Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মিতিনমাসি সমগ্র ১ – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    সুচিত্রা ভট্টাচার্য এক পাতা গল্প667 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৩. চাইবাসা থেকে মেঘাতুবুরু

    চাইবাসা থেকে মেঘাতুবুরু যাওয়ার রাস্তাটাও মোটেই ভাল নয়। টাউনের সীমানা ছাড়ানোর পর প্রথম তিন-চার মাইল তাও চলনসই ছিল, কিন্তু এখন যা শুরু হয়েছে তাকে এককথায় বলে অকহতব্য। একে মালভূমি অঞ্চলের ঢেউ-তোলা পথ, তায় রাস্তা জুড়ে ইয়া ইয়া গর্ত। উহুঁ, গর্ত নয়, গহ্বর। কোথাও কোথাও তো পিচের চিহ্নমাত্র নেই, খোয়া আর স্টোনচিপস ছড়িয়ে রয়েছে রাস্তাময়। আর ধুলো কী, বাপস! জিপের জানলার কাচ একটু সরল কি সরল না, অমনই লাল লাল গুঁড়ো ঝাপটে ঢুকে পড়ছে ভেতরে। কাল হিরনি যাওয়ার রাস্তা এর চেয়ে অনেক ভাল ছিল।

    সালোয়ার-কামিজের ওড়না নাকে চেপে আছে মিতিন। ড্রাইভারকে জিজ্ঞেস করল, আপনারা এখানে গাড়ি চালান কী করে? শক অ্যাবজর্বার বসে যায় না?।

    জিপ-চালকের নাম নজরুল হোসেন। বছর ষাটেক বয়স। চাইবাসাতেই বাড়ি, একসময়ে দীর্ঘকাল ঝাড়গ্রামে ছিলেন, কথা বলেন ঝরঝরে বাংলায়। নজরুলের জিপেই কাল হিরনি ফলস গিয়েছিল টুপুররা, তখনই নজরুলের সঙ্গে বেশ ভাব জমে গেছে টুপুরদের। ধারা সরু হলেও জঙ্গল জঙ্গল পরিবেশে হিরনি জলপ্রপাত টুপুরদের মন্দ লাগেনি। কাছে হেসাডি গ্রামটিও পটে আঁকা ছবির মতো সুন্দর। তবে সবথেকে বেশি ভাল লেগেছে নজরুলকে। মানুষটি ভারী রগুড়ে, মজার মজার কথা বলেন। তাঁর ভাষাতে সর্বক্ষণই গাড়ি আর গাড়ির কলকব্জার উপমা।

    প্রকাণ্ড এক গাড্ডা দক্ষ হাতে কাটিয়ে নিতে নিতে নজরুল বললেন, শুধু গাড়ি কেন দিদি, আমাদের বডির শক অ্যাবজর্বারগুলোর কথাও ভাবুন। পাঁজরার স্প্রিং পাত্তিগুলো তো কবেই বসে গেছে। এখন নাটবল্টু খুলে খুলে পড়ার দশা। এই রাস্তায় আর এক-দুবছর টানতে হলে আমার ইঞ্জিনই পুরো বসে যাবে।

    পার্থ সামনের সিটে, নজরুলের পাশে। সে টিপ্পনি কাটল, মেঘাতুবুরু অবধি আমাদের ইঞ্জিনও ঠিকঠাক থাকবে তো?

    সহেলি তেতো মুখে বললেন, এসব রাস্তাঘাট সারানো হয় না কেন? গাড়িঘোড়া তো দেখছি এদিকে কম চলে না!

    আবেদন-নিবেদন তো চলছে দিদি। গভর্নমেন্টও ভাবনাচিন্তা করছে। নজরুলের ফের সরস উক্তি, তবে নতুন স্টেট, নতুন সরকার… এখনও ভাল করে পিকআপ নেয়নি।

    টুপুর বলে উঠল, এটা তো এখন আর বিহার নয়, ঝাড়খণ্ড। তাই না?

    হুঁ। মিতিন বলল, ঝাড়খণ্ড মানে কী বল তো?

    কী?

    ঝাড় মানে জঙ্গল, বা ঝোপ। ঝাড়খণ্ড মানে জঙ্গলময় স্থান। এদিকে সর্বত্রই একসময়ে জঙ্গল ছিল। গ্রাম শহর যা গড়ে উঠেছে, সব কিন্তু এই জঙ্গল কেটে কেটে। এখানকার নামগুলোতেও তাই দেখবি জঙ্গলের ছাপ।

    পার্থ বলল, যেমন শালবনি, মহুলবনি, কেঁদবনি, কুরচিবনি…

    মিতিন বলল, ডালকাটি, হাতিয়াশোল, বাঘুয়াশোল, শিয়ালা…

    পার্থ বলল, ভালুকনাচা, ভালুকবিধা, বাঘমারি, বাঘমুণ্ডি…

    থাক, থাক, হয়েছে। অবনী থামালেন দুজনকে, খুব তো নাম আওড়াচ্ছ, ঝাড়খণ্ডের টোপোগ্রাফি জানো? ইতিহাস?

    পাৰ্থ ঘাড় ঘুরিয়ে বলল, পড়েছি একটু-আধটু। মানভূম ধলভূম সিংভূম বীরভূম ভঞ্জভূম আর রাঁচির খানিকটা পার্ট– এই অঞ্চলটাকে এককালে ঝাড়খণ্ড বলা হত। ভঞ্জভূম চলে গেছে ওড়িশায়। ধলভূমের মেজর পার্ট, মানভূমের কিছুটা, সিংভূম আর রাঁচি ছিল বিহারে, এখন সেটাই ঝাড়খণ্ড স্টেট। বাকিটা আছে আমাদের বেঙ্গলে। বাঁকুড়া, পুরুলিয়া তো মানভূমেরই অংশ। বাই দা বাই, বীরভূম মানে কিন্তু বীরপুরুষদের ভূমি নয়, বীর মানে অরণ্য। ব্রিটিশ গভর্নমেন্টই এদের ভেঙে ভেঙে এক-একটা স্টেটে গুঁজে দিয়েছিল।

    অনেকটাই ঠিক বলেছে, তবে পুরোটা নয়। অবনী মাথা দোলালেন, ঝাড়খণ্ডের অতীত কিন্তু খুব ইন্টারেস্টিং। ওই ভাগগুলো হয়েছিল ব্রিটিশরা এখানে পুরোপুরি রাজত্ব কায়েম করার আগেই। সেই ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আমলে। পলাশির যুদ্ধের পরে, সেভেনটিন সিক্সটিফাইভে। বাংলা বিহার ওড়িশার নবাব নাজ-উদ্-দৌল্লা পুরো ঝাড়খণ্ড অঞ্চলটাকেই তুলে দিয়েছিলেন কোম্পানির হাতে। ইচ্ছেমতো খাজনা তোলো, আর ভোগ করো। কিন্তু ঝাড়খণ্ডের মানুষ দারুণ স্বাধীনচেতা। তারা বাইরের মানুষদের বলত দিকু। হাজার হাজার বছর ধরে তারা এখানকার পাহাড়ে জঙ্গলে বাস করছে, খেতে না পেয়ে মরে যাবে, তবু তারা দিকুদের শাসন মানবে না। আদিকাল থেকে তারা এখানকার বাসিন্দা বলেই তো তাদের আমরা বলি আদিবাসী। তা তখন ঝাড়খণ্ডের আদিবাসীদের ছিল অনেক রাজা। ওই ভূমগুলো বলছিলে, ওইসব ভূমেই তখন কোনও-না-কোনও রাজার অখণ্ড প্ৰতাপ। তাঁরা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে ট্যাক্স তো দিলেনই না, উলটে শুরু হয়ে গেল কোম্পানির সঙ্গে যুদ্ধ। সাহেবদের কামান বন্দুকের সামনে সোজাসুজি লড়তে পারবেন না বলে গেরিলা ফাইট করতেন রাজারা। এই রাজাদের সঙ্গে কোম্পানির মোট কত বছর যুদ্ধ চলেছিল, জানো? সতেরোশো সাতষট্টি থেকে আঠারোশো পঞ্চান্ন, মানে প্রায় নব্বই বছর। ধলভূমগড়ের এক রাজা জগন্নাথ ধল তো টানা আট বছর লড়াই চালিয়েছিলেন, নাভিশ্বাস তুলে দিয়েছিলেন কোম্পানির। শেষপর্যন্ত অবশ্য জগন্নাথ ধলকে সারেন্ডার করতে হয়। কোম্পানিকে বার্ষিক চার হাজার দুশো সাতষট্টি টাকা খাজনা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। সালটা ছিল সতেরোশো চুয়াত্তর। এবং তখন থেকেই ঝাড়খণ্ড রিজিয়ানে কোম্পানির শাসন প্রতিষ্ঠা শুরু…

    অবনীর কথায় ছেদ পড়ল। টুপুর আচমকা চেঁচিয়ে উঠেছে, দ্যাখো, দ্যাখো, ওই মোটরসাইকেলটা কীভাবে আসছে।

    একসঙ্গে সব চোখ ঘুরে গেল পিছনে। সত্যিই একটা মোটরসাইকেল তীব্র বেগে ধেয়ে আসছে। খানাখন্দর পরোয়া নেই, লাফিয়ে লাফিয়ে গর্ত পার হচ্ছে। কিছু বোঝার আগেই বিশ্রী ধুলো উড়িয়ে টুপুরদের জিপকে অতিক্রম করে চলে গেল। পিঠে দুই আরোহী, দুজনেরই মাথামুখ হেলমেটে ঢাকা।

    সহেলি শিউরে উঠে বললেন, এভাবে কেউ চালায়। এক্ষুনি অ্যাক্সিডেন্ট করবে।

    টুপুর বলল, এই মোটরসাইকেলটাকে একটু আগে চাইবাসায় দেখলাম না? সিনেমা হলের সামনে?

    পার্থ বলল, তুই বুঝলি কী করে সেইটাই এটা?

    ওটাও টুকটুকে লাল ছিল, গায়ে একটা ব্লু বর্ডার।

    পার্থ হেসে ফেলল, ওই রঙের একটাই মোটরসাইকেল আছে বুঝি?

    না গো, ওটাতেও দুজন লোক ছিল। একজন বসে ছিল মোটরসাইকেলে, আর একজন এস-টি-ডি বুথে ঢুকল। তুমি যখন সিগারেট কিনতে নামলে, তখন।

    পার্থ জোরে হেসে উঠল, তাতেও কিসু প্রমাণ হয় না। এবং তুমি তোমার মাসির যতই চেলি বনার চেষ্টা করো, তোমার হবে না।

    বুমবুম পাৰ্থর পাশ থেকে দু হাত উঁচু করে কাঁচকলা দেখাল টুপুরকে।

    অবনী ছটফট করছিলেন। জিপে বসে বই পড়ার উপায় নেই, ঝাঁকুনির ঠেলায় ঘুমিয়ে পড়াও অসম্ভব, তাই এখন তাঁকে বক্তৃতায় পেয়েছে। অবনীর এমনটাও হয় মাঝে মাঝে, তখন তাঁকে থামিয়ে রাখা দুষ্কর। কলেজের অভ্যেসের মতো টানা পঁয়তাল্লিশ মিনিট ননস্টপ বকে যাবেন, বাধা পড়লেই মুখ হাঁড়ি।

    অসহিষ্ণু স্বরে অবনী বললেন, ছাড়ো তো ওই মোটরসাইকেল। যা বলছি শোনো। তা সেই ঝাড়খণ্ড..।

    টুপুর কাতর মুখে বলল, বাবা প্লিজ, বইয়ে পড়ে নেব।

    বইয়ে কী আছে? কিছু নেই। আছে অচল সিংহের নায়েক বিদ্রোহের কথা? কৰ্ণগড়ের রানি শিরোমণির কাহিনী পাবি তোর বইয়ে? কিংবা মাধব সিংহের বীরত্বের গল্প? জমিদার দুর্জন সিংহ কীভাবে অম্বিকানগর আর সুপুরে কোম্পানির ফৌজের সঙ্গে লড়াই করেছিলেন, তার কথা তোর কোন ইতিহাস বইয়ে আছে? এই সিংভূমে একটা কোল-বিদ্রোহ হয়েছিল সে-খবরই বা কজন জানে?

    পাৰ্থর স্বরও করুণ, এই সবকটা গল্পই এখন শুনতে হবে অবনীদা? আমরা কি এখন একটু প্রকৃতি দেখতে পারি না?

    সহেলি বললেন, হ্যাঁ, সেই ভাল। তুমি একটু ক্ষ্যামা দাও।

    অবনীর মুখ পলকে গম্ভীর।

    বাইরে এখন নিসর্গ বলতে তেমন কিছু নেই, তবু তাকিয়ে থাকতে বেশ লাগে। রাস্তার দুপাশেই এবড়োখেবড়ো মাঠ, গাছপালা খুবই কম। কিন্তু এই রুক্ষতারও যেন একটা আলাদা সৌন্দর্য আছে। অনেক দূরে মেঘের মতো পাহাড় দেখা যায়, সম্ভবত ওদিকটাই সারান্ডা। মাঝে-সাঝে পথের ধারে গাছের সংখ্যা বাড়ছে একটু, কমেও যাচ্ছে। ছোট্ট ছোট্ট বসতি আসছে, শুকনো চেহারার গ্রামগুলোকে পেরিয়ে গেলেই আবার রুখসুখু প্রান্তর।

    হঠাৎ হঠাৎ চোখে পড়ছে শিমুল পলাশ। পাতা দেখা যায় না, ফুলে ফুলে লাল হয়ে আছে গাছগুলো। এত ঘন লাল যে, চোখ ধাঁধিয়ে যায়।

    পার্থ উল্লসিত হয়ে বলল, এই গাছগুলোকে একা একা দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তোর কি একটা গান মনে পড়ছে টুপুর?

    কী গান বলো তো?

    মিতিন বলল, আমি বলব?

    বলো।

    লাল পাহাড়ির দেশে যা,
    রাঙামাটির দেশে যা,
    হিথায় তোরে মানাইছে না রে,
    ইক্কেবারে মানাইছে না রে।

    ঠিক। ইক্কেবারে ঠিক। গানের কথাগুলো ফ্যান্টাসটিক। এমন টকটকে লাল ফুল কি যেখান-সেখানে মানায়? এই লাল মাটির দেশ ছাড়া?

    মিতিন গুনগুন করে গেয়ে উঠল গানটা। টুপুর সহেলি গলা মিলিয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে পার্থও বুমবুম হাততালি সহকারে যোগ দিল কোরাসে। প্রবীণ নজরুল হোসেনের মুখও খুশিতে ভরপুর। তিনিও স্টিয়ারিং হাতে মাথা দোলাচ্ছেন গানের তালে তালে। অনেক চেষ্টা করেও অবনী আর গোমড়া থাকতে পারলেন না, আস্তে আস্তে চোয়ালটা তাঁর আলগা হয়ে গেল। ঠোঁট নড়ছে মৃদু মৃদু, গানের কলিগুলোই আওড়াচ্ছেন তিনি। হাঁটু দুটো নেচে উঠল। দুলছেন অল্প অল্প।

    গান চলতে চলতেই একটা ছোট্ট জনপদ। সামান্য কটা দোকানপাট, কুঁড়েঘর, টিনের চালা, একটা-দুটো পাকাবাড়ি।

    একটা দোকানের সাইনবোর্ডে ইংরেজিতে জায়গাটার নাম দেখে টুপুর গান থামিয়ে হই হই করে উঠল, মিতিনমাসি, ঝিনিকপানি ঝিনিকপানি! এইখানেই মুকুলবাবুর সেই হাতির পাল…!

    একটু আগেই একটা ট্রেনলাইন পার হয়েছে গাড়িটা। ওখানেই বুঝি গজ-সম্মেলন হয়েছিল।

    পার্থ বলল, ঝিনিকপানি নামটা কিন্তু বড় সুন্দর। নামটাকে সম্মান জানাতেই এখানে নেমে অন্তত এক কাপ চা খাওয়া উচিত।

    সহেলি বললেন, কায়দা করছ কেন ভাই? সত্যি কথা বলো না, চা তেষ্টা পেয়েছে।

    যাত্রীদের বাসনা টের পেয়ে নজরুল বললেন, ব্রেক কষি তা হলে? আপনারা তেল মোবিল নিয়ে নিন।

    ঝিনিকপানির একেবারে শেষ প্রান্তে ছোট চা মিষ্টির দোকানের সামনে জিপ থামালেন নজরুল। নেমেই টুপুরের চক্ষুস্থির। দোকানের পরেই একটা ঝাঁকড়া গাছ, তার তলায় দাঁড়িয়ে সেই মোটরসাইকেলটা। আরোহীরা নেই, সিটের ওপর শোভা পাচ্ছে জোড়া হেলমেট!

    টুপুর টানল মিতিনকে, দেখেছ? দেখেছ?

    হুম।

    লোক দুটো কোথায় গেল বলো তো?

    আছে কোথাও এদিক-ওদিক।

    সহেলি পাশে দাঁড়িয়ে কোমর ছাড়াচ্ছিলেন। লম্বা নিশ্বাস ফেলে বললেন, ভগবানের দয়ায় বেঁচে গেছে। যা মিসাইলের মতো ছুটছিল।

    পার্থ বুমবুমকে নিয়ে দোকানে ঢুকেছে। হাঁক ছাড়ল, কে কী খাবে? কে কী ভাবে?

    অবনী বাইরের সরু বেঞ্চিতে বসেছেন। বললেন, আমি শুধু এক কাপ চা। লিকার হলে ভাল হয়।

    নিমকি খেতে পারেন। গরম গরম ভাজা হচ্ছে।

    মাথা খারাপ! নিমকি খেয়ে মরি আর কী। অবনী দুহাত ছড়িয়ে আড়মোড়া ভাঙলেন, নজরুলভাই, আমরা জামদা পৌঁছচ্ছি কখন?

    নজরুল ঘড়ি দেখলেন, এখন বাজে নটা, জামদা ধরুন আরও দেড় ঘণ্টা।

    গোটাটাই এরকম ভাঙাচোরা রাস্তা?

    না, না। জগন্নাথপুরের পর থেকে অনেকটা ভাল হবে।

    তা হলে জগন্নাথপুর পার হয়ে একটা কলা খাব।

    পার্থ চ্যাঙারিতে গোটাদশেক নিমকি নিয়েছে। সঙ্গে এক ডজন রসাল জিলিপি। সকলের সামনে গিয়ে এগিয়ে দিচ্ছে চ্যাঙারি। নজরুল একটা করে নিমকি জিলিপি নিলেন, টুপুর মিতি০ন দুটো করে। বুমবুমও একটা নিমকি তুলে নিল দেখে পাৰ্থ রীতিমতো হতাশ, বেজার মুখে কামড় বসাল জিলিপিতে।

    টুপুর নিমকি খেতে খেতে জায়গাটা দেখছিল। স্থানীয় মানুষদেরও। সবাই প্রায় আদিবাসী। মোটা নাক, পুরু ঠোঁট, কৃষ্ণবর্ণ, স্বাস্থ্যবান। পোশাক খেটো ধুতি, দুএকজন ছাড়া বেশিরভাগেরই খালি গা। তবে মহিলাদের শাড়িগুলো দিব্যি রংচঙে। বাচ্চা কোলে একটা বউ হাঁ করে এদিকে তাকিয়ে। কানে মোটা দুল, বাদামি চুলে টেরচা খোঁপা।

    চাপা গলায় টুপুর জিজ্ঞেস করল, মিতিনমাসি, এরা কি সাঁওতাল?

    মিতিন দুদিকে ঘাড় নাড়ল। বলল, মুণ্ডা, কিংবা ওঁরাও। এদিকে হো উপজাতির লোকও আছে অনেক। তবে এরা বোধহয় হো নয়। আর এই অঞ্চলে সাঁওতাল তো প্রায় নেইই।

    কিন্তু সব চেহারাই তো মোটামুটি এক!

    না রে, খুঁটিয়ে দেখলে তফাত বোঝা যায়। সকলেই অস্ট্রিক অরিজিন, তবে কিছু ডিফারেন্স আছে। চুলের কালারে, মুখের শেপে…। আমরা আলাদা করতে পারি না, সেটা আমাদের চোখের দোষ।

    চা এসে গেছে। অবনীর লিকার-চা হয়নি, সবই দুধ মেশানো। এবং ভয়ঙ্কর গরম।

    রয়েসয়ে, ফুঁ দিয়ে দিয়ে গ্লাসে চুমুক দিচ্ছে টুপুর, তখনই মোটরসাইকেলের দুই আরোহীর উদয় হল। ঝাঁকড়া গাছটার গা দিয়ে সরু পায়ে চলা পথ নেমে গেছে গ্রামের দিকে, সেই পথ বেয়েই হঠাৎ উঠে এসেছে লোক দুটো একজন শিস দিতে দিতে আঙুলে চাবির রিং ঘোরাচ্ছে, অন্যজনের দুহাতে ঝুলছে দুখানা জ্যান্ত মুরগি।

    দুটো লোকেরই পরনে জিল্স আর টি-শার্ট। চোখে সানগ্লাস। শ্যামবর্ণ, তবে স্পষ্ট বোঝা যায় এরা আদিবাসী নয়। শহুরে কায়দায় কাটা চুল উড়ছে হাওয়ায়। মোটরসাইকেল স্টার্ট দিতে গিয়েও প্ৰথমজন দাঁড়িয়ে গেল। হিপ-পকেট থেকে মোটা পার্স বার করছে। এগিয়ে এসে দোকান থেকে সিগারেট কিনল চার প্যাকেট। হাতের থাবায় প্যাকেটগুলো ধরে সরু চোখে টুপুরদের জরিপ করল ঝলক। তারপর ফিরে গিয়ে মাথায় হেলমেট চড়াচ্ছে। দ্বিতীয় লোটা মোটরসাইকেলের সাইডবক্স থেকে একটা নারকেল দড়ি বার করেছে ইতিমধ্যে। মুরগি দুটোর পা কষে বাঁধল, ঝুলিয়ে দিল মোটরসাইকেলের ব্যাকরেস্টে। প্ৰাণভয়ে পরিত্ৰাহি চিৎকার করছে মুরগিগুলো, ভয়ানক ঝটাপটি করছে।

    তখনই প্রথম লোকটা এক অদ্ভুত কাণ্ড ঘটাল। খপ করে চেপে ধরেছে মুরগি দুটোকে। মটমট করে মুচড়ে দিল মুরগি দুটোর গলা। কয়েক সেকেন্ড অপেক্ষা করে দেখল আর ওরা নড়াচড়া করে কি। না। তারপর নিশ্চিন্ত হয়ে লাথি কষাল মোটরসাইকেলে, দুই নিথর মুরগি আর নির্বিকার সঙ্গীকে পিছনে নিয়ে গর্জন তুলে বেরিয়ে গেল।

    বুমবুম ভ্যাবাচাকা খেয়ে গেছে। কাঁদো কাঁদো মুখে বলল, মরে গেল মুরগি দুটো?

    টুপুর অস্ফুটে বলল, কী নিষ্ঠুর!

    মিতিন দোকানদারকে হিন্দিতে জিজ্ঞেস করল, কারা এরা? আপনি চেনেন?

    দোকানদারও দেখছিল লোক দুটোকে। বলল, মালুম নেহি। হোগা কোই বাবুলোগ। সায়েদ জঙ্গলমে ঘুমনে আয়া।

    আগে দেখেছেন?

    দো-তিনবার দেখেছি। কাল ভি এসেছিল, মোরগা নিয়ে চলে গেল।

    টুপুর থমথমে মুখে বলল, পেছনের লোকটাকে আমি চাইবাসায় মোটরসাইকেলে বসে থাকতে দেখেছিলাম।

    বুমবুম গাল ফুলিয়ে বলল, ওরা পাজি লোক।

    মুরগি দুটোর আর্তনাদ টুপুরের কানে লেগে আছে এখনও। মনটা খারাপ হয়ে গেল টুপুরের।

    জিপ চলছে আবার। একটা বড়সড় কারখানা পেরোল। সিমেন্ট ফ্যাক্টরি। জগন্নাথপুরের পর সত্যিই খানিকটা উন্নতি হল রাস্তার, স্পিড বাড়ালেন নজরুল। সঙ্গে সঙ্গে অবনীর চোখ বন্ধ। সহেলি টুকটাক কথা বলছেন মিতিন পার্থর সঙ্গে, বুমবুম জানলা দিয়ে মুখ বাড়িয়ে মাইলস্টোন গুনছে।

    একটা বাঁকের মুখে বিশাল এক গর্ত। নজরুল প্রথমটা খেয়াল করেননি, শেষ মুহূর্তে ক্লাচ ব্রেক চাপলেন প্রাণপণে। প্রবল ঝাঁকুনি খেয়ে থরথর কেঁপে উঠল গাড়ি।

    ব্যস, তারপর থেকে জিপ আর গতি তুলতে পারে না। গিয়ার বদল করে, অ্যাক্সিলারেটার চেপে চেষ্টা চালাচ্ছেন নজরুল, জিপ তবু হেঁচকি তুলেই চলেছে।

    পাৰ্থ উদ্বিগ্ন মুখে জিজ্ঞেস করল, কী প্রবলেম হল নজরুলভাই?

    মনে হচ্ছে লাং ইনফেকশান। গাড়ির ফুসফুসটাই গেছে। জামদা পৌঁছে গিয়ারবক্সটা একবার দেখাতে হবে।

    ক্লাচপ্লেটের গণ্ডগোল নয় তো?

    তাও হতে পারে। প্লেটও ক্ষয়ে যেতে পারে। অবশ্য যদি বলেন মেঘাতুবুরু অব্দি এভাবেই টেনে দিতে পারি। গাড়ি একটু ধুঁকতে ধুঁকতে যাবে, এই যা।

    মিতিন বলল, না না, সেটা কিন্তু রিস্ক হয়ে যাবে। মেঘাতুবুরু যেতে প্রায় তিন হাজার ফিট উঠতে হবে। চড়াইয়ের সময়ে গাড়ি যদি সেন্সলেস হয়ে যায়..!

    তা হলে জামদাতেই চেক-আপটা করিয়ে নিই, কী বলেন?

    সত্যি সত্যি জ্বোরো রুগির মতো ধুঁকতে ধুঁকতে জিপ জামদা পৌঁছল প্রায় মিনিট কুড়ি পর। বেশ বড় টাউনশিপ। রীতিমতো ঘিঞ্জি। দোকানপাট আছে অজস্ৰ, গাড়ি সারানোর গ্যারাজও রয়েছে বেশ কয়েকটা। বাঁয়ে এক সরু গালতে ঢুকে জয় হনুমান মোটর ওয়ার্কসে জিপ নিয়ে গেলেন নজরুল। এই গ্যারাজের মালিক নাকি তাঁর খুব চেনা। মেকানিক গাড়ি পরীক্ষা করে রায় দিল ক্লাচপ্লেট ঠিক আছে, গিয়ারবক্সেরই অবস্থা খারাপ, ঘণ্টাতিনেক সময় লাগবে সারাতে।

    পার্থ বলল, চলো, তা হলে আমরা এখানেই দুপুরের খাওয়াটা সেরে নিই।

    অবনী চিন্তিত মুখে বললেন, এখানকার হোটেলে কি ডাল আলুসেদ্ধ পাওয়া যাবে?

    সহেলি বললেন, তাড়াতাড়ি খেয়ে নিয়ে আমি কিন্তু এখানকার মার্কেটটা ঘুরব।

    টুপুর অন্য কথা ভাবছিল। গাড়ি সারাতে বেশি দেরি হলে মেঘাতুবুরুর সূর্যাস্তটা মিস হয়ে যাবে না তো?

    মিতিন ফস করে বলল, একবার ওই পুরুষোত্তম সিংহর বাড়িটা ঘুরে এলে হয় না?

    পার্থ বলল, যাহ্, আলাপ পরিচয় নেই..

    আহা, মুকুলবাবুকে তো চিনি। আর তিনি তো এখন জামদাতেই আছেন।

    মাত্র এক দেড় ঘণ্টার আলাপ, তাও ট্রেনে… ওকে কি পরিচয় বলে? তা ছাড়া বাড়িটা ঠিক কোথায় তাও তো জানো না।

    জামদায় এসে জামদার সিংহকে খুঁজে বার করতে পারব না? চাইবাসার অনন্তবাবু বলছিলেন পুরুষোত্তম নাকি একটা ক্যারেক্টার। এখানে এসেও তাঁকে একবার চোখে দেখব না? এই ফাঁকে মুকুলবাবুর সঙ্গেও নয় আর একবার দেখা হয়ে যাবে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমিতিনমাসি সমগ্র ২ – সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    Next Article বিষ – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    Related Articles

    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    গল্প সমগ্র – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    অন্য বসন্ত – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    কাছের মানুষ – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    হেমন্তের পাখি – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    অলীক সুখ – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    আলোছায়া – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }