Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মুখ – মহাশ্বেতা দেবী

    মহাশ্বেতা দেবী এক পাতা গল্প101 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    মুখ – ৫

    ৫

    সাধন নেশা করলেও ঋষিকে অনেক খবরাখবর দেয়। ঝাড়গ্রাম আর সে ঝাড়গ্রাম নেই। আনাজ থেকে সব দাম বাড়ছে। টাউনে পয়সা আছে, কিন্তু হাওয়া ভালো নেই। রিকশাও সংখ্যায় বাড়ছে। চারদিকে বাবু! বড় গোলমাল! সাধনের মতো লোকের বাঁচা দায়। গরিবের কথা বোঝে এমন মানুষ নেই। সেদিন সাধন পাঁচ টাকার বাজার করল, শুধু আলু আর ডাল।

    এতক্ষণ কাফকার জগতে বন্দী ছিল ঋষি। সাধনের কথাগুলি বড় ভালো লাগে ওর। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের দুঃখের কথাতেও যেন ভালো লাগে। এতক্ষণ অস্বাভাবিক মানুষদের অস্বাভাবিক আচরণ ওকে দুঃস্বপ্নে বন্দী করে রেখেছিল। ঋষি একদা পুলিশ রিপোর্টার ছিল। যে নাটকটা হয়ে গেল, তার নেপথ্যকাহিনী ও আন্দাজ করতে পারছে।

    গোপা, অথচ গোপা নয়!

    —গাছগুলান কেট্যে টাউন ধুলাধুলি হয়ে গেল বাবু। তাতের কালে ছায়া পাই না।

    —তোমার বাড়ি কোথায়?

    —হোই, দুধরাজপুর!

    —বিয়ে করেছ?

    —তিনটা ছেলে মেয়ে।

    —স্কুলে যায়?

    —না। কথা লেয় না।

    —স্কুল তো আছে।

    —পেটে ভাত না জুটলে বাবু ………

    অনেক চিন্তা করে সাধন বলে। ছেলেটিকে ভাতবাগালিতে দিব।

    —নেশাতেও তো পয়সা যায়।

    —লিশ্চয়।

    এবার সাধন চুপ করে যায়। রিকশা ডাইনে ঘোরে। চলে। ঝাড়গ্রামের আকাশ কি পরিষ্কার, তারা কি উজ্জ্বল। ঋষি এক সময়ে তারকাপুঞ্জ চিনবে বলে বই জোগাড় করেছিল। রুদ্র প্ল্যানেটোরিয়ামে গিয়ে অনেক তারা চিনেছে। হ্যালির ধূমকেতুটা ওর দেখা হল না। খুব ইচ্ছে ছিল।

    —এসে গেলম বাবু।

    সাধন থামায় রিকশা। ঋষি ওকে একটি পাঁচ টাকার নোট দেয়। নিয়ে যাও।

    —হাঁ বাবু!

    কলকাতার বাবুরা রেট শুধায় না বলে বেশি ভাড়া দেয় মাঝে মাঝে, তা সাধন জানে।

    —কাল টাউন দেখবেন বাবু?

    —না সাধন, কাজে এসেছি।

    বাড়িতে ঢোকে ঋষি।

    চিনু আর রূপা বসে আছে। রূপা চার্মস আঙুলে ধরে রেখেছে।

    —রূপা।

    —এসো ঋষিদা।

    চিনু বলে, চা খাবেন?

    —খাব। রান্নাবান্না হচ্ছে?

    —হ্যাঁ। বূধরাজ তো থাকেই।

    —কেয়ারটেকার?

    —যা বলেন! সেনদা ওদের ঘর তুলে দিয়েছেন। পাকা ঘর, টিউবওয়েল, স্যানিটারি পায়খানা। আগে ওঁর প্রজেক্টে ছিল।

    —খিদেও পেয়েছে।

    —রান্না হয়ে যাবে।

    —রূপা কিছু খেয়েছে?

    —চা, সিগারেট। আমি চা নিয়ে আসি।

    চিনু চলে যায়।

    রূপা ঋষির দিকে তাকায়।

    —তাহলে নাটক শেষ?

    —আমি জানি?

    —কে জানে ঋষিদা?

    —তুমি জানো।

    —আমি তো ফালতু হয়ে গেলাম।

    —আমার কাছে নয়।

    —তুমি তো ”নো”—তে কাজ করছ।

    —হ্যাঁ… কিন্তু …

    ঋষিদা বেদনামলিন চোখ তোলে। অনেক সহজ মনে হচ্ছে কেন? এ বিষয়ে ও কোন পক্ষ নেবে সে বিষয়ে যদি বা সংশয় ছিল, গোপাকে দেখার পর কোনো সংশয় নেই। বুকটা পুড়ে যাচ্ছে।

    —ও তো গোপা, রূপা!

    —হ্যাঁ, দিদি। কিন্তু বাবা … বাবা …

    রূপা হঠাৎ কাঁদতে শুরু করে। ঋষি ওকে কাছে টেনে নেয়, মাথায় হাত বুলায়। হাজার হলেও রূপা তো বয়সে খুব তরুণ। তরুণ মনে মূল্যবোধ থাকলে আঘাত লাগে বেশি। রূপার মতো তরুণ যারা, তারা সাদা কালো ছাড়া কোনো রং মানে না।

    ধবধবে সাদা আর কৃষ্ণপক্ষে কালো, দুয়ের মাঝামাঝি তো ধূসরের নানা স্তর থাকে। সে গুলোর সঙ্গে লড়াই করতে চাইলেও অভিজ্ঞ হতে হয়।

    তরুণ, নিষ্পাপ রূপা তা জানবে কেমন করে?

    কাঁদুক, কেঁদে হালকা হোক। প্রায় বাহাত্তর ঘণ্টা তো ও চলেছে উত্তেজনায় টানটান হয়ে।

    —রূপা!

    কান্নাবিকৃত গলায় রূপা বলে, এত বড় অবিচার ঋষিদা, এত বড় অবিচার! দিদিকে দিয়ে সমস্ত মেয়েদের ব্যাপারটা বোঝো ঋষিদা। দিদি! আমার দিদি!

    —রূপা!

    —বলো।

    —এখন শক্তি হারালে চলবে না। তুমি স্নান করবে, খাবে, ঘুমোবে।

    —তুমি আমার কাছে থাকবে।

    চিনু চা নিয়ে ঢোকে।

    —অবশ্যই থাকবে। শোবার ঘর, একটা, খাট দুটো, মশারি দুটো। আমি তুই, ঋষিদা ও ঘরেই থাকব। ঋষিদার কথা শুনবি তো?

    —শুনব।

    রূপা কাঁদতে কাঁদতেই বলে, আমি খাই নি বলে তুইও খাস নি, রবিও খায় নি…

    —এখন খাব। ওঃ, ও.সি. লোকটা কিন্তু খারাপ নয়। অন্তত সকাল অব্দি কথাটথা বলছিল। আপনারা আসার আগে কি যে ফোন পেল…

    রূপা বলে, ঋষিদা?

    —বলো? বাঃ বেশ চা তো।

    —চিনু করেছে। আচ্ছা ফোনটা কে করাল, সুজয় না বস, তা জানো?

    —সত্যি জানি না। সকালে বসের ফোন পেয়ে ওবাড়ি গেলাম। ঝাড়গ্রাম আসতে হবে শুনে বাড়ি চলে গেলাম। বেলায় ওঁরা দুজন গাড়ি নিয়ে এলেন। ওঁদের দুজনের যে কেউ হতে পারেন। তবে বস খুব বিচলিত ছিলেন। আয়, সুজয় বারবার বলছিল, এটা সার্কাস হচ্ছে।

    —সার্কাস! ও তার রিং মাস্টার?

    —ব্যাপারটা যথেষ্ট ঘোরালো।

    —না, ঘোরালো নয়।

    রূপা মাথা নাড়ে, মাথা নাড়ে।

    —এই চিঠিটা পড়লেই বুঝবে। পরে পোড়ো। দিদি যদি একবার জানত ও কত কাছে ছিল!

    চিনু বলে, চিঠিটা ব্রেসনেতে এসেছিল। আমাদের ইউনিট তো চলে গেল। ক’দিন এখানে থাকবে রূপা জানত না ওরা। রবি কাল এল, চিঠিটা ভাগ্যে আসল।

    —আজ ও চলে গেল?

    রূপা চোখ মোছে। বৃষ্টি হলে আকাশ পরিষ্কার। কান্নার পর রূপার চোখ উজ্জ্বল।

    —আমার সঙ্গে ইউনিট ছিল। দিদির অনেক ছবি চিনু লাইনের পাশেই তুলেছে। রবি নেগেটিভ নিয়ে চলে গেল। বস আর সুজয় যে ব্যাপারটা ঘোরালো করবে, চিনু তা ভেবেছিল।

    চিনু একটু ঝুঁকে বসে। উজ্জ্বল, বুদ্ধিমান, দক্ষ একটি ছেলে, অসম্ভব স্মার্ট।

    গোপা পছন্দ করত অন্যরকম পুরুষ। সাধারণ, ভদ্র, স্বভাববিনয়ী, ব্রিলিয়ান্ট না হলে কিছু এসে যেত না ওর। অরূপ যেমন ছিল। হয়তো বিক্রম তেমনই একটা ছেলে।

    চিনু বলে, পিঠাডিহা থেকে ঝাড়গ্রাম কয়েকবার এসেছি, গিয়েছি। ঠিক তিনদিন আগে, এক ঝলক দেখলেও সুজয়কে আমি সবুজ গাড়ি চালিয়ে যেতে দেখেছি। রূপাকে বললাম;

    —আমি বিশ্বাস করি নি। আমি তো… জানতাম না… দিদি কাঁটাজুড়ির কাছেই ছিল!

    মণ্ডলও সুজয় এবং সবুজ গাড়ির কথা বলেছে।

    —তুমি কবে জানলে?

    —চিঠি পড়ে?

    —কাঁটাজুড়ির কাছে!

    চিনু বলে, অরবিন্দ সেন, মানে সেনদা। ওখানে আগে প্রজেকট করতে যায়, পরে ছেড়ে দেয়। জমিটা সুবিধের নয়, জল দাঁড়ায় না। বাড়ি একটা ছিলই।

    —অরবিন্দ সেন জানতেন?

    —ওখানেই তো দিদি মার খেল ঋষিদা। সেনদা তো কলকাতায়। দিদি আগে পিঠাডিহা এসেছে, কাঁটাজুড়িও গেছে। ওখানে যে থাকে, মণ্ডল দিদিকে চেনে। লোকটা একটু নেশাড়ে। দিদিকে বাড়ি খুলে দিয়েছে। রাতে শুতে আসত, ওর বোন থাকত। সব সময়ে না থাকতেও পারে। দিদি একা হতে চেয়েছিল।

    —বিক্রম কোথায়?

    —ওর মার অসুখ! কাঁথি চলে গেছে। দিদি লিখছে, বিক্রম আর রিমকিকেও লিখলাম।

    —সুজয় জানত কাঁটাজুড়ির কথা?

    —রিমকিকে লিখেছে, সে বলতে পারে।

    হ্যাঁ, একের পর এক মিলে যাচ্ছে। শব্দ ধাঁধার শব্দ যেমন মিলিয়ে দেয় হিসেব।

    ঋষি মন ঠিক করে।

    —এখানে আর নয়। কলকাতায় গিয়ে সব ঠিক করা যাবে। রূপা! স্নান করো।

    —যাই। শরীর এলে আসছে।

    চিনু আর ঋষি কুয়োর জলে স্নান করে। চিনু রূপাকে বালতি ভরে জল দেয়। কুয়োর জল খুব ঠাণ্ডা।

    বুধরাজের বউ ভাত, ডাল, আলুসেদ্ধ এনে দেয়। খেতে না খেতে রূপা ঘুমিয়ে পড়ে।

    ঋষি আর চিনু বাইরে বসে।

    —অরবিন্দ সেনের কত টাকা।

    —অনেক। সেন অ্যানড সেনদত্ত জুয়েলার্স নাম জানেন না? উনি ব্যবসার অংশ ছেড়ে দিয়ে টাকা নিয়ে এখানে চলে আসেন। তবে ছিয়াত্তর বছর বয়স হল, এ বয়সে কিডনির নানা গণ্ডগোল! বিয়ে করেন নি। ওঁর পর কে চালাবে কে জানে!

    —কে চালাবে?

    —ট্রাস্ট করছেন একটা। দ্বিজেনবাবু যদি থাকে, চলবে। নইলে গণ্ডগোল!

    —সমবায় আছে না?

    —সবই সমবায়। তবে আদিবাসীদের ঠকিয়ে ব্যাপারটা হাত করতে অনেকেই চায়।

    —দ্বিজেনবাবু কে?

    —দ্বিজেন হেমব্রম। স্কুলটা চালায়। খুব সৎ সজ্জন। আর নেতৃত্ব দেবার ক্ষমতা রাখে। সেনদার হাতে তৈরি কর্মী। ওঁর বাবাই প্রথম থেকে ছিলেন।

    —কেউই গোপাকে দেখে নি?

    —না, গোপাদি তা চায় নি।

    —ওকে… পেলে কি করে?

    —খুব অদ্ভুত। আমরা ঝাড়গ্রামে ফিরছি। একদিন থেকে চলে যাব। ছবিটা ভালো তোলা হয়েছে। কাজের সময়ে খাওয়াদাওয়ার ঠিক থাকত না। ঝাড়গ্রামে এসে মাংস ভাত খাব… খুব। যাকে বলে খুশিয়াল মেজাজ! তা, হঠাৎ দেখি লাইনের ধারে ভিড়।

    —তারপর?

    —ওরাই এগিয়ে এল। বলল, একটা বাবু মেয়ে মরে পড়ে আছে। আমরা তো ঝাড়গ্রামের দিকে যাচ্ছি। থানায় যদি খবর দিই।

    —তোমরা নামলে?

    —নামলাম। তারপর তো…

    —কি করলে?

    —আমি রূপার কাছে থাকলাম। ওরা ঝাড়গ্রামে থানায় বলে ম্যাটাডোর ভাড়া করে নিয়ে এল। তারপর … গোপাদিকে … টেলিফোনে কলকাতা ধরা …

    —চিনু!

    —বলুন।

    —মুখের বাঁ দিকটা ও রকমই ছিল?

    —শেষ অবধি রিপোর্টে কি থাকবে কে জানে। কিন্তু ডাক্তার বলেছিল, মুখের বাঁ দিকে মেরে এমন ভাবে ফেলা হয়েছে, যে গোপাদি নিশ্চয় জ্ঞানে ছিল না। ফেলার আঘাতে ঘাড় ভেঙে যায়। অবশ্য এটাও বলেছে, মৃত্যু অন্তত আগের রাতে হয়েছে। শরীরের যে সব দাগ ছিল, ছেঁচড়ে নিয়ে ওখানে ফেলা হয়েছে মনে হয়।

    —কাছে কোনো লোকালয় নেই?

    —না না। জল দাঁড়ায় না, চাষ হয় না, ঝোপঝাড় আর বুনো ঘাস। কাছে গ্রামও নেই।

    —ও সব লোক কোত্থেকে এল।

    —ওরা কাজে যাচ্ছিল। লাইন ধরে হেঁটে যাওয়াই তো সুবিধে ওদের।

    —তুমি ছবি তুললে?

    —হ্যাঁ, আমি তো একটু সন্দিগ্ধ প্রকৃতির বরাবরই। মনে হল তুলে রাখি। রূপাও একটু সামলে নিয়েই বলল, ছবি তোল চিনু। এরপরে কতক্ষণ যাবে, চেহারা বিকৃত হয়ে যাবে। আসলে রূপা আঁচ করেছিল যে ওর বাবা, সুজয় ঘোরপ্যাঁচ কষতে পারে। তবু বাবা যে ”না” বলে দেবে, অতটা ভাবেনি। ভেবেছিল, বাবা দেখলে ”হ্যাঁ” বলবে।

    —ওটাতেই ওর লেগেছে বেশি।

    —স্বাভাবিক।

    —তুমি খুব অবাক হওনি।

    —না না। ওরা যে শ্রেণীর লোক! ওরা সব পারে। আর গোপাদি আমাদের দিদি, বন্ধু। আমরা তো বুঝতাম যে ওকে অনেক সইতে হয়েছে। অরূপ টরূপ, সবই আমি জানি। আমি আর রূপা তো খুব বন্ধু।

    —হ্যাঁ, অরূপ…

    হঠাৎ কি কোনো চিঠি আসবে মধ্যপ্রদেশ থেকে? এলেও সে চিঠিতে ঠিকানা থাকে না কোনো। কেমন করে ঋষি জানাবে যে গোপা আর নেই। কে বা কাহারা গোপাকে হত্যা করে কিছু বুনো ঝোপ, বুনো ঘাসের প্রযত্নে রেখে সরে পড়েছে?

    ”কে বা কাহারা” শব্দগুলির কি বিশাল বিস্তার। খুন, জখম, রাহাজানি, অত্যাচার, যেখানেই প্রভাবশালী মানুষ বা দল খবর চেপে দিতে চায়। সেখানেই অপরাধীদের নাম থাকে না। সবাই ”কে বা কাহারা” হয়ে যায়।

    —শুয়ে পড়ুন ঋষিদা।

    —হ্যাঁ, চলো।

    বুধরাজের বউ এসে দাঁড়ায়।

    —কাল তোরা থাকবি?

    না রে বউ।

    —সকালে টিফিন কি খাবি?

    —সকালে দেখা যাবে।

    —দরজা বন্ধ করে দেখে নিস।

    —হ্যাঁ হ্যাঁ, তুই ভাবিস না।

    ওরা ঘরে ঢোকে। চিনু বারান্দার চেয়ার ঘরে তোলে। দরজা জানলা বন্ধ করে। আলো নেভায়।

    রূপা অঘোরে ঘুমোচেছ।

    চিনু বলে, ভাগ্যে আপনি এলেন!

    ওরা শুয়ে পড়ে। চিনু বলে বালিশ আপনি নিন।

    আমি বালিশে শুই না।

    ঋষির ঘুম আসে না। গোপা, গোপা, এখন বেওয়ারিশ লাশ। কাল হয়তো পুলিশ জ্বালিয়ে দেবে। কি প্রচণ্ড আঘাতে মুখ ওভাবে থেঁতলে যায়?

    কোনো সময়ে ঘুম আসে। কেন না মুখে রোদ পড়তে ঋষির ঘুম ভাঙে।

    চিনু নেই, রূপা নেই। ওরা চলে গেল?

    রূপা মুখ ঢোকায়, উঠে পড়ো।

    —হ্যাঁ বেলা হয়ে গেছে।

    বেঁচে গেছ খুব। বস, গাড়ি, হাঁকাহাঁকি,—আমি বললাম ঋষিদাকে যেতে দেব না, আমার সঙ্গে যাবে, আমরা ট্রেনে যাব।

    —ওঁরা চলে গেছেন?

    —যাবেন না? আটটা তো বাজে।

    —আটটা!

    চিনু চা নিয়ে ঢোকে!

    —হ্যাঁ, আটটা এবং আমরা স্নান সেরে দৌড়ব, দৌড়ব। স্টেশনের কাছের হোটেলে খাব। দশটা পাঁচের এক্সপ্রেস বাস ধরে দুটোয় হাওড়া পৌঁছব।

    —রূপা রেডি?

    —নিশ্চয়।

    উঠে চা খেয়ে, স্নানাদি সেরে ওরা বাইরে এসে বসে। বুধরাজ দোকানে গেছে। ওকে সব বলে, বুঝিয়ে দিয়ে যেতে হবে।

    —গোপার চিঠিটা!

    —জেরক্স করে তবে দেব।

    —এখানেই পড়ে নিই?

    —না, ঋষিদা। তোমার মন খারাপ হয়ে যাবে। জেরক্স করব আর এটা যত্ন করে রেখে দেব। কাউকে ধরতে দেব না। রাগ কোর না, তোমাকেও দেব না। দিদি তো আর লিখবে না।

    —না, আর লিখবে না।

    —বিক্রমকেও দরকার।

    বুধরাজ এসে পড়ে। দিনের আলোয় দেখা যায় বুধরাজের ঘরের সামনে মুরগি কয়েকটা। উঁচু বেড়ার ঘেরে কিছু সবজি চাষ।

    রূপা বলে, বুধরাজ বাড়ি বিষয়ে ভীষণ সজাগ। সেনদার বিষয়ে ও অসম্ভব অনুগত। হবারই কথা। সেনদা ওকে লিখে পড়ে এ বাড়ি দিয়ে দিয়েছে। সেনদা মরে গেলে এখানে আমরা এলেও ভাড়া দিতে হবে।

    —ও কি রক্ষা করতে পারবে?

    —ওর ছেলেরা আছে না?

    —তারা কোথায়?

    —একজন এখানে রাজ কলেজে পড়ে, আরেকজন খড়্গপুরে কি ট্রেনিং নিচ্ছে। সব সেনদার জন্যে। ওর মেয়েকে তো দেখিনি। তার বর বাঁকুড়ায় হোমিওপ্যাথ। মেয়ে যা সুন্দরী, নায়িকা হতে পারে।

    বুধরাজের বউ এগিয়ে এসে হঠাৎ রূপার হাত ধরে, দিদি, ভাবিস নাই।

    —না বউ!

    —আবার কবে আসবি?

    —এই রকমই, হঠাৎ।

    ওরা বেরিয়ে আসে। যাক, সুজয় এবং বস, আর অরবিন্দ সেন, সবই সত্যি। ঋষি বলে, থেকে যাবার মতো বাড়িটা।

    —আমরা তো অনেক থেকেছি।

    —বুধরাজরা বলাবলি করবে না তো?

    —না, বারণ করেছি।

    হাঁটতে হাঁটতে, হাঁটতে হাঁটতে, স্টেশনের কাছে। হোটেলে ভাত, ডাল, আলুভাজা, টক। খেতে না খেতে এক্সপ্রেস বাস।

    রূপা জানলার ধারে বসে।

    ওর চোখ দিয়ে চল পড়তে থাকে। চিনু একটা তোয়ালে রুমাল এগিয়ে দেয়।

    রূপা বলে, ঝাড়গ্রাম আসতে পারব না মনে হচ্ছে। এলেই স—ব!

    বাস দ্রুত চলে। ঋষি আশ্বস্ত হয় যে বাসে ক্যাসেটে গান বাজছে না।

    চিনু বলে, রূপা! যাবি কোথায় ঠিক করেছিস? না কলকাতায় পৌঁছে ঠিক করবি।

    ঋষি বলে ও বাড়ি না যায়, আমার ওখানে যাবে। কোনো অসুবিধে নেই।

    রূপা বলে, বিজয়া প্যাটেলের ওখানে যাবি এখন। ও তো কবে থেকেই বলছে। ওদের ঘরও আছে, অসুবিধেও নেই। বাড়িতে গিয়ে জামাকাপড় আনতে হবে, মাকেও বলতে হবে, কিন্তু এখনই পারছি না।

    —আমার বাড়িতেও থাকতে পারো।

    —ভাড়া নেবেন তো?

    —ভাড়া দেবার আলাদা ঘর নেই, তবু সর্বদাই তুমি স্বাগত।

    —আপনার ওখানে গেলে বাবা যখন তখন যাবে।

    —তাও সত্যি। তাতে আমার কিছু নয়….

    —না, না, মাসিমা অসুস্থ তাকেন। রুদ্র আছে।

    —বিজয়া প্যাটেল কে?

    —আমাদের সহকর্মী। প্রজেকট করে।

    —কোথায় বাড়ি?

    —বালিগঞ্জ প্লেস ইস্ট। এত প্রশ্ন কেন, আপনি আমার গার্জেন হয়ে গেলেন।

    —হ্যাঁ, আপাতত। তুমি যত স্বাবলম্বী হও, আমার কাছে তুমি তবুও ছোট।

    চিনু বলে, বাঁচলাম।

    —কেন?

    —আপনাকে দলে পেয়ে।

    —আমি বিশ্বাসযোগ্য তো?

    —বিশ্বাস ভাঙলে বিশ্বাসযোগ্য থাকবেন না।

    ক্রমে দৃশ্যপট বদলায়। কাঁকরমাটি ও সামাজিক বন সৃজন থাকে পেছনে! কলাগাছ, ধানক্ষেত, পাকাবাড়ি, কাঁচাবাড়ি, অন্য দৃশ্যপট।

    কলকাতা অমোঘভাবে কাছে আসতে থাকে। কালই কি এমন সময়েও ঋষি সবে কলকাতা ছেড়েছিল?

    রূপা হঠাৎ বলে, আমার কোনো বিশ্বাস নেই, কিন্তু বসের আছে। দিদিকে বেওয়ারিশ লাশ করে দিল। কোনো শ্রাদ্ধশান্তি…..

    —তোমার ইচ্ছে হলে কোর। তবে সব ব্যাপারটা ঠিক মতো ওতরালে তাতেই পারলৌকিক হবে।

    —রূপা বিষণ্ণ হেসে বলে, তাই ঠিক।

    —কলকাতা পৌঁছে আগে ব্রেসনে?

    —হ্যাঁ।

    —ঠিক থাকবে তো?

    —নিশ্চয়ই। আর কি ভাঙি? … মেয়েরা সমাজের সব স্তরেই খরচের খাতায়।

    —মেয়েদেরই সেটা বদলাতে হবে।

    —সময় লাগবে। চারদিকে এত মধ্যযুগ।

    কলকাতা পৌঁছেই ঋষি বলে, বস ফোন করলে আজ বলিস কমল, বাড়িতে নেই। কাল দেখা যাবে।

    কুমুদিনী ওর হঠাৎ চলে আসায় যেন একটু নিরাশ কয়েকদিন থাকবেন বলে এসেছিলেন।

    ঋষি বলে, তুমি থাকবে ক’দিন। শুধু ছেলে নাতিদের রেঁধে খাওয়াবে কেন? তুমি থাকলে রুদ্রও কত ভালো থাকে, তা তো দেখতেই পাও।

    —চেহারা কালি বর্ণ কেন?

    —যাওয়া আসার ধকল নেই!

    কমল ঘরে আসে।

    —ওদিকে কি হল?

    —চূড়ান্ত জঘন্য ব্যাপার।

    —থাক, পরে শুনব।

    —এদিকে তোমার সাম্রাজ্য সব ঠিক আছে। মাসি এসে যেতেই আরোই ঠিকঠাক সব।

    —মা, রুদ্র?

    —মাসিমাকে তো দেখলেই। রুদ্রও ভালো। তবে দমাদম লাথি মারে ঘুমিয়ে। আগে তো মারত না।

    —আগে তো টি.ভি.তে বিশ্বকাপ দেখে নি।

    —বালিশ গুঁজে নিও।

    —হ্যাঁ… তোয়ালেটা ফেলে এলাম।

    —যাক গে।

    —গোপাকে দেখার পর…

    —গোপাই তবে?

    —স—ব বলব।

    স্নান করলেও স্মৃতি যাচ্ছে না। গোপার মৃতদেহ মনকে যেন কলঙ্কিত করে রেখে গেছে। আজ রাতে একটা ঘুমের ওষুধ খেতে হবে। খুব গাঢ় ঘুম দরকার।

    রানী চা নিয়ে আসে।

    —কিছু খাবে?

    —কিছু না।

    —মাসী নাতির জন্যে মোচার চপ ভাজছে।

    —তাহলে আনো।

    দৈনন্দিনতায় ফিরতে চায় ঋষি। দৈনন্দিনতায়। কি গোপার গলিত রক্তাক্ত দেহ এখন সব কিছু ঢেকে দিচ্ছে। কলকাতার ওপর দিয়ে বিছিয়ে যাবে না কি গোপার শব কেন, কেন গোপার এমন পরিণতি হবে?

    জল ঢালে ঋষি, অনেক জল ঢালে।

    ফোনটা রিসিভার থেকে নামিয়ে রাখে। বস হয়তো ফিরেই ফোন করতে থাকবেন।

    সকাল না হতেই ফোন আসে। কমল ধরে।

    —ঋষিদা, রূপা!

    —রূপা। কেমন আছ?

    —শোনো, সন্ধ্যায় এখানে এসো। ঠিকানাটা লিখে নাও। আর শোনো, বস ফোন করলে…

    —”জানি না” বলব।

    —না, বলবে রূপাই যোগাযোগ করবে। বলবে, আমি ফিরছি না বলে হইচই করলে ফিরবই না।

    —বাড়ি যাবে তা হলে?

    —একবার তো যাবই। না গেলে বস যা করবে, তোমার অশান্তির শেষ থাকবে না।

    এবং বেলার দিকে বস ফোনে গর্জে ওঠেন।

    —ব্যাপার কি, ঋষি?

    —কিসের ব্যাপার?

    —তোমার খোঁজ নেই। রূপার খোঁজ নেই। কাল থেকে ভাবতে ভাবতে … তোমরা কি চাও আমি পাগল হয়ে যাই?

    —শুনুন, রূপা, আমরা কালই ফিরেছি।

    —রূপা কোথায়?

    —ওর কোনো পরিচিতের বাড়িতে। আমাকে বলে নি। আজ ফোন করেছিল। বলেছে, প্রথমত ওই যোগাযোগ করবে। দ্বিতীয়ত, ওর খোঁজে হইচই করলে ও আর ফিরবেই না।

    —খোঁজও করব না?

    —ওর মনের যা অবস্থা…

    —বড্ড বেড়ে গেছে।

    —ও যা বলেছে, বললাম। তারপর আপনি বুঝে দেখবেন। তবে রূপা তো গোপা নয়।

    —ওঃ…!

    —রাখছি।

    —তুমি আসছ না কেন?

    —আমি একটু অসুস্থই ওখানে যাবার পর… রাখছি।

    —এখনি যাবার তো দরকারও নেই।

    —বেশ!

    ফোন নামিয়ে রাখেন উনি।

    ঋষি বুঝতে পারে যে ওঁর মাথাও ছিঁড়ে যাচ্ছে! অবশ্য তাতে ভয়ের কিছু নেই। সকালে হাঁটেন, সারাদিন কাজ করেন, নিয়ম বেঁধে খান, মাঝে মাঝে ডাক্তার দেখে। রক্তচাপ, রক্তশর্করা, রক্তে ক্লোরেস্ট্রাল, হৃদযন্ত্রে যান্ত্রিক গোলযোগ, কিছু নেই। য়ুরোপ থেকে যখনি ফেরেন, তখন অত্যন্ত তরুণ।

    —যাবার জন্যে য়ুরোপ, আমেরিকা, আর থাকার জন্য ভারতবর্ষ, বুঝলে ঋষি?

    —বুঝেও তো আমি নবীনচাঁদ রোডেই থাকব।

    বসের মাথাও ছিঁড়ছে।

    রূপা ব্যাপারটা নিয়ে কি করবে তা জানতে না পারলে উনি নিশ্চিন্ত হতে পারছেন না। গোপাকে উনি মুছে ফেললেন মন থেকে?

    মানুষ সব পারে।

    নবীনচাঁদ রোডেই ”দেবস্মৃতি” বাড়ি আজও আছে। ওই বাড়িটি বিক্রি করে মালিক চলে গেছে।

    ঋষির জন্মেরও আগে ও বাড়ির মেয়ে সুজাতা এক বেজাতের ছেলেকে ভালোবেসেছিল। ওর বাবা মা খুবই দাম্ভিক ছিলেন। কিন্তু শেষ অবধি যা করলেন, তা পিশাচেও করে না।

    রাত দশটা অবধি সুজাতাকে সবাই দেখেছে। ভোরে দেখা গেল ওর বাপ ভাই দাদারা শ্মশান থেকে ফিরছে। রাত বারোটায় কলেরা। একটায় মৃত্যু, চারটায় দাহ শেষ, এই গল্পটি বাজারে ছাড়া হল। মেয়েকে ওঁরা বিষই দেন, ঝি চাকররা বলে।

    সবচেয়ে ভীষণ হল, এই মৃত্যুর বাইশ দিন বাদেই সুজাতার বাবা মা ফুলসাজে সেজে, সানাই বাজিয়ে নিজেদের বিয়ের তিরিশ বছর উদযাপন করেন। এই প্রথম বিবাহজয়ন্তী, তাও ওই মৃত্যুর পর।

    মানুষই তো সব পারে। বস যদি গোপাকে খরচযোগ্য মনে করেন, রূপাকে ছেড়ে দেবেন? তা ছাড়া, ওঁর তো ছেলে আছে, ভাস্বর। রূপার কারণে যদি ওঁর সাম্রাজ্য বিপন্ন হয়, তাকে ছাড়বেন না।

    রূপার নিরাপত্তা দরকার।

    সন্ধ্যায় যেতে হবে বালিগঞ্জ প্লেস ইস্ট।

    বালিগঞ্জ প্লেস ইস্টে রূপা একটি স্বতন্ত্র কামরা পেয়েছে। বিজয়ার বাবা মরে যেতে বিজয়ার মা অত্যন্ত সাহসে বাড়ি বিক্রির ব্যবসায়ে নেমে যায়। এখন ওঁর ‘উর্বশী’ বুটিক খুব দাঁড়িয়ে গেছে। দোকানটি পার্ক স্ট্রীটে। ছেলে আমেরিকায়, মেয়ে ব্রেসনেতে। একটি ঘর ও বাথরুম উনি চেনাজানার মধ্যে ভাড়া দিতেই চান। বাড়িতে লোক থাকা ভালো।

    ঘরটি বড়সড়। একান্তেও বটে। এ ঘর থেকে বেরোবার দরজা আলাদা। ফলে বাড়ির সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই। বিজয়ার মা পাঞ্জাবিনী। বাবা গুজরাতী। ঠাকুমা মারাঠী। ফলে বাড়ির হাওয়া খুব আধুনিক। শত কাজেও বিজয়ার মা গোবিমটর, ছোলেপনির বা সর্ষে কা শাক রেঁধে যান। রূপার ধারণা, খেয়ে খেয়ে ও মোটা হয়ে যাবে।

    চিনু, রূপা আর ঋষি বসে।

    —আমরা একজনের জন্যে অপেক্ষা করছি ঋষিদা। ততক্ষণে তুমি ছবিগুলো দেখ, দিদির চিঠিটা পড়ো। দেখ, ছবি আর চিঠি সবই চার সেট। বস, সুজয় তুমি, আমি।

    ছয়টি ছবি। গোপার ঘাড় ঘুরে গেছে। হাত এলানো। মুখের বাঁ পাশ থেঁতলানো।

    আরো ক্লোজআপে গোপার চিবুকের নিচে জরুল, পেটের বড় তিল স্পট। হাত—পার আলাদা ছবি। বাঁ পায়ে বুড়ো আঙুলটা বেঁকা।

    —আঙুল ভেঙে গিয়েছিল। ঠিক হয়নি।

    সর্বাঙ্গ আভরণ হীন। চোখ একটু খোলা। হালকা ছাপা কাপড়, হাতকাটা জামা।

    —শাড়িটা আমি দিছলাম।

    —এখানে তো বডি খুব স্বাভাবিক।

    চিনু বলে, ওই গরম! বরফের কোনো ব্যাপার নেই। ঝাড়গ্রামে নেবার পর পচ ধরে গেল, রস কাটল, কত রকম হল।

    —চিঠিটা পড়ো।

    গোপার চিঠি খুব পরিষ্কার। ছোটবেলা থেকে ভালো হাতের লেখার জন্যে পুরস্কার পেত।

    ”রূপা”!

    ঠিকানাটা দেখে অবাক হবি। তোরা কাছেই আছিস, কাজ করছিস! তা জেনেও আমি যোগাযোগ করিনি। আমি একলা নিজের সঙ্গে থাকতে চেয়েছিলাম।

    সেনদার এ বাড়িটায় কি শান্তি কি নির্মলতা। জানলা জানলা দিয়ে চাইলে আকাশ। জানলার বাইরে গাছের ডালে রোজ একটা লক্ষ্মীপেঁচা এসে বসে। কোনো বই পড়ি না। তিনটে কাপড় নিয়ে চলে এসেছি। মঙ্গলের বোন ফুলমণি রাতে শুতে আসে। ওদের কোনো বানানো সমস্যা নেই। একটা শুওরের দখল নিয়ে ফুলমণির সঙ্গে মঙ্গলের বউ ঝগড়া করে। ওই বউয়ের কেমন ভাইয়ের সঙ্গেই ফুলমণির প্রেম হয়েছে।

    বিয়ের সময়ে বর ফুলমণির অভিভাবক মঙ্গলকে একটি শুওর দেবে। ফুলমণি তখন নিজের পালিত শুওরটি নিয়ে যাবে। ফুলমণির জন্যে আমি রাতে রেঁধে রাখি। কাঠের আগুনে ভাত, শাক, ও খায়। আমিও খাই। সকালে দুধ ছাড়া চা। কুয়োর জল তুলে স্নান করি।

    সত্যি বলতে কি, পিঠাডিহাতে তুই আছিস, আর এত কাছে, মানে কয়েক মাইল উত্তর পশ্চিমে কাঁটাজুড়িতে আমি আছি। তবু তোকে জানাইনি। আমি তো নিজের সঙ্গে নিজে একা থাকব। যে সিদ্ধান্ত নেব সেটা হবে আমার একার, তার মধ্যে তুই, বিক্রম, কেউ থাকবি না। এটা আমার নিজের জন্যেই খুব দরকার ছিল।

    একলা থাকার কি যে আনন্দ তা আগে বুঝি নি। একা তো আমি বরাবরই। বাবা কত বড়, আমি কত অযোগ্য, এটা তো আমাকে অনেক আগেই বুঝিয়ে দেয়া হয়। তোর কত বুদ্ধি, আর আমি কোনোদিন চক্রবৃদ্ধি সুদের অঙ্কই বুঝতাম না বলে ”বোকা, গবেট” তো কম শুনি নি।

    কোনদিন তোকে হিংসে করার কথা মনেও হয়নি। বরং খুব গর্ব হয়েছে বরাবর। তারপর, আমি তো আমাকে মুক্তি দিতে পারছিলাম না। যেন মাকড়সার জালে জড়িয়ে পড়ছিলাম। বাবা, মা, সুজয়, সকলেই আমার কাছে অলীক। তবু নিজে নিজের জন্যে কি করছিলাম! তুই তো আমাকে ”ব্রেসনে”তে নিয়ে এলি। বেরিয়ে এসে আবিষ্কার করলাম। এটা আরো আগে আমিই করতে পারলে নিশ্চয় আরো আগে জালটাও অলীক হয়ে যেত।

    বাবা আর সুজয়ের সুবিধার্থে, বিয়ে।

    মাকড়সার জাল খুব বাস্তব। একই সঙ্গে খুব অলীক। ”অলীক” সেটা নিজে জানতে হয়। জানার পরেও মুক্তি পায় কতজন? সকলের তো রূপা থাকে না ব্রেসনে না অনুরূপ কিছু থাকে না। থাকে না আমার মতো কিছু লেখাপড়া ও যোগাযোগ থাকার জোর।

    আমার একাকীত্বের কথা বলছিলাম।

    অরূপের সঙ্গে সে সময়টা একা ছিলাম না। অরূপের জেল হল, লজ্জা, লজ্জা! পথ না পেয়ে মরতে গেলাম। সে সময় যদি মনে জোর এনে চেঁচিয়ে বলতে পারতাম, আমার বয়স উনিশ! কেউ ফুসলে আনে নি আমাকে!—এ সব কথা লিখছি, কেন না অরূপ আমার মনে কোথাও বিবেকের মতো জেগে থাকে।

    তারপর একা, তারপর সুজয়।

    কয়েকটা কাজের কথা বলি। সুজয় রিমকির ব্যাপারেও এক ব্যবহারই করেছে। বিধবাকে বিয়ে করতে ওর সংস্কারে বাধে। তাই বিয়ে করে নি।

    রিমকি ভেবেছে সুজয় ওকে ভালবাসে।

    সুজয় কাউকে ভালবাসতে পারে না। রিমকিকে ও ছাড়বে না কেন না রিমকির স্বামী চা বাগান থেকে অনেক টাকা করেছিল। সল্টলেকের বাড়ি, ব্যাঙ্কের টাকা, সবই সুজয় বাগাবে।

    সুজয় সুকৌশলে রিমকির ভাইকে মঞ্চ থেকে সরিয়ে দিয়েছে। এরপর রিমকিকে হয়তো চিরতরে সরাবে। কেন না আমি রিমকিকে ফোনে সেদিন বলেছি, তোমরা বিয়ে কর না কেন?

    শুনলাম, আমি ডিভোর্স দিচ্ছি না।

    তখন দেখা করে সব খুলে বললাম। আর আজ একই সঙ্গে রিমকিকে সব খুলে লিখেছি।

    বিক্রমকেও লিখেছি।

    আমার চিঠি পেলে রিমকির যদি কোনো দুর্বলতা থাকে, তা কেটে যাবে। অবশ্যই ডিভোর্সের পর ও সুজয়কে বিয়ে করতে পারে। না করলেই বুদ্ধির পরিচয় দেবে। অন্তত এটা ভাবতে ভালো লাগছে যে আমার চিঠি পেয়ে রিমকি ওকে চেপে ধরবে। সুজয় দেখবে আমি আর রিমকি, ওর পা রাখার দুটো জায়গাই নেই।

    রিমকিকে বলেছি, সুজয়কে দেখালে জেরকস চিঠি দেখিও। চিনুর কথা শুনে শুনে আমার চোখ বেশ খুলেছে।

    বিক্রমের কথা বলি।

    ও যে আমাকে চায়, সে তো আমি জানি। কিন্তু একেবারে একলা না হলে আমি কেমন করে জানব যে আমি সব কিছুর পরে ওকেই চাই?

    একা, একা, নিজের মনের জোরে জটগুলো খুলছি। আমি জানি, এবার ফিরে গিয়ে ডিভোর্স করব। বিক্রমকে লিখেছি, তোমার জন্যে আজ ডিভোর্স চাই, সেটা সত্যি নয়।

    মুক্তি চাই নিজের জন্যে।

    তোমাকে পরে যদি বিয়েও করি, তাহলেও যেন নিজের মনে এ অহংকার থাকে, যে অসহ ও ব্যর্থ জীবন টানব না বলেই ডিভোর্স করেছি। তুমি আমার জীবনে না এলে, আমায় পরেও বিয়ে না করলে, তবু আমি সুজয়কে ছাড়তাম।

    বিক্রমকে এ সব কথাই লিখেছি। ও অবশ্য কথাটা জানে। আমিই বলেছি।

    বিক্রমের ধরন—ধারণ, ভদ্রস্বভাব, স্বভাবনম্রতা কেমন যেন অরূপের সঙ্গে মেলে, তাই না?

    আমার ওরকম সাধারণ মানুষই ভাল লাগে।

    আজ তোকে সব কথা লিখলাম। তুই, রিমকি, বিক্রম, কিছু আগে পরে চিঠি পাবি।

    আর দিন সাতেক বাদে আমি কলকাতা ফিরব।

    এখানে ঝোপে কি যেন নীলচে তুলোর পুঁটলির মতো ছোট ছোট নরম ফুল ফোটে। ফুলমণি রোজ খোঁপায় পরে, কিন্তু কী আশ্চর্য, ফুলটার নাম জানে না।

    তোকে লিখতে লিখতে রাতই হয়ে গেল। রোজ রাতে মঙ্গলদের গ্রামে মাদল বাজে গান হয়।

    সেদিন ওরা আমাকে বলছিল, এখানে ইস্কুল করে আমাদের ছেলেমেয়েদের পড়া তুই।

    সেটাই বা মন্দ জীবন কি! সেনদার এ বাড়িটা তো থাকবেই না, পোড়ো হয়ে যাচ্ছে।

    সাতদিন পরে তোদের দেখব, তোকে দেখব, ভাবলেও ভালো লাগছে।

    এই তো! সব কথা কি বললাম?

    সব কথা কি বলা শেষ হয় কখনো?

    দেখলে বেশ অবাক হবি। আমি বুঝতে পারি, আমি যেন নতুন মানুষ হয়ে গেছি।

    একই জন্মে অনেক জন্ম, জন্মান্তর ঘটানো যায়। নিজেকেই বারবার জন্ম নিতে হয়।

    ঋষিদাকে সব বলিস। ও তো চিরকাল আমাকে স্নেহ করেছে।

    তুই অত সিগারেট খাস না।—দিদি।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকেয়ারটেকার – মহাশ্বেতা দেবী
    Next Article পারিবারিক – মহাশ্বেতা দেবী

    Related Articles

    মহাশ্বেতা দেবী

    হাজার চুরাশির মা – মহাশ্বেতা দেবী

    November 27, 2025
    মহাশ্বেতা দেবী

    মিলুর জন্য – মহাশ্বেতা দেবী

    November 27, 2025
    মহাশ্বেতা দেবী

    প্রস্থানপর্ব – মহাশ্বেতা দেবী

    November 27, 2025
    মহাশ্বেতা দেবী

    আই. পি. সি. ৩৭৫ – মহাশ্বেতা দেবী

    November 27, 2025
    মহাশ্বেতা দেবী

    প্রতি চুয়ান্ন মিনিটে – মহাশ্বেতা দেবী

    November 27, 2025
    মহাশ্বেতা দেবী

    পারিবারিক – মহাশ্বেতা দেবী

    November 27, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }