Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মুনলাইট সোনাটা – অমর মিত্র

    লেখক এক পাতা গল্প81 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    মুনলাইট সোনাটা – ২

    ২

    মজুমদার একদিন এসে বলল, ‘গতকাল বড়ো ম্যাডাম আমার বউকে একটি পারফিউম পাঠিয়েছে, কী সুগন্ধ তার!’ বলতে মজুমদারের চোখমুখ উদ্ভাসিত। শুনে শুভময় সেন বলল,

    ‘ওইটা তুমি গায়ে স্প্রে করো মজুমদার, আজ করেছ নাকি?’

    না, ওটা মেয়েদের পারফিউম, আমার হবে না। মজুমদার বলেছে।

    তোমারই হবে। শুভময় সেন বলেছিল।

    তুমি জান না, আমার গায়ে ওই গন্ধ পেলে স্যার ধরতে পারবেন, ওইটা বড়ো ম্যাডামই গায়ে দেন, আমার বউকে দিয়েছে আমি কেন গায়ে দেব?

    আসলে তোমার জন্যই দিয়েছে। শুভময় সেন বলেছে।

    কী বলছ তুমি, এটা মেয়েদের।

    ম্যাডাম তোমার জন্যই দিয়েছে।

    না, না, না। মজুমদার তীব্র আপত্তি জানিয়েছে, তুমি জান না।

    শুভময় সেন মাথা নেড়েছে, জানি, যা বলছি তা হতেই হবে।

    অনেকটা কথাবার্তার পর মজুমদার টের পেল শুভময়ের ব্যঙ্গ। গম্ভীর হয়ে গেল। কথা বদলে দিলাম আমি। কিন্তু মজুমদার আর বসল না। সে আচমকা উঠে যেতেই শুভময় মন্তব্য করল, শালা, তোকেই দিয়েছে ম্যাডামের ঝি, কাজের মেয়ে-বউকে বাড়ির কর্ত্রী কি দেয় না, এরপর শাড়ি দেবে, ম্যাক্সি দেবে, ফেলে দেওয়া নাইটি দেবে, রাতে বেঁচে যাওয়া বিরিয়ানিও দেবে, তুই খেয়ে ধন্য করবি ওঁদের।

    এখন মজুমদার কোথায়? আমার মতো সব ক্ষমতা থেকে মুক্ত হয়ে কি বাড়ির ব্যালকনিতে বসে থাকে দিনভর। নিঃঝুম নগরের পড়ন্ত বেলা চোখে নিয়ে দিন কাটায়? একা একা। দিন পার করে সন্ধ্যা, রাত্রি। জীবনে কত ক্ষমতা ভোগ করেছে সে তা বলতে থাকে লুঙ্গি আর ফতুয়া পরা বুড়োদের তাসের আসরে বসে? বলে নাকি তখন আমি পশ্চিম দিনাজপুরে, পশ্চিম ভেঙে উত্তর আর দক্ষিণ দিনাজপুর হয়নি, আমি নাজারত ডেপুটি কালেক্টর …. আঙুলে ঘিয়ের গন্ধ শোঁকে মজুমদার! ম্যাডাম মল্লিক, ডিয়েমের ওয়াইফ আমাকে কী ভালোই না বাসতেন, আমার স্ত্রীকে পারফিউম, শাড়ি, আমাকে পাঞ্জাবি …. বলে, তখন আমি অচিনপুর, মিস শ্রেয়া চৌধুরী এসেছিলেন বেড়াতে, তিনি এখন পটনায়, ইরিগেশনের ডিপার্টমেন্টাল সেক্রেটারি, তাঁর সব ভার ছিল আমার উপর …., আমি তাকে শেখালাম কী করে প্রশাসন চলে, কী ভাবে ল অ্যান্ড অর্ডার মেইনটেইন করতে হয়।

    এসব এখন আমার মনে হয়। একা ব্যালকনিতে বসে মজুমদারকেই মনে পড়ে বেশি।

    আমার ছেলে আমেরিকায় সেটল করেছে। থাকে ক্যালিফর্নিয়া স্টেটের সান-দিয়েগো শহরে। প্রশান্ত মহাসাগরের তীরে সেই শহর। আমি ইন্টারনেটে দেখেছি চারশো বছর আগে স্পেনীয়রা প্রথম ওই উপকূলে জাহাজ নোঙর করে। ক্যালিফর্নিয়ার পুব দিকে সান-দিয়েগো। ছেলের সঙ্গে কোনো কোনো রোববার ইন্টারনেটে ফেসবুকে কথা হয়। ভিডিও চ্যাটে ওর ঘর দেখা যায়। ও আর বউমা দুজনে এঘর ওঘর করে, ল্যাপটপ নিয়ে। চোদ্দতলা থেকে নীচের শহর দেখা যায়। যদি আমি সকালের ভিতর থাকি, ওরা আগের দিন রাতে। দীপাবলীর আলোর মালায় সেজেছে সেই শহর। খোলা জানালা দিয়ে ওদের ঘরে প্যাসিফিকের বাতাস ঢোকে, কী সেই হাওয়া। আমাদের ঘরে এসেও ঢোকে যেন। তোলপাড় করে দেয় মন। আমি কি কখনও ভেবেছিলাম এই রকম। মেজমাসির বড়ো ছেলে সুবীরদা যখন চলে গেল লন্ডনে (আমরা বলতাম লন্ডন, ছেলে বলেছে ওটা হবে লানডান), কী রকম ছোটো না লেগেছিল নিজেকে। আমাদের সাতপুরুষের কেউ বিদেশ যায়নি, যাবেও বলে মনে হয় না। সুবীরদা গিয়েছিল বিলেতের হাসপাতালে চাকরি করতে। ফিরেও ছিল বছর দুই পরে পাকাপাকি ভাবে। নিজের দেশ ছেড়ে মা বাবা ভাই বোনকে ছেড়ে বিদেশে মন বসেনি। বড়ো অফার পেয়ে ওদেশে থাকা সব্যস্ত করেও থাকেনি। সে ফিরে এলে আমার বাবা, সুবীরদার ছোটো মেসো বলেছিলেন, ‘ঠিক করেনি সুবীর, বিলেতে থাকলে অনেক বড়ো হতে পারত। ওটা ইংরেজের দেশ, ওদেশে এখনও রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ আছেন। ওদের সাম্রাজ্যের সূর্য অস্ত যেত না একসময়, আবার ওদের সুদিন ফিরবে।’

    সুবীরদা এসব কথা কানেই নেয়নি, তুচ্ছ করে দিয়েছিল সকলের মতামত। বলেছিল, আমি আমারটা ভালো বুঝি, কী করতে হবে, হবে না তাও জানি, কলেনিয়াল হ্যাং ওভার কাটেনি এদেশের মানুষের, পারলে আবার ওদের ডেকে আনে।

    সে আমাদের ছোটোবেলার কথা। কত বয়স হবে তখন বারো তের। মনে হয়েছিল, সুবীরদার খুব অহংকার, বুঝবে পরে, আফশোশ করবে। বাবাই ঠিক কথা বলেছে। এখনো তাই মনে হয়। কিন্তু মন তো খারাপ হয়। কতদূরে ছেলেটা। আমাদেরও বয়স হচ্ছে। এখন ছেলে-বউ, নাতি-নাতনি নিয়ে দিন কাটাবার সময়। কত আহ্লাদ করা যেত। যে বয়সের যা।

    বাবা বলতেন, ওসব বড়ো বড়ো কথা, ও তো নকশালদের মতো কথা বলছে, ইন্ডিয়ানরা কি দেশ শাসন করতে পারে, ওদেরই আবার ডাকতে হবে তা জানে সায়েবরা, ওদের দেশে গুণীর কদর আছে। সুবীর খুব ভুল করল।

    সেই সুবীরদা এখন বাঙ্গালুরু ছাড়িয়ে গিয়ে কর্নাটক আর মহারাষ্ট্রের সীমান্তে মহারাষ্ট্রের সেই লাতুর জেলার কিল্লারি গাঁয়ে চিকিৎসা করেন। কোন লাতুর জেলা? ১৮ বছর আগে ভয়াবহ ভূমিকম্প হয়েছিল যেখানে, সেই লাতুরের কথা বলছি। সে একটা কথা। আমার বন্ধু সুবিমল খবরের কাগজে আছে। সাংবাদিকতা তার কাজ। সে অযোধ্যায় গিয়েছিল ৯২-এর ডিসেম্বরে। তার রিপোর্ট ছিল অসম্ভব ভালো। সে লাতুর গিয়েছিল ১৯৯৩-এর অক্টোবরে। পুজোর ঠিক আগে আগে। লাতুরের রিপোর্টে সে এক বাঙালি ডাক্তারের কথা লিখেছিল, সুবীর ভদ্র। কর্নাটকের প্রত্যন্ত গাঁয়ে দাতব্য চিকিৎসালয় চালান, পুরো ইউনিট নিয়ে ভূমিকম্প পীড়িত এলাকায়। আমি ওর লেখা পড়ে উত্তেজিত হয়ে ফোনে যোগাযোগ করেছিলাম সুবিমলের সঙ্গে। সুবিমল আমার খোঁজ নিয়ে বলেছিল সে আসবে ওই জেলায় তার সাংবাদিকতার কাজেই। আমি তখন কলকাতা থেকে দূরে উত্তরবঙ্গের সেই জেলায়, ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট। অনেক দপ্তরের ভার আমার উপর। জেলা শাসক মল্লিক সায়েব মধ্যবয়সী সিভিল সার্ভিসের অফিসার, প্রমোশনে আই.এ.এস। সেই মানুষটির অনেক গুণ। নিরামিষাশী। উত্তর-ভারতীয়রা যে বলে, ‘মছলিখোর বঙ্গালি’ কী করে হিন্দুত্ব রেখেছে তা তিনি সমর্থন করেন। সুবিমল আমার কোয়ার্টারে এসেছিল জেলা কভার করতে এসে। ওর জন্য ভালো বাংলোর ব্যবস্থা করে দিয়েছিলাম। একদিন সন্ধেয় সেই বাংলোয় মদের আসর বসিয়েছিলাম। মজুমদার আমাকে সাহায্য করেছিল ভালো ব্র্যান্ডের হুইসকি উপহার দিয়ে। ও ছুঁয়ে দেখত না, বসে থাকত সামনে। শহরের সব চেয়ে বড়ো ডিলারকে বলে দিত কোন সায়েব কী চাইছেন, কী দিতে হবে, কখন দিতে হবে?

    সুবিমল আমার কোয়ার্টারে এসে বলেছিল,মানুষটার জন্য গর্ব হয় বিপুল, মনে হল জীবনের একটা মানে খুঁজে পেয়েছেন ওখানকার ‘ডাগদারসাব’। আরে আমাকে বলল, নিজে শুদ্ধ না থাকলে, মন পবিত্র না থাকলে নাড়িজ্ঞান হয় না। নাড়িজ্ঞান না থাকলে চিকিৎসা কী করবে ডাক্তার, এই রকম নাকি তিনি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইচ্ছামতী উপন্যাসে এক কবিরাজের মুখে শুনেছিলেন। তিনি নিজেকে শুদ্ধ রাখেন, অর্থের কথা ভাবেন না, কী রকম মানুষরে ভাই, ওদিকের মানুষের কাছে ভগবান।

    আমি আর সুনন্দা অবাক হয়ে সেই রূপকথা শুনছিলাম। শুনতে শুনতে সুনন্দা বলেছিল, তুমি হাটেবাজারে বলে একটা সিনেমা দেখেছ সুবিমলদা, বনফুলের উপন্যাস, অশোককুমার, বৈজয়ন্তী মালা, অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন।

    কে দ্যাখেনি সেই সিনেমা, বনফুল নিজে ডাক্তার ছিলেন, ওই ডাক্তারকে উনি নিশ্চয় দেখেছিলেন। কিন্তু সিনেমার চেয়েও ওই ডাক্তারের জীবন আরো কালারফুল, বিলেত থেকে ফিরে এসেছিলেন গরিব দেশবাসীর চিকিৎসার করবেন বলে, মূলত শিশুদের দ্যাখেন, বড়োদেরও দেখতে হয়।

    সুবিমল অনেক কথা বলেছিল সেই ডাক্তারকে নিয়ে। আমাকে তাঁর ফোন নম্বর দিয়েছিল সে-ই। সুবিমলকে নিয়ে আমি জেলা শাসকের কাছে গিয়েছিলাম। পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলাম। সুবিমল ভূমিকম্প পীড়িত লাতুর জেলার কথা শুনিয়েছিল তাঁকে। তিনি খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে কত কথা জিজ্ঞেস করেছিলেন। কফি নিয়ে ঘন্টা দেড় আড্ডা হয়েছিল। নামী সংবাদপত্রের সাংবাদিক। তাকে তো খাতির করতে হয়। আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন জেলা উৎসবে। সেই উৎসব হত বর্ণাঢ্য। তার জন্য খরচও হতো দেদার। জেলার বড়ো বড়ো ব্যবসায়ীরা অকৃপণ হাতে বাড়িয়ে দিতেন। শীত ওখানে চমৎকার। উৎসবের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছিল বহুদূর পর্যন্ত। কলকাতা থেকে ট্যুরিস্টের ভিড় হতো। আদিবাসী নৃত্য, ভাওয়াইয়া থেকে নানা লোক সংগীত, লালনের গান, রবীন্দ্রনাথের গান, শাস্ত্রীয় সংগীত, সব হত। চিত্রতারকাদের নিয়েও অনুষ্ঠান হতো। আগে অতটা বড়ো করে হত না। মল্লিক সায়েব জেলার ভার নেওয়া পর উৎসব বৃহৎ আকার ধারণ করেছিল। কিন্তু সত্য সন্ধানী সুবিমল অনাহারী গ্রাম নিয়ে দীর্ঘ রিপোর্ট করেছিল। উদাসীন জেলা প্রশাসনের অজ্ঞাতে অনাহারে মৃত্যু হচ্ছে। আশ্চর্য, সুবিমল যে এই খবর করতেই এসেছিল আমাদের জেলায় তা আমিও জানি না। আমি তাকে কত সাহায্য করলাম, মদ উপহার দিলাম, সবই তো জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে, নাজিরখানা দিয়েছিল টাকা। সেই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা দূরের কথা, আমাদের বিব্রত করে গেল। অনাহার যত না, বলল অনেক বেশি। এক বেলা, আধ-পেটা খাওয়া, না খাওয়া, উপোস, এসব তো আমাদের দেশের মানুষের অভ্যাস, না খাওয়া মানুষ কোথায় নেই, কোন জেলায়? এটাকেই ওই সব মানুষ তাদের জীবনের অন্তর্গত বলে মেনে নিয়েছে।

    ‘সাতপুরুষ ধরেই তারা না খেয়ে থাকে, তাতে কী হয়েছে? না খাওয়া তাদের অভ্যেস, সাংবাদিক হারামি খুঁচিয়ে ঘা করল।’ কথাটা বলেছিলেন ডি.এম — মল্লিক সায়েব।

    মল্লিক সায়েব আমাদের সকলের কর্তা। তাঁর প্রতিক্রিয়ার কথা শুনেছিলাম আমি মজুমদারে মুখে। এতটাই অসন্তুষ্ট হয়েছিলেন বড়ো সায়েব, যে খিস্তি করতে তাঁর বাধেনি। এটা ঠিক করেনি সুবিমল। বিধানসভা অবধি গড়াল অনাহারের রিপোর্ট। টেলিভিশনে খবর হল। ক্ষতি আমার হল, তারপর থেকে মল্লিক সায়েবের ভালো নজর থেকে আমি সরে গেলাম। তাঁর স্থির বিশ্বাস সবটাই আমি জানতাম। আদিবাসীরা কবে খেতে পায়? খাওয়ার গল্প শুনেই তাদের দিন কাটে, তা কে না জানে। আর তারা না খায় তাই বা বলল কী করে, তারা বনের ফল-পাকুড়, কন্দমূল, সাপ-ব্যাঙ, পিঁপড়ের ডিমেই অভ্যস্ত, বিরিয়ানি দিলেও খাবে না।

    এসব কতদিন আগের কথা। মল্লিক সায়েবকে আমি একটুও ভুলিনি। এখন এই প্রায় নির্জন বাড়িতে বসে চাকরিজীবন নিয়ে নানা কথা মনে পড়ে। তা ছাড়া কীই বা মনে থাকবে। জীবনের সঞ্চয় তো ওইটুকু। আমার জীবনের দুটি কাজ, একটি আমার সন্তানটিকে মনের মতো করে তৈরি করা, অন্যটি হল এই বাড়ি। সল্টলেক সিটিতে এই বাড়িটি করেছিলাম মনের মতো করে। বিধাননগরের চেয়ে সল্টলেক সিটি নামই আমার পছন্দ। ওয়াশিংটন সিটি — ওয়াশিংটন সিটি মনে হয়। কত কষ্ট করে এই বাড়ি করেছিলাম। জমি জোগাড় করেছিলাম পুরোনো সহকর্মী মজুমদার আর অফিসের এক অধঃস্তন কর্মচারীকে ধরে। তার ভগ্নিপতি সে বছর রাষ্ট্রমন্ত্রী হলেন। আমাকে তাঁর কাছেই নিয়ে গিয়েছিল সে। বদলে তাকে অফিসের এমন ফাইল দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল যার ভিতরে টাকা আছে। এ ব্যাপারে আমাকে চুপ করে থাকতে হয়েছিল। তাতে কী হয়েছে? ওই ফাইল যার হাতে যাবে, সেই টাকা নেবে, তাহলে ভবতোষ গাঙ্গুলী টাকা নিলে কী দোষ? কেউ না কেউ তো নেবেই। কিন্তু আগে টাকা নাকি ভাগ হতো, ভবতোষ সেইটা বন্ধ করে দিল। সে একাই নিতে লাগল। তখন ক্ষোভ তৈরি হচ্ছিল ধীরে ধীরে। এক বছরে বেশি ওই ফাইল যেন না দেওয়া হয় কাউকে। বদলে বদলে সকলেই সুযোগ পাক। আমার বদলি হয়ে গেল সেই সময়। জমি পেয়ে তা রেজিষ্ট্রি করে পজেশনও পেয়ে গেছি।

    সুতরাং বদলি। আমার বদলে যিনি এলেন তাকে আমি বলে এলাম ওই অর্থকরী ফাইল ঘুরিয়ে সকলের হাতে দিতে। সেই বাড়িতে আমরা এখন দুজন। আমি বুড়ো হয়েছি, আমার বউ বুড়ি হয়েছে। আগের মতো আর খাটতে পারে না। আগের মতো আর উৎসাহ প্রকাশ করতে পারে না। সারাজীবন ও-ই আমাকে চালিয়েছে, এখন বলে, কিছুই তার ভালো লাগে না। আমাদের একটি নাতনি হয়েছে, তার এখন বছর চার। রয়েছে সেই সাতসাগরের ওপারে। তাকে দেখছে এখন বউমার মা, বাবা, এরপর যাব আমরা। পালা করে যাওয়া স্থির হয়েছে। অপেক্ষা করছি কবে যাব বিদেশে। কিন্তু আমার বউ বলছে, যাবে না। কেন যাবে না? ওর এখন কিছুই ইচ্ছে করে না। চুপচাপ বসে থাকে। এমনিতেই ও খুব খেয়ালি। ওর মন খারাপ অনেকদিন থেকে যায়। চুপচাপ থাকে, মাঝে মাঝে বলে ওঠে, এ জীবনের মানে কী?

    আমি জিজ্ঞেস করলাম, তোমার কী হয়েছে?

    ও বলল, কিছু হয়নি।

    তাহলে চুপ হয়ে গেলে কেন?

    কী করব চুপ করে না থেকে?

    কিছু একটা হয়েছে তোমার।

    না কিছু হয়নি। বলে সুনন্দা অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে নিল। আমি ব্যালকনি থেকে রাস্তার দিকে তাকিয়ে থাকলাম। একটা বুড়ো মতো লোক আসছে এদিক ওদিক তাকাতে তাকাতে। রোগা, মাথার চুল সাদা। জিনস আর রঙিন চেক শার্ট। এ পাড়ার লোক বলে মনে হয় না। বাড়ির নম্বর খুঁজছে মনে হয়। একটা লোককে জিজ্ঞেস করছে কিছু। খোঁজ নিচ্ছে কোনো বাড়ির। আমি দেখতে দেখতে ভাবি আমাদের বাড়ি এলে ভালো হয়। কতদিন আমাদের বাড়ি তেমন লোক আসে না। টেলিফোন হওয়ায় মানুষের যাওয়া আসা কমে গেছে। আমরাও তো তেমন একটা যাই না কোথাও। এখন মানুষের চলন কমে গেছে মনে হয়। টিভিও তার কারণ একটা। বেরোতে গিয়েও মানুষ ঘরে আটকে থাকে এই সব নিয়ে। টেলিভিশনের সিরিয়ালের চরিত্ররাই এখন আমাদের ঘরে এসে বসে। কথা বলে, গান গায়, কাঁদে হাসে, প্রেম-কলহও করে। আমরা তা নিবিষ্ট হয়ে দেখি। শেষ হলে বলি রূপসী আর একটু থেকে যাও। সে থাকে না, তখন অন্যরা আসে অন্য সংসারে অন্য গল্প নিয়ে। সেই গল্পের সঙ্গে আগের গল্পের আপাত কোনো মিল নেই, কিন্তু একই গল্প মনে হয় বারবার। তবে হ্যাঁ, এই সব গল্প কোন সংসারের গল্প তা ধরা যায় না। ধরা যায় না বলেই নিবিষ্ট হয়ে আমরা দেখি।

    দোতলার এই ব্যালকনিতে বসে কতদূর দেখা যায়। প্লটটি একদম মনের মতো করে নির্বাচন। সামনেটা খোলা মাঠ, তার গা দিয়ে রাস্তা গেছে বাস রাস্তার দিকে। সুনন্দা কখনও এসে বসে, বেশিরভাগ সময় আমি একা। এই যে সুনন্দা ছিল, এখন উঠে গেছে বাগানের গাছে জল দেবে বলে। বাগানে নানারকম ফুল ফোটে, গাঁদা থেকে গোলাপ, চন্দ্রমল্লিকা, জিনিয়া, জুঁই, স্বর্ণচাঁপার গাছও আছে একটি। সিজিনের ফুল সিজিনে ফোটায় মালি। বনসাই করেছে বট, অশ্বত্থ আর গন্ধরাজের। বড়োকে ছোটো করে দিয়েছে। বড়ো যদি ছোটো হয়ে যায়, দেখতে বড়ো ভালো লাগে, এই এখন। মনে হয় ক্ষমতার ডানা ছেঁটে দিয়ে উৎসটাকে বন্দী করে ফেলেছি।

    সুনন্দা নির্দেশ দেয়। নতুন নতুন ফুলের জন্য তার সঙ্গে কথা বলে। নিজে চলে যায় নার্সারিতে। সেদিন আমাদের গাড়িটা গ্যারেজ থেকে বেরোয়, ভাড়াটে ড্রাইভার আসে। ফোন করলেই সে হাজির অন্য ডিউটিতে জড়িয়ে না গেলে। নার্সারির গাছের, লতাগুল্মের ভিতরে গিয়ে মনে হয় জীবন অনেক সতেজ ও সুন্দর। বেশ ভালো লাগে। আদর্শ দাম্পত্যের এক রূপ হলো সতেজ গাছ-গাছালি, আর নতুন ফোটা ফুল। তা আমাদের বাগানে কখনও কখনও দেখা যায় ক-দিনের জন্য। তখন কোনো এক অজ্ঞাত কারণে মন স্থির থাকে, চঞ্চল হয় না। অকারণে উদ্বিগ্ন হয় না। রাতে কোন ফুল ফুটল সেই কথা নিয়ে আমরা প্রাতঃভ্রমণে বের হই। আর সব বয়স্ক ভ্রমণকারীদের ফুল ফোটা খবর দিই। তাঁদের কাছ থেকে তাঁদের বাগানে, টবে ফুল আসার খবর পাই। তখন ইমারতে ইমারতে ভরা শহর ঘুমিয়ে। পথের ধারের রাধাচূড়া কৃষ্ণচূড়ার রং ভাসানো দেখি। আয়ু বৃদ্ধির জন্য কত সময় হেঁটে হেঁটে ক্লান্ত হয়ে বাড়ি ফিরি। এক একজনকে দেখে মনে হয় ভগবানের কাছে সার্ভিস এক্সটেনশনের প্রেয়ার দিচ্ছে। ভোরের সূর্যের দিকে তাকিয়ে আছে যুক্ত-করে। কত সময় ধরে! হে সূর্য, হে দিনমণি, সব কাজ ফুরোলেও কত কাজ ফুরোয়নি এখনও, বেঁচে থাকতে দাও। রিটায়ার্ড পুলিশ অফিসার চক্রবর্তীবাবুর কাজ কম করে আধ ঘন্টা সূর্য প্রণাম করে। সুগারে লোকটার শরীর শুকনো বাঁশের মতো হয়ে গেছে, কিছুতেই কিছু না হওয়ায়, আদি পিতা সূর্যের শরণাপন্ন হয়েছেন তিনি। হাঁ করে প্রথম আলোকে গ্রহণ করেন তিনি। এর নাম অতি বেগুনি রশ্মিকে শরীরে প্রবেশ করানো। তাতে শরীর নিরোগ হয়! এক সাধুর কাছ থেকে এই নিদান পাওয়া। চক্রবর্তী লোকটা খুব দাপুটে অফিসার ছিল। পিটিয়ে একটা আসামীকে মেরেও ফেলেছিল শোনা যায়। আবার এক গোলমালে গিয়ে মরতে বসেছিল। তার গায়ে বালতি করে কেরোসিন ছুঁড়ে দিয়েছিল ক্ষিপ্ত জনতা। তারপর আগুন ছুড়তে আরম্ভ করেছিল। জিপ নিয়ে পালিয়ে বেঁচেছিল চক্রবর্তী। মাঝে মাঝে এসব কথা শোনায়। এসবই এখন সম্বল। বিরক্ত সুনন্দা বলে, ‘জাবর কাটতে কাটতেই তোমাদের দিন যায়, শুনলে গা রি রি করে।’

    সমস্ত জীবনের সঞ্চয় তো ওই স্মৃতি, ওই কথাই তো মানুষ বলবে এই বয়সে। আমি সুনন্দাকে বলেছি।

    সত্যি, কিন্তু বলতে পারে না কেন ছোটোবেলার কথা, ছোটোবেলাটা কেমন কেটেছিল সেই সব কথা?

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleএখন মৃত্যুর ঘ্রাণ – অমর মিত্র
    Next Article স্বাধীন বঙ্গভূমি গঠনের পরিকল্পনা : প্রয়াস ও পরিণতি – অমলেন্দু দে

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }