ডার্টি গেম – ৩৩
তেত্রিশ
ডোবার পানিতে ভেসে আছে রানার দেহ। বারবার নানান অ্যাঙ্গেল থেকে ওকে দেখাচ্ছে অন্তত তিনটে ক্যামেরা। পরের দু’মিনিটে মৃদু স্রোতে ভাসতে ভাসতে নলখাগড়ার জঙ্গলের কাছে চলে গেল ওর দেহ। ততক্ষণে কার্নিশের ওপরে শ্যাননের নর্তন-কুর্দনের ভিডিয়ো ব্যস্ত হয়ে তুলছে ক্যামেরা তিনটে।
সবুজ শেওলা ও লাল রক্তে ভরা শরীরে গত চার মিনিট ধরে দম আটকে উপুড় হয়ে ভেসে থেকেছে রানা। এবার বাধ্য হয়ে ঘাড় কাত করে একবার শ্বাস নিল। ভীষণ জ্বলছে বুকের গভীর ক্ষত। বন্দুকের পেলেটের আঘাতে ফুটো হয়ে গেছে পিঠ ও হাত-পা। দরদর করে ক্ষত থেকে ঝরছে রক্ত। ছোট এক গুহার মত জায়গায় ওর দেহ ঠেকে যেতেই মাথা কাত করে ওপরে তাকাল রানা। কার্নিশের কাছে আছে শ্যানন। ধরে নিয়েছে খুন হয়ে গেছে ও।
বাজেভাবে আহত হয়েছে রানা। শরীরে শক্তি নেই যে ডোবা থেকে উঠে আসবে। বারবার ওর মন চাইছে চোখ বুজে ঘুমিয়ে পড়তে। সত্যিই হয়তো দুর্বলতার কারণে পানির নিচে তলিয়ে যেত, কিন্তু ওর মনের আয়নায় ভেসে উঠল কুঞ্চিত একজোড়া কাঁচা-পাকা ভুরু। কঠোর চোখে দেখছেন মেজর জেনারেল (অব.) রাহাত খান। খুব গম্ভীর কণ্ঠে বললেন, ‘উঠে পড়ো, রানা! তোমার কাজ এখনও শেষ হয়নি!’
‘জী, স্যর,’ বিড়বিড় করে বলল রানা। সোজা হয়ে পা ওপরে তুলে আনল। টাইমারে দেখতে পেল-০০:১৪:০৫ মিনিট। আবারও কাজ করতে শুরু করেছে ওর মগজ। বুঝে গেছে মাত্র কয়েক মিনিটের ভেতরে মরতে হবে বোমা বিস্ফোরণে। আর ভাবনাটা ওকে এনে দিল মানসিক ও দৈহিক শক্তি। গুহার মত জায়গাটা থেকে বেরিয়ে ডোবার তীরে উঠে এল রানা। তীব্র ব্যথা সহ্য করে সরে গেল মোটা এক গাছের ওদিকে। দূরে দেখতে পেল ক্যানিয়ন ছেড়ে উঠে গেছে শ্যানন।
ওদিকে চেয়ে রইল রানা। মনে তীব্র ঘৃণা নিয়ে বিড়বিড় করে বলল, ‘আমি যদি মরেই যাই, তার আগে চাই তোকে শেষ করে দিতে!’
