Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মিতিনমাসি সমগ্র ১ – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    সুচিত্রা ভট্টাচার্য এক পাতা গল্প667 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৩-৪. দোকানটা বেকবাগানের মোড়েই

    দোকানটা বেকবাগানের মোড়েই। নাম গ্র্যান্ড কিউরিও শপ। খুব একটা বড় নয়, তবে নানারকম বাহারি জিনিসপত্রে ঠাসা। রয়েছে অজস্র ধরনের রঙিন চিনেমাটির পুতুল, পাথরের ছোটখাটো মূৰ্তি, সাবেকি ফুলদানি, খুদে ঝাড়লণ্ঠন। সঙ্গে ফেং-শুই আইটেমও রয়েছে বেশ কিছু। উইন্ডচাইম, লাফিং বুদ্ধা, লাভবার্ডস। কাচের শোকেসের ওপারে, দোকানে ঝোলানো স্ফটিকগুলো ঝকঝক করছে।

    বাইরে থেকে দোকানের ভিতরটা দেখছিল টুপুররা। ঢুকবে কি ঢুকবে না ইতস্তত করছিল তিন মূর্তি। দোকানে কোনও ক্রেতা নেই এখন, কাউন্টারে বসে আছেন এক মধ্যবয়সি মানুষ। মাথা নিচু করে লিখছেন কী যেন। সম্ভবত হিসেবটিসেব।

    টুপুর একটা বড়সড় শ্বাস ভরে নিল বুকে। কুশলকে বলল, আর দাঁড়িয়ে থেকে কী হবে, আয়, কপাল ঠুকে ঢুকে পড়ি।

    তিন মূর্তি কাচের দরজা ঠেলতেই চোখ তুলেছেন ভদ্রলোক। হাসিহাসি মুখে বললেন, কী নেবে ভাই তোমরা?

    কুশল গলা ঝেড়ে বলল, আমরা একটু আপনার সঙ্গে কথা বলতে চাই।

    কী কথা?

    লিয়াংকে দেখিয়ে টুপুর বলল, আমাদের এই বন্ধুর কাকা আপনাদের দোকান থেকে একটা জিনিস কিনে নিয়ে গিয়েছিলেন। পরশু শনিবারের আগের শনিবার।

    কী জিনিস?

    সেটা তো আমরা ঠিক জানি না … মানে সেটা জানতেই আসা ..

    দু-চার সেকেন্ড ফ্যালফ্যাল চোখে তাকিয়ে রইলেন ভদ্রলোক। তার পরেই মুখভাব হঠাৎ বদলে গিয়েছে। লিয়াংকে আপাদমস্তক জরিপ করে নিয়ে বললেন, তোমারই কাকা মারা গিয়েছেন বুঝি?

    লিয়াং মাথা নাড়ল, হ্যাঁ।

    পুলিশ তোমাদের কিছু জানায়নি? পুলিশ তো আমার দোকানে এসেছিল, তাদের তো আমি বলে দিয়েছি উনি কী কিনেছিলেন।

    এখনও থানা থেকে আমাদের কিছু বলেনি।

    ও, ভদ্রলোক একটুক্ষণ কী যেন ভেবে নিয়ে বললেন, তোমার কাকাকে আমি একটা ওয়ালহ্যাঙ্গিং বিক্রি করেছিলাম।

    টুপুর বলল, ওয়ালহ্যাঙ্গিংটা কীরকম ছিল যদি একটু বলেন ..

    বড়সড় একটা ক্যালেন্ডারের মতো দেখতে। কাপড়ের। খুবই পুরনো। হলদেটে কাপড়ের উপর কী সব আঁকাজোকা ছিল। আর চিনে ভাষায় লেখাও ছিল কিছু।

    কী লেখা ছিল?

    সে আমি কী করে বলব? আমি কি চিনে ভাষা পড়তে পারি? সত্যি বলতে কী, ওটা যে চাইনিজ লেখা তা-ও আমি জানতাম না। আমার ধারণা ছিল, ওগুলো ছোট ছোট ছবি। ওই চিনা ভদ্রলোকই খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়ছিলেন, তাই দেখে আমি বুঝতে পারলাম।

    উনি কি আপনাকে বলেছিলেন কী লেখা আছে?

    না। শুধু বলেছিলেন, এটা খুব ইন্টারেস্টিং পিস, মনে হচ্ছে আমার রিসার্চের কাজে লাগবে। … ও হ্যাঁ, আর-একটা কথাও বলেছিলেন। ওয়ালহ্যাঙ্গিংটা কার যেন আঁকা … কী যেন নাম … মো … মো… দুর ছাই, নামটা মনে আসছে না।

    পুলিশকে বলতে পেরেছিলেন নামটা?

    উহুঁ। শুধু ওই মো-টুকুই মনে আছে।

    ও। যদি আপত্তি না থাকে, আর-একটা প্রশ্ন করব? আমরা শুনেছি, আপনি নাকি গোড়ায় ওটা বিক্রি করতে চাননি। কারণটা জানতে পারি?

    ভদ্রলোককে এবার বেশ গম্ভীর দেখাল, এ কথা কে বলল তোমাদের?

    লিয়াং বলল, আমার কাকাই বাড়িতে গল্প করেছিলেন।

    উম আবার কথা বলতে সামান্য সময় নিলেন ভদ্রলোক, সত্যিই ওটা বেচার আমার ইচ্ছে ছিল না। অবশ্য কোনও স্পেসিফিক কারণ নেই। জাস্ট একটা প্রাচীন প্রাচীন লুক আছে বলে দোকানেই সাজিয়ে রেখেছিলাম।

    পরে তা হলে ডিসিশন বদল করলেন যে?

    ভদ্রলোক বারবার এসে চাইছিলেন…আমিও ভাবলাম, যদি কাজে লাগে তো দিয়েই দিই…

    কুশল ফস করে বলে উঠল, তার জন্য আপনি দশ হাজার টাকা দরও হেঁকে বসলেন…

    তাতে তোমার কী হে? ভদ্রলোক এবার চটে গেলেন দুম করে, ডেঁপোমি কোরো না। বাচ্চা ছেলে, বাচ্চা ছেলের মতো থাকো। জিনিসটা আমি দশ হাজারে বেচেছি, না দশ লাখে, তার হিসেব আমি তোমায় দেব কেন? যদি বলি জিনিসটা বিনা পয়সায় দিয়ে দিয়েছি, তা হলেও কি তোমার কিছু বলার আছে?

    আহা, আপনি রেগে যাচ্ছেন কেন আঙ্কল? টুপুর তাড়াতাড়ি হাল ধরল, আমার বন্ধু খারাপ সেন্সে কিছু বলেনি। ও শুধু জানতে চাইছিল, দশ হাজার টাকা দাম পেয়েই কি আপনি জিনিসটা বেচতে রাজি হলেন?

    আমি এই প্রশ্নের জবাব দেবই না। ভদ্রলোকের গোলগাল মুখখানা থমথম করছে, জিনিসটা বেচে আমি অপরাধী হয়ে গিয়েছি নাকি? একবার পুলিশ এসে জেরা করবে, একবার তোমরা এসে সাড়ে-সতেরেখানা প্রশ্ন হানবে…

    প্লিজ আঙ্কল, আপনি অন্যভাবে নেবেন না। আসলে, জিনিসটা কেনার পরেই লিয়াংয়ের কাকা মারা গেলেন তো…

    এবং ওয়ালহ্যাঙ্গিংটাও ভ্যানিশ হয়ে গেল…

    আই, অ্যাই, তোমরা কী বলতে চাও, অ্যাঁ? ভদ্রলোকের নাকের পাটা ফুলে উঠল, আমার দোকান থেকে কিছু কেনার পর কোনও কাস্টমারের যদি অ্যাকসিডেন্ট হয়, তার জন্য আমি দায়ী? তার কাছ থেকে যদি কিছু খোওয়া যায়, তাতেই বা আমার করার কী আছে? আর তোমাদের আমি এত কৈফিয়তই বা কেন দেব, অ্যাঁ?

    কুশল পালটা কিছু বলতে যাচ্ছিল, টুপুর চোখের ইশারায় তাকে থামাল। নিজেও চুপ করে গিয়েছে। নিরীক্ষণ করছে দোকানের মালিককে। ভদ্রলোকের মুখচোখে কেমন যেন অস্থির-অস্থির ভাব। টুপুররা তো এমন কিছু আজেবাজে প্রশ্ন করেনি, অথচ ভদ্রলোক খেপে গেলেন কেন? পুলিশ কি এসে খুব চোটপাট করে গিয়েছে?

    দুজন খদ্দের ঢুকেছে দোকানে। স্বামী-স্ত্রী। ভদ্রলোক পলকে সামলে নিয়েছেন নিজেকে। টুপুরদের ছেড়ে তাদের নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। পটাপট আলো জ্বালিয়ে দিয়েছেন। আরও ঝলমল করে উঠল দোকান। ঘুরে ঘুরে হরেক রকমের উইন্ডচাইম দেখাচ্ছেন। টুটুং, টিংটাং বাজনায় দোকান মুখর। শুধু বাতাসি ঘণ্টাই নয়, একটা হাস্যমুখ বুদ্ধমূর্তিও পছন্দ করল স্বামী-স্ত্রী। দরাদরির কোনও বালাই নেই, করকরে সাতশো টাকা দিয়ে, প্যাকেট বগলদা করে বেরিয়ে গেল দুজনে।

    ক্যাশবাক্সে টাকা রাখলেন দোকানের মালিক। মেজাজ ঈষৎ প্ৰসন্ন যেন। তেরচা চোখে বললেন, কী হল, তোমরা এখনও দাঁড়িয়ে আছ যে?

    টুপুর মুখটা কাঁচুমাচু করে বলল, এমনিই। …আপনার মনে কষ্ট দিয়ে ফেললাম, তাই সরি বলার জন্য ওয়েট করছি।

    ঠিক আছে, ঠিক আছে। ভদ্রলোকের কাঁচাপাকা গোঁফের ফাঁকে একফালি হাসি উঁকি দিয়েই মিলিয়ে গেল। নরম স্বরে লিয়াংকে বললেন, শোনো ভাই, তোমার কাকার মৃত্যুসংবাদে আমি সত্যি খুব দুঃখিত হয়েছি। ওঁর সঙ্গে আমার কতটুকুই বা পরিচয়। দু- চার দিন দোকানে এসেছেন, দুটো-চারটে কথা বলেছেন, ব্যস। তাতেই ভদ্রলোককে আমার বেশ লেগেছিল। শান্ত ধরনের মানুষ… ভেরি লাইকেবল ফেলো।

    লিয়াং মৃদু গলায় বলল, আমার কাকাকে সবাই লাইক করত। সেই জন্যই তো ভেবে পাচ্ছি না কে তাঁকে ওভাবে মারল!

    আহা, ইচ্ছে করে কেউ মেরে দিয়েছে, এমনটাই বা ভাবছ কেন? ভাল মানুষরা গাড়িচাপা পড়েন না? আর ওয়ালহ্যাঙ্গিংটা হয়তো এদিক ওদিক পড়ে ছিল, রাস্তার কেউ তুলে নিয়ে গিয়েছে।

    কিন্তু ওয়ালহ্যাঙ্গিংটা নিয়ে কাকার তো বাড়ি ফেরার কথা। তিনি প্রিন্সেপ ঘাটের দিকে যাবেনই বা কেন?

    সেটা তো আমি বলতে পারব না। দ্যাখো, পুলিশের তদন্তে কী বেরোয়।

    টুপুর বলল, আঙ্কল, আর-একটা কথা জিজ্ঞেস করব?

    আবার কী প্রশ্ন?

    আপনি কি জানতেন ওয়ালহ্যাঙ্গিংটা খুব মূল্যবান? দশ হাজার টাকা দামও হতে পারে?

    বারবার দশ হাজার, দশ হাজার করছ কেন? দাম নিয়ে আমি কোনও কথাই বলব না।

    আচ্ছা, আচ্ছা। …আর একটা কোয়েশ্চেন, আঙ্কল। ওয়ালহ্যাঙ্গিংটা কদিন ধরে আপনার দোকানে ঝুলছিল?

    রিসেন্টলিই এনে রেখেছিলাম। দেড়-দুমাস হল।

    পেয়েছিলেন কোত্থেকে? ..মানে কারও কাছ থেকে কিনে সাজিয়েছিলেন, নাকি…?

    ওটা আমার বাড়িতেই ছিল। বহুকাল ধরে।

    কুশল বলে উঠল, আশ্চর্য! বহুকাল ধরে বাড়িতে ছিল… অথচ দেড়-দুমাস আগে দোকানে টাঙিয়েছিলেন… কেমন কেমন শোনাচ্ছে না?

    অ্যাই, কী মিন করতে চাইছ তুমি, অ্যাঁ? আমার জিনিস আমি ঘরে রাখি, দোকানে টাঙাই, তাতে তোমাদের কী?

    কিছুই না। তবে শেষ পর্যন্ত মোটা টাকায় বেচে দিলেন তো?

    চোপ। বেশ করেছি বেচেছি। ভদ্রলোক ঝপ করে ফের তেতে গিয়েছেন, যাও তো, ভাগো তো এবার। একে খদ্দেরটদ্দের নেই, তার উপর কোত্থেকে যত উটকো আপদ এসে…! আউট। আউট।

    ভদ্রলোকের হম্বিতম্বির ধাক্কাতেই টুপুররা প্রায় ছিটকে বেরিয়ে এল বাইরে। ফুটপাত থেকেই দেখল ভদ্রলোক এখনও কটমট চোখে তাদের দিকে তাকিয়ে। হঠাৎই পকেট থেকে মোবাইল ফোন বের করে কার সঙ্গে যেন কথা বলা শুরু করেছেন। বাতচিত চালাতে চালাতেও দৃষ্টি টুপুরদের দিকে।

    টুপুর চাপা গলায় বলল, চল, সরে যাই।

    দুচার পা গিয়েও কুশল দাঁড়িয়ে পড়ল। উত্তেজিত গলায় বলল, ভদ্রলোককে ছেড়ে দেওয়া বোধহয় উচিত হল না। আর-একটু বাজানোর দরকার ছিল।

    লিয়াং মাথা দুলিয়ে বলল, ইয়েস। লোকটাকে আমার যথেষ্ট সাসপিস মনে হচ্ছে। কাকার অ্যাকসিডেন্টের পিছনে ওর একটা হাত থাকলেও থাকতে পারে।

    কুশল মুঠো ঝাঁকিয়ে বলল, অবশ্যই। জিনিসটা বিক্রি করার পরই হয়তো মনে হয়েছে কাজটা ভুল হয়ে গেল। আরও বেশি দামে জিনিসটা বেচা যেত। তাই হয়তো ওয়ালহ্যাঙ্গিংটা ফের হাতানোর জন্য অ্যাকসিডেন্টটা ঘটিয়েছে।

    টুপুর হেসে ফেলল, তার মানে দাঁড়াচ্ছে, জিনিসটা বেচার পরেই ভদ্রলোক লিয়াংয়ের কাকাকে মারতে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়েছিলেন?

    নিজে যাবেন কেন? লোকও তো লাগাতে পারেন।

    বেশ। তাই না হয় হল। কিন্তু লিয়াংয়ের কাকা বাড়ি ফিরে প্রিন্সেপ ঘাটেই বা গেলেন কেন? যাতে কেউ তাঁকে ফাঁকা জায়গায় নিশ্চিন্তে গাড়িচাপা দিতে পারে?

    কুশল একটু দমে গেল এবার। বেলা পড়ে এসেছে, সন্ধে নামছে। শহরে। আনমনে একবার আকাশের দিকে তাকাল কুশল। তারপর ভুরু কুঁচকে বলল, তুই আমার আইডিয়াটাকে পাত্তা দিচ্ছি না, টুপুর? আমি কিন্তু এরকম একটা কেস পড়েছি। জুয়েলারির মালিক একটা হিরের নেকলেস বিক্রি করার পর নিজের কাস্টমারকে খুন করিয়ে গয়নাটা আবার নিয়ে নিচ্ছে। কেউ তাকে সন্দেহ করেনি, কিন্তু ডিটেকটিভ ঠিক ধরে ফেলেছিল। মনে রাখবি টুপুর, যাকেই তুই সন্দেহের তালিকার বাইরে রাখবি, সে-ই কিন্তু সম্ভাব্য অপরাধী।

    বুঝলাম। কিন্তু প্রিন্সেপ ঘাটে যাওয়াটা..?

    কারণটা খুঁজতে হবে। সেটাই তো ডিটেকটিভের কাজ।

    টুপুর আর তর্কে গেল না। তবে কিউরিও শপের মালিককেও একেবারে ঝেড়ে ফেলল না চিন্তা থেকে। আরও অনুসন্ধান দরকার। লিয়াং বলছে, তার কাকা অজাতশত্ৰু। তা হলে তাঁকে কেউ মারবে কেন? ওই ওয়ালহ্যাঙ্গিংটাই কি একমাত্র কারণ? ভাল করে খতিয়ে না-দেখে নিশ্চিত হওয়াটা কি বুদ্ধিমানের কাজ হবে? লিয়াংদের পরিবারের মধ্যেই কোনও গন্ডগোল নেই তো? কোনও জ্ঞাতিশত্ৰুতা? সম্পত্তি-টম্পত্তির জন্য? কিংবা অন্য কিছু যা টুপুর এখনও জানে না?

    চিন্তিত স্বরে টুপুর বলল, মনে হচ্ছে একবার লিয়াংদের বাড়িতে যেতেই হবে।

    লিয়াং বলল, কবে যাবে বলো?

    দেখি। রাত্তিরে ফোন করে তোমায় জানিয়ে দেব।

    কুশল বলল, আমার কিন্তু এখনও মনে হচ্ছে এই দোকানদার ভদ্রলোকই কোনও ফাউল প্লে করেছে। ভদ্রলোককে ভাল করে চেপে ধরতে পারলেই সত্যিটা বেরিয়ে আসবে।

    টুপুর অন্যমনস্কভাবে মাথা নাড়ল, দরকার হলে তা-ও করা যাবে।

    .

    ০৪.

    লালবাজার পার হয়ে, বাঁ ফুটপাত ধরে, সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউয়ের দিকে একটুখানি হাঁটলেই ছাতাওয়ালা গলি। লিয়াং রাস্তাটার মুখেই দাঁড়িয়ে ছিল, টুপুরদের দেখে হাত তুলল, হাই! তোমরা এত লেট করলে কেন?

    কুশল বলল, আর বলিস না, বাড়ি ফিরে স্কুল-ইউনিফর্ম চেঞ্জ করে টুপুরকে ডাকতে গেলাম… টুপুরও রেডি হল… তারপর বাস.. ট্রাফিক জ্যাম..

    ও কে। ও কে। তাড়াতাড়ি চলো। বাবা কিন্তু আর বেশিক্ষণ বাড়ি থাকবেন না।

    টুপুর জিজ্ঞেস করল, দোকানে যাবেন বুঝি?

    হাঁ। বাবা দুপুরে খেতে আসেন তো, তারপর একটু রেস্টফেস্ট নিয়ে বেরোন। মা ততক্ষণ দোকান সামলান।

    তোমাদের দোকানটা কীসের, সেটা কিন্তু জানা হয়নি, লিয়াং।

    সরি। আমারই বলা উচিত ছিল। লিয়াং হাঁটা শুরু করেছে। হাঁটতে হাঁটতে বলল, আমাদের লড্রির বিজনেস। মিশন রো-তে। বহু দিনের পুরনো ব্যবসা। আমার ঠাকুরদার বাবা স্টার্ট করেছিলেন।

    ওরেব্বাস! তার মানে সত্তর-আশি বছর আগেকার?

    হিসেব করলে দেখা যাবে, তারও অনেক অনেক বছর আগের। আমাদের ফ্যামিলি বংশানুক্রমে এই বিজনেস করছে। কবে যে শুরু হয়েছিল, বলা কঠিন। বাবার মুখে শুনেছি, সাংহাইতেও নাকি আমাদের লন্ড্রি ছিল।

    কুশল অবাক মুখে বলল, তোরা সাংহাইয়ের লোক? আমার ধারণা ছিল কলকাতার চাইনিজরা সবাই বুঝি ক্যান্টন থেকে এসেছেন।

    না রে। আমাদের কমিউনিটিতে নানান জায়গার লোক আছে। কেউ এসেছিল হাক্কা থেকে, কেউ বা হুপে। অবশ্য সংখ্যায় ক্যান্টনের লোকই বেশি।

    টুপুর বলল, আমি বোধহয় এই বিষয়ে একটু একটু জানি।

    কী রকম?

    এই যেমন ধরো, তোমরা চিনারা অনেকেই এ-দেশে এসেও নিজের নিজের বিজনেসই বজায় রেখেছ। তোমাদের এক-এক জায়গার লোকরা এক-একটা ব্যবসায় ওস্তাদ। যেমন ক্যান্টনিরা কাঠের কাজ করেন, কিংবা হোটেল-রেস্টুরেন্ট চালান। আর যত চিনা ডেন্টিস্ট আছেন, তাঁরা সবাই এসেছিলেন হুপে থেকে। আর হাক্কারা, মানে চিনে যাঁদের স্থায়ী বাসস্থান ছিল না, তাঁরা করেন চামড়ার ব্যবসা।

    বা, তোমার জি কে তো দারুণ! লিয়াং মুগ্ধ হয়েছে, আমার অবশ্য লন্ড্রিতে বসার একটুও ইচ্ছে নেই। আমি টিচিং লাইনে যাব। আমার কাকার মতো।

    কথায় কথায় অনেকটা পথ চলে এসেছে টুপুররা। ছাতাওয়ালা গলি এঁকেবেঁকে চলেছে তো চলেছেই। রাস্তায় এখন বেশ চিনা মুখ দেখা যায়। মোটরসাইকেল হাঁকিয়ে ছুটে গেল দুই চিনা যুবক। হাতে-টানা রিকশায় চড়ে চিনা গৃহিণী কেনাকাটা সেরে ফিরছেন। স্কুল-ইউনিফর্ম পরা একদল চিনা মেয়ে কলকল করতে করতে চলে গেল পাশ দিয়ে। একটা-দুটো স্টেশনারি দোকানও আলো করে বসে আছেন চিনা দোকানদার। অন্যান্য মানুষ দেখা গেলেও পাড়াটা যে চিনাদের, বুঝতে অসুবিধে হয় না।

    মূল রাস্তা ছেড়ে একটা গলিতে ঢুকল লিয়াং, সেখান থেকে আর একটা সরু গলি। অবশেষে একখানা পুরনো-পুরনো বাড়ির সামনে এসে থেমেছে। ঘুরে দাঁড়িয়ে বলল, ওয়েলকাম টু আওয়ার প্লেস। একটু দেখে দেখে এসো। আমাদের এন্ট্রান্সটা কিন্তু অন্ধকার অন্ধকার।

    টুপুরের অবশ্য অত অন্ধকার লাগল না। সে থাকে হাতিবাগানে, প্রচুর পুরনো পুরনো বাড়ি তার দেখা। তুলনায় এ বাড়ির ভিতরটায় যথেষ্ট আলো। তবে মাথায় রং-বেরঙের কাচ বসানো দরজা, নকশাদার সবুজ সানশেড লাগানো জানলা, আর বারান্দার স্যান্ডকাস্টিং করা রেলিং ঘোষণা করছে বাড়ির বয়স একশো পেরিয়েছে বহুকাল।

    সরু সিঁড়ি দিয়ে দোতলায় উঠে, লম্বা প্যাসেজ পেরিয়ে লিয়াংদের ফ্ল্যাট। বড়সড় ড্রয়িংরুমের সোফায় টুপুরদের বসিয়ে অন্দরে গেল লিয়াং। দিব্যি সাজানো-গোছানো ঘর। টিভি, টেলিফোন, শোকেস, ক্যাবিনেট, কী নেই ড্রয়িংরুমে। পেল্লাই উঁচু সিলিং থেকে লম্বা লম্বা ভঁটি বেয়ে ঝুলছে ফ্যান, রংদার বাহারি ল্যাম্পশেড। দরজা-জানলায় সিল্কের পরদা দেওয়ালে দুখানা বড়বড় বাঁধানো ছবি দৃশ্যমান। একটা ল্যান্ডস্কেপ। সম্ভবত কোনও বিখ্যাত চিনা শিল্পীর মূল ছবির নকল। অন্য ছবিটি সান-ইয়েৎসেনের। শোকেসে বার্বিডলের পাশে চিনামাটির পুতুল, ফুলদানি। টিভির মাথায় ছোট্ট ছোট্ট সফট টয়। একখানা পিতলের উইন্ডচাইমও ঝুলছে ঘরে। ফ্যানের হাওয়া পেয়ে শব্দ বাজিয়ে দুলছে।

    টুপুর চোখ ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখছিল ঘরখানা। গৃহসজ্জা সাবেকি ধাঁচের হলেও মোটের উপর রুচিশীল। চৈনিক সংস্কৃতির সঙ্গে ভারতীয় সংস্কৃতি মিশে আছে কি? নাকি ব্রিটিশ?

    কুশল কেমন বেজার মুখে বসে। হঠাৎই চাপা স্বরে বলল, ইস, খ্যাঁটনটা আজ মিস হয়ে গেল রে। আগেরবার যখন এসেছিলাম, আন্টি কত কিছু খাইয়েছিলেন। একদম অরিজিনাল চাইনিজ রান্না।

    টুপুর ভুরু কুঁচকে বলল, সাংহাই তো চিনের নর্দার্ন সাইডে। উত্তর চিনের লোকেরা তো সেদ্ধ সেদ্ধ খাবার খায়।

    হ্যাঁ, আন্টির রান্নাতেও তেল বেশ কম ছিল। কিন্তু হেভি টেস্টি। রাইস নুডলসের একটা প্রিপারেশান খাইয়েছিলেন, এখনও জিভে লেগে আছে। আর-একটা সুপ … লেটুসটেটুস দিয়ে ..

    টুপুর হেসে ফেলল, কী আর করা, আন্টি আজ যখন নেই …

    কথার মাঝেই বাবাকে নিয়ে লিয়াংয়ের প্রবেশ। সঙ্গে লিয়াংয়ের বোনও রয়েছে। মেইলি। ভারী মিষ্টি দেখতে মেয়েটা। পুতুল-পুতুল। চেরা চেরা নীলচে চোখ, ফোলা ফোলা ফরসা গাল, চুল টেনে ঝুঁটি করে বাঁধা। কুঁটিতে নীল রঙের এক টুকরো উল লাগানো আছে। লিয়াংয়ের বাবার রং অবশ্য অতটা উজ্জ্বল নয়, হলদেতে তামাটে ছোঁওয়া। টুপুরের ধারণা ছিল, চিনারা ছোটখাটো হয়, লিয়াংয়ের বাবা কিন্তু বেশ লম্বা-চওড়া। পরনে নেভি ব্লু ট্রাউজার আর ঘিয়ে রং বুশশার্ট। লিয়াংয়ের মতো লিয়াংয়ের বাবার হাতেও একটা কালো ব্যান্ড।

    টুপুর আর কুশল উঠে বাও করেছিল, লিয়াংয়ের বাধাও মাথা ঝোঁকালেন। ভাঙা ভাঙা বাংলায় বললেন, আমি ভেবেছিলাম, তুমি আর-একটু বড় মেয়ে। এখন দেখছি, একেবারেই ছোট। আমাদের লিয়াংয়ের মতো।

    টুপুর হাসল, আমাদের তো সেম ক্লাস আল। স্কুলটাই যা আলাদা।

    লিয়াং বলছিল, তুমি নাকি খুব সাহসী মেয়ে! তোমার ডিটেকটিভ আন্টির অ্যাসিস্ট্যান্টের কাজ করো!

    ওই আর কী। করি মাঝে মাঝে।

    তোমার কি মনে হয় ঝিয়েনের কেসটা … মানে আমার ভাইয়ের কেন্সটা তোমরা সলভ করতে পারবে?

    চেষ্টা তো করব। কিন্তু তার আগে তো আঙ্কল আমাদের জানতে হবে, ওই ওয়ালহ্যাঙ্গিংটা সত্যি মূল্যবান ছিল কিনা।

    নিশ্চয়ই ছিল। নইলে কি ঝিয়েন ওটা কেনার জন্য অত ছটফট করে? লিয়াংয়ের বাবা সোফায় বসলেন, আমার ভাই মোটেই অকারণে দশ হাজার টাকা নষ্ট করার বান্দা ছিল না।

    টুপুর বলল, লিয়াং তো কিছুই বলতে পারল না। ওয়ালহ্যাঙ্গিংটা সম্পর্কে আপনার ভাই আপনাকে কিছু বলেছিলেন কি?

    আকাশের পাখি মাটির প্রাণীর সঙ্গে কী কথা বলবে? একে অপরের ভাষা বোঝে কি?

    টুপুরের ঠিক বোধগম্য হল না কথাটা। অবাক মুখে লিয়াংয়ের দিকে তাকাচ্ছে।

    লিয়াং তাড়াতাড়ি বলে উঠল, পাপা বলতে চাইছেন, তারা দুই ভাই দুটো আলাদা জগতের মানুষ। একজন অনেক উঁচুতে বিচরণ করতেন, আর-একজন আর পাঁচটা মানুষের মতো সাধারণ। কাকার সঙ্গে পাপার তাই কোনও বিষয় নিয়েই বড় একটা আলোচনা হত না।

    কথায় কী হেঁয়ালি, বাপস। এই ভাষায় ভদ্রলোক যদি উত্তর দিতে থাকেন, টুপুরকে তো তা হলে চুল ছিঁড়তে ছিঁড়তে ফিরতে হবে।

    টুপুর নার্ভাস গলায় বলল, অর্থাৎ ওয়ালহ্যাঙ্গিংটা কেমন ছিল, তা আপনার অজানা। তাই তো?

    সেরকমটা হওয়াই স্বাভাবিক ছিল। লিয়াংয়ের বাবা সোজা হয়ে বসলেন, তবে এই বিষয়টা নিয়ে কেন যেন ঝিয়েন আমার সঙ্গে কিছুটা আলোচনা করেছিল। বলেছিল, ওই এক টুকরো কাপড় নাকি আমাদের জানা ইতিহাসের অনেকটাই বদলে দেবে।

    তাই বুঝি? কীভাবে?

    তা তো বলতে পারব না। আমি মুখুসুখ্যু মানুষ, ঝিয়েনের মতো পণ্ডিত তো নই। হঠাৎই লিয়াংয়ের বাবার স্বর বুজে এল। ধরা ধরা গলায় বললেন, এত পড়াশোনা … এত জ্ঞান …কী হল শেষ পর্যন্ত? মাটির নীচে যাওয়ার আগে পৃথিবীতে পঞ্চাশটা বসন্তও তো দেখতে পেল না বেচারা।

    উনি তো শুনলাম প্রাচীন ইতিহাস নিয়ে গবেষণাও করছিলেন?

    হ্যাঁ। ইতিহাসই ছিল ওর নেশা। কত লাইব্রেরিতে যে ছুটে ছুটে বেড়াত। সপ্তাহে তিনদিন আলিপুরের ন্যাশনাল লাইব্রেরি তো বাঁধা। স্কুল ছুটির পর সটান চলে যেত, লাইব্রেরি বন্ধ না-হওয়া অবধি বসে থাকত বই মুখে করে। কত বিদ্বান মানুষদের সঙ্গে যে আলাপ ছিল ওর।

    তারাও কি চাইনিজ?

    না। বেশির ভাগই বাঙালি। ঝিয়েনের সাবজেক্টেরই লোক। তাদের দুতিন জনের সঙ্গে তো প্ৰায় রাতেই কথা বলত টেলিফোনে।

    কুশল গলা ভারী করে জিজ্ঞেস করল, আচ্ছা, আঙ্কল ঝিয়েন কি তাদের কাছে ওয়ালহ্যাঙ্গিংটার গল্প করেছিলেন?

    কী জানি, বলতে পারব না।

    তাদের নাম-ধাম কিছু আপনার কাছে আছে?

    বোধহয় আছে। ঝিয়েনের ডায়েরিতে। দাঁড়াও দেখছি।

    লিয়াংয়ের বাবা উঠে পড়লেন। ভিতরে যেতে গিয়েও ঘুরে তাকিয়ে মেইলিকে কী যেন নির্দেশ দিলেন চিনা ভাষায়। সঙ্গে সঙ্গে মেইলিও দৌড়ে অন্দরে চলে গেল। ফিরেছে ট্রে সাজিয়ে। ট্রে-তে পেষ্ট্রি, কাজু আর দুগ্লাস কোল্ড ড্রিঙ্ক।

    টুপুর বলল, কী কাণ্ড! এসবের আবার কী দরকার ছিল?

    ছোট্ট করে হাসল মেইলি। উত্তর দিল না।

    কুশল তড়িঘড়ি গ্লাস তুলে নিয়েছে। চুমুক দিয়ে লিয়াংকে বলল, আয়, তোরাও একটু শেয়ার কর।

    আমরা নেব না রে। স্কুল থেকে এসে থুপকা খেয়েছি।

    টুপুর একটা কাজুবাদাম তুলে দাঁতে কাটল। মেইলিকে জিজ্ঞেস করল, তুমি চুলে নীল উল লাগিয়েছ কেন? ফ্যাশন?

    পলকে মেইলির মিষ্টি মুখে বিষাদের ছায়া। ঠোঁট কামড়াচ্ছে।

    লিয়াং বোনকে একবার দেখে নিয়ে বলল, ওটা আমাদের কাস্টম, তুপুর। ঘনিষ্ঠ কোনও রিলেটিভ মারা গেলে মেয়েরা মাথায় নীল উল বাঁধে। আর ছেলেরা হাতে কালো টেপ। মৃত্যুর ঊনপঞ্চাশ দিন পরে আমরা এই উল আর টেপ খুলে পুড়িয়ে ফেলি।

    ও। একটু সময় নিয়ে টুপুর ফের বলল, মেইলিকে কি আমি কয়েকটা প্রশ্ন করতে পারি?

    মেইলি অল্প ঘাড় নাড়ল।

    আঙ্কল ঝিয়েন তো তোমায় খুব ভালবাসতেন। তিনি কি তোমাকে ওয়ালহ্যাঙ্গিংটার ব্যাপারে কিছু বলেছিলেন?

    মেইলি ভার মুখে বলল, না। শুধু একবার বলেছিলেন, ইতিহাসের পাতায় আবার ফু শাংয়ের নাম ফিরে আসবে।

    তিনি কে?

    একজন অভিযাত্রী। তিনি নাকি প্রায় দেড় হাজার বছর আগে …নাকি তারও অনেক আগে, জাহাজে চড়ে সমুদ্রে-সমুদ্রে ঘুরে বেড়াতেন।

    লিয়াং চোখ বড় বড় করে বলল, কই, বো আমাকে তো বলেনি। .. ওই ওয়ালহ্যাঙ্গিং কি তবে ফু শাংয়েরই ছিল?

    মেইলি বলল, তা তো আমি জানি না।

    লিয়াংয়ের বাবা ফিরেছেন ঘরে। এক হাতে বাঁধানো ডায়েরি, অন্য হাতে একটা খবরের কাগজ। প্রথমে খবরের কাগজখানাই টুপুরকে বাড়িয়ে দিলেন, লুক, আমাদের এখানকার লোকাল নিউজপেপারে ঝিয়েনের মৃত্যুর খবরটা ডিটেলে বেরিয়েছিল। সঙ্গে ঝিয়েনের ছবিও।

    খবরের কাগজখানা হাতে নিয়ে টুপুর হতবাক। অস্ফুটে বলল, চাইনিজ নিউজপেপার? লোকাল?

    হাঁ। কলকাতা থেকেই বেরোয়। একটা নয়, দুটো পেপার পাবলিশ হয় চাইনিজ ল্যাঙ্গোয়েজে। অন্যটাতেও ঝিয়েনের অবিচুয়ারি ছিল, কিন্তু ছবি নেই বলে আনলাম না।

    টুপুর আর কুশল একসঙ্গে ঝুঁকে দেখল ঝাও ঝিয়েনের ছবিটা। দেখে লিয়াংয়ের বাবা বলেও ভুল হতে পারে। একই রকম গোলগাল মুখ, চওড়া কপাল, ফোলা ফোলা চোখের পাতা। শুধু ভাইয়ের চোখে চশমা আছে, দাদার নেই।

    কাগজটাকে একটু উলটেপালটে দেখে রেখে দিল টুপুর। লিয়াংয়ের বাবা ফের বসেছেন সোফায়। গর্বিত গলায় বললেন, আমাদের কমিউনিটিতে ঝিয়েনের খুব কদর ছিল। ওর এই সাডেন চলে যাওয়ায় কলকাতার গোটা চাইনিজ সমাজ বড় দুঃখ পেয়েছে। ওকে সমাধি দেওয়ার দিন… আই মিন লাস্ট থার্সডে… কত মানুষ যে এসেছিল! ঝিয়েনের স্কুলও ছুটি ডিক্লেয়ার করেছিল সেদিন।

    লিয়াং বলল, বো-এর ন্যাশনাল লাইব্রেরির বন্ধুরাও এসেছিলেন।

    দুজন। লিয়াংয়ের বাবা ডায়েরি খুললেন, এই যে, তাঁদের নাম-ঠিকানা চাইছিলে… লেখা আছে এখানে। চাইনিজে লেখা, তোমরা পড়তে পারবে না, নোট করে নাও। নাম্বার ওয়ান, ডক্টর বাসব সমাদ্দার। ফাইভ বাই টু, আর এন দাস রোড, কলকাতা একত্রিশ। নাম্বার টু, ডক্টর শিবতোষ রায়। টোয়েন্টি ওয়ান বাই থ্রি, সিমলাই পাড়া লেন, কলকাতা টু। …আর-একজনের নামও দেখতে পাচ্ছি। তিনি অবশ্য আসেননি। ডক্টর তরুণ বাসু। এঁর ঠিকানা নেই, ফোন নম্বর আছে…

    তিনটে নাম-ঠিকানাই পরিষ্কার করে টুকে নিল টুপুর। ঝাও ঝিয়েনের স্কুল, আর স্কুলের সহকর্মীদের সম্পর্কেও খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে জেনে নিল। পাড়া-প্রতিবেশীদের সম্পর্কেও। লিখে নিল লিয়াংয়ের বাবা-মার নামও।

    আরও কিছুক্ষণ কথা হল টুকটাক। তথ্যভাণ্ডার মোটামুটি সমৃদ্ধ করে উঠে পড়ল টুপুর। লিয়াংয়ের বাবাও বেরোনোর জন্য তৈরি।

    সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে লিয়াংয়ের বাবা বললেন, কী মনে হল? এইসব ইনফরমেশন থেকে কিছু বেরোবে?

    দেখি। মাসির সঙ্গে আলোচনা করি। প্রয়োজন হলে মাসিকে নিয়ে আবার আসব।

    ইউ আর অলওয়েজ ওয়েলকাম। ঝিয়েনের মৃত্যুরহস্য জানার জন্য আমিও বড় উদগ্রীব হয়ে আছি।

    বাড়ির সদরে এসে টুপুর দাঁড়াল ক্ষণেক। মেইলিও এসেছে তাদের সঙ্গে সঙ্গে। মুখ থমথম, দুচোখ ভরে গিয়েছে জলে।

    মেয়েটার কাঁধে আলগা চাপ দিল টুপুর, মন খারাপ কোরো না মেইলি। তোমার বো’কে যদি সত্যিই কেউ মেরে থাকে, তাকে আমরা ধরবই। কথা দিলাম।

    মেইলির চোখের জল এবার টুপটুপ নেমে এসেছে গালে। ফুঁপিয়ে উঠল মেয়েটা।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমিতিনমাসি সমগ্র ২ – সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    Next Article বিষ – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    Related Articles

    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    গল্প সমগ্র – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    অন্য বসন্ত – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    কাছের মানুষ – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    হেমন্তের পাখি – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    অলীক সুখ – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    আলোছায়া – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }