Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মুনলাইট সোনাটা – অমর মিত্র

    লেখক এক পাতা গল্প81 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    মুনলাইট সোনাটা – ৩

    ৩

    মল্লিক সায়েব বলতেন, তিনি তাঁর চাকরিতে এসে, দশজনকে সাসপেন্ড করেছেন, একজনের চাকরি খেয়েছেন, সে কোর্টে গিয়েও সুবিধে করতে পারেনি।

    কী হয়েছিল স্যার? মজুমদার নিরীহ গলায় জিজ্ঞেস করেছিল।

    বদলি করা হয়েছিল, ডেপুটেশন দিতে এসে খারাপ কথা বলেছিল, নিউজ হয়েছিল তো।

    আমি জানি। সেই ঘটনা ঘটেছিল দূরের জেলায়। সেখানেও মল্লিক সায়েব জেলা শাসকের দায়িত্বে ছিলেন। সরকার বিরোধী ইউনিয়নের নেতাকে জেলা সীমান্তে বদলি করে দেওয়ায় হয়েছিল বিপত্তি। তাদের হাতে নাকি নিগৃহিত হয়েছিলেন জেলা শাসক। তারপর এফ. আই. আর, গ্রেপ্তার, চাকরি থেকে বহিষ্কার। এই অ্যাকশনে গোটা জেলা কেঁপে উঠেছিল, বিরোধী ইউনিয়ন ভেঙে তছনছ। মল্লিক সায়েব হয়ে ওঠেন সরকারের এবং সরকারি দলের প্রিয়পাত্র। তাঁর ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় ক্রমশ। আইনি ক্ষমতার বাইরের ক্ষমতা।

    বাবরি মসজিদ ভেঙে ঠিক করেছে রামভক্তরা এ বিষয়ে তাঁর মতামত খোলাখুলি। তা সন্ধ্যের আড্ডায় তিনি বলেন, অধীনস্ত ডেপুটিরা ঘাড় কাত করে ইয়েস স্যার, ইয়েস স্যার করে। এইটিই দস্তুর। তখন কালেক্টরেটের সদরে কোনো মুসলমান ডেপুটি ছিলেন না। তিন সাব-ডিভিসনে একজন। আমি চুপ করে থাকতাম। মনে হতো ঠিক নয়, এসব কথা বলা ঠিক নয়। কিন্তু আমি ওই কথার বিপরীতে কোনো কথা বলার সাহস রাখতাম না। আবার পক্ষেও কিছু বলতাম না। বুদ্ধিমান জেলা শাসক তা লক্ষ রাখতেন। আমি জানতাম জেলা শাসকের ভালোমন্দ লেখার উপর আমার চাকরির ভবিষ্যত। আমার প্রমোশন, আমার বদলি, আমার পোস্টিং — সব। মল্লিক সায়েব বলতেন, আমাদের গা থেকে মছলিখোর অপবাদটা মুছতে পারলে তবেই আমরা প্রকৃত ভারতীয় হতে পারব, ভারতীয় মানেই নিরামিষাশী।

    বৈদিক মুনি ঋষিরা সোমরস আর গো-বৎস ভক্ষণ করতেন শুনেছি স্যার। আমি বলে ফেলেছিলাম আচমকা।

    একদম মিথ্যে কথা। কে দেখেছে? এসব প্রচার আমাদের ক্ষতি করেছে।

    মজুমদার ঘাড় নেড়ে বলেছিল, ইয়েস স্যার প্রচার, আমি তো চিকেন মাটন ছেড়ে দিয়েছি, মাছও ছাড়ব।

    আমি চুপ করে গিয়েছিলাম। স্যার কথা বলছেন, বলুন। তাঁরা দুই ভাই এক বোন, তিনি ছোটো, তাঁরা সকলেই প্রশাসনে আছেন। বড়ো ভাই ফরেন সার্ভিসে, তাঁরা ভাই-বোন অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসে। বোন আই. এ. এস, বোনের হাজব্যান্ডও তাই। স্টেট সার্ভিসে তাঁর র‌্যাঙ্ক ছিল প্রথম। কথায় আমি সাড়া দিতাম না বলে, তিনি আমাকেই শোনাতেন সব, ব্যুরোক্র্যাটরাই একদিন সব পাওয়ার ভোগ করবে, তারাই শাসন করবে। দেশটিকে চেনা যায় তার ব্যুরোক্রেসি দিয়ে।

    ইয়েস স্যার।

    অ্যাবসলিউট পাওয়ার পেলে আমরাই দেশটাকে ঠিকঠাক রাখতে পারব।

    ইয়েস স্যার। মজুমদার বলত, হয়ে যাবে স্যার। পোলিটিসিয়ানদের কেউ বিশ্বাস করে না। পলিটিকস শুধু ভোট ওরিয়েন্টেড। লোকে বলে, পোলিটিসিয়ানদের দিন শেষ হয়ে যাবে শিগগির, পাঁচ বছর নয়, পঞ্চাশ-একশো বছরের জন্য।

    তা ঠিক, কিন্তু আমাদের সতর্ক থাকতে হবে, সময়ে ক্ষমতা চলে আসবে ঠিক।

    ইয়েস স্যার, আমাদের ডিউটি আমাদের করতে হবে। মজুমদার হাত কচলে বলেছে।

    মজুমদার, আমার ভাগ্নী আসবে, তুমি স্টেশনে যাবে রিসিভ করতে।

    ম্যাডাম যাবেন নাকি স্যার?

    জিজ্ঞেস করো ম্যাডামকে। আমার ভাগ্নী এবার বসেছিল অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসে, র‌্যাঙ্ক করেছে নাইনটি এইট। এবার ইন্টারভিউ। আমি বলেছি রাজস্থান কিংবা পাঞ্জাব ক্যাডার অপশন দিতে। ওদিকে ব্যুরোক্রাটরা অনেক বেশি পাওয়ার এনজয় করে। আর দিল্লিটাও কাছে ওদিকের অফিসাররা পাওয়ার কী তা দেখতে পায়, পাওয়ারের খাঁটি চেহারা ওখানে গেলে টের পাওয়া যায়। তোমারই সব, ক্ষমতাকে ব্যবহার করো, এনজয় করো পাওয়ারটাকে।

    ইয়েস স্যার। মজুমদার বলল, আপনার ফ্যামিলিই দেশ শাসন করছে।

    আমাদের ফ্যামিলি ব্যুরোক্রেসিটা জানে।

    ইয়েস স্যার।

    তুমি জান না তোমার পাওয়ার কোথায়, কতটা পাওয়ার তুমি হোল্ড করো, জানলে তুমি ওইটাকে ব্যবহার করে আরো পাওয়ার অ্যাকোয়ার করতে পারবে।

    মজুমদার বলল, জানি স্যার। রাজস্থান বেড়াতে গিয়ে হোটেলের রিসেপশনে কার্ড শো করাতে, সে কী খাতির স্যার। আমাকে একটা গাড়িই দিয়ে দিল সব সময়ের জন্য।

    আমরা জানতাম মজুমদার পারে। মধ্যপ্রদেশ গিয়ে সাগর জেলার কালেক্টরের সঙ্গে দেখা করে বান্ধবগড় ফরেস্ট ঘোরার জন্য সরকারি গাড়ি অ্যালট করে নিয়েছিল। কালেক্টরের ঘরে ঢুকে এমন স্যার স্যার করতে লাগল, তিনি সব ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। সেই মানুষটি পরে ইলেকশনের অবজার্ভার হয়ে পাশের জেলায় এলে মজুমদার সাময়িক বদলি নিয়ে সেই জেলায় চলে গিয়েছিল। ইলেকশনের সময় এমন হয়। জেলার পুরোনো অফিসারদের বদলি করে দেওয়া হয় কমিশনের আদেশে। মজুমদার সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিল সবচেয়ে দামি সিল্ক। আমাদের শহরের ব্যবসায়ীর কাছ থেকে নেওয়া। সেই সায়েবের সঙ্গে তাঁর গৃহিনীও এসেছিলেন।

    সুনন্দা ফিরল ব্যালকনিতে, বলল, ভালো লাগছে না।

    জল দেওয়া হয়ে গেল?

    মালি ছেলেটা কাল সকালে আসবে, আজ না দিলেও হবে।

    একটা দিন শুকিয়ে থাকবে?

    থাকুক। গাছ-টাছ আমি রাখতে পারব না। আমার ভালো লাগছে না। সুনন্দার গলায় বিরক্তি।

    কেন কী হল?

    কিছু হয়নি, আমার ভালো লাগছে না।

    কতবার বলেছে ছেলে-বউ, চলো ঘুরে আসি।

    সুনন্দা চুপ করে থাকে। আমি বললাম, গান নিয়ে বসতে পারো তো।

    কী জানি কেন ভালো লাগে না, ওই একটা লোককে দেখছ।

    হুঁ, কত লোক তো রয়েছে, কোনজন?

    এদিকে আসছে, ও কে?

    কী করে জানব কে, আমাদের বাড়ি তো আসছে না।

    আসতেও তো পারে। সুনন্দা বলল, চেনা মনে হয় যেন।

    আমি তো চিনতে পারছি না।

    দেখ, আমাদের বাড়িই আসবে।

    আমি জানি আমাদের বাড়ি আসবে না, আমাদের বাড়ি অনেকদিন কেউ আসে না। বউমার বাপের বাড়ি বর্ধমানে, কলকাতায় এলে আসেন তাঁরা কখনও সখনও। আসলে মেয়ে থাকলে আসতেন, মেয়ে নেই কার কাছে আসবেন? তাঁরাও একা হয়ে গেছেন। তবে ওটা জেলা শহর। ওই শহরের আদি বাসিন্দা তাঁরা। আত্মীয়-স্বজন সব আশপাশে। বিশ মাইল দূরে দামোদরের ওপারে তাঁদের গ্রাম, গ্রামেও যাওয়া আসা আছে। আমাদের গ্রাম নেই। আছে এই নতুন শহর, পঞ্চাশ বছরও বয়স হয়নি যার। এই শহর এখনো অচেনা হয়ে আছে আমাদের কাছে। সুনন্দা এই ব্যালকনিতে বসে দূরের পথচারী দেখে প্রায়ই কল্পনা করে আমাদের বাড়ি আসছে কেউ। কিন্তু কল্পনা একবারও সত্য হয়ে ওঠেনি এখনও।

    জেলা শাসকের ভাগ্নী, বছর ২৭-২৮-এর শ্রেয়া চৌধুরীকে রিসিভ করতে মজুমদার গিয়েছিল। সঙ্গে দু’জন অর্ডারলি। জেলা শাসকের ভাগ্নী শ্রেয়া রূপবতী, ক’দিন বাদেই আমাদের চেয়ে অনেক বেশি ক্ষমতা গ্রহণ করবেন রাষ্ট্রের কাছ থেকে, তাকে মজুমদার নিজের হেপাজতে নিয়ে নিল। ম্যাডামের দেখাশুনো করবে সে। ম্যাডামকে জেলাটি ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখাবে। অর্ডারলি দুজন, যাদব আর মাধবকেও মজুমদার তার হেপাজতে নিয়ে নিয়েছিল ছোটো ম্যাডামের খিদমত খাটার জন্য। শ্রেয়া চৌধুরী যখন বিশ্রাম নেন মজুমদার তার চেম্বারে আসে। তার চেম্বারে আমরা ভিড় করি। মজুমদারের ভাগ্য কী। এই ভাগ্য সে নিজেই অর্জন করেছিল। অমন সুন্দরী যুবতির বডি গার্ড হতে পারা চাড্ডিখানি কথা নয়। কেউ কেউ বলতে শুরু করল, যতক্ষণ ছোটো ম্যাডাম না ঘুমোবেন, মজুমদার ডিউটি দিয়ে যাবে।

    আমি তাকে দেখেছিলাম দূর থেকে। মাথায় মজুমদারের চেয়ে উঁচু, পাঁচফুট সাত ইঞ্চির মতো হবে, মাজা মাজা গায়ের রঙে আশ্চর্য লাবণ্য, মাথাভরা চুল, বেতস গাছের মতো টান টান দেহলতা, উদ্ধত যৌবনে আভিজাত্য ছিল, ছিল ছোটো নদীর বহমানতা। হালকা নীল শাড়ি, হালকা নীল ব্লাউজ। সে উঠল গাড়ির পিছনে, সঙ্গে বড়ো ম্যাডাম, মিসেস মল্লিক। মজুমদার ড্রাইভারের পাশে। একদিন দেখলাম গাড়ির পিছন থেকে নামছে শ্রেয়া চৌধুরী একা। মজুমদার ড্রাইভারের পাশ থেকে। জেলা কালেক্টর — ডি. এম-এর বাংলো কালেক্টরের অফিসের লাগোয়া। তবে প্রাচীরে ঘেরা। বড়ো গেটের মুখে সেন্ট্রি রাইফেল উঁচিয়ে। ভিতরে টেনিস কোর্ট, বাগান, প্রাচীরের গা ঘেষে একশো বছর পার করা বুড়ো শিরীষ, পিপুল, কদম, মেহগনি, অশ্বত্থ। কয়েক কাঠার সব্জি-খেত। তাতে শীতের সময় শখের ফুলকপি, টমেটো ইত্যাদি হয়। সব ব্রিটিশের রেখে যাওয়া দর্পের চিহ্ন। ব্রিটিশের যে যে উত্তরাধিকার আমরা সযত্নে রক্ষা করছি, তা হল প্রশাসনিক রীতিনীতি, দেশ শাসনের আইন-কানুন। যে আইনে ব্রিটিশ সরকার এ-দেশ শাসন করত, সেই আইনই বলবৎ রয়েছে স্বাধীন দেশে। আমরা অবাক হয়ে দেখলাম শ্রেয়া চৌধুরী আমাদের অফিসের দিকেই আসছেন। তাকে পথ চিনিয়ে চিনিয়ে আসছে মজুমদার, ‘ইয়েস ম্যাডাম, এই দিকে, এই দিকে, এমন হতে পারে আপনি এলেন আমাদের গার্জেন হয়ে, যেমন আছেন বড়ো সায়েব, মোস্ট ওয়েলকাম ম্যাডাম।’

    আমরা অবাক হয়ে দেখলাম এই কথা বলতে বলতে মজুমদার শ্রেয়া চৌধুরীকে এ.ডি.এম-মিঃ গগন শ্রীবাস্তবের চেম্বারে নিয়ে গেল। শ্রীবাস্তব সেই মানুষটি যার বাংলোয় খাঁটি গোরুর দুধ পৌঁছনোর ব্যবস্থা করেছে মজুমদার। ইউ.পি.-বিহার সীমান্তের ছেলে মিঃ শ্রীবাস্তবের ব্যবহার ভালো নয়। আমাদের তুচ্ছ মনে করেন। ভিতরে মিস শ্রেয়া চৌধুরীকে রেখে মজুমদার বাইরে এসে দাঁড়িয়ে থাকল। পায়চারি করতে লাগল। ঘড়ি দেখতে লাগল। রুমালে ঘাম মুছতে লাগল।

    আমি ডাক দিলাম, মজুমদার, আমাদের দিকে একটু তাকাও।

    মজুমদার এগিয়ে এল, ম্যাডাম বেরোলে আমাকে খুঁজবেন।

    আরে শ্রীবাস্তব সায়েব তোমার ম্যাডামকে এখন ছাড়বে না। বলল শুভময় সেন, আমার চেম্বারে সে এসেছিল হয়তো শ্রেয়াকে এই বিল্ডিংয়ে ঢুকতে দেখে।

    মজুমদার ঘড়ি দেখল। বিড়বিড় করল, দু-টোয় লাঞ্চ।

    এখনও অনেক দেরি, তুমি চঞ্চল হচ্ছ কেন?

    মজুমদার চুপ করে থাকে। তখন আগস্ট মাস। বর্ষা কদিন বন্ধ। একটা গুমোট ভাব চারদিকে। মজুমদারকে আমি জিজ্ঞেস করলাম, শ্রীবাস্তবের মিসেস তো পটনা।

    হ্যাঁ। মজুমদারে কন্ঠস্বর ম্রিয়মান।

    দেখ, বড়োসায়েব যে দায়িত্ব দিয়েছেন, তা পালন করো ঠিকঠাক করে। শুভময় সেন বলল গম্ভীর গলায়, অফিসটা বৃন্দাবন হয়ে গেল, বেশ বেশ!

    মজুমদার চুপ। গগন শ্রীবাস্তব ছ-ফুট উঁচু, মস্ত দেহ তার। ঈষৎ লাল চোখ দুটি বনবন করে ঘুরছে সব সময়। মহিলা অফিসার তানিয়া সেন তার ব্যাপারে বিরক্তি প্রকাশ করেছিল আমার কাছে, নতুন এ.ডি.এম-এর চোখ ভালো নয়, লোকটার কথাও ভালো না।

    কেন কী হল? শুভময় সেন জিজ্ঞেস করেছিল।

    ফাইল নিয়ে গেলে আটকে রাখে, আবোলতাবোল গল্প জোড়ে।

    তোমাকে তো ঘন ঘন ডেকে পাঠায়। শুভময় বলে।

    হ্যাঁ, আমি ফাইল পাঠিয়ে দিই, যাই না। কিন্তু ফাইলে যদি বারবার স্পিক লেখে, যেতে হবে। অথচ ফাইলের কথা না বলে বিচিত্র সব কথা বলে।

    কী কথা?

    তানিয়া বলেছিল, বলা যাবে না।

    ডি. এম. সায়েবকে বলো, আমরা সবাই যাব। শুভময় প্রস্তাব দিল।

    না, বড়ো সায়েব ওঁকেই সাপোর্ট করবেন, আমি বদলি নেব, আর এ সব বিষয় পাঁচজনে জানলে মেয়েদের দোষই দ্যাখে।

    তানিয়া জেলা থেকে বদলি হয়ে গেল তারপর। গগন শ্রীবাস্তব স্পিক করতে বললেও সে আর যেত না তার চেম্বারে। তখন মজুমদার তানিয়াকেই দোষ দিয়েছিল, সায়েব ডাকলে যেতেই হবে। সায়েব তোমাকে নিয়ে ব্লক ভিজিটে যাবেন, তুমি যাবে না কেন? এ তো ইন-সাবর্ডিনেশন, আমি তো যাই সায়েবের সঙ্গে এখন, আমার আলাদা গাড়ি।

    কতদিন আগের কথা এসব। সব কেমন ঠিকঠাক মনে আছে। মনে করতে ভালো লাগে। সুনন্দা যে বলেছিল শৈশবের কথা মনে নিয়ে আসতে, তা কেন আসে না জানি না। মনে আসে মজুমদার, শ্রেয়া চৌধুরী, শুভময় সেন, মল্লিক সায়েবদের কথা। এসব তো অনতি-অতীত।

    মজুমদার একটু পরে বলেছিল, ম্যাম নিজেই তো বললেন মিঃ শ্রীবাস্তবের কাছে যাবেন, বড়ো সায়েবের সামনেই তো বললেন, সায়েব বললেন নিয়ে আসতে।

    মিস শ্রেয়া চৌধুরী বেরিয়ে এলেন একঘণ্টা বাদে। ছুটে গেল মজুমদার। তরুণীর চোখমুখ আনন্দ আর তৃপ্তিতে ঝলমল করছিল। হাসি হাসি মুখখানি।

    শুভময় সেন বলল, স্যাটিসফায়েড।

    এরপর নিয়ম করে প্রতিটি দিন তাকে নিয়ে আসতে লাগল মজুমদার। তাকে ঢুকিয়ে দিয়ে মজুমদার আমার ঘরে এসে বসে থাকে।

    শুভময় সেন একদিন বলল, বড়ো বড়ো সায়েবদের বড়ো বড়ো ব্যাপার, তুমি না বড়ো সায়েবের রোষে পড়ে যাও মজুমদার, তুমি তোমার যে ডিউটি নিয়েছ, তা খুব রিসকি, এ.ডি.এম-এর চেম্বারে আচমকা ঢুকে পড়তে পারবে, স্যারের ভাগ্নী কী করে পটনাই ষাঁড়টাকে ধরল এসেই, এঁর সঙ্গে এত সময়?

    বাদ দাও ওসব কথা, সায়েবদের কথা নিয়ে আমি কোনো কথা বলতে চাই না।

    আরে আচমকা ঢুকে পড়ো চেম্বারে।

    উনি পছন্দ করবেন না, ইন্টারকমে যোগাযোগ করার অর্ডার আছে।

    কথা উঠবে মজুমদার, তানিয়া সেনকে ঘরে ডেকে কাজের অছিলায় আটকে রাখত শ্রীবাস্তব সায়েব, তোমার মনে নেই, অশ্লীল গল্প জুড়ত, তানিয়া বলেনি? আমি বললাম।

    মজুমদার বলল, সায়েব যা বলবে, তা আমাকে করতে হবে বাসু। উনি ক’দিন বাদেই জয়েন করবেন ইন্ডিয়ান অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসে, তখন কী হবে?

    কী হবে মজুমদার?

    মজুমদার বলল, তুমি বুঝতে পারছ না বাসু। উনি অপশন দিয়ে এই স্টেটেও আসতে পারেন। পারেন কিনা? তখন আমি ওর অধীনে চলে যাব।

    তাতে হবে কী, উনি কি স্যালারি বাড়িয়ে দেবেন, না অ্যাডিশনাল ইনক্রিমেন্ট পাইয়ে দেবেন? শুভময় জিজ্ঞেস করেছিল।

    মজুমদার এড়িয়ে গিয়ে বলল, ওই উনি বেরোলেন, উনি ইন্টারভিউ-এর জন্য রেডি হচ্ছেন, ওঁর কাছে সেই কারণেই আসেন, শ্রীবাস্তব সায়েবের র‌্যাঙ্ক ছিল ঊনআশী।

    ছোটো শহর। এ শহরে গোপন কিছু থাকে না। অফিসে ফিসফাস আরম্ভ হয়ে গেল। শ্রীবাস্তবের বাংলোর বারান্দায় বসে থাকে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট মজুমদার, ভিতরে ডি. এম-এর ভাগ্নী আর আর পট্টলিপুত্তরের আর্যপুত্র। আমরা চুপচাপ। বড়ো সায়েবের কানে গেলে অনর্থ হবে। মজুমদারের চাকরির ক্ষতি হয়ে যাবে। তোমাকে বলেছিল, ভাগ্নীর দেহরক্ষী হতে, তুমি তাকে কার কাছে ঠেলে দিয়েছ? শ্রীবাস্তব মেয়েখোর আর সে মেয়েই বা কী, ওর পাল্লায় গিয়ে পড়ল, বিবাহিত পুরুষ, এ নিয়ে সমস্যা হতে পারে।

    মজুমদারকে জিজ্ঞেস করলে সে বলে, সায়েব ম্যামদের ব্যাপার তারা বুঝবেন, আমার ডিউটি আমি করব বাসু।

    জেলা শাসক ‘বাসু’ বলেন, তাই মজুমদারও। আমি বললাম, তুমি জড়িয়ে যাচ্ছ। ও মেয়ে ফুর্তি করে তোমার নামে দোষ দেবে, তুমিই তাকে নিয়ে গেছ ওর কাছে। শ্রীবাস্তব বড়ো অফিসার, মদ আর মেয়েমানুষে ওর খুব রুচি, ওর কিছু হবে না। ওদের কিছু হয় না। ফাঁসবে তুমি আঁচল না ছুঁয়েও।

    মজুমদার গোমড়া হয়ে থাকল, জবাব দিল না।

    শুভময় সেন বলল, তোমার নার্সিং সার্ভিসে গেলেই ঠিক হত।

    কথাটা গায়ে মাখে না মজুমদার। কোনো অপমানই গায়ে মাখে না। প্রতিক্রিয়া জানায় না। আসলে সে ছিল ‘কুল’, প্রকৃত অর্থেই তা। কিন্তু সে মনে রাখত সব। সময়ে এলে শোধ নিত। শুভময় সেন আর আমি কেউ-ই বাদ যাইনি। আমাদের বিরুদ্ধে এনকোয়্যারি করে রিপোর্ট দিয়েছিল মজুমদারই। সে ছিল শাণিত বুদ্ধির মানুষ। কয়েকদিন বাদেই হঠাৎ ছুটি নিয়ে লোকাল নার্সিং হোমে ভরতি হয়ে গেল। মজুমদারের চেনা ডাক্তাররা বলল, সত্যি মজুমদার, সায়েবের হার্টের দপদপানি বেড়ে গেছে, সাতদিন পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। জেলা শাসক তার খোঁজ নিলেন, বুঝেছিলেন নিশ্চয় সবটা। তাঁর কানে কি যায়নি? এরপর শ্রেয়া চৌধুরী ফিরে গেলেন জীবনের পাঠ নিয়ে। মজুমদার নার্সিং হোম থেকে ছাড়া পেল আর ক-দিন বাদে। তাঁর আসা যত উচ্চকিত ছিল, যাওয়া ছিল নিঃশব্দে। শুনছিলাম শ্রীবাস্তব সেই সময় আচমকা পটনা চলে গিয়েছিল। বাড়ি থেকে ডাক এসেছিল মিসেসের। তাঁর কাছে কি খবর চলে গিয়েছিল? তিনি তো তাঁর কামুক স্বামীটিকে চিনতেন। আর তার তীব্রতা হয়তো পছন্দও করতেন। কিন্তু স্বামী অন্য নারীতে মত্ত হলে তিনি কী করে স্থির থাকবেন? ক-দিনের ভিতরে বউ বাচ্চা নিয়ে ফিরেছিল শ্রীবাস্তব। মনে হয় খবরই পেয়েছিল তার বউ।

    শ্রীবাস্তব মহকুমা ভিজিটে গেলে কী করে তা জেলায় কি অজানা ছিল? আর্যপুত্র শ্রীবাস্তবই ক্ষমতাকে ব্যবহার করতে জানত। শ্রীবাস্তব সঙ্গে নিয়ে যেত মজুমদারকে। ডাক বাংলোর কেয়ার টেকারকে বলে সায়েবের মনোরঞ্জনের ব্যবস্থা করত মজুমদার। এসব খবর শুভময় সেন বলাবলি করত। বলত, মজুমদারটা মেয়েমানুষের দালালি করে সায়েবের সঙ্গে গিয়ে।

    না না, এসব কথা বলা ঠিক নয়, ওকে নিয়ে যায় সায়েব, তাই যায়। আমি মজুমদারকে আড়াল করতে গিয়েও পারি না। শুভময় সেন বলত, ওকে দরাদরি করতে নিয়ে যায় শ্রীবাস্তব।

    তখন চুপ করে থাকা ব্যতীত উপায় ছিল না। কথায় কথা বাড়ে। কারো কানে গেলে আমার বিপদ হবে। সন্দেহ হত, আবার মনে হত তা অমূলক। শ্রীবাস্তবের বউকে আমি তো দেখেছি। তার ভিতরে বন্য সৌন্দর্য ছিল। সায়েবের বউ কি কোনো আন্দাজই করতে পারে না? সব জেনেও কি স্বামীর গা ছুঁয়ে থাকে, আহ্লাদে ডগমগ করে। সে তার স্বামীতে ছিল মুগ্ধ। আমরা দেখেছি তা। কোনো অনুষ্ঠানে এলে তার হাতই ছাড়ত না প্রায়।

    শুভময় সেন বলেছিল, তার স্বামী যদি গাঁয়ের গরিব মেয়েদের ইজ্জত লুট করে, তাতে তার কিছু যায় আসে না। পুরুষ মানুষ তো তা করবেই। গরিব আদমির জন্মই তাদের সেবা করতে। কিন্তু স্বামী যদি ইজ্জতঅলা মেয়ে ধরে তখন সে ক্ষিপ্ত। সেখানে তার অধিকারে টান পড়ে। তাই ফিরে এসেছিল সে। শ্রেয়া চৌধুরী বা তানিয়া সেন তার অধিকার হরণ করবে তা সে মেনে নেবে না। তখন বাঘিনীর রোষ জাগে তার ভিতর। কিন্তু গাঁয়ের চাষার মেয়েকে স্বামী ভোগ করলে তার ভিতরে কোনো ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া হয় না। তাদের ভোগ না করলে কিসের ক্ষমতা! কিসের পুরুষ! গন্ধি লেড়কিগুলো আছেই তো ওই করতে। হয়তো দেখা যাবে বড়ো ভূ-স্বামীর কন্যা সে। শ্রীবাস্তবকে বিশ-তিরিশ লাখ বর পণ দিয়েছে তার বাবা। বাবার আছে তিনটে পোষা মেয়েমানুষ। কী সুন্দর বলত শুভময়। সে আসলে ডায়েরি লিখত গোপনে। বিয়ে করেনি, একা থাকত। হয়তো অনেক কথাই বানাত নিজের মতো করে। বলত, ফিউডাল সোসাইটির মানসিকতা এমনই হয়। মাঝে মাঝে শুভময় বাড়ি যেত। ভাইপো ভাইঝিই ছিল তার প্রাণ।

    শুভময় বলত, শ্রীবাস্তব তাকে তৃপ্ত করেছে, সন্তান দিয়েছে, তাও আবার পুত্র সন্তান, আর সেই কারণেই দিয়েছে সামাজিক ইজ্জত, মোটা মোটা গয়না, আর কী চাই? স্বামী যদি দশটা গাঁয়ের মেয়ের ইজ্জত নেয়, তার কী? পুরুষের সেই অধিকার আছে, তাতে পুরুষের ক্ষমতা প্রমাণ হয়। লেকিন, ওই চৌডরি! কভি নেহি। গরগর করতে করতে সে ফিরে এল যখন ‘চৌডরি’ উধাও। না হলে বিচিত্র এক দৃশ্য নির্মাণ হতো নিশ্চয়।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleএখন মৃত্যুর ঘ্রাণ – অমর মিত্র
    Next Article স্বাধীন বঙ্গভূমি গঠনের পরিকল্পনা : প্রয়াস ও পরিণতি – অমলেন্দু দে

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }