Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মিতিনমাসি সমগ্র ১ – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    সুচিত্রা ভট্টাচার্য এক পাতা গল্প667 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৩. ইলিয়ট রোড আর সার্কুলার রোড

    ইলিয়ট রোড আর সার্কুলার রোডের ঠিক মুখটায় দাঁড়িয়ে ছিল উৎপল। মিতিন আর টুপুরকে ট্যাক্সি থেকে নামতে দেখে এগিয়ে এল। হেসে সম্ভাষণ জানাল, হ্যালো ম্যাডাম! হাই ইয়াং লেডি! আপনারা যে আজকেই চলে আসবেন ভাবতেই পারিনি।

    মিতিন হেসে বলল, ভাবলাম কেসটা যখন নেবই, তখন আর দেরি করা কেন?

    সো কাইন্ড অফ ইউ। আসুন। ড্যাডিকে বলে রেখেছি, উনি আপনাদের জন্য ওয়েট করছেন।

    কদ্দূর এখান থেকে?

    বেশি নয়, মিনিট পাঁচ-সাত।

    বেজায় গরম পড়েছে আজ। সূর্য যেন আগুন ছড়াচ্ছে। বিকেল চারটে বেজে গেছে, এখনও রোদের ঝাঁঝ এতটুকু মরেনি। পিচরাস্তা। থেকে ভয়ংকর তাত উঠছে। হাওয়াও আছে। লু-এর মতো। গা হাত পা যেন ঝলসে ঝলসে যায়।

    গলগল ঘামতে ঘামতে হাঁটছিল টুপুর। দেখছিল চারদিক। এদিককার অধিকাংশ বাড়িই প্রায় পুরনো আমলের। চেহারায় জীৰ্ণ জীর্ণ ভাব। দোকানপাট অবশ্য মোটামুটি ঝকঝকে। স্কুল, চার্চ, মিনিপ্যালেস, কী নেই রাস্তাটায়। তবে গির্জাটা দেখে মনে হয় পরিত্যক্ত, এমনই মলিন দশা। রাস্তায় ভিড় নেই বটে, তবে অল্পস্বল্প পথচারীই মালুম দিচ্ছে এ অঞ্চলে হরেক কিসিমের মানুষের বাস। একই ফুটপাথ ধরে হাঁটছে বোরখাধারিণী আর মিনিস্কার্ট। অপরিসর রাস্তার অর্ধেকটা জুড়ে ট্রামলাইন। ঢং ঢং ঘণ্টা বাজিয়ে টিমে তেলায় চলে যাচ্ছে ফাঁকা ট্রাম।

    হাঁটতে হাঁটতে উৎপলের সঙ্গে কথা বলছিল মিতিন, আপনার আজ জিমনাসিয়ামে যাওয়া নেই?

    মির্না আছে। মির্নাই সামলাচ্ছে আজ।

    আপনারা কি চাকরিও একই জিমনাসিয়ামে করেন?

    আমরা তো এখন চাকরি করি না। উৎপল হাসল, ও, আপনাদের কাল বলাই হয়নি। আমরাই একটা জিমনাসিয়াম খুলেছি।

    ও মা, তাই? কবে খুললেন? কোথায়?

    এই তো মাস আড়াই হল। ড্যাডির বাড়ির চারটে বাড়ি আগে। ভেবে দেখলাম পরের গোলামি করার চেয়ে স্বাধীনভাবে কিছু একটা করা ভাল।

    বাহ।

    উৎপল লাজুক লাজুক মুখ করে হাসল সামান্য। ডানপাশের একটা গলিতে ঢুকেছে। উলটোদিক থেকে হনহনিয়ে আসছে এক জিল্স পরা ঝাঁকড়াচুলো তরুণ, চোখে সবুজ সানগ্লাস।

    উৎপল হাত তুলল, হাই ডিক!

    ছেলেটা দাঁড়িয়ে গেল, হাই!

    মিতিনকে দেখিয়ে উৎপল ইংরিজিতে বলল, মিট মিসেস মুখার্জি। কাল এঁর কথাই বলছিলাম।

    ডিক সানগ্লাস খুলল না, তবে চোয়াল সামান্য ফাঁক করে মাথা ঝোঁকাল, হাই!

    উৎপল জিজ্ঞেস করল, যাচ্ছ কোথায়?

    টু মিট সামওয়ান।

    ফিরছ কখন?

    ডিক উত্তর না দিয়ে ঠোঁট উলটে কাঁধ ঝাঁকাল।

    একটু থাকবে না? ম্যাডাম কিন্তু তোমাদের সঙ্গেই দেখা করতে এসেছেন।

    ইংরিজির মেলট্রেন ছুটিয়ে দিল ডিক, উনি আমার সঙ্গে মোটেই দেখা করতে আসেননি। যাঁর কাছে যাচ্ছেন তিনি তো বাড়িতেই আছেন। তা ছাড়া আমার না থাকাই ভাল, কী বলতে কী বলে ফেলব, ড্যাডি চটে যাবেন।

    বলেই সাঁই করে পাশ কাটিয়ে হাঁটা লাগিয়েছে ডিক। মিতিন আর টুপুর ঘুরে তাকানোর আগেই ডিক ভ্যানিশ।

    মিতিন আলগাভাবে জিজ্ঞেস করল, কোন হোটেলে চাকরি করে ডিক?

    রাসেল স্ট্রিটের হোটেল ফ্লোরেন্স।

    সে তো বেশ বড় হোটেল!

    হুঁ। উৎপলকে ঈষৎ অপ্রস্তুত দেখাচ্ছিল। বলল, দেখলেন তো কেমন ছেলে! বাড়িতে বিপদ, ভ্রূক্ষেপ নেই! কোনও ঝঞ্ঝাটে থাকতে চায় না, সুটসাট কেটে পড়ে।

    মিতিন হুঁ হ্যাঁ করল না। হাঁটছে আবার। গলিতে একটা বাড়ির গায়ে বড় সাইনবোর্ড দেখে দাঁড়িয়ে পড়ল, এটাই বুঝি আপনাদের জিমনাসিয়াম?

    হ্যাঁ। এই আমাদের রুটিরুজি।

    নামটা তো খাসা দিয়েছেন। নাদিয়া!

    টুপুর জিজ্ঞেস করল, নাদিয়া কোমানিচির নামে?

    হ্যাঁ। মির্না ওঁর দারুণ ফ্যান। মির্নাই রেখেছে।

    মিতিন বলল, চলুন না, আগে আপনাদের জিমনাসিয়ামটা দেখে নিই।

    দেখবেন? এ তো আমার পরম সৌভাগ্য।

    সরু একটা প্যাসেজ দিয়ে ঢুকতে হল পুরনো বাড়িটায়। ভেতরে গিয়ে টুপুর হাঁ। রীতিমতো এক প্রকাণ্ড হলঘর। তবে চতুর্দিক চাপা বলে আলো বাতাস বোধহয় তেমন একটা ঢোকে না। সিলিং-এর ওপর থেকে ঝোলানো হয়েছে বেশ কয়েকটা জোরালো বালব, তাতেই অবশ্য ঝলমল করছে ঘরখানা। একদিকে স্ট্যান্ডফ্যান ঘুরছে ঝড়ের মতো। ইতস্তত সেট করা আছে জিমনাস্টিক্সের উপকরণ। প্যারালাল বার, হরাইজন্টাল বার, আনইন বিম….। উঁচু সিলিং থেকে টাঙানো হয়েছে রোমান রিং। ঘরের এক প্রান্তে ছোট করে হলেও ফ্লোর এক্সারসাইজের ম্যাট পাতা আছে। পাঁচটি মেয়ে আর তিনটি ছেলে কসরত করে চলেছে এপাশে-পাশে। মির্নাও রয়েছে। তার পরনে আজ আকাশি রঙের ট্র্যাকস্যুট। চুল পনিটেল করে বাঁধা। মির্নাকে দেখে আজ মিতিনমাসির থেকে যেন অনেক ছোট বলে মনে হয়।

    মির্না হইহই করে এগিয়ে এসেছে, আপনারা ড্যাডির সঙ্গে মিট করে এলেন?

    না। এইবার যাব। মিতিন হলঘরটায় চোখ ঘোরাল, দারুণ জিমনাসিয়াম বানিয়েছেন তো!

    কোথায় দারুণ? এইটুকু জায়গায় কী হয়? পমেলড হর্স লাগাতে হবে, তার স্পেসই পাচ্ছি না।

    যা আছে তাই বা কম কী? এত বড় রুম …

    উৎপল পাশ থেকে বলল, চারটে ঘর ছিল। আমরা পার্টিশান ওয়ালগুলো ভেঙে নিয়েছি।

    বাড়িঅলা অ্যালাও করলেন?

    এই গ্রাউন্ড ফ্লোরটার মালিক মির্নার ছোটবেলার বন্ধু। তল্পিতল্পা গুটিয়ে সে এখন অস্ট্রেলিয়ায়। সিডনিতে। মির্নার রিকোয়েস্ট সে। ফেলতে পারেনি।

    ভাড়া কত?

    নমিনাল ভাড়া। বলার মতো কিছু নয়। কপালজোরে পেয়ে গেছি।

    বাহ্। সত্যি আপনারা লাকি। বাচ্চা বাচ্চা ছেলেমেয়েরা জিমনাস্টিক্স শিখতে আসছে দেখেও খুব ভাল লাগছে।

    জিমনাস্টিক্সে অনেক বাচ্চারই আগ্রহ আছে। প্রপার ট্রেনার পেলে আমাদের ছেলেমেয়েরাও মিরাকল দেখাতে পারে।

    দেখুন, যদি একটা নাদিয়া কোমনিচি তৈরি করতে পারেন।

    অত দূর না পারলেও ন্যাশনাল লেভেল অবদি যাবই। এবারেই তো আমাদের দুটো মেয়ে স্টেট মিটে যাচ্ছে। দেখবেন নাকি এদের প্রোগ্রেস?

    অন্য একদিন হবে। আজ যে-কাজে এসেছি, সেটা বরং সেরে নিই।

    মির্না বলল, আমি যাব সঙ্গে?

    প্রয়োজন নেই। আপনি ট্রেনিং চালান। উৎপলবাবু তো আছেনই।

    জিমনাসিয়াম থেকে বেরিয়ে বিশ পা যেতে না যেতে মিতিনের ব্যাগের মধ্যে বাজনা বেজে উঠেছে। মাসছয়েক হল মোবাইল ফোন নিয়েছে মিতিন। রাস্তাঘাটে যখন-তখন ফোন করার দরকার হয়, যন্ত্রটা সঙ্গে থাকলে অনেক সুবিধে।

    মিতিন মোবাইল বার করে পরদায় ভেসে ওঠা নম্বরটা দেখল। পাৰ্থর ফোন। প্রেস থেকে।

    টুপুরকে মোবাইলটা বাড়িয়ে দিল মিতিন। আলতো হেসে বলল, তোর মেসো।

    টুপুর ফোন কানে চাপল, আমি টুপুর। কী বলছ?

    ওপারে পাৰ্থর কৌতূহলী স্বর, তোর মাসি কোথায়? যায়নি?

    এই তো যাচ্ছি। আমরা পথে আছি। ইলিয়ট রোডেই।

    উৎপলের সঙ্গে দেখা হয়েছে?

    সঙ্গেই আছেন।

    মাসিকে টিপে দিস, আজ যেন কিছু নিয়ে নেয়। টুপুর চোরাচোখে একবার উৎপলকে দেখে নিয়ে বলল, আচ্ছা।

    আর শোন। আমার ফিরতে রাত হবে। একজন কম্পোজিটার ড়ুব মেরে বসে আছেন। এদিকে আজই একটা স্যুভেনির ছাপা কমপ্লিট করতে হবে। পার্টিদের পরশু ফাংশান, কাল বিকেলের মধ্যে বাইন্ডিং করে ডেলিভারি না দিলে আমার পাঞ্জাবি খুলে নেবে বলে শাসিয়ে গেছে। কী ফ্যাসাদে যে পড়লাম।

    টুপুর অনেক কষ্টে হাসি চাপল, আচ্ছা, মাসিকে জানিয়ে দিচ্ছি। এখন ছাড়ি?

    ফোন অফ করে মিতিনকে যন্ত্রটা দিয়ে দিল টুপুর।

    মিতিন জিজ্ঞেস করল, দরকারি কথা?

    তেমন কিছু নয়। ফিরতে রাত হবে। অনেক কাজ পড়েছে।

    উৎপল সামান্য এগিয়ে গিয়েছিল। গলির শেষ প্রান্তে একটা ভাঙাচোরা লোহার গেটঅ উত্তরমুখে বাড়ির সামনে পৌঁছে দাঁড়িয়ে গেছে।

    টুপুররাও পায়ে পায়ে গেটের সামনে এল, এই বাড়ি?

    ইয়েস। এটাই।

    বাড়িটার নামটা ভারী অদ্ভুত তো! গেটের পাশে পাথরের ওপর প্রায় ক্ষয়ে আসা অক্ষরগুলো চোখে পড়ল টুপুরের। এম ই জি এন এ। মেগনা।

    অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, মেগনা মানে কী? বাংলাদেশের মেঘনা নদী?

    বলতে পারব না। উৎপল সামান্য অপ্রতিভ, সত্যি বলতে কী, নামটা নিয়ে কখনও ভাবিইনি।

    বাড়ির মালিক কি কখনও বাংলাদেশে ছিলেন? আগেকার পূর্ববাংলায়?

    তাও তো বলতে পারব না।

    গেট ঠেলে ভেতরে ঢুকল টুপুররা। বাড়িটা প্রাচীন, কিন্তু শ্ৰীহীন নয়। এককালের লাল রং মরে এলেও আভাসটুকু রয়ে গেছে। ভিক্টোরিয়ান স্থাপত্য। মোটা মোটা থামখলা বারান্দা, দুপাশে দেওয়াল বেয়ে সিমেন্টের লতাপাতা উঠে গেছে, বারান্দার মাথা থেকে নেমে এসেছে সবুজ কাঠের খড়খড়ি। বাড়ি ঘিরে আধভাঙা পাঁচিলের ভেতরে বেশ খানিকটা জমি আছে। প্রায় ন্যাড়া। শুধু একদিকের এক কোণে গোটাকয়েক মরকুটে গোলাপগাছ শোভা পাচ্ছে। ওটাই কি মির্নার বাবার বাগান করার শখের নমুনা?

    সাত-আটখানা চ্যাপটা সিঁড়ি ভেঙে চওড়া বারান্দায় উঠল তিনজনে। উৎপল চেঁচিয়ে ডাকল, ড্যাডি? মিসেস জোনস?

    বারান্দার তিনদিকে তিনটে দরজা। বাঁদিকেরটা খুলে গেল। বেরিয়ে এসেছেন এক প্রবীণ মানুষ। বেঁটেখাটো গোলগাল চেহারা, মাথার চুল বেশির ভাগই পাকা, গায়ের রং বাদামি। দেখতে একদমই অ্যাংলো-ইন্ডিয়ানদের মতো নয়, বরং বাঙালি ঘরের দাদুদের সঙ্গেই ভদ্রলোকের বেশি মিল।

    বয়স্ক মানুষটা এগিয়ে এলেন সামনে। চোখ সামান্য কুঁচকে টুপুর মিতিনকে দেখলেন। তারপর ঝরঝরে বাংলায় মিতিনকে প্রশ্ন করলেন, তুমিই বুঝি ডিটেকটিভ?

    হ্যাঁ। প্রজ্ঞাপারমিতা।

    আর এটি? তোমার বোন?

    দিদির মেয়ে। ঐন্দ্ৰিলা।

    তোমাদের আজকাল এরকম খটোমটো নাম হয় কেন?

    এখন সকলের আনকমনের দিকে ঝোঁক তো। মিতিন হাসল।

    ও। আমি জোনাথন জোনাথন মাইকেল। এসো, ঘরে এসো।

    ঢুকেই ঘরখানা জরিপ করে ফেলল টুপুর। প্রকাণ্ড সাইজ। স্কোয়ার শেপ। বড় বড় দরজা জানলা। উঁচু উঁচু সিলিং। সবুজ স্কার্টিং করা ঝকঝকে লাল মেঝে। লাল-নীল-সবুজ-বেগুনি কাচ আৰ্চ করে বসানো আছে জানলার মাথায়। বন্ধ জানলায় দুটো করে পাল্লা। কাঠের। কাচের ঘরে কী সুন্দর সুন্দর আসবাব। এক দেওয়ালে তিন পাল্লার আয়না বসানো অপরূপ ডিসপ্লে ক্যাবিনেট। দুকোণে দুখানা কারুকাজ করা কাঠের কর্নার ক্যাবিনেট। প্রকাণ্ড প্ৰকাণ্ড সোফা, কাচ বসানো সেন্টার টেবিল। টেবিলের কাঠের রং মিশকালো। আবলুশ নাকি? ঘরের মধ্যিখানে পাতা আছে পুরু কাৰ্পেট। ভারী নরম, নিশ্চয়ই কাশ্মীরি। রংটা অবশ্য একদমই জ্বলে গেছে, ইরানি কাজ। প্রায় বোঝাই যায় না। গোটাতিনেক বেঁটে বেঁটে কাচের আলমারি আছে ঘরে, প্রত্যেকটাই পোর্সিলিনের পুতুল ঠাসা। আছে একখানা শ্বেতপাথরের টেবিল, তার ওপরে চোঙালা গ্রামাফোন। পাশেই। টেলিফোনটা অবশ্য ব্রিটিশ আমলের ফার্নিচারের সঙ্গে একেবারেই বেমানান। আধুনিক স্ট্যান্ডের ওপর রাখা টিভিটাও। দেওয়ালেও কত কী যে আছে। মোষের শিং, হরিণের মাথা, ক্রস করা ঢাল তলোয়ার শিরস্ত্রাণ, ক্রুশবিদ্ধ যিশুর মূর্তি, বাঁধানো ফোটোগ্রাফে মাদার মেরির কোলে ছোট্ট যিশু।

    ঘরের দুখানা ফ্যানই চালিয়ে দিলেন জোনাথন। টিউবলাইট জ্বালালেন। সোফায় বসতে বসতে উৎপলকে বললেন, মিসেস জোনসকে একটু চা-টা করতে বলো।

    টুপুর তাড়াতাড়ি বলল, আমি চা খাই না।

    তবে সফ্ট ড্রিংকস নাও। আজ খুব গরম, ভাল লাগবে।

    ঘরে ঢুকে বাইরের উৎকট ততটা আর টের পাচ্ছিল না টুপুর। যা পুরু দেওয়াল। চার ব্লেডের পাখা দুটো আয়েশ করে ঘুরছে বটে, তবে হাওয়া ভারী মিঠে। শরীর জুড়িয়ে যায়।

    উৎপল অন্দরে যাওয়া মাত্র জোনাথন টানটান হয়ে বসেছেন। গলা নামিয়ে বললেন, শোনো, তোমাদের প্রথমেই চুপি চুপি একটা কথা বলে নিই। আমার মেয়ে-জামাইয়ের ধারণা কিন্তু ভুল। আমার বাড়িতে কোনও প্রোমোটারের হামলা হচ্ছে না।

    মিতিন বলল, কিন্তু উৎপলবাবুর মুখে যে শুনলাম আপনাকে কে ভয় দেখিয়ে গেছে?

    সুরজমল? সে একদিন চেলাচামুণ্ডা নিয়ে এসেছিল বটে, কিন্তু সে তো লোভ দেখাতে। কত টাকার অফার দিয়ে গেছে জানো? পঞ্চাশ লাখ নগদ, প্লাস দুখানা ক্ল্যাট। জোনাথন মাইকেলকে ঈষৎ বিষণ্ন দেখাল, কিন্তু আমি কী করে রাজি হই বলো? এ বাড়িতে ন্যান্সি মারা গেছে, আমার মা মারা গেছেন…। ন্যান্সি মানে মির্নার মা। তাদের কত স্মৃতি ছড়িয়ে আছে এ বাড়ির আনাচে কানাচে। বাড়ি ভাঙলে তারাও মুছে যাবে না?

    হুম। কিন্তু শুনছিলাম যে সুরজমল লোক ভাল নয়, সে আপনার অনিষ্ট করতে পারে?

    অনিষ্ট মানে কী? মেরে ফেলা? ফেলুক। মরলে তো দেখতে আসব না কী হচ্ছে। অবশ্য যদি আমিও না ভূত হয়ে ঘুরি।

    আপনি ভূতে বিশ্বাস করেন?

    ভূত তো আছেই। মানুষ যদি শান্তিতে না মরতে পারে, তা হলে তার আত্মা কখনওই তার প্রিয় জায়গা ছেড়ে যেতে পারে না। শুনেছ নিশ্চয়ই, এ বাড়িতেও সেরকম একজন রয়ে গেছেন।

    জোনাথনের স্বর এমন দৃঢ়, যে টুপুরের গা শিরশির করে উঠল। ঢোক গিলে জিজ্ঞেস করল, মানে যিনি বন্ধ ঘরের ফার্নিচার নাড়ান?

    ঠিক তাই। উৎপল নিশ্চয়ই বলেছে এ বাড়িতে একটা সুইসাইডের ঘটনা ঘটেছিল?

    সুইসাইড বলেননি। ওঁরা বলছিলেন আনন্যাচারাল ডেথ।

    নিজের পিস্তল নিজের গলায় ঠেকিয়ে গুলি করেছিলেন তিনি। মার কাছে শুনেছি, তিনিই নাকি এ বাড়ির প্রতিষ্ঠাতা।

    কী নাম? কত সালে মারা গেছেন?

    রবার্ট ম্যাকগ্রেগর। আমার মার দিদিমার বাবা মারা গেছিলেন। এইটিন সিক্সটি ফোরে।

    স্কটল্যান্ডের লোক?

    ইয়েস। অ্যাবারডিনের। আমার মা অবশ্য আইরিশ। মাকে এ-বাড়ি উইল করে দিয়ে গেছিলেন আমার দিদিমা। বাড়িটা যে প্রোমোটারকে দিতে চাই না এটাও তার একটা কারণ। নিজের পূর্বপুরুষের সম্পত্তি হলে যা খুশি করা যায়, কিন্তু মার উপহার পাওয়া বাড়ি আমি বেচব কোন স্পৰ্ধায়?

    আপনার বাবার বাড়ি কোথায় ছিল?

    গলপুরে।

    আপনার বাবা বিহারি ক্রিস্টান?

    না। তিনি বাঙালি হিন্দু। জোনাথন হাসলেন, নাম সুরেন ভাদুড়ি। মাকে বিয়ে করে বাবা ক্রিস্টান হন। মাইকেল মধুসূদনের খুব ভক্ত ছিলেন বাবা, তাই নাম নিয়েছিলেন সুরেন মাইকেল। সেই সূত্রে আমরাও মাইকেল। এবং আমিই ফার্স্ট জেনারেশান অ্যাংলো ইন্ডিয়ান। টুপুর এতক্ষণে বুঝতে পারল কেন জোনাথন মাইকেলকে এত বাঙালি বাঙালি লাগছিল। কেনই বা প্রথম দর্শনে ইউরোপিয়ান মনে হয়েছিল মির্নাকে। নিৰ্ঘাত মির্না তার ঠাকুরমার মতো হয়েছে। ডিক মাঝামাঝি। গায়ের রঙে, চেহারায়, মুখশ্রীতে। না পুরোপুরি এদেশি, না পুরোপুরি ওদেশি।

    মিতিন নড়েচড়ে বসেছে। জিজ্ঞেস করল, আপনি কি জন্ম থেকেই কলকাতায়?

    না। ছোটবেলায় ভাগলপুরেই ছিলাম। বাবার মৃত্যু পর্যন্ত।

    আপনার বাবা ভাগলপুরেই থেকে গেছিলেন?

    বাবা ছিলেন খুব জেদি মানুষ। তিনি ইউরোপিয়ান বিয়ে করেছিলেন বলে আমার ঠাকুরদা তাঁকে ত্যাজ্যপুত্র করেছিলেন। ঠাকুরদাকে দেখিয়ে দেওয়ার জন্য ভাগলপুরের পাট চোকাতে রাজি হননি বাবা। ভাগলপুরেই খেটেখুটে একটা বেকারি খুলেছিলেন। কারখানায় কেক প্যাটিস পাউরুটি বানানো হত। ক্ৰমে ক্ৰমে বিশাল নাম হয়ে যায় মাইকেল্স বেকারির। পরে অবশ্য ঠাকুরদার সঙ্গে বাবার সম্পর্ক খানিকটা জুড়েছিল। ছেলেকে সম্পত্তি থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত করেননি তিনি, সামান্য কিছু ভাগ দিয়েছিলেন। মাই গ্র্যান্ডপা ওয়াজ এ ফেমাস ডক্টর। ভাগলপুরের খরমনচকে তার বিস্তর জমিজায়গা ছিল। মূল বাড়ির ভাগ না দিলেও বুড়ানাথ মন্দিরের কাছে ছোট্ট একটা বাড়ি তিনি বাবার নামে লিখে দিয়েছিলেন। বাবা নিজেও অবশ্য ভাগলপুরে একটা বাড়ি কিনেছিলেন। ভিখানপুরে। চার্চ রোডের ওপর। বাবা হঠাৎ স্ট্রোকে মারা যাওয়ার পর মা ভাগলপুরের বেকারিটা বেচে দেন। দু বাড়িতেই ভাড়া বসিয়ে চলে আসেন কলকাতায়। আমার তখন বয়স সতেরো।

    আপনি কি বাবা-মার একমাত্র সন্তান?

    আমার এক দিদি ছিল। বাবার মৃত্যুর বছর দুয়েক আগে প্ৰভু যিশু তাকে টেনে নেন। স্মল পক্স। পর পর দুটো বড় আঘাত পেয়ে মার ভাগলপুর থেকে মন উঠে গিয়েছিল, আর কখনও ওখানে ফিরে যাননি। আমাদের বেকারির ম্যানেজার গণপতি চৌধুরী খরমনচকে থাকেন। উনিই কিনে নিয়েছিলেন বেকারিটা। ভাল লোক। আমাদের বাড়ি দুটোরও দেখাশুনো করতেন, মানি অর্ডার করে ভাড়াও পাঠিয়ে দিতেন নিয়মিত।

    দিতেন কেন? এখন ভাড়া পান না?

    এই তো জানুয়ারির শেষে দুটো বাড়িই বিক্রি হয়ে গেল। মেয়ে-জামাইকে সঙ্গে নিয়ে আমিও শেষবারের মতো ভাগলপুর ঘুরে এলাম। অবশ্য শেষ যাওয়াটা সুখের হয়নি।

    মিতিন জিজ্ঞেস করতে যাচ্ছিল, কেন? কথা থমকে গেল। কাচের ঐলিতে একগাদা খাবার-দাবার সাজিয়ে ঘরে এসেছেন এক অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান মহিলা। বয়স বছর পঞ্চাশ, কালো মতন, মোটাসোটা, পরনে ছিটের গাউন। মিসেস জোনস। সঙ্গে উৎপল।

    মধুর হেসে মিসেস জোনস বললেন, গুড ইভনিং গার্লস। কথা পরে হবে। আগে খেয়ে নাও।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমিতিনমাসি সমগ্র ২ – সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    Next Article বিষ – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    Related Articles

    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    গল্প সমগ্র – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    অন্য বসন্ত – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    কাছের মানুষ – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    হেমন্তের পাখি – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    অলীক সুখ – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    আলোছায়া – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }