঝেতে, তবে কপাল ভাল চুরচুর হয়ে ভেঙে গেল না ওর পায়ের হাড়। সোজা হয়ে চার হাত-পা ছুঁড়ে ওপরের দিকে উঠতে লাগল রানা।
নদীর তলা থেকে ভুস্ করে ভেসে উঠতেই বিকট আওয়াজে ভরে গেল ওর দুই কান। পুরো ঘুটঘুটে কালো নয় চারপাশ। বড় এক পুকুরের মত জায়গায় এসে পড়েছে রানা। আর ওকে টেনে নিয়ে যেতে চাইছে জোরাল স্রোত। ওপর থেকে এত জোরে পড়েও ওর হাতে রয়ে গেছে তানাকার বোলো নাইফ। বিস্মিত না হয়ে পারল না রানা।
ঘুরে তাকাল চারপাশে। পেছনে প্রাগৈতিহাসিক আমলের বোল্ডারের ওপরে এসে পড়েছে বিরাট এক জলপ্রপাত। গোটা পুকুর ঘিরে রেখেছে পাথুরে দেয়াল। মাত্র কয়েক ফুট দূরে পড়লে গুঁড়ো হয়ে যেত ওর হাড়গোড়। ডানে বড় এক গুহা দেখতে পেল রানা। আর ওটার ভেতরে গিয়ে ঢুকছে জলপ্রপাতের জলরাশি।
আবারও চারপাশে তাকাল রানা। আশপাশে কোথাও নেই শ্যানন। সে কোথায় গেছে সেটা বুঝতে দেরি হলো না ওর।
সাঁতরে গুহায় গিয়ে ঢুকল রানা। ওকে টেনে নিয়ে চলেছে জোরাল জলস্রোত।
.
বিসিআই ও এফবিআই-এর এজেন্টরা এবং দুনিয়া জুড়ে কোটি কোটি মানুষ কমপিউটারের সামনে বসে জানতে চাইছে: ‘ওরা কোথায়?’
তাঁবুর ভেতরে প্রায় পাগল হয়ে চিৎকার জুড়েছে স্টিল, ‘সিলভি, লেন্সে কিছু পেলে? ওদেরকে খুঁজে বের করো! তোমরা কি বুঝতে পারছ না যে এখন কী করা উচিত?’
‘আমি খুঁজছি,’ উত্তেজিত স্বরে বলল সিলভারম্যান অন্তর থেকে জানতে চাইছে রানা ও শ্যানন এখন কোথায়। নিজেকে বলছে, আমি ভাল লোকের পক্ষে। রানার যেন কোন ক্ষতি না হয়। শ্যাননের কারণে গত ঊনত্রিশ ঘণ্টায় বারকয়েক বমি করতে হয়েছে তার। তাই চাইছে ইংরেজ সাইকো যেন কষ্ট পেয়ে খুন হয় রানার হাতে।
‘ঈশ্বরের দোহাই, ওদের খুঁজে বের করো!’ গুঙিয়ে উঠল ব্র্যাড স্টিল। ‘নিচে কোন ক্যামেরা রাখোনি তুমি?’
‘আমাকে কি তুমি জাদুকর বলে মনে করো?’ প্রতিটি ক্যামেরা অন করল সিলভি। এখন কাজ করছে সব অ্যাঙ্গেল। ‘আমি তো আর জানতাম না যে গুহার ভেতরে জলপ্রপাতের পানি গিয়ে ঢোকে, আর সে-পথে কেউ যেতে পারে। তাই ওদিকে কোন ক্যামেরা নেই।’
একটা লেন্সে দেখা যাচ্ছে বিশাল জলপ্রপাত। এত ওপর থেকে কেউ ঝাঁপ দেবে, সেটা স্টিলও ভাবেনি। তাই অন্যদের মতই সে-ও নিশ্চিত নয় শ্যানন আর রানা মারা গেছে, নাকি বেঁচে আছে।
‘ওদিকে কিছু দেখলে?’ সিলভিকে ছেড়ে সিওয়ার্সের কাছে জানতে চাইল স্টিল।
গ্রিড মনিটরে চোখ রেখেছে যুবক। তার গ্রিডে দেখা যাচ্ছে মাত্র একটা + চিহ্ন।
‘ওদের একজনের অস্তিত্ব টের পাচ্ছি,’ বলল সিওয়ার্স।
‘দু’জনের মধ্যে কোন্জন?’
চিহ্ন পরখ করে দেখল সিওয়ার্স। ‘শ্যানন। কয়েক ঘণ্টা আগেই আমরা হারিয়ে ফেলেছি রানাকে। তাই মনে হচ্ছে সে-ও বোধহয় বেঁচে আছে।’
‘হায়রে কপাল!’ কালো গহ্বরে দুই প্রতিযোগী গায়েব হয়ে যাওয়ায় স্থির হয়ে গেছে স্টিল। প্রথমবারের মত মনে মনে রানার জন্যে প্রার্থনা করল সে। ‘যে আমার ঈশ্বর, তাকে আপনি বাঁচিয়ে রাখুন!’ প্রতিযোগিতার শেষ দিকে দুর্দান্ত চমক দেবে বলে ভেবে রেখেছে স্টিল। কিন্তু তার প্রিয় প্রতিযোগী শ্যাননের কোন মূল্য থাকবে না মাসুদ রানা বেঁচে না থাকলে।
.
বিসিআই-এর কমপিউটার ডিপার্টমেন্টে মস্ত স্ক্রিনের দিকে চেয়ে আছে এজেন্টরা। ওরা দেখেছে গভীর এক বিশাল কূপের মত জায়গায় ঝাঁপ দিয়েছে রুপার্ট শ্যানন। আর তার মাত্র কয়েক সেকেণ্ড পর ঝাঁপিয়ে পড়েছে রানা। এরপর থেকে দেখানো হচ্ছে জলপ্রপাতের দৃশ্য। নানান চিন্তা ঘুরছে বিসিআই এজেন্টদের মনে।
এত ওপর থেকে পড়ে গিয়ে কি মারা গেছে রানা?
নিচে আসলে কী আছে?
কপালে আসলে কী ঘটেছে রুপার্ট শ্যাননের?
শেষমেশ কি লড়াই হবে রানা আর ওই নরপিশাচটার মধ্যে?
.
বিসিআই এজেন্টদের মতই এফবিআই অফিসে উৎকণ্ঠায় ভুগছে এডওয়ার্ড সিমন্স এবং তার অধীনস্থ এজেন্টরা। গভীর মনোযোগ দিয়ে দেখছে লাইভ ব্রডকাস্ট। বাঙ্কারে বিস্ফোরণের পর যখন জানা গেল বেঁচে আছে রানা, এরপর থেকে নিজেদের স্ক্রিনে ডার্টি গেমের প্রতিযোগিতা দেখছে অফিসের প্রত্যেকে। এমন কী বাদ পড়েনি রাইডার। নিজেই সবাইকে জানিয়ে দিয়েছে, শোনা যাচ্ছে নির্দিষ্ট সেই দ্বীপ খুঁজে বের করতে আমেরিকান নেভি থেকে ওদিকের আকাশে উড়াল দিয়েছে কয়েকটি যুদ্ধ বিমান। যদিও দ্বীপটা পাওয়া গেলেও সময় লাগবে রেসকিউ অপারেশনে যেতে।
বসের কথা শুনলেও সেটা বিশ্বাস করেনি সিমন্স। নতুন খবর হিসেবে রাইডার যা বলেছে, সেটা অবশ্য জানিয়ে দিয়েছে বিসিআই এজেণ্ট রায়হান রশিদকে। ফোন করেও যোগাযোগ করতে পারেনি ডিআইএ ডেপুটি ডিরেক্টর উসবার্টির সঙ্গে।
ওরা সবাই দেখেছে শ্যাননের পেছনে ধাওয়া করে পাহাড় থেকে ঝাঁপ দিয়েছে রানা। তারপর শুধু দেখানো হচ্ছে বিশাল এক জলপ্রপাতের দৃশ্য।
এবার এল ঘন সবুজ জঙ্গলের ফুটেজ। সিমন্সের মনে হলো, দর্শকদের উত্তেজিত করতে এটা করছে পরিচালক, অথবা সে হারিয়ে বসেছে শেষ দুই প্রতিযোগীকে। সেক্ষেত্রে নতুন করে তাদেরকে লেন্সে ধরতে চাইছে সে।
আদতে দুটো কথাই সঠিক।
.
কন্সোলের সামনে বসে রানা ও শ্যাননকে হন্যে হয়ে খুঁজছে সিলভি। এমিলিকে বলেছে দ্বীপের জঙ্গলের দৃশ্য দেখাতে, যাতে হতাশ না হয় দর্শকেরা।
দীর্ঘ পাঁচ মিনিট পর হঠাৎ করে আবারও ক্যামেরায় ধরা পড়ল প্রতিযোগীদের একজন-রুপার্ট শ্যানন।
