Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মিতিনমাসি সমগ্র ১ – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    সুচিত্রা ভট্টাচার্য এক পাতা গল্প667 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১১. বেলগাছের নীচে ছোট্ট শিবমন্দির

    বড়সড় বেলগাছের নীচে ছোট্ট শিবমন্দির। বাঁধানো। নিয়মিত পুজোআচার বন্দোবস্ত আছে। মন্দিরের গায়ে মধুবাবার আশ্রম। নামেই আশ্রম, আদতে বাঁশ দরমার কাঠামোর মাথায় টিনের চাল ফেলা একখানা বড় ঘর। বহিরঙ্গের চেহারা দেখে বোঝা যায় ঘরখানা হালে হয়েছে।

    আশ্রমের পিছনেই রেললাইন। সামনে প্রকাণ্ড মাঠ। প্রকৃতপক্ষে মাঠও নয়, হালকা বন। খোলামেলা জায়গায় অনেকটা দূরে দূরে ছড়িয়ে আছে শালগাছ। ওই শাল গাছগুলোর নীচেই হাট বসে করমপদায়।

    চারটে বাজে। হাট এখন ভাঙার মুখে। কেনাকাটার আর ভিড় নেই তেমন, সওদা সেরে ফিরছে আদিবাসীরা। বেশ কিছু আদিবাসী আশ্রমের সামনে জড়ো। জোর ক্যালর ব্যালর চলছে। আদিবাসী মেয়েদের মাথায় পলাশ শিমুল। সেগুনফুলও খোঁপায় খুঁজেছে কেউ কেউ। রংচঙে পোশাকে রঙিন হয়ে আছে জায়গাটা। মহুয়ার উগ্র গন্ধ ভাসছে বাতাসে।

    ভক্তদের সামনে ছোট একটা বেদিতে বসে আছেন মধুবাবা। বেদি মানে বেঁটে বেঁটে চারখানা শালবল্লার খুঁটির ওপর চেরা চেরা কাঠের পাটাতন। একা নন মধুবাবা, তাঁর পাশে এক চ্যালাও বিরাজমান।

    গেরুয়া রং-এর আলখাল্লা পরে আছেন মধুবাবা। ঘাড় অবধি লম্বা লম্বা চুল। একমুখ কাঁচাপাকা দাড়ি বুকের কাছে ঝুলছে! কপালে গালে খানতিনেক বড় বড় আঁচিল। চ্যালাটিরও মুখ শ্মশ্রুগুম্ফশোভিত। তবে তাঁর আলখাল্লার রং সাদা।

    টুপুরদের জিপ থেকে নামতে দেখে পুরো সমাবেশটাই থমকে গিয়েছিল। ভক্তরা ঘুরে ঘুরে দেখছে টুপুরদের। মধুবাবার মোটা মোটা ভুরুতে পুরু ভাঁজ, চ্যালার চোখে জিজ্ঞাসা।

    করমপদার বনকৰ্মীটি টুপুরদের সঙ্গে এসেছে। বেদির কাছে গিয়ে কানে কানে কী যেন বলল চ্যালাটিকে। চ্যালাও গুরুকে ফিসফিস করে বলল কীসব।

    মধুবাবার ভুরু স্বাভাবিক হল। হাত নেড়ে ডাকলেন টুপুরদের। সামনে এসে বসার জন্য ইঙ্গিত করলেন।

    মিতিন অক্ষুটে বলল, তোমরা যাও। আমি এখানেই আছি।

    সহেলি বললেন, সে কী? কেন? তুইও চল।

    আমি দূর থেকেই দেখি।

    টুপুর বলল, আমিও তা হলে মিতিনমাসির সঙ্গে থাকি।

    মিতিন আদেশের সুরে বলল, না। তুই সামনে গিয়ে বোস। ভাল করে দ্যাখ, সাধুবাবা কোনও চালাকি করছে কি না।

    মিতিনমাসি একটা কাজের ভার দিতে টুপুর মহা আহ্লাদিত। বুমবুমের হাত ধরে গটগট এগিয়ে গেল। বেদির হাতদুয়েক তফাতে বসল আসনপিঁড়ি হয়ে। তীক্ষ্ণ চোখে দেখছে মধুবাবার ঐশী কার্যকলাপ।

    টুপুরের পাশে পার্থ। তার পাশে সহেলি। হাতজোড় করে বসেছেন সহেলি, মুখে গদগদ ভাব। অবনী আসেননি সঙ্গে, মুধবাবাতে তাঁর কণামাত্র আগ্রহ নেই। তিনি এখন থলকোবাদের জঙ্গলে বসে মহাসমুদ্রের টানে বিভোর।

    মধুবাবা এক আদিবাসী মহিলার সমস্যা শুনছিলেন। টুপুরদের আগমনে কিছুক্ষণের জন্য অমনোযোগী হয়েছিলেন তিনি, আবার মগ্ন হয়েছেন মহিলার আবেদনে। শুনছেন মহিলার কথা।

    বেদির পাশে প্ৰকাণ্ড ড্রাম। মহিলার কথা শেষ হওয়া মাত্র ড্রাম থেকে জল তুলে ঢালা হল একখানা স্টিলের ডেকচিতে। চ্যালা ডেকচিটা মধুবাবার সামনে এনে ধরল। জলে ডান হাত ড়ুবিয়ে দিলেন মধুবাবা। চক্ষু নিমীলিত। জলে ঘোরাচ্ছেন হাতখানা, ঠোঁট নড়ছে অল্প অল্প। পনেরো কুড়ি সেকেন্ড পর হাতখানা তুলে নিয়ে ইশারা করলেন চ্যালাকে।

    আদিবাসী মহিলাটিকে ফ্যাসফেসে গলায় চোস্ত হিন্দিতে নির্দেশ দিল চ্যালা, এই জল তোর বোতলে ঢেলে নে। ছেলেকে আজ তিন বার খাওয়াবি, কাল তিনবার। দুচুমুক করে। পূর্ণিমা লাগার পরে আর খাওয়াতে হবে না।

    মহিলাটি কাঁপা কাঁপা গলায় বলল, পেটের ব্যথা সেরে যাবে তো মহারাজ?

    মধুবাবা চোখ বুজে ঘাড় নাড়লেন। হাতে অভয়মুদ্রা।

    মহিলা মধুবাবাকে সাষ্টাঙ্গে প্ৰণাম করল। কোঁচড়ে রাখা প্লাস্টিকের বোতলে ঢেলে নিল জলটা। তারপর উঠে গেছে ধীর পায়ে।

    এবারে এক আদিবাসী বৃদ্ধ।

    চ্যালা ফের ফ্যাসফেসে স্বরে জিজ্ঞেস করল, তোমার কী সমস্যা?

    বৃদ্ধ হাউমাউ করে কেঁদে উঠল, আমার বুড়ি বিছানা থেকে উঠতে পারছে না। হাত পা মুখ সব ফুলে গেছে।

    চ্যালা বলল, কেঁদো না। বাবার ওপর ভরসা রাখো।

    এবার জল নয়, ঝোলা থেকে এক মুঠো চাল বার করে বৃদ্ধের হাতে দিয়েছে চ্যালা। বলল, চাল খেয়ে দেখো। মিঠা?

    বৃদ্ধ দু-তিনটে চাল দাঁতে কেটে মাথা নাড়ল, না।

    এবার চাল বাবার হাতে দিয়ে দাও।

    বৃদ্ধ কুঁজো হয়ে চাল দিচ্ছে। দু হাতে চালটা নিলেন মধুবাবা। ফের চক্ষু নিমীলিত, ঠোঁট নড়ছে, হাতে চাল ঘষছেন।

    চ্যালা বলল, এবার এক দানা চাল মুখে দাও।

    চাল দাঁতে কেটে বৃদ্ধ বিহুল। বারবার কপালে হাত ঠেকাচ্ছে।

    চ্যালা প্রশ্ন করল, চাল মিঠা লাগছে?

    হ্যাঁ মহারাজ।

    জোরে জোরে সবাইকে বলো।

    বৃদ্ধ ঘড়ঘড়ে গলায় চেঁচিয়ে উঠল, চাল মিঠা। চাল মিঠা।

    সঙ্গে সঙ্গে সমবেত জনতা ধ্বনি তুলেছে, মধুবাবাকি জয়। মধুবাবাকি জয়।

    চ্যালা বলল, এই চাল এবার গিয়ে বউকে খাইয়ে দাও। জলে ভেজাবে না, সেদ্ধ করবে না, কাঁচা খাবে।

    বৃদ্ধ কোঁচড়ে চাল বেঁধে নিয়ে চলে গেল।

    টুপুর কয়েকটা ব্যাপার লক্ষ করছিল। এক নম্বর, মধুবাবা বসে আছেন নির্বাক হয়ে। যা বলার বলছে তাঁর চ্যালা। দুনম্বর, চ্যালাটির ভাষা বিশুদ্ধ হিন্দি, যা এই আদিবাসী অঞ্চলে অপ্রচলিত। শিষ্যটিকেও কি গুরু সঙ্গে এনেছেন? সবচেয়ে লক্ষণীয় বিষয়, কারুর কাছ থেকেই প্রণামী নিলেন না মধুবাবা। অনেক জায়গায় এরকম ক্ষেত্রে বাক্সটাক্স রেখে দেওয়ার নাকি চল আছে, ভক্তরা যে যা পারে সেই বাক্সে দিয়ে যায়। এখানে সেরকম কোনও বন্দোবস্তও নেই। যদি ভণ্ডামিটাই উদ্দেশ্য হয়, তা হলে বিনা পয়সায় খেল দেখাবেন কেন?

    মধুবাবার মুখে তৃপ্তির হাসি। দৃষ্টি পড়েছে বুমবুমের দিকে। একটা আঙুল নেড়ে বুমবুমকে ডাকলেন কাছে।

    বুমবুম নয়, সহেলিই উঠে দাঁড়িয়েছেন। ঢিপ করে একটা প্ৰণাম ঠুকলেন বেদিতে। নিজস্ব হিন্দিতে বললেন, আমাদের আশীর্বাদ করুন বাবা।

    মধুবাবা একটা হাত বাড়িয়ে দিলেন। চ্যালা বলল, বাবা আপনার হাত ধরতে চাইছেন।

    সম্মোহিতের মতো দুটো হাতই বাড়িয়ে দিলেন সহেলি।

    মধুবাবা ডান হাতখানা ধরলেন। নিজের দু হাতের মাঝখানে হাতটাকে রেখে ঘষছেন। একটু পরেই ছেড়ে দিলেন।

    চ্যালা সহেলিকে বলল, আপনার হাত জিভে ঠেকান। মিষ্টি হয়ে গেছে।

    পাঁচ সেকেন্ডের মধ্যেই সহেলি হুমুড়ি খেয়ে পড়েছেন মধুবাবার পায়ে, বাবা, আপনি ভগবান। আমাকে দয়া করুন।

    চ্যালা জিজ্ঞেস করল, কী হয়েছে আপনার?

    হাঁটু আর কোমরে ভয়ানক যন্ত্ৰণা মহারাজ। পূৰ্ণিমা-অমাবস্যায় বাড়ে।

    মধুবাবা ইশারা করলেন চ্যালাকে। চ্যালা বলল, আপনাদের কাছে এক টাকার কয়েন আছে?

    পার্থ চকিতে পার্স খুলে চার-পাঁচখানা কয়েন রাখল বেদিতে।

    মধুবাবা তার থেকে মাত্র দুটো কয়েন তুলে নিলেন। আঙুলে ঘষে ফেরতও দিলেন সঙ্গে-সঙ্গে। চ্যালাও যথাবিহিত নির্দেশ দিল সহেলিকে, ব্যথার স্থানে কয়েনটা ঘষবেন। রাত্রে শোয়ার সময়ে। সকালে ঘুম থেকে উঠে। যন্ত্রণার উপশম হবে।

    পার্থ জিজ্ঞেস করল, কয়েন মিষ্টি হয়ে গেছে?

    চ্যালা বলার আগেই সহেলি জিভে ঠেকিয়েছেন কয়েন দুটো। আপ্লুত গলায় বললেন, ওমা, এ যে লজেন্সের চেয়েও মিষ্টি!

    বুমবুম বায়না জুড়ল, আমায় দাও। আমায় দাও।

    সহেলি মোটেই কয়েন দুটো হাতছাড়া করতে রাজি নন। বেঁধে ফেলেছেন আঁচলে।

    ঘন ঘন জয়ধ্বনি চলছে। এক এক আদিবাসীর এক এক সমস্যা, মধুবাবা কাউকেই নিরাশ করছেন না। কারুর কপালে জুটছে মিষ্টি জল, কেউ বা পাচ্ছে মিষ্টি চাল। খোঁপার ফুল পর্যন্ত অবলীলায় মিঠে হয়ে যাচ্ছে মধুবাবার ছোঁয়ায়।

    টুপুর ধন্দে পড়ে যাচ্ছিল। কী ঘটছে ব্যাপারটা? এ তো ম্যাজিশিয়ানের হাত সাফাই নয়, মার হাতটাই তো মিষ্টি হয়ে গেছে। বুমবুমকে দুখানা বেলপাতা দিলেন মধুবাবা, দুটো পাতাই যেন গুড়! কী করে সম্ভব? তা হলে কি অলৌকিক ক্ষমতা বলে সত্যিই কিছু আছে?

    মুগ্ধ হয়েছে পার্থও। বলল, তোর মাসি পেছনে দাঁড়িয়ে করছেটা কী? ডেকে আন। দেখুক।

    বটেই তো! মিতিনমাসি না দেখলে হয়?

    টুপুর ভিড় টপকে পিছনে এল। এদিক ওদিক খুঁজল মিতিনকে। কোথায় গেল মিতিনমাসি? এখানেই তো ছিল!

    নজরুলও ভিড়ে মিশে মধুবাবার কাণ্ডকারখানা প্রত্যক্ষ করছিলেন। টুপুরকে দেখে সরে এলেন, এবার যাবে নাকি?

    মা কি এক্ষুনি নড়বে? …মিতিনমাসি গেল কোথায়?

    দিদি তো লেভেল ক্রসিং-এর দিকে গেলেন।

    শখানেক গজ দূরে লেভেল ক্রসিং। কয়েকটা রেলের কোয়ার্টার মতন আছে ওদিকে। তার পিছনেই জঙ্গল। ওটা তো ফেরার রাস্তা, ওখানে কেন গেছে মিতিনমাসি?

    টুপুর একাই এগিয়ে দেখবে কি না ভাবছে, তখনই দেখা গেল মিতিনকে। কাঁধে ক্যামেরাখানা ঝুলিয়ে হনহনিয়ে ফিরছে।

    কাছে এসে হাসল মিতিন, গোটাকয়েক স্ন্যাপ নিলাম করমপদার।

    হঠাৎ?

    সব জায়গারই কিছু কিছু স্মৃতি থাক। মিতিনের হাসি সামান্য চওড়া হল, তোর মাকে এবার ডাক। বিকেল ফুরিয়ে এল,অন্ধকারে ফিরতে বড়দির ভাল লাগবে?

    বনকৰ্মীটিও চলে এসেছে। তাকে দিয়ে সহেলিদের ডাকিয়ে জিপে বসল মিতিন।

    গাড়ি গতি নিয়েছে। মিতিন জিজ্ঞেস করল, কেমন দেখলে মধুবাবাকে?

    সহেলি এখনও ঘোরে। বললেন, তুই যে কী মিস করলি মিতিন! একবার যদি বাবাকে ছুঁয়ে আসতিস!

    দুপুরের গোমড়া ভাবটা কেটে গেছে মিতিনের। মুচকি হেসে বলল, আমি যা দেখার দেখে নিয়েছি।

    কী করে দেখলি? তুই তো পেছনে ছিলি!

    বেশি সামনে গেলে তোমাদের মধুবাবার অসুবিধে হত।

    তার মানে তোর এখনও বিশ্বাস হয়নি?

    কোনটা বিশ্বাস করার কথা বলছ? ওই মিষ্টি করে দেওয়ার ক্ষমতাটা? না কি মধুবাবার দৈবশক্তি?

    ওমা, মিষ্টি করার ক্ষমতাটাই তো দৈবশক্তি।

    মোটেই না বড়দি। তোমার মধুবাবাটি একটি তৃতীয় শ্রেণীর ফ্রড। করমপদার মতো রিমোট জায়গায় না উঠে কলকাতায় আড্ডা গাড়লে অ্যাদ্দিনে ওর চামড়া উঠে যেত। কীভাবে সব কিছু মিষ্টি করে দিচ্ছে জানো? অজস্র ধরনের প্ল্যান্ট প্রোডাক্ট আছে, যেগুলো দারুণ মিষ্টি হয়। চিনি গুড়ের চেয়ে ঢের ঢের বেশি মিষ্টি। সবচেয়ে কমন উদাহরণ, সরবিটল, গ্লিসারল। কিংবা তোমাদের মধু। এরা প্রায় চিনির মতোই। কিন্তু এদের কেমিক্যাল স্ট্রাকচার চিনির চেয়ে আলাদা। রক্তে চিনির মাত্রা বেড়ে গেলে এদের চিনির পরিবর্তে ব্যবহার করা হয়। ডায়েবিটিস রুগিদের সন্দেশ তৈরি হয় সরবিটল দিয়ে। হজমের ওষুধে গ্লিসারল মেশায়, মিষ্টি করার জন্যে।

    মিতিনের কথাগুলো মগজে ঢুকছিল না সহেলির। বললেন, তার সঙ্গে মধুবাবার চাল জল মিষ্টি করার কী সম্পর্ক?

    আছে। আছে। ডালসিটল বা স্টেডিওসাই চিনির চেয়ে তিনশো গুণ মিষ্টি। এগুলোও উদ্ভিদ থেকে তৈরি হয়। এবং সেই গাছ খুব বিরল নয়। এমনকী কলকাতাতেও মেলে। অ্যাজিরেটাম বলে একটা গাছ আছে, যার পাতা, কাণ্ড সবই ভয়ানক মিষ্টি। এরকম যে-কোনও একটা উদ্ভিদের নির্যাস হাতে লাগিয়ে মধুবাবার খেলাটি দেখানো সম্ভব। এমনিতে হাত দেখে কিছু টের পাওয়া যাবে না, কিন্তু ওই হাতে যা ছোঁবে তাই মিষ্টি হয়ে যাবে। মিতিন পার্থর দিকে ফিরল, তোমার সেই গোড়বাবার কেসটা মনে আছে?

    কোনটা বলো তো? সেই মহারাষ্ট্রে…?

    ইয়েস। পুনে ডিস্ট্রিক্টের বারামতীতেও এরকম একটা মিষ্টি বানানো বাবার আবির্ভাব হয়েছিল। উনিশশো বিরানব্বই সালে। প্রতারকটির নাম ছিল ভানুদাস গায়কোয়াড়। সে ঝাল কাঁচা লঙ্কাকেও মিষ্টি করে দিত। তার পৃষ্ঠপোষক ছিলেন এক আয়ুর্বেদ ডাক্তার। খেলাটা অবশ্য বেশিদিন চালাতে পারেননি ভানুদাস ওরফে গোড়বাবা ওরফে গুড়বাবা। যুক্তিবাদী সমিতির লিডাররা গিয়ে লোকটাকে ধরেও ফেলেছিল। কিন্তু পাবলিক সেন্টিমেন্টের জন্য কিছুই করা যায়নি। ভানুদাস তাদের চোখে ছিল একজন হিরো। লোকটা যে চিটিংবাজ হতে পারে, এ তারা মানেইনি। তা ছাড়া ভানুদাসের পেছনে অনেক বড় বড় চাঁই ছিল, তারাও ভানুদাসকে প্রোটেকশান দিয়েছে। এই মধুবাবা হচ্ছে ওই ভানুদাস গায়কোয়াড়েরই করমপদা সংস্করণ।

    সহেলির চোখ কেমন ঘোলা হয়ে গেছে। বললেন, তাই? হাতে রস মাখিয়ে রাখে?

    তোমাকে উনি কী দিয়েছেন? মিঠে জল?

    না। একজোড়া করেন।

    রেস্টহাউসে ফিরে সারগিয়াকে বোলো ভাল করে কেরাসিন দিয়ে মুছে দিতে, তারপর চুষো। এক ফোঁটা মিষ্টি পেলে বোলো আমায়।

    কিন্তু… এখানে যে সকলের অসুখ সেরে যাচ্ছে?

    এখানকার আদিবাসীদের শরীর খুব পলকা নয়। হাজার হাজার বছর ধরে এরা জঙ্গলে রয়েছে। বেশিরভাগ অসুখবিসুখ এদের শরীরই প্রতিরোধ করতে পারে। মিতিন হাসল, তা ছাড়া দৈব ওষুধের মজাটা তো এরকমই। দশজনের মধ্যে একজনের অসুখ এমনিই সারে। আর তখন দৈব ওষুধের প্রচারে গগন ফাটে। যাদের সারে না, তারা চুপচাপ চেপে যায়। ভাবে, এ বুঝি তাদের পাপের ফল। আর এইভাবেই বাবারা মহাবাবা হয়ে যান।

    সহেলি গুম মেরে গেলেন।

    টুপুর মজা পেয়েছে খুব। বলল, আমারও তাই কেমন কেমন ঠেকছিল!

    বাজারের পেছনে তো একটা নিমগাছও ছিল। নিমপাতা এনে বাবার হাতে ঘষে দিলি না কেন? রহস্য ফাঁস হয়ে যেত।

    পার্থ বলল, সে তো তুমিও করতে পারতে।

    না স্যার। পাবলিক সেন্টিমেন্ট বলে একটা ব্যাপার আছে বললাম যে। আদিবাসীরা সবাই মিলে আমায় ঠেঙাত তা হলে। এখন যা করতে হবে, সব রয়েসয়ে।

    টুপুর বলল, কিন্তু লোকটা করমপদায় এসে ডেরা বেঁধেছে কেন? লোকটা তো পয়সাকড়িও নেয় না?

    কারণ নিশ্চয়ই আছে। মিতিনের স্বর ফের গম্ভীর, শিগগিরই জানতে পারবি।

    পাহাড়ের আড়ালে ঝুপ করে হারিয়ে গেছে সূর্য। কয়েক মিনিটের মধ্যে জঙ্গল অন্ধকার। সাবধানে চড়াই-উতরাই ভাঙছেন নজরুল। জিপেও সবাই চুপচাপ।

    আঁধার বনে অস্বস্তি কাটাতেই পার্থ হঠাৎ বলে উঠল, তোমার মেঘাতুবুরু অভিযানের কী ফল?

    কাজ হয়েছে। আশা করছি আজই ফোর্স এসে যাবে।

    চাইবাসায় ফোন করেছিলে?

    তার চেয়েও বড় জায়গায়। চিফ কন্জারভেটর অব ফরেস্টকে ফোন করেছি।

    তাঁর নম্বর কোত্থেকে পেলে?

    অনিশ্চয়বাবু। আমাদের লালবাজারের ডি সি সাহেব। ওঁর শালা দেবজ্যোতি সরকার গোটা পূর্ব ভারতের বনজঙ্গলের হৰ্তাকৰ্তা। তাঁকেই ফোনে বললাম এলিফ্যান্ট এপিসোড। খবর উনিও পেয়েছেন, তবে স্কেচি। ডিটেলে শুনে উনি রীতিমতো এক্সাইটেড। ইমেডিয়েটলি ডি-এফ-ও চাইবাসাকে অর্ডার করবেন বললেন।

    পার্থকে খুব আশান্বিত মনে হল না। বলল, দ্যাখো কী করে। সরকারের তো আঠারো মাসে বছর!

    কোনও কোনও সময়ে তিন মাসে বছর হয়। যদি ওপরওয়ালা চান। এবং আমার অনুমান যদি ভুল না হয়, থলকোবাদে এখন এক দুজন ফরেস্ট অফিসারকে আমি পাব।

    অনিশ্চয়বাবুর সঙ্গে কথা হল? বললে হাতির কেসটা?

    তার চেয়ে অনেক বেশিই কথা হয়েছে।

    কী কথা?

    বললাম যে, জানতে পারবে। ধৈর্য ধরো।

    মিতিনের অনুমানই সঠিক। জঙ্গলের বেশ কয়েকজন অফিসার পৌঁছে গেছেন থলকোবাদের ইনস্পেকশন বাংলায়। ডি-এফ-ও সাহেব তো আছেনই, উপগ্রহের মতো সামটা গুয়া কোয়না, তিন রেঞ্জেরই রেঞ্জার সাহেব হাজির। বাংলোর কম্পাউন্ড জিপে জিপে ছয়লাপ।

    অবনীর সঙ্গে বাংলোর হাতায় কথা বলছিলেন ডি-এফ-ও নাম। ছবিলাল মারান্ডি। বয়স বছর পঁয়তাল্লিশ। বেঁটেখাটো, গাঁট্টাগোট্টা চেহারা। ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা জঙ্গলেও তাঁর পরনে হাফশার্ট।

    মিতিনকে দেখে ছবিলাল এগিয়ে এলেন, আপনি দেবজ্যোতিবাবুর পরিচিত, এ-কথা চাইবাসাতে একবার বলেননি কেন? আমি আপনাদের জন্য ইনস্পেকশন বাংলোটাই বুক করে দিতাম।

    রেস্টহাউসেই বেশ আছি। মিতিন মুখ টিপে হাসল। সরাসরি চলে এল কাজের কথায়, আপনাদের অ্যারেঞ্জমেন্ট কদ্দুর?

    ফোর্স আসছে। আজ রাতে, নইলে কাল সকালেই পৌঁছে যাবে। আমি রাঁচিতে খবর করে দিয়েছি।

    দেরি হয়ে যাবে না তো?

    কী করা যাবে ম্যাডাম? চাইবাসায় আমার হাতে যে কজন গার্ড আছে, সবাইকে আমি জঙ্গলে পোস্ট করে দিয়েছি। গেটগুলোতেও আর্মড গার্ড বাড়াতে হয়েছে। বদমাইশগুলো পালাতে গেলে তাদের সঙ্গে ফাইট হতে পারে। অ্যাডিশনাল ফোর্সের জন্য আমাকেও তো রাঁচির ওপর ডিপেন্ড করতেই হয়। রাঁচি টু থলকোবাদ দূরত্বটাও ভাবুন। প্রায় দুশো সত্তর কিলোমিটার। ওখান থেকে পৌছতে দশ থেকে বারো ঘণ্টা তো লাগবেই।

    পার্থ বলল, সে তো বটেই। রাস্তাঘাটও তো তেমন…

    প্রথম আলাপ সাঙ্গ করে মিতিনকে নিয়ে বাংলোয় গিয়ে বসলেন ডি-এফ-ও সাহেব। সারান্ডার ম্যাপ খুলেছেন। বললেন, আমি এক্ষুনি এক্ষুনি যা স্টেপ নেওয়ার নিয়েছি। বদমাইশগুলো নুনের প্ল্যান থেকে সরবে না বলেই আমার ধারণা। লিগিরদায় ওরা ব্যর্থ হয়েছে, কিন্তু অন্য কোথাও ওরা ট্রাই করবেই। হাতিটাকে লাস্ট দেখা গেছে তিরিলপোসির তিন কিলোমিটার ওয়েস্টে। ওখান থেকে মোটামুটি পনেরো কিলোমিটার রেডিয়াসে আমাদের আরও তিনটে সল্টলিক আছে। ডি-এফ-ও সাহেব ম্যাপে ঝুঁকলেন। আঙুল দিয়ে দেখালেন বিন্দুগুলোকে। বললেন, সবকটাই ওয়েলগার্ডেড। তবে..

    কী হবে?

    কোয়েনার রেঞ্জার বলে উঠলেন, স্যার মনে করছেন আজকের রাতটা ওর চুপচাপই থাকবে। কাল পূর্ণিমা পড়ছে। পূর্ণিমার রাতটাকে পছন্দ করে পোচাররা। জ্যোৎস্নায় চারদিক আলো হয়ে থাকে তো। তখন লক্ষ্যস্থলের অনেক দূরে গাড়ি রেখেও হেঁটে ওরা টার্গেট পয়েন্টে পৌঁছে যেতে পারে।

    ডি-এফ-ও বললেন, ইয়েস পূর্ণিমাতেই জঙ্গলে শিকার খুব সহজ। এর ওপর যদি ওদের কাছে টেলিস্কোপিক রাইফেল থাকে, তা হলে তো ওরা অনেক দূর থেকেই ট্রাই নিতে পারে।

    মিতিন অক্ষুটে বলল, অরণ্যের জ্যোৎস্না এত নিষ্ঠুর হয়?

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমিতিনমাসি সমগ্র ২ – সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    Next Article বিষ – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    Related Articles

    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    গল্প সমগ্র – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    অন্য বসন্ত – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    কাছের মানুষ – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    হেমন্তের পাখি – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    অলীক সুখ – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    আলোছায়া – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }